১৭/০৪/২০২১-ধনী-গরীবের সৃষ্টি কেনো

সারা দুনিয়া রীতিমত কেপে উঠেছে গত প্রায় এক বছরের বেশী। অথচ যিনি কাপাচ্ছেন, তাঁকে কেউ আজো দেখেনি। প্রতিটা দেশ, মহাদেশ, গরীব কিংবা ধনী কেহই রেহাই পাচ্ছে না তার কবল থেকে। সে কোনো সম্পদ দখল করতে আসে নাই, না এসেছে কোনো রাষ্ট্রপ্রধানকে উৎখাত করতে। তার কোনো মার্কেটিং স্ট্র্যাটেজি নাই, তার কোনো লাভ লস নাই, তার কোনো শ্রেনীভেদে কোনো টার্গেটও নাই। তার একটাই লক্ষ্য–যতো পারো লাশ সংগ্রহ করো। আর এই অচেনা, অজানা এবং অদৃশ্য শত্রুর নাম “কভিড-১৯” যাকে সবাই করোনা নামে চিনে।

এই করোনা ধনীর গদি নাড়িয়ে দিয়েছে, আর গরীবকে আরো গরীব করে দিয়েছে। সারা দুনিয়ার সরকারগন লক ডাউন কিংবা আইসোলেশন পদ্ধতি অবলম্বন করেও একে কিছুতেই ঠেকাতে পারছে না। আবার লক ডাউনের মাত্রা বাড়িয়ে দিলেও অর্থনীতির চাকা ক্রমশই এমন দূর্বল হতে চলছে যে, কলকারখানা এই মৃত্যু ঝুকির মধ্যেও খোলা রাখতে হচ্ছে। আর এই কলকারখানা খোলা নিয়ে এবং তার পাশাপাশি সাধারন কর্মী জীবনকে প্রতিহত করে মাঝে মাঝে লক ডাউনের কারনে বিভিন্ন পেশার মানুষ জন এমনভাবে সোস্যাল মিডিয়াতে মন্তব্য করছেন যার অর্থ এই রকম যে, ধনীরা ধনী হয়ে যেনো পাপ করেছে অথবা অপরাধ। এই মনতব্য কারীদের সাথে আমি প্রায়ই ভিন্ন মতের কারনে আমিও টার্গেট হচ্ছি অনেক সমালোচনার।

আমি একটা জিনিষ ক্লিয়ারলী বুঝতে পারছি কেনো স্বয়ং স্রিষ্টিকর্তা তার পুরু জগতে একটা ধনী গরীবের সমাজ সৃষ্টি করেছেন। যদি তিনি এই পার্থক্যটা সৃষ্টি না করতেন, তাহলে পুরু জগত কয়েক দিনের মধ্যে ধ্বংস হয়ে যেতো, জীবন থেমে যেতো আর অরাজকতার সৃষ্টি হতো। একটা উদাহরণ দিয়ে ব্যাপারটা বলি তাহলে-

ধরুন সবার কাছে সমপরিমান সম্পদ রয়েছে। সবচেয়ে বড় লোকের কাছে যদি ৫ কোটি টাকা থাকে, সেক্ষেত্রে সবচেয়ে গরীব লোকের কাছেও তাহলে ৫ কোটি টাকাই রয়েছে। যদি এটাই হয় তাহলে কি কি দাঁড়াবে, আসুন সেটা দেখিঃ

ক।      যে কৃষক সারা বছরের জীবিকার জন্য দিনরাত পরিশ্রম করে মাঠে ধান কিংবা অন্যান্য ফসল ফলাতেন এবং নিজেরা একটু ভালো থাকার জন্য আরো কিছু বাড়তি রোজগারের জন্য কাজ করতেন, সেই কৃষক আর পরিশ্রম করবেন না। কারন তার কাছে অঢেল টাকা আছে।

খ।       যে পরিবহন কোম্পানী তার আরো টাকা আয় করার জন্য দিনরাত অনেক লেবার, গাড়ি এবং সরঞ্জাম নিয়ে প্রতিনিয়ত সাধারন পাবলিক নিয়ে ব্যবসা করতেন, লাভের আশায় আরো বেশী মুলধন খাটিয়ে একটার পর একটা পরিবহন তার ষ্টকে যোগ করতেন, তিনি আর এই কাজটি করবেন না। কারন তার কাছে অঢেল টাকা আছে।

গ।       হোটেল রেস্তোরায় যারা ব্যবসা করেন, তারাও আর ওই ব্যবসাটা করবেন না, কারন তার ব্যবসা করে লাভের কোনো দরকার নাই। তার কাছেও অঢেল টাকা আছে।

ঘ।       কোনো ইয়াং জেনারেশন কখনো কোনো চাকুরী করার মনোবৃত্তি থাকবে না, জবও খুজবে না, কারন তার কাছেও অঢেল টাকা আছে।

চ।        খুচরা বিক্রেতা যেমন সব্জীওয়ালা, ফুস্কাওয়ালা, মুড়িওয়ালা, আলু বিক্রেতা, মাছ বিক্রেতাও আর ফেরি করে করে দ্বারে দ্বারে সেইসব সব্জী, মাছ কিংবা তরিতরকারী নিয়ে ফেরীও করবেনা। কারন তার কাছে অঢেল টাকা আছে।

চ।        মেডিসিন কোম্পানীগুলি মেডিসিন তৈরী এবং বিক্রি করে মুনাফার জন্য তারাও আর কোনো প্রকার গবেষনা কিংবা বড় বড় কোম্পানী তৈরী করবে না। কারন তাদের কাছেও অঢেল টাকা আছে।

জ।      গার্মেন্টস শিল্পরা যেমন কোনো কর্মচারী পাবেন না, তেমনি লাভের জন্য তারাও আর কোনো গার্মেন্টস তৈরী করবেন না, কারন তাদের কাছেও অঢেল টাকা আছে।

ট।        স্কুল কলেজ, ইউনিভার্সিটি কিছুই নাই, কারন যারা এসব করবেন, আর মুনাফা করবেন, তাদের হাতেও অঢেল টাকা আছে।

ফলে ব্যাপারটা কি দাড়াবে? দাঁড়াবে এই যে, বাজার নাই, ফসল নাই, উতপাদন নাই, হোটেল রেস্তোরা নাই, পরিবহন চলবে না, গার্মেন্টস কোম্পানী নাই, মেডিসিন কোম্পানী নাই, ব্যাংক নাই, জেলে নাই, স্কুল কলেজ নাই, কিছুই নাই। অথচ সবার কাছে আছে অঢেল টাকা আর টাকা। কিন্তু মানুষের মৌলিক চাহিদার জন্য যা দরকার, সেগুলিও নাই। খাবার নাই, মেডিসিন নাই, কাপড় চোপড় নাই, থাকার জায়গা নাই, অথচ টাকার কোনো অভাবও নাই। তাহলে মানুষ কি বেচে থাকতে পারবে? কিভাবে বাচবে এই জনগোষ্টী? কৃষক মাঠে যায় না, ফসল ফলায় না, ফসল তুলে না, ফলে মানুষ না খেয়ে খেয়ে অসুস্থ হয়ে পড়বে। মানুষ যখন অসুস্থ হয়ে পড়বে, কোথাও কোনো হাসপাতাল নাই, ডাক্তার নাই, না আছে কোনো নার্স। স্কুল কলেজ না থাকায় কেউ পড়তেও যাবে না, আর পড়বেই বা কেনো? সবার হাতে তো অঢেল টাকা আছে। ফলে ডাক্তার, নার্স কিংবা হাসপাতাল ছাড়া অসুস্থ মানুষেরা কোথায় যাবে? নিসচিত মরন।

শিশুরা দুধের ক্ষুধায় মরবে, অন্যরা খাবার না থাকার কারনে মরবে, এক জায়গা থেকে অন্য জায়গায় যাওয়ার জন্যে পরিবহন না থাকায় কোথাও যেতে পারবে না। পুরু প্রিথিবী একটা সময় সম্পুর্ন স্থবির হয়ে একটা নির্জীব শ্মশানে পরিনত হবে।

এটাই কি আমরা সবাই চেয়েছিলাম?

না, আমরা এটা কখনো চাইনি। আর ঠিক তাই দুনিয়াকে সচল করার জন্য, চলমান রাখার জন্যে সমাজে একটা ধনী গরীবের ব্যবধান রাখতে হবে যেখানে কেউ জীবিকার জন্য লড়বে, আর কেউ মুনাফার জন্য টাকা ইনভেষ্ট করবে।

বিধাতার নিয়ম এতো সহজ নয়। এটা তারই একটা পলিসি যেখানে ব্যবধান থাকতে হবে, রাখতে হবে, আর সব কিছু চলমান রাখতে হবে। আর ধনী-গরীবের ব্যবধানটা এই সমস্যার একমাত্র উপায়।

==========================================

সংগ্রিহীত

মোবাইলে একটা SMS এলো। তাকিয়ে দেখি..

“সরকারের তরফ থেকে আমার এ্যাকাউন্টে ৫০ লাখ টাকা দেয়া হয়েছে” আমার মন খুশিতে ভরে গেল। ঘর থেকে বের হলাম আর চিৎকার করে বাড়ির সবাইকে বলছি…. “সবাই শোনো, দিন বদলে গেছে, আমার এ্যাকাউন্টে ৫০ লাখ টাকা এসে গেছে”। রুম থেকে বউ বেরিয়ে বললো, “অত খুশির কি আছে, আমার এ্যাকাউন্টেও ৫০ লাখ টাকা দিয়েছে। এই যে মেসেজ দেখ।”

একটু অবাক হলাম, ভাবলাম আশেপাশে সবাইকে গিয়ে বলি। বাড়ির পাশের লোক আমায় বলছে, “বেশি উত্তেজিত হয়ো না, আমাদের এ্যাকাউন্টেও ৫০ লাখ জমা হয়েছে।” আমার খুশি সব উড়ে গেল। ভাবলাম যাই, বাজার থেকে কিছু মিষ্টি নিয়ে আসি। বাজারে গিয়ে দেখলাম, দোকান বন্ধ। পাশের একজনকে জিজ্ঞেস করলাম, “ও ভাই এই মিষ্টির দোকান বন্ধ কেন?” সে বললো, “মিষ্টি দোকানদারের আর দোকানদারি করার কি দরকার। তার এ্যাকাউন্টে ৫০ লাখ এসে গেছে।” তাই ভাবলাম একটু নিউ মার্কেটে যাই, সেখান থেকে কিছু নিয়ে আসি। সেকি! কোনো দোকান পাট খোলা নেই। ওনাদের এ্যাকাউন্টেও নাকি ৫০ লাখ এসে গেছে…..। প্রচন্ড খিদে পেয়েছে ভাবলাম এখানে তো দোকান পাট বন্ধ। সামনের দিকে যাই, ভালো কোন হোটেলে তৃপ্তি করে খাওয়া যাবে।

সামনে যতই যাই সবই দেখি ফাঁকা। হোটেলের বাইরে দাড়িয়ে থাকা স্বাগত জানানোর সেই লোকও নেই, যে কাস্টমার দেখলেই সালাম ঠুকে ওয়েলকাম করেন, শপিং মলের সিকিউরিটিও নেই। সবার এ্যাকাউন্টেই ৫০ লাখ এসে গেছে। মার্কেটে কেউ নেই। সবজি ওয়ালা, চা ওয়ালা, সরবতওয়ালা ফাস্টফুড ওয়ালা কেউ নেই। সব কিছুই বন্ধ। সকলের ঠিকানা এখন ব্যাঙ্কে ৫০ লাখ টাকা তোলার জন্যে। কেননা এখন আর কারো কাজ করার দরকার নেই, সবার কাছেই ৫০ লাখ আছে। আমার এক বন্ধু ফোন করে বললো, “আমি জব ছেড়ে দিয়েছি, আমার এ্যাকাউন্টে ৫০ লাখ টাকা আছে” আমার এক বড় ভাই ফোন করে বললো, “আমার আর্ট স্কুল অফ করে দিয়েছি” “আমার আশেপাশের ছোট বোন আর স্কুলে যাচ্ছে না” “আমার এক বন্ধু টিউশন পড়ানো বন্ধ করে দিয়েছে” “নিপা নামের মেয়েটিও আর কলেজে যায় না” “ইভান আর জব খু্ঁজে না” ‘শ্রমিকরা আর কারখানায় যায় না, কলকারখানা সব বন্ধ”।

সবার এ্যাকাউন্টে ৫০ লাখ টাকা জমা আছে। সবাই এখন বড়লোক। সবাই সুর তুলছে, গান করছে, নৃত্য করছে….. বিকেলে হাটতে হাটতে মাঠের দিকে গেলাম, কৃষকরা সবাই কাজ ছেড়ে বাড়িতে। কেউ নেই জমিতে। এখন তাদের রোদে পুড়ে বৃষ্টিতে ভিজে কাজ করার আর দরকার নেই। তারা সবাই বড়লোক হয়ে গেছে। সবার এ্যাকাউন্টেই ৫০ লাখ টাকা। 

৭ দিন পর দেখা গেল খিদের জ্বালায় লোক কাঁদছে। কেননা, জমি থেকে কেউ ফসল তুলছে না, সমস্ত দোকানপাট বন্ধ, হোটেল, মেডিক্যাল সব বন্ধ। অসুস্থ হয়ে মানুষ মৃত্যুর দিকে এগিয়ে যাচ্ছে। কেননা, খাবার নেই, ডাক্তার নেই। পশুরাও না খেতে পেয়ে মরছে। জমিতে সবুজ ঘাস নেই, সোনালী ফসল নেই। শিশুরা খিদের জ্বালায় কাঁদছে, গোয়ালা দুধ দিচ্ছে না বলে। মানুষ এখন ছুটছে মুঠো মুঠো টাকা নিয়ে। রাস্তায় রাস্তায় ঘুরছে পকেটে টাকা নিয়ে।

কাঁদছে মানুষ লক্ষ টাকা হাতে নিয়ে আর বলছে, “এই ভাই নাও ১০ হাজার টাকা, আমাকে ২০০ গ্রাম দুধ দাও। দুদিন বাচ্চাটা না খেয়ে আছে।

১০ দিন বাদে মানুষ না খেতে পেয়ে মরছে। কিছু কিছু লোক টাকার ব্যাগ নিয়ে ঘুরছে রাস্তায়। এই নাও ভাই ৫ লাখ টাকা, “আমাকে ৫ কেজি চাল দাও। ১০ দিন থেকে না খেয়ে আছি।” সব বাজার হাট বন্ধ হয়ে গেছে। শাক সবজি খাবার দাবার কারো কাছেই নেই। সবদিকে শুধু মৃত্যুর ছবি দেখা যাচ্ছে।

আমিও আমার ৫০ লাখ টাকা নিয়ে ছুটে বেড়াচ্ছি, নাও ভাই নাও ৫০ লাখ নিয়ে নাও, তবুও কিছু খাবার দাও”। কে কার টাকা নেবে, খাবার কারো কাছেই নেই। মানুষ মানুষের দিকে তেড়ে আসছে হিংস্র সিংহের মত। মনে হচ্ছে, মানুষ মানুষকে খাবে। অচেনা একলোক তাড়া করেছে আমাকে, চিবিয়ে খাবে বলে।

ছুটছি আমি। আমি ক্ষুধার্ত মানুষ, কতটা আর ছুটব? পড়ে গেলাম হোঁচট খেয়ে. ..মা গো করে চিৎকার করে উঠলাম….. বউ তখন ঘুম থেকে লাফ দিয়ে উঠে “কি হলো তোমার ? সকাল হয়ে গেছে, ঘুম থেকে উঠো, চোখে মুখে পানি দিয়ে আসো। এই তুমি বাচাঁও বাঁচাও বলে চেঁচাচ্ছিলে কেন? কোন খারাপ স্বপ্ন দেখছিলে নাকি ?” আমি বললাম, “না, খারাপ নয়, ভালো দিনের স্বপ্ন। “

গরিব আমরা, কিন্তু ঘরে “দুমুঠো খাবার তো আছে” “তৃষ্ণার পানি তো আছে” “শিশুরা খেলছে” “পশুরা মাঠে ঘাস খাচ্ছে” “দোকানে ভিড় আছে” “যানবাহন চলছে তো চলছে” “মানুষের সমাগম চলছে” “বাগানে ফুল ফুটছে” প্রকৃতি হাসছে…..

অনেকে ভাবে সৃষ্টিকর্তা আল্লাহ কেন ধনী গরীব সুষ্টি করছে ? সবাইকেতো চাইলে ধন সম্পদ দিতে পারতো।সবাইকে সুখ শান্তি দিতে পারতো।

বাস্তবতা হল ধনী গরীব বৈশম্য আছে বিধায়