১১/০৯/২০২৬-কেউ যখন কোনো প্রতিষ্ঠান থেকে চলে যেতে চায়

কেউ যখন কোনো প্রতিষ্ঠান থেকে চলে যেতে চায় বা আর থাকতে চায় না, তার এই সিদ্ধান্তটা কোনো হঠাৎ আবেগের ফল নয়। অনেক কিছু দেখেছে, ভেবেছে, সহ্য করেছে—তারপর বুঝেছে, কিছু জায়গা ছেড়ে আসাই কখনো কখনো নিজের প্রতি সবচেয়ে বড় দায়িত্ব। কেউ প্রতিষ্ঠানে যোগ দেয় তার যোগ্যতা, অভিজ্ঞতা ও দায়িত্ববোধ দিয়ে কাজ করার জন্য। কারও ব্যক্তিগত পছন্দ-অপছন্দের হিসাব মেলানোর জন্য নয়। কোনো ব্যক্তির অহংকে সন্তুষ্ট করার জন্য নয়। যোগ্যতার চেয়ে সম্পর্ককে বেশি মূল্য দেওয়া কোনো সংস্কৃতির অংশ হওয়ার জন্যও নয়। একজন কর্মী কঠিন সময় সামলাতে পারে। চাপের মধ্যে কাজ করতে পারে। ভুল হলে তা স্বীকার করে সংশোধনও করতে পারে। প্রয়োজনে নিজের সীমার বাইরেও গিয়ে প্রতিষ্ঠানের স্বার্থে দায়িত্ব নিতে পারে। কিন্তু একজন কর্মীর আত্মসম্মানও আছে। অবমূল্যায়ন, অন্যায় পক্ষপাত, অসম আচরণ কিংবা এমন এক নেতৃত্বের পরিবেশ—যেখানে প্রতিদিন কাজের চেয়ে মানুষের মেজাজ বোঝা বেশি গুরুত্বপূর্ণ হয়ে ওঠে—এসবকে পেশাগত দায়িত্বের অংশ বলা যায় না। একটি প্রতিষ্ঠানের সবচেয়ে বড় সম্পদ তার ভবন, যন্ত্রপাতি কিংবা অর্থ নয়—তার যোগ্য ও সৎ  মানুষগুলো। আর যখন সেই মানুষগুলো একে একে চলে যেতে শুরু করে, তখন শুধু এটুকু জিজ্ঞেস করলেই হয় না—“মানুষগুলো কেন চলে যাচ্ছে?” বরং প্রশ্নটা হওয়া উচিত—“আমরা এমন কী তৈরি করেছি, যেখানে ভালো মানুষগুলো আর থাকতে চাইছে না?” একজন ভালো কর্মী যখন কোনো প্রতিষ্ঠান ছেড়ে যায়, তখন সে শুধু একটি চাকরি ছেড়ে যায় না। সে সঙ্গে করে নিয়ে যায় তার অভিজ্ঞতা, নিষ্ঠা, আস্থা এবং প্রতিষ্ঠানের জন্য দেওয়া অসংখ্য নির্ঘুম সময়। আর যদি একই ঘটনা বারবার ঘটতে থাকে, তাহলে হয়তো প্রতিবার কর্মীদের দোষ খোঁজার আগে প্রতিষ্ঠানের নিজের আয়নায় তাকানো প্রয়োজন। কারণ প্রতিভাবান মানুষ সবসময় বেশি বেতনের জন্য চলে যায় না। অনেক সময় তারা চলে যায় এমন একটি পরিবেশ থেকে, যেখানে—যোগ্যতার চেয়ে পরিচয় গুরুত্বপূর্ণ, কাজের চেয়ে পক্ষপাতিত্ব শক্তিশালী, সত্য কথার চেয়ে তোষামোদ নিরাপদ, আর অবদানের চেয়ে ব্যক্তিগত পছন্দের মূল্য বেশি।  কর্মক্ষেত্রে সম্মান কোনো বিশেষ সুবিধা নয়; এটি একজন মানুষের প্রাপ্য। তাই তারা সরে দাঁড়ায়, পরাজিত হয়ে নয়, অভিমান করে নয়, বরং নিজের পেশাগত মূল্যবোধ এবং আত্মসম্মানকে অক্ষুণ্ণ রাখার সিদ্ধান্ত নিয়ে। কিছু দরজা বন্ধ হয়ে যায়—কারণ সামনে অন্য কোনো দরজা খোলার প্রয়োজন হয়। আর কখনো কখনো,একটি প্রতিষ্ঠান ছেড়ে আসা মানে কোনো কিছু হারানো নয়; বরং নিজেকে হারিয়ে ফেলার আগেই নিজেকে ফিরে পাওয়া।