পরিপূর্ণ সুখ কিংবা চূড়ান্ত খুশি বলে বোধহয় পৃথিবীতে কিছু নেই। মানুষ স্বপ্ন দেখে, বড় হতে চায়, আরও অনেক কিছু অর্জন করতে চায়—এটাই স্বাভাবিক। কিন্তু সেই স্বপ্নের উচ্চতা কতটা হওয়া উচিত, তা অনেকটাই নির্ভর করে নিজের যোগ্যতা, পরিশ্রম এবং চারপাশের বাস্তবতার ওপর। অতিরিক্ত উচ্চাকাঙ্ক্ষা কখনো কখনো মানুষকে এমন এক দৌড়ের মধ্যে নিয়ে যায়, যার কোনো শেষ নেই। তখন যা অর্জন করেছে, সেটুকুর আনন্দও আর উপভোগ করা হয়ে ওঠে না। অপূর্ণতার বোধ, হতাশা এবং আরও বেশি পাওয়ার আকাঙ্ক্ষা ধীরে ধীরে জীবনের স্বাভাবিক সুখটুকুকেও ম্লান করে দিতে পারে। আমার কাছে পরিশুদ্ধ ও সুন্দর জীবনের সুখ অনেক সহজ কিছু। এর জন্য প্রয়োজন সততা, বিশ্বাসযোগ্যতা, সৃষ্টিকর্তার ওপর আস্থা এবং নিজের দায়িত্বের প্রতি একাগ্রতা। প্রয়োজন নিজের সীমাটা জানা—কোথায় আমার সামর্থ্যের শেষ, আর কোথায় আমার চাহিদার সীমা। আমি জানি, আমার পরিশ্রম আমাকে কতদূর নিয়ে যেতে পারে। আমি এটাও জানি, আমার জীবনে আসলে কতটুকু প্রয়োজন। তাই যা আমার আছে, যা অর্জন করতে পেরেছি এবং যাদের নিয়ে আমার জীবন—এসব নিয়েই আমি অত্যন্ত সন্তুষ্ট, সুখী এবং কৃতজ্ঞ।
আমার ছোট্ট পরিবারের প্রতিটি মানুষ ভালো আছে—এটাই আমার সবচেয়ে বড় প্রাপ্তিগুলোর একটি। তারা ভবিষ্যতেও ভালো থাকুক, নিজেদের যোগ্যতা ও পরিশ্রম দিয়ে জীবনে যে জায়গায় পৌঁছানো তাদের প্রয়োজন, সেখানে পৌঁছানোর চেষ্টা করুক—এটাও আমার দায়িত্বের অংশ বলে আমি মনে করি। আমি তাদের ভালো শিক্ষা দেওয়ার চেষ্টা করেছি। প্রত্যেকের জন্য তাদের নিজস্ব একটি শক্ত ভিত্তি ও নিজস্ব প্ল্যাটফর্ম তৈরি করে দিতে আমার সামর্থ্য অনুযায়ী চেষ্টা করেছি। এরপর সেই ভিত্তির ওপর দাঁড়িয়ে নিজেদের জীবনকে এগিয়ে নেওয়ার দায়িত্ব ছিল তাদের। আলহামদুলিল্লাহ, তারাও নিজেদের সামর্থ্য অনুযায়ী পরিশ্রম করেছে এবং সেই পরিশ্রমের ফল পেয়েছে। সন্তানের জন্য বাবা-মায়ের সবচেয়ে বড় সাফল্য হয়তো এই নয় যে, তারা সন্তানকে কত সম্পদ দিয়ে যেতে পেরেছেন; বরং এই যে, তারা সন্তানকে এমনভাবে গড়ে দিতে পেরেছেন কি না, যাতে একদিন সে নিজের যোগ্যতায় নিজের পথ তৈরি করতে পারে। আমি সেই চেষ্টাটুকুই করেছি।
আজ পেছনে ফিরে তাকালে মনে হয়, আমার জীবনে প্রাপ্তির চেয়ে কৃতজ্ঞ হওয়ার কারণই বেশি।
আমি আমার সৃষ্টিকর্তার কাছে ঋণী। তাঁর অশেষ দয়া, রহমত ও অনুগ্রহের জন্য আমি সবসময় কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করি। জীবনে যা পেয়েছি, যা হারিয়েছি, যা অর্জন করেছি কিংবা যা পাইনি—সবকিছুর মধ্যেই তাঁর কোনো না কোনো প্রজ্ঞা আছে, এই বিশ্বাসটুকু আমাকে শান্তি দেয়।
আর একটি বিষয় আমি খুব গভীরভাবে বিশ্বাস করি—মানুষের প্রতি মানুষের ভালোবাসা পৃথিবীর সবচেয়ে প্রয়োজনীয় জিনিসগুলোর একটি। আমরা একে অপরের পাশে থাকব, একে অপরকে সম্মান করব, ভালোবাসব এবং যার যতটুকু সামর্থ্য আছে, তা দিয়ে অন্যের জীবনটুকু একটু সুন্দর করার চেষ্টা করব। শেষ পর্যন্ত জীবন তো খুব দীর্ঘ কোনো গল্প নয়। তাই যতদিন আছি, সততার সঙ্গে বাঁচতে চাই, নিজের দায়িত্ব পালন করতে চাই, আপনজনদের ভালো রাখতে চাই এবং সৃষ্টিকর্তার প্রতি কৃতজ্ঞ থাকতে চাই।
আমার কাছে এটাই সুখ। এটাই শান্তি। আর এটাই আমার জীবনের সবচেয়ে বড় প্রাপ্তি।