উনি আমার বোন। আমার ৫ বোনের মধ্যে সেইই সবার ছোট কিন্তু আমার ইমিডিয়েট বড়। নাম-মেহেরুন্নেসা। তার স্বামীর নাম আব্দুর রশীদ। ইন্টার পর্যন্ত পাশ করেছিলো রশীদ ভাই। একবার বিদেশেও গিয়েছিলো কাজের খোজে কিন্তু বেশীদিন টিকতে পারে নাই। অতঃপর বহুদিন পোষ্ট মাষ্টার হিসাবে কাজ করেছেন। কোনো কিছুতেই খুব একটা সুবিধা করতে পারেন নাই। অতঃপর ব্যবসা শুরু করেন-ইটের ভাটার। সেটাতে মুটামুটি ভালো করেছেন। তার দুই ছেলেকে তিনি বিদেশে পাঠিয়েছেন, তারা এখন অবধি বিদেশেই আছেন। সচ্ছল অবস্থা এখন। কিন্তু আমার বোনের সুখের মুখ আসে নাই। সারাদিন কাজের মধ্যেই থাকে। আসলে লেখাপরা করার মতো সুযোগ তাদের ছিলো কিন্তু পরিস্থিতির কারনে সেটা হয় নাই। ১৯৭৭ সালে তার বিয়ে হয়। তারা জানতো তাদেরকে যেভাবেই হোক স্বামীর ঘর করতেই হবে ফলে যতো কষ্টই হোক তাদেরকে সেটা মেনেই চলতে হয়েছিলো। ভীষন পরিশ্রমী একজন মানুষ। একটাই মেয়ে আর সেও অবিকল মায়ের মতো দেখতে। তার বিয়ে হয়ে গেছে, ভালো আছে।
যখন আমি ছোট ছিলাম, এক সময় যে কোনো কারনেই হোক আমার এই বোন একবার আমার সাথে ঢাকায় কিছুদিন বদি ভাইয়ের বাসায় অবস্থান করেছিলো। খুব একটা সুখকর পরিস্থিতি হয় নাই সে বাড়িতে। অবশেষে মেহেরুন্নেসা শেষ পর্যন্ত গ্রামেই ফিরে গিয়েছিলো। গরীব মানুষের আসলে বন্ধু থাকে না। তাদের থাকে মনীব। আমার এই বোনের চেহারা দেখলেই কিন্তু বুঝা যায় তার মনের ভিতরে কষ্ট আছে, যন্ত্রনা আছে কিন্তু যখন কোনো মেয়েদের বাবা থাকে না, তাদের কষ্টের কথাও বলার কোনো লোক থাকে না। আমি তাই সব সময় দোয়া করি ওরা যেনো অন্তত ভালো থাকে। ওরা আসলেই খুব ভালো মানুষ। মা যতোদিন বেচে ছিলো, প্রায় প্রতিদিনই মেহের মায়ের কাছে আসতো কিন্তু মা মারা যাওয়ার পরে সম্ভবত আর আসা হয়নি ওর।