আজ ঈদ হয়ে গেলো। সাদামাটা একটা ঈদ। এই কয়দিন বেশ একাই ফ্যাক্টরীতে ছিলাম কারন আমার পার্টনার মূর্তজা ভাই গত মাস খানেক যাবত একবার ইতালী, একবার আমেরিকা এবং সবশেষে ওমরা করতে গেলেন। আজ তার ফেরার কথা। রোজা ছিলাম পুরুটাই, মাঝে একটা রোজা ভাংগা পড়েছে আর কারনটা সে।
যাই হোক, যেটা নিয়ে কথা বলতে চেয়েছি আজ সেটা হলো, কিছু পরিকল্পনা।
অনেক কিছুই গুছিয়ে এসছি প্রায়। সোনালী ব্যাংকের লোনটা নাই, ফ্ল্যাট একটা মর্টগেজ করা ছিলো সেটাও ক্লিয়ার করে ফেলেছি এই গত বছরে। টাটায় আরেকটা লোন ছিলো, সেটাও শেষ করেছি। আমার এখন সত্যিই কোনো লোন কোথাও নাই, বরং কিছু কিছু মানুষের কাছে আমি বেশ কিছু অর্থ পাই সেটা আদৌ পাওয়া যাবে কিনা জানি না, তবে দাবী করতেই পারি কারন সেগুলি আমার থেকে তারা ক্যাশ নিয়েছে। যেমন আলমাস নিয়েছে ৫ লাখ, কামাল স্যার নিয়েছে ৫ লাখ, সাইফুল নিয়েছে ৬ লাখ ইত্যাদি। এর পরেও আমার কাছে যে বাজেটটা সঞ্চয় হিসাবে আছে, তাতে আমি কিছুটা হলেও সিকিউর ফিল করছি।
আগামী ২ বছরের মধ্যে (যদি ইনশাল্লাহ বেচে থাকি) আমাকে আরো অনেক কিছু গুছিয়ে ফেলতে হবে। আমি কোন চাপ নিয়ে বসবাস করতে চাই না। এর মধ্যে আছে সাউথ টাউনের ব্যাপারটা। আমি ধরে নিচ্ছি এটা আমি পাবো না। পলাশপুরের মা ইন্ডাস্ট্রিজের খাস জমিটা রেকর্ডে রুপান্তরীত করা, আমি আশা করছি ইনশাল্লাহ এটা হয়ে যাবে। শাহজাহানের কাছ থেকে ২৬ শতাংশ জমি আমার পাওনা, আমার ধারনা শাহজাহান পুরু জমিটা দিবে না, হয়তো ১০ থেকে ১২ শতাংশ জমি দিতে পারে। সেটা হলেও আমি নেবো এবং ঝামেলা শেষ করে দেবো।
ব্রিগেডিয়ার জাহেদের কাছ থেকেও জমিটা নিয়ে নেবো। এটাও খুব জরুরী। জাহেদের জমিটা নিলে দুজনের জন্য আমার দায়িত্ব শেষ হয়। একজন ফারুক আরেকজন সে। চান্দের চরের জমিগুলি মুটামুটি একটা পর্যায়ে নিয়ে এসছি। ওখানে আরো লাখ ৫০ টাকা ব্যয় করলে সেটাওএকতা ভালো পর্যায়ে চলে আসবে ইনশাল্লাহ।
চান্দের চরের জমিগুলি একটা দৃশ্যমান পর্যায়ে এলে আমি সেটা পরবর্তী সময়ে বিক্রি করে দেবো বলেই আশা করছি। কোনো প্রকার নতুন কোনো ইনভেষ্টমেন্টে যাওয়া আমার উচিত না। কারন যখনই কোনো নতুন ইনভেষ্টমেন্টে গিয়েছি, সেটা আমাকে কোনো লাভের পথ দেখায় নাই উলটা লস হয়েছে।
আমার এই সব কিছু গুছাতে কি পরিমান টাকা লাগতে পারে তার একটা হিসাব আজ করলাম। সেটা নিচে লিখে রাখিঃ
(ক) জাহেদের জমিতে আমাকে আরো ৪ লাখের মতো ইনভেষ্টমেন্ট করতে হবে। তাতে ওর জন্য আমার পুরু জায়গাটা কেনা হয়ে যায় রেজিষ্ট্রি সহকারে। যদি সেটাই হয়, আমি ওকে ধীরে ধীরে সেখানে একটা বিল্ডিং করার পরিকল্পনা করে দেবো। ফাইন্যান্সটা আসবে মা ইন্ডাস্ট্রিজের ভাড়া থেকে। আগামী এই এপ্রিল মাস ২০২৪ এর মধ্যে পাইলিং এর কাজ করে ফেলতে পারবে। অতঃপর আরো ১ বছর পর বাড়ির কাজে কিছুটা হলেও হাত দিতে পারবে, অন্তত একতালা বিল্ডিং করার জন্য। সেটাও আসবে মা ইন্দাস্ট্রিজের ভাড়া থেকে। যদি সেটা হয়ে যায়, তাহলে ওর থাকার একটা ব্যবস্থা হয়ে যাবে। সে আমার সাথে থাকবে কি থাকবে না সেটা নিয়ে আমি ভাবি না। অন্তত সে ভালো থাকুক। সেটাই বড়।
(খ) চান্দের চরের জমির টাকা আসবে প্রতিমাসের প্রোফিট থেকে। আগামী ৮ মাসে আমি প্রায় ৯০ লাখের মতো প্রোফিট নেবো। সেটা যথেষ্ট চান্দের চরের জমির জন্য।
(গ) শাহজাহানের জমিটা আপাতত আমি বাউন্ডারী করে রাখবো। অতঃপর ধীরে ধীরে সেখানে একটা বাড়ি বানানোর চেষ্টা করবো। তার জন্য আমাকে পরবর্তী ২০২৪ সালের প্রোফিট থেকে টাকাটা নিতে হবে ইনশাল্লাহ। ২০২৪ সালে আমি প্রোফিট নেবো ইনশাল্লাহ প্রায় দেড় কোটি টাকা। এই টাকায় আমার ধারনা আমি শাহজাহানের প্লটটাতে একটা দৃশ্যমান কিছু করতে পারবো ইনশাল্লাহ।
(ঘ) আমার সঞ্চয়ী টাকার যে প্রোফিট আমি পাবো, জাকাত দেয়ার পর সেই টাকাটা আমি ওয়াকফায়ে লিল্লাহ করে দেবো। তাতে দেখা যায় যে, ১ বছরে আমি যদি ১৮ লাখ টাকা প্রোফিট পাই, জাকাত হয় প্রায় ৭ লাখ টাকার মতো, বাকী ১১ লাখ টাকা দিয়ে আমি ওয়াকফায়ে লিল্লাহ এর একাউন্ট খুলে ফেলবো। যদি সঞ্চয়ী টাকায় হাত দিতে না হয়, তাহলে এর সঞ্চয় থেকেই আমি ওয়াকফায়ে লিল্লাহ্র বাজেট তৈরী করে ফেলতে পারবো ইনশাল্লাহ। আমার ইচ্ছা অন্তত ৫০ লাখ টাকার একটা ওয়াকফায়ে লিল্লাহ করি। বাকীটা আল্লাহ জানেন।
(চ) এর মধ্যে যদি মাঝে মাঝে ফ্যাক্টরী থেকে কিছু টাকা পাই, তাহলে সেটাও ওর নামে দিয়ে দেবো যাতে ওর নিজের সঞ্চয়টা বাড়ে। আমার ইচ্ছা, ওকে মোট ৫০ এর মতো ক্যাশ সঞ্চয় করে ক্ষান্ত হবো। এতে সে প্রায় প্রতিমাসে কম করে হলেও ২৫ হাজার টাকা তুলতে পারবে সব কিছু কেটে কুটে। এতে সে খুব ভালোভাবেই চলতে পারবে বলে আমার ধারনা। আর এর মধ্যে তো আমার চেষ্টা থাকবেই আরো কিভাবে বাড়ানো যায়।
(ছ) কনিকার খরচের ব্যাপারটা মাথায় রাখতে হবে, উম্মিকার বিয়ের খরচটাও মাথায় রাখতে হবে। এতে সম্ভবত আমাকে আমার সঞ্চয়ে হাত দিতে হতে পারে, কিন্তু সেটা আবার ২০২৫ সালের মধ্যে কাভার করা সম্ভব প্রোফিট থেকে ইনশাল্লাহ।
এর মানে হলো যে, আগামী ২০২৫ সালের শেষ নাগাদ আমি চান্দের চর, শাহজাহান এবং ও সাথে কনিকা, উম্মিকার জন্য একটা দৃশ্যমান একটা ব্যবস্থা করতে পারবো। সাথে একটা ওয়াকফায়ের একাউন্ট। ২ বছর সময়। ইনশাল্লাহ পারবো যদি আল্লাহ সহায় হন।