৩০/০৩/২০২১-মানুষের মন

মানুষের মন দূর অনন্ত ছড়ানো এক অদ্ভুত দুনিয়া। এই মন কখনো কখনো আমাদেরকে ভুল পথে চালিত করে, ভুলকে ঠিক আর ঠিক কে ভুল বলে দেখায়। মনে লালিত বন্ধু আর বাস্তবে চোখের সামনের বন্ধুকে কখনো কখনো সে প্রতিসরনের অংকের মতো প্রতিফলন করে। চোখ যা দেখে মন তা দেখে না, মন যা দেখাতে চায়, চোখ তাকে চিনতে পারে না। আমরা প্রতিনিয়ত বা কখনো কখনো এ কারনে দ্বিমুখী স্বত্বায় দোদুল্যমানে ভাসি। নিজের ভিতরে প্যারাডিম শিফট তৈরী হয়। আর এই প্যারাডিম শিফটের প্রভাব থেকে মন যখন বিলুপ্ত হয়, তখন চোখ এবং মন দুটুই ব্যার্থতার গ্লানী নিয়ে অসহায় হয়ে আমাদের অস্তিত্তের সামনে এসে দাঁড়ায় এই কারনে যে, এতোদিন যা দেখে এসেছি, আর এখন যা বুঝে পাচ্ছি তার মধ্যে এক বিস্তর ফারাক। আমরা তখন নিজেরা সত্যিই বেসামাল হয়ে উঠি। অনেক “যদি”র মাঝে আটকে পড়ি। এই দোদুল্যমান উঠা-নামা ভারসাম্যের দন্ডে মানুষের জীবনে ঘটে যাওয়া একটা দূর্ঘটনা তার নিজের জীবনের সাথে সাথে বাকী সবার জীবন পালটে দেয়, সপ্ন তছনছ করে দেয়। কোনো বেপরোয়া ঘটনায় অন্য সবার জীবন বিধ্বস্ত হয়ে যায়। মানুষ চরম অসহায় হয়ে যায়। গতকাল যে সময়টায় আনন্দ ছিল, তারপরের দিন সেই সময়টায় মানুষ চোখের জলে ভাসতে থাকে। সেই জলে ভাসতে থাকা কঠিন সময়টা পার করতে করতে আরো অনেক কঠিন পথ সামনে এসে হাজির হয়। তখন শুধু মনে হয় কি যেনো ঠিক নাই, কোথায় যেনো ভুল হয়েছে। তখন কেউ আর কোনো উপায় খুজে দিতে চায়ও না, পারেও না। ব্যাপারটা তখন এমন দাঁড়ায় যে, যে বাড়িতে সবাই একজনকে মেরে ফেলতে চায়, সে বাড়িতে কাউকেই কিছু বলে লাভ হয়না। যে সমাজে সবাই অনৈতিক কাজে অভ্যস্থ, সে সমাজে নীতির কথা বলে কোনো লাভ হয় না। যে দেশ আকুন্ঠ বর্বরতায় নিমজ্জিত, সেখানে বিচার বিভাগ, আইন শৃঙ্খলা বাহিনি কিংবা উপদেশদাতা কেহই দূর্নীতির বাইরে গিয়ে কোনো সঠিক কাজ করার উপায় থাকে না। কেউ তখন কারো কথা শুনে না। কোনো আওয়াজও বাইরে যায় না। ঘুরে ঘুরে সেই আওয়াজ আবার নিজের কাছেই ফিরে আসে। একে প্রতিধ্বনি বলে না, একে বলে মৃত্যুর অগ্রিম বার্তা।

এমন অবস্থায় আমাদের জ্ঞান আর বিবেক আমাদের সবচেয়ে কাছের সংগী। তারা আমাদের এটাই পরামর্শ যে, মনের কথা শুনুন কিন্তু মাথার রাস্তায় চলুন। তা না হলে খারাপ পরিস্থিতি অনির্বার্য।