একই বংশে জন্ম গ্রহন না করেও, বৈবাহিক কোনো সম্পর্কের দ্বারা কেউ কোনো বংশীয় আত্মীয়তা না করেও এই সমাজে এবং এই জগতে এমন কিছু মানুষ অন্য কারো সাথে এমনভাবে জড়িয়ে যায় যেনো তারা জনম জনম ধরে একই সূত্রে গাথা, যেনো বংশের চেয়েও শক্ত বন্ধনে আবদ্ধ। আবার এমনো দেখা যায় যে, একই বংশ, একই পরিবার হওয়া সত্তেও সময়ের আবর্তনে এবং যোগাযোগের বিচ্ছিন্নতার কারনে কেউ কেউ নিজের বংশ থেকেও আউট হয়ে গিয়ে অপরিচিত মানুষে রুপ নেয়। আবার এমন কেউ কেউ আছে দেশ স্থানান্তরের কারনে, কালচারাল বিবর্তনের কারনে কেউ কেউ আজীবিনের জন্য বংশের ট্রি থেকেই হারিয়ে যায়। ফলে কেউ কেউ ফ্যামিল হয়েও ফ্যামিলির কেউ থাকেন না, আবার কেউ কেউ ফ্যামিলির কিছুই না হয়েও যেনো ফ্যামিলির থেকে অনেক বেশী শক্ত বন্ধনে আবদ্ধ থাকে বংস পরম্পরায়।
আমার বংশের মধ্যেও ঠিক এমনটা হতে দেখছি এবং দেখেছি। আমি যে গ্রামে থাকতাম, সেখানে আমি কাউকে কাউকে মামা, খালা, চাচা কিংবা কোনো না কোনো সম্বোধনে ডাকি। কিন্তু আসলেই তারা আমার মামা কিনা, চাচা কিনা, কিংবা খালা কিনা আর হলেও সেটা কিসের ভিত্তিতে সেটা আমার জানাও নাই। যদি পুরু জিনিষটার ব্যাকওয়ার্ড বাটনে টীপ দিয়ে পিছনে যাওয়া যায়, হয়তো দেখা যাবে-সেই অতীতে আমারই বংশের খুব কাছের কেউ কেউ এরা ছিলো। সেই ধাবাহিকতায় শত বর্ষ পরে তাদের সম্পর্কের রেশ ধরে আজিকার এই খালা কিংবা চাচা কিংবা মামার সম্পর্কটায় দাড়িয়েছে। আমরা হয়তো এটা জানিইনা যে, ওরা আমাদের এমনি এমনি ডাকা চাচা, খালু, মামা নয়। এই চাচা, মামা খালা ডাকার পিছনে সেই অতীতে আমাদের পূর্ব পুরুষদের মধ্যেই কাছের সম্পর্ক বিদ্যমান ছিলো। কিছু একটা ভীত তো আছেই।
আমি যখন এই ভীতগুলির পিছনে খোজ খবর নিতে থাকি, তখন এমনি এমনি ডাকা চাচা, খালু, মামাদের আমার বংশের আসল বন্ধন গুলির ভীত দেখে এতোটাই চমকে উঠেছিলাম যে, সেই এমনি এমনি ডাকা সম্পর্কগুলি আমার কাছে নতুন করে এসে আবার আরো কাছে কিছু মানুষে পরিনত হয়েছিলো। তখন শুধু একটা কথাই মনে হয়েছে-আহা, এরা আমার সেই দাদার নানির দাদার বংশের লোক!! কতই না কাছের। অথচ আমরা তা জানিই না।
আমার সময়কাল থেকে শুরু করে আরো ৫০ বা ১০০ বছর পরেও এই সাইক্যালের পুনরাবৃত্তি ঘটবে, কেউ আমার বংশ থেকে হারিয়ে যাবে, কেউ নতুন করে যোগ হবে। আজকের ভাই, বোন কিংবা চাচা, খালুর বংশ ধরেরা যখন একে একে শাখা প্রশাকাহ বিস্তার করতে করতে দেশ দেশান্তরে ছড়িয়ে যাবে, এক গ্রাম থেকে আরেক গ্রামে ভিত্ত গাড়বে, আর এই সম্পর্কের ধারায় যখন আমরা একে একে চাচাতো ভাই, তো খালাতো বোন কিংবা এ ধরনের ধ্রাবাহিকতায় সম্বোধন করতে থাকবো, কোনো এক সময় কিংবা যুগের পর যুদ, শত বছরের পরেও আমরা সেই সম্পর্কের জের ধরে কেউ কেউ না জেনেই কাউকে খালু, চাচা, ভাই, দাদা নানা বা খালা হিসাবে সম্বোধন করবো, সেই সময়ে আমরা হয়তো জানবোই না কেন আমরা কাউকে খালা বলছি, বা নানা বলছি বা চাচা বা মামা। আসলে এরা কোনো না কোনো সময়ে সেই প্রাচীন আমলে হয়তো আমাদের আপন জনের কেউ ছিল। এখন যা আমরা আর মনে রাখিনি।