অনেক চড়াই উতড়াইপার হয়ে শেষ পর্যন্ত আমরা হাইতিতে প্রেসিডেন্সিয়াল নির্বাচন করতে পারলাম। গতকাল ১৭/১২/১৯৯৫ তারিখে প্রেসিডেন্সিয়াল ইলেকশন হয়ে গেলো। এখানে মুলত ১৪ জন ক্যান্ডিডেটস ছিলো যার মধ্যে মুলত তিন জনের মধ্যেই লড়াইটা হয়েছে। প্রথম জন রেনে গারসিয়া প্রিভাল (যাকে সবাই রেনে প্রিভাল নামেই চিনে), তিনি ভাইস প্রেসিডেন্ট হিসাবে দায়িত্তে ছিলেন। অত্যান্ত অমায়িক একজন মানুষ। প্রায়ই তিনি আমাদের বেস ক্যাম্পে আসেন, সবার সাথে কথা বলেন, সন্ধায় এলে সবাই আমরা মিলে চা কফি খাই। বেশ সাধারন একজন মানুষ। একটা দেশের ভাইস প্রেসিডেন্ট যে এতো সাধারনভাবে আমাদের ক্যাম্পে আসেন, বুঝাই যায় না। এখানে তাঁর নিরাপত্তার ব্যাপারটা নিয়ে তিনি একেবারেই উদ্বিগ্ন নন। কারন পুরু বেস ক্যাম্পটাই নিরাপদ। এই ভাইস প্রেসিডেন্ট রেনে প্রিভাল গতকাল ইলেকশনে প্রায় ৮৮% ভোট পেয়ে জয়লাভ করেছেন এবং বর্তমান প্রেসিডেন্ট এরিস্টিডের স্থলাভিষিক্ত হবেন আগামি ৭ ফেব্রুয়ারী ১৯৯৬ তারিখ থেকে। ভাইস প্রেসিডেন্ট রেনে প্রিভাল “ল্যাভালাস পলিটিক্যাল অরগ্যানাইজেশন” (যাকে সক্ষেপে বলা হয় ওপিএল) থেকে দাড়িয়েছিলেন। মুখ ভর্তি দাড়ি। দেখলে অনেকটা আমাদের এশিয়ান এশিয়ান টাইপের মনে হয়।
২য় ব্যক্তি ক্যান্ডিডেট হিসাবে ছিলেন লিও জুন। তিনি সতন্ত্র দল বা ইন্ডিপেন্ডেন্ট থেকে দাড়িয়েছেন। ভোটের দিক দিয়ে তিনি মোট ভোট পেয়েছেন প্রায় ২.৫% । তাকে আমরা দেখি নাই। অন্তত আমি এখনো দেখি নাই। আর ৩য় ব্যক্তি যিনি ক্যান্ডিডেট হয়েছিলেন তাঁর নাম ছিলো ভিক্টোর বিনোত। তিনি দাড়িয়েছিলেন “কোনাকমঃ (KONAKOM) পার্টি থেকে। কোনাকম পার্টি আসলে মডারেট সোশ্যালিস্ট পলিটিক্যাল পার্টি যার ইংরেজী নাম হচ্ছে ন্যাশনাল কংগ্রেস অফ ডেমোক্র্যাটিক পার্টি এবং হেসিয়ানরা একে চিনে কোনাকম নামে। তাঁর ভোটের পরিমান ছিলো সবচেয়ে কম, মাত্র ২.৩%
বাকী ১১ জনের নাম ও আমরা প্রায় আগে খুব ভালভাবে শুনেছি বলে মনে হয় না। তাদের নাম গুলি এই রকমেরঃ
রেনে জুলিয়েন,
ক্লার্ক প্যারেন্ট- হেসিয়ান ডেমোক্র্যাটিক পার্টি
ইদি ভোলেল – ক্রিস্টিয়ান ডেমোক্র্যাটিক র্যালি
রিচার্ড ব্লাদিমির -প্যারাদাইস পার্টি
ফ্রান্সিস জীন – রিভুলেশনারী মিলিটারি ফোর্স
জীন আর্নল্ড ডুমাস-ন্যাশনাল পার্টি অফ ওয়ার্কার্স ডিফেন্স
জুলিও লারোসিলেরী-
মিষ্টার জোসেফ- হেসিয়ান সোস্যাল ডেমোক্রেটিক পার্টি
গেরাল্ড ডাল্ভিয়াস – অল্টারনেটিভ পার্টি অফ হেসিয়ান ডেভেলপমেন্ট পার্টি
রকফেলার গুরি – ইউনিয়ন অফ ডেমোক্র্যাটিক প্যাট্রিওটস
ফার্মিন জীন লুইস
মজার ব্যাপার হলো বর্তমান প্রেসিডেন্ট এরিস্টিড এই ইলেকশনে অংশ গ্রহন করেন নাই। করলে হয়ত তিনি পাশ করতেন। কিন্তু হেসিয়ান সংবিধানের বাধ্যবাদকতার জন্য তিনি অংশ গ্রহন করেন নাই। তবে তাঁর মনোনীত এবং তারই অধীনে ভাইস প্রেসিডেন্ট রেনে প্রিভালকে তিনি মনোনীত করেছেন। এবং ফলাফল তাইই হয়েছে যে, রেনে প্রিভাল জয়ী হয়েছেন। সেক্ষেত্রে ধরা যায় যে, যদি এরিস্টিড দাড়াতে পারতেন, তাহলে এবারো তিনিই প্রেসিডেন্ট হতে পারতেন।
আমি বহুবার এই ধর্মজাজক মানুষটির সাথে মিশেছি। আমি তাঁর প্যালেসে প্রায় তিন মাস একটানা ডিউটি করেছি। মাঝে মাঝেই আমি তাঁর খুব কাছ থেকে অনেক সান্নিধ্য পেয়েছি।