ডি-ডলারাইজেসন, ডি-ইন্ডাস্ট্রিলাইজেশন, এলায়েন্স, জোট, পোলারিটি, রুলস বেজড অর্ডার ইত্যাদির বাইরে আর কি কি ইমপ্যাক্ট হতে পারে?
(ক) ওয়েষ্টার্ন ইউরোপ, বাল্টিক ন্যাশন এবং ইষ্ট ইউরোপিয়ান দেশ সমুহ ক্লিয়ার বুঝে গেছে যে, তারা তাদের নিজেদেরকে নিরাপত্তা দিতে অক্ষম। ফলে তারা ন্যাটো এবং আমেরিকার শরনাপন্ন ছাড়া কোনো গতি নাই। তাছাড়া ফ্রান্সের ইন্ডিপেন্ডেন্ট মিলিটারী ক্যাপাবিলিটি এটাই প্রমান করে দিয়েছে যে তারা অসফল এবং ভবিষ্যতে সফলতা পাওয়ার কোনো সম্ভাবনা নাই। প্রতিটি দেশের নিজস্ব নিরাপত্তার জন্য তাদেরকেই ব্যবস্থা করতে হবে। ন্যাটো একটা জোট বটে কিন্তু তাদের ক্ষমতা এবং সমন্নয় যে খুব একটা শক্তিশালী মেকানিজম নয় সেটা এবার পরীক্ষিত।
(খ) জার্মানীর ডিফেন্স সিস্টেমও দূর্বল এবং তাদেরকেও তাদের নিজস্ব নিরাপত্তা বলয় তৈরী করা খুবই দরকার। কিন্তু বর্তমান প্রেক্ষাপটে তাদের ডিফেন্স বাজেট যেভাবে এলোকেট করা হচ্ছে তাতে অনেক দীর্ঘ সময় লাগবে ভায়াবল ডিফেন্স সিস্টেম গড়ে তুলতে।
(ঘ) রাশিয়ার মিলিটারী ক্ষমতারও একটা পরিসংখ্যান পাওয়া গেছে। কালেক্টিভ ওয়েষ্ট বা ন্যাটোর সম্মিলিত জোটের বিরুদ্ধে রাশিয়া একা অপারগ। ফলে তাকে অন্য এলি যেমন ইরান, চীন এর কাছে সাহাজ্য নিতেই হবে। এতে রাশিয়ার সাথে ইরান এবং চীন দীর্ঘ সময়ের জন্য বন্দধুত্তের গন্ডিতে থাকতেই হবে।
(চ) মধ্যপ্রাচ্যে যে বদলটা হচ্ছে তা ভাবার বিষয়। যেমন ইউক্রেনের যুদ্ধের কারনে রাশিয়ার সাথে ইরানের খুব সখ্যতা তৈরী হয়েছে বিশেষ করে ড্রোন সাপ্লাই নিয়ে। এক সময় রাশিয়া, চীন, আমেরিকা, ব্রিটেইন সবাই ইরানের পারমানবিক শক্তিধর দেশ হোক এটা কেউ চায় নাই। কিন্তু এই ইউক্রেন যুদ্ধের কারনে ইরান সেই সুযোগ হাতছাড়া করবে না বরং সে রাশিয়ার কাছ থেকে পারমানবিক ক্ষমতা প্রাপ্তির জন্য যা সাহাজ্য লাগে তা গ্রহন করবে। মিশরের অবস্থাও তাই। সে পাশ্চাত্য থেকে মুখ ঘুরিয়ে নেওয়ার একটা ছুতা পাবে এবং রাশিয়ার দিকে কিছুটা ঝুকে যাবে।
(ছ) এশিয়া যদিও ইউক্রেন থেকে অনেক দূরে অবস্থিত কিন্তু এই যুদ্ধ রাশিয়াকে এশিয়ার কাছাকাছি নিয়ে এসছে যেখানে চীন অনেকটা দৃঢ় ভাবে স্বীকার করছে যে, রাশিয়া থাকুক এশিয়ান পাওয়ার পলিটিক্সে। কারন চীন যে এশিয়ার একটা জায়ান্ট সেখানে রাশিয়া তার সহযোগী। অন্যদিকে জাপান, সাউথ কোরিয়া, ফিলিপাইন এবং অষ্ট্রলিয়াকে আমেরিকার আরো কাছাকাছি নিয়ে এসছে। মজার ব্যাপার হচ্ছে-ইন্ডিয়া প্রায় ডুয়েল রোল প্লে করছে এই জন্য যে, সে কোয়াডেও আছে, ব্রিক্স এও আছে আবার রাশিয়ার সাথেও আছে।
(জ) এবার আসি আমেরিকার ব্যাপারে। ইউক্রেন যুদ্ধটা আমেরিকার পলিটিক্সে বিশাল একটা বিভেদ তৈরী করেছে। রিপাব্লিকান এবং ডেমোক্র্যাটদের মধ্যে একটা বাই-পার্টিজান তৈরী হয়েছে। ইউক্রেন যুদ্ধ আমেরিকার ফরেন পলিসিকে একটা অনিরপেক্ষ সেকশনে পরিনত করেছে এভাবে যে, ফরেন পলিসি এখন প্রায় বাইডেন-ব্লিংকেন-সুলিভান পলিসি মনে করা হয়। এটা দেশের জন্য কতটা প্রয়োজন সেটা আর বিবেচ্য মনে হয়না। এই অবস্থায় আমেরিকা যদি শেষ পর্যন্ত ইউক্রেনের জন্য আর সাহাজ্যকারী না হয় তাহলে রাশিয়া ভেবেই নিবে যে, সে পারে। আর এই পারা থেকে রাশিয়া যদি জর্জিয়া, মলদোবা, ইস্তোনিয়া, অথবা লাটভিয়ায় মিলিটারী অপারেশন চালায় তাতে আসচশ্চর্য হবার কিছু নাই। রাশিয়া কারন একই দেখাবে যে, সে রাশিয়ার নিরাপত্তা নিসচিত করছে।
(ট) সবেচেয়ে বড় ইমপ্যাক্ট-ইউক্রেন যুদ্ধের মাধ্যমে আমেরিকার উদ্দেশ্য রাশিয়াকে দূর্বল করা বটে কিন্তু ইউরোপকে আমেরিকার উপর নির্ভরশীল করে তোলা। এতে এই ম্যাসেজ দেয়া যে, আগামী ভবিষ্যত রাজনীতি শুধু দুটু দেশকে নিয়েই আবর্তিত হবে- (১) আমেরিকা (২) চীন। কারন এই যুদ্ধ এটাই প্রমান করার চেষ্টা করা হচ্ছে যে, রাশিয়া এবং ইউরোপ কোনোভাবেই সামরিক দিক থেকে দক্ষ এবং ক্যাপাবল নয়। ফলে ৩০ বছর পর এই বিশ্ব আবার মাল্টিপোলারিটিতে নয়, বাই-পোলারিটিতে ফিরে যেতে পারে। আর সেটা চীন এবং আমেরিকা।
(ঠ) এর বিপরীতে আরেকটি সম্ভাবনা আছে যে, যখন ইউরোপ, রাশিয়া তাদের মাথায় এটা আসবে যে, তারাও উপেক্ষিত এবং কন্ট্রোল্ড, তখন ইউরোপ এবং রাশিয়া একত্রিত হয়ে যেতে পারে। তখন ন্যাটোর বিলুপ্তি ঠেকানো কঠিন। হয়তো তখনই ঘটবে মাল্টিপোলারিটি।