কোনো কিছুই আমি জানি না, হটাত আমার অফিসে একটা রেজিষ্টার্ড চিঠি নিয়ে এলো কুরিয়ার সার্ভিস। সাধারনত যে কোনো চিঠি আমার অফিসে আমার HR Division Head তা রিসিভ করে। কিন্তু এই কুরিয়ার সার্ভিসের লোক কোনো অবস্থাতেই আমাকে ছাড়া উক্ত চিঠিটা আমার HR Division Head এর কাছে দিতে নারাজ। আর সেটা আমাকেই রিসিভ করতে হবে বলে জানালো।
অতঃপর হেটে গেলাম আমার ডিসপাচ রাইডার ডেস্কে, চিঠিটা আমি নিজেই রিসিভ করলাম। চিঠিটি এসেছে ইন্ডিয়া-বাংলাদেশ কালচারাল কাউন্সিল থেকে। বলা যায় আমার জন্য এটা অপ্রত্যাশিত একটা চিঠি যার বিষয়বস্তু হচ্ছে-“মাহাত্মা গান্ধী ইন্টারন্যাশনাল পীস এওয়ার্ড-২০২৩”। সাংগঠনিক দক্ষতা ও মানবসেবায় বিশেষ অবদানের স্বীকৃতিসরূপ উক্ত “মাহাত্মা গান্ধী ইন্টারন্যাশনাল পীস এওয়ার্ড-২০২৩” এ ভূষিত করার জন্য সংগঠনটি আমাকে মনোনীত করেছে।
অনুষ্ঠানটি ৯ জুন ২০২৩ তারিখে ভারতের পশ্চিমবঙ্গ কলিকাতা জোড়াসাঁকো ঠাকুরবাড়ি রথীন্দ্র মঞ্চে “ভারত-বাংলাদেশ রবীন্দ্র-নজরুল বঙ্গ উৎসবে এক সংবর্ধনা অনুষ্ঠান হবে এবং চুড়ান্ত মনোনীত ব্যক্তিদের সশরীরে উপস্থিত থাকতে না পারলে তাদের প্রতিনিধিকে তারা উক্ত পুরুষ্কারটি প্রদান করবেন বলে জানিয়েছেন। অনুষ্ঠানটি পশ্চিমবঙ্গ রাজ্য সরকারের মাননীয় মন্ত্রী, বিধায়ক, এমএলএ, টেলিভিশন, চলচ্চিত্র, সঙ্গীত শিল্পীবৃন্দ, মিডিয়া ব্যক্তিত্ব, শিল্প সাহিত্য অঙ্গনের বিশিষ্ট ব্যক্তিবর্গ উপস্থিত থাকবেন।
সংবাদটি আমাকে বিস্মিত করে এবং আমি নিজে যাচাই বাচাই করার জন্য ইন্ডিয়া এবং বাংলাদেশের অফিসে যোগাযোগ করি। জানতে পারলাম যে, এর আগেও বাংলাদেশ থেকে কয়েকজন বিশিষ্ঠ ব্যক্তিবর্গকে তারা এ পুরুষ্কারে ভূষিত করেছেন। শিক্ষা, বিজ্ঞান, অর্থনীতি, শান্তি, সমাজ এবং মানবসেবা ইত্যাদি আরো অনেকগুলি সেক্টরে ইন্ডিয়া-বাংলাদেশ কালচারাল কাউন্সিল থেকে এসব পুরুষ্কার দেয়া হয়। সাংগঠনিক দক্ষতা ও মানবসেবায় এবার তারা আমাকে নির্বাচন করেছেন। আমি তাদের বিস্তারিত সার্ভের পদ্ধতিটা জেনে খুবই অবাক হয়েছিলাম কিভাবে তারা এসব ব্যক্তিবর্গকে নির্বাচন করে।
আমি উক্ত ৯ জুন ২০২৩ তারিখে অনুষ্ঠিতব্য অনুষ্ঠানে ব্যস্ততার কারনে উপস্থিত থাকতে পারিনি। ফলে বাংলাদেশ লোকাল অফিসের সম্পাদক শাহ আলম চুন্নু সাহেব আমার পুরুষ্কারটি গ্রহন করেন এবং গতকাল সেটা সার্টিফিকেট সহকারে পুরুষ্কারটি আমার অফিসে হস্তান্তর করেন।
আমাকে এহেনো সম্মানে ভূষিত করার জন্য ইন্ডিয়া-বাংলাদেশ কালচারাল কাউন্সিলের কার্যনির্বাহী পরিষদ, নির্বাহী পরিষদের সভাপতি শুভদীপ চক্রবর্তী (ভারত), ভারত-বাংলাদেশ রবীন্দ্র-নজরুল পরিষদের আহবাহক মোঃ আর কে রিপন, ইন্ডিয়া-বাংলাদেশ কালচারাল কাউন্সিলের সম্পাদক (বাংলাদেশ) শাহ আলম চুন্নু ভাইকে আমার ধন্যবাদ এবং শুভেচ্ছা জানাই।
সম্মাননা পুরুষ্কারটি হাতে পাওয়ার পর আমার সংস্থার কর্মকর্তা, কর্মচারীবৃন্দ আমাকে অভিনন্দন জানায়।
আজ ১১ আগস্ট ২০২৩ তারিখে সরকারি বাংলা কলেজের সম্মানীত শিক্ষক মন্ডলীর উপস্থিতিতে কলেজের ভাইস প্রিন্সিপ্যাল প্রফেসর মিটুল চৌধুরী এবং আমার বড় মেয়ে ডাঃ আনিকা তাবাসসুম উম্মিকা এই সম্মাননা উদযাপনের মাধ্যমে দিনটিকে স্মরণীয় করেন। আমি সবাইকে আমার আন্তরিক শুভেচ্ছা, ধন্যবাদ ও কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করছি।