৩/৭/২০২১-বাগান

বাগান বড় অদ্ভুত। চারিদিকে প্রানের ছড়াছড়ি। কেউ কোনো কথা বলে না কিন্তু তাদের নীরব একটা ভাষা আছে। খুব কাছ থেকে দেখলে আর শুনলে এদের সব ভাষা পরিষ্কার বুঝা যায়। মুক, বধির কোনো মানব সন্তান যেমন তার শান্তি-অশান্তির কথা ব্যক্ত করলে মায়ের বুঝার কোনোই অসুবিধা হয় না, তেমনি বাগানের যিনি প্রকৃত পরিচর্যাকারী তার ও এই বধির এবং মুক ভাষাহীন উদ্ভিদের শান্তি-অশান্তির ব্যাপারগুলি বুঝতে কোনো অসুবিধা হয় না। ভালো পরিচর্যায় এসব গাছগুলি সব সময় ফল দেয়, সময় কাটানোর জন্য সংগ দেয় আর দেয় প্রচুর পরিমানে অক্সিজেন। অক্সিজেন যখন দেয় কিংবা সংগ, তার ছবি থাকে দেহে, আত্তায় আর অন্তরে। শুধু ফলটা দেখা যায়।

আমাদের বাসার ছাদের মধ্যে আমার এই ছোট একটা বাগান। তাদের নিত্য সহচর চড়ুই, শালিক আর কাকের জন্য কোনো বীজই চারায় রুপান্তর করা সহজ হয় না। সারাদিন টবগুলির পাশেই বসে থাকে কখন একটা অংকুর ফুটবে আর অমনি টুপ করে খেয়ে ফেলবে। নেট দিয়েছি যাতে আর এই দুস্টুমীটা করতে না পারে। আমি এদেরকে কোনো বকা দেই না। ওরাও ব্যাপারটা বুঝে গেছে। আমি দেখেছি, বাগানে আমি এলেই যেনো এদের ভীড় বেড়ে যায়। ভালোই লাগে। বাগানে সময় কাটানো মানে কিছু জীবন্ত প্রজাতীর সাথে থাকা। Trees are so friendly and someone can spend time as much as he wants. আমার খুব শখের এই বাগান আমাকে সত্যিই সংগ দেয়।

আমার মত যারা ছাদে বাগান করেন, তারা হয়তো বাগানের ব্যাপারটা খুব ভালোভাবে বুঝতে পারবেন। বীজ লাগানো, পানি দেওয়া,পাখীর উতপাত থেকে বাচার জন্য নেট দেয়া, বৃষ্টি থেকে ছোট চারা গুলিকে বাচানোর জন্য পলিথিন দেইয়া, পোকা মাকড় থেকে রক্ষার জন্য কীটনাশক দেয়া একটা নেশা। প্রতিদিন পিচ্চি পিচ্চি চারাগুলি একদিন ডাল পালা ছড়িয়ে গাছ হয়ে উঠা দেখুন। বাতাসে ওদের পাতার হেলাদোলা দেখুন। ওরা মানুষের সাথে বন্ধুত্ত করে, রাগ করে না, ডিস্টার্ব করে না। কিন্তু সিজনের শেষে আপনাকে হরেক রকমের ফল মুলাদি উপহার দিবে। ওরা আপনাকে ফ্রেস অক্সিজেন দিয়ে শরীর চাংগা করে দেয়, শিশির কিংবা বৃষ্টির ফোটায় ভেজা পাতা আপনাকে প্রশান্তি দিবে। এর থেকে ভাল কিছু আমি পাই নাই। বড় নেশা এই বৃক্ষ প্রেম। যিনি করেন নাই, তিনি এর কিছুই বুঝবেন না। মনে হবে- অযথা। কিন্তু এটাই সত্য।