০৯/১১/২০২৫-শাহরিয়ারের আগমনে আমি দাওয়াত করা শেরাটনে

কোথায় যেনো শুনেছিলাম যে, আমরা আত্মীয়তার জেরে দাদা, নানা, খালা ফুফু ভাই বোন পাই, কিন্তু সেটা আমরা তৈরী করি না, এই সম্পর্কের তৈরী ক্ষেত্রে আমাদের কোনো ক্রেডিট নাই। আমরা এগুলি বংশ পরম্পরায় পাই। কিন্তু আমাদের জীবনে আসা বন্ধুদের আমরা নিজেরা তৈরী করি। একজন ভালো বন্ধু চকচকে আয়নার মতো, কখনো তারা নিজের গোপন সহচর, মনের খোরাকের মত। সুখে দুখে এই বন্ধুরা জীবনের সবচেয়ে বড় একটা অংশ জুড়ে থাকে।

ক্যাডেট কলেজের বন্ধুদের মধ্যে বন্ধুত্বটা একটা অন্য রকমের ধাচে তৈরী হয় যেখানে ওরা জীবনের সবচেয়ে কাচা সময়টায় ২৪ ঘন্টাই একসাথে থাকে, খায়, খেলে, ঘুমায়, হাসে, কাদে। পরিবারের চেয়েও বেশী কাছে থাকে ওরা। ওদের বন্ধুত্বটা পারিবারিক শক্ত বন্ডের থেকে বেশী। শুধু এখানেই শেষ নয়, এক ক্যাডেট কলেজের সাথে আরেক ক্যাডেট কলেজের ব্যাচমেট বন্ধুরাও আজীবন না দেখে, না চিনে, নাম না জেনেও যেনো জন্ম জন্মান্তরের বন্ধু হয়েই থাকে। অদ্ভুত এই সর্গীয় বন্ধন। আমরা এই বন্ধুত্বকে আজীবন লালন করি।

আমাদেরই ব্যাচের আমাদের বন্ধু শাহরিয়ার গত ২/৩ দিন আগে সেই সূদুর কানাডা থেকে বাংলাদেশে এসেছে। মাত্র সপ্তাহ খানেক থাকবে ওর আব্বার সাথে। আমাকে ফোন করার পর আমি শাহরিয়ারকে ফোনেই বললাম, অনেকদিন ক্যাডেট বন্ধুদের সাথে দেখা হয় না। তোমার এই আগমন উছিলায় চলো আমি একটা একটা আড্ডার ব্যবস্থা করি যেখানে সবার সাথে দেখা হবে, কথা হবে, আবার হারিয়ে যেতে পারবো আজ থেকে প্রায় ৪৮ বছর আগের শৈশবের সেই অনুভুতিতে। শাহরিয়ার রাজী হলো।

আমার আরেক প্রিয় বন্ধু মাহমুদকে (বর্তমানে বিটিআরসি এর একজন উর্ধতন কর্মকর্তা হিসাবে কাজ করছে) ব্যাপারটা বললাম যে, আমি স্পন্সর/হোষ্ট করবো, তুমি বাকী এরেঞ্জমেন্টটা করে দাও শেরাটনকে কেন্দ্র করে। সবাইকে দাওয়াত করো, হোটেল বুক করো। মাহমুদ এ ব্যাপারে আমাদের ব্যাচের মধ্যে সর্বদা একটা সচীবের দায়িত্ব পালন করে। মাশআল্লাহ, আমার ১৭ জন ক্যাডেট বন্ধু গল্পের ভান্ডার আর একরাশ মিষ্টি ভালোবাসার হাসি নিয়ে রাত ৮ টায় হাজির।

ভীষন মিষ্টি এবং চমৎকার একটা সন্ধ্যা কাটলো আমাদের সবার। রাশেদের অন্যত্র আরো দুইটা মিটিং ছিলো, তারপরেও সেগুলি একদিকে শিফট করে আড্ডায় হাজির হলো। বন্ধুদের আড্ডা মানে জীবনীশক্তি বেড়ে যাওয়া, শরীর আবার চঞ্চলতায় ভরে উঠা। দ্রুত সময়তা যেনো হাওয়া হয়ে গেলো গল্পে গল্পে। যারা আসতে পারেনি, তাদের অনেক মিস করেছি।

ধন্যবাদ আমার প্রিয় বন্ধুদের। সবাইকে অনেক ভালোবাসি। ধন্যবাদ শাহরিয়ারকে।