২৬/১১/২০২১-মুর্তজা ভাইয়ের নীতি ও আদর্শ (ফলো আপ পর্ব-২)

আমার আগের লেখাটায় একটা কথা লিখেছিলাম যে, কোনো এক সময় হয়তো এমন হতে পারে যে, আমার থেকেও বেশী পরিমান টাকার প্রয়োজনে হয়তো মর্তুজা ভাই আমাদের ফ্যাক্টরী রিভার সাইড থেকে টাকা টান দিতে পারে যখন আমার কোনো টাকাই হয়তো লাগবে না কিন্তু ওনার লাগবে। এ কথাটা আমি মাত্র মাস তিনেক আগে লিখেছিলাম আমার আগের লেখাটায়। অথচ এই মাসেই সেটা প্রমানিত হলো। মর্তুজা ভাই তার সঞ্চিত টাকা অন্য এমন এক জায়গায় ইনভেষ্ট করে ফেলেছেন যে, উনি ওখান থেকে এই মুহুর্তে টাকাগুলি ব্যাক করতে পারছেন না। আবার তার ইচ্ছা যে, উত্তরা ৪ নম্বর সেক্টরে প্রায় ৪ কাঠার সম পরিমান একটা ল্যান্ড কিনতে ইচ্ছুক। ফলে উনার প্রায় সাড়ে চার কোটি টাকার খুবই প্রয়োজন। এই সাড়ে ৪ কোটি টাকা যদি উনি টান দেন, তাহলে আমিও আমার অনুপাতে পাই প্রায় ২ কোটি ৪২ লাখ টাকা। আমার এই মুহুর্তে কোনো টাকার প্রয়োজন নাই। ফলে, আমি যদি এখন মর্তুজা ভাইকে বলি যে, এই সাড়ে ৪ কোটি টাকার বিনিময়ে তিনি আমাকে শেয়ার লিখে দিক, তাহলে আমি কিন্তু মর্তুজা ভাইয়ের থিউরী অনুযায়ী ডিমান্ড করতেই পারি। কিন্তু আমি সেটা করবো না।

মর্তুজা ভাই তার এই সাড়ে ৪ কোটি টাকা দুই পর্বে ফ্যাক্টরী থেকে নিতে চান। প্রথম পর্বে দেড় কোটি টাকা আর ৯০ দিন পরে বাকী টাকা।

আমি পুরু জিনিষটা অব্জার্ভ করছি। আমি আর আগের মতো নাই। এখন প্রতিটা ব্যাপার নিয়ে আমি মাথা ঘামাই যা আগে কখনোই করি নাই। এটা মর্তুজা ভাইও বুঝে গেছেন। তিনিও খুব চালাক মানুষ, ফলে ব্যাপারটা তিনিও খুব সন্তর্পনে হ্যান্ডেল করছে,

গত ২৩ তারিখে তার ১ম পর্বের টাকাটার কথা আমাকে জানালেন। আগে হলে আমি হয়তো এ রকম কোনো ফর্মালিটিজ করতাম না, একবারেই বলে দিতাম যে, আপনি টাকাটা নিয়ে ড্রইংস এর মধ্যে লিখে রাখেন। কিন্তু এবার আমি অন্য পথ অবলম্বন করেছি। আর সেটা কি তার প্রক্রিয়াটা এখানে দিলাম। আমি প্রথমে একাউন্ট অফিসারকে একটা নোট শীট লিখতে বলেছি। তারপর ওই টাকার সম পরিমান আমার কত আসে সেটাও নোট শীটে লিখতে বলেছি। আর এটাকে একটা আলাদা ট্রাঞ্জেকশন হিসাবে দেখতে বলেছি। তারপর বলেছি- আমার এবং মর্তুজা ভাইয়ের নামে মোট কত টাকা হয় সেটা কোন ফান্ড বা সোর্স থেকে দেয়া যেতে পারে একাউন্ট অফিসার যেনো ক্লিয়ারলী উল্লেখ করে। আর সেটা আমরা দুজনেই যদি এক সাথে ড্রইংস করি তাতে ফ্যাক্টরীর কোনো অসুবিধা হবে কিনা সেটাও লিখতে বলেছি। আমি আগের নিয়মে গেলে হয়তো আমার ভাগের টাকাটা আমি এখনই নিতাম না, কিন্তু এবার আমি সেটা করছি না। যেহেতু উনি নিবেন, তাই আমার টাকা লাগুক বা না লাগুক, আমিও নেবো। আগে উনি নিক, তারপর আমি আমারটা নেবো। ফলে একটা অফিশিয়াল নোট শীট করতে বলায় মর্তুজা ভাই যেনো আকাশ থেকে পড়লো। উনি এটা ভাবেন নাই। একটু নার্ভাস ছিলো, আবার মনে মনে রাগের বশে উত্তেজিতও ছিলো। কিন্তু আমি আমার সিদ্ধান্তে অটল ছিলাম। ছাড় দিতে ইচ্ছে করছিলো না। আর এটা তো মর্তুজা ভাইই আমাকে শিখিয়েছেন। আমি নিজের থেকে কোনো নিয়ম ও করি নাই, বানাইও নাই। আমি শুধু উনার করা প্রাক্টিস গুলিই ফলো করছি, ফলে উনি আমাকে জোর করেও কিছু বলতে পারবে না। উনি দেড় কোটি টাকা নিলে আমিও নিতে পারি প্রায় ৮১ লাখ টাকা। প্রয়োজনে আমি আমার টাকা তুলে নিয়ে এফডিআর করে রাখবো, অসুবিধা কোথায়? অবশ্য আমি টাকাগুলি পরেও নিতে পারতাম, আর এটাই মর্তুজা ভাই ভেবেছিলেন। কিন্তু এবার আমি সেটা করতে নারাজ। উনি বুঝুক যে, পার্টনারশীপ ব্যবসায় পার্টনার যদি শক্ত হয়, তাহলে আরেক পার্টনার অনেক মজা নিতে পারে না যেটা উনি এতোদিন নিতেন। নোটশীটটা দেখলে বুঝা যাবে, বেশ কঠিন সিচুয়েশন। 

এখানে বিশেষভাবে উল্লেখ্য যে, মর্তুজা ভাই উত্তরা ৪ নং সেক্টরে প্রায় পৌনে চার কাঠা জমিতে চার তলা বিল্ডিং সহ একটা জায়গা কিনার নিমিত্তে তার প্রায় ৬ কোটি টাকার প্রয়োজন। আর সেটার তিনি প্রায় ৫ কোটি টাকা তিনি ফ্যাক্টরী থেকে নেওয়ার পরিকল্পনা করেছেন। তারই ধারাবাহিকতায় প্রথম পর্বে দেড় কোটি টাকা নিচ্ছেন, পরবর্তী ৩ মাস পরে ২য় পর্বে বাকী টাকা নিবেন। সেই পরিপ্রেক্ষিতে আমিও পার্টনারশীপ অংশীদারিত্তে ৩৫% হিসাবে সম পরিমান টাকা নেওয়ার ভাগীদার। আগের নিয়মে থাকলে আমি হয়তো আমার অংশের টাকাটা এখন আমি নিতামই না। এটাই এতোদিন মুর্তুজা ভাই এঞ্জয় করেছে। অনেক সময় আমার মনেও থাকতো না, আমার কত নেয়া উচিত ছিলো, আর সেটা নেয়া হয়েছে কিনা। কিন্তু এখন সেই পলিসিতে আমি আর নাই।