আমার জীবনেও এমন একটা অধ্যায় আছে, যেটা কেউ জানে না। আর আমি বেচে থাকাকালীন কেউ জানবে না। আমার মৃত্যুর পরেও কেউ সেটা জানতে পারবে না। এ রকমটাই আমি ভাবতাম। কখনো কখনো আমরা শুনি সেটা শুধু গল্পে হয়, বাস্তবে নয়। কখনো কখনো আমাদের চোখে যেটা দেখা যায় সেটা সব সময় সত্যি হয় না। এটাও হতে পারে সেটা সত্যি একটা প্রতিচ্ছবি। যখন নিঃসঙ্গতা কাউকে অনেক বেশী কুড়ে খায়, তখন দরকার হয় একজন সঙ্গীর। যখন ওই সঙ্গীর নেহায়েত প্রয়োজন হয় অথচ তাকে সংগী করা যায় না, তখন সে কিছু একটা তো করেই। আর সেটা যে কেউ শুনলেও কখনো বিশ্বাস করবে না, অথচ ব্যাপারটা সত্যি। আর যখন কেউ সেই সত্যিটা জেনেই যায়, তাহলেও আর সাফাই দেয়া উচিত নয়, অথবা তারপরেও যদি সাফাই দিতেই হয়, তাহলে সাফাইটা হবে ঠিক সেই ব্যক্তিদের মতো যারা পলিটিক্যাল কর্মী আর পলিটিক্যাল নেতার মতো। সবাই হয়তো জানেই না যে, পলিটিক্যাল কর্মী আর পলিটিশিয়ানের মধ্যে কত পার্থক্য থাকে। পলিটিক্যাল কর্মীরা স্রেফ কাজ করে থাকে, কিন্তু রাজনেতা রাজনীতি করে। যদি এর মধ্যে কেউ ফেসে যায়, তাহলে তারা যেনো কেউ কাউকে চিনেই না এমন একটা যোগ বিয়োগের খেলা চলে।
সবাই আসলে সব কিছু জানে না, জানার উপায়ও নাই। বেশীরভাগ সময়ে কোনো মানুষই তার নিজেকেও সে জানে না। তার ক্ষমতা, তার ব্যবহার, তার অন্যান্য বইশিষ্ঠ!! পরিস্থিতি আর সময় অনেক সময় সেটা এমন করে বদলে দেয় যে, যখন কোনো ঘটনা ঘটে যায়, তখন নিজেও বুঝতে পারে না এটা কি করে ঘটলো। কখন এর শুরু হয়েছিলো আর সেটা কিভাবে শেষ করতে হয়। এই পুরু পৃথিবীতে কেউ নিজেকে নিজেই সবটা জানে না। বিশেষ করে সেই মুহুর্ত গুলি যেখানে ঠিক আর বেঠিকের সীমানা, ন্যায় আর অন্যায়ের সীমানা, অথবা সত্য আর মিথ্যার সীমানা। মাঝে মধ্যে এই সীমান অতিক্রম করা হলো নাকি সীমার মধ্যেই আছে, সেটাই নির্ধারন করা সহজ হয় না। তাহলে অন্য কেউ জানবে কিভাবে? যখন শান্ত মনে অন্তর একদম শীতল থাকে, তখন শুধু এটাই মনে হয় যে, কি করছি, কি করছি না, কি করা উচিত আর কি করা উচিত না, এসব নিয়ে অনেক প্রশ্ন জীবনে হাজির হয়। যার সঠিক উত্তর মাঝে মাঝে পাওয়া যায় বটে কিন্তু পরক্ষনেই ওই যে আবার নিঃসঙ্গতা!! সেটা সব উলট পালট করে দেয়। তখন আর উত্তর গুলিকে আর নিজের মনে হয় না।
আমি মানুষকে বুঝতে পারি, কাউকে দেবী বা ডাইনী রুপে ভাবি না। সবচেয়ে কাছের মানুষেরাই নিজের মানুষকে ঠকায়। অপরিচিতরা কখনো ঠকাতে না পারে, না বেঈমানী করতে পারে। তারা হয়তো ক্ষনিকের জন্য কিছু সম্পদের লোভে প্রতারনা করতে পারে কিন্তু কাছের মানুষেরা করে সবচেয়ে বেশী ক্ষতি যা না চোখে আগে থেকে দেখা যায়, না বুঝা যায়।
এই দ্বৈত জীবনের সবচেয়ে বড় গুন যে, ডান হাত জানে না বাম হাত কি করছে। একটা জীবনের দুটু আলাদা আলাদা অধ্যায়। একে অন্যের অপরিচিত এই অধ্যায় গুলি। এই দুটি জীবনের মধ্যে যখন একটা জীবন অতি দুঃখে কষ্টে ভরে উঠে, তখন এটা কখনোই সম্ভব নয় যে, অন্য জীবনের এর প্রভাব ফেলবে না।
এভাবেই চলে জীবনের সব ধারাগুলি।