২৬/০৮/ ১৯৮৭- রিক্রুটমেন্ট গ্রামে
গতকাল আমাদের গ্রাম থেকে ৪০ জনের একটা দল নতুন রিক্রুট মেন্টের জন্য আসার কথা ছিলো। কিন্তু ভাগ্যের কি পরিহাস, মাত্র একজন টার্ন অভার করলো। বাকীরা কেউ এলো না। ওরা বোকা। একটা চমৎকার সুযোগ হাতছাড়া করলো। হয়তো ওরা জানলোই না কি হতে পারতো ওদের জীবনে। মজিদ স্যারকে ব্যাপারটা জানালাম। তিনি হেসে দিয়ে বললেন, সবাইকে নিজের মতো ভাবো কেনো? তুমি একটা সুযোগ করে দিতে চেয়েছিলে, ওরা নেয় নাই, এতে তোমার তো কোনো দোষ নাই। বাদ দাও, যে কয়জন আসে, তাদের লিষ্টটাই ফাইনাল করে পাঠিয়ে দাও।
একটু খারাপ লাগলো যে, আমাদের গ্রামের লোকজন বুঝলো না। তবে কোনো এক সময় হয়ত ওরা আফসোস করবে এই সু্যগ তা না নেওয়ার কারনে যদি বুঝে আর কি। আর না বুঝলে কখনোই আফসস করবে না।
২১/০৮/ ১৯৮৭- রিক্রুটমেন্টের জন্য গ্রামে আসা
আমি গ্রামে এসে সরাসরি আমাদের গ্রামের হাই স্কুলে গেলাম অনেকের সাথে কথা বললাম। আর এটাও বললাম যে, যারা আর্মিতে আসতে চায়, আমি সাহাজ্য করতে পারবো, তোমরা আর্মিতে সৈনিক পদে এপ্লাই করো। বেশ সাড়া পেলাম। প্রায় ৪০ জনের মতো ইয়াং ছেলে পেলেরা আমার কথায় উতসাহী হয়ে আর্মি এপ্লাই করার কথা জানালো। আমি আগে থেকে প্রায় ১০০ ফর্ম সাথে করে নিয়ে গিয়েছিলাম। এর মধ্যে ৪০ জনের জন্য ফর্ম পুরুন করে নিয়ে এলাম আর বলে আসলাম আগামি ২৫ তারিখে সবাই সাভার সেনানীবাসে চলে এসো। আমি তোমাদের সবাইকে ভর্তি করিয়ে নেবো। আমি আসলে এই সুযোগটাই নিতে চেয়েছিলাম যে, অন্তত কিছু ছেলেপেলেদের আর্মিতে চাকুরী হোক।
২০/০৮/ ১৯৮৭- সোলজার রিক্রুটমেন্ট
সেনানিবাসে সোলজার রিক্রুটমেন্ট ক্যান্টনমেন্টেই হবে এই সার্কুলারে আমাকে ইউনিট থেকে ১৫ ফিল্ডের সাথে এটাচমেন্ট করা হলো। মনে মনে শান্তি পেলাম যে, এখন ইউনিটের অধিনায়কের বিরম্বনা থেকে রেহাই পাবো। কিন্তু ইতিমধ্যে অধিনায়কের পোস্টিং আদেশ চলে এসেছে। তার বদলি হয়েছে ডিজিএফআইএ। নতুন অধিনায়ক এসেছেন লেঃ কর্নেল খায়রুল আলম। একই সাথে উপঅধিনায়ক খলিল স্যারেরও পোস্টিং হয়ে গেলো। নতুন উপঅধিনায়ক এসেছেন মেজর রফিকুল হাসান স্যার।
কিন্তু ইউনিটে এই বদলীর কারনে খুব একটা শান্তি ফিরে এলো বলে মনে হলো না। আগেরবার ছিলো যে, অধিনায়ক আর উপ অধিনায়কের মধ্যে ছিলো সাপে নেউলের মতো সম্প্ররক, আর এখনকার অধিনায়ক আর উপঅধিনায়কের মধ্যে খুব মিল যেনো স্বামী স্ত্রী। তবী বেলায় স্বামী হচ্ছেন উপ-অধিন্যক আর স্ত্রীর ভুমিকায় আছেন অধিনায়ক সাহেব। কিন্তু তারা সৈনিক কিংবা অফিসারদের বেলায় সেই কঠোর কমান্ডই বহাল রাখলেন। আমার সাথে অবশ্য উপঅধিনায়কের সাথে একটু ভালো সম্পর্ক গড়ে উঠলো। আমি ১৫ ফিল্ডের অধীনে সৈনিক নির্বাচন করার কাজে ব্যস্ত আছি। কিন্তু পাবলিকের কাছ থেকে ভালো সাড়া পাওয়া যাচ্ছে না। মেজর মজিদ আমাকে জানালেন, দেখো তোমাদের আশেপাশের গ্রামগুলি থেকে ছেলেদের রিক্রুট করা যায় কিনা। আমি স্যারের কাছ থেকে ২ দিনের ছুটি নিয়ে আমাদের গ্রামে বাক্তার চর চলে এলাম।