
মোট জমির পরিমান নিম্নরুপঃ
| ক্রমিক | মালিকানার নাম | মৌজা | জমির পরিমান | |
| ১ | মেজর আখতার হোসেন (অবঃ) | চর গলগলিয়া | ২২ শতাংশ | ১৭৩.৫ শতাংশ |
| ৮৭ শতাংশ | ||||
| ১৬ শতাংশ | ||||
| ২২.৫ শতাংশ | ||||
| ২৬ শতাংশ | ||||
| ২ | মর্তুজা আলি | চর গলগলিয়া | ৮৮.৫ শতাংশ | ২৫২.৫ শতাংশ |
| চর কুন্দুলিয়া | ৮০ শতাংশ | |||
| চর কুন্দুলিয়া | ৮৪ শতাংশ | |||
| ৩ | জজ মিয়া | চর কুন্দুলিয়া | ৮৫ শতাংশ | ৮৫ শতাংশ |
| ৪ | আব্দুল মান্নান + আক্কাস | চর কুন্দুলিয়া | ৫১ শতাংশ | ৫১ শতাংশ |
| ৫ | সেলিম গং | চর কুন্দুলিয়া | ১৮২ শতাংশ | ১৮২ শতাংশ |
| মোট জমির পরিমান | ৭৪৪ শতাংশ |
বিক্রিযোগ্য জমির বিবরনঃ
| ক্রমিক | মালিকানার নাম | মৌজা | পরিমান | মোট জমি | বিক্রিযোগ্য পরিমান | মন্তব্য |
| ১ | মেজর আখতার হোসেন (অবঃ) | চর গলগলিয়া | ২২ শঃ | ১৭৩.৫ শতাংশ | ২২ শতাংশ | রেকর্ড জমি |
| ৮৭ শঃ | ৮৭ শতাংশ | আরএস খাস | ||||
| ১৬ শঃ | ১৬ শতাংশ | রেকর্ড জমি | ||||
| ২২.৫ শঃ | ২২.৫ শতাংশ | রেকর্ড জমি | ||||
| ২৬ শঃ | ২৬ শতাংশ | রেকর্ড জমি | ||||
| ২ | মর্তুজা আলি | চর গলগলিয়া | ৮৮.৫ শঃ | ২৫২.৫ শতাংশ | ৮৮.৫ শতাংশ | রেকর্ড জমি |
| চর কুন্দুলিয়া | ৮০ শঃ | ৪৫ শতাংশ | রেকর্ড জমি | |||
| চর কুন্দুলিয়া | ৮৪ শঃ | ৮৪ শতাংশ | রেকর্ড জমি | |||
| ৩ | জজ মিয়া | চর কুন্দুলিয়া | ৮৫ শঃ | ৮৫ শতাংশ | ৮৫ শতাংশ | রেকর্ড জমি |
| ৪ | আব্দুল মান্নান + আক্কাস | চর কুন্দুলিয়া | ৫১ শঃ | ৫১ শতাংশ | ৫১ শতাংশ | রেকর্ড জমি |
| ৫ | সেলিম গং | চর কুন্দুলিয়া | ১৮২ শঃ | ১৮২ শতাংশ | ১০৬ শতাংশ | রেকর্ড জমি |
| মোট জমির পরিমান | ৭৪৪ শতাংশ | ৬৩৩ শতাংশ | ||||
হাতে লিখিত খসড়া চুক্তির বরখেলাপের নমুনা সমুহঃ
হস্তলিখিত ড্রাফট বাতিলের কারন সমুহঃ
(১) এমওইউঃ হস্ত-লিখিত ১৭/০৪/২০২১ তারিখের ড্রাফট চুক্তির অনুচ্ছেদ (১৩) মোতাবেক ড্রাফট চুক্তির ৩০ দিনের মধ্যে চুড়ান্ত এমওইউ সম্পন্ন করার কথা, যদি ৩০ দিনের মধ্যে চুড়ান্ত এমওইউ না করা হয় তাহলে উক্ত হস্ত লিখিত চুক্তিটি বাতিল বলে গন্য করা হবে। কিন্তু ক্রেতা জনাব মুজিবুর রহমান ৩০ দিন অতিবাহিত হলেও তিনি আর বিক্রেতার সাথে কোনো প্রকার চুড়ান্ত এমওইউ করেন নাই। বিধায় উক্ত হস্ত-লিখিত ড্রাফট চুক্তিটি ১৬/০৫/২০১৯ তারিখেই বাতিল বলিয়া গন্য হয়। যেহেতু চুক্তিটি বাতিল হয়ে যায় ফলে উক্ত হস্ত লিখিত চুক্তির কোনো শর্তই আর কার্যকরী নহে। পরবর্তীতে যতো বেচা-কেনা সংঘটিত হয়, তা প্রকৃতপক্ষে কোনো চুক্তির অধীনে কিংবা কোনো শর্তের মধ্যে বেচা-কেনা সীমাবদ্ধ ছিলো না।
(২) বায়নানামাঃ ওই একই হস্ত লিখিত চুক্তির অনুচ্ছেদ (৬) এ উল্লেখিত ছিলো যে, ৩০ দিনের মধ্যে বায়না করতে হবে। অর্থাৎ এই বায়নাও বেচা-বিক্রির নিমিত্তে একটা চুক্তি যেখানে এমওইউ এর মতো উভয় পক্ষের সমঝোতা বিষয়ক বিস্তারীত তথ্য লিপিবদ্ধ থাকে এবং স্বাক্ষরিত হয়। জনাব মুজিবুর রহমান সাহেব ৩০ দিনের মধ্যে কোনো বায়নানামাও করেন নাই।
(৩) ক্রয়-বিক্রয় সময়সীমাঃ হস্ত লিখিত ড্রাফট দলিলের অনুচ্ছেদ (৮) মোতাবেক শর্ত ছিলো যে, ক্রেতা মোট ৬৩৩ শতাংশ জমি প্রতি শতাংশ জমির গড়মুল্য ৩ লক্ষ ৫ হাজার টাকা হারে মোট ৬ মাসের মধ্যে ক্রয় সম্পন্ন করবেন। অতিরিক্ত আরো ৩ মাস গ্রেস পিরিয়ডসহ মোট ৯ মাসের মধ্যে সম্পুর্ন ৬৩৩ শতাংশ জমি বিক্রেতার কাছ থেকে ক্রয় করবেন। কিন্তু ক্রেতা জনাব মুজিবুর রহমান সাহেব উক্ত ৯ মাসের মধ্যে মাত্র ১৬৭.৫ শতাংশ জমি ক্রয় করেন এবং বাকী জমি আর ক্রয় করতে পারেন নাই। অর্থাৎ মাত্র ২৫% জমি ক্রয়ের পর ক্রেতা আর কোনো জমি গত ২ বছরেও কিনতে পারেন নাই। জমি কেনা বেচার সময় সীমা পার হওয়ায় প্রকৃতপক্ষে উক্ত হস্ত লিখিত ড্রাফট চুক্তিটি ২য় বারের মতো বৈধতা হারায়।
(৪) শরীকানা মালিকের জমি গোপনে ক্রয় করাঃ বিক্রেতা ৬৩৩ শতাংশ জমির মালিক তিনি একা ছিলেন না। মোট বিক্রেতা ছিলো ৫ জন মালিক। তাদের জমির পরিমান নিম্নে দেয়া হলোঃ
| ক্রমিক | মালিকানার নাম | মৌজা | পরিমান | মোট জমি | বিক্রিযোগ্য পরিমান | মন্তব্য |
| ১ | মেজর আখতার হোসেন (অবঃ) | গলগলিয়া | ২২ শঃ | ১৭৩.৫ শতাংশ | ২২ শতাংশ | রেকর্ড জমি |
| ৮৭ শঃ | ৮৭ শতাংশ | আরএস খাস | ||||
| ১৬ শঃ | ১৬ শতাংশ | রেকর্ড জমি | ||||
| ২২.৫ শঃ | ২২.৫ শতাংশ | রেকর্ড জমি | ||||
| ২৬ শঃ | ২৬ শতাংশ | রেকর্ড জমি | ||||
| ২ | মর্তুজা আলি | গলগলিয়া | ৮৮.৫ শঃ | ২৫২.৫ শতাংশ | ৮৮.৫ শতাংশ | রেকর্ড জমি |
| কুন্দুলিয়া | ৮০ শঃ | ৪৫ শতাংশ | রেকর্ড জমি | |||
| কুন্দুলিয়া | ৮৪ শঃ | ৮৪ শতাংশ | রেকর্ড জমি | |||
| ৩ | জজ মিয়া | কুন্দুলিয়া | ৮৫ শঃ | ৮৫ শতাংশ | ৮৫ শতাংশ | রেকর্ড জমি |
| ৪ | আব্দুল মান্নান + আক্কাস | কুন্দুলিয়া | ৫১ শঃ | ৫১ শতাংশ | ৫১ শতাংশ | রেকর্ড জমি |
| ৫ | সেলিম গং | কুন্দুলিয়া | ১৮২ শঃ | ১৮২ শতাংশ | ১০৬ শতাংশ | রেকর্ড জমি |
| মোট জমির পরিমান | ৭৪৪ শতাংশ | ৬৩৩ শতাংশ |
উপরের টেবিলে ক্রমিক (৩) এবং ক্রমিক (৪) এর শরিকানা মালিকের যথাক্রমে ৮৫ শতাংশ এবং ৫১ শতাংশ জমি ক্রেতা গোপনে আতাত করে কম মুল্যে ক্রয় করেন। এর বাইরেও তিনি জজ মিয়া থেকে তাঁর বিবেচনায় IWT এর বাইরে পানির মধ্যে রেকর্ডিয় জমিও ক্রয় করেন।
এখানে উল্লেখ্য যে, চরকুন্দুলিয়া জমির মুল্য এবং চরগলগলিয়া জমির মুল্য সমান না থাকায়, এবং চরকুন্দুলিয়া মৌজার জমির দাম কম আর চরগলগলিয়া মৌজার দাম বেশী হওয়ায়, বিক্রেতা উভয় মৌজার দামের মধ্যে সমন্নয় করে গড়মুল্য নির্ধারন করেন প্রতি শতাংশ ৩ লক্ষ ৫ হাজার টাকা। যাতে চরকুন্দুলিয়া মৌজার বর্ধিত দাম থেকে চরগলগলিয়া মৌজার গড় মুল্যের মধ্যে অতিরিক্ত মুল্য যোগ করে তিনি চরগলগলিয়ার প্রকৃত জমিওয়ালাদেরকে ন্যায্য মুল্য দিতে পারেন। ফলে ক্রেতা যে কোনো মৌজা থেকেই জমি ক্রয় করেন না কেন, ক্রেতাকে প্রতি শতাংশ জমির মুল্য ৩ লক্ষ ৫ হাজার টাকাই দেওয়ার কথা। কিন্তু ক্রেতা জনাব মুজিবুর রহমান খান সাহেব গোপনে উক্ত শরীকদের সাথে আতাত করে জনাব জজ মিয়া এবং আব্দুল মান্নান গংদের জমি হস্ত-লিখিত ড্রাফট চুক্তির বাইরে বিক্রেতার অগোচরে আলাদা এবং কমমুল্যে যথাক্রমে ৮৫ শতাংশ এবং ৫১ শতাংশ জমি খরিদ করেন। এর ফলে বিক্রেতা শুধু মাত্র জজ মিয়ার জমিতেই ১ কোটি ৩২ লক্ষ টাকার ক্ষতিগ্রস্ত হন এবং মান্নান গং দের জমিতে বিক্রেতা প্রায় ৫৪ লক্ষ টাকা ক্ষতিগ্রস্ত হন। একুনে বিক্রেতা প্রায় ১ কোটি ৮৫ লক্ষ টাকার ক্ষতিগ্রস্ত হন।
(৫) শর্ত মোতাবেক জমি না কেনার প্রস্তাবনাঃ ক্রেতা জনাব মুজিবুর রহমান সাহেব যখন ৬৩৩ শতাংশ জমির ব্যাপারে হস্ত-লিখিত ড্রাফট চুক্তি করেন, সেখানে মা ইন্ডাস্ট্রিজের জমি (৮৭ শতাংশ যাহা আরএস খাস), মা ইন্ডাস্ট্রিজের ইস্টাবলিষ্টমেন্ট, মা ইন্ডাস্ট্রিজের ইলেক্ট্রিক্যাল লাইনস সহ ক্রয় করবেন বলে হস্ত লিখিত ড্রাফট চুক্তিতে বলা হয়। কিন্তু পরবর্তীতে তিনি উক্ত আরএস খাসজমি, মা ইন্ডাস্ট্রিজের ইস্টাবলিষ্টমেন্ট, মা ইন্ডাস্ট্রিজের ইলেক্ট্রিক্যাল লাইনস ইত্যাদি না কেনার সিদ্ধান্ত নেন। এ ছাড়া তিনি মা ইন্ডাস্ট্রিজের সম্মুখে ২২ শতাংশ জমি যা ৬৩৩ শতাংশ জমির মধ্যে ছিলো, তিনি সেটাও না কেনার সিদ্ধান্ত নেন বরং তিনি উক্ত ২২ শতাংশ জমি থেকে শুধুমাত্র রাস্তার নিমিত্তে ১৬ ফুট পরিমান জমি ক্রয় করে বাকী জমি না কেনার সিদ্ধান্ত নেন। এ ছাড়াও ক্রেতা মুজিবুর রহমান সাহেব ৬৩৩ শতাংশ জমির ভিতরে জনাব মর্তুজা সাহেবের চরকুন্দুলিয়ার এক অংশে ৮৪ শতাংশ জায়গা আলাদা ছিলো, যা ক্রেতা পরবর্তীতে উহা আর কিনবেন না বলে জানান।
(৬) IWT সীমানাঃ হস্ত লিখিত ড্রাফট চুক্তির অনুচ্ছেদ (১২) মোতাবেক শর্ত ছিলো যে, ক্রেতা IWT সীমার বাইরের জমি ক্রয় করবেন। উক্ত এলাকায় সরকার কর্ত্রিক কোনো IWT সীমানা পিলার নাই বা সীমানা পিলার দিয়ে তা নির্ধারিত করা হয় নাই। কারন নদীর মধ্যেও ব্যক্তি মালিকানায় অনেক রেকর্ডিয় জমি রয়েছে। উক্ত ব্যক্তিগন সর্বদা উক্ত জমির ট্যাক্স, খাজনা ইত্যাদি নিয়মিত দিয়ে আসছেন। নদী দক্ষিন দিকে সরে যাওয়ার সাথে সাথে জমির মালিকগন তাদের রেকর্ডিয় জমিসমুহ ভোগ করতে থাকেন। ধরে নিলাম যে, শুষ্ক মৌসুমে সর্বশেষ নদীর পানি যেখানে থাকে সেটাই নদী শাসনের সীমানা। তাহলে ক্রেতা জনাব জজ মিয়ার জমি কেনার সময় তিনি নদীর ভিতরে তাঁর ব্যক্তি মালিকানায় থাকা জমি কিনলেন কেনো? সেটা কি IWT সীমার মধ্যে পড়ে না?
(৬) নতুন দামে একই জমির উপর আলাদা বায়না করাঃ ক্রেতা জনাব মুজিবুর রহমান সাহেব পুনরায় আলাদাভাবে জনাব মর্তুজা সাহেবের সাথে তাঁর চরকুন্দুলিয়া এবং চরগলগলিয়ার জায়গার দাম পুনর্বিন্যাশ করে চরকুন্দুলিয়া জমির প্রতি শতাংশ জমি ৪ লক্ষ টাকা এবং চরগলগলিয়া জমির প্রতি শতাংশ জমি ৫ লক্ষ ৫০ হাজার টাকা ধার্য্য করে নতুন করে জনাব মর্তুজা সাহেবের সাথে বায়না করেন। কিন্তু উক্ত জায়গা হস্ত লিখিত ড্রাফট চুক্তির মধ্যে ছিলো। এতো বছর পর তিনি হস্ত লিখিত ড্রাফট চুক্তির বরাত দিয়ে তুনিই আবার সেই হস্ত লিখিত ড্রাফট চুক্তির বরাত দিয়ে নিজের সার্থে বিক্রেতাকে একটা বিব্রতকর অবস্থায় ফেলে তাঁর নামে বদনাম করা হচ্ছে।
ক্রেতার বর্তমান দাবীসমুহ
(৭) বর্তমানে ক্রেতা জনাব মুজিবুর রহমান এইমর্মে বারংবার বিক্রেতাকে চাপ দিচ্ছেন যে, তিনি হস্ত লিখিত চুক্তির অনুচ্ছেদ (১২) মোতাবেক IWT বহির্ভুত জমি বুঝিয়া নিতে চান। অর্থাৎ চরকুন্দুলিয়ার দক্ষিনে অবস্থিত ধলেশ্বরী নদীর পানি শুষ্ক মৌসুমে যেখানে গিয়ে স্থিত হয়, তাঁর থেকে আরো ১৫০ ফুট ছেড়ে টানের দিকের জমি তাঁর প্রাপ্য বলিয়া দাবী করেন।
(৮) ক্রেতা আরো উল্লেখ করেন যে, যেহেতু চরকুন্দুলিয়া আর চরগলগলিয়া মৌজার গড়মুল্যে তিনি জমি কিনেছেন, ফলে উভয় মৌজা থেকে সমান সমান পরিমান জমি তাঁর প্রাপ্য। তাই তিনি এখন চরকুন্দুলিয়া থেকে কিছু জমি বিক্রেতার রেজিষ্ট্রেশন খরচে চরগলগলিয়া মৌজায় সমপরিমান জমি চান।
ক্রেতার দাবীসমুহের বিপরীতে বিক্রেতার ব্যাখ্যা
(৯) ক্রেতার উপরোক্ত দাবী-বক্তব্যের আলোকে বিক্রেতার ব্যাখ্যা এই যে, ১৭/০৪/২০১৯ তারিখে হস্ত-লিখিত ড্রাফট চুক্তিটি প্রথমত ৩০ দিনের মধ্যে চূড়ান্ত এমওইউ অথবা বায়নানামা না করার কারনে পুরুপুরী বাতিল হয়ে যাওয়ায় উক্ত চুক্তির কোনো শর্তই আর কার্যকরীতা থাকেনা। ফলে ক্রেতার দাবী অনুযায়ী হস্তলিখিত চুক্তির (১২) অনুচ্ছেদের কোনো কার্যকারীতাও থাকে না।
এখানে উল্লেখ থাকে যে, ৬৩৩ শতাংশ জমি কেনাবেচার লক্ষ্যে উক্ত চুড়ান্ত বায়নানামা কিংবা চূড়ান্ত এমওইউ তে বিস্তারীত তথ্য যেমন জমির মৌজা, তফশীল, জমির পরিমান, জমির প্রকার, জমির চৌহদ্দি, জমিরমুল্য, জমির আসল মালিকদের কার কতটুকু পরিমান কোন মৌজায় জমি, মা ইন্ডাস্ট্রিজ ইস্টাবলিসমেন্ট সমুহের বিবরন, সেখানে জমিতে গাছ গাছালীর বিবরন, সাবকবলা করার প্রক্রিয়া, কোন মৌজায় কখন কতটুকু কার মালিকানার জমি সাবকবলা করা হবে, জমির মুল্যশোধের পরিমান এবং প্রক্রিয়া তাঁর বিবরন ইত্যাদি চুড়ান্তভাবে উল্লেখ থাকার কথা। উক্ত বিষয়াদি বিস্তারীত উল্লেখ থাকলে বিক্রেতা যেমন শর্ত মোতাবেক জমি দেয়ার বাধ্যবাধকতা থাকতো, তেমনি ক্রেতাও গোপনে বিক্রেতার কোনো শরীকানা থেকে জমি কিনতে পারতেন না।
(১০) ক্রেতা জনাব মুজিবুর রহমান সাহেব চুক্তির অনুচ্ছেদ (৮) মোতাবেক চুক্তিতে উল্লেখিত ৬৩৩ শতাংশ জমি মোট ৬ মাস এবং অতিরিক্ত ৩ মাস সর্বমোট ৯ মাসের মধ্যে ক্রয় করার কথা। তিনি সেই শর্ত মোতাবেক গত ২ বছরেও জমি ক্রয় করতে পারেন নাই। তিনি মাত্র ১৬৭.৫ শতাংশ জমি ক্রয় করেছেন। অর্থাৎ ২৫% জমি তিনি ক্রয় করতে পেরেছেন।
(১১) হস্তলিখিত ড্রাফট চুক্তির অনুচ্ছেদ (১১) মোতাবেক এই শর্ত ছিলো যে, বিক্রেতা যে সকল জমির কাগজাদি ক্রেতাকে সরবরাহ করবেন, ক্রেতা সেসব কাগজাদি তাঁর ল ইয়ার দিয়ে পরীক্ষা নীরিক্ষা করে সঠিক পাওয়ার পর ‘লিগ্যাল ডকুমেন্টস’ অনুযায়ী হস্ত লিখিত ড্রাফট চুক্তির গড়মুল্যে তিনি উক্ত জমি ক্রয় করবেন। বিক্রেতা মোট ৬৩৩ শতাংশ জমির সম্পূর্ন লিগ্যাল ডকুমেন্টস একসাথে ক্রেতার কাছে হস্তান্তর করছেন। ক্রেতা তাঁর ইচ্ছেমতো চরকুন্দুলিয়ায় ১৫১.৫ শতাংশ এবং চরগলগলিয়ায় ১৬ শতাংশ জমি সাবকবলা ক্রয় করেন। অতঃপর তিনি সেই জমির ডিসিআর কাটেন, নিজের নামে খাজনা দেন, তাঁর নিজের নামে নামজারী করেন এবং তাঁর ব্যাংকে উক্ত জমি মর্টগেজ দেন। এখন তিনি তাঁর জমি বুঝে পান নাই বলে যে দাবী করছেন, তা একটা অবৈধ দাবী।
(১২) গত ১৪ অগাষ্ট ২০২১ তারিখে ক্রেতা জনাব মুজিবুর রহমান সাহেব বিক্রেতার সাথে এক চুড়ান্ত বৈঠকে বসেন এবং সেখানে তিনি এইমর্মে তাঁর পরিবর্তীত সিদ্ধান্ত জানান যে,
(ক) তিনি হস্তলিখিত ড্রাফট চুক্তির বলে তাঁর বিবেচনায় IWT এরিয়া বহির্ভুত চরকুন্দুলিয়ার জমির বদলে তিনি চরগলগলিয়ায় আরো প্রায় ৮৬ শতাংশ জমি চান।
(খ) তিনি মা ইন্ডাস্ট্রিজ লিমিটেডের আরএস খাস জমি কিনবেন না। কিন্তু তাঁর ভিতর দিয়ে ১৬ ফুট প্রশস্ত রাস্তা চান।
(গ) তিনি পলাশপুর রাস্তা থেকে মা ইন্ডাস্ট্রিজের ভিতরে যেতে ২২ শতাংশ জমি না কিনে শুধুমাত্র তাঁর থেকে ১৬ ফুট প্রশস্ত রাস্তা চান, যা কিনা আগের ড্রাফট হস্তলিখিত চুক্তিতে ক্রেতার কেনার কথা ছিলো। এখানে উল্লেখ থাকে যে, উক্ত ২২ শতাংশ জমির প্রস্থ মাত্র ৩৭ ফুট যার থেকে তিনি ১৬ ফুট প্রস্থের একটি রাস্তা চান এবং বাকী জায়গা তিনি কিনতে আগ্রহী নন। বাকী উক্ত ২১ ফুট প্রশস্ত জায়গা বিক্রেতার অধীনে রাখতে চান কারন উক্ত জায়গা তাঁর রাস্তায় ১৬ ফুট ব্যবহার করার পর এতো অল্প প্রশস্থের জায়গায় ক্রেতা অন্যকিছু করতে পারবেন না বলে তিনি সেই অংশ নিবেন না। কিন্তু বিক্রেতার কি হবে সেটা তিনি ভাবারও প্রয়োজন মনে করলেন না।
(ঘ) জনাব মুজিবুর রহমান সাহেব (ক্রেতা) একই চরকুন্দুলিয়া মৌজায় অন্য দাগে আরো ৪ শতাংশ জমি ক্রয় করেন, তিনি এখন সেই জমিও বিক্রেতার চরগলগলিয়া মৌজা থেকে বিনিময় চান।
(ঙ) শুধু তাইই নয়, ক্রেতা মুজিবুর রহমান সাহেব বিক্রেতার আরেক শরীকানা জনাব মুর্তজা আলী সাহেবের চরকুন্দুলিয়ার ডকইয়ার্ডের মধ্যে অবস্থিত ৮৪ শতাংশ জায়গাও এখন আর কিনতে আগ্রহী নন।
(১৩) কিন্তু তিনি এটা বলছেন না যে, তিনি যে বিক্রেতার শরীকানা মালিক থেকে আলাদা করে গোপনে জমি কিনলেন সেটা অন্যায়। সেইসাথে তিনি যে সেইসব শরীকানা থেকে তাঁর বিবেচনায় নেয়া IWT এর সীমানার বাইরে নদীর মধ্যে জমিও কিনলেন এটা তাঁর নীতি বহির্ভুত নয়। তিনি এটাও অন্যায় মনে করছেন না যে, বিক্রেতার প্রোপোজড ৬৩৩ শতাংশ জমির মধ্যে নিহিত মর্তুজা সাহেবের চরকুন্দুলিয়া এবং চরগলগলিয়া মৌজায় পৃথকভাবে নতুন করে গত জুলাই ২০২১ মাসে উচ্চ মুল্যে বায়না করা।
(১৪) বিক্রেতার কাছ থেকে ক্রেতা যখন জুলাই ২০১৯ মাসে জমি ক্রয় শুরু করেন, তখন ক্রেতার সাথে বিক্রেতার মধ্যে কোনো প্রকারের লিখিত বা মৌখিক চুক্তি হয় নাই। কোনো শর্তাবলীও নাই। স্বাভাবিক নিয়মে বিক্রেতা লিগ্যাল ডকুমেন্টস ক্রেতাকে দিবেন, ক্রেতা সেইসব লিগ্যাল ডকুমেন্টস পরীক্ষা নীরিক্ষা করে নিজে সন্তুষ্ট হবার পরেই তা সাবকবলা করবেন, এবং ক্রেতা সেই মোতাবেকই বিক্রেতার কাছ থেকে মোট ১৬৭.৫ শতাংশ জমি সাবকবলা করেন, নামজারী করেন, ডিসিআর কাটেন, এবং ব্যাংকে মর্টগেজ করেন। এখানে IWT, নদীশাসন কিংবা কোন মৌজা (চরকুন্দুলিয়া নাকি চরগলগলিয়া) ইত্যাদির কোন প্রকারের বাধ্যবাধকতা ছিলো না এবং নাইও। ফলে ক্রেতা তাঁর চয়েজ মতো মৌজাভিত্তিক যতটুকু প্রয়োজন ততটুকুই সাবকবলা করার আয়োজন করেন। তাতে তিনি চরকুন্দুলিয়ায় ১৫১.৫ শতাংশ এবং চরগলগলিয়ায় ১৬ শতাংশ জমি সাবকবলা করার জন্য প্রয়োজনীয় কমিশন করে সাবকবলা রেজিষ্ট্রেশন করেন। ফলে ক্রেতা এখন সেই পুরানো ১৭/০৪/২০১৯ তারিখের হস্তলিখিত ড্রাফট চুক্তির কোনো শর্তের উপরেই কোনো প্রকার চাপ বা দাবী করার ইখতিয়ার রাখেন না। এখানে আরো জোরালোভাবে উল্লেখ থাকে যে, ক্রেতা পুরানো সেই হস্ত লিখিত ড্রাফট চুক্তির মোট ১৪ টি শর্তের মধ্যে প্রায় ১৩ টি শর্ত নিজেই ভংগ করেছেন এবং নিজের সার্থেই তিনি এখন এসব করছেন যা আইনত একটি নীতি বহির্ভুত কাজ।
এখানে আরো উল্লেখ থাকে যে, অন্য একটি আলাদা দাগে যে ৪ শতাংশ জমি চরকুন্দুলিয়ায় ক্রয় করেছেন, তিনি উক্ত জমির নকশা এবং দাগ একাধিকবার তাঁর নিজের ল ইয়ার এবং ব্যাংকের ল ইয়ার দিয়েও পরীক্ষা নীরিক্ষা করিয়ে তারপর তিনি তা ক্রয় করার চুড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেন।
ফলে দিলল মোতাবেক ক্রেতা তাঁর জমি উপভোগ করবেন, এটাই নিয়ম। যদি এর বাইরে ক্রেতা মনে করেন যে, তিনি দলিল মোতাবেক তাঁর জমি ঘাটতি পেয়েছেন, নামজারী করতে পারেন নাই, বা ডি সি আর কাটতে পারেন নাই, খাজনা দিতে পারেন নাই, তাহলে তিনি বিক্রেতাকে ঘাটতি জমির জন্য আইনানুগ ব্যবস্থা নিতে পারেন।
(১৫) এখানে আরো একটি তথ্য বলা বাঞ্চনীয় যে, ক্রেতা উক্ত ১৬৭.৫ শতাংশ জমি ক্রয় করার সময় একটি তঞ্চকতা করেছেন যে, তিনি সাবকবলা করার সময় সম্পুন্ন ক্রয় করা জমির গড়মুল্যে বিক্রেতাকে টাকা ক্যাশ পরিশোধের কথা ছিলো কিন্তু বিক্রেতার সরলতার সুযোগ নিয়ে তিনি সাবকবলার দিন ক্যাশ টাকা হস্তান্তর না করে হটাত শুধু চেকের মাধ্যমে পরিশোধ করেন। তিনি এইমর্মে জানান যে, সাবকবলার দিন কোনো এক অজ্ঞাত কারনে তিনি ক্যাশ টাকা সংগ্রহ করতে পারেন নাই, কিন্তু ততোক্ষনে জমি সাবকবলা করা হয়ে গিয়েছিলো কমিশনের মাধ্যমে। বিক্রেতা অতি দয়ালু প্রকৃতির এবং ক্রেতাকে বিশ্বাস করেছেন বলেই ক্রেতাকে সম্মান দেখিয়ে ২ কোটি ৬০ লক্ষ টাকার চেক নিয়ে উক্ত ১৬৭.৫ শতাংশ জমি সাবকবলা করে দেন। ক্রেতা উক্ত টাকা গত ২ বছরেও পরিশোধ করতে পারেন নাই। এখনো প্রায় ৫ লাখ টাকার উপরে চেকের টাকা বাকী আছে। এই ২ বছরে জমির মুল্য বেড়েছে কয়েক গুন যা ক্রেতা নিজেও জনাব মর্তুজা সাহেবের নতুন বায়নায় উল্লেখ করেছেন।
(১৬) একটি সাধারন হিসাবঃ
(ক) ক্রেতা যদি বিক্রেতার শরীকানা মালিক জনাব জজ মিয়া এবং মান্নান গংদের থেকে গোপনে আলাদা জমি না কিনতেন, তাহলে জজ মিয়া এবং মান্নান গংদের জমির পরিশোধিত মুল্য থেকে বিক্রেতা পাওয়ার কথাঃ
(কক) জজ মিয়ার জমির অতিরিক্ত টাকা (৮৫@ ১৫৫০০০/০০) = ১৩১৭৫০০০/০০ টাকা
(খখ) মান্নান গং দের জমির অতিরিক্ত টাকা (৫১@ ১০৫০০০/০০) = ৫৩৫৫০০০/০০ টাকা
———————————————————————————————————
বিক্রেতা আরো মোট টাকা পাওয়ার কথা =১৮৫৩০০০০/০০ টাকা
যদি প্রতি শতাংশ জমির গড়মুল্য ৩০৫০০০/০০ টাকা দিয়ে উক্ত টাকাকে ভাগ করা হয় তাহলে জমির পরিমান দাঁড়ায় ৬০.৭৫ শতাংশ।
অর্থাৎ ক্রেতা পরিশোধিত মুল্যে জজ মিয়া এবং মান্নান গংদের জমি পাওয়ার পরে তিনি বিক্রেতা জনাব মেজর আখতারের কাছ থেকে জমি পাওয়ার কথা (১৬৭.৫ মাইনাস ৬০.৭৫) = ১০৬.৭৫ শতাংশ
বর্তমানে তিনি পেয়েছেন (৯৫+১৬) = ১১১ শতাংশ জমি। উক্ত জমি পুরুটাই নদীর পানি থেকে আরো অনেক উপরে। অর্থাৎ যদি IWT এর কথাও বলি, তাতেও উক্ত জমি কোয়ালিফাই করে। বরং ক্রেতা অতিরিক্ত ৬০.৭৫ শতাংশ জমি বেশী পেয়েছেন যা তাঁর প্রাপ্য ছিলো না।
ক্রেতা যেভাবেই তাঁর দাবী পেশ করেন না কেনো, কিছুতেই তিনি নীতির মধ্যে তাঁর দাবী গ্রহনযোগ্য নহে। উক্ত দাবী একটা অনৈতিক এবং সার্থান্নেসি দাবী ছাড়া আর কিছুই না।
জমি ক্রয়ের বিবরনঃ
১ম দফায় জমি ক্রয়
পরবর্তীতে কোনো চুক্তি করা ছাড়াই ক্রেতা জনাব মুজিবুর রহমান এবং বিক্রেতা মেজর মোহাম্মাদ আখতার হোসেন (অবঃ) চর কুন্দুলিয়া এবং চর গল গলিয়া মৌজায় আগের মৌখিক গড়মুল্যে কতক শতক জমি ক্রয়-বিক্রয় করেন যার বিবরন নিম্নরুপঃ
(৭) হস্ত লিখিত ড্রাফট চুক্তির প্রায় ৩৬ দিন পর অর্থাৎ ২২/০৫/২০১৯ তারিখ অবধি দুই পর্বে ক্রেতা জনাব মুজিবুর রহমান সাহেব বিক্রেতা মেজর মোহাম্মাদ আখতার হোসেনকে মোট ৭৫ লক্ষ টাকা অগ্রীম প্রদান করেন।
(৮) অগ্রিম প্রদানের পর ক্রেতা জনাব মুজিবুর রহমান সাহেব চরকুন্দুলিয়া এবং চরগলগলিয়ার জমির বৈধতা এবং কাগজ সঠিক আছে কিনা যাচাইয়ের নিমিত্তে প্রয়োজনীয় কাগজাদির ফটোকপি চান এবং বিক্রেতা তা সরবরাহ করেন।
(৯) ২২/০৫/২০১৯ থেকে শুরু করে ১৮/০৬/২০১৯ পর্যন্ত ক্রেতা জমির সমস্ত কাগজাদি ভূমি অফিস, এসি ল্যান্ড অফিস, নিজেদের ল-ইয়ারসহ ব্যাংকের ল-ইয়ারের মাধ্যমে সরেজমিনে জমির কাগজাদি যাচাই বাছাই করে এইমর্মে বিক্রেতা জনাব মেজর মোহাম্মাদ আখতার হোসেনকে ১৯/০৬/২০১৯ তারিখে কমিশনের মাধ্যমে জমির সাবকবলা করবেন বলে চুড়ান্তভাবে জানান এবং ক্রেতা জনাব মুজিবুর রহমান আরো ২৫ লক্ষ টাকাও প্রেরন করেন। উক্ত ২৫ লক্ষ টাকা সহকারে ১৮/০৬/২০১৯ পর্যন্ত বিক্রেতা মেজর আখতারকে ক্রেতা সর্বোমোট ১ কোটি টাকা প্রদান করেন। ক্রেতা জনাব মুজিবুর রহমান সাহেব এইমর্মে জানান যে, প্রথমে তিনি চরকুন্দুলিয়ায় ৫৩ শতাংশ এবং চরগলগলিয়ায় ১৬ শতাংশ জমি সাবকবলা করবেন। এখানে উল্লেখ থাকে যে, চরকুন্দুলিয়া এবং চরগলগলিয়ার জমির দামের পার্থক্য থাকলেও ক্রেতা বিক্রেতা উভয়েই পূর্বের গড়মুল্য অর্থাৎ প্রতি শতাংশ জমি গড়ে ৩ লক্ষ ৫ হাজার টাকাই ধার্য থাকে। ফলে চরকুন্দুলিয়ায় ৫৩ শতাংশ এবং চরগলগলিয়ায় ১৬ শতাংশের মুল্য দাঁড়ায়
= (৫৩+১৬) = ৬৯ @ ৩০৫০০০/০০ = ২১০৪৫০০০/০০ টাকা
অগ্রীম বাবদ দেয়া ছিলো = ১০০০০০০/০০ টাকা
—————————————————————————————
বাকী থাকে = ১১০৪৫০০০/০০ (এক কোটি দশ লাখ পয়তাল্লিশ হাজার)
উক্ত বাকী টাকা ক্রেতা জনাব মুজিবুর রহমান সাহেব কমিশনের মাধ্যমে সাব কবলা রেজিষত্রি করার সময়ে বিক্রেতার কাছে ক্যাশ হস্তান্তর করবেন বলে নিশ্চিত করেন।
(১০) কিন্তু ক্রেতা জনাব মুজিবুর রহমান সাহেব ১৯/০৬/২০১৯ তারিখে ৬৯ শতাংশ জমি কমিশনের মাধ্যমে সাব কবলা রেজিষ্ট্রি হয়ে যাওয়ার পর জানান যে, তাঁর সেই মুহুর্তে টাকার সমস্যা আছে এবং তিনি আপাতত বাকি ১ কোটি ১০ লাখ ৪৫ হাজার টাকার চেক প্রদান করবেন। বিক্রেতা মেজর মোহাম্মাদ সম্মানার্থে উক্ত চেকের টাকাতেই তিনি ৬৯ শতাংশ জমি জনাব মুজিবুর রহমান সাহেবকে সাক কবলা করে দেন। অতঃপর জনাব মুজিবুর রহমান সাহেব জমি ক্রয়ের পরেরদিন অর্থাৎ ২০/০৬/২০১৯ তারিখে বাকী টাকা থেকে আরো ৮০ লক্ষ টাকা মেজর মোহাম্মাদ আখতার হোসেনকে পরিশোধ করলে জনাব মুজিবুর রহমান সাহেন বিক্রেতার কাছে ৩০৪৫০০০/০০ (ত্রিশ লক্ষ পয়তাল্লিশ হাজার) টাকা ঋণী থাকেন।
(১১) জনাব মুজিবুর রহমান সাহেব উক্ত জমি ক্রয়ের পর তাঁর নিজ নামে নামজারী জমাভাগ করাইয়া, নামজারী করান, খাজনা/ট্যাক্স জমা দেন, ডিসিআর কাটেন এবং পরবর্তীতে তিনি ব্যাংকে মর্টগেজ দেন।
২য় দফায় জমি ক্রয়ঃ
(১২) ক্রেতা জনাব মুজিবুর রহমান পুনরায় জমির কাগজাদি ভূমি অফিস, এসি ল্যান্ড অফিস এবং তাঁর নিজস্ব ল ইয়ার / ব্যাংকের ল ইয়ারের মাধ্যেম চর কুন্দুলিয়ার ৯৮৫ শতাংশ জমি ক্রয়ের ব্যাপারে নিশ্চিত করেন এবং পূর্বের ৩০ লক্ষ ৪৫ হাজার টাকা পরিশোধ করার নিমিত্তে এবং কিছু টাকা অগ্রীম প্রদানের নিমিত্তে ২৫/০৬/২০১৯ তারিখে ৭০ লক্ষ টাকা বিক্রেতা মেজর মোহাম্মাদ আখতারকে প্রদান করেন। ফলে
২৫/০৬/২০১৯ তারিখে পুর্বের বকেয়া পরিশোধের নিমিত্তে = ৩০৪৫০০০/০০ টাকা
২৫/০৬/২০১৯ তারিখে নতুন জমি ক্রয়ের নিমিত্তে অগ্রীম প্রদান = ৩৯৫৫০০০/০০ টাকা
—————————————————————————————————–
২৫/০৬/২০১৯ তারিখে মোট প্রদান = ৭০০০০০০/০০ টাকা
(১৩) সমস্ত কাগজাদি যাচাই বাছাই করার পর ২৫/০৭/২০১৯ তারিখে জনাব মুজিবুর রহমান চরকুন্দুলিয়া মৌজায় ৯৮৫ শতাংশ জমি সাব কবলা করার জন্য কমিশন করেন।
৯৮৫ শতাংশ জমির মুল্য হয় = ৩০০৪২৫০০/০০ টাকা
অগ্রিম বাবদ পূর্বে প্রদান = ৩৯৫৫০০০/০০ টাকা
——————————————————————————————-
জমির মুল্য বাবদ পরিশোধ করার কথা = ২৬০৮৭৫০০/০০ টাকা
কমিশনের দিন অর্থাৎ ২৫/০৭/২০১৯ তারিখে ক্যাশ প্রদান = ৬০০০০০০/০০ টাকা
——————————————————————————————–
জমির মুল্য বাকী থাকে = ২০০৮৭৫০০/০০ টাকা
(১৪) উক্ত ২৬০৮৭৫০০/০০ টাকা কমিশনের দিন সাবকবলার সময়ে পরিশোধ করার জন্য কথা থাকলেও ক্রেতা জনাব মুজিবুর রহমান মাত্র ৬০০০০০০/০০ টাকা প্রদান করেন এবং বাকী টাকা ব্যাংক চেকের মাধ্যমে অর্থাৎ ২০০৮৭৫০০/০০ টাকা বাকী রাখেন।
(১৫) উক্ত টাকা গত ২৫/০৭/২০১৯ তারিখ থেকে আরম্ভ করিয়া অদ্যাবদি ক্রেতা জনাব মুজিবুর রহমান সম্পুর্ন টাকা পরিশোধ করেন নাই। বর্তমানে বিক্রেতা আরো আট লাখ টাকার মতো পাওনা রিহিয়াছেন।
(১৬) এই উক্ত ২ বছরে জমির মুল্য প্রায় দিগুন হয়েছে এবং বিক্রেতা অনেক ক্ষতিগ্রস্থ হয়েছেন।
খান সাহেবের এখন করনীয়
যদি খান সাহেব উক্ত এলাকায় তাঁর প্রোজেক্ট স্থানান্তর করতে চান, সেক্ষেত্রে তাঁর এক্সক্লুসিভলী পলাশপুর রাস্তা থেকে চরকুন্দুলিয়া পর্যন্ত রাস্তা লাগবে। এই একই সমস্যা জনাব মর্তুজা সাহেবের বেলাতেও প্রযোজ্য। মর্তুজা সাহেবের জমিতে যাওয়ার জন্যেও তাঁর এক্সক্লুসিভলী রাস্তা লাগবে যা তাঁর নাই। সেক্ষেত্রে নিম্নোক্ত উপায়সমুহে তা সমাধান করা সম্ভবঃ
