গত বছরের নভেম্বর মাসে অর্থাৎ নভেম্বর ২০২৪ এ সেনাপ্রধান জেনারেল ওয়াকারের জন্য বি এম এ তে হল অফ ফেম অনুষ্ঠান হয়েছিলো। কিন্তু আমি হার্টের সমস্যার কারনে, মিটুল এবং কনিকা গিয়েছিলো, আমি যেতে পারিনি। এবার অর্থাৎ আজ ৩০ অক্টোবর ২০২৫ এ সেই একই প্রোগ্রামটা হলো নেভীর এবং এয়ার ফোর্সের প্রধান যথাক্রমে নাজমুল এবং হাসানের জন্য অনুষ্ঠানটা হলো। এবার অনুষ্ঠানে যেতে কোনো সমস্যা হয় নি।
যেহেতু তিন বাহিনীর অর্থাৎ আর্মির চীফ, নেভাল চীফ এবং এয়ার ফোর্সের চীফ, তিনজনেই আমার কোর্ষ্মেট, ফলে একদিকে যেমন এটা গর্বের বিষয়, অন্যদিকে এই অনুষ্ঠাটিতে তিন বাহিনীর চীফই তাদের পছন্দমতো কোর্ষ্মেটদেরকে সিলেক্ট করে কারা কারা এই অনুষ্ঠানে জয়েন করবে, সেদিক থেকে কোন ভাবেই ওরা আমাকে আউট অফ সিলেবাসে রাখে না এতেও নিজের কাছে ভালো লাগে। এই সিলেবাসে রাখা আর না রাখা নিয়ে অনেক মনোমালিন্য, অনেক গোস্যা কিংবা অনেক বিতর্ক আছে, সেদিকে আর যাচ্ছি না।
গত কয়েকদিন আগে ক্যাপ্টেন রাশের নামে এক আর্মি অফিসার আমার ফোনে ফোন করে জানালো যে, আগামি ৩০ অক্টোবর দুই চীফের হল অফ ফেম অনূষ্ঠান হবে, আমি পরিবার সহ যাবো কিনা। আমার যেতে কোন অসুবিধা ছিলো না বিধায় সম্মতিসূচক উত্তর দিয়ে মিটুলের নাম্বারটা দিয়ে দিলাম, যেনো যাবতীয় বাকী ফর্মালিটিজ গুলি ওর সাথেই করে। ক্যাপ্টেন রাশেদের কাজ ছিলো শুধু ইনভাইটেশন কার্ড গুলি বিতরন করা। অতঃপর আমাদের ২ জনের জন্য কন্ডাক্টিং অফিসার হিসাবে নিয়োজিত ছিলো ক্যাপ্টেন আব্দুল্লাহ। অত্যান্য অমায়িক ছেলে এবং দায়িত্তশীল অফিসার।
ওরাই এয়ার টিকেট পাঠিয়েছিলো, বাংলাদেশ বিমান। আমরা মাস্কাট গামি বাংলাদেশ বিমানে উঠেছিলাম সকাল সাড়ে আটটায়, চট্টগ্রাম হযরত শা আমানত বিমান বন্দর থেকে আমরা সরাসরি ভেন্যু পৌঁছে গিয়েছিলাম সকাল সাড়ে দশটার মধ্যে। ১১ টায় প্রোগ্রাম শুরু হয়েছিলো। আর্মির চীফ ওয়াকার, নেভাল চীফ নাজমুল, এবং এয়ারফর্সের চীফ হাসান সঠিক সময়েই এসে উপস্থিত হলো, আমার কোর্সের ৩ বন্ধু, তাদের জন্য আমাদের এই ন্যাশনাল অনুষ্ঠান সেই জায়গাতে যেখানে আমরা ২ বছর একসাথে অত্যান্ত কঠিন ট্রেনিং লাইফ কাটিয়েছি। ভাবতেই ব্যাপারটায় অনেক নস্টালজিক মনে হচ্ছিলো।
একসাথে লান করলাম, ভালো লাগলো।
আমার এই পর্বে যেতা আমি আসলে লিখতে চেয়েছি সেটা হল-বিএমএ এর ট্রেনিং। আমরা যখন ট্রেনিং করেছি, তখনকার বি এম এ এর সেট আপ আর প্রায় ৪১ বছর পরের বি এম এ এর সেট আপের মধ্যে তুমুল তফাত। আমাদের সময়কার যেখানে যেখানে জি সি অফিস, বারবার শপ, কোম্পানী বিল্ডিং গুলি, ড্রিল গ্রাউন্ড, রগড়া প্যারেডের গ্রাউন্ড ছিলো সেগুলিও প্রায় বিলুপ্ত হয়ে গিয়ে কোনোটা অন্যত্র শিফট হয়ে গেছে, আবার কোনোতা ছোট হয়ে গেছে, আবার কোনোটা এতো বিশাল হয়ে গেছে যা আমার কল্পনাতেও ছিলো না। অফিস গুলি খুবই অত্যাধুনিক্তায় ভরপুর, প্রচুর নতুন নতুন ভবন হয়েছে যেগুলি আসলেই দরকার ছিলো কিন্তু সেই প্রায় অর্দ শতাধিক আগে এগুলি বানানো কিংবা বাজেটে হয়তো কুলায় নি বলে বানানই হয় নাই। কিন্তু এখন ১০০ অফিসার মেস, সুইমিং পুল, ক্যাডেট ডমিটরীর পাশাপাশি আরো অনেক কারিকুলাম করা যায় এমন বিল্ডিং, কনভেনশন হল, মিটিং রুম, ক্যাফেটেরিয়া, ইনডোর খেলাধুলা করার প্রভিশন, জীম, আরো কত কিছু যে নতুন যোগ হয়েছে, বি এম এ এর সব জায়গা ঘুরলেই মনটা ভাল হয়ে যায়।
বি এম এ এর যে রাস্তাটা আজ থেকে ৪১ বছর আগে শুধু মাটির রাস্তা ছিলো, সেটা এখন বিশাল হাই ওয়ে হয়ে গেছে, সেখানে সানসেট পয়েন্ট, গলফ গ্রাউন্ড, আরো কতই না সুন্দর সুন্দর স্থাপনা তৈরী হয়েছে। বেশ ভালো লাগলো ব্যাপারটা।
আমাদের টার্ম কমান্দার ৯ডুজনে ব্রিগেডিয়ার জেনারেল মুস্তাফিজ এবং ব্রিগেডিয়ার তালেব স্যার) এবাব্রের অনুষ্ঠানে আমাদের সাথে বন্ধুর মতো ছিলেন। ব্রিগেডিয়ার জেনারেল তালেব স্যার বেসিক্যালী আমাদের কোর্সের সাথে একেবারে প্তোপ্রোতভাবে জড়িয়ে গেছেন। সবার সব অনুষ্ঠানে তিনি আসেন।