১৩/০২/২০১৭-যদি

“যদি” এমন একটি শব্দ যা অতীত, ভবিষ্যৎ এবং বর্তমান এই তিনকালের সব কৈফিয়তের এক আওয়াজ। কোনটা কি করা হলে কি হতে পারতো, কোনটা কি না করা হলে কি না হতে পারতো, এটা না ওটা অথবা ওটা নয় এটা করা হলে ফলাফল কি দাড়াতো ইত্যাদির একটা হতাশার প্রয়াস মাত্র। এই “যদি”তে অতীত বর্তমান কিংবা ভবিষ্যৎ কোনোকালের জন্যই বিশেষ কিছু পরিবর্তন আনেনা। তবে এই “যদি” থেকে কেউ যদি শিক্ষা নেয়, অন্য কেঊ উপকৃত হতে পারে তাতে অনেক কিছুর দ্বন্দ্ব মিটে যায়। আসলে “যদি” একটা অভিজ্ঞতার নাম, “যদি” একটা সময়ের নাম। “যদি” একটা অধ্যায়ের নাম। এই “যদি” থেকে অনেক কিছু শেখার যেমন আছে, তেমনি, এই “যদি” থেকে অনেক ভোগান্তিও আছে।

সময়ের স্রোত ধরে মানুষ যখন আজকের বর্তমানকে পেরিয়ে আগামীকালের বর্তমানে পদার্পণ করে, তখন এই “যদি” এসে সামনে দাঁড়ায়। সাফল্য আর ব্যর্থতার মাঝামাঝিতে দাঁড়িয়ে “যদি” শুধু এটাই বুঝাতে চায় যে, “যদি” এইটা এইভাবে না করে ঐভাবে করা হতো, “যদি” অমুকের সাথে ঐ সময় দেখা না হতো কিংবা “যদি” অমুকের সাথে দেখা না হয়ে অন্য কারো সাথে দেখা হতো? “যদি” আরেকটু সাবধান হওয়া যেতো? “যদি” আরো বেশী মনোযোগী হয়ে ঐ কাজটা না করে সেই কাজটা করা যেতো? “যদি” এটা না করে ওটা করা হতো ইত্যাদি ইত্যাদি তাহলে হয়ত আজকে যা ঘটছে বা ঘটেছে, সেটা থামানো যেতো কিংবা ফলাফল আরো ভালো হতো। এই “যদি” বড় কঠিন সেতু যাকে ভর করে আর কখনোই সামনে যাওয়া যায় না। অথচ এই “যদি” যদি ঐ সময় ভাবা হতো, তাহলে জীবনের অনেক কিছুই পালটে যেতো। আমরা সবাই এই “যদি”র কাছে সব সময় হেরে যাই।

আজকে মনের ইমোশনাল বিচারে যা করতে হয়েছে, বা করে ফেলা হয়েছে, তখন মনে হয়, আহা “যদি” ঐ সময় এই ইমোশনালটা না হতাম, যদি ঐ কাজটায় আমি বা আমরা আরো কিছু সময় দিয়ে একটা উপায় বের করতাম, যদি আরেকটু সহনশীল হয়ে এইটা না করে ওইটা করতাম, তাহলে হয়তো জীবনটা অন্যরকম হতো। হয়তো এখন যা হয়েছে, তার আর কিছুই হতো না। হয়ত জীবনটাই পালটে যেতো। আজকে যাকে আমার একেবারেই সহ্য হচ্ছে না, যাকে নির্মুল করার জন্য আমি প্রানপনে চেষ্টা করছি, আহা, ‘যদি” ঐ সময়ে ঐ মানুষটির সাথে আমি আরো গভীরভাবে সবকিছু শেয়ার করে সব মিটিয়ে নিতাম, হয়তবা আরো কতই না ভালো হতো। আর এটাই হচ্ছে এই “যদি”র চরিত্র। “যদি”টা সব সময় “যদি”র মধ্যেই থাকে। যারা এই “যদি”কে কাজে লাগায়, তারা ভিন্ন ভিন্ন পথে এবং ভিন্ন ভিন্ন সময়ে অনেক নতুন নতুন পথের সন্ধান পায়।

“যদি” একটা কম্প্রোমাইজের নাম। “যদি” দ্বারা কেউ যদি কম্প্রোমাইজ করে, সেটা ভবিষ্যতের বড় হারের চেয়ে লাভজনক। “যদি” একটা বিকল্পের নাম। এই যদি দ্বারা অনেক কিছুই শামাল দেওয়া সম্ভব। আর শামালের আরেক নাম “সময়কে ঠেক দেওয়া”। সময় পাল্টায়, আর সময় যখন পালটে যায়, তখন এই অনেক কিছুই আর আগের মতো থাকে না। আজ যে পরিবেশটা অনেক অসহনীয় মনে হয়, সময়ের সাথে সাথে এই পরিবেশ অনেক সহনীয় হয়ে উঠে। আর সহনীয় সময়ের মধ্যে দুর্ঘটনা এড়ানো সম্ভব হয়। “যদি” থেকে শিক্ষা নেওয়া মানুষ ধৈর্যশীল হতে শিখে। আর ধৈর্যশীলরাই জয়ী হয়।

“যদি” যেমন একটা সাফল্যের নাম হতে পারে, এই “যদি” একটা ব্যর্থতার নামও হতে পারে। “যদি” শুধু অতীত কোনো ব্যাপার না, “যদি” একটা সম্ভাবনার নামও বটে। যে কোনো পরিকল্পনায়, কাজে কিংবা সিদ্ধান্তের আগে যদি আমরা এই “যদি”কে বেশী বেশি ভাবি, হয়তোবা কোনো না কোনো “যদি” আমাদের সাফল্যের পথ দেখাতে পারে। অতীতের “যদি” একটা শিক্ষা কিন্তু আগামির “যদি” একটা সম্ভাবনা।