আমাদের শেষ বিদায়ের দিনটা আমাদের সামনে রাখা ক্যালেন্ডারের মধ্যে কোথাও ঘাপ্টি মেরে বসে থাকে। কিন্তু আমরা তার কোনো হদিস পাই না। হটাত একদিন সেই তারিখটা সবার সামনে চলে আসে এবং আমরা সবার অজান্তে এমন কি আমাদের নিজেদের অজান্তেই বিদায় নিয়ে নেই। ব্যাপারটা অবাক করার বিষয় হলেও এটাই ঘটে বারবার সবার জীবনে।
অফিস করছিলাম, বেলা প্রায় তখন ২ টা। আমার স্ত্রী ফোন করে জানাইলো, জয়নাল দুলাভাই মারা গেছেন। চিরাচরিত নিয়মে ইন্না লিল্লাহ পড়লাম কিন্তু আবারো কাজের মধ্যে ব্যস্ত হয়ে গেলাম। সন্ধ্যা ৭ টায় ওনার জানাজা, এবং তারপরেই দাফন করা হবে। তাই আমি ঠিক সাড়ে পাচটায় অফিস থেকে বেরিয়ে গেলাম যাতে জানাজাটা ধরতে পারি কিন্তু ঢাকার ব্যস্ত ট্রাফিক জ্যামে একেবারেই আটকে গিয়ে আমি শেষ পর্যন্ত জানাজাটা ধরতে পারিনি। কিন্তু দাফন কাজটা ধরতে পেরেছিলাম।
মীরপুর কবরস্থান অনেক বড়। ওখানে গিয়ে আমার মনটাই জানি কেমন হয়ে গেলো। কত ব্যস্ত লোক, ব্যবসায়ী লোক, পলিটিশিয়ান, মন্ত্রী মিনিষ্টার এই কবরে শুয়ে আছেন তার কোনো ইয়াত্তা নাই। পৃথিবীর এই পার্টে তাদের কাজ শেষ হয়ে তারা অন্যত্র চলে গেছেন। ওনারা আর এই পৃথিবীর কোনো কিছুতেই নাক গলান না, এর মধ্যে কোথায় কি হচ্ছে বা হবে এগুলি নিয়ে তাদের কোনো মাথাব্যথা নাই। ফ্যামিলি, বাচ্চা কাচ্চা, মায়ার সংসার এদের কাছে আর কোনো মুল্য নাই।
আজকে এই বিদায়ের দিনে জয়নাল দুলাভাইয়ের দাফলে গুটিকতক মানুষ জড়ো হয়েছে। মুলত ব্রিগেডিয়ার জেনারেল জাহিদ মামা এবং তার আরেক ভাই, মুবীন, জামান দুলাভাই, আমরা আরো কিছু লোক। সব মিলিয়ে হয়তো গোটা ২০/২৫ জন হবে।
আমি ওনার লাশটা দেখি নাই তবে যখন তার লাশটা কবরে নামানো হচ্ছিলো, মনে হলো ১৪/১৫ বছরের কোনো শীর্নকায় যুবকের লাশ রাখা হচ্ছে কবরে। খুব ছোট হয়ে গিয়েছিলেন শেষের দিকে। খুব কষ্ট পেয়ে মারা গেলেন দুলাভাই।