২২/০৯/১৯৯৯-জেনারেল আনোয়ারের ফেয়ারওয়েল

বুধবার  , মাঝিরা ক্যানটনমেনট

আজ মেজর জেনারেল আনোয়ার এর ফেয়ারওয়েল হল। সব ব্রিগেড কমানডাররা, ব্রিগেড স্টাফ, ডিভিসনের স্টাফরা, সব সিওরা এবং কমানডেনটরা সবাই হাযির ছিলেন। এ এক হৃদ্যয় বিদারক  কাহিনি। একটিং জিওসি হিসাবে ব্রিগেডিয়ার রফিক কাজ চালাবেন। ১১ আটিলারি ব্রিগেড কমানডার। আমার সাথে তাঁর সম্পরকটা বড্ড খারাপ। কিন্তু আমি জানি না কি কারনে এই সম্পরকটা বড্ড খারাপ হয়েছে। ডিভিসনের স্টাফ হলে অনেক কিছু জানা যায়। কেও কারো গোপন কথা ফাঁস  করতে চায়না।যাই  হোক, ফেয়ারওয়েল এর সময় জেনারেল আনোয়ার এতই আবেগ আপ্লুত হয়ে গিয়েছিলেন যে, তিনি কিছুই বলতে পারলেন না। প্রায় ১৫ মিনিট সুধু দারিয়ে থাকলেন। আমরাও চুপচাপ। কেও কেও আবার কৃত্তিম চোখের জলও ফেললেন। জিওসি র ফেয়ারওয়েল বলে কথা। জিওসি  সুধু এ কথাটা বললেন যে তিনি এই আর্মিতে তিনবার জন্ম গ্রহন করেছেন। প্রথমবার তাঁর কমিশনের সময়, ১৯৭১ সালে আরেকবার, এবং এখন একবার। এই ত্রিতিয়বার তিনি বুঝলেন, জন্মটা বড্ড কষ্টের । তাঁর ভাবতে বড্ড কষ্ট হচ্ছে যে তিনি আর কখন ইউনিফরম  পরতে পারবেন না।  আচ্ছা, ইউনিফরম খোলে ফেলা কি খুব কষ্টের? এই মুহূর্তে হয়ত আমি ইউনিফর্ম খুলে ফেলার কি কষ্ট সেটা হয়ত আমার উপলব্ধিতেই আনতে পারবো না, কিন্তু যেদিন আমি নিজে এই কাজটি করবো হয়ত আজকের দিনের জেনারেল আনোয়ারের আবেগ তা আমার কাছে আরো বাস্তব এবং কঠিন হয়ে ধরা দেবে।