০২/০৪/২০০০-তুমি কিসের নেশায় আমার কাছে

হালিশহর, আর্টিলারি সেন্টার এন্ড স্কুল

তুমি কিসের নেশায় আমার কাছে ছুটে এসেছিলে? আমি ই বা কিসের নেশায় এমন লোভনীয়তায় পড়ে তোমার কাছে এই রকম পাগলের মতো দিকবিদিক জ্ঞ্যান হারিয়ে ছুটে গিয়েছিলাম।

পৃথিবীতে স্বার্থ ছাড়া কেউ কোনো কাজ করে না। আজ যে শিশুর জন্ম হয়েছে, যার বোধ শক্তিকে আমরা শুন্য মনে করছি, যার কোনো কিছুই বুঝবার ক্ষমতা নাই, তারও কোনো আরামে ব্যাঘাত ঘটলে নিঃস্বার্থভাবে নির্মম কান্নায় সে প্রতিবাদ করে। প্রকৃতি যখন এই রকমই , সেখানে আমাদের একে অপরের প্রতি ছুটে আসবার কারন নিশ্চয় নিছক পরোপোকার নয়। একে আজ কেউ তাকে রোমান্টিক নামে, ভালোবাসার অনেক নামে নামাঙ্কিত করেছে। কিন্তু এই ভালোবাসার পিছনে কি কোনো ক্ষত বিক্ষতের ইতিহাস বা বোধ নাই? একজন খুনী কি ভালবাসে না? বাসে। সেও তার প্রিয়জনকে ভালোবাসে, নিজেকে ভালোবাসে। তাহলে তো খুনী আর ভালোবাসার মানুষের মধ্যে আসলে কোনো পার্থক্য নাই। খুব সুক্ষ একটা লাইন মাত্র। 

কেউ ভালোবেসে খুন করে, কেউ ভালোবাসায় খুন হয়। কেউ খুন করে নিজকে আবার কেউ খুন করে অন্যকে। প্রকাশ্য দিবালোকে খুন যে করে তাকেই আমরা দেখি, অথচ প্রতিদিন প্রতিক্ষনে আনাচে কানাচে কত খুন খারাবি হচ্ছে চেতনায়, অচেতনায় তাকে আমরা কতটুকু দেখি? অথচ তার সংখ্যাটাই বেশি।

কি এমন ছিলো তোমাতে? রুপ? যৌবন? অহমিকা? ধন সম্পদ? পৃথিবীতে কি তোমার থেকে রুপবতী আর কেউ নাই যে তোমার কাছেই আমাকে এই রকম হন্যে হয়ে হুমড়ি খেয়ে যেতে হবে? তোমার থেকে কি আর কেউ রপবতী ছিলো না? তাহলে? তাহলে আমি কি তোমার অহমিকাকে ভেঙ্গে চুরমার করার জন্যই নেশায় পড়েছিলাম? তাও না। ধন সম্পদ? সেটা তুমি চিরকাল জানো যে, ওইসব ধন সম্পদের উপর আমার কখনো কোনো লোভ ছিলো না। দেখো , তারপরেও ঘটনা ঘটেছে, আমি পাগল হয়েছি, আমি নেশায় পড়েছি। হয়ত, তুমি তোমার মতই আর হয়ত তোমার মতো আর কেহ নাই বলেই তুমি ইউনিক।  তাই হয়ত বারবার ফিরে এসেছি তোমার কাছে। 

সবচেয়ে বড় কথা হলো, তোমারও যেমন পরাজয় হয় নাই, আমারো জয় হবার মতো তেমন কিছু আমি দেখিনি। সেই একই গীত যা পুরান আমল থেকেই বেজে এসেছে এবং ভবিষ্যতেও বাজবে। হয়ত সুরের কিছু পরিবর্তন আর প্রলয়ের কিছু উচ্ছ্বাস থাকবে তাদের নতুন উপদানের অংশ। তাতে কি কোনো পার্থক্য হয়? 

হয় না।