বাইরে প্রচন্ড বৃষ্টি। গত দুদিন যাবত এক নাগাড়ে দিনে রাতে বৃষ্টি হচ্ছে। রাস্তাঘাট তলিয়ে যাচ্ছে, মানুষের ভোগান্তি বাড়ছে, গাছপালাগুলি সূর্যের আলো পাচ্ছে না বলে হয়তো তাদের সালোক সংশ্লেশনে বাধাগ্রস্থ হচ্ছে, রাস্তার কুকুরগুলি নিরাপদ শুকনা আশ্রয়ের কারনে গলির পরিত্যক্ত কোনো ছাউনীতে বসে ঝিমুচ্ছে, বাচ্চারা স্কুলে যেতে হিমশিম খাচ্ছে, আরো অনেক।
ঠিক এই সময়ে আবার এই দুনিয়া ছেড়ে চলেও যাচ্ছেন, তাদের সমাহিত করার জন্য মানুষ ভিজে ভিজে তার কবর করছেন, কেউ আবার ঘরে বসে সেই চলে যাওয়া মানুষটির জন্য শোকাহত নেত্রে অশ্রু ফেলছেন, আবার এরই মধ্যে আবার নতুন উদ্দীপনায় নতুন মুখ এই পৃথিবীর খালী স্থান পূর্ন করছে, বাড়িতে বাড়িতে তার আগমনে সবাই খুশী এবং হাস্যোজ্জল নেত্রে কোলাকোলি করছেন। সুর্য উঠেনি, তাতে কি, রাত আরো গভীর তাতে কি, কোনো কাজই কারো থেমে নেই। বারে মদের আসর চলছে, বাসর ঘরে রোমান্স চলছে, হাসপাতালে রোগীর কান্না চলছে, কোথাও কোনো কিছুই থেমে নেই। আর এটাই এই পৃথিবী। কারো কোনো কিছুই কারো জন্যই সে থেমে থাকে না, থামিয়ে রাখে না।
আজ থেকে অনেক বছর আগে অরু এসেছিলো আমার জীবনে। এমনই কোনো বৃষ্টিভেজা দিনে মুখুমুখী বসেছিলো। তার চোখে ভবিষ্যতের অসহায় ভাব আমাকে বিচলিত করেছিলো। অথচ তার কোনো অপরাধ ছিলো না। পৃথিবীর অন্য সব সচ্চল মানুষের মতো তারও এই পৃথিবীর সব আনন্দ, সব আহলাদ, সব প্রয়োজনীয় ইচ্ছা পুর্ন হবার কথা ছিলো। কিন্তু সে ভুল সময়ে ভুল জায়গায় অবস্থা করেছিলো। সে আমার একটা প্রোজেক্ট হয়ে গিয়েছিলো। আজ এতো বছর পর, সেই দিনটার সাথে আজকের দিনের তুলনা করলে আমি স্পষ্ট দেখতে পাই, তার অবস্থান, আমার অবস্থান এবং পরিবর্তন। কেউ জানলো না, কেউ বুঝলো না, কোথায় এই দুটি মানুষ আজীবনের জন্য একটা সেতু বন্ধনে চিরস্থায়ী হয়ে গেলো। প্রকৃতি বড় রহস্যময়।
একদিন সে বড় হবে, তার জীবন পালটে যাবে, আমরা দুজনের কেউ হয়তো আর থাকবো না, কিন্তু আমাদের লিগ্যাসি সে জন্ম জন্মান্তরে এই পৃথিবীর বুকে চলমান রাখবে। একটা সময় আসবে, এর মুল অরিজিন, এর সকীয়তা কিংবা এর আসল পরিচয়ের আর কোনো খোজ থাকবে না। তখনো আজকের দিনের মতো হয়তো সারাদিন বৃষ্টি হবে, রাত ঘনিয়ে আরো বেশী কালো হবে, মানুষ ব্যস্ত থাকবে, কিন্তু ইতিহাস থাকবে তার নিজের আর্কাইভে। যেখানে আমরা কেহই বিচ্যুত নই।