আমেরিকায় বেরাতে গিয়ে ভার্জিনিয়ায় ফরিদ ভাইকে দেখতে গিয়েছিলাম আর সেই কাহিনীর কিছু অংশ ৪/৭/২০২৫ তারিখে আমার ডায়েরীতে লিপিবদ্ধ করেছিলাম। সেই ফরিদ ভাই গতকাল বাংলাদেশ টাইম সন্ধ্যা ৫ টায় আর আমেরিকার টাইম ভোর ৪ টায় মারা গেছেন (ইন্না নিল্লাহে ওয়া ইন্না ইলাহির রাজেউন)। বাংলাদেশে তিনি আমার প্রতিবেশী ছিলেন। এটাই মানুষের জীবন। সবার চেয়ে সত্য যে, মানুষ একদিন এই পৃথিবী ছাড়বেই। সে যেইই হোক, যত ক্ষমতশীলই হোক আর যত প্রতিপত্তী থাকুক তার, কোনো কিছুর বিনিময়েও সে এই দুনিয়ায় থাকতে পারবে না। নির্ধারীত সময়ে তাকে চলে যেতেই হবে।
মানুষ কত অসহায়। ভূমিষ্ঠ হবার পর যেমন মানুষ অসহায় থাকে, কোনো কিছুই করার তার ক্ষমতা থাকে না। গরু ছাগলের বাচ্চারা তবু ভূমিষ্ঠ হবার পর পরই নিজের পায়ে দারাতে পারে, মায়ের দুধের বোটা গুলি কই খুজে বের করতে পারে, কোন বিপদের সম্ভাবনা থাকলে একাই দৌড়ে অন্যত্র পালিয়ে যেতে পারে কিন্তু মানুষের সন্তান কন কিছুই বুঝে না, করতে পারে না। সে এতোতাই অসহায়। সেই মানুষগুলিই আবার সময়ের স্রোত পার করে করে শিশু থেকে কৈশোর, কৈশোর থেকে যুবক এবং অতঃপর ক্ষমতাধর মানুষে পরিনত হয়। অথচ আবারো সময়ের স্রোত ধরেই সে একদিন এমন একটা সময়ে এসে হাজির হয় যে, তখনো সে একেবারেই অসহায় বনে যায়। কাইট্টা লামু, মাইরা লামু, দেইখ্যা লমু কিংবা কাউকে ঠকিয়ে বিশাল প্রতিপত্তওয়ালা হলেও সেই অসহায় সময়টায় মানুষ একেবারে একা। কোনো সম্পদ, কোনো পতিপত্তি কিছুই আর কাজে লাগে না। মানুষ অবশেষে সব ছেড়ে চলেই যায়। এটার থেকে এতো কষ্টের কাহিনী আর কিছুই নাই।
ফরিদ ভাইয়ের পরিবারটা অনেক ভালো মানুষ ছিলো। আমার সবচেয়ে কাছে প্রতিবেশি ওনারা। ফরিদ ভাই, মিজানুর রাহমান ভাই, ভাবীরা, তাদের বাচ্চারা অত্যন্ত ভাল একটা পরিবার। ফরিদ ভাই সবাইকে ছেড়ে চলে গেলেন।
কখন আমরাও চলে যাই তার কোনো ঠিক ঠিকানা নাই। আল্লাহ ফরিদ ভাইকে জান্নাতবাসী করুন।