১৬/০৯/২০২০-বন্ধু  বনাম  শত্রু

যারা সারাজীবন কারো নিরাপত্তার দায়িত্ত নিয়ে জীবন বাজী রাখে, এক সময় তারাই হয়ে উঠে জীবনের সবচেয়ে বড় ঝুকিপূর্ন মানুষ। তখন শত্রুর শত্রুতায় জীবন ঝুকিতে পরে না, ঝুকিতে পরে অতীব কাছের মানুষের শত্রুতায়। গোয়েন্দারা আসামি শনাক্ত করার জন্য অনেকগুলি পথ অনুসরন করে থাকেন। তার একটি হল প্রত্যেককেই সন্দেহের দ্রিষ্টিতে দেখা। সবচেয়ে বেশী তাকে করা হয় যাকে মনে হবে কম সন্দেহজনক। ইতিহাস আমাদেরকে বারবার শিখিয়ে গেছে যে, মানুষের জীবনে সবচেয়ে বড় যে শত্রু তাকে কখনো চেনা যায় না। সে থাকে সবচেয়ে কাছের বন্ধুর মত করে। আমাদের সবার ব্যক্তিগত জীবনও তাই। আপনি সবচেয়ে বেশী প্রতারিত হবেন আপনার কাছের মানুষদের কাছ থেকে। আপনার সবচেয়ে বেশী কষ্টের তালিকা করলে সেখানে শত্রু না, আপন মানুষের নাম বেশী দেখতে পাবেন। শত্রু কখনো বিশ্বাসঘাতক হয় না, বিশ্বাসঘাতকতা করে কেবল আপন মানুষেরাই। এরিস্টোটল বলেছিলেন, দূর্ভাগ্যবান তারাই যাদের প্রকৃত বন্ধু নাই। অপরদিকে সেই প্রকৃত বন্ধুই যখন শত্রু হয়ে উঠে, তখন সেই জীবন নিয়ে বেচে থাকা কষ্টকর, যন্ত্রনাদায়ক ও পীড়াদায়ক। এমন কি কোনো কোনো ক্ষেত্রে মৃত্যুরও কারন হয়ে দাঁড়ায়। তাই শত্রুকে যদি একবার ভয় করো, তাহলে বন্ধুকে ভয় করো অন্তত দশবার। কারন বন্ধু যদি কখনো শত্রু হয়, তখন তার কবল হতে মুক্তি পাওয়া কিছুতেই সম্ভব হয় না।