৬/৮/২০২৫-গুছিয়ে আসছে প্রায়

প্রায় ২ বছর আগ থেকে আমি প্রিপারেশন নিচ্ছি, গুছাচ্ছি। আমার এই বয়সের অনেকেই, এমন কি আমার থেকেও অনেক কম বয়সী মানুষেরা, বন্ধু বান্ধবেরা কিংবা চেনা পরিচিত লোকেরা এই দুনিয়ার মায়া চিরতরে ত্যাগ করে অন্যত্র চলে গেছেন। তাদের কতটুকু প্রিপারেশন ছিলো আমার জানা নাই, তবে যেটা মনে হয় সেটা হলো তারা হয়তো বেশীরভাগ মানুষেরাই সুস্থ্য পরিকল্পনামাফিক কোনো গুছানোর কাজগুলি করে যেতে পারেন নাই। আমি গুছানো বলতে যেটা বুঝাচ্ছি সেটা হল-

(ক)      আমি চলে যাওয়ার পর সর্বপ্রথম আমার সাথে জড়িত মানুষগুলি, যেমন আমার পরিবার, পরিবারের সদস্যগুলির জন্য আমি কি সেইসব কাজগুলি করে গেলাম কিনা যাতে ওরা আমার অনুপস্থিতিতেও কারো কাছে হাত না পাতে, অসহায় ফিল না করে, মানুষের কাছে অসম্মান না হয়? বা এমন কোনো লায়াবিলিটিজ কি রেখে গেলাম যাতে ওরা আমার কারনে সমাজে হেয় হয় কিংবা আমার বোঝা তাদের উপর পড়ে? আমি এগুলি নিয়েই সর্বপ্রথম প্রিপারেশ নিয়েছি। আমি প্রিপারেশন নিয়েছি যাতে আমার কারনে কিংবা আমার ব্যবসার কারনে কিংবা ওদেরকে সাবলম্বি করতে গিয়ে ওদের উপর কোনো প্রকার বোঝা না দিয়ে যাই বা বোঝা না পড়ে, ওরা যেনো একদিকে সাবলম্বি হয়, আবার অন্যদিকে ওরা যেনো আমার অনুপস্থিতিতেও ঠিক থাকে ঠিক সে রকম যে রকম আমি ওদেরকে আমার জিবদ্দশায় রেখেছিলাম। ইতিমধ্যে আমি সব কিছু হিসাব করে দেখেছি যে, ব্যাপারটা আমি প্রায় ইনশাল্লাহ গুছিয়ে ফেলেছি।

কিভাবে গুছিয়ে ফেলেছি বা ফেলছি সেটা হল-

(ক)      উম্মিকার শশুড় বাড়ির তাদের নিজেদের সবগুলি লোন ক্লিয়ার করে দিয়ে মাছের ব্যবসাটায় একটা বড় ধরনের মুলধন জোগান দেয়া হয়েছে, যা দিয়ে উম্মিকার শশুড় বাড়ির মানুষেরা ভালোভাবে চলতে পারবে। তাছাড়া ওদের বাড়িটারও কিছু কাজ করে দেয়া হয়েছে যতটুকু ওদের দরকার। এতে উম্মিকার শশুড় বাড়ির সবাই নিরাপদ একতা সোর্স অফ ইনকামের মধ্যে শান্তিতে বসবাস করতে পারবে।

(খ)       আবিরের জন্য আর উম্মুকার জন্য দুটু হাসপাতালের শেয়ার নেয়া হয়েছে। লাল্মাটিয়া শিশু হাসপাতাল এবং শ্যামলিতে বেবী কেয়ার ইউনিট। আপাতত জবের পাশাপাশি ওরা এই দুটি হাস্পাতাল নিয়ে ভালই চালাচ্ছে। সাভার ডিওএইচএস এ ২টি ফ্ল্যাট কেনা হয়েছে দুই মেয়ের নামে। যদি কোন কারনে ওদের এক্সট্রা টাকা পয়সাও লাগে, নিজেদের বাড়ি (গোলারটেকের) বাইরে ওই ২টি ফ্ল্যাট ইচ্ছে করলে বিক্রি করে লিকুইড মানি করতে পারবে। এ রকম আরো আছে যেমন ফ্যাক্টরী শেয়ার, এম্ব্রয়েডারীর আলাদা ব্যবসা, মা লিমিটেডের ভাড়া, চান্দের চরের জমি, মোহাম্মাদপুরের শহীদ ক্যাডেট একাডেমি ইত্যাদি সবই এসেট হিসাবে থাকলো। আমার মেয়েদের এবং স্ত্রী কোনো অসুবিধা হবার কথা নয় ইনশাল্লাহ।

(গ)       কনিকার ব্যাপারে আমি যেটা করেছি সেতা হলো ওকে আমেরিকায় ভালো একটা ইউনিভার্সিটিতে পড়াশুনা করিয়েছি। ইতিমধ্যে কনিকা একটা জব করছেভ আমেরিকায়। বেতন ভালই পায়। এখন সমস্যা হচ্ছে-কনিকা আমেরিকায় পার্মানেন্টলী থাকতে পারবে কিনা। এটা একটা আন্সার্টেন বিশয় কিন্তু সে যদি জব বেজড ভিসা পেয়ে যায় তাহলে থাকা নিয়ে কোনো ঝামেলা নাই। আর যদি জব বেজড ভিসা না পায় তাহলে কনিকাকে বিয়ে করে থাকতে হতে পারে। জব বেজড ভিসার জন্য আমি ছোট ভাইকে সররপ্রকার ডলার জোগান দিয়েছি যাতে ছোট ভাই তার দোকানের মারফত কনিকাকে জব বেজড ভিসার ব্যবস্থা করতে পারে। ব্যাপারটা প্রক্রিধীন আছে। জানিনা ট্রাম প্রশাসন শেষ পর্যন্ত কোথায় কোন পলিসি কিভাবে বাস্তবায়ন করে। দ্বিতীয় বিকল্প বিষয়টা হচ্ছে-কনিকা একটা ছেলেকে পছন্দ করে। আমেরিকান কিন্তু ক্রিষ্ঠান। নাম ব্রেডি স্মিথ। ছেলেটার সাথে, ওর মা রবার্থার সাথে আমেরিকায় যাওয়ার পর কয়েকবার একসাথে কথা হয়েছে, খাবারও খেয়েছি। খারাপ লাগেনি। যতগুলি শর্ত দিয়েছি, সব গুলি শর্তই ওরা মেনে নিয়েছে। মুসলমান হতে হবে এটাও মেনে নিয়েছে (আলহামদুলিল্লাহ)। যদি ব্রেডির সাথে কনিকার বিয়ে হয়, তাহলে কনিকা আমেরিকায় থেকে যেতে পারবে ইনশাল্লাহ। সেক্ষেত্রে কনিকার জন্য আমার একতা কাজ থাকবে, তা হলো-কিনিকার বাড়ি কেনার জন্য একটা এমাউন্ট ডলার দেয়া। এর মধ্যে কনিকার কাছে আমার ৪০ হাজার ডলার দেয়া আছে, আমি আরো ৬০ হাজার ডলার দিতে চাই কনিকাকে। যদি সেতা হয়ে যায় ইনশাল্লাহ, তাহলে কনিকার ব্যাপারটাও আমার আর চিন্তা করার কোনো দরকার পড়বে না। আমার কাছে ওই পরিমান টাকা এখনই আছে যা আমি কনিকাকে দিতে পারি। যেহেতু কনিকার বিয়ে হয় নাই, তাই বিয়ের খরচ এবং কনিকার জন্য বরাদ্ধ টাকা আমি কনিকার বিয়ের পরেই দিতে চাই ইনশাল্লাহ।

মিটুলের জন্য আমার অতিরিক্ত কিছু করার দরকার নাই আপাতত। মিটুলের নিজের কাছে বেশ কিছু টাকা জমানো আছে, তাছাড়া ওর পেনসনের পর বিশাল একটা টাকা সে পাবে। বাড়ি আছে, ভাড়া পাবে, মিটুল ইনশাল্লাহ ভালোভাবেই চলতে পারবে, কোনো অসুবিধা হবে না।

আমার কোথাও কোনো ঋণ নাই, কোথাও কোনো লায়াবিলিটিজ নাই। বরং আমার কাছে অনেকেই ঋণী হয়ে আছে। যদি তারা সেসব ঋণ আমার পরিবারের কাছে পরিশোধ করে, সেটা উত্তম। আর যদি না করে, আমি দাবী ছাড়ছি না, এটা তাদেরকে পরকালে সুদে আসলে আমাকে পে করতে হবে।

(খ)       দ্বিতীয় প্রিপারেশনটা হচ্ছে, আমার ম্রিত্যুর পর আমি জানি হয়তো কিছুদিন কিছু সংখ্যক মানুষ, আত্মীয়স্বজন কিংবা খুবই কাছে কেউ আমার জন্য হয়তো দোয়া করবে, আমার নামে আল্লাহর কাছে সদ্গায়ে জারিয়া হিসাবে বছরে ভরে কিছু দান খয়রাত কিংবা মিলাদ মাহফিল করবেন। এই ব্যবস্থাটা খুব শক্তিশালী নয়, কারন এটা খুব অচীরেই এক সময় ম্লান হয়ে যাবে এবং তার কিছুসময় পরে একেবারেই বন্ধ হয়ে যাবে। একটা সময় আসবে, যে, আমি যে এই পৃথিবীতে ছিলাম, এই কথাটাই মানুষ ভুলে যাবে। আর ভুলে যাওয়া মানুশের জন্য অন্যরা কেউ কিছু করেনা। এটা মানুষের দোষ না। আমিইবা আমার পরিবারের শতবর্ষের আগের কোন মহিয়সীকে মনে রেখেছি? আমি তো তাদের কারো নামই জানি না। আমি কি তাদের কারো নামে স্পেশাল জোর দিয়ে কোনো মিলাদ, দোয়া মাহফিল করেছি? করি নাই। তাহলে আমি কিসের জোরে বা কিসের কারনে এটা আশা করতে পারি যে, শতবর্ষ পরে আমার কনো জেনারেশন আমার জন্য এ রকমের মিলাদ মাহফিল কিংবা দোয়া দরুদ পড়বে? পড়বে না। অথচ আমার কিয়ামাত আসার আগ পর্যন্ত আমার নেকী চাই। কিন্তু আমার মৃত্যুর পরে তো আমার নেকী কামানোর সিস্টেমই বন্ধ হয়ে গেছে। তাহলে আমার মৃত্যুর পর আমি অতিরিক্ত নেকী পাব কই? আর ঠিক এ কারনেই আমি মনোস্থির করেছিলাম যে, আমি এমন একটা এমাউন্ট টাকা ওয়াকফা করবো যেখান থেকে প্রতিমাসে একটা লাভ আসে এবং সেই লাভ গুলি বিভিন্ন মাদ্রসা, এতিমখানা, কিংবা জন কল্যানে ব্যয় হয়। আর এই কাজটা আমাদের পরিবারের কেউ করার সময় তারা পাবে না। এজন্য আমি ভেবেছি এটা করবো কোন ব্যাংক মারফত। তাতে আজীবনকাল এই লাভ গুলি নির্দিষ্ঠ জায়গা মতো চলে যাবে আমার মৃত্যুর পরেও।

আমি এখন যেভাবে কাজ করে যাচ্ছি-যেমন রিভার সাইডে, সমস্ত কার্যকলাপ আমি শতভাগ মনিটর করি। আগে যেটা আমার পার্টনার মূর্তজা সাহেব করতেন, সেটা এখন আমি করছি। আসলে মূর্তজা সাহেব আমাকে সম্ভবত কখনোই বিশ্বাস করতেন না, আর তিনি ভাবতেন, আমি কিছুতেই ফ্যাক্টরী চালাইতে পারবো না। ফলে একচ্ছত্র একটা ক্ষমতার পাওয়ার হাইউজ মনে করতেন তিনি। আর এই পাওয়ার হাউজ থেকে তিনি ভাবতেন-যা খুশী করা যায়, আর সেটাই উনি করেছেন। তার মধ্যে সব সময় একটা খাই খাই ভাব ছিল। পুরু রিভার সাইড ফ্যাক্টরীটা উনারা মনে করতেন যে, এটা ওনাদের বাপের সম্পত্তি। মিযান ব্যবসা করতো এক্সেসরিজের আর লাভ করতো বছরে এক কোটির উপরে। যেটা আমিও পেতাম না। তার মামাতো ভাই লাদেন (মামুন) এক নাগাড়ে অযথাই টাকা নিতো ফ্যাক্টরী থেকে ভুয়া একতা লিংকিং ইউনিট সাজাইয়া এবং লেফট ওভারের ব্যবসা করে। তার দুলাভাই আরো একটা ব্যবসা করতো যেটার কোনো কন্ট্রোল ছিলো না। তার বড় ভাই মোস্তফা দাদা আমাদের ফ্যাক্তরিতে ক্যামিকেল সাপ্লাই দিতো যা শুধু পানিই ছিলো অথচ প্রতিমাসে সে লাভ নিতো প্রায় ৬ লাখ টাকা। তার চাচা শশুর সাঈদ কাকু একজন সার্জেন্ট পদমর্যাদার। ফ্যাক্টরিতে জিএম পদে কাজ করে জাষ্ট নামেমাত্র। বেতন পায় প্রায় ৮০ হাজার। তার শ্যালক একটা ছত খাটো লিংকিং ফ্যাক্তরী দিয়ে নন কোয়ালিটি কাজ দিয়ে লাখ লাখ টাকা হাতিয়ে নিচ্ছে। তার স্কুল শিক্ষকের ছেলে নাহিদকে পারচেজ অফিসার হিসাবে নিয়গ দিয়ে ফ্যাক্টরিতে একটা সিন্দিকেট বানিয়ে ফেলেছে। শুধু তাইই না, তার প্রতিবন্ধী শ্যালক এজেড এ কাজ করে ঊন্ডিং এ, তার আপন ভাইগ্না মারজান কাজ করে মার্চেন্দাইজার হিসাবে, তার আরেক রিলেটিব দিদার কাজ করে এডমিনে, প্রোগ্রামিং সেকসনে কাজ করে ওনার চাচা শশুরের ভাতিজা। এ রকম আরো অনেক আত্মীয় সজনে ভর্তি এই ফ্যাক্তরি। আবার নিজের শেয়ার থেকে ১৫% শেয়ার তার স্ত্রীকে দিয়ে স্ত্রী অফিসে আসবে না, তারপরেও তাকে মাসে ৩ লাখ টাকা করে বেতন নিতেছিলো। এ জেড এ তার কিছুই নাই এখন, এক সময় সেই এ জেড তার কিছু ম্যানুয়েল মেশিনারিজ দিয়ে আমাদের রিভার সাইডের সাথে মার্জ করেছিলো বিধায় প্রতি মাসে আরাই লাখ করে লাভ নিতো। পরবর্তীতে এ জেডে সব অটোমেটিক মেশিনারিজ দিয়ে সাজানো হলে উনি ওনার সব পুরানো মেশিনারিজ বিক্রি করে দেন। তখনো উনি সেই আড়াই লাখ করে প্রোফিট নিতেই থাকেন। কি একটা অবস্থা। শুধু তাইই না, ঊনার ফ্ল্যাট কেনা বাবদ রিভার সাইড এক কালিন ৬০ লাখ টাকা পে করেছিল, সেই টাকাটাও আজ অবধি উনি পে ব্যাক করেনি। পলাশ পুরে উনি জমি কিনেছিলেন, সেই টাকাটাও উনি রিভার সাইদ থেকে নিয়েছিলেন। সেটাও পে ব্যাক করেন নি। লাক্সমা ফ্যাশনে আমরা রিভার সাইড থেলে অনেক টাকা পে করেছিলাম, আমার মনে নাই উনি সেই টাকাগুলু আজো হয়তো পে ব্যাক করেন নাই। তবুও তার ক্রিতজ্ঞতা নাই। সে নিজেও বেনামিতে সে কিছু ব্যবসা করা শুরু করেছিল, যেমন ২২ ফ্রেশ, স্তায়ল্টেক্সের সাথে কমিশন বানিজ্য ইত্যাদি।

এই সব কিছু বন্ধ করে দিয়েছি শুধু ফ্ল্যাট আর পলাশপুর জমির টাকাটা এখনো পে ব্যাক করাইতে পারিনি। এগুলি থাক হাতে, গুছিয়ে ফেলবো ইনশাল্লাহ।