১৬/৮/২০২৪-সমস্যার পাহাড়-বাংলাদেশ

(ক)    পিক এন্ড চুজ নাকি প্রাইওরিটি ভিত্তিক নির্বাচন করছেন দেশের সমস্যাগুলি।

(খ)     তত্তাবধায়ক সরকারের সবচেয়ে বড় কঠিন কাজটা হচ্ছে, যারা এই সরকারের সাথে জড়িত তাদের মধ্যেই একটা বন্ডেজ তৈরী করা কারন তারা একেকজন একেক জায়গা থেকে জড়ো হয়েছেন। ফলে একটা এডাপ্টিবিলিটির সময় দরকার, আন্দারস্ট্যান্ডিঙ্গের জন্য সময় দরকার। কিন্তু বাংলাদেশে যে গন অভ্যুত্থানটা হলো এর পরে সাধারন জনগন সাধারনত তাদেরকে দীর্ঘ সময় দিতে চান না। তারা চান রাতারাতি সব কিছু ঠিক হয়ে যাবে এবং করতে হবে। এটা একটা আবেগী জায়গা।

(গ)     আমাদের দেশে পুরাতন রিজিমের মাধ্যমে ব্যাংক খাত, বিচার বিভাগ, শিক্ষা বিভাগ, সিভিল এডমিনিস্ট্রেশন, নিরাপত্তা বিভাগ, নির্বাচন কমিশন, পররাষ্ট্র নীতি সব প্রতিষ্ঠানকে একেবারে প্রায় ধংশ করে দেয়া হয়েছে। এই মুহুর্তে ইন্টেরিম সরকারের সময় সিভিল এডমিনিস্ট্রেশন গুলি ১০ থেকে ২০% কাজে মননিবেশন করছে। বাকি ৮০ থেকে ৯০% কাজই তারা ঠিক মতো করছে কিনা সন্দেহ।

(ঘ)     কমিউনিটি পুলিশিং বা ট্র্যাডিশনল পুলিশিং স্বাভাবিক পর্যায়ে ফিরিয়ে আনতে আরো বছর খানেক সময় লাগবে বলে আমার ধারনা। কারন এই মুহুর্তে ছাত্ররা সেনাবাহিনি সবাই মিলে পুলিশকে আগের কনফিডেন্স লেবেলে ফিরিয়ে আনতে সাহজ্য করলেও এটায় একটা বিশাল ক্ষতের সৃষ্টি হয়েছে। ফলে এতো দীর্ঘ সময়ে আইন শৃঙ্খলা পরিবেশ স্বাভাবিক হইতে হইতে মানুশ অ ধইর্য হয়ে যাবার সম্ভাবনা।

(চ)     ছাত্ররা ট্রাফিকিং, হাসপাতালের ক্লিনলিনেস, হোটেল রেশটুরেন্ট গুলিতে অকাম হচ্ছে কিনা যেভাবে চেক করছে। এই সিস্টেমগুলি মানুষ খুব একটা সহ্য করবে কিনা জানি না।

(ছ)     নতুন সরকার রাজনীতিতে খুবই অনভিজ্ঞ, তাদের হয়তো অনেক অভিজ্ঞতা আছে প্রাইভেট সেক্টরে, তারা হয়তো অনেক জ্ঞানিগুনি জন সেসব সেক্তরে। কিন্তু তারা যে চেয়ারগুলিতে বসে আছেন, সেতা একেবারেই রাজনীতির চেয়ার। এখানে জনগনের চাহিদা আর চেয়ারের সক্ষমতার ব্যালেন্সের ব্যাপার। পলিটিক্যাল অফিস বা চেয়ারের বসে যদি পলিটিক্যাল ম্যাচিউরিটি না থাকে তাহলে এটা হ্যান্ডেল করা সম্ভব না। এই চেয়ারগুলিতে কাউকে চা খাইয়ে, কাউকে কিছু ভালো কথা বলে আসলে যাকে যেটা দিয়ে বুঝ দিয়ে ম্যানেজ করা।

(জ)    শ্রেনি চরিত্র ঠিক করা। মানে বর্তমান ইন্টেরিক সরকার কি সাংবিধানিক চরিত্রের মাধ্যমে আবির্ভুত হয়েছে নাকি গন অভ্যুত্থানের মাধ্যমে বানান হয়েছে এটা এখনো ক্লিয়ার না। যদি সাংবিধানের মাধ্যমে হয়ে থাকে তাহলে একটাও এখন পর্যন্ত প্রতিফলিত হয়নি। যেমন, ১৫ আগষ্ট সাংবিধানিকভাবেই শোক দিবসের কথা লিপিবদ্ধ আছে, এটা একটা এক্সিকিউটিভ আদেশের মাধ্যমে বাদ করা যায় কিনা সেতা এক সময় প্রশ্নবিদ্ধ হবে।

(ঝ)     এখন সামাজিক অস্থিরতা চলছে। মানুষ তারাহুড়া করছে। যেমন এখন বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর আহসান এইচ মনসুর যিনি বেসিক্যালি একজন রিচার্চার এবং একটা ব্যাংক পরিচালনার মত কন অভিজ্ঞতা তার নাই। অতঃপর ডেপুটি গভর্নর গুইও পদিত্যাগ করে এক্সিকিউটিভ অফিসার দ্বারা পুরন করা হয়েছে। বেসিক্যালি ডেপুটি গভর্নররাই বাংলাদেশ ব্যাংক চালায়। তাদের অভিজ্ঞতা অনেক। এখন ব্যাংক খাতে যে অনিশ্চয়তা চলছে বিশেষ করে ৮/১০ টা ব্যাংকে, যদি কোনো কারনে এই ব্যাংক গুলি দেউলিয়া হয়ে যায়, তাহলে বর্তমান ইন্টেরিম সরকারের পক্ষে এমন ঘটনা সামাল দেয়া সম্ভব হবে না। অথচ এই ব্যাংক গুলিতে হাজার হাজার কোটি টাকা জনগনের এবং ঋণ রয়েছে।

(ট) D: ইউনুস যদি এই মুহুর্তে আই এম এফ, এডিবি, জাইকা ইত্যাদির কাছ থেকে ৮০/৯০ বিলিয়ন ডলার রিজার্ভ আনতে না পারেন, তাহলে বাংলাদেশের অনেক কিছুই করা সম্ভব না। সফট লোনের মাধ্যমে না আনা যায় তাহলে অর্থনিতি কলাপ্স করবে। কিন্তু ইউনুস সাহেব এখনো সেটা শুরুই করতে পারেন নাই। মানুষের এক্সপেক্টেশন যদিঅতি দ্রুত করতে না পারেন, তাহলে এই ইন্টেরিম সরকারের উপর একটা বিরুপ ধারনা পড়তে বাধ্য।

(ঠ)     আমলাতন্ত্র যদি ভাল হয়, সরকার প্রধান দুর্বল হলেও দেশ ভাল চলবে। স্ট্রং আমলাতন্ত্র থাকতে হবে যা এখন প্রায় নাই বললেই চলে। এই সরকার কিন্তু কোনো আর্লি হোম ওয়ার্ক করে আনা হয় নাই। ফলে সরকারকে হয়তো মানুষ কিছুটা গ্রেস পিরিয়ড দিবে কিন্তু সেই গ্রেস সময়টা অনেক লম্বা হলে মানুষ সহ্য হারাবে।

(ড)     এখন হয়তো একটা ন্যাশনাল সরকার করা যেতে পারে পলিতিক্যাল পার্টি নিয়ে যাদের পলিটিক্যাল মানুষ আছে।