১২/০৯/২০২৬-জীবনকে সত্যিকার অর্থে বুঝতে চাইলে একবার তিনটি জায়গায় যেও

জীবনকে সত্যিকার অর্থে বুঝতে চাইলে একবার তিনটি জায়গায় যেও—হাসপাতাল, কারাগার আর কবরস্থান। হাসপাতালে গিয়ে কিছুক্ষণ চুপচাপ মানুষের দিকে তাকিয়ে থেকো। তখন বুঝবে—জীবনে আসলে কত কম জিনিসের প্রয়োজন। যে মানুষটি আজ কোটি টাকার মালিক, সেও হয়তো একটি স্বাভাবিক শ্বাসের জন্য ছটফট করছে। যে মানুষটি সারাজীবন আরও বেশি পাওয়ার জন্য ছুটেছে, সেও হয়তো আজ শুধু সুস্থ হয়ে বাড়ি ফিরতে চায়। তখন বুঝবে—টাকা নয়, সম্পদ নয়, সম্মান নয়—সুস্থভাবে বেঁচে থাকাটাই সবচেয়ে বড় নিয়ামত।

তারপর একদিন কোনো কারাগারের সামনে দাঁড়িও। লোহার গরাদের ওপাশে বন্দী মানুষগুলোর চোখের দিকে তাকিয়ে দেখো। তখন বুঝবে, আমরা কত বড় স্বাধীনতার মধ্যে থেকেও কত ছোট ছোট বিষয় নিয়ে অভিযোগ করি! নিজের ইচ্ছেমতো বাইরে বের হতে পারা, প্রিয় মানুষটির কাছে ছুটে যেতে পারা,
খোলা আকাশের নিচে হাঁটতে পারা—এসব যে কত বড় আশীর্বাদ, তা বোঝা যায় তখনই, যখন এগুলো করার অধিকারটুকুও থাকে না। স্বাধীনতা—আমরা প্রতিদিন নিঃশব্দে ভোগ করি, অথচ তার মূল্য খুব কমই বুঝি।

আর সবশেষে একদিন কবরস্থানে যেও। সেখানে কোনো অহংকার নেই। কোনো পদবি নেই। কোনো ক্ষমতা নেই। কোনো ব্যাংক ব্যালান্স নেই। কোনো পরিচয়ের জৌলুস নেই। শুধু সারি সারি কবর…আর প্রতিটি কবর যেন নীরবে বলে যায়—“একদিন আমিও তোমার মতোই ছিলাম। হেঁটেছি, স্বপ্ন দেখেছি, ভালোবেসেছি, রাগ করেছি, অভিমান করেছি, অনেক কিছু পাওয়ার জন্য ছুটেছি। তারপর একদিন সবকিছু ছেড়ে চলে এসেছি এখানে।”

আজ যে মাটির ওপর দাঁড়িয়ে আমরা এত অহংকার করি, যে বাড়িটাকে নিজের বলে মনে করি, যে সম্পদকে আঁকড়ে ধরে জীবন পার করে দিই, যে মানুষটিকে হারানোর ভয়েও কখনো ভালোবাসার কথাটা বলা হয় না—একদিন সবকিছুই পেছনে পড়ে থাকবে। আজ যে মাটির ওপর আমরা হাঁটছি, কাল সেই মাটিই আমাদের মাথার ওপর ছাদ হয়ে যাবে। তাই যতদিন সময় আছে—মানুষকে ভালোবাসো। ক্ষমা করে দাও। অহংকারটা একটু কমাও। প্রিয় মানুষটাকে জড়িয়ে ধরো। মায়ের কণ্ঠটা মন দিয়ে শোনো। বাবার পাশে একটু বসো। বন্ধুকে বলো—“ভালো থাকিস।” আর যাকে ভালোবাসো, তাকে ভালোবাসার কথাটা বলতে দেরি করো না। কারণ জীবন কাউকে বলে যায় না— “এটাই তোমার শেষ সকাল।”

কোনো কোনো বিদায় আসে একেবারেই নিঃশব্দে। শেষ কথাটি হয়তো খুব সাধারণ একটি কথা, শেষ দেখাটি হয়তো খুব স্বাভাবিক একটি দেখা,শেষ আলিঙ্গনটি হয়তো আমরা বুঝতেই পারি না যে—এটাই শেষ। শেষ পর্যন্ত আমাদের সবার গন্তব্য একই। তাই জীবনটা এমনভাবে বাঁচো, যেন চলে যাওয়ার দিন অন্তত নিজের কাছে বলতে পারো—“আমি অনেক কিছু পাইনি, কিন্তু যতদিন বেঁচেছিলাম, মন থেকে বেঁচেছিলাম…আর যাদের ভালোবাসার কথা ছিল,তাদের ভালোবেসেই বেঁচেছিলাম।”