০৩/০৪/২০২১-কি এটা?

ইহা এমন একটা জিনিষ যাহা স্বাভাবিক চোখে দেখা যায় না। প্রতিটি জীব এটাকে এমনভাবে লুকাইয়া রাখে যাতে সহজেই কারো চোখে না পড়ে। তারপরেও অনেকে ফাক ফোকর দিয়া এটাকে দেখার চেষ্টা করে। এটা যখন ছোট অবস্থায় থাকে, তখন এর রুপ একরকম, আবার একটু বয়স হলে এর রুপ একটু ভিন্ন। এটা যখন পরিপক্ক হয়, এটা ছোট বেলার মতো আর মনে হয় না। শিশুকালে এর প্রতি কারোই তেমন কোনো প্রিতি নাই, সময়ের পরিবর্তনে এর চাহিদা জনে জনে বৃদ্ধি পায়। এর মুখ আছে, পাতা আছে, ঢালা পালা না থাকলেও চারিদিকে প্রায়ই ঘন জংগলের মতো আগাছা গজাইয়া উঠে। সময়ে সময়ে এটা রক্ষনাবেক্ষন না করলে এর চারিদিক এক সময় আগাছায় ভরে উঠে, আর চারিদিকে দূর্গন্ধ ছড়িয়ে পড়ে। তবে এটা যখন অন্যের কাছে স্থায়ীভাবে বিক্রি করে দেয়া হয়, তখন নিজের সম্পদ হলেও ক্রেতাই হন এর প্রকৃত মালিক। তখন এই ক্রেতা ছাড়া আসল মালিক এটাকে আর কারো কাছে হস্তান্তর করতে পারেন না। এটাকে রক্ষনাবেক্ষন করার জন্য খুব বেশী কিছু লাগে না।

কেউ কেউ আবার এর মধ্যে বীজ লাগিয়ে রাখে। ফল সব সময় হবে এমন না। পরিপক্ক হলে এর ভিতরেই অংকুর হয়, প্রায় বছর খানেক পরে এর ফলাফল বুঝা যায়। চাষের সময় অনেকেই এর প্রতি যত্নবান হলেও এক সময় চাষের পরে আর কোনো রক্ষনাবেক্ষন করেন না। তবে যার সম্পদ সে মাঝে মাঝে অন্যত্র লিজ দিয়ে দেন। লিজের ব্যাপারটা কখনোই গ্রহনযোগ্য নয়, তারপরেও অনেকে ভালো খদ্দর পেলে লিজ দিয়ে দেন।

নতুন লিজ নেওয়ার সময় ঘন ঘন হালচাষ হয়, অতিরিক্ত হাল চাষের কারনে অনেক সময় সার বেশী পড়ে যায়। ক্ষতিও হয় কিন্তু দ্রুত আবার আগের জায়গায় এটা ফিরে আসে। এটার আরেকটা গুন হলো, ফল যখন আসে, মুরগীর ডিম যেমন তার ভিতর থেকে মুরগী বের করে দেয়, তেমনি এর ফলও এর ভিতর থেকে বেরিয়ে আসে। এই ফল সব সময় নাজুক। যদি সঠিক লিজের মাধ্যমে হয়, তাহলে ফলের যত্ন মালিক ভালো করে নেয়, আর যদি অবৈধ লিজিং এর কারনে মালিক ফসল ফলায়, সে নিজেও আর ফসল ঘরে নিতে চায় না। এই ধরনের ফসল অনেকে আবার বছরের পর চাষ করেও পায় না, আবার অনেকে কোকিল ছানার মতো কাকের বাসায় অনায়াসেই পয়দা করে ফেলে যায়। এটা মারাত্তক খারাপ একটা চাষ।

যে ক্ষেতে এটা ফলানো হয়, তখন এই ক্ষেতেরও অনেক ক্ষতি হয়।

এটা সব প্রানীর বেলায় এক রকম না।