বিডিসি বনাম মেজর আখতার
প্রথম পর্বের ইতিহাসঃ
১। সিএস রেকর্ড মোতাবেক মোট ৫ জন মালিকানা এবং জমির পরিমান মোট ২৭০ শতাংশ। ফলে প্রত্যেকেই ৫৪ শতাংশ করে মালিক ছিলেন। তারা হলেনঃ
ক। রঘুনাথ বৈরাগী, পিতা- শ্রীকৃষ্ণ বৈরাগী – ৫৪ শতাংশ
খ। গুলমনি বৈরাগী, পিতা- শ্রীকৃষ্ণ বৈরাগী – ৫৪ শতাংশ
গ। চুড়ামনি বৈরাগী, পিতা- শ্রীকৃষ্ণ বৈরাগী – ৫৪ শতাংশ
ঘ। বিপিন বৈরাগী, পিতা- লালমোহোন বৈরাগী – ৫৪ শতাংশ
ঙ। যোগেন্দ্র বৈরাগী, পিতা- ঠাকুর দাস বৈরাগী – ৫৪ শতাংশ
২। আলোচ্য মামলার সমস্ত বেচাকেনা সংঘটিত হয়েছে উপরোক্ত চূড়ামনি বৈরাগীর ৫৪ শতাংশ সম্পত্তি নিয়ে। অন্য ৪ ওয়ারিশ অর্থাৎ রঘুনাথ বৈরাগী, গুলমনি বৈরাগী, যোগেন্দ্র বৈরাগী এবং বিপিন বৈরাগীগন নিজে বা তাদের কোনো ওয়ারিশ কেহই কোনো জমি বিক্রি করেন নাই কিংবা তাদের দ্বারা বিক্রি হয়েছে এমন কোনো নথি নাই। অর্থাৎ (৫৪ x ৪) = ২১৬ শতাংশ জমি সম্পুর্নই অবিক্রিত অবস্থায় আছে।
৩। চুড়ামনি বৈরাগীর মোট ৫ ছেলে ছিলো। তারা হলেন, চানমোহন বৈরাগী, ইন্দ্রমোহন বৈরাগী, হরেন্দ্র বৈরাগী, ধনঞ্জয় বৈরাগী, এবং মনমোহন বৈরাগী।
৪। ১৯৩২ সালে চুড়ামনি বৈরাগীর ৫৪ শতাংশ জমি মানিডিক্রী মামলা ৪৮৭/১৯৩২ দারা প্রকাশ্যে নিলাম হয়। উক্ত নিলাম সরকার বাহাদুরের বয়নামা দলিল নং ৫৪ তারিখ ০৯/১২/১৯৩৩ এর মাধ্যমে শ্রীদেবেন্দ্রনাথ গংগোপধ্যায় ক্রয় করেন। ফলে চুড়ামনির আর কোন সম্পত্তি অবশিষ্ঠ রইলো না এবং সে নিঃস্ব হয়ে যান।
৫। নিলামে ক্রয় করা ৫৪ শতাংশ জমি শ্রীদেবেন্দ্রনাথ গংগোপধ্যায় ১২/০৮/১৯৪২ তারিখ দলিল ৩৫৩৩ এর মাধ্যমে পরিমল সুন্দুরী দে ওরফে সাহার কাছে সাবকবলা বিক্রি করে দিয়ে শ্রীদেবেন্দ্রনাথ গংগোপধ্যায়ও নিঃস্ব হয়ে যান।
৬। কিন্তু বিভিন্ন দলিল দস্তাবেজ পর্যালোচনা করিয়া দেখা যায় যে, ১৯৩২/৩৩ সালে নিলামের পর চূড়ামণির কোনো সম্পত্তি না থাকা সত্তেও তাহার ৫ ছেলেরা ১৯৩৯ সাল থেকে আরম্ভ করিয়া ১৯৪২ সাল পর্যন্ত নিম্নলিখিত দলিলের মাধ্যমে নীচের টেবিলে ক্রেতাদের কাছে মোট ১৩৫ শতাংশ জমি বিক্রি করেন, যাহা কোনো ভাবেই বৈধ ছিলো না। কারন চূড়ামনির প্রাপ্য মোট ৫৪ শতাংশ সম্পত্তি ১৯৩২ সালে নিলাম হইবার পর তাহাদের কোনো সম্পত্তিই অবশিষ্ঠ ছিলো না।
| বিক্রেতার নাম | ক্রেতার নাম | দলিল নং ও তারিখ | জমির পরিমান |
|
চান মোহন বৈরাগী ইন্দ্র মোহন বৈরাগী হরেন্দ্র বৈরাগী সর্বপিতা-চুড়ামনি বৈরাগী |
হরিদাসী মোদক স্বামী-রাধা বল্লভ |
দলিল- ১৯৬৪, তাং ০৫/০৫/১৯৩৯ |
১৩ শং |
|
চান মোহন বৈরাগী পিতা-চুড়ামনি বৈরাগী |
কিরন বালা দত্ত স্বামী-মহেন্দ্র চন্দ্র দত্ত মনোরঞ্জন দত্ত (সন্তোষ চন্দ্র দত্ত) পিতা-মহেন্দ্র চন্দ্র দত্ত |
দলিল- ১৪১, তাং- ০৮/০১/১৯৪০ |
৩৩ শং |
|
ধনঞ্জয় বৈরাগী পিতা-চুড়ামনি বৈরাগী
|
কিরন বালা দত্ত স্বামী-মহেন্দ্র চন্দ্র দত্ত মনো রঞ্জন দত্ত (সন্তোষ চন্দ্র দত্ত) পিতা-মহেন্দ্র চন্দ্র দত্ত |
দলিল-৪০৬৪ তাং ০৫/১১/১৯৪০ |
৩৩ শং |
|
মন মোহন বৈরাগী পিতা-চুড়ামনি বৈরাগী |
কিরন বালা দত্ত স্বামী-মহেন্দ্র চন্দ্র দত্ত মনো রঞ্জন দত্ত (সন্তোষ চন্দ্র দত্ত) পিতা-মহেন্দ্র চন্দ্র দত্ত |
দলিল-১৬৭০ তাং ১৬/০৩/১৯৪২ |
১৪ শং |
|
হরেন্দ্র বৈরাগী মনমোহন বৈরাগী ধনঞ্জয় বৈরাগী সর্ব পিতা- চুড়ামনি বৈরাগী |
পোকাই মাদবর পিতা-হাবিল মাঝি |
দলিল-৫৩৯২ তাং ১৮/১১/১৯৪২ |
৪২ শং |
| চুড়ামনির ৫ ছেলের দ্বারা অবৈধ ভাবে বিক্রিত মোট জমির পরিমান | ১৩৫ শং | ||
অর্থাৎ চূড়ামনির ৫ ছেলে হরিদাসি মোদকের কাছে ১৩ শতাংশ, কিরনবালা ও তাঁর ছেলে মনোরঞ্জন দত্তের কাছে ৮০ শতাংশ এবং পোকাই মাদবরের কাছে ৪২ শতাংশ একুনে মোট ১৩৫ শতাংশ জমি বিক্রি করেন। এই সম্পুর্ন বেচা-কেনাই ছিলো অবৈধ।
৭। অতঃপর, হরিদাসী মোদকও তার কেনা ১৩ শতাংশ জমি দলিল নং ২০১৬ তাং- ০১/০৫/১৯৪০ দ্বারা বিক্রি করেন কিরনবালা ও কিরনবালার ছেলে মনোরঞ্জন দত্তের কাছে। ফলে কিরনবালা ও তাঁর ছেলে মনোরঞ্জন দত্তের মোট জমির পরিমান দাঁড়ায় (৮০ + ১৩) = মোট ৯৩ শতাংশ।
৮। কিরনবালা ও তার ছেলে মনোরঞ্জন দত্ত (সন্তোষ চন্দ্র দত্ত) তাদের ৯৩ শতাংশ জমি জনাব কিতাব আলি পিতা-আজিম বেপারী কাছে দলিল-১৩১৪, তাং-১২/০২/১৯৪৮ দ্বারা সাবকবলা বিক্রি করে দেন। কিরনবালা এবং তাঁর ছেলে চিরতরে নিঃস্ব হন। তাদের আর কোনো জমি অবশিষ্ঠ রইলো না। অর্থাৎ কিতাব আলীর এই ৯৩ শতাংশ জমিও অবৈধ ভাবেই বেচাকেনা হয়। কারন কিরনবালা এবং তাঁর ছেলে মনো রঞ্জন দত্তের কেনা ৯৩ শতাংশ জমিই বৈধ ছিলো না।
যাই হোক, বর্তমানে কিতাব আলি ৯৩ শতাংশ জমির মালিক হন।
৯। জনাব কিতাব আলী সাহেব (পিতা-আজিম ব্যাপারী) পোকাই মাদবরের ৪২ শতাংশ জমি থেকে দলিল নং ৯০২, তাং-১৪/০২/১৯৪৯ দ্বারা আরো ১২ শতাংশ জমি ক্রয় করেন। ফলে কিতাব আলীর জমির পরিমান দাড়ায় (৯৩ +১২ ) = মোট ১০৫ শতাংশ। কিন্তু এই সম্পুর্ন জমিগুলিই অবৈধ। কারন পূর্বর্তী বায়া দলিলগুলিও অবৈধ।
১০। এবার কিতাব আলী সাহেব তাহার ১০৫ শতাংশ জমি তাহার ২ পুত্র (ক) নুরুল ইসলাম এবং (খ) দীন ইসলামকে হেবা দলিল নং ২১২৭ তারিখ ০৫/০৬/১৯৭৯ এর মাধ্যমে প্রত্যেককে ৫১.৫ শতাংশ করে মোট ১০৩ শতাংশ জমি লিখে দেন। ফলে কিতাব আলী, পিতা-আজিম বেপারীর আরো ২ শতাংশ জমি নিজের নামে রহিয়া যায়। এবার দেখা যাক, কিতাব আলীর ২ পুত্র তাদের প্রত্যেকেই হেবায় প্রাপ্য ৫১.৫ শতাংশ জমি কিভাবে কি করলেন।
(ক) জনাব নূরুল ইসলাম তাহার পিতার থেকে হেবায় প্রাপ্ত ৫১.৫ শতাংশ জমির মধ্যে সাবকবলা দলিল নং ৯২৫৮, তারিখ ১৮/০৪/১৯৮৫ এর মাধ্যমে জনাব আবুল হোসেন, পিতা আব্দুল বারেকের কাছে ১৬.৫ শতাংশ বিক্রয় করেন এবং বাকী ৩৫ শতাংশ জমি জনাব নূরুল ইসলাম জনাব ওয়াহেদুজ্জামান, পিতা-চুন্নু বেপারিকেকে আমি মোক্তার দলিল নং ১৬৭১৫ তারিখ ০৪/১২/২০০৬ এর মাধ্যমে আম মোক্তারনামা দেন। ফলে নূরুল ইসলাম নিঃস্ব হন।
(খ) অন্যদিকে জনাব জনাব দীন ইসলাম তাহার পিতার থেকে হেবায় প্রাপ্ত ৫১.৫ শতাংশ জমির মধ্যে সাবকবলা দলিল নং ৯২৫৯ তারিখ ১৮/০৪/১৯৮৫ দ্বারা আবুল হোসেন, পিতা-আব্দুল বারেকের কাছে ১৬.৫ শতাংশ জমি বিক্রয় করেন এবং জনাব আব্দুল বারেক, পিতা-আব্দুস সোবহানের কাছে সাবকবলা দলিল নং ৩২৮৬ তারিখ ১৭/০৫/১৯৯৯ দ্বারা বাকী ৩৫ শতাংশ জমি বিক্রয় করেন এবং নিঃস্ব হন।
(গ) ফলে, জনাব কিতাব আলীর ১০৩ শতাংশ জমির নতুনভাবে মালিকানা হন নিম্নোক্ত ব্যক্তিরাঃ
(১) আবুল হোসেন, পিতা-আব্দুল বারেক মোট ৩৩ শতাংশ জমির মালিক হন।
(২) আব্দুল বারেক, পিতা-আব্দুস সোবহান ৩৫ শতাংশের মালিক হন।
(৩) এবং আম মোক্তারবলে জনাব ওয়াহিদুজ্জামান ৩৫ শতাংশের মালিক হন।
কিতাব আলী, তাঁর ২ ছেলে নূরুল ইসলাম এবং দীন ইসলাম সবাই নিঃস্ব হয়ে যান। যদি টেবিল আকারে সাজাই, তাহলে ব্যাপারটা দাঁড়ায় এই রকমেরঃ
| বিক্রেতার নাম | ক্রেতার নাম | দলিল নং ও তারিখ | জমির পরিমান |
|
নুরুল ইসলাম পিতা কিতাব আলী |
আবুল হোসেন
পিতা-আব্দুল বারেক |
দলিল নং ৯২৫৮,
তাং- ১৮/০৪/১৯৮৫ |
১৬.৫ শতাংশ |
| ওয়াহেদুজ্জামান
পিতা-চুন্নু বেপারী |
আমমোক্তার দলিল ১৬৭১৫
তাং- ০৪/১২/২০০৬ |
৩৫ শতাংশ | |
|
দীন ইসলাম পিতা-কিতাব আলি |
আবুল হোসেন
পিতা আব্দুল বারেক
|
দলিল নং ৯২৫৯
তাং- ১৮/০৪/১৯৮৫ |
১৬.৫ শতাংশ |
| আব্দুল বারেক
পিতা-আব্দুস সোবহান |
দলিল নং ৩২৮৬
তাং- ১৭/০৫/১৯৯৯ |
৩৫ শং | |
| ১০৩ শং | |||
এখানে উল্লেখ থাকে যে, এ যাবতকাল যতো বেচাকেনা হয়েছে, সবই অবৈধ। কারন কেহই সঠিক মালিক থেকে জমি ক্রয় করেন নাই।
১১। এবার একুনে আবুল হোসেনের ক্রয় করা ৩৩ শতাংশ জমি তাহার স্ত্রী রেহানা বেগম স্বামীর ওয়ারিশসুত্রে প্রাপ্ত হইয়া উক্ত ৩৩ শতাংশ জমি দলিল নং ১২৫৮৬ তারিখ ১৩/১২/২০১২ এর মাধ্যমে বিডিসিকে সাবকবলা বিক্রয় করিয়া দেন। বিডিসির উক্ত ক্রয় অবশ্যই অবৈধ।
১২। ওয়াহেদুজ্জামান, পিতা-চুন্নু বেপারী (নূরুল ইসলামের কাছ থেকে প্রাপ্ত আমমোক্তার নামা দলিল বলে) ৩৫ শতাংশ জমি দলিল নং ১৮২৬৮ তারিখ ২৪/১২/২০০৬ এর মাধ্যমে বিডিসির কাছে বিক্রয় করিয়া দেন। এটাও সম্পুর্ন অবৈধ।
১৩। অন্যদিকে, জনাব আব্দুল বারেক তার ৩৫ শতাংশ জমি জনাব ওয়াহেদুজ্জামান, পিতা-চুন্নু বেপারীকে আমমোক্তার নামা দলিল প্রদান করেন। যা পরবর্তীতে জনাব ওয়াহেদুজ্জামান, পিতা-চুন্নু বেপারী দলিল নং ১২৫৫৯, তারিখ ২৭/০৯/২০০৫ এর মাধ্যমে বিডিসিকে বিক্রি করেন।
১৪। ফলে, বিডিসি যথাক্রমে আবুল হোসেনের স্ত্রী রেহানা বেগমের কাছ থেকে ৩৩ শতাংশ এবং ওয়াহেদুজ্জামানের কাছ থেকে আম মোক্তারবলে (৩৫ +৩৫) মোট ৭০ শতাংশ জমি সাবকবলার মাধ্যমে মোট ১০৩ শতাংশের মালিক হন। যদি টেবিল আকারে সাজাই, তাহলে ব্যাপারটা দাঁড়ায় এই রকমঃ
| বিক্রেতার নাম | ক্রেতার নাম | দলিল নং ও তারিখ | জমির পরিমান |
| আবুল হোসেন (স্ত্রী রেহানা) | বিডিসি | দলিল নং ১২৫৮৬
তাং- ১৩/১২/২০১২ |
৩৩ শং |
| ওয়াহেদুজ্জামান
পিতা-চুন্নু বেপারী |
বিডিসি | দলিল নং ১৮২৬৮
তাং- ২৪/১২/২০০৬ |
৩৫ শং |
| আব্দুল বারেক
পিতা- আব্দুস সোবহান |
ওয়াহেদুজ্জামান
পিতা-চুন্নু বেপারী |
আম মোক্তার দলিল ৭৫৪৮
তাং- ২৩/০৬/২০০৫ |
৩৫ শং |
| ওয়াহেদুজ্জামান
পিতা-চুন্নু বেপারী |
বিডিসি | দলিল নং ১২৫৫৯
তাং- ২৭/০৯/২০০৫ |
৩৫ শং |
মন্তব্যঃ
উপরে উল্লেখিত দলিল দস্তাবেজ মোতাবেক দেখা যায় যে,
ক। চুড়ামনি বৈরাগীর ৫ ছেলের বিক্রি করা ১৩৫ শতাংশ অবৈধ।
খ। চুড়ামনি বৈরাগীর কাছ থেকে ক্রয় করা ব্যক্তিবর্গ (হরিদাসি মোদক, কিরনবালা, মনোরঞ্জন দত্ত, পোকাই মাদবর) সবাই যে যে জমি ক্রয় করেছেন, তা সম্পুর্ন অবৈধ।
গ। পরবর্তীতে এইসব ব্যক্তিবর্গের (হরিদাসি মোদক, কিরনবালা, মনোরঞ্জন দত্ত, পোকাই মাদবর) কাছ থেকে কিতাব আলির ক্রয় করা জমিও অবৈধ।
ঘ। অতঃপর কিতাব আলী থেকে তার ২ ছেলে জনাব নূরুল ইসলাম এবং দীন ইসলাম যে জমি পেয়েছেন, তাহাও অবৈধ।
ঙ। অতঃপর, নুরুল ইসলাম এবং দীন ইসলাম থেকে জনাব আবুল হোসেন, জনাব আব্দুল বারেকের ক্রয় করা জমিও অবৈধ।
চ। জনাব নুরুল ইসলাম কর্তৃক প্রদেয় জনাব ওয়াহেদুজ্জামানকে আমমোক্তার নামাও অবৈধ।
ছ। জনাব আবুল হোসেন (তথা তাহার স্ত্রী রেহানা কর্তৃক) এর বিডিসি কাছে বিক্রি করা জমিও অবৈধ।
জ। জনাব আব্দুল বারেক কর্তৃক জনাব ওয়াহেদুজ্জামানকে আমমোক্তার প্রদান এবং উক্ত আম মোক্তার বলে জনাব ওয়াহেদুজ্জামানের মাধ্যমে বিডিসিকে জমি বিক্রিও অবৈধ।
ঝ। অর্থাৎ বিডিসি কর্তৃক সর্বসাকুল্যে ১০৩ শতাংশ জমি ক্রয় সম্পুর্ন অবৈধ।
দ্বিতীয় পর্বের ইতিহাসঃ
১৫। কিরনবালা এবং তাহার ছেলে মনোরঞ্জন দত্ত (সন্তোষ চন্দ্র দত্ত) তাহাদের ৯৩ শতাংশ জমি জনাব কিতাব আলি, পিতা-আজিম বেপারীর কাছে বিক্রি করার পর আর কোনো জমি অবশিষ্ট ছিলো না এবং নাই। কিন্তু উভয়ই অর্থাৎ কিরনবালা এবং তাহার ছেলে মনোরঞ্জন দত্ত (সন্তোষ চন্দ্র দত্ত, পুনরায় জনাব সাবু সরকার, পিতা-হাজি কালুর কাছে দলিল নং ২৭১৭, তারিখ ০৬/০৪/১৯৪৮ দ্বারা আরো অতিরিক্ত ৭২ শতাংশ জমি বিক্রি করেন। এই জমি কিরনবালা এবং তাহার ছেলে মনোরঞ্জন দত্ত (সন্তোষ চন্দ্র দত্ত) কাহার কাছ হইতে ক্রয় করিয়াছেন বা পাইয়াছেন তাহার কোনো বৈধ রেকর্ড নাই। অর্থাৎ সাবু সরকার, পিতা-হাজি কালুর উক্ত ৭২ শতাংশ জমিও অবৈধভাবে ক্রয় করেন।
| বিক্রেতার নাম | ক্রেতার নাম | দলিল নং ও তারিখ | জমির পরিমান | মন্তব্য |
| কিরন বালা দত্ত
স্বামী-মহেন্দ্র চন্দ্র দত্ত মনোরঞ্জন দত্ত (সন্তোষ চন্দ্র দত্ত) পিতা-মহেন্দ্র চন্দ্র দত্ত
|
সাবু সরকার
পিতা-হাজী কালু |
দলিল নং ২৭১৭
তাং- ০৬/০৪/১৯৪৮ |
৭২ শং | এই ৭২ শতাংশ জমি বিক্রেতা কোথা থেকে পাইলেন বা কার কাছ থেকে ক্রয় করে মালিক হইলেন তাঁর কোনো রেকর্ড নাই। অথচ হুট করে মালিক সেজে সাবু সরকারের কাছে মিথ্যা দলিল করে ৭২ শতাংশ জমি বিক্রি করলেন। বিক্রিত জমির বিবরনীতেও তাদের পূবর্বর্তী ক্রয়ের বায়া দলিলের কোনো ইতিহাস নাই। |
অর্থাৎ অবৈধভাবেই সাবু সরকার এবার ৭২ শতাংশের মালিক হইলেন। এবার দেখি সাবু সরকার এই ৭২ শতাংশ জমি কি করলেন। নীচে তাঁর বিস্তারীতঃ
১৬। এবার সাবু সরকার, পিতা-হাজি কালু অবৈধ এই ৭২ শতাংশ জমি তাহার ৪ ছেলে (জুম্মন মিয়া, নূর মোহাম্মাদ, সুর মোহাম্মাদ এবং দীল মোহাম্মাদ) কে সমানভাগে প্রত্যেককে ১৮ শতাংশ করিয়া ২৮/১২/১৯৫৯ তারিখে হেবা দলিল নং ৮০২৪ দ্বারা হেবা করিয়া দেন। এর অর্থ হলো, সাবু সরকার নিঃস্ব হইলেন কিন্তু তাঁর ৪ ছেলে সবাই ১৮ শতাংশ করে মালিক হইলেন যদিও সেটা অবৈধ। টেবিলের মাধ্যমে সাজাইলে দাঁড়ায় এই রকমঃ
| বিক্রেতার নাম | ক্রেতার নাম | দলিল নং ও তারিখ | জমির পরিমান | সাউথ টাউন রেফারেন্স |
|
সাবু সরকার পিতা-হাজী কালু |
জুম্মন মিয়া
পিতা-সাবু সরকার |
হেবা দলিল নং ৮০২৪ তারিখ ২৮/১২/১৯৫৯ |
১৮ শং | |
| নূর মোহাম্মাদ
পিতা-সাবু সরকার |
১৮ শং | |||
| সুর মোহাম্মাদ
পিতা-সাবু সরকার |
১৮ শং | |||
| দীল মোহাম্মাদ
পিতা-সাবু সরকার |
১৮ শং | |||
| ৭২ শং |
১৭। সাবু সরকার যদিও তাহার ৪ ছেলে (জুম্মন মিয়া, নূর মোহাম্মাদ, সুর মোহাম্মাদ এবং দীল মোহাম্মাদ) কে সমান ১৮ শতাংশ করে জমি হেবা করে দেন, কিন্তু জুম্মন মিয়া, নূর মোহাম্মাদ এবং দীল মোহাম্মাদ তাহাদের তিনজনের মোট (৩x১৮)=৫৪ শতাংশ কারো কাছে বিক্রি করেন নাই। অন্যদিকে সাবু সরকারের ছেলে সুর মোহাম্মাদ হেবা সুত্রে প্রাপ্য ১৮ শতাংশ জমির বিপরীতে ৭৯.২৪ শতাংশ জমি বিক্রয়/হেবা করেন যাহা কোনোভাবেই বৈধ হতে পারে না। আমরা দলিল এবং ক্রেতা-বিক্রেতার নাম অনুযায়ী নীচে টেবিল আকারে সাজাইলামঃ
| বিক্রেতার নাম | ক্রেতার নাম | দলিল নং ও তারিখ | জমির পরিমান |
| জুম্মন মিয়া
পিতা-সাবু সরকার |
বিক্রি করেন নাই | ১৮ শং | |
| নূর মোহাম্মাদ
পিতা-সাবু সরকার |
বিক্রি করেন নাই | ১৮ শং | |
| দীল মোহাম্মাদ
পিতা-সাবু সরকার |
বিক্রি করেন নাই | ১৮ শং | |
| সুর মোহাম্মাদ
পিতা-সাবু সরকার |
(১) নান্নু মিয়া
পিতা-মফিজ উদ্দিন ওরফে মরন মিয়া (২) আতর বানু সামী-নান্নু মিয়া |
দলিল নং ৪১৮৬
তাং- ০২/০৮/১৯৮৮ |
৩৭ শং |
| সুর মোহাম্মাদের ছেলেমেয়ে
(১) আশিক মাহমুদ (২) আপেল মাহমুদ (৩) জাসমিন জাহান |
(১) মোঃ নাজিম উদ্দিন
পিতা-জুম্মন মিয়া (২) আঃ খালেক পিতা-জুম্মন মিয়া |
আমমোক্তার দলিল-১৪৪৫৪
তাং ১০/০৩/২০০৯ |
২৪ শং |
| সুর মোহাম্মাদের ২ মেয়ে
(১) জাসমিন জাহান (২) নাসরীন জাহান |
মোঃ নাজিম উদ্দিন
পিতা-জুম্মন মিয়া |
আমমোক্তার দলিল- ১১২৬৫
তাং-০৮/১১/২০১০ |
৯ শং |
| সুর মোহাম্মাদের মেয়ে এবং স্ত্রী
(১) শাহনাজ জাহান (২) স্ত্রী হাসিনা জাহান |
(১) মোঃ নাজিম উদ্দিন,
পিতা-জুম্মন মিয়া (২) মোঃ ওবায়দুর রহমান পিতা- জুম্মন মিয়া |
আম মোক্তার দলিল- ১৪৮৪
তারিখ ৩০/০১/২০১১ |
৯.২৪ শং |
১৮। অতঃপর, সুর মোহাম্মাদ নিজের দ্বারা বিক্রিত ৩৭ শং জমি, তাহার স্ত্রী হাসিনা জাহান এবং তাহার ৩ মেয়ে জাসমিন জাহান, নাসরীন জাহান, এবং শাহনাজ জাহান) ও তার ২ ছেলে আশিক মাহমুদ, আপেল মাহমুদ কর্তৃক প্রদেয় আমমোক্তার দ্বারা প্রাপ্য ৪২.২৪ শং জমি একুনে মোট ৭৯.২৪ শতাংশ হইতে ৭৪ শতাংশ জমি নিম্নরুপ ভাবে বিডিসির কাছে বিক্রয় করেন যাহা সম্পুর্ন অবৈধঃ
| বিক্রেতার নাম | ক্রেতার নাম | দলিল নং ও তারিখ | জমির পরিমান |
| (১) নান্নু মিয়া
পিতা-মফিজ উদ্দিন ওরফে মরন মিয়া (২) আতর বানু সামী-নান্নু মিয়া |
বিডিসি | দলিল নং ৫১৪২
তারিখ ২৬/০৪/২০০৬ |
৩৭ শং |
| (১) মোঃ নাজিম উদ্দিন
পিতা-জুম্মন মিয়া (২) আঃ খালেক পিতা-জুম্মন মিয়া |
বিডিসি | দলিল নং ১৭৪৫৭
তারিখ ২২/০৭/২০০৯ |
২৪ |
| (১) মোঃ নাজিম উদ্দিন
পিতা-জুম্মন মিয়া (২) মোঃ ওবায়দুর রহমান পিতা- জুম্মন মিয়া |
বিডিসি | দলিল নং ৫৫৭৪
তারিখ ১০/০৪/২০১১ |
১৩ শং |
| ৭৪ শং |
মন্তব্যঃ
ক। কিরনবালা এবং তাহার ছেলে মনোরঞ্জন দত্ত ওরফে সন্তোষচন্দ্র দত্ত হটাত করিয়া কোন উৎস হইতে ৭২ শতাংশ জমি পাইলেন, তাহার কোন রেকর্ড নাই। কিন্তু তাহারা ৭২ শতাংশ জমি জনাব সাবু সরকার, পিতা হাজি কালুর কাছে বিক্রি করেন। ইহা একটি অবৈধ বিক্রি।
খ। সাবু সরকার, পিতা হাজি কালু, তিনি তাহার ৪ পুত্রকে (জুম্মন মিয়া, নূর মোহাম্মাদ, সুর মোহাম্মাদ এবং দীল মোহাম্মাদ) সমান প্রত্যেককে ১৮ শতাংশ করিয়া হেবা করিয়া দিলেও পুত্র জুম্মন মিয়া, পুত্র নূর মোহাম্মাদ, এবং পুত্র দীল মোহাম্মাদ তাহাদের তিনজনের মোট ৫৪ শতাংশ জমি কারো কাছে বিক্রি করেন নাই। অন্যদিকে পুত্র সুর মোহাম্মাদ নিজে এবং তাহার ছেলে, মেয়ে এবং স্ত্রী সাবকবলা দলিল এবং আমমোক্তার দ্বারা মোট ৭৯.২৪ শতাংশ জমি খারিজ করেন। যাহা সম্পুর্ন অবৈধ।
গ। উক্ত ৭৯.২৪ শতাংশ জমি হইতে পরবর্তীতে বিডিসি ৭৪ শতাংশ জমি সাবকবলা দলিল মুলে সুর মোহাম্মাদ এবং তাহাদের ওয়ারিশ কর্তৃক প্রদেয় আমমোক্তার বলে খরিদ করে, ইহাও অবৈধ।
ঘ। অর্থাৎ সাবু সরকার কর্তৃক ৭২ শতাংশ জমি যেমন অবৈধ, তেমনি বিডিসি কর্তৃক ৭৪ শতাংশ জমি ক্রয়ও অবৈধ।
অর্থাৎ দেখা যায় যে, প্রথম পর্বের ইতিহাস অনুযায়ী বিডিসির ক্রয় করা ১০৩ শতাংশ সম্পত্তি এবং দ্বিতীয় পর্বের ইতিহাস অনুযায়ী বিডিসির ক্রয় করা ৭৪ শতাংশ জমি সর্বোমোট (১০৩+৭৪) = ১৭৭ শতাংশ জমি পুরুটাই অবৈধ। তারা এ জমির বৈধ মালিক নহেন। বরং বর্তমানে রঘুনাথ বৈরাগী, গুলমনি বৈরাগী, যোগেন্দ্র বৈরাগী এবং বিপিন বৈরাগীগন তথা তাদের বৈধ ওয়ারিশগন উক্ত জমির মালিক। এই জমি যে কোনো মুহুর্তে তারা বৈধ ভাবে নিজেরা ভোগ দখল তথা অন্যত্র বেচা বিক্রি করার ইখতিয়ার রাখেন।
তৃতীয় পর্বের ইতিহাসঃ
১৯। ১৯৩২ সালে চুড়ামনি বৈরাগীর ৫৪ শতাংশ জমি মানিডিক্রী মামলা ৪৮৭/১৯৩২ দ্বারা প্রকাশ্যে নিলাম হয়। উক্ত নিলাম সরকার বাহাদুরের বয়নামা দলিল নং ৫৪ তারিখ ০৯/১২/১৯৩৩ এর মাধ্যমে শ্রী দেবেন্দ্রনাথ গংগোপধ্যায় ক্রয় করেন। শ্রী দেবেন্দ্রনাথ গংগোপধ্যায় ১২/০৮/১৯৪২ তারিখ দলিল ৩৫৩৩ এর মাধ্যমে পরিমল সুন্দুরী দে ওরফে সাহার কাছে সাব কবলা বিক্রি করে দিয়ে শ্রী দেবেন্দ্রনাথ গংগোপধ্যায়ও নিঃস্ব হয়ে যান। এই তথ্য আমরা প্রথম পর্বের ইতিহাসে বিবরন দিয়েছিলাম।
২০। উক্ত পরিমল সুন্দুরী দে ওরফে সাহা তাহার ৫৪ শতাংশ জমি থেকে দলিল নং ৮৬৬২, তারিখ ১৬/১২/১৯৫৮ দ্বারা জনাব সার্থক আলি, পিতা-আব্দুল গফুরের কাছে ৩৯ শতাংশ জমি তার পারিবারিক সংসারের খরচের এবং অন্যত্র জমি ক্রয়ের নিমিত্তে সাবকবলা বিক্রি করেন। অতঃপর, জনাব সার্থক আলি তাহার ক্রয় করা ৩৯ শতাংশ জমি পুনরায় সাবকবলা দলিল নং ২২৮৩ তারিখ ০৩/০২/১৯৭১ দ্বারা নাব মোহাম্মাদ আলী, পিতা মেনু মিয়ার কাছে বিক্রি করে সার্থক আলী নিঃস্ব হয়ে যান। একইভাবে, জনাব মোহাম্মাদ আলী, পিতা-মেনু মিয়াও তাহার ৩৯ শতাংশ জমি পুনরায় দলিল নং ৬৪৩, তারিখ ০৭/০২/১৯৮৩ দ্বারা খোসনুর বানু, স্বামী-আফজাল বেপারীর কাছে বিক্রি করে জনাব মোহাম্মাদ আলীও নিঃস্ব হয়ে যান। টেবিল আকারে সাজাইলে দাঁড়ায় এই রকমঃ
| বিক্রেতার নাম | ক্রেতার নাম | দলিল নং ও তারিখ | জমির পরিমান | মন্তব্য |
| পরিমল সুন্দুরী দে ওরফে সাহা | সার্থক আলি
পিতা-আব্দুল গফুর |
দলিল নং ৮৬৬২
তাং- ১৬/১২/১৯৫৮ |
৩৯ শং | পরিমল সুন্দুরী নিঃস্ব হন নাই। ৫৪ শতাংশের মধ্যে আরো ১৫ শঃ রয়ে গেলো এবং তিনি অন্যত্র জমি ক্রয় করেছেন বলে দলিলে উল্লেখ থাকে। এ ছাড়া পৈত্রিক সুত্রে (পিতার ওয়ারিশ সুত্রে) তার আরো ৫৪ শতাংশ জমি সিএস থেকে পাওনা আছে। অর্থাৎ সার্থক আলীর কাছে ৩৯ শতাংশ জমি বিক্রি করার পরেও পরিমল সুন্দুরীর ৬৯ শতাংশ জমি আছে। (কারন তিনি নিজে কিনেছিলেন ৫৪ শতাংশ এবং পিতার ওয়ারিশ সুত্রে আছে ৫৪। মোট ১০৮ শতাংশ। বিক্রি করল্রন ৩৯ শঃ। বাকী থাকে ৬৯ শঃ। |
| সার্থক আলী
পিতা-আব্দুল গফুর |
মোহাম্মাদ আলী
পিতা-মেনু মিয়া |
দলিল নং ২২৮৩
তাং- ০৩/০২/১৯৭১ |
৩৯ শং | সার্থক আলি নিঃস্ব হন। |
| মোহাম্মাদ আলী
পিতা-মেনু মিয়া |
খোসবানু
স্বামী-আফজাল বেপারী |
দলিল নং ৬৪৩
তাং- ০৭/০২/১৯৮০ |
৩৯ শং | মোহাম্মাদ আলীও নিঃস্ব হন। |
২১। খোসবানু ৩৯ শতাংশ জমির মালিক হইয়া তিনি দুই দলিলে পৃথক পৃথকভাবে জনাব আব্দুল কাদের, পিতা-আফজাল বেপারী (তার নিজের ছেলে) এর কাছে দলিল নং ৪৫১৪ তারিখ ১৫/০৫/২০০৪ দ্বারা ১৩ শতাংশ জমি এবং দলিল নং ৪৪৯৯, তারিখ ১৭/০৫/২০০৪ দ্বারা (ক) হালেমা খাতুন, স্বামী-মৃত মোহাম্মাদ আলী (খ) মালেকা খাতুন, স্বামী-মোঃ জামাল (গ) মনোয়ারা খাতুন, স্বামী-আঃ মালেক এবং (ঘ) আনোয়ারা খাতুন, স্বামী-সামসুল হক এর কাছে মোট ২৬ শতাংশ জমি একুনে মোট ৩৯ শতাংশ জমি বিক্রি করে খোসবানু চিরতরে নিঃস্ব হন। টেবিল আকারে সাজাইলে দাঁড়ায় এই রকমঃ
| বিক্রেতার নাম | ক্রেতার নাম | দলিল নং ও তারিখ | জমির পরিমান | |
|
খোসবানু স্বামী-আফজাল বেপারী |
আব্দুল কাদের
পিতা-আফজাল বেপারি |
দলিল নং ৪৫১৪
তারিখ ১৫/০৫/২০০৪ |
১৩ শং | |
| হালেমা খাতুন
স্বামী- মৃত মোহাম্মাদ আলী |
দলিল নং ৪৪৯৯ তারিখ ১৭/০৫/২০০৪ |
২৬ শতাংশ | ||
| মালেকা খাতুন
স্বামী- মোঃ জামাল |
||||
| মনোয়ারা খাতুন
স্বামী-আঃ মালেক |
||||
| আনোয়ারা খাতুন
স্বামী- সামসুল হক |
২২। জনাব আব্দুল কাদের, পিতা-আফজাল বেপারী, তাহার ১৩ শতাংশ জমি হইতে পরবর্তীতে সাবকবলা দলিল নং ৮৫৯৬ তারিখ ২৫/০৬/২০০৬ দ্বারা ১২ শতাংশ জমি বিডিসির কাছে বিক্রি করেন। অন্যদিকে হালেমা খাতুন, স্বামী-মৃত মোহাম্মাদ আলী, মালেকা খাতুন, স্বামী-মোঃ জামাল, মনোয়ারা খাতুন, স্বামী-আঃ মালেক এবং আনোয়ারা খাতুন, স্বামী-সামসুল হক সবাই সাবকবলা দলিল নং ৮৫৯৬ তারিখ ২৫/০৬/২০০৬ দ্বারা তাদের ২৬ শতাংশ জমি হইতে মোট ২৩ শতাংশ জমি বিডিসির কাছে বিক্রয় করেন। ফলে, বিডিসি সর্ব সাকুল্যে মোট ৩৫ শতাংশ জমি ক্রয় করেন।
| বিক্রেতার নাম | ক্রেতার নাম | দলিল নং ও তারিখ | জমির পরিমান | মন্তব্য |
| আব্দুল কাদের
পিতা- আফজাল বেপারী |
বিডিসি | দলিল নং ৮৫৯৬
তারিখ ২৫/০৬/২০০৬ |
১২ শং | আব্দুল কাদের এখনো ১ শতাংশের মালিক রয়ে যান। |
| হালেমা খাতুন
স্বামী- মৃত মোহাম্মাদ আলী |
বিডিসি | দলিল নং ৮৫৯৬
তারিখ ২৫/০৬/২০০৬ |
২৩ শং | হালেমা খাতুন, মালেকা খাতুন, মনোয়ারা খাতুন, আনোয়ারা খাতুন সবাই মিলে এখনো ৩ শতাংশের মালিক রয়ে যান। |
| মালেকা খাতুন
স্বামী- মোঃ জামাল |
||||
| মনোয়ারা খাতুন
স্বামী-আঃ মালেক |
||||
| আনোয়ারা খাতুন
স্বামী- সামসুল হক |
||||
| বিডিসি মোট ক্রয় করে | ৩৫ শং | |||
অর্থাৎ বিডিসির ক্রয় করা মাত্র ৩৫ শতাংশ জমি সম্পুর্ন বৈধ। বাকী সমস্ত জমি অবৈধ।
মেজর আখতার হোসেন (অবঃ) এর জমি ক্রয়ের বিবরনঃ
১। জনাব মেজর মোহাম্মাদ আখতার হোসেন (অবঃ) অরিজিনাল ক্রয়সূত্রে (শ্রী দেবেন্দ্রনাথ থেকে নিলামের জমি ক্রয় ভিত্তিতে) মালিক শ্রীমতি পরিমল সুন্দুরীর নামে নামজারী করা জমি তারই (শ্রীমতি পরিমল সুন্দুরীর) পৌত্র ওয়ারিশদের কাছ থেকে সরাসরি দুই দলিলে দলিল নং-১৯০০ তাং ১৮/১০/২০০৮, জমির পরিমান ৩৫ শতাংশ, এবং দলিল নং- ১০৫৯২ তাং ১৪/১০/২০১২, জমির পরিমান ৬ শতাংশ একুনে মোট মোট ৪১ শতাংশ জমি ক্রয় করেন। অতঃপর নামজারী করেন ৩৫ শতাংশ জমির, কারন আরএস রেকর্ড নামজারী হিস্যা অনুযায়ী মোট ৩৫ শতাংশ জমির নামজারি করা যায়। নামজারী ও জমাভাগ নথি নম্বর-১৭৯৫০/০৮-০৯ তাং ২২/০২/২০০৯ এবং ডিসিআর করা হয়।
২। পরিমল সুন্দুরী দে এর পৈত্রিক সুত্র থেকে পাওয়া জমি কিন্তু (৫৪ শতাংশ) রয়েই গেছে। পরিমল সুন্দুরীর ওয়ারিশ পর্যালোচনা করলে দেখলে দেখা যাবে যে, উক্ত ৫৪ শতাংশ জমি পরিমল সুন্দুরী নিজেই পান। কিন্তু আমরা সেই পৈত্রিক সম্পত্তির উপর কোনো জোরজবর দস্তি কিংবা ভাগ নিচ্ছি না। যতোক্ষন আমি মেজর আখতার হোসেন (অবঃ) উক্ত জমি না পাই, তাহলে পরিমল সুন্দুরীর বাকী পৈত্রিক সম্পত্তি থেকে জমি পুরা করা হবে যেহেতু তার নামে কমপক্ষে ৩৫ শতাংশ নামজারী আছে বিক্রি করার পরেও।
৩। মেজর মোহাম্মাদ আখতার হোসেন (অবঃ) তাঁর জমির চারিদিকে বাউন্ডারীওয়াল করেন এবং নামফলক দেন।
৪। অতঃপর সাউথ টাউনের প্রোজেক্ট ইনচার্জ জনাব ওয়াহেদুজ্জামান, জনাব মেজর মোহাম্মাদ আখতারের সাথে ব্যক্তিগতভাবে যোগাযোগ করেন যেনো মেজর আখতার হোসেন (অবঃ) তার জমির সমস্ত কাগজপত্র সাউথ টাউনের বরাবর জমা দেন এবং সাউথ টাউনের সাথে একটি যৌথ চুক্তির মাধ্যমে ডেভেলপার বনাম মালিক হিসাবে জমি ভাগাভাগি করে প্লট নম্বর নিয়ে সাউথ টাউনের সমস্ত ফেসিলিটি ভোগ করতে পারেন। সে মোতাবেক মেজর মোহাম্মাদ আখতার হোসেন (অবঃ) ১২/০৪/২০১৪ তারিখে একটি ফরোয়ার্ডিং লেটারের মাধ্যমে সমস্ত কাগজাদি তিনি জনাব ওয়াহেদুজ্জামানের কাছে প্রেরন করেন। জনাব ওয়াহেদুজ্জামান তা স্বাক্ষর করে জমা নেন পরবর্তী ধাপে কাগজপত্র যাচাই বাছাই করার নিমিত্তে। (কাগজ সংযুক্ত)
৪। অতঃপর, কাগজ জমা দেওয়ার ১ মাস পর জনাব ওয়াহেদুজ্জামান সমস্ত কাগজাদি চেক করে ১২/৫/২০১৪ তারিখে সাউথ টাউনের পক্ষে সাউথ টাউনের প্রজেক্ট ম্যানেজার হিসাবে জনাব ওয়াহিদুজ্জামান, সাউথ টাউনের সার্ভেয়ার মোঃ হামিদুল ইসলাম এবং প্রজেক্ট সহকারী জনাব আব্দুল আলীম সম্মিলিতভাবে এইমর্মে ডেভেলপার বনাম মালিক হিসাবে মেজর আখতার হোসেন (অবঃ) এর সাথে একটি খসড়া চুক্তি স্বাক্ষর করেন। যার সারমর্ম ছিলো এই রকমঃ
(ক) মোট জমি = ৪১ শতাংশ অর্থাৎ ২৪.৮০ কাঠা।
(খ) রাস্তা বাবদ = (৪/২৬) অনুপাতে =৩.৮১৫৩ কাঠা কাটা হবে।
(গ) সাউথ টাউন = (১০/২৬) অনুপাতে ৯.৫৩৮৪ কাঠা পাবে।
(ঘ) মেজর আখতার হোসেন (অবঃ) = (১২/২৬) অনুপাতে = ১১.৪৪৬ কাঠা পাবেন।
(ঙ) রাউন্ড ফিগারে মেজর আখতার হোসেন (অবঃ) কে ১১৪৪৬ কাঠার পরিবর্তে মোট ১২ কাঠা জমি প্লট আকারে যেখানে বর্তমানে মেজর আখতার হোসেন (অবঃ) এর জমি আছে, সেখানেই দেয়া হবে। এই মর্মে একটি স্বাক্ষর চুক্তি হয়। (কাগজ সংযুক্ত)
৪। পরবর্তীতে চুক্তিপত্র মোতাবেক সাউথ টাউন কর্তৃক উপরোক্ত অনুপাতে ল্যান্ড ভাগাভাগি করে প্লট নাম্বার দেওয়ার নিমিত্তে ভাওতাবাজি করে এবং একদিন ওয়াহেদুজ্জামান মেজর মোহাম্মাদ আখতার হোসেন (অবঃ) এর ৪১ শতাংশ জায়গায় করা বাউন্ডারী ওয়াল ভেংগে ফেলেন, নামফলকও তুলে ফেলেন এবং জনাব ওয়াহিদুজ্জামান জানান যে, শীঘ্রই মেজর মোহাম্মাদ আখতার হোসেন (অবঃ) এর নামে আগের খসড়া চুক্তি মোতাবেক ১২ কাঠার একটি প্লট নাম্বার দেওয়ার কাজ চলছে। সাউথ টাউনের এমডি/চেয়ারম্যান/ডাইরেক্টর জনাব মোস্তফা কামাল মহিউদ্দিন সাহেব দেশের বাইরে থাকার কারনে প্লট বরাদ্ধ চুড়ান্ত করা যাচ্ছে না। তাই কিছুটা বিলম্ব হচ্ছে। কিন্তু ইতিমধ্যে তারা প্রোজেক্টের অন্যান্য কাজ এগিয়ে নেওয়া নিমিত্তে দেয়াল ভেংগে ফেলেছেন।
৫। হটাত একদিন মেজর মোহাম্মাদ আখতার হোসেন (অবঃ) জমি সংক্রান্ত ব্যাপারে একটি মামলার নোটিশ পান যে, উক্ত স্থানে নাকি মেজর মোহাম্মাদ আখতার হোসেন (অবঃ) এর কোনো জায়গায়ই নাই। বাংলাদেশ ডেভেলপ মেন্ট কোম্পানী (বিডিসি) বাদী হয়ে মেজর মোহাম্মাদ আখতার (অবঃ) এর নামে মামলা করেন।
৬। এখন মামলা চলছে।
প্রশ্ন
(১) চুরামনি বৈরাগী সিএস মোতাবেক জমি পাওয়ার কথা মোট ৫৪ শতাংশ, কিন্তু তাহার ৫ ছেলে জমি বিক্রয় করেন ১৩৫ শতাংশ। বাকি জমি পাইলো কই?
(২) রঘুনাথ বৈরাগীর ৫৪ শতাংশ জমি তিনি বিক্রয় করেন নাই। এই জমি গেলো কই?
(৩) বিপিন বৈরাগীর ৫৪ শতাংশ জমি তিনি বিক্রয় করেন নাই। এই জমি গেলো কই?
(৪) গুলমনি বৈরাগীর ৫৪ শতাংশ জমি তিনি বিক্রয় করেন নাই। এই জমি গেলো কই?
(৫) যোগেন্দ্র বৈরাগীর ৫৪ শতাংশ জমি তিনি বিক্রয় করেন নাই। এই জমি গেলো কই?
(৬) পোকাই মাদবের জমি যদিও অবইধ ভাবে কেনা, তারপরেও ৪২ শতাংশ জমি থেকে মাত্র ১২ শতাংশ জমি বিক্রয় করেছেন, ফলে তাহার ৩০ শতাংশ জমি গেলো কই?
(৭) কিতাব আলীর দলিল দস্তাবেজ পর্যালোচনা করে দেখা যায় তিনি মোট ১০৫ শতাংশ জমি ক্রয় করেন, কিন্তু বিক্রি করেন মোট ১০৩ শতাংশ জমি। তাহার বাকী ২ শতাংশ জমি গেলো কই?
(৮) জুম্মন মিয়ার পৈতৃক সুত্রে পাওয়া ১৮ শতাংশ জমি গেলো কই? তিনি কারো কাছে বিক্রি করেন নাই।
(৯) নূর মোহাম্মাদের পৈতৃক সুত্রে পাওয়া ১৮ শতাংশ জমি তিনি বিক্রি করে নাই। এই জমি গেলো কই?
(১০) দীল মোহাম্মাদ তার পৈতৃক সুত্রে প্রাপ্ত ১৮ শতাংশ জমি পেয়েছেন। কিন্তু কারো কাছে বিক্রি করেন নাই। এই জমি গেলো কই?
(১১) অন্য দিকে সুর মোহাম্মাদ পৈতৃক সুত্রে জমি পেয়েছেন মাত্র ১৮ শতাংশ, কিন্তু তার ওয়ারিশগন মোট জমি বিক্রয় করেছে ৭৯২৪ শতাংশ। এই জমি তাহারা পেলো কই?
(১২) কিরনবালা এবং মনোরঞ্জন দত্ত মোট জমি ক্রয় করেন ৯৩ শতাংশ কিন্তু বিক্রি করেন ১৬৫ শতাংশ। কিরনবালা এবং মনোরঞ্জন দত্ত ৭২ শতাংশ জমি পেলো কই?
(১৩) হালেমা খাতুন, মালেকা খাতুন, মনোয়ারা খাতুন, আনোয়ারা খাতুন জমি ক্রয় করেন ২৬ শতাংশ, বিডিসির কাছে বিক্রি করেন ২৩ শতাংশ, বাকী ৩ শতাংশ গেলো কই?
(১৪) আব্দুল কাদের জমি কেনেন ১৩ শতাংশ, বিক্রি করেন বিডিসির কাছে, বাকী ১ শতাংশ গেলো কই?
(১৫) পরিমল সুন্দুরী মোট জমি কিনেন ৫৪ শতাংশ, বিক্রি করেন সার্থক আলীর কাছে ৩৯ শতাংশ, তাহলে বাকী জমি গেলো কই?
(১৬) পরিমল সুন্দুরীর ৩৯ শতাংশ সার্থক আলীর কাছে বিক্রি করার পরেও সার্থক আলির নামেও ৩৯ নামজারী হয় আবার পরিমলের নামেও ৩৫ শতাংশ নামজারী হয়। তারমানে পরিমলের এই ৫৪ শতাংশ জমির বাইরেও আরো জমি আছে এই দাগে কারন সার্থক আলীর কাছে বিক্রিত দলিলে এইরুপ তথ্য উল্লেখ আছে যে, সার্থক আলীকে ৩৯ শতাংশ জমি বিক্রির টাকায় তিনি সাংসারিক খরচ এবং অন্যত্র জমি ক্রয় করিবেন। অর্থাৎ তিনি এই ৩৯ শতাংশ জমি বিক্রি করে অন্যত্র এই দাগেই জমি কিনেছেন। যদি নাও কিনেন, তারপরেও পৈত্রিক সুত্রে পরিমল সুন্দুরীর তার পিতার ৫৪ শতাংশ জমিরও মালিক। সে সুবাদেই হয়তো সার্থক আলীর কাছে ৩৯ বিক্রি করার পর তার নামে (৫৪-৩৯) = ১৫ শতাংশ এবং পৈত্রিকভাবে প্রাপ্ত ৫৪ শতাংশ একুনে মোট ৬৯ শতাংশ হতে ৩৫ শতাংশ নামজারী হয়। ফলে তার ওয়ারিশ গন মেজর আখতারের কাছে ৩৫ বা ৪১ শতাংশ বিক্রি করেন। কিন্তু নামজারী ছাড়াও তার ওয়ারিশ গন আরো নামজারী কমপক্ষে ৩৪ শতাংশ অথবা ২৮ শতাংশ বিক্রি করতে পারেন।
(১৭) মেজর আখতার পরিমলের ওয়ারিশদের কাছ থেকে ৩৫ শতাংশ জমি ক্রয়ের পর, মেজর আখতারের নামেও নামজারী হয়। অর্থাৎ পরিমলের পর পরিমল থেকে কেনা সার্থক আলি, এবং মেজর আখতার উভয়ের নামেই ক্রয় অংশের সঠিক নামজারী হয়। তাহলে মেজর আখতার ৩৫ শতাংশ জমি পাবেন না কেনো?
(১8) সাউথ টাউনের প্রোজেকটা ম্যানেজার ওয়াহিদ, সার্ভেয়ার এবং ইঞ্চার্জ যখন মেজর আখতারের সাথে একটি যৌথ চুক্তি স্বাক্ষর করেন, তার আগেই তারা মেজর আখতারের কাগজাদি চেক করেন এবং চেক করার পরেই এই উক্ত যৌথ চুক্তি স্বাক্ষর করেন। তাহলে পরবর্তীতে কেনো তারা মেজর আখতারের বাউন্ডারী ওয়াল ভেংগে সমান করার পর দাবী করেন যে, এখানে মেজর আখতারের কোনো জমি নাই? এটা একটা চক্রান্ত নয় কি?
(১৫) এখানে বিশেষভাবে উল্লেখ থাকে যে, সব গুলি অবৈধ জমি ওয়াহিদ মেম্বার আম মোক্তার নামা দিয়ে বিডিসি বা সাউথ টাউনকে জমি কয়ে সহায়তা করেন। এই ওয়াহিদ মেম্বার নিজের মেজর আখতারের সব কাগজাদি চেক করেন। আমার ধারনা, তিনি এখন তার অবৈধ কার্যকলাপের জন্য আমার জমিটা খেয়ে ফেলার চেষ্টা করছেন।
কি কি হতে পারে?
১। সাউথ টাউনের প্রজেক্তের সাথে জড়িত স্টাফগন সম্ভবত সাউথ টাউনের এমডিকে সত্যিটা বলছেন না বিধায় তিনি একটা ভুল মুভ করেছেন মামলা করে।
২। মামলা করার ফলে সমস্ত কাগজ পত্র সাউথ টাউনকে কোর্টে পেশ করতেই হয়েছে। এই মামলার সমস্ত কাগজ পত্র বিবেচনায় দেখা যায় যে, কোনো অবস্থাতেই আদালত সাউথ টাউনকে তাঁর অবৈধ ভাবে কেনা ১৭৭ শতাংশ জমির বইধতা দিতে পারবেন না। আর এই অবৈধ কাগজ গুলি এখন সবার হাতে হাতে (যেমন জজের হাতে, পেশকারের হাতে, আইনজীবিদের হাতে, আমার হাতে, আমার সাথে আরো অন্যান্য লোকের হাত) কপি চলে গেছে। সবাই এই সব তথ্য জানার পর যারা লোভী, তারা ইতিমধ্যে ওইসব অবিক্রীত জমিগুলিকে হাতে নেওয়ার জন্য মানুষ রেডি করে হয় আম মোক্তার বা বায়না নামা বা অল্প কিছু পয়সা দিয়ে সাব কবলা করে ফেলার সম্ভাবনা বেশী।
৩। যে মুহুর্তে ওই সব লোকগুলি কনো না কোনো ভাবে এই অবিক্রীত জমি গুলির ব্যাপারে ন্যুনতম সুরাহা করে ফেলবে, তখন তারাই বাদী হয়ে সাউথ টাউনের বিরুদ্ধে মামলা করবে। বাদী হিসাবে মামলার তারিখ দ্রুত করা যায় বা হাইকোর্টে কোনো এক আদেশ বলে মামলাটা ত্বরান্বিত করা সম্ভব। বিবাদী হিসাবে সেতা হয়তো কিছুটা জটিল।
৩। পক্ষান্তরে মেজর মোহাম্মাদ আখতার হোসেন (অবঃ) এর কেনা ৪১ শতাংশ জমির মালিক। কারন পরিমল সুন্দুরী বৈধভাবে সার্থক আলীর কাছে ১৯৫৮ সালে ৩৯ শতাংশ জমি বিক্রি করার পরেও আর এস রেকর্ড মোতাবেক জনাব সার্থক আলীর নামেও ৩৯ শতাংশ জমি নামজারী হয় এবং শ্রীমতি পরিমল সুন্দুরীর নামেও ৩৫ শতাংশ জমি নামজারী হয়। এর মানে পরিমল সুন্দুরীর শ্রী দেবেন্দ্রনাথের থেকে ৫৪ শতাংশ জমি কেনার পরে হয়তো তাঁর আরো জমি অন্য কোনো জায়গা থেকে পেয়ে মালিকানা ছিলেন। ফলে সব কিছু পর্যালোচনা করে দেখা যাবে যে, মেজর আখতারের পক্ষে রায় হবেই।
৪। যদি মেজর আখতার এই মামলায় রায় পান, তাহলে এই রায়ের কপি নিয়েই ওই সব লোভী মানুষগুলি যারা অবিক্রীত জমির একটা সুরাহা করে নিয়েছেন, তারা অবশ্যই জিতে যাবে। ফলে সাউথ টাউন ২১৬ শতাংশ সহ আমার জমিও হারাবেন।
৫। শুধু তাইই নয়, যদি সাউথ টাউন মামলায় কোনো রুপ জটিলতা করেন, তাহলে প্লট বুকিংকারী, প্লটের কিস্তি পরিশোধ করেছে কিন্তু প্লট পায় নাই এমন অনেক ক্লায়েন্ট, আবার যারা ডিপ্রাইভড লোক যারা সাউথ টাউনের বিপক্ষের লোক, তারা সবাই প্রকাশ্যে দিবালোকে মিছিল করে মিডিয়ার দৃষ্টি আকর্ষন করে দেশের প্রধান একটা শিরোনামে নিয়ে আসতে পারে।
৬। সাউথ টাউনের এখনো অনেক জমি তারা দখল করে রেখেছেন যে সব জমি এখনো অবধি সাউথ টাউন কিনেই নাই। ওই সব মানুষগুলিও এবার তাদের জমির কাগজপত্র নিয়ে হাজির হয়ে দখলে যাবে। সাউথ টাউনের এই দূর্বলতার সুযোগ নিয়ে আশে পাশের ডেভেলপার গন অনায়াসেই ওই সব জমি ওয়ালাদের কাছ থেকে অল্প পয়সায় জমি জিরাত কিনে সাউথ টাউনে ঢোকে যাবে। আর যখনই ওইসব ডেভেলপার ঢোকে যাবে, তখন যুদ্ধ হবে (অন্য ডেভেলপার +জমি ওয়ালা+ ক্লায়েন্ট + শত্রু পক্ষ) বনাম সাউথ টাউন। সাউথ টাউন লন্ডভন্ড হয়ে যাওয়ার সম্ভাবনা বেশি। শুধু তাইই না, সাউথ টাউনকে সুদ সমেত ক্লায়েন্টদের টাকা ফেরত দিতে হবে।
সমাধান
৭। অতি দ্রুততম সময়ে প্রোজেক্টের ভিতরের জাসুসদেরকে সরাইয়া ফেলতে হবে।
৮। সব কাগজপত্রের নিরাপত্তা বিধান খুবই জরুরী বিশেষ করে এমন সব কাগজ পত্র যে কাগজের মাধ্যমে সাউথ টাউনের দূর্বলতা আছে।
৯। মেজর আখতারের মামলার কোনো রায় না করানো এবং তার সাথে ক্লিনভাবে একটা সমঝোতায় গিয়ে মামলাটা আর না চালানো। যতদিন এই মামলা চলবে, ততোদিন আদালত কর্ত্রিক কাগজপত্র চাইতেই থাকবে এবং কাগজপত্র প্রকাশ্যে আসতেই থাকবে। এ ক্ষেত্রে সাউথ টাউন পরিমল সুন্দুরীর থেকে পরিমল সুন্দুরীর বাকী ওয়ারিশ দের কাছ থেকে কমপক্ষে ২৮ এবং বেশীর পক্ষে ৩৪ শতাংশ জমি এখুনী লিখে নেয়া উচিত এবং উক্ত কাজটি এই কয়েক দিনের মধ্যেই করে কাগজ পত্র গুছিয়ে ফেলা উচিত বলে আমি মনে করি এবং এ ব্যাপারে মেজর আখতার সর্বাত্তক সহযোগীতা করতে পারেন।
১০। অতঃপর যদি কেউ জেনুইন কাগজ নিয়ে সাউথ টাউনে আসে, তাহলে তার কাছ থেকে যতোটা সহনীয় পর্যায়ে পারা যায় জমিগুলি কিনে নিয়ে বইধ করে ফেলা।
১১। যে সব এজেন্টের মাধ্যমে (যেমন ওয়াহিদ মেম্বার) অনেক অবৈধ জমি ক্রয় করা হয়েছে, তাকে আইনের আওতায় এনে তার কাছ থেকে ক্ষতিপুরন নেয়া।
১২। কোম্পানীর ল ইয়ার ইমিডিয়েটলী পরিবর্তন করা খুবই জরুরী। কিন্তু তাকে পরিবর্তন করা হলে আরেকটা বিপদের সম্মুক্ষিন হতে পারে যে, তার কাছেই সব কাগজাদি আছে যা তিনি অফিসচ্যুত হলে সাউথ টাউনের বিরুদ্ধে কাজ করবে। ফলে, ল ইয়ারকে পরিবর্তন এখুনি না করে তাকে দিয়েই ধীরে ধীরে সব কাগজ বৈধ করে নিয়ে তারপর অফিসচ্যুত করা।
১৩। সম্ভবত ডিকে খানকে আবারো অফিসমুখী করা হলে এতে একটা ভালো সুফল হতে পারে।
অন্যান্য তথ্যাদি
১। বিডিসির বিআরএস করার পর মেজর আখতার তেজগাও সেটেলমেন্ট অফিসে উক্ত বিআরএস এর বিপক্ষে ৩০ ধারা মতে বিশেষ আপত্তি কেস (বি আর এস সংশোধন প্রসংগে) ১৩/০১/২০১০ তারিখে একটি এপ্লিকেশন করেন। তার ডায়েরী নং ১৬০ তাং ১৩/১০/২০১০
২। পরিমল সুন্দুরী দে এবং স্বামী- ভুপতি মোহন সাহার ব্যাখ্যাঃ
(ক) হিন্দুদের যারা ব্যবসার সাথে জড়িত, তারা এক সময় উপাধি যাহাই হোক না কেনো, তাদেরকে সাহা নামেই ডাকা হয়। ভুপতি মোহন দে নিজে ব্যবসা করতেন বলে তাকে অনেকেই ভুপতি মোহন সাহা বলেও ডাকতেন।
(খ) এই বাঘইর এলাকাতেই খতিয়ান নম্বর ৭৩৫, যে এল ৮৭ তে পরিমল সুন্দুরী দেবীর (দেবীর সক্ষিপ্ত রুপ “দে”) এর স্বামীর নাম ভুপতি মোহন সাহা উল্লেখ আছে।
৩। অত্র সাউথ টাউন এলাকার জমির চৌহদ্দিগুলি পর্যালোচনায় দেখা যায়, উক্ত সাউথ টাউন এলাকার একই জমির মধ্যে বিভিন্ন দলিলের চউহদ্দিতে ভুপতি মোহন সাহার কথা উল্লেখ আছে।