ভাইয়া নর্থ ইষ্টার্ন ইউনিভার্সিটিতে প্রোফেসারি করেন। এর ঠিক উলটো দিকেই হচ্ছে এম আই টি ইউনিভার্সিটি। ভাইয়া আমাকে ওনার ইউনিভার্সিটি তে নিয়ে গেলেন। আজ একটু শীত কম পড়েছে বলে মনে হচ্ছে। বিশাল বড় একটা ইউনিভার্সিটি। ভাইয়ার অফিসে গেলাম, ভাইয়ার আরো অনেক কলিগ, তাদের অফিসেও গেলাম। এরা সবাই অনেক উচু দরের মানুষ। ভাইয়া আমাকে ছেড়ে দিয়ে বললেন, তুই ইউনিভার্শিটিটা ঘুরে ঘুরে দেখতে পারিস। কিন্তু ক্যাম্পাসের বাইরে যাস না। দুপুরে একসাথে অন্যান্য কলিগদের সাথে ক্যাফেটেরিয়ায় লাঞ্চ করবো। এর মাঝে আমি কিছু কাজ সেরে নেই, আর তুইও ঘুরে ঘুরে দেখ। ভালোই হলো। ভাইয়া সাথে থাকলে আমার সিগারেট খাওয়া হয় না। এবার আনন্দের সাথে সিগারেট খাওয়া যাবে।
আমি ভাইয়ার অফিস থেকে বেরিয়ে গিয়ে প্রথমেই যেখানে পৌঁছলাম, সেতাই আসলে স্টুডেন্ট ক্যাফেটেরিয়া। দেখলাম, অনেক ছেলেমেয়েরা একটা বোর্ডের সামনে বেশ সুন্দর করে লাইন ধরে দাঁড়িয়ে আছে। আমি অদূরে দাঁড়িয়ে একতা সিগারেট ধরালাম। এখানে সিগারেট খাওয়া যায় কিনা আগে আমি চেক করে নিয়েছি। আমি দেখেছি এক ভদ্রলোক, সম্ভবত ছাত্রই হবে, সে সিগারেট খাচ্ছিলো। ফলে আমার ধারনা যে, এই স্থানে সিগারেট খাওয়া যায়। আমি সিগারেট খাচ্ছি আর ঐ জটলা ছেলেমেয়েদেরকে দেখছি। একজন একজন করে তারা কি যেনো একটা নোটিশ বোর্ডে পিন দিয়ে লাগাচ্ছে। লাগিয়েই আবার চলে যাচ্ছে।
আমার সিগারেট খাওয়া শেষ হলে আমি বোর্ডটির কাছে গিয়ে দেখি তখন মাত্র দুজন ছাত্র দাঁড়িয়ে। ওরা ইলেকশন পোষ্টার লাগাচ্ছে। কয়েকটি দলের ছাত্র ওরা। পোষ্টার দেখে বুঝলাম।
খুব মজার ব্যাপার হলো, যে যেই দলই করুক, তাদের নিজেদের মধ্যে কোনো দন্দ দেখলাম না। হানাহানি, হিংস্রতা, কিংবা একে অন্যের উপর রেষারেষি তো নাইই। আমাদের দেশে হলে ইতিমধ্যে মারামারি লেগে যেতো।