শেষ পর্যন্ত ব্যাপারটা ঘটেই গেলো যা আমি বহুদিন যাবত মনে মনে ভেবেছিলাম। তাহলে শেষ পর্যন্ত কি ঘটে গেলো? ব্যাপারটা আসলে কি? ব্যাপারটা একটু তাহলে খুলেই লিখি।
ছোট একটা ভূমিকাঃ বহুদিন যাবত আমি আর মুর্তজা সাহেব একসাথে গার্মেন্টেসের ব্যবসা করি। প্রায় ১৮ বছরের অধিক। এই বিস্তর সময়ের মধ্যে আমি চেষ্টা করেছি যাতে কখনো মুর্তজা সাহেবের সাথে আমার কোন বিষয়ে মনোমালিন্য না হয়। সমঝোতা এবং ছাড়ের ব্যাপারটায় আমি বেশী সচেতন ছিলাম সবসময়। আর এর একটা বিশেষ কারন ছিলো যে, আমি কখনো গার্মেন্টস ব্যবসায় জড়িত ছিলাম না, বায়ারদের সাথে আমার খুব একটা আনাগোনা ছিলো না, আর না আমি এই ফিল্ডে খুব এক্সপার্ট। অন্যদিকে মুর্তজা সাহেব আমার সাথে যুক্ত হবার আরো ১৬/১৭ বছর আগ থেকেই এই ফিল্ডে রয়েছেন বিধায় আমি ধরেই নিয়েছি তিনি যেটা করবেন সেটা একাস্পার্ট অপিনিয়নই। নামাজি লোক, হজ্জ করেছেন, ওমরা করেন প্রায়ই। অসৎ বলে কখনোই মনে করিনি। দ্বিতীয় কারনটি ছিলো-আমি আসলে একটা সেফ অফিস চেয়েছিলাম। আমি যদি অন্য কোথাও চাকুরিও করতাম, তাহলেও আমাকে হয়তো মাসিক কিছু বেতন দিতো এবং স্বাভাবিকভাবেই আমি শুধু কাজই করতাম। সেখানে অফিস করার একটা বাধ্যবাদকতা থাকতো, অফিস তাইমের একটা চক্কর ছিলো, ছুটিছাটা নিয়েও একতা সীমাবদ্ধতা ছিলো। কিন্তু আমার এই রিভারসাইডে সেগুলির কোনো বাধ্যবাধকতা ছিলো না। এটাই কি কম নাকি? তাই আমিমনে মনে এটাই ভাবতাম, আমি একজন স্বাধীন কর্মচারী। ক্ষতি কি? আমি তো আমার অন্যান্য বন্ধুদের থেকে বিস্তর ভাল আছি। ফলে ছাড় দিয়েও যদি এই পরিবেশটা রাখা যায় আমি রাজী ছিলাম।
যখন রিভার সাইড আমি নেই, তখন ছিলো ম্যানুয়াল মেশিনারিজ। সেই রিভার সাইড সুয়েটার্সের ম্যানুয়েল মেশিনারিজ থেকে ধীরে ধীরে যখন অটোমেটিক জ্যাকার্ড মেশিনে রুপান্তরীত হচ্ছিলো, তখন থেকেই বুঝতেছিলাম রিভার সাইড ধীরে ধীরে একটা ভালো পর্যায়ে দাড়াচ্ছে। ধীরে ধীরে রিভারসাইড কমপ্লায়েন্স কোয়ালিফাই করলো, ভালো ভালো বায়ার যুক্ত হলো। বেশ ভালো চলছে। বর্তমান রিভার সাইড যেখানে আছে সেখানে আমরা আশেপাশের সব দোকানপাট আস্তে আস্তে নিজেদের ভাড়ার কব্জায় নিয়ে প্রায় ৯০% জায়গা ফ্যাক্টরীর মধ্যে যোগ করে ফেলেছি। ফ্যাক্টরীর এই এক্সপাংশনের জন্য সবচেয়ে বেশী কার্যকর ভূমিকা রেখেছে কালা জরীফ নামে একজন নামকরা সন্তারসী। কিন্তু আমার সে খুব ভক্ত। ফ্যাক্টরীর আয়তন বৃদ্ধি পেয়েছে অনেক গুন। এরপরে আমরা আরো অনেক মেশিনারিজ আমরা ইম্পোর্ট করেছি এখনো করছি। সব মেশিনারিজ আমাদের রিভার সাইড ফ্যাক্টরীতে জায়গা হয় না বলে প্রথমে অতিরিক্ত ইম্পোর্টেড মেশিনারিজ গুলি আমরা গাজীপুরে এ-জেড নামক একটা ভাড়ার স্পেসে রেখে আমরা রিভার সাইডের কাজ গুলিই করি। এবার এ-জেড কি সেটা না বললে পরবর্তী কথাগুলি বুঝতে অসুবিধা হবে।
এ জেডঃ এ জেড হলো মুর্তজা সাহেবের নিজস্ব একটা ম্যানুয়েল নিটিং এর ফ্যাক্টরী যা তিনি এক সময় চালাতেন। এটা ছিলো গাজীপুর। সেখানে সব কিছুই ছিলো মুর্তজা সাহেবের। কিন্তু এ-জেড এর কোনো কমপ্লায়েন্স সিস্টেম ছিলো না, এখনো নাই। তিনি সেখানে লোকাল বায়ারদের সাথে লোকালী কাজ করতেন। মুর্তজা ভাই যখন রিভার সাইডের ২০০৬ সালের শেষের দিকে সাথে যুক্ত হন, তখন তিনি আর লোকাল বায়ারদের সাথে এ-জেডের মাধ্যমে কাজ করতেন না, সব কাজ রিভার সাইড থেকেই করতেন। অর্থাৎ এ-জেড রিভার সাইডের জন্য একটা সাব কন্ট্রাক্ট ফ্যাক্টরী হিসাবে পরিগনিত হয়। এর সমস্ত খরচ যেমন মুর্তজা সাহেবের, তেমনি এর সমস্ত লাভও মুর্তজা সাহেবের। এ নিয়ে আমার কোনো মাথা ব্যথা ছিলো না। কিন্তু সমস্যা হলো, যদিও এ-জেড আমাদের রিভার সাইডের সাব কন্ট্রাক্ট করে কিন্তু এর জন্য মালিকের অনেক খরচ বহন করতে হয়। সেই খরচটা কম নয়। ফলে, এক সময় মুর্তজা সাহেব আমাকে জানালো যে, আমরা যদি এ-জেড ফ্যাশনকে পুরুপুরি রিভার সাইডের সাথে মার্জ করি, তাহলে এ-জেড এর সব বেতন ভাতা, কারেন্ট বিল, পেটি ক্যাশ ইত্যাদি দিয়ে এর আউটপুট আমরা শতভাগ নিতে পারি, এর বিনিময়ে মুর্তজা সাহেবকে শুধুমাত্র মাসে আড়াই লক্ষ টাকা লাভ দিতে হবে। কারন সব মেসিনারিজ তো তার। আমি ব্যাপারটা নিয়ে কোনো দ্বিমত করিনি, আসলে আমি কখনো দ্বিমত করতে চাইও নাই। আমি রাজী হলাম, আর না হয়েও উপায় নাই কারন মুর্তজা ভাই চেয়েছেন আর সে রিভার সাইডের চেয়ারম্যানও বটে।
ধীরে ধীরে আমরা যখন অটোমেটিক জ্যাকার্ড মেশিন বাড়াতে থাকি, আর সেগুলি রিভার সাইডের বাইরে প্রথমে এ-জেড ফ্যাশন ফ্যাক্টরিতে স্থাপন করি। যদিও এ-জেড ফ্যাশনে কোন গ্যাস কানেকশন নাই, আমরা ইচ্ছে করলে এই সব জ্যাকার্ড মেশিন আমার পলাশপুর মা ইন্ডাস্ট্রিজেও (যেটা আমার নিজস্ব ফ্যাক্টরী) রাখতে পারতাম। কিন্তু কোনো না কোনো কারনে আমি বুঝতে পেরেছিলাম যে, মুর্তজা সাহেব পলাশপুর আমার জায়গায় কোনো মেশিনারিজ রাখতে চান না যদিও পলাশপুর রিভার সাইড থেকে খুবই কাছে এবং আমাদের নিজস্ব জায়গা। ব্যাপারটা আমার কাছে একটু রহস্যজনক মনে হলেও কিছু বলিনি কিন্তু মাথায় ছিলো যে, হয়তো কোনো এক সময়ে মুর্তজা সাহেব উক্ত পুরু মেশিন সমেত এ-জেড ফ্যাশন নিজের মনে করে আলাদা হয়ে যেতেও পারেন। ওই যে লেখার প্রথমেই বলেছিলাম যে, যে ব্যাপারটা আমি মনে মনে আচ করতেছিলাম, এটাই সেটা। তারপরেও আমি ভয় পাইনি কারন এটা দিবালোকের মতো সত্য যে, মেশিনারিজ তার নিজের নয়। ইচ্ছে করলেই মুর্তজা যা খুশি তাইই করতে পারবে না। উনি যে পরিকল্পনায় মনে মনে ছক কষছেন সেটা বাস্তবে রুপ হয়তো কোনোদিন নিবেও না যদিও তিনি এতাই আশা করে বসে আছেন।
যতোই আমরা অটোমেটিক মেশিনারিজ ইম্পোর্ট করছি, তার সাথে পাল্লা দিয়ে এ-জেড এর পুরাতন ম্যানুয়েল মেশিনগুলিও ফ্যাক্টরী থেকে বিতাড়িত হচ্ছে। আর সেই মেশিন গুলির বিক্রির টাকা কিন্তু মুর্তজা ভাইই নিচ্ছেন। যদিও এ জেড এর মেশিনারিজ এক সময় ক্রমেই নিঃস্ব হয়ে শুন্য হয়ে গেলো, তখন অবধি মুর্তজা ভাই সেই আড়াই লাখ টাকাই প্রোফিট নিতে থাকলেন। এ-জেড এ আগের কোনো মেশিনারিজ নাই, সেখানে সব খরচ আমাদের রিভার সাইড থেকে দেয়া, কারেন্ট বিল, গ্যাস বিল, নাইট বিল, ওভার টাইম বিল, সেলারী, পেটি ক্যাশ সব কিছু রিভার সাইড দেয়। রিভার সাইডের মেশিন, শুধু ভাড়ার কারনে জমির মালিককে আমরা তাকে ভাড়া দেই। এরপরেও মুর্তজা ভাই আড়াই লাখ টাকা প্রোফিট নিতেই থাকলেন। এটা অন্যায় এবং পাপ। ব্যাপারটা নিয়ে আমি খুব একটা উচ্চবাচ্য করছিলাম না। তার কারন হল-এই আড়াই লাখ টাকার মধ্যে আমি যদি ৬৫% তার শেয়ারের ভাগ ধরি তাতে আমার মাত্র লস হবে ৩৫% টাকার সমপরিমান বা প্রায় ৮৭৫০০ টাকার পরিমান। সুধুমাত্র এই কয়টি টাকার জন্য মুর্তজা ভাইয়ের সাথে আমি কোনো মনোমালিন্যের মধ্যে যেতে চাইনি। আমি মেনে নিয়েছি এক রকমের। এখানে বলে রাখা ভালো যে, এ-জেড এর ট্রেড লাইসেন্স, ভাড়ার চুক্তি, কারেন্ট বিল, এবং অন্যান্য করেস্পন্ডেন্স সব মুর্তজা ভাইয়ের নামেই হয়। আমি খুব কম যাওয়া আসি করি বিধায় বাইরের খুব কম লোকই জানে যে, এ-জেড আসলে কোন ফ্যাক্টরিই না, এবং এটা বেসিক্যালী রিভার সাইডের একটা অংশ। আর মুর্তজা ভাইও এতা বলতে পছন্দ করেন না যে, আমিও এ-জেড এর ম্যানেজিং ডাইরেক্টর। আমি বুঝতে পারি কিন্তু কিছু বলি না। হয়তো মুর্তজা ভাই বুঝতে পারেন না যে, আমি বুঝতে পারি। আমিও খুব কম যাই ওখানে। কারন উনিই যদি কষ্ট করে সামাল দেন, খামাখা আমি আর কষ্ট করার দরকার কি। চলুক না এভাবেই।
এর মধ্যে মুর্তজা ভাই তার এক খন্ড জমি (গাজীপুরেই), সেখানে নিজের একটা বিল্ডিং করার মনস্থ করেন। আমরা রিভার সাইডের পাশাপাশি আরো একটা ভিন্ন নামে কোম্পানী খুলেছিলাম, যার নাম আন-নূর এপারেলস। এখন একতা প্রশ্ন জাগতে পারে- আরেকটা নতুন নামে কোম্পানী কেনো খুললাম। সরকার বাহাদূর নতুন নতুন মার্কেট উদ্ভাবনের নিমিত্তে কিছু কিছু ফ্যাক্টরীকে ১% থেকে ৫% ইন্সেন্টিভ দেয়। যেমন জাপানি, ব্রাজিল কিংবা এ জাতীয় বাজার যা আমাদের তথাকথিত বাজার গুলির মধ্যে পড়ে না, সেসব সেক্টরের জন্য প্রনোদনা। আর এটা ক্যাশ প্রনোদনা। এই প্রনোদনায় যারা ৫০ মিলিয়ন ডলার পর্যন্ত রপ্তানি করে তারা পায় ৫% প্রনোদনা আর যারা ৫০ মিলিয়নের উপরে রপ্তানি করে তারা পায় ১% প্রনোদনা। আমাদের রিভার সাইড বছরে ১০০ মিলিয়নের উপরে রপ্তানি করে বিধায় আমরা মাত্র পাই ১% প্রনোদনা। তো আমরা এই আন নূর তৈরী করলাম যাতে এই কোম্পানি থেকে ৫০ মিলিয়নের কম রপ্তানি দেখিয়ে সরকারের কাছ থেকে ৫% ক্যাশ ইন্সেন্টিভ নিতে পারি। এই লক্ষ্য সামনে রেখে আমরা আননূর এর ব্যাপারে যা যা সার্টিফিকেট লাগে যেমন ই আর সি, আই আর সি, ট্রেড লাইসেন্স, ফায়ার লাইসেন্স, ইত্যাদি সেগুলি ধীরে ধীরে আপডেট করছিলাম। কিন্তু আমরা এ পর্যন্ত আন নুর থেকে কোনো প্রকার এলসি কিংবা ব্যাক টু ব্যাক খুলি নাই। এবার সেই আন নূর এপারেলস নিয়ে কিছু কথা বলি।
আন নূর এপারেলসঃ আমরা আরো নতুন মেশিন আনার চেষ্টা করছিলাম এবং সেই নতুন মেশিন গুলি আবার এখন না এ-জেড না রিভার সাইডে আর রাখা সম্ভব হচ্ছিলো। এবারো আমরা ইচ্ছে করলে নতুন সব মেশিনারিজ আমার পলাশপুরে রাখতে পারতাম কিন্তু ওই যে বললাম, মুর্তজা সাহেব কখনোই চান নাই যে, মেশিনারিজ আমার কোন নিজস্ব জায়গায় থাকুক। তার কোন না কোনো দুরভিসন্ধিমুলক পরিকল্পনা তো ছিলই। আমি তার প্রতিটি স্টেপ ওয়াচে রেখেছিলাম। “আন নূর এপারেলস” নামে যে নতুন একটা কোম্পানি জয়েন্ট স্টক থেকে রেজিষ্টার্ড করেছিলাম, তার শেয়ার হোল্ডার হলো আমরা দুজন এবং ৩য় শেয়ার হোল্ডার হিসাবে “রিভার সাইড সুয়েটার্স লিমিটেড”।
এই পরিস্থিতি যখন চলমান, তখন মুর্তজা ভাই গাজিপুরের তার নিজের জায়গায় (১০ শতাংশের উপর) ৬ তালা একটা বিল্ডিং কন্সট্রাক্সনের পরিকল্পনা করলেন। ওটাকে আমরা আননূর এপারেলস হিসাবে পরিগনিত করার লক্ষ্যেই করা হয়েছিলো যদিও বিল্ডিং করা মানেই সেটা আননুরের নয়। বিল্ডিং এবং জায়গা মুর্তজা ভাইয়ের, এটা আননূরের নয়, ফলে আননূর এপারেলস কখনই ওই বিল্ডিং ক্লেইম করতে পারে না যদিও সেখানে আননুর এপারেলস হিসাবে ফ্যাকটরি চলমান থাকে। আন নূর এপারেলসের সাথে মুর্তজা ভাইয়ের তৈরী করা বিল্ডিং এর মধ্যে সম্পর্ক আসলে শুধু একটা ভারা। আর কিছুই না।
যাই হোক, বিল্ডিং করার জন্য মুর্তজা ভাই রিভার সাইড থেকে অনেক টাকা নিলেন নিজের নামে ড্রইং হিসাবে। প্রায় সোয়া কোটি টাকা। মুর্তজা ভাই প্রথমে এই ড্রইংস গুলি নিজের নামে সাভাবিক নিয়মেই আমরা যেভাবে ড্রইং করি সেভাবেই ড্র করছিলেন। ফলে কোন অসুবিধা মনে হয় নাই। উনি ড্র করলে আমারো ড্র করার কথা এটাই নিয়ম, কিন্তু যদি ড্র আমি না করি, তাহলে এক সময় উনি বেশী ড্র করার কারনে আমার কাছে ঋণী হবেন এবং উনি আমাকে টাকা প্রদান করবেন এটাই এ যাবত কালের ফর্মুলা (আমাদের ড্রইংস এর যে নীতি সেতা নীচে একটূ আলাপ করলাম)। মুর্তজা ভাই খুবই চতুর লোক। যেই না বিল্ডিংটা রেডি হয়ে গেলো, তখন তিনি আমাদের রিভার সাইডের কিছু জ্যাকার্ড মেশিন ওখানে শিফট করতে আমাকে অনুরোধ করলেন এইভাবে যে, আমরা আর কিছু নতুন মেশিন আনবো, তখন ওই মেশিনগুলি আবার রিভার সাইডে স্থানান্তর করবো। আর কিছু জ্যাকার্ড এ-জেড থেকেও এই বিল্ডিং এ আনা হলো। ব্যাপারটা আমার কাছে খুব একটা ভালো ঠেকছিলো না। মনে হচ্ছিল মুর্তজা ভাই কোনো একটা এমন পরিকল্পনা করছেন যেখানে আমাকে রাখার দরকার নাই এবং উনি একা একাই ব্যবসা করতে চান। ফলে, যে সব মেশিনগুলির পেমেন্ট ইতিমধ্যে দেয়া শেষ হয়ে গেছে, সেসব মেশিন গুলিই ওখানে শিফট হচ্ছিল আর যে সব মেশিনগুলির পেমেন্ট এখনো শেষ হয় নাই, সেগুলি শুধু রিভার সাইডে রইলো। একটা সিম্পটম তো আমার কাছে প্রায় দ্রিশ্যমান মনে হচ্ছিলো যে, মুর্তজা ভাই সেপারেট হবার পরিকল্পনা করছেন।
এইটাই সেই আমার ভাবনা যেটা দিয়ে আমি শুরু করেছিলাম লেখাটা। তারপরেও আমি কিছুই তাকে বলিনি। শুধু অপেক্ষা করছিলাম দেখি কোথাকার জল কোথায় গড়ায়।
এবার একটু পিছনের দিকে যাই।
ড্রইংস সিস্টেমঃ রিভার সাইডে ডাইরেক্টরদের মধ্যে টাকা নেবার একটা সিস্টেম আছে। সে ব্যাপারে একটু আলোকপাত করি। রিভার সাইড সুয়েটার্স লিমিটেডে আমাদের টাকা নেবার সিস্টেম হলো যার যখন যা দরকার পড়ে সেটাই আমরা ড্রয়িংস আকারে নেই। পরবর্তিতে বছর শেষে ৩৫% আর ৬৫% অনুপাতে কে কত প্রাপ্য সেটা ক্যাল্কুলেট করি। একটা উদাহরন দেইঃ
(ক) ধরুন, আমার টাকা দরকার ৫০ লাখ টাকা। আমি রিভার সাইড থেকে ৫০ লাখ টাকা ড্রইংস করলাম আমার নামে। ঠিক এই সময়ে মুর্তজা সাহেব নিলেন ১০ লাখ টাকা। তাহলে হিসাবটা দাঁড়াবে এভাবে-
(১) এম ডি সাহেব ড্রইংস = ৫০ লাখ
(২) চেয়ারম্যান সাহেব ড্রইংস =১০ লাখ
মোট ড্রইংস = ৬০ লাখ
এমডি ৩৫% অনুযায়ি ড্রইং করতে পারেন =(৩৫/১০০) x ৬০০০০০ = ২১০০০০০ টাকা
চেয়ারম্যান ৬৫% অনুযায়ী ড্রইং করতে পারেন =(৬৫/১০০০) x ৬০০০০০০ = ৩৯০০০০০ টাকা
কিন্তু এমডি ড্রইং করেছেন = ৫০ লাখ। আর পার্সেন্টেজ অনুযায়ী ড্রইং করতে পারেন ২১ লাখ টাকা। অন্যদিকে চেয়ারম্যান ৬৫% অনুযায়ি ড্রইং করতে পারেন ৩৯ লাখ টাকা কিন্তু তিনি ড্রং করেছেন ১০ লাখ টাকা। তাতে এমডি ওভারড্র করেছেন ২৯০০০০০ টাকা, আর চেয়ারম্যান লেস ড্র করেছেন ২৯০০০০০ টাকা। এই ২৯০০০০০ টাকা এমডি সাহেব বেসিক্যালি দিয়ে দিবেন চেয়ারম্যান সাহেবকে। এটা ফ্যাক্টরি দেবার কথা নয়।
(খ) আরেকটা ফর্মুলা হলো (ওই একই নিয়ম আসলে) যে, ধরুন আমি ড্র করলাম ৫০ লাখ টাকা। এবার ৩৫% অনুযায়ি আমি যদি ৫০ লাখ টাকা ড্র করি, তাহলে চেয়ারম্যান সাহেব তার ৬৫% অনুযায়ী ড্র করতে পারবেন ৯৩ লাখ টাকা। সেক্ষেত্রে ফ্যাক্টরি এমডি এবং চেয়ারম্যানকে (৫০+৯৩) = ১৪৩ লাখ টাকা প্রদান করবে। এখানে কোনো ডাইরেক্টর কারো কাছেই ব্যক্তিগতভাবে রিনী নয়। কিন্তু আগেরটায় ডাইরেক্টরগন একে অপরের উপর রিনী থাকেন।
আমরা দুভাবেই টাকা ড্রইংস করি।
এই প্রথম পদ্ধতিতে আমার এবং মুর্তজা ভাইয়ের মধ্যে ড্রইংস নিয়ে একটা বিস্তর ফারাক হয়ে যায়। ২০১০ থেকে ২০১৪ পর্যন্ত আমি মুর্তজা ভাইয়ের থেকে অথবা ফ্যাক্টরী থেকে এই নিয়মে প্রায় ৯ লাখ টাকা পাইতাম। কিন্তু ২০১৪ সাল থেকে ২০১৮ সাল অবধি আমি প্রায় এক কোটি চুয়াল্লিশ লাখ টাকা বেশি ড্র করে ফেলি। এবং মুর্তজা ভাই ফ্যাক্টরী থেকে এক কোটি চুয়াল্লিশ লাখ টাকা কম ড্র করেন। এর মানে এই যে, বেসিক্যালি মুর্তজা ভাই এই এক কোটি চুয়াল্লিশ লাখ টাকা আমার কাছে ব্যক্তিগতভাবে প্রাপ্য।
নাজিমের আমলে ফ্যাক্টরীকে দেয়া আমার অগ্রীমঃ
রিভার সাইড সুয়েটার্স যখন আমি নাজিম থেকে একেবারে বুঝে নেই, তখন নাজিম উদ্দিন আমার কাছ থেকে দুই কোট পচিশ লাখ টাকা অগ্রীম নিয়েছিলো। আর এটা ছিল কিছু ক্যাশে আর বেশীরভাগ জমির বিনিময়ে, প্রায় ৩৩ একর জমির মাটি নাজিম উদ্দিন কেটে বসুন্ধরাকে দিয়েছিলো। এখন যেকাহ্নে মোল্লার হাট, তার পাশে যে খালটা আছে, এই পুরু খালটা আমাদের জমির উপর নির্মিত।
বর্তমানে রিভার সাইড যে বিল্ডিং এর উপর স্থাপিত, সেই বিল্ডিংটা ছিলো নাজিমুদ্দিনের। প্রতিমাসে এই রিভার সাইড বিল্ডিং এর ভাড়া বাবদ ধার্য্য ছিলো আড়াই লাখ টাকা। আর এ ব্যাপারে একটা লিখিত চুক্তিও ছিল। নাজিমুদ্দিন ২০১৬ সালে মারা যাওয়ার পর, তিনজন (১) বারেক সাহেব (২) নাজিমুদ্দিনের পরিবার (৩) কালা জরীফ এই বিল্ডিং এর মালিকানা দাবি করে আমার কাছ থেকে ভাড়া আদায়ের চেষ্টা করে। কিন্তু কেহই আমার দেয়া অগ্রীমের টাকার জিম্মাদার হতে রাজি ছিল না।
অতঃপর আমি আমার অগ্রীম টাকা সমন্নয় করার লক্ষে আমি ভাড়া দেয়া বন্ধ করে দেই এবং ভাড়ার মাধ্যমে আমি আমার অগ্রীম টাকা সমন্নয় করার চেষ্টা করি। এভাবে প্রায় ৪০ মাস আমি ভারা না দিয়ে এক কোটি টাকা সমন্নয় করি কিন্তু টাকাটা আমি ফ্যাক্টরি থেকে কখনো নেইনি। ফ্যাক্তরিতেই টাকাটা ছিল। ৪০ মাস পর কালা জরিফ আমার অগ্রিম টাকার জিম্মাদার হয় এবং সে এইমর্মে জানায় যে, বাকি যে সোয়া কোটি টাকা বাকী আছে, সেই টাকা থেকে সে এক কোটি টাকার জিম্মাদার হবে। ২৫ লাখ টাকা তাকে মাফ করতে হবে।
ফলে রিভার সাইডের পক্ষে আমি নিজে মোট ২ কোটি টাকা অগ্রীম প্রদান করি যা আমি প্রাপ্য রিভার সাইডের কাছে। ১ কোটি টাকা ভাড়া সমন্নয় আর আরেক কোটি সরাসরি ক্যাশ এডজাষ্টমেন্ট জরীফের অগ্রীম নেয়ার সাথে।
ওভার ড্রইং বা আন্ডার ড্রয়িং কিভাবে এডজাষ্ট হয়ঃ
আমরা আমাদের চাহিদা মতো যখন যা টাকা লাগে সেটাই নিতে থাকি ফ্যাক্টরি থেকে। দুজনের মট ড্রয়িংএকসাথে যোগ করে আমরা তার মধ্যে ৩৫% -৬৫% হিসাবে ভাগ করে দেখি কে কত বেশী ওভার বা লেস ড্র করেছে। যিনি অভার ড্র করেছেন তিনি আসলে অন্য জনের কাছে ঋণী। মুর্তজা সাহেব একটু বেশী চালাক মানুষ। যখন তিনি আমার কাছে ঋণী থাকেন, তখন কিছুই বলেন না, চুপচাপ থাকেন। কিন্তু কোনো কারনে যদি আমি উলটা তার কাছে ঋণী থাকি, তিনি সেই সুযোগটা মিস করেন না, তিনি হয় আমার জমি না হয় অন্য কোনো এসেট বা কোনো এসেট না থাকলে আমার মুল শেয়ারের হাত দেন। আর এভাবেই আমি আমার আর্মি থেকে পাওয়া পুর্বাচল প্লটটা তার কাছে হারিয়েছি, এভাবেই আমি বেশ কিছু সাফারও করেছি। আমি তার মতো নাক কান উল্টিয়ে বেহায়ার মতো কোন কথা বলতে পারিনা। কিন্তু সে পারে।
তো ২০১৮ সালে হটাত করে আমরা আবার আমাদের ড্রইংস নিয়ে হিসাব করি (হিসাবটা উনিই করেন সুযোগ বুঝে) এবং তাতে দেখা যায় আমি ওভার অল প্রায় ১ কোটি ৪৪ লাখ টাকা তার থেকে বেশী ড্র করেছি। অর্থাৎ উনি ১ কোটি ৪৪ লাখ টাকা কম ড্র করেছেন।
ঠিক এই সময়ে উনি একাউন্ট অফিসার মাধ্যমে আমাকে টাকাটা সমন্নয় করতে ইংগিত দিলেন। আমি প্রস্তুত ছিলাম না কারন আমার পরিবারে তখন বেশ কিছু সেটব্যাক চলছিল। যেমন উম্মিকার বিয়ের পর রানার সাথে এবং রানার পরিবারের সাথে আমাদের বেশ একটা কোন্দল চলছিলো। অন্যদিকে আমার মা ইন্ডাস্ট্রিজ নিয়ে আমি একটু বিপাকেই ছিলাম। বেশ কিছু লোনের মধ্যে জর্জরিত ছিলাম। মুর্তজা সাহেবের এই ইংগিতে আমি অসস্থি ভোগ করছিলাম। একটু মেজাজও খারাপ হচ্ছিলো। তখন সবেমাত্র আমরা অটোমেশনে যাচ্ছি। অর্থাৎ ম্যানুয়েল মেশিন থেকে অটোমেটিক মেশিনে সুইচ করছি। যাই হোক, সবকিছু মিলিয়ে মনমেজাজ অতোটা ভাল যাচ্ছিলো না। খুব চাপ ফিল করছিলাম। মনে মনে ভাবলাম, মুর্তজা ভাইয়ের ডিমান্ড অনুযায়ী আমার হাতে থাকা কিছু শেয়ার ওনার কাছেই বিক্রি করে দিয়ে মা ইন্ডাস্ট্রিজের লোন, আমার ঋণ, এবং অন্যান্য কিছু লায়াবিলিটিজ শোধ করে ফ্রি হয়ে যাই। সে মোতাবেক আমি একটা নোট শিট তৈরী করি। মুর্তজা ভাইয়ের পরিকল্পনা ছিল আমার থেকে প্রাপ্ত শেয়ার গুলি তিনি তার স্ত্রীর নামে লিখে নিয়ে ওনাকেও ডাইরেক্টর পদে ফ্যাক্টরীতে আনবেন। আমার আসলে বুঝতে বাকী রইলো না যে, উনি ধিরে ধীরে আমাকে আউট করে দিয়ে এখন তিনি পুরু পরিবার কেন্দ্রিক করতে চাচ্ছেন। অনেক সুদুর পরিকল্পনা। এখানে একটা কথা বলা বাহুল্য যে, এর আগেও তিনি আমাকে বাদ দিয়ে কখনো কখনো অন্যের সাথে যৌথ ব্যবসায় মনোনিবেশ করতে গিয়ে লস করেছেন এবং আবার এই রিভার সাইডেই ফিরে এসেছেন। কিন্তু আবারো চেষ্টা করেছেন। কখনো আমাকে জানিয়ে, কখনো আমাকে না জানিয়ে। বেশীরভাগ ক্ষেত্রেই গোপনে। কিন্তু প্রতিবারই উনি তাতে বিশাল অংকের টাকা লসই করেছেন এবং আবার ফিরে এসছেন এই রিভার সাইডেই।
যাই হোক যেটা বলছিলাম। মুর্তজা সাহেব এবার আমার ওভার ড্রইংস নিয়ে বা ওনার আন্ডার ড্রইংস কে কেন্দ্র করে আমার ৩৫% শেয়ার থেকে রিভার সাইডের বর্তমান বাজার মুল্যের শেয়ায়র ভ্যালুতে সেই ওভার ড্রইংস এর টাকায় সম পরিমান শেয়ার তার স্ত্রীকে দিতে বললেন। খুব ব্যথা লাগল মনে এবং কষ্টও লাগলো। কেনো কষ্ট লাগল সেটাও পরে আসছি। এই কষ্টভরা আবেগে আমার মনে হলো, ধ্যুত, এতো যখ লোভ মুর্তজার সাহেবের, দেই শেয়ার দিয়েই দেই। তাই আমি একটা প্রস্তাবনা লিখি ঠিক এভাবেঃ (এখানে বলা উচিত যে, আমার প্রস্তাবনায় মারাত্তক একতা ভুল ছিল যা আমি প্রস্তাব লিখার সময় মাথাতেই ছিল না।)
রিভার সাইড এর মেজর আখতারের ২০% শেয়ার বিক্রির প্রস্তাবনা সম্পর্কে নোট
লোনের হিসাবঃ
(১) রিভার সাইড থেকে মেজর আখতার কর্তৃক লোন নেওয়া = টাকা ১,৪৪,৬৯,৩০৫.০০
(২) রিভার সাইড থেকে মেজর আখতার পাবে = টাকা ৬১,৫০,০০০.০০ ******
—————————————————————————————— ——————-
রিভার সাইডে মেজর আখতারের অবশিষ্ট লোন থাকবে = টাকা ৮৩,১৯,৩০৫.০০
***** টাকা ৬১,৫০,০০০.০০ এটাই ছিলো মারাত্তক একটা ভুল। সেটা কিভাবে দেখি তাহলে;
12.04.2018
(1) Rental Dues:
- Year-2014 = 02 Months
- Year 2015 = 12 months
- Year-2016 = 12 Months
- Year- 2017 = 12 Months
- Year- 2018 = 01 Months
—————————————————————-
Total Months Rental Dues = 39 Months
Each Months Rental = 250000.00
—————————————————————
Total Taka Dues as Rental = 9750000.00
Less Money
(a) Loan to Barek = 700000
(b) Bribe to OC Munir (Keranigonj) = 500000
(c ) Loan to Shamsu Bhai = 300000
(d) Factory Repair = 2350000
—————————————————————————–
Total Deduction = 3850000
So, Major Akhtar was generous to waive the above expenditures from his personal advance and agreed to get 61500000 taka instead of 1 Crore.
৩৮৫০০০০ টাকা ছাড় দেয়াটা কিন্তু ভুল ছিলো না, আমার অগ্রোম তাকা থেকে মুর্তজা ভাইয়ের অনুরোধে ৩৮৫০০০০ টাকা আমি ছাড়তে কষ্ট হয় নাই যেমন কষ্ট হয় নাই যখন জরীফও ২৫ লাখ তাকার জিম্মাদার হয় নাই। তাতে আমি মোট (২৫ + সাড়ে ৩৮) =সাড়ে ৫৩ লাখ টাকা ছাড় দিলাম। এতাও কোন মারাত্তক ভুল না, এতা ইচ্ছাক্রিতভাবে ছাড়। মারাত্তক ভুলটা হয়েছে যে, আমি যে আরো ১ কোটি টাকা জরীফকে অগ্রীম হিসাবে দিয়েছি এবং সে আমার বাকি ১ কটি টাকার যে অগ্রিমের জিম্মাদার হয়েছিলো, সেই ১ কোটি টাকা আমি ধরিই নাই। সেই তাকা না ধরার কারনে আমি শুধু লিখেছিলাম যে, আমি রিভার সাইড থেকে পাই
(২) রিভার সাইড থেকে মেজর আখতার পাবে = টাকা ৬১,৫০,০০০.০০ ******
অথচ হবার কথা = টাকা ১,৬১,৫০,০০০.০০
যদি এতাই হয়, তাহলে তো আমি ওভার ড্র করলেও রিভার সাইড থেকে প্রাপ্য টাকা থেকে আমি মুর্তজা ভাইকে টাকা ১,৪৪,৬৯,৩০৫.০০ টাকা পে করেও আমার কাছে আর ১৭/১৮ লাখ টাকা সারপ্লাস থাকে। আমার তো কোনো শেয়ার বিক্রি করার কন কারনই নাই।
আমার এই ১ কোটি টাকার কথা একেবারেই মনে ছিলো না, আর মুর্তজা ভাইয়ের হয়ত মনে ছিলো কিন্তু তিনি চেপে গেছেন। ফলে আমার ভুলে যাওয়া ১ কোটি টাকা ছারাই আমার প্রস্তাবনা দারায় এরুপঃ
লোনের হিসাবঃ
(১) রিভার সাইড থেকে মেজর আখতার কর্তৃক লোন নেওয়া = টাকা ১,৪৪,৬৯,৩০৫.০০
(২) রিভার সাইড থেকে মেজর আখতার পাবে = টাকা ৬১,৫০,০০০.০০ ******
—————————————————————————————— ——————-
রিভার সাইডে মেজর আখতারের অবশিষ্ট লোন থাকবে = টাকা ৮৩,১৯,৩০৫.০০
শেয়ার বিক্রিঃ
(৩) ১০০% শেয়ারের মুল্য = টাকা ১৩,১৫,০০০,০০.০০
(৪) ২০% শেয়ারের মুল্য = টাকা ২,৬৩,০০,০০০.০০
(৫) রিভার সাইডের অবশিষ্ট লোন বাবদ মাইনাস হবে = টাকা ৮৩,১৯,৩০৫.০০
————————————————————————————————————-
মেজর আখতারের সব লোন পরিশোধ হবার পর টাকা পাবে = ১,৭৯,৮০,৬৯৫.০০
নোটঃ
ক। যদি মেজর আখতারের শেয়ার বিক্রির টাকা নিজস্ব সোর্স থেকে এককালীন পরিশোধ করা হয় তাহলে ভাবি বা মুর্তজা ভাই মেজর আখতারকে মোট ১,৭৯,৮০,৬৯৫.০০ টাকা পরিশোধ করিবেন। তাহলে দুজনের ড্রইংস রিভার সাইডে শুন্য থাকবে। এখানে উল্লেখ থাকে যে, মুর্তজা ভাই যে টাকা রিভার সাইডকে লোন দিয়েছেন, তা এখানে ধরা হয় নাই। সেটা তিনি রিভার সাইড থেকে পৃথকভাবে উত্তোলন করিবেন।
খ। আর যদি মুর্তজা ভাই উপরোক্ত ১,৭৯,৮০,৬৯৫.০০ টাকা রিভার সাইড থেকে ড্রইং করে মেজর আখতারকে পরিশোধ করতে চান, তাহলে রিভার সাইড মুর্তজা ভাইকে এবং মেজর আখতারকে নিম্নবর্ণীতভাবে টাকা ড্রইং দেখাতে হবেঃ
(১) মুর্তজা ভাই ড্র করবেন (৬৫%) = টাকা ১,৭৯,৮০,৬৯৫.০০
(২) মেজর আখতার ড্র করবেন (৩৫%) = টাকা ৯৬,৮১,৯১৩.০০
—————————————————————————————————–
রিভার সাইড থেকে দুজনের নামে মোট টাকা ড্র হবে = টাকা ২,৭৬,৬২,৬০৮.০০
গ। বিশেষ নোটঃ যদি মেজর আখতার রিভার সাইডে তার করা অবশিষ্ট লোন যার পরিমান টাকা ৮৩,১৯,৩০৫.০০ এর বিনিময়ে প্রথমেই শেয়ার ট্রান্সফারের মাধ্যমে শুন্য করতে চান, তাহলে হিসাব দাড়াবে এই রকমঃ
(৩) টাকা ১৩১৫০০০.০০ =১% শেয়ার
(৪) টাকা ৮৩,১৯,৩০৫.০০ = ৬.৩৩% শেয়ার
(৫) সেক্ষেত্রে মেজর আখতারের শেয়ার বাকী থাকে = ১৩.৬৭%
(৬) উক্ত ১৩.৬৭% শেয়ারের মুল্য হবে =(১৩.৬৭% x ১৩১৫০০০.০০)
=টাকা ১,৭৯,৮০,৬৯৫.০০
ঘ। সেক্ষেত্রে, তখন মুর্তজা ভাইয়ের শেয়ার পরিমান দাঁড়ায় (৬৫% + ৬.৩৩%) = ৭১.৩৩% এবং মেজর আখতারের শেয়ারের পরিমান দাড়ায় ১৩.৬৮% । তখন যদি মুর্তজা ভাই পুরু পেমেন্টটা রিভার সাইডের ড্রইং থেকে পরিশোধ করতে চান, তাহলে মেজর আখতার এবং মুর্তজা ভাইয়ের ড্রইং হবে নিম্নরূপঃ
(৭) মুর্তজা ভাই ড্র করবেন (৭১.৩৩%) = টাকা ১,৭৯,৮০,৬৯৫.০০
(৮) মেজর আখতার ড্র করবেন (২৮.৬৮%) = টাকা ৭২,২৭০৬৫.০০
———————————————————————————————
রিভার সাইড থেকে দুজনের নামে মোট টাকা ড্র হবে = টাকা ২,৫২,০৭,৭৬০.০০
ঙ। এখানে রিভার সাইডের নতুন অগ্রিম এর টাকা দেওয়া আছে ১৫,০০,০০০ টাকা যা ৬৫% এবং ৩৫% হিসাবে পরিগনিত ছিলো। সেক্ষেত্রে সব কিছু নতুন শতকরা অনুপাতে মেজর আখতার এর পক্ষে টাকা ৫২৫০০০.০০ এবং মুর্তজা ভাইয়ের পক্ষে বাকী ৯৭৫০০০.০০ টাকা। কিন্তু ১৫% শেয়ার ঠিক থাকার কারনে উক্ত টাকা ৫২৫০০০.০০ থেকে ৩০০০০০.০০ টাকা মেজর আখতারের পক্ষে গন্য হবে। অর্থাৎ
রিভার সাইড থেকে দুজনের নামে মোট টাকা ড্র হবে = টাকা ২,৫২,০৭,৭৬০.০০
গ্রাউন্ড ফ্লোরের অগ্রিম থেকে প্রাপ্য টাকার পরিমান = টাকা ৩০০০০০.০০
————————————————————————————
মেজর আখতার মোট টাকা পাবেন = টাকা ২,৫৫,০০,০০০.০০
চ। সোনালী ব্যংকে মোট লোনের পরিমান = টাকা ২,৫০,০০,০০০.০০ (সম্ভবত, একটা ব্যাংক স্ট্যাটমেন্ট নিতে হবে চূড়ান্ত মোট কত টাকা আছে তা জানার জন্য)। উক্ত টাকার পরিশোধের ভার যদি মুর্তজা ভাই নেন, এবং রিভার সাইড থেকে উত্তোলনের মাধ্যমে তা পরিশোধ করেন, তাহলে উক্ত টাকার যে সুদ হবে সেটার দায়িত্বও মুর্তজা ভাইকে নিতে হবে।
ছ। এখানে মিনহজ ভাইয়ের লোনের টাকা হিসাবের মধ্যে নেওয়া হয় নাই।
প্রস্তাবনাঃ
ক। মুর্তজা ভাই, এখন আপনি সিদ্ধান্ত নিবেন, বিশেষ নোটের আগের হিসাবমতে যাবেন নাকি বিশেষ নোটের মাধ্যমে শেয়ার ট্রান্সফারে যাবেন। আমি এখানে কোনো প্রকারের মন্তব্য করতে চাই না। আপনার সিদ্ধান্তই চুড়ান্ত।
খ। শেয়ার পরিবর্তনের পরে ভাবীকেও সমান পরিমান রিমুনিরেশন দিতে হবে। আমি সেটাই চাই। আর বর্তমান রিমুনিরেশনে আমার মতে কোনো পরিবর্তন চাই না। বাড়তে পারে কিন্তু কমানো ঠিক হবে না। অর্থাৎ সবাই আড়াই লাখ করে ড্র করবেন যতোদিন আমরা আবার না বাড়াই।
আমার এই প্রস্তাবনার বিপরীতে আমরা কেহই কোথাও যুগ্মভাবে সাইন করিনি। না মুর্তজা ভাই এই প্রস্তাবনার ব্যাপারে কিছু বলেছে। উনি মনে মনেই ব্যাপারটা রেখেছিল কারন তার কাছেও আমাকে নগদ টাকা দিয়ে প্রস্তাবনায় বর্নীত শেয়ারের টাকা দিতে পারতো না।
ফলে আমি ভুল করে হলেও তথাকথিত ১ কোটি ৪৪ লাখ ওভার ড্রইংস এর কারনে মুর্তজা ভাইকে আমার শেয়ার থেকে ৬% শেয়ার লিখে দেই নাই।
মুর্তজার ভাইয়ের শেয়ার তার স্ত্রীর নামে ট্রান্সফার
মুর্তজা ভাই কয়েকবার সফটভাবে আমাকে আমার উক্ত ৬% শেয়ার তার স্ত্রীর নামে ট্রান্সফারের কথা বল্লেও আমি ওনাকে সাফ জানিয়ে দিয়েছিলাম যে, আমার এক কোটি টাকা ভুলে কাউন্টে না আনার কারনে উক্ত ৬% শেয়ায়ের উদ্ভব হয়। যেহেতু টাকাটা তো আসলেই আমি দিয়েছি এবং প্রস্তাবনার সময় কাউন্ট করতে ভুলে গেছি, তারমানে এই নয় যে, আমি ওভার ড্র এর কারনে ৬% শেয়ার ভাবীকে ট্রান্সফার করবো। কিন্তু তিনি আমাকে এটাও বলেন যে, দরকার হয় আমি যেনো সেই টাকা রিভার সাইড থেকে নিয়ে নেই কিন্তু ভুল প্রস্তাবনার বিপরীতে উদ্ভব ৬% শেয়ার আমি তার স্ত্রীকে দিয়েই দেই। আমিও বারবার তাকে সাফ জানিয়ে দিচ্ছিলাম যে, এটা নীতিগতভাবে সথিক নয় এবং আমি আমার শেয়ার ট্রান্সফার করবো না।
অতঃপর তিনি তার ৬৫% শেয়ার থেকে নিজেই তার স্ত্রীকে ১৫% শেয়ার প্রদান করেন এবং তার জন্যেও তিনি অনেকটা জোর করেই আমাদের সম পরিমান সেলারী অর্থাৎ ৩ লাখ টাকার সেলারী উত্তোলন করার জন্য চাপ দেন এবং সেই টাকা তিনি নিতেই থাকেন। অথচ ভাবি ডাইরেক্টর হিসাবে একদিনও এক ঘন্টার জন্যেও অফিস করেন না।
আমি বৃহত্তর সার্থেই এটাও মেনে নিয়েছিলাম। কিন্তু আমি তার উপরে নাখোস ছিলাম। আমার মনে একটা কষ্ট তৈরী হচ্ছিলো। আমিও একটা জিনিষ বুঝতেছিলাম যে, আমার সাথে মুর্তজার ভাইয়ের দূরুত্ত ধীরে ধীরে বাড়ছিলো। আমারো ত্যাগ স্বীকার করার লিমিটের মধ্যে ‘পয়েন্ট অফ নো রিটার্ন” এ চলে আসছিলাম।
পয়েন্ট অফ নো রিটার্ন শুরু
(ক) গত ৪ এপ্রিল ২০২৪ তারিখে মুর্তজা ভাই আবারো সেই ৬% সেয়ারের কথা আমার কাছে এসে উত্থাপন করলেন। এবার সত্যিই আমি আর সহ্য করতে পারিনি। আমি তার সাথে খুব জোরাল সুরেই রাগ করে বললাম যে, আমি যেহেতু রিভার সাইড থেকে ১ কোটি ৭০ লক্ষ টাকা পাই, সেই টাকা ধরলে আমার শেয়ার ট্রান্সফার করার কথাই আসে না, তাহলে বারবার উনি সেই একই কথা কেনো বলছেন? আমি খুব রাগারাগি করি এবং এক সময় বলি যে, আমি রিভার সাইডে কোনো শেয়ার নিয়েই থাকবো না, সব শেয়ার আমি মুর্তজা সাহেবকে দিয়ে দেবো, আমার শেয়ারের টাকা পরিশোধ করে আপ্নারা স্বামী স্ত্রী রিভার সাইড চালান, দেখি আপ্নারা এই ফ্যাক্টরী চালাইতে পারেন কিনা। আমি থাকবো না রিভার সাইডে। রাগারাগি করে আমি ফ্যাক্তরী থেকে বেরিয়ে আসি।
ব্যাপারটা আসলে যেনো সকল পরিবর্তন আর সকল মোরচার শুরু।
এখানে ছোট একটা অন্য কাহিনী না বললেই নয়।
আমার সাথে যখন মুর্তজা ভাই এরুপ উলটাপালটা যাচ্ছেতাই ব্যবহার করা শুরু করছিলেন অথবা আগের মতোই যখন তিনি মনে করছে যে, তিনি যা চাবেন সেটাই হবে, আর অন্য কার কোন মতামত বা চয়েজ নাই বা থাকলেও তার কিছুই যায় আসে ন, ঠিক সে সময়ে জরীফ মুর্তজা ভাইয়ের উপর এতোটাই নাখোস হচ্ছিলো মুর্তজা ভাইয়ের কিছু জরীফের উপর আচরনে যে, এবার জরীফ স্টিম
(১) ৬% শেয়ার ট্র্যান্সফারের ইতিহাস থেকে ঘটনা শুরু।
(২) ভাবীকে ১৫% শেয়ার দিয়ে বেতন নেয়া। অথচ ভাবী কখনই অফিস করেন না।
(৩) এ জেড ফ্যাক্টরীর সব মেশিনারিজ রিভার সাইডের হওয়া সত্তেও প্রতি মাসে প্রথমে আরাই লাখ পরবর্তীতে ভাবীর বেতন চালু হবার পর ১ লাখ করে এস্টিমেটেড প্রোফিট নেয়া।
(৪) ২২ ফ্রেস যদিও কোনো সুয়েটার করে না, তারা করে নিট বা ওভেন। সেই নিট ওভেনের এল সি, টাকা দেয়া হয় সব রিভার সাইড থেকে। কিন্তু এর কমিশন নেন শুধু তিনি একা।
(৫) জীপ ০৬৩৩ টা সম্পুর্নই রিভার সাইডের টাকায় ক্রয় করা। তাহলে আমি যখন কিনলাম, সেটা উনি টাকা নিলেন কেনো?
(৬) আন নূর এপারেলস লিমিটেড শুধু মাত্র একটা পেপার সর্বস্ব কোম্পানী। এর কোনো মেশিনারিজ নাই। কিন্তু উক্ত মেশিন সমেতে উনি ফ্যাক্টরী চালানর পরিকল্পনায় কেনো আন নুরের শেয়ার চাইলেন?
(৭) উনার গাজিপুরের বিল্ডিং বানানর নিমিত্তে প্রথমে উনি পার্সোনাল ড্রয়িং হিসাবে লোন নিয়েছেন। কিন্তু হতাত করে কথা নাই বার্তা নাই, পুরু ১ কোটি ২০ লাখ টাকা উই বিল্ডিং এর এডভান্স হিসাবে একাউন্টকে নির্দেশনা দিয়ে দিলেন যেন এটা ওনার পার্সোনাল লোন আকারে না থাকে। কেনো?
(৮) মামুনকে সাড়ে বারো লাখ টাকার সুতা আমরা বিক্রি করেছি। কিন্তু মামুন সেই সুতার টাকা না দিয়ে সে তার মতো করে মাল বানাইয়া পরে টাকা দিবে, এটা কেনো হবে?
(৯) মামুনের ওখানে মোট মেশিন আছে (লিংকিং) ৩৪২ টা, আমরা সব কিছুর খরচ বহন করি, পেটি ক্যাশ, মামুনের ৫০ হাজার টাকা সেলারী, কারেন্ট বিল, বিল্ডিং ভাড়া, শ্রমিকের সেলারী, ফিক্সড সেলারি এবং প্রোডাকশন সেলারিও। অথচ সেখানে মাত্র ৩০ টা মেশিন চলে। এর মধ্যে ২০ টা মেশিন চলে কন্ট্রাক্টে। মাত্র ১০ টা মেশিন চলে পার্মানেন্ট শ্রমিক দিয়ে। অথচ উনি এ ব্যাপারে কিছুই বলেন না। শুধু মামুনকে রিহেবিলেট করার জন্য রিভার সাইড এতো লস করবে কেনো/
(১০) মিজান এক্সেসরিজের ব্যবসা করে। দাম নেয় প্রায় কখনো দ্বিগুণ, কখনো চার গুন। উদাহরন দেই,
একটা ব্যাক বোর্ডের দাম বাজারে পাওয়া যায় মাত্র ২.৬৫ করে, কিন্তু মিজান বিল করে ৪.৭৫ করে। মিজান প্রতি ব্যাক বোর্ডে লাভ করে প্রায় ২.১০ পয়সা করে। আমাদের ফ্যাক্টরীতে এই ব্যাক বোর্দ লাগে মাসে প্রায় আরাই লাখ পিস। মানে শুধু ব্যাক বোর্ড থেকেই মিজান কোনো ইনভেষ্টমেন্ট না করে লাভ করে মাসে ৫ লাখ টাকা।
টিস্যু পেপারের দাম বাইরে প্রতি রীম ৭৮ টাকা করে। অথচ মিজান এর দাম নেয় ১৮২ টাকা। প্রায় ৫০০ রিম টিস্যু পেপার লাগে রিভার সাইডে। এসব মাল কিনার জন্য আমরা ওকে এডভান্স টাকা দেই, আমাদের গাড়ি ইউজ করে, মিজান শুধু ফোনে বলে দেয় সাপ্লাইয়ারকে। মধ্যখানে মিজান প্রতিমাসে কম করে হলেও ১০ লাখ টাকা লাভ করে এ জেড এক্সেসরিজ দিয়ে।
সাধারন প্রিন্টিং রীম কাগজের দাম বাইরে ৩৯৫ টাকা থেকে ৪০০ টাকা। মিজান এবং তার দুলাভাই নেসারের কোম্পানী প্রতি রীম কাগজের দাম নেয় ৬৫০ টাকা।
এসব ব্যাপারে উনি নির্বিকার।
(১১) ওনার বড় ভাই ক্যামিকেল সাপ্লাই দেয়, ওনার দুলাভাই (এন এন ট্রেডার্স) অন্যান্য মাল সাপ্লাই দেয়, মিজান ফ্যাক্তরির প্রোডাকপ্সহন রিলেটেড এক্সেসরিজ সাপ্লাই দেয়। হরিলুটের মতো অবস্থা।
(১২) আমি একটা ছেলেকে (বাঙলা কলেজের এক প্রফেসর নাম শরিফুল এর ছোট ভাই) আমাদের স্টোরে নিয়োগ দিতে চেয়েছিলাম, কিন্তু উনি ওই ছেলের অভিজ্ঞতা আছে কিনা, কোথায় কতদিন কাজ করেছে এসব বাহানা দিয়ে তাকে আর নেয়াই হয় নাই। পরবর্তিতে মিজানের এ-জেড এক্সেসরিজে ২০ হাজার তাকার সেলারি দিতে গেলে মিজান এগ্রি করে বটে কিন্তু প্রথম দিন মিজান তাকে যে ব্রীফটা করেছিলো সেটা মারাত্তক নেগেটিভ থাকায় ওই ছেলে আর আসেই নাই। অন্যদিকে ঊনার পরিবারের কম পক্ষে ২০ জন আনাড়ি আত্তীয়কে উনি এই ফ্যাক্তরিতে নিয়োগ দিয়ে কাজ শিখিয়ে নিয়েছেন। উনি শুধু আমার বেলায় কাউকে ছাড় দিতে নারাজ।
(১৩) গত ২০২০/২১ সালে লেফট ওভার বিক্রি হয়েছিলো এক কোটি ২ লাখ টাকা। এতার ব্যাপারে কখনোই উনি আমার সাথে পরামরত্রশ করেন নাই। যখন কে কত ড্র করেছি এটা নিয়ে ঝামেলা হলো, তখন আমি জানতে পারলাম যে, উনি এক কোটি ২ লাখ টাকা নিজের জন্য ব্যবহার করেছেন। কত কে কখন টাকা ড্র করেছি, এটার হিসাব না ধরলে হয়তো আমি বুঝতেই পারতাম না যে, এই এক কোটি ২ লাখ টাকা উনি নিজের জন্য ব্যবহার করেছে। কিন্তু সেটা ড্রিং হিসাবে কোথাও উল্লেখ করেন নাই।
(১৪) স্টাইল ট্যক্সের সাথেও আমার ধারন এমন একটা কমিশন বানিজ্য চলছে উনার। এতো কাল যাবত স্টাইল ট্যাক্সের জাকির সাহেব তার কমিশনের টাকা সেফ রাখার নিমিত্তে আমাদের কাছে কখনোই টাকা আলাদা করে গচ্ছিত রাখেন নাই। হটাত করে গত বছর এক কোটি ত্রিশ লাখ টাকা আমাদের একাউন্টে জমা রাখেন। যদিও পরবর্তীতে জাকির ভাইয়ের নাম দিয়ে উনি দুই পর্বে টাকাটা তুলে নিয়ে গেছেন। আর এই টাকাটা উনি কোথায় খরচ করেছেন সেই তথ্যটা আমার কাছে এসছিলো বিধায় আমার সন্দেহ হয় এটা আসলে জাকিরের টাকা না, এটা ওনার নিজের কমিশনের টাকা। এটা কেন করতে হবে?
(১৫)