15/08/2026-আমার মেয়ের শাশুড়িরা (ফেসবুকড)

পরিবারের পরিধি শুধু রক্তের সম্পর্কের মধ্যে সীমাবদ্ধ থাকে না। জীবনের পথে কিছু মানুষ এমনভাবে আমাদের সঙ্গে যুক্ত হয়ে যান, যাঁদের সঙ্গে রক্তের সম্পর্ক না থাকলেও ধীরে ধীরে এক ধরনের আপন সম্পর্ক তৈরি হয়। আমার দুই মেয়ের শাশুড়ি আমাদের পরিবারের তেমনই দুজন আপন মানুষ।

আমার বড় মেয়ের শাশুড়ি বাংলাদেশেরই মানুষ। একই সমাজ, একই সংস্কৃতি এবং একই মাটির সঙ্গে তাঁর আমাদের অনেক মিল। কিন্তু শুধু এই সাংস্কৃতিক পরিচয়ের কারণেই তিনি আমাদের আপন নন; তাঁর আন্তরিকতা, মমতা এবং সহজ-স্বাভাবিক ব্যবহারের কারণেই তিনি আমাদের পরিবারের একজন হয়ে উঠেছেন। তাঁর সঙ্গে আমাদের সম্পর্কটি আনুষ্ঠানিক আত্মীয়তার গণ্ডি পেরিয়ে পারস্পরিক শ্রদ্ধা ও ভালোবাসার জায়গায় পৌঁছেছে। সবচেয়ে বড় কথা, তিনি আমার মেয়েকে শুধু পুত্রবধূ হিসেবে নয়, নিজের পরিবারের একজন মানুষ হিসেবেই গ্রহণ করেছেন—একজন বাবা হিসেবে এর চেয়ে বড় স্বস্তির বিষয় আর কী হতে পারে!

অন্যদিকে, আমার ছোট মেয়ের শাশুড়ি একজন আমেরিকান। সম্পূর্ণ ভিন্ন একটি সংস্কৃতি, ভিন্ন সামাজিক পরিবেশ এবং ভিন্ন জীবনযাপনের মধ্য থেকে তিনি আমাদের পরিবারের সঙ্গে যুক্ত হয়েছেন। কিন্তু মানুষে মানুষে ভালোবাসার ভাষা যে আসলে কোনো দেশ, সংস্কৃতি কিংবা ভৌগোলিক সীমারেখা মানে না—তাঁর সঙ্গে আমাদের সম্পর্ক তারই একটি সুন্দর উদাহরণ।

তিনি অত্যন্ত ভালো মনের, প্রাণবন্ত ও সহজ-সরল একজন মানুষ। বিশেষ করে আমার মেয়ের সঙ্গে তাঁর সম্পর্কটি আমাকে খুব আনন্দ দেয়। তাঁদের মধ্যে প্রচলিত শাশুড়ি-বউয়ের দূরত্বের চেয়ে বন্ধুত্বের স্বাভাবিকতা অনেক বেশি। আমার মেয়ে তাঁর সঙ্গে নিজের কথা বলতে পারে, হাসতে পারে, মজা করতে পারে, নিজের অনুভূতি ভাগ করে নিতে পারে। একজন বাবা হিসেবে মেয়ের জীবনে এমন একজন মানুষকে পাশে পাওয়া আমার কাছে নিঃসন্দেহে বড় একটি আশীর্বাদ।

দুজন দুই দেশের মানুষ—একজন বাংলাদেশের, অন্যজন আমেরিকার। তাঁদের সংস্কৃতি, জীবনযাপন কিংবা অভিজ্ঞতার মধ্যে হয়তো অনেক পার্থক্য আছে। কিন্তু ভালোবাসা, মমতা, আন্তরিকতা এবং পরিবারের প্রতি দায়িত্ববোধের জায়গায় কোনো পার্থক্য নেই। বরং তাঁদের দুজনকে আমাদের পরিবারের সঙ্গে যুক্ত হতে দেখে আমার বারবার মনে হয়—মানুষের হৃদয়ের দূরত্ব কমে গেলে দেশ ও সংস্কৃতির দূরত্ব আর বড় হয়ে থাকে না।

আমার মেয়েরা তাদের নিজ নিজ সংসারে শুধু ভালো জীবনসঙ্গীই পায়নি; এমন দুজন মানুষকেও পেয়েছে, যাঁরা তাঁদের জীবনে মায়ের মতো মমতা, বন্ধুর মতো সহজতা এবং পরিবারের মতো আপন করে নেওয়ার অনুভূতি দিয়েছেন।

এটাও আমার জীবনের একটি বড় প্রাপ্তি।

তাই তাঁদের দুজনের প্রতিই আমার আন্তরিক শ্রদ্ধা, ভালোবাসা ও কৃতজ্ঞতা। তাঁরা সুস্থ থাকুন, ভালো থাকুন, তাঁদের সন্তানদের—আমাদের মেয়েদের—জীবনে তাঁদের এই ভালোবাসা ও বন্ধুত্ব সবসময় অটুট থাকুক। আর আমাদের দুই পরিবারের এই সুন্দর সম্পর্ক সময়ের সঙ্গে আরও গভীর ও মধুর হোক—এটাই আমার আন্তরিক কামনা। ❤️