29/5/2026- আমাদের বাংলাদেশের আয়তন হচ্ছে
আমাদের বাংলাদেশের আয়তন হচ্ছে প্রায় দেড় লাখ বর্গকিলোমিটার। অথচ আমরা যে পৃথিবীটাতে বসবাস করি, তার আয়তন হচ্ছে ৫১ কোটি বর্গ কিলোমিটার। আর আমাদের পৃথিবীটা যে সূর্যের চারিদিকে ঘুরে, সেই সূর্যের আয়তন হচ্ছে আমাদের পৃথিবী থেকে ১৩ লক্ষ গুন বড়। পৃথিবী আর সূর্যের মধতবর্তী দুরুত্ত প্রায় ১৫ কোটি কিলোমিটার। সূর্যটার একটা সৌরজগত আছে যেখানে পৃথিবী থেকেও বড় বড় গ্রহ উপগ্রহ বিদ্যমান। আমাদের পৃথিবীটা প্রতি সেকেন্ডে ৩০ কিলোমিটার বেগে ছুটে চলছে। আর এই বেগেই আমাদের পৃথিবীটা এই সুর্যের চারিদিকে একবার ঘুরে আসতে সময় লাগে এক বছর। পৃথিবী যেমন সৌর জগতের একটা অংশ, তেমনি আমাদের সুর্যও কারো না কারো অংশ। আর তার নাম হচ্ছে মিল্কীওয়ে। এটা একটা গ্যালাক্সি। সুর্যের মতো এই রকম সৌর জগত বিশিষ্ঠ আরো ১০০ বিলিয়ন নক্ষত্র নিয়ে আমাদের গ্যালাক্সি/মিল্কীওয়ে গঠিত। এই প্রায় ১০০ বিলিয়ন নক্ষত্র নিয়ে গঠিত আমাদের গ্যালাক্সীকে আমাদের সৌর জগত ঘুরে আসতে সময় নেয় প্রায় ২০ কোটি বছর। এই যে এতো বিশাল বিলিয়ন বিলিয়ন নক্ষত্র নিতে গঠিত গ্যালাক্সী/মিল্কীওয়ের কথা বলা হলো, এ রকমের আরো ২ ট্রলিয়ন গ্যালাক্সী নিয়ে আমরা যে দৃশ্যমান মহাবিশ্বটা দেখি তার আয়তন। আমাদের মিল্কিওয়ে যদি একটি শহর হয়, তাহলে IC 1101 হবে একটি মহাদেশ। মিল্কিওয়ে আকাশগঙ্গার ব্যাস প্রায় ১ লক্ষ আলোকবর্ষ। অ্যান্ড্রোমিডা গ্যালাক্সি আমাদের নিকটতম বড় প্রতিবেশী, যার ব্যাস প্রায় ২ লক্ষ ২০ হাজার আলোকবর্ষ এবং এটি আমাদের থেকে প্রায় ২৫ লক্ষ আলোকবর্ষ দূরে। কিন্তু IC 1101 এই দুটোকে অবলীলায় বামন বানিয়ে দেয়। Abell 2029 গ্যালাক্সি ক্লাস্টারের কেন্দ্রে অবস্থিত এই উপবৃত্তাকার গ্যালাক্সিটির ব্যাস আনুমানিক ৪ থেকে ৬ মিলিয়ন আলোকবর্ষ, যা এটিকে পর্যবেক্ষণযোগ্য গ্যালাক্সিগুলোর মধ্যে বৃহত্তমদের একটি করে তোলে। এটি পৃথিবী থেকে প্রায় ১.০৭ বিলিয়ন আলোকবর্ষ দূরে। Astrophysical Journal এ প্রকাশিত গবেষণা অনুযায়ী IC 1101 এ আনুমানিক ১০০ ট্রিলিয়ন নক্ষত্র থাকতে পারে। মহাবিশ্বের স্কেল মানুষের ভাষার সীমানাকে বারবার অতিক্রম করে যায়।
একবার ভাবুন, চোখ বন্ধ করেও এর বিশাল আয়তন মাথায় আনা সম্ভব না আমাদের কারোরই। এই মহাবিশ্বের মধ্যে আমাদের পৃথিবীটার অবস্থানটা চিন্তা করলে আর সেই প্রিথিবীর অবস্থাকে বাস্তবতায় মাথায় নিয়ে আমার অবস্থানকে চিন্তা করলে এই ইউনিভার্সের মধ্যে একটা বিন্দুও না। এই এতো বড় মহাবিশ্বটার মধ্যে ঈশ্বর কি শুধু বিন্দুসম পৃথিবীকে নিয়েই তার সাম্রাজ্যের সব পরিকল্পনায় মত্ত? মোটেও না। আমরা হয়তো শুধু আমাদেরকেই দেখছি, আর এই দেখা প্রিথিবীতে আমরা সারাটা দিন রাত আমি এক করে ফেলছি কতই না কল্পনা, পরিকল্পনা আর জল্পনা নিয়ে। এই ছোট বিন্দুসমেত পৃথিবীতে একটি গোত্র আরেক গোত্রে বিরুদ্ধে, একটি দেশ আরেকটি দেশের বিপক্ষে, মানুষ তার মানুষের বিপরীতে লড়াই করেই চলছে, আর যা নিয়ে লড়াই করে চলছে, যার শেষ পরিনতি কিন্তু কেহই সাথে নিতে পারে না। এই ছোট একটা খাচার মধ্যেই কেউ প্রেমে হতাশ হয়ে নিজের জীবন নিয়ে নিচ্ছে, কেউ কারো সম্পত্তির লোভে হিংসা হানাহানি করেই চলছে, কেউ আবার নতুন করে বাচার জন্য তীব্র প্রতিযোগিটা করছে। প্রতিদিন কোথাও না কোথাও কেউ অসুখী জীবন নিয়ে কেউ আত্তাহুতি দিচ্ছে, কেউ আবার নতুন সংসার করছে, কেউ আবার নতুন করে জন্ম নিচ্ছে। কোথাও হয়তো সন্ধ্যা হচ্ছে, কোথাও আবার হচ্ছে ব্রিষ্টি কিংবা শরতের মতো আদর্শ কোনো শীতল বাতাশ। আবার এরই মধ্যে চলছে একে অপরকে নিধনের কতই না চেষ্টা। কিন্তু একদিন আর কেহই থাকছে না। কেউ বোবা, তার আক্ষেপ কেনো সে কথা বলতে পারে না, কেউ কানা, তার আক্ষেপ কেনো সে চোখে দেখতে পারেনা। অথচ যিনি বোবা নন, কিংবা যিনি কানা নন, তার জন্যেও এমন কিছুই ঈশ্বর কমতি রাখেন নি যা অন্য একজন পায় তো সে পায় না। এরপরেও মানুষের না আছে সেই ঈসশরের প্রতি ক্রিতজ্ঞতা, না আছে শান্তি।
আসলে আমাদের গন্তব্যটা কোথায়? সম্পদে? সম্মানে, পজিশনে? নাকি কারো উপর পূর্ন আত্মসমর্পনে? হয়তো আমাদের এই জীবনের দৃশ্যমান গল্পটা এখানেই শেষ নয়। অন্য কোনো জগতে, অন্য কোনো ফর্মে।