11.5.2026 Zarif Files

This content is password-protected. To view it, please enter the password below.

আমার মা

মিসেস হামিদা খাতুন, স্বামীর নাম-মোঃ হোসেন আলি মাদবর, ঠিকানা-নতুন বাক্তার চর, থানা-দক্ষিন কেরানীগঞ্জ, ঢাকা। তিনি আমার মা। আমার মায়ের বংশ ধারাটা এই রকমের। জনাব আহাদুল এর ছেলে হাজি আসাদ উল্লাহর তিন পুত্র (১) জনাব উম্মেদ আলী মুন্সি (২) হাছান আলী মুন্সী (৩) ছলিম উদ্দিন মুন্সী। জনাব উম্মেদ আলীর ছিলো চার ছেলে সন্তান। তারা ছিলেন (১) কুদরত আলী (২) লস্কর আলী (৩) চেরাগ আলী (৪) কেরামত আলী। এই কেরামত আলী ছিলেন আমার নানা অর্থাৎ আমার মায়ের পিতা। উক্ত নানা কেরামত আলীর কোনো পুত্র সন্তান ছিলো না। তার মাত্র দুইজন কন্যা (১) আমার মা (২) আমার খালা সামিদা খাতুন।

মাত্র ১১-১২ বছর বয়সে বিয়ে হয় কিন্তু দেড় থেকে দুই বছরের মধ্যেই এক ছেলের মা হয়ে বিধবা হন। খুব বড় লোকের মেয়ে নন বটে কিন্তু মাঝারী পরিবারের বনেদি ঘরের মহিলা। যেই সময়ের কথা বলছি, তখন ১৫ বছর অতিক্রম করলেই গ্রামের মধ্যে আইবুড়ি হয়ে আছে মেয়ে এই রকম একটা অপবাদ চারিদিকে ছড়িয়ে পড়ে। তার মধ্যে যদি আবার নিয়তির কারনে কেউ এতো অল্প বয়সেই বিধবা হন, তার তো জীবনটাই যেনো কি রকম দুর্বিষহ হয়ে উঠে তা জানে শুধু যে সাফার করে সে আর জানে সেই পরিবার যেই পরিবারে এটা ঘটছে। অতঃপর দ্বিতীয় বিয়ে হয় আমার বাবার সাথে। বিস্তর বয়সের তফাত ছিলো আমার বাবার সাথে আমার মায়ের। আমার বয়স যখন মাত্র দেড় কি দুই তখন আমার বাবা মারা যান। আমি আমার বাবাকে দেখি নাই, এমন কি আমাদের কারো কাছেই আমার বাবার কোনো ছবিও নাই। আমার মা যখন আমার বাবাকে বিয়ে করেন, তখন তার প্রথম পক্ষের ছেলে বিল্লাল হোসেন কে আমাদের ই গ্রামের পাশের এক নিঃসন্তান দম্পতির কাছে পালক দিয়ে দেন। আমার মা আমার বাবার এমন একটা সংসারে পদার্পণ করেন যেখানে আমার বাবার আগের পক্ষেরই সন্তান ছিলো গোটা আট জন। তাদের সবার বয়স আমার মায়ের থেকে অধিক। এই সন্তানেরা আমার মাকে কোনদিনই আপন করে ভাবতে পারেন নাই। আমার বাবা ছিলেন মাদবর যিনি সারাক্ষনই গ্রামের মাদবরি আর তার জমিজমা নিয়ে ব্যস্ত ছিলেন। এমনই এক সংসারে মা একটানা সংসার করেছেন। আমাদের এই ঘরে পরপর তিন ছেলে আর পাচ কন্যার জন্ম দেন আমার মা। সবার বড় আমার বোন, যার নাম সাফিয়া, তার ছোট শায়েস্তা, এর পরই জন্ম নেয় আমার বড় ভাই ডঃ হাবীবুল্লাহ, তারপর জন্ম নেয় আমার পর পর তিন বোন যথাক্রমে লায়লা, ফাতেমা আর মেহেরুন্নেসা। এতোগুলি মেয়ের পর আমার মার কোল জুড়ে আসে আরেক পুত্র সন্তান কিন্তু সে এই পৃথিবীতে বেশীদিন টিকে থাকতে পারে নাই। তারপরের মানুষটিই হচ্ছি আমি। আমার বয়স যখন মাত্র দেড় বা দুই, তারপরে আমার বাবা জান্নাতবাসী হন। ফলে আমিই হলাম আমার পরিবারের সর্বকনিষ্ঠ সন্তান। আমার মা আর বিয়ের সপ্ন দেখেননি। আমাদেরকে নিয়েই তিনি তার সমস্ত ধ্যান ধারনা আর সপ্ন লালিত করেছেন। আমার মা শিক্ষিত ছিলেন না। কিন্তু মানুষ হিসাবে ছিলেন অত্যন্ত ভাল মানুষ। দেখতেও ছিলেন সুন্দরী। আমার মায়ের পরিবারের কাউকেই আমার মনে নাই। বরং বলতে পারেন, আমি কাউকেই দেখি নাই। আমার জন্মের আগেই সব চলে গেছেন না ফেরার দেশে। আমি না দেখেছি আমার দাদি, দাদা, নানা, বা নানি, কিংবা কোনো মামা, মামিকে। কি আজব, না? আসলেই আজব। এমনটা কি কখনো হয়? কিন্তু হয়েছে। আমাদের আদিবাড়ি আছে মুন্সীগঞ্জ জেলার কয়রাখোলায় যা বর্তমানে সিরাজদিখান উপজেলার অন্তর্গত। আমাদের ঐ বাড়িটি আসলে ছিলো আমার নানার প্রাপ্য জমিটাতে। কিভাবে আমার বাবা আমার নানার জমিতে এতো বড় বাড়ি করলো এবং কেনো উনি তার এতো সম্পদ থাকতেও নিজের সম্পত্তিতে কোনো বাড়ি করেন নাই সেটা আমার আজো জানা হয় নাই। পরবর্তীতে আমরা মাইগ্রেট করে কয়রাখোলা থেকে কেরানীগঞ্জ চলে আসি। ফলে আমাদের এখন দুটু গ্রামের বাড়ি- এক) কয়রাখোলা, ২) কেরানীগঞ্জ। 

রিভার সাইড সুয়েটার্স লিমিটেড

রিভার সাইড সুয়েটার্স লিমিটেড একটি ১০০% রপ্তানীমূলক সুয়েটার্স তৈরির প্রতিষ্ঠান। প্রতিষ্ঠানটির সাথে আমি প্রথমে ২০০৫ সালে ৩০% শেয়ার নিয়ে জনাব নাজিমুদ্দিনের সঙ্গে পার্টনারশীপ ব্যবসা শুরু করি, যদিও অত্র প্রতিষ্ঠান টি ২০০৩ সালে গঠিত হয়। অতঃপর ২০০৬ সালে নাজিমুদ্দিনের কাছ থেকে বাকী ৭০% শেয়ারও ক্রয় করিয়া জনাব নাজিমুদ্দিনকে অব্যাহতি দেই। এই সময়ে জনাব নাজিমুদ্দিনের সাথে আমার হাসনাবাদ সুপার মার্কেটের ভবনের যে স্থানে গার্মেন্টস অবস্থিত, তা ৩ বছরের মেয়াদে ভাড়ায় চুক্তিবদ্ধ একটা চুক্তি হয়। এবং তাহাকে বেশ কিছু বড় অংকের টাকা অগ্রিম প্রদান করি। অতঃপর, ১০০% শেয়ার নেওয়ার সময় আমি বিনা টাকায় জনাব মোহসীন শাহীন নামে এক ভদ্রলোককে আমার পার্টনারশীপ দেই, আর সেটার পরিমান ছিলো ৩০%। তাকে আমি এই ৩০% শেয়ার এই মর্মে বিনা টাকায় দিয়েছিলাম যাতে তিনি গার্মেন্টস ব্যবসাটি সুন্দরভাবে চালান এবং এর উন্নতি করেন। এখানে বলা বাহুল্য যে, জনাব মোহসীন আগে থেকেই এই সেক্টরে কাজ ছিলেন এবং অভিজ্ঞ ছিলেন।

কিন্তু আমার এক্সপেক্টেশনের সাথে জনাব মোহসীন সাহেব গার্মেন্টস এর উন্নতি করতে না পারায় আমি ধীরে ধীরে লস টানতে গিয়ে প্রায় নিঃস্ব হবার উপক্রম হয়। একদিকে নিজের সব সঞ্চিত টাকা, স্ত্রীর যত সঞ্চিত টাকা, এবং অনেক আত্তীয় স্বজনের কাছ থেকে নেওয়া প্রায় ৫০/৬০ লক্ষ টাকার দেনার মধ্যে পড়ি। কোনো উপায়ন্তর না দেখে শেষ অবধি আমি ডিসিশন নেই যে, আমি আর অত্র রিভার সাইড ফ্যাক্টরীটি চালাবো না। এতে যেটা হবে তা হচ্ছে, আমি ব্যাংকের লোন টা (প্রায় ৩ কোটির মতো) আপাতত সামাল দিতে পারবো, কিন্তু আমি যে আমার আত্তীয় স্বজনের কাছ থেকে টাকা ধার নিয়েছি, সেটা দিতে পারবো না। তার পরেও আমি এই সিদ্ধান্তটা নিয়েছিলাম। কারন, যদি আমি ফ্যাক্টরী চালাই, তাহলে প্রতিমাসে লস হচ্ছিলো প্রায় ১০ লাখ টাকার মতো। আর যদি না চালাই, তাহলে এই লস টা থেকে বেচে যাই। আর আমার পক্ষে লস দিয়ে তাকার যোগা দেওয়া ও আর যাচ্ছিলো না। মোহসীন সাহেব যেহেতু কোনো কন্ট্রিবুসন করেন না বা করতে পারবেন ও না, ফলে তার কোনো চিন্তাও নাই আবার ফ্যাক্টরী বন্ধ হোক এটাও তিনি চাচ্ছেন না। কিন্তু আমি বুঝতেছিলাম, আমার উপর দিয়ে কি যাচ্ছে।

এমন সময় মিষ্টার মূর্তজা এবং মিষ্টার প্রিয়ান্থা (শ্রীলংকার) এই দুইজন আমাদের ফ্যাক্টরি মাত্র ২ কোটি তাকার বিনিময়ে কিনার আগ্রহ প্রকাশ করেন। শর্ত থাকে যে, তারা ব্যাংকের লোন রি-সিডিউলিং করে নেবেন, এবং কিস্তিতে তা পরিশোধ করবেন। আমাদের যতো আউট স্ট্যান্ডিং বকেয়া আছে (যেমন শ্রমিকদের বেতন, গ্যাস বিল, কারেন্ট বিল, এবং অন্যান্য) এর বিপরীতে প্রায় ৭০/৮০ লাখের মতো হবে তা দিয়ে দেবেন। আমার যেহেতু এই ফ্যাক্টরী চালানোর কোনো সক্ষমতা ছিলো না, আর চালাইতেও চাচ্ছিলাম না, ফলে যেই রকম ডিল ই হোক, তাতে আমি মেনেই গেলাম।

তারা ধীরে ধীরে ফ্যাক্টরীকে তাদের মতো করে সাজাতে শুরু করলেন, আমি মুটামুটি বেকার। বাসাতেই বেশীর ভাগ সময়কাটাই, কিংবা আশেপাশে ঘুরি। অনেক চিন্তায় ছিলাম, কি করা যায় এটা নিয়ে।

বাইবেলে রঙ এর ব্যাখ্যা

বাইবেলে সাদা, কালো, হলুদ এবং সম্ভবত মিক্সড এই কয়েকটি কালারের কথা বোলা আছে। অনেকদিন আগে আমি বাইবেলের প্রায় ৭টা ভার্সন পরেছিলাম। লুকের, মেথিউজ, আর্কের এবং অল্ড টেস্টামেন সহ নিউ টেস্টামেন্ট।

অল্ড এবং নিউ টেস্টামেন্ট টা অনেকে হয়ত বুঝবে কিনা আমি জানি না তবে এটা জানা ভাল। তো আমি পড়ে এটা সম্পর্কে একটু ধারনা দেব যদি কেউ জানতে চায়।  

 তো বলি এবার, কালারের কথাগুলো।

বাইবেলের কোন এক জায়গায় লিখা আছে যে, "ইয়াহি অনেক দূর থেকে তোমাদের জন্য এক রাজ্য নিয়ে আসবে যে দেশের লোক হবে খুবই তড়িৎগতি সম্পুন্ন ইগলের মত, যাদের ভাষা তোমরা বুঝতে পারবে না এবং যারা হবে যুদ্ধ প্রিয় মানুষ। তারা বড়দের সম্মান করবে না, এবং ছোটদেরকেও এরা কোন ফেবার করবে না। তারা প্রুচুর মাংশভুজি হবে, তারা তোমাদের জন্য কোন শস্যক্ষেত খালি রাখবে না মদ তৈরির করার জন্য। এদেরকে বোলা হয়েছে হলুদ মানুষ। এখানে আরও একটা কথা বোলা দরকার যে, বাইবেল বলে যে, ঐ সময় জেসাস এসে তোমাদের সাহায্য করবেন এবং নতুন রাজ্য সৃষ্টি করবেন যার নাম হবে মিলেনিয়াম রাজ্য।  

বাইবেলের আরেক ভার্সনে বোলা আছে যে, "তোমার যত পূর্বে যাবে তত হলুদ বিপদের মানুষের সঙ্গে তোমাদের দেখা হবে"। ইন ফ্যাক্ট এই মিথ তাঁর অর্থ অনেক রকমের। কেউ মনে করে এই মিথ টা এসেছে " দি কিংস ফ্রম দি ইস্ট" কনসেপ্ট থেকে। এর মানে এই যে, ইউফ্রেটিস নদির পূর্ব তীরের মানুষ গুলোর কথা বোলা হয়েছে। এর মানে চীন। কিন্তু অনেকে আরও দূর ব্যাখ্যা দিয়ে বলে যে চীনের পর এবং পূর্বেও হচ্ছে আমেরিকা।আবার অনেকে মনে করে যে, ইউফ্রেটিসের পূর্বে বাগদাদ বা তেহরানও আছে যারা ইসলামিক শক্তি হিসাবে আবির্ভূত হচ্ছে দিনে দিনে।

 এখানে বাইবেলের অন্যান কালারের ব্যাপারে আরও কিছু মজার মিথ প্রচলন আছে। যেমন, ঈশ্বর যখন প্রথম মানুষ তৈরি করেন, তখন তাঁর কালার খুবই কাল হয়ে গিয়েছিল। তখন তিনি আবার আরও একজন মানুষ তৈরি করেন, তখন সেটা হয়ে ছিল অনেক সাদা। তখন তিনি তৃতীয় বার চেস্টার পর যে মানুষটি তৈরি হল, সেতা না কাল  না সাদা। ওটা প্রায় এসিয়ান টাইপের। এটা অনেকে জোক মনে করেন কারন এই কনসেপ্টটা সব ভার্সনে পাওয়া যায় না।

 তবে অরিজিনাল বাইবেলে মাত্র ৪ বার হলুদ কালারটা ব্যবহার করা হয়েছে। ৩ বার ই ব্যবহার হয়েছে ধর্ম জাজকের দ্বারা রোগ নির্ণয় করার কারনে বা ব্যাপারে। আর ৪র্থ বার ব্যবহার করা হয়েছে ইয়েলো গোল্ড বুঝানোর জন্য।

কোন একটা ভার্সনে (আমার ঠিক মনে নাই এখন) বলা হয়েছে যে, Gold or Yellow: Symbolizes the Glory of God ; divine nature; holiness; eternal deity; the Godhead; Purification; majesty; righteousness; divine light; kingliness; trial by fire; mercy; power; His Deity; Glory. Yellow or Gold is also primary. It always speaks of trial and purging. "That trial of your faith, being much more precious than of gold that perishes, though it be tried with fire, might be found unto praise and honour and glory at the appearing of Jesus Christ"

 বাইবেলের বিশেষ করে লেভিক্টাসে কালারের কিছু মিনিগ সরাসরি বোলা হয়েছিল। যেমন ধরঃ কাল মানে পাপ, মৃত্যু, খোঁড়া, দুঃখ কিন্তু এখানে চুল কে ওর মধ্যে ব্যতিক্রম রাখা হয়েছে।

নিল কালারকে বোলা হয়েছে যে, পবিত্র জায়গায় যা যা রাখা হবে তাঁর কালার হতে হবে নীল। এটা ধনী ব্যাক্তির জন্য ও ব্যবহার করার রিতি আছে। এটা হচ্ছে হেভেনলি কালার।

সবুজ কালারকে জীবনের কালার বোলা হয় অর্থাৎ যা সবুজ তাতেই প্রান আছে বোলা হয়।

The color red in the Bible means love, forgiveness, or even blood sacrifice. Red in the Bible meant the chosen people whose doors were paintef red were to be kept alive and the doors that were not painted were killed

এবার আসি অল্ড টেস্টামেন্ট এবং নিউ টেস্টামেন্ট কি

একদম সবচেয়ে বিশাল পার্থক্য হচ্ছে অল্ড টেস্টামেন্টে জিশুর আবির্ভাব আর নিউ টেস্টামেন্টে এটার অভাব। The Old Testament provides the history of a people; the New Testament focus is on a Person. The Old Testament shows the wrath of God against sin (with glimpses of His grace); the New Testament shows the grace of God toward sinners (with glimpses of His wrath). The Old Testament predicts a Messiah (see Isaiah 53), and the New Testament reveals who the Messiah is (John 4:25–26). The Old Testament records the giving of God’s Law, and the New Testament shows how Jesus the Messiah fulfilled that Law (Matthew 5:17; Hebrews 10:9). In the Old Testament, God’s dealings are mainly with His chosen people, the Jews; in the New Testament, God’s dealings are mainly with His church (Matthew 16:18). Physical blessings promised under the Old Covenant (Deuteronomy 29:9) give way to spiritual blessings under the New Covenant (Ephesians 1:3). The Old Testament saw paradise lost for Adam; the New Testament shows how paradise is regained through the second Adam (Christ). The Old Testament declares that man was separated from God through sin (Genesis 3), and the New Testament declares that man can be restored in his relationship to God (Romans 3—6). The Old Testament predicted the Messiah’s life. The Gospels record Jesus’ life, and the Epistles interpret His life and how we are to respond to all He has done. In summary, the Old Testament lays the foundation for the coming of the Messiah who would sacrifice Himself for the sins of the world (1 John 2:2). The New Testament records the ministry of Jesus Christ and then looks back on what He did and how we are to respond. Both testaments reveal the same holy, merciful, and righteous God who condemns sin but desires to save sinners through an atoning sacrifice.

ফান্ডামেন্টালিজম এবং ওয়্যার এগেইনস্ট টেরর

ফান্ডামেন্টালিজম শব্দটি একটি প্রোটেস্টেন টার্ম। এটি "দি ফান্ডামেন্টালসঃ এ টেস্টিমনি টু দি ট্রুথ" নামক ১৯০৯ সালের একটা পাব্লিকেসন থেকে নেওয়া। আর এই টাইটেলটি বিশেষভাবে ইভানজেলিক্যাল প্রোটেস্টাইন ক্রিশ্চিয়ানদের জন্যই প্রযোজ্য। ১৯২০ থেকে ১৯৩০ সালের দিকে যখন বিভিন্ন স্পিরিচুয়াল ধর্মজাযকগন তাদের যোগপোযোগী মনগড়া আধ্যাত্মিক বিশ্বাসসমুহকে বাইবেলের মধ্যে একে একে অন্তর্গত করছিলেন, শুধু তাই নয়, ওই সময়ে ডারউইনের থিউরি, এবং তখনকার আধুনিক বিব্লিক্যাল মতবাদ এবং তারসঙ্গে স্পিরিচুয়াল ধর্মযাজকদের আরোপিত এবং রচিত মতবাদে বাইবেলের নিজস্ব স্বকীয়তা অনেকটাই ম্লান হতে বসেছিলো। তখন ক্রিশ্চিয়ানদের এই অংশটি ওইসব বাইবেলের উপর থেকে সরে এসে একটি গোত্র কিংবা অন্য কথায় সাব-কালচার তৈরি করেন আর এদেরকেই তখন "ফান্ডামেন্টাল" নামে মুল্যায়ন করা হয়। তাদের মতে, বাইবেল একটি পবিত্র গ্রন্থ, ঈশ্বরের বানী, তারমধ্যে কোনো কিছুই যোজন বা বিয়োজন করার অবকাশ নাই এবং এটা ভুল থেকে মুক্ত। 

খোদ আমেরিকার দুইভাই কার্টিস লি এবং মিল্টন স্টুয়ার্ড উভয়ে যৌথভাবে উক্ত ফান্ডামেন্টালিস্ট দলটিকে একত্রিভুত করেন। তাদের প্রথম এবং প্রাইমারী দায়িত্ব ছিলো পবিত্র বাইবেলের স্বকীয়তাকে বিকৃত হওয়া থেকে রক্ষা করা। অতঃপর ১৯৬০ সালে ভেটিকান-২ সম্মেলনে এই ক্রিশ্চিয়ানদেরকে স্থায়ীভাবে "ফান্ডামেন্টালিস্ট" হিসাবে স্বীকৃতি দেওয়া হয়। এই মূল শব্দটি অথবা অন্য কথায় যারা ফান্ডামেন্টালিস্ট, তাঁরা পাঁচটি ব্যসিক বিশ্বাসের উপর দৃঢ় অবস্থান নিয়েছিলো। সেগুলু হচ্ছেঃ (১) The Virgin Birth (2) The Physical Resurrection of Jesus (3) The Infallibility of the Scruptures (4) The Substitutional Atonement (5) The Physical Second Coming of Christ. ফান্ন্ডমেন্টালিস্টরা মনে করেন যে, ধর্মচ্যুত করা বা ধর্মচ্যুত হওয়া অন্যায় এবং তাদের ধর্মের বাইরে অন্য কোনো ধর্ম বা মতবাদ বিশ্বাস করাও অন্যায়। অন্য কথায় এরা গোঁড়া। 

এখন ক্রিশ্চিয়ান ধর্মাবলম্বীদের না হয় আমরা ফান্ডামেন্টালিস্ট নামে অভিহিত করলাম, অন্যধর্মে তাহলে কি এই জাতীয় রক্ষণশীল ধার্মিক গোত্র নাই? তাহলে তাদেরকে কি বলা হয়? তারাও কি "ফান্ডামেন্ডালিস্ট"? যেমন, হিন্দুদের বেলায় বলা হয় "হিন্দুৎভা" বা "হিন্দুইজম"। কিন্তু "হিন্দুৎভা" মতবাদে Hindutva is understood as a way of life or a state of mind and is not to be equated with or understood as religious Hindu fundamentalism তাদের "হিন্দুৎভা"র নিজস্ব স্বকীয়তা রক্ষার জন্য পৃথক কোনো রক্ষণশীল গোত্র সৃষ্টি হয় নাই। তাদের বেলায় যা হচ্ছে তা নিতান্তই ধর্মপালনকে একটা রীতিনীতির মধ্যে সিমাবদ্ধ। যেমন, কেউ যদি হিন্দুত্ব ছেড়ে অন্য কোনো ধর্মকে আলিঙ্গন করতেও চান, তাতে তাদের ধর্মের মধ্যে কোনো বড় ধরনের আইনগত বাধা নাই। কিংবা হিন্দুধর্মের একক কোনো ঈশ্বরও নাই। একেক বিষয়ে তাঁরা একেক জনকে প্রধান ঈশ্বর মেনে থাকেন। অন্যদিকে The importance of Hindu fundamentalism lies in its very contemporary and nationalistic scope, compared to other, more regional expressions 

ইহুদিদের বেলায় ধর্মের নামে এই রক্ষণশীল ফান্ডামেন্টালিজম এর সংজ্ঞা আবার ভিন্ন। ইহুদিরা বিশ্বাস করে যে, তাদের ধর্মবচন "টানাক" বা ট্রেডিসনালি যাকে আমরা "ওল্ড টেস্টামেন্ট" বলি তার অন্তর্নিহিত ব্যাখ্যা বা শিক্ষাই হচ্ছে মুখ্যবিষয়। অল্প কিছু ইহুদি (যেমন কেরাইটেস গোত্র) যারা তাওরাদ ধর্মগ্রন্থের বানীসমুহ সরাসরি "টানাক" ধর্মবচনের মত অবিকল ব্যাখ্যায় বিশ্বাসী নয়। কেউ কেউ হয়ত ভাবেন যে, অর্থোডক্স বা হাছিডিক ইহুদিরা এক ধরনের ফান্ডামেন্টালিস্ট। তারপরেও তাঁরা ক্রিশ্চিয়ান ফান্ডামেন্টালিস্টদের মতো অতোটা গোঁড়া নয়। তাঁরা মনে করে, তাওরাতে মোট ৬১৩টি ভিন্ন পথের মাধ্যমে ঈশ্বরকে পাওয়া সম্ভব বলে পথ বাৎলে দিয়েছে। আবার যারা ইহুদি ধর্মগ্রন্থে বিশ্বাসী নয় তাঁরাও অন্যপথে ঈশ্বরকে খুজে পাবেন বলে বিশ্বাস করেন। ওদিকে বৌদ্ধধর্মের মধ্যে ধর্মের চেয়ে জাতিভিত্তিক বা গোত্র বা এলাকাভিত্তিক দলবদ্ধটাই বেশি চোখে পড়ে। তার অর্থ দাড়ায় তাদেরকে ধর্মের পরিপ্রেক্ষিতে ফান্ডামেন্টালিস্ট হিসাবে অন্তর্ভুক্ত করা সঠিক কাজ হবে না। এইটুকু আলোচনা থেকে কিন্তু আমরা এই ধারনা পাই যে, শুধুমাত্র ধর্মের পবিত্র গ্রন্থের স্বকীয়তাকে বজায় রাখার জন্যই শুধু ক্রিশ্চিয়ান সম্প্রদায়ের মধ্যে একটি পৃথক রক্ষণশীল গোত্র তৈরি হয়েছিলো যারা ফান্ডামেন্টালিস্ট নামে পরিচিত এবং অন্য কোনো ধর্মে এই প্রবনতাটা ছিলো না।  

এবার যদি ইসলামিক ফান্ডামেন্টালিজম সম্পর্কে বলি, তাহলে Fundamentalist Islam is simply the conservative wing of Islam, just as fundamentalist Christianity is the conservative wing of Christianity. এই দুইটি দলই কিছুটা ধার্মিক প্রকৃতির গোঁড়া। ক্রিশ্চিয়ানদের বেলায় যেমন উপরে উল্লেখিত পাঁচটি মূলস্তম্ভ অনুসরন করে, ইসলামের বেলায়ও এই রক্ষণশীল মুসলমানেরা এক আল্লাহকে বিশ্বাস করেন, হজরত মুহাম্মাদ (সঃ) কে নবী মানেন, তাঁকে অনুসরন করে পাঁচ ওয়াক্ত নামাজের জন্য প্রতিনিয়ত মসজিদে যাতায়ত করেন, রোজা, যাকাত, হজ্জ ইত্যাদি মূলস্তম্ভ হিসাবে অপরিহার্য হিসাবে পালন করেন। কোরআন এবং নবী যা যা করতে বলছেন, তা পুঙ্খানুপুঙ্খভাবে মেনে চলার রীতিই হচ্ছে মুসলমানদের জন্য সঠিক ধর্মপালন। এই মুসলমান সম্প্রদায়টি তাদের পবিত্রগ্রন্থ আল কোরআন বিকৃতি হওয়ার বা একে পরিবর্তন, পরিবর্ধন, কিংবা যোজন- বিয়োজন, পরিবর্ধন করার কোনো প্রকার চেষ্টা যেমন কখনো কেউ করার চেষ্টা করেন নাই বা করার প্রয়োজনও মনে করেন না। ব্যসিক মূলমন্ত্র গুলি পালনই হচ্ছে মুসলমানদের জন্য সত্য ধর্মপালনকারী। কেউ স্ট্রিক্টলি পালন করেন আবার কেউ ঢিলেঢালাভাবে। কিন্তু মূলমন্ত্র এক। তাহলে কেউ শুদ্ধভাবে এবং স্ট্রিক্টলি প্রতিনিয়ত মূলস্তম্ভ সমুহের পালনকারী ধার্মিক হলেই কি তাদেরকে ফান্ডামেন্টালিস্ট নামে অভিহিত করা হবে? ব্যাপারটা আসলে কখনোই এই রকম নয়। সঠিকভাবে ইসলামের সব আদব কায়দা পালনকারী মুসলমান কখনো ফান্ডামেন্টালিস্ট নন এবং তিনি গোঁড়াও নন। তাঁরা অন্য কারো ধর্ম নিয়েও বাধা নিষেধ দেন না। কারন খোদ ইসলাম অন্য ধর্মের প্রতিনিধিকে যথারীতি সম্মান প্রদর্শনের নির্দেশনা দিয়েছেন। আর সবচেয়ে বড় কথা হচ্ছে, প্রকৃত মুসলমান পূর্ববর্তী সব প্রধান ধর্মগ্রন্থসমুহকে না মানলে বরং তিনি সহিহ মুসলমান হিসাবে গন্য হবেন না এটাই ইসলাম শিক্ষা দেয়। তারমানে তাওরাদ, জবুর, ইঞ্জিল, এবং কোরআন সব আল্লাহর পবিত্রগ্রন্থ যা পূর্ববর্তী নবীসমুহের উপর অবতীর্ণ হয়েছে এটা সয়ং কোরআন নিজে সাক্ষী দেয়। কিন্তু দুঃখের বিষয় হচ্ছে ওইসব পবিত্র গ্রন্থ গুলি এখন আর অরিজিনাল ভাবে নাই। অনেকাংশেই পরিবর্ধন, পরিবর্তন হয়ে গেছে।  

এখানে একটি সুক্ষ বিষয় মাথায় রাখা দরকার। বিশেষ করে মুসলমানদের বেলায়। প্রতিটি মুসলমান তাদের পবিত্র ধর্মগ্রন্থ আল কোরআন এবং তৎসংলগ্ন পাঁচটি মূলমন্ত্রের উপর প্রতিষ্ঠিত। এই মুলস্তম্ভের মধ্যে কোনো প্রকারের দ্বিধা নাই। তাহলে মুসলমানদের মধ্যেই এতো গোত্রের আবির্ভাব হল কেনো? আর এই গোত্রগুলিই বা কারা? যেহেতু পবিত্র কোরআন একটি বৈজ্ঞানিক এবং আধুনিক সমাজ ব্যবস্থায় মানুষের জন্য পুরনাংগো জীবন ব্যবস্থা হিসাবে আবির্ভূত হয়েছে। (তাহলে প্রশ্ন আস তে পারে যে, পূর্ববর্তী আল্লাহ প্রদত্ত গ্রন্থ গুলি কি কোর আনের মতো মানুষের জন্য পুরনাংগ জীবন ব্যবস্থা ছিলো না? হয়ত ছিলো কিন্তু তা আর আমাদের কাছে অরিজিনাল হিসাবে না থাকায় তার সত্যতা নিরুপন সম্ভব নয়)। ফলে ব্যক্তি জীবনে, সমাজ ব্যবস্থায় তথা রাষ্ট্রীয় বিধি ব্যবস্থায় সর্বত্র এই রিলিজিয়াস আইনসমুহকেই (যাকে আমরা শারিয়াহ আইন বলি) মেনে চলার বিধান বলা হয়েছে, সেকুল্যার আইনকে নয়। আর এই শারিয়াহ আইন সমুহগুলি হচ্ছে ওই সময়ের যা আমাদের নবীজির আমলে বা তাঁর আমলে পালিত হওয়া বিধিমালা অর্থাৎ সালাফি নামে আমরা যা বুঝি। কিন্তু পরবর্তী সময়ে তাঁর মৃত্যুর পর এই সালাফি আইনসমুহই কিছু কিছু রি-ফরম হয়েছে যার কারনে বিভিন্ন গোত্রের বা দলের সৃষ্টি হয়। কিন্তু তাদের সবারই কিন্তু মূলমন্ত্র বা স্তম্ভসমুহ এক। অর্থাৎ এখানে সঠিক কিছু সালাফি আইনের ব্যাখ্যার কারনে বা পার্থক্যের কারনে ব্যক্তি, সমাজ ব্যবস্থা বা রাষ্ট্রীয় আইন কানুনের বিধি নিষেধের মধ্যে বিভিন্ন মতবাদের সৃষ্টি হয়। যেমন, শিয়া, সুন্নি, কাদিয়ানী, ইত্যাদি। কিন্তু তাদের মূলস্তম্ভ ঠিক থাকে। মজার ব্যাপার হচ্ছে, এই পরিবর্তনগুলি আর্থসামাজিক প্রেক্ষাপট অনুযায়ী শুধুমাত্র ইসলামপন্থীদের মধ্যেই সিমাবদ্ধ না, এই ট্রেন্ডস সব ধর্মের মধ্যেই ধীরে ধীরে অন্তরভুক্তি হতে শুরু করে এবং এখানে আরো মজার ব্যাপার হলো, এটা আবার আর শুধুমাত্র ধর্মভিত্তিক গোষ্ঠীর মধ্যেই সীমাবদ্ধ থাকে নাই। প্রতিনিয়তই বিবর্তনের মতো সর্বত্র একটা পরিবর্তন আসতে থাকে। এখন প্রশ্ন হচ্ছে, ধর্মের স্বকীয়তা রক্ষার নামেই নয়, ধর্মের বাইরে গিয়েও এই পরিবর্তনটা কেনো আসে, সেটা নিয়েও গবেষণা হয়।  

অবশেষে, The American Academy of Arts and Sciences সাড়া পৃথিবী থেকে অধিকস্তর বিশিষ্ট স্কলারদের সমন্নয়ে একটা গবেষণামুলক কার্যক্রম পরিচালনা করেন। সেই গবেষণামুলক পরিক্ষায় তাঁরা তথাকথিত ফান্ডামেন্টালিজম এবং ফান্ডামেন্টালিজমের বাইরে পরিবর্তনের পক্ষে-বিপক্ষে যেসব তথ্য পেয়েছেন তাঁর সারমর্মে দেখা যায় যে, উক্ত ফান্ডামেন্টালিজম চিন্তাধারাটি শুধুমাত্র আর ধর্মের গোঁড়ামির উপর স্থায়ী হয়ে রয় নাই। তাদের মতে,  

(১) তাঁরা আধুনিক কালচারকে পছন্দ করেন না। কারন তারা মনে করেন ধর্ম দ্বারা যা পালিত হওয়ার কথা, অথবা যে রীতিনীতিগুলি ধর্মগ্রন্থ থেকে চালিত হওয়ার কথা তা না হয়ে স্যাকুলার কিছু মনগড়া বৈষম্যমুলক আইনের মাধ্যমে চালিত হচ্ছে বিধায় ধর্মের সঠিক কাজটি পালিত হচ্ছে না এবং এইভাবে একদিন ধর্মটাই বিলুপ্ত হয়ে যাবে এই আশংকা করেন। তার উপর আধুনিক কালচারের সমাজ ব্যবস্থায় তাঁরা মনে করেন যে, একটা বৈষম্যমুলক সমাজ ব্যবস্থার প্রচলন হচ্ছে যেখানে অধিকাংশ মধ্যবিত্ত, কিংবা নিম্নমধ্যবিত্ত, এমনকি নিম্নবিত্ত সমাজের মানুষেরা তাদের ন্যায্য মুল্যায়ন, অধিকার, সুযোগ, সুবিধা ইত্যাদি থেকে বঞ্চিত হচ্ছেন।  

(২) এই মধ্যবিত্ত, কিংবা নিম্নমধ্যবিত্ত সমাজের মানুষদের ন্যায্য মুল্যায়ন, অধিকার, সুযোগ, সুবিধা ইত্যাদি থেকে বঞ্চিত হওয়ার চিন্তাধারায় রিলিজিয়াস আইডোলোজির পাশাপাশি তখন ব্যক্তিগত এবং কম্যুউনাল আইডেন্টিটিও কাজ করে। এই ব্যক্তিগত এবং কম্যুউনাল সত্ত্বা কাজ করার কারনে পলিটিক্যাল উচ্চাকাখাংকাও জড়িয়ে যায়। আর যখন এই পলিটিক্যাল উচ্চাকাখাংকা বেড়ে যায়, তখন দলভিত্তিক রাজনীতিকিকরনের কাজটি আরম্ভ হয়ে যায়, তখন শুরু হয় বিভিন্ন স্বার্থান্বেষী মহলের অনুপ্রবেশ যেখানে কমন কিছুর মিল থাকতে হয়, যেমন প্রথমে ধর্ম, পরে একই ধর্ম পালনকারী জাতী বা দেশ ইত্যাদি। এইগুলি তখন হয়ে উঠে একটা পারস্পরিক যোগাসুত্রের মাধ্যম কিন্তু উদ্দেশ্য হচ্ছে ক্ষমতা বা প্রভাব খাটানোর একটা অন্তর্নিহিত প্রক্রিয়া। আর যখন ক্ষমতা বা প্রভাব খাটানোর প্রক্রিয়া শুরু হয়ে যায়, তখন বিশ্বরাজনীতিতে একটা সক্রিয় ভুমিকা তৈরি হয় যেখানে প্রধান নিয়ামকের দায়িত্ব পালনে অনেক প্রভাবশালী দেশ, দল যুক্ত হয়ে যায়। তখন আর এটা রিলিজিয়াস ফান্ডামেন্টালিস্ট বা ফান্ডামেন্টালিজমের মধ্যে থাকে না। তখন এটা হয়ে যায় আন্তর্জাতিক একটা বহুমাত্রিক পরিকল্পনা। তখন ক্ষেত্রটা ভিন্ন। কিন্তু তাঁর এজেন্ডায় তখনো রিলিজিয়াস লেভাসটা থেকেই যায়। আর এই লেভাসের পিছনে যা থাকে তা হচ্ছে They are ‘reactive’, ‘they are dualist’, ‘they believe in Holy Book’, ‘they are selective’, and ‘they are millennialist’  

বর্তমানে এই ফান্ডামেন্টালিস্ট শব্দটি বহুলঅংশে ব্যবহৃত হয় ধর্মের নামে আধিপত্য বিস্তারের নিমিত্তে গোঁড়া কিছু স্প্লিনটার গ্রুপকে বুঝানোর জন্যই। কখনো এটা ইসলামিক টেরোরিস্ট, কখনো রিলিজিয়াস টেরোরিস্ট, কখনো রিভাইভালিস্ট (যখন বৌদ্ধ, মুসলিম, কিংবা হিন্দু সম্প্রদায়ের বেলায়) ইত্যাদি। কিন্তু পিছনের উদ্দেশ্য একেবারেই আলাদা, আর সেটা নিতান্তই প্রভাব বিস্তার।  

প্রাথমিকভাবে প্রভাবশালী গোষ্ঠীসমুহ যারা উক্ত লেভাসের নাম দিয়ে কিছু ফায়দা লুটে নিতে চেয়েছিলেন, হয়ত তা পেয়েছেনও কিন্তু ইতিমধ্যে এই লেভাসে মোড়া শক্তিশালী টুলসটি অর্থাৎ গোষ্ঠীটি ইতিমধ্যে প্রাপ্ত শিক্ষা আর প্রশিক্ষনের দ্বারা তারাই এখন নিজের নিয়ন্তা হিসাবে এমনভাবে আবির্ভূত হয়েছেন যে, অন্যের জন্য নয় শুধু নিজেরাই নিজেদের ভাগ্য নিয়ন্তা হিসাবে কাজ করছে। এখানে ধর্মটাই এখন আর মুখ্যবিষয় নয়, মুখ্যবিষয় হয়ে দাড়িয়েছে প্রভাব খাটানো এবং আধিপত্য বিস্তারের। এদেরকে আর নিয়ন্ত্রন করবার জন্য অন্য কোনো অপসন পূর্ববর্তী চালকদের হাতে নাই। তাঁরা এখন টেরর। যে নামেই আমরা একে এখন ডাকি না কেনো। ফলে এখন যেটা দাড়িয়েছে তা হচ্ছে, ওয়্যার এগেইনস্ট টেরর।

একটাই পথ এখন ......

উত্তরসূরি নির্বাচন

জীবনের সব অধ্যায় এক রকম নয়। এটা আমার হয়ত বুঝতে দেরী হয়েছে কিন্তু এই সব তত্ত্বকথা মনিষীরা যুগে যুগে বলে গেছেন। মনিষীরা তাদের অভিজ্ঞতার আলোকে অনেক তত্ত্বকথাই বলে গেছেন বটে কিন্তু কেউ সে সব তত্ত্বকথা মানে না। হ্যা, মানে তখন যখন কারো জন্য সেসব পরিস্থিতির সৃষ্টি হয় এবং নিজেদের জন্য প্রযোজ্য হয়। সেই সুবাদেই বলছি যে, আমি আপনি ততোক্ষন সবার কাছে যত্নশীল যতোক্ষন আপনি নিঃস্বার্থভাবে দিতে পারবেন কিন্তু পাওয়ার আশা না করবেন। আশা করলে আপনি হেরে যাবেন। এটা নিজের স্ত্রী থেকে শুরু করে সন্তান, পাড়াপ্রতিবেশী, বন্ধুবান্ধব, আত্মীয়স্বজন সবার বেলায় প্রযোজ্য। কেউ মানুক বা না মানুক, এটাই সত্য।

এর থেকে যে শিক্ষাগুলি নেওয়া দরকার তা হচ্ছে, যা কিছু করবেন জীবনে, নিজের জন্য করুন, নিজে সুখী সময় কাটানোর জন্য আয় করুন এবং তা দুইহাত ভরে খরচ করুন। আপনার অনুপস্থিতিতে আপনার সন্তানগন কিভাবে চলবে কিংবা তারা কোথায় কিভাবে বাস করবে তা আপনার চিন্তা থাকতে পারে বটে কিন্তু তারজন্য অনেক কিছু আয় করে সঞ্চয় করে তাকে পঙ্গু করে রেখে যাওয়ার কোনো দরকার আমি মনে করি না। বরং তাকে উপযুক্ত শিক্ষা দিয়ে ছেড়ে দিন, তাতেই সে এই পৃথিবীর কোনো না কোনো স্থানে ঠাই করে নেবে। এই পৃথিবী পরিশ্রমী মানুষের জন্য সুখের আবাস্থল। অলসদের জন্য এখানে সব কিছুই নাগালের বাইরে। পূর্ববর্তি জেনারেশনের আহরিত সম্পত্তি উত্তরসূরিদের জন্য কিছুটা আরামদায়ক হলেও একটা সময় আসে, কোনো না কোনো উত্তরসুরীর মাধ্যমেই তা বিনাশ হয়। এই বিনাশটা হয়ত এক জেনারেশনের মধ্যে ঘটে না। কারো কারো বেলায় এক জেনারেশনেই শেষ হয়ে যায় আবার কারো কারো বেলায় এটা ক্ষয় হতে কয়েক জেনারেশন পার হয়। কিন্তু ক্ষয় হবেই। এর প্রধান কারন, যিনি সম্পদ করলেন, তার যে দরদ, আর যারা বিনা পরিশ্রমে পেলো তাদের যে দরদ তা কখনোই এক নয়।

আরেকটা কারনে নস্ট হয়। তারা হলেন যাদের বংশ ধরের মধ্যে ছেলে রি-প্রেজেন্টেটিভ নাই। ওইসব লোকের বেলায় তাদের কস্ট করা সম্পত্তি নিজের ছেলে সন্তানের পরিবর্তে চলে যায় অন্য বাড়ির আরেক ছেলের হাতে যিনি সম্পদের মালিকের নিছক মেয়ের স্বামী হবার কারনে। এরা দ্রুত সম্পদ হাত ছাড়া করে কারন তারা একদিকে এটাকে ফাও মনে করে, অন্যদিকে যতো দ্রুত সম্ভব সব সম্পত্তিকে নিজের নামে রুপান্তরিত করতে চান। এই মন্তব্য টা ঢালাও ভাবে করলে অনেক মেয়ের স্বামীরা হয়ত মনে আঘাত পেতে পারেন, কারন সবাই হয়ত এক নয়। তবে অভিজ্ঞতা আর পরীক্ষায় দেখা গেছে, বেশীর ভাগ ক্ষেত্রেই এই রকমটা হয়েছে। তারা স্ত্রী কপালে ধন পাওয়া মনে করেন। তাদের বেলায় বিনাশ হতে সময় লাগে অতি অল্প সময়। এই সব ছেলেদের কাছে কোনো সম্পদ এমন কি স্ত্রীও তাদের কাছে নিরাপদ নয়। 

ফলে যেহেতু আপনি পরিশ্রম করছেন, সুখটা আপনিই করুন। যদি ভাবেন যে, আগে সঞ্চয় করে স্তূপ করি, বাড়ী গাড়ি করি, ব্যাংকে একটা মোটা টাকা সঞ্চয় হোক তাহলে আপনার হাতে একটু সময়ও নেই সকালের সূর্য দেখার অথবা রাতের জ্যোৎস্না দেখার। আপনার ভাগ্যে আছে শুধু বাদরের মতো এইস্থান থেকে অন্যস্থানে লাফিয়ে লাফিয়ে কোথায় ফল পাওয়া যায় তার সন্ধান করা, অথবা পালের বলদের মতো সারাজীবন হাল চাষের মতো চাষির হাল বেয়ে যাওয়া যাতে চাষিই শুধু লাভবান হয়, আর নিজে শুধু জাবর কাটবেন।

এ কথাগুলি কেনো বলছি?

আমার চোখে দেখা এই ছোট্ট জীবনে অনেক ঘটনা। কস্ট করে সম্পত্তি বা এসেট রেখে গেছেন, কিংবা ব্যবসা রেখে গেছেন, জাস্ট তার মরনের পর ওই সব সম্পত্তি কত তাড়াতাড়ি ভাগাভাগি করে নিজেদের মধ্যে নিয়ে নেয়া যায়, তার জন্য তর সয় না। অথচ ওই সব উত্তরসুরীরা একটিবারও আপনার রুহের মাগফিরাত বা ধর্মীয় কোনো উৎসবের মাধ্যমে একটুও পয়সা খরচ করবে না। তারা ঐ খরচ টাকেও অপচয় মনে করে নিজের জন্ময অ্রআনন্দ করবে। মজার ব্যাপার হচ্ছে, তারাও সেই একই ফাদে পা দিয়ে তাদের উত্তরসুরীদের জন্যই সঞ্চয় করে জমা করে যান এবং নিজেরা ভোগ করেন না।   

অপ্রিয় সত্যের মুখুমুখি দাঁড়ানো সাহসের প্রয়োজন

কখনো যদি তোমরা দেখো যে, তোমার অপ্রিয় সত্য কথায় কেউ কোনো উত্তর করছে না, কিন্তু তোমার অগোচরে মুখ ভেটকাচ্ছে, তাহলে বুঝবে যে, তোমার আশপাশ চাটুকারে ভরে গেছে। তুমি বিপদের মধ্যে আছো।  এ অবস্থায় তোমার যা করনীয়, তা হচ্ছে, তুমি একা চলার অভ্যাস করো। এই একা চলার মধ্যে যদি কাউকে রাখতে চাও সাথে, তাহলে এমন কিছু মানুষকে রাখো যারা প্রাইমারী স্কুলের দরিদ্র শিক্ষক। তারা নীতি থেকে বিচ্যুত হয় না আর হবেও না। তবে তাও নির্বাচন করার জন্য সময় নিও।

আর কোনো কিছুই যদি মনে হয় ঠিক নাই, তাহলে, নিজেই নিজের জন্য এমন কিছু করে যাও, যাতে তোমার অনুপস্থিতিতে অন্য কোনো ধাতব্য প্রতিষ্ঠান তোমার কাজগুলি তোমার ই আহরিত সম্পদের লভ্যাংশে করতে পারে। পরিচিত মানুষ গুলিই তোমার বিপদের কারন। সব সময় মনে রাখতে চেষ্টা করো যে, বেঈমান অপ্রিচিত লোক থেকে তৈরী হয় না, তারা সব পরিচিত মানুষের দল। 

আমরা ভবিষ্যৎ দেখতে পাই না, আমরা মানুষের ভিতরের চরিত্রকে সরাসরি আয়নার মতো করে দেখতে পাই না। এমন কি আমরা নিজেরাও নিজেদের অনেক সময় চিনতে পারি না। আর এই কারনেই প্রতিবার আমরা প্রেডিকসন অর্থাৎ একটা স্যামপ্লিং এর উপর ভিত্তি করে বারবার সিদ্ধান্ত নেই। শতভাগ সাফল্য আসবে এর কোনো গ্যারান্টি নেই। আজকে যে বস্তুটি আপনার হাতে আসায় আপনি মনে করছেন, এটাই ঠিক যেটা আপনি চেয়েছেন, বা এটাই আপনি খুজছেন, সেটা সঠিক নাও হতে পারে।  আর যদি সঠিক না হয় তখন সংস্কার বা এজাস্টমেন্ট দরকার হয়ে পড়ে।  কখনো কখনো এই এডজাস্টমেন্ট এতো বড় যে, পুরু পরিকল্পনাটাই বদলাতে হয়। আর যারা এই পরিকল্পনাটা পাল্টানোর হিম্মত রাখেন, বাস্তবতা মেনে নিয়ে সামনে এগিয়ে যাওয়ার হিম্মত রাখেন, তাদের জন্যই সুন্দর ভবিস্যত। সমাজ তারাই তৈরী করে, সমাজ তাদেরকেই কন্ডারী বলে। এডাপ্টেসন এর মুল থিউরী আসলে তাই। ডাইনোসোর এডাপ্টেসন করতে পারে নাই বলেই সে আজ পৃথিবীতে ইতিহাস কিন্তু তেলাপোকা সর্বত্র সব কিছুতেই এডজাস্ট করতে পারে বলেই এরা বেচে থাকে ৪৬ কোটি বছর। সম্ভবত এই তেলাপোকাই পৃথিবীতে সবচেয়ে বেশি আয়ুধারী কোনো প্রানী। এরা ওদের বাল-বাচ্চা নিয়ে ওদের মতো করে বেচে থাকে। ভালোই থাকে।

আজকে আমি বা আপনাকে কেউ ভুল বুঝতেছি বলে যে অভিযোগ করে, এটা হয়ত ঠিক এই রকম নয়। হতে পারে এই রকম যে, এখন আমি বা আপনি ভুল বুঝতেছি না, সময়ের ব্যবধানে, স্যামপ্লিং ভুলের কারনে আগেরবার ভুল হয়েছিলো, কিন্তু অন্যান্য স্যামপ্লিং, চারিপাশের অবস্থা, বেশী ফ্যাক্টর সমন্নয়ে আমি বা আপনি বর্তমানটাই ঠিক বুঝতেছেন। ফলে যারা অভিযোগ করছে, তারা ব্যাপারটা মেনে নিচ্ছেন না। আবার এমনো হতে পারে যিনি আমাকে বা আপনাকে "ভুল বুঝতেছি" বলে অভিযোগ করছেন, তার এক্সপেকটেশন অনুযায়ী সেও আমাকে বা আপনাকে আগেরবার ঠিক বুঝেছেন কিন্তু এখন তার এক্সপেক্টেসনের সাথে ক্যাল্কুলেসনে তারতম্যের কারনে আমরা বা আপ্নারা বদলে গেছি বা বদলে গেছেন এই চিন্তায় আমরা ভুল বুঝতেছি বলেই তাদের ডিডাক্সন তৈরী হচ্ছে।

কিন্তু যেটাই হোক, কে ভুল আর কে ঠিক, এই তর্ক, এই যুক্তি, এই ব্যাখ্যা করার সময় মানুষের হাতে খুব বেশি থাকে না। একটা সাব জেক্ট নিয়ে এতো গবেষণা করতে থাকলে, বাকী সাবজেক্ট এর জন্য তো সময় ই দেওয়া যাবে না। জীবনে সময় বড় সীমিত। হয় এডজাস্টমেন্ট করে বেচে যাবেন, নয় খপ্পর থেকে বেড়িয়ে যাবেন। দ্বিধার কোনো কারন থাকলে সবার প্রতিভা যেমন ক্ষতি হবে, তেমনি ক্ষতি হবে বিকাশের।

ঠিক সময়ে ঠিক সিদ্ধান্তে ভুল হলে যখনই মনে হবে এখনই সময় সিদ্ধান্ত পাল্টে জীবন সুন্দর করার, তাহলে "এখনি" সেটা। শুধু একটা জিনিষ মনে রাখা দরকার, ঈশ্বর সব ভুলের মধ্যে বড় সাফল্যের ফলাফল নির্ধারণ করেন। তিনি কারো সাথে মস্করা করেন না। তাঁর উপর ভরসা রাখুন। জয় আপনার। এটা দু পক্ষের জন্যই উপদেশ কারন, যার যার গন্ডি থেকে তাঁর তাঁর জন্য ঈশ্বর তাদের সীমানা নির্ধারণ করেন। কেউ কারো সীমানা অতিক্রম করলেই এই বিপত্তি হবে। নদীর জলের মধ্যেও ঈশ্বর তাদের সীমানা নির্ধারণ করে দিয়েছেন। মিঠা পানি এবং নোনা পানিও তাদের সীমা অতিক্রম করে একে অপরের সাথে মিশার অনুমতি ঈশ্বর দেন নাই।

কি কারনে এই ডায়েরী?

আমার কোন ইচ্ছাই ছিল না এই চিঠিটি তোমাদেরকে লিখিবার জন্য। কোন দরকার ছিল কিনা  সেই ভাবনাটা ভাবিবার সময় অবশ্য এখন নয়। উহা তোমরা ভাবিয়া দেখিবে। সময়ের বিবর্তনে হয়তোবা ইহা তাহার জায়গা দখল করিয়া লইবে তাহার কতটা দরকার ছিল, আর কতটা দরকার ছিল না। তবুও আমার মনে হইল, মাঝে মাঝে বেশ কিছু অবসর সময় পাই, কিছুতো একটা করি। তাই উপন্যাস না লিখিয়া, গ্লোবাল ইস্যু সম্পর্কে না লিখিয়া কিংবা ধর্মীয় কোন বই না লিখিয়া নিজের পরিবারের সাথে যদি সময়টা কাটাই!! তাই, আমি সময় টুকুন ব্যয় করিতে চাহিলাম এমন কিছু বিষয়ের উপর যাহা আমাকে প্রতিনিয়ত মনে করাইয়া দিয়াছে, আহা যদি এমন কিছু কেহ আমার জন্য লিখিয়া যাইত, অথবা এমন কিছু যাহা আমি প্রায়শই জানিতে চাহিয়াছিলাম কিন্তু কোথাও উহার কোন অস্তিত্ত পাই নাই। তাহলে উহ কি এমন জিনিস যাহা আমার মধ্যে প্রায়শই মনে আসিত, খুজিতাম কিন্তু কোথাও তাহা আমি পাইয়াছি বলিয়া মনে হইতেছে না। আমি মাঝে মাঝেই ভাবিতাম, আমার পূর্বে যাহারা আমার বংশে আসিয়াছিলেন,তাদের অনেকেই হয় বা ছিলেন জমিদার, কেউ বা ছিলেন অনেক উচ্চ স্তরের ব্যক্তিকর্তা, হয়তা আবার কেউ এমনও থাকিতে পারেন যাহাদের জীবন লইয়া এখন অনেক বড় বড় লোমহর্ষক কাব্য লিখা যাইত অথবা এমন কেউ থাকিতে পারেন যাহাদের অতিষ্ঠে মানুস প্রতিনিয়ত কায়মনে তাহাদের মৃত্যু কামনাই করিতেন, আবার এমনও হইতে পারে যে, কাহারো কাহারো জীবননাশের কারনে কোন এক সমাজ ব্যবস্থা হয় ভাঙ্গিয়াই পড়িয়াছিল, কে যানে এই সব কথা বা কাহিনি?

মাঝে মাঝে আমার খুব জানিতে ইচ্ছে করিত, এইসব তাহার কেউ কি আমাদের কথা কখনও এমন করে ভাবিয়াছিলেন যে, কোন একদিন হয়তবা কেউ তাহাদের স্মরণ করিয়া তাহাদের ব্যাপারে আরও অধিক জানিবার জন্য আকুপাকু করিবেন? হয়ত কেহ কেহ করিয়াছিলেন, কিন্তু সীমাবদ্ধতার কারনে তাহারা তাহাদের কোন কথাই আমাদের জন্য রাখিয়া যাইতে পারেন নাই, হয়তোবা আবার করেও নাই। বহুদিন আগে আমি একখানা ছায়াছবি দেখিয়াছিলাম, কালো মানুষের কাহিনী। সম্ভবত ছবিটির নাম ছিল “রুটস”। আলেক্স হেলির বানানো। তিনি অনেক বছর গবেষণা করিয়া করিয়া যতদুর সম্ভব তাহার পূর্বপুরুসের ইতিহাস লইয়া তাহার অই অনবদ্য কঠিন জিবনের কাহিনী পৃথিবীর মানুষের কাছে তুলিয়া ধরিয়াছিলেন। কিন্তু আমার আলেক্স হেলির মত অত ধৈর্য নাই যে আমি বছরের পর বছর আমার পূর্ব পুরুসের নাম গবেষণা করিয়া করিয়া এক একটা অধ্যায় লিখিব। সে সাধ্যও আমার নাই। কিন্তু আমি একটা কাজ করিতে পারি অনায়াসে। আর তাহা হইল, আজ হইতে হাজার বছর পরে যদি কেউ আমার কথা জানিতে চায়, আমার সম্পর্কে ভাবিতে চায়, কিংবা আজ এই বিংশ শতাব্দিতে বসে আমি কি ভাবিতেছি, কি ভাবিতেছি না, কিংবা আমি আজ থেকে আরও শত বছর পর, অন্তত এই ভাবনাগুলি তো আমি আমার ঐসব পরবর্তী বংশধরদের জন্য লিখিয়া যাইতেই পারি। তাহাতেই বা কম কিসের? তাই ভাবছি, আমি সারাদিন কি করি, কি ভাবি, কেমন করিয়া ভাবি, আমার কি ইচ্ছা আমার বংসধরদের লইয়া, যদি আমি এক টুকরো কাগজের মধ্যে লিখিয়া রাখি, হয়ত বা কোন একদিন আমারই কোন উদাসীন এক বংশধর এই লেখাটা পড়িয়া জানিতে পারিবে , তাঁহারও আগে কেউ একদিন কি করেছিল।

আমি আমার বাবাকে দেখি নাই। আমি যখন মাত্র দুই কি আড়াই বছরের, তখন তিনি জান্নাত বাসি হয়েছেন। ফলে ঊনার কোনো ছবি, কিংবা কোনো স্মৃতি আমার কাছে নাই। শুনতাম, তিনি ছিলেন অত্যান্ত নামীদামী মানুষ। মাদবর মানুস। অনেক সম্পত্তি ছিলো তার। ওই সময় যে কয়জন মানুষ ধনীদের কাতারে ছিলেন, তার মধ্যেয়ামার বাবা একজন। আমি যখন মাত্র ক্লাস ফাইভে বা সিক্সে পড়ি, তখন আমাদের বাড়িতে কোনো এক বাক্সে আমার বাবার হাতের লিখা কিছু পত্র দেখিয়াছিলাম। খুব সুন্দর হাতের লেখাছিলো। আমি তখন ছোত ছিলাম, বুঝি নাই এই সব স্ম্রিতিগুলি রক্ষনাবেক্ষন করা উচিত কিনা।আমি বা আমরা কেহই ওইসব হাতের লিখা চিঠিপত্র গুলিও সংরক্ষন করি নাই। আজ আমার কাছে মনে হচ্ছে ওই গুলি অনেক দামি বস্তু ছিলো।

আমাদের গ্রামের বাড়ি দুই জায়গায়। একটা মুন্সিগঞ্জের কয়রা খোলায়, আরেকটা হচ্ছে কেরানিগঞ্জের বাক্তার চর। ওই মুন্সিগঞ্জের বাড়িতে থাকেতো আমাদের আগের মায়ের সন্তানেরা আর আমরা থাকতাম কেরানিগঞ্জের বাক্তার চর। আমার বাবা কোনো এক সময় তার জীবদ্দশায় ভেবেছিলেন যে, আমরা কোনোভাবেই তার আগের সন্তানদের কাছে নিরাপদ নই এবং আমাদের জীবননাশ হবার সম্ভাবনা আছে। ফলে আমার বাবা ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা হিসাবে তিনি আমাদেরকে মাইগ্রেট করে মুন্সিগঞ্জ থেকে কেরানীগঞ্জ আমার আপন খালুদের এলাকায় রিহেবিলেট করার পরিকল্পনা করেন। আমার বাবার পরিকল্পনা একদম ঠিক ছিল বিধায় তিনি মারা যাবার আগে আমাদেরকে এই কেরানিগঞ্জের এলাকায় স্থানান্তর করে গিয়েছিলেন। আচ্ছা, আমার বাবার আর কি কি প্ল্যান ছিলো যা তিনি শেষ করে যেতে পারেন নাই? অথবা তার কি কি শখ ছিল যা আমাদের পরবরতী জেনারেশনের উচিত তার বাস্তবায়ন করা? কিছুই জানি না। আর এখানেই আমার দুঃখ। এখানে একটা গল্প (বাস্তব) না লিখলেই নয়। এটা আমার বড় ভাইয়ের কাছ থেকে শোনা। আমার বাবা কিভাবে বুঝবেন যে, আসলেই তিনি যা ভাবছেন সেটা সঠিক কিনা। তার এই সিদ্ধন্ত কতটাঠিক তা যাচাইয়ের জন্য একদিন ঠিক করলেন, তিনি কিছুদিনের জন্য হারিয়ে যাবেন। তার এই প্ল্যানটা  শুধুমাত্র জানালেন আমার বড় ভাইকে। আমার বড় ভাই তখন জগন্নাথ ইউনিভার্সিটিতে কলেজে পড়ছেন। বাবা সবার অজান্তে হতাত করে নিখোজ হয়ে গেলেন, তিনি আর বাড়ি ফিরলেন না। একদিন যায়, দুইদিন যায়, তিন দিন যায়। এক মাস, দুই মাস, এইভাবে প্রায় ছইয় মাস। সবাই ধরে নিলেন, বাবা হয়তো কোথাও দুর্ঘটনায় মারা গেছেন। তখন তো আর মোবাইল ফোন ছিলো না যে কন্ট্যাক্ট করা যাবে। বাবাকিন্তু প্রতিদিন আমার বড় ভাইয়ের সাথে সদরঘাটের নব কুমার শরীর চর্চা কেন্দ্রের ঘাটে ভাইয়ের সাথে দেখা করতেন আর প্রতিদিনের ফিডব্যাক নিতেন কি হচ্ছে গ্রামে তার অনুপস্থিতিতে। ধীরে ধীরে বাবার আইডিয়াটাই যেনো সঠিক প্রমান হচ্ছিলো। আমাদের স্টেপ ব্রাদাররা, বোনেরা, স্বৈরাচারের মতো আমাদের উপর ব্যবহার করা শুরু করছিলো, জমিজমার সব ফসল একে একে হাতছাড়া হয়ে যাচ্ছিলো, আমাদেরকে প্রাননাশের হুমকী দিচ্ছিলো। এমন কি আমাদের এই পক্ষের স্ব সদস্যদেরকে অত্যাচার আর নীপিড়নে মেরেই ফেলার চেষ্টা করছিলো। সবাই ধরেই নিয়েছিলো যে, হোসেন মাদবর মারা গেছে এবং তার থেকে আর ভয়ের কোনো কারন নাই। অত্যাচার যখন তুঙ্গে, তখন একদিন হতাত করে বাবা সশরীরে এসে হাজির। সবাই অবাক, কোথায় ছিলো এই হোসেন মাদবর? তিনি সত্যিটা লুকিয়ে শুধু বললেন, চট্টগ্রামে তার চোখের অপারেসন হয়েছিলো বলে কাউকে কোনো খবর দিতে পারেন নাই। আর শরীর ভালো না অবধি ডাক্তাররা তাকে ছাড়েনও নাই। তিনি বুঝে গেলেন, তার কি করা উচিত এবং তার সিদ্ধান্ত যে সঠিক সেটা তিনি পরীক্ষা করেই নিলেন। 

অতঃপর বাবা আমার খালুর সাথে অতি গোপনে পরামর্শ করলেন, কিভাবে তিনি অল্প সময়ের মধ্যে এবং দ্রুত সেই মুন্সিগঞ্জ থেকে খালুর এলাকায় আমাদেরকে মাইগ্রেট করবেন। আমার খালু ছিলেন তার এলাকায় একজন অত্যান্ত প্রতাপ্সহালী মানুষ। মাঘে মহিসে একসাথে জল খাওয়ার মতো। বাবা তার দিক থেকে প্রায় ৪০০ লোকের আয়োজন করলেন, আর খালু তার এলাকায় এই রকমের ই প্রায় ৪০০/৫০০ লোকের আয়োজন করলেন। মাঝে নদী থাকায় আরো কয়েক শত কলা গাছের ভেলা বানিয়ে নদীর উপর দিয়ে মুটামুটি একটা রাস্তা করে ফেললেন। মুন্সিগঞ্জের আমাদের বাড়িটা না ভেঙ্গে বাবা আস্ত বাড়িটাকে ঐ লোকজন দিয়ে মাথায় করে এইপাড়ে নদী পাড় করে দিলেন। আর খালু এই পারে তার লোক দিয়ে সেই আস্ত বাড়িটা এক রাতের মধ্যে বসিয়ে দিলেন। বাবা কাজটি এমন এক দিনে করলেন যেদিন আমাদের ঐ পক্ষের সদস্যরা কোনো এক অনুষ্ঠানের জন্য গ্রামের বাইরে কোথাও বেড়াতে গিয়েছিলেন। ব্যাপারটা আলাদিনের চেরাগের গল্পের মতো ঘটে গেলো। আমরা মাইগ্রেট করে মুন্সিগঞ্জ থেকে কেরানিগঞ্জে চলে এলাম চিরতরে। সব কিছু রয়ে গেলো ঐ মুন্সিগঞ্জে। নিজেদের স্মৃতি, গোয়াল ভরা গরু, গোলা ভরা ধান, ক্ষেত খামার সবকিছু।  

আমি এখানে শুধু আমার বাবার প্রসঙ্গ টাই তুলেছি কারন আমার কোনোভাবেই জানা সম্ভব হয় নাই আমার বাবার আগের জেনারেশনের কি অবস্থা ছিলো বা কে কি করতেন। আমার জানার কোনো ত্রুটি ছিলো না কিন্তু কেহই তাদের ব্যাপারে আমাকে কোনো তথ্য বিস্তারিত ভাবে দিতে পারেন নাই। যাই হোক, এবার তোমাদের পালা। তোমরা অন্তত একটা বেস হিসাবে আমার লেখাএই ডায়েরী বা এই ওয়েব সাইট পেয়েছো যেখানে আমাদের ফ্যামিলির কিছু তথ্য রেডিমেট পেয়েছো। যদি তোমাদের মধ্যে কেউ আমার মতো ইচ্ছুক হও, তাহলে আমার এই তথ্যাবলী সামনে রেখে আমাদের ফ্যামিলী ওয়েব সাইটটি সামনের দিকে এগিয়ে নিয়ে যেতে পারো।

আর এটাই হবে আমার কাম্য। 

যদি তুমি কখনো মনে করো

যদি তুমি কখনো মনে করো যে, আমি তোমাকে ভালোবাসি নাই, তুমি ঠিক। আবার যদি কখনো মনে করো যে, আমি তোমাকে খুব ভালোবেসেছি, আমি বলবো আবার যে, তুমি এবারো ঠিক। যদি তুমি মনে করো যে, আমি স্বার্থপরের মতো তোমার কাছ থেকে এমন কিছু চেয়েছি যা তোমার কাছে অত্যান্ত মূল্যবান, কিংবা সেটা দেওয়া তোমার জন্য অনেক ভয়ংকর, আমি বলবো  যে, তুমি ঠিক। যদি তুমি মনে করো, আমি তোমাকে ইগনোর করেছি, হ্যা আবারো তুমি ঠিক। তুমি যদি কখনো কনফিউজড হয়ে থাকো যে, আমি তোমাকে ভালোবাসি কি বাসি না, সেটা তুমি বুঝতেই পারছো না, হ্যা, এবারো তুমি ঠিক। 

তাহলে এখন প্রশ্ন হচ্ছে, যদি সব গুলিই ঠিক হয়ে থাকে, তাহলে আসল সত্য কি? বা আসলে ঠিক কোনটা? আমি বলবো যে, উপরের সবগুলি ই ঠিক। কারন, সত্য ভালোবাসা এমনই যে, কখনো মনে হয় খুব ভালোবাসি,কখনো মনে হয় পুরু সম্পর্ক টাই ঘৃণার মধ্যে দাঁড়িয়ে আছে। আবার কখনো কখনো খুব সন্দেহের মধ্যেই দিন কেটে যেতে থাকে। 

ঈশ্বর প্রত্যেক কেই স্পেশাল করেই বানিয়েছেন। কারো কারো মধ্যে অথবা প্রতি জনের মধ্যেই ঈশ্বর আলাদা আলাদা গুনাবলী দিয়েই পাঠিয়েছেন। এই ঈশ্বর এমন এক শক্তি যাকেয়াপ্নি, আমি সবাই সব কিছুতেই দায়ী করতেপারি। আবার তার কাছেইখুব গোপনে কাদতেও পারি। আর আমি এই জন্যই ঈসশরকে খুব ভালোবাসি যে, সেয়ামাকে তাকে সব কিছুর জন্য দায়ী করলেও সে কিছুই বলে না। আমি তাকে ঘ্রিনা করলেও সে আমাকে শেষ করে দেয় না। আমি যেমন্তার সাথে যুদ্ধ করতেপারি, তেমনি আমি তার কাছে পুরুপুরি সারেন্ডার ও করতে পারি।

আমাদের জীবনে সবচেয়ে যে জিনিষটা ভালো বা খারাপ হয়ে আসতে পারে তা হচ্ছে, ঈশ্বরের করুনা। আমি ব্যাপারটা যদি এইভাবে বলি যে, তিনি জানেন আমাদের জন্য সবচেয়ে কোনটি সবচেয়ে মঙ্গল। ফলে আজকে কোন কাজটি আমার জন্য দৃশ্যমান খারাপ মনে হলেও হতে  পারে কিন্তু বলা যায় না যে, হয়ত এই দৃশ্যমান খারাপটাই হয়ত ভবিষ্যতের কোন এক ভালোর জন্য। অথবা আজকের দিনের কোনো এক দৃশ্যমান মঙ্গল হতে পারে আগামিকালের কোনো এক ভয়ংকর বিপদের কারন। ফলে ঈশ্বরের করুনাটাই সবচেয়ে বড়। হতে পারে আজকে আমি তোমাকে হারিয়ে ফেলেছি, এটাই ভালো আমাদের জন্য। আমি তোমাকে আর তুমি আমাকে মুক্ত মনে মুক্তি দিয়ে রাখো, দেখো ঈশ্বর কোথায় আমাদের নিয়ে যায়। যদি মন ফিরে আসে, যদি প্রান কাদে, তাহলে আবারো আমরা এই পৃথিবীর যে কোনো প্রান্তই থাকি না কেনো, আবারো আমরা এক সাথে হবো। হয়ত তখন আর এইভুল বুঝাবুঝি গুলি হবেনা।  

বদি ভাই-এখন তিনি ছবি

১৯৬৮ থেকে ২০১৮, মোট ৫০ বছর।

এই পঞ্চাশ বছরের আমাদের পারিবারিক ইতিহাসের মধ্যে যে ব্যক্তিটি আমাদের পরিবারের কেউ না হয়েও পরিবারে সবচেয়ে বেশি ভুমিকা পালন করতে এক্যটু ও দ্নিবিধা করেন নাই, তিনি হচ্ছেন বদ্রুদ্দিন তালুকদার ওরফে বদি ভাই। আমার বয়স তখন মাত্র ১০ কি বারো যখন আমি প্রকৃত পক্ষে এই বদি ভাইকে জ্ঞ্যানের মাধ্যমে চিনি। কিন্তু তার আগে থেকেই এই বদি ভাই আমাদের পরিবারের সাথে যুক্ত ছিলেন।

আমার বাবা কবে কিভাবে কি কারনে মারা গেলেন তা আমার কোনো ধারনা নাই। আমার বয়স তখনহয়ত ২ কি আড়াই হয়ত হবে। আমার বাবা ছিলেন অনেক ধনি মানুস, মাদবর মানুস। সমাজে তার গ্রহনযোগ্যতা ছিল অনেক অনেক বেশি। কিন্তু তার শত্রুও ছিল অনেক। বিশেষ করে আমাদের পরিবারের ভিতরেই অনেক শত্রু ছিল। আর তারা হচ্যাছেন আমার সতালু ভাই বোনেরা। বিশেষ করে তাজির আলি নামে যে ভাইটি ছিলেন, সে ছিলো চারিত্রিকভাবে একজন খারাপ মানুষ।  যাই হোক। বাবা মারা যাবার পর আমাদের যাবতিয় জমিজমার আধিপত্যতা এক সপ্তাহের মধ্যেই হাতছাড়া হয়ে যায়। ফলে ক্যাশ টাকা না থাকায় আমাদের পরিবার অনেক সমস্যার মধ্যে পরে। আমার বড় ভাই সবেমাত্র ইন্টারমিডিয়েট পাশ করে ইউনিভারসিটিতে ভরতি হয়েছেন। ঢাকায় থাকার কোনো জায়গা নাই, মাথার উপর কোনো অভিভাবক নাই এবং তার মধ্যে পাচ বোন এক ভাই এর বোঝা তার উপর। কিভাবে সংসার চালাবেন, কোথা থেকে টাকা আসবে কিংবা নিজেই কিভাবে চলবেন এই চিন্তাই আমার ভাইকে অতিস্ট করে তুল্লো। রাস্তায় রাস্তায় ঘুরে বেড়াচ্ছেন আর ভাবছেন কি করা যায়, কিভাবে করা যায়।

এই সময় কোনো এক কাকতালিয় ভাবে দেখা হলো এই বদি ভাইয়ের সাথে। তার জীবনটাও এই একই পরিস্থিতির মধ্য দিয়ে কেটেছে অথবা কাটছে। ওনাকে আর পরিস্থিতিটা ব্যাখ্যা করে বেশি বুঝাতে হয় নাই। বদি ভাই চাকুরি করেন ওয়াব্দা অফিসে মাত্র সেক্সন অফিসার হিসাবে। অল্প আয়, বিয়ে করেন নাই। তিনিও একইভাবে তার ভাই বোন মাকে সাপোর্ট করছেন। থাকেন তিনি ১২৪ নং আগাসাদেক রোড। ছোট্ট একটা রুম, তাতে ইতিমধ্যে তিনজন গাদাগদি করে কোনো রকমে থাকেন আর এক বুয়া প্রতিদিন দুপুর আর রাতের জন্য যত সামান্য বেতনে তাদের ভাত তরকারি পাক করে দেন। বদি ভাই হাবিব ভাইকে ওই ১২৪ নং আগাসাদেক রোডে নিয়ে এলেন। সবাই বদি ভাইকে ভাই বলেন না, সম্মানের সহিত তাকে সবাই স্যার বলেন।

যারা এই রুমে থাকেন, তারাসবাই গ্রাজুয়েট এবং জীবন যুদ্ধে লিপ্ত। একে অপরের জন্য যত টুকু দরকার সাপোর্ট করেন। সবার রোজগার যেনো কম্বাইন্ড রোজগার। একসাথে থাকে সব টাকা, যার যখন যত টুকু দরকার সে ততো টুকুই নেন। কিন্তু হিসাব থাকে। আমার মনে আছে ওই একটা ছোট রুম থেকে বদি ভাইয়ের তত্তাবধানে প্রায় ১০/১২ জন গ্রাজুয়েট বের হয়েছেন যারা পরবর্তী সময়ে দেশের শিরশ স্থানে বসেছিলেন। কেউ ইউনিভারসিটির অধ্যাপক, ডিন, কেউ আরো বড়। দেশে এবং বিদেশে।

এভাবেই বদি ভাই হয়ে উঠেন এক কিংবদন্তি স্যার। সব প্রোটেনশিয়াল মেধাবি হেল্পলেস মানুসগুলিকে বুদ্ধি, যতসামান্য চাকুরির পয়সা দিয়েই এইসব মানুসগুলিকে সাহাজ্য করেছেন। বদি ভাই তার চাকুরি জিবনে ডেপুটি ডাইরেক্টর পর্যন্ত উঠেছিলেন। ওয়াব্দায় চাকুরি করলে দুই নম্বরি করলে ছোট কেরানিও কোটিপতি হয়ে যায় কিন্তু বদি ভাই তার জিবনে দুই নম্বরিতো করেনই নাই, তার দ্বারা দুই নম্বরি হবে এটাও তিনি করতে দেন নাই। ফলে একটা সময় এইসব চোর বাটপারদের আমলে চাকুরির পদবির সামনে এগুতে পারেন নাই। অবসর নিয়ে বাসাতেই ছিলেন।

গ্রাজুয়েট মানুষগুলি তাদের যোগ্যতা অনুসারে ধীরে ধীরে সবাই বেশ ভালো ভালো জায়গায় সেটেল হয়ে গেছেন। সবার সাথেই বদি ভাইয়ের যোগাযোগ ছিল। কিন্তু কাজের চাপেই হোক আর ব্যস্ততার কারনেই হোক ধীরে ধীরে এইসব যোগাযোগও কমে আসে। কিন্তু আমার ভাইয়ের সাথে অন্য একটি কারনে শেষ পর্যন্ত যোগাযোগটা ছিলই। আর সেটা হচ্ছে আমার মা। আমার ভাই যখন উচ্চতর শিক্ষার উদ্দেশ্যে বিদেশ গেলেন, তখন আমার মাকে দেখভাল করার কোনো লোকই ছিলো না। আর এর ই মধ্যে আমারো ক্যাডেট কলেজের সুযোগ হ ওয়ায় আমার পক্ষেও মাকে কোন অবস্থায় ই কিছুই করার সুযোগ ছিলো না। আমার মাকে বদি ভাই খুব ই ভালো বাস্তেন। নিজের মায়ের মতো করেই দেখতেন। আমার মায়ের জন্য কোনো কাজ করতে বদি ভাইয়ের কখনো ক্লান্ত হন নাই। 

আমি ধীরে ধীরে ক্যাডেট কলেজ থেকে পাশ করে ফেললাম, আর্মিতে গেলাম, আমি মাক্যের দায়িত্ত নিলাম। এই সময় বদি ভাই একটু অবসর পেলেন। ফলে এই দীর্ঘ প্রায় দেড় যোগ বদি ভাইয়ের সাথে আমাদের প্রয়োজনেই আমরা তার কাছ থেকে আলাদা হতে পারি নাই। এমন নয় যে বদি ভাইয়ের এখানে কোন স্বার্থ কাজ করেছে। হ্যা, একটা স্বার্থ কাজ করেছে অবশ্য ই। আর সেটা হচ্ছে, বদি ভাই ও তার ভাইদের থেকে অনেক আলাদা ছিলেন। তার পাশে কেউ আসলে ছিলো না। ঊনি ভাবতেন, আমি বা হাবিব ভাই বা আমরা ই তার আপন জন এবং আপদে বিপদে আমরাই তার পাশে আছি। কথাটা ঠিক। কিন্তু পরবর্তীতে যত টুকু আমাদের পাশে থাকার দরকার ছিলো, আমরা আসলে ততো টুকু পাশে থাকতে পারি নাই। এর কারনও হচ্ছে আমাদের বুঝাপড়ার তফাত। হয়ত এটাই এই স্বার্থপর পৃথিবীর নিষ্ঠুর নিয়মের একটি। 

বদি ভাইয়ের সাথে আমার প্রথম মনোমালিন্য টা হয় আমার বিয়ে নিয়ে। এটা মানতে মানতে আমাদের মধ্যে একটা বিস্তর গ্যাপের সৃষ্টি হয়ে গিয়েছিলো। কখনো নরমাল, কখনো আধা নরমাল, আবার কখনো মনে হয়েছে সব ঠিকই আছে। আরেকটা কারন ছিলো যে, হাবীব ভাইয়ের প্রতিনিয়ত পরিবর্তনশীল মানসিকতা। একবার এটা বলেন তো আরেকবার তার সিদ্ধান্ত বদলে অন্য আরেকটি বলা বা আগের সিদ্ধান্ত থেকে সরে যাওয়া। এইরুপ একটা পরিস্থিতিতে বদি ভাইও আর হাবীব ভাইয়ের ইপর নির্ভর করতে পারছিলেন না। 

একটা সময় চলে এসেছিল যে, আমরা যে যার যার মতো করেই চলছিলাম। ব্যাপারটা এমন হয়ে গিয়েছিলো যে, সাভাবিক অন্য দশ জনের সাথে আমরা যেভাবে চলি, ঠিক সেভাবেই চলছিলাম। সম্পর্ক খারাপ নয় কিন্তু আমরা খুব ঘনিস্ট কেউ আমরা। হাবীব ভাই বদি ভাইকে সব সময় ই শ্রদ্ধা করতেন এবং শেষ পর্যন্ত শ্রদ্ধাই করতেন। কিন্তু বদি ভাইয়ের জন্য হাবীব ভাইয়ের আরো অনেক কিছুই করার ছিলো। সেটা হয়ত হয় নাই। 

আজ বদি ভাইয়ের মৃত্যুতে একটা বড় অধ্যায় শেষ হলো। আমি তাকে মিস করবো সব সময়। যত কষ্টেই তিনি থাকতেন না কেনো, আমি যখন বদি ভাইয়ের কাছে যেতাম, আমি দেখতাম, তার মধ্যে একটা জীবনী শক্তি ফিরে আসতো। অনেক কথা বলতেন। অতীতের কথা, তার সাফল্যের কথা, তার দুঃখের কথা। আমিও শুনতাম। আজ আর তিনি নেই। তাকে আল্লাহ বেহেস্ত নসীব করুন। 

আইন্ডেন্টিটি (পর্ব-১)

২৪ বছর পর মনিকা জানতে পারলো যাকে সে বাবা বলে চিনত, যাকে সে আদরের ছোট ভাই বলে জানতো, যাকে সে বোন, চাচা, দাদা, জেঠা ফুফু ইত্যাদ বলে জানতো, তারা আসলে মনিকার কেউ না। বাবা বাবা না, দাদা দাদা না, ভাই ভাই না, বোন বোন না, জেঠা, চাচা, এরা ওর কেউ দাদা, ভাই বা বোন কেউ না। অথচ কাকের বাসায় কোকিলের ছানার মতো তার জন্ম হয়েছে, শৈশব কেটেছে, বাল্যকাল কেটেছে, আর এখন সে একজন পুর্ন বয়ষ্ক যুবতী। তাহলে এই ২৪ বছর ধরে যে মনিকা তিলে তিলে তার অন্তর, আত্মা আর মানসিকতা দিয়ে কিসের বালুর এক প্রাসাদ গড়ে তুলেছিলো যা আজ হটাত করে সমুদ্রের এক জলোচ্ছাসে নিমিষের মধ্যে তছনছ করে মিলিয়ে গেলো?

সব মিথ্যা। এ যাবত মনিকা যা পেয়েছে, যা দেখেছে, যা শুনেছে, আজ সব তার কাছে মিথ্যা বলে সামনে এসে সত্য হাজির হয়েছে। মনিকা কাকে এই প্রশ্নের উত্তর জানাতে বলবে? মিথ্যে হলো সেই জাল যা একটা মানুষ তার নিজের অজান্তেই সে নিজের জন্য বিছায়। কিন্তু মনিকা তো নিজে কোনো মিথ্যার জাল বুনে নাই!! তাহলে তার ব্যাপারে এমনতা হলো কেনো? কথায় বলে, মিথ্যাও কখনো কখনো সত্যি হয়ে যায়। মনিকা আজকের এই মিথ্যাটা কিছুতেই মেনে নিতে পারছে না। কোন একটা মিথ্যাকে হাজার বার বললে নাকি মিথ্যাটা সত্য হয়ে যায়। কিন্তু মনিকা জানে, তার এই মিথ্যা বা সত্য যেটাই হোক হাজারবার কেনো আজীবন কাল ধরে আওড়ালেও আর সত্যিটা মিথ্যা আর মিথ্যাটা সত্যি হয়ে যাবে না। হয়তো মিথ্যাটা এ যাবত কাল পর্যন্ত যেভাবে চাপা পড়েছিলো, আজো হয়তো সেটা চাপা দিয়েই মিথ্যাটাকে সত্য বলে চাপিয়ে জীবন চালাতে হবে অথবা, সমস্ত জগত সংসার ছেড়ে আকাশের পানে চেয়ে কোনো এক নামহীন গন্তব্যে সারাজীবনের জন্য হারাইয়া যেতে হবে। কারন সত্যি আর মিথ্যার মধ্যে পার্থক্য করা সব সময় সহজ হয় না।

মনিকা তার পড়ার টেবিলে জল ছাড়া মাছের মতো ছটফট করছে আর বসে  শুধু একা নীরবে এটাই ভাবছিলো তার ভবিষ্যত কি আর তার বেচে থাকার অর্থই কি। ভালোবাসায় যেমন অনেক শক্তি থাকে, তেমনি বদনামেরও একটা ভয় থাকে। সকাল থেকে এই সন্ধ্যা অবধি মনিকা তার সারা জীবনের গল্পটা আর এখন যেনো মিলাতে পারছিলো না। বারংবার মনে হচ্ছিলো, মনিকা, তার বাবা, তার মা, তার পরিবার যেনো একটা মুখোশ পড়েই এই সংসারে চলমান ছিলো। আজ সেই মুখোশ খসে পড়েছে বটে, কিন্তু মনিকা এটাও বারবার ভেবে কোনো কুল কিনারা পাচ্ছিলো না যে, মুখ আর এই মুখোশ তার আলাদা করা কতটা  বুদ্ধিমানের কাজ হলো

মনিকার প্রতিনিয়ত এটাই মনে হচ্ছিলো, এইতো গতকাল রাত পর্যন্ত তো সবই ঠিক ছিলো। অথচ আজ এতোদিনের একটা সম্পর্ক একটা মাত্র 'হ্যা' বলার মধ্যে সব তছনছ হয়ে গেলো? জীবন দাঁড়িয়ে গেলো কোনো এক মুল্যহীন ঘাটের ধারে যেখানে না আছে পারের কোনো খেয়া, না আছে ঘাটের কোনো মাঝি!

এই মর্মান্তিক ঘটনা হটাত করে কেমন করে মনিকার জীবনে ঘটে গেলো? এটাও একটা রহস্যের ব্যাপার ছিলো। জীবনের অনেক কাহিনী আছে যা রহস্যে ঘেরা থাকে। যখন কেউ এই রহস্য ঘেড়া চাদর সরাতে যান, তখন এমন এমন কিছু প্রশ্নের উদয় হতে পারে যা সাভাবিক জীবনের ভিত নড়ে যেতে পারে। এইসব রহস্য ঘেরা প্রশ্ন জানলেও অসুবিধা আবার না জানলেও জীবন সাভাবিক হয়ে উঠে না। এক্ষেত্রে কি জানা উচিত আর কি জানা একেবারেই উচিত না, সেটাই নির্ভর করে পরবর্তী সুখী জীবনের জন্য। মনিকার প্রায়ই মনে হচ্ছিলো যে, অন্য আর ভাই বোনদের সাথে ওর বাবা মার আচরন, ব্যবহার আদর আপ্যায়ন অনেক কিছুই গড়মিল। আর্থিক সচ্চলতার সাথে পরিবারের এই জন্মগত ব্যবহারগুলির মধ্যে কোনো তারতম্য থাকার কথা না। কারন তারা একই গোত্রের, একই পরিবারের। কিন্তু মনিকার মধ্যে এই প্রশ্ন বহুবার মনে উদয় হয়েছিলো, আসলেই এ রকম তারতম্য কেনো? সত্য বেশীদিন লুকিয়ে রাখা যায় না। কোনো একদিন মনিকার মনে হচ্ছিলো, মনের দুক্ষে অনেক কাদবে সে মার সাথে বাবার সাথে। সে রকমেরই একটা পরিস্থিতি গতকাল সৃষ্টি হয়েছিল। কথায় কথায় মনের দুক্ষে আর রাগে যখন মনিকা তার মাকে এই অদ্ভুদ প্রশ্নটি করেই ফেল্লো, "মা, আমি কি তোমাদের আসলেই আসল মেয়ে? নাকি আমাকে তোমরা কোথাও থেকে কুড়াইয়া এনেছো?"

মনিকার এমন প্রশ্নে মানসিকভাবে দূর্বল মা, একেবারে ভেঙ্গে পড়েছিলেন, আর তার মনের অজান্তেই সব সত্যি কথা বলে দিলেন। মনিকা তার বাবার আসল মেয়ে নয়।

ঝড়টার আভাষ অনেক আগেই ছিলো, কিন্তু এবার শুরু হয়ে গিয়েছিলো। আজ এতো বছর পর তাহলে মনিকা কে? আচমকা এই সত্যের মুখুমুখি দাঁড়িয়ে ক্ষনিকের জন্য হলেও মনিকার জ্ঞান হারিয়েছিলো বটে কিন্তু অনেক কিছুই মেনে নিতে হয়। মেনে নিতে শিখতে হয়। আজ নিশ্চিত জানলো মনিকা যে, জীবনের যাত্রার শুরু থেকে শেষ অবধি মনিকার রাস্তাটা একটা অন্ধকারই ছিলো, ওর জীবনটা ছিলো একটা অন্ধকার টানেল, যেখানে মাঝে মাঝে আলো আসে বটে কিন্তু সে আলোয় কোনো কাজ হয় নাই।  আজ সত্যটা একদম নাকের ডগায় বসে মনিকাকে এমনভাবে চুরমার করে দিলো যে, টাইম টাকে মনে হলো সবচেয়ে বড় ভিলেন। মনিকা  সামনে যা দেখছিলো, তার থেকে অনেক বেশি ঘটনা লুকিয়ে ছিলো তার না দেখার পিছনে। মনিকা এখন এমন একটা বয়সের দ্বার প্রান্তে দাড়িয়েছিলো, যার নাম যৌবন। আর এই যৌবন হলো এমন এক প্রাকৃতিক উপাদান যার দ্বিতীয় নাম শক্তি কিন্তু বড় অসহায়।

কারো পরিবার যখন নিমিষের একটা তথ্যের সার্টিফিকেটে অপরিচিত হয়ে যায়, তখন সবচেয়ে কাছে যে আসে, সে হলো বন্ধুত্তের শক্তি। বন্ধুত্ব আমাদের জীবনের একটা গুরুত্তপুর্ন অংশ। মনিকারও এমন একজন বন্ধু ছিলো, যার না ছিলো কোনো সামাজিক প্রতিপত্তির অভাব, না ছিলো কোনো যশের কমতি। এই গত কিছু বছর যাবত মনিকার সাথে এই প্রতিভাযশি বন্ধুত্বটা এমনভাবে তার জীবনে এসেছিল, মনিকার কখনো মনে হয়েছে সে তার মা, তার বাবা, আবার কখনো মনে হয়েছে সে তার প্রিয়তম। মনিকার কাছে তার এই বন্ধুটি যেনো কোনো এক শিল্প। প্রায়শই মনিকার কাছে এ প্রশ্ন কুরিকুরি অংকুরের মতো উদয় হতো, জীবন শিল্পকে নকল করে নাকি শিল্প জীবনকে নকল করে? ব্যাখার কোনো আর আজ প্রয়োজন পড়লো না। ভঙ্গুর চিত্তে, হতাশ মনিকা, কিছুক্ষন গলা ফাটিয়ে নিঃশব্দে চোখের জল ফেলে বাক্রুদ্ধ হয়ে বসে রইলো। মিথ্যে চোখের জল একটা সময় আর কাজে লাগে না।মনিকার কাছে আজকের দিনের চোখের জলকে পুরুই মিথ্যা মনে হতে লাগলো। যখন কোনো মানুষের দুঃখ থাকে, কষ্ট থাকে, সে সব সময়ই চাবে যে, সে অন্য কারো সাথে তার এই দুক্ষটা, কষ্টটা শেয়ার করতে। কেউ তো থাকবে যে, ওর কথা শুনবে। বুঝুক না বুঝুক সেটা আলাদা ব্যাপার, কষ্ট লাগব করুক বা না করুক সেটাও আলাদা ব্যাপার। কিন্তু কারো সাথে তো তার এই কষ্টের ব্যাপারগুলি শেয়ার করার দরকার। কেউ চলে যাবার পর হয়তো কিছু পরিবর্তন নজরে আসে।

অবশেষে মনিকার যার চেহারাটা প্রথম মনের মানস পটে ভেসে উঠেছিলো, সে আর কেউ নয়, আকাশ। যে আকাশকে একদিন মনিকা তার ঘরের সব দরজা বন্ধ করে দিয়ে পলায়ন করেছিলো, আজ যেনো মনে হলো, এই আকাশই যেনো তার সুরক্ষার ছাদ। ঘরের দরজা বন্ধ হবার সাথে সাথে সবসময় মনের দরজা যে বন্ধ হবে এমন কোনো কথা নাই। একটা ভরষা ছিল ক্ষীন। অবশেষে মনিকা আকাশকেই ফোন করে এটাই বলার চেষ্টা করলো যে, যে বিষয়টায় আশংকা ছিলো, ভয় ছিলো, দুশ্চিন্তা ছিলো সেটাই হয়ে গেলো আজ। মনিকা আজ এক নামবিহীন কোনো এক পরিচয়হীন বেওয়ারিশ মুন্ডুহীন জীবন্ত লাশ। এখন যদি তার কিছু অবশিষ্ঠ থেকে থাকে, তা হল একটা শরীর, কিছু মাংশ আর সমস্ত জীবনভর অনিশ্চয়তা।  মনিকার আর কোথাও যাবার দরজা নাই। মনিকার জীবন হাপিয়ে উঠেছে। কোথাও কেউ নাই। জীবন যেনো একটা নদী।

তারপরেও আবার বারবার মনিকার মনে হচ্ছে, আকাশ নদীটা কি তার জীবনের লক্ষ্য পার হবার জন্য সঠিক নদী? মনিকা বারবার একই প্রশ্ন নিজেকে করেছিলো, কিন্ত কোনো উত্তর আসছিলো না। কারন, আপনি একই নদীতে দুবার পা দিতে পারেন না, দেওয়া যায় না। কিন্তু মনিকার জীবন নদীতে এখন বান ডেকেছে। এই কয়টা মাস খালী জল জমতেই থেকেছে, জমতেই থেকেছে, আর এখন সে জল প্রায় মাথার উপর উঠে গেছে, এখন এই জলের বানেই হয়তো মনিকা ডোবে যাবে। মনিকা হাপিয়ে পড়েছিল। ভয় পেয়েছিলো। মনিকার বারবার এটাই মনে হচ্ছিলো, এখন দরকার তার একটা সেটেলমেন্ট। আকাশের উপর কিছু ঘৃণা জমেছিলো বটে, কিছু রাগ হয়েছিলো বটে কিন্তু আজ মনিকার মনে এটাই বারবার উদিত হচ্ছিলো, অনেক সময় ঠিকানা ভুল হয় কিন্তু ওই ঠিকানায় যারা থাকে তারা হয়তো ঠিক লোক। আকাশের ঠিকানাটা মনিকার জন্য এইমুহুর্ত শুধু নয়, আজীবনের জন্যই হয়ত ভুল, কিন্তু আকাশ ভুল ছিলো না। পরিত্যক্ত ঘুনে ধরা কিছু জরাজীর্ন অন্ধ ভালোবাসার থলিটা নিয়ে মনিকা বুকের পাজরে শক্ত করে ধরে আজকের পরিত্যক্ত নিজের পরিবার ছেড়ে বেরিয়ে গেলো কোনো এক অজানা গন্তব্যের পথে যেখানে হয়তোবা আকাশ নীল রংগের চাদর বিছিয়ে কিছু মেঘমালা সাজিয়ে দিনের শেষে সুর্যের লাল আভায় তারই আরাধনায় ভজনে লিপ্ত। বারবার মনিকার মনে হয়েছে, এ লোকগুলি আমাকে একের পর এক ঠকিয়েছে। বারবার ঠকিয়েছে। এই ঘরে আমার সমস্ত অধিকার কেড়ে নেয়া হয়েছে। আমি এদের আর কেউ নই।

কিন্তু আকাসই বা কেনো মনিকার জন্য এভাবে জজ্ঞ করবেন? আবার বিশ্বাস হয়েও ছিলো। অন্ধ বিশ্বাস এমন এক চোরাবালী, যার না আছে একুল, না আছে ওকুল। সেখানে হয়তো কোনো জ্ঞানের আলো পৌছতে পারে, কিন্তু কোনো তর্ক বিহীন আশ্বাস ভর্তি থাকে। মনিকার এবার একটা কথা মনে হলো, বিশ্বাসভাজন হবার জন্য দরকার সেক্রেফাইস, দরকার একনিষ্টতা। আর দরকার নিজের সাথে নিজের সৎ হওয়া। আজ যেখানে মনিকা হারিয়ে গেলো, সেখান থেকেই মনিকাকে আবার নতুন জীবন নিয়ে বেচে উঠতে হবে এই জগত সংসারে। প্রথমবার যখন সম্পর্কটা গড়ে উঠেছিলো আকাশের সাথে, তখন প্রয়োজন ছিলো সাময়িক। কিন্তু এবার মনিকার কাছে মনে হলো, সম্পর্কটা জীবনে বাচার সাথে এই সম্পর্কটা জরুরী। ইচ্ছের বিরুদ্ধে গিয়ে সম্পর্ক জুড়তে যাওয়া একটা ভয়ংকর অপরাধের জন্ম দেয়। প্রথমবার যেটা মনে হয়েছিল। কিন্তু এটা আজ আর কোনো ভয়ংকর মনে হলো না। আজ এটাই বারবার প্রমান হচ্ছে যে, সময় নতুন সম্পর্ক তৈরী করে। কষ্টের সময় যারা থাকে, তারাই তখন নিজের ফ্যামিলি হয়ে যায়। আকাশ আমার পরিবার।

সব কিছুরই প্রথমবার আছে। এটা যেমন ভালোবাসার ক্ষেত্রে তেমনি অপরাধের ক্ষেত্রেও। আমি প্রথমবার অপরাধ করেছিলাম আকাশকে ছেড়ে দিয়ে, কিন্তু এই প্রথমবার মনিকার মনে হলো, মনিকা আকাশকে ভালোবাসতে শুরু করেছে। প্রথমবার মনিকা আকাশের সাথে ক্লোজ হয়েছিল একটা দন্ধমুলক সার্থ নিয়ে। কিন্তু আজ ক্লোজ হয়েছে জীবনকে ভালোবেসে। ক্লোজ হওয়া আর এফেয়ার্স থাকার মধ্যে যথেষ্ঠ পার্থক্য আছে। এবার মনিকা আকাশের এতো কাছে চলে আসে যেখানে এফেরার্স এর জন্ম। আর এই এফেয়ার্স কখনোও খোলাখুলি, কখনো বন্ধ দরজার ভিতরে।

আকাশ অন্য দশজন মানুষের থেকে আলাদা। কারো অতিতকে ঘেটে বর্তমানকে বিচার করাই হয়তো ঠিক কাজ নয়, এটা আকাশ নিজে যেমন মানে, সে অন্যের বেলাতেও বিশ্বাস করে। কিন্তু ভরষা হলো এমন একটা কথা যা বর্তমান আর অতীতের মধ্যে মেলবন্ধন করে, ভবিষ্যতের দিকে অনুমান করে। কোন ব্যক্তি কি করেছিলো, কি করতে চলেছে, এটা নির্ভর করে সে ভবিষ্যতে কি করতে পারে। এটা খুবই স্বাভাবিক যে, যখন কারো সাথে সম্পর্ক হয়, ব্যবসায়িক বা নিজস্ব, অই ব্যক্তির সম্পুর্ন জীবন একটা দলিল হিসাবে সামনে আসে। তখন আমরাই বিচার করতে পারি যে, সম্পর্ক রাখা উচিত নাকি রাখা উচিত নয়। এটা কোনো চরিত্র বিশ্লেষনের ব্যাপার না, শুধু একটা সম্পর্ক জোড়ার লাভ এবং ক্ষতির প্রশ্ন। মনিকা কোনো কিছুই আর না ভেবে ফিরে এলো সেই পুরানো চৌকাঠের ভিতর যেখান থেকে একদিন আকাশকে না বলে ভোরের অন্ধকার পেরিয়ে সেই পরিবারের কাছে ফিরে গিয়েছিলো, যেটা তার কোনোকালেই ছিলো না, আর আজ তো একেবারেই নাই।

(চলবে)

ভিন্ন প্রসঙ্গ – সবার জন্য 

একটা জিনিষ ইদানিং খুব বেশী করে অনুভুত হয় যে, জীবনের সব অধ্যায় এক রকম নয়।  এটা আমার হয়ত বুঝতে দেরী হয়েছে কিন্তু এই সব তত্ত্বকথা মনিষীরা যুগে যুগে বলে গেছেন। মনিষীরা তাদের অভিজ্ঞতার আলোকে অনেক তত্ত্বকথাই বলে গেছেন বটে কিন্তু কেউ সে সব তত্ত্বকথা মানে না। হ্যা, মানে তখন যখন কারো জন্য সেসব পরিস্থিতির সৃষ্টি হয় এবং নিজেদের জন্য প্রযোজ্য হয়। সেই সুবাদেই বলছি যে, আমি আপনি ততোক্ষন সবার কাছে যত্নশীল যতোক্ষন আপনি নিঃস্বার্থভাবে দিতে পারবেন কিন্তু পাওয়ার আশা করবেন না। আশা করলে আপনি হেরে যাবেন। এটা নিজের স্ত্রী থেকে শুরু করে সন্তান, পাড়াপ্রতিবেশী, বন্ধুবান্ধব, আত্মীয়স্বজন সবার বেলায় প্রযোজ্য। কেউ মানুক বা না মানুক, এটাই সত্য।

এর থেকে যে শিক্ষাগুলি নেওয়া দরকার তা হচ্ছে,যা কিছু করবেন জীবনে, নিজের জন্য করুন, নিজে সুখী সময় কাটানোর জন্য আয় করুন এবং তা দুইহাত ভরে খরচ করুন। আপনার অনুপস্থিতিতে আপনার সন্তানগন কিভাবে চলবে কিংবা তারা কোথায় কিভাবে বাস করবে তা আপনার চিন্তা থাকতে পারে বটে কিন্তু তারজন্য অনেক কিছু আয় করে সঞ্চয় করে তাকে পঙ্গু করে রেখে যাওয়ার কোনো দরকার আমি মনে করি না। বরং তাকে উপযুক্ত শিক্ষা দিয়ে ছেড়ে দিন, তাতেই সে এই পৃথিবীর কোনো না কোনো স্থানে ঠাই করে নেবে। এই পৃথিবী পরিশ্রমী মানুষের জন্য সুখের আবাস্থল। অলসদের জন্য এখানে সব কিছুই নাগালের বাইরে।  পূর্ব বর্তি জেনারেশনের আহরিত সম্পত্তি উত্তরসূরিদের জন্য কিছুটা আরামদায়ক হলেও একটা সময় আসে, কোনো না কোনো উত্তরসুরীর মাধ্যমেই তা বিনাশ হয়। এই বিনাশ টা হয়ত এক জেনারেশনের মধ্যে ঘটে না। কারো কারো বেলায় এক জেনারেশনেই শেষ হয়ে যায় আবার কারো কারো বেলায় এটা ক্ষয় হতে কয়েক জেনারেশন পার হয়। কিন্তু ক্ষয় হবেই। এর প্রধান কারন, যিনি সম্পদ করলেন, তার যে দরদ, আর যারা বিনা পরিশ্রমে পেলো তাদের দরদ এক নয়। আরেক টা কারনে নস্ট হয়। তারা হলেন যাদের বংশ ধরের মধ্যে ছেলে রি-প্রেজেন্টেটিভ নাই। ওই সব লোকের বেলায় তাদের কস্ট করা সম্পত্তি নিজের ছেলে সন্তানের পরিবর্তে চলে যায় অন্য বাড়ির আরেক ছেলের হাতে যিন সম্পদের মালিকের নিছক মেয়ের স্বামী। এরা দ্রুত সম্পদ হাত ছাড়া করে কারন তারা একদিকে এতাকে ফাও মনে করে, অন্যদিকে যতো দ্রুত সম্ভব সব সম্পত্তিকে নিজের নামে রুপান্তরিত করতে চায়।

যেহেতু আপনি পরিশ্রম করছেন, সুখটা আপনিই করুন। যদি ভাবেন যে, আগে সঞ্চয় করে স্তূপ করি, বাড়ী গাড়ি করি, ব্যাংকে একটা মোটা টাকা সঞ্চয় হোক তাহলে আপনার হাতে একটু সময়ও নেই সকালের সূর্য দেখার অথবা রাতের জ্যোৎস্না দেখার। আপনার ভাগ্যে আছে শুধু বাদরের মতো এই স্থান থেকে অন্য স্থানে লাফিয়ে লাফিয়ে কোথায় ফল পাওয়া যায় তার সন্ধান করা, অথবা পালের বলদের মতো সারাজীবন হাল চাষের মতো চাষির হাল বেয়ে যাওয়া যাতে চাষিই শুধু লাভবান হয়, আর নিজে শুধু জাবর কাটবেন।

এ কথাগুলি কেনো বলছি?

আমার চোখে দেখা এই ছোট্ট জীবনে অনেক ঘটনা। কস্ট করে সম্পত্তি বা এসেট রেখে গেছেন, কিংবা ব্যবসা রেখে গেছেন, জাস্ট তার মরনের পর ওই সব সম্পত্তি কত তাড়াতাড়ি ভাগাভাগি করে নিজেদের মধ্যে নিয়ে নেয়া যায়, তার জন্য তর সয় না। অথচ ওই সব উত্তরসুরীরা এক্টিবার ও তার রুহের মাগ ফিরাত বা ধর্মীয় কোনো উৎসবের একটু ও পয়সা খরচ করতে চায় না। মজার ব্যাপার হচ্ছে, তারাও সেই এক ই ফাদে পা দিয়ে তাদের উত্তরসুরীদের জন্য ই সঞ্চয় করে জমা করে যান এবং নিজেরা ভোগ করেন না।

অপ্রিয় সত্যের মুখুমুখি দাঁড়ানো সাহসের প্রয়োজন

কখনো যদি তোমরা দেখো যে, তোমার অপ্রিয় সত্য কথায় কেউ কোনো উত্তর করছে না, কিন্তু তোমার অগোচরে মুখ ভেটকাচ্ছে, তাহলে বুঝবে যে, তোমার আশপাশ চাটুকারে ভরে গেছে। তুমি বিপদের মধ্যে আছো।  এ অবস্থায় তোমার যা করনীয়, তা হচ্ছে, তুমি একা চলার অভ্যাস করো। এই একা চলার মধ্যে যদি কাউকে রাখতে চাও সাথে, তাহলে এমন কিছু মানুষকে রাখো যারা প্রাইমারী স্কুলের দরিদ্র শিক্ষক। তারা নীতি থেকে বিচ্যুত হয় না আর হবেও না। 

আগামিকালটা কত দিনের?

অনেকেই বলেন, ঈশ্বর বড় উদাসীন। আসলেই কি তিনি উদাসিন? না, তিনি উদাসিন নন। তিনি তার কাজ ঠিক সময় মত করেন, তার কোন কিছুই ঊলট পালট নয়, ঊনি আমগাছে জাম ফল দেন না, কিংবা কাঁঠাল গাছে আনারস ফলান না। বৈশাখ মাসে তিনি কনকনে শীত প্রচলন করেন না, আবার কড়া ভর চৈত্র মাসে তিনি শীতের প্রবাহ করান না। তারপরেও আমরা তাকে অনেক সময় কোন কিছুই বিবেচনা না করে বলে থাকি, ঈশ্বর বড় উদাসিন, ওনি উদাসীন শুধু তাঁর বিশ্বকে নিয়ে। কিন্তু কখনো আমরা নিজেকে প্রশ্ন করি না, আমরা কি উদাসিন? আর আমরা উদাসীন আমাদের অতিত নিয়ে। কেউ অতিত নিয়ে ভাবতে চাইনা, ভাবি শুধু আগামিকালের কথা। কিন্তু এই আগামিকালটা কত দিনের?

গত সপ্তাহে আমি একটি পার্টিতে গিয়েছিলাম বেরাতে। অনেক নামিদামি মানুষজন এসেছিল। কেউ সচিব, কেউ পুলিশের বড় কর্মকর্তা, কেউ আবার ব্যবসায়ী, আবার কেউ সাধারন মানুসদের মধ্যে অনেকে। তাহলে এখন আবার প্রশ্ন করে বসবে, সাধারন মানুষ আর ঐ ক্লাসিফাইড ব্যক্তিগুলোর মধ্যে পার্থক্য কি? ব্যবসায়ী কি সাধারন মানুসের মধ্যে পরে না? কিংবা পুলিশের বড়কর্তা, সচিব ইত্যাদি মানুষগুলো কি সাধারন মানুষ নয়? আমার কাছে এর উত্তর একদম সহজ এবং সরল। না, ওরা সাধারন মানুসের মধ্যে পরে না। তাঁদের সমাজ আলাদা, কথাবার্তা আলাদা, লাইফ স্টাইল আলাদা। সাধারন মানুসের জীবন আর তাঁদের জীবন এক কাতারে পরে না। একজন সাধারন মানুষ তাঁর অপকর্মের কথা ফাস হয়ে গেলে তাঁর আর জীবনের মুল্য থাকে না। সে কোন অন্যায় কাজ করে ফেললে প্রতিনিয়ত তাঁর ভিতরে একটা অপরাধবোধ কাজ করতে থাকে, সে নিজে নিজে একা একা দহিত হতে থাকে, লোক লজ্জার ভয়ে কেমন যেন নিজের মধ্যে সুপ্ত হয়ে থাকে, আর তাতেই সে অসুস্থ হয়ে জীবননাস হতে পারে। কিন্তু ঐ ক্লাসিফাইড লোকগুলো খুব স্পস্টবাদি, তারা তাঁদের অনেক অপকর্ম প্রকাশ্যে একে অন্যের সঙ্গে খুব সহজেই শেয়ার করে। মাঝে মাঝে ঐ অপকর্মগুলো একটা গুনের বহিরপ্রকাশ হিসাবেও নিজেদের অহংকার হিসাবে ধরে নেয়। এই যেমন, একজন আইনজ্ঞ সাহেব সেদিন পার্টিতে খুব ফলাও করে বলছিলেন, তিনি প্রতিদিন প্রায় লক্ষ টাকার উপর আয় করেন। আমি তাকে খুব ভাল করে চিনি না। আমার একবন্ধু তাকে পরিচয় করিয়ে দিতে গিয়ে বললেন, বন্ধু, ওনি হচ্ছেন ডিস্ট্রিক্ট জজ লুতফুল কবির। খুব মাই ডিয়ার লোক। অনেক পয়সার মালিক। ধান্মন্ডিতে দুটু বাড়ি আছে, সাভারে কয়েক একর জমি আছে, নিজের জন্য একটা গাড়ি, বউয়ের জন্য একখান গাড়ি। আশুলিয়ায় প্লট কিনেছেন দশটার উপরে। সব ক্যাশ টাকা দিয়ে। আল্লাহ তাকে তিনখান বাচ্চা দিয়েছেন। দুইজন তো খুব ভাল করছে পরাশুনায়। অনেক মানুষের উপকার করেন তিনি, সমাজে বেশ দান খয়রাত করেন, শুধু তাই নয়, তিনি আগামিতে এমপি ইলেকশনেও দাঁড়াবেন ইত্যাদি ইত্যাদি। মাঝখানে ১/১১ তে খামাকা দুদক তাকে অনেক হয়রানি করেছিল। আয় বহির্ভূত নাকি অনেক আয়ের তিনি বৈধ না হওয়ায় প্রায় মাস খানেক এদিক সেদিক থাকতে হয়েছিল। আইনজীবী হয়েও আইনের পাল্লায় পরে গিয়েছিলেন। তবে ওটা বেশিদিন লুতফুল ভাই জিইয়ে রাখেন নাই। একেবারে মাল পানি ঢেলে বীজ উপড়ে ফেলেছেন। এখন একদম ক্লিন আমাদের এই লুতফুল ভাই।

শুনে আমার খুব ভাল লাগলো। পরিচয় হয়ে আমারও খুব ভাল লাগলো। তিনিও মনে হল আমার সঙ্গে পরিচিত হয়ে প্রীত হলেন। একসময় কফি খেতে খেতে বললাম, আইন ব্যবসা ছাড়া আর কোন ব্যবসা করেন নাকি লুতফল ভাই? তিনি অত্যন্ত মৃদু ভাষায় বললেন, না ভাই, এই একটার জন্য সময় দিতে গিয়েই হিমশিম খাচ্ছি, আবার অন্য ব্যবসা কেমন করে করি? আমার খুব জানতে ইচ্ছে করল, তাহলে আপনি প্রতিদিন কি এমন করেন যে, প্রায় এক লাখ টাকার আয় হয়?

লুতফুল সাহেব ভাল মানুষ। ওনি কথা বলেন সরাসরি। কোন রাখঢাক নাই। বললেন, আমার কোর্টে আমি কাউকে জামিন দেই না। সে যেই মামলাই হোক। “বেলএব্যাল” কেস হলেও আমি জনা প্রতি বিশ হাজার আর হেভি টার্গেট হলে তো কথাই নাই। খাসা পাঁচ লাখ। মাসে সব মিলিয়ে গরপরতা ত্রিশ পয়ত্রিশ লাখ টাকা থাকে। ভাই, নিবই যখন, তখন আর রাখঢাক করে লাভ কি? মাঝে মাঝে কিছু মিথ্যা কেস কেউ কেউ নিয়া আসে। আমি বুঝতে পারি। ঐ কেসগুলোর জন্য পয়সা বেশী পাওয়া যায়। সবসময় ওগুলো পাওয়া যায় না, তবে একবার পেলে সোনারখনি হাতে পাওয়ার মত। ঝুলিয়ে রাখবেন, আবার পয়সা নিবেন। পয়সা দিবে না? কোন অসুবিধা নাই। অপোজিট পার্টিকে  হাত করে ফেলার একটা হুমকি দিয়ে রাখবেন। জানেন ভাই, মানুসের একটা দুর্বল পয়েন্ট আছে, তারা হুজুরদেরকে বিনা দ্বিধায় বিশ্বাস করে আর করে এই আইনজীবী লোকদেরকে। ডাক্তারকেও তারা এতটা বিশ্বাস করে না। আর এই দুর্বলতার সুযোগটাই আমরা অনেকে নেই। এটা তো আমার কাজ, তাই না ভাই? ঘুস তো আর খাই না, আমি মুজুরি নেই। কাজের মুজুরি। এতে তো আর দোষের কিছু নাই।

ঠিক কথা বলেছেন লুতফুল সাহেব। নেবেনই যখন, তখন আর রাখঢাক করে লাভ কি? আর ওনি তো কাজের মুজুরি নিচ্ছেন। আর সত্য মিথ্যা যাচাইয়ের জায়গা তো একটাই, আদালত। আর এই আদালতেই তো তিনি কাজ করেন। অন্যায় যে করে আর সত্যের পথে যে আছে, তাঁদের মধ্যে বিবাদ হলে তো দু পক্ষেরই আইনজীবী লাগবে। লুতফুল সাহেব কেসটা না নিলে তো আরেকজন নিবেই। তাহলে ওনার নিতে অসুবিধা কই?

অনেক কথা হল লুতফুল ভাইয়ের সঙ্গে। আমার মনে হল, লুতফুল ভাই যে মানসিকতায় বেড়ে উঠছেন, আর যে উপলব্ধি থেকে সমাজে তিনি আজ অনেক বড় একজন বিত্তশালি হয়ে উঠছেন, তাঁর অনেক গলদ রয়ে গেছে। কিন্তু তাঁর চারিপাশের কোন বন্ধু, বা আত্মীয়সজন, কিংবা সহকর্মী কিংবা তাঁর খুব কাছে কোন লোক কেউ তাকে শুধরানোর পথ বলে দিচ্ছেন না। একটা সময় আসে, যখন পয়সা মানুসের জিবনে সৎ উপদেশের পথ রুদ্ধ করে দেয়। তখন শুধু চাটুকারদের দল কাছে ভিরে তাকে আরও গভির থেকে গভিরে নিয়ে যায় যেখান থেকে ফিরবার আর কোন পথ থাকে না। লুতফুল সাহেবের অবস্থা দেখে আমার তাই মনে হল।

পার্টি প্রায় শেষ। আরেক কাপ কফি খাচ্ছি আমরা সবাই মিলে। আমি লুতফুল ভাইকে কফি খেতে খেতে বললাম, লুতফুল ভাই, একটা প্রশ্ন করি?

ওনি মাই ডিয়ার লোক, বললেন, আরে ভাই, করেন না, করেন। যদি বলেন কি রঙের আন্ডারওয়ার পরে এসছি, সেটাও বলে দেব। খালি জিজ্ঞেস করে দেখেন না…… বড় মজার লোক।

বললাম, লুতফুল ভাই, আজ থেকে ৫০০ বছর আগের আপনার বংশের কারো নাম জানেন?

প্রশ্ন শুনে ওনি এমন করে হেসে উঠলেন যে তাঁর হাতে থাকা কফি কাপটা প্রায় আমার উপর পরতে যাচ্ছিল আর কি। হাসতে হাসতেই বললেন, কি করে সম্ভব আখতার ভাই যে ৫০০ বছর আগের বংশের কারো নাম মনে রাখা? আপনি কি বলতে পারবেন ৫০০ বছর আগের কারো নাম?

বললাম, আমার প্রশ্নটা শেষ হয় নাই লুতফুল ভাই। ওনি আমার কথার আওয়াজ শুনে গম্ভির হয়ে গিয়ে আবার প্রশ্ন শুনতে চাইলেন। আমি জিজ্ঞেস করলাম, থাক, ৫০০ বছর দরকার নাই, ৪০০ বছর আগের কেউ? বা ৩০০ বছরের আগের কেউ, অথবা ২০০ বছর আগের কেউ? কারো কথা কি আপনার মনে আছে?

এবার তিনি হাসলেন না। বললেন, না আখতার ভাই, ঐ অতো বছর আগের ফ্যামিলির কারো নামই আমি জানি না। তবে আমার দাদার বাবার নাম আমার জানা আছে। ওনি প্রায় আজ থেকে ৬০ বছর আগে মারা গেছেন।

আমি কফিতে চুমু দিতে দিতে বললাম, তাঁর মানে প্রায় ৬০ বছর আগের ইতিহাস। কিছুটা এখনো জেগে আছে। আচ্ছা লুতফুল ভাই, আজ থেকে ২০০ বছর পরে তাহলে কেউ কি আপনার কথা মনে রাখবে? বা ৩০০ বছর পর? অথবা ৪০০ বছর পর? আজ আমি আপনে এবং সবাই যে এমন একটা চাঁদনী রাতে কি মজা করে কফি খাচ্ছি, কত সুন্দর টাই-স্যুট পরে এখানে সমাবেশ করছি, এই কি বিশাল সুন্দর বিল্ডিং করেছি, এসি গাড়িতে চরছি, এর কোন কথাই কেউ জানবে না বা মনে রাখবে না আজ থেকে ১০০ বছর পরে। লুতফুল সাহেব খুব মনোযোগ দিয়ে আমার কথাগুলো শুনছিলেন বটে কিন্তু ওনার যে মনটা খারাপ হয়ে যাচ্ছে আমি বুঝতে পারছিলাম।

আমি বলতে থাকলাম, “অথচ জানেন লুতফুল ভাই, আপনার আমার মরার ৫০০ বছর পরেও আমাদের রেখে যাওয়া এই সাভারের জমি, ধানমণ্ডির বাড়ি, আশুলিয়ার প্লট এইসব নিয়ে আমাদের সব পর্যায়ের জেনারেশনরা একে একে দাবিদার হয়ে মারামারিও করতে পারে। কিন্তু কেউ ঐ সম্পত্তি বিক্রি করে বা তাঁর একটা আয় থেকে কখনও আমাদের আত্তার মাগফেরাত কামনা করে একবেলা মিলাদ পরাবে কিনা সন্দেহ আছে। আয় করে যাবেন আপনি, এর সব দায়দায়িত্ব (ন্যায় পথে অথবা অন্যায় পথে আয় যাই হোক না কেন) আপনার, অথচ, আপনার কোন কাজেই তা লাগবে না। তাহলে এই সম্পত্তির কি ভ্যালু আছে? কার জন্যে রেখে যাচ্ছেন এই দায় দায়িত্ব?

লুতফুল ভাই এতক্ষন চুপচাপ শুনে যাচ্ছিলেন। মনে হল তিনি এখন কিছুটা অসস্থিবোধ করছেন। ওনার হাতে ধরা কফির কাপটায় যে কফিগুলো এতক্ষন গরম একটা সুগন্ধি ছরাচ্ছিল, এখন তা ঠাণ্ডা হয়ে গেছে ইতিমধ্যে।

আমি আমার কথা চালিয়ে যেতে লাগলাম।

এই দেখেন লুতফুল ভাই, সামান্য এক কড়া শাসক নামে পরিচিত ১/১১ এর সরকার। তাঁর কাছেই আমরা আমাদের সম্পদের হিসাব সম্পূর্ণ তুলে ধরতে না পারার কারনে কতই না এদিক সেদিক পালিয়ে বেড়ানো। হয়ত ঘুষ পয়সা দিয়ে আপাতত ম্যানেজ করা গেছে। সামান্য এক কেয়ার টেকার সরকারের কাছেই আমরা আমাদের সত্যকারের হিসাবটা দিতে হিমশিম খাচ্ছি। আর এই বিশাল জগতের যিনি মালিক, যার আওতার বাইরে যাওয়ার আমাদের কোন শক্তি নাই, যিনি কোন টাকা-পয়সা, ক্ষমতা বা এই জাতিয় কিছুই পরোয়া করেন না, তাঁর কাছ থেকে আমাদের এই অঢেল দুই নম্বরি সম্পত্তির হিসাব কিভাবে দেব? আর এই সম্পত্তির হিসাব শুধু আমাকে আপনাকেই দিতে হবে। এর জন্য আমার কোন উত্তরসুরি, আমার কোন প্রিয় মানুষ তাঁর উত্তরের জন্য বা জবাব্দিহিতার জন্য দায়ি নন। যদি তাইই হয়, তাহলে কি আমার আজকের এই বাহাদুরি করে করা সম্পদ আমার জন্য কোন সুখের বিষয়? আমি তো এগুলোর এক কানাকড়িও সঙ্গে নিতে পারব না!! প্লট পরে থাকবে আশুলিয়ায়, জমি পরে থাকবে সাভারে, ধান্মন্ডির বাসায় আমার লাশটা শুধু গ্যারেজের মধ্যে একদিন রেখেই পুতে দেওয়া হবে ঐ জঙ্গলটায় যেখানে আমি এখন ভুলেও পা রাখি না।

লুতফুল ভাই কোন কিছুই বললেন না। রাত অনেক হয়ে গেছে। বাড়ি ফিরতে হবে। আমরা যার যার কাছে বলে কয়ে যার যার বাড়ি ফিরে এলাম। লুতফুল ভাই আমার কাছ থেকে বিদায় নেওয়ার আগে আমার সাথে হাত মেলালেন। কোন কথা বললেন না। শুধু বললেন, আমার ছোট মেয়েটার জন্য দোয়া করবেন। ও ক্যান্সারে ভুগছে।

তাঁর এই ছোট মেয়ের ক্যান্সারের কথা তা আমি আগে জানতে পারিনি। আমার বন্ধুটিও বলে নাই। আর জানলেও হয়ত এটা নিয়ে আমি কোন কথা বলতাম না। কিন্তু, আমার কেন যেনো মনে হল লুতফুল ভাই যদি আজ সৎ মনে সৎ রোজগারে সৎ পথে ঈশ্বরকে ডেকে বলতে পারতেন, হে ঈশ্বর, আমি তো তোমার কোন আদেশ অমান্য করি না, আমি তো তোমার দেওয়া হালাল রিজিক খাই, আমি তো কোন অন্যায় পথে আমার রিজিক উপার্জন করি না, আমি তোমার সব আদেশ, নিষেধ যেভাবে পালন করতে বলেছ, সেভাবেই করছি, তাহলে তুমি আমার এই ছোট মেয়ের ক্যান্সার দিয়ে আমার মনকে এতটা উতলা করে দিলে কেন? কেন তুমি আমার নিস্পাপ এই ছোট আদরের মেয়েটিকে তুমি এমনভাবে কষ্ট দিচ্ছ যার ভার আমি বহন করতে পারছি না? তুমি তো সবচেয়ে বড় ইন্সাফ কর্তা, তুমি তো সবচেয়ে বেশী আছানদাতা, তাহলে তুমি আমাকে কেন এই রকম একটা কঠিন পরিস্থিতিতে ফেলেছ?

কিন্তু আজ লুতফুল ভাই হয়ত সেই ঈশ্বরের কাছে কিছুই বলতে পারবেন না। কারন ঈশ্বর তাকে যা যা করতে বলেছেন, তাঁর অনেক ন্যায় কাজই লুতফুল সাহেব করেননি। ঈশ্বরের সাথে তর্ক করবার সাহস আজ লুতফুল সাহেব হারিয়েছেন। তারপরেও হয়ত আমি বলতে পারতাম, লুতফুল ভাই, হয়তোবা সময় এখনো ফুরিয়ে যায়নি। আপনি ঈশ্বরের কাছে দেখা করুন। তাঁর দেখা পাওয়ার রাস্তা তিনি বাতলে দিয়েছেন অনেক আগেই। লুতফুল সাহেবের জন্য সময় এখনো হাতে আছে যদি তিনি তাঁর ঈশ্বরের কাছে আবার নতজানু হয়ে সব অবৈধ সম্পদ ত্যাগ করে পুনরায় ঈশ্বরকে সাহায্য করতে বলেন, হয়তা তাঁর ঈশ্বর তাকে ক্ষমা করে দিয়ে সব শান্তির মত আরামদায়ক করে দেবেন। কতটা আরামদায়ক করবেন, সেটা নির্ভর করে এখন লুতফুল সাহেব কতটা আত্মসমর্পণ করেন ঈশ্বরের কাছে তাঁর উপর। ঈশ্বর খুবই দয়াশিল এবং ক্ষমাশিল। তিনি উদাসীন নন।

ভারত বর্ষের জনাব আগন্তক

আমি খুব খুশি হয়েছি যে, আজ থেকে প্রায় ৪০০ বছর আগের কোন এক বাদশার পাশে আপনি এসে কিছুক্ষন দাড়িয়ে ছিলেন এবং আপনি আমাকে অনেক গুলো প্রশ্নও করে গেছেন। আমি জানি না কিভাবে আমি আপনার সব প্রশ্নের উত্তর গুলো দেব কিন্তু আমার কিছু প্রশ্ন আপনার কাছে ছিল।

আমি কিভাবে দেশ চালিয়েছি সেটা আপনার খুব জানতে ইচ্ছে করছিল বলে আপনি আমাকে প্রশ্ন করেছিলেন। জনাব, আমি কি আপনাকে উল্টো একটা প্রশ্ন করতে পারি? এখন আপনাদের সময়ে দেশ কিভাবে চলে সেটা কি আপনি জানেন? আমাদের সময় গনতন্ত্র বলতে কিছু ছিল না, সংবিধান বলতে কিছু ছিল না সেটা আমি মানি। বরং আমি যা বলতাম তাই ছিল সংবিধান। হয়ত এটা ছিল অটক্রাটিক একটা সময়। সেটা তো ঐ সময়ের নীতিই ছিল এটা। তাই বলে কি আমরা একটুও মানবাধিকারের কোন কাজ করি নাই? আমার সময়ে রাজত্ব ছিল বিশাল, মোবাইল ফোন ছিল না। বিশ্বাস ঘাতকের দল ছিল আরও বেশি শক্তিশালি। যে কোন সময় যে কোন রাজা দেশের যে কোন অংশ দখল করে নিয়ে নিতে পারত। আমরা তো তার প্রতিরক্ষা দিয়েছি। কই তার পরেও তো আমাদের সময় ব্যবসায়িরা আপনাদের সময়ের মত এত অসৎ ছিল না। এখন এক জন ব্যবসায়ী নিজেই রাজ্য চালাতে চান পর্দার আড়াল থেকে। আমাদের সময় ক্ষমতা ছিল আমার হাতে, আর এখন? আপনাদের সময় তো ক্ষমতা কার হাতে তাও তো জানেন না। 

আমি খুব খুশি হয়েছি যে, আজ থেকে প্রায় ৪০০ বছর আগের কোন এক বাদশার পাশে আপনি এসে কিছুক্ষন দাড়িয়ে ছিলেন এবং আপনি আমাকে অনেক গুলো প্রশ্নও করে গেছেন। আমি জানি না কিভাবে আমি আপনার সব প্রশ্নের উত্তর গুলো দেব কিন্তু আমার কিছু প্রশ্ন আপনার কাছে ছিল।

আমি কিভাবে দেশ চালিয়েছি সেটা আপনার খুব জানতে ইচ্ছে করছিল বলে আপনি আমাকে প্রশ্ন করেছিলেন। জনাব, আমি কি আপনাকে উল্টো একটা প্রশ্ন করতে পারি? এখন আপনাদের সময়ে দেশ কিভাবে চলে সেটা কি আপনি জানেন? আমাদের সময় গনতন্ত্র বলতে কিছু ছিল না, সংবিধান বলতে কিছু ছিল না সেটা আমি মানি। বরং আমি যা বলতাম তাই ছিল সংবিধান। হয়ত এটা ছিল অটক্রাটিক একটা সময়। সেটা তো ঐ সময়ের নীতিই ছিল এটা। তাই বলে কি আমরা একটুও মানবাধিকারের কোন কাজ করি নাই? আমার সময়ে রাজত্ব ছিল বিশাল, মোবাইল ফোন ছিল না। বিশ্বাস ঘাতকের দল ছিল আরও বেশি শক্তিশালি। যে কোন সময় যে কোন রাজা দেশের যে কোন অংশ দখল করে নিয়ে নিতে পারত। আমরা তো তার প্রতিরক্ষা দিয়েছি। কই তার পরেও তো আমাদের সময় ব্যবসায়িরা আপনাদের সময়ের মত এত অসৎ ছিল না। এখন এক জন ব্যবসায়ী নিজেই রাজ্য চালাতে চান পর্দার আড়াল থেকে। আমাদের সময় ক্ষমতা ছিল আমার হাতে, আর এখন? আপনাদের সময় তো ক্ষমতা কার হাতে তাও তো জানেন না। 

কোর্সম্যাট জাহাঙ্গীর এর জন্য

জাহাঙ্গীর, আমি তোমার আর বকসী ভাইয়ের চ্যাট গুলো পরছিলাম। তোমার দৈন্যদশার কথা তুমি অকপটে স্বীকার করেছ। এটা স্বীকার করতে হয়ত সবাই পারে না। আর বাস্তব তাকে মেনে স্বীকার করাটা হচ্ছে একটা সাংঘাতিক গুনের পরিচয়। আমি জানি না তোমার আয়ের উৎস কি বা তুমি এখনো ইউএন এর ভাতা পাও কিনা। একটা সময় ছিল আমি তোমার ব্যাপারে অনেক বেশি জানতে ইন্টারেস্টেড ছিলাম যখন তুমি ইসলামিক আদল থেকে ক্রমাগত একটা ভুল দর্শনের দিকে ধাবিত হচ্ছিলে। তোমার তিন খন্ডে ধারন করা একটা ভিডিও সিডি আমার কাছে এখনো আছে। হয়ত খুজলে পাওয়া যাবে আমার স্টকে।

তোমার উপরে আমার কিছু রাগও ছিল এই জন্য যে, আমি তোমার ট্যালেন্টের ভক্ত ছিলাম এবং এই ট্যালেন্টের কিছু কাজ আমি বাস্তবে হোক সেটা আমি সত্যই চেয়েছিলাম। আমার অনেক ফোরামে আর্মি অফিসারদের কে নিয়ে কথা উঠলে অথবা ট্যালেন্ট কি জিনিস তাঁর সম্পর্কে কথা উঠলে অথবা আমি অফিসারদের যোগ্যতা নিয়ে কথা উঠলে আমি তোমার রেফারেন্স টানতাম। কিন্তু ঐ আশাটা সম্ভবত তুমি ঠিক জায়গা থেকে পালন করতে পার নাই। একটা ট্যালেন্ট মানুষের দ্বারা সমাজের অনেক কিছু পরিবর্তন সম্ভব। আমার ধারনা ছিল যে, তুমি ইচ্ছে করলেই সমাজের বা সংস্থার কিছু কিছু ইস্যু এড্রেস করতে পারতে তোমার ট্যালেন্টের দ্বারা। তুমি কত টুকু করেছ বা করতে পারতে তা তুমি ভাল জান কিন্তু আমার কাছে মনে হয়েছে তুমি পুরু জিনিষটাই সাংঘাতিকভাবে মিস হ্যান্ডেল্ড করে ফেলেছিলা। এ ব্যাপারেও এখন আর তোমার উপর আমার কোন রাগ বা গোস্যা নেই। যেটা হয়েছে, সেটা তুমি দেরি করে হলেও বুঝেছ যে, কিছু কিছু জায়গায় তোমার ভুল ছিল। এই যে ভুল ছিল এবং তুমি বুঝতে পেরেছ, এটা ছিল তোমার ভাল দিক এবং তুমি তা সংশোধন করে ঠিক জায়গায় থাকতে পেরেছ। তুমি জাহাঙ্গীরই আছ, শুধু পালটেছে তোমার মতবাদটা। ভুল থেকে সঠিক পথে। এই জায়গা থেকে তোমার একটা বিশাল শিক্ষণীয় ব্যাপার ছিল। যা তুমি করতে পারতে কিন্তু সব কিছু তুমি হ্যান্ডেল করার ক্ষমতা রাখতে পারনি। কারন তোমার ধৈর্যটা ছিল সরু পথের আইলের মত। গ্রামের সরু পথের আইল দিয়ে কখনো হেটেছ? দেখবা, আইল্টা সোজা কিন্তু হাটতে গেলে পা এদিক ওদিক সরে যাচ্ছে এবং দেখবে তুমি মাঝে মাঝে আইল থেকে ক্ষেতে পরে যাচ্ছ। এটা আইলের দোষ না, এটা তোমার পা কে তুমি ঠিক কন্ট্রোল করতে না পাড়া কারনে।

আমি তোমার ইনিসিয়াল লাইফ স্টাইলটা দেখেছি। আমি তোমার ১ম স্ত্রিকে খুব ভাল করে চিনতাম। তোমাকে নিয়ে তাঁর স্বপ্ন কম ছিল না। আমি জানি না সে এখন বিয়ে টিয়ে করেছে কিনা। সেই প্রসঙ্গে আমি যাব না। আমার কাছে একটা বিষয় খুব অবাক লাগে, সমাজের প্রতিটি ইস্যু আসলে প্রতিটি পরিবারের ইস্যুর সমষ্টিমাত্র। তাঁরমানে এই যে, যে ব্যাক্তি পরিবারের ইস্যুটাকে সঠিক ভাবে এড্রেস করতে পারছে, সে অন্য পরিবারগুলর ইস্যুও এড্রেস করার ক্ষমতা রাখে। একটা পরিবারে দাম্পত্য কলহ হতে পারে, একটা পরিবারে উছশৃঙ্খল সন্তান থাকতে পারে, একটা পরিবারে আর্থিক সমস্যা থাকতে পারে, আর এইসব সমস্যাগুলো কিন্তু বিগার পারস্পেক্টিভে একটা সমাজ। আমি অনেক অভিজ্ঞতা সমপন্ন লোক নই কিন্তু আমার ক্ষুদ্র জ্ঞ্যানে বলে যে, এই সমস্যাগুলো দুই ধরনের লোক দুইভাবে সমাধান করে। (১) সমস্যা হয়েছে, তো এটাকে ছেটে ফেল। এটা হচ্ছে স্মার্ট মুভ কিন্তু এরোগ্যান্ট মুভ। আরেকটা হচ্ছে (২) সমস্যার একদম রুটে গিয়ে রুট থেকে টেনে নিয়ে এসে তাকে রেইলে নিয়ে আসা। সেটা হচ্ছে লংটার্ম সলিউসন। এই দুই নম্বর পদ্ধতিতে সবচেয়ে বেশি লাগে ধৈর্য। আবার লাভটাও বেশি। কারনটা হল, কোন সাব্জেক্টই তাঁর স্থান পরিবর্তন করে না কিন্তু চরিত্র পাল্টায়। পরিবার পরিবার হিসাবেই টিকে যায়, শুধু মানুষগুলো তাঁর ব্যবহার পাল্টায় সামস্টিক ভাবে।

আমি অনেক সময় বাজারে একটা শার্ট পছন্দ করতে গিয়ে দেখেছি, দোকানদার এমন কিছু শার্ট আমাকে দেখাচ্ছে, যেটার কালার আর ডিজাইন আমার কাছে অত্যন্ত অপ্রিয়। মনে হয়ছে এগুলো কি কেউ কখনো কিনে? কিন্তু তারপরেই আবার মনে হয়েছে, হয়ত ঐ শার্ট টাই বা ঐ কালার টাই আরেক জোন কিনার জন্য হন্যে হয়ে খুজছে। এটা দেখবার বিষয় আর ভাব বার বিষয়। পৃথিবীতে ঈশ্বর সব মানুষকে কোন না কোন ভাল গুন দিয়ে তাকে ইউনিক করে পাঠিয়েছেন। আমরা তাদের ঐ ইউনিক গুনগুলো আবিস্কার করতে মাঝে মাঝে ব্যর্থ হই বলে কখন কখন জাস্ট যেটা পেতে চেয়েছি সেটা পেয়েও হারিয়ে ফেলছি। রবিন্দ্র নাথের গল্প গুচ্ছের কোন এক ছোট গল্পের মতন যে, বংশে নতুন অথিতির আগমনের জন্য সাড়া গ্রাম শুদ্ধ বড় কর্তা যেফতখানা করছেন, কিন্তু তারই এক বংশ ধর বড়কর্তার না জানার কারনে সে অবহেলিত হয়ে যেফতখানার খাঁবারের থেকেও বঞ্চিত হয়েছে। 

আজকে তোমার আগের স্ত্রীর প্রতি তোমার হয়ত খুব একটা এট্রাক্সন নাও থাকতে পারে কিন্তু প্রায় অনেক বছরের একত্রে বাস করার ফলে যে মিশ্রিত একটা সময় তোমরা নিজেরা বুনেছিলে, সেটা কি আদৌ কখনো জিরো করে দেয়া সম্ভব? তোমার সন্তানদের কাছে কিন্তু তোমাদের এই ভাগাভাগির ইতিহাস কোনভাবেই সুখের নয়। তোমার বেলায় যদি এটা তোমার পূর্বপুরুষেরা বিশেষ করে তোমার শ্রদ্ধেয় বাবা এই একই কাজটা করতেন তোমার মাকে নিয়ে বা তোমাকে নিয়ে, তোমার বর্তমান জগতের সঙ্গে কি কখনো এটা সাংঘরসিক (অন্তত একটু হলেও কি প্রভাব ফেলত না) হত না? কখনো কি ঐ পারস্পেক্টিভ থেকে দেখেছ? আমাদের পরিবারে এমন একটা ঘটনা ঘটেছিল আজ থেকে ৪৫ বছর আগে। আমি যখন ছোট ছিলাম এবং এই ঘটনাটা জানতে পারলাম, সম্ভবত আমরাই প্রথম যারা এমন একটা সম্পর্ক কে অত্যন্ত সাভাবক ভাবে স্বীকৃতি দিয়ে এমন একটা পরিবার সৃষ্টি করতে পেরেছিলাম যে, অবশেষে সে মেয়ে মানুষ বলে হয়ত ইমোশনাল অবস্থাটা তুমি দেখেছ তাঁর চোখের জল দিয়ে। কিন্তু আমিও হলফ করে বলতে পারি, তোমার চোখে জল না এলেও অন্তত ক্ষনিক সময়ের জন্য তোমার চিন্তায় কখন ব্যাঘাত হয়েছেই। আর তোমার ঐ ঘোরের সন্তানেরা এই ব্যাঘাত টাতে অভ্যস্থ হচ্ছে প্রতি নিয়ত। আর এই জায়গাটাই হচ্ছে আমার এত কথা বলার কারন। উপরে বলা (১) নং পদ্ধতিতে নতুন করে সব কিছুই শুরু করা যায় কিন্তু তাতে মানুষ শধু পিছিয়েই যায়। কারন সময়ের সঙ্গে তাল মিলিয়ে ফিনিশিং পয়েন্টে আসতে হলে ঐ একই সময় বরাদ্ধ নিয়ে বারবার নতুন করে কোন কিছু শুরু করা বারবারই বকামি। এতে টিমের সবার ক্ষতি হয়।

তখন টিম লিডার হিসাবে নিজকে বড় অসহায় মনে হওয়া ছাড়া আর কিছুই থাকে না। আর একবার যদি টিম লিডারের মধ্যে হতাশা সৃষ্টি হয়, তখন ঐ টিম টা কোথায় কিভাবে যে ডি-রেইল্ড হওয়া শুরু করে, তাঁর রক্ষক শুদু সয়ং সৃষ্টি কর্তা। কথাগুলো তোমাকে বললাম বলে কি তুমি মাইন্ড করলা? এটা আমার জন্য ও প্রযোজ্য জাহাঙ্গীর, যদি আমি টিম লিডার হয়ে থাকি। তুমি বুদ্ধিমান, তোমার কথাগুলো বুজবার কথা।

বন্ধু সাকুদা কে চিঠি

সাকুদা

সাকিরের চিঠিটি পরে বেশ মজা তো পেলামই তার সঙ্গে আমারও যেন আজ হইতে বহু বছর আগের কোন এক উচ্ছল এবং অফলদায়ক কর্মদীপ্ত সময়কার কথা মনে পরিতেছিল। সেই ১৯৮৩ সালের কথা সম্ভবত।

পরিবারের সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে সেনাবাহিনীতে পরিক্ষা দিয়া ১২ লং কোর্সে সিলেক্ট হইয়া ২৭ শে জুলাই ১৯৮৩ তে সবার সঙ্গে বিএমএ তে যোগ না দিয়া বর্ষার ঝমঝম বৃষ্টির অসাধারণ একটি দিনে সবুজে ঘেরা এবং অগোছালো গাছপালার সাড়ির মধ্যে গরে উঠা ঢাকা ইউনিভার্সিটির শহিদুল্লাহ হলের সেই টিচার্স কোয়ার্টারে অত্যন্ত মন খারাপ করে একা রবি ঠাকুরের গল্পগুচ্ছ বইটা নিয়ে বৃষ্টি দেখছিলাম। কখনো কয়েক ফোটা এলোপাথাড়ি বৃষ্টির ছটা জানালা ভেদ করে আমার রবিঠাকুরের গল্পগুচ্ছ আবার কখনো আমার মুখের উপর আছড়ে পড়ছিল। আমার মন খারাপ কিনা কিংবা আমার ভিতরের কষ্টের শেষ অভিব্যাক্তি চোখের জলে বেরিয়ে যাইতেছিল কিনা তা নীরস বৃষ্টির ফোঁটার কারনে কারোরই বুঝবার অবকাশ হইতেছিল না। আজকের দিনের ডিজিটাল কোন যন্ত্রের কেরামতি থাকিলে হয়ত বুঝা যাইত যে, ঐ রোমান্টিক একটি বৃষ্টির দিনে কতটা অ-রমান্টিক পরিস্থিতি আমার ভিতরে খেলিয়া যাইতেছিল। আর আমার কষ্টের একটাই কারন ছিল যে, আমি সেনাবাহিনীতে আমার অন্যান্য বন্ধুদের সঙ্গে ১২ লং কোর্সে যোগদান করিতে পারি নাই। কারন আমার পরিবার আমার জন্য স্বপ্নের দেশ আমেরিকায় ইতিমধ্যে উচ্চ শিক্ষায় শিক্ষিত করিবার জন্য কোন এক সনামধন্য ইউনিভার্সিটিতে ভর্তির ব্যবস্থা করিয়া ফেলিয়াছেন।

পরবর্তীতে পরিবারের উপর রাগ করিয়া আর কোন ভর্তি পরিক্ষা না দিয়াই আমি পরের কোর্স ১৩ বিএমএ তে যোগদানের গোপন কাগজখানা যোগাড় করিয়া ফেলিলাম। বলা যাইতে পারে সবার অজান্তে আমি যেন সেনাবাহিনীকে রেজিস্ট্রি মেরেজ করিয়া বসিলাম। কাউকেই আমার এই গোপন অভিসারের মত “সেনাবাহিনি-প্রেমের সাদির” কথা অথবা কাবিননামার মত “যোগদানের পত্রখানার” কথা কাউকেই বলিলাম না। শুধু দিন গুনিতেছিলাম কবে “শ্বশুর বাড়ীর মত” এক আস্তানা সেনাবাহিনির কোলে গিয়া নিশ্চিত হইব। কাউকেই কিছু বলছি না, ফুরফুরা মেজাজ আমার এখন, মাঝে মাঝে সেনাবাহিনীর কিছু নজরে আসিলে মনে হইত এইটা আমার, কিংবা মাঝে মাঝে আবার এও মনে হইত আমি সেনাবাহিনীর সবচেয়ে বিখ্যাত লোক কিংবা আকাশচুম্বী অনেক আষাঢ়ে গল্পের কাহিনির মত ইত্যাদি। কিন্তু সব কিছু চলছিল অতি গোপনীয়ভাবে। এই অভিসারের সময়ের মধ্যে আমি বেশ কিছু ব্যক্তির সঙ্গে (ব্যক্তি বলা ভুল হইবে কারন তখনও তারা ব্যক্তির পর্যায়ে পরে বলিয়া মনে হয় না, তারা সবাই ১৯ কি ২০ বছরের বালক)।  পরিচয় ঘটিল। আকবর (বর্তমানে মেজর জেনারেল আকবর), হুমায়ূন (মেজর জেনারেল), মুক্তার (ইঞ্জিনিয়ার) এবং আমাদের সাকুদা। কি কারনে বা কোন উপলক্ষে বা কার অন্বেষণে  তারা ঐ শহিদুল্লাহ হলের ভিতর দিয়া যাইতেছিল তা আজ হয়ত তাদের জিজ্ঞেস করিলেও তাহাদের মনে পরিবে কিনা আমার সন্দেহ আছে।

সাকুদার সঙ্গে আমার এই প্রথম পরিচয় কিন্তু ঘনিষ্ঠ পরিচয় বলা যাইবে না। তারপরের কাহিনী তো বিএমএর ভিতরের। ওটা যে শ্বশুরবারি নয় আদৌ, সেটা প্রথম দিনেই আমি বুঝিয়া ফেলিলাম। মনে হইল শত সতিনের সংসার, কেউ কাউকে ছাড়িয়া দিবার নহে। সে এক আরেক রাজপরিবারের মত বটে কিন্তু সেখানে গুটিকতক নারায়ণের বাস আর বাকি সবাই অ্যালেক্স হ্যালির কুন্টাকিন্তির মত।

সাকুদার সঙ্গে আমার অনেক জায়গায় অনেক পরিস্থিতিতে দেখা হইয়াছে, কখনো কোন এক সভায়, কখনো সেনাবাহিনীর কোর্স করার জন্য, কখনো বন্ধু ফোরামে, আবার কখনো হটাত অসময়ে।  আমি সাকুদা সম্পর্কে নতুন কিছু বলিতে চাই না কারন সাকির যা বলিয়াছে তা নিতান্তই বাড়াইয়া কিছু বলে নাই। বরং সাকুদা সম্পর্কে আরও অনেক কিছু বলার পরিধি আছে বৈকি। আমি আর সাকুদা একসঙ্গে একত্রে কখনো কোন গ্যারিসনে কাজ করিবার অবকাশ হয় নাই। তারপরেও আমি সাকুদার একজন ভক্ত। ভক্ত এই কারনে যে, সাকুদা যখন বালক ছিল তখন সে গ্রামে ছিল। আর সেটা এমন এক গ্রাম যা আমার গ্রামের মত মিষ্টি, বন্ধুসুলভ যেখানে বৃষ্টির দিনে ৮-১০ বছরের যুবক শিশুরাও  উলঙ্গ হয়ে বৃষ্টির জলে নাচিয়া বেড়ায়, পাশের বাড়ীর বিজয়া নিজের বোন না হইয়াও বোনের অধিকার হইতে কম যায় না, নিজের সহপাঠির সঙ্গে সারাদিন মারামারি করিয়াও পরের দিন তাহার সঙ্গে দেখা না হইলে মন খারাপ হইয়া যায়। সাকুদার জীবন বারিয়া উঠিয়াছে ঠিক এমন একটি গ্রামে। সাকুদার সঙ্গে এই খানে আমার অনেক মিল রহিয়াছে বৈ কি। সাকুদা যখন শৈশব পার করিয়া যুবক হইল, তখন সে রাষ্ট্রের অনেকের চেয়ে অনেক উপরে পদার্পণ করিল বটে কিন্তু সাকুদা হটাত করিয়া ভারসাম্যহীন হইয়া পরে নাই, কৌতূহল বারিয়াছে বটে কিন্তু সীমানা অতিক্রম করিয়া জলে ভাসিয়া যায় নাই। কিন্তু সাকুদা তাহার এই পরিবর্তনের সঙ্গে সঙ্গে নিজেও পরিবর্তন হইতে পারিত। কিন্তু সাকুদা তার ঐ বালক বয়সের চরিত্রটুকুন ধরিয়া রাখিয়াছিল। রবি ঠাকুরের মত বলিলে বলিতে হয় যে, একেবারে পাকা আম্রের মধ্যেই যে পতঙ্গ জন্মলাভ করিয়াছে যাহাকে কোন কালে রস অন্বেষণ করিতে হয় নাই, অল্পে অল্পে রসাস্বাদ করিতে হয় নাই, তাহাকে একবার বসন্ত কালের বিকশিত পুস্পবনের মধ্যে ছাড়িয়া দেওয়া হউক দেখি- বিকচোন্নুখ গোলাপের আধখোলা মুখটির কাছে ঘুরিয়া ঘুরিয়া তাহার কি আগ্রহ।  সাকুদা যেন ঠিক এই জায়গায় একই ভাবে রহিয়াছে। এক যে ছিল রাজা, বলিয়া গল্প শুরু করিলে কোন দেশের রাজা আর কোন রাজা, সেটা সাকুদার জানার কোন কালেই আগ্রহ ছিল না এবং এখনও তাহার ঐ অনাবশ্যক খবরদারীতে আগ্রহ নাই। সাকুদা আগে যেমন ছিল, বয়সের তারতম্যে তাহার মধ্যে কোন ঘাটতি হইয়াছে বলিয়া আমার মনে হয় নাই। সেই হাসি, সেই অস্থিরতা, আবার সেই স্থিরতা কিংবা সে মায়াবিনী লক্ষি পেচার মত লক্ষ্মী বালকের চরিত্রে তার কোন পরিবর্তন হয় নাই। আর এটাই হচ্ছে সাকুদার সবচেয়ে বর একটা গুন যেখানে আমি তার চরম ভক্ত।

আজ সাকুদা সত্যি অর্থেই  অনেকের কাছে “দা”। তার মুখাবয়ব বয়সের ভারে আধাপাকা দাঁড়ি, চিন্তার ভারে মাথার চুল খালিপ্রায়, আর কর্ম পরিসরের কঠিন পরিশ্রমের পর তার এখন অবসরের সময়। তিনি গতকাল তার চিরাচরিত কর্মস্থল হইতে ছুটি পাইয়াছেন। হয়ত বা তাহার কিছুটা মন খারাপ হইয়া থাকিবে তার সেই চেনা পরিচিত টেবিলে আর কখনো আগের মত বসিতে পারিবেন না এই ভাবিয়া, কিংবা সকালে অফিসের ব্যস্ততা থাকিবে না এই ভাবিয়া। কিন্তু জগত সংসার এমনই এক পরিসর যেখানে বেকার মানুসেরা আরও অধিক ব্যস্ত, আর ব্যস্ত মানুসেরা আরও  বেশি অবসর কাটান। এ এক গোলক ধাঁধাঁর মত বৃত্ত।

আমি সাকুদাকে আমার অন্তর হইতে অভিনন্দন জানাই আমাদের এই গোলক ধাঁধাঁর মত বৃত্তে পুনরায় প্রবেশ করিবার জন্য। আবারো বলি, ১৯৮৩ সালে যেদিন রাগ করিয়া আমার নিজের পরিবারের সমস্ত সিদ্ধান্তকে উপেক্ষা করিয়া যেই সেনাবাহিনীতে আমার আশ্রয় করিয়া নিয়াছিলাম, আবার সেই আমি পুনরায় ২০০৪ সালে সেনাবাহিনীর উপর রাগ করিয়া আমি আমার পূর্বের জগতে ফিরিয়া আসিয়া দেখিয়াছি, যত তারাতারি নিজের ঘরে ফেরা যায় ততই মঙ্গল। এই জগত টা আমার, আমার পরিবারের এবং এই জগতটা আমার পূর্বসুরিদেরও ছিল। এই জগতে ভয়ের অনেক কিছু আছে কিন্তু সেই ভয়ংকর পরিবেশে যারা পাশে আছে তারা সবাই আমাদের কেউ বন্ধু, কেউ আত্মীয়, কেউ বা আবার কেউনা কিন্তু তারা অনেকেই আমাদের মঙ্গল কামনা করে। শুধু একটাই অনুরোধ, মগজ আর “দিল” এক সঙ্গে একই কাজে লাগাইতে হইবে, সাফল্য তাহলে নিজের।

আমরা তোমার পাশে আছি সাকুদা। পাশে আছি অনেক ভালবাসা নিয়া, পাশে আছি তোমাকে সঙ্গ দেওয়ার জন্য যখন তোমার মন খারাপ হইবে, পাশে আছি যখন তুমি মনে করিবে তোমার কাউকে প্রয়োজন।

ভাল থাকিও

মেজর আখতার (অবঃ)

তোমার বন্ধু 

আমার খালা

সামিদা খাতুন

স্বামীঃ আব্দুল গনি মাদবর

তিনি আমার একমাত্র আপন ফার্স্ট জেনারেশন খালা। আমার মায়ের একমাত্র আপন বোন যাকে আমার মা বোন মনে করেন নাই, করেছেন নিজের মায়ের মতো। আমার খালার সাথে কারো কোন বিবাদ হয়েছে এই রেকর্ড সারা গ্রামের মধ্যে নাই। তিনি অত্যান্ত প্রতাপ্সহালী গনি মাদবরের স্ত্রী। এখানে বলা দরকার যে, গনি মাদবরকে ভয় পায় না এমন কন লক আমাদের গ্রামের মধ্যে ছিলো না। কিন্তু এর মানে এই নয় যে, তিনি সন্ত্রাসী ছিলেন। তিনি ছিলেন অত্যান্ত ন্যা পরায়ন একজন মাদবর। খুব বুদ্ধিমান। অত্যান্ত অহংকারী এবং একটা ইগো নিয়ে চলতেন। 

আমার খালা শেষ বয়সে কুজো হয়ে হাটতেন। যখন ই শুনেছেন যে, আমি শহর থেকে গ্রামে গিয়েছি, তখনি তিনি কস্ট হলেও খুব সকালে আমাকে দেখার জন্য আমাদের বাড়িতে চলে আসতেন। আমার খালা ও কোন ছবি নাই কিন্তু কোন একদিন আমার ছোট ক্যামেরা দিয়ে একটি মাত্র ছবি তুলেছিলাম যা আমার কাছে একটা অমুল্য রতনের মতো মনে হয় এখন। 

আমার খালা যেদিন মারা যান, আমি এই খবরটা জানতেও পারি নাই। অনেকদিন পর যখন আমি গ্রামের বাড়িতে গেছি, খালার সম্পরকে জানতে চেয়েছি, শুনলাম যে, আমার খালা মারা গেছেন। আমার খুব আফসোস লেগেছিলো। 

আমার খালার ভাগ্য ভালো যে, ঊনি অনেক কস্টে পরার আগেই জান্নাতবাসী হয়েছেন। আমি মাঝে মাঝে খালাকে গোপনে কিছু টাকা দিতাম কিন্তু যেহেতু তিনি নিজে কোনো কিছু কিনতে পারতেন না, ফলে ঊনি টাকা দিয়েও তার মনের মতো কোন কিছু কিনে খেতে পারতেন না। এর আগেই তার অন্যান্য নাতি পুতেরা তার হাতের টাকাগুলি কোনো না কোনো ভাবে ছিনিয়ে নিতেন। বড্ড নিরীহ মানুষ বলে কারো উপর তার কমপ্লেইনও ছিলো না। খুব নামাজি মানুষ ছিলেন আমার খালা। তার কোন ছেলেরাই তাকে ঠিক মতো ভরন পোষণ করার দায়িত্ত নেন নাই। এক সময়ের প্রতাপ্সহালি মাদবরের স্ত্রী শেষ জীবনে কস্টের মধ্যেই জীবন তা অতিবাহিত করছিলেন কিন্তু আমাদের কিছু সাহাজ্য আর তার নিজের স্বামীর যেটুকু আয় ছিলো তার উপর নির্ভর করেই শেষ জীবন তা অতিবাহিত করেছেন। 

আমার স্ত্রী–মিটুল চৌধুরী আসমা

মিটুল চৌধুরী আসমা তার নাম। তার মুল জন্মস্থান মানিকগঞ্জ। জন্ম ৩১সে ডিসেম্বর ১৯৬৮। মিটুলের বাবার নাম- আলাউদ্দিন চৌধুরী, মায়ের নাম- জেবুন্নেসা চৌধুরী। তারা আট বোন এবং তিনভাই। সে সবার ছোট ভাইবোনদের মধ্যে। জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয় থেকে র্অথনীতিতে অনার্স পাশ করে মাস্টার্স করে পরবর্তীতে ১৪বিসিএস দিয়ে শিক্ষা ক্যাডারে জয়েন করেন। প্রথমে তিনি মাইমেন্সিং এর মোমেনুন্নেসা মহিলা কলেজে জয়েন করেন, অতঃপর ঘিউর সরকারী কলেজ, অতঃপর ঢাকা কমার্শিয়াল কলেজ থেকে রাজবাড়ি কলেজ , মাদারীপুর কলেজ ইত্যাদি হয়ে এনসিটিবি এবং তারপর সরকারী বাঙলা কলেজে চাকুরী করেছেন। তিনি বর্তমানে প্রোফেসর  এবং ডিপার্ট মেন্টাল হেড হিসাবে বাঙলা কলেজ, মীরপুরেই কর্মরত আছেন। 

দুই মেয়ের মা। বড় মেয়ে আনিকা তাবাসসুম উম্মিকা বগুড়া (শহিদ জিয়া মেডিক্যাল কলেজে) মেডিক্যাল থেকে এম বি বি এস পাশ করেছে। ছোট মেয়ে সাঞ্জিদা তাবাসসুম কনিকা এবার শহীদ আনোয়ারা গার্লস কলেজ থেকে এসএসসি পরীক্ষা দিয়ে ইউ এম বি সি (ইউনিভার্সিটি অফ মেরিল্যান্ড, বাল্টিমোর কাউন্টি) তে ভর্তি হয়েছে, তার ক্লাশ আগামী আগষ্ট মাস ২০২১ থেকে শুরু হবে। মিটুলের স্বামী সেনাবাহিনীর অফিসার ছিলেন। মেজর হবার পর স্বইচ্ছায় অবসর নেন এবং নিজস্ব ব্যবসা শুরু করেন। তাদের দুটু এক্সপোর্ট গার্মেন্টস ফ্যাক্টরী (সুয়েটার্স ইউনিট) আছে, ওয়ান টাইমের একটা প্লাস্টিক ইন্ডাস্ট্রি আছে, আন-নূর কন্সট্রাকশন নামে একটি কন্সট্রাকশন কোম্পানী আছে। মানিকগঞ্জে আল-আব রার মেডিক্যাল ডায়গনোসিস সেন্টার নামে একটি মেডিক্যাল ইউনিটে পার্টনারশীপ ব্যবসা আছে।   

মিটুল চৌধুরী তার নিজস্ব বাড়ি মীরপুরে থাকেন। এ ছাড়া তাদের বাসাবোতেও কয়েকটি ফ্ল্যাট আছে। এই গত এক বছরে মিটুল চৌধুরী তার আরো দুই বোনের সাথে জয়েন্ট পার্টনারশীপে তাদের পৈত্রিক সম্পত্তি মানিকগঞ্জে ৬ তালা একটি বিল্ডিং করেছে। আমি জানি সেটায় ওরা কেউ থাকবে না, তার পরেও বড় একটা ইনভেষ্টমেন্ট।

মিটুল চউধুরীর ইতিহাসে সবচেয়ে বড় ইতিহাসটা হচ্ছে তার বিয়ের ঘটনা। আর এই বিয়ের ঘটনাটা বিস্তারীত বর্ননা আছে Diary 2 March 2021 datewise.docx#৩০/০৫/১৯৮৮- বিবাহ

অধ্যায়ে।

(চলবে)  

হোসেন আলী মাদবর

আমি আমার মাদবর বাড়ীর সব প্রকারের ঐতিজ্য নিয়ে সবসময় গর্ববোধ করি। একটা বাড়ি একটা সমাজ হতে পারে, মাদবর বাড়ি একটা তার প্রমান। কিন্তু ধীরে ধীরে এই মাদবর বাড়ীর তথ্য, অজানা ইতিহাস ক্রমেই বিলুপ্ত হয়ে যাচ্ছে। ফলে কে বা কারা এই পরিবারের সদস্য বা তারা কে কোথায় আছে, এর ইতিহাস আজনেকেই জানে না বিধয় মাদবর বাড়ীর সেই পুরানো বংশ আভিজাত্যের ধারা মুছে যেতে চলেছে।হয়ত একসময় এই মাদবর বাড়ি সদস্যগনই জানবে না তারা কে বা কারা। বাংলাদেশ  আমেরিকা নয় যে, কোনো এক ওবামা, বা কোন এক ট্র্যাম্প পৃথিবীর কোনো একস্থান থেকে উদয় হয়ে আমেরিকার মতো বিশাল এক রাজকীয় পরিবেশে উড়ে এসে জুড়ে বসে একেবারে টপ পজিশন ধরে প্রেসিডেন্ট হয়ে যাবেন। সেটা আমেরিকায় হতে পারে কিন্তু বাংলাদেশের মানুষ সব পরিচয় জেনেও কাউকে যদি হেয় করতে মন চায়, তাহলে তার কোনো কিছুই জানার প্রয়োজন হয় না, সে শুধু তার ইচ্ছেটাই প্রকাশ করবে। কিন্তু যদি কেউ আপনার আমার বংশ পরিচয়, আমাদের ইতিহাস, আমাদের ঐতিয্য সব কিছু জানে, তাহলে যে যাই কিছু করুক বা বলুক, অন্তত এইটুকু নিশ্চিত বলা যায় যে, অহেতুক আপনাকে কেউ হয়রানী হয়ত করবে না। কোনো মৃত ব্যাক্তির কাছে পৃথিবীর কোনো কিছুই যায় আসে না, কিন্তু তারপরেও মানুষ ইতিহাস পড়ে আর ইতিহাস লিখে। একমাত্র ইতিহাসটাই সত্য। আর যতো আগামি, বর্তমান, কিংবা সব “যদি” কোনোটাই শতভাগ সত্য নয়। তাই নিজের ইতিহাস টুকু তো জানুন। মনে নাই? আলেক্স হ্যালির সেই রুটস কাহিনীটি? সেটাই ইতিহাস।

আমাদের পরিবার “মাদবর” পরিবার হিসাবে পরিচিত। কিন্তু আমরা অনেকেই এই পদবীটা কেনো জানি নামের পাশে ব্যবহার করতে একটু দ্বিধা বোধ করছি। যেমন আমি নিজেও আমার নামের পাশে মাদবর পদবীটা উল্লেখ করি না। কেউ যদি প্রশ্ন করেন যে, কেনো করছি না, আমার কাছে একটা যুক্তি তো অবশ্যই আছে। আর সেটা হচ্ছে-

আমি যখন গ্রামে থাকতাম, তখন দেখেছি যে, আমাদের গ্রামের অনেকেই অনেক প্রকারের মাদবর সেজে আছেন। কেউ বাচ্চু মাদবর, কেউ আজগর আলি মাদবর, কেউ আক্কাস আলি মাদবর ইত্যাদি। এই মাদবর গুলিকে দেখে আমার গা এক প্রকার রি রি করতো কারন তাদের না ছিলো কোনো ইথিক্স, না ছিলো কোনো গুনাগুন। অথচ শুনেছি, আমার বাবা যখন মাদবরি করতেন, তখন তিনি নাকি কারো বাড়িতে গিয়ে এক কাপ চাও খেতেন না। যদি কারো বিচারের বেলায় পক্ষপাতিত্ব হয়ে যায়, তাই! কিন্তু আমার বাবা, বা দাদা কি ধরনের মাদবর ছিলেন আর এখনকার মাদবরগন কি প্রকারের মাদবরি করছেন এই পার্থক্য টা আমার ঐ ছোট বয়সে যেমন বুঝবার ক্ষমতা ছিলো না, তাই আমার বংশের পদবীটা যে এতো মানসম্মানের, সেটা আমার আসলে বুঝার জ্ঞ্যানও ছিলো না। ফলে এই মাদবর উপাধিটা আমার কাছে হাস্যকর মনে হইতো এবং কিছুটা নিম্নজাতীয় উপাধি বলিয়াও মনে হইতো, বিশেষ করিয়া শহুরে সমাজের কাছে। তাই আমি অনেকটা ইচ্ছে করেই আমার সমস্ত স্কুল কলেজের সার্টিফিকেট সমুহের এই নামের পাশের মাদবর পদবীটা একেবারে রহিত করিয়া দিয়াছি।

আমার বড় ভাই জনাব ডঃ মহাম্মাদ হাবিবুল্লাহও কেনো যে এই পদবীটা নিলেন না সেটা আমার বোধ গম্য নয়।

যাক সে কথা।

এবার আসি আমাদের বংশের সংক্ষিপ্ত একটু ইতিহাস নিয়ে।

হিসাব্দি মাদবর ছিলেন আমার দাদা। এই দাদার থেকেই আমার ইতিহাস আমি শুরু করিবো। তিনি ছিলেন অনেক বিচক্ষন একজন ব্যক্তি। তার আমলে তিনি অনেক সম্পদ এবং বুদ্ধির মালিক ছিলেন। আমার দাদির নাম আমি জানি না। জানতে ইচ্ছে করে। হয়ত আমার বড় ভাই জানবেন।

আমি আমার বাবাকে কখনো দেখিনি এবং তার চেহাড়া কেমন ছিলো, খাটো নাকি লম্বা, যুবক না বৃদ্ধ, ফর্সা নাকি কালো কোনো কিছুই আমার জানা নাই। তবে আমার বড় ভাই ডঃ হাবীবুল্লাহর কাছে আমি আমার বাবার অনেক গল্প শুনাতেন যার থেকে আমি বাবার একটা কাল্পনিক চরিত্র মনে গেথে গেছে। আমার দাদার নাম ছিলো হিসাবদি মাদবর। আমরা মাদবর বংশের লোক।

বাবার সম্পর্কে আমি অনেক চমৎকার চমৎকার গল্প শুনেছি ভাইয়ার কাছে। তবে তার প্রাথমিক তথ্যের মধ্যে জরুরী তথ্য হলো যে, আমার বাবার প্রথম স্ত্রী মারা যাওয়ার পর তিনি আমার মাকে বিয়ে করেন। বাবার প্রথম পক্ষের স্ত্রীর ঘরে মোট তিন জন ছেলে সন্তান আর তিনজন কন্যা সন্তান ছিলো। এই মোট ছয় সন্তান থাকার পরে আমার বাবা আমার মাকে বিয়ে করেন। তখন আমার মায়ের বয়স ছিলো বেশ কম। আগের সব সন্তানেরাই আমার মায়ের থেকে বয়সে বড় ছিলো। কেউ কেউ আবার ইতিমধ্যে বিয়েও করে ফেলেছিলেন। এমন একটা পরিস্থিতিতে আমার মা যেমন একটু অসুবিধায় ছিলেন, তেমনি আমার বাবাও বেশ অসুবিধায় ছিলেন।

কিভাবে আমার বাবা এই দুমুখী অসুবিধাগুলি তার জ্ঞানের দ্বারা সমাধান করেছিলেন, সেই গল্প গুলিও আমি হোসেন আলী মাদবরের পর্বসমুহে একে একে লিখবো।

জেবুন্নেসা চৌধুরী (আমার শাসুড়ী)

তিনি আমার শাশুড়ি। মোট আট মেয়ে আর তিন ছেলের সার্থক মা। অত্যন্ত ভালো একজন মানুষ। আমার কাছে তিনি আমার আপন মায়ের মতোই ছিলেন। আমার মাকে আর আমার এই শাশুড়িকে আমি কনোদিনই পার্থক্য করি নাই। তিনি আমাকে প্রতি ঈদে ১০ টাকার সালামি দিতেন। কি যে ভালো লাগতো ঊনার কাছ থেকে এই ১০টাকা সালামি নিতে।

চলবে…

আলাউদ্দিন আহম্মদ চৌধুরী

তিনি আমার শ্বশুর।

আমি আমার শ্বশুর কেও জীবিত অবস্থায় দেখি নাই। আমার স্ত্রী যখন অষ্টম ক্লাসে পড়ে, তখন তার বাবা মারা যান। আমি যখন আমার স্ত্রীকে বিয়ে করি, তখন আমার স্ত্রী সবে মাত্র ইন্তারমিডিয়েট পাশ করে ইউনিভার্সিটিতে ভর্তির তোড়জোর করছেন। ফলে আমার বিয়ে হবার প্রায় ৪/৫ বছর আগে আমার শ্বশুর মারা যান। আমার শ্বশুরের প্রাথমিক তথ্য গুলি এ রকমেরঃ

নামঃ আলাউদ্দিন আহম্মদ চৌধুরী

পিতাঃ সোনাম উদ্দিন চৌধুরী (সোনাম উদ্দিন চৌধুরীর পিতার নাম ছিল, ফাজেল আহম্মদ চৌধুরী)

স্ত্রীর নামঃ জেবুন্নেসা চৌধুরী

আমার শ্বশুরের ছিল আট কন্যা সন্তান এবং তিন পুত্র সন্তান।

আমার স্ত্রী ছিলো তাদের মধ্যে সর্ব কনিষ্ঠ।

তাদের ওয়ারিশ নামা যদি লিখি তাহলে দাঁড়ায় এ রকমেরঃ

ডাঃ কুতুব উদ্দিন আহমদ চৌধুরী

তিনি আমার চাচা শশুড় ছিলেন। অর্থাৎ আমার শশুড়ের আপন ভাই। আমার শশুড়েরা ছিলেন তিন ভাই, (১) আলাউদ্দিন আহমদ চৌধুরী (২) ডাঃ কুতুব উদ্দিন আহমদ চৌধুরী এবং (৩) নিজাম উদ্দিন আহমদ চৌধুরী। ডাঃ কুতুব উদ্দিন আহমদকেও আমি দেখিনি কিন্তু যতটুকু আমি শুনেছি তার পরিপ্রেক্ষিতে বলতে পারি যে তিনি ছিলেন এ দেশের গোটা কিছু প্রোফেশনাল মানুষদের মধ্যে একজন। ডাক্তার হিসাবে যেমন তিনি খুব নামীদামী ছিলেন, তেমনি মানুষ হিসাবেও ছিলেন খুব ভালো। তিনি সর্বশেষ জীবনে স্যার সলিমুল্লাহ মেডিক্যাল কলেজ ও হাসপাতালের প্রোফেসর ছিলেন। তার একটি ছেলে (১) মকবুল আর একটি মেয়ে (নামটা এই মুহুর্তে মনে পড়ছে না।)। তার স্ত্রীর নাম ছিলো মেহেরুন্নেসা। ব্যক্তিগত জীবনে তিনি নার্সের কাজ করতেন কিন্তু এই চাচার সাথে বিয়ে হবার পরে মেহেরুন্নেসা আর নার্সের জব করেন নাই। চাচী অত্যান্ত চালাক আর সার্থপর ছিলেন। তিনি চাচার বাড়ির কোনো মানুষকে তার বাসায় এলাউ করতেন না এবং এমনকি চাচার কথাও শুনতেন না। সারাক্ষন ঘরের মধ্যেই থাকতেন দরজা জানালা বন্ধ করে। এটা একটা রোগ। তার মেয়েটাকে বিয়ে দেয়ার পর মেয়েটা যেহেতু মায়ের স্বভাব পেয়েছিলো, ফলে তার ঘরে একটা ছেলে আর একটা মেয়ে হবার পরেই মায়ের মতো আচরন শুরু করে এবং সেখানে আর থাকতে পারে নাই। পরবর্তীতে ডিভোর্স হয়ে যাওয়ার পর মেয়েটি তার মেয়েকে নিয়ে আজীবনকাল একটা টিনের ঘরের ভিতরে এমনভাবে বন্দি হয়ে রইলো যে, কখনো তাঁকে ঘর থেকে বের হতে দেখা যায় না শুধুমাত্র কিছু খাবার দাবার কেনা কাটা ছাড়া। তার বাতিক হচ্ছে সে চাউলকে পাক করার আগেও সাবান দিয়ে ধোয়ে নিবে। এর মানে এই নয় যে, সে খুব পরিষ্কার পরিচ্ছন্ন জীবন যাপন করে। তার মেয়েটিকে আমরা ঘরের বাইরে বের করে আনার চেষ্টা করেছিলাম কিন্তু মেয়েটা সারাদিন ঘরের মধ্যে একটা অলিক ভাবনা নিয়ে কল্পনার রাজ্যে বসবাস করতে করতে এখন সেও প্রায় পংগু। তার যেহেতু কোনো আয় রোজগার নাই, ফলে সবাই জাকাত কিংবা দান করা টাকা দিয়েই তার জীবন চলে। তাতে তার কোনো আক্ষেপ নাই। মজার ব্যাপার হলো এই যে কেউ তাঁকে দান করছে বা টাকা দিচ্ছে, এতেও তার কোনো কৃতজ্ঞতা বোধ নাই। তাঁকে ডাকলেও ঘর থেকে বের করা সম্ভব না। ডাঃ কুতুব উদ্দিন মারা যাওয়ার পর তার স্ত্রী মেহেরুন্নেসা তার লাশ দেখতেও ঘর থেকে বের হন নাই। আমার ধারনা, চাচা এই মহিলাকে বিয়ে করে আজীবন অনুশোচনাই করেছেন সম্ভবত। শেষ জীবনে চাচা অত্যান্ত অসুখী জীবন জাপন করেছেন। প্রায় ৪ বছর আগে স্ত্রী মেহেরুন্নেসাও ইন্তেকাল করেছেন। ডাঃ কুতুব উদ্দিন চাচার ছেলে মকবুল নিজেও খুব একটা কাজের মানুষ না। সবকিছু রেডিমেট পেতে চায়। চৌধুরী বাড়ির ওয়ারিশদের মধ্যে সবচেয়ে বেশী সম্পদের ভাগ মকবুল পায়, যেহেতু ওয়ারিশ মাত্র ২ জন। চাচার বাবা সোনাম উদ্দিন চৌধুরী তার সমস্ত সম্পত্তি ওয়াকফ-এ-আওলাদ করে গেছেন বলে কোনো সম্পত্তিই বিক্রি যোগ্য নয়। কিন্তু এর মাঝেও অনেক সম্পত্তি আছে যা ওয়াকফ-এ-আওলাদের বাইরে। আমি প্রায় ২ মাস নিজে কষ্ট করে সমস্ত জমি-জমার কাগজপত্র ঠিক করে দিয়ে বলেছিলাম জমিগুলির দেখভাল করতে আর কিছু জমি বিক্রি করে দিয়ে নিজেদের জন্য কিছু করতে। কিন্তু মকবুল সেটাও করতে নারাজ। সোনাম উদ্দিন চৌধুরী কোনো কারনে যখন আমার শশুরের উপর অহেতুক মেজাজ খারাপ করে প্রথমে তাঁকে ত্যাজ্য করার মতো একটা বুদ্ধি করে সমস্ত সম্পত্তি থেকে বঞ্চিত করেছিলো, এই কুতুব উদ্দিন চাচাই শেষ পর্যন্ত তার বাবা (সোনাম উদ্দিন চৌধুরী) কে বুঝিয়ে সুজিয়ে পরবর্তীতে প্রথম ওয়াকফ দলিল সংশোধন করে পুনরায় আলাউদ্দিন চৌধুরীকে তার সন্তানের প্রাপ্য অংশে বহাল রাখেন। আল্লাহ নিশ্চয়ই সব কিছুর খবরজান্তা। এখানে একটা কথা বলা দরকার যে, এই সোনাম উদ্দিনের মতোই কিছুটা চরিত্র পেয়েছে হাসান আহমদ লিখন কিন্তু পার্থক্য হচ্ছে- সোনাম উদ্দিন গেম প্লে করেছে তার নিজের সম্পদ আর সিদ্ধান্ত নিয়ে কিন্তু লিখন গেম প্লে করেছে পরের সম্পদের উপর অন্যায় করে মাদবরী করতে গিয়ে। এটা আরো জঘন্য।

হাসান আহমদ চৌধুরী

ওর ডাক নাম লিখন। নূর আহমদ চৌধুরীর বড় ছেলে। ওরা মোট ৫ ভাই কিন্তু কোনো বোন নাই। প্রাতমিক জীবনে লিখন অনেক আর্থিক চাপে ছিলো বিশেষ করে ১৯৮৮-১৯৮৯ সালের দিকে। ওর সাথে আমার পরিচয় হয় বিয়ের পরেই। অনেক ইন্টিলিজেন্ট ছেলে কিন্তু মাঝে মাঝে ওর এই বুদ্ধিমত্তা এমন কিছু ব্যাপারে কাজে লাগায় যা স্বাভাবিক নিয়মের বাইরে। যেমন একটা উদাহরন দেই, চৌধুরী বাড়ির সব সম্পত্তি সোনাম উদ্দিন চৌধুরী তার জিবদ্দশায় ওয়াকফ-আওলাদ করে যাওয়ায় তাদের মানিক গঞ্জের বাড়িটাও সেই ওয়াকফ-আওলাদের অন্তর্ভুক্ত। ওখানে কেউ থাকেন না শুধু লিজি আপা (আমার আরেক জেঠস) থাকেন। তিনি শারীরিকভাবে একেবারেই পংগু। লিখনের বদবুদ্ধির কারনে লিখন চেয়েছিলো পুরু বাড়িটা যেভাবেই হোক সেটা আত্মসাৎ করা। কিন্তু চৌধুরী বাড়ির অন্যান্য সব ভাইবোনেরা লিজি আপাকে অত্যান্ত স্নেহ করেন, ভালোবাসেন। তারা এটাই চেয়েছিলো যেনো লিজি আপা কোনো রকমে মানিক গঞ্জের ঐ দাদার বাড়িতে একটা ছোট জায়গায় একটা ঘর তোলে আজীবন থাকতে পারেন। কিন্তু লিখন এটা কোনোভাবেই চায় নাই। মজার ব্যাপার হলো যে, ঐ দাদার সম্পত্তিতে লিখনের পিতার ওয়ারিশ সুত্রে সে নিজে ২ কাঠার ৭ ভাগের এক অংশের মালিক। সে হিসাবে লিখন পায় ২ কাঠার মধ্যে ৭ ভাগের এক ভাগ। অথচ লিজি আপা নিজেই ঐ সম্পত্তির পিতার ওয়ারিশ সুত্রে ১ কাঠার বেশী মালিক। অর্থাৎ লিখনের থেকে ঢেড় বেশী। আর এই লিখন চায় না লিজি আপা ওখানে থাকুক। উদ্ভট ভাবনা। এখানে আরো একটা ব্যাপার কাজ করছিলো যে, চৌধুরী বাড়ির মানুষেরা পরোক্ষ ভাবে লিখনকে তাদের অভিভাবকের ভূমিকায় দেখতো। ফলে তার একটা অলিখিত দাপট ছিলো। সম্ভবত সেই দাপটের কারনেই লিখন একচ্ছত্র এমন একটা সিদ্ধান্ত নেয়ার হিম্মত করেছিলো। পর্দার বাইরে থেকে আমি পুরু ব্যাপারটা এমনভাবে আইনের মধ্যে থেকে কাজ করেছিলাম যেনো লিজি আপা তার ন্যায্য অংশ পায় এবং সেখানে তার যা খুসি করতে পারে। এখন ওখানে লিজি আপার জন্য ৬ তালা বিল্ডিং হয়েছে যা লিখনের নিজেরো নাই। এই ধরনের কাজ করাটা ওর কোনোভাবেই ঠিক হয় নাই। যাই হোক, লিখন লটারীর মাধ্যমে আমেরিকার একটা ইমিগ্রেশন পেয়েছিলো। সরকারী আইন মোতাবেক ওকে ওখানে ৫ বছর এক নাগাড়ে থাকতে হবে বিধায় আমেরিকার সরকার ওকে এবার আমেরিকায় যাওয়ার প্রাক্কালে আটকে দিয়েছে যেনো সে আর দেশে ফিরতে না পারে। সব আল্লাহর ইচ্ছা। ওকে আমি সত্যিই একটা পজিটিভ বুদ্ধিমান মানুষ হিসাবে ভেবেছিলাম যা আসলে ওর মধ্যে বেশ ঘাটতি আছে। ভালো জব করতো আর্গন ফ্যাশনে, পারভেজ ভাইয়ের অধীনে। যাই হোক, ওর উপরে অনেকের ভরষাটা এখন প্রায় শুন্যের কোঠায়। ওর উপরে আমার কখনো রাগ ছিলো না। আমি ওর উকিল বাবাও বটে।

নূর আহমদ চৌধুরী

আমার বড় সমন্ধী অর্থাৎ আমার স্ত্রীর সবচেয়ে বড় ভাই। ব্যক্তিগত জীবনে তিনি হাইকোর্টে স্ট্যাম্প রেকর্ডার হিসাবে কাজ করতেন। এই স্ট্যাম্প রেকর্ডার কি জিনিষ আমি জানি না। তবে ব্যক্তিগত জীবনে অনেক সৎ এবং ধইর্যশীল মানুষ ছিলেন। হাসমত আরা ছিলেন তার স্ত্রী। এই দম্পতির কোনো মেয়ে সন্তান ছিলো না। ছিলো ৫ ছেলে। হাসান আহমদ লিখন তার বড় ছেলে। হাসান আহমদ লিখনের ব্যাপারে বিস্তারীত আমি কিছু তথ্য লিখেছি ওর অধ্যায়ে। নূর ভাই আমার খুব প্রিয় মানুষদের মধ্যে একজন ছিলেন। তাঁকে আমি ব্যক্তিগতভাবে খুব পছন্দ করতাম, তিনিও আমাকে বেশ পছন্দ করতেন। সহজ সরল মানুষ ছিলেন। সবাই বলে নূর আহমদ চৌধুরী নাকি তার বাবার মতো দায়িত্তশীল ছিলেন। অর্থাৎ আমার শশুড়ের মতো। আমি আমার শশুড়কে দেখি নাই ফলে তুলনাটা আমি করতে পারি নাই। বিয়ের আগে আমার তার একবারই দেখা হয়েছিলো বগুড়ায় কিন্তু বিয়ের পরে তার সাথে আমার অনেক শখ্যতা গড়ে উঠেছিলো। তিনি তার সংসারের জন্য এবং চৌধুরী বাড়ির অন্যান্য সদস্যদের জন্য অনেক ত্যাগ স্বীকার করেছেন। তার অবদান চৌধুরী বাড়ির সব সদস্যদের জন্য অনেক ছিলো। সব সময় তিনি চাইতেন যেনো সবাই ভালো থাকে। এই ভালো থাকার চাওয়ার কারনে তিনি একবার আমাকে একটা প্লট দেয়ার নামে তারই কোনো এক কলিগের পাল্লায় পরে আমার বেশ কিছু টাকা নষ্ট করলেও তার উপর আমার কখনো কোনো রাগ হয় নাই। বরং আমার কাছে মনে হয়েছে তিনিও ঠকেছেন কাউকে বিশ্বাস করে। তার এক ছেলে মানিক গঞ্জে কোনো এক বন্ধুকে ইমোশনাল গ্রাউন্ডে খুন করে ফেলেছিলো। খুব সমস্যায় পড়েছিলেন। কোথাও লুকানোর জায়গা ছিলো না। আমি জানি এই খুনের ব্যাপারটা আমার সাপোর্ট করার কোনো কারন নাই কিন্তু শুধুমাত্র নূর ভাইয়ের কারনে আমি তাঁকে সহ তার সেই খুনী ছেলেকে প্রায় ২ মাস আমার বগুরার ক্যান্টনমেন্টে রাখতে হয়েছিলো কারন ক্যান্টনমেন্টে কোনো পুলিশ রেইড করে তার ছেলেকে ধরে নিয়ে যেতে পারবে না। আমি এই ব্যাপারটা নিয়ে আজীবন আক্ষেপে থাকবো কারন আমি একটা অপরাধকে লুকানোর সাহাজ্য করেছিলাম। নূর আহমদ ভাই ২০১২ এর দিকে মারা যান। মানিকগঞ্জেই তার দাফন হয়েছিলো।

কার্লা ডরাইন উইলশন

কার্লা ডরাইন উইলশন তার পুরু নাম। আমার এই ওয়েব সাইটের মধ্যে আমার সাথে এক মাত্র খুব অন্তরের সম্পর্ক ছিলো এই একটি মাত্র বিদেশী মানুষের। ওর সাথে আমার যখন পরিচয় হয়, তখন আমার বয়স ছিলো মাত্র ১৪ কিংবা ১৫। আমি তখন ক্যাডেট কলেজে ক্লাশ নাইনে পড়ি। ক্যাডেট কলেজে পড়ার সময় আসলে আমাকে কেউ খুব একটা চিঠিপত্র লিখতো না, কেউ প্যারেন্টস ডে তেও আসতো না। কেউ ছিলো না আসলে। মা থাকতেন গ্রামে, অভাবী মানুষ, রাস্তা ঘাট চিনেন না, বোনেরাও সেই রকম কোনো অবস্থানে ছিলো না যে, ছোট ভাইয়ের জন্য তারা কিছু করবে, তাদের ও সাংসারিক অবস্থা তেমন ছিলো না। একদিন আমার বড় ভাই হাবীবুল্লাহ আমাকে জানালেন যে, তার এক বন্ধুর মেয়ে নাম, কার্লা আমার সাথে বন্ধুত্ব করতে চায়। চিঠি লিখলে যেনো আমি তার উত্তর দেই। সেই থেকে হটাত করে কার্লা আমাকে চিঠি লিখা শুরু করে। হাতের লেখা অত্যান্ত খারাপ, এক পৃষ্ঠা চিঠিতে মাত্র ৫/৬ লাইনেই পাতা ভরে যায় এমন এক অবস্থা, ফলে ওর চিঠির ভলিয়ম হতো কয়েক পাতা করে। একটা সময় এলো আমি প্রতিদিন ওর চিঠি পাওয়া শুরু করলাম। প্রথম প্রথম আমি বুঝতেই পারি নাই যে, কার্লা আমাকে ভালোবাসতে শুরু করেছে। কিন্তু ক্রমেই ওর চিঠির মধ্যে ভালোবাসার কথা, ভালোবাসার সিম্বল, ইত্যাদি ফুটে উঠতে শুরু করলো। টিন এজার প্রেম। আমিও এক সময় যেনো ওর চিঠির প্রতি আসক্ত হয়ে গেলাম। ওর চিঠি না পেলে ভালো লাগতো না, আবার আমি চিঠি না লিখলেও ভালো লাগতো না। আমার সাথে সুত্র ধরেই কার্লা আমেরিকায় আমার ভাইয়ের সাথে, হাবীব ভাইয়ের বউ এর সাথে রীতিমত একটা সম্পর্ক তৈরী করে ফেলেছিলো। পাশাপাশি বাড়ি ছিলো কার্লাদের আমার ভাইয়ের বাড়ির লাগোয়া। ফলে হাবীব ভাইয়ের বউ কার্লাকে আমাদের দেশীয় কালচার, পোষাক আষাকের মধ্যেও ঢোকিয়ে দিয়েছিলো। কার্লা আমাকে এক সময় “হাসবেন্ড” হিসাবেই চিঠিতে সম্বোধন করা শুরু করলো। প্রতি চিঠিতেই আমি ওর প্রত্যাহিক জীবনের ঘটনা, তার ভাবনা, তার শখ, কিংবা কষ্টের কথা জানতে থাকলাম। প্রচুর ছবি পাঠাতো আমাকে। আজ আমার কাছে কার্লার কোনো ছবি নাই। কেনো নাই সেটাও বলি। আমি কারো কোনো কিছুই ফেলে দেই না। কার্লার চিঠি, ছবি সব কিছু আমি আলাদা করে একটা বাক্সে ভরে রাখতাম। আমার সেই বাক্সটা রেখেছিলাম বর্তমানে আমার এক জেঠষের বাসায় খুব যত্ন করে। কোনো একদিন আমি ঐ বাক্সটা আনতে গেলে শুনলাম, ওনারা ঐ বাক্সটা খুব জরুরী কোনো বিষয় না বলে তার ভিতরের সব কাগজ পত্র সহ ফেলে দিয়েছে। খুব কষ্ট লেগেছিলো, কিন্তু বলতে পারি নাই কি তারা ফেলেছিল। কার্লার এক বন্ধুর নাম ছিলো মিন্ডি। মিন্ডি সম্পর্কেও কার্লা অনেক কথা লিখতো। আমার এই ডায়েরিতে একটি মাত্র লেখা আছে যার নাম WAS IT PENFRIENDSHIP?  এটা আসলে এই কার্লাকে নিয়েই লেখা। এই লেখাটা কোনো কাল্পনিক নয়। এটা নিছক একটা এমন লিখা যা বাস্তবে ঘটেছিলো। অনেক কিছুই লিখার ছিলো কিন্তু আজ যেহেতু সে কাছেও নাই, পাশেও নাই, সেটা রহস্য হয়েই থাকুক। 

আমার স্টেপ ভাইবোনগন

আগেই বলেছিলাম যে, আমার বাবার আগের একটা সংসার ছিলো। আমার প্রথম মা মারা যাওয়ার পরেই আমার বাবা আমার মাকে বিয়ে করেন। আমার মায়ের বয়সের থেকেও আমার বাবার আগের সন্তানদের বয়স অনেকেরই বেশী ছিলো। আমার স্টেপ ব্রাদারদের সংখায় ছিলো তিন- নজর আলী ভাই, তাজির আলী ভাই আর মোহসীন ভাই। শোনা যায় যে, ইউনুস নামেও নাকি আমার আরেক স্টেপ ব্রাদার ছিলো কিন্তু সেটা সম্ভবত আমার মায়ের বিয়ের পর পরই তার মৃত্যু হয়। আত স্টেপ বোন ছিলো ৪ জন- জামিনা, লজ্জুতন, বেলাতন, আরাদন আর আরাফান আপা। তারা এখন আর কেউ বেচে নাই। আমার এই স্টেপ ভাই বোনদের মধ্যে সম্ভবত সবচেয়ে বেশী যেই জনের সাথে আমার ব্যক্তিগত খাতির ছিলো সেটা নজর আলী ভাইয়ের সাথে। আর এর একটা কারনও ছিলো। নজর আলী ভাই আমাদের বাক্তার চর বাজারে প্রতি বৃহস্পতিবার আর রবিবার কাচা বাজারের দোকান দিতেন। আর আমি যখন বাজারে যেতাম, তখন তার সাথে আমার সপ্তাহে দুইদিন দেখা হতোই। নজর আলী ভাইয়ের ছিলো দুই ছেলে-তালেব আর ঈমান আলী। মেয়ে ছিলো দুইজন, রাশেদা আর অন্য আরেক জন। এই মুহুর্তে নামটা মনে করতে পারছি না তবে তার একটা মেয়ে আছে যিনি নার্স শেফালী। তাজির আলী ভাইয়ের ব্যাপারে “আমার বাবার মাদবড়ি স্টাইলের” মধ্যে বিস্তারীত লেখা আছে। সেই তাজির আলীর অনেক গুলি সন্তান ছিলো। তার মধ্যে বর্তমানে মান্নানই এখন আমার সাথে অনেক বছর যাবত যুক্ত আছে। মোহসীন ভাইয়ের সন্তান্দের সাথে এক সময় কিছুটা যোগাযোগ ছিলো কিন্তু এখন কে যে কোথায় কিভাবে আছে আমার সে ব্যাপারে কোনো ধারনা নাই। 

শায়েস্তা খাতুন

সবাই তাঁকে শায়েস্তা নামেই চিনতো। সে আমার বোনদের মধ্যে ছিলো ২য়। শায়েস্তার জীবন একটা দুখী মানুষের কাহিনী ছাড়া আর কিছুই না। তার গায়ের রং ছিলো বেশ কালো কিন্তু খুবই বুদ্ধিমতী মেয়ে ছিলো আমার এই বোন শায়েস্তা খাতুন। বাবা মারা যাওয়ার পর আমার বড় ভাই হাবীবুল্লাহই আসলে পুরু ৫ বোন আর আমি সাথে মায়ের দায়িত্ব নিতে গিয়ে এতোটাই হিমশিম খাচ্ছিলেন যে, এতা ছিলো আমার ভাইয়ের জন্য অতিমাত্রায় একটা চাপ। তার উপর সবে মাত্র দেশ স্বাধীন হয়েছে, চারিদিকে মানুষ যেমন বেকার তেমনি শুরু হয়েছে দূর্ভিক্ষ। এর মাঝেই আমার বড় ভাই যতোটা পেরেছে তার সাধ্য মতো চেষ্টা করে যাচ্ছেন যাতে আমরা কিছুটা হলেও ভালো থাকি। অভাবের সংসারে আসলে কোনো কিছুই নিজেদের নিয়ন্ত্রনে থাকে না। মায়ের উপর চাপ যেনো আরো বেশী ছিলো। ৫ টাই প্রায় বিবাহ যোগ্য মেয়ে, আমিই এক মাত্র ছোট। দেশের অবস্থ্যা শোচনীয়, কোনো আইন শৃঙ্খলা নাই। যখন তখন যে কোনো অঘটন ঘটে যেতে পারে। ফলে মা নিজেও চাচ্ছিলেন মেয়েগুলির তারাতাড়ি বিয়ে হয়ে যাক। ঠিক এই সময়ে বরিশাল বাড়ি একটা ছেলে শায়েস্তাকে বিয়ে করতে রাজী হয়। নাম সুলতান আহমদ। মা শায়েস্তাকে বিয়ে দিয়ে দেন। এই বিয়েতে হাবীব ভাই রাজী ছিলেন না। কেনো ছিলেন না, বা কেনো মা ই বা রাজী ছিলেন এই অংক আমার কাছে পরিষ্কার ছিলো না আর না আমার বুঝবার বয়স ছিলো। শায়েস্তার কোলে একটা কন্যা সন্তান আসে। ওর নাম রাখা হয় শেফালী। একদিন সুলতান তার নিজের বাড়ি বরিশাল যাওয়ার জন্য গেলে সুলতান আর কখনোই ফিরে আসে নাই। কি হয়েছিলো, কোথায় উধাও হয়ে গেলো, নাকি রাস্তায় মারাই গিয়েছিলো কিছুই আর জানা যায় নাই। আজ অবধি আমাদের কারোই জানা নাই এই সুলতান কি বেচে আছে নাকি মরে গেছে। দিন যায়, মাস যায়, বছর শেষ হয়ে যায়, শায়েস্তা সুলতানের জন্য অপেক্ষা করতে করতে এক সময় আমরা ধরে নেই যে সুলতান হয়তো আর ফিরে আসবে না অথবা তার মৃত্যু হয়েছে। এমনি অবস্থায় ১৯৭৮ সালে আমার বড় ভাই আমেরিকায় স্কলারশীপ পান। কিন্তু তখন সবেমাত্র লায়লার বিয়ে হয়েছে, ফাতেমার ও বিয়ে হয়ে গিয়েছিলো, সাফিয়া তো আর ছিলোই না। বাকী ছিলো শায়েস্তা আর মেহের। একদিন ঢাকা থেকে একটা বিয়ের সমন্ধ আসে শায়েস্তার জন্য, নাম আলি আহমদ। উর্দু রোডে থাকে, কুট্টি পরিবার না হলেও কুট্টিদের সাথে থাকতে থাকতে প্রায় কুট্টি দের মতোই আচরন ছিলো। বিগ হার্টেড ম্যান কিন্তু সামর্থের বাইরে খরচের অভ্যাষ। কিন্তু আলী আহমদের৪ স্ত্রী বিয়োগ হয়ে গিয়েছিলো। সেই ঘরে একটা মাত্র মেয়ে ছিলো নাম লায়লুন্নাহার। খুবই সুন্দর একটা মেয়ে ছিলো। প্রায় ১৫ বছর বয়সের। শায়েস্তার সাথে আলী আহমদের বিয়ে হবার পর শাতেস্তারা উর্দু রোডে চলে আসে। এই আলি আহমদের৪ ঘরেই শায়েস্তা ৪ টি সন্তান জন্ম দেয়- ফারুক, নুরুন্নাহার, লিয়াকত আর শওকাত। লিয়াকত আর শওকাত জমজ।  লিয়াকত আর শ ওকাতের বয়স যখন মাত্র ৫ মাস, তখন শায়েস্তার মৃত্যু হয়। আর ওর মারা যাওয়ার কারনে আলী আহমদ সব বাচ্চাদেরেকে  এক সাথে আমার মায়ের কাছে রেখে চলে আসে। একদিকে শেফালি ছিলো মায়ের ঘাড়ের উপর, অন্যদিকে শায়েস্তার আরো ৪ টি সন্তান গিয়ে পড়লো মায়ের উপরেই। অসহায় মার কিছুই করার ছিলো না। শুরু হলো মার আরেক স্ট্রাগলের অধ্যায়। আমার ভাই বোনদের মধ্যে সবচেয়ে বেশী কষ্ট দিয়েছিলো শায়েস্তার সব সন্তানরা। 

সাফিয়া খাতুন

সাফিয়া খাতুন আসলে আমাদের বোনদের মধ্যে সবার বড় ছিলেন। ১৯৭৯ সালে সাফিয়া খাতুন মারা যায়। সাফিয়া খাতুন প্রথমে একটা বিয়ে করার পর তার স্বামী মারা গেলে পরবর্তীতে সে দ্বিতীয় বিয়ে করে। কিন্তু সেটাও বেশীদিন টিকে নাই কারন সাফিয়াই মারা গিয়েছিলো। আমি তখন সবে মাত্র ক্লাশ নাইনে পড়ি। ক্যাডেট কলেজ থেকে ছুটিতে এসেছিলাম। বর্ষার দিন, ঝড়ও ছিলো। আমার যাওয়ার কথা ছিলো সাফিয়ার বাসায়। কিন্তু আমি বেড়াতে গিয়েছিলাম বালুচর এলাকায়। ঝড়ের কারনে আমার আর গ্রামে ফেরা হয় নাই। সেদিন রাতেই সাফিয়ার শরীর খারাপ হয়ে যায় এবং রাতেই সাফিয়া মারা যায়। ছোট মেয়ে মাত্র, বয়স তিন মাস। সাফিয়ার চেহারা ছিলো খুব সুন্দর। সাফিয়া যখন মারা যায় তখন রাত প্রায় ১০ টা। ঝড়ের কারনে খবরটা আমাদের বাসায় আসতে আসতে সকাল হয়ে যায়। আমি বালুচর থেকে গ্রামে আসতে আসতেই ওর শশুড় বাড়ির লোকজন ওকে দাফন করে ফেলে। তারপর আমি গেলাম সাফিয়ার বাসায়। গিয়ে দেখলাম সাফিয়ার মেয়ে শান্ত ভাবে যেনো ঘুমিয়ে আছে। আমার মনটা খুবই খারাপ ছিলো। কোথায় কবর দেয়া হয়েছে সেটা দেখার জন্য আমি সাফিয়ার কবরের কাছে গেলাম। সারারাত বৃষ্টি আর ঝড় থাকলেও শিয়াল কুকুরের কাজ থেমে ছিলো না। এই সব প্রানীগুলি সাফিয়ার কবরে হানা দিয়েছিলো। কিন্তু যে কোনো কারনেই হোক সাফিয়ার লাশটা আস্ত অবিকল ছিলো। কবরের পাশে গিয়ে দেখলাম যে, কবরের মুখটা খোলা। বাশ আর চটি গুলি সরে গেছে। সাফিয়ার লাশের উপরের সাদা কাফনের কাপড়টা একদিকে একটু সরে গেছে আর ওর মুখটা দেখা যাচ্ছে। কিন্তু চুল গুলি ছিলো একেবারেই অগোছালো। আমি মাথা নীচু করে যখন সাফিয়ার মুখটা দেখতে গেলাম, আমি ভীষন ভয় পেয়েছিলাম লাশ দেখে। কেনো ভইয় পাইলাম, আর কি হলো আমি কিছুই বুঝ্যি নাই কিন্তু বাড়িতে আসার পর আমার অনেক জ্বর হয়েছিলো। আমার কাছে সাফিয়ার কিংবা ওর মেয়ের কোনো ছবি নাই। পরবর্তীতে সাফিয়ার তিন মাসের বাচ্চাতাও মায়ের অভাবেই হোক আর অযত্নেই হোক সেও বাচে নাই। সাফিয়ার কোনো বংশধর এই পৃথিবীতে নাই। আল্লাহ তাঁকে জান্নাতবাসী করুক। 

ফাতেমা

ফাতেমা বর্তমানে আমার জীবিত বোনদের মধ্যে ২য়। তার স্বামী মোঃ সলিমুল্লাহ ওরফে দুদু মিয়া। দুদু মিয়ার ব্যাপারে এখানে আগেই বিস্তারীত বলা হয়েছে। ওর স্বামী মারা যাওয়ার পরে ওর বড় ছেলে ফরিদের সাথে জাপানেই আছে। ফাতেমার দুটু মেয়ে আর ৪ টি ছেলে। মেয়ের মধ্যে বড় হচ্ছে সালেহা। সালেহার স্বামী আইনুল মোটামুটি ভালো অবস্থাএই আছে। ঈটের ভাটার মালিক। কিন্তু ছোট মেয়ে খালেদার প্রেমের মাধ্যমে বিয়েটা খুব একটা ভালো পরিনতি হয় নাই। মিজান খালেদার স্বামী। ইনকাম ট্যাক্সের অফিসে চাকুরী করে। তার যেমন ঘুষের বাহার তেমনি নারিদের প্রতি চরম ভালোবাসা। ফলে নিজের স্ত্রীর প্রতি তার ততোটাই অনীহা। খালেদার বাসায় আজ পর্যন্ত আমি পানিটুকু পর্যন্ত খাই নাই কারন সবই অবৈধ রোজগার। 

লায়লা

বর্তমানে যে কয়জন আমার বোন জীবিত আছেন, তাদের মধ্যে লায়লা সবার বড়। গ্রামেই থাকে। তার স্বামীর নাম মোঃ ইসমাইল হোসেন যিনি একজন শিক্ষক ছিলেন। বয়স প্রায় এখন ৭০ এর কাছাকাছি। সর্বশেষ মুসলিম নগর প্রাইমারী স্কুল থেকে হেড মাষাটার হিসাবে রিটায়ার করার পর তিনি আমার সাথেই আছেন। আমি চেষ্টা করেছি এই দুলাভাইকে কোনো আর্থিক সাহাজ্য না করে কোনো কর্ম সংস্থানের মাধ্যমে সাহাজ্য করা যায় কিনা। তাতে তিনি একটু সুস্থ যেমন থাকবেন তেমনি আর্থিক ভাবে একটু সচ্ছলতাও থাকবে। দুলাভাই আমার মা ইন্ডাস্ট্রিজেই আছেন প্রায় ১০ বছর যাবত। ফ্যাক্টরীটা বন্ধ করার পরেও আমি উনাকে ওখানেই রেখে দিয়েছি যাতে ফ্যাক্টরীর দেখভাল এবং নিজেও ভালো থাকেন। খুবই চরিত্রবান লোক এই দুলাভাই। লায়লার ৪ ছেলে এবং এক মেয়ে। বড় ছেলে মাহবুব একজন ইঞ্জিনিয়ার এবং সরকারী চাকুরীজীবি। বর্তমানে মাহবুব কর্নফুলি পেপার মিলস এ ইঞ্জিনিয়ার হিসাবে কাজ করছে। লায়লার অন্য এক ছেলে জাপানে থাকে আর বাকী ২ জন দেশেই আছে। লায়লার মেয়ের নাম জেসমিন। অল্প বয়সেই বিধবা হয়েছে। নিজেই নিজের সংসার চালায়। সারাজীবন কষ্টেই জীবন পার করেছে আমার এই সব বোনেরা। এখন যে সুখে আছে এমনটা নয়। ডায়াবেটিসে ভুগছে আমার বোন। বেশীরভাগ সময় অসুস্থই থাকে। খুব একটা যাওয়া হয় না আমার গ্রামে। তাই খুব একটা দেখাও হয় না। আমি চেষ্টা করি দুলাভাইকে কিছু টাকা বেশী দিয়ে ইন্ডাইরেক্টলী আর্থিকভাবে ওর সংসারে সাহাজ্য করতে। লায়লার যে ছেলে জাপানে থাকে তার নাম স্বপন। মাহবুবের মতো সেও ম্যারেড। আসলে লায়লার সব ছেলেমেয়েরাই ম্যারেড। কিন্তু এতোগুলি সন্তানের বয় থাকার পরেও লায়লাকে একাই নিজের দেখভাল করতে হয়। এটা খুব একটা সুখের খবর না। স্বপনের বিয়েটা হয়েছিলো “টেলিফোনে” জাপানে থেকে বাংলাদেশে। আমি সে বিয়েতে ছিলাম। মেয়েটা আমাদের হাসনাবাদ ইকুরিয়ার মেয়ে। সম্ভবত প্রেমের বিয়ে। আমি সপরিবারে ওর বিয়েতে ছিলাম কিন্তু বর স্বপন ছিলো জাপানে। এই জাতীয় বিয়ে আমার পছন্দ নয় যেখানে বর বাইরে আর কনে দেশে অথচ বিয়ে করতেই হবে। এটা আজকালকার দুনিয়ায় যেনো ফ্যাশনে পরিনত হয়েছে। লায়লা ছোটবেলায় ভীষন সুন্দুরী ছিলো আর ছিলো খুব ট্যালেন্ট। ক্লাস এইট পর্যন্ত পড়াশুনা করে আর পড়াশুনা করতে পারে নাই। এর মধ্যেই ওকে বিয়ে করতে হয়েছিলো। মাওহবুব আর স্বপনের কয়েকটি ছবি এখানে আপলোড করা হলো। সাথে স্বপনের স্ত্রীর ছবিও। আমার কাছে এই মুহুর্তে লায়লার অন্যান্য সন্তানের কোনো ছবি নাই বিধায় আপলোড করতে পারলাম না। পরে আপডেট করা হবে। 

সবচেয়ে বামের লোকটি হচ্ছেন লায়লার স্বামী ইসমাইল ভাই। এই ছবিটা প্রায় ৭/৮ বছর আগে তোলা। তিনি সপ্তাহের ৬ দিন পলাশপুরেই ফ্যাক্টরীতে থাকেন, আর একদিন গ্রামে যান। তবে যখনই দরকার হয়, তিনি যখন তখন বাড়িতে গেলেও আমার পক্ষ থেকে কখনো কোনো না ছিলো না। অত্যান্ত অমায়িক আর সহজ সরল মানুষ। আমাদের পরিবারের সেই ১৯৭৬ সাল থেকেই তিনি সাথে আছেন এবং সব সময় পাশেই পেয়েছি। তিনি আমার প্রাইমারী স্কুলের একজন শিক্ষকও ছিলেন। সৎ মানুষ এবং ঝামেলাবিহীন মানুষ। অল্পতেই তুষ্ঠ থাকেন। 

এই ছবিটায় আমার মেয়ে উম্মিকার সাথে স্বপনের স্ত্রী যেদিন তার বিয়ে হয় সেদিন তোলা। মেয়েটার মধ্যে একটা জিনিষ লক্ষ করেছি যে, গরীব মানুষের মেয়ে বলে হয়তো একটু সাংসারীক চিন্তাভাবনা আছে। বাকী ভবিষ্যত বলবে আগামীকালের সময় আর তার ভাবনার মধ্যে। 

এই ছবিটা লায়লার বড় ছেলে মাহবুবুর রহমানের। ৭ ই নভেম্বর ১৯৭৬ সালে ওর জন্ম। তখন দেশে প্রচন্ড দূর্ভিক্ষ চলছিলো। ওর বাড়তি দুধের ব্যবস্থা করতেই আমার দুলাভাই আর বোনের হিমশিম খেতে হয়েছে। আমার স্পষ্ট মনে আছে যে। ঐ সময়ে শুধু লবনের দামই উঠেছিলো ১০০ টাকার উপর প্রতি কেজি। বর্তমানে মাহবুব তিন সন্তানের বাবা। আর সরকারী ভালো অফিসেই কাজ করে। মাহবুবের শশুড় মধ্যবিত্ত পরিবারের একজন মানুষ। কোনো রকমে বর্তমানে সংসার টিকে রেখেছেন আর্থিক দিক দিয়ে। মাঝখানে প্লাষ্টিক ইন্ডাস্ট্রিজ চলাকালে তিনি আমার ফ্যাক্টরিতেও ইসমাইল ভাইয়ের সাথে কাজ করেছেন কিন্তু বয়সের ভাড়ে লোড নিতে পারছিলেন না বলে কাজটা ছেড়ে দিতে হয়েছিলো। মাহবুব তাদেরকে আর্থিকভাবে সাহাজ্য করে কিনা আমার জানা নাই। 

এই ছবিটার মধ্যে যে মহিলাটি সর্ব ডানে গোলাপী ড্রেস পড়া, সেটা লায়লার একমাত্র মেয়ে জেসমীনের। জেসমিনের মেয়েরাও এই ছবিতে আছে। জেসমীনের স্বামীর নাম ছিলো খোকন। খুব একটা দায়িত্তশীল ছিলো না। কোনো এক সময়ে খোকন সাভারে কাজ করার সময় কাউকে না জানিয়ে আরেকটি মেয়েকে বিয়ে করে। কোনো এক ঈদের দিন খোকন হার্ট ষ্ট্রোক করে মারা যায়। জেসমীনের স্বামী মারা যাওয়ার পরেও জেসমীন তার শশুড় বাড়িতেই বাচ্চাদের নিয়ে থেকে যায়। পিছনে দাঁড়ানো বাম থেকে ২য় মেয়েটি জেসমীনের মেয়ে। 

মেহেরুন্নেসা

উনি আমার বোন। আমার ৫ বোনের মধ্যে সেইই সবার ছোট কিন্তু আমার ইমিডিয়েট বড়। নাম-মেহেরুন্নেসা। তার স্বামীর নাম আব্দুর রশীদ। ইন্টার পর্যন্ত পাশ করেছিলো রশীদ ভাই। একবার বিদেশেও গিয়েছিলো কাজের খোজে কিন্তু বেশীদিন টিকতে পারে নাই। অতঃপর বহুদিন পোষ্ট মাষ্টার হিসাবে কাজ করেছেন। কোনো কিছুতেই খুব একটা সুবিধা করতে পারেন নাই। অতঃপর ব্যবসা শুরু করেন-ইটের ভাটার। সেটাতে মুটামুটি ভালো করেছেন। তার দুই ছেলেকে তিনি বিদেশে পাঠিয়েছেন, তারা এখন অবধি বিদেশেই আছেন। সচ্ছল অবস্থা এখন। কিন্তু আমার বোনের সুখের মুখ আসে নাই। সারাদিন কাজের মধ্যেই থাকে। আসলে লেখাপরা করার মতো সুযোগ তাদের ছিলো কিন্তু পরিস্থিতির কারনে সেটা হয় নাই। ১৯৭৭ সালে তার বিয়ে হয়। তারা জানতো তাদেরকে যেভাবেই হোক স্বামীর ঘর করতেই হবে ফলে যতো কষ্টই হোক তাদেরকে সেটা মেনেই চলতে হয়েছিলো। ভীষন পরিশ্রমী একজন মানুষ। একটাই মেয়ে আর সেও অবিকল মায়ের মতো দেখতে। তার বিয়ে হয়ে গেছে, ভালো আছে। 

যখন আমি ছোট ছিলাম, এক সময় যে কোনো কারনেই হোক আমার এই বোন একবার আমার সাথে ঢাকায় কিছুদিন বদি ভাইয়ের বাসায় অবস্থান করেছিলো। খুব একটা সুখকর পরিস্থিতি হয় নাই সে বাড়িতে। অবশেষে মেহেরুন্নেসা শেষ পর্যন্ত গ্রামেই ফিরে গিয়েছিলো। গরীব মানুষের আসলে বন্ধু থাকে না। তাদের থাকে মনীব। আমার এই বোনের চেহারা দেখলেই কিন্তু বুঝা যায় তার মনের ভিতরে কষ্ট আছে, যন্ত্রনা আছে কিন্তু যখন কোনো মেয়েদের বাবা থাকে না, তাদের কষ্টের কথাও বলার কোনো লোক থাকে না। আমি তাই সব সময় দোয়া করি ওরা যেনো অন্তত ভালো থাকে। ওরা আসলেই খুব ভালো মানুষ। মা যতোদিন বেচে ছিলো, প্রায় প্রতিদিনই মেহের মায়ের কাছে আসতো কিন্তু মা মারা যাওয়ার পরে সম্ভবত আর আসা হয়নি ওর। 

আলাউদ্দিন চৌধুরী

আলাউদ্দিন চৌধুরী আমার শশুড়। আমি তাঁকে দেখিনি কারন তিনি আমার বিয়ের প্রায় ৫ বছর আগেই ইন্তেকাল করেছিলেন। আমার শশুড়ের আব্বার নাম চিলো সোনাম উদ্দিন চৌধুরী। অত্যান্ত এক রোখা মানুষ ছিলেন তিনি। তার মোট তিন পুত্র আর এক মেয়ে ছিলো। তিন পুত্রের  নাম জনাব আলাউদ্দিন চৌধুরী, ডাঃ কুতুব উদ্দিন চৌধুরী এবং নিজাম উদ্দিন চৌধুরী।

আমার শশুড়ের তিন ছেলে আর আট জন মেয়ে ছিলো। তারা হচ্ছে জনাব নূর আহমদ চৌধুরী, সিদ্দিক আহমদ চৌধুরী, এবং মুস্তাক আহমদ চৌধুরী। মেয়েরা হচ্ছেন- মিসেস জায়েদা খাতুন, নূর জাহান, শেলিনা, সামসুন্নাহার, মিটুল চৌধুরী,

আলাউদ্দিন চৌধুরীর বংশের উপরে আমার এই ডায়েরীতে একটা রুপক গল্প আকারে লেখনী আছে যার নাম দিয়েছি- চৌধুরী বাড়ীর অসমাপ্ত গল্প”। গল্পটার শেষ আমি জানি না কিন্তু একটা ব্যাপার আমি বাস্তবে লক্ষ্য করেছিলাম যে, সোনাম উদ্দিনের মতো আরেক জন তার বংশধর এই যুগেও তৈরী হয়েই ছিলো, যার নাম হাসান আহমদ লিখন। অনেক গুনাবলী (বিশেষ করে আগ্রাসন নীতি এবং অন্যের হক নষ্টের নমুনা) তার মধ্যেও আমি দেখেছি।

আমি এই “ আলাউদ্দিন চৌধুরীর” অংশে চেষতা করেছি যতোটুকু বস্তুনিষ্ঠ ইনফর্মেশন দেয়া যায়, সেতা দেয়ার। মূল্যায়ন সব পাঠকের উপর। কাউকে ছোট করার কোনো অভিলাষ আমার কোনো কালেই ছিলো না, আর এ রকম করার কোনো কারনও আমার নাই। আমি শুধু সময়ের সাথে সাথে কি ঘটেছে সেগুলু লিখে রাখার চেষতা করেছি।

আমার শাশুড়ি মিসেস জেবুন্নেসা চৌধুরী ছিলেন আমার খুব প্রিয় একজন মানুষ। তিনি শেষ বয়সে এসে প্যারালাইসিস ছিলেন। খুড়ুয়ে খুড়িয়ে হাটতেন। আমার বাসাতেই তিনি থাকতে স্বাচ্ছন্দ্য বোধ করতেন। তার শেষ সময়টুকু আমার সাথেই আমার বাসায় কাটিয়েছেন। তিনি আমার বাসা থেকেই বেহেস্তবাসী হয়েছিলেন।

প্রোটেক্টেড ডকুমেন্টস ভূমিকা

মানুষের জীবনের সব কিছুই খোলাশা নয়। কিছু কিছু ঘটনা আছে, কিংবা বিষয় আছে অথবা মুহুর্ত আছে যা শুধুমাত্র নিজের এবং আর কারো না। যদি এসব কাউকে বলতেও চাই, সেগুলি না বিশ্বাসযোগ্য, না বলার মতো বলে মনে হয় অথচ ঘটেই যায়। এটা সবার জীবনেই ঘটে, হোক সে যুবক কিংবা বৃদ্ধ। যদি যুবক বয়সে ঘটতে থাকে, তখন বৃদ্ধ বয়সে এসে তা জাবর কাটে, আর যদি বৃদ্ধ বয়সে ঘটতে থাকে, তখন অনেকেই এটাকে না মানতে চায়, বা মানাতে চায়। তখন এর নাম হয় ভীমরতি।

কিন্তু একটা কথা আমরা প্রায়ই ভুলে যাই যে, মানুষ যখন কষ্টে থাকে তখন তার দরকার পড়ে একজন সাথীর, আবার মানুষ যখন ফুর্তিতে থাকে, তখনো দরকার হয় তার সাথী, অথবা মানুষ যখন নিজে নিজে একা হয়ে যায়, তখনো দরকার হয় তার একজন সাথীর। একজন স্ত্রীর অথবা একজন স্বামীর জন্য স্বামী বা স্ত্রীই যে সর্বদা ম্যাচিং সাথী হবে এমনটা কখনোই না। সারাজীবন এক ছাদের তলায় বসবাস করেও একজন স্ত্রী হয়তো কোনো এক সময়ে এসে সে তার স্বামীকে হয়তো বুঝতেই পারে না, আবার যুগের পর যুগ একসাথে একই বিছানায় ঘুমিয়েও একজন স্বামী তার স্ত্রীকে হয়তো হারিয়েই ফেলে কোনো এক সময়ে। তখন না স্বামী, না স্ত্রী কেহই একে অপরের যোগ্য সাথী হয়।

অন্যদিকে, আজকের দিনে জয়েন্ট ফ্যামিলি যেনো অনেকটা সপ্নের মতই মনে হয়। অথচ একটা জয়েন্ট ফ্যামিলির কেউ না কেউ কারো না কারো সাথীর ভূমিকায় অবতীর্ন হয়ে তাদের শুন্যতাকে ভরিয়ে দিতে পারে। কিন্তু মানুষ আজকাল এতোটাই ব্যস্ততায় নিজেকে নিয়ে থাকে যে, নিজের অভাব পুরন করতে করতেই তার সময় শেষ হয়ে যায়, অন্যের জন্য খরচ করার সময় তার নাই। হয়তো এর মধ্যেই জুটে যায় অপরিচিত কোনো এক সত্তা যিনি হয়তো সাময়িকভাবে দিতে পারে দুদন্ড শান্তি সেই বনলতার মতো। এই বনলতারা হটাত করেই উদয় হয় একেবারে কোনো এক অজানা জায়গা থেকে। ওরা আসলে এই সমাজেই থাকে কিন্তু কখন যে এরা সবার আড়ালে বনলতা কিংবা পুরুষলতা হয়ে উঠে কেউ জানে না। একেবারে অতি সংগোপনে এরা একে অপরের সাথী হয়ে যায়। কনো ব্যারিয়ার থাকে না এদের মাঝে। শারিরিক, দৈহিক কিংবা আর চরম গোপনীয়তাও এদের মাঝে আর কোনো দেয়াল হয়ে দাঁড়ায় না। অবশ্য বনলতারা সব সময় থাকেও না, একটা সময় আসে তারাও এক বৃক্ষ থেকে আরেক বৃক্ষে, এক সমতল থেকে আরেক মালভূমিতে কিংবা কোন এক জনপদ থেকে আরেক জনপদে তারা একেবারেই হারিয়ে নতুন কারো সাথে জোড়া বাধে। এই বনলতারা কেউ কাউকেই আঘাতে বিশ্বাস করে না আবার কেউ আজীবন তাদের জীবনটাকেই বিসর্জন দিতে প্রস্তুত থাকে।

আমার জীবনেও এমন কেউ এসেছিলো বা আসতে চেয়েছিলো। অরু, মেঘলা, সন্ধ্যারানি, রেনু কিংবা শারমিন অথবা সানা এরা এ সমাজের মধ্যে লুকিয়ে থাকা রেস্ট্রিক্টেড প্রানী যাদের মুখাবয়ব সমাজে পুরুপুরি উম্মুক্ত নয় কিন্তু সবার সামনেই ওরা চলাচল করে। এরা সবাই কোথাও না কোথাও অসুখী মানুষ। আবার কেউ কেউ অসুখী কিনা সেটাও বুঝতে পারেনা, ভাবে ঠিকই তো আছে। ফলে এদের মধ্যেও একতা শ্রেনীভাগ আছে। কেউ সাহসী, কেউ একেবারেই ভীতু, কেউ ধর্ম ভীরু, কেঊ সমাজভীরু, কেউ ব্যক্তিভীরু আবার কেউ পরিবারের জন্য ভীতু। অরুরা ছিলো ডেস্পারেত, মেঘলারা ছিল মডারেত, সন্ধ্যারানীরা ছিলো আত্তগোপনের মতো কেউ, রেনুরা সমাজের কোথাও না কোথাও রাজত্ব করতে গিয়ে পারায় বড় আপু হিসাবে দাঁড়িয়ে থাকাএ মানুষের মত, শারমিনেরা অদ্ভুত আচরনের ধারায় সবাইকে হতাশ করে আবার অন্যত্র বাসা বাধে। কিন্তু সানারা সুখী না হলেও কোনো রিস্ক নিতে ইচ্ছুক না। তাই এই সানারা সব সময় থাকে একা। তবে যাইই হোক, অনেক অসুখী মানুষেরা যখন একত্রে যাত্রা করে, তাদের আর অসুখী মানুষের দল হিসাবে ভাবা যায় না। তারা সবাই একটা মানের মধ্যে পরিপুর্ন। যেমন অরুর কথাই বলি-সে প্রথম জীবনে যা পেয়েছে, তার মধ্য জীবনে পেয়েছে গোলাভরা ধান আর মাঠ ভরা ফসলের মতো প্রচুর ধন সম্পদ। দুহাতে বিলিয়েও সেটা শেষ করা যায় নাই। আবার অরু যখন সেই পর্যাপ্ত সুখের জীবনে গা ভাসিয়ে দিয়েছিলো, তখন তার কাছে সেই জীবনটাই আবার একঘেয়েমিতে ভরে উঠেছিলো। তার অন্তর সন্ধ্যান করতে চেয়েছিলো এমন এক সমতল যেখানে সে নিজেই একজন অপরিচিত মানুষ বা আগন্তক। কেউ তো ছিলো যে তাকে হাতছানী দিয়েছিলো কোনো এক অলৌকিক আনন্দের ভরষায়। অতঃপর সে দল ছেড়েছিলো। এরপর তার কি হয়েছিলো, সেটা আমার এ জীবনে জানা হয়নি।

যখন অরুলতা প্রস্থান করে, প্রকৃতির নিয়মে সেই স্থান দখলে চলে যায় ভীরুলতার কাছে, আর সেটা সানা নাম ধরে বিচরন করে সমাজে। কিন্তু ভীরুলতা সেই অরুলতার মতো এতো এগ্রেসিভ ছিলো না যে, তার স্থান দখল করলেও একই প্রভাব রাখতে পারেনি। এই দুই লতার, ভীরুলতা আর অরুলতার মধ্যে প্রাথমিক স্তরে ধর্মালয়ের ন্যাচারীক রকম মনে হলেও একজন আরেকজনের প্রায় বিপরীত ছিলো। অথচ দুজনেই চেয়েছিলো অসীম কোন আনন্দের ফোয়ারা। পেয়েছিলো কি?

হয়তো পেয়েছিলো কিন্তু সেটা অন্তত আমার এই জীবনে জানা যায়নি। কিন্তু জানা হয়েছিলো কিছু “হ্যাপি” মানুশের কিংবা জ্যোৎস্না কাননের একচ্ছত্র মালিকের জীবনী থেকে যে, ওরা কোনো রকমে জীবনের সবগুলি অংশ পার হয়ে যেখানে থিতু হয়েছিলো সেটা এক রকমের বেচে থাকার মতো। ফলে ওরাও সুখের হাতছানীতে এমন কিছু বাস্তবিক কল্পনার রাজ্যে হারিয়ে যেতে চেয়েছিলো এবং গিয়েছিলো যা প্রকাশের বহির্ভুত কিন্তু সেটাও বাস্তব। কোথায় যেনো জীবন শেষ পর্যন্ত কোনো না কোনো পরিস্থিতির কাছে পরাস্ত হয়ই। কেউ আসলে সুখী নয়, টাকাওয়ালা, স্বামীওয়ালা, স্ত্রীওয়ালা, সুন্দুরী, কিংবা রাজ্যের প্রতাপ্সহালী কেউ, কেউ সুখী নয়। আমরা যা দেখি সেটা ভুল। যা দেখি না, সেটাই সত্য কিন্তু রেস্ট্রিক্টেড ইভেন্টস। ভীরুলতাকে অনেক বার হাতছানিতে ডাকলেও সে ছিলো প্রান্তি চাষির মতো। সে কখনোই তার ক্ষেত থেকে বেরিয়ে আইলে উঠতে চায় নাই। কিন্তু ক্ষেতে বসেই আইলে গজানো মিষ্টি কলার সাধটা চেয়েছিল। কিন্তু কলা গাছের একটা বাহ্যিক বৈশিষ্ট ছিলো যে, সে যতোক্ষন না তার সাথে লেপ্টে থাকে, তার মিষ্টি কলার ভাগ সে কাউকে দিতে নারাজ। তাই ভীরুলতা যা পেতে চেয়েছিল-হটাতই সেটা হাতছাড়া হয়ে উঠে। 

প্রতিটি মানুষের একটা ইতিহাস আছে। সে পাগল হলেও তার একটা ইতিহাস আছে। কেনো পাগল হল, কিসের কারনে সে পাগল, কিংবা কে তারে পাগল করলো অথবা তার পাগলামীর কি রহস্য অথবা অর্থ সেই সবকিছুর একটা ইতিহাস কোথাও না কোথাও তো আছেই।

একটা ব্যাপার আমার প্রায়ই মনে আসে, আমরা কেমন একটা যুগে বেচে আছি? উত্তর খুব কঠিন না। দূর্ভাগ্যবশত আমরা আসলে এমন একটা যুগে পদার্পন করে বেচে আছি যেখানে জঘন্যতম অপরাধও স্বাভাবিক হয়ে যাচ্ছে আর গভীরতম সম্পর্কগুলি হয়ে যাচ্ছে মুল্যহীন। আর এসব চরমপন্থী যুগ আর বৈষম্য মুলক সমাজ ব্যবস্থায় আমরাও মানুষেরা নিজেদের আচরনে স্বাভাবিকতাকে ঝেড়ে ঝুড়ে এমন কিছু ঘটনায় আকড়ে যাচ্ছি যা আসলে অন্যের কাছে ভাগাভাগি করে নেয়া যায় না। অথচ ব্যাপারগুলি ঘটছে। কিছু কিছু ঘটনা থাকে যার কোনো প্রমান থাকে না, কোনো সাক্ষী নাই, কোন প্রত্যক্ষ মানুষের চোখে পড়ে নাই, কিন্তু এর মানে এই নয় যে, কোনো ঘটনাই ঘটে নাই। এটা যদি ক্রাইম হয়, তাতেও পারফেক্ট ক্রাইম বলা যাবে না কারন পার্ফেক্ট ক্রাইম বলতে কিছুই নাই। হয়তো ইনভেষ্টিগেশন তাকে ছুতে পারেনি। এর মানে এটা আন্সল্ভড কেস নয়। আর যদি এসব কাহিনি হয়ে থাকে কোন যুগপদ মানুষের একান্ত ব্যক্তিগত চেষতায় তাহলে সেখানে ইনভেষ্টিগেশন খুব একটা পৌঁছায় না। আর এই গোপন ব্যাপারগুলিই মানুষের জীবনে কনো না কোনো সময় রেষ্ট্রিক্টেড ঘটনা হয়ে পড়ে থাকে একেবারেই আন্সল্ভড ফাইলের কেসের মত।

ব্যাপারটা অনেকটা মিসিং কেসের মতো। একজন মিসিং হলোকিন্তু কেউ মিসিং কেস করলোই না। হয়তো কেউ তার ফিরে আসার অপেক্ষায় আছে। অথবা কেউ জানেই না তাদের কেউ মিসিং হয়েছে। অথবা হয়তো জানে কিন্তু কেউ মিসিং কমপ্লেইন করলোই না। একজন হারিয়ে যাওয়া মানুষ মাঝে মাঝে জিক্স পাজেলের মতো এদিক সেদিক ক্ষনে ক্ষনে ঘুরে বেড়ায় দেশ থেকে দেশান্তরে, অথবা লোক চক্ষুর আড়ালে। তার আশেপাশের মানুষ এমন কি তার পরিবারের মানুষেরাও জানে না আসলে গল্পটা কি। তারা হয়তো জানেই না এই হারিয়ে যাওয়ার পিছনের গল্পটা কি এবং কোথায় শুরু।

ইদানিং খুব বেশী বেশী মন খারাপ হয়

ইদানিং খুব বেশী বেশী মন খারাপ হয়। প্রায়শই ম্যাসেজ আসছে আমারই সমবয়সী কোনো না কোনো এক অফিসার বা চেনা জানা  কেউ আগাম সিম্পটম ছাড়াই পৃথিবী থেকে বিদায় নিচ্ছে। অথবা এমন সিম্পটম যা বিসশাস করা যায় না যে, সেই মামুলী সিম্পটমের কারনে তারা আর নাই এই দুনিয়ায়। ম্যাসেজটা পড়ি, বারবার পড়ি আর ভাবী, আহা, এই গতকালও তো মানুষটি সবার সাথে ছিল। আকাশ দেখেছে, নদী দেখেছে, সূর্য উঠা দেখেছে, রাত দেখেছে, সবার সাথে আড্ডা দিয়েছে, অথচ মানুষটি আজ নাই। আর কখনো ইচ্ছে করলেও ছুটে আসতে পারবে না। ওয়ান ওয়ে জার্নির টিকেট এক্টিভেট হয়ে গেছে। ভাবতেই যেনো বুকটা মুচড়ে আসে। সবার হাতেই একটা করে ওয়ান ওয়ে জার্নির টিকেট রয়েছে, এটা শুধু মেয়াদ উত্তীর্ন হতে বাকী শুধু। যে কোনো সময়ে আমিও আর এইসব প্রকৃতি, আকাশ, বাতাস, নদ নদী, মানুষের কোলাহল, গাড়ির প্রতিযোগীতা, মানুষের সাথে মানুষের বিভেদ, ভালবাসা, পাখিদের কিচির মিচির, কাজের ব্যস্ততা সব ছেড়ে হুট করে ওয়ান ওয়ে জার্নির টিকেটের এক্টিভেশনে পড়ে যাবো, আমিও তখন হুট করে নাই হয়ে যাব। আমার আর দেখা হবে না আগামিকালের সকাল, কিংবা আজকের কোনো সন্ধ্যা বা জ্যোৎস্না রাত। কি ভয়ানক নিস্তব্দতায় আমি হয়তো ছুটে চলবো কোনো এক অজানা দুনিয়ায় আমি নিজেও জানি না। সাথে কেউ নাই, একেবারে একা, ভীষন একা। খুব ভয় লাগে ভাবতে। সব কিছু ছেড়ে, অফিস, বাড়ী, নিজের পরিবার, আত্মীয়স্বজন, বন্ধুবান্ধব সব ছেড়ে নিমিষেই আমি হারিয়ে যাবো সেখানে যেখানে কেউ আমার সাথে যেতে রাজী নয়। সেদিনও তোমাদের এই পৃথিবীতে সুর্য উঠবে, আকাশ আলোকিত হবে, সকালের ভোরের আজান চারিদিকে প্রতিদ্ধনিত হবে, সবাই শুনতে পাবে সেই আজানের সুর, অথচ আমি সেই আজানের শব্দ হয়তো শুনবো না। আমি থাকবো একদম মাটির নীচে অন্ধকারে। সবাই তাদের নিজ নিজ কাজে ব্যস্ত হয়ে যাবে, হাসবে, খেলবে, আর আমি শুয়ে থাকবো একদম একা চুপচাপ।

এই দিনটায় তোমরা এবেলা হয়তো অঝোর ধারায় চোখের জল ফেলছো। হয়তো আমার অনুপস্থিতি অনুভব করবে, হয়তো আমার সবগুলি স্মৃতি বিজড়িত সয় সম্পদ তোমাদেরকে আরো বিষন্ন করবে। সদ্য বিভাজিত এই জীবনের সাথে আমরা হয়তো সবাই আবার খুব দ্রুতই কোলাহলে মেতে উঠবো শুধু আমি ছাড়া।আমার কাপড়তা হয়তো তখন অন্য কেউ ভাগাভাগি করে পরবে, আমার ঘরটা অন্য কেউ নতুন করে সাজাবে। দিনের সকালটা কারো জন্যই যেহেতু অপেক্ষা করে না, রাতের চাঁদও যেহেতু কারো জন্যই আর থেমে নেই, ফলে সবার সব উৎসব যথারীতি চলবে শুধু আমার পুঞ্জতালিকা ছাড়া। কি অদ্ভুত না? এই কালের বিবর্তনে এবেলার সবার কান্নাটা ওবেলায় গিয়ে কোনো একদিন থেমে যাবে। মাঝে মাঝে মন উতালা হলেও, কিংবা মাঝে মাঝে কখনো অনুভবে আমার স্মৃতি চোখের বা মনের সামনে হাজির হলেও আবার পরক্ষনেই তা ম্লান হতে বেশি সময় লাগবে না। তারপর একদিন, আর কেউ মনে রাখবে না, কারো মনেও থাকবে না যে, কোন এক সময়ের স্তরে আমি ছিলাম, তোমাদের সাথে, অনেক যতনে আর ভালোবাসায়।

আমি হীনা তোমরা কতটা কষ্টে থাকবে, সেটা আমি জানি না, আর জানলেও অসীম কোন যোজন যোজন দূর থেকে তোমাদের প্রতি আমার ভালবাসার টানে আমার কখনো ফেরা হবে না। আমি কতটা বেদনা নিয়ে কোথায় আছি, কিংবা কতটা আনন্দ নিয়ে কতটা সুখে আছি সেই গোপন রহস্যে ঘেরা তথ্য আমি কোনোকালেই তোমাদের জানাতে পারবো না।

খুব আফসোস হয় মাঝে মাঝে, জীবনটা এতো ছোট কেনো? আমার অনেক অনেক দিন বাচতে ইচ্ছে করে প্রতিদিন। আমি থাকবো না এই প্রিথিবীতে, এটা ভাবলেই আমার সব কিছুর প্রতি আকর্ষন থেমে যায়। থেমে যায় অভিসার, থেমে যায় সব সুখের অনুভুতি, মনের কোথায় যেন একরাশ বেদনা পুঞ্জিভুত হয়ে আমাকে ভিজিয়ে দেয় দুঃখের এক নোনাজলে। আমি প্রতিদিন খুব আনন্দে থাকি এবং আনন্দে থাকতে চাই এ কারনে যে, দুঃখ আমাকে স্পর্শ না করুক, হতাশা আমাকে না ঘিরে ফেলিক, যা পাইনি সেটা নিয়ে কোনো প্রকার আফসোস নাই আমার, আর যা পেয়েছি সেটা দিয়েই সর্বাত্তক আনন্দে থাকতে চেয়েছি আমি। আমি জানি আমি তো আর বেশীদিন নাইই, তাহলে কার সাথে কি নিয়ে কতটুকু ঝগড়া, বিবাদ কিংবা জুলুম করবো? এই প্রিথিবীর কোন কারনে আমি দুঃখিত থাকবো!! এই ভাবনায় যাকেই দেখ, তাকেই আমার বন্ধু মনে হয়, মনে হয়, কি জানি যদি ওর সাথে আবার দেখা না হয়!! তাই আমার হাত প্রসারিত হয়ে যায় সব সময় সবার জন্য। শুধু বেচে থাকতে ইচ্ছে করে মরে যাবার পরেও মানুষের অন্তরে। হয়তো আমি দেখবো না, কিন্তু কেউ তো আছে যারা আমাকে মিস করবে, কেউ তো আছে হয়তো কোনো এক অবসরে আমার কথা ভেবে একটা দীর্ঘশাস নিয়ে বল্বে-আহা, উনি আমার জিবনে একটা প্রদীপ হয়ে এসেছিলেন। এটাই বা কম কিসের?  

৩/১২/২০২৫-দুনিয়া তোমাকে কতক্ষন মনে রাখবে?

একটা মানুষের ক্রমাগত উর্ধগতির উত্থান তার আশেপাশের সবাইকে প্রায় মুষ্টিবদ্ধ করে ফেলে। তখন শহরের বিলবোর্ড, গ্রামের চায়ের দোকান, কিংবা ম্যাগাজিনের কাভার পোষ্টে সে উজ্জ্বল জলজ্যান্ত মহানায়কের মতো বিচরন করে বেড়ায়। চেনা জগতটার মধ্যে হাজার হাজার অচেনা বন্ধুদের ভীরে চেনা জগতটাই যেনো অচেনা হয়ে যায়। মনে হয় তখন দুনিয়ার স্বর্ণদুয়ার খুলে যায়। তার নাম সর্বত্র উচ্চারিত হতে থাকে প্রশংসায় আর ঈর্ষায়।

যখন কনো না কোনো কারনে এই মানুষটার দূর্দিন শুরু হয়, হোক সেটা যে কন কারনেই। হয়তো রোগভোগে, হয়তো কোনো কঠিন দূর্ঘটনায়, কিংবা কোন অকস্মাৎ অকল্পনীয় অঘটনে। তারপর সমস্ত কিছু পালটে যায়। তখন দেহ চুরমার হয়ে যায়, স্বপ্ন ভেংগে যায়, স্পটলাইট সরে যেতে থাকে, ক্যামেরার ক্লিক বন্ধ হতে থাকে, মোবাইলের রিংটোন কমতে থাকে, মনে হয় কেমন যেন নীরবতা। এই নিস্তব্দতা কান ফাটা হাততালির থেকেও যেন ভয়ংকর। কেমন যেন শরীর অবশ হতে থাকে, আয়ু কমতে থাকে, একই অনুপাতে পাশে দাড়ানর মানুষের সংখ্যাটাও কমতে থাকে।

বন্ধুরা সরে পড়ে, পরিচিত কিংবা অপরিচিত মানুষ গুলির আনাগোনা কমে যেতে থাকে, এমন কি পরিচিত মানুষগুলির ফোনও আনরিচেবল হয়ে যায়। একদা পাশে দাঁড়িয়ে একটা ছবির পোজ নেয়ার জন্য অনুনয় করা মানুষগুলিও হাওয়া হয়ে যায়। যারা একান্ত বাধ্য হয় পাশে থাকতে, তারাও এক সময় বিরক্ত হয়ে উঠে। এই হৃদয় ভাংগা সময়ে, এতোসব মুখোশের ভীরে নীরবে তারপরেও কেউ না কেউ থাকে যারা আমাদের সেই উচ্ছল উজ্জ্বল সময়ে পাশে রাখা হয়নি। তখন সেই আলোকউজ্জল সময়ে আমরা ভুলে যাই-

এ দুনিয়া তোমাকে ততোক্ষনই ভালোবাসবে, যতোক্ষন তোমার সম্ভাবনা আছে কাউকে কিছু না কিছু দেয়ার এবং যে মুহুর্তে আমাদের পতন হবে, আশেপাশের কেওই আর থাকবে না।

সাফল্য দৃশ্যমান, কিন্তু অবহেলা অদৃশ্য। আলোর চারপাশে প্রচুর পোকামাকড় থাকে বটে, আলোটা নিভে যাওয়া মাত্রই ওগুলি অন্য আলোর সন্ধানে চলে যায়। তবুও সেই অন্ধকারের সময়ে কেউ না কেউ হয়তো থাকে। হোক সেটা কারো মা, বাবা বা খুব ভালো বন্ধু। সেই অন্ধকার আমাদের চোখে আঙ্গুল দিয়ে দেখিয়ে দেয় –কে মুখোশ, কে মুখ, আর কে মায়াভরা মুখ নিয়ে পাশে দাঁড়িয়ে থাকে।

কিছু গল্প আমাদেরকে ভেঙ্গেচূড়ে দেয়, কিছু গল্প আমাদেরকে শিক্ষা দেয়, আর কিছু গল্প আমাদেরকে এমন এক জায়গায় নিয়ে যায়, যাকে আমরা বলি ঈশ্বর।

আমার জীবনের গল্পে সবগুলিই আছে। কিন্তু সবগুলি দৃশ্যমান নয়।

২২/১১/২০২৫-বিশ্বাস

বিশ্বাস একটা আয়না, এটা ভাংলে আর জোড়া লাগে না। আর যিনি ভাংলেন আসলে তিনিই তার প্রতিচ্ছবি হারান। মানুষের বিশ্বাস হারানো মানে শুধু একটা সম্পর্ক হারানো নয়, এটা আত্তার একটা অংশ মরে যাওয়া। বিসশাসঘাতকেরা কখনোই বুঝতে পারে না-তারা যে বিশ্বাস নষ্ট করে সেটা আব্র তাদের জীবনেই বিষের মতো ফিরে আসে।

ভালোবাসা দিয়ে শুরু সম্পর্ক যখন মিথ্যায় ভরে যায়, তখন প্রতিটি নিঃশ্বাসই যন্ত্রনার গল্প বলে। বিশ্বাস ঘাতকের নিঃশ্বাস সবচেয়ে ভয়ংকর। কারন সে মিষ্টি কথা বলে, অথচ সে পিছনে বিষ ছড়ায়। বিশ্বাস ভাঙ্গার শব্দ কেউ শুনতে পায় না, কিন্তু সেই নীরবতার প্রতিদ্ধনী সারা জীবন কানে বাজে। যখন কেউ তোমার বিশ্বাস ভাংকে সে আসলে তোমাকে নয়, সে তার মর্যাদাকেই হত্যা করে।

২১/১১/২০২৫-সশস্ত্র বাহিনী দিবস ২০২৫

প্রতি বছরই এই দিনটায় দাওয়াত পাই। এবার দাওয়াত পেলাম প্রধান উপদেষ্টা থেকে। যখন সেনাবাহিনীতে ছিলাম, পারতপক্ষে এই দিনটায় যাতে যেতে না হয় তাই ফাকী দিতাম বিভিন্ন অজুহাতে। ওটার একটা কারনও ছিলো। এসডি পড়ে যেতে হতো, মানে সিরিমুনিয়াল ড্রেস। খুব ভেজাল মনে হতো আমার কাছে। কিন্তু অবসর নেয়ার পর (যদি কোনো জরুরী ইভেন্টের কারনে যেতে না পারি সেটা ভিন্ন কথা, তা না হলে) যাওয়ার চেষ্টা করি এই কারনে যে, অনেক সিনিয়ার জুনিয়ার এবং গনমান্য ব্যক্তিদের সাথে দেখা হয়। ব্যাংকে গেলে, সিএমএইচ এ গেলে কিংবা সিএসডি তে গেলে ফাকফোকর দিয়ে সিনিয়ার জুনিয়ারদের সাথে যেমন দেখা হয়, তেমনি ২১ নভে,বর সশস্ত্র বাহিনী দিবসে মুটামুটি প্রায় সবার সাথেই একসাথে দেখা হয়। এই কারনেই আমি এখন এই দিনের দাওয়াতে মিস করতে চাই না।

এবারের সশস্ত্র বাহিনী দিবসে অনেক সিনিয়ারদের কিছু পরিচিত মুখ অনেকদিন পরে আবারো দেখা হলো। মেজর হাফিজ (বিএনপি)  স্যারের সাথে প্রায়  দেড় যুগ পর দেখা, হাফিজ স্যারের সাথে ছবি তোলার পরই বিএনপির আরেক পরিচিত মুখ মির্জা আব্বাস ভাই কাছেই ছিলেন, সাথে সাথে বললেন, ছবি তুলবা? স্মৃতিটা থাকলো। উনার সাথেও এই রকমই প্রায় দেড় যুগ পর দেখা হলো।

আমাদের বর্তমান উপদেষ্টা ফওজুল স্যারের সাথে আমার কখনো আগে দেখা হয়নি। আমি উনাকে খুব পছন্দ করি সৎ মানুষের কাতার থেকে। আমি নিজে গিয়েই ওনার সাথে ছবিটা রাখলাম আমার স্মৃতিতে।

এরপরে প্রচুর সিনিয়ারদের সাথে দেখা হলো। জেনারেল আনোয়ার স্যার (আমরা একই ইউনিটে চাকুরী করেছি কিন্তু আমি যখন জিএসও-২ (অপ্স), উনি তখন আবারো আমার সেই একই ইউনিটের সিও ছিলেন)। খুবই প্রফেশনাল একজন অফিসার। বিপদজনক সময়ে হিলট্র্যাক্সে একসাথে কাজ করেছি আমার আরেক সিও শেখ নুরুল আমিন স্যারের সাথে। ভাবীর সাথেও দেখা হল প্রায় ৩৩ বছর পর।

কোর্সমেট, জুনিয়র এবং আরো অনেক প্রিয় অফিসারদের মিলনমেলা যেন এই ২১ নভেম্বর সশস্ত্র বাহিনী দিবস। সবচেয়ে মজার ব্যাপার হলো, তিন বাহিনীর প্রধান  জেনারেল ওয়াকার (সেনাপ্রধান), এডমিরাল নাজমুল (নেভাল চীফ), এয়ার চীফ মার্শাল হাসান মাহমুদ (এয়ার চীফ) হচ্ছে আমার ব্যাচমেট। এদের সাথেও আজকে আবার এক ঝলক দেখা হলো।

সময়টা খুব ভালো কাটলো।

০৯/১১/২০২৫-শাহরিয়ারের আগমনে আমি দাওয়াত করা শেরাটনে

কোথায় যেনো শুনেছিলাম যে, আমরা আত্মীয়তার জেরে দাদা, নানা, খালা ফুফু ভাই বোন পাই, কিন্তু সেটা আমরা তৈরী করি না, এই সম্পর্কের তৈরী ক্ষেত্রে আমাদের কোনো ক্রেডিট নাই। আমরা এগুলি বংশ পরম্পরায় পাই। কিন্তু আমাদের জীবনে আসা বন্ধুদের আমরা নিজেরা তৈরী করি। একজন ভালো বন্ধু চকচকে আয়নার মতো, কখনো তারা নিজের গোপন সহচর, মনের খোরাকের মত। সুখে দুখে এই বন্ধুরা জীবনের সবচেয়ে বড় একটা অংশ জুড়ে থাকে।

ক্যাডেট কলেজের বন্ধুদের মধ্যে বন্ধুত্বটা একটা অন্য রকমের ধাচে তৈরী হয় যেখানে ওরা জীবনের সবচেয়ে কাচা সময়টায় ২৪ ঘন্টাই একসাথে থাকে, খায়, খেলে, ঘুমায়, হাসে, কাদে। পরিবারের চেয়েও বেশী কাছে থাকে ওরা। ওদের বন্ধুত্বটা পারিবারিক শক্ত বন্ডের থেকে বেশী। শুধু এখানেই শেষ নয়, এক ক্যাডেট কলেজের সাথে আরেক ক্যাডেট কলেজের ব্যাচমেট বন্ধুরাও আজীবন না দেখে, না চিনে, নাম না জেনেও যেনো জন্ম জন্মান্তরের বন্ধু হয়েই থাকে। অদ্ভুত এই সর্গীয় বন্ধন। আমরা এই বন্ধুত্বকে আজীবন লালন করি।

আমাদেরই ব্যাচের আমাদের বন্ধু শাহরিয়ার গত ২/৩ দিন আগে সেই সূদুর কানাডা থেকে বাংলাদেশে এসেছে। মাত্র সপ্তাহ খানেক থাকবে ওর আব্বার সাথে। আমাকে ফোন করার পর আমি শাহরিয়ারকে ফোনেই বললাম, অনেকদিন ক্যাডেট বন্ধুদের সাথে দেখা হয় না। তোমার এই আগমন উছিলায় চলো আমি একটা একটা আড্ডার ব্যবস্থা করি যেখানে সবার সাথে দেখা হবে, কথা হবে, আবার হারিয়ে যেতে পারবো আজ থেকে প্রায় ৪৮ বছর আগের শৈশবের সেই অনুভুতিতে। শাহরিয়ার রাজী হলো।

আমার আরেক প্রিয় বন্ধু মাহমুদকে (বর্তমানে বিটিআরসি এর একজন উর্ধতন কর্মকর্তা হিসাবে কাজ করছে) ব্যাপারটা বললাম যে, আমি স্পন্সর/হোষ্ট করবো, তুমি বাকী এরেঞ্জমেন্টটা করে দাও শেরাটনকে কেন্দ্র করে। সবাইকে দাওয়াত করো, হোটেল বুক করো। মাহমুদ এ ব্যাপারে আমাদের ব্যাচের মধ্যে সর্বদা একটা সচীবের দায়িত্ব পালন করে। মাশআল্লাহ, আমার ১৭ জন ক্যাডেট বন্ধু গল্পের ভান্ডার আর একরাশ মিষ্টি ভালোবাসার হাসি নিয়ে রাত ৮ টায় হাজির।

ভীষন মিষ্টি এবং চমৎকার একটা সন্ধ্যা কাটলো আমাদের সবার। রাশেদের অন্যত্র আরো দুইটা মিটিং ছিলো, তারপরেও সেগুলি একদিকে শিফট করে আড্ডায় হাজির হলো। বন্ধুদের আড্ডা মানে জীবনীশক্তি বেড়ে যাওয়া, শরীর আবার চঞ্চলতায় ভরে উঠা। দ্রুত সময়তা যেনো হাওয়া হয়ে গেলো গল্পে গল্পে। যারা আসতে পারেনি, তাদের অনেক মিস করেছি।

ধন্যবাদ আমার প্রিয় বন্ধুদের। সবাইকে অনেক ভালোবাসি। ধন্যবাদ শাহরিয়ারকে।

৩০/১০/২০২৫-হল অফ ফেম, CNS, COAS

গত বছরের নভেম্বর মাসে অর্থাৎ নভেম্বর ২০২৪ এ সেনাপ্রধান জেনারেল ওয়াকারের জন্য বি এম এ তে হল অফ ফেম অনুষ্ঠান হয়েছিলো। কিন্তু আমি হার্টের সমস্যার কারনে, মিটুল এবং কনিকা গিয়েছিলো, আমি যেতে পারিনি। এবার অর্থাৎ আজ ৩০ অক্টোবর ২০২৫ এ সেই একই প্রোগ্রামটা হলো নেভীর এবং এয়ার ফোর্সের প্রধান যথাক্রমে নাজমুল এবং হাসানের জন্য অনুষ্ঠানটা হলো। এবার অনুষ্ঠানে যেতে কোনো সমস্যা হয় নি।

যেহেতু তিন বাহিনীর অর্থাৎ আর্মির চীফ, নেভাল চীফ এবং এয়ার ফোর্সের চীফ, তিনজনেই আমার কোর্ষ্মেট, ফলে একদিকে যেমন এটা গর্বের বিষয়, অন্যদিকে এই অনুষ্ঠাটিতে তিন বাহিনীর চীফই তাদের পছন্দমতো কোর্ষ্মেটদেরকে সিলেক্ট করে কারা কারা এই অনুষ্ঠানে জয়েন করবে, সেদিক থেকে কোন ভাবেই ওরা আমাকে আউট অফ সিলেবাসে রাখে না এতেও নিজের কাছে ভালো লাগে। এই সিলেবাসে রাখা আর না রাখা নিয়ে অনেক মনোমালিন্য, অনেক গোস্যা কিংবা অনেক বিতর্ক আছে, সেদিকে আর যাচ্ছি না।

গত কয়েকদিন আগে ক্যাপ্টেন রাশের নামে এক আর্মি অফিসার আমার ফোনে ফোন করে জানালো যে, আগামি ৩০ অক্টোবর দুই চীফের হল অফ ফেম অনূষ্ঠান হবে, আমি পরিবার সহ যাবো কিনা। আমার যেতে কোন অসুবিধা ছিলো না বিধায় সম্মতিসূচক উত্তর দিয়ে মিটুলের নাম্বারটা দিয়ে দিলাম, যেনো যাবতীয় বাকী ফর্মালিটিজ গুলি ওর সাথেই করে। ক্যাপ্টেন রাশেদের কাজ ছিলো শুধু ইনভাইটেশন কার্ড গুলি বিতরন করা। অতঃপর আমাদের ২ জনের জন্য কন্ডাক্টিং অফিসার হিসাবে নিয়োজিত ছিলো ক্যাপ্টেন আব্দুল্লাহ। অত্যান্য অমায়িক ছেলে এবং দায়িত্তশীল অফিসার।

ওরাই এয়ার টিকেট পাঠিয়েছিলো, বাংলাদেশ বিমান। আমরা মাস্কাট গামি বাংলাদেশ বিমানে উঠেছিলাম সকাল সাড়ে আটটায়, চট্টগ্রাম হযরত শা আমানত বিমান বন্দর থেকে আমরা সরাসরি ভেন্যু পৌঁছে গিয়েছিলাম সকাল সাড়ে দশটার মধ্যে। ১১ টায় প্রোগ্রাম শুরু হয়েছিলো।  আর্মির চীফ ওয়াকার, নেভাল চীফ নাজমুল, এবং এয়ারফর্সের চীফ হাসান সঠিক সময়েই এসে উপস্থিত হলো, আমার কোর্সের ৩ বন্ধু, তাদের জন্য আমাদের এই ন্যাশনাল অনুষ্ঠান সেই জায়গাতে যেখানে আমরা ২ বছর একসাথে অত্যান্ত কঠিন ট্রেনিং লাইফ কাটিয়েছি। ভাবতেই ব্যাপারটায় অনেক নস্টালজিক মনে হচ্ছিলো।

একসাথে লান করলাম, ভালো লাগলো।

আমার এই পর্বে যেতা আমি আসলে লিখতে চেয়েছি সেটা হল-বিএমএ এর ট্রেনিং। আমরা যখন ট্রেনিং করেছি, তখনকার বি এম এ এর সেট আপ আর প্রায় ৪১ বছর পরের বি এম এ এর সেট আপের মধ্যে তুমুল তফাত। আমাদের সময়কার যেখানে যেখানে জি সি অফিস, বারবার শপ, কোম্পানী বিল্ডিং গুলি, ড্রিল গ্রাউন্ড, রগড়া প্যারেডের গ্রাউন্ড ছিলো সেগুলিও প্রায় বিলুপ্ত হয়ে গিয়ে কোনোটা অন্যত্র শিফট হয়ে গেছে, আবার কোনোতা ছোট হয়ে গেছে, আবার কোনোটা এতো বিশাল হয়ে গেছে যা আমার কল্পনাতেও ছিলো না। অফিস গুলি খুবই অত্যাধুনিক্তায় ভরপুর, প্রচুর নতুন নতুন ভবন হয়েছে যেগুলি আসলেই দরকার ছিলো কিন্তু সেই প্রায় অর্দ শতাধিক আগে এগুলি বানানো কিংবা বাজেটে হয়তো কুলায় নি বলে বানানই হয় নাই। কিন্তু এখন ১০০ অফিসার মেস, সুইমিং পুল, ক্যাডেট ডমিটরীর পাশাপাশি আরো অনেক কারিকুলাম করা যায় এমন বিল্ডিং, কনভেনশন হল, মিটিং রুম, ক্যাফেটেরিয়া, ইনডোর খেলাধুলা করার প্রভিশন, জীম, আরো কত কিছু যে নতুন যোগ হয়েছে, বি এম এ এর সব জায়গা ঘুরলেই মনটা ভাল হয়ে যায়।

বি এম এ এর যে রাস্তাটা আজ থেকে ৪১ বছর আগে শুধু মাটির রাস্তা ছিলো, সেটা এখন বিশাল হাই ওয়ে হয়ে গেছে, সেখানে সানসেট পয়েন্ট, গলফ গ্রাউন্ড, আরো কতই না সুন্দর সুন্দর স্থাপনা তৈরী হয়েছে। বেশ ভালো লাগলো ব্যাপারটা।

আমাদের টার্ম কমান্দার ৯ডুজনে ব্রিগেডিয়ার জেনারেল মুস্তাফিজ এবং ব্রিগেডিয়ার তালেব স্যার) এবাব্রের অনুষ্ঠানে আমাদের সাথে বন্ধুর মতো ছিলেন। ব্রিগেডিয়ার জেনারেল তালেব স্যার বেসিক্যালী আমাদের কোর্সের সাথে একেবারে প্তোপ্রোতভাবে জড়িয়ে গেছেন। সবার সব অনুষ্ঠানে তিনি আসেন।

২৭/১০/২০২৫-কথা একটা মারাত্তক অভ্যাস

মানুষ বড্ড অদ্ভুত প্রানী। অন্যান্য প্রানীদের মতো সে জন্ম নিয়েই দৌড়াতে বা সরাসরি হাটতে পারে না, মনের ভাব প্রকাশের জন্য সাথে সাথে ভাষা জানে না, প্রাকৃতিকভাবে সৃষ্ট ভয় কিংবা ভীতি কিংবা মনুষ্য রচিত কোনো আনন্দের ফোয়ারা তৈরী হলেও মানুষের অনুভুতিতে তার কোনোতাই জন্মের সাথে সাথে হয়ে উঠে না। মানুষ বড় হয়, হাটতে শিখে, কথা বলতে শিখে, অনুভুতির স্রিষ্টি হয়, এবং এ রকম আরো হাজারো ছোট বড় অভ্যাস গড়ে উঠে। কিন্তু সবচেয়ে মারাত্তক অভ্যাস হচ্ছে-কারো সাথে কথা বলার অভ্যাস, এইটা সব অভ্যাসের মধ্যে সবচেয়ে মারাত্তক অভ্যাস। আর এই অভ্যাসটা হটাত করে দু একদিনের মধ্যে হয়ে উঠে না। নিয়ম করে, হাতে সময় নিয়ে রোজ একটু একটু করে কথা হয়। আর এই কথা হতে হতে আস্তে আস্তে একটা মায়ার জন্ম নেয়। এই মায়া জন্মাতে জন্মাতে এক সময় এটা নেশায় পরিনত হয়, আর ঠিক তখনই তা কেবল অভ্যাসে পরিনত হয়। এই যে কারো সাথে কথা বলার অভ্যাস আমাদের অজান্তেই স্রিষ্টি হয়ে গেলো, তখন আমাদের ভালো থাকার সম্পুর্ন নিয়ন্ত্রন আমরা হারিয়ে ফেলি তখন। একদিন কোথাও অন্যত্র কেউ চলে গেলে, শরীর কাহ্রাপ হতে থাকে, খাবারের রুচীতে ঘাটতি দেখা দেয়, অন্য কারো সাথে আর কথা বলতে ইচ্ছে করে না, ভালো ঘুম হয় না, সময়টা যেনো থেমে থাকে। কথা হওয়ার মুহুর্তে হটাত কথা না হওয়া চরম ডিপ্রেশনে ফেলে দেয়। তখন নিঃশ্বাস নিতে কষ্ট হয়, কোনো কিছুই আর ভালো লাগতে চায় না, হটাত করে মন খারাপ হয়, একাকী পায়চারী করতে মন চায়। মনে হয়-কি যেনো ঠিক নাই। একা হয়ে যায় মানুষ।

তারমানে এই নয় যে, কথা বলা খারাপ অভ্যাস। কারো সাথে কারো কথা বলতে কখনো কখনো ভাল লাগতেই পারে। কিন্তু তাই বলে সেটা যদি নিত্য দিনের অভ্যাসে পরিনত হয় এমনভাবে যে, হটাত কোনো কারনে কথা না বললে মন শরীর চিন্তা ভাবনা সবকিছুতেই প্রভাব ফেলে, তাহলে কষ্মিঙ্কালেও আমাদের ভালো থাকা হয়ে উঠবে না।

কথায় মায়া বাড়ে, আর মায়ায় লেপ্টে থাকে যন্ত্রনা, একাকীত্ব, বিষাদ। যদি কখনো মনে হয়, এক তরফাভাবে আপনি ডুবে যাচ্ছে, তবে এখনই নিজে সংবরন করুন, থামান। নিজেকে ততটুকি নিয়ন্ত্রের মধ্যে রাখুন যতটুকু নিয়ন্ত্রন রাখলে হুট করে কথা বলা বন্ধ হয়ে গেলেও অন্তত নিজেকে নিঃস্ব মনে হবে না।

২৭/১০/২০২৫-তোমারে যে পাইলো

শরৎচন্দ্র বাবুর একটা উপন্যাসে তিনি লিখেছিলেন-“তাহাকে ধরিয়া রাখিতে চাহিলে হয়তো ধরিয়া রাখিতে পারিতাম। কিন্তু সেই চেষ্টা করিলাম না। সেও আর ফিরিয়া আসিলো না। আমারো যতক্ষন না ঘুম আসিলো, শুধু এ কথাই ভাবিতে লাগিলাম। জোর করিয়া রাখিয়া লাভ হইতো কি? আমার পক্ষ হইতে তো কোনোদিন জোরই ছিলো না। সমস্ত জোরই আসিয়াছিলো তাহার দিক হইতে। আজ সেইই যদি আমাকে বাধন থেকে মুক্তি দিয়া আপনাকে মুক্তি দিতে চায়, তাহা হইলে আমি ঠেকাইব কি করিয়া?”

কি অদ্ভুত হৃদয় ছেড়া অনুভুতি!! এই যে ছেড়ে দেয়া আর ছেড়ে যাওয়া-এর মধ্যে অনেক তফাত আছে, অনেক অনেক বিস্তর পার্থক্য আছে। ছেড়ে যাওয়া মানে-আমি তোমাকে আর চাই না। এক সময় কি ছিলাম, আর কি ছিলে, এসব কিছু মেপে, বুঝে শুনে অতএব সিদ্ধান্ত আসে-আমি ছেরে দিচ্ছি। এটা এক ধরনের প্রত্যাখ্যান বা রিজেকশন। এর মানে তোমার আর আমার প্রয়োজন নাই। তোমার সব প্রয়োজন আমার কাছে ফুরিয়ে গেছে।

আর ছেড়ে দেয়া মানে আমি তোমাকে খুব করে পেতে চেয়েছিলাম কিন্তু তোমাকে আমি পাইলাম না। হাত বাড়ালেই যাকে পাও, সে হয়তো তোমার ভালোলাগা। আর খুব করে চেয়েও যাকে তুমি পাও না, তবুও তুমি যাকে চাও, বা মনে রাখো, হয়তো সেটাই ভালবাসা। ভালোবাসা মানেই সব সময় মানুষটাকে পাওয়া নয়। কখনো কখনো না পাওয়া, ছাড় দেয়া কিংবা অপেক্ষা করাও ভালোবাসা। হয়তো মানুষটাকে তুমি কখনোই পাবে না। অনেক আরাধনা করেও তুমি পাইলে না। হয়তো আরেকজন কোনো আরাধনা না করেই তাকে সে নিজের করে পেয়ে গেলো। তোমার তখন বড্ড কষ্ট হতে পারে, দুঃখ হতে পারে আর মনের মধ্যে বারবার নাম না জানা লেখকের সেই কথাগুলিই ঘুরে ফিরে আছড়ে পড়তে পারে যে, ………শেষ পর্যন্ত তোমারে যে পাইলো, তার লাইগা আমার আফসোসই লাগে। কারন সে জানলো না তোমারে হারাইলে কেমন লাগে।  কেমন লাগে তুমি ছাড়া রাইত জাগনের যন্ত্রনা। সে জানলো না, ভাত খাইতে বইসা তোমার প্রিয় তরকারী দেখার পর গলা দিয়া ভাত না নামার বেদনা।

 নাহ সে এটাও জানলো না, তোমাকে আরেকবার দেখতে চাওয়ার আকুতি কেমন হয়। সে জানলো না, তোমার সাথে স্মৃতিগুলি জড়াইয়া বাচার কষ্ট। সে জানলো না, তোমারে পাইয়া হারানোর পর দুনিয়া কেমনে ফাকা হইয়া যায়। সে জানলো না, তোমার স্পর্শ ফিরা পাওয়ার লাইগা পরান কেমন ছটফট করে। সে তোমারে পাইলো, কিন্তু তোমারে হারানোর ব্যথা পাইলো না। সে বিরহ চিনলো না, সে প্রেমের দুঃখ কেমন তা বুজলো না। সে জানলো না, একটা ছারখার হওয়া জীবন টানতে কেমন লাগে। সে সুখ ঠিকই পাইলো, কিন্তু তোমারে হারাইয়া  শক্ত হইলো না। এই যে তোমারে হারাইয়া ফেলার পর কোনো কষ্টই আর আমার গায়ে লাগে না। সে তোমারে পাইয়া আমার মতন পাথর হইতে পারলো না।

 অবশেষে যে তোমারে সারা জীবনের জন্য পাইলো, সে যেনো তোমারে আগলে রাখে অনেক যতনে। আমি ভাঙাচোরা মানুষ, তোমারে ছোয়ার সাধ্য আমার কখনোই ছিলো না। তবু সপ্ন দেইখা গেছিলাম তোমারে পাওয়ার জন্য। আমি হতভাগা এতই কমদামি সপ্ন কেনার দামদরেতে তোমারে হারাইয়া ফেলেছি। যে তোমারে জিতে নিলো, সে যেনো তোমারে ভালবাসার কমতি বুঝতে না দেয়। আমি চাই না ভালোবাসার কমতি পড়লে তুমি আমারে মনে করো। তুমি যখনই আমারে মনে করবা, তোমার দুঃখ হইবো আমার জন্যে। আমি চাই তুমি সুখী থাকো আজীবন। দুঃখ তোমারে মানায় না। যার কাছেই থাকো, ভালো থাইকো। কারন তুমি ভালো না থাকলে আমার এত বিসর্জন, আমার এত দীর্ঘশাস সব বিফলে যাইবো।

১২/১০/২০২৫-Lawful Command and Unlawful Command

Lawful Command and Unlawful Command এর মধ্যে পার্থক্য করার জন্য একটা পরিষ্কার সাংবিধানিক এবং বিচারিক ব্যাখ্যা থাকা উচিত। কারন:

(১) পরাজিত শক্তির কাছে যেটা আন ল ফুল, বিজয়ী শক্তির কাছে হয়ত সেটাই ল ফুল কমান্ড। অথবা পরাজিত শক্তির কাছে যেটা ল ফুল কমান্ড, বিজয়ী শক্তির কাছে সেটা হয়ত আন ল ফুল কমান্ড বলে মনে হয়ে পারে।

(২) ব্যাপারটা অনেকটা আমাদের ৭১ এর মত। ৭১ ছিলো আমাদের জন্য মুক্তিযুদ্ধ আর পাকিস্তানের কাছে আমাদের মুক্তিবাহিনী ছিল বিদ্রোহী গোষ্ঠী। মুক্তিবাহিনী বাংলাদেশের প্রেক্ষাপটে ছিল ল ফুল কিন্ত পাকিস্তানের পক্ষে এটা ছিল আন ল ফুল।

(৩) এক দেশের একজন দেশপ্রেমিক অন্য আরেকটি দেশের জন্য সে স্পাই হিসাবে গন্য হয়। দেশপ্রেমিক একটা ল ফুল ব্যাপার। কিন্তু স্পাই? অবশ্যই ল ফুল নয়।

(৪) সামরিক বাহিনীতে এমবিএমএল এ যাইই লেখা থাকুক না কেনো, জুনিয়ার লেবেল অফিসারদের জন্য বেশিরভাগ ক্ষেত্রেই ল ফুল আর আন ল ফুল কমান্ড খাটে না। যদি খাটতো তাহলে, সামরিক বাহিনীতে ডিসিপ্লিন রাখা যেত না। প্রত্যেকটা ক্রিটিক্যাল অপারেশনে অফিসার, নন কমিশন্ড অফিসাররা একের পর এক কোনটা ল ফুল আর কোনটা আন ল ফুল কমান্ড এগুলি করতে করতেই অপারেশন ফেইল করতো। তবে সিনিয়ারদের বেলায় যারা কমান্ড লেবেলে থাকে, তাদের এটায় আর্গুমেন্ট করার অপশন থাকে।

(৫) গত ১৭ বছরে এবং তার আগে, এবং তারও আগের রিজিম গুলিতে এদেশে সামরিক এবং বেসামরিক স্তরে অসংখ্য আন ল ফুল কমান্ড জারী হয়েছে, আন ল ফুল কর্ম করতে দেখা গেছে সরকারি পৃষ্টপোষকতায়, কতজন মানুষ সে সবের বিরুদ্ধে সোচ্চার হয়েছিলো? এটাও একটা বড় প্রশ্ন। যদি সোচ্চার হত, তাহলে তার জীবন শেষ। আর যদি সোচ্চার না হয়, বলা হবে আন ল ফুল কমান্ডের দোসর। যাবেন কই? আর সামরিক বাহিনীর সদস্যরা তো আরো অসহায়। তারা কমান্ড মানতে বাধ্য।

০১/১০/২০২৫-অধ্যাপক হামিদুর রহমান স্কুল এন্ড কলেজ

আমি যখন এই স্কুলে পড়তাম, তখন সালটা ছিল ১৯৭৬। টিনের স্কুল, চারিদিকে মুলির বেড়া, আর এই মুলির বেড়ার বেশিরভাগ ছিল নীচ দিয়ে ভাঙ্গা। মুরগী, কুকুর, বিড়াল এমন কি চোরেরাও মুলির বেড়ার নীচ দিয়ে স্কুলের ক্লাশের ভিতরে ঢোকে যেতো। পরদিন আমরা যখন ক্লাশে আসতাম, এসে মুরগী ইয়াড়াইতাম, কুকুরকে তাড়াইতাম, বেঞ্চ আর চেয়ার গুলি ধুলোয় এমন হয়ে থাকতো যে, এগুলিকে মুছে পরিষ্কার করতেই সময় লাগত আধা ঘন্টা। ক্লাস রুমের দরজাগুলি এমন ছিল যে, কেউ জোরে ধাক্কা দিলেই খুলে যেতো, তালা লাগাওনর কনো ব্যবস্থাই ছিলো না। বৃষ্টির দিনে মাঠে বৃষ্টির পানি পরার আগে যেন ক্লাশ রুমে পড়তো আগে। এতোই ফুটাফাটা ছিলো টিনের চালগুলি। ছাত্ররা বা ছাত্রীরা আসতো তাদের নিজের উদ্যোগে, স্যারেরা আমাদের পরাতেন ঠিকই কিন্তু মাঝে মাঝে আমরা আমাদের নিচের ক্লাসের ছাত্রদেরকে ক্লাস নিতাম। কারন সব ক্লাসে টিচার ছিলো না। আমি তো রেগুলার ক্লাস নিতাম। একটু একতু গর্বও হত যে, আমি না ছাত্র আবার না টিচার অথচ আমি কিন্তু ছাত্র।

এই স্কুলটা তখন ক্লাশ এইট বা অষ্টম পর্যন্তই ছিল অর্থাৎ হাইস্কুল। খুব যে ভাল স্কুল ছিলো সেটাও নয় কিন্তু এই এলাকায় এটাই ছিলো একমাত্র হাইস্কুল। আলাউদ্দিন ভাই আসতেন, আমাদেরকে খুব আদর করতেন। অসম্ভব অমায়িক মানুষ ছিলেন তিনি। এই স্কুল থেকেই আমরা ২ জন (আমি এবং ডাঃ শফিক ভাই, আলুকান্দার) ক্যাডেট কলেজে গিয়েছিলাম। এর পরে আরো অনেক মেধাবি ছাত্ররা দেশের বিভিন্ন সেক্তরে খুব ভাল ভাল জায়গায় কাজ করছেন এবং করেছেন। স্কুলটা ছিল তখন এলাকার প্রানকেন্দ্র। প্রায়ই বিকালে ফুটবলের প্রতিযোগীতা হত, গ্রামবাসিরা মাঠের চারিদিকে বসে যেনো ওয়ার্ল্ডকাপ খেলা হচ্ছে এমন একটা পরিবেশ হতো, মাঝে মাঝেই নাটক বা কালচারাল অনুষ্ঠান হত। ছেলেরাই মেয়ে সেজে নায়িকা হতো। কি যে একটা রমরমা সময় ছিল।

আজ এতো বছর প্পতে স্কুলটার চেহাড়া দেখলে মনে হয় কি সুন্দর। এতো বড় মাঠ, চার তলা করে অনেক গুলি বিল্ডিং। অনেক ছাত্র আর টিচার গন। রম রম করে পরিবেশ কিন্তু সবচেয়ে দুঃখ আর কষ্টের ব্যাপার হচ্ছে-এই স্কুল এন্ড কলেজ থেকে পাশের হার মাত্র ১০%। তাও আবার খুব লো গ্রেদিং দিয়ে পাশ। এটা কনো কথা?

মাষ্টারদের কাছে কেউ কৈফিয়ত চায় না গার্জিয়ানরা, গার্জিয়ানরা কেউ সপ্ন দেখে না তাদের সন্তানদের নিয়ে, কনো ছাত্র জানে না তার ভবিষ্যত কি। সে কি হতে চায়। কেউ তাদের মাথায় সপ্ন বুনন করে না। অথচ সব উপাদান আছে এই স্কুল এন্ড কলেজে। যারাই এই স্কুল এন্ড কলেজের জন্য দায়িত্বশীল ছিলেন, তারাই এতাকে নিয়ে হয় রাজনিতি করেছেন, অথবা এর থেকে ফায়দা লুটেছেন অথবা লাভ করেছেন। কেউ ছাত্রদের ভাল হক, ছাত্ররা নামকরা কেউ হক, এ অঞ্চলতাকে ছাত্ররা সমৃদ্ধ করুক কেউ চেষ্ঠা করেনি। চেয়ারম্যান, মেম্বার, উপজেলা প্রশাসক এমন কি এম পি ও এর পিছনে কখনো কনো সময় দিয়ে এটাকে কিভাবে ভাল একতা শিক্ষা প্রতিষ্ঠান করা যায় তার জন্য চেষ্টা করেনি।

এখনো এখানকার যুবকেরা জানে না যে, অতি শীগ্রই ওরা এমন কিছু মানুষের অধীনে চলে যাবে যারা বেই এলাকার কেউ নন। …।।

৩০/০৯/২০২৫-অবহেলা

কেউ কি তোমাকে ভালবেসেছিলো? কতটুকু কতক্ষন কি পরিমান কিভাবে কেনো ভালবেসেছিল সেটা কি কখনো অনুধাবন করে বিশ্লেষন করেছো? ভালোবাসাটা একটা চরম আবেগী জিনিষ, যে ভালবাসায় মজেছে, তার কাছে আর অন্য কোন কিছুই জরুরী নয়। আর যার ভালবাসায় সে মজেছে, সেটা যেমনই হোক, কারো সাথে কিংবা কোনো কিছুর সাথেই তার তুলনা করা যায় না। কালো, ধলা, ল্যাংড়া, কিংবা বিদেশি, বা অন্য কোন প্রানী সবার বেলাতেই ব্যাপারটা এমনই ঘটে। কিন্তু মজার ব্যাপার কিংবা কষ্টের ব্যাপার হল, এক সময় এই ভালোবাসায়অ ঘুন ধরে, যে কোনো কারনেই এর মিষ্টতা বা আবেগী মনটা স্তিমিত হয়ে আসতে পারে। তখন একটা নতুন জিনিষ শুরু হয়। আর তার নাম অবহেলা।

কাউকে অবহেলা করার সবচেয়ে উত্তম কৌশল হচ্ছে-ব্যস্ততা দেখানো। বাহ্যিকভাবে কেউ কতটা ব্যস্ত সেটা বড় কথা নয়, কিন্তু কারো সাথে সম্পর্কের মধ্যে ঢীলা দেয়ার মোক্ষম অস্ত্র হচ্ছে-বহুবিধ কাজের বাহানায় ব্যস্ততা জড়িয়ে দেয়া। কিন্তু একটা সম্পর্কে ব্যস্ততার শব্দটার কোনো স্থান নাই আসলে। সত্যিকারের প্রিয় মানুষটার শত সহস্র ব্যস্ততার মাঝেও খোজ খবর নেয়া সম্ভব এবং নেয়ও। শুধু খোজ খবরই না, সে তোমাকে সময় দেবে। কি করছো, কখন কোথায় কি ভাবে তোমার সিডিউল যাচ্ছে, দুপুরে, সকালে, কিংবা খাওয়ার সময়ে তুমি খেয়েছো কিনা সব সময় না হলেও মাঝে মাঝেই সে খবরটা নিবে।

কেউ যদি বলে- কথা বলার সময় পাইনি, হতেই পারে। কিন্তু ‘আমি একটু ব্যস্ত আছি, সময় পেলে পরে কথা বলব। তুমি অন্যান্য কাজ সেরে ফেল’ কিংবা একটা ম্যাসেজ কিংবা পাচ সেকেন্ডের একটা ছোট কলও হতে পারে অনেক ব্যস্ততার মাঝে একটা যোগাযোগ। আর এই ছোট ম্যাসেজটা লিখতে রাস্তার ধারে বসে, একটা সিগারেট খাওয়ার সময়েও এই ছোট ম্যাসেজটা করা যায়। যখন এগুলির কোনোটাই হয়ে উঠে না, অথচ যদি কেউ বলেই থাকে যে, কথা বলার সুযোগ হয়নি, বা সময় পাইনি, তাহলে বুঝে নিও সে ঠিকই সময় পেয়েছিলো কিন্তু সে তোমার জন্য সময় নষ্ট করতে চায়নি, সে তোমাকে এভয়েড করেছে। তোমার মুল্য তার কাছে অনেক কমে গেছে। মানুষ কেবল সেটার জন্যই তার মুল্যবান সময় নষ্ট করে যেটা তার কাছে ইম্পর্ট্যান্ট। তুমি হয়তো ইম্পর্টেন্সি হারিয়ে ফেলেছো। ভালোবাসাটা অনেক দূর চলে গেছে। একদিন সে আরো দূরে চলে যাবেই এবং কনো এক সময় সে তোমার কাছ থেকে হারিয়ে যাবেই। তুমি এই পরিস্থিতিটা বুঝো বা না বুঝো, যদি এটা এক তরফা আকড়ে থাকো, তাহলে আজিবন তুমি কষ্ট পাবে।

ব্যস্ততা কখনই ভালোবাসাকে থামাতে পারেনা। যে সত্যিই তোমাকে ভালবাসে, সে শত ব্যস্ততার মধ্যেও একবার হলেও মনে করবে। আর যদি সেই ভালোবাসাতা হয়ে থাকে নিছক কিছুর বিনিময়ে বা অন্য কোনো কারনে, সেখানে কখনোই ভালোবাসা ছিল না। ওটা ছিল অবহেলার ভালোবাসা।

সত্যিকারের ভালোবাসা হচ্ছে সেটা যেটা না বলা কথাও অন্তরে যেনো পরিষ্কার অনর্গল কথা বলে যায়, ভালোবাসার মানুষটাকে কিভাবে ভালো রাখা যায়, কিভাবে তার মনকে প্রশান্ত করা যায়, তার ইচ্ছাগুলি, আবদার গুলি, আখাংকা গুলি নিজের সামর্থের মধ্যে লালন করা যায়। ভালোবাসায় ভাষার দরকার পড়ে না। এটা অনুভবের ব্যাপার। মন থেকে ভালোবাসলে মানুষটা ছাড়া একদমই থাকা যায় না। আর যারা দিনের পর দিন মানুষটা ছাড়া অনায়াসে থাকতে পারে, তারা কখনো ভালোবাসে না। I

ভালোবাসার মানুষকে মানুষ সব সময় মনে রাখে, মনে করে। এমন কি মৃত্যুর সময়ে বা আগে যে মানুষতারে মানুষ সবার অগোচরেই স্মরণ করতে চায় সেটা তার ভালোবাসার মানুষ। গভীর ঘুম থেকে ঘুম ভাঙ্গার পর যার কথা মনে পড়ে সেতা তার ভালবাসার মানুষ। এই ভালোবাসার মানুষটার কারনে সুখকে সুখী মনে হয়, তার কষ্টকে নিজের কষ্ট মনে হয়। ভালোবাসার মানুষের শরীরের ঘামের গন্ধও মিষ্টি মনে হয়।

২৯/৯/২০২৫-দূর্গা পুজা

আমি যে কোনো অনুষ্ঠানে সাধারনত অনেক কারনেই যেতে ইচ্ছুক হই না। তার মধ্যে সবচেয়ে বড় কারন হচ্ছে-অনুষ্ঠানের রিচ খাবার আমাকে আকর্ষন করে না এবং আমি সাধারনত সেই রিচ ফুডগুলি এভয়েড করি। কিন্তু যদি কোথাও যেতে চাই, আমি আগে থেকেই আমার খাবারের মেন্যুটা একটু সম্মানের সহিত তাদের জানিয়ে দেই যে, আমার জন্য একেবারে প্লেইন রাইস, ডাল এবং কিছু শব্জি হলে ভাল হয়। এখন অবশ্য প্রায় অনেকেই জানেন আমার খাবারের সাধারন মেন্যুটা, ফলে আর বলতে হয় না। কিন্তু আমার কিছু কিছু খুব কাছের মানুষ আছেন যারা দাওয়াত দিলে খাই বা না খাই আমি যাবোই এটা নিশ্চিত। গয়েসশর দাদা আমার সে রকমের একজন মানুষ।

আমি রাজনীতি করি না কিন্তু আমি গয়েসসর দাদার একজন কাছের মানুষ। উনি সর্বদা আমাকে কিছু কিছু উৎসবে ব্যক্তিগতভাবে দাওয়াত দেন। কখনো কখনো কার্ড পাঠিয়ে, আর বেশীরভাগ সময়ে টেলিফোনে। এবারের দূর্গা পুজাতেও উনি দাওয়াত দিয়েছেন এবং ঘোষকান্দায় তার নিজের বাড়িতে যাওয়ার সময়ে ফ্যাক্টরির সামনে দিয়ে অতিক্রম করার সময় আমি যেন অফিসের কাজ দ্রুত শেষ করে অনুষ্ঠানে যাই সেটাও নির্দেশনা দিইয়েছিলেন। খুবই ব্যস্ত ছিলাম মিটিং নিয়ে ফলে প্রায় দুপুর প্রায় একটা বেজে গিয়েছিলো ওনার বাসায় যেতে যেতে।

আমি যখন ওনার বাসায় গেলাম, উনি তখন প্রচুর লোককে নিয়ে মিটিং কিংবা আলাপে/গল্পে মত্ত ছিলেন, আমি যাওয়ার পরই দাদা আমাকে নিয়ে কোলাকুলি করে তার নিজস্ব কামরাতে এসে বসলেন। অনেক আলাপ হলো, চা সিগারেট খাওয়া হলো, ভালো লাগছিলো। চলে আসতে চাইলাম কারন ফ্যাক্টরীতে বায়ার চলে এসছিলো কিন্তু দাদার আমন্ত্রনে না খেয়ে আসা হলো না। খেতেই হলো।

দাদার সবচেয়ে আমার ভাল লাগার জিনিষটা হল-উনি নিজ হাতে আমাকে খাবার পরিবেশন করেন। সেই ছোটবেলা থেকেই উনি আমাকে চিনেন যখন আমার বয়স মাত্র ১০। আমার বড় ভাই (এখন তিনি আমেরিকায় বোষ্টনে প্রফেসর হিসাবে আছেন) ওনার খুব কাছের বন্ধু হওয়ায় ভাইয়ের সুবাদে আমার বড় ভাই, গয়েসশর দাদা, আলিমুল্লাহ কাকা, আলাউদ্দিন মাষ্টার ভাই, আনোয়ার ভাই (ঢাকা ইউনিভার্সিটি), রহমান ভাই, নসরুল হামিদ বিপুর আব্বা হামিদ ভাই এরা তখন একটা খুব শক্তিশালি বন্ধু সংঘটন ছিলেন আর আমি সেই ১০ বছরের ছোট একটা পিচ্চি এই ইয়াং বন্ধু মহলের মধ্যে জড়িত ছিলাম কোনো কারন ছাড়াই। ওনাদের সাথে ঘুরতাম (আমার ভাই আমাকে নিয়ে নিয়ে ঘুরতেন তাই আমিও তাদের সাথে থাকতাম)। আমার ক্যাডেট কলেজে যাওয়ার অনুপ্রেরনার পিছনে এইসব শক্তিশালি ব্যক্তিরাও অনেক অনুপ্রেরনা জুগিয়েছিলেন।

গত ২৯/৯/২০২৫ তারিখে দাদার বাসায় দূর্গা পুজা উপলক্ষ্যে দাদার সাথে কিছুক্ষন সময় কাটানর কিছু মুহুর্ত।

ধন্যবাদ দাদা।

২৫/৯/২০২৫-মোহাম্মাদপুর শহীদ ক্যাডেট একাডেমি

এই শাখাটা আমরা চালাচ্ছি। মুলত আমি, কর্নেল মাহমুদ এর প্রধান উদ্যোক্তা। মাহমুদের মিসেস নুরজাহান ভাবী এর প্রিন্সিপ্যাল। যথেষ্ঠ কোয়ালিটি পুর্ন শিক্ষার মান এখানে দেয়া হয় বলে গার্জিয়ানরা প্রায়ই এই শাখাটাকে সাধীন ক্যাম্পাস হিসাবে দেখতে চান এবং মনে করেন এটাকে আবাসিক করা গেলে প্রচুর ছাত্র ছাত্রী এখানে ভর্তি হবে। কিন্তু আমি এখনো সাধীন ক্যাম্পাস করার জন্য কন পদক্ষেপ নেইনি। তবে অদূর ভবিষ্যতে এটা যে একতা হবে তাতে কন সন্দেহ নাই ইনশাল্লাহ।

মোহাম্মাদপুর শহীদ ক্যাডেট একাডেমি মুলত একটা ফ্রান্সাইজিং শাখা। কিন্তু এর অন্তরালে আমাদের নিজস্ব একটা স্কুল চালু আছে যার নাম Bangladesh International School of Excellency (BISE). কন্সেপ্টটা হচ্ছে, যারা ক্যাডেট কলেজে চান্স পাবে না, তারা আমাদের স্কুলেই পরবর্তী স্কুলিং চলমান রাখা। যাত্র ছাত্রদের কোনো সময় ক্ষেপন না হয়। স্কুল অফ প্যারাডাইস হচ্ছে আমাদের অরিজিনাল স্কুলের একটা সেক্টরাল শাখা। এ রকমের আরো সেক্টোরাল শকাহা রয়েছে এর মধ্যে।

অনেকদিন যাওয়া হচ্ছিল না মোহাম্মাদপুর শহীদ ক্যাডেট একাদেমিতে। প্রায় ৮/৯ মাস পর আজকে গেলাম। প্রিন্সিপ্যাল তার শিক্ষক বৃন্দকে নিয়ে স্কুলের মান এমন পর্যায়ের নিয়ে গেছেন, দেখে মনটাই ভরে গেলো। ছাত্ররা, অভিভাবকগন এবং এর সাথে সংশ্লিষ্ট লোকাল যারাই আছেন সবাই খুব খুশি।

অনেক ধন্যবাদ মাননীয় প্রিন্সিপ্যাল এবং শিক্ষকবৃন্দ। আমার দোয়া এবং আশীর্বাদ রইলো।

৮/৯/২০২৫-জন্মদিন

পছন্দ আর ভালভাসার মধ্যে পার্থক্য আছে। পছন্দ হলো রেডিমেড একটা ফুল গাছ থেকে একটা ফুল ছিড়ে নেয়ার মতো, আর ভালবাসা হচ্ছে সেই ফুলগাছটায় আপনি প্রতিদিন পানি দিয়ে তাকে সতেজ রাখার মতোন। পছন্দ জিনিষটা যখন প্রতিদিন চর্চা হতে থাকে, তখন ধীরে ধীরে সেই পছন্দ একদিন ভালোবাসায় রুপান্তর হয়। যখন ভালোবাসাটা ধীরে ধীরে আরো গার হয়, তখন জন্ম নেয় মায়া। মায়া একটা মারাত্তক জিনিষ। একবার কেউ মায়ায় জড়িয়ে গেলে সেখান থেকে বেরিয়ে আসা কঠিন। মায়ায় জড়িয়ে যাওয়া মানুষগুলি কখনোই কারো জীবন থেকে হারিয়ে যায় না। হারিয়ে যেতে দেয়া হয় না।

যাইই হোক, কথাগুলি বললাম এ কারনে যে, বহুবছর আমার নাড়ির টানের বন্ধনের এলাকা, এই বাক্তার চর, নিয়মিতভাবে আসা হয়নি। কাজের জন্যই হোক আর ব্যস্ততার জন্যই হোক, আসা হয়ে উঠেনি। কিন্তু একটা টান অবশ্যই ছিল। ইদানিং এলাকার কলেজের গভর্নিং বডির চেয়ারম্যান হিসাবে আমি ঘন ঘনই এলাকায় আসছি। গ্রাম এবং এলাকার প্রতি আমার মায়া সেই জন্মলগ্ন থেকেই সুপ্তিত ছিলো কিন্তু উদগীরিত হয়নি বা প্রকাশ পায়নি। যার কারনে অনেককেই এখন আর আমি ভালোভাবে চিন্তেও পারিনা। পুরানো জেনারেশনের মানুষগুলিকে যেমন বর্তমান চেহাড়া থেকে চেনার উপায় নাই আবার নতুন জেনারেশনের ইয়াং ছেলেমেয়েদেরকেও আমার ভালোভাবে জানা বা চেনা হয়নি। ওরা হয়তো আমাকে নামে চিনে কিন্তু ওদেরকে আমার ভালোভাবে বা ন্যুনতম্ভাবেও চেনা হয়ে উঠেনি। কিন্তু পুরানো সেই মায়া থেকে আমি ওদের উপরেও যেন কেমন একটা মায়ায় জড়িয়ে যাচ্ছি দ্রুত। ওরাও যে আমাকে আমার থেকে দ্রুত কঠিন ভালবাসায় জড়িয়ে ফেলতেছে সেটা আমার ইন্দ্রিয় আমার বুঝবার চেয়েও দ্রুত উপলব্ধি করছে।

কদিন আগে কলেজে এক মিটিং এ হটাত মুখ ফসকে বেরিয়ে গিয়েছিল আমার জন্ম দিনের তারিখটা। তখন প্রায় সন্ধ্যা। কলেজের প্রিন্সিপ্যালের রুমে গুটিকতক জেন জি ইয়াং স্টারদের নিয়ে মিটিং করছিলাম। শেষ হতে না হতেই দেখি কোথা থেকে একটা কেক, কেক কাটার ছুড়ি এবং মোমবাতিসমেত হাজির। সব কিছু বুঝবার আগেই জন্মদিন উপলক্ষ্যে একটা ঘটা হয়ে গেল। বিস্ময়ে আমার চোখ ছানাবড়া হলেও অন্তরে খেলছিল এক ভালোবাসার বসন্ত প্রবাহ। অনেক আনন্দিত হয়েছি।

ধন্যবাদ ইঞ্জিনিয়ার শাহ আলম, সানাউল্লাহ, কাইয়ুম, শাহীনুর, মুজিবুর কাকা, অধ্যক্ষ মহোদয় এবং অন্য সব আদরের ছেলেরা। অনেক দোয়া রইলো তোমাদের প্রতি এবং অবশ্যই তোমরা আমাকে অনেক খুশী করেছো। আমি আমার আন্তরীক ভালবাসা জানাই তোমাদের সবাইকে।ো

২৬/০৮/২০২৫-জীবনকে বদলে দেয়ার মতো ইন্সপিরেশনাল গল্প

জীবনকে বদলে দেয়ার মতো ইন্সপিরেশনাল গল্প হাজার মানুষের কাছ থেকে হাজার রকমের গল্প হয়তো আপনি শুনবেন। কিন্তু আপনি কিভাবে আপনার জীবন বদলে দেবেন, সেই গল্পটা জরুরী। অন্যের ইন্সপিরেশনাল গল্প থেকে আপনি হয়তো মোটিভেশনাল সাহস নিতে পারেন, কিংবা প্রতিজ্ঞা করতে পারেন, কিন্তু যখন আপনি আপনার জীবনটাকে বদলাতে যাবেন, সেই কারো গল্পের সাথেই হয়তো আপনার গল্পটা মিলবে না। তবুও আপনার গল্পটাও কারো গল্পের থেকেও কম ইউনিক না। সবসময় একটা কথা মনে রাখা দরকার যে, রাজাও একদিন প্রজা ছিলো, আবার সেই রাজাও কোনো একদিন আবার সেই পুরান দিনের প্রজার মতোই প্রজা হয়ে যান। তবে সেখানে একটা শুধু পার্থক্য থাকতে পারে যে, রাজা হবার আগে সেই রাজা প্রজা অবস্থায় হয়তো কারো কাছে হাত পাতলেও রাজা থেকে প্রজা হয়ে সাধারনত সে আর কারো কাছে হাত পাততে চায় না। ভিক্ষা তো করেই না। হয়তো না খেয়ে মরে যাবে কিন্তু অতটা নীচে সে নামে না। যেমন মানতে পারে না ঈগল পাখি। সে সারাদিন না খেয়ে থাকবে হয়ত কিন্তু পচা মৃতপ্রানির মাংশ সে খায় না। এটাকে হয়তো অনেকে ইগোতে নিয়ে যাবেন, এটা ইগো নয় আসলে এটা সম্ভবত আত্তসম্মানবোধ বা শক্ত মেন্টালিটির সাথে তার ব্যক্তিগত পার্সোনালিটির বহির্প্রকাশ। তাই জীবনকে পার্সোনালিটিতে রুপান্তরিত করুন, সময়কে সবচেয়ে বেশি মুল্যায়ন করুন, সুযোগকে সঠিক মত কাজে লাগান, সম্ভবত জীবন দ্রুত বদলে যাবে। পার্সনালিটিতে সবচেয়ে বড় নির্দেশনা হচ্ছে- মেপে কথা বলার সাথে মেপে চলা। শোনার অভ্যাস গড়ে তোলা। সব সময় সব কিছুর উত্তর দেয়া জরুরী নয়, অনেক সময় শুধু শোনাই হচ্ছে সবচেয়ে একতা বড় শক্তি। মিনিমালিজমে অভ্যস্থ হয়ে কথা কম বলুন, কম ব্যাখ্যা দিন, কম অজুহাত দিন, অপ্রয়োজনীয় শব্দ, ব্যস্ততা্‌ এড়িয়ে যান। অযথা অধিক আগ্রহে মানুষের গুরুত্ত কমে যেতে পারে। আর কখনো যদি বুঝেন-আপ্নার গুরুত্ত কমে গেছে বা যাচ্ছে-সাহস করে সেখান থেকে সরে পড়ুন। নতুন করে দিগন্ত প্রসারিত করুন। নতুন করে আবারো সীমানা নির্ধারন করুন। নতুন সম্পর্কের মধ্যেও সীমানা নির্ধারন করে মেপে ধীরে ধীরে আগাবেন। ঈগল পাখী থেকে আমাদের নতুন করে অনেক কিছু শেখার আছে। এতো উচুতে উঠেও ঈগল তার মানসিক চাপকে সাভাবিক রাখে। প্রচন্ড ঝড়ের মধ্যেও সে মনোবল না হারিয়ে বরং ঝড়ের শক্তিকে সে নিজের অনুকুলে নিয়ে আরো দ্রুত গতিতে ভেসে চলে। জীবনটাকে বদলাতে সবচেয়ে বড় দরকার-সংকল্প। পরিকল্পনা করার আগেও একটা প্রি-পরিকল্পনার দরকার হয়। যদি একা চলতে ভয় পান, তাহলে নিশ্চিত থাকুন যে, আপনি অর্ধেক হেরে বসে আছেন। কেউ আপনাকে জিতিয়ে দিতে এগিয়ে আসবে না কখনো। তাই, একা চলবার মানসিকতায় ভরষা করুন। যদি প্রচেষ্টার বনাম পারফেক্ট চাই, তাহলে লাগাতার না থেমে সমস্যার মোকাবেলা করুন। সমস্যার সামনে হাটু গেড়ে আত্তসম্পর্পন না করে সেগুলিকে ভিত্তি করে সমাধানের পথ খুজে ভবিষ্যতের দিকে এগিয়ে যান।

ছোট ছোট সাফল্যের দিকে হাটুন, প্রতিদিন সাফল্যের দিকে নজর রাখুন। হয়তো অনেকদিন কোনো ভালো খবর পাবেন না, মনে হবে থেমে গেছেন, মনে হবে কিছুই হচ্ছে না, তবুও হাল ছাড়বেন না। লেগে থাকুন। জট খুলবেই। আর একবার যখন জট খুলে যায়, পরপর সব জট খুলতে থাকে। বারবার ওপিনিয়ন পালটাবেন না। তাতে স্ট্যাবিলিটি থাকে না। একই সাথে কয়েকটা সেক্টরে মনোযোগী হবার দরকার নাই, তাতে কোনোটাই সাফল্যমন্ডিত হয় না। আগে একটাকে সফল করুন, হোক সেটা নিতান্তই কোনো ছোট ব্যবসা বা কর্ম। সব সময় সেভিংস মুডে থাকুন, আপনি লক্ষ্যে পৌছবেনই। যতটুকুতে আপ্নার চলা সম্ভব, ততটুকুর মধ্যেই সীমাবদ্ধ থাকুন। অযথা খরচ বাড়িয়ে অসমতা আনবেন না। প্রতিদিন লেগে থাকুন, লস বা লাভ যাইই হোক। কেনো লস হবে আর কেনো লাভ হচ্ছে, এর মধ্যে অবস্থার বিশ্লেষণ করুন।

আপনার উন্নতি হবেই। আর যখন একবার উন্নতি হওয়া শুরু করে, ছাড়বেন না, লেগে থাকুন আরো কঠিনভাবে। আপনার গল্প পরিবর্তন হওয়া শুরু করবেই। অতঃপর একদিন, গল্পটা আপনার শুধু।

২৪/০৮/২০২৫-ডিপ্রেশন ছাড়া কেউ নাই

অতীব সুখী মানুষও কখনো কখনো ডিপ্রেশনে ভোগে। ডিপ্রেশন ছাড়া কোনো মানুষ নেই। কেউ না কেউ কোনো না কোনো ধরনের ডিপ্রেশনে কোনো না কোনো সময় ভোগেই। কিন্তু কেনো এই ডিপ্রেশন?

পছন্দ আর ভালভাসার মধ্যে পার্থক্য আছে। পছন্দ হলো রেডিমেড একটা ফুল গাছ থেকে একটা ফুল ছিড়ে নেয়ার মতো, আর ভালবাসা হচ্ছে সেই ফুলগাছটায় আপনি প্রতিদিন পানি দিয়ে তাকে সতেজ রাখার মতোন।

মানুষকে চেনা আর জানার মধ্যে অনেক পার্থক্য থাকে. মানুষ চেনার সহজ উপায় হচ্ছে- তার মুল্যটা বুঝা। মানে পয়েন্ট অফ ইন্টারেস্ট বের করা।

কোনো কোনো ঘটনা মাঝে মাঝে মানুষ মনে করে-জীবনটা বুঝি বরবাদ হয়ে গেলো, জীবনটা মনে হয় তছনছ হয়ে গেলো। কিন্তু মানুষ কখনোই এটা ভাবে না যে, সামনের দিনগুলি হয়তো আরো কঠিন থাকতে পারে। ফলে কেউ কেউ আজকের দিনগুলিকে ইনভেষ্ট করে এমনভাবে যেনো সামনের দিনগুলিকে মোকাবেলা করতে পারে। যদি সত্যিই কঠিন হয়, তাহলে তো মোকাবেলা করলোই, আর যদি কঠিন সময় না আসে, লাইফ আরো সুন্দর, আরো বিচিত্রময়।

কেউ কখনোই মানুষকে এটা বলতে চায় না, “চিন্তা করো না, আমি আছি তো!!”। একটা মানুষের জীবনে গোপনে হোক, প্রকাশ্যে হোক, ” আমি আছি তো” এমন একটা বন্ধু যে কত জরুরী। এই জরুরী বন্ধুটার প্রয়োজনীয়তা সামনে আসে তখন যখন মানুষের আর কিছুই থাকে না। রুপ, যৌবন, কাম, ভালোবাসা, কিংবা লুকুচুরির ভালোবাসা আর তখন কিছুই এসেট বলে মনে হয় না। অথচ তখনই ওই মানুষটার প্রয়োজন।

স্বামী বা সন্তান, স্ত্রী বা মেয়ে/ছেলেই যে আজীবন পাশে থাকবে এতার কোনো গ্যারান্টি নাই। থাকেও না। এমন কেউ হয়তো হতে পারে, যার কাছে আমরা কখনো দায়বদ্ধ নই আবার দায় বদ্ধও বটে।

২২/০৮/২০২৫-ধনী কিংবা গরীব, কোনো মেয়ের একবার যদি বিয়ে

ধনী কিংবা গরীব, কোনো মেয়ের একবার যদি বিয়ে হয়ে যায়, তাহলে সমাজ তার কাছ থেকে বাচ্চা হবার একটা সুখবর পাওয়ার জন্য উদ্গ্রীব হয়ে যায়। স্বামী কিংবা স্ত্রী তাদের এই সময়ে সন্তান চাই বা না চাই সেটা যেনো কোনো মুখ্য ব্যাপার নয়। আর যাদের সন্তান হয় না তাদের কষ্টটা শুধু তারাই বুঝেন যাদের এই কষ্টটা হয়েছে। বিধাতারও এই রীতিটা এমনভাবে তিনি জাল পেতে রেখেছেন যে, মানব-মানবী না চাইলেও অনাগত মানব সন্তান (অন্য প্রানির বেলাতে আমি কিছু বলছি না) এই পৃথিবীতে আসবেই। তা না হলে জীবন চক্রটাই হয়তো একদিন থেমে যাবে। বিধাতা সেই চক্রকে কখনো থামাতে দেবেন না, এতাই তার রুলস।

কিন্তু এই সন্তান যখন ভূমিষ্ঠ হয়, পিতা মাতা তাদের সমস্ত আদর, কলিজার সমস্ত শক্তি দিয়ে প্রানপন চেষতা চালিয়ে যান যেনো তার সন্তান থাকে হেফাজতে, দুধে ভাতে এববগ গড়ে উঠে সমাজে একজন সেই মানুষ হিসাবে যা দেখে অন্যরা পুলকিত হয়, সমাজ আলকিত হত হয় আর ধরনী হয় বিকশিত। কিন্তু বাস্তবে সেটা সব সময় পরিলিক্ষিত হয় না।

এমনই একটা জীবন নিয়ে চলে গেছে জলীল মামা, এই কয়েকদিনের মধ্যে হয়তো চলে যাবেন তার স্ত্রী তাহেরা বেগমও। ১৮ জন সন্তানের বাবা মা তারা। এর মধ্যে অর্ধেকের বেশী সন্তানরা থাকেন দেশের বাইরে, জিবিকার প্রয়োজনে। তাদের সেই জীবিকার প্রয়োজন কতটা মিটছে সেটা তারাই ভাল বলতে পারবেন কিন্তু যখ তাদের বৃদ্ধ বাবা মায়ের দেখভালের ব্যাপারটা সামনে আসে, তখন যে চিত্র ফুটে উঠে তাতে এটাই মনে হয় যে, তারা অন্যকে সাহাজ্য করবে কি তো দূরের কথা, তাদেরই এখন আরো বেশি সাহাজ্য লাগবে। তারা কোনোভাবেই তাদের বাবা মাকে সাহাজ্য করতে পারেন না। ফলে এই বৃদ্ধ বয়সে এসে জলীল মামা বা মামী কখনো অর্ধহারে, কখনো অনাহারেই দিন গুলি পার করেছেন। স্বামী স্ত্রীর মধ্যে খাবারের কারনে ভাগাভাগি হয়েছে জীবন সন্তানদের কাছে। আজ ওর বাড়িতে বাবা, মার খাবার হয়তো অন্য ছেলের ঘরে। যখন অসুস্থ্য হয়, তখন জীবন হয়ে উঠে আরো দূর্বিসহ। কে কাকে কখন কোথায় নিয়ে যাবে, তার কনো ধরাবাধা নিয়ম নাই। মার চিকিৎসায় বেশী টাকা লাগবে বলে বাবার সমান চিকিতসার খরচে যতটুকু রোগ সারে সেতাই যেনো বাস্তবতা।

যদি এটাই হয়, তাহলে এতো আদর করে, এতো চাহিদার আক্ষেপে কেন সন্তান নেওয়া? এই সন্তানদের জন্য নিজেদের যৌবন নষ্ট করেছেন, এই সন্তানদেরকে সাবলম্বি করার জন্য নিজেদের সবটুকু চাহিদা বিসর্জন দিয়েছেন, অথচ আজ সেই সন্তানরা তাদের জন্য কিছুই করার দরকার মনে করে না? অসময়েই তারা চলে যায় এই দুনিয়া থেকে।

জীবন খুব ছোট। এটার দ্বিতীয়বার পাওয়ার আর কোনো প্রকারের সুযোগ নাই। এই ছোট একটা জীবনে মানুষ বেশিরভাগ আনন্দ, ইচ্ছাপুরন ছারাই বিদায় নেয়। একদিন নিশ্চয়ই আমি আনিন্দ করবো, একদিন নিশ্চয়ই আমি জীবন উপভোগ করবো, এই আশায় প্রতিদিন মানুষ বেচেছিলো বটে কিন্তু কখনই তার সেই কাংখিত আশা পুরন হয়নি। কিছু পুরন হয়নি টাকা পয়সার অভাবে, কিছু পুরন হয়নি সঠিক মানুষের অভাবে, কিছু পুরন হয়নি সঠিক পরিস্থিতির অভাবে। যার টাকা ছিল, তার সঠিক মানুষ হয়তো ছিলো না, যার সথিক মানুষ ছিল, তার হয়তো পরিস্থিতি অনুকুলে ছিলো না। এভাবেই সময়তা পার হয়ে গেছে।

২১/০৮/২০২৫-ভুল পথে গিয়ে

ভুল পথে গিয়ে ফিরে আসারও একটা সময় থাকে। সেই সময়টাকে যদি কেউ গুরুত্ব না দেয়, আর তাতে কেউ যদি ভুল পথ থেকে ফিরেও না আসে, তাহলে পরিনতি ভয়াবহ খারাপ হয়। একটা ভুল পথে যাওয়া মানুষকে সমাজ, পরিবার কিংবা দেশ ভুল পথ থেকে ফিরে আসার কারনে অভিনন্দন জানিয়ে গ্রহন করলেও তাকে সর্বদা একটা নির্দিষ্ট সময়কাল অবধি আড়চোখে রাখতেই পারে। কেননা খুব সহজেই মানুষ আবারো সেই ভুল পথে ধাবিত হতেই পারে ভেবে মানুষ ভয় পায়।

২০/৮/২০২৫-ক্যাডেট ৭৯২ আমজাদ মারা গেলো

সেই ১৯৭৭ সালের কথা। আমরা ১৯ শে জুন কতিপয় নাবালক কিছু বালক (৫৫ জন) মোমেমশাহি পরবর্তীতে মির্জাপুর ক্যাডেট কলেজে পদার্পণ করেছিলাম। এই ৫৫ জন বন্ধুরা হয়ে উঠেছিলাম যেনো একেকটা একেকজনের জন্য নিবেদিত প্রান। সময়ের স্রোতে আমরা প্রায় ৬ বছর একসাথে থাকার পর ১৯৮৩ সালে ক্যাডেট কলেজের শিক্ষাক্রম শেষ করে বৃহত্তর জীবনে বেরিয়ে গিয়েছিলাম দেশের আনাচে কানাচে। কেউ সামরীক বাহিনী তে কেউ মেডিক্যাল, কেউ বুয়েট, কেউ নেভী, কেউ বা ইউনিভার্সিটিতে। কখনো কখনো কারো সাথে দেখা হয়েছে আবার কখনো কখন দলবদ্ধভাবে আমরা নির্দিষ্ট দিনকাল ঠিক করে একত্রে আড্ডা দিয়েছি। আমাদের ব্যাচের প্রথম ক্যাডেট ছিলো আমজাদ। যথারীতি আমরা গুটিকতক ক্যাডেট মুটামুটি সব সাবজেক্টেই পরীক্ষা দিয়েছিলাম। সেই মোতাবেক আমজাদ চান্স পেয়েছিলো মেডিক্যালে। আমিও পেয়েছিলাম কিন্তু পড়তে ইচ্ছে করে নাই বিধায় আর মেডিক্যাল পড়া হয় নাই। আমাদের ব্যাচ থেকে আমজাদ হোসেন (৭৯২, জাহিদ হোসেন (৭৯৩), বাহাদুর আলী (৭৯৪), আফজাল হোসে (৮১৪), হাসান আশরাফ মামুন (৮৩৬), মামুন (৮৩৮), সাইফুল ইসলাম (৮৩৯), মনজুর মাহমুদ (৮৪৪) এরা মেডিক্যালে পরাশুনা করা শুরু করে।  আর বাকীরা বিভিন্ন ক্যাটেগরীতে বিভক্ত হয়ে যার যার ক্যারিয়ার তৈরী করে।

আজ আমাদের সেই প্রথম ক্যাডেট আমজাদ হোসেন ইন্তেকাল করলো।

আমজাদের সাথে আমার সেই ১৯৮৩ সালের পরে আর কখনো দেখা হয় নাই। ওর মৃত্যুর খবর যখন আমাদের হোয়াটসআপ গ্রুপে এলো, তখনই আমি আমজাদের লেটেষ্ট ছবিটা দেখলাম। অদ্ভুত পরিবর্তন আমজাদের। দেখেই ওকে রোগা মনে হচ্ছিলো। তাহলে আমজাদ কি ওর জীবনে সুখী ছিলো না? কিংবা আমজাদ কি কোন কারনে অসুখী ছিলো?

আমজাদ বরাবরই খুব চাপা স্বভাবের ছিলো। কলেজেও খুব একটা কথাবার্তা বলতো না। খুব বেশী একটা এম্বিশনওয়ালা মানুষ ছিলো না আমজাদ। শুনেছি ওর দুটু সন্তান আছে। একজন মেয়ে আর আরেকজন ছেলে। আমি আজই প্রথম জানতে পারলাম আমজাদের ছেলে একজন ইঞ্জিনিয়ার আএ মেয়েও টেকশটাইল ইঞ্জিনিয়ার। ওর মেয়ের নাম কনা আর ছেলের নামটা আমি এখনো জানি না। আমজাদ নাকি কদিন যাবত বুকে ব্যথা নিয়ে ছিলো। নিজে ডাক্তার, তাই আজই সে হার্ট ফাউন্ডেশনে ভর্তি হয়েছিলো বুকে ব্যথা নিয়ে কিন্তু শেষ রক্ষা হয়নি।

আমাদের ব্যাচের মোট ৫৫ জন ছাত্রের মধ্যে আমজাদকে সহ ইতিমধ্যে মোট ৫ জন ক্যাডেট বন্ধু এই দুনিয়া ত্যাগ করেছে। আর এরা হলো

আমজাদ, আফজাল, লুতফর, সাহেল এবং শাহিন।

সর্ব প্রথম ইন্তেকাল করে শাহি, আমেরিকায়, তারপর ইন্তেকাল করে আফজাল, অতঃপর ইন্তেকাল করে সাহেল, লুতফর মারা যায় বিডিআর কিলিং এ, আর এখন মারা গেল আমজাদ। এভাবেই আমরা একে একে এই দুনিয়া ত্যাগ করে চলে যাব। আর ফিরে আসা হবে না।

৭/৮/২০২৫-ফরিদ ভাই মারা গেলেন

আমেরিকায় বেরাতে গিয়ে ভার্জিনিয়ায় ফরিদ ভাইকে দেখতে গিয়েছিলাম আর সেই কাহিনীর কিছু অংশ ৪/৭/২০২৫ তারিখে আমার ডায়েরীতে লিপিবদ্ধ করেছিলাম। সেই ফরিদ ভাই গতকাল বাংলাদেশ টাইম সন্ধ্যা ৫ টায় আর আমেরিকার টাইম ভোর ৪ টায় মারা গেছেন (ইন্না নিল্লাহে ওয়া ইন্না ইলাহির রাজেউন)। বাংলাদেশে তিনি আমার প্রতিবেশী ছিলেন। এটাই মানুষের জীবন। সবার চেয়ে সত্য যে, মানুষ একদিন এই পৃথিবী ছাড়বেই। সে যেইই হোক, যত ক্ষমতশীলই হোক আর যত প্রতিপত্তী থাকুক তার, কোনো কিছুর বিনিময়েও সে এই দুনিয়ায় থাকতে পারবে না। নির্ধারীত সময়ে তাকে চলে যেতেই হবে।

মানুষ কত অসহায়। ভূমিষ্ঠ হবার পর যেমন মানুষ অসহায় থাকে, কোনো কিছুই করার তার ক্ষমতা থাকে না। গরু ছাগলের বাচ্চারা তবু ভূমিষ্ঠ হবার পর পরই নিজের পায়ে দারাতে পারে, মায়ের দুধের বোটা গুলি কই খুজে বের করতে পারে, কোন বিপদের সম্ভাবনা থাকলে একাই দৌড়ে অন্যত্র পালিয়ে যেতে পারে কিন্তু মানুষের সন্তান কন কিছুই বুঝে না, করতে পারে না। সে এতোতাই অসহায়। সেই মানুষগুলিই আবার সময়ের স্রোত পার করে করে শিশু থেকে কৈশোর, কৈশোর থেকে যুবক এবং অতঃপর ক্ষমতাধর মানুষে পরিনত হয়। অথচ আবারো সময়ের স্রোত ধরেই সে একদিন এমন একটা সময়ে এসে হাজির হয় যে, তখনো সে একেবারেই অসহায় বনে যায়। কাইট্টা লামু, মাইরা লামু, দেইখ্যা লমু কিংবা কাউকে ঠকিয়ে বিশাল প্রতিপত্তওয়ালা হলেও সেই অসহায় সময়টায় মানুষ একেবারে একা। কোনো সম্পদ, কোনো পতিপত্তি কিছুই আর কাজে লাগে না। মানুষ অবশেষে সব ছেড়ে চলেই যায়। এটার থেকে এতো কষ্টের কাহিনী আর কিছুই নাই।

ফরিদ ভাইয়ের পরিবারটা অনেক ভালো মানুষ ছিলো। আমার সবচেয়ে কাছে প্রতিবেশি ওনারা। ফরিদ ভাই, মিজানুর রাহমান ভাই, ভাবীরা, তাদের বাচ্চারা অত্যন্ত ভাল একটা পরিবার। ফরিদ ভাই সবাইকে ছেড়ে চলে গেলেন।

কখন আমরাও চলে যাই তার কোনো ঠিক ঠিকানা নাই। আল্লাহ ফরিদ ভাইকে জান্নাতবাসী করুন।

৬/৮/২০২৫-গুছিয়ে আসছে প্রায়

প্রায় ২ বছর আগ থেকে আমি প্রিপারেশন নিচ্ছি, গুছাচ্ছি। আমার এই বয়সের অনেকেই, এমন কি আমার থেকেও অনেক কম বয়সী মানুষেরা, বন্ধু বান্ধবেরা কিংবা চেনা পরিচিত লোকেরা এই দুনিয়ার মায়া চিরতরে ত্যাগ করে অন্যত্র চলে গেছেন। তাদের কতটুকু প্রিপারেশন ছিলো আমার জানা নাই, তবে যেটা মনে হয় সেটা হলো তারা হয়তো বেশীরভাগ মানুষেরাই সুস্থ্য পরিকল্পনামাফিক কোনো গুছানোর কাজগুলি করে যেতে পারেন নাই। আমি গুছানো বলতে যেটা বুঝাচ্ছি সেটা হল-

(ক)      আমি চলে যাওয়ার পর সর্বপ্রথম আমার সাথে জড়িত মানুষগুলি, যেমন আমার পরিবার, পরিবারের সদস্যগুলির জন্য আমি কি সেইসব কাজগুলি করে গেলাম কিনা যাতে ওরা আমার অনুপস্থিতিতেও কারো কাছে হাত না পাতে, অসহায় ফিল না করে, মানুষের কাছে অসম্মান না হয়? বা এমন কোনো লায়াবিলিটিজ কি রেখে গেলাম যাতে ওরা আমার কারনে সমাজে হেয় হয় কিংবা আমার বোঝা তাদের উপর পড়ে? আমি এগুলি নিয়েই সর্বপ্রথম প্রিপারেশ নিয়েছি। আমি প্রিপারেশন নিয়েছি যাতে আমার কারনে কিংবা আমার ব্যবসার কারনে কিংবা ওদেরকে সাবলম্বি করতে গিয়ে ওদের উপর কোনো প্রকার বোঝা না দিয়ে যাই বা বোঝা না পড়ে, ওরা যেনো একদিকে সাবলম্বি হয়, আবার অন্যদিকে ওরা যেনো আমার অনুপস্থিতিতেও ঠিক থাকে ঠিক সে রকম যে রকম আমি ওদেরকে আমার জিবদ্দশায় রেখেছিলাম। ইতিমধ্যে আমি সব কিছু হিসাব করে দেখেছি যে, ব্যাপারটা আমি প্রায় ইনশাল্লাহ গুছিয়ে ফেলেছি।

কিভাবে গুছিয়ে ফেলেছি বা ফেলছি সেটা হল-

(ক)      উম্মিকার শশুড় বাড়ির তাদের নিজেদের সবগুলি লোন ক্লিয়ার করে দিয়ে মাছের ব্যবসাটায় একটা বড় ধরনের মুলধন জোগান দেয়া হয়েছে, যা দিয়ে উম্মিকার শশুড় বাড়ির মানুষেরা ভালোভাবে চলতে পারবে। তাছাড়া ওদের বাড়িটারও কিছু কাজ করে দেয়া হয়েছে যতটুকু ওদের দরকার। এতে উম্মিকার শশুড় বাড়ির সবাই নিরাপদ একতা সোর্স অফ ইনকামের মধ্যে শান্তিতে বসবাস করতে পারবে।

(খ)       আবিরের জন্য আর উম্মুকার জন্য দুটু হাসপাতালের শেয়ার নেয়া হয়েছে। লাল্মাটিয়া শিশু হাসপাতাল এবং শ্যামলিতে বেবী কেয়ার ইউনিট। আপাতত জবের পাশাপাশি ওরা এই দুটি হাস্পাতাল নিয়ে ভালই চালাচ্ছে। সাভার ডিওএইচএস এ ২টি ফ্ল্যাট কেনা হয়েছে দুই মেয়ের নামে। যদি কোন কারনে ওদের এক্সট্রা টাকা পয়সাও লাগে, নিজেদের বাড়ি (গোলারটেকের) বাইরে ওই ২টি ফ্ল্যাট ইচ্ছে করলে বিক্রি করে লিকুইড মানি করতে পারবে। এ রকম আরো আছে যেমন ফ্যাক্টরী শেয়ার, এম্ব্রয়েডারীর আলাদা ব্যবসা, মা লিমিটেডের ভাড়া, চান্দের চরের জমি, মোহাম্মাদপুরের শহীদ ক্যাডেট একাডেমি ইত্যাদি সবই এসেট হিসাবে থাকলো। আমার মেয়েদের এবং স্ত্রী কোনো অসুবিধা হবার কথা নয় ইনশাল্লাহ।

(গ)       কনিকার ব্যাপারে আমি যেটা করেছি সেতা হলো ওকে আমেরিকায় ভালো একটা ইউনিভার্সিটিতে পড়াশুনা করিয়েছি। ইতিমধ্যে কনিকা একটা জব করছেভ আমেরিকায়। বেতন ভালই পায়। এখন সমস্যা হচ্ছে-কনিকা আমেরিকায় পার্মানেন্টলী থাকতে পারবে কিনা। এটা একটা আন্সার্টেন বিশয় কিন্তু সে যদি জব বেজড ভিসা পেয়ে যায় তাহলে থাকা নিয়ে কোনো ঝামেলা নাই। আর যদি জব বেজড ভিসা না পায় তাহলে কনিকাকে বিয়ে করে থাকতে হতে পারে। জব বেজড ভিসার জন্য আমি ছোট ভাইকে সররপ্রকার ডলার জোগান দিয়েছি যাতে ছোট ভাই তার দোকানের মারফত কনিকাকে জব বেজড ভিসার ব্যবস্থা করতে পারে। ব্যাপারটা প্রক্রিধীন আছে। জানিনা ট্রাম প্রশাসন শেষ পর্যন্ত কোথায় কোন পলিসি কিভাবে বাস্তবায়ন করে। দ্বিতীয় বিকল্প বিষয়টা হচ্ছে-কনিকা একটা ছেলেকে পছন্দ করে। আমেরিকান কিন্তু ক্রিষ্ঠান। নাম ব্রেডি স্মিথ। ছেলেটার সাথে, ওর মা রবার্থার সাথে আমেরিকায় যাওয়ার পর কয়েকবার একসাথে কথা হয়েছে, খাবারও খেয়েছি। খারাপ লাগেনি। যতগুলি শর্ত দিয়েছি, সব গুলি শর্তই ওরা মেনে নিয়েছে। মুসলমান হতে হবে এটাও মেনে নিয়েছে (আলহামদুলিল্লাহ)। যদি ব্রেডির সাথে কনিকার বিয়ে হয়, তাহলে কনিকা আমেরিকায় থেকে যেতে পারবে ইনশাল্লাহ। সেক্ষেত্রে কনিকার জন্য আমার একতা কাজ থাকবে, তা হলো-কিনিকার বাড়ি কেনার জন্য একটা এমাউন্ট ডলার দেয়া। এর মধ্যে কনিকার কাছে আমার ৪০ হাজার ডলার দেয়া আছে, আমি আরো ৬০ হাজার ডলার দিতে চাই কনিকাকে। যদি সেতা হয়ে যায় ইনশাল্লাহ, তাহলে কনিকার ব্যাপারটাও আমার আর চিন্তা করার কোনো দরকার পড়বে না। আমার কাছে ওই পরিমান টাকা এখনই আছে যা আমি কনিকাকে দিতে পারি। যেহেতু কনিকার বিয়ে হয় নাই, তাই বিয়ের খরচ এবং কনিকার জন্য বরাদ্ধ টাকা আমি কনিকার বিয়ের পরেই দিতে চাই ইনশাল্লাহ।

মিটুলের জন্য আমার অতিরিক্ত কিছু করার দরকার নাই আপাতত। মিটুলের নিজের কাছে বেশ কিছু টাকা জমানো আছে, তাছাড়া ওর পেনসনের পর বিশাল একটা টাকা সে পাবে। বাড়ি আছে, ভাড়া পাবে, মিটুল ইনশাল্লাহ ভালোভাবেই চলতে পারবে, কোনো অসুবিধা হবে না।

আমার কোথাও কোনো ঋণ নাই, কোথাও কোনো লায়াবিলিটিজ নাই। বরং আমার কাছে অনেকেই ঋণী হয়ে আছে। যদি তারা সেসব ঋণ আমার পরিবারের কাছে পরিশোধ করে, সেটা উত্তম। আর যদি না করে, আমি দাবী ছাড়ছি না, এটা তাদেরকে পরকালে সুদে আসলে আমাকে পে করতে হবে।

(খ)       দ্বিতীয় প্রিপারেশনটা হচ্ছে, আমার ম্রিত্যুর পর আমি জানি হয়তো কিছুদিন কিছু সংখ্যক মানুষ, আত্মীয়স্বজন কিংবা খুবই কাছে কেউ আমার জন্য হয়তো দোয়া করবে, আমার নামে আল্লাহর কাছে সদ্গায়ে জারিয়া হিসাবে বছরে ভরে কিছু দান খয়রাত কিংবা মিলাদ মাহফিল করবেন। এই ব্যবস্থাটা খুব শক্তিশালী নয়, কারন এটা খুব অচীরেই এক সময় ম্লান হয়ে যাবে এবং তার কিছুসময় পরে একেবারেই বন্ধ হয়ে যাবে। একটা সময় আসবে, যে, আমি যে এই পৃথিবীতে ছিলাম, এই কথাটাই মানুষ ভুলে যাবে। আর ভুলে যাওয়া মানুশের জন্য অন্যরা কেউ কিছু করেনা। এটা মানুষের দোষ না। আমিইবা আমার পরিবারের শতবর্ষের আগের কোন মহিয়সীকে মনে রেখেছি? আমি তো তাদের কারো নামই জানি না। আমি কি তাদের কারো নামে স্পেশাল জোর দিয়ে কোনো মিলাদ, দোয়া মাহফিল করেছি? করি নাই। তাহলে আমি কিসের জোরে বা কিসের কারনে এটা আশা করতে পারি যে, শতবর্ষ পরে আমার কনো জেনারেশন আমার জন্য এ রকমের মিলাদ মাহফিল কিংবা দোয়া দরুদ পড়বে? পড়বে না। অথচ আমার কিয়ামাত আসার আগ পর্যন্ত আমার নেকী চাই। কিন্তু আমার মৃত্যুর পরে তো আমার নেকী কামানোর সিস্টেমই বন্ধ হয়ে গেছে। তাহলে আমার মৃত্যুর পর আমি অতিরিক্ত নেকী পাব কই? আর ঠিক এ কারনেই আমি মনোস্থির করেছিলাম যে, আমি এমন একটা এমাউন্ট টাকা ওয়াকফা করবো যেখান থেকে প্রতিমাসে একটা লাভ আসে এবং সেই লাভ গুলি বিভিন্ন মাদ্রসা, এতিমখানা, কিংবা জন কল্যানে ব্যয় হয়। আর এই কাজটা আমাদের পরিবারের কেউ করার সময় তারা পাবে না। এজন্য আমি ভেবেছি এটা করবো কোন ব্যাংক মারফত। তাতে আজীবনকাল এই লাভ গুলি নির্দিষ্ঠ জায়গা মতো চলে যাবে আমার মৃত্যুর পরেও।

আমি এখন যেভাবে কাজ করে যাচ্ছি-যেমন রিভার সাইডে, সমস্ত কার্যকলাপ আমি শতভাগ মনিটর করি। আগে যেটা আমার পার্টনার মূর্তজা সাহেব করতেন, সেটা এখন আমি করছি। আসলে মূর্তজা সাহেব আমাকে সম্ভবত কখনোই বিশ্বাস করতেন না, আর তিনি ভাবতেন, আমি কিছুতেই ফ্যাক্টরী চালাইতে পারবো না। ফলে একচ্ছত্র একটা ক্ষমতার পাওয়ার হাইউজ মনে করতেন তিনি। আর এই পাওয়ার হাউজ থেকে তিনি ভাবতেন-যা খুশী করা যায়, আর সেটাই উনি করেছেন। তার মধ্যে সব সময় একটা খাই খাই ভাব ছিল। পুরু রিভার সাইড ফ্যাক্টরীটা উনারা মনে করতেন যে, এটা ওনাদের বাপের সম্পত্তি। মিযান ব্যবসা করতো এক্সেসরিজের আর লাভ করতো বছরে এক কোটির উপরে। যেটা আমিও পেতাম না। তার মামাতো ভাই লাদেন (মামুন) এক নাগাড়ে অযথাই টাকা নিতো ফ্যাক্টরী থেকে ভুয়া একতা লিংকিং ইউনিট সাজাইয়া এবং লেফট ওভারের ব্যবসা করে। তার দুলাভাই আরো একটা ব্যবসা করতো যেটার কোনো কন্ট্রোল ছিলো না। তার বড় ভাই মোস্তফা দাদা আমাদের ফ্যাক্তরিতে ক্যামিকেল সাপ্লাই দিতো যা শুধু পানিই ছিলো অথচ প্রতিমাসে সে লাভ নিতো প্রায় ৬ লাখ টাকা। তার চাচা শশুর সাঈদ কাকু একজন সার্জেন্ট পদমর্যাদার। ফ্যাক্টরিতে জিএম পদে কাজ করে জাষ্ট নামেমাত্র। বেতন পায় প্রায় ৮০ হাজার। তার শ্যালক একটা ছত খাটো লিংকিং ফ্যাক্তরী দিয়ে নন কোয়ালিটি কাজ দিয়ে লাখ লাখ টাকা হাতিয়ে নিচ্ছে। তার স্কুল শিক্ষকের ছেলে নাহিদকে পারচেজ অফিসার হিসাবে নিয়গ দিয়ে ফ্যাক্টরিতে একটা সিন্দিকেট বানিয়ে ফেলেছে। শুধু তাইই না, তার প্রতিবন্ধী শ্যালক এজেড এ কাজ করে ঊন্ডিং এ, তার আপন ভাইগ্না মারজান কাজ করে মার্চেন্দাইজার হিসাবে, তার আরেক রিলেটিব দিদার কাজ করে এডমিনে, প্রোগ্রামিং সেকসনে কাজ করে ওনার চাচা শশুরের ভাতিজা। এ রকম আরো অনেক আত্মীয় সজনে ভর্তি এই ফ্যাক্তরি। আবার নিজের শেয়ার থেকে ১৫% শেয়ার তার স্ত্রীকে দিয়ে স্ত্রী অফিসে আসবে না, তারপরেও তাকে মাসে ৩ লাখ টাকা করে বেতন নিতেছিলো। এ জেড এ তার কিছুই নাই এখন, এক সময় সেই এ জেড তার কিছু ম্যানুয়েল মেশিনারিজ দিয়ে আমাদের রিভার সাইডের সাথে মার্জ করেছিলো বিধায় প্রতি মাসে আরাই লাখ করে লাভ নিতো। পরবর্তীতে এ জেডে সব অটোমেটিক মেশিনারিজ দিয়ে সাজানো হলে উনি ওনার সব পুরানো মেশিনারিজ বিক্রি করে দেন। তখনো উনি সেই আড়াই লাখ করে প্রোফিট নিতেই থাকেন। কি একটা অবস্থা। শুধু তাইই না, ঊনার ফ্ল্যাট কেনা বাবদ রিভার সাইড এক কালিন ৬০ লাখ টাকা পে করেছিল, সেই টাকাটাও আজ অবধি উনি পে ব্যাক করেনি। পলাশ পুরে উনি জমি কিনেছিলেন, সেই টাকাটাও উনি রিভার সাইদ থেকে নিয়েছিলেন। সেটাও পে ব্যাক করেন নি। লাক্সমা ফ্যাশনে আমরা রিভার সাইড থেলে অনেক টাকা পে করেছিলাম, আমার মনে নাই উনি সেই টাকাগুলু আজো হয়তো পে ব্যাক করেন নাই। তবুও তার ক্রিতজ্ঞতা নাই। সে নিজেও বেনামিতে সে কিছু ব্যবসা করা শুরু করেছিল, যেমন ২২ ফ্রেশ, স্তায়ল্টেক্সের সাথে কমিশন বানিজ্য ইত্যাদি।

এই সব কিছু বন্ধ করে দিয়েছি শুধু ফ্ল্যাট আর পলাশপুর জমির টাকাটা এখনো পে ব্যাক করাইতে পারিনি। এগুলি থাক হাতে, গুছিয়ে ফেলবো ইনশাল্লাহ।

৩/৮/২০২৫-প্রাত্যাহিক জীবনের পরিবর্তন

গত জুন ২০২৫ মাসে আমেরিকা থেকে দেশে ফেরার পর আমি আমার গত ২০ বছরের প্রাত্যাহিক জীবনের অনেকগুলি রুটিন একেবারেই পরিবর্তন করে ফেলেছি। জীবনের মুল্যবোধ, জীবনের চাহিদা, আশা আখাংকার মধ্যে একটা ব্যারিয়ার তৈরী করে এতে নতুন কিছু শর্তাবলী যোগ করে ফেলেছি। আমার এখন সবচেয়ে বড় চাহিদাটা হচ্ছে-একটা সার্টেন এমাউন্ট অফ টাকার ব্যালেন্স এমনভাবে তৈরী করা যাতে ব্যবসা, কিংবা অন্য কোনো সোর্স থেকেও যদি টাকা না আসে, তারপরেও আমার সেই সার্টেন এমাউন্ট অফ টাকার লভ্যাংশ থেকে এমন কিছু টাকা আসবে যেটা দিয়ে আমার সবকিছু খুব সহজে সামাল দেয়া সম্ভব। এ ব্যাপারে অনেকটাই সাফল্য চলে আসছে ইনশাল্লাহ আমার। হয়তো এই বছরের শেষের দিকে আমার এই পরিকল্পনার ৬০% সমাপ্ত হয়ে যাবে।

ছোট মেয়ের ব্যাপারে সিদ্ধান্তটা যেহেতু ফাইনাল করেই ফেলেছি যে, ব্রেডির সাথে ওর বিয়ে দেবো, সেক্ষেত্রে এখন পরবর্তী পরিকল্পনাটা হচ্ছে-আগামি ডিসেম্বর মাসের মধ্যে ব্রেডির সাথে কনিকার বিয়েটা সম্পন্ন করা। এতে যে খরচটা হবে সেটা প্রায় ৫০% আগানো আছে। ডিসেম্বরের আগেই আমি ভাবছি পুরু ফাইন্যান্সটা আমি ইনশাল্লাহ জোগাড় করে কনিকার একাউন্টে পাঠিয়ে দিতে পারবো।

উম্মিকার বেলায়ো মুটামুটি ঠিক পথেই চলছে। ওদের ইন্ডিয়ায় ট্রিটমেন্টের জন্য প্রায় সবকিছুই চুড়ান্ত। এখন আল্লাহর রহমতে ওদের ঘরে একটা সুস্থ্য বাচ্চা হলেই আমার মনের সব নিয়ত আপাতত পুরা হয়। বাকিটা আল্লাহ জানেন। আবির আর উম্মিকার জন্য আপাতত বড় ধরনের কোনো বাজেটের দরকার নাই। মেডিক্যাল ইউনিট গুলি চলছে, মনে হয় আবির ভালো করবে। আবিরের বাবাও মাছের খামার নিয়ে আপাতত টেনশন ফ্রিতে আছে, ওদের বাড়িটাও করা হয়ে গেছে। সবকিছু মিলিয়ে কেউ অশান্তিতে নাই (আলহামদুলিল্লাহ)।

ফ্যাক্টরীতে আমার কন্ট্রোল এখন শতভাগ। মুর্তজা ভাই সম্ভবত আমাকে এবং তার সাথে ফ্যাক্টরীর অনেক স্টাফ (যেমন মার্চেন্ডাইজার, একাউন্টস, প্রোডাকশন স্টাফ ইত্যাদি) রা মনে করতো যে, আমি নাকি শুধু যাই আর আসি। কোনো কাজই সম্ভবত আমার নজরে নাই কিংবা বুঝি না। গত এক বছরে এই ফ্যাক্টরীতে যেসব পদ্ধতিগত পরিবর্তন এনেছি, সেটা মুর্তজা ভাই গত ২০ বছরেও আনতে সক্ষম হয় নাই।

১২/০৭/২০২৫-ভীষন একা একা লাগে

এ যুগের ছেলেমেয়েরা একেবারেই অন্যরকম। বুড়ো বাবা মায়ের পক্ষে এ যুগের সন্তানের উপর খুব একটা ভরষা করার মতো সুযোগ নাই। ওরা কখনো অতীব হিসেবী, কখনো অনেক চালাক কিংবা বোকা তো নয়ই। যখন ওরা দেশে থাকে, তখন ওরা বিদেশ যাবার জন্য অস্থির থাকে। যখন বিদেশ যায়, তখন ওরা আরেকটা দেশে ২য় শ্রেনীর সিটিজেন হয়ে বসবাস করতেও তাদের কোনো সমস্যা হয় না কিন্তু তারপরেও ওরা সুখে থাকে না। দেশে যখন থাকে, তখন এক গ্লাস পানিও ঢেলে খেতে চায় না। সব কিছু রেডিমেড চায়। কিন্তু যখন বিদেশে যায়, তখন তারা অন্যের কিচেনও পরিষ্কারে কোন আপত্তি নাই কারন সেটা না করতে পারলে মাসের খরচটাও হয়ত উঠবে না, তাই বাধ্য হয়ে করতেই হয়। যখন সংসার করে, তখন আবার আরেক বোঝাপড়া। বয়ষ্ক বাবা মাকে বিদেশে নিতে আগ্রহী হয় কেউ কেউ, সবাই না। যারা নিতে আগ্রহী হয়, তারা নিছক আসলে ঘরের কাজ কিংবা বাচ্চার দেখভাল করার জন্যই নিতে চায়। বাবা মাকে অধীর ভালোবেসে আসলে সেটা ঘটে না। কিন্তু তখন আবার আরেক সমস্যা সামনে আসে। নিজের সংসারের জন্য তাদের দরকার কারন বিনে পয়সায় পাওয়া খুবই ট্রাস্টেড মানুষ। কিন্তু তারাও তো বয়ষ্ক মানুষ। ফলে, বাবা মাকে বিদেশে নিয়ে রাখবে কিভাবে? তাদের তো এত সময় নাই হাতে। এতো সময় কই তাদের? আবার অন্যদিকে বাবা মা ভাবে, নিজেরা তো বুড়ো হয়ে গেছে। যদি তার ছেলেমেয়েরা তাদের সাথে থাকতো কিংবা যদি ছেলেমেয়েদের সাথেই ওনারা একসাথে থাকতে পারতেন, হয়তো শেষ বয়সের বিরম্বনা বা ভয় কিংবা হতাশাটা একটু কমতো!! কিন্তু বাচ্চারা যেমন অনেকেই দেশে থাকে না আবার যারা বিদেশে থাকে, তাদের সাথে বাবা মায়েরাও থাকতে পারেন না। আসলে বুড়ো বয়সে নিজেদের বলতে কেঊ থাকে না আর। এরা শুধু বেচে থাকে একা একা। তাই বুড়ো বয়স্টা খুব ভয়ের।

কম বয়স আর বেশী বয়সটার অনেক তফাত। কম বয়সে মনে হয় সব পারি, সব পারবো। কিন্তু বয়স যখন বেড়ে যায়, তখন বুঝা যায়, একা কিছুই করা যায় না। এমন কি একা থাকাই যায় না। ছেলেমেয়েদের উপর নির্ভর করতে ইচ্ছে করে, কি রকম একটা হেল্পলেস লাগে। যখন রাতে শুতে যায় কেউ, তখন যেনো একটা ভয় নিয়ে বিছানায় ঢোকে। যদি ঘুমের মধ্যে মাঝরাতে কোনো একটা অঘটন ঘটে যায়!! সব বুড়োরা যখন নিজেদের সময় কাটানোর জন্য কখনো হাটার ছলে বাইরে বের হয়, তখন প্রায় কিছুদিন পর পরই তাদের সংখ্যাটা কমতে থাকে। কেউ কেউ আবার বৃদ্ধাশ্রমেও চলে যায় ভগবানের কাছে যাবার আগে। কেনো জানি মাঝে মাঝে মনে হয়, পুরূ প্রিথিবীটাই একদিন ব্রিদ্ধাস্রম হয়ে যাবে।

কি অদ্ভুত আমাদের জীবন। আমরা সবাই জানি-একদিন আমি আর থাকবো না। এটা এতো ধ্রুব সত্য যে, এটাকে কেউ কোনো ক্যারিশমা দিয়ে, কোনো মন্ত্র দিয়ে, কোনো ক্ষমতা দিয়ে বা কোনো বৈজ্ঞানিক থিউরী দিয়েও থামানো সম্ভব না। যেতেই হবে। আমাদের এই শেষ যাত্রাতা কিভাবে হবে এটার রুপ কেউ বলতে পারেনা। কেউ একেবারেই সাভাবিকভাবে শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করবে, কেউ নিঃশ্বাস শেষ হয়ে যাচ্ছে এটা বুঝার আগেই শেশ হয়ে যাবে, কেউ পানিতে, কেউ আকাশে, কেউ ঘরে, কেউ ঘুমের মধ্যে আবার কেউ বা চলাচল করতে করতেই বেরিয়ে যাবে এই দুনিয়া থেকে। কেউ পরিপক্ক হবার আগে, কেউ জীবনের শেষ সময় বেচে থাকার পরে, কেউ অর্ধ জীবনে চলে যাবে। কেউ কখনোই বলতে পারে না ঠিক কোন সময়টা সে আর নাই। তাই এখন আমার খুব ভয় লাগে। হয়তো আসলেই আর বেশি সময় নাই আমিও।

তাই কারো সাথেই আর রাগ করতে চাই না, কেউ রাগ করলেও আর খুব একটা মাথা ঘামাই না, কাউকে নিয়ে আর অযথা চিন্তা করি না। কারন এখন না হয় আমি দুসচিন্তা করছি, ভাবছি, কিংবা কার অবস্থার কথা ভেবে একটু মন খারাপ করছি, কিন্তু আমি যখন থাকবো না, তখনো তো তাদের অবস্থা এমনই বা এর থেকেও খারাপ হতে পারে, তখন তো আর আমার পক্ষে কোনো প্রকার চিন্তা, দুশ্চিন্তা ইত্যাদি করার কোনো সুযোগ নাই। তাহলে আমার জীবদ্দশায় এত চিন্তা করার কি দরকার? যে যেভাবে পারে এক ভাবে না এক ভাবে বেচেই থাকবে। শুধু একটা জিনিষ আমার করার থাকে আর সেটা হলো-আমার সামর্থের মধ্যে কাউকে যতটুকু পারা যায় তাকে সাহাজ্য করা। এতে যতটুকু উপকার হয়, ততোটুকুই আমার ক্ষমতা।

আমার ভয় লাগে আরেকটা কারনে। এখন যতো কষ্টেই থাকিনা কেনো, অন্তত একটা বিছানায় ঘুমাই, ক্ষুধা লাগলে খাই, গরম লাগলে ফ্যান চালাই, শীত করলে লেপ কিংবা কম্বল গায়ে দেই। ঝড় ব্রিষ্টিতে ছাদের তলে আশ্রয় নেই, রোগ হলে মেডিসিন খাই, ক্ষতিকর প্রানী দেখলে লাঠি দিয়ে সরাইয়া দেই কিন্তু যেদিন আমাকে মাটির নিচে রেখে আসবে সেদিন আমি কিভাবে সেই অঝোর ধারার বৃষ্টির পানিকে আমি কবরের মধ্যে ঠেক দেবো? শীতে আমার হাড় কাপুনী ঠান্ডা লাগলেও আমি কিভাবে সেটা নিবারন করবো, গরমের কারনে অসংখ্য পোকামাকড় আমার গায়ে উঠে আমাকে কামড়াইতে থাকলেও আমি কিভাবে সেগুলিকে তাড়াবো? আমার আশেপাশেও তো কেউ থাকবে না যাতে আমি চিৎকার দিয়ে বলতে পারি-ভাই আমাকে একটু সাহাজ্য করো!! হেল এন্ড হেভেন তো অনেক পরের কথা। কিন্তু ঠিক সেদিনের অবস্থাটাই আমার কি হবে যেদিন আমি জাষ্ট আমার ঘর থেকে মাটির নিচে অবস্থান করব? খুব ভয় লাগে।

০৪/০৭/২০২৫-আমেরিকার ভ্রমন কাহিনী-পর্ব-২ জয়নাল দুলাভাইয়ের বাসায় আমরা।

এবার আমেরিকায় এসে আমি একটা সিডিউল বানাতে বলেছিলাম আমার ছোট মেয়েকে। আমার ছোট মেয়ের কাজ অনেক সুক্ষ এবং বাস্তবভিত্তিক। সে ক্রমান্বয়ে আমাদের সব আত্মীয়স্বজনের বাসা কাভার করেই একটা আইটেনারি বানিয়েছিল। আমরা ঠিক সেই মোতাবেক একের পর এক বাসায় সবার সাথে দেখা করতে গিয়েছিলাম। সব ক্ষেত্রেই আমাদের একমাত্র ড্রাইভার ছিলো আমার ছোট মেয়ে। খুব ভালো গাড়ি চালায়। আজকের গল্প লুসির আব্বা জয়নাল দুলাভাইয়ের বাসার।

জয়নাল দুলাভাইয়ের বাসায় আমরা।

সকালের দিকেই আমরা দুলাভাইদের বাসার উদ্দেশ্যে রওয়ানা হয়েছিলাম। সকাল থেকেই একটু একটু শীত অনুভব করছিলাম। যদিও আবহাওয়াতা আমেরিকায় এখন গরমকাল কিন্তু ইদানিং প্রায়ই বৃষ্টি হচ্ছে আর সুর্যের দেখাই মিলছে না, ফলে বেশ বাতাস আর ঠান্দাও পড়েছে। দুলাভাই সম্পর্কে কিছু না বললে অনেক প্রেক্ষাপট ভালোমত বুঝা যাবে না। তাই দুলাভাই সম্পর্কে একটু প্রিলিউড না দিলেই নয়।

জয়নাল দুলাভাই বাংলাদেশে বিদ্যুৎ বিভাগে কাজ করতেন। খুব সৎ মানুষ ছিলেন। তার পরিবারের ভাই বোনেরা অনেক বড় বর লেবেলে কাজ করতেন এক সময়, তার বড় ভাই বিশ্বব্যাংকেও কাজ করেছে এবং বর্তমানে তিনি আমেরিকাতেই সেটেল্ড। দুলাভাইয়ের আর্থিক সচ্ছলতাও খারাপ না। ঢাকায় তার পাচ তালা একতা বাড়ি ছিল, সাভারে কিছু জমি ছিল, তিনি সব কিছু বিক্রি করে দিয়ে আমেরিকায় পাড়ি জমান কারন তার একমাত্র মেয়ে লুসি আমেরিকায় তার স্বামীর সাথে বসবাস করে। লুসিও খুবই ভাল একতা মেয়ে, ভাল বললে লুসির সম্পর্কে খুব কম বলা হবে, তার প্রশংসা সবাই করে এবং তার শশুড় শাশুড়িরা এতোটাই খুশী এবং সুখী যে, সবার কাছে এক বাক্যে একটা কথাই তারা বলেন যে, লুসি তাদের নিজের মেয়েদের থেকেও ভাল।

যাই হক-দুলাভাই এই লুসীর জন্যই আসলে দেশ ছেড়েন। লুসীর স্বামী যেহেতু আমেরিকার সিটিজেন, তারি লুসিঅ দ্রুত আমেরিকার সিটিজেন হয়ে গিয়েছিল। আর সেই সুবাদে দুলাভাই এবং আপাও আমেরিকার সিটিজেন হয়ে গিয়েছেন দ্রুত। লুসীর মা নূরজাহান আপা আমার স্ত্রীর পরিবারের এখন সবার বড় বোন। এই বোনদের মধ্যে ওদের এতোটাই বন্ধন যে, মিটুল যে প্রায় ৫০ এর উপর তার বয়স, এখনো আপারা অকে কাছে পাইলে নিজের হাতে ভাত খাইয়ে দেয়। ব্যাপারটা আমার বেশ ভালো লাগে। আপা এই মুহুর্তে ম্যামোরী লসে ভুগছেন কিছুটা। অনেক কিছগুই মনে রাখতে পারেন না। আগের মতো এতো কথাও বলেন না।

ওনারা সিনিয়ার সিটিজেন হিসাবে সরকারের কাছ থেকে ছোট একটা বাসা পেয়েছেন, সরকারের কাছ থেকেই ওনারা ভরন পষন, চিকিতসার সব খরচ পান। দুলাভাই কিডনির সমস্যায় ভগছে। প্রতি একদিন পর পর ডায়ালসিস করতে হয়। লুসী মাত্র ৩০/৪০ মিনিট (গারির দুরুত্ত) দুরুত্তে থাকে। প্রায় প্রতিদিন আসতে না পারলেও সপ্তাহে ৩/৪ বার লুসি এসে ওর মায়ের আর বাবার সব কাজ, রান্নাবান্না, কাপড় চপ্র ধোয়া, ইত্যাদি করে দিয়ে যায়। দেখলাম একটা মুভেবল সিসি ক্যামেরা লাগান আছে যাতে লুসি তার নিজের বাসা থেকে জানতে পারে বা দেখতে পারে ওর বাবা মাকে। কখন মেডিসিন খেতে হবে এটাও লুসি টাইমমত এই সিসি ক্যামেরার মাধ্যমে বলে দেয়। ওনারা আসলে বুড়ো হয়ে হয়েছেন বিধায় কোনো কিছুই আর মনে রাখতে পারেন না।

দুলাভাই অনেক অনেক কথা বলতে পছন্দ করেন, এখনো অনেক কথা বলেন। শ্রোতা যিনি আছেন, তিনি তার এই কথা বলাটা কতটুকু পছন্দ করছেন বা বিরক্ত হচ্ছেন এটা তার কাছে মুখ্য বিষয় নয়, উনি কথা বলেই যান। যেহেতু আমি ব্যাপারটা জানি, ফলে উনি কথা বলে যান ঠিকই আমি যে সব কিছু আবার শুনি তাও না। শনার ভান করতে তো আর অসুবিধা নাই। উনিও খুশি থাকলেন, আমার তো ক্ষতি নাই। তবে উনি বেশিরভাগ সময়ে অন্যের গিবত বলেন বিধায় অনেক সময় আমি হু হা করেই ক্ষান্ত থাকি।

ছোট একটা বাসা। লুসি ছিলো না সেদিন দুলাভাইদের বাসায়। আমি, মিটুল, কনিকা, দুলাভাই আর আপাই ছিলাম বাসায়। ঊনারা যেখানে থাকেন এটা প্রায় একটা কলোনি টাইপের বাসা। সরকারী বাসা। সামনে পিছনে সবুজ ঘাসের লন আছে। আর সবচেয়ে সুন্দর হচ্ছে-ঊনার বাসার পাশেই চমৎকার একটা লেক আছে যেটা মেইন নদীর সাথে সম্পৃক্ত। ফলে প্রচুর মাছের আনাগোনাও আছে। আর এই কলোনিতে যারা বাস করেন, তারাই শুধু মাছ ধরার অনুমতি আছে। তাও আবার শুধু মাত্র বর্শী দিয়ে। জাল দিয়ে নয়।

 দুপুরের দিকে আমরা এক সাথে খাওয়া দাওয়া করলাম। অনেক যত্ন করেছেন আমাদের দুলাভাই আর আপা। আসার সময় দুলাভাই আবার আমাদেরকে ৫০ ডলার করে গিফটও করলেন। জানি না দুলাভাই এবং আপার সাথে আবার কবে দেখা হবে। বুড়ো মানুষের আসলে সাথী থাকে না। আর যনি থাকেন তিনিও সেই হয় স্ত্রী বা স্বামী অথবা এমন কেউ যিনি নিজেও বুড়ো। দোয়া করি তাদের জন্য, তারা ভালো থাকুক।

পৃথিবী একটাই আর এখানে আগমন একবারই। যিনি চলে যান, তার আর ফেরার কোন সুযোগ নাই। তাই পৃথিবীর সব মানুষ ভালো থাকুক সেই দোয়া করি। বিকালের দিকে আমরা ওনাদের কাছ থেকে বিদায় নিয়ে আবার চলে আসলাম।

আবার কবে দেখা হয় কে জানে।

০৪/০৭/২০২৫-আমেরিকার ভ্রমন কাহিনী-পর্ব-৩ ফরিদ ভাইয়ের বাসা ভিজিট

আমার সিডিউলের মধ্যে সর্বপ্রথম (অনাত্তীয়দের মধ্যে) যাদের বাসায় যাওয়ার পরিকল্পনা ছিল সেটা হল বাংলাদেশে আমার বাড়ির পাশের প্রতিবেশী ফরিদ ভাইদের বাসায় যাওয়া। আর সেটা হয়েছিলো ২২ মে ২০২৫।

বাংলাদেশে আমার বাসার লাগোয়া প্রতিবেশি ফরিদ ভাই এবং মুন্না ভাইয়েরা। অনেক হাসিখুশি, জলি মাইন্ডেড এবং স্বাস্থ্য সচেতন মানুষ ফরিদ ভাই। প্রতিদিন ব্যায়াম করতেন। এখন উনারা আমেরিকার ভার্জিনিয়াতে থাকেন। খুব সুখী পরিবার। আমি আমেরিকায় আসার আগে শুনেছিলাম ফরিদ ভাই অসুস্থ্য কিন্তু কতটা অসুস্থ্য বুঝতে পারিনি। ফলে আমেরিকায় এসে আমি ম্যারিল্যান্ড থেকে প্রায় ঘন্টা তিনেক ড্রাইভ করে ভার্জিনিয়াতে দেখতে গিয়েছিলাম ফরিদ ভাইকে। আমি যাবো শুনে ফরিদ ভাই অনেক খুশি হয়েছেন বটে কিন্ত ফরিদ ভাইয়ের বাসায় গিয়ে মনটা আমার খুব খারাপ হয়ে গিয়েছিল। ফরিদ ভাই আমার ধারনার বাইরে অসুস্থ্য।

যখন ঊনারা বাংলাদেশে ছিলেন, আমাদের মধ্যে প্রতিদিন দেখা হতো, এক বাসা থেকে আরেক বাসায় খাবারের আদান প্রদান হতো। বড্ড ভালো একটা প্রতিবেশি ঊনারা। এখন বাংলাদেশের সেই বাসাটায় কেউ থাকেন না, শুধু থাকে ভারাটিয়ারা।

আগের রাতে মিটুল ফরিদ ভাবীর সাথে কথা বলে রেখেছিলো যে, আমরা যাবো ভাইকে দেখতে। যখন আমরা ফরিদ ভাইয়ের বাসায় পৌঁছলাম, তখন বেলা প্রায় ১১ টা বাজে। সুন্দর একটা আবহাওয়া। গরম নাই আবার একটু একটু ঠান্ডাও আছে।

ফরিদা ভাইদের বাসায় গিয়ে দেখলাম ফরিদ ভাই শুয়ে আছেন একটা মেডিকেটেড বিছানায়। আমার কল্পনাতেও ছিল না ফরিদ ভাইয়ের বর্তমান চেহাড়ার অবস্থা। আমি আসলে জানতাম ফরিদ ভাই অসুস্থ্য কিন্তু কতোটা সেটা আমি সত্যিই অনুমান করতে পারিনি। ঊনার মেয়ে দিবা বাসায় ছিলো, ভাবির সাথে একান্তে কথা বলে বুঝলাম যে, ফরিদ ভাইয়ের লিভারের সমস্যার সাথে ওনার নিউরোজনিত সমস্যাও আছে। ফরিদ ভাই শুকিতে কাঠ হয়ে গেছেন। চোখগুলি দেখলে মনে হয়-একটা কংকালের মধ্যে যদি চামড়া থাকতো আর সেই কংকালের যে চোখ ঠিক যেনো তেমন। আহা রে কত কস্ট যে ঊনার। খুব মায়া লাগলো ফরিদ ভাইকে দেখে। খুব সুন্দর সাস্থ্য ছিলো, প্রতিদিন ব্যায়াম করতেন, একমাত্র সিগারেট ছাড়া আর কোনো নেশা ছিলো না। তাও সারাদিনে হয়তো ৪/৫ তা সিগারেট খেতো। এই মানুষটার এই অবস্থা আমার কল্পনারও বাইরে।

ফরিদ ভাইয়ের চিকিতসা আমেরিকার সরকারই বহন করে। সারাক্ষন দেখভাল করার জন্য সরকার একটা পাকিস্থানি মেয়েকে এপয়েন্টমেন্ট দিয়েছে। যতোক্ষন ভাবি এবং তার মেয়েরা বাসায় থাকেন, তারা এই পাকিস্থানী মেয়েটার সাথে ফরিদ ভাইকে দেখভাল করেন। দিবার বয়সের সমান অথবা আর ছোট হতে পারে পাকিস্থানী মেয়েটার। বেশ ভদ্র এবং ভালই মনে হল। শুনলাম মেয়েটার নাকি ইতিমধ্যে ৩টা বাচ্চাও রয়েছে। খুব ছোট বেলায় বিয়ে হয়ে গিয়েছিল মনে হয়। ফরিদ ভাবী আমাদের জন্য অনেক পদের রান্না করেছিল। মুরগী, গরু, মাছ, শব্জী, ভর্তা, ডাল, ইত্যাদি। পোলাও করতে চেয়েছিল কিন্তু আমি পোলাও খাই না বলে সাদা ভাতই করেছিলেন। চমৎকার রান্না বান্না ফরিদ ভাবীর। ফরিদ ভাই প্রায় ৮ মাস পরে আমাদের সাথে ডাইনিং টেবিলে বসে খাওয়া দাওয়া করলেন। বেশ কয়েক পিস মুরগীও খেলেন। ভাতও খাইলেন। ভাব আর দিবা বলছিল, কি সুখের কথা যে, ফরিদ ভাই প্রায় ৮/৯ মাস পর ডাইনিং টেবিলে বসে সবার সাথে দুপুরের খাবার খাইলেন।

এটাই মনে হয় জীবনের রুপান্তর। মানুষ বেশীদিন বাচে না। কেনো আমরা তাহলে এতো আশা করি? ওনারা ভালোই তো ছিলেন সেই ঢাকায়। বন্ধু বান্ধব ছিলো, লোকালয় ছিলো চেনা, হৈচৈ ছিলো প্রতিদিন, রিক্সার ঝুঞ্ঝুনানী, গাড়ির বিকট হর্নের শব্দ, আজানের সুর আর পাবলিকের কোলাহলের সাথে বড় বড় সাউন্ড বক্সের উত্তাল গানের মাতোয়ারা। ভালোই তো ছিলো ওগুলি।

একটু পর মুন্না ভাই এলেন। ফরিদ ভাইয়ের থেকে বড় উনি। বাংলাদেশে উনি অডিট ডিভিশনে সম্ভবত অথবা ব্যাংকে কাজ করতেন। খুব ভালো মানুষ।

সবার সাথে অনেক আলাপ, কথাবার্তা হল। ফরিদ ভাই একেবারে দেশে ফিরে আসতে চান, আগের সেই ক্লাব, বন্ধুবান্ধব, আত্তিয় সজন, পারাপ্রতিবেশীদের আবার সান্নিধ্য চান কিন্তু উনি তার সাস্থগত কারনে আর কখনোই বাংলাদেশে ব্যাক করতে পারবেন না। খুব আফসস করে বললেন- একটা সময় ভেবেছিলাম, আমেরিকায় গিয়ে কতই না সুখে শান্তিতে আরামে বাস করতে পারবো। কিন্তু আমার এই লাইফের চেয়ে বাংলাদেশের সেই জ্যাম, কোলাহল, হরতাল, রিক্সাওয়ালার ঝুঞ্ঝুনি, লোকার শব্জিওয়ালার হাকানিই অনেক মিস্টি আর সুখের। ছেলেমেয়েরা এখানে থাকতে চায়, এই আমেরিকা শুধু ইয়াং জেনারেশনের জন্য। আমাদের জন্য নয়। যদি কার কন সমস্যা না থাকে, সে যেন আমেরিকায় বা বিদেশে সেটেল্ড না হয়। এটা একতা বিরক্তিকর লাইফ। এখানকার রাস্তাঘাট খুব সুন্দর, বাড়িঘর সুন্দর, আইন কানুন সুন্দর, প্রিবেশ সুন্দর, চাকুরী যখন তখন পাওয়া যায় কিন্তু এই দেশ একতা রবোটিক দেশ। কেউ কার বন্ধু নয়, কেউ কার প্রতিবেশ হয়েও প্রতিবেশ নয়।

আমরা প্রায় ঘন্টা তিন বা চার ফরিদ ভাইয়ের বাসায় ছিলাম। পুরু বাড়িটা ঘুরে ঘুড়ে দেখলাম, সুন্দর বাড়ি। অনেক সপ্নের একটা বাড়ি ফরিদ ভাইয়ের। যার জন্যে তিনি একদিন বাংলাদেশের ৫ তালা বাড়ি ত্যাগ করে, নিজের সমাজকে ছেড়ে, বন্ধু বান্ধব্দের ছেড়ে সেই সুদূর আমেরিকায় চলে গিয়ে একটা বাড়ি কিনলেন, সেই বাড়িটা এখন তার কাছে হাসপাতালের বিছানা ছাড়া যেনো আর কিছুই না। বল্লেন-খুব ক্লাবে গিয়ে সবার সাথে হইচই করতে মন চায়, গোলারটেকের সেই গলিটায় দাঁড়িয়ে পুরান কলিগ আর বন্ধুদের সাথে গল্প করতে মন চায়, বুদ্ধিজীবি শহিদ মিনারের সেই বিশালকায় মাঠের দ্রিশ্য চোখে ভাসে, দেশে চলে আসতে খুব মন চায়, কিন্তু আজ সেই আমেরিকায় বসে একটা মেডিকেটেড খাটের মধ্যে শুয়ে চোখ বন্ধ করে শুধু স্ম্রিতিকে মনে করা ছাড়া আর কনো উপায় নাই। এখন তাদের আর টাকা পয়সার দরকার নাই, ছেলেরা অন্য স্টেটে চাকুরী করে, এক মেয়ে অন্য স্টেটে স্বামীকে নিয়ে বসবাস করে। দিবাও চলে যাবে দ্রুত। শুধু ভাবিই থাকবেন কাছে। এটাই যদি জীবন হয়, তাহলে নিজের সেই পুরান ঘর কি দষ করেছিল?

এক সময় মুন্না ভাই আমাদের থেকে বিদায় নিতে চাইলেন। জিজ্ঞেস করলাম, কই যাবেন? মুন্না ভাই বল্ল-ভাই রে এখানে ঘরে আপনি কতোক্ষন একা একা পেপার আর টিভি দেখে সময় কাতাবেন? তার থেকে একটা অফিসে পার্ত টাইম জব নিয়েছি, সেখানে সান্ধ্যকালিন একতা জব করছি, সময়টা কেটে যাচ্ছে আর সাথে কিছু ইনকামও হচ্ছে। অথচ তাদের কনো কাজ করারও কন প্রয়োজন ছিলো না দেশে।

আমি কখনোই আমেরিকায় বা অন্য কনো দেশে হাজার প্রলভনেও মাইগ্রেট করতে নারাজ। আমার দেশ যতোই করাপ্টেদ হক, যতই জ্যামের দেশ হোক, কিংবা নোংরা হক, আমি এ দেশেই থাকতে চাই।

ফরিদ ভাইয়ের বাসা থেকে বিদায় নেবার সময় দেখলাম, ফরিদ ভাই ঘুমিয়ে গেছেন, দেখে খুবই মায়া হলো। অত্যান্ত অসুস্থ্য আসলে ফরিদ ভাই। অনেক দোয়া করি যেনো ফরিদ ভাই সুস্থ্য হয়ে উঠেন। যত দিনই বাচুন না কেন, তিনি যেন ভালভাবে বাচতে পারেন।

বিদেশের জীবন নিয়ে আসে অনেক চ্যালেঞ্জ, অনেক মানসিক বা শারিরীক সংঘর্ষ। আর মানুষ এই সংঘর্শের মধ্যে খুজে নেয় তার পরিবারের মানুষদের জন্য কিছু আনন্দ, কিছু সুখের বার্তা। এই সুখ দুক্ষের পরিবেশে খুব কম মানুষকেই পাওয়া যায় যারা অকপটে নিজের থেকে সামনে এসে বলে-“আমরা আপনার পাশে আছি, কোনো প্রয়োজনে অবশ্যই জানাবেন”। আর এটাই বিদেশ। এখানে কেউ কারো না, কোনো প্রতিবেশিই প্রতিবেশী না, কেউ কাউকে যেন চিনে না, আর চিনলেও কারো কোন দায়িত্তও নাই। এতাই দেখছি প্রতিদিন এখানে এই আমেরিকায়।

চলে আসার সময় ফরিদ ভাবী আবার কি কি যেনো উপহার হাতে তুলে দিলেন। কয়দিন পর আবার দেশে চলে যাব, কে জানে আবার ফরিদ ভাইয়ের সাথে দেখা হয় কিনা। আল্লাহ ঊনাকে সুস্থতা দান করুক।

০১/০৭/২০২৫-আমেরিকার ভ্রমন কাহিনী-পর্ব-১ ছোট ভাবী এবং তার বাসা

গত ১৪ তারিখে অর্থাৎ ১৪ মে ২০২৫ তারিখে ছোট মেয়ের কনভোকেশন উপলক্ষে আমি এবং আমার স্ত্রী আমেরিকার বাল্টিমোরে গিয়েছিলাম। প্রায় এক মাসের মতো ছুটি কাটিয়েছি ওখানে। এর আগে আমি একাই ১৯৯৫ সালে আমেরিকায় গিয়েছিলাম কিন্তু তখন ব্যাপারটা ছিলো অন্য রকম। এবারের ভ্রমনটা শুধু ভ্রমনই ছিলো না, এর সাথে মিক্সড ছিলো হাজার পদের ইভেন্ট, চিন্তাভাবনা এবং পরিকল্পনা। তাই ভাবছি, ক্রমান্বয়ে এসব নিয়ে ধারাবাহিকভাবে একটা ভ্রমন কাহিনী লিখবো। তারই সুচনায় আজকের প্রথম পর্ব।

ছোট ভাবী এবং তার বাসা

ছোট ভাবী মারা গিয়েছিলেন ২০২১ সালের ৪ এপ্রিল তারিখে। সময় কত দ্রুত চলে যায় ভাবাই যায় না। দেখতে দেখতে প্রায় ৪ বছরের বেশী পার হয়ে গেলো। ভাবীর সাথে আমার খুব সুন্দর একটা সম্পর্ক ছিল। খুব ভালো মানুষ ছিলেন ভাবি। দেখতেও সুন্দর ছিলেন। এবার আমেরিকায় গিয়ে ভাবীর বাসাটা দেখলাম যেখানে এখনো ছোটভাই একাই থাকেন।

বাসাটা দেখেই মনের ভিতর খুব ছট করে উঠেছিল এই ভেবে যে, এই বাড়িটার চারিদিকে একটা সময় এই মানুষটা হাটাচলা করেছেন। এখনো নিখুতভাবে পরীক্ষা করলে তার পায়ের চিহ্ন হয়তো পাওয়া যাবে। বাড়িটার দরজায় পরীক্ষা করলে হয়তো তার হাতের ছাপটাও পাওয়া যাবে। দেখলাম, বাড়িটার সামনে বেশ কিছু গাছ লাগানো, গাছগুলি এখন বড় হয়ে গেছে। ভাবি নিজেই লাগিয়েছিলেন গাছগুলি। মানুষটা নাই কিন্তু গাছগুলি এখনো রয়ে গেছে, আর তারা ধিরে ধীরে বড় হচ্ছে। দেখলাম, গাছের টবগুলিতে কিছু কিছু পাথর আর মাটির স্তুপ আছে। একটা পানির টেপও আছে। ইমোশনালি ভাবছিলাম যে, সময়টাকে যদি ব্যাকওয়ার্ড মুভ করে চার বছরের আগে যাই যখন ভাবী জীবিত ছিলেন, হয়তো দেখা যাবে, উনি বাড়ীটার চারিধারে ঘুরছেন, বিকাল বাড়ীটার সামনের সিড়িতে বসে চা খাচ্ছেন, কিংবা শান্ত দুপুরের পরে হাতে কয়েকটা গাছের চাড়া নিয়ে মনের আনন্দে টবগুলিতে গাছগুলি লাগাচ্ছেন। আশেপাশের বাড়ির কোনো প্রতিবেশি হয়তো তাকে দেখতে পেয়ে হাই-হ্যালোও করছেন। ভাবি হয়তো মুচকী হেসে তাকে সম্বোধন করছেন। অথচ আজকে সেই মানুষটা নাই। সবকিছুই আছে, বাড়িটা আছে, সিড়িটা আছে, গাছের টবগুলি আছে, গাছগুলিও আছে, কিন্তু উনি নেই। এটা ভাবতেই মনটা খারাপ হয়ে গিয়েছিলো।

ছোটভাই নিজেও সেই সব দিনের কথা বলতে গিয়ে অনেকটা ইমোশনাল হয়ে উঠছিলেন। এই বাড়িটা কেনার আগে ভাবী নাকি প্রতিদিন এই এলাকায় এসে বাড়িটার সামনে গাড়িতে বসে থাকতেন। তার এই বাড়িটা খুব পছন্দ হয়েছিল। অবশেষে যেভাবেই হোক, ভাবীর সেই মনের ইচ্ছাটা ছোটভাই পুরন করেছিলেন বাড়িটা কিনে।

ছোটভাই একটা সিগারেট ধরিয়ে দূর পড়ন্ত বিকেলের দূর আকাশের প্রায় ডুবু ডুবু সূর্যের দিকে তাকিয়ে একমনে বলছিলেন-

-জানেন, যখন শিমুলকে নিয়ে আমি আমেরিকায় আসলাম, সাথে দুটু ছেলেমেয়ে। আমাদের খুব অল্প আয় ছিলো। আমার একার আয়ে সংসার চলছিলো না। বাচ্চারাও বেশ ছোট, পরাশুনার খরচ, সংসারের খরচ, নিজেদের খরচ সব মিলিয়ে হাত সব সময় টানাপোড়েনই ছিলো। আজকের দিনের মতো আমার আর্থিক অবস্থা তখন ছিলো না। কোনো উপায়ন্তর না দেখে শেষ পর্যন্ত শিমুল একটা রেস্টুরেন্টে ক্লিনারের চাকুরি নিয়েছিলো। রেস্টুরেন্টের ফ্লোর, বাথরুম বেসিন ইত্যাদি তাকে ক্লিন করতে হয়েছে। খুব মায়া লাগত আমার। যে মহিলাকে আমি কখনো নিজের বাথরুমটাও ক্লিন করতে দেইনি বাংলাদেশে, সেই মহিলাটা আমাদের সুখের জন্য, একটু আর্থিক অবস্থা ভাল করার জন্য আমেরিকায় এসে পরের ব্যবসার বাথরুম বেসিন ফ্লোর পর্যন্ত ক্লিন করতে হয়েছে। কিন্তু ওর মন খারাপ হতো না। ভালো ইংরেজী বলতে পারত না বলে ভালো কোনো জবেও দেয়া সম্ভব হচ্ছিলো না। আজ আমাদের আর্থিক অবস্থার কতই না উন্নতি, কোন ভাবনা নাই এখন টাকা পয়সার, অথচ শিমুল নাই। এখন আমাদের শপেই কত কর্মচারী কাজ করে। বড় আফসোস লাগে মাঝে মাঝে। তার এখনই চলে যাওয়ার সময় ছিলো না আসলে। তার এই বয়সে চিরতরে চলে যাবার কোন কথাই না। কেউ জানতে পারলাম না, সে চলে যাচ্ছে। শিমুল নিজেও কখনো ভাবেনি, তাকে এভাবে অসময়ে চলে যেতে হবে। ওর সবচেয়ে দুশ্চিন্তা ছিল ওর ছেলেকে নিয়ে যে কিনা কোভিডে ভোগছিল। অথচ সিমুল নিজেও করোনায় আক্রান্ত ছিলো। ছেলে লাইফ সাপোর্টে থাকলেও শিমুল নিজেই চলে গেলো সবার আগে।

সবচেয়ে কস্টের ব্যাপারটা হল, আমরা কেহই শিমুলের দাফনের সময় কাছেই ছিলাম না। এটা যে কত বড় ডিপ্রাইভেশন বুঝানো যাবে না। তার ছেলে ফয়সাল করোনায় হাসপাতালে ভর্তি হয়ে লাইফ সাপোর্টে, মেয়ে স্বামী সন্তানসহ আরেক স্টেটে, আমি নিজেও অসুস্থ্য থাকায় সিমুলের কাছে যেতেই পারলাম না। সিমুল পরিবারের কারো সাথেই দাফনের সময় সান্নিধ্য পেলো না। শিমুল কি আমাদের উপর এজন্য খুব রেগেছিল? আমি জানি না। তবে আমি এখন একা একা ভাবি শিমুলের জন্য।

ছোট ভাই আরেকটা সিগারেট ধরিয়ে বাড়ীর সিড়িটার উপর বসে তখনো কথা বলে যাচ্ছিল, আর আমি শুনছিলাম-

-জানেন শিমুল মারা যাওয়ায় আমার পরে সবচেয়ে কার বেশি ক্ষতি হয়েছে?-না, আমি বলতে পারব না, আমি বললাম ছোট ভাইকে।

-শিমুল মারা যাওয়ায় আমার পরে সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্থ্য হয়েছে জান্নার মেয়ের, তারপর ক্ষতিগ্রস্থ হয়েছে শিমুলের মায়ের। কারন শিমুল তখন ছোট খাটো কাজ করত যেখান থেকে শিমুল কিছু হলেও টাকা কামাইত। আর সেই কামানো টাকাগুলি শিমুল ওর মাকে পাঠাতো দেশে। আমি যখন শিমুলের টাকাটা ওর মাকে পাঠাইতাম, আমিও ওর অগোচরে কিছু টাকা যোগ করে একটু বেশি এমাউন্টই পাঠাতাম। শিমুল কখনোই ওর মাকে টাকা পাঠাইতে ভুল করতো না। শিমুল মারা যাওয়ার পর শিমুলের মায়ের এই রোজগারটা বন্ধ হয়ে গিয়েছে। আমি মাঝে মাঝে টাকা পাঠাই কিন্তু উনি টাকাগুলি নিজের জন্য খরচ না করে তার ছোট ছেলের জন্য খরচ করে ফেলেন, অথচ তার ছোট ছেলে ইচ্ছে করলে ভাল চাকুরী করে অনেক টাকা কামাইতে পারে। লন্ডন থাকে কিন্তু বড্ড আলসে এবং খাম খেয়ালি জীবন। তাই আমিও আর এখন টাকা পাঠাই না।

জান্নার মেয়েটা শিমুলের সাথে এতোটাই জড়িত ছিলো যে, সে তার বাবা মা ছাড়াই থাকতে পারতো শিমুলের কাছে। জান্নার ডিভোর্স হয়ে যাওয়ার পর জান্নার মেয়েটা শিমুলের কাছেই ছিলো। সময়টা ভালই কেটে যাচ্ছিলো। এখন তো জান্নারও একটা বিয়ের দরকার। জান্নার মেয়ের কারনে জান্নারও ভাল বিয়ে হচ্ছে না। অথচ শিমুল থাকলে জান্নার বিয়েটা অনেক আগেই হয়ে যেতো। একটা সময় আসবে-জান্নার মেয়েটার আরো ভোগান্তি বাড়বে। কিন্তু শিমুল থাকলে কোনো ভোগান্তিই হতো না।

কে জানে কার ভাগ্যে কি আছে, বলে ছোট ভাই একটা দীর্ঘশাস ছাড়লেন।

আমি ওনাকে কিছুই বললাম না। শুধু বাড়িটার বাইরের চারিদিকেই কয়েকটা ছবি তুল্লাম। বাড়িটার ভিতরে যেতে ইচ্ছে করে নাই, তাই ভিতরে গেলামই না। অথচ প্রায় ঘন্টা দুয়েক বাড়িটার সামনে বসে কাটিয়ে গেলাম। ছোট ভাবি ভাল থাকুক, জান্নাতি হন, সে দোয়া করি।

ছোট ভাই তার এই বাসাটায় আমাদের আনার আগে প্রায় ঘন্টা দুয়েক বিভিন্ন রাস্তায় ঘুরাফেরা করেছিলাম। ছোটভাই যখন প্রথম আমেরিকায় এলেন, কই থাকতেন তিনি সেই বাসাটায়ও নিয়ে গেলেন। এখন সেটা তার নয়, আরেকজন বাড়িটা কিনে বসবাস করে। অদ্ভুত এক জঙ্গলের মতো জায়গা। একটু সস্তা ছিল বাসাটা। আশেপাশে কোনো বসতি নাই।

আসলে ছোট ভাই এখন একেবারে একা। তার জীবনের উপর মনে হয় কোনো দরদ নাই। যখন কিছু জিজ্ঞেস করি, বিয়ে করে অন্তত একাকীত্বকে ঘুচান, কিন্তু উনি সেটা করতে চান না। বয়স তার প্রায় ৬৭ এর কাছাকাছি, এখন এই সময়ে এসে আর সংসারি হইতে চান না। উনি নিজেই বলেন যে, উনার ছেলে আর মেয়ে দুটু খুব ভাল হলেও তার অনুপস্থিতি তাদেরকে একেবারে অসহায় করে ফেলবে। এ জন্য তার বাচতে চাওয়া কিন্তু নিজের জন্য ওনার কিছুই চাওয়া নাই।

সারাদিন দোকানে কাজ করেন, নিজের দোকান। কর্মচারী আছে, তার নিজের ছেলেও দোকানে কাজ করে। দোকানটা মন্দ না। বেশীরভাগ সময় দোকানেই খায়, কখনো বাসি খাবার, কখনো ছেলেমেয়েরা রান্না করে দোকানে নিয়ে আসে, সেগুলিই খান। কন আফসস নাই মনে হয় দেখে। রাতে বাসায় এসে একাই ঘুমান। ছেলে আলাদা থাকে, মেয়েও আলাদা থাকে, আর উনি সেই বাড়িটায় থাকে যেখানে ছোটভাবী থাকতেন।

সময় পান না বলে ওনার গাড়িতে করেই প্রায় ঘন্টা চারেক ঘুরলাম এদিক সেদিক। গাড়িতে বসেই অনেক আলাপ হচ্ছিল। পথিমধ্যে কয়েকটা জায়গায় হল্ট করেছিলাম। তার মধ্যে একটা হলো ডানকিন রেস্টুরেন্ট, পোর্ট এলাকা আর তার বাসা।

পোর্ট এলাকাটা ভীষন সুন্দর। ওখানে প্রায় আধাঘন্টা কাটিয়েছিলাম। এখানকার মানুষগুলি বেশ আনন্দে আছে। বিশাল একটা পোর্ট, লোকাল পোর্ট, পাশেই সি বীচের মতো অনেক রেস্টুরেন্ট, ভ্রাম্যমান খাবারের জায়গা ইত্যাদি।

পোর্ট এলাকাটা একটা অভিজাত আবাসিক এলাকার মতো। এখানকার মানুষ গুলি খুব নিরিবিলিতে বীচের আমেজ অনুভব করেন, ফিশিং করেন, বিকালে পাশের রেষ্টুরেন্ট গুলিতে হয়তো বন্ধুবান্ধব নিয়ে আড্ডা দেন, বাচ্চারাও পাশের খেলার একটা জায়গা আছে সেখানে আড্ডা দেয়। সবচেয়ে মজার ব্যাপার হলো, এখানের প্রতিটি বাড়িই যেনো রিজোর্ট। আমি জানি না আসলেই এগুলি রিজোর্ট হিসাবে কেউ ভাড়া নেয় কিনা, তবে বাড়িগুলির বারান্দার এরেঞ্জমেন্ট দেখে মনে হয়েছে, হতে পারে।

ছোটভাই আমাদেরকে কোনো গিফট কিনে দিতে পারেন নাই বিধায় আমার জন্য, মেয়ের জন্য, আবিরের জন্য আর মিটুলের জন্য এক হাজার ডলার গিফট করলে। টাকাটা নিতে চাইতে মন চাচ্ছিলো না। কারন আমার আসলেই দরকার নাই। কিন্তু ছোটভাই একজন ভাল মানুষ, হয়তো এটাতে উনার একটা আনন্দ আছে। তাই নিলাম।

ছোট ভাই আসলে একজন অতি সাধারনভাবে চলাফেরা করা মানুশ। ভালো মানুষ।

২৬/৬/২০২৫-বাংলা কলেজের পরীক্ষার্থী এবং আমার স্ত্রী

গত ২৪ জুন ২০২৫ তারিখে সারা দেশ ব্যাপি ইন্টারমিডিয়েট পরীক্ষা শুরু হয়েছে। এর মধ্যে বাঙলা কলেজে কেন্দ্র পড়েছে এমন একটি মেয়ে পরীক্ষা শুরু হবার প্রায় পৌনে দুই ঘন্টা পরে পরীক্ষা কেন্দ্রে এসে পরীক্ষা দেয়ার আবদার করে। স্বাভাবিক ভাবেই বাঙলা কলেজের ভাইস প্রিন্সিপ্যাল যিনি আমার বউ, সে কনভাবেই আইনের ব্যত্যয় ঘটিয়ে পৌনে দুই ঘন্টার পর কাউকে পরীক্ষা দিতে সে পারে না। তাই মেয়েটির আর ১ম পরীক্ষা দেয়া হল না। কলেজের ভিতর অনেক সাংবাদিক, অনেক সুশীল জনতা সহ আরো অভিভাবকগন ছিলেন। মুহুর্তের মধ্যে মেয়েটির পরীক্ষা না দিতে পারায় সোস্যাল মিডিয়া ভাইরাল হয়ে যায়, সাথে আমার স্ত্রীও। অনেকের অনেক আবেগঘন স্ট্যাটাস, অনেক কথাবার্তা, অনেক কেচ্ছা কাহিনি আর মনতব্যে সোস্যাল মিডিয়া ভরে উঠে-কেনো একটু দয়া করা গেলো না, কেনো মেয়েকে পরীক্ষা হলে ঢোকতে দেয়া হল না, কি হতো যদি একটি মানবিক কারনেই তাকে পৌনে দুই ঘন্টা পড়েও পরীক্ষা দিতে দেয়া উচিত ছিলো ইত্যাদি ইত্যাদি। কেউ আইনটা জানে, কেউ জানে না। কেউ বেশি আবেগি, আবার কেউ বোকা। ফলে জেনে, না জেনে, আবেগে যাচ্ছেতাই মন্তব্য করেই যাচ্ছে যেন এটা কলেজ অথরিটি কোন মহা অন্যায় করেছে দেরী করে আসা মেয়েটিকে পরীক্ষা দিতে না দেয়ায়। তারই পরিপ্রেক্ষিতে আমার এই পোশট সোস্যাল মিডিয়ায়।

———————————  

আসলেই শিক্ষক বা কলেজের মানবিকতা দেখানোর কোনো সুযোগ নাই। @Myeen Uddin সাহেব লেখকের এই লেখার সাথে আমি আরো যোগ করতে চাই যে,

(১) যদি কলেজ অথরিটি পরীক্ষার দেড় ঘন্টা পরে আইনের তোয়াক্কা না করে পরীক্ষার্থীকে পরীক্ষার হলে ঢোকিয়ে পরীক্ষা নিলেন, তাহলে যে কয়টি প্রশ্নের সম্মুখীন হবেন তা হলো:

(ক) কোন ক্ষমতার বলে অথরিটি এটা করলেন? তাদের কি সেই ক্ষমত ছিলো? সত্য কথা যে, তাদের সেই ক্ষমতা নাই। তাহলে নিলেন কিভাবে? এই প্রশ্ন কি আসতো না? এই সুশীল সমাজ এবং সাংবাদিকগনই আবার চোখে আংগুল দেখিয়ে প্রশ্ন করতেন।

(খ) তখন এই সুশীল মহল এবং সাংবাদিকগনই আবার এই প্রশ্নও তুলতেন যে,- নিশ্চয়ই এখানে বিপুল অংকের টাকায় প্রশ্ন পত্র ফাস বা ছাত্রির কাছ থেকে বিপুল কিছু গ্রহন করা হয়েছে।

(গ) যেহেতু প্রথম ৩০ মিনিটের মধ্যে MCQ পরীক্ষা শেষ হয়ে অই শেশনটাই ক্লোজ হয়ে যায়, সেক্ষেত্রে কলেজ অথরিটি একস্ট্রা প্রশ্ন পাবেন কোথায় পরীক্ষা নেয়ার জন্য?

এবার আসি ভিন্ন একটা এংগেলেঃ

(২) মেয়েটির মা স্ট্রোক করে হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন, এইটাই বা কলেজ প্রমান করবে কিভাবে? হাসপাতালে তার মাকে ভর্তি করানোর অন্তত একটা ভর্তি স্লিপের স্ক্রিন শট কিংবা তার মায়ের ভর্তি অবস্থায় তোলা একটা ছবিও তো কলেজ অথরিটিকে দেখাতে পারতো।

(৩) মেয়েটির এমনিতেই দেড় ঘন্টা দেরি হয়ে গেছে। তার পেরেন্ট কলেজ পরীক্ষা কেন্দ্র থেকে একেবারেই কাছে ছিলো। সেতো তার পেরেন্ট কলেজের যে কোনো একজন শিক্ষককে সাথে নিয়েও আসতে পারতো যাতে শিক্ষক টু শিক্ষক ব্যাপারটা হ্যান্ডেল করা যায়। মেয়েটি সেটা করতেনি। হয়তো অনেকে বল্বেন-মায়ের এই অবস্থায় তার মাথা ঠিক ছিলো না, বা বুদ্ধিতে আসে নাই। কিন্তু মেয়েটি ঠিকই তার এক খালাকে সাথে নিয়ে এসছেন। সেটাই যে তার খালা সেটাও কিন্তু কলেজ অথরিটির পক্ষে প্রমান করা সম্ভব না।

অনেকেই মানবতা, দয়া কিংবা অধিকারের কথা বলে ফেসবুক ভাসিয়ে দিচ্ছেন। পরীক্ষার ফি জমা দিয়েছে তো দেরী করে এলেও তার অধিকার আছে হলে বসার ইত্যাদি ইত্যাদি। এগুলি কোনো যুক্তি না। প্লেনের টিকেট কেটে টাইমমত এয়ারপোর্টে যাইয়েন না, দেইখেন প্লেন আপনার জন্য অপেক্ষা করে কিনা আর করলে কতোক্ষন। সব কিছুর একটা নিয়ম আছে।

হ্যা, মেয়েটির এখনো বাকি পরীক্ষা গুলি দেবার সুযোগ আছে। এর মধ্যে সে যদি তার মায়ের এই অকাল এক্সিডেন্টের কথা উল্লেখ করে শিক্ষা বোর্ডের কাছে একটা পরীক্ষার জন্য রি-এপ্লাই করে, সরকার হয়তোবা আরো অন্যান্য ভুক্তভোগী পরীক্ষার্থীর সাথে তারটাও গ্রহন করে সুযোগ দিতে পারে। কিন্তু কলেজ শিক্ষকগন কিংবা কলেজ অথরিটির পক্ষে কোনো কালেও সম্ভব না।

Mayeen Uddin: এর লেখা

আজ মেয়েটির ছবি ভাইরাল।

মা স্ট্রোক করায় হাসপাতালে পৌঁছে দিতে গিয়ে পরীক্ষার হলে পৌঁছাতে দেরি হয়। সে জন্য তাকে পরীক্ষায় অংশ নিতে দেওয়া হয়নি। ভিডিওতে মেয়েটির চোখের জল দেখে আমারও বুক ভেঙে যাচ্ছে। অনেকে পরীক্ষা কেন্দ্রের শিক্ষকদের কঠোর সমালোচনা করছেন, কেউ কেউ গালাগালিও করছেন। অনেকেই বলছেন, “মাত্র এক ঘণ্টা তো! মানবিক কারণে পরীক্ষা দিতে দেওয়া উচিত ছিল।” কিন্তু বাস্তবতা ভিন্ন। আমরা শিক্ষকরা অনেক সময় ‘অমানবিক’ হতে বাধ্য হই, কারণ আমরা আসলে অক্ষম।

আমাদের এই অক্ষমতার পেছনে রয়েছে —সরকারের নীতিমালা, শিক্ষা বোর্ডের বিধি আর পাবলিক পরীক্ষার কঠোর আইন। এই আইন আমাদের এমনভাবে বেঁধে রেখেছে যে, মানবিকতা দেখানোর ক্ষমতাটুকুও আমাদের হাতে নেই। পরীক্ষা শুরুর নির্ধারিত সময়ের পরে কাউকে পরীক্ষায় অংশ নিতে দেওয়া যায় না — এটা আমাদের স্পষ্ট নির্দেশনা।

যেমন এইচএসসি পরীক্ষায় দুটি অংশ থাকে — MCQ ও CQ। MCQ অংশ চলে প্রথম ৩০ মিনিট। এরপর সেই উত্তরপত্র উঠিয়ে নেওয়া হয় এবং CQ পরীক্ষার শুরু হয়। এই নির্ধারিত সময়ের পরে কেউ কেন্দ্রে এলে শিক্ষক কীভাবে তাকে নতুন করে MCQ প্রশ্ন দেবে?

শিক্ষকের হাতে সে ক্ষমতা নেই।

তাহলে প্রশ্ন হলো — মানবিকতার জায়গাটা কে দেখবে?

সেই দায়িত্ব কি শিক্ষা বোর্ড বা সরকারের নয়? সরকার চাইলে এই মেয়েটির ক্ষেত্রে বিশেষ বিবেচনায় তার বিষয়ে ‘অটোপাশ’ দিতে পারে। আমাদের হাতে সেই সিদ্ধান্ত নেই।

আমি একবার একজন ব্যাংকারকে জিজ্ঞেস করেছিলাম,

“একজন মুমূর্ষু রোগীর অপারেশন করতে আজই ১০ লাখ টাকা দরকার। আপনি জানেন, সে পরদিন টাকা ফেরত দেবে। আপনার ক্যাশে কোটি কোটি টাকা আছে — আপনি কি তাকে মানবিক কারণে এই টাকা দিয়ে দিতে পারবেন?”

উত্তর ছিল, “না, নিয়মে নেই, সম্ভব না।”

এই যেমন একটা প্রাণের প্রশ্ন, তেমনই পরীক্ষা নিয়েও নিয়মের বাঁধনে আমাদের হাতে কিছুই থাকে না। কিন্তু তবুও বলি —

পরীক্ষা মাত্র এক বছরের, আর জীবন একটাই।

মানবিকতার জায়গাটুকু যেন আইনের বাইরে না পড়ে — এই হোক আমাদের প্রার্থনা।

১৩/৬/২০২৫-আমেরিকা থেকে বাসায় ফিরলাম

গতকাল ১২/৬/২০২৫ তারিখ বিকাল সাড়ে চারটায় বিমান বন্দরে ল্যান্ড করেছি আমেরিকা থেকে। বাসায় আসতে আসতে প্রায় ৭ টা বেজে গিয়েছিলো। অতঃপর গোসল করে খাওয়া দাওয়া করে ঘুমিয়ে গিয়েছিলাম। গত এক মাসের একটা ভ্রমন ফিরিস্থি লিখবো লিখবো করে সময় করে উঠতে পারছি না। ভাবলাম, প্রতিদিন একটু একটু করে আমার এবারের আমেরিকা ভিজিটের অভিজ্ঞতাটা লিখবো।

পর্ব-১ঃ

১২/৬/২০২৫-আমেরিকা থেকে ফেরত-ফেসবুকে লিখা

গত মে মাসের ১৪ তারিখে আমার ছোট মেয়ে সানজিদা তাবাসসুম কনিকার অনার্স শেষে কনভোকেশনের অনুষ্ঠানে আমেরিকায় গিয়েছিলাম। গতকাল অর্থাৎ ১১ জুন ২০২৫ তারিখে আমেরিকা থেকে বাংলাদেশের উদ্দেশ্যে রওয়ানা হয়েছিলাম।

প্রায় এক মাস আগে….

এসেছিলাম ইউনিভার্সিটি অফ ম্যারিল্যান্ড বাল্টিমোর কাউন্টি (UMBC) তে ছোট মেয়ের অনার্স শেষে কনভোকেশন অনুষ্ঠানে। সবকিছু খুব দ্রুত পেরিয়ে গেলো। ছোট মেয়ে সানজিদার অতুলনীয় সার্ভিস না থাকলে আমেরিকার এক প্রান্ত থেকে আরেক প্রান্তে (নায়েগ্রা, লাসভেগাস, রিনু, নেভাদা, পেন্সিলভিয়া, ভার্জিনিয়া, নিউইয়র্ক, ওয়াশিংটন, এবং আরো অনেক দর্শনীয় স্থান) ঘুরাই হতো না। ধন্যবাদ মা আমার।

আজ ফিরে যাচ্ছি দেশে। মনটা কষ্ট এবং আনন্দের দোলাচালে কেমন যেনো অস্থির। ছোট মেয়েকে আবারো ফেলে যাচ্ছি একা আমেরিকায়। ইউনিভার্সিটির অনার্স শেষেই অনেক ভাল একটা জবে ঢোকেছে। তাকে থাকতেই হচ্ছে। অনেক কষ্ট লাগছে ভিতরে। সন্তান বড় প্রিয় জিনিষ। এয়ারপোর্ট থেকে মেয়েকে বিদায় দিতে চোখের অশ্রু তাকে দেখাতে চাইনি বলে জড়িয়ে ধরে শুধু বলেছিলাম-ভালোবাসি ততটুকু মা যতটুকু একজন পিতা সবচেয়ে বেশি ভালোবাসতে পারে তার আদরের সন্তানকে। অন্যদিকে দেশে ফিরে যাচ্ছি এতেই মনটা আবার ভালোও লাগছে। এমনই একটা দোলাচলে ছিলাম আজ থেকে ৪৮ বছর আগে যেদিন গ্রাম থেকে ক্যাডেট কলেজে গিয়েছিলাম। একদিকে গ্রাম ছাড়ার কষ্ট, অন্যদিকে ক্যাডেট কলেজে পদার্পনের আনন্দে। অশ্রুসিক্ত নয়ন, মেকী হাসির ঠোটের অন্তরালে অন্তরের কষ্টের যে অনুভুতি তা কি আনন্দের আকি বিষাদের সেটা বর্ননা করা কঠিন।

বড় মেয়েও তার স্বামীকে নিয়ে এই ফাকে সিংগাপুর- মালয়েশিয়ায় ঘুরছে। প্রতিদিন কথা হচ্ছিলো ওদের সাথেও কিন্তু কোথায় যেনো সেখানেও একটা দোলাচালে ছিলাম। কথা হয়, ভিডিওতে দেখা হয় অথচ এক টেবিলে বসে খাওয়া হয় না, আড্ডা হয় না। জীবনটা মনে হয় এমনই। বাচ্চারা যখন ছোট থাকে, ওদের আবদার, ওদের দুষ্টুমি, ওদের জালাতন একদিন ধীরে ধীরে কমতে কমতে এমন জায়গায় নেমে আসে যেনো আমরাই ওদের কাছে বাচ্চা মানুষ। একদিন যে ছোট ছোট বাচ্চাগুলিকে সবকিছু থেকে আড়াল করে রাখতাম, এখন এই বয়সে এসে দেখলাম, ওরাই হাত ধরে রাখছে আমাদের। এ যেনো কি স্বর্গীয় এক অনুভুতি। এই বুড়ো বয়সে এসে সন্তানদের কাছে নিজেরা বাচ্চাদের মতো হয়ে যেতে মন্দ লাগে না। আমরা আসলেই এই বয়সে আগের মত আর সেই শক্তি, মনোযোগ আর সাহস থাকে না। সন্তানের হাত ধরে হাটা যে কত নিরাপদ তা খুব অনুভব করি। তাই মনের এবং অন্তরের অন্তস্থল থেকে দোয়া বেরিয়ে আসে প্রতিটি ক্ষনে যেনো ওরা থাকে সর্বদা নিরাপদ, সুসাস্থ্যে এবং সুখীতে।

বাংলাদেশ থেকে আসার টিকিট ছিল ইকোনোমি ক্লাশে। বুঝতে পারিনি এক নাগাড়ে ২২/২৩ ঘন্টা ফ্লাইটের অস্বস্থি এবং অস্থিরতা। ছোট মেয়ে সম্ভবত ব্যাপারটা উপলব্ধি করেছিল। আজ যখন এয়ারপোর্টে চেক ইন করি, টিকেট চেক করে দেখি-কখন কবে কিভাবে যে সেটা বিজনেজ/প্লাটিনাম হয়ে রয়েছে। মেয়েকে জিজ্ঞেস করতেই মুচকি হেসে বল্লো-তোমাদের এত বড় জার্নিটায় তোমাদের আসার সময় নিশ্চয় কষ্ট হয়েছিল, আমার সেটা ভাল লাগেনি আব্বু। তাই তোমাদেরকে এই সারপ্রাইজটা দেয়া।

মেয়ের দিকে তাকিয়ে শুধু মুচকী হাসলাম। টিকেটটা চেঞ্জ করাই মুখ্য ব্যাপার নয়, আমাদের এই বুড়ো বাবা মায়ের আনকম্ফোর্ট বিবেচনা করে মেয়ে আমাদেরকে কম্ফোর্ট দেয়ার জন্য কিছুই না জানিয়ে হাফ মিলিয়ন টাকা খরচ করতেও দিধা করেনি। এটাই হয়ত সন্তানের ভালোবাসা।

আমি তোমাদের ভালোবাসি মা।

১২/০৫/২০২৫-মানুষ চলেই যায়

তারপরেও মানুষের জীবন চলেই যায়। কেউ একা একাই চলে যায় এবং কাউকে কনো প্রভাব বিস্তার না করেই চলে যায় নীরবে, নিঃশব্দে। আবার কেউ এতোটাই শোরগোল করে যায় যে, তার টালমাটাল পরিস্থিতিতে যারা বেচে থাকেন, তাদের জীবনকে অনেকটাই নাড়িয়ে দিয়ে যায়। যেনো সেই ঢেউয়ের মতো যা সৃষ্টি করেছিলো অজানা গন্তব্যে চলে যাওয়া কনো স্টীমার আর পিছনে ফেলে গেছে পানির উপর তৈরী করা ঢেঊ যা কিনা সেই স্টীমারের চলে যাওয়ার পরেই নদীর তীরে এসে তীরকে কাপিয়ে তোলে।

যারা একবার চলে যায়, তারা সামিয়ীক সময়ের জন্য সবাইকে একটু নারা দিয়ে গেলেও সময়ের আবর্তে ঠিক যখন সময় থিতু হয়ে আসে, তখন যিনি চলে গেলো তাকে নিয়ে আর কোন কিছুই কেপে উঠে না। সে এই অদ্ভুত প্রিথিবীতে ছিলো কিনা এটাই আর প্রমান করা যায় না। মৃতদের ভীরে সে এক খন্ড কদাকার মাটির মতো আনাচে কানাচে কিংবা নদীর ঘোলাটে পানির মধ্যে মশে একাকার হয়ে কোথায় যে হারিয়ে যায়, তা এ জগতের কেহই আর তার অস্তিত্ব খুজে পায় না। গুটিকতক নামকরা ব্যক্তিত্ব ছাড়া আর কেহউ স্মরণীয় হয়ে থাকে না। এক সময় সেই স্মরণীয় ব্যক্তিত্বরাও কালের সুগর্ভে একেবারে হারিয়ে যায়। কোথাও আর কেউ থাকে না। ফলে আজকের অরু, সৌম্য, আকাশ, মাধুরী এরা শুধু বর্তমানকে ঘিরেই যতো ইমোশন, প্রেম, হিংসা, দুসচিন্তা কিংবা পরিকল্পনায় নিমজ্জিত থাকে। আর এদের এইসব ইতিহাস প্রোথিত থাকে প্রতিটি এফেক্টেড চরিত্রের ডিএনএ তে। বড্ড আফসোস হয় আমার এজন্য। এতো সুন্দর একটা প্রিথিবীতে কেউ বেশীদিন এর নীলাকাস, এর ঝড়ো হাওয়া, এর সবুজ বনায়ন কিংবা জোস্নার মৃদুমন্দ আলোছায়ার অভিব্যক্তি বেশীদিন উপভোগ করার আগেই চলে যেতে হয়। পারতো না কি সেই অদৃশ্য স্রিষ্টিকর্তা আমাকে বা তাদেরকে আরো হাজার বছর জীবিত রেখে এই জীবনের পুর্ন সাধ উপভোগ করাইতে? পারতো। কিন্তু সেটাও তার এক লীলাখেলা।

কি জানি হতে পারে এ সবই কোনো বৃহৎ খেলার একটা পর্বে আমরা বিচরন করছি। আর এই পর্বের পরে হয়তো আরো কোন পর্ব তো আমাদের জন্য রয়েছেই যার কনো তথ্য আমাদের কাছে নাই। সেই পর্বে কি কখনো আমার সাথে এসব মানুষের সাথে আবার দেখা হবে? দেখা হবে কি অরুর সাথে, সানার সাথে কিংবা এখন যারা আমার আশেপাশে আছে তাদের সাথে?

১২/০৫/২০২৫-হার্ট এটাক

বুঝিনি কখন কবে হার্ট এটাক হয়েছিলো অথচ বারবার একই রকমের উপসর্গ আমি উপভোগ করেছি বহুবার। এটা যে আমার জীবনে এতোবড় একটা সর্বনাশী এবং ভয়ংকর কিছু বাসা বেধেছে, সেটা আমি বুঝিনি। কিন্তু যখন বুঝেছি, আমি শুধু মুচকী হেসেছিলাম। ভয় তো পাইইনি বরং মনে হয়েছে-বাহ, এটা কি সেটাই যেটা মানুষ বারবার ভয়ংকর ভাষায় তার বর্ননা দেয়?

বড় মেয়ের শসগুড় বাড়ী বেড়াতে যাওয়ার ঠিক প্রাক্কালেই আমি গাড়িতে বসে এতোটাই অসস্থি বোধ করছিলাম যে, পুরু ভ্রমনটাই আমার সুখের ছিলো না। পথিমধ্যে কয়েক জায়গায় থেমে চা সিগারেট খেয়েছি। আর ঘন ঘন প্রেসার বেড়ে যাচ্ছে বলে মনে করে ইরেগুলার ওসারটিল নামে একটা প্রেসারের মেডিসিন খেয়েই চলেছি। কিন্তু ভিতরের যন্ত্রনা বা একটা জলন্তীভাব আমার কিছুতেই কাটছিলো না। সিরাজগঞ্জ গিয়ে প্রেসার মেপেও খুব একটা সুরাহা যে করতে পেরেছি সেরকমও হয় নাই। মেয়ে ডাক্তার, মেয়ের জামাই আবির ডাক্তার, তারাও যে খুব একটা অভিজ্ঞ মতামত দিতে পেরেছে তেমনটা নয়। ওখানে যাওয়ার পর একতার পর একটা সিগারেটও খেয়েছি। তিন দিন ছিলাম ওখানে, এই তিনদিন মোটেও আমি সুস্থ্য ছিলাম না কিন্তু কাউকে বলারও প্রয়োজন মনে করিনি। অতঃপর ব্যাপারটা এমনি এম্নিই যেন ঠিক হয়ে গিয়েছিল।

কিন্তু গত অক্টোবরে সকাল বেলায় হটাত করে আমার ঘুম ভেংগে যায় প্রচন্ড একটা অসস্থি অনুভবে। মনে হচ্ছিল-বুকের কোথায় যেন জ্বলছে কিন্তু কোন ব্যথা নাই। ভাবলাম, হয়ত অন্য কোনো কারন। টাইলসের মধ্যে পেট উপুর করে দিয়ে শুয়ে জ্বলা জ্বলা ভাবটায় একটু শিতল করার চেষতায় বুক উপুর করে শুয়ে ছিলাম, লাভ হয়নি। ঠান্ডা পানি দিয়ে বুক ভিজিয়েছি যাতে বাইরের ঠান্ডা পানিতে যদি একটা ভাল লাগে, সেটাও খুব একটা লাভ হয়নি। চা, কফি খেয়ে একটার পর একটা সিগারেট খাচ্ছিলাম। বারবার মনে হচ্ছিলো, ওই সেদিন যেদিন সিরাজ গঞ্জ গেলাম, যেমন একটা অনুভুতি হয়েছিল, আজকের অনুভুতিটাও প্রায় সে রকমের। ভয় পাই নি কিন্তু ভালো লাগছিলো না। মাঝে মাঝেই প্রেসার মাপছি, কিন্তু প্রেসারের যে খুব একটা হেরফের তাও না। ওসারটিল খাচ্ছি বারবার। খেলে একটু ভালো লাগে, আবার একটু পরেই কেমন যেন আগের জায়গাতেই চলে আসি। এভাবে টাইম চলতে থাকে। সকালে নাস্তা করি, গোসল করি, আবারো সব কাজ নরম্যালই করতে থাকি। অফিসের জন্য বেরিয়ে যাই। তখন সকাল প্রায় ৯ টা।

অফিসে যাওয়ার রাস্তার একদিকে সেনানীবাস, আরেক দিকে আমার অফিসে যাওয়ার সরাসরি রাস্তা। আর সেই জায়গাটার নাম “র‍্যাংক্স”। ওখানে এসে মনে হলো-একটু ডাক্তার দেখাইয়াই যাই সিএমএইচ থেকে। যেই না আমি ডাক্তারের কাছে গেলাম (লেঃ কর্নেল আমিন) সে আমাকে দেখেই বল্লো-স্যার আপনি কি অসুস্থ? কোনো দেরী না করে আমিন আমাকে সাথে সাথে নিয়ে গেল ইমার্জেন্সীতে। অতঃপর সিসিইউ এবং অতঃপর অপারেশন থিয়েটার। শোনা গেল যে, আমার হার্ট এটাক হচ্ছিলো। হার্ট এটাকের ট্রপিনিয়ন এর কাট অফ রেঞ্জ থাকার কথা ৪৭ আর সেখানে আমার ট্রপিনিয়ন ছিল ২২০০০। ডাক্তার আমাকে প্রশ্ন করেছিলো-আমার কি এর আগেও এটা অনুভুত হয়েছিলো? বুঝলাম-ওই যে সেদিন সিরাজগঞ্জ যাওয়ার সময় যে জলন্তীটা হয়েছিলো, সেটা আসলে ছিলো আরেকটা হার্ট এটাক।

০২/০৫/২০২৫-কেউ তো বসেছিলো

এই যে উপরের গাছটা দেখছি, এটা একটা নির্জন জলঘেরা ছোট টিলার উপরে দাঁড়িয়ে আছে। চারিদিকে জল, আশেপাশে কোথাও কনো বাড়িঘর নাই। অথচ এমন নয় যে, এই গাছটার নীচে কেউ পদার্পন করেনি, কেউ এর ছায়ার তলে বসে নি। কে কখন বসেছে এর হিসাব আমার আপনার কাছে না থাকলেও হয়তো এই গাছটার কাছে আছে কিন্তু তাদের কথা ওর মনে রাখারও দরকার নাই। কখনো যদি আবার সেই পুরানো পথিক আরেকবার এসে তার নীচে বসে, হয়তো নিঃশব্দে নীরবে মুচকী হেসে দিয়ে বলতেও পারে-অনেকদিন পরে এলে। আমিও একবারই এখানে এসেছিলাম। আবার কখনো সেখানে যাওয়া হয় কিনা কে জানে?

এ রকম অনেক কথা আমার মনে হয় আর আমি বারবার ব্যথিত হই। এতো অল্প একটা সময় নিয়ে কেনো আমাকে আমার ঈশ্বর এখানে পাঠালো? আমি যে ঘরটায় থাকি, এখানে এক সময় বিশাল গর্ত ছিলো, সেই গর্তে অনেক পানি ছিলো, পানিতে অনেক মাছ, শ্যাওলা, কচুরীপনা, অনেক পোকামাকড়ও ছিলো। আজ এখানে কোন জল নাই, কোনো মাছ নাই, কোনো পোকামাকড়ও নাই। আমি আছি বিশাল একটা সাততলা অট্টালিকা বানিয়ে। এমনো তো হতে পারে, আমি যখন থাকবো না, তখন এটা অন্য কারো দখলে অন্য কারো আবাসস্থলে পরিবর্তন হবে। আমি যেখানে খাট পেতে ঘুমাই, হতে পারতে সেখানে আরেকজন, আমি যাকে চিনি না, সে ঘুমুচ্ছে। এমনত হতে পারে সে আমার বংশের কেহই নয় অথচ এই বাড়িটা আমি করেছি, আমার হাতের শতভাগ ছোয়ায় প্রতিটি ইট দাঁড়িয়ে আছে।

আবার এমনো তো হতে পারে, কন এক সময়ের বিবর্তনে আবার সেই মাছেরা, সেই জলের ধারা, আবার সেই পোকামাকড়ের বংশ ধরেরা ফিরে এসছে আমার এই স্থাপনার উপরে!! জীবন কতটা বৈচিত্র্যময় নাহ? যে ঘরটায় বসে, শুয়ে আমি কল্পনার রাজ্যে ভেসে যেতাম, সেখানে আমার আগে হয়তো যেমন কোনো প্রানি রাজত্ব করেছে, মাঝে আমি করেছি, আমার পরে হয়তো কেউ করবে। আমরা আসি, যাই, কেউ আবার এর জায়গা দখল করে, তারাও চলে যায়, আবার নতুন কেউ আসে।

কি অদ্ভুত জীবনের চক্র।

২৭/০৪/২০২৫-ফ্যামিলি এট এ গ্ল্যান্স ভূমিকা

একই বংশে জন্ম গ্রহন না করেও, বৈবাহিক কোনো সম্পর্কের দ্বারা কেউ কোনো বংশীয় আত্মীয়তা না করেও এই সমাজে এবং এই জগতে এমন কিছু মানুষ অন্য কারো সাথে এমনভাবে জড়িয়ে যায় যেনো তারা জনম জনম ধরে একই সূত্রে গাথা, যেনো বংশের চেয়েও শক্ত বন্ধনে আবদ্ধ। আবার এমনো দেখা যায় যে, একই বংশ, একই পরিবার হওয়া সত্তেও সময়ের আবর্তনে এবং যোগাযোগের বিচ্ছিন্নতার কারনে কেউ কেউ নিজের বংশ থেকেও আউট হয়ে গিয়ে অপরিচিত মানুষে রুপ নেয়। আবার এমন কেউ কেউ আছে দেশ স্থানান্তরের কারনে, কালচারাল বিবর্তনের কারনে কেউ কেউ আজীবিনের জন্য বংশের ট্রি থেকেই হারিয়ে যায়। ফলে কেউ কেউ ফ্যামিল হয়েও ফ্যামিলির কেউ থাকেন না, আবার কেউ কেউ ফ্যামিলির কিছুই না হয়েও যেনো ফ্যামিলির থেকে অনেক বেশী শক্ত বন্ধনে আবদ্ধ থাকে বংস পরম্পরায়।

আমার বংশের মধ্যেও ঠিক এমনটা হতে দেখছি এবং দেখেছি। আমি যে গ্রামে থাকতাম, সেখানে আমি কাউকে কাউকে মামা, খালা, চাচা কিংবা কোনো না কোনো সম্বোধনে ডাকি। কিন্তু আসলেই তারা আমার মামা কিনা, চাচা কিনা, কিংবা খালা কিনা আর হলেও সেটা কিসের ভিত্তিতে সেটা আমার জানাও নাই। যদি পুরু জিনিষটার ব্যাকওয়ার্ড বাটনে টীপ দিয়ে পিছনে যাওয়া যায়, হয়তো দেখা যাবে-সেই অতীতে আমারই বংশের খুব কাছের কেউ কেউ এরা ছিলো। সেই ধাবাহিকতায় শত বর্ষ পরে তাদের সম্পর্কের রেশ ধরে আজিকার এই খালা কিংবা চাচা কিংবা মামার সম্পর্কটায় দাড়িয়েছে। আমরা হয়তো এটা জানিইনা যে, ওরা আমাদের এমনি এমনি ডাকা চাচা, খালু, মামা নয়। এই চাচা, মামা খালা ডাকার পিছনে সেই অতীতে আমাদের পূর্ব পুরুষদের মধ্যেই কাছের সম্পর্ক বিদ্যমান ছিলো। কিছু একটা ভীত তো আছেই।

আমি যখন এই ভীতগুলির পিছনে খোজ খবর নিতে থাকি, তখন এমনি এমনি ডাকা চাচা, খালু, মামাদের আমার বংশের আসল বন্ধন গুলির ভীত দেখে এতোটাই চমকে উঠেছিলাম যে, সেই এমনি এমনি ডাকা সম্পর্কগুলি আমার কাছে নতুন করে এসে আবার আরো কাছে কিছু মানুষে পরিনত হয়েছিলো। তখন শুধু একটা কথাই মনে হয়েছে-আহা, এরা আমার সেই দাদার নানির দাদার বংশের লোক!! কতই না কাছের। অথচ আমরা তা জানিই না।

আমার সময়কাল থেকে শুরু করে আরো ৫০ বা ১০০ বছর পরেও এই সাইক্যালের পুনরাবৃত্তি ঘটবে, কেউ আমার বংশ থেকে হারিয়ে যাবে, কেউ নতুন করে যোগ হবে। আজকের ভাই, বোন কিংবা চাচা, খালুর বংশ ধরেরা যখন একে একে শাখা প্রশাকাহ বিস্তার করতে করতে দেশ দেশান্তরে ছড়িয়ে যাবে, এক গ্রাম থেকে আরেক গ্রামে ভিত্ত গাড়বে, আর এই সম্পর্কের ধারায় যখন আমরা একে একে চাচাতো ভাই, তো খালাতো বোন কিংবা এ ধরনের ধ্রাবাহিকতায় সম্বোধন করতে থাকবো, কোনো এক সময় কিংবা যুগের পর যুদ, শত বছরের পরেও আমরা সেই সম্পর্কের জের ধরে কেউ কেউ না জেনেই কাউকে খালু, চাচা, ভাই, দাদা নানা বা খালা হিসাবে সম্বোধন করবো, সেই সময়ে আমরা হয়তো জানবোই না কেন আমরা কাউকে খালা বলছি, বা নানা বলছি বা চাচা বা মামা। আসলে এরা কোনো না কোনো সময়ে সেই প্রাচীন আমলে হয়তো আমাদের আপন জনের কেউ ছিল। এখন যা আমরা আর মনে রাখিনি।

১৬/০৪/২০২৫-একটি রুপক লেখা

(বিএনপি নির্বাচনের ৬ মাস পরেই ক্ষমতা হারাবে)

গত বছরে উগান্ডা সরকারের পতন হইছে। সরকার প্রধান পালাইয়া গেছে পার্শবর্তী দেশ ভুগান্ধায়। তাদের এবং ভুগান্দার আশ্রয়ে থাকা নায়িকা সহ তাদের চেলাপেলারা অনেক চেষ্টা তদবীর চলছে যাতে উগান্ডায় একটা পলিটিক্যাল অস্থিরতা চালাতে পারে কিন্তু উগান্ডার দেশপ্রেমিক সেনাবাহিনী, উগান্ডার দেশপ্রেমিক জনগন এবং উগান্ডার একমাত্র বিশ্ববরেন্য নোবেলজয়ী ক্ষমতায় থাকায় পতিত সরকার খুব একটা খারাপ কিছু করতে পারেনি। তবে তাদের চেষ্টা অব্যহত আছে। কিন্তু একটা জিনিষ একেবারেই দৃশ্যমান যে, এই কঠিন প্রতিকূল অবস্থাতেও পতিত সরকার তাদের দলকে উজ্জীবিত করার বা শরব হবার হাল ছাড়েনি। অন্যদিকে ঠিক এই সময়ে ভুত ভবিষ্যত চিন্তা না করে গত দেড় যুগ আমলে নিবু নিবু একটা রাজনৈতিক দল (বিনুপিন্ডি) এমন আচরন করছে যেনো ওরা না জানি কত হেডামওয়ালা দল, তারা সারাক্ষন উলটাপালটা কথাবার্তা বলে পানি ঘোলা করছে।

কেয়ারটেকার সরকার ইতিমধ্যে উগান্ডার জনগনের মনে এমন একটা স্থান করে নিয়েছে যে, মানুষ আর কোনো রাজনৈতিক দলের প্রত্যাশা করে না, তারা চায় এরাই থাকুক আরো কয়েক যুগ, মানুষ ভালো আছে, বিনিয়োগ আসতেছে, সুযোগ তৈরী হচ্ছে প্রতিদিন যা মানুষের চাওয়া ছিলো তারা মুটামুটি সেটা পাচ্ছে। রিজার্ভ বাড়ছে, কর্মসংস্থান বাড়ছে, সিন্ডিকেট কমছে, মারামারি ইত্যাদি কমছে এবং উগান্ডার সাধারন মানুষের মনে একটা সস্থি এসছে। আর ঠিক এমতাবস্থায় বর্তমানের বিনুপিন্ড দলটি  বারংবার কেয়ারটেকার সরকারের কার্যকলাপে বাধা দেয়ার চেষ্টা করছে, সংস্কারে আপত্তি, এবং দ্রুত নির্বাচন দেয়ার এমন তাগিত সহ হুমকী ধামকী দিচ্ছে যে, মনে হচ্ছে, না জানি কত ক্ষমতাশীল ছিলো এই বিনুপইন্ডি এতো বছর। অথচ তারা ক্ষনিকের জন্যেও গত দেড় যুগ মাঠে তো নামতেই পারেনি, অথবা সাহস করেনি, বরং চোরের মতো, ইন্দুরের মতো গর্তের ভিতর ঢোকে ছিলো কালো চাদর আর ঘোমটা গায়ে দিয়ে। যেই না গত সরকার পতিত হয়েছে, তারা এখন যেনো বাঘ বনে গেছে। আর সারাক্ষন নির্বাচনের আগেই চাদাবাজি, দখল বানিজ্য, টেন্ডারবাজি, লুটতরাজ ইত্যাদিতে তাদের আসল মুখোস খুলে দিচ্ছে। জনসদাহারনের ফেসবুকের কমেন্ট গুলি শুনলে লজ্জা লাগে কিন্তু তাদের যেনো কোনো লজ্জা শরম নাই।   

আমার যেটা ধারনা যে, যখনই উগান্দায় একটা নির্বাচন হবে, এই বিনুপিন্ডি রাজনৈতিক দলটি ক্ষমতায় আসবে, ঠিক তখন পতিত সরকারের দলের মানুষগুলি এক নাগাড়ে এমন জটিল পরিবেশ তৈরী করে ফেলবে যে, বিনুপিন্ডির দ্বারা সরকার গঠনের ৬ মাসের মাথায় বিনুপিন্ডি সরকারের পতন হবে। এই বিনুপিন্ডি দলটি যে পতিত সরকারি দলের কাছে শিশুও না, এটা তারা বুঝলেও স্বীকার করতে চায় না। বর্তমান কঠিন জাতাকলে, আর্মির পরোক্ষ সাপোর্টে, জনগনের একাত্তবোধের কারনে জটিল বাধায় পড়েও যখন পতিত সরকারের রাজনৈতিক নেতাকর্মীরা এমন এমন হেডাম দেখিয়ে মাঝে মাঝে বর্তমান সরকারকে চ্যালেঞ্জ ছুড়ে দিচ্ছে, তাতেই আমার ধারনা যে, যখন দেশপ্রেমিক আর্মি থাকবে না, জনগন আর আগের মতো এক হয়ে রেজিষ্ট করতে আসবে না, তখন পতিত সরকারি কর্মীরা বর্তমান বিনুপিন্ডি দলকে এমন নাকামি চুবানি খাওয়াইবো যে, আগে তো গর্তে গেছিলো এবার ক্ষমতায় থেকেও কিছু করতে পারে কিনা আমার সন্দেহ আছে। ওই অবস্থায় হয় জনগন আরেকটা বিপ্লব এমনভাবে করবে যে, বিনুপিন্ডির বিরুদ্ধে  যেখানে পতিত সরকারকে যেভাবে একবার পালাইয়া যাইতে বাধ্য করেছে,বিনুপিন্ডির নব নির্বাচিত সরকারী দলকেও পালাইতে জনগন বাধ্য করবে কারন তারা বর্তমান কোয়ালিফাইড এবং দক্ষ কেয়ারটেকার সরকারকে সময় দিচ্ছে না দেশ গড়ার জন্য, সংস্কার করার জন্য বা সংস্কার করলেও তারা সেই সংস্কার আবার ডিলীট করে একটা ব্যর্থ রাষ্ট্রে পরিনত করতে চাইবে বলে।

পিপিলিকার পাখা উঠে মরিবার তবে-এই কথাটা তখন তাদের কাছে একটা বেধবাক্যের মতো মনে হবে। এম্নিতেই উগান্ডার জনগন বর্তমান উদিয়মান বিনুপিন্ডি রাজনৈতিক দলকে তাদের বর্তমান চাদাবাজি, দখলদারিত্ত অনুশীলন, মারামারি, কাতাকাটি ইত্যাদির কারনে পছন্দ করছে না, তখন গত পতিত সরকারি দলের দ্বারা যখন চারিকদিকে জালাও পোড়াও, মারামারি, লাগাতার হরতাল, ভাংচুর, শুরু করবে এবং ক্ষমতার চেয়ারে বসে যখন এরা কিছুই করতে পারবে না, তখন নির্বাচিত সরকারের এবং দলের চুড়ান্ত মরনের ইতিহাস লিপিবদ্ধ হবে।

উগান্ডা আর ভালো হইলো না।

১৪/০২/২০২৫- জলিল মামা মারা গেলেন

আমার মায়ের পক্ষের এই জলিল মামা মারা গেলেন গত সপ্তাহে। অনেক ভালো একটা মানুষ ছিলেন উনি। আমি যখন সে ছোট বেলেয়ায় গ্রামে থাকতাম, তখন বেশীর ভাগ সময় আমি এই জলিল মামার বাসাতেই দিনটা পার করতাম। কারন তার এক ছেলে মোতালেব আমার দোস্ত ছিলো। মোতালেব শেষ পর্যন্ত লেখাপরায় আর আগায় নাই, এখন সে মুদি দোকান করে। তারই মেয়েরা হচ্ছে এই অরু, হ্যাপি যারা আমার পরবর্তী জীবনেও ভিন্নভাবে এসেছিলো। মোতালেবের স্ত্রী জ্যোৎস্না বেগমও আমার জীবনে একটা প্রভাব রেখে গেছে। যাই হোক, জলিল মামা মারা যাওয়ার পর একবার ভেবেছিলাম, জানাজায় যাই। সময়ও ছিল কিন্তু যাওয়া হয় নাই। উনার স্ত্রী তাহেরা মামি এখনো জীবিত। ভীষন সুন্দুরী একটা মহিলা ছিলেন। এখনো প্রায় ৮০ বছরের মহিলাকে দেখলে মনে হয়, প্রচন্ড সুন্দুরী। অত্যান্ত ভাল একজন মানুষ বটে। উনি মোট ১৭ জন বাচ্চার মা হয়েছিলেন। কিন্তু দুক্ষের বিষয় হচ্ছে-এই ১৭ জন বাচ্চা তাদের কোনো সুখের কারন হয় নাই তাদের বুড়া বয়সে । তারা যেনো বাচ্চাদের কাধে একটা বোঝা হয়েই ছিলো।

১৭/০১/২০২৫-থাইল্যান্ড ভ্রমন

পৃথিবী ঘুরলে বুঝা যায় যে, সত্যিই এই পৃথিবী একদিন চরম অশ্লীলতায় ছেয়ে যাবে, মানুষের মধ্যে কোনো হায়া, লজ্জা কিংবা একে অপরের প্রতি সম্মানবোধটুকু সম্ভবত আর রাখতে পারবে না। আজ থেকে ২৫ বছর আগেও মানুষের এতো অধোপতন ছিলো না এখন যতটুকু দ্রুত অধোপতনের দিকে যাচ্ছে। কথাগুলি কেনো বললাম? নিতান্তই নিজের রিসেন্ট অভিজ্ঞতা থেকে।

পরিবার নিয়ে (অর্থাৎ আমি, আমার স্ত্রী, উম্মিকা এবং উম্মিকার স্বামী আবির) এই কয়জন মিলে একটা ব্রেক নেবার জন্য থাইল্যান্ড ঘুরতে গিয়েছিলাম গত ৯ জানুয়ারী থেকে ১৬ জানুয়ারী পর্যন্ত।

প্রথমেই আমরা সুবর্নভুমি এয়ারপোর্টে নেমে সেখান থেকে আরেকটা কানেক্টিং ফ্লিয়াটে চলে গিয়েছিলাম ফুকেত। বেষ্ট ওয়েষ্টার্ন হোটেলে আমরা উঠেছিলাম। ১৯০ প্যাংমুয়েং সাই গর রোডে এটার অবস্থান। একেবারেই ফুকেট বীচের পাশে। আমার পায়ে ব্যথার কারনে খুব বেশী হাটাহাটি করতে [পারি না তাই আমি খুব বেশি ঘুরাঘুরীও করি না। বাইরে খাওয়ার জন্য বা আশেপাশে টুকটাক কোথাও যাওয়ার জন্য আমি আমার পরিবারের সাথে বাইরে যাই। বেশীর ভাগ সময় ওরাই বাইরে বাইরে শপিং কিংবা ঘুরাঘুরি করে।

১ম দিন শহরটা ঘুরে ঘুরে দেখলাম। ২য় দিন ফুকেত থেকে ফিফি আইল্যান্ডে রিভার ক্রুজ করতে গেলাম। বেশ দূর। ফিফি আইল্যান্ডটা হচ্ছে মালাক্কা প্রণালী দিয়ে যেতে হয়। এটা মালাকাত দ্বীপ এবং কোকোট দ্বীপের মাঝে অবস্থিত। খুব চমৎকার লোকেশন এবং যেতেও বেশ আরামদায়ক। কিন্তু সমস্যাটা হচ্ছে-এখানে প্রচুর ইউরোপ এবং পশ্চিমা দেশের নাগরিকগন ভ্রমনে আসেন। তাদের ড্রেস এতোটাই নগ্ন যে, মাঝে মাঝে আমার ঘেন্নাও হচ্ছিলো না। প্রায় শতভাগ কোন নগ্ন রমনী গলা ছোলা মুরগীর মতো দুই ঠ্যাং প্রসারিত করে আমার পাশে সান-বাথে বসে যায়, তখন মনে হয় শিপে মাছি থাকলে তারাও উরে যেতো।

যাই হোক, ফিফি তে গিয়ে বীচে গয়ে কিছুক্ষন বসে থেকে আর আমার পরিবারের সবাই বীচে নেমে কিছু ছবি টবি তুলে আমরা চলে এলাম ফিফি আইল্যান্ডের হোটেলে লাঞ্চের জন্য।লাঞ্চ করেই আবার ব্যাক করলাম ফুকেটে।

সন্ধ্যার ফুকেট বড্ড নোংরা। বিশেষ করে বীচ এলাকা। এটা কোনো সভ্য জগতের মানুষের রুচীর মধ্যে পড়ে না। ওরা নগ্ন উদোম গায়ে যেনো বন্য শুয়রের দল। যাই হোক, পরেরদিন গেলাম টাইগার পার্কে। জায়গাটা সালং মুএং এ অবস্থিত। ওখানে গিয়ে মনটা খুব খারাপ হয়ে গেলো। প্রতায় ৮/৯ টা বাঘ আছে যেগুলি সারাদিন মাটিতে শুয়ে ঘুমুচ্ছে। নেশার মতো ঘুমুচ্ছে ওরা। আর কিছু পর্যটক ওদের লেজ ধরে, গায়ে হাত বুলিয়ে পাশে বসে বাঘের সাথে ছবি তুলছে। আমার স্ত্রী সাথে সাথেই আমাকে বল্লো-বাঘগুলিকে শক্তিধর কোনো নেশার ইঞ্জেকশন দিয়ে ঘুম না পারালে এভাবে একতা বাঘ মাটিতে শুয়ে চোখ বন্ধ করে ঘুমিয়ে থাকতে পারে না। ঘটনাটা আসলেই তাই। এতা ভাবতেই মনটা খুবই খারাপ হয়ে গেলো। বাঘকে এভাবে দিনের পর দিন নেশাজাতীয় মেডিসিন দিয়ে জিম্মি করে খাচায় বন্ধি করে একটা ব্যবসা করা অপরাধ যেমন, তেমনি পাপও। এরা নীরিহ না হোক, এদের সুস্থ্যভাবে বেচে থাকার অধিকার আছে। আমার আর খাচার ভিতরে গিয়ে ওদের সাথে ছবি তুলতে ইচ্ছে করলো না। মনতাই আমার খারাপ হয়ে গিয়েছিলো।

২ রাত ফুকেটে থেকে আমরা চলে এসেছিলাম পাতায়ায়। থাইল্যান্ড পর্যটকের দেশ। প্রচুর পরিমান দেশী বিদেশী পর্যটক। আমরা সেখানে গোল্ডেন বীচ হোটেলে উঠেছিলাম। একেবারেই বীচের পাশে। হাটা ডিসট্যান্স। এখানে আবহাওয়া বেশ চমৎকার। কিন্তু ওই একই পরিস্থিতি বীচের। এই পাতায়ায় প্রচুর পরিমানে ইন্ডিয়ান আসে, আর লোকাল লকজনের মধ্যে প্রচুর পরিমান সাউথ ইন্ডিয়ান এবং বার্মিজ কাজ করে। চারিদিকে ইন্ডিয়ান রেষ্টুরেন্ট আর বাজার। থাইল্যান্ডের রাস্তাঘাট পরিষ্কার, নোংরা নয়। পাতায়ায় আমরা ডলফিন শো দেখতে গেলাম। সুন্দর একতা সময় কেটেছিল সেখানে। পাতায়া ডলফিনারিয়াম।

গ্রান্ড প্যালেস, বৌদ্ধ মন্দির, রিভার ক্রুক টার্মিনাল ২১

১৬ তারিখে ব্যাক।

চলবে……।।

৩০/১১/২০২৪-বিপুল সংখ্যক আধুনিক জেন-জি

বিপুল সংখ্যক আধুনিক জেন-জি যারা সামগ্রিক আন্দোলনে শামিল হয়ে কোনো এক ক্ষনে রাষ্টের আবর্তন স্থির করেছিলো, সেই আবর্তন সময়ের আবর্তনে ধীরে ধীরে বুর্জোয়া পরিবেশে স্টেপ-ইন হয়ে আন্দোলনটা যেনো বিতর্কে এবং সমালোচনার পরিধীতে পতিত হয়ে যাচ্ছে। অধিকারের চেতনায় ধর্মোন্মদনা এবং আত্নোতসর্গের প্রেরনা যেনো এই আন্দোলন থেকে ধীরে ধীরে ম্লান হয়ে উঠছে। সেই আগের জায়গায় যেনো এর সমাপ্তি ঘটতে যাচ্ছে যা এমন যে, দেশে যা কিছু হচ্ছে এটাকেই মেনে নেয়া এবং কঠিন সমস্যাগুলিকে এক কোনে ঠেলে দেয়া।  এটা তো হবার ছিলো না।

এই আন্দোলনের জন্য যারা স্টেক হোল্ডার ছিলো বলে চালিয়ে দেয়া হচ্ছে, সেখানে একটা পেরেগ গাথার দরকার ছিল। কেননা এটা গুটিকতক স্টেক হোল্ডার এর মালিকানায় আন্দোলনকে ভুল পথে চালিয়ে দেয়া হয়েছে। কিন্তু ব্যাপারটা কখনোই এমন ছিলো না। বরং তারা ছিলো ব্রিজ-হেড। যারাই এ আন্দলনের অগ্রভাগে ব্রিজ-হেড হিসাবে ছিল, তাদের উচিত ছিলো তাদের এই আন্দোলন সাফল্যের কারনে অনুগামির দল বিশাল জনগোষ্ঠী বা জনসাধারনের মধ্য থেকে অদম্য ও অজেয় সাহসের এবং আত্নোতসর্গের প্রেরনা সমৃদ্ধ কিছু নতুন প্রজন্মকে সামনে নিয়ে আসা। এসব ক্ষেত্রে ষাড়কে শিং ধরে জোর করে বলপুর্বক বশ মানাতে হয়। ক্রূদ্ধশক্তি হয়তো বা আক্রমনকারীকে বারবার মাটিতে আছড়ে ফেলতে চাইবে, তবু বলিষ্ঠ মনের জোরে তাকে বারবারই উঠে দাড়াতে হবে। এটা না করার কারনে পুরু আন্দোলনটা অনেকটা বুর্জোয়া তথাকথিত ব্যক্তিবর্গ এবং বন্দোবস্তীদের হাতে গিয়ে পড়ে যাচ্ছে। একবার ফলাফলে নেতিবাচক হয়ে উঠলে শারীরিক শক্তির সাথে সাথে মানসিক শক্তির লোপ অবশ্যম্ভাবী হয়ে দারায়। তখন যা দরকার তা হলো জনসাধারনের মধ্যে মহৎ সন্তান। তারা রক্তক্ষয়ী সংঘর্ষেও পিছপা হবে না। 

সময় লাগবে, মাথা ঠাণ্ডা রেখে চোখ খোলা রেখে সামনে এগুতে হবে। নতুবা, সেটাই হবে যেটা বারবার ইতিপুর্বে ঘটেছে।

১৩/১১/২০২৪-হার্ট এটাক

শুনেছি মানুষের হার্ট এটাক হলে বুকে প্রচন্ড ব্যাথা অনুভুত হয়, অনেকে ব্যথা সহ্য করতে না পেরে অজ্ঞান হয়ে যায়, মল মুত্র পর্যন্ত ত্যাগ করে ফেলে। সারা শরীর ঘেমে যায়, আরো অনেক কিছু। আমার এ ধরনের কোনো সিম্পটম্পই ছিলো না। কিন্তু প্রায়ই আমি মাঝে মাঝে অফিসে কিংবা সিরাজ গঞ্জ যাওয়ার পথে প্রচুর অস্থির বোধ করতাম, প্রেসার হুট করে ভীষন বেড়ে যেতো, মনে হতো ঘাড় ব্যাথা করছে আর বুকের মাঝখানে কেমন যেনো জলা জলা অনুভুতি হতো। ব্যাপার গুলিকে আমি খুব একটা আমলেই নিচ্ছিলাম না। যখনই এমন হতো, একতার জায়গায় ২/৩ টা অসারটিল প্রেসারের মেডিসিন কেয়ে নিতাম। মাঝে মাঝে ভালোই কাজ করতো, আবার মাঝে মাঝে অনেক সময় পরে এমনিতেই ঠিক হয়ে যেতো বটে কিন্তু শরীর প্রচুর দূর্বল হয়ে যেতো।

কিন্তু গত ৪ নভেম্বর ২০২৪ তারিখের সকাল ৫ টার দিকে আমার ঘুম ভেঙ্গে যায়। আমার প্রচন্ড বুক জলছিলো বলে মনে হচ্ছিলো। মাথা ব্যথা করছিলো, চোয়ালেও ব্যথা করছিলো, ঘাড়ে এবং হাতে বেশ ব্যথা অনুভব করছিলাম। আমি একবার তাইলস করা ফ্লোরে শুইলে মনে হয় ভালো লাগবে এতা ভেবে তাইলের উপর শুইতেছিলাম, আবার সেটাও আরাম দায়ক মনে হচ্ছিলো না বিধায় বিছানায় শুয়ে থাকতে চাইছিলাম কিন্তু সেখানেও এতো অসস্থি বোধ করছিলাম যে, কি করলে যে ভালো লাগবে বুঝতেছিলাম না। প্রেসার মাপার যন্ত্রটাও তখন খুজে পাচ্ছিলাম না। অনেক খোজাখুজির পর যখন পেলাম , প্রেসার মেপে দেখি প্রায় ১৬৫ প্লাস। সাথে সাথে ৩ টা ওসারটিল খাইলাম, কিন্তু কোনো কাজ হলো বলে মনে হলো না। পানি খেলাম, একটু চাও মনে খেলাম কিন্তু কোনো সিগারেট খেলাম না।

উম্মিকা, আবির দুজনেই ডাক্তার, তারা বাসাতেই ছিলো। কিন্তু ওদেরকে কিছু জানালাম না। আমি নিজেই ব্যাপারটা বুঝার চেষ্টা করছিলাম আসলে ঘটছে কি আমার সাথে। কামড় খেয়ে শুয়ে থাকলাম প্রায় ঘন্টা খানেক। অতপর একটু ভালো লাগছিলো। সকাল ৯ তার দিকে পান্তা ভাত খেলাম, তার আগে গসল করলাম। অফিসে যাবো। রেডি হয়ে গাড়িতে উঠলাম। একটা সিগারেটও খেলাম।

আমি অফিসের জন্যই আসলে রওয়ানা হয়েছিলাম কিন্তু র‍্যাংক্স পর্যন্ত যেতে যেতে আমার একবার মনে হলো, অফিসে যাওয়ার আগে একবার স্তাফ সার্জনের সাথে দেখা করে যাই। গাড়ি ঘুরিয়ে সি এম এইচ এর উদ্দেশ্যে রওয়ানা হলাম। ওখানে স্তাফ সার্জন লেঃ কর্নেল আল আমিন বসা ছিলো। আমি সিরিয়াল নিলাম। প্রায় ৪০ মিনিট পর সিরিয়াল পেলাম বটে কিন্তু আমার বুক তখন বেশ ভালো ধড়ফড় করছিলো। স্তাফ সার্জনের কাছে যাওয়ার আগে প্রেসার মাপালাম, একেবারে সুন্দর প্রেসার কিন্তু আমার বুকে ভীষন ধরফড় করছে। আমার ধারনা ছিলো যে, প্রেসারের হেরফের হলেই হয়তো বুক ধড়ফড় করে। কিন্তু স্তাফ সার্জনের কথায় বুঝলাম, প্রেসারের সাথে ধড়ফরের কোনো সম্পর্ক নাই আবার আছেও।

যাই হোক, আমার সকালের অনুভুতি, অবস্থা এবং বর্তমান কন্ডিশন আল আমিনকে বলার পর সে, খুব সহজেই ব্যাপারটা যেনো বুঝে গেলো। সে আমাকে দ্রুত নীচ তলায় ইমারজেন্সিতে রিপোর্ট করার জন্য পাঠিয়ে দেয়।

ওখানে যাওয়ার পর পরি আমার ইসিজি, ইকো এবং প্রেসার ইত্যাদি নেয়া হলো। আর সাথে সাথে একতা ব্লাড স্যাম্পল পাঠান হলো ল্যাবে। ট্রপিরন মাপার জন্য। প্রায় ২ ঘন্টা পর আমার ট্রপিরন পেলাম। রেঞ্জ ভীষন খারাপ। কাট অফ রেঞ্জ থাকার কথা ৪৭, আর আমার রেঞ্জ ২১০০০। একজন মহিলা মেজর ডাক্তার আমাকে বল্লেন-স্যার আপনি কি জানেন যে, আপনি এখনো হার্ট এতাকের মধ্যেই আছেন? আমি এতো ডিলে করে হাসপাতালে কেনো এলেন? আপনার তো অবস্থা খুবই খারাপ। ইসিজি ভাল না, ইকোঅ ভালো না, আবার এদিকে আপনার ট্রপিরন এতো হাই, এই রেঞ্জে তো মানুষই বাচে না।

আমাকে দ্রুত ক্যাথ ল্যাবে পাঠান হল। ব্রিগেডিয়ার জেনারেল মালেক, মেজর সানোয়ার, মেজর সর্না এবং আরো এখন মেজর আমাকে দ্রুত ক্যাথ ল্যাবে নিয়ে এনজিওগ্রাম করতে শুরু করলেন। অদ্ভুত ব্যাপার, আমার তিনটা আর্টারিতেই সিরিয়াস ব্লক। এলএডি তে ১০০%, বাকী অন্য দুটুতে ৯০% এবং ৮০%।

ব্রিগেডিয়ার মালেক খুব অবাক হয়ে বল্লেন-কিভাবে আপনি বেচে আছেন স্যার? আপনি তো এর আগেও কয়েকবার হার্ট এটাকে পড়েছেন। কিন্তু আপনি কি কিছুই বুঝেন নাই? আজকের হার্ট এটাক টা তো খুবই সিভিয়ার। আপনাকে এখনই অন্তত একটা রিং পরাতে হবে।

আমি বললাম, তুমি ডাক্তার, আর সি এম এইচ আমার সংস্থা, এটাকে আমি বিশ্বাস না করলে আর কে বিশ্বাস করবে? তুমি যা করতে হয় করো।

তখনো মিটুল আসে নাই হাসপাতালে, আবির আর উম্মিকা দ্রুত চলে এসেছিলো আমি হাসপাতালের ইমারজেন্সীতে ভর্তি হয়েছি শুনে। আবির “নো রিস্ক বন্ড”করে দিলো। আমার রিং পড়ানো শুরু হলো।

আমি এম্নিতেই একটু শক্ত মনের মানুষ। গত ২০১৭ সালে পায়ে রিং পড়ানর সময়েও ডাক্তারদের সাথে আমি অনেক মজা করেছিলাম অপারেশনের সময়। এবার ব্যাপারটা আমি ঠিক সেভাবে নিচ্ছিলাম। ভয় হচ্ছিলো না। ফলে ব্রিগেডিয়ার মালেককে বললাম, মালেক, তোমাদের ভিডিও ক্যামেরাটায় আমাকেও একটু দেখাইতে পারো, আমিও একটু মজা নেই।

মালেক ঘাড় ঘুরিয়ে আমার দিকে এমন করে তাকিয়ে একটা মন্তয় করলো যে, ‘স্যার আমরা আছি আপনার লাইফ এন্ড ডেথ নিয়ে চিন্তিত আর আপনি এটাকে মজা নেয়ার কথা বলছেন?”

বুঝলাম, তাহলে খুব সিরিয়াস ব্যাপার হয়তো।

প্রায় আরাই ঘন্টা পর তারা আমার একটা রিং পড়াইতে সফল হলো।

অতপর সিসিইউ।

২৬/০৯/২০২৪-বিপ্লব

একটি বিপ্লব সব সময়ই বড় কনো পরিবর্তন নিয়ে আসে। কিন্তু কখনো কি কারো মনে এই প্রশ্ন জেগেছে যে, এক সপ্তাহ, এক মাস কিংবা এক বছর ধরে চলা একটা বিপ্লব কি করে সমাজ কিংবা রাষ্ট্রের আগাগোড়া বদলে দেয়? আপাতদ্রিষ্টিতে কোন বিপ্লবের স্থায়ীত্তকাল যতোই হোক না কেনো, এর পিছনে থাকে শত বছরের পুরানো পটভূমি। একটু একটু করে জমতে থাকা মজলুম জনতার কষ্টের হাজারো কাহিনী।  

ইতিহাসের দিকে নজর দিলে এটাই দেখা যায় যে, রুশ বিপ্লব, শিল্প বিপ্লব, ফ্রান্স রেভুলিউশন, এদের প্রত্যেকের একেকটা রুপ ছিলো। রুশ বিপ্লবে জারদের অমানুসিক শাসন ব্যবস্থা, ভুমি দস্যুতা, নিম্নগামী জীবন ব্যবস্থা ইত্যাদির কারনে রাশিয়ার মানুষ গুলি জারদের বিরুদ্ধে এক সময় আন্দোলনে নামে।

 যদি শিল্প বিপ্লবের দিকে তাকাই, শিল্প বিপ্লবে মানুষের জীবন মাত্রায় কিছুটা উন্নতি হলেও শাসন ব্যবস্থায় ছিলো চরম নিষ্ঠুরতা। মানুষ যখন কোনো শাসকের বিরুদ্ধে কথা বলতে চায়, তখন সেই শাসকদের সবার একটাই পথ, সাধারন মানুষকে তোপের মুখে, বন্দুকের মুখে নিবারন করা। আর এই তোপের মধ্যে বসবাস করতে করতে  সাধারন জনগন ধীরে ধীরে আরো ফুসতে থাকে। মানুষ যখন ভিতরে ভিতরে ফুসে যেতে থাকে, তখন তারা একে অপরের কাছে চলে আসে, তখন ধর্ম, রাজনিতির মত পার্থক্য, বর্ন, জেন্ডার কিংবা শিক্ষিত অশিক্ষিতের মধ্যে কোনো তফাত থাকে না, তাদের মধ্যে একটা আনবিক বন্ধন তৈরী হয়। এই আনবিক বন্ধন থেকে আঞ্চলিক, সগোত্রীয় কিংবা ক্লাসভিত্তিক একটা নিউক্লিয়াসের মতো শক্ত বন্ধন ধীরে ধীরে এমনভাবে তৈরী হয় যেখানে যে কোনো একটি বন্ধনে যদি কেউ ওই পরিমান আঘাত হানতে সমর্থ হয়, যেখানে মাত্র একটা স্ফুলিঙ্গের কারন হতে পারে। তাহলেই বিপ্লব হতে বাধ্য। সেই ক্ষনিকের স্ফুলিংগটাই আসলে দরকার পড়ে পুরু ফুসতে থাকা অগ্নি গর্ভে বিস্ফোরন ঘটানোর জন্য।

বাংলাদেশেও ৫ ই আগষ্টের বিপ্লবটারও একতা বৈ শিষ্ঠ আছে। এটা বাহ্যিক চোখে যাইই দেখা যাক না কেনো, এটা আসলে শুধুমাত্র বৈষম্যমুলক কোটা আন্দোলের একচ্ছত্র ফসল ছিলো না।  এই কোটা আন্দোলন ছিলো ওই যে বললাম, একটা নিউক্লিয়াসের কোন একটা স্তরে আঘাত হানার জন্য ছোট একটা অঙ্গিস্ফুলিংগ। আর সেই স্ফুলিজ্ঞের স্পার্ক বিদ্যুৎগতিতে অন্য স্তরের ফুসে থাকা সমস্ত রাগ, অপশাসনের কারনে মানুশের দূর্ভোগের বহির্প্রকাশের একটা জন সমষ্টিগত যাগরন এবং প্রতিরোধ।

এরমানে আমরা এই বিপ্লবকে এভাবে সংগায়িত করতে পারি না যে, গুটিকয়েক ছাত্র, বা গুটিকতক রাজনৈতিক পরিচয়ধারী মানুষ কিংবা কিছু সংখ্যক মজলুমের কারনে সারা দেশব্যাপি আন্দোলন হয়েছে এবং তাদের কারনেই এটা সফল হয়েছে। এটা কখনই কারো একার কৃতীত্তের দাবিদার নন। এখানে কোন মাস্টারমাইন্ডও ছিল না। মাস্টারমাইন্ড থাকে যখন কোনো ক্যু হয়, গনবিপ্লবে কোনো মাষ্টার মাইন্ড থাকে না। এটা হয় সব মানুষের বিভিন্ন ক্ষোভ, অপশাসন আর পুঞ্জিভুত নির্যাতনের একসাথে বহিঃপ্রকাশের কারনে। বাংলাদেশের জনগনের মধ্যে ৫০% এর উপরে জনগনের কোটা নিয়ে আন্দোলন করার কোনো যৌক্তিক কারন ছিলো না, কিন্তু সেই ৫০% জনগনের উপর পরিচালিত জুলুমের কারনে তারা সোচ্চার হয়েছে। বাংলাদেশের প্রায় ৩৫% মানুষের রাজনইতিউক কোন কারন নাই যার কারনে তারা বিপ্লব করতে যাবেন কিন্তু সেই ৩৫% মানুষ সরকারের অপরাজনইতিকতার কারনে অসহ্য ছিলো। বাংলাদেশের মানুষের প্রায় ৭০% মানুষ তাদের অধিকার থেকে বঞ্চিত ছিলেন, তারা সেই অধিকারের পুনরোদ্ধারের জন্য আন্দোলনে গেছেন। বাংলাদেশের মানুষ বিচার বিভাগীয়, আইন বিভাগিয় সেকটর গুলি থেকে শুধু অন্যায় আর জুলুমই দেখেছেন, তারা সেই অন্যায়কে সমুলে উৎখাত করতে মাঠে নেমেছিলেন। এখানে কোনো মাস্টার মাইন্ড বলতে কিছু নাই।

৯/৯/২০২৪-বিএমএ এর কিছু ছবি

একজন সৈনিক সে আজীবন সৈনিক। এটা শুধুমাত্র সৈনিকের বেলাতেই খাটে। Soldier’s life, Army life is a man’s life. আমি সেই পরিবারের একজন গর্বিত সৈনিক।

(ছবিতে সবার বামে মেজর আশফাক, মাঝে আমি, আর দানে মেজর জেনারেল এমদাদুল বারী, বর্তমানে বিটিআর স্যার চেয়ারম্যান।

 

 

 

 

 

 

 

 

(ছবিতে সবার বামে মেজর আশফাক, মাঝে আমি, আর দানে মেজর জেনারেল এমদাদুল বারী, বর্তমানে বিটিআর স্যার চেয়ারম্যান।

 

 

 

 

 

 

 

(ছবিতে সবার বামে মেজর আশফাক, মাঝে আমি, আর দানে মেজর জেনারেল এমদাদুল বারী, বর্তমানে বিটিআর স্যার চেয়ারম্যান।

 

 

 

 

 

 

 

 

 

 

 

 

 

 

 

 

(ছবিতে সবার বামে মেজর আশফাক, মাঝে আমি, আর দানে মেজর জেনারেল এমদাদুল বারী, বর্তমানে বিটিআর স্যার চেয়ারম্যান।

 

 

 

 

 

 

 

 

 

 

 

 

 

সবার বামে আমি, আমার ডানে মেজর জেনারেল এমদাদুল বারী, তার ডানে মেজর আশফাকুল বারী, দান থেকে ২য় জন এলবার্ট আনিসুজ্জামান (বর্তমানে সাংবাদিক), সবার ডানে ব্রিগেডিয়ার জেনারেল সগীর।

 

 

 

 

 

 

 

 

ক্যাডেট কলেজ থেকে পাশ করার পর স্বাভাবিক নিয়মেই উচ্চ শিক্ষার নিমিত্তে ঢাকা ইউনিভার্সিটিতে, মেডিক্যাল কলেজসমুহে, বুয়েটে, চুয়েটে, এমন কি দেশের বাইরেও ভর্তির জন্য আবেদন করে প্রায় সব কটি ইউনিভার্সিটিতে (ঢাকা ইনিভার্সিটি, বুয়েট, চুয়েটসহ) মেডিক্যাল কলেজেও ভর্তির সুযোগ হয়েছিলো (বরিশাল মেডিক্যাল কলেজে) আমার। এরপরেও কার্ক্সভাইল ইউনিভার্সিটি (ইউএসএ) তেও ভর্তির অফার লেটার পেয়েছিলাম।

কিন্তু কি এক মোহে বা আকর্ষনে কোথাও ভর্তি না হয়ে শেষ অবধি চলে গেলাম কমিশন পাবার আশায় বাংলাদেশ সেনাবাহিনীতে। বাংলাদেশ মিলিটারী একাডেমি কি জিনিষ সেটা যারা এর সাথে জড়িত, তারা বুঝতে পারবেন কতটা কষ্টসহিষ্ণু আর ট্রেনিং এর মাধ্যমে একটা যুবক ক্যাডেটকে সরাসরি কমিশন রেংকে অফিসার পদে গর্বিত করে।

প্রায় ২০ বছর চাকুরী করেছি এই গর্বিত সেনাবাহিনীতে। অতঃপর আজ থেকে আরো ২০ বছর আগে নিজের ইচ্ছায় চাকুরী ছেড়ে ব্যবসায় পদার্পন করেছি। আমাদের ব্যাচের (১৩ লং কোর্ষ) প্রায় সবাই এখন অবসরী কিন্তু ইতিহাসের পাতায় আমার এই ১৩ লং কোর্স একটা বিশাল রেকর্ড করেছে নিঃসন্দেহে। আর সেটা হলো, আর্মি (জেনারেল ওয়াকার), নেভী (এডমিরাল নাজমুল) এবং এয়ারফোর্সের (এয়ার মার্শাল হাসান মাহমুদ) তিনজন বাহিনী প্রধানই আমার ব্যাচের এবং কোর্ষমেট। দেশের এই চলমান ক্রান্তিলগ্নে সমগ্র দেশ এখন তাদেরকে চিনেন এবং তাদের জন্য গর্ববোধ করেন বলেই আমার বিশ্বাস।

যাই হোক, দুটু লাইফেই আমি যথেষ্ট সততা আর নিষ্ঠার সাথে লাইফকে উপভোগ করেছি এবং করছি। আর্মিতে যেমন দিঙ্কে রাত বিশ্রামবিহীন কাজের মধ্যে আনন্দ পেয়েছি, তার মাধ্যমে বিভিন্ন দেশ বিদেশ, জাতিসঙ্ঘের অধীনে অনেক উচ্চ মর্যাদার আন্তর্জাতিক পর্যায়ে দায়িত্ব পালন করেছি, ঠিক তেমনি ব্যবসায় এসেও আরেকবার নিরলস পরিশ্রমের মাধ্যমে জীবনকে প্রতিষ্ঠিত করে দায়িত্ব উপভোগ করতে কখনো পিছপা হইনি। সর্বাত্তক চেষ্টা ছিলো এবং আছে যাতে আমার দ্বারা জনগোষ্ঠীর সর্বদা উপকৃত হয়।

গতকাল আমার বন্ধু মেজর আশফাক (অবঃ) তার এলবাম খুজতে গিয়ে হয়তো সেই ১৯৮৪-৮৫ সালের কিছু ছবি তার নজরে এসেছে যেখানে আমার ছবিও ছিলো। সে আমাকে ছবিগুলি পাঠিয়েছে। ধন্যবাদ বন্ধু আশফাক।

ছবিগুলি দেখেই কেমন যেন মনটা নস্টালজিক হয়ে উঠেছিলো। কি অদ্ভুত দিন পার করেছি বিএমএ এর ট্রেনিং এর সময়। মনে হয়, এইতো সেদিনের কথা। একেবারে স্পষ্ট মনে পড়ে। অথচ এদের অনেকেই জেনারেল পদ উত্তীর্ন হয়ে এখন অবসরীও হয়ে সুন্দর জীবন কাতাচ্ছে। আমার মতো তারাও প্রায় ৬০ এ পা দিয়েছে।

গতকাল আমিও ৬০ এ পা রেখেছি।

৮/৯/২০২৪

শেষ পর্যন্ত ৬০ এর ঘরে পা দিয়েই দিলাম।

এই ছোট জীবনে কত কি যে আল্লাহ দেখালেন তার কোনো ইয়াত্তা নাই। যুদ্ধ দেখেছি, যুদ্ধের পরে শান্তি দেখেছি, প্রাকৃতিক দূর্জয় দেখেছি, সেই দূর্জয়ের পর মানুষ সব কিছু হারিয়ে নিঃস্ব হয়েও আবার ঘুরে দারানোর মতো শক্তি দেখেছি। এই ছোট জীবনে অনেকের সাফল্য দেখেছি, কারো কারো বিপর্জয়ও দেখেছি। এতো এতো উত্থান পতনের পরেও মানুষের অনন্ত কাল বেচে থাকার ইচ্ছাও দেখেছি। কারনএই পৃথিবীকে ঈশ্বর এমন একটা মোহ, এমন একটা অপরুপ রঙ আর তুলি দিয়ে সাজিয়েছেন যেখানে নীল আকাশের নীচে নীল সাগরের পানি, সবুজ গাছ পালায় ভরা পাহাড় জংগল আর তার সাথে আকাশের মেঘমালার চিত্তাকর্ষক রুপে ভরে রাখেন। কেউ এই পৃথিবী ছেড়ে কোথাও যেতে চায় না। তারপরেও একদিন সময় ঘনিয়ে আসে, ফুরিয়ে যায় মানুষের সময়কাল, আয়ুষ্কাল।

এমন করে আমিও একদিন সেই শেষ দিনটায় পৌঁছে যাব, ইচ্ছে করলেই আর থাকা যাবে না এখানে। কারন-

আমাদের একমাত্র জন্মটাই আমাদের মৃত্যুকে নিশ্চিত করেছে।

৮/৯/২০২৪-আজ নাকি আমার জন্মদিন

বন্যা, ছাত্র-জনতা আন্দোলন, সরকার পতন, গার্মেন্টস সেক্টরে অরাজকতা, যুবদলের তান্ডব সব মিলিয়ে গত এক মাস এমন ভাবে পর্যুদস্ত আছি যে, আজকে আমার ৫৯ তম জন্মদিন পেরিয়ে ষাটের ঘরে পা দিলাম এটাই মনে নাই। উম্মিকা, আবির আর মিটুলের ফোন কলে সকাল ১০টায় মনে পড়লো আজ ৮ সেপ্টেম্বর। বয়সটা বাড়ছে, অভিজ্ঞতাও বাড়ছে কিন্তু দেশ বিদেশের জটিল রাজনীতিতে মানুষের মনের শান্তি আর ঘরের শান্তির কোনোটাই পরিবর্তন হচ্ছে না।

তুমুল আন্দোলনের মধ্যে ১৫ বছর অপকর্মের শাশক শেখ হাসিনা শেষ পর্যন্ত দেশ ছেড়ে পালালেও এখন আরেকটি দল মনে করছে, এবার তাদের পালা। কোনো লাভ হবে কিনা এদেশের জনগনের সেটা এখনো বুঝা যাচ্ছে না। আগে খাইতো আওয়ামীলীগ এবং শুন্য হাতে আর খালি পেটে নেমেছে বি এন পি। চারিদিকে চাদাবাজি, দখল আর ঘুষের বানিজ্য। কোনো পরিবর্তন দেখছি না।

আবির আর উম্মিকা আমার ব্যবসায়ীক কাজে একটু মনোযোগ দেওয়ায়র চেষ্টা করছে বলে মনে হলো। আসলে আমি অনেকদিন যাবত আমার রিপ্লেসমেন্ট তৈরীতে অনেক মনোযোগী হলেও আমি সব সময় এই রিপ্লেসমেন্টের জায়গায় ব্যর্থ হয়েছি। রানাকে দিতে ট্রাই করেছিলাম, রউফকে দিয়ে ট্রাই করেছিলাম, সাকি, মান্নান সবাই ফেল করেছে। মুবীন তো আমাকে অনেক লস করিয়ে দিয়েই শেষ পর্যন্ত আমার সাথে টিকতেই পারেনি। ফলে আমি আর রিপ্লেসমেন্টের কথা মন থেকে বাদ দিয়েছিলাম।

যেহেতু আবির একটু মনোযোগ দেয়ার চেষ্টা করছে, ভাবছি ওকে দিয়ে একটু ট্রাই করা যেতে পারে।

২৩/৫/২০২৪-স্ত্রী রম্যরচনা

শুক্রবার। সাধারনত আমি বাসায় থাকি। আমার বউ মাঝে মাঝে বাসায় থাকে কারন বেশিরভাগ সময়েই তার অফিশিয়াল কাজে কলেজে থাকতে হয়। বউকে বললাম, আমার জন্য শুক্রবারটা একটা কঠিন দিন। বড় মেয়ে তার নিজের বাসায় থাকে, ছোট মেয়ে বিদেশ, বউ কলেজে আর আমি বাসায়। বাসায় একা থাকায় দুপুরে খেতেও ইচ্ছে করেনা। খালার পাক করা খাবার খেতে খেতে এখন আমি মুটামুটি জানি এর সাধ কি আর কি আইটেম। কিন্তু আমি আমার অফিসে থাকলে অন্তত সময়টা কেটে যায়, কাজে ব্যস্ত থাকি, খাওয়া দাওয়াও সমস্যা না।

তো আজ শুক্রবার। সম্ভবত আমাকে খুশী করার জন্য তার একটা পরিকল্পনা আছে। সকালে উঠেই বলল, আজ দুপুরে সে বাসায় আছে। নিজের হাতে রান্না করবে। বেশ কিছু আইটেমও করবে। আমি আবার খাবারের বেলায় একেবারেই নাদান। বউ মাঝে মাঝেই বলে, আমি নাকি “আখাওড়া”। কিছুই খাইতে জানি না। আমিও বউকে বলি-তুমি হইলা গিয়া “চৌধুরী বাড়ির মাইয়া” খাইয়াই বড় হইছো, আমি তো মাদবর বাড়ির পোলা, মাইনষেরে খালী খাওয়াইছি। আমার কি দোষ।

যাক, সকালে এসেই বউ বলল-শোনো, ছোট মাছের চচ্চরী পাকাবো? খাইবা?

বললাম- করো। অসুবিধা নাই। খাওয়ার সময় খাইতে মন চাইলে খাইতেও পারি।

বউ বল্লো-জানি তো খাইবা না। টেবিলেই পড়ে থাকবে। থাক তাহলে ছোট মাছের চচ্চরি বাদ। তাহলে রুই মাছ পাক করি? রুই এর মাথাটা খাইও।

বল্লাম-এত বড় রুই এর মাথা খাইতে গেলেও জ্বালা। তারপরেও করো। খাওয়ার সময় দেখা যাবে।

বউ বলে উঠল- জানি তো, খাইবা না, শেষে আমারেই খাইতে হবে। থাক তাহলে রুই পাক না করে তাহলে মুরগী বা গরুর মাংশ পাক করি। গরম গরম খাইতে ভালো লাগবে। কি বলো?

আমি বললাম-করো। তবে আজকাল তো আর মাংশ টাংশ খেতেই চাই না। বয়স হয়ে গেছে। তারপরেও করো, দেখা যাক, ঝোলটোল দিয়ে খাওয়া হয়তো খারাপ লাগবে না।

বউ বলেই ফেলল- আমি জানতাম, তুমি এটাই বল্বা। সাধে কি আর তোমারে “আখাওড়া” বলি? ঠিক আছে, তাহলে খালাকে বলি কাঠালের বিচি দিয়া চিংড়ি মাছের একটা তরকারী করতে। কাঠালের বিচি দিয়া চিংড়ি মাছ খুব মজা।

বললাম, এটা আবার কি? ঠিক আছে করো। কখনো খাই নাই, খাওয়ার সময় টেষ্ট করে দেখবোনে কেমন লাগে। আজকাল কাঠাল মিয়াও সব্জীর কাতারে আইয়া পড়ছে। অথচ রাষ্ট্রীয় ফল কাঠাল। কতো অধোপতন, না?

এবার বউ বল্লো- খাইবা না তো জানি। শেষে সব আমারই খাওয়া লাগবে, না হয় খালাকে দিয়া রক্ষা পাইতে হবে। থাক তাহলে।

এরপর বউ বল্লো- ছাদে কলমীশাক আছে আর পুইও আছে। ওগুলি করি?

কিছু বললাম না।

এখন আমি একা কলমী শাক দিয়া পুই খাচ্ছি।

১১/০৫/২০২৪-রিভার সাইডের এক্সটেনশনের জন্য ম্যাসেজ

Brother (This msg from Mortuja Bhai)

Before fix the sign board pls think about compliance issue. If our buyer understands it will be very big disaster. Because without compliance/ required certification we are not allowed any production at anywhere. This is the rules and that is why we are not giving the same name in any of our production unit.

মূর্তজা ভাই,

কমপ্লায়েন্সের ব্যাপারটা মাথায় নিলে অবশ্যই আপনি যেটা বলেছেন বায়ার অফিশিয়ালী এটা জানলে তারা অনেক প্রশ্ন করবে এবং সমস্যা হতে পারে সেটা শতভাগ সঠিক। কারন ঐসব ইউনিটের কোনো ভ্যালিড কাগজ পত্র আসলে নাই। এটা একটা দিক।

আরেকটা দিক হচ্ছে-রিভার সাইডের নামে আমদানী করা ইউনিট-১, ২ এবং ৩ তে আমরা যেসব মেশিনারিজ এবং অন্যান্য ইকুইপমেন্ট স্থানান্তর করেছি, সেগুলি পুরুটাই আমাদের মৌখিক সিদ্ধান্তে স্থানান্তরীত হয়েছে যার কোনো ভ্যালিড রেজুলেশন আমরা করিনি। শুধুমাত্র কিছু গেটপাশ চালান দিয়ে মেশিনগুলি ওখানে ট্রান্সফার করা হয়েছে যা একঅর্থে ভ্যালিড না। আবার ইউনিট-২ তে তো গেটপাশও নাই যা সরাসরি পোর্ট থেকে ওখানে স্থাপিত হয়েছে। লিখিত একটা বোর্ড রেজুলেশনের মাধ্যমে প্রসিজিউরটা অনুসরন করা দরকার ছিলো। কারন, কখনো যদি রিভার সাইডের নিজস্ব এসব মেশিনারিজের সঠিক স্ট্যাটাস, অবস্থান সংখ্যা জানতে হয় তাহলে কাগজপত্রের মাধ্যমে বা বোর্ডের সিদ্ধান্ত মোতাবেক এসব মেশিনারিজ স্থানান্তর হয়েছে কিনা, কিংবা গেট পাসের মাধ্যমে এগুলি চিরতরে স্বত্বাধিকার দিয়ে দেয়া হয়েছে কিনা ইত্যাদি রিভার সাইড সঠিকভাবে ব্যাখ্যা করতে পারবে না। আর সেটা স্ট্যাবলিষ্ট করতে অনেক ঝামেলা আছে।

যেমন, মা ইন্ডাস্ট্রিজের জন্য আমরা ২টা (একটা ভ্যাকুয়াম মেশিন আরেকটা জেনারেটর) মেশিন কিনেছিলাম যেগুলি আমি ইতিমধ্যে বিক্রি করে দিয়েছি। কাগজপত্র মোতাবেক কেউ যদি খুজে, তাহলে কিন্তু ওই মেশিনগুলি আসলে অফিশিয়ালি রিভার সাইডের ছিলো  এবং এখনো আছে (যদিও আমি আমার ড্রইংস এর সাথে এদের মুল্যগুলি এডজাষ্ট করেছি)। কিন্তু সেটাও ঠিক ছিলো না। আমার উচিত ছিলো, আরেকটা বোর্ড মিটিং করে ওই ২টা মেশিন রিভার সাইডের পক্ষ থেকে অন্যত্র বিক্রি করে আমার টাকা নিয়ে নেয়া। এ জন্যই ইউনিট-১, ২ এবং ৩ এর মেশিনারিজগুলিও আমাদের বোর্ডের মাধ্যমে লিখিত রেজুলেশন করে স্থানান্তরের অনুমোদন থাকা উচিত। এতে মেশিনারিজ গুলির সঠিক মালিকানার রেকর্ড থাকবে।   

একইভাবে রিভার সাইডেরও একটা কমপ্লিট মেশিনারিজ, ইউকুইপমেন্টস এবং অন্যান্য ফার্নিচার ফিক্সচারের লিষ্ট থাকা দরকার এবং সেই ইনভেন্টরীতে যেসব মেশিনারিজ, ইকুইপমেন্টস এবং ফার্নিচার ফিক্সচার আমরা অন্যত্র পাঠিয়েছি সেটা সেই ইনভেন্টরী কোথায় স্থানান্তর করেছি সেটা উল্লেখপূর্বক বোর্ডের সাক্ষরযুক্ত অনুমোদন থাকা দরকার।

এখন যদি কমপ্লায়েন্সের ব্যাপারটা আসি, তাহলে, আমরা যে নামেই ইউনিট-১, ২ এবং ৩ কে ডাকি না কেনো (রিভার সাইডের নেম-প্রিফিক্স ছাড়া) সেগুলিও ঠিক একইভাবে তাদের স্ট্যাটাস বোর্ড রেজুলেশনের মাধ্যমে ক্লিয়ার করে রিভার সাইডের মালিকানায় নিয়ে আসলে রিভার সাইডের নেম-প্রিফিক্সড এক্সটেনশনগুলি আর ব্যবহার করতে হয় না। ।

আমার আইডিয়া ভুল হলে আমাকে জানাবেন প্লিজ।

৩০/০৪/২০২৪-এই পৃথিবীতে সুস্থ্য, স্বাধীন, আরাম

এই পৃথিবীতে সুস্থ্য, স্বাধীন, আরাম এবং সম্মানের সাথে বেচে থাকার চেয়ে বড় কোনো নিয়ামক নাই। একজন শারীরিকভাবে অসুস্থ্য বিলিয়নার কোটিপতিকে হাসপাতালের বেডে জিজ্ঞেস করে দেখুন, তার কোনটা প্রয়োজন, টাকা নাকি সুসাস্থ্য? একজন মৃত্যু পথযাত্রী মানুষকে জিজ্ঞেস করুন তার একদিন বেশি বাচার জন্য সে তার অর্জিত সমস্ত সম্পত্তি কাউকে বিলিয়ে দিতে চায় কিনা, একজন অন্ধ, কিংবা পংগু মানুষকে জিজ্ঞেস করুন, তার চোখের জ্যোতি কিংবা পঙ্গুত্ব স্বাভাবিক হবার জন্য সে তার কি কি জিনিষ বা সুখ বিসর্জন দিতে প্রস্তুত?

উত্তর একেবারেই সহজ।

সবাই স্বাধীনভাবে, অল্পতেও আরামের সাথে বেশিদিন বাচতে চায়। পৃথিবী আসলেই খুব সুন্দর। এর গাছপালা সুন্দর, পথের ধারে নেড়ি কুকুরের ঘেউ ঘেউ সুন্দর, বাগানে অবহেলায় বেড়ে উঠা একটা সবুজ পাতার দোলাও সুন্দর। এই পৃথিবীতে কেউ আসলেই কারো নয়, যতো ভালোবাসার কথাই বলুক, যতো আবেগেই আপনাকে কেউ জড়িয়ে ধরুক, দিন শেষে সবাই যার যার তার তার। আপনি দিনের পর দিন বিছানায় পড়ে থাকুন, দেখবেন, একদিন আপনার চারিপাশের লোকগুলিও আর সেই আগের মতো আপনার কাছে আর ঘেষবে না, আপনি আজকে দারিদ্রসীমার নীচে বাস করুন, আপনার যত রুপই থাকুক না কেনো, আপনাকে মানুষ ব্যবহার করতে চাইবে শুধু আপনার শরীরটা। সেটা যদি ঘামে দুর্গন্ধও হয়, তাতেও কিছু আসে যায় না।  সেই শরীর যখন একদিন আর তার দেহের সাধ দিতে পারবে না, দেখবেন, আপনি ব্যবহৃত টিস্যুর মতো ডাষ্টবিনেই পতিত হচ্ছেন। অথচ যখন আপনার শরিরের চামড়া ভাজ পড়ে যাবে অথচ আপনি সুস্থ্য, আপনি সাবলম্বী, আপনি স্বাধীন, দেখবেন তারপরেও আপনার ধারে কাছে মানুষের কোন অভাব নাই।

আপনি দুনিয়া ত্যাগ করার পর কেউ আপনার জন্য এক বিন্দু সময়ও নষ্ট করবে না এই ভেবে, আহা, আমি তাকে যদি আবার পাইতাম। কেউ কাউকে বারবার পাইতে চায় না। যে চলে যায়, সেই হারিয়ে যায়। আজ যারা আপনার কাছে আছে, তারা তাদের সার্থের কারনে আছে। যারা আপনার কাছে আগে ছিলো না অথচ এখন কাছে এসছে মনে রাখবেন তারা শুধু আপ্নার কাছ থেকে এমন কিছু চায় যা তাদের কাছে নাই। হোক সেটা শরির, হোক সেটা অর্থ কিংবা দেহভোগ। সময় পাস করার জন্যেও অনেকে আসে যা একেবারেই ক্ষনিকের। অথচ আবেগের যেন শেশ নাই। এই পৃথিবীর কোটি কোটি সুন্দুরী আছে, কোতী কোটি সুদর্শন আছে, একবার একজনকে ব্যবহার করার পর যেনো অন্য আরেকটি সুদর্শন পুরুষ বা নারির প্রতি মোহ চলে আছে। তাহলে আপনার ভুমিকা কতদিনের? শুধু ততোদিনের, যতদিন আপনার মানুষটির চাহিদা বিদ্যমান। অতঃপর? আপনি অকেজো। আপনাকে কোন দরকার নাই। না সন্তানের দরকার, না স্বামীর, না সমাজের কারো।

যদি বিশ্বাস না হয়, ঘুরে আসুন সেই পতিতালয়ে যেখানে আপনার থেকেও সুন্দুরী কোন মানবী তার সমস্ত দেহ অনাবৃত করে কাউকে না কাউকে খুশি করার চেষ্টা করছে অথচ ক্ষনিকের আনন্দের পর সেই পতিতা না জানে তার পুরুষের নাম বা ঠিকানা, না সেই পুরুষ জানে সেই পতিতাতার পরের দিনের কোন খবর। আজকালকের পর্ন সাইট গুলির কথা ভাবুন, একেকটা নারী একজনের চেয়েও আরেকজন সুন্দুরী, তাদের জন্য কোনো সংসার নাই, অথচ সারা দুনিয়ার মানুষ এদেরকে দেখতে থাকে, আনন্দ নিতে থাকে অথচ কেউ তাদেরকে নিয়ে সংসার করতে আগ্রহি নয়। কেনো? আপনি কোনো সুদর্শন পুরুষের নজরে পড়েছেন, সেটা ভাবুন কিসের কারনে? আপনার গুনের, আপনার রুপের নাকি আপনার সম্পদের? যদি দেখেন, আপনার পাশ দিয়ে হেটে যাওয়া আরেক সুদর্শনা নারী আপনার পুরুষের চোখ কেড়ে নিয়েছে, তাহলে ভেবে নিবেন, আপ্নিই শুধু তার কাছে সবচেয়ে সুন্দুরী নন। যদি দেখেন, আপ্নার সুদর্শন প্রেমিক আপনার থেকেও বিত্তশালি নারির প্রতি আশক্ত, ঘুরে দাড়ান, সে আপনার জন্য নয়। আর আপনার গুন? সেতো যখন আপনি তার সংসারে প্রবেশ করবেন, তারপরে প্রমান করবেন আপনি কতটা গুনি। সেটা অনেক পরের চাপ্টার।

তাই আমি সর্বদা নিজের জন্য বাচতে চাই। এই পৃথিবীর মানুষ উদপাদনের কারখানা আমি নই, না আমি সেই ফ্যাক্টরী যেখানে আমি পৃথিবীকে বাসযোগ্য করে যাবার জন্য দায়িত্ত নিয়েছি। আমি শুধু আজকের জন্য বাচতে চাই। আর যারা আমার সাথে বাচতে চায়, হয়তো তারা বেচে যাবে কিন্তু সেটাও তাদের নিজের সার্থে। পথের ধারে কতই না মানুষ ছাদবিহীন, খাবারবিহীন বা কাপরবিহিন অবস্থায় বেচে আছে, তারাও তো কারো না কারো সন্তান, তাদেরঅ তো বাবা মা ছিলো বা আছে, তারা তো হটাত করে আকাশ থেকে লাফ দিয়ে এই পৃথিবীতে আসে নাই। তাদের জন্য কতজন মানুষ ভাবে? কেউ ভাবে না। কারন মানুষ কারো জন্য কখনোই ভাবে না। আর যারা ভাবে- হয়তো তারা অন্য কোনো চরিত্রের। সংখ্যাটা এতোই ছোট যে, হাতের নলায় ধরা যায়।

এই পৃথিবী কারো জন্য কখনো পক্ষপাতিত্ব করে নাই, কারন সে এতোটাই উদাসিন, কোনো মানুষের চোখের জলের বা সুখের উচ্ছলতা তাকে স্পর্শ করে না।

২৭/৪/২০২৪-ওমরা শেষে আবার ঘরে ফেরা (আলহামদুলিল্লাহ)

প্রায় ১৫ দিনের একটা সফর ছিল। আমি, আমার স্ত্রী, আমার বড় মেয়ে এবং বড় মেয়ের জামাই ডাঃ আবীর। খুব সুন্দরভাবেই আমরা সবাই একসাথে এবারের ওমরাটা করতে পেরেছি। আল্লাহ সুস্থ্য রেখেছিলেন। এর আগেও হজ্জ এবং ওমরা করেছিলাম, এবারের ওমরাটা যেনো আমার কাছে ছিলো ভিন্ন একটা অনুভুতি। হেরেম শরিফে নামাজে দাড়িয়ে তাবত মুসলিম মানুষের জন্য আমার দোয়া ছিল, আমার সকল জানা অজানা বন্ধু এবং শুভাকাঙ্ক্ষীদের জন্য দোয়া করেছি, এমন কি যারা আমাকে কোনো না কন কারনে পছন্দ করেন না বা আমাকে ফাকি দেন, আমি তাদের জন্যেও দোয়া করেছি। আমার বাবা মা, ভাই বোন, শশুড় শাশুড়ি, খালা খালু, দাদা দাদি, মামা মামি, চাচা চাচী, জেঠা জেঠি, আমার স্ত্রীর পরিবারের সবার জন্য, যারা বিগত হয়েছেন তাদের জন্য, যারা আগামিতে আসবেন তাদের জন্য, আর যাদের জন্য দোয়া করার কেউ নাই তাদের জন্যেও আমি প্রান ভরে দোয়া করেছি। আমার সুস্থ্যতার জন্য দোয়া করেছি, আমার অজান্তে কনো অপরাধ ক্ষমার জন্য দোয়া করেছি, হালাল রিজিকের জন্য দোয়া করেছি, প্রানভরে সব কিছুর জন্য দোয়া করেছি। আর দোয়া করেছি যে কন অন্যায়ের বিরুদ্ধে যেন আমি সটিক থেকে তার প্রতিবাদ করতে পারি সেই দোয়াও করেছি। মানুষের উপকার করার মানসিকতা যেন আমার আরো উত্তোরোত্তর বৃদ্ধি হয় সে দোয়াও করেছি। দোয়া করেছি- আমার দ্বারা যেন কখনো কন মানুষের ক্ষতি না হয় এবং যারা আমার ক্ষতি করে তাদের ব্যাপারে আল্লাহর কাছে দাবি রেখেছি। 

এই ওমরায় আমি খুব বেশী করে নিজের মনে এই অনুভুতিটা আনার চেষতা করেছি যে, আমি যে সব জায়গা দিয়ে হেটে গিয়েছি, সেইসব জায়গা দিয়ে আমাদের নবী, অন্যান্য খলিফারা কিংবা অনেক বুজুর্গ মানুশ যারা আল্লাহর আশির্বাদ পেয়ে ক্ষমা পেয়েছেন তারা হেটেছেন, এই অনুভুতিটা আমার প্রতিটা কদমে কদমে অনুভুত হয়েছে। আমি যেন তাদের কাফেলার সাথেই হেটেছি।

নবীর রওজায়র পাশে আমি অহেতুক অনেক ঘুরা ফেরা করেছি, সেই এলাকার চত্তর দিয়েও আমি বহুবার হেটে গিয়েছি আর ভেবেছি, এই জায়গার কোথাও না কোথাও আমার নবির পদধুলী ছিলো যেখানে কখন আমি সেজদায় পড়েছি, কখনো একা বসে ভেবেছি সেই দিন গুলির কথা যখন নবিজি জীবিত ছিলেন এবং তিনি তার সাহাবীদের নিয়ে এদিক সেদিক হয়ত পদধুলি দিয়েছেন। আমি প্রতিদিন নামাজের আজানের সময় যখন ‘আশহাদু আন্না মোহাম্মাদার রাসুলুল্লাহ” বলে আজানের আওয়াজ শুনেছি, আমি ততোবার নবির রওজায় মবারকের দিকে তাকিয়ে শুধু এতাই বলেছি, আমি সাক্ষি দিচ্ছি ঠিক এই রওজার পাশে বসে, আমার নবী হজরত মোহাম্মাদ সাল্লালাহু আলাইহিস সালাম আল্লাহর রাসুল এবং আমি তার উম্মত। বারবার তার র ওজা মোবারকের দিকে তাকিয়ে যেন এই উপলব্ধিতা হচ্ছিল-হ্যা তিনি আমাকে দেখছেন, আমি হয়তো তাকে দেখছি না, কিন্তু তিনি আমার মনের এই সাক্ষীটা তিনি সাদরে গ্রহন করছেন। আমার মন ভরে উঠছিলো বারবার।

আমি হেরেম শরীফের সামনে গিয়েও যখন আল্লাহর উদ্দেশ্যে নামাজে মাথা নত করছিলাম, বারবার যেন এতাই মনে হয়েছে-আমি আল্লাহর বিশাল পায়ের নীচে আমার মাথা ঠেকিয়ে কিছু একটা যেনো অনুভব করছিলাম। যেনো তার চরনটা আমার কপালে ঠেকে আছে। প্রতিটি নামাজের শেষে জানাজা নামাজ হচ্ছে। একজন নয় অনেকের জানাজা একসাথে। কে জানে আমার তো জানাজা এখানেই হতে পারতো। এই মৃত্যু নিয়ে কুয়েতি এক বরেন্য লেখকের লেখাটা আমার মনে পড়তো প্রতিদিন। সে লিখেছিলো;

“মৃত্যু নিয়ে আমি কোনো দুশ্চিন্তা করবো না, আমার মৃতদেহের কি হবে সেটা নিয়ে কোন অযথা আগ্রহ দেখাবো না। আমি জানি আমার মুসলিম ভাইয়েরা করণীয় সবকিছুই যথাযথভাবে করবে।”

তারা প্রথমে আমার পরনের পোশাক খুলে আমাকে বিবস্ত্র করবে, আমাকে গোসল করাবে, তারপর আমাকে কাফন পড়াবে, আমাকে আমার বাসগৃহ থেকে বের করবে, আমাকে নিয়ে তারা আমার নতুন বাসগৃহের (কবর) দিকে রওনা হবে, আমাকে বিদায় জানাতে বহু মানুষের সমাগম হবে, অনেক মানুষ আমাকে দাফন দেবার জন্য তাদের প্রাত্যহিক কাজকর্ম কিংবা সভার সময়সূচী বাতিল করবে, কিন্তু দুঃখজনকভাবে অধিকাংশ মানুষ এর পরের দিনগুলোতে আমার এই উপদেশগুলো নিয়ে গভীর ভাবে চিন্তা করবে না, আমার (ব্যক্তিগত) জিনিষের উপর আমি অধিকার হারাবো, আমার চাবির গোছাগূলো, আমার বইপত্র, আমার ব্যাগ, আমার ‍জুতোগুলো, হয়তো আমার পরিবারের লোকেরা আমাকে উপকৃত করার জন্য আমার ব্যবহারের জিনিসপত্র দান করে দেবার বিষয়ে একমত হবে, এ বিষয়ে তোমরা নিশ্চিত থেকো যে, এই দুনিয়া তোমার জন্য দু:খিত হবে না অপেক্ষাও করবে না, এই দুনিয়ার ছুটে চলা এক মুহূর্তের জন্যও থেমে যাবে না, অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ড কিংবা ব্যবসাবাণিজ্য সবকিছু চলতে থাকবে, আমার দায়িত্ব (কাজ) অন্য কেউ সম্পাদন করা শুরু করবে, আমার ধনসম্পদ বিধিসম্মত ভাবে আমার ওয়ারিসদের হাতে চলে যাবে, অথচ এর মাঝে এই সম্পদের জন্য আমার হিসাব-নিকাশ আরম্ভ হয়ে যাবে, ছোট এবং বড়….অনুপরিমাণ এবং কিয়দংশ পরিমান, (সবকিছুর হিসাব)।

আমার মৃত্যুর পর সর্বপ্রথম যা (হারাতে) হবে, তা আমার নাম!!! কেননা, যখন আমি মৃত্যুবরণ করবো, তারা আমাকে উদ্দেশ্য করে বলবে, কোথায় “লাশ”? কেউ আমাকে আমার নাম ধরে সম্বোধন করবে না, যখন তারা আমার জন্য (জানাযার) নামাজ আদায় করবে, বলবে, “জানাযাহ” নিয়ে আসো, তারা আমাকে নাম ধরে সম্বোধন করবে না….!

আর, যখন তারা দাফন শুরু করবে বলবে, মৃতদেহকে কাছে আনো, তারা আমার নাম ধরে ডাকবে না…! এজন্যই দুনিয়ায় আমার বংশপরিচয়, আমার গোত্র পরিচয়, আমার পদমযার্দা, এবং আমার খ্যাতি কোনকিছুই আমাকে যেন ধোঁকায় না ফেলে, এই দুনিয়ার জীবন কতই না তুচ্ছ, আর, যা কিছু সামনে আসছে তা কতই না গুরুতর বিষয়… অতএব, (শোন) তোমরা যারা এখনো জীবিত আছো,….জেনে রাখো, তোমার (মৃত্যুর পর) তোমার জন্য তিনভাবে দু:খ করা হবে,

১. যারা তোমাকে বাহ্যিক ভাবে চিনতো, তারা তোমাকে বলবে হতভাগা,

২. তোমার বন্ধুরা বড়জোর তোমার জন্য কয়েক ঘন্টা বা কয়েক দিন দু:খ করবে, তারপর, তারা আবার গল্পগুজব বা হাসিঠাট্টাতে মত্ত হয়ে যাবে,

৩. যারা খুব গভীর ভাবে দু:খিত হবে, তারা তোমার পরিবারের মানুষ, তারা এক সপ্তাহ, দুই সপ্তাহ, একমাস, দুইমাস কিংবা বড় জোর একবছর দু:খ করবে। এরপর, তারা তোমাকে স্মৃতির মণিকোঠায় যত্ন করে রেখে দেবে!!!

মানুষদের মাঝে তোমাকে নিয়ে গল্প শেষ হয়ে যাবে, অত:পর, তোমার জীবনের নতুন গল্প শুরু হবে, আর, তা হবে পরকালের জীবনের বাস্তবতা, তোমার নিকট থেকে নি:শেষ হবে (তোমার):

১. সৌন্দর্য্য

২. ধনসম্পদ

৩. সুস্বাস্থ্য

৪. সন্তান-সন্তদি

৫. বসতবাড়ি

৬. প্রাসাদসমূহ

৭. জীবনসঙ্গী

তোমার নিকট তোমার ভালো অথবা মন্দ আমল ব্যতীত আর কিছুই অবশিষ্ট থাকবে না, শুরু হবে তোমার নতুন জীবনের বাস্তবতা, আর, সে জীবনের প্রশ্ন হবে: তুমি কবর আর পরকালের জীবনের জন্য এখন কি প্রস্তুত করে এনেছো? ব্স্তুত: এই জীবনের বাস্তবতা সম্পর্কে তোমাকে গভীর ভাবে মনোনিবেশ করা প্রয়োজন, এজন্য ‍তুমি যত্নবান হও,

১. ফরজ ইবাদতগুলোর প্রতি

২. নফল ইবাদতগুলোর প্রতি

৩. গোপন সাদাকাহ’র প্রতি

৪. ভালো কাজের প্রতি

৫. রাতের নামাজের প্রতি

যেন তুমি নিজেকে রক্ষা করতে পারো….

তুমি কি জানো কেন মৃতব্যক্তিরা সাদাকাহ প্রদানের আকাঙ্খা করবে, যদি আর একবার দুনিয়ার জীবনে ফিরতে পারতো? আল্লাহ বলেন: ((হে আমার রব! যদি তুমি আমাকে আর একটু সুযোগ দিতে দুনিয়ার জীবনে ফিরে যাবার, তাহলে আমি অবশ্যই সাদাকাহ প্রদান করতাম….)) তারা বলবে না,

উমরাহ পালন করতাম,

অথবা, সালাত আদায় করতাম,

অথবা, রোজা রাখতাম,

আলেমগণ বলেন: মৃতব্যক্তিরা সাদাকাহ’র কথা বলবে, কারণ তারা সাদাকাহ প্রদানের ফলাফল তাদের মৃত্যুর পর দেখতে পাবে,আর, কারণ, উত্তম কথাও এক ধরণের সাদাকাহ।।।

২৩/০৩/২০২৪-মুর্তজা ভাইয়ের সাথে সমস্যা

শেষ পর্যন্ত ব্যাপারটা ঘটেই গেলো যা আমি বহুদিন যাবত মনে মনে ভেবেছিলাম। তাহলে শেষ পর্যন্ত কি ঘটে গেলো? ব্যাপারটা আসলে কি? ব্যাপারটা একটু তাহলে খুলেই লিখি।

ছোট একটা ভূমিকাঃ  বহুদিন যাবত আমি আর মুর্তজা সাহেব একসাথে গার্মেন্টেসের ব্যবসা করি। প্রায় ১৮ বছরের অধিক। এই বিস্তর সময়ের মধ্যে আমি চেষ্টা করেছি যাতে কখনো মুর্তজা সাহেবের সাথে আমার কোন বিষয়ে মনোমালিন্য না হয়। সমঝোতা এবং ছাড়ের ব্যাপারটায় আমি বেশী সচেতন ছিলাম সবসময়। আর এর একটা বিশেষ কারন ছিলো যে, আমি কখনো গার্মেন্টস ব্যবসায় জড়িত ছিলাম না, বায়ারদের সাথে আমার খুব একটা আনাগোনা ছিলো না, আর না আমি এই ফিল্ডে খুব এক্সপার্ট। অন্যদিকে মুর্তজা সাহেব আমার সাথে যুক্ত হবার আরো ১৬/১৭ বছর আগ থেকেই এই ফিল্ডে রয়েছেন বিধায় আমি ধরেই নিয়েছি তিনি যেটা করবেন সেটা একাস্পার্ট অপিনিয়নই। নামাজি লোক, হজ্জ করেছেন, ওমরা করেন প্রায়ই। অসৎ বলে কখনোই মনে করিনি। দ্বিতীয় কারনটি ছিলো-আমি আসলে একটা সেফ অফিস চেয়েছিলাম। আমি যদি অন্য কোথাও চাকুরিও করতাম, তাহলেও আমাকে হয়তো মাসিক কিছু বেতন দিতো এবং স্বাভাবিকভাবেই আমি শুধু কাজই করতাম। সেখানে অফিস করার একটা বাধ্যবাদকতা থাকতো, অফিস তাইমের একটা চক্কর ছিলো, ছুটিছাটা নিয়েও একতা সীমাবদ্ধতা ছিলো। কিন্তু আমার এই রিভারসাইডে সেগুলির কোনো বাধ্যবাধকতা ছিলো না। এটাই কি কম নাকি?  তাই আমিমনে মনে এটাই ভাবতাম, আমি একজন স্বাধীন কর্মচারী। ক্ষতি কি? আমি তো আমার অন্যান্য বন্ধুদের থেকে বিস্তর ভাল আছি। ফলে ছাড় দিয়েও যদি এই পরিবেশটা রাখা যায় আমি রাজী ছিলাম।

যখন রিভার সাইড আমি নেই, তখন ছিলো ম্যানুয়াল মেশিনারিজ। সেই রিভার সাইড সুয়েটার্সের ম্যানুয়েল মেশিনারিজ থেকে ধীরে ধীরে যখন অটোমেটিক জ্যাকার্ড মেশিনে রুপান্তরীত হচ্ছিলো, তখন থেকেই বুঝতেছিলাম রিভার সাইড ধীরে ধীরে একটা ভালো পর্যায়ে দাড়াচ্ছে। ধীরে ধীরে রিভারসাইড কমপ্লায়েন্স  কোয়ালিফাই করলো, ভালো ভালো বায়ার যুক্ত হলো। বেশ ভালো চলছে। বর্তমান রিভার সাইড যেখানে আছে সেখানে আমরা আশেপাশের সব দোকানপাট আস্তে আস্তে নিজেদের ভাড়ার কব্জায় নিয়ে প্রায় ৯০% জায়গা ফ্যাক্টরীর মধ্যে যোগ করে ফেলেছি। ফ্যাক্টরীর এই এক্সপাংশনের জন্য সবচেয়ে বেশী কার্যকর ভূমিকা রেখেছে কালা জরীফ নামে একজন নামকরা সন্তারসী। কিন্তু আমার সে খুব ভক্ত। ফ্যাক্টরীর আয়তন বৃদ্ধি পেয়েছে অনেক গুন। এরপরে আমরা আরো অনেক মেশিনারিজ আমরা ইম্পোর্ট করেছি এখনো করছি। সব মেশিনারিজ আমাদের রিভার সাইড ফ্যাক্টরীতে জায়গা হয় না বলে প্রথমে অতিরিক্ত ইম্পোর্টেড মেশিনারিজ গুলি আমরা গাজীপুরে এ-জেড নামক একটা ভাড়ার স্পেসে রেখে আমরা রিভার সাইডের কাজ গুলিই করি। এবার এ-জেড কি সেটা না বললে পরবর্তী কথাগুলি বুঝতে অসুবিধা হবে।

এ জেডঃ         এ জেড হলো মুর্তজা সাহেবের নিজস্ব একটা ম্যানুয়েল নিটিং এর ফ্যাক্টরী যা তিনি এক সময় চালাতেন। এটা ছিলো গাজীপুর। সেখানে সব কিছুই ছিলো মুর্তজা সাহেবের। কিন্তু এ-জেড এর কোনো কমপ্লায়েন্স সিস্টেম ছিলো না, এখনো নাই। তিনি সেখানে লোকাল বায়ারদের সাথে লোকালী কাজ করতেন। মুর্তজা ভাই যখন রিভার সাইডের ২০০৬ সালের শেষের দিকে সাথে যুক্ত হন, তখন তিনি আর লোকাল বায়ারদের সাথে এ-জেডের মাধ্যমে কাজ করতেন না, সব কাজ রিভার সাইড থেকেই করতেন। অর্থাৎ এ-জেড রিভার সাইডের জন্য একটা সাব কন্ট্রাক্ট ফ্যাক্টরী হিসাবে পরিগনিত হয়। এর সমস্ত খরচ যেমন মুর্তজা সাহেবের, তেমনি এর সমস্ত লাভও মুর্তজা সাহেবের। এ নিয়ে আমার কোনো মাথা ব্যথা ছিলো না। কিন্তু সমস্যা হলো, যদিও এ-জেড আমাদের রিভার সাইডের সাব কন্ট্রাক্ট করে কিন্তু এর জন্য মালিকের অনেক খরচ বহন করতে হয়। সেই খরচটা কম নয়। ফলে, এক সময় মুর্তজা সাহেব আমাকে জানালো যে, আমরা যদি এ-জেড ফ্যাশনকে পুরুপুরি রিভার সাইডের সাথে মার্জ করি, তাহলে এ-জেড এর সব বেতন ভাতা, কারেন্ট বিল, পেটি ক্যাশ ইত্যাদি দিয়ে এর আউটপুট আমরা শতভাগ নিতে পারি, এর বিনিময়ে মুর্তজা সাহেবকে শুধুমাত্র মাসে আড়াই লক্ষ টাকা লাভ দিতে হবে। কারন সব মেসিনারিজ তো তার। আমি ব্যাপারটা নিয়ে কোনো দ্বিমত করিনি, আসলে আমি কখনো দ্বিমত করতে চাইও নাই। আমি রাজী হলাম, আর না হয়েও উপায় নাই কারন মুর্তজা ভাই চেয়েছেন আর সে রিভার সাইডের চেয়ারম্যানও বটে।

ধীরে ধীরে আমরা যখন অটোমেটিক জ্যাকার্ড মেশিন বাড়াতে থাকি, আর সেগুলি রিভার সাইডের বাইরে প্রথমে এ-জেড ফ্যাশন ফ্যাক্টরিতে স্থাপন করি। যদিও এ-জেড ফ্যাশনে কোন গ্যাস কানেকশন নাই, আমরা ইচ্ছে করলে এই সব জ্যাকার্ড মেশিন আমার পলাশপুর মা ইন্ডাস্ট্রিজেও (যেটা আমার নিজস্ব ফ্যাক্টরী) রাখতে পারতাম। কিন্তু কোনো না কোনো কারনে আমি বুঝতে পেরেছিলাম যে, মুর্তজা সাহেব পলাশপুর আমার জায়গায় কোনো মেশিনারিজ রাখতে চান না যদিও পলাশপুর রিভার সাইড থেকে খুবই কাছে এবং আমাদের নিজস্ব জায়গা। ব্যাপারটা আমার কাছে একটু রহস্যজনক মনে হলেও কিছু বলিনি কিন্তু মাথায় ছিলো যে, হয়তো কোনো এক সময়ে মুর্তজা সাহেব উক্ত পুরু মেশিন সমেত এ-জেড ফ্যাশন নিজের মনে করে আলাদা হয়ে যেতেও পারেন। ওই যে লেখার প্রথমেই বলেছিলাম যে, যে ব্যাপারটা আমি মনে মনে আচ করতেছিলাম, এটাই সেটা।  তারপরেও আমি ভয় পাইনি কারন এটা দিবালোকের মতো সত্য যে, মেশিনারিজ তার নিজের নয়। ইচ্ছে করলেই মুর্তজা যা খুশি তাইই করতে পারবে না। উনি যে পরিকল্পনায় মনে মনে ছক কষছেন সেটা বাস্তবে রুপ হয়তো কোনোদিন নিবেও না যদিও তিনি এতাই আশা করে বসে আছেন।

যতোই আমরা অটোমেটিক মেশিনারিজ ইম্পোর্ট করছি, তার সাথে পাল্লা দিয়ে এ-জেড এর পুরাতন ম্যানুয়েল মেশিনগুলিও ফ্যাক্টরী থেকে বিতাড়িত হচ্ছে। আর সেই মেশিন গুলির বিক্রির টাকা কিন্তু মুর্তজা ভাইই নিচ্ছেন। যদিও এ জেড এর মেশিনারিজ এক সময় ক্রমেই নিঃস্ব হয়ে শুন্য হয়ে গেলো, তখন অবধি মুর্তজা ভাই সেই আড়াই লাখ টাকাই প্রোফিট নিতে থাকলেন। এ-জেড এ আগের কোনো মেশিনারিজ নাই, সেখানে সব খরচ আমাদের রিভার সাইড থেকে দেয়া, কারেন্ট বিল, গ্যাস বিল, নাইট বিল, ওভার টাইম বিল, সেলারী, পেটি ক্যাশ সব কিছু রিভার সাইড দেয়। রিভার সাইডের মেশিন, শুধু ভাড়ার কারনে জমির মালিককে আমরা তাকে ভাড়া দেই। এরপরেও মুর্তজা ভাই আড়াই লাখ টাকা প্রোফিট নিতেই থাকলেন। এটা অন্যায় এবং পাপ।  ব্যাপারটা নিয়ে আমি খুব একটা উচ্চবাচ্য করছিলাম না। তার কারন হল-এই আড়াই লাখ টাকার মধ্যে আমি যদি ৬৫% তার শেয়ারের ভাগ ধরি তাতে আমার মাত্র লস হবে ৩৫% টাকার সমপরিমান বা প্রায় ৮৭৫০০ টাকার পরিমান। সুধুমাত্র এই কয়টি টাকার জন্য মুর্তজা ভাইয়ের সাথে আমি কোনো মনোমালিন্যের মধ্যে যেতে চাইনি। আমি মেনে নিয়েছি এক রকমের। এখানে বলে রাখা ভালো যে, এ-জেড এর ট্রেড লাইসেন্স, ভাড়ার চুক্তি, কারেন্ট বিল, এবং অন্যান্য করেস্পন্ডেন্স সব মুর্তজা ভাইয়ের নামেই হয়। আমি খুব কম যাওয়া আসি করি বিধায় বাইরের খুব কম লোকই জানে যে, এ-জেড আসলে কোন ফ্যাক্টরিই না, এবং এটা বেসিক্যালী রিভার সাইডের একটা অংশ। আর মুর্তজা ভাইও এতা বলতে পছন্দ করেন না যে, আমিও এ-জেড এর ম্যানেজিং ডাইরেক্টর। আমি বুঝতে পারি কিন্তু কিছু বলি না। হয়তো মুর্তজা ভাই বুঝতে পারেন না যে, আমি বুঝতে পারি। আমিও খুব কম যাই ওখানে। কারন উনিই যদি কষ্ট করে সামাল দেন, খামাখা আমি আর কষ্ট করার দরকার কি। চলুক না এভাবেই।

এর মধ্যে মুর্তজা ভাই তার এক খন্ড জমি (গাজীপুরেই), সেখানে নিজের একটা বিল্ডিং করার মনস্থ করেন। আমরা রিভার সাইডের পাশাপাশি আরো একটা ভিন্ন নামে কোম্পানী খুলেছিলাম, যার নাম আন-নূর এপারেলস। এখন একতা প্রশ্ন জাগতে পারে- আরেকটা নতুন নামে কোম্পানী কেনো খুললাম। সরকার বাহাদূর নতুন নতুন মার্কেট উদ্ভাবনের নিমিত্তে কিছু কিছু ফ্যাক্টরীকে ১% থেকে ৫% ইন্সেন্টিভ দেয়। যেমন জাপানি, ব্রাজিল কিংবা এ জাতীয় বাজার যা আমাদের তথাকথিত বাজার গুলির মধ্যে পড়ে না, সেসব সেক্টরের জন্য প্রনোদনা। আর এটা ক্যাশ প্রনোদনা। এই প্রনোদনায় যারা ৫০ মিলিয়ন ডলার পর্যন্ত রপ্তানি করে তারা পায় ৫% প্রনোদনা আর যারা ৫০ মিলিয়নের উপরে রপ্তানি করে তারা পায় ১% প্রনোদনা। আমাদের রিভার সাইড বছরে ১০০ মিলিয়নের উপরে রপ্তানি করে বিধায় আমরা মাত্র পাই ১% প্রনোদনা। তো আমরা এই আন নূর তৈরী করলাম যাতে এই কোম্পানি থেকে ৫০ মিলিয়নের কম রপ্তানি দেখিয়ে সরকারের কাছ থেকে ৫% ক্যাশ ইন্সেন্টিভ নিতে পারি। এই লক্ষ্য সামনে রেখে আমরা আননূর এর ব্যাপারে যা যা সার্টিফিকেট লাগে যেমন ই আর সি, আই আর সি, ট্রেড লাইসেন্স, ফায়ার লাইসেন্স, ইত্যাদি সেগুলি ধীরে ধীরে আপডেট করছিলাম। কিন্তু আমরা এ পর্যন্ত আন নুর থেকে কোনো প্রকার এলসি কিংবা ব্যাক টু ব্যাক খুলি নাই। এবার সেই আন নূর এপারেলস নিয়ে কিছু কথা বলি।

আন নূর এপারেলসঃ  আমরা আরো নতুন মেশিন আনার চেষ্টা করছিলাম এবং সেই নতুন মেশিন গুলি আবার এখন না এ-জেড না রিভার সাইডে আর রাখা সম্ভব হচ্ছিলো। এবারো আমরা ইচ্ছে করলে নতুন সব মেশিনারিজ আমার পলাশপুরে রাখতে পারতাম কিন্তু ওই যে বললাম, মুর্তজা সাহেব কখনোই চান নাই যে, মেশিনারিজ আমার কোন নিজস্ব জায়গায় থাকুক। তার কোন না কোনো দুরভিসন্ধিমুলক পরিকল্পনা তো ছিলই। আমি তার প্রতিটি স্টেপ ওয়াচে রেখেছিলাম। “আন নূর এপারেলস” নামে যে নতুন একটা কোম্পানি জয়েন্ট স্টক থেকে রেজিষ্টার্ড করেছিলাম, তার শেয়ার হোল্ডার হলো আমরা দুজন এবং ৩য় শেয়ার হোল্ডার হিসাবে “রিভার সাইড সুয়েটার্স লিমিটেড”।

এই পরিস্থিতি যখন চলমান, তখন মুর্তজা ভাই গাজিপুরের তার নিজের জায়গায় (১০ শতাংশের উপর) ৬ তালা একটা বিল্ডিং কন্সট্রাক্সনের পরিকল্পনা করলেন। ওটাকে আমরা আননূর এপারেলস হিসাবে পরিগনিত করার লক্ষ্যেই করা হয়েছিলো যদিও বিল্ডিং করা মানেই সেটা আননুরের নয়। বিল্ডিং এবং জায়গা মুর্তজা ভাইয়ের, এটা আননূরের নয়, ফলে আননূর এপারেলস কখনই ওই বিল্ডিং ক্লেইম করতে পারে না যদিও সেখানে আননুর এপারেলস হিসাবে ফ্যাকটরি চলমান থাকে। আন নূর এপারেলসের সাথে মুর্তজা ভাইয়ের তৈরী করা বিল্ডিং এর মধ্যে সম্পর্ক আসলে শুধু একটা ভারা। আর কিছুই না।

যাই হোক, বিল্ডিং করার জন্য মুর্তজা ভাই রিভার সাইড থেকে অনেক টাকা নিলেন নিজের নামে ড্রইং হিসাবে। প্রায় সোয়া কোটি টাকা। মুর্তজা ভাই প্রথমে এই ড্রইংস গুলি নিজের নামে সাভাবিক নিয়মেই আমরা যেভাবে ড্রইং করি সেভাবেই ড্র করছিলেন। ফলে কোন অসুবিধা মনে হয় নাই। উনি ড্র করলে আমারো ড্র করার কথা এটাই নিয়ম, কিন্তু যদি ড্র আমি না করি, তাহলে এক সময় উনি বেশী ড্র করার কারনে আমার কাছে ঋণী হবেন এবং উনি আমাকে টাকা প্রদান করবেন এটাই এ যাবত কালের ফর্মুলা (আমাদের ড্রইংস এর যে নীতি সেতা নীচে একটূ আলাপ করলাম)। মুর্তজা ভাই খুবই চতুর লোক। যেই না বিল্ডিংটা রেডি হয়ে গেলো, তখন তিনি আমাদের রিভার সাইডের কিছু জ্যাকার্ড মেশিন ওখানে শিফট করতে আমাকে অনুরোধ করলেন এইভাবে যে, আমরা আর কিছু নতুন মেশিন আনবো, তখন ওই মেশিনগুলি আবার রিভার সাইডে স্থানান্তর করবো। আর কিছু জ্যাকার্ড এ-জেড থেকেও এই বিল্ডিং এ আনা হলো। ব্যাপারটা আমার কাছে খুব একটা ভালো ঠেকছিলো না। মনে হচ্ছিল মুর্তজা ভাই কোনো একটা এমন পরিকল্পনা করছেন যেখানে আমাকে রাখার দরকার নাই এবং উনি একা একাই ব্যবসা করতে চান। ফলে, যে সব মেশিনগুলির পেমেন্ট ইতিমধ্যে দেয়া শেষ হয়ে গেছে, সেসব মেশিন গুলিই ওখানে শিফট হচ্ছিল আর যে সব মেশিনগুলির পেমেন্ট এখনো শেষ হয় নাই, সেগুলি শুধু রিভার সাইডে রইলো। একটা সিম্পটম তো আমার কাছে প্রায় দ্রিশ্যমান মনে হচ্ছিলো যে, মুর্তজা ভাই সেপারেট হবার পরিকল্পনা করছেন।

এইটাই সেই আমার ভাবনা যেটা দিয়ে আমি শুরু করেছিলাম লেখাটা। তারপরেও আমি কিছুই তাকে বলিনি। শুধু অপেক্ষা করছিলাম দেখি কোথাকার জল কোথায় গড়ায়।

এবার একটু পিছনের দিকে যাই।

ড্রইংস সিস্টেমঃ  রিভার সাইডে ডাইরেক্টরদের মধ্যে টাকা নেবার একটা সিস্টেম আছে। সে ব্যাপারে একটু আলোকপাত করি। রিভার সাইড সুয়েটার্স লিমিটেডে আমাদের টাকা নেবার সিস্টেম হলো যার যখন যা দরকার পড়ে সেটাই আমরা ড্রয়িংস আকারে নেই। পরবর্তিতে বছর শেষে ৩৫% আর ৬৫% অনুপাতে কে কত প্রাপ্য সেটা ক্যাল্কুলেট করি। একটা উদাহরন দেইঃ

(ক)      ধরুন, আমার টাকা দরকার ৫০ লাখ টাকা। আমি রিভার সাইড থেকে ৫০ লাখ টাকা ড্রইংস করলাম আমার নামে। ঠিক এই সময়ে মুর্তজা সাহেব নিলেন ১০ লাখ টাকা। তাহলে হিসাবটা দাঁড়াবে এভাবে-

(১)       এম ডি সাহেব ড্রইংস                = ৫০ লাখ

(২)       চেয়ারম্যান সাহেব ড্রইংস          =১০ লাখ

মোট ড্রইংস                                          = ৬০ লাখ

এমডি ৩৫% অনুযায়ি ড্রইং করতে পারেন  =(৩৫/১০০) x ৬০০০০০ = ২১০০০০০ টাকা

চেয়ারম্যান ৬৫% অনুযায়ী ড্রইং করতে পারেন =(৬৫/১০০০) x  ৬০০০০০০ = ৩৯০০০০০  টাকা

কিন্তু এমডি ড্রইং করেছেন  = ৫০ লাখ। আর পার্সেন্টেজ অনুযায়ী ড্রইং করতে পারেন ২১ লাখ টাকা। অন্যদিকে চেয়ারম্যান ৬৫% অনুযায়ি ড্রইং করতে পারেন ৩৯ লাখ টাকা কিন্তু তিনি ড্রং করেছেন ১০ লাখ টাকা। তাতে এমডি ওভারড্র করেছেন ২৯০০০০০ টাকা, আর চেয়ারম্যান লেস ড্র করেছেন ২৯০০০০০ টাকা। এই ২৯০০০০০ টাকা এমডি সাহেব বেসিক্যালি দিয়ে দিবেন চেয়ারম্যান সাহেবকে। এটা ফ্যাক্টরি দেবার কথা নয়।

(খ)       আরেকটা ফর্মুলা হলো (ওই একই নিয়ম আসলে) যে, ধরুন আমি ড্র করলাম ৫০ লাখ টাকা।  এবার ৩৫% অনুযায়ি আমি যদি ৫০ লাখ টাকা ড্র করি, তাহলে চেয়ারম্যান সাহেব তার ৬৫% অনুযায়ী ড্র করতে পারবেন ৯৩ লাখ টাকা। সেক্ষেত্রে ফ্যাক্টরি এমডি এবং চেয়ারম্যানকে (৫০+৯৩) = ১৪৩ লাখ টাকা প্রদান করবে। এখানে কোনো ডাইরেক্টর কারো কাছেই ব্যক্তিগতভাবে রিনী নয়। কিন্তু আগেরটায় ডাইরেক্টরগন একে অপরের উপর রিনী থাকেন।

আমরা দুভাবেই টাকা ড্রইংস করি।

এই প্রথম পদ্ধতিতে আমার এবং মুর্তজা ভাইয়ের মধ্যে ড্রইংস নিয়ে একটা বিস্তর ফারাক হয়ে যায়। ২০১০ থেকে ২০১৪ পর্যন্ত আমি মুর্তজা ভাইয়ের থেকে অথবা ফ্যাক্টরী থেকে এই নিয়মে প্রায় ৯ লাখ টাকা পাইতাম। কিন্তু ২০১৪ সাল থেকে ২০১৮ সাল অবধি আমি প্রায় এক কোটি চুয়াল্লিশ লাখ টাকা বেশি ড্র করে ফেলি। এবং মুর্তজা ভাই ফ্যাক্টরী থেকে এক কোটি চুয়াল্লিশ লাখ টাকা কম ড্র করেন। এর মানে এই যে, বেসিক্যালি মুর্তজা ভাই এই এক কোটি চুয়াল্লিশ লাখ টাকা আমার কাছে ব্যক্তিগতভাবে প্রাপ্য।

নাজিমের আমলে ফ্যাক্টরীকে দেয়া আমার অগ্রীমঃ

রিভার সাইড সুয়েটার্স যখন আমি নাজিম থেকে একেবারে বুঝে নেই, তখন নাজিম উদ্দিন আমার কাছ থেকে দুই কোট পচিশ লাখ টাকা অগ্রীম নিয়েছিলো। আর এটা ছিল কিছু ক্যাশে আর বেশীরভাগ জমির বিনিময়ে, প্রায় ৩৩ একর জমির মাটি নাজিম উদ্দিন কেটে বসুন্ধরাকে দিয়েছিলো। এখন যেকাহ্নে মোল্লার হাট, তার পাশে যে খালটা আছে, এই পুরু খালটা আমাদের জমির উপর নির্মিত।

বর্তমানে রিভার সাইড যে বিল্ডিং এর উপর স্থাপিত, সেই বিল্ডিংটা ছিলো নাজিমুদ্দিনের। প্রতিমাসে এই রিভার সাইড বিল্ডিং এর ভাড়া বাবদ ধার্য্য ছিলো আড়াই লাখ টাকা। আর এ ব্যাপারে একটা লিখিত চুক্তিও ছিল। নাজিমুদ্দিন ২০১৬ সালে মারা যাওয়ার পর,  তিনজন (১) বারেক সাহেব (২) নাজিমুদ্দিনের পরিবার (৩) কালা জরীফ এই বিল্ডিং এর মালিকানা দাবি করে আমার কাছ থেকে ভাড়া আদায়ের চেষ্টা করে। কিন্তু কেহই আমার দেয়া অগ্রীমের টাকার জিম্মাদার হতে রাজি ছিল না।

অতঃপর আমি আমার অগ্রীম টাকা সমন্নয় করার লক্ষে আমি ভাড়া দেয়া বন্ধ করে দেই এবং ভাড়ার মাধ্যমে আমি আমার অগ্রীম টাকা সমন্নয় করার চেষ্টা করি। এভাবে প্রায় ৪০ মাস আমি ভারা না দিয়ে এক কোটি টাকা সমন্নয় করি কিন্তু টাকাটা আমি ফ্যাক্টরি থেকে কখনো নেইনি। ফ্যাক্তরিতেই টাকাটা ছিল।  ৪০ মাস পর কালা জরিফ আমার অগ্রিম টাকার জিম্মাদার হয় এবং সে এইমর্মে জানায় যে, বাকি যে সোয়া কোটি টাকা বাকী আছে, সেই টাকা থেকে সে এক কোটি টাকার জিম্মাদার হবে। ২৫ লাখ টাকা তাকে মাফ করতে হবে।

ফলে রিভার সাইডের পক্ষে আমি নিজে মোট ২ কোটি টাকা অগ্রীম প্রদান করি যা আমি প্রাপ্য রিভার সাইডের কাছে। ১ কোটি টাকা ভাড়া সমন্নয় আর আরেক কোটি সরাসরি ক্যাশ এডজাষ্টমেন্ট জরীফের অগ্রীম নেয়ার সাথে।

ওভার ড্রইং বা আন্ডার ড্রয়িং কিভাবে এডজাষ্ট হয়ঃ

আমরা আমাদের চাহিদা মতো যখন যা টাকা লাগে সেটাই নিতে থাকি ফ্যাক্টরি থেকে। দুজনের মট ড্রয়িংএকসাথে যোগ করে আমরা তার মধ্যে ৩৫% -৬৫% হিসাবে ভাগ করে দেখি কে কত বেশী ওভার বা লেস ড্র করেছে। যিনি অভার ড্র করেছেন তিনি আসলে অন্য জনের কাছে ঋণী। মুর্তজা সাহেব একটু বেশী চালাক মানুষ। যখন তিনি আমার কাছে ঋণী থাকেন, তখন কিছুই বলেন না, চুপচাপ থাকেন। কিন্তু কোনো কারনে যদি আমি উলটা তার কাছে ঋণী থাকি, তিনি সেই সুযোগটা মিস করেন না, তিনি হয় আমার জমি না হয় অন্য কোনো এসেট বা কোনো এসেট না থাকলে আমার মুল শেয়ারের হাত দেন। আর এভাবেই আমি আমার আর্মি থেকে পাওয়া পুর্বাচল প্লটটা তার কাছে হারিয়েছি, এভাবেই আমি বেশ কিছু সাফারও করেছি। আমি তার মতো নাক কান উল্টিয়ে বেহায়ার মতো কোন কথা বলতে পারিনা। কিন্তু সে পারে।

তো ২০১৮ সালে হটাত করে আমরা আবার আমাদের ড্রইংস নিয়ে হিসাব করি (হিসাবটা উনিই করেন সুযোগ বুঝে) এবং তাতে দেখা যায় আমি ওভার অল প্রায় ১ কোটি ৪৪ লাখ টাকা তার থেকে বেশী ড্র করেছি। অর্থাৎ উনি ১ কোটি ৪৪ লাখ টাকা কম ড্র করেছেন।

ঠিক এই সময়ে উনি একাউন্ট অফিসার মাধ্যমে আমাকে টাকাটা সমন্নয় করতে ইংগিত দিলেন। আমি প্রস্তুত ছিলাম না কারন আমার পরিবারে তখন বেশ কিছু সেটব্যাক চলছিল। যেমন উম্মিকার বিয়ের পর রানার সাথে এবং রানার পরিবারের সাথে আমাদের বেশ একটা কোন্দল চলছিলো। অন্যদিকে আমার মা ইন্ডাস্ট্রিজ নিয়ে আমি একটু বিপাকেই ছিলাম। বেশ কিছু লোনের মধ্যে জর্জরিত ছিলাম। মুর্তজা সাহেবের এই ইংগিতে আমি অসস্থি ভোগ করছিলাম। একটু মেজাজও খারাপ হচ্ছিলো। তখন সবেমাত্র আমরা অটোমেশনে যাচ্ছি। অর্থাৎ ম্যানুয়েল মেশিন থেকে অটোমেটিক মেশিনে সুইচ করছি। যাই হোক, সবকিছু মিলিয়ে মনমেজাজ অতোটা ভাল যাচ্ছিলো না। খুব চাপ ফিল করছিলাম। মনে মনে ভাবলাম, মুর্তজা ভাইয়ের ডিমান্ড অনুযায়ী আমার হাতে থাকা কিছু শেয়ার ওনার কাছেই বিক্রি করে দিয়ে মা ইন্ডাস্ট্রিজের লোন, আমার ঋণ, এবং অন্যান্য কিছু লায়াবিলিটিজ শোধ করে ফ্রি হয়ে যাই। সে মোতাবেক আমি একটা নোট শিট তৈরী করি। মুর্তজা ভাইয়ের পরিকল্পনা ছিল আমার থেকে প্রাপ্ত শেয়ার গুলি তিনি তার স্ত্রীর নামে লিখে নিয়ে ওনাকেও ডাইরেক্টর পদে ফ্যাক্টরীতে আনবেন। আমার আসলে বুঝতে বাকী রইলো না যে, উনি ধিরে ধীরে আমাকে আউট করে দিয়ে এখন তিনি পুরু পরিবার কেন্দ্রিক করতে চাচ্ছেন। অনেক সুদুর পরিকল্পনা। এখানে একটা কথা বলা বাহুল্য যে, এর আগেও তিনি আমাকে বাদ দিয়ে কখনো কখনো অন্যের সাথে যৌথ ব্যবসায় মনোনিবেশ করতে গিয়ে লস করেছেন এবং আবার এই রিভার সাইডেই ফিরে এসেছেন। কিন্তু আবারো চেষ্টা করেছেন। কখনো আমাকে জানিয়ে, কখনো আমাকে না জানিয়ে। বেশীরভাগ ক্ষেত্রেই গোপনে। কিন্তু প্রতিবারই উনি তাতে বিশাল অংকের টাকা লসই করেছেন এবং আবার ফিরে এসছেন এই রিভার সাইডেই।

যাই হোক যেটা বলছিলাম। মুর্তজা সাহেব এবার আমার ওভার ড্রইংস নিয়ে বা ওনার আন্ডার ড্রইংস কে কেন্দ্র করে আমার ৩৫% শেয়ার থেকে রিভার সাইডের বর্তমান বাজার মুল্যের শেয়ায়র ভ্যালুতে সেই ওভার ড্রইংস এর টাকায় সম পরিমান শেয়ার তার স্ত্রীকে দিতে বললেন। খুব ব্যথা লাগল মনে এবং কষ্টও লাগলো। কেনো কষ্ট লাগল সেটাও পরে আসছি। এই কষ্টভরা আবেগে আমার মনে হলো, ধ্যুত, এতো যখ লোভ মুর্তজার সাহেবের, দেই শেয়ার দিয়েই দেই। তাই আমি একটা প্রস্তাবনা লিখি ঠিক এভাবেঃ (এখানে বলা উচিত যে, আমার প্রস্তাবনায় মারাত্তক একতা ভুল ছিল যা আমি প্রস্তাব লিখার সময় মাথাতেই ছিল না।)

রিভার সাইড এর মেজর আখতারের ২০% শেয়ার বিক্রির প্রস্তাবনা সম্পর্কে নোট

লোনের হিসাবঃ

(১)        রিভার সাইড থেকে মেজর আখতার কর্তৃক লোন নেওয়া        = টাকা ১,৪৪,৬৯,৩০৫.০০  

(২)        রিভার সাইড থেকে মেজর আখতার পাবে                            = টাকা ৬১,৫০,০০০.০০ ******

—————————————————————————————— ——————-

রিভার সাইডে মেজর আখতারের অবশিষ্ট লোন থাকবে                      = টাকা ৮৩,১৯,৩০৫.০০

***** টাকা ৬১,৫০,০০০.০০ এটাই ছিলো মারাত্তক একটা ভুল। সেটা কিভাবে দেখি তাহলে;

12.04.2018

(1)        Rental Dues:

 

  1. Year-2014        = 02 Months
  2. Year 2015         = 12 months
  3. Year-2016        = 12 Months
  4. Year- 2017       = 12 Months
  5. Year- 2018       = 01 Months

            —————————————————————-

            Total Months Rental Dues       = 39 Months

            Each Months Rental                 = 250000.00

            —————————————————————

            Total Taka Dues as Rental        = 9750000.00

Less  Money

(a)          Loan to Barek                                  = 700000

(b)          Bribe to OC Munir (Keranigonj) = 500000

 (c )         Loan to Shamsu Bhai                    = 300000

(d)          Factory Repair                                 = 2350000

—————————————————————————–

Total Deduction                                             = 3850000

So, Major Akhtar was generous to waive the above expenditures from his personal advance and agreed to get 61500000 taka instead of 1 Crore.

৩৮৫০০০০ টাকা ছাড় দেয়াটা কিন্তু ভুল ছিলো না, আমার অগ্রোম তাকা থেকে মুর্তজা ভাইয়ের অনুরোধে ৩৮৫০০০০ টাকা আমি ছাড়তে কষ্ট হয় নাই যেমন কষ্ট হয় নাই যখন জরীফও ২৫ লাখ তাকার জিম্মাদার হয় নাই। তাতে আমি মোট (২৫ + সাড়ে ৩৮) =সাড়ে ৫৩ লাখ টাকা ছাড় দিলাম।  এতাও কোন মারাত্তক ভুল না, এতা ইচ্ছাক্রিতভাবে ছাড়। মারাত্তক ভুলটা হয়েছে যে, আমি যে আরো ১ কোটি টাকা জরীফকে অগ্রীম হিসাবে দিয়েছি এবং সে আমার বাকি ১ কটি টাকার যে অগ্রিমের জিম্মাদার হয়েছিলো, সেই ১ কোটি টাকা আমি ধরিই নাই। সেই তাকা না ধরার কারনে আমি শুধু লিখেছিলাম যে, আমি রিভার সাইড থেকে পাই 

(২)        রিভার সাইড থেকে মেজর আখতার পাবে                            = টাকা ৬১,৫০,০০০.০০ ******

 অথচ হবার কথা                                                                       = টাকা ১,৬১,৫০,০০০.০০

যদি এতাই হয়, তাহলে তো আমি ওভার ড্র করলেও রিভার সাইড থেকে প্রাপ্য টাকা থেকে আমি মুর্তজা ভাইকে টাকা ১,৪৪,৬৯,৩০৫.০০  টাকা পে করেও আমার কাছে আর ১৭/১৮ লাখ টাকা সারপ্লাস থাকে। আমার তো কোনো শেয়ার বিক্রি করার কন কারনই নাই।

আমার এই ১ কোটি টাকার কথা একেবারেই মনে ছিলো না, আর মুর্তজা ভাইয়ের হয়ত মনে ছিলো কিন্তু তিনি চেপে গেছেন। ফলে আমার ভুলে যাওয়া ১ কোটি টাকা ছারাই আমার প্রস্তাবনা দারায় এরুপঃ

লোনের হিসাবঃ

(১)        রিভার সাইড থেকে মেজর আখতার কর্তৃক লোন নেওয়া        = টাকা ১,৪৪,৬৯,৩০৫.০০  

(২)        রিভার সাইড থেকে মেজর আখতার পাবে                            = টাকা ৬১,৫০,০০০.০০ ******

—————————————————————————————— ——————-

রিভার সাইডে মেজর আখতারের অবশিষ্ট লোন থাকবে                      = টাকা ৮৩,১৯,৩০৫.০০

শেয়ার বিক্রিঃ

(৩)        ১০০% শেয়ারের মুল্য                                                       = টাকা ১৩,১৫,০০০,০০.০০

(৪)        ২০% শেয়ারের মুল্য                                                         = টাকা ২,৬৩,০০,০০০.০০

(৫)        রিভার সাইডের অবশিষ্ট লোন বাবদ মাইনাস হবে                  = টাকা ৮৩,১৯,৩০৫.০০

————————————————————————————————————-  

মেজর আখতারের সব লোন পরিশোধ হবার পর টাকা পাবে                = ১,৭৯,৮০,৬৯৫.০০

নোটঃ

ক।        যদি মেজর আখতারের শেয়ার বিক্রির টাকা নিজস্ব সোর্স থেকে এককালীন পরিশোধ করা হয় তাহলে ভাবি       বা মুর্তজা ভাই মেজর আখতারকে মোট ১,৭৯,৮০,৬৯৫.০০ টাকা পরিশোধ করিবেন। তাহলে দুজনের ড্রইংস রিভার সাইডে শুন্য থাকবে। এখানে উল্লেখ থাকে যে, মুর্তজা ভাই যে টাকা রিভার সাইডকে লোন দিয়েছেন, তা এখানে ধরা হয় নাই। সেটা তিনি রিভার সাইড থেকে পৃথকভাবে উত্তোলন করিবেন।

খ।        আর যদি মুর্তজা ভাই উপরোক্ত ১,৭৯,৮০,৬৯৫.০০ টাকা রিভার সাইড থেকে ড্রইং করে মেজর আখতারকে পরিশোধ করতে চান, তাহলে রিভার সাইড মুর্তজা ভাইকে এবং মেজর আখতারকে নিম্নবর্ণীতভাবে টাকা ড্রইং দেখাতে হবেঃ 

            (১)        মুর্তজা ভাই ড্র করবেন (৬৫%)                              = টাকা ১,৭৯,৮০,৬৯৫.০০

            (২)        মেজর আখতার ড্র করবেন (৩৫%)                        = টাকা ৯৬,৮১,৯১৩.০০

            —————————————————————————————————–

            রিভার সাইড থেকে দুজনের নামে মোট টাকা ড্র হবে             = টাকা ২,৭৬,৬২,৬০৮.০০

গ।        বিশেষ নোটঃ  যদি মেজর আখতার রিভার সাইডে তার করা অবশিষ্ট লোন যার পরিমান টাকা           ৮৩,১৯,৩০৫.০০ এর বিনিময়ে প্রথমেই শেয়ার ট্রান্সফারের মাধ্যমে শুন্য করতে চান, তাহলে হিসাব       দাড়াবে এই রকমঃ

            (৩)        টাকা ১৩১৫০০০.০০                                             =১% শেয়ার

            (৪)        টাকা ৮৩,১৯,৩০৫.০০                                         = ৬.৩৩% শেয়ার

            (৫)        সেক্ষেত্রে মেজর আখতারের শেয়ার বাকী থাকে        = ১৩.৬৭%

            (৬)       উক্ত ১৩.৬৭% শেয়ারের মুল্য হবে                          =(১৩.৬৭% x ১৩১৫০০০.০০)

                                                                                                =টাকা ১,৭৯,৮০,৬৯৫.০০

ঘ।        সেক্ষেত্রে, তখন মুর্তজা ভাইয়ের শেয়ার পরিমান দাঁড়ায় (৬৫% + ৬.৩৩%) = ৭১.৩৩% এবং মেজর আখতারের শেয়ারের পরিমান দাড়ায় ১৩.৬৮% । তখন যদি মুর্তজা ভাই পুরু পেমেন্টটা রিভার সাইডের ড্রইং থেকে পরিশোধ করতে চান, তাহলে মেজর আখতার এবং মুর্তজা ভাইয়ের ড্রইং হবে নিম্নরূপঃ

                        (৭)        মুর্তজা ভাই ড্র করবেন (৭১.৩৩%)              = টাকা ১,৭৯,৮০,৬৯৫.০০

                        (৮)        মেজর আখতার ড্র করবেন (২৮.৬৮%)       = টাকা ৭২,২৭০৬৫.০০ 

                        ———————————————————————————————

                        রিভার সাইড থেকে দুজনের নামে মোট টাকা ড্র হবে = টাকা ২,৫২,০৭,৭৬০.০০

ঙ।        এখানে রিভার সাইডের নতুন অগ্রিম এর টাকা দেওয়া আছে ১৫,০০,০০০ টাকা যা ৬৫% এবং ৩৫%             হিসাবে পরিগনিত ছিলো। সেক্ষেত্রে সব কিছু নতুন শতকরা অনুপাতে মেজর আখতার এর পক্ষে টাকা       ৫২৫০০০.০০ এবং মুর্তজা ভাইয়ের পক্ষে বাকী ৯৭৫০০০.০০ টাকা। কিন্তু ১৫% শেয়ার ঠিক থাকার             কারনে উক্ত টাকা ৫২৫০০০.০০ থেকে ৩০০০০০.০০ টাকা মেজর আখতারের পক্ষে গন্য হবে। অর্থাৎ

           

            রিভার সাইড থেকে দুজনের নামে মোট টাকা ড্র হবে             = টাকা ২,৫২,০৭,৭৬০.০০

            গ্রাউন্ড ফ্লোরের অগ্রিম থেকে প্রাপ্য টাকার পরিমান              = টাকা ৩০০০০০.০০

            ————————————————————————————

            মেজর আখতার মোট টাকা পাবেন                                     = টাকা ২,৫৫,০০,০০০.০০

চ।         সোনালী ব্যংকে মোট লোনের পরিমান = টাকা ২,৫০,০০,০০০.০০ (সম্ভবত, একটা ব্যাংক স্ট্যাটমেন্ট   নিতে হবে চূড়ান্ত মোট কত টাকা আছে তা জানার জন্য)। উক্ত টাকার পরিশোধের ভার যদি মুর্তজা ভাই           নেন, এবং রিভার সাইড থেকে উত্তোলনের মাধ্যমে তা পরিশোধ করেন, তাহলে উক্ত টাকার যে সুদ হবে             সেটার দায়িত্বও মুর্তজা ভাইকে নিতে হবে।

ছ।        এখানে মিনহজ ভাইয়ের লোনের টাকা হিসাবের মধ্যে নেওয়া হয় নাই।

প্রস্তাবনাঃ

ক।        মুর্তজা ভাই, এখন আপনি সিদ্ধান্ত নিবেন, বিশেষ নোটের আগের হিসাবমতে যাবেন নাকি বিশেষ নোটের মাধ্যমে শেয়ার ট্রান্সফারে যাবেন। আমি এখানে কোনো প্রকারের মন্তব্য করতে চাই না। আপনার সিদ্ধান্তই চুড়ান্ত।

খ।        শেয়ার পরিবর্তনের পরে ভাবীকেও সমান পরিমান রিমুনিরেশন দিতে হবে। আমি সেটাই চাই। আর বর্তমান রিমুনিরেশনে আমার মতে কোনো পরিবর্তন চাই না। বাড়তে পারে কিন্তু কমানো ঠিক হবে না। অর্থাৎ সবাই আড়াই লাখ করে ড্র করবেন যতোদিন আমরা আবার না বাড়াই।

আমার এই প্রস্তাবনার বিপরীতে আমরা কেহই কোথাও যুগ্মভাবে সাইন করিনি। না মুর্তজা ভাই এই প্রস্তাবনার ব্যাপারে কিছু বলেছে। উনি মনে মনেই ব্যাপারটা রেখেছিল কারন তার কাছেও আমাকে নগদ টাকা দিয়ে প্রস্তাবনায় বর্নীত শেয়ারের টাকা দিতে পারতো না।

ফলে আমি ভুল করে হলেও তথাকথিত ১ কোটি ৪৪ লাখ ওভার ড্রইংস এর কারনে মুর্তজা ভাইকে আমার শেয়ার থেকে ৬% শেয়ার লিখে দেই নাই।

মুর্তজার ভাইয়ের শেয়ার তার স্ত্রীর নামে ট্রান্সফার

মুর্তজা ভাই কয়েকবার সফটভাবে আমাকে আমার উক্ত ৬% শেয়ার তার স্ত্রীর নামে ট্রান্সফারের কথা বল্লেও আমি ওনাকে সাফ জানিয়ে দিয়েছিলাম যে, আমার এক কোটি টাকা ভুলে কাউন্টে না আনার কারনে উক্ত ৬% শেয়ায়ের উদ্ভব হয়। যেহেতু টাকাটা তো আসলেই আমি দিয়েছি এবং প্রস্তাবনার সময় কাউন্ট করতে ভুলে গেছি, তারমানে এই নয় যে, আমি ওভার ড্র এর কারনে ৬% শেয়ার ভাবীকে ট্রান্সফার করবো। কিন্তু তিনি আমাকে এটাও বলেন যে, দরকার হয় আমি যেনো সেই টাকা রিভার সাইড থেকে নিয়ে নেই কিন্তু ভুল প্রস্তাবনার বিপরীতে উদ্ভব ৬% শেয়ার আমি তার স্ত্রীকে দিয়েই দেই। আমিও বারবার তাকে সাফ জানিয়ে দিচ্ছিলাম যে, এটা নীতিগতভাবে সথিক নয় এবং আমি আমার শেয়ার ট্রান্সফার করবো না।

অতঃপর তিনি তার ৬৫% শেয়ার থেকে নিজেই তার স্ত্রীকে ১৫% শেয়ার প্রদান করেন এবং তার জন্যেও তিনি অনেকটা জোর করেই আমাদের সম পরিমান সেলারী অর্থাৎ ৩ লাখ টাকার সেলারী উত্তোলন করার জন্য চাপ দেন এবং সেই টাকা তিনি নিতেই থাকেন। অথচ ভাবি ডাইরেক্টর হিসাবে একদিনও এক ঘন্টার জন্যেও অফিস করেন না।

আমি বৃহত্তর সার্থেই এটাও মেনে নিয়েছিলাম। কিন্তু আমি তার উপরে নাখোস ছিলাম। আমার মনে একটা কষ্ট তৈরী হচ্ছিলো। আমিও একটা জিনিষ বুঝতেছিলাম যে, আমার সাথে মুর্তজার ভাইয়ের দূরুত্ত ধীরে ধীরে বাড়ছিলো। আমারো ত্যাগ স্বীকার করার লিমিটের মধ্যে ‘পয়েন্ট অফ নো রিটার্ন” এ চলে আসছিলাম।

পয়েন্ট অফ নো রিটার্ন শুরু

(ক)      গত ৪ এপ্রিল ২০২৪ তারিখে মুর্তজা ভাই আবারো সেই ৬% সেয়ারের কথা আমার কাছে এসে উত্থাপন করলেন। এবার সত্যিই আমি আর সহ্য করতে পারিনি। আমি তার সাথে খুব জোরাল সুরেই রাগ করে বললাম যে, আমি যেহেতু রিভার সাইড থেকে ১ কোটি ৭০ লক্ষ টাকা পাই, সেই টাকা ধরলে আমার শেয়ার ট্রান্সফার করার কথাই আসে না, তাহলে বারবার উনি সেই একই কথা কেনো বলছেন? আমি খুব রাগারাগি করি এবং এক সময় বলি যে, আমি রিভার সাইডে কোনো শেয়ার নিয়েই থাকবো না, সব শেয়ার আমি মুর্তজা সাহেবকে দিয়ে দেবো, আমার শেয়ারের টাকা পরিশোধ করে আপ্নারা স্বামী স্ত্রী রিভার সাইড চালান, দেখি আপ্নারা এই ফ্যাক্টরী চালাইতে পারেন কিনা। আমি থাকবো না রিভার সাইডে। রাগারাগি করে আমি ফ্যাক্তরী থেকে বেরিয়ে আসি।

ব্যাপারটা আসলে যেনো সকল পরিবর্তন আর সকল মোরচার শুরু।

এখানে ছোট একটা অন্য কাহিনী না বললেই নয়।

আমার সাথে যখন মুর্তজা ভাই এরুপ উলটাপালটা যাচ্ছেতাই ব্যবহার করা শুরু করছিলেন অথবা আগের মতোই যখন তিনি মনে করছে যে, তিনি যা চাবেন সেটাই হবে, আর অন্য কার কোন মতামত বা চয়েজ নাই বা থাকলেও তার কিছুই যায় আসে ন, ঠিক সে সময়ে জরীফ মুর্তজা ভাইয়ের উপর এতোটাই নাখোস হচ্ছিলো মুর্তজা ভাইয়ের কিছু জরীফের উপর আচরনে যে, এবার জরীফ স্টিম

(১)      ৬% শেয়ার ট্র্যান্সফারের ইতিহাস থেকে ঘটনা শুরু।

(২)      ভাবীকে ১৫% শেয়ার দিয়ে বেতন নেয়া। অথচ ভাবী কখনই অফিস করেন না।

(৩)     এ জেড ফ্যাক্টরীর সব মেশিনারিজ রিভার সাইডের হওয়া সত্তেও প্রতি মাসে প্রথমে আরাই লাখ পরবর্তীতে ভাবীর বেতন চালু হবার পর ১ লাখ করে এস্টিমেটেড প্রোফিট নেয়া।

(৪)      ২২ ফ্রেস যদিও কোনো সুয়েটার করে না, তারা করে নিট বা ওভেন। সেই নিট ওভেনের এল সি, টাকা দেয়া হয় সব রিভার সাইড থেকে। কিন্তু এর কমিশন নেন শুধু তিনি একা।

(৫)     জীপ ০৬৩৩ টা সম্পুর্নই রিভার সাইডের টাকায় ক্রয় করা। তাহলে আমি যখন কিনলাম, সেটা উনি টাকা নিলেন কেনো?

(৬)     আন নূর এপারেলস লিমিটেড শুধু মাত্র একটা পেপার সর্বস্ব কোম্পানী। এর কোনো মেশিনারিজ নাই। কিন্তু উক্ত মেশিন সমেতে উনি ফ্যাক্টরী চালানর পরিকল্পনায় কেনো আন নুরের শেয়ার চাইলেন?

(৭)      উনার গাজিপুরের বিল্ডিং বানানর নিমিত্তে প্রথমে উনি পার্সোনাল ড্রয়িং হিসাবে লোন নিয়েছেন। কিন্তু হতাত করে কথা নাই বার্তা নাই, পুরু ১ কোটি ২০ লাখ টাকা উই বিল্ডিং এর এডভান্স হিসাবে একাউন্টকে নির্দেশনা দিয়ে দিলেন যেন এটা ওনার পার্সোনাল লোন আকারে না থাকে। কেনো?

(৮)     মামুনকে সাড়ে বারো লাখ টাকার সুতা আমরা বিক্রি করেছি। কিন্তু মামুন সেই সুতার টাকা না দিয়ে সে তার মতো করে মাল বানাইয়া পরে টাকা দিবে, এটা কেনো হবে?

(৯)     মামুনের ওখানে মোট মেশিন আছে (লিংকিং) ৩৪২ টা, আমরা সব কিছুর খরচ বহন করি, পেটি ক্যাশ, মামুনের ৫০ হাজার টাকা সেলারী, কারেন্ট বিল, বিল্ডিং ভাড়া, শ্রমিকের সেলারী, ফিক্সড সেলারি এবং প্রোডাকশন সেলারিও। অথচ সেখানে মাত্র ৩০ টা মেশিন চলে। এর মধ্যে ২০ টা মেশিন চলে কন্ট্রাক্টে। মাত্র ১০ টা মেশিন চলে পার্মানেন্ট শ্রমিক দিয়ে। অথচ উনি এ ব্যাপারে কিছুই বলেন না। শুধু মামুনকে রিহেবিলেট করার জন্য রিভার সাইড এতো লস করবে কেনো/

(১০)    মিজান এক্সেসরিজের ব্যবসা করে। দাম নেয় প্রায় কখনো দ্বিগুণ, কখনো চার গুন। উদাহরন দেই,

একটা ব্যাক বোর্ডের দাম বাজারে পাওয়া যায় মাত্র ২.৬৫ করে, কিন্তু মিজান বিল করে ৪.৭৫ করে। মিজান প্রতি ব্যাক বোর্ডে লাভ করে প্রায় ২.১০ পয়সা করে। আমাদের ফ্যাক্টরীতে এই ব্যাক বোর্দ লাগে মাসে প্রায় আরাই লাখ পিস। মানে শুধু ব্যাক বোর্ড থেকেই মিজান কোনো ইনভেষ্টমেন্ট না করে লাভ করে মাসে ৫ লাখ টাকা।

টিস্যু পেপারের দাম বাইরে প্রতি রীম ৭৮ টাকা করে। অথচ মিজান এর দাম নেয় ১৮২ টাকা। প্রায় ৫০০ রিম টিস্যু পেপার লাগে রিভার সাইডে। এসব মাল কিনার জন্য আমরা ওকে এডভান্স টাকা দেই, আমাদের গাড়ি ইউজ করে, মিজান শুধু ফোনে বলে দেয় সাপ্লাইয়ারকে। মধ্যখানে মিজান প্রতিমাসে কম করে হলেও ১০ লাখ টাকা লাভ করে এ জেড এক্সেসরিজ দিয়ে।

সাধারন প্রিন্টিং রীম কাগজের দাম বাইরে ৩৯৫ টাকা থেকে ৪০০ টাকা। মিজান এবং তার দুলাভাই নেসারের কোম্পানী প্রতি রীম কাগজের দাম নেয় ৬৫০ টাকা।

এসব ব্যাপারে উনি নির্বিকার।

(১১)    ওনার বড় ভাই ক্যামিকেল সাপ্লাই দেয়, ওনার দুলাভাই (এন এন ট্রেডার্স) অন্যান্য মাল সাপ্লাই দেয়, মিজান ফ্যাক্তরির প্রোডাকপ্সহন রিলেটেড এক্সেসরিজ সাপ্লাই দেয়। হরিলুটের মতো অবস্থা।

(১২)   আমি একটা ছেলেকে (বাঙলা কলেজের এক প্রফেসর নাম শরিফুল এর ছোট ভাই) আমাদের স্টোরে নিয়োগ দিতে চেয়েছিলাম, কিন্তু উনি ওই ছেলের অভিজ্ঞতা আছে কিনা, কোথায় কতদিন কাজ করেছে এসব বাহানা দিয়ে তাকে আর নেয়াই হয় নাই। পরবর্তিতে মিজানের এ-জেড এক্সেসরিজে ২০ হাজার তাকার সেলারি দিতে গেলে মিজান এগ্রি করে বটে কিন্তু প্রথম দিন মিজান তাকে যে ব্রীফটা করেছিলো সেটা মারাত্তক নেগেটিভ থাকায় ওই ছেলে আর আসেই নাই। অন্যদিকে ঊনার পরিবারের কম পক্ষে ২০ জন আনাড়ি আত্তীয়কে উনি এই ফ্যাক্তরিতে নিয়োগ দিয়ে কাজ শিখিয়ে নিয়েছেন। উনি শুধু আমার বেলায় কাউকে ছাড় দিতে নারাজ।

(১৩)   গত ২০২০/২১ সালে লেফট ওভার বিক্রি হয়েছিলো এক কোটি ২ লাখ টাকা। এতার ব্যাপারে কখনোই উনি আমার সাথে পরামরত্রশ করেন নাই। যখন কে কত ড্র করেছি এটা নিয়ে ঝামেলা হলো, তখন আমি জানতে পারলাম যে, উনি এক কোটি ২ লাখ টাকা নিজের জন্য ব্যবহার করেছেন। কত কে কখন টাকা ড্র করেছি, এটার হিসাব না ধরলে হয়তো আমি বুঝতেই পারতাম না যে, এই এক কোটি ২ লাখ টাকা উনি নিজের জন্য ব্যবহার করেছে। কিন্তু সেটা ড্রিং হিসাবে কোথাও উল্লেখ করেন নাই।

(১৪)    স্টাইল ট্যক্সের সাথেও আমার ধারন এমন একটা কমিশন বানিজ্য চলছে উনার। এতো কাল যাবত স্টাইল ট্যাক্সের জাকির সাহেব তার কমিশনের টাকা সেফ রাখার নিমিত্তে আমাদের কাছে কখনোই টাকা আলাদা করে গচ্ছিত রাখেন নাই। হটাত করে গত বছর এক কোটি ত্রিশ লাখ টাকা আমাদের একাউন্টে জমা রাখেন। যদিও পরবর্তীতে জাকির ভাইয়ের নাম দিয়ে উনি দুই পর্বে টাকাটা তুলে নিয়ে গেছেন। আর এই টাকাটা উনি কোথায় খরচ করেছেন সেই তথ্যটা আমার কাছে এসছিলো বিধায় আমার সন্দেহ হয় এটা আসলে জাকিরের টাকা না, এটা ওনার নিজের কমিশনের টাকা। এটা কেন করতে হবে?

(১৫)  

৬/৩/২০২৪-পৃথিবীতে যা কিছু আছে সব কিছু সুন্দর।

পৃথিবীতে যা কিছু আছে সব কিছু সুন্দর। ছোট কুকুরের বাচ্চা সুন্দর, একটা মাতাল লোক যখন আবেগে কথা বলে তা শুনতে সুন্দর, রাগের বশে যখন কোনো বৃদ্ধ মানুষ অস্থির আচরন করে তাও সুন্দর। কিংবা কেউ যখন মনের কষ্টে অশ্রু বিসর্জন দেয় সেটাও সুন্দর। সুন্দর শুধু চাঁদ, নীল আকাশ, পাহাড় পর্বত কিংবা সমুদ্রই না। প্রতিটি জিনিষ যা দেখতে পাই যদি খুব মনোযোগ সহকারে দেখি, তখন মনে হয় এতো অল্প সময় নিয়ে কেনো যে এই পৃথিবীতে আসলাম।

এতো সুন্দরের মাঝে অধিক সুন্দর লাগে যখন আমি তোমাকে একেবারে চোখের সাথে তোমার চোখ মেখে তোমাকে দেখি। দেখি যখন তোমার অভ্রু, তোমার শায়িত নাক কিংবা তোমার মুখবদনটা। খুব মায়া লাগে। খুব আদর করতে ইচ্ছে করে। তোমাকে আমি চুমুতে চুমুতে সব জায়গায় এমনভাবে আদর করি, আমি শান্ত হয়ে যাই, অশান্ত হয়ে যাই। তখন আমার খুব জানতে ইচ্ছে করে, প্রশ্ন জাগে কেনো তুমি এতো অবহেলিত হয়ে এতোদিন এতো অনাদরে বেড়ে উঠেছো? কেউ কি তোমাকে আদর করে কাছে নিয়ে বলতে পারতো না কি চাই তোমার? কিসে তোমার হাসি ফুটে? অথবা কেনো তুমি এতোটাই অগোছালো ছিলে? কেউ কি ছিলো না তোমাকে বলার তুমি কে, তুমি কি, তোমার কি ক্ষমতা ছিলো? যেখানেই গেছো, সেখানেই মানুষ তোমাকে ব্যবহার করেছে। ব্যবহার করেছে তোমার বাবা, তোমার মা, তোমার স্বামী, তোমার গ্রাম। কেউ তোমার খারাপ হয়তো চায়নি, কিন্তু কেউ তোমাকে দয়া করেনি। কিন্তু করতে পারতো। তোমার বাবা তোমাকে দয়া করতে পারতো, তোমার গ্রাম তমাকে দয়া করতে পারতো, তোমার সামী তোমাকে আদরে আদরে সব কষ্ট মুছে দিতে পারত। কিন্তু কেউ করেনি।

এটা যখন ভাবি, তখন তোমাকে আর কোথাও যেতে যেতে ইচ্ছে করে না। আবার কে তোমাকে কিভাবে রাখবে, কতটুকু অবহেলা দিবে, আদৌ কেউ তোমাকে আদর করবে কিনা কে জানে?

আমি তোমার সব সময় ভালো চাই। এই পৃথিবীতে আমার থেকে তোমাকে কেউ বেশি ভালোবাসে কিংবা কেউ তোমার জন্য ত্যাগ কিছু করবে, এটা যদি সে আমাকে তার মাথা কেটেও এসে প্রমান করতে চায়, আমি সেটা কখনো বিশ্বাস করবো না।

২৪/২/২০২৪-১৯৯০ থেকে শুরু করে ১৯৯৮ সাল অবধি আমেরিকা

১৯৯০ থেকে শুরু করে ১৯৯৮ সাল অবধি আমেরিকা মোট ২০ থেকে ২৫টি দেশকে নিষেধাজ্ঞা প্রদান করেছে। এর মধ্যে আছে আফগানিস্থান, বলকান্স, বেলারুশ, বার্মা, সেন্ট্রাল আফ্রিকান রিপাবলিক, কংগো, ইথিওপিয়া, হংকং, ইরান, ইরাক, সুদান, লেবানন, লিবিয়া, মালি, নিকারাগুয়া, নর্থ কোরিয়া, রাশিয়া, সোমালিয়া, সাউথ সুদান, সিরিয়া, ভেনিজুয়েলা, ইয়েমেন, জাম্বিয়া এবং ইউক্রেন/রাশিয়ান, বুরুন্ডি, কিউবা, চীনের বহুজাতীক কিছু আন্তর্জাতীক কোম্পানী, আংশিক তুরুষ্ক এবং আরো অনেকে।

এখন প্রশ্ন হচ্ছে-ক্রমাগত এভাবে নিষেধাজ্ঞা পাওয়া দেশগুলি যেহেতু পশ্চিমা দেশগুলির সাথে সামগ্রিক ব্যবসা বানিজ্য করতে পারে না, এর মানে হলো তারা আরো মাল্টিপ্যাল অপসনের সুযোগ পায় হয় নিষেধাজ্ঞা প্রাপ্ত দেশগুলি এক হয়ে কাজ করার তাগিদে অথবা তার সাথে পৃথিবীর অন্যান্য অবশিষ্ঠ দেশগুলির সাথে কাজ করার মাধ্যমে। অন্যঅর্থে এই নিষেধাজ্ঞা প্রাপ্ত দেশগুলিকে নিষেধাজ্ঞা দেয়া মানে যারা দিচ্ছে তারাও প্রকারান্তে নিজেরাই নিষেধাজ্ঞার আওতায় পড়ে যাচ্ছে। এভাবে ক্রমাগত সবাইকে একঘরে করে দেয়ার ফলে কোনো এক সময় পশ্চিমারা নিজেরাই সারা দুনিয়া থেকে একঘরে হয়ে যেতে পারে বলে অনেকে মনে করেন অর্থাৎ তাদের সাথে অন্যরা আর কেউ কোন প্রকার দিপাক্ষীয় কার্যক্রম করবে না। এতে কি পশ্চিমাদের লাভ হবে নাকি ক্ষতি?

রাশিয়া যদিও ইউরোপের একটা অংশ কিন্তু সে আবার এশিয়া বা সাউথ ইষ্ট এশিয়ার সাথে তার ভৌগোলিক সম্পৃক্ততা, কালচারাল সম্পৃক্ততা, ব্যবসায়িক লেনদেন (বিশেষ করে ভারত, চীন মায়ানমার ইত্যাদি দেশের সাথে) ইউরোপের থেকেও অনেক বেশী। যার ফলে রাশিয়া এই ইউরোপ ছাড়াও চলতে পারবে যা ইউরোপ কখনো রাশিয়াকে ছাড়া চলা সম্ভব না। রাশিয়ার রিসোর্স সব দিক দিয়ে এতো বেশী যে,সব কমোডিটিতেই রাশিয়া পৃথিবীর অন্যান্য দেশের জন্য গড়ে প্রায় ২৫% জোগানদাতা। হোক সেটা ইউরেনিয়াম, হোক সেটা তেল-গ্যাস, হোক সেটা লৌহ, কিংবা ফুড কমোডিটিজ। রাশিয়ার কমোডিটিজ যদি ইউরোপ না পায়, তাহলে রাশিয়ার সেই একই কমোডিটিজ ভায়া হয়ে অন্য রাষ্ট্র থেকে কিনতে ইউরোপকে প্রায় ৩ গুন দাম দিতে হয় যার ফলে বর্তমানে ইউরোপের অর্থনীতি প্রতিযোগিতামূলক মার্কেটে প্রায় ভঙ্গুর পর্যায়ে  পৌঁছে গেছে।

ইউরোপের এবং পশ্চিমা নেতাদের মধ্যে শুভবুদ্ধির উদয় যদি এখনো না হয়, তাহলে ইউরোপিয়ান লিডার জোসেফ বোরেলের মন্তব্য করা “ইউরোপ হচ্ছে গার্ডেন আর ইউরোপ ছাড়া অন্যান্য সবাই হচ্ছে জংলী” এই ধারনা অচিরেই উলটো হয়ে যাবে।

২৩/২/২০২৪-সপরিবারে ওমরা করার পরিকল্পনা

উম্মিকার বিয়ে হয়েছে সবেমাত্র এক মাস ২২ দিন। সবাই থাইল্যান্ডে যাওয়ার একটা পরিকল্পনা করেছিলাম। তো, গত পরশুদিন উম্মিকা আর আবির বাসায় আসার পর রাতে খেতে খেতে বললাম, থাইল্যান্ডে গেলেও মুটামুটি প্রায় ৪/৫ লাখ টাকা খরচ হবে। আর থাইল্যান্ডে গিয়ে হয়তো কিছু দর্শনীয় স্থান দেখা ছাড়া আর কিছুই নাই। তার থেকে যদি এমনটা হয় যে, আরো কিছু খরচ যোগ করে আমরা সপরিবারে ওমরা করতে যাই, সেটা ভালো না?

ওরা দুজনেই শীঘ্রই বেবি নেয়ার চিন্তা করছে, তাই বললাম, চল, আল্লাহর ঘরে যাই, ওখান থেকে একটা নিয়ত করে আসি এবং তোমরাও আল্লাহর ঘরটা দেখে আসো। তা ছাড়া রোজার মাস। এম্নিতেই এক রাকাত নামাজ মক্কায় পড়লে ১ লাখ গুন বেশি সওয়াব, যেহেতু রোজার শেষ ১০ দিন পরিকল্পনা করছি, ইনশাল্লাহ শবে কদর পাবই। আর সেই শবে কদরের রাত হাজার রজনীর সমান। এমন একটা বরকত্ময় প্রোফিট কেনো নিবো না?

সবাই রাজী হয়ে গেলো। আলহামদুলিল্লাহ। কনিকাকে আমেরিকা থেকে আসতে বলেছিলাম, কিন্তু ওর ক্লাস চলছে, মিস করতে পারবে না। তাই কনিকার যাওয়া হলো না। আগামীকাল শনিবার ইনশাল্লাহ ওমরার প্যাকেজটা ফাইনাল করে ফেলতে চাচ্ছি। বাকিটা আল্লাহর ইচ্ছা।

২০/২/২০২৪-আজ আমার মৃত্যু বার্ষিকী

আজ আমার মৃত্যু বার্ষিকী। কথাটা কেমন অদ্ভুত না? আমি এখনো জীবিত কিন্তু আমি আমার মৃত্যুবার্ষিকী নিয়ে কথা বলছি। কথাটা বলার একটা বিশাল কারন রয়েছে।

দাদার অথবা দাদার বাবার কিংবা তাদেরও দাদাদের মৃত্যু বার্ষিকী এখন আর আমরা কেউ ঘটা করে পালন করিনা। বাবার অথবা খুব বেশী হলে দাদার মৃত্যু বার্ষিকী হয়তো এখনো এই জেনারেশন কিছুটা হলেও পালন করে কিন্তু তাদের পূর্বসূরীদের বেলায় এটা প্রায় ঘটেই না। একটা নির্দিষ্ট সময় পর্যন্ত একটা জেনারেশন কিছুটা অতীতের হারানো প্রিয় মানুষগুলির জন্য কিছুটা মনে করার তাগিদেই হয়তো সমাগম হয় কিন্তু সেটাও একদিন ফেকাশে হয়ে যায়। আমিও একদিন আমার উত্তরসুরীদের কাছে জেনারেশন থেকে জেনারেশনের পর পুরুই ফেকাসে হয়ে যাবো, এটাই চিরন্তত সত্য। এটা কাউকে দোষারুপ করার মতো কোন কারন নাই। সেদিন হয়তো আর কেউ এটাও বলবে না যে, আজ আমার দাদার দাদার বাবার অর্থাৎ আমার মৃত্যু বার্ষিকী। হয়তো তখনো কারো না কারো দোয়ার মাধ্যমে কোনো না কোনো সাহাজ্য আমার দরকার। কিন্তু তখন কেউ আমাকে মনেই রাখে নাই, দোয়া করবেই বা কে? যেমন মনে রাখি নাই আমিও আমার সেই দাদার দাদার বাবাকে।

আমার মৃত্যুর আগে আমি কত ব্যস্ত ছিলাম, আমাকে ছাড়া হয়তো অনেকের চলতোই না। হয়তোবা এমন হয়েছে, আমি না থাকলে কার কি হবে এই চিন্তাতেই অনেকে অসুস্থ্য হয়ে যেতো, কেউ হতাশ হয়ে যেতো, কেউবা ‘কি যে হবে ভাবতেই পারছিনা’ এমন বাক্যও উচ্চারন করত। অথচ দেখুন, আজ আমি সত্যিই নাই, কিন্তু কারো অফিসে যাওয়া বন্ধ হয় নাই, কারো হাত-বাজার করা বন্ধ হয় নাই, কার ঘুম নষত হয় নাই, সুর্য ঠিকই পুর্ব দিকে যথাসময়ে উদিত হয় ঠিক আগের সময়েই পশ্চিমে অস্ত চলে যাচ্ছে। আকাশের রঙ পালটায় নাই, পাহাড়ের কোনো একতা গাছঅ তার ক্রমবর্ধমান বৃদ্ধিতে ক্ষান্ত হয় নাই, কন ঋতুর পরিবর্তন হয় নাই। শুধু পরিবর্তনটা হয়েছে আমার। আমি শুধু সেখানে নাই।

অনেক বছর বাচতে ইচ্ছে করে।

মৃত্যুকে আমি ভয় পাই।

মৃত্যু থেকে একা থাকা ভাল।

২/২/২০২৪-মৃত্যুর সাথে জীবনের কন্ট্রাক্ট

সরগমের সাতটা সুরের মধ্যে যদি একটি সুরও ভুল হয় কিংবা নাচের পদক্ষেপেও যদি একটি পদক্ষেপ ভুল হয়, তাহলে গানের তাল, লয় যেমন বিগড়ে যায় আর গান বেসুরু হয়ে পড়ে, তখন গান তো দূরের কথা শোনাও দুরুহ হয়ে উঠে। আর নাচের পদক্ষেপে যখন ভুল হয় তখন মানুষ হোচট খেয়ে মুখ থুবরে মাটিতে পড়ে যায়। তখন অনেকেই নিজের মানুষদের কাছ থেকে নিজেই হারিয়ে যায়, এবং অনেক সময় চিরতরেই হারিয়ে যায়।

আমি অনেক ভেবেচিন্তে এখন সুর তুলি, অনেক চর্চায় পদক্ষেপ ফেলি। কোথাও কোনো ছোট ভুল আমার পরিবারকে হয়তো সুরক্ষা থেকে বঞ্চিত করবে, কেউ না কেউ আমার জীবন থেকে হারিয়েও যেতে পারে এই আশংকায় আমি সব সময় সীমার মধ্যে পা আর লয়ের মধ্যে সুর তুলি।

বয়স হয়ে যাচ্ছে, বয়স কমে যাচ্ছে আমাদের সবার। অর্থাৎ বেচে থাকার বয়স কমে যাচ্ছে। আমি জানি মৃত্যুর সাথে জীবনের একটা সম্পর্ক আছে, একটা কন্ট্রাক্ত আছে। প্রত্যেক কন্ট্রাক্টেরই একতা মেয়াদোত্তির্ন তারিখ থাকে। মৃত্যুর সাথে জীবনেরও সে রকমের একটা কন্ট্রাক্ট। ম্রিত্যু জীবনকে নিয়ে যাবেই। আর সেটা কন্ত্রাক্টের মধ্যেই হতে হয়। কিন্তু মানুষ মাঝে মাঝে এতোটাই হিংস্র আর দাপুটে হয়ে উঠে যে, তারা সেই ন্যাচারাল কন্ট্রাক্তকে উপড়ে ফেলে সব কিছু তছনছ করে ফেলে। মৃত্যু তখন নিজ থেকে আসে না, তাকে ডেকে আনা হয়। আমি সেই অঘটনকে সব সময় ভয় পাই। মৃত্যুকে নয়, ভয় পাই সেই সব মানুষকে। তাই আমি সর্বদা এটা ভাবি, কোনটা স্বাভাবিক নয় আর কোনটা অস্বাভাবিক।

একটা কথা সব সময়ই ঠিক যে, জীবন দাবার বোর্ড হোক বা না হোক, এটা একতা জটিল রহস্য। কিন্তু মজার ব্যাপার হলো, এই জটিল জীবনের সব রহস্য আমাদের সবার চোখের সামনেই থাকে, সব তথ্য সবার সামনেই পরিপূর্ন থাকে। কেউ আমরা সেটা দেখতে পাই, কেউ পাই না। কেউ মিথ্যাকে আশ্রয় করে ঘুরপাক খায় আবার কেউ সত্যের সন্ধ্যানে ঘুরপাক খায়। কিন্তু সচেতন মন সব সময় সতর্ক করে বটে কিন্তু সত্য আর মিথ্যা এমনভাবে সমান্তরাল্ভাবে চলে যে, তাদের রঙ, তাদের গতি কখনো কখনো আমাদেরকে উলটা পথে ধাবিত করে। আমাদের সচেতন মন থেকে যা সাড়া পাওয়া যায় তাকে প্রাধান্য দিলে হয়তো কিছুটা সহজ হতে পারে কিন্তু সেটা আমরা সব সময় পারিনা। কথায় বলে দেয়ালেরও কান আছে আর আকাশ সব দেখতে পায়। তাই আমি দেয়াল কি বলে আর আকাশ কি দেখে সেখানে আশ্রয় নেই। কারন জীবন আলো এবং অন্ধকারের মধ্য দিয়ে চলা একটা রাস্তা। এখানে সত্যও আছে, মিথ্যেও আছে, সুন্দর আছে আবার কুৎসিতও আছে।

তাই এই জটিল রহস্য থেকে মুক্ত থাকার সবচেয়ে বড় সহজ পন্থা, সব কিছুকে আমলে নেয়া কিন্তু সব কিছুতেই সায় না দেয়া।

জীবনের থেকে সুন্দর আর কিছুই নাই।

১/২/২০২৪-রিভার সাইডের বার্ষিক বনভোজন

প্রতি বছরই আমাদের রিভার সাইডের বনভোজন হয়, এবারো হলো। এবার প্রথমে আমাদের ভ্যানু নির্ধারিত ছিলো গাজীপুর অর্ডন্যান্স ফ্যাক্টরীর গলফ ক্লাবে। কিন্তু অর্ডন্যান্স ফ্যাক্টরীতে কোনো এক হোমরা চোমরা অফিসার পরিদর্শনে আসবে বলে আমাদের ভ্যান্যু বাতিল করা হয়েছে। কি আর করা। আমাদের বনভোজনের ভ্যান্যু অগত্যা পরিবর্তন করতে হলো। চলে গেলো ডঃ ইউনুসের “নিসর্গ গ্রামীন টেলিকম ট্রাষ্ট” রিজোর্টে।

এবারই প্রথম উম্মিকা এবং তাঁর হাজবেন্ড একসাথে আমাদের সাথে রিভার সাইডের পিকনিকে যোগ দিলো। আজই উম্মিকার এবং আবিরের বিয়ের এক মাস পুর্ন হলো। ভ্যানুতে যেতে যেতে আমার প্রায় দুটূ বেজে গিয়েছিলো। প্রায় ১৭০০ লোকের আয়োজন।

র‍্যাফেল ড্র টা হলো না কারন এর মধ্যে আকাশের অবস্থা বেশ খারাপ হয়ে গিয়েছিলো, বৃষ্টিও শুরু হয়েছিলো। বিকাল ৪ তাঁর দিকে বনভোজন সমাপ্তি ঘোষনা করতে বাধ্য হয়েছিলাম।

১৯/১/২০২৪-প্রিথিবীটা অদ্ভুত সুন্দর

মাঝে মাঝেই আমার খুব আফসোস হয় কেনো এতো ছোট একটা আয়ুষ্কাল দিয়ে ঈশ্বর আমাদেরকে এমন সুন্দর একটা পৃথিবীতে পাঠিয়েছেন। জানি উদ্দেশ্য আছে ঈশ্বরের কিন্তু সেটাতে কি হাজার বছরের আয়ুষ্কাল আমার হতে পারতো না? কতই না অদেখা সুন্দর জিনিষ না দেখে আমাদেরকে এই পৃথিবী ছেড়ে চলে যেতে হবে। পাহাড়ের সেই গহীন জংগলে কি অদ্ভুত সউন্দর্য্য লুকিয়ে রেখেছে, কে জানে, গভীর সমুদ্রের ভিতরে কারা কিভাবে বাস করে, সেটাও তো সব জানা হলো না। তাদের সেই সাম্রাজ্য, আইন কানুন, ভালোবাসা কি কিংবা আকাশের মহাশুন্যে কতই না সৃষ্টি সবই তো আমাদের নজরের বাইরে রয়ে গেলো, এর কিছুই দেখা হলো না। শুধু তাইই নয়, যতটুকু জেনেছি, আমরা যে সৌরজগতটায় বসবাস করি, সেই মিল্কীওয়ে ছায়াপথে আমাদের গ্যালাক্সির মতো আরো দুই কোটি লক্ষ নাকি গ্যালাক্সী আছে। আর সেই প্রতিটি মিল্কীওয়ে গ্যালাক্সিতে নাকি প্রায় চারশত বিলিয়ন নক্ষত্র বিদ্যমান। লক্ষ লক্ষ কোটি গ্যালাক্সির ভেতর একটি গ্যালাক্সির লক্ষ লক্ষ কোটির নক্ষত্রের ভেতর মিডিয়াম সাইজের একটা নক্ষত্র সূর্যের একটা সাধারণ গ্রহে ঘটনা চক্রে আমার জন্ম। তাহলে সেসব লুকানো সউন্দর্য কার জন্য ঈশ্বর সাজিয়ে রেখেছেন? কেইবা দেখছে সেসব অনাবিষ্কৃত রহস্য? সেসব না দেখেই আমাকে একদিন এই প্রিথিবী ছেড়ে চলে যেতে হবে। ছোট এই পৃথিবীর সব ভালো আর সব খারাপের বস্তুগুলিও একে একে দেখা হলো না। আর সেই মহাসমুদ্রের গ্যালাক্সিই বা কি আর সমুদ্রের তলদেশের সাম্রাজ্যই বা কি, কিছুই আমার জন্যে হয়তো ঈশ্বর দেখার অনুমতি দেন নাই। তাহলে কার জন্যে সেসব সৃষ্টি? হয়তো আমরাই তাঁর কাছে সব না। হয়তো বা আমাদের এই জগত ছেড়ে যাবার পরেও অন্য কোনো জায়গায় স্থানাতর হতে পারে যা আমরা জানি না, কেউ তো আর ফিরে এসে বলেও যায়নি। অথচ এই ছোট একতা জীবনে মানুষ তাদের নিজের সার্থের জন্য কত মারামারি কাটাকাটি দূর্নীতি, কত যে অসম, বৈষম্য প্রতিযোগিটা করে তাঁর কোনো ইয়াত্তা নাই।

ছোট একটা ডলফিন যখন তার থেকেও অনেক ছোট একটা মানুষের সাথে জলের ভিতর খেলা করে, বন্য কুকুরেরা যখন মানুষের বশ মেনে সব কথা শুনে, বাঘেরা যখন মানুষের পিছে পিছে হেটে হেটে তার সব হিংস্রতা একপাশে রেখে মানুষের সাথে খেলা করে, তখন কেনো জানি মনে হয়, কোথাও একটা কমন সম্পর্ক আছে আমাদের সব প্রানিদের মধ্যে। মানুষ যখন মানুষের শত্রু হয়ে যায়, সেখানে তাদের ভাষা এক, জাতী এক, দেশ এক অথচ একে অপরের উপর কতই না হিংস্রতা, অথচ বাঘের সাথে, ডলফিনের সাথে, হাংগরের সাথে এই মানুষেরই আবার নিসশর্ত বন্ধুত্ব হয়ে উঠে অথচ তাদের না ভাষা এক, না জাতী এক কিংবা না অভ্যাস এক। ব্যাপারটা অদ্ভুত না?

ব্যাপারটা আসলে অদ্ভুত না।

এই ব্যাপারটা ঘটে শুধুমাত্র একটা ন্যাচারাল কারনে। সেটা ভালোবাসা আর আনুগত্য। ভালোবাসার থেকে মারাত্মক কোনো অস্ত্র এই পৃথিবীতে আর কিছু নাই। সব প্রানী এই ভালোবাসা বুঝে, সব প্রানী ঘৃণা বুঝে, সব প্রানীর মধ্যে মমত্ববোধ এবং সার্থপরতা সমানভাবে বিদ্যমান। এই একটি কারনেই সব প্রানীরা একে অপরের কাছে বা দূরে সরে যায় অথবা একে অপরের উপর ভরষা হারায়।  আরআনুগত্য? আনুগত্য পাহাড়ের চেয়ে ভারী এবং সর্ববৃহৎ দড়ির চেয়ে দীর্ঘ একটি শব্দ.. এর অর্থ নানাবিধ :  ত্যাগ, আন্তরিকতা, দান,  ভালবাসা……..আরো অনেক কিছু।

আবার ঠিক এর উল্টোপিঠে সমানভাবে রয়েছে এতোটাই হিংস্রতা যা আমাদের ছোট এ জীবনের অন্তরে সব হিন্স্রতা সহ্য করার মতোও নয়। আমরা জীবন্ত মানুষকে চোখের সামনে হাতপা বেধে পুড়িয়ে ফেলি, ছোট ছোট ভুলের জন্য আমরা মানুষকে পাথর দিয়ে জীবন্ত আঘাত করে করে ক্ষত বিক্ষত করে একেবারে মেরেই ফেলি। কারো মনে কোনো দয়ার উদ্রেক হয় না। স্মার্ট বোম্ব, কন্টিনেন্টাল মিজাইল, এয়ার ক্র্যাস, পেট্রোল বোম্ব সব কিছু দিয়ে একে অপরের উপর এমনভাবে আঘাত করি, তাদের আয়ু থাকা সত্তেও আর বেচে যাওয়ার কোনো পথ থাকে না। কেনো এত রাগ, কেনো এতো দন্দ বা কিসের কারনে আমরা এতো কিছু করি?

ম্রিত্যুর পর সবার আকার এক, না সেখানে প্রান থাকে না থাকে কোনো শক্তি বা বাহাদুরী। সবচেয়ে শক্তিধর যিনি দাপটে ছড়ি ঘুরিয়ে বেরিয়েছন এই মেঠোপথে, অভনব কায়দায় বসেছেন সিঙ্ঘাসনে, তিনিও যা আর যাকে তিনি অত্যাচারে ছিন্নভিন্ন করে প্রান নাশ করেছে তার অবস্থাও তা। যদি কোনো কিছুই স্থায়ী করে নিজের করে রাখা না যায় তাহলে এতোসবের কি দরকার?

তারপরেও আমাদের মতো মানুষদের হোশ হয় না, জীবনের পরে মৃত্যুর কথা মনে পড়ে না, ক্ষমতা আর প্রতাপ দিয়েই চলি সবার চোখের সামনে।

১৮/১/২০২৪-আমি গুছিয়ে নিচ্ছি সব

আমি গুছিয়ে নিচ্ছি সব। আমি আমার চাহিদার সীমানা এতোটাই ছোট করে ফেলার চেষ্টা করছি যে, সেই সীমানায় থেকে যেনো আমি আমার বাকী সময়টা নিজের নিয়ন্ত্রনে রাখতে পারি। এই মাষ্টার প্ল্যানের অংশ হিসাবে আমি আমার যাবতীয় সব জমি জমা বিক্রি করে দেয়া শুরু করেছি। আমি জানি এক সময় এই জমিগুলির মুল্য এতোটাই বেশি হবে, তখন যে কেউ শুনলে আমাকে বোকাই মনে করবে এই কারনে যে, কেনো আমি জমিগুলি বিক্রি করেছিলাম।

আমি আমার বাবার অগিজ্ঞতা থেকে শিখেছি যে, ভালো যোগ্য উত্তরসূরী না থাকলে কোন সম্পদ বা সম্পত্তিই নিজেদের নিয়ন্ত্রনে রাখা সম্ভব না। পেশি শক্তি লাগে, তার সাথে লাগে অর্থ, লাগে কানেকশন, লাগে সমাজে প্রতিষ্ঠা। আমার যেহেতু দুই মেয়ে, ফলে ওরা যতোই পেশি শক্তি ওয়ালা থাকুক, যতোই অর্থ থাকুক, যতোই সামাজিক যোগ্যতা থাকুক, একজন মেয়ের পক্ষে তার বাবার সম্পত্তি রক্ষা করা কনোভাবেই সম্ভব না। বিশেষ করে যখন সম্পদ চারিদিকে ছড়িয়ে ছীটিয়ে থাকে। আমার বাবাও পারেন নাই। আমিও পারব না। তাই পরিকল্পনা এমনভাবে সাজিয়ে দিচ্ছি যাতে আমার মেয়েদের পক্ষে সেগুলি নিয়ন্ত্রন করা সম্ভব হয়। আমার নায় নাতকুরেরা হয়তো পারবে কিন্তু থার্ড জেনারেশনের উপর ভর করে নিজের কোন সম্পত্তিই রক্ষাকবচ হিসাবে রেখে যাওয়া সথিক নয়।

আর এই পরিকল্পনার পরিপ্রেক্ষিতে আমি আমার ছড়িয়ে থাকা জমিগুলি বিক্রি করে সেই অর্থ লিকুইড হিসাবে আমার জন্য সঞ্চয় করছি। যাতে বুড়ো বয়সে কারো কাছেই আমার হাত পাততে না হয়।

সাভারে ২টা ফ্ল্যাট কিনেছি দুই মেয়ের নামে। ওরা সেতেল হতে পারবে নিজেদের ফ্লাটে। মিরপুরের বাড়ি টা তো আছেই। আমার জীবদ্দশায় আমি এখান থেকে বিদায় হতে চাই। আমার বিদায়ের পর এটা ওদেরই থাকবে।

ব্যবসার ব্যাপারে এখন আর আমি হতাত লাফ দিয়ে উঠি না। নতুন কোনো ইনভেষ্টমেন্টে যেতে চাই না যতোক্ষন সেই ইনভেষ্টমেন্ট রক্ষার জন্য সুযোগ্য উত্তরসুরী না পাই। তাই আমি নতুন করে যেটা ভাবছি সেতা হলো-আবিরকে মাছের ব্যবসায় নিয়ে আসা। আবিরের বাবা মাছের ব্যবসার সাথে জড়িত, মনে হচ্ছে আবিরের বাবা মানুষ হিসাবে অতটা খারাপ না যতোটা আমি তাকে দেখার আগে ভেবেছিলাম। আবিরকে তার প্রফেশনের পাশাপাশি যদি মাছের ব্যবসার সাথে রাখতে পারি, আমার ধারনা, তার ২য় আরেকটা সোর্স অফ ইনকাম থাকবে। যদি আবির নষত না হয়ে যায়, ছেলেমেয়ে নিয়ে উম্মিকা আর আবির ভালোই থাকবে।

কনিকার জন্য আগামি আগস্ট ২০২৫ পর্যন্ত সব খরচ দেয়া আছে। ওকে নিয়ে আমার এই মুহুর্তে পড়াশুনা চালানোর ব্যাপারে কোন টেনশন নাই। বাকীটা কনিকা নিজে যদি আমেরিকায় সেটেল হতে পারে, তাহলে এই দেশে যা আছে, এক সময় কনিকাও তাকা নিতে পারবে এবং আমেরিকাতেই সেটেল হতে পারবে। বাকীটা ওরা জানে কিভাবে সেটেল হবে।

অরুর ব্যাপারে আমার পরিকল্পনা প্রায় শেষের পথে। ক্যাশ, জমি সব দেয়া হলো। এখন শুধু একটা স্থায়ী স্থাপনা করা যাতে যে কোন অবস্থায় সে নীরবে এবং শান্তিতে থাকতে পারে।

১৭/১/২০২৪-কনিকা আবার আমেরিকায় ব্যাক করে

গত বছরের (২০২৩) ২৫ ডিসেম্বর কনিকা আমেরিকা থেকে দেশে এসেছিলো উম্মিকার বিয়ে উপলক্ষে। আজ ওর আবার আমেরিকায় যাওয়ার দিন। সন্ধ্যা পৌনে আটটায় এমির‍্যাটসে ফ্লাইট। সময়টা ভালই কেটেছিলো এই কয়দিন। উম্মিকা এতোদিন বাসায় থাকতো, বিয়ের পর স্বামীর বাসায় থাকছে। পাশেঈ ওদের ভাড়া বাসা। মাত্র কয়েক মিনিটের রাস্তা। এতোদিন কনিকা ছিল, আজ চলে যাচ্ছে। থাকছি শুধু আমি আর আমার স্ত্রী মিটুল চৌধুরী।

জীবনের স্থায়িত্ব খুব কম এবং এর ধইর্ঘ আমাদের চাহিদার তুলনায় এতোটাই ছোট যে, আমরা ইচ্ছে করলেই আমাদের সব সপ্ন পুরন করতে পারিনা। সামর্থ থাকাটা বড় ব্যাপার না, সময়টা বড় ব্যাপার। এই সময়টা যেহেতু খুবই নগন্য, ফলে আমাদের চাহিদা হতে হবে তার থেকেও কম যাতে হোমওয়ার্ক করতে সুবিধা হয়।

৮/১/২০২৪-উম্মিকার বিয়ে এবং আমার বিশ্লেষণ

অনেকদিন আগেই লিখেছিলাম যে, আমি ধীরে ধীরে আমার জীবন নিয়ে গুছাচ্ছি। উম্মিকার বিয়েটাও আমার এই চলমান প্রক্রিয়ার একটা অংশ। কারন আমি ধীরে ধীরে দায়িত্ব ছেড়ে দিতে চাচ্ছি, সব কিছুর হিসাব কিতাব একেবারে নখের আগায় রাখতে চাচ্ছি যেনো মৃত্যু যেদিন আসবে সেদিন যেনো আমাকে এটা বলতে না হয়, অনেক কিছু করার বাকী ছিলো।

উম্মিকার আগেরবার বিয়েতে যদিও উম্মিকার পছন্দ মতোই ছেলেকে উম্মিকা আমাদের সামনে হাজির করেছিলো কিন্তু বিয়ের ঠিক আগে উম্মিকা সেই ছেলেটার সাথে বিবাহে রাজী ছিলো না। কিন্তু যেহেতু আমরা কথা দিয়ে ফেলেছিলাম, ফলে অনেকটা জোর করেই আমরা উম্মিকাকে অই ছেলের সাথে উম্মিকার বিয়ে দিয়েছিলাম। বুঝতে পারিনি ছেলেটা যে এতো লোভী। শেষ পর্যন্ত আমরাই ছেলেতাকে তাড়িয়ে দিতে বাধ্য করেছিলাম।

এবারের বিয়েতে আমি উম্মিকাকে কোনো জোর করিনি। কিন্তু ছেলেটার বয় বিদ্যমান থাকায় কোনোভাবেই রাজী ছিলাম না। অবশেষে ছেলেতা তাঁর ১ম স্ত্রীকে ডিভোর্স করার পর এবং আমি বিস্তারীত আলোচনার পর অবশেষ ডাল আবিরের সাথে উম্মিকার বিয়েতে রাজী হইলাম। এই রাজী হবার পিছনেও আমার একটা উদ্দেশ্য ছিলো- আর সেটা হচ্ছে, আমিও চেয়েছি উম্মিকা দ্রুত বিয়ে করে তাঁর নিজের পছন্দমত স্বামীর কাছে থাকুক।

এবারে জামাই এর ব্যাপারে আমার অনেক রিজার্ভেশন আছে। প্রথমবার ভেবেছিলাম, জামাই মানে ছেলে পাওয়া। কিন্তু সেটা ভুল প্রমানিত করেছিলো উম্মিকার প্রথম হাসবেন্ড। জামাই কোনোদিন ছেলে হয় না আর ছেলের বউ কোনোদিন নিজের মেয়ে হয় না। আমি এবার সেইটাই মনে মনে স্থির করেছি যে, কোন কিছুতেই আমি আর আগের মতো ভাবাবেগে থাকবো না। জামাইয়ের রোজগারে সে তাঁর ভালো মন্দ সংসার চালাবে, ওদের কোনো ব্যাপারেই আমি অন্তত নাক গলিয়ে উপযাজক হয়ে অতিরিক্ত কিছুই করতে যাবো না। জামাই শশুড়ের যতটুকু ব্যব্ধান থাকা দরকার, এবার ঠিক সেই মাপকাঠিতেই সম্পর্কটা আমি চলমান রাখতে চাই। না মাথায় তোলা, না নীচে রাখা। এটা ওদের জীবন, ওদের সংসার। সংসার শুরু করার আগে যা যা দরকার (ফ্রিজ, টিভি, এসি, ফার্নিচার, ওভেন, পিউরিট, আলমারী, শোকেস, দাইনিং চেয়ার টেবিল, খাট) সব দিয়ে দিলাম। সাথে গহনা প্রচুর। আমি ঠিক এর পরে আর কিছুই আগ বাড়াইয়া দিতে নারাজ। আমার দেয়ার ক্ষমতা আছে কিন্তু যাদের নেওয়ার ক্ষমতা নাই, তাদেরকে অন্তত সেধে কিছুই দিতে যাব না।

উম্মিকার মা প্রথমবারের অভিজ্ঞতা থেকে কিছু শিখছে বলে মনে হয় না। সে আবিরকে নিজের ছেলেই মনে করে, বেশ ভাবাবিত, আবেগিত, যেনো ঠিক আগের রানার মত। আমি তাতে কিছুই বলছি না কারন সে শুনবে না। উলটা মিনিং বের করবে। কিন্তু আমি জানি ঠিক কখন আমি ছাড় দেবো।

উম্মিকা প্রচন্দ রকমের সার্থপর। উম্মিকা যখন বুঝতে পারে যে, সে সেরে গেছে, উম্মিকা খারাপ ব্যবহার করতে পিছপা হয় না। আমি ওর এই গুনটা সম্পর্কে একেবারে ক্লিয়ার। ফলে আমিও উম্মিকার কাছ থেকে কিছুই আশা করি না। উম্মিকা আমাদের ফ্যামিলি গার্ল হিসাবে কাজ করে না। উম্মিকা মনে করে, যতটুকু নেয়া যায়, অতটুকুই ভালো। উম্মিকার এই গুনটা আমার একেবারেই অপছন্দের। উম্মিকার ধারনা নাই, আমার হাত কত খোলা যদি কেউ আমার সাথে একেবারে বন্ধুর মতো থাকে। যাক সে কথা, আমি জানি কখন আমি কাকে কতটুকু ছার দেব। এবার আর আগের মত এতো উলফুল্ল হবার কন কারন দেখি না। উম্মিকা বা আবির যদি চালাক হয়, তাহলে ভাল, তা না হলে আবির স্রেফ আমার কাছে উম্মিকার হাজবেন্ড এবং অন্য বাড়ির ছেলে।

হতে পারে আজ থেকে ৫/৬ বছর পর আমি বুঝতে পারবো, ওরা কতটুকু আমার বা কতটুকু ওরা আমার জন্য। এতা না বুঝা অবধি আজ যা দিলাম, আপাতত এখানেই ক্ষান্ত আমি। উম্মিকার মা হয়তো আমাকে অনেক কিছুর জন্য চাপ দিতে পারে কিন্তু সেতা আমার সিদ্ধান্তের বাইরে গিয়ে আমি কিছুই করতে চাই না। আমাকে অনেক কিছু বুঝতে হবে আগে। তারপর সব কিছু তো ওদেরই। সহজে সব কিছু যেমন আমি পাইনি, আমিও চাই না কেউ সহজে আমার কাছ থেকে সব ছিনিয়ে নিক, হোক সেটা উম্মিকার মায়ের চাপ বা উম্মিকার। আমি কখনো আর উম্মিকা বা আবিরকে বিদেশে যেতে বল্বো না। যদি ওরা যেতে চায় সেটা ওদের নিজের যোগ্যতায় এবং খরচে যেতে হবে। যদি কিছুটা সাহাজ্য লাগে সেটা হয়ত আমি করবো কিন্তু শতভাগ কখনোই না। আমার নিজের জন্যেও আমাকে সঞ্চয় বাচিয়ে রাখতে হবে কারন আমি জানি, এক সময় আমার জীবন আমাকেই টানতে হবে। সেই সময় শুধু আমার সঞ্চয় আমাকে বাচিয়ে রাখতে পারবে। লোকজনের খরচায় আমার জীবন অনেক সহজ হতে পারে। আমি এই ব্যাক আপ কখনোই নিঃশেষ করে ওদের জন্য উজার করে দিবো না।

আমার এখন দায়িত্তের মধ্যে রয়ে গেলো ছোট মেয়ে কনিকা। আমি ওকে আগামী ২০২৫ সালের আগষ্ট পর্যন্ত পরার সমস্ত খরচের তালিকা করেছি। আর ওকে এটাও বলেছি, ২০২৫ সালের আগষতের পর আমিও ওকে দেশ থেকে কোনো সাপোর্ট দিতে চাই না। বিদেশে পরাশুনা করিয়েছি। ওর পিছনে আমার প্রায় ৩ বা সাড়ে ৩ কোটি টাকা খরচ করতে হয়েছে। মেয়েদের মধ্যে ওর পিছনেই আমার সবচেয়ে বেশী খরচ করা হল। এরপরেও যদি সে নিজের পায়ে দাড়াতে না পারে সেটা ওর ব্যর্থতা।

আরো একজন আছে যে আমার রিস্পন্সিবিলিটি। তাঁর ব্যাপারেও আমি অনেক সচেতন কারন সে মনে করে আমি ছাড়া ওর আর কেউ নাই। আমি সার্থপর নই আর আমি দায়িত্তশিল মানুশের মতোই আচরন করে থাকি যারা আমার নিজের এবং কাছে লোক।

সবাই ভালো থাকুক।

১/১/২০২৪-উম্মিকার বিয়ে

৩০ ডিসেম্বর ২০২৩ তারিখে গায়ে হলুদের পর আজ পহেলা জানুয়ারী ২০২৪ তারিখে মিরপুর জনাব আলমগীর সাহেবের অধীনে উম্মিকার এবং আবিরের বিয়ে অনুষ্ঠিত হলো। কাবিন করা হলো ২০ লক্ষ টাকার যার মধ্যে উশুল দেখান হয়েছে ৩ লাখ এবং বাকিটা উশুল দেখানো হয় নাই। উকিল বাবা হিসাবে আমাআদের পক্ষে নাম লিখা হলো মুবীন আহমদকে এবং আবিরদের পক্ষে হলো এমদাদুল (আবিরের মামা)।

বিবাহোত্তর একতা ছোট খাটো অনুষ্ঠান করা হলো মিরপুর ২ নাম্বার বুফে কিংস রেষতুরেন্টে। গোটা ৫৬ জন লোকের সমাগম হয়। অত্যান্ত সুন্দরভাবে অনুষ্ঠানটি সম্পন্ন হয়েছে। আলহামদুলিল্লাহ।

৩০/১২/২০২৩-উম্মিকার গায়ে হলুদ

কোনো এক সময় এটাই চাওয়া ছিলো যেনো পরিবার থাকে সুখে এবং শান্তিতে। সবার মনের ইচ্ছাগুলি যেনো পুর্ন হয় ঠিক যে যেভাবে চেয়েছিল। জীবন বড় ছোট, এর মধ্যেই অনেক কঠিন দিন আসে, দুঃখের সময় মানুষ সেই সময়টাও পার করে কিন্তু সব কিছুর পরেও হয়তো আজ বা কাল মানুষের সব ইচ্ছা পুরন না হলেও মনের শান্তির জন্য যে ইচ্ছাগুলি পূর্ন হওয়া খুব দরকার সেগুলির কিছুটা হলেও পুর্নতা পায়। তারপর, একদিন মানুষ কিছু অপূর্নতা, কিছু পূর্নতা নিয়ে এই মায়াবী পৃথিবী ত্যাগ করে। যখন মানুষ এই মায়াবি পৃথিবী ত্যাগ করে, তখন তাঁর সাথে এই পৃথিবর আর কোন হিসাব কিতাব থাকে না। তাঁর উপর আর কারো কোনো দায়িত্ব থাকে না। হয়তো অভিযোগ থাকতে পারে কিন্তু তাতে তাঁর কিছুই যায় আসে না।

আমার বড় মেয়ের গায়ে হলুদ আমার মনের ইচ্ছার মধ্যে একটি ছিলো এবং অতঃপর একজন দায়িত্তশীল মেয়ের বর হিসাবে ডাঃ আবিরের সাথে গায়ে হলুদ অনুষ্ঠিত হলো আজ ৩০ ডিসেম্বর ২০২৩ তারিখে। অনুষ্ঠানটি করেছিলাম আর্মি অফিসার্স ক্লাবে। প্রায় চার শতাধিক অতিথির আগমন, নাচ গান, সব কিছুই ছিলো।  সবাই খাওয়া দাওয়া করে অনুষ্ঠনটি বেশ উপভোগ করেছে।

০১/১২/২০২৩-পীস এওয়ার্ড উপলক্ষ্যে  এমসিসি-১৫ বন্ধুদের গেট টুগেদার

জন্মের পর থেকে স্বয়ংক্রিয়ভাবে যেটা আমরা পাই তা হচ্ছে পারিবারিক বা রক্তের সম্পর্ক। আর সেই সম্পর্কটা আমরা কেউ না কিনে নেই, না অর্জন করি। এটা উত্তরাধীকারী হিসাবেই আমাদের কাধে চলে আসে। কিন্তু জন্মের পর থেকে তিলে তিলে বড় হবার পথে আমরা যেটা অর্জন করতে থাকি সেটা হলো বন্ধুত্ব। জীবনের অনেক স্তরেই এই বন্ধুত্ব তৈরী হয়, কখনো ব্যবসায়ীক বন্ধু, কখনো সোস্যাল মিডিয়ার বন্ধু আরো অনেক। কিন্তু জীবনের সেই ছোটকালের দুরন্তপনা সময়ে যারা একসাথে প্রায় অর্ধযুগ একই মাঠে একই ঘাটে, একই ছাদের তলায় বেড়ে উঠেছিলাম, সেই বন্ধুত্ব আমার কাছে অনেক দামী ভালোবাসা। ওদের সাথে আমার সময় কাটে আজো সেই বাল্যকালের মতো, তুই, তুমি আর তুই এর মাঝে।

যে কোনো কারনকে কেন্দ্র করেই হোক, যখন একত্রিত হই, ফিরে আসে সেই সময়টা। আশেপাশের লোকজন আমাদের এই ছেলেমীপনা দেখে হয়তো ভাবে-কি শুরু করেছে এই বুড়োরা? কিন্তু আমরা যে তখন আর বুড়ো নই, এটা একটা বাল্যকালকে টেনে বর্তমানে নিয়ে আসার মিলনমেলা।

আজ এমনি একটা গেট টুগেদার ছিলো আমার সেই প্রানপ্রিয় ক্যাডেট কলেজের বাল্যবন্ধুদের নিয়ে। ৪৫ জন বন্ধুদের মধ্যে অনেকেই প্রয়াত হয়েছে গেছে, কিছু বন্ধুরা দেশের বাইরে অবস্থান করছে, আর যারা দেশে আছে তাদের মধ্যে আমরা ১৭ জন একত্রিত হয়েছিলাম থাই এমার‍্যাল্ড রেষ্টুরেন্ট, গুলশানে। আমার আরেক দোস্ত ডাঃ জাহিদ (ক্যাডেট-৭৯৩) সেই আমেরিকা থেকে ফোন করেছিল। যদিও সে ছিলো না কিন্তু ওর ফোন কলই যেন অর উপস্থিতি আমার কাছে মনে হয়েছিলো। উপলক্ষ ছিলো-গত কয়েক মাস আগে আমি মহাত্মা গান্ধী ইন্টারন্যাশনাল পীস এওয়ার্ড-২০২৩ এবং মাদার তেরেসা গোল্ডেন এওয়ার্ড-২০২৩ এ ভূষিত হওয়ায় বন্ধুদের মধ্যে একটা গেট টুগেদার। আমিও আমার এসব বন্ধুদেরকে কাছে পেয়ে যারপরনাই আনন্দিত হয়েছি।

 

আমার পক্ষ থেকে প্রিয় মাহমুদকে জানাই আন্তরিক ভালোবাসা এবং অজস্র অভিনন্দন যে, আমার হয়ে দোস্ত মাহমুদই পুরু ইভেন্টের ব্যবস্থাপনায় ছিলো। কাজটা সহজ ছিলো না। রেষ্টুরেন্ট খোজা, বুকিং করা, সিট রিজার্ভ করা, সব বন্ধুদেরকে একত্রিত করা, তারপর সবার পছন্দমত খাবারের মেন্যু চয়েজ করা। থায়ংক ইউ মাহমুদ। তার সাথে আমি আমার সব বন্ধুদের-রিজু, রিয়াজ, মোর্শেদ, কাফি, ফিরোজ, হুমায়ুন, মামুন, ফয়সাল, আসাদ, নাসের, মুনজুর মাহমুদ, আখতারুজ্জামান, শারিয়ার আকন্দ, রেজাউল বারী ডেল, সায়েদুর এবং মাহমুদকে জানাই অসংখ্য ধন্যবাদ। যারা আসতে পারোনি, আমি ওয়াদা করছি, তোমরা আবার আসো, আবারো আমি হাজির হবো তোমাদের জন্য। সবাই সুস্থ্য থাকো।  

২৩/১১/২০২৩-বদলে গিয়েছি কি?

আমার বয়স ইতিমধ্যে প্রায় ৫৯ পার হয়ে গেলো (আজ আমার জন্মদিন নয়)। প্রায় ৫ যুগ। নেহায়েত কম নয়। অন্য কারো জীবনে কি ঘটছে, কি ঘটতে পারতো কিংবা কি কারনে কি ঘটেছে বা ঘটে নাই সে ব্যাপারে না জানলেও আমি আমার জীবনের পুরু ইতিহাসটাই জানি। কোথায় কি কারনে কিভাবে কেনো আমার জীবনে ক্ষনেক্ষনে কিংবা পরিকল্পিতভাবে কি বদল হয়েছে, সব আমি জানি। আমি আমার বাল্যকাল দেখেছি, কৈশোর দেখেছি, যুবককাল দেখেছি, আমি আমার হতাশা দেখেছি, আমার পিছলে পড়ার দৃশ্য দেখেছি, আবার সেই পিচ্ছল পথ থেকে ভাসতে ভাসতে আমার সাফল্যকেও দেখেছি। এই বিস্তর সময়ে আমি আমার আশেপাশে থাকা অনেক মানুষজনও দেখেছি। কেউ হাত বাড়িয়ে দিয়েছে, কেউ হাত উঠিয়ে নিয়েছে, কেউ পাশ কাটিয়ে চলে গেছে, কেউ বা আবার বিনা কারনেই পাশে দাড়িয়েছে। কখনো কারো উপরে খুব রাগ করেছি, কখনো কারো উপরে অনেক অভিমান করেছি, কাউকে কোন কারন ছাড়াই ভালোবেসেছি, কাউকে ভালোবাসতে গিয়েও ভালোবাসতে পারিনি, আবার কারো সাথে অযথাই রাগারাগি করেছি। কেউ আবার আমার সান্নিধ্য পাওয়ার জন্য ব্যাকুল হলেও আমি তাকে অবহেলা করেছি, আবার কারো সান্নিধ্য পাওয়ার জন্য আমি নিজেই হয়তো অনেক ব্যাকুল হয়েছি কিন্তু তার নাগাল হয়তো আমি পাইই নাই। অনেক বন্ধু পর হয়ে গেছে, অনেক অপরিচিত আবার বন্ধুও হয়েছে। কখনো আমার অজান্তে শত্রু তৈরী করে ফেলেছি, আবার কাউকে কিছু না করেও আমি তাদের কাছের বন্ধু হয়ে গেছি। এককালের সবচেয়ে ভালো কলিগ পরবর্তীতে সবচেয়ে অপ্রিয় হয়ে গেছে সেটাও দেখেছি, আবার যাকে কখনোই প্রিয় মনে করিনি, সেও এক সময় এতো কাছে চলে এসছে যা কখনো ভাবিও নাই।

জীবনের এমনসব অনেক কিছুই ঘটে গেছে আমার এই প্রায় ৫৯ বছরের সময়ে। আমি এখন সেই শৈশবের দুরন্তপনা বালকের মতো ক্ষিপ্র গতিতে দৌড়াই না, এডভেঞ্চারে এখন আর সাহস পাই না, বন্ধু আসরে এখন আর সেই আগের মতো উচ্চস্বরে চেচাই না। এখন কেনো যেনো শুধু নিজেকেই নিয়ে থাকতে ইচ্ছে করে। কি ঘটে গেলো আমার আশেপাশে, কি করতে পারতাম কারো জন্য, এগুলি আর আমাকে টানে না।

পথে হাটতে হাটতে পথে দাঁড়িয়ে থাকা অনাথ কোনো ভিক্ষুককে এখন আর কটু মন্তব্য করিনা। শুধু ভাবি, আহা রে জীবন। হয়তো তারও কোনো ইতিহাস আছে। হয়তো তারও কোনো পরিবার ছিলো, আজ তার পাশে কেউ নাই। হয়তো বা সেইই সব ছেড়ে ছুড়ে একা বেরিয়ে গেছে। কিন্তু কোথাও তার কোনো জায়গা নাই এই পথ ছাড়া। এখন তাকেও আর প্রশ্ন করিনা-কেনো সে ভিক্ষা করে, কেনো সে কোনো কাজ বেছে নেয় না।

বাজারে গিয়ে এখন আর কারো সাথে দাম নিয়ে তর্ক করিনা। দাম বেশী মনে হলে ভাবি-থাক না, আমার পোষায় না, আমি বেরিয়ে আসি। হয়তো দোকানদার একটা দাম বলার জন্য অনুরোধ করে, আমি মুচকী হেসে হয়তো বলি-নাহ, পছন্দ হয়নি। বলে বেরিয়ে যাই। ভাবি-কি দরকার তার সাথে আবার দাম নিয়ে ঘাটাঘাটি করা। আবার এমনো হয় যে,-সে হয়তো একটু বেশী দামই বলেছে, তাতে কি? যদি আমার কাছ থেকে পাওয়া একটু বেশী দামে তার নিজের পরিবার আরো একটু সুন্দর হয়, কিংবা তার উঠতি কোনো প্রয়োজন মিটেই যায়, ক্ষতি কি? হয়তো ইচ্ছে করেই মেনে নেই।

একটা সময় ছিলো, ১০ টাকার রিক্সা ভাড়া ১০ টাকা না পাওয়া অবধি হয়তো ঘন্টার পর ঘন্টা দাঁড়িয়ে থেকেছি, তাও ১০ টাকার বেশী দেবো না বলে পন করেছি। এক রিক্সা থেকে আরেক রিক্সার দামদর করেছি। এখন আমি আর কোনো দামদরও করি না। কি যায় আসে যদি ১০ টাকার ভাড়া সে আমার কাছ থেকে ২০ টাকাই নিলো? সেতো আর কটি টাকা চায় নাই। হতেও তো পারে তার এই অতিরিক্ত টাকাটা আসলেই দরকার। তার মেয়ের জন্য হয়তো একটা স্কুলব্যাগ কিনবে বা অন্য কিছু। আমি আন্দাজ করে একটু বেশিই দেই। যদি দেখি তার মুখে হাসি ফুটেছে, ভাবি-ঠকাইনি, কিন্তু যদি তার মুখে এমনভাব ফুটে উঠে যে, হয়তো আর একটু বেশী দিলে ভালো হতো, আমি দেরী করি না, আরো একটু বাড়িয়েই দেই। তার মুচকী হাসিটা আমার কাছে দরকার। হয়তো এই রিক্সাওয়ালার সাথে আমার দ্বিতীয়বার আর দেখা হবেওনা। না আমি ওর নাম জানি, না সে আমাকে চিনে। কিন্তু ক্ষনিকের এই ছোট মুচকী হাসিটা নেহায়েত কম নয়।

কারো সাথে এখন আমি আর তর্কও করি না।  কারো তর্কে আমি জিততেও চাই না। বুঝতে পারি ভুল তর্ক কিন্তু আমি আর আগের মতো সেই তর্কে সরব নই। কারন, কাউকে আমি শোধরিয়ে দিয়ে তার ইথিক্সকে আমি বদলাতে পারবো না। কেউ কারো জন্যই বদলায় না। সবাই নিজের জন্যই একসময় বদলায়। যেমন আমিও বদলে গেছি। তবে আমি আগে যেমন শুধু বক্তা ছিলাম, এখন আমি ভালো শ্রোতা হয়ে গেছি। বলুক না মানুষ তাদের কথা, আমি শুনি, হাসি, কখনো কখনো চুপ থাকি, কখনো কখনো আবার উসাদ মনে এটাও ভাবি- বলুক সে তার নিজের কথা, অন্তত আমার মতো একজন শ্রোতা তো আছে যে তার কথা শুনছে। তাদের গল্পগুলিতে হয়তো অনেক স্মৃতি আছে যা আমার কোনো কাজেই লাগবে না, তারপরেও তাদের একাকীত্ব জীবনের সেই পুরানো কিছু কথা না হয় আমিই শুনলাম। তার বুকটা তো কিছুটা হলেও হালকা হলো, কিছুক্ষন সময়ের জন্য হয়তো সে আবার ফিরে যায় তার সেই পুরানো কোন দিনে, পুরানো কোনো হাসি দুঃখ মাখা জীবনে।

কেউ আমাকে মুল্যায়ন করুক বা না করুক, এখন এগুলি নিয়ে আর বেশী মাথা ঘামাই না। অবজ্ঞা করলেও আমি সেখানে তাকে অবজ্ঞা করি না। আস্তে করে হয়তো চুপিসারে সরে যাই। কোনো কিছুই বা কারো কোন মুল্যায়নে বা অবমুল্যায়নে আমার কোনো কিছুই পরিবর্তন হবে না। ইগো থেকে বেড়িয়ে যাই। প্রানভরে সবার প্রসংসা করি। কাউকে প্রসংসা করলে আমার তো কোন ক্ষতি নাই। অন্তত তাকে আমি কষ্ট দেইনি এটা ভেবেই সেটা করি। হয়তো তাকে কেউ প্রসংসাও করেনি, আমি না হয় করলাম। কি ক্ষতি?

কাউকে আমি টাকা ধার দিয়েছি, আমি কাউকে সেটার জন্য প্রতিনিয়ত চাপে রাখি না। এটা তার দায়িত্ব আমাকে সেটা বুঝিয়ে দেয়া। যদি ভালো মানুষ হয়, যদি দায়িত্তশীল হয়, যদি উপকারের কথা মনে রাখে, সে ফিরে আসবে অতি বিনয়ের সাথে। কিন্তু আমি ধরে নেই-যা দিলাম, তা দিয়েই দিলাম। যদি কখনো তা ফিরে আসে, সেটা আমারই ছিলো। যদি ফিরে না আসে, অন্তত আমি বুঝলাম, উপকার করার লিমিট হয়তো সেখানেই শেষ। কিন্তু অপদস্ত করি না।

এই দুনিয়ায় কতো মানুষ যে আছে যারা একা থাকে, যারা ভালোবাসা দিতে গিয়েও দিতে পারেনি, তাদেরকে ভালোবাসা দিতে চেয়েও অনেকে তা দিতেও পারেনি। তার কাছে হয়তো অন্য কোনো কিছু আরো প্রিয়, আর বেশী দামী। কেউ কারো ভিতরের কথা জানে না। আজিবন বলে গেলেও তাদের ভিতরের কষ্ট, সুখ, আহলাদ কোন কিছুই অন্য কাউকে বুঝানো যায় না। হাসিটা ঠটে থাকলেও সুখের অনুভুতিটা থাকে অন্তর, দুঃখের, কষ্টের বেদনার পানিটা চোখের জলে দেখা গেলেও কষ্টের অনুভুতিটা থাকে মনের ভিতরে। সেগুলি দেখানো যায় না, সেগুলি কাউকে বুঝানোও যায় না। ভাষাই যদি হতো একমাত্র প্রকাশের মাধ্যম তাহলে বোবার কথা, প্রানিদের কথা কোনো মানুষ কখনোই বুঝতে পারতো না।  পরিবর্তনও একটা ভাষা।  

আমি আমার জন্যই বাচি, এক সময় আমি বাচতে চেয়েছি আমার পরিবারের জন্য, আমার সন্তানের জন্য, আমার সমাজের জন্য, আমার দেশের জন্য। কিন্তু এখন আমি আমুল পরিবর্তীত এক মানুষ। আমি আমার জন্যই বাচি। প্রতিটি দিনকে জীবনের শেষ দিন মনে করে বাঁচি।

হয়তো একদিন সেই দিনটা খুব কাছে যখন আমার জন্যেও আর বাচার দরকার হবে না। পৃথিবী বড্ড সুন্দর, এর গাছপালা সুন্দর, মেঘলা আকাশ সুন্দর, ঝড়ো হাওয়া সুন্দর, চাঁদ সুন্দর, শীত সুন্দর, পাখীদের কিচির মিচির শব্দ সুন্দর, এমন কি কাল বৈশাখী ঝড় ও সুন্দর। কিন্তু একদিন এই সব ছেড়ে আমাকে চলেই যেতে হবে। তাহলে কার সাথে আমি কি নিয়ে তর্ক, কি নিয়ে ইগো, কি নিয়ে এতো বাহাদুরী কিংবা অবজ্ঞা করবো?

আমি অনেক বদলে গেছি।

২২/১১/২০২৩-মানুষের জীবন মৃত্যু

মানুষের জীবন বড় অদ্ভুত। যতোক্ষন জীবিত আছে, তাকে নিয়ে কেউ না কেউ সব সময়ই ব্যস্ত থাকে। হোক সে স্বনামধন্য কোনো ব্যক্তি বা সবার অগোচরে পালিয়ে বেড়ানো কোনো মানুষ। যারা এই সমাজের উঁচু স্তরে থাকেন, তাদের বেলায় সবার ব্যস্ততা একটু বড় পরিসরে আর যারা কোনো স্তরেই নাই, তারা হয়তো সীমাবদ্ধ শুধুমাত্র তার ঘরে বা পরিবারের মধ্যে। যখন কেউ আর এই দুনিয়ায় থাকেন না, সবার পরিনতি প্রায় একই রকমের, অর্থাৎ মুছে যাওয়া। তদুপরি সবার সব মুছে না গেলেও তাদের কিছু কিছু কৃতকর্মের জন্য মাঝে মাঝে আলোচনার বিষয়বস্তুতে চলেই আসেন।

এই কথাগুলি বলার কারন হচ্ছে-গতকাল ২১ নভেম্বর উপলক্ষে প্রধানমন্ত্রীর দাওয়াতে সেনাকুঞ্জে গিয়েছিলাম। প্রতিবছরই যাই। সেখানে এবার দেখেছি, গত বছরে যারা অনেক হোমরা চোমড়া ব্যক্তিদের তালিকায় সচল ছিলেন, তারা আজ কারো না কারো দ্বারা রিপ্লেসড এবং তারাও প্রায় মৃত কোনো মানুষের মতোই। সেই আগের হাল হকিকত নাই, সেই দাপট নাই, সেই আচরনও নাই। অথচ সেই আগের মানুষটাই আছেন, আগের নামটাতেই আছেন শুধু নাই স্তরের পজিশনটা। এখন সেখানে প্রতিস্থাপিত হয়েছেন নতুন কোনো মুখ, নতুন কোনো চরিত্র, নতুন কোনো নাম।

কথা হচ্ছিলো এককালের মন্ত্রী রাশেদ খান মেননের সাথে। উনি মন্ত্রী ছিলেন, কথা হচ্ছিলো সাবেক তিন সেনাপ্রধানের সাথে-জেনারেল বেলাল, জেনারেল মুবীন এবং জেনারেল আজিজ। কথা হচ্ছিলো নেভীর সাবেক প্রধান শাহীন সাহেবের সাথে। এ ছাড়াও কথা হচ্ছিলো আরো কিছু জ্বলন্ত সাবেক ব্যুরুক্রেটদের সাথে। তারমধ্যে ছিলেন সাবেক মন্ত্রী পরিষদের ক্যাবিনেট সচীব ইত্যাদি। ওনারা এর আগেও এই প্রোগ্রামে এসেছিলেন, আজকেও এসেছেন কিন্তু স্তয়াটাস এক নয়। এরই মধ্যে অনেকে আবার গত হয়েছেন যারা গত বছরে এসেছিলেন কিন্তু এবার আর আসার কোনো সুযোগই নাই। কারন তারা এ বছরের সশস্ত্র বাহিনী দিবস উদযাপনের হায়াত পান নাই। আবার অনেকেই ছিলো যারা ইচ্ছে করেই আজকের দিনের এমন একটা মহাগ্যাদারিং অনুষ্ঠানে ইচ্ছে করেই আসেন নাই কারন তারা আর এই অনুষ্ঠানে আসার মত পরিস্থিতিতে নাই। কারো নামে বদনাম, কারো নামে নিষেধাজ্ঞা, কারো নামে দূর্নিতির অভিযোগে তারা প্রায় সমাজে মুখ দেখাতেও ভয় পান।

এই যে একটা পরিস্থিতি, একটা পরিবর্তন এটা শুধু করতে পারে “সময়” নামক ফ্যাক্টর। “সময়” সবকিছু পালটে দেয়। পালটে দেয় নামের আগে পরের স্ট্যাটাস। আমার স্পষ্ট মনে পড়ে গত বছরের ২১ নভেম্বরের ঘটনা। মনে পড়ে তার আগের অনেক ঘটনা যারা ক্ষমতায় ছিল, তারা আজ জীবন্ত থেকেও অনেকের কাছে খুবই অ-জীবন্ত। তখন সময়টা ছিলো তাদের ঘিরে, আজ তারা একই স্থানে একই ব্যক্তি একই অনুষ্ঠান হওয়া সত্তেও আজ তারা ততটাই অবহেলিত হচ্ছেন যতোটা তারা অবহেলা করেছিলেন অন্যদেরকে সেই সময়ে যখন তাদের কাধ ভারী ছিলো ব্যাজে। যখন তাদের হাতে ছিলো চেয়ারের ক্ষমতা।

দেখলাম, সাবেক সেনাপ্রধান আজিজ এককোনে একটা চেয়ারে বসে আছেন। কেউ তার সাথে কথাও বলার সুযোগ নিচ্ছে না। দেখলাম রাশেদ খান মেননকে, এতিমের মতো একটা জায়গায় দাড়িয়ে কার সাথে যেনো কথা বলছেন। বুঝা যাচ্ছিলো যে, তিনি কথার ছলে সময়টা পার করছেন। দেখেছি আরো বড় বড় ব্যুরুক্রেটদেরকে। তাদের এই সাবেক হিসাবে আর আগের মতো কদর যেমন নাই, তেমনি কারো কারো ঘেন্নায় দাড়িয়ে আছেন সবার মাঝে। নিশ্চয় তাদের এখন খারাপ লাগে, নিশ্চয় ভাবেন তারা যে, কেনো আর আগের মতো মানুষ তাদেরকে সেই মুল্যায়নটা করছেন না? তিনি তো আর মরে যান নাই? মাত্র সাবেক হয়েছেন শুধু। আসলে, ক্ষমতা আর অবসর বড় অদ্ভুত জিনিষ। যখন কেউ ক্ষমতায় থাকেন, তারা যদি সেই সময়টায় সেই ক্ষমতাটা ইনভেষ্টমেন্ট করতেন মানুষের কাছে, আজ যখন আর ক্ষমতায় থাকেন না, এখন তিনিরা এই সময়টায় এসে দেখতে পেতেন, প্রচুর মানুষ এখনো তাদের পিছু ছাড়ছেন না।

আমার ঘুরে ঘুরে এসব দেখতে খুব ভাল লাগে। দেখি আর ভাবি, কত অদ্ভুত সব মানুষজন। মানুষ সবদিক থেকেই চরম সার্থপর। কেউ আজকে ক্ষমতার অপব্যবহার করলে, কেউ কাউকে ঠকালে এর প্রতিদান আজ না হোক, আগামিকাল এর প্রভাব হারে হারে পাবেনই। আজকে যাদের নামে রাস্তায় রাস্তায় অলিতে গলিতে ব্যানারের মাধ্যমে বন্দনা দেখি, ঠিক তার প্রস্থানে আগামিকাল তার সব ব্যানার খুলে আরেকজনের নামে বন্দনা শুরু হয়। আগেরজন এই পৃথিবীতে ছিলো কিনা এটাই মাঝে মাঝে সন্দেহ হয়। আমার এলাকায় গত ৪০ বছরে একের পর এক রাজনৈতিক এমপি, মিনিষ্টার দেখেছি যাদের নামে আর ছবিতে ব্যানারে ব্যানারে রাস্তার গাছপালাও ঢেকে গিয়েছিলো। কিন্তু তাদের মৃত্যুতে কিংবা ক্ষমতা থেকে চলে যাবার পর সেইসব রাজনৈতিক ব্যক্তিদের আর কোথাও দেখা যায় নাই। আমজনতা ইন্সট্যান্টলি ভুলে যায় তাদের। তারা কোটি কোটি টাকা রেখে যায় তাদের পরবর্তী প্রজন্মের জন্য বটে কিন্তু সেই অবৈধ আয় তার নিজের কোনো কাজে লাগে না বরং এই অবৈধ টাকার জন্য ইহকালের শাস্তির একটা বড় বোঝা কিয়ামত পর্যন্ত বয়ে বেড়াতে হয়।