ধরুন, কোনো একদিন সুর্যটা আর উদিত হলো না। সারাটা পৃথিবী একেবারেই অন্ধকার হয়ে যাবে, চাঁদও আর তার থেকে আলো দিতে পারবে না। স্বাভাবিক কৃত্রিম আলো দিয়ে হয়তো কিছুদিন টিকে থাকলেও খুব দ্রুতই মানুষ একেবারে অন্ধকারে নিমজ্জিত হয়ে যাবে। খুব দ্রুত পৃথিবীর তাপমাত্রা কমতে থাকবে, জাষ্ট ২ থেকে ৩ দিনের মধ্যে সমস্ত গাছপালা তাদের ফটোসিন্থেসিস প্রক্রিয়া বন্ধ করে দিতে বাধ্য হবে। গাছপালাগুলি থেকে আমরা আর কোনো খাবার পাবো না। এক সপ্তাহের মধ্যে হয়তো পৃথিবীর তাপমাত্রা এমন পর্যায়ে যাবে যে, চারিদিকে বরফে আচ্ছাদিত হয়ে উঠবে গোটা দুনিয়া। নদীনালা, সাগর মহাসাগরের পানি সবকিছু তখন বরফে পরিনত হবে। মাছ, জলজ প্রানীগুলি বরফের মধ্যে আটকা পড়ে মরতে থাকবে। কোনো বৃষ্টি হবে না, কারন পানি বাষ্প হয়ে উপরে উঠবে না, কোনো গাছ জন্মাবে না কোথাও। এক মাসের মধ্যে খাবার সংকট, জ্বালানী সংকট, অক্সিজেন সংকট, সব কিছুর সংকট তীব্র থেকে তীব্র হতে থাকবে। শুধু এটাই না, যখন সুর্যটা আর উঠবে না বা থাকবে না, তখন আমাদের এই পৃথিবীটা প্রতি সেকেন্ডে যে ৩০ কিমি বেগে সুর্যের চারিদিকে ঘুরে, সেটাও বন্ধ হয়ে সুর্্যের চারিদিকে না ঘুরে সরাসরি সোজা পথে চলতে থাকবে কোনো এক অজানা অনিয়মিত পথের দিকে। আর তখন যদি কোনো এক গ্রহ, উপগ্রহ কিংবা মহাকাশের সেলেশিয়াল কোনো বডির সাথে সংঘর্শ বাধে, নিমিষের মধ্যেই আমাদের এই পৃথিবী টুকরো টুকরো হয়ে বিনাশ হয়ে যাবে। এমন একটা পরিস্থিতি কল্পনা করুন তো? তখন সবাই নিজেকে বাচানোর জন্য এতোটাই সার্থপর হয়ে উঠবে যেখানে আজকের দিনের সেই অট্টালিকা, সেই অর্থনীতি কিংবা রাজনীতি কিছুই আর কেউ এটা নিয়ে মাথা ঘামাবে না। সবাই তখন ব্যস্ত থাকবে শুধু নিজেকে বাচানোর এক চরম সার্থপরতার দন্ধে। অথচ আমরা আজ কতই না গোত্র, ক্ষমতা কিংবা অহংকারের দাবানলে নিজেরা নিজেরাই একে অপরের উপর জুলুম করে চলছি।
ব্যাপারটা কিন্তু ভয়ংকর।