২০/০৪/২০২২-আমার মৃত্যুর তারিখ (ফুটার) (রঙ লেপা পাঠক)

এ দুনিয়ায় যত রহস্য আছে, তার সবচেয়ে বড় রহস্য কে কবে এই দুনিয়া ত্যাগ করবে তার দিনক্ষন না জানা। আজো পর্যন্ত কোন বিজ্ঞান, কোনো দার্শন, কোন মনিষী কিংবা কোনো ধর্মজাজক কেউ জীবন থেকে চিরতরে চলে যাওয়ার দিনক্ষন বলতে পারেনি। ঈশ্বর সে ক্ষমতা কাউকে দেননি। কেনো দেননি?

কেনো দেন নাই এ প্রশ্ন যদি করি তাহলে ব্যাপারটা অনেক কিছুর সমাধান চলে আসে। মানুষ লোভী হতে পারতো না, মানুষ স্বাধীনভাবে যা খুশী করতে পারতো না। অন্যায় করতে পারতো না, সারাক্ষন সে শুধু ঈশ্বরের আরাধনাতেই মগ্ন থাকতো, ঘুষ বানিজ্য, সন্ত্রাসী কর্মকান্ড সব কিছুতেই তার হোমওয়ার্ক হিসাবে সীমারেখা টেনে ফেলতো। যা হয়তো বিধাতা দিতে চান নাই। বিধাতা চেয়েছেন, মৃত্যুর এই তারিখের রহস্য নিজের হাতে রেখে মানুষের ইচ্ছার লাগামকে মানুষের হাতে ছেড়ে দিতে কিন্তু তারপরেও আমার মাঝে মাঝে এই প্রশ্নটা আসে, আসলেই কি আমাদেরকে সেই ক্ষমতা বিধাতা দেন নাই নাকি আমরা জানি কিন্তু বুঝতে চাই না?

এই প্রশ্নটা আমি কাউকে কখনো করি নাই কারন আমি জানি এর উত্তর কারো কাছেই নাই। কিন্তু আমাকে আমি এই প্রশ্নটা অনেকবার করেছি, করেছি শুধু জানতে, কোথায় এর আসল রহস্য লুকিয়ে রেখেছেন বিধাতা? ধরে নেই, আমি এর উত্তর জানি। তাহলে এর ব্যাখ্যা কি? এই ব্যাখ্যায় যারা বিশ্বাস করবেন, তাদের জন্য শুধু এই লেখা। আর এটা শুধুই আমার মতামত।

আমি একজন মুসলমান, তাই আমি আল্লাহর বানী, আল্লাহর রাসুল এবং রাসুলের সমস্ত কথা মনে প্রানে কোনো প্রশ্ন ব্যতিরেকে বিশ্বাস করি। সেই বিশ্বাস থেকেই বলছি যে-

আল্লাহ বলেছেন, তিনি এই দুনিয়া সৃষ্টি করতেন না, যদি না তিনি তাঁর হাবীব আমাদের রাসুলকে সৃষ্টি না করতেন। আবার এটাও তিনি সমস্ত মানব জাতীকে বলেছেন-কুল ইন কুন্তুম তুহিব্বুন আল্লাহ, ফাত্তা বিউনি ইউহাবীব কুমুল্লাহ। মানে যদি তোমরা আমাকে ভালোবাসো, তাহলে আমার হাবীবকে ভালোবাসো। আমার হাবিবকে অনুসরন করো। এর মানে কিন্তু একটা। আর সেটা হলো আমাদের রাসুলের সমস্ত জীবন আমাদের মডেল। তাঁর আচার, আচরন, ব্যবহার, কথাবার্তা, চলাফেরা, আরাধনা, নীতি, বৈশিষ্ঠ, সব কিছুকেই অনুসরন করা।

আমাদের রাসুলের থেকে প্রিয় বান্দা আল্লাহর কাছে আর কেউ নাই এবং ছিলোও না। আল্লাহ যদি ইচ্ছে করতেন, আমাদের রাসুলকে তিনি আজীবন বা হাজার বছর পর্যন্ত বাচিয়ে রাখতে পারতেন। কিন্তু তার এতো প্রিয় বান্দাকে তিনি সেটাও করেন নাই। তাকে তিনি একটা নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যেই তার কাছে নিয়ে গেছেন। যাকে তিনি এতো ভালোবাসেন, যার জন্য তার এতো সব আয়োজন, যাকে ঘিরে তিনি পুরু বিশ্বকে সাজিয়েছেন, আর কাউকে না হোক যাকে তিনি জীবদ্দশায় তাঁর সেই আরশ মোবারক, সমস্ত আসমান জমীন, কুরসি সহ সমস্ত অদেখা, অজানা বিশ্বকে ভিআইপির মর্যাদায় নিজে বোরাক পাঠিয়ে দেখালেন, দেখা করলেন, সেই তাঁকেই তিনি এই পৃথিবীতে জীবিত রেখেছিলেন মাত্র ৬৩ বছর!!

আর সেই আমি তো তাঁর কাছে কিছুইনা। তাহলে আমার আল্লাহ আমাকে ৬৩ বছরে বেশী কেনো জীবিত রাখবেন? রাখতেও পারেন, তবে সেটা তাঁর ইচ্ছে। আবার তার আগেই তিনি আমাকে উঠিয়েও নিতে পারেন, সেটাও তাঁর ইচ্ছে। কিন্তু আমি যেহেতু জানি না আমার সময়কালটা কতদিনের, তাই আপাতদৃষ্টিতে আমি ধরেই নেই, আমিও ৬৩ বছরের বেশী এই নশ্বর দুনিয়াতে থাকার কোনো যৌক্তিকতা নাই। এই সময়ের সীমারেখা ধরেই আমার সমস্ত হোমওয়ার্ক, আমার সমস্ত প্ল্যানিং করা উচিত। যদি এর থেকে বেশীদিন আল্লাহ আমাকে রাখেন, সেটা হবে আমার জন্য বোনাস। আর যদি এর থেকে কম সময়ের মধ্যে আমার ডাক পড়ে সেটাও আমার বিধাতার ইচ্ছা। আমি তার ইচ্ছার বাইরে এক সেকেন্ডও থাকার অধিকার রাখি না। এমনো তো হতে পারে যে, ৬৩ বছরের পরের সময়টায় আমাকে অন্য কিছু, অন্য কোনো এসাইনমেন্টের জন্যই রাখা হয়েছে!!

যদি এই হিসাব ঠিক রাখি, তাহলে আমিও আর এই দুনিয়াতে খুব বেশিদিন নাই। আমি একেবারে দিঙ্কখন বলে দিতে পারি, আমি কবে আপ্নাদেরকে অফিশিয়ালি ছেড়ে চলে যাচ্ছি। তাই আমি সেই দিন তারিখ মাথায় রেখে আমার প্রতিদিনের হোম ওয়ার্ক করি, সিডিউল বানাই এবং যাবতীয় সব কিছু গুছাই। কোথাও বেড়াতে গেলেও তো আমি আমার একটা ব্যাগ গুছাই, টিকেট নেই, সময় ধরে যাত্রা করি। আমি ঠিক সেটাই করছি। আমি এটাও জানি আজ থেকে কয়েক যুগ পরে আমার নামটা যেমন মুছে যাবে, আমার জন্য দোয়া করার মানুষও আর থাকবে না। তাই আমি চেষ্টা করি, আমার জন্য যেনো সদ্গায়ে জারিয়া হিসাবে আমিই এমন কিছু করে যাই যেখানে কেউ আমার জন্য দোয়া করুক বা না করুক, আমার কষ্টার্জিত সম্পদ যেন সেই সদ্গায়ে জারিয়ার কাজ করে। কারন তখন আমার সেটাই সবচেয়ে বড় প্রয়োজন।

এরপরে কে আমাকে মনে রাখবে, কে আমার জন্য দোয়া করবে, আমার স্থান কোথায় হবে, আমার কর্মফলের কারনে কে কোথায় কিভাবে আমাকে মুল্যায়ন করবে তার দায়ীত্ত আমার আসলেই নাই। আমি আসলে সদা প্রস্তুত। বাকীটা তিনি জানেন।