বিশ্বাস একটা আয়নার মতো—স্বচ্ছ, নীরব, অথচ ভীষণ ভঙ্গুর। একবার ভেঙে গেলে তাকে যতই জোড়া লাগানো হোক, দাগটা থেকে যায়। আর আশ্চর্যের বিষয়—যে মানুষটি সেই আয়নাটা ভাঙে, শেষ পর্যন্ত সে শুধু অন্যের প্রতিচ্ছবিই হারায় না,নিজের প্রতিচ্ছবিটাও হারিয়ে ফেলে। কারণ মানুষের বিশ্বাস হারানো মানে শুধু একটা সম্পর্ক হারানো নয়; কখনো কখনো এর অর্থ—একটি মানুষের আত্মার ভেতর থেকে ভালোবাসার একটি অংশ চিরতরে মরে যাওয়া।
বিশ্বাসঘাতকেরা তখন হয়তো ভাবে, সে শুধু একটা গোপন কথা লুকিয়েছে, একটা মিথ্যা বলেছে,অথবা সামান্য কোনো প্রতারণা করেছে। কিন্তু তারা বোঝে না—বিশ্বাস ভাঙার বিষ কখনো বাইরে থাকে না, তা ধীরে ধীরে ফিরে আসে ভাঙা মানুষের স্মৃতি হয়ে, অপরাধবোধ হয়ে, আর একদিন নিজের জীবনেই বিষ হয়ে। ভালোবাসা দিয়ে শুরু হওয়া কোনো সম্পর্ক যখন মিথ্যায় ভরে যায়,তখন সম্পর্কটা আর শুধু সম্পর্ক থাকে না—প্রতিটি নিঃশ্বাসে তখন একটা করে যন্ত্রণার গল্প জন্ম নেয়। বিশ্বাসঘাতকের সবচেয়ে ভয়ংকর দিক হলো—তোমার চোখের দিকে তাকিয়ে মিষ্টি করে কথা বলতে পারে, অথচ তোমার অজান্তেই তোমার পেছনে বিষ ছড়িয়ে যেতে পারে। বিশ্বাস ভাঙার কোনো শব্দ হয় না। কোনো কাঁচ ভাঙার মতো আওয়াজ শোনা যায় না। শুধু একটা নীরবতা জন্ম নেয়—আর সেই নীরবতার প্রতিধ্বনি কখনো কখনো সারাজীবন কানে বাজতে থাকে। তাই যখন কেউ তোমার বিশ্বাস ভাঙে, মনে রেখো—সে তোমাকে হারায়নি, সে হারিয়েছে সেই মানুষটিকে, যে তাকে নিঃশর্তভাবে বিশ্বাস করেছিল। আর তার চেয়েও বড় সত্য হলো—বিশ্বাসঘাতকতা অন্যের মর্যাদা নষ্ট করে না; এটা বিশ্বাসঘাতকের নিজের চরিত্রের আয়নাটাকেই ভেঙে দেয়। তুমি হয়তো কষ্ট পাবে, কিছুদিন নিঃশব্দে কাঁদবে, কিছু সম্পর্ককে মনে মনে বিদায় দেবে। কিন্তু একদিন তুমি আবার উঠে দাঁড়াবে। আর যে মানুষটি তোমার বিশ্বাস ভেঙেছিল,সে হয়তো অনেক মানুষের ভিড়ে থেকেও একটা জিনিস আর কোনোদিন ফিরে পাবে না— তোমার চোখে তার হারিয়ে যাওয়া সেই প্রতিচ্ছবি।