১২/৮/২০২৪-আমি এখন রীতিমত ভয় পাচ্ছি

আমি এখন রীতিমত ভয় পাচ্ছি আগামীদিন গুলিকে নিয়ে। কেনো আমি ভয় পাচ্ছি?

একটা ভূমিকম্পের পর আরো একটা ভূমিকম্প নাকি হবার সম্ভাবনা থাকে। একটা বিপ্লবের পরেও আরো অনেক প্রকারের প্রতি-বিপ্লব ঘটে যায়। সেই প্রতিবিপ্লবের কি নমুনা সেটা বিপ্লব থেকে বিপ্লবে তফাত হয়। এবারের বিপ্লবটা হবার দরকার ছিলো, মানুষের বাকস্বাধীনতা, ভোটাধীকার, ন্যয্য বিচারের আকাল, আইনী শাসনের ক্ষরা, নির্যাতন, নিপীড়ন, বৈষম্যমুলক, পক্ষপাতিত্ব, ব্যবসা বানিজ্যে নৈরাজ্য, আমলাতন্ত্রের কষাঘাতে যে কাজগুলি সহজেই করা যেতো খুব সহজে সেগুলি মানুষকে করতে হয়েছে অনেক ঘুষ বানিজ্য আর তদবীরের মাধ্যমে। যার টাকা ছিলো সে সহজেই পার পেয়ে গেছে, আর যাদের টাকা নাই, তারা মেনে নেয়া ছাড়া কোন গতিই ছিলো না। কোথায় অনিয়ম ছিলো না? সব জায়গায় অনিয়ম, পুলিশ ডিপার্ট্মেন্ট, আমলাদের অফিস, এমনকি, যে অফিসটা অনিয়ম ধরার কথা –“দুদক” সেটাও আর ন্যায় করা শিখলো না। মানুশের দম প্রায় বন্ধই হয়ে গিয়েছিলো। এমন একটা পরিস্থিতি থেকে মানুষের পরিত্রান পাওয়া কল্পনার অতীত ছিলো বলেই মানুষ ধীরে ধীরে এমন একটা দাসত্বে অভ্যস্থ হয়ে পড়ছিলো যে, মেনে না নিলেও মানিয়ে চলার অভ্যাস করতে হয়েছে। তরুন সমাজের এই সাহসিক পদক্ষেপে শেষ পর্যন্ত মানুষ যেনো হাফ ছেড়ে বাচলো। বাচলো কিনা আমি এখনই সাহস করে কনফিডেন্সের সাথে বলতে পারবো না। কারন রাষ্ট্রকে পুরুপুরি সংস্কার দরকার এখন।

কিন্তু আমার যে জায়গায়টায় এখন ভয় করছে তা হচ্ছে-একটা গোটা রাষ্ট্র কি ওভারনাইট রিফর্ম করা সম্ভব? এটা কি এমন যে, গোটা হাজার কিছু লোক পালটে দিয়ে একেবারে সাদা সিস্টেমে আসা যায়? একটা দেশ যেখানে যুগের পর যুগ আপাদমস্তক দূর্নিতি, বেয়াইনি কার্যকলাপ এবং বৈষম্যমুলক সিস্টেমে অভ্যস্থ, সেখানে কি আসলেই হাজার হাজার মানুষ পরিবর্তন করে একটা দেশকে সংস্কার করা ওভারনাইট সম্ভব? আমার কাছে এটা সম্ভবপর মনে হয় না। রিফর্মেশনের জন্য একটা বিস্তর সময়ের দরকার। বলসেভিক রিভ্যলিউশন, ইরান অভ্যত্থান, এমন কি দক্ষিন আফ্রিকার কমলা অভ্যুত্থানও সে কথা বলে যে, রিফর্মেশনের জন্য বিস্তর সময় দরকার। এখন যেহেতু ভূরাজনৈতিক আচরন একেবারেই ভিন্ন, ফলে এখন রিফর্মেশন আরো কঠিন ব্যাপার।

বর্তমানে এদেশে জনগোষ্ঠি আছে প্রায় ১৭ কোটি প্লাস। গত ১৫/২০ বছর আগে জে মানুষটার বয়স ছিলো ১০ কিংবা ১২, তার এখন বয়স ২৫ থেকে ২৭। এই জনগোষ্টীটাই কিন্তু এখন রাজনৈতিক দলগুলির মধ্যে, প্রশাসনে, বিচার বিভাগে কিংবা অন্যান্য স্তরে মুল উদিয়মান শক্তি। এই বিশাল জনগোষ্টী যাদের অধীনে যেই স্তরেই হোক কর্মরত ছিলো তারা কনো না কোন ভাবে কম হোক আর বেশি সুবিধাভোগীতেই ছিলো। ঢালাওভাবে বলছি না জে সবাই লিপ্ত ছিল কিন্তু নিজে কিছু লিপ্ত না থাকলেও হয়তো বঞ্চিত ছিলো। তারমধ্যে রাগ ছিলো হয় সিস্টেমের কারনে অথবা নিজে কিছু করতে না পারার সুযোগে। আমি সেনাবাহিনীর চাকুরী সেচ্ছায় ত্যাগ করে ব্যবসা করছি প্রায় ২০ বছরের অধিক সময়। আমি আজ কোথাও দেখি নাই আমার কোনো ন্যায্য কাজ করতে কাউকে কম আর বেশী খুশি না করতে। কেউ হয়তো ঘুষ নিতো না এটা অন্যায় হবে বলে কিন্তু গিফট নিতে অসুবিধা ছিলো না। এভাবেই তো চলে এসছিলো সমস্ত সিস্টেমটা। তাদের বাড়িতে তাদের ইনকামের বেশী খরচ যোগাতে হতো এবং সেটা কোথা থেকে আসতো? তখন তাদের পরিবারের মানুষেরাও কিন্তু কখনো প্রশ্ন করতো না। এর মানে পরিবারের মুটামুটি সবাই দুর্নীতির মেন্টালিটিতেই বড় হয়েছেন। যারা একেবারেই সাদা ছিলেন, তাদের সংখ্যাটা নিতান্তই কম অথবা তারা হয়তো পূর্বে থেকেই সল্ভেন্ট। আজকে যারা দৃশ্যমান কালো টাকার পাহাড়ের মালিক, এদের বাইরেও প্রায় বেশিরভাগ জনগোষ্টি কালো মনের মালিক। একটা সি এন জি ওয়ালাও বাগে পেলে বেশি দাম হাকিয়ে বেশি রোজগার করে নিতো, একটা শব্জীওয়ালাও পারলে ক্যামিকেল দিয়ে মানুষকে ঠকাতো, একজন মুরগীওয়ালাও মরা মুরগী খাওয়াতে কোনো দ্বিধা করতো না। ফলে উপরের থেকে গোটা লাখ খানেক করাপ্টেড মানুষকে ছাটাই করে যাদেরকে আবার এই টপ লেবেলে আনবেন, তারাও ত সঠিকভাবে বেড়ে উঠেন নাই। তারা হয়তো সুযোগটা কম পেয়েছেন বলে সবার চোখে পড়েন নাই। ফলে গোটা সিস্টেমটাকে রিফর্ম করতে প্রয়োজন একটা ফ্রেস জাতী। হ্যা, কিছু কঠিন আইনের মাধ্যমে আর মনিটরিং এর মাধ্যমে এই দূর্নীতিটা হয়তো কমানো সম্ভব কিন্তু তারপরেও এটা চলতেই থাকবে। এখন যেমন দুর্নীতি, ঘুষ বানিজ্য প্রকাশ্যে করলেও কেউ লজ্জা পায় না বরং এটা যেনো “অন্য আয়” বলে চালান যায়, এখন হয়তো সেটা গোপনে হবে। তাই আমি শতভাগ আশাবাদি নই।

এবার আসি অন্য আরেকটি প্রসংগে;

গত ১৫/২০ বছর ধরে এ দেশে যতো বড় বড় প্রকল্প হয়েছে, যারা বড় বড় গ্রুপের মালিক ছিলেন, যারা দেশের চলমান চাহিদা যোগানে একটা সিস্টেমে জড়িত ছিলেন, তারা প্রায় সবাই আওয়ামিলিগের আমলে। হয় তারা সরাসরি আওয়ামীলিগের সাথে রাজনীতি করতেন আর না করলেও তারা কোনো না কোনো ভাবে আওয়ামিপন্থী ছিলেন। তারা দেশের এই চলমান নিত্য প্রয়োজনীয় জিনিষপত্র আয়োজনে ক্ষমতাসীন দলের ছত্রছায়ায় দূর্নিতি করেছেন বটে অথবা নিত্য প্রয়োজনীয় কমোডিটি বেশী দরে সরবরাহ করেছেন বটে কিন্তু একটা চলমান চেইন সিস্টেম গড়ে তুলতে পেরেছেন বা ব্যাপারটা বুঝেন। তারা তাদের সংস্থার মাধ্যমে অতিরিক্ত মুনাফা করেছেন আবার একই সাথে প্রাইভেট সেক্টরে তাদের সংস্থার ইনভেস্টমেন্ট যা করেছেন তা কিন্তু খুব চালাকি করে তাদের নিজস্ব ইনভেস্টমেন্ট ইতিমধ্যে তুলেও নিয়েছেন। যেটুকু ইনভেস্টমেন্ট এখন আছে এসব প্রকল্পে বা সংস্থায়, তা আসলে ব্যাংক ঋণ বা বৈদেশিক ঋণ যা জনগনের বা দেশের বোঝা। ইনভেস্টরদের কোনো ইনভেস্টমেন্ট সত্যিকার অর্থে নাই আর। ফলে তাদের এসব মেঘা প্রকল্প, কোম্পানি কিংবা সংস্থা চলমান থাকলেই বা কি আর পুড়ে নষ্ট হলেই বা কি, তাদের কিছুই যায় আসেনা। তারা ক্ষতিগ্রস্থ নন।

ধরুন, এই প্রকল্পগুলি আর চলমান থাকলো না, ঔষধ কোম্পানী, পেট্রোলিয়াম জাতিয় দ্রব্যাদি আমদানি, নির্মান সামগ্রী তৈরীর কোম্পানী হোক সেটা সিমেন্ট, হোক সেটা টাইলস কিংবা অন্যান্য, কিংবা ভোজ্য তেল ইত্যাদি আর এসব আমদানিকারক কোম্পানিগুলি এলসি করে কোনো দ্রব্যাদি আমদানির জন্য কোনো পদক্ষেপ নিবেন না। ফলে বর্তমানে যে স্টক আছে সেটা দিয়ে হয়তো বেশ কিছুদিন চলা কোন ব্যাপার না। কিন্তু একটা সময়ে তো এর ঘাটতি দেখা দিবেই যদি পাইপ লাইনে তাদের পুনরায় এসব কমোডিটি না আনার পদক্ষেপ নেয়া হয়। সরকার কখনো ডাইরেক্ট কোনো কমোডিটি আমদানী করেন না বা রফতানী করেন না। সরকার এসব আমদানি রফতানী কারো না কারো মাধ্যমেই পরিচালনা করে। ফলে বর্তমানে দূর্নিতিবাজ এই সব মালিকের দ্বারা পরিচালিত কোম্পানিগুলির মাধ্যমে যখন একযুগে সব পাইপ লাইনের আমদানি রফতানি বন্দ হয়ে যাবে তখন হটাত করে এর ঘাটতি বাজারে দেখা যাবে। আবার এর নতুন প্রতিস্থাপক কোম্পানি পাওয়া এতো অল্প সময়ে কিছুতেই সম্ভব না। ফলে দ্রুতই একটা সমস্যার উদ্ভব হবে বা হতে পারে। এর কারনে প্রত্যাহিক জীবনে একটা বিরূপ প্রভাব তো আশংকা করাই যায়। ঘরে টাকা আছে কিন্তু বাজারে কমোডিটি সরবরাহ কম, একটা প্রতিযোগিতা চলবে কে কখন নিত্য প্রয়োজনীয় মালামাল মজুত করে নিজের পরিবারকে সুরক্ষিত করবেন। নেগেটিভ একটা প্রভাব পড়তেই পারে। 

আমাদের পার্শবর্তী দেশ ইন্ডিয়া এখন আর আগের মতো আমাদেরকে সবকিছুতেই প্রয়োজনীয় রফতানি করবে কিনা সেটা ভাবার বিষয়। আবার নতুন কোন দেশ থেকে একই প্রডাক্ট আমদানি করতে বা নতুন সাপ্লাই চেইন তৈরীতে যে সময়টা ব্যয় হবে সেটাও একটা ব্যাপার। সেখানে আমদানিকারকের সিআইবি, দেশের অর্থনীতির সক্ষমতা, ব্যক্তি ইমেজ অনেক কিছুই নির্ভর করে। কিন্তু এর মানে এই না যে, এটা সম্ভব না। সম্ভব তবে সময়টা বেশি লাগবে। এই জে সময় বেশী লাগবে, এই গ্যাপেই দেশে একটা উত্তাল পরিস্থিতি হবার সম্ভাবনা থাকবে।

এই যে একটা টাইম গ্যাপ, এতে স্বাভাবিক জীবনযাত্রার মানে বেশ কঠিন পরিস্থিতির উদ্ভব হবার সম্ভাবনা। তাতে আবার সাধারন মানুষের মৌলিক চাহিদার অভাবের কারনে সাধারন জনগন হয়তো ফুসে উঠতে পারে। সেটাও একটা প্রতি-বিপ্লবের মতো। অর্থাৎ অর্থনৈতিক বিপ্লব।

আরেকটা ভয় হয় যে, আমাদের বর্তমান ইন্টেরিম সরকারের মধ্যে এখনো নিজেদের মধ্যেই পারষ্পরিক বন্ডেজ তৈরী হয়নি। সবাই বেশীমাত্রায় সতর্ক। কেউ রিস্ক নিয়ে কাজ করবেন না। ফলে পুর্বে কিভাবে কাজ করা হত এই সাজেশন যখন আমলাদের কাছ থেকে নিতে চাইবেন,  কিন্তা তারা এখন নিজেদের থেকে উপজাজক হয়ে কোনো বুদ্ধি ছাড় করবেন না কিনা সন্দেহ।  ফলে উপজাজক হয়ে তারা বাড়তি কোন পদক্ষেপ নিতে যাবেন না। এতে কাজের গতি অনেক ধীর হবে।

নতুন সরকার রাজনীতিতে খুবই অনভিজ্ঞ, তাদের হয়তো অনেক অভিজ্ঞতা আছে প্রাইভেট সেক্টরে, তারা হয়তো অনেক জ্ঞানিগুনিজন সেসব সেক্টরে। কিন্তু তারা (বর্তমান উপদেষ্টারা) যে চেয়ারগুলিতে বসে আছেন, সেটা একেবারেই রাজনৈতিক চেয়ার। এখানে জনগনের চাহিদার সাথে চেয়ারের সক্ষমতার ব্যালেন্সের একটা ব্যাপার। পলিটিক্যাল অফিস বা চেয়ারের বসে যদি পলিটিক্যাল ম্যাচিউরিটি, ব্যাকগ্রাউন্ড না থাকে তাহলে এটা হ্যান্ডেল করা সম্ভব না বা খুবই কঠিন। এই চেয়ারগুলিতে কাউকে চা খাইয়ে, কাউকে কিছু ভালো কথা বলে আসলে যাকে যেটা দিয়ে বুঝ দিয়ে ম্যানেজ করার ব্যাপার। অনেক অপ্রতুল রিসোর্স বিশাল জন গোষ্টীর মধ্যে ম্যানেজ করাই অনেক সময় রাজনীতিবিদরা সহজে ম্যানেজ করতে পারেন যা ব্যুরুক্রেটরা করতে পারেন না।

ফলে একটা অসস্থিতে ভোগছি। একদিকে দ্রুত সংস্কার দরকার, অন্যদিকে সবকিছু ব্যালেন্স দরকার। সংস্কার করতে অনেক সময় দরকার কারন সব সেক্টরেই ড্রাস্টিক সংস্কার এতো বেশী দরকার যে ইচ্ছে করলেই ওভারনাইট সম্ভব না, আবার বেশি সময় নিলেও অসুবিধা, জনগন মানতে চাইলেই হয়।

এটা আমার নিতান্তই নিজস্ব মন্তব্য।

(মেজর মোহাম্মাদ আখতার হোসেন অবঃ)

মিরপুর,

এটা ফেসবুকে আমি পোষ্ট করেছিলাম। তার ঠিক একদিন পরেই ফেসবুক আমার এই পোষ্টটা রিমুভ করে দেয়।

২৯/০১/২০২৪-করিডোরস অফ পাওয়ার

অন্দরমহলের রাজনীতিতে সরকার এবং বিরোধী পক্ষ হিসাবে দেশের ভারসাম্য রক্ষায় যেমন আমরা একটা ছক কষি, তেমনি পুরু পৃথিবীতেও সম্ভাব্য শক্তিধর দেশগুলিকে আমরা একত্রিভুত করে এক্সিস এবং এলাইড ফোর্স হিসাবে ছক কষে পুরু প্রিথিবীকে আমরা দুটু ভাগে শাসনে লিপ্ত হই। এই এক্সিস এবং এলাইড ফোর্ষ গুলি ক্ষুদ্র ক্ষুদ্র উপাদান হচ্ছে ইন্ডিভিজুয়াল দেশ সমুহ। এই ইন্ডিভিজুয়াল দেশ গুলি নিতান্তই তাদের ব্যক্তিগত সার্থের জন্য কখনো এক্সিস, কখনো এলাইড ফোর্সে জায়গা পরিবর্তন করে। আর ঠিক এ কারনে অতীত বিস্লেষন করলে দেখা যায়, পৃথিবী কখনো শাসন করেছে মোঘলরা, কখনো জার্মানী, কখনো ফ্রান্স, কখনো পশ্চিমারা। এই ক্ষমতাগুলির নাম যদি দেই, তাহলে এর নাম হতে পারে ‘করিডোরস অফ পাওয়ার”।

কিন্তু এই ক্ষুদ্র ক্ষুদ্র দেশগুলির ব্যক্তিগত ক্ষমতা যদিও খুবই নগন্য কিন্তু করিডোর্স অফ পাওয়ারে তাদের সামষ্টিক ক্ষমতার যোগফল একটা বড় ধরনের ফ্যাক্টর। কোনো কোনো ক্ষুদ্র দেশ তাদের ভুল পদক্ষেপের জন্য করিডোরস অফ পাওয়াএর থাকতে চেয়ে বা তার থেকে বিচ্যুত হতে চেয়েও চিরতরে বিলীন হয়ে গেছে। কেউ আবার নতুন করে আরো কিছু অংশ নিয়ে পুনরোজ্জিবীত হয়ে উঠেছে। মাঝখানে কিছু অসহায় মানুষ এর ফল ভোগ করতে করতে তাদের নিজের বর্তমান আর অতীত সবই জলাঞ্জিত দিতে হছে। নিরপেক্ষতা যদিও একটা বিপদ্মুক্ত অবস্থান কিন্তু যুগে যুগে কিছু ভুল নেতার কারনে নিরপেক্ষ থাকতে চেয়েও ক্ষুদ্র দেশ গুলি কোনো না কোন আবেগে তাদের পক্ষ পরিবর্তন করে হয় এক্সিস না হয় এলাইড ফোর্সের করিডরসস অফ পাওয়ারে যোগ দিয়ে সর্বিশান্ত হয়ে গেছে।

ইউক্রেন, তেমন একটি রাষ্ট্র।

আমি এর আগেও বহু লেখায় শুধু এটাই বলতে চেয়েছিলাম যে, চাদের থেকে সূর্যের আকর্ষন ক্ষমতা অনেক বেশী হলেও এই পৃথিবীতে জোয়ার ভাটা হয় চাদের আকর্ষন ক্ষমতার কারনে। রাশিয়া ঠিক সেই রকম একটা চাদের মতো। ইউরোপ, পশ্চিমা কিংবা অন্যান্য শক্তিধর দেশ গুলির আকর্ষনের থেকে একেবারে উঠোনে বসে থাকা রাশিয়ার আকর্ষন ক্ষমতা অন্যান্যদের থেকে এতোটাই বেশী যে, ইউক্রেনের উচিত ছিলো না এলাইড ফোর্সের কোনো নতুন ফর্মুলায় পা দেয়া।

এই মুহুর্তের বাস্তবতায় দেখা যাচ্ছে, হাংগেরী পোল্যান্ড, রুমানিয়া যেনো ইউক্রেনের সীমানাকে পরিবর্তনের জন্য একেবারে উতপেতে বসে আছে। অন্যদিকে ক্রমাগত সাপ্লাই দিতে দিতে এলাইড ফোর্সের সক্তিগুলিও নিতান্ত ক্লান্ত হয়ে এবার ক্ষান্ত দিতে চাইছে। ইউরোপিয়ান প্রেসিডেন্ট বা উপদেষ্টারা এখন একে অপরের উপর না হলেও এক্সিস শক্তিগুলিকে দোষারুপ করছেন কেনো তারা রুলস বেজড অর্ডারের সাথে এক না হয়ে অন্য দিকে সাপোর্ট করছে।  কিন্তুএটাই তো হবার কথা। যখন কেউ প্রতিবাদ করার শক্তি থাকে না কিন্তু মেনেও নিতে পারে না, তখন তারা চুপ থাকে বটে কিন্তু সুযোগের সন্ধানীতে যদি একবার প্রতিবাদ করার মতো পরিস্থিতি আসে, তখন তারা প্রয়োজনে বলয় পরিবর্তন করে কখনো এলাইড থেকে এক্সিসে, কখনো এক্সিস থেকে এলাইডে স্থান পরিবর্তন করেই ফেলে। আর এটাই হলো বিশ্বরাজনীতি। সুইডেন, ফিন ল্যান্ড ঠিক সেভাবেই নিরপেক্ষতা উপেক্ষা করে শেষ অবধি একটা বলয়ে ঢোকতে বাধ্য হয়েছে। ভাল কততা হবে বা খারাপ কততা সেটা বলবে ভবিষ্যত। তবে আমি এর আগেও বলেছি, এখনো বলছি- বহু দূরে বসবাস করা কোটিপতি দুসসম্পর্কের আত্মীয়ের চেয়ে পাশের বাসার লক্ষপতি প্রতিবেশির প্রয়োজন বেশি মানুষের। রাশিয়া তেমনি একটা লক্ষপতি প্রতিবেশি ইউরোপের জন্য।

সবকিছু পালটে যাচ্ছে-ইউরোপ কখনো নিজের উঠোনে যুদ্ধ দেখেনি, এবার তাদের উঠোনেই যুদ্ধের বিভীষিকা। মধ্যপ্রাচ্যে সব সময়ই যুদ্ধ চলছিলো এবার সেই যুদ্ধ অগ্রসর হয়ে বিভিন্ন অঞ্চলে দ্রুত সরে যাচ্ছে। দক্ষিন এশিয়ার দেশগুলি ক্রমাগত একে অপরের আরো কাছে চলে আসার পায়তারা করছে এবং কোথাও কোথাও আভ্যন্তরী মেলবন্ধনেও বেধে যাচ্ছে, আফ্রিকা এখন তার নতুন রুপে এমনভাবে সবার নজর কাড়ছে যে, পরবর্তীতে আফ্রিকা এই গ্লোবাল পলিটিক্সে একটা নতুন ক্ষমতা হয়ে দাঁড়িয়ে যাবে। চীন কখনো যুদ্ধে সাড়া দেয় নাই, এবার চীন নিজেও তার সেই পুরানো চেহাড়া থেকে একটু হলেও সরে এসছে।

করডোর্স অফ পাওয়ারের পরিবর্তনটা একেবারে চোখের সামনে ভেসে উঠছে। আর এই পাওয়ার পলিটিক্সে সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্থ হবে ইউরোপ। আর সেই ক্ষতিগ্রস্ত ইউরোপ কোনো এক সময়ে হয়তো ব্রেক্সিটের মতো অনেক দেশ লাইন ধরবে গ্রেক্সিট (জার্মানীর বহির্গমন), ফ্রেক্সিট (ফ্রান্সের বহির্গমন) কিংবা এমন আরো।

পৃথিবী আবার শান্ত হবে।

০১/১১/২০২৩-প্যালেস্টাইনের মুক্তিকামী সংগ্রামের ইতিহাস

প্যালেস্টাইনের মুক্তিকামী সংগ্রামের ইতিহাস গত কয়েক সপ্তাহের নয়। কিভাবে প্যালেস্টাইন এই বর্তমান পরিস্থিতিতে পড়েছে সেটার ইতিহাস বলতে গেলে অনেক অনেক লম্বা ইতিহাস বলতে হবে। সেখানে আর গেলাম না। কারো কারো সেই ইতিহাসের সত্যতা বা তথ্য নিয়ে বিভাজন হয়তো আছে, কিন্তু প্যালেষ্টাইন হটাত করে তাদের এই জন্মভুমি রক্ষার অধিকারের লক্ষ্যে গত ৭৫ বছর যাবত যুদ্ধ করছে না। এটা তো ঠিক।

বিগত আট দশক রক্তক্ষয়ী যুদ্ধাবস্থানের মধ্যে গত ৭ অক্টোবরের হামাস কর্তৃক ইসরাইলের ভূখন্ডে অতর্কিত হামলার জের ধরে হামাস নিধনের উছিলায় প্যালেষ্টাইনের আপামর জনসাধারনের উপর নির্বিচারে ইসরায়েল টেক্টস বুক ইথিনিক ক্লিজিং অপারেশনে নেমেছে। জাতীসংঘ, হিউম্যান রাইটস, কিংবা অন্যান্য বিশ্ব নেত্রিত্তের কোনো দোহাইতেই ইস্রায়েলকে উক্ত গনহত্যা থেকে কেউ সরিয়ে আনতে পারেনি এবং পারবে বলেও মনে হয় না।

এখন আমার চারটে প্রশ্ন জাগছে-(১) হামাস জানে তাদের লিমিটেড সামরিক শক্তি দিয়ে এক তরফা ইসরায়েলের উপর হামলা করে একই দিনে প্রায় হাজার খানেক ইহুদীকে হত্যা করে তাদের কাঙ্ক্ষিত ফলাফল তো সফল হওয়া দুরের কথা, তারা নিজেরাই টিকবে কিনা সন্দেহ আছে। তাহলে কেনো হামাস এরুপ একটা ভুল সিদ্ধান্ত নিলো? (২) দ্বিতীয় প্রশ্নটা হচ্ছে-হামাস এই আক্রমনের ফলাফল জেনেও যদি ইসরায়েলের উপর এই আক্রমনটা করেই থাকে, তাহলে হামাসের মুল উদ্দেশ্য কি? তারা কি প্যালেস্টাইনকে নির্মুল করতে চায়? বা তারা কি ইসরায়েলের পক্ষে বি-টীম হিসাবে কাজ করছে? (৩) তৃতীয় প্রশ্নটা হচ্ছে-হামাসের সাথে ইরানে অবস্থিত হিজবুল্লাহ্র একটা আন্তরীক সম্পর্ক রয়েছে। হিজবুল্লাহ্র সাথে সম্পর্ক রয়েছে ইরানের, লেবাননের। আর তাদের এই মুসলিম দেশসমুহের মাধ্যমে কোন না কোনোভাবে সংযোগ রয়েছে অন্যান্য মুসলিম দেশগুলির সাথে। যদি হামাস ইসরায়েলের পক্ষে বি-টীম হিসাবেই কাজ করে থাকে, বা করে তাহলে এই সম্পর্কযুক্ত মুসলিক দেশগুলি কি এর অন্তর্নিহিত উদ্দেশ্য সম্পর্কে কিছুই জানে না? (৪) চতুর্থ প্রশ্নটা হচ্ছে- ইসরায়েলের এ রকমের একক টেক্সট বুক ইথনিক ক্লিঞ্জিং এর বিপক্ষে পাশ্চাত্য দেশসমুহ  সোচ্চার না হয়ে বরং তাকে অর্থ এবং সামরীক অস্ত্র দিয়ে সাপোর্ট করছে কেনো?

এবার আমি প্রথম প্রশ্নটার ব্যাপারে বলি। হামাসের আক্রমনের দিন ইসরায়েলের একেবারে বর্ডার সংলগ্ন এলাকায় একটা অনুষ্ঠান চলছিলো। ইসরায়েল তাদের কোন ভুখন্ডেই নিরাপত্তা ছাড়া কখনোই অরক্ষিত অবস্থায় রাখে না। কিন্তু সেদিন সেখানে কোন প্রকারের নিরাপত্তার ব্যবস্থায় ছিলো না কেনো? আর অনুষ্ঠানটা হচ্ছিলো একেবারেই হামাসের নাকের ডকায় যেনো ইসরায়েল চাচ্ছিলোই যেনো হামাস আক্রমনটা করুক, মানুষ হত্যা করুক, বিশ্ববাসি দেখুক হামাস কি করলো। অন্যদিকে, আক্রমনের পরপরই ইসরায়েল একটা কথা চাওড় করেছিলো যে, হামাসকে ঘুষ দেওয়ার পরেও তারা বিট্রে করেছে। এর মানে কি? এর মানে কি এটা হতে পারে যে, কিছু কথিত হামাস দিয়ে এই আক্রমনটা ইসরায়েল নিজেই করিয়েছে? হয়তো পরিকল্পনাটা আরো বিস্তর এবং সেটা ইরান পর্যন্ত? একটা ব্যাপার লক্ষনীয় যে, গত কয়েকমাস যাবত ইসরায়েল ক্রমাগত গাজা উপত্যকায় প্যালেস্টাইন অধিবাসিদের উচ্ছেদ করে ইসরায়েলের বসতি স্থাপনা করছিলো। তাতে অনেক প্যালেষ্টিনিয়ানরা গাজা থেকে অন্যত্র চলে যেতে বাধ্য হয়। এই ক্রমাগত অধিগ্রহনের মধ্যে আমজনতার মধ্যে একটা ধারনা আসতেই পারে যে, প্যালেষ্টিনিয়ানদের পিঠ দেয়ালে থেকে যাওয়ায় হামাস এর বদলা নিচ্ছে। অতঃপর ইসরায়েলের সমস্ত আক্রমন এখন বৈধ। হামাস মরুক বা না মরুক, গাজা মুক্ত হচ্ছে এটাই হয়তো ইসরায়েল চেয়েছে যাতে গাজা ইসরায়েলের অংশ হিসাবে একদিকে লেবানন, সিরিয়া এবং ইরানের স্থল অংশের কাছাকাছি নিরাপত্তা বাহিনি মোতায়েনের একটা বৈধ সুযোগ পায়।  

এবার আসি, হামাস কি ইসরায়েলের পক্ষে কাজ করেছে কিনা। হামাসের মধ্যেও দ্বিধাবিভক্তি আছে। যারা সত্যিকারের মুক্তিকামী হামাস, তারা কখনই ইসরায়েলের পক্ষে তাদের বি-টীম হিসাবে কাজ করার কথা নয়। যদি হামাসের কোনো অংশ বি-টীম হিসাবে কাজ করে, তাহলে এটা প্রকাশিত হলো না কেনো? হয়তো ইসরায়েলই চায়নি এটা প্রকাশিত হোক। আর প্রকাশ করবে কে? কোন মিডিয়া? আপনি যদি শুধুমাত্র বিবিসি, সিএনএন, এবিসি নিউজ, ইএসপিএন, ফক্স নিউজ, নিউইয়র্ক টাইমস, নিউইয়র্ক পোষ্ট, ওয়াশিংস্টন পোষ্ট, ওয়াল স্ট্রীট জার্নাল, এমন কি ফেসবুক থেকে সংবাদ আহরন করেন, এরা কেহই আপনাকে সত্য সংবাদটি প্রকাশ করবে না। কারন এই সবকটি মেইন স্ট্রীম মিডিয়া ইহুদিদের দ্বারা পরিচালিত এবং মালিকানাধিন। এসব মেইন স্ট্রীম মিডিয়ার সব খবর আগে তাদের দ্বারা ভেটিং হয়, অতঃপর ব্রডকাষ্ট। তাহলে আমি বা আপনি কিভাবে নিরপেক্ষ নিউজের আশা করতে পারি? হামাসের কিছু অংশ ইসরায়েলের বি-টিম হলেও এতা জানার কনো উপায় নাই।

তৃতীয় প্রশ্নটায় অনেক ফ্যাক্টর জড়িত। মুসলিম দেশগুলি কখনোই ঐক্যবদ্ধ হতে পারেনি, আর পারবেও না। কারন তারা টোটালেরিয়ানিজমের শাসক। ওরাও কোন না কোনো পাশ্চাত্য শক্তি এবং সাপোর্টের উপর দাড়িয়ে। ফলে যার যা খুশি হোক না কেন, তারা বহাল তবিয়তে আছে কিনা সেটাই ওদের বিবেচ্য বিষয়। ওরা অনেক কিছু জানলেও মুখ খুলবে না, কোন একশনে যাবে না। এটাই ওআইসি দেশসমুহের সবচেয়ে বড় দুর্বলতা।

চতুর্থ প্রশ্নটার ব্যাপারে যা জানা দরকার সেটা হল, ইসরায়েলের পক্ষে আমেরিকা, কানাডা, ইউকে কিংবা ইউরোপিয়ান ইউনিয়নের কোনো দেশই ইসরায়েলের বিপক্ষে যাওয়ার সুযোগ নাই। কারন যদি এরা ইসরায়েলের যে কোনো কর্মকান্ডকে (হোক সেটা গনহত্যা, বা জোর করে বসতিস্থাপন ইত্যাদি)  সাফাই না গায় বা তাদের পক্ষে না থাকে, তাহলে তাদের ভবিষ্যৎ একেবারেই অন্ধকার। ব্যাপারটা একটু খোলাসা করে বলি-যদিও ইসরায়েলের লোক সংখ্যা মাত্র দেড় কোটি (সারা পৃথিবীর মাত্র ০.২%, ইস্রায়েলে বসবাস ৫০ লাখ, আমেরিকাতে ৭০ লাখ, কানাডায় প্রায় ৪ লাখ আর ইউকে তে প্রায় ৩ লাখ) কিন্তু তারা সারা বিশ্ব কন্ট্রোল করে। আমেরিকার কোনো প্রেসিডেন্ট জয়ী হতে পারবে না যদি ইহুদী কর্তৃক সাপোর্ট না পায়।

আমেরিকার প্রেসিডেন্ট নির্বাচনে নির্বাচনী ফাণ্ড বা তহবিল সংগ্রহ হয়–AIPAC (America Israel Public Affairs Committee) থেকে। আমেরিকান রাজনীতিতে তাদের প্রভাব একচেটিয়া। আমেরিকার ১০০ জন সিনেটরের ১৩ জন ইসরায়েলী ইহুদী। আমেরিকার অধিকাংশ বিশ্ববিদ্যালয় প্রফেসররা ইহুদী এবং তারা থিংক ট্যাংক হিসাবে আমেরিকার পলিসি মেকার। আমেরিকার এক্সপোর্ট ইমপোর্ট ব্যাংকসহ গুরুত্বপূর্ণ ব্যাংকগুলো ইহুদীদের দখলে। ফলে আমেরিকার কেউ চাইলেও এদের কিছু করতে পারবে না। বরং জুইশ কমিউনিটি বা ইহুদি সম্প্রদাকে হাতে না-রাখলে ক্ষমতায় টেকা যাবে না। এসব কারনেই যখন জাতিসংঘের মহাসচিব প্যালেস্টাইনের পক্ষে সবেমাত্র মুখ খুলেছেন, অমনি ইসরায়েল তার পদত্যাগ চেয়ে ইউএন এর সকল কর্মকর্তার ভিসা স্থগিত করে দিয়েছে। মহাসচীব তারপরের দিনই তার গলার সুর পালটে ফেলেছে।

ইউক্রেন যুদ্ধকে ইউরোপের নিরাপত্তার সিম্বল হিসাবে দেখা হয় এবং পুটিনকে দেখা হয় ইউরোপের জন্য একটি ভয়ংকর ব্যক্তিত্ব। এরপরেও পাশ্চাত্য দেশসহ গোটা ইউরোপিয়ান ইউনিয়ন এখন ইউক্রেনকে প্রায় ছেড়েই দিয়েছে শুধুমাত্র ইসরায়েলকে সাপোর্ট করার জন্য।

যারা এ যাবতকাল পুটিন ইউক্রেনকে খেয়ে ফেললো, মেরে ফেললো, পুতিন আগ্রাসি হিসাবে ইউক্রেনের ধংশযজ্ঞ চালালো বলে মুখে ফেনা তুলে ফেললো, তারা কিন্তু এখন ইসরায়েলের এমন গনহত্যায় কোন রা পর্যন্ত করছেন না। রাশিয়া গত দেড় বছরে যে পরিমান বাড়ীঘর, লোকবল ক্ষতি করেছে তার থেকে কয়েকগুন বেশি ক্ষতি করেছে ইসরায়েল মাত্র দুই সপ্তাহে। খাবার, মেডিকেশন, শিশু হত্যা, নিরিহ জনগন নির্বিঘ্নে হত্যার প্রতিবাদে হিউম্যান রাইটস এর ডাইরেক্টর পর্যন্ত নিজে ইস্তফা দিলেন, তারপরেও কিন্তু কেউ মুখ খুললেন না।  

২১/০৯/২০২৩-আমেরিকার ন্যাশনাল ডেট বা ঋণ

ইদানিং আন্তর্জাতিক খবরগুলির মধ্যে প্রায়ই একটা খবর চাউর হচ্ছে যে, আমেরিকার জাতীয় লোন প্রায় ৩৩ ট্রিলিয়ন ডলার এবং এর অর্থনীতিতে এটা একটা আশনী সংকেত। এর মানে কি? কার কাছে কিংবা কিভাবে এই লোন করলো আমেরিকা এবং এর প্রভাব কি?যে কোনো জাতীয় লোন বলতে বুঝায় যে, কেন্দ্রীয় বা ফেডারেল সরকার যখন তাঁর খরচ পোষানোর জন্য আহরীত রেভিনিউর পর ঘাটতি অর্থ অন্য কারো কাছ থেকে লোন নেয় সেটা। অর্থাৎ খরচের বাজেট যখন আহরীত রেভিনিউয়ের থেকে বেশী হয়, তখন উক্ত ঘাটতি মেটাতে সরকারকে কোথাও না কোথাও থেকে লোন নিতে হয়। সেটাই আসলে জাতীয় ঋণ নামে অভিহিত হয়।

সরকার তাহলে কার কাছ থেকে এই লোনগুলি নেয়? ব্যাপারটা খুব জটিল নয়।

একটা দেশে কি পরিমান মুদ্রা বা কারেন্সী ছাপানো হবে সেটা নির্ভর করে তাঁর গোল্ড রিজার্ভের উপর। গোল্ডের বিপরীতে আসল কারেন্সী ছাপিয়েও সরকার অতিরিক্ত কিছু কাগজী নোট যেমন প্রাইজবন্ড, কিংবা মার্কেটেবল সিকিউরিটিজ বন্ড, ট্রেজারীবন্ড, বিলস, ফ্লোটিং রেট নোট, ট্রেজারী ইনফ্লেশন প্রোটেক্টেড সিকিউরিটিজ ইত্যাদি ছাপায়। আর এগুলির একটা ভ্যালু নির্ধারন করে দিয়ে তা জনগনের কাছে ছেড়ে দেয়। এটা টাকা না, কিন্তু আবার টাকাও। প্রাইজবন্ড দিয়ে বাজারে গিয়ে আমি আপনি চাল ডাল কিনতে পারবো না যদিও সেটার একটা কারেন্সী ভ্যালু আছে। এই প্রাইজবন্ড, ট্রেজারী বন্ড কিংবা সিকিউরিটিজ বন্ড ইত্যাদি গোল্ডের বিপরীতে ছাপাতে হয়না। তাই এটা কারেন্সী হিসাবে কাজ করেনা। এটা দিয়ে সরকার গোল্ডবিহীন জামানত ছাড়া একটা আলাদা পরিমান মুদ্রা সরবরাহ করে মাত্র যাতে জনগন কিনে জাতীয় আসল কারেন্সী সরকারকে দিয়ে দেয়। সরকার আসলে বুদ্ধি করে এর মাধ্যমে আসল কারেন্সী বাজার থেকে তুলে নেয়, নিজে বিভিন্ন কাজে লাগায়। জনগন লাভ পায় এর উপরে। এই কাগুজী নোটগুলি সরকার কর্তৃক গ্যারান্টেড। যেহেতু আসল কারেন্সী না কিন্তু গ্যারান্টেড, ফলে জানগনের কাছে সরকার এই সমপরিমান কাগুজী নোটের পরিমানে ঋণী হয়। এই ঋণ জনগনকে আসল কারেন্সী দিয়েই পেমেন্ট করতে হয় পরবর্তীতেআরেকটু সহজ করে বলি। এটা অনেকটা ব্যাংক থেকে ক্রেডিটকার্ড, মর্টগেজ কিংবা গাড়ীবাড়ি লোনের মতো। একটি পন্য আপনি কিনলেন, সেটার মুল্য আপনি শোধ করলেন ক্রেডিট কার্ড দিয়ে কিংবা আপনি একটি কিছু মর্টগেজ রাখলেন, টাকা নিলেন কিন্তু পুরু টাকাটা আপনি পেমেন্ট করলেন না ব্যাংকে, মাস শেষে বা বছর শেষে আপনার নামে সুদসহ ঋণ হবে।

এটা গেলো একটা পদ্ধতি লোন নেবার। আরেকটা হলো সরকার অন্য দেশ থেকেও লং টার্ম সুদে লোন নেয়। সবই সরকারকে একটা মেয়াদে এসে লোন ব্যাক করার কথা।

যাই হোক যেটা বলছিলাম, রেভিনিউ যতো কম আসবে, সরকারকে তাঁর বিভিন্ন খরচ, যেমন আমদানী, ডেভেলপমেন্ট খরচ, মেডিক্যাল, ডিফেন্স, পাবলিক সার্ভিস, ভর্তুকী ইত্যাদি মেটাতে ঋণ নিতে হয়। আর এই ঋণ দিনে দিনে বাড়তেই থাকে যদি প্রত্যাশিত রেভিনিউ সংগ্রহ না হয়।

এবার আসি আমেরিকার বেলায়। আমেরিকা সেই ১৭৯১ সাল থেকেই ঋণের বোঝা টেনে চলছে। প্রথমে ছিলো এর পরিমান ৭৫ মিলিয়ন ডলার। এরপর থেকে প্রায় আজ অবধি ৪০০০% বৃদ্ধি পেয়ে বর্তমানে এর পরিমান দাড়িয়েছে ৩৩ ট্রিলিয়ন ডলার।

একটি সরকার কত পরিমান লোন নিতে পারবে এটার একটা লিমিট করে দেয়া থাকে পার্লামেন্ট থেকে। একটা উদাহরন দেই, আবার সেই ক্রেডিট কার্ড। ধরুন আপনি একটা ক্রেডিট কার্ড নিলেন, আপনার লিমিট ৫ লাখ টাকা। অর্থাৎ আপনি সর্বোচ্চ ৫ লাখ টাকার বাইরে খরচ করতে পারবেন না। এই লিমিটটা ব্যাংক করে দেয়। যতোক্ষন আপনি এই লিমিট থেকে কোনো খরচ করবেন না, ততোক্ষন আপনি ঋণীও নন। কিন্তু ধরুন আপনি যদি ২ লাখ টাকা খরচ করেন আর ন্যনতম বিল হিসাবে ১ লাখ টাকা শোধ করেন, তাহলে আপনার লিমিট থাকবে আর মাত্র ৪ লাখ টাকা। কারন ইতিমধ্যে আপনি ১ লাখ টাকা ঋণে আছেন আর ভবিষ্যতে আরো ৪ লাখ টাকা খরচ করতে পারবেন। মোট ৫ লাখ। এভাবে যদি আপনি খরচ বাড়াতে থাকেন আর পুরু বিল শোধ না করেন, একসময় এসে আপনার ৫ লাখ টাকার লিমিট প্রায় শেষ হয়ে যাবে। আমি আপনি ইচ্ছে করলেই সেই লিমিটের বাইরে আর খরচ করতে পারবন না। যদি আবার পুরু টাকাটা আবার সুদসমেত দিয়ে দেন, আবারো আপনার লিমিট ৫ লাখই হয়ে যাবে। আপনি আপনার অব্যবহৃত লিমিট আবার ব্যবহার করতে পারবেন। যদি শোধ না করেন, একসময় এসে আপনি ঋণ খেলাপি হয়ে যাবেন।

আবার ঋণ খেলাপি হবেন না বা আপনি এই ৫ লাখ টাকার বেশিও খরচ করতে পারবেন যদি ব্যাংক আপনার এই ৫ লাখ টাকার লিমিট বাড়িয়ে ১০ লাখ করে দেয়। তখন হয়তো দেখা যাবে যে, আপনার লোন আছে ৫ লাখ আর অব্যবহৃত লিমিট আছে আরো ৫ লাখ। এভাবে যদি আবারো আপনি শুধু খরচ করতেই থাকেন, আবারো আপনার এই নতুন লিমিট ১০ লাখ শেষ হয়ে যাবে। আপনি ইচ্ছে করলেও আর কার্ড ব্যবহার করতে পারবেন না এবং আপনাকে সুদসহ ১০ লাখ ফেরত দিতেই হবে ব্যাংককে।

এখানে পার্লামেন্ট হচ্ছে ব্যাংক, ট্রেজারী ডিভিশন (যিনি খরচ করেন) হচ্ছে আমি, কার্ড হচ্ছে লোনের পরিমান। আমেরিকার এই লিমিট ছিলো ৩১ ট্রিলিয়ন ডলার যা গত কয়েক মাস আগে তাদের পার্লামেন্ট সেটা বাড়িয়ে ৩৩ ট্রিলিয়নে উত্তীর্ন করেছিলো। এটাও এখন শেষ। এখন আবার পার্লামেন্ট এই লিমিট যদি বাড়িয়ে দেয়, তাহলে ট্রেজারী ডিভিশন আবারো তাঁর পলিসি মোতাবেক বিভিন্ন নোটস, বন্ডের মাধ্যমে জনগন তথা বিদেশীদের কাছে ছেড়ে দিয়ে আবারো টাকা /ডলার সরবরাহ বাড়াতে পারবে। কিন্তু আবারো ঋণ আরো বেড়ে যাবে।

আমেরিকা এসব ট্রেজারী নোটস, মার্কেটেবল সিকিউরিটিজ বন্ড, ট্রেজারীবন্ড, বিলস, ফ্লোটিং রেট নোট, ট্রেজারী ইনফ্লেশন প্রোটেক্টেড সিকিউরিটিজ ইত্যাদি বিক্রি করে জাপান, চীন, ইউকে, বেলজিয়াম এবং লুক্সেম্বার্গ থেকে তহবিল সংগ্রহ করেছে। জাপানের কাছে ১.১ ট্রিলিয়ন ট্রেজারীবন্ড আছে, চীনের কাছে আছে ৯০০ বিলিয়ন সমপরিমান ডলারের, ইউকের কাছে ৭০০ বিলিয়ন, লুক্সেম্বার্গে ৪০০ বিলিয়ন ডলারের সমপরিমান ট্রেজারী নোট রয়েছে। এসব এক সময় না এক সময় ডলারেই পে করতে হবে সুদসমেত। আর এগুলি গ্যারান্টেড। বাকী লোনগুলি হচ্ছে ইন্ট্রা-গভর্মেন্টাল সংস্থা যেমন ব্যাংক, ইনভেষ্টরস, লোকাল সরকার, মিউচুয়াল ফান্ড, পেনশন ফান্ডস, ইন্সুরেন্স কোম্পানি ইত্যাদি থেকে।

আজকে এই মুহুর্তে যদি চীন, ইউকে, জাপান, লুক্সেম্বার্গ, বেলজিয়াম, ইন্ট্রা-গভর্মেন্টাল সংস্থা তাদের বন্ডসমুহ ছেড়ে দিয়ে ক্যাশ ডলার নিয়ে নিতে চায়, তাহলে আমেরিকাকে অবশ্যই তা ক্যাশ ডলারে লাভসহ পেমেন্ট করতে হবে। আর যদি সেটা ঘটে তাহলে আমেরিকার অর্থনীতি খাড়া নীচের দিকে ধাবিত হবে।

এখন এখানে একটা বড় ধরনের প্রশ্ন জাগে, চীন, জাপান কিংবা অন্য দেশগুলি কেনো আমেরিকান সিকিউরিটিজ কিনে? এর কারন হলো, ডলার ডমিনেটেড সিউকিউরিটিজ কিনলে চীনের বা যারা কিনে তাদের দেশী মুদ্রার মানের চেয়ে ডলারের দাম বেড়ে যায়। তাতে চায়নীজ কিংবা যারা কিনে তাদের প্রোডাক্টের দাম কমে আসে এবং আমেরিকায় তাদের প্রোডাক্ট আকর্ষনীয় হয়। বিক্রি বাড়ে এবং চায়নার বা যারা কিনেছে তাদের অর্থনীতি আরো চাংগা হয়।

২০/০৮/২০২৩-প্রেডিকশন-২

গতবছর এপ্রিল মাসে আমার একটা লিখায় আমি মন্তব্য করেছিলাম যে, “একটা সময় আসবে যখন ইউক্রেনবাসী প্রেসিডেন্ট জেলেনেস্কীকে ইউক্রেনকে ধ্বংসের কারনে কাঠগড়ায় দাড় করাবে। যদি তাকে আর নাও পাওয়া যায়, চলমান সময়ের ইতিহাসের জন্য ইউক্রেন আজীবন আফসোস করবে যে, এতো সুন্দর সাজানো গোছানো একটা রিচ কান্ট্রি এভাবে শেষ হয়ে গিয়েছিলো শুধুমাত্র একটি মানুষের কারনে। আর সেটা জেলেনেস্কী”। আমরা ইতিহাসকে যেভাবেই লিখি না কেনো, কেউ তো থাকবে যারা আজকের দিনের প্রতিটি প্রেক্ষাপট, ইভেন্ট, ঘটনা মুখেমুখে হলেও এক প্রজন্ম থেকে আরেক প্রজন্মের কাছে স্থানান্তর করবে যেমন সর্বদাই দেখা যায়। সময়ের বিবর্তনে হয়তো কিছুটা ইতিহাস উলটা পাল্টাভবে প্রচারিত হয় বটে কিন্তু অলিখিত ইতিহাসের পাতাই বেশী থাকে লিখিত পাতার চেয়ে। ইতিহাসের অমোঘ নিয়ম হচ্ছে-কলোনিয়ালিজম কোনো না কোনো সময়ে শেষ হয়ই। আফগানিস্থান, ভিয়েতনাম, আফ্রিকার প্রায় সবদেশ, ভারতবর্ষ, আরো শতশত দেশের ইতিহাস এমনই। চুড়ান্ত ফলাফলে আধিপত্যবাহীরা শেষ পর্যন্ত অধিকৃত দেশ ছাড়তে সবসময়ই বাধ্য হয়েছে। কিন্তু এই আধিপত্য নেয়া এবং ছেড়ে দেয়ার মধ্যে পার হয়ে যায় হয়তো কয়েক প্রজন্ম। ধ্বংস হয়ে যায় কালচার, কৃষ্টি, সমাজব্যবস্থা এবং সাথে দেশের অর্থনীতি।

ইউক্রেনের কোনো প্রয়োজন ছিলো না তাদের নিজের দেশের রাশিয়ান ভাষাভাষি মানুষগুলিকে এতো অত্যাচার করার, প্রয়োজন ছিলো না অযথা ইউরোপিয়ান হবার, প্রয়োজন ছিলো না ন্যাটোর মতো একটা জোটে যুক্ত হয়ে রাশিয়ার মতো একটা ভেটো অধিকারী, নিউক্লিয়ার সমৃদ্ধ দেশের বিরুদ্ধে পা ফেলার। যাদের শক্তিতে বলিয়ান হয়ে যুদ্ধের দামদা করা হলো সেই তারা কিন্তু বহুদূরের এক শক্তি। আর তারা নিজেরা কিছুতেই আক্রান্ত নয়। নিজের শশ্যক্ষেত জ্বালিয়ে কেউ হিরো হতে চায় না। আর যারা সেটা করে তারা বোকা। কেনো বললাম কথাগুলি জানেন?

কারন, ইউক্রেনের পূর্ববর্তী প্রেসিডেন্টের এইডস অলেগ সসকিন তাঁর ইউটিউবে একটা বার্তা রেখেছেন ইউক্রেনবাসী এবং ইউক্রেনের এমপিদের উদ্দেশ্যে। আর সেটা হলো এমন, “প্রেসিডেন্ট জেলেনেস্কী একজন অতিশয় অপরিপক্ক (Inadequate) লিডার যে কিনা ইউক্রেনকে সম্পুর্ন ধ্বংস করে দিচ্ছে। এই যুদ্ধে ইউক্রেনের কোনো খবরই সত্য নয় এবং রিটায়ার্ড কর্নেলদের কোনো এনালাইসিস বা তথ্য সঠিক তো নয়ই বরং পুরুই মিথ্যা। ইউক্রেনের জন্য রাশিয়া যতোটা না বিপদজনক, তাঁর থেকে অনেক বেশী বিপদজনক প্রেসিডেন্ট জেলেনেস্কী। ইউক্রেনের মানুষের ভোগান্তির কোনো শেষ নাই, দেশের অর্থনীতি শুধু তলানীতেই না বরং ঋণে জর্জরিত হয়ে আরো কয়েক শত বছর পিছিয়ে দিয়ে গেলো এই যুদ্ধ। ফলে এখনই সময় আপ্নারা যারা এমপি আছেন, তারা এবং ইউক্রেনের ভিতর বাহিরে যারা সচেতন জনগন আছেন, তাদের কিছু একটা করা দরকার যাতে অন্তত ইউক্রেন নামক দেশটি পৃথিবীর বুক থেকে একেবারে শেষ না হয়ে যায়”।

আজকে সসকিন এটা বলেছে, হয়তো আগামীকাল সাধারন জনগন নিজেরাই মাঠে নেমে পড়বেন, হয়তো পরশু নিজের দেশের ভিতরেই নিজেদের অপশক্তিকে রুখে দাড়াবার জন্য যুদ্ধে নেমে যেতে পারেন। ডনবাস, খেরশন, জাপোরিজজিয়া, খারকিভ, ওডেসায় তো ইউক্রেনের অধিবাসিই বাস করতো, হয়তো তারা রাশিয়ান ভাষাভাষি বলে ইউক্রেনের প্রশাসন তাদেরকে রিফুজির মতো ব্যবহার করতো। তাদেরকে খতম করে কি ইউক্রেন সে সব এলাকায় আধিপত্য বিস্তার করা সম্ভব যাদের বসবাদ সেখানে শত শত বছর ধরে? এখনো তো তাদের উপরেই আক্রমন হচ্ছে। তাহলে তারা যে ভাষাভাষিই হোক না কেনো, যারা তাদেরকে রক্ষা করতে আসবে তাদেরকেই তো তারা সাপোর্ট করবে। ইউক্রেনকে তো নয়। আর ঠিক এ কারনেই এসব শহরগুলি খুব দ্রুত চলে গেছে ইউক্রেনের হাতের বাইরে এবং রাশিয়ার পক্ষে।

প্রয়োজন ছিলো না এসব মানুষগুলিকে এক সাইড করে অতঃপর নিজেরাই ইউক্রেনবাসী হবার। তারাও জন্মগত কিংবা বাপ দাদার উত্তরসুরী হিসাবে ইউক্রেনেরই একটা অবিচ্ছেদ্য অংশ ছিলো। কোনো এক সময় ইতিহাসবিদগন এটাই বলবে যে, প্রেসিডেন্ট জেলেনেস্কী সঠিকপথে ছিলো না। আজকে যে ইউরোপ তাঁর প্রতিবেশী রাশিয়াকে শত্রু মনে করছে, হয়তো খুব শীঘ্রই সেই একই ইউরোপ হয়তো রাশিয়ার দ্বারপ্রান্তে বসবাস করে তাদের ছাড়া চলবেই না। ফলে একটা সময় খুব বেশী দূরে নয় যে, এই ইউরোপ আবার রাশিয়ার সাথেই একাত্ত হবে, একাত্ত হতে বাধ্য হবে। প্রতিবেশীকে বেশিদিন একঘরে করে রাখা যায় না। তারমধ্যে যে প্রতিবেশী এতো ক্ষমতাবান। 

১৯/০৮/২০২৩-আগের কিছু প্রেডিকশনের বাস্তবতা।

রাজনীতিতে যার যার সার্থ তাঁরতাঁর। এখানে সার্থ ভাগাভাগির কোনো গল্প থাকে না। শেষ অবধি প্রেডিকশনটাই ঠিক হলো। প্রেডিকশন করেছিলাম যে, একোয়াসের সামরীক বাহিনী যদি নিজারে ইন্টারভেনশন করে, তাহলে শুধুমাত্র নাইজেরিয়াই থাকবে সেই ফোর্সের মধ্যে, অন্য কেউ থাকার কথা না আর থাকলেও খুবই কম সদস্য দিয়ে একটা টোকেন পার্টিসিপেশন হবে। ২য় প্রেডিকশন ছিলো, আমেরিকা এবং ফ্রান্সের মধ্যে সম্পর্ক ফাটল দেখা যাবে। ৩য় প্রেডিকশন ছিলো-নিজারে একোয়াসের মিলিটারী ইন্টারভেনশন এর পরিবর্তে ডিপ্লোম্যাটিক সমাধান হতে পারে। সেক্ষেত্রে প্রেসিডেন্ট বাজোমের ক্ষমতায় ফিরে আসা আর কখনোই হবে না।

এবার সর্বশেষ খবরগুলি দেখিঃ

(১) একোয়াসের স্ট্যান্ড বাই ফোর্সের মধ্যে ২৫ হাজার সামরিক সদস্যের মধ্যে নাইজেরিয়ার সাড়ে ২৪ হাজার প্লাস, আর সেনেগালের মাত্র কয়েকজন টোকেন পার্টিসিপেশন। অর্থাৎ নাইজেরিয়া একাই একোয়াস সম্মিলিত বাহিনীর হিসাবে রিপ্রেজেন্ট করে প্রয়োজনে নিজারে ইন্টারভেনশনের জন্য প্রস্তুত। যা নাইজেরিয়ার সাধারন জনগন এর বিপক্ষে। ফলে একোয়াস এখনই ইন্টারভেনশন নয়, আগে ডিপ্লোম্যাটিক সমাধান, তারপর ইন্টারভেনশন (যদি লাগে)

(২) আফ্রিকান ইউনিয়নের দেশগুলিতে খাদ্য, সার এবং অন্যান্য কমোডিটি সবচেয়ে বেশী সাহাজ্য হিসাবে দেয় রাশিয়া। রাশিয়া নিজারে কোনো সামরীক ইন্টারভেনশনের বিপক্ষে। ফলে আফ্রিকান ইউনিয়ন নিজারে যে কোনো সামরীক ইন্টারভেনশনের বিপক্ষে। আফ্রিকান ইউনিয়ন একোয়াস থেকে ডিসোসিয়েট করেছে।

(৩) আমেরিকার মিলিটারী বেজগুলি নিজারে বহাল রাখার নিমিত্তে নিজারের সামরীক ক্যু কে আমেরিকা এখনো ক্যু হিসাবে আখ্যায়িত করে নাই। প্রয়োজনে তারা মিলিটারী সরকারের সাথে কাজ করতে এবং বেজগুলি রি-লোকেশন করতে ইচ্ছুক।

(৪) ফ্রান্সের মিলিটারী বেজগুলি গুটিয়ে নেয়ার নির্দেশ নিজারের সামরিক সরকার আগেই দিয়েছে। তাই ফ্রান্স চায় একোয়াস নিজারে ইন্টারভেনশন করুক। কিন্তু আমেরিকার এহেনো এক তরফা নিজারের সামরিক সরকরকে সাপোর্ট করার মাধ্যমে ফ্রান্সের সাথে পশ্চিমাদের মধ্যে সম্পর্কের ফাটল বা নাখোস। তাতে ইউক্রেন যুদ্ধে একটা বিরোপ প্রভাব ফেলবে যেহেতু ফ্রান্স ন্যাটো/ইউরোপিয়ান ইউনিয়নের সাথে যুক্ত থেকে আমেরিকার প্রক্সি ওয়ারে ফ্রান্স যথেষ্ট সাপোর্ট দিচ্ছিলো।

১৬/০৮/২০২৩-কিছু প্রেডিকশন (নিজার)

সবখানেই আমার মতো কিছু বোকা লোক আছে-আমি একা না। নিজার (Niger) অভ্যুথানের বিরুদ্ধে হয় বেশী আবেগে অথবা বোকার মতো অথবা কাউকে খুশী করার জন্য নিজারে (Niger) অভ্যথানের ৩য় দিনে একোয়াস (ECOWAS) এমন একটা হুমকী দিলো যে, হয় নিজারকে (Niger) পূর্ববর্তী সরকার প্রধান মোহাম্মাদ বাজোমকে স্থলাভিষিক্ত করতে হবে, আর তা না হলে একোয়াস (ECOWAS) তাঁর মিলিটারী শক্তি প্রয়োগ করে হলেও বাজোমকে আবার গদিতে বসাবে। এই আবেগীয় হুমকী আমার কাছে কোনোভাবেই সমর্থনযোগ্য মনে হয়নি। কেনো হয়নি সেটাই বলছি।একোয়াসের (ECOWAS) মধ্যে মোট দেশ ১৫টি। এরা হচ্ছে বেনিন, বারকিনো ফুসু, কাবোভার্ডে, আইভরি কোষ্ট, গাম্বিয়া, ঘানা, গিনিয়া, গিনিয়া বাস্যু, লাইবেরিয়া, মালি, নিজার , সেনেগাল, সিয়েরা লিয়ন এবং টোগো।একোয়াসের (ECOWAS) এই ১৫ টি দেশের মোট সামরিক জনবল (প্যারা মিলিটারীসহ) হলো ৩৭৭২০০ জন। এর মধ্যে নাইজেরিয়া একাই হলো ২৩০০০০ জন। আর বাকী ১৪৭২০০ হচ্ছে বাকী ১৪ টি দেশের।একোয়াসের (ECOWAS) ১৫টি দেশের মধ্যে মোট ৬টি দেশ নিজারের (Niger) অভ্যুথানকে সমর্থন করে। ফলে নিশ্চয় তারা একোয়াসের (ECOWAS) হয়ে নিজারে (Niger) মিলিটারী ইন্টারভেনশনে যাবে না। এই ৬টি দেশের সামরিক বাহিনীর জনবল হলো ৮৫০০০জন। এরমানে একোয়াসের (ECOWAS) মেম্বার নাইজেরিয়া ছাড়া মাত্র ৬২২০০ জন অংশগ্রহন করতে পারবে। আর নাইজেরিয়াসহ পারবে ২৯২০০০ জন। এই সংখাটা হচ্ছে যদি ১০০% লোক অংশ নেয়। কিন্তু কোনো মিলিটারী ইন্টারভেনশনে কোনো দেশের সমস্ত সামরিক বাহিনীকে জড়ায় না, মাত্র ৩০% থেকে ৩৫% হয়তো অংশ গ্রহন করবে। সেক্ষেত্রে নাইজেরিয়ার থেকে অংশ নিতে হবে প্রায় ৮৫০০০ আর বাকি ২০-২৫ হাজার অংশ নিবে বাকী দেশগুলি থেকে।

এখানে আরেকটা মজার কাহিনী হয়েছে যে, আফ্রিকান ইউনিয়ন কোনোভাবেই একোয়াসের (ECOWAS) এই মিলিটারী ইন্টারভেনশনে সম্মতি দিচ্ছে না। আফ্রিকা ইউনিয়নের মধ্যে আগের ৬টি দেশ (যারা অভ্যুথানকে সমর্থন করেছে) ছাড়া আছে আরো ৫টি দেশ যারা একোয়াসের (ECOWAS) মিলিটারী ইন্টারভেনশনে যোগ না দেয়ার কথা। তারা হচ্ছে-বেনিন, আইভরি কোষ্ট, সেনেগাল, সিয়েরা লিয়ন, এবং টোগো। অর্থাৎ ৬টি দেশ অভ্যুথানকে সমর্থন করেছে, এবং আফ্রিকান ইউনিয়নের মেম্বার হিসাবে আরো ৫টি দেশ অংশ গ্রহনে সম্মতি দিচ্ছে না। সুতরাং একোয়াসের (ECOWAS) মধ্যে থাকছে মাত্র ৪টি দেশ, তাঁর মধ্যে নাইজেরিয়া অন্যতম। এরমানে শুধুমাত্র নাইজেরিয়াই একমাত্র দেশ যা নিজারের (Niger) বিরুদ্ধে ইন্টারভেনশন করতে হবে একোয়াসের (ECOWAS) পক্ষ থেকে। অন্য দেশগুলি হচ্ছে টোকেন পার্টিসিপেশনের মতো। War between Nigeria VS Niger+

এদিকে নাইজেরিয়ার সাধারন জনগন ইন্টারভেনশনের বিপক্ষে। তারা কিছুতেই নিজারের (Niger) বিরুদ্ধে নাইজেরিয়াকে ইন্টারভেনশনে যেতে দিতে চায় না। তাহলে একোয়াস (ECOWAS) চেয়ারম্যানের এমন একটা নন-ক্যালকুলেটিভ হুমকী দেয়া কি ঠিক হয়েছে? এখন একোয়াস (ECOWAS) চেয়ারম্যান কি করবে সেটাই বুঝতেছে না। খালি এববার এইটা কয়, আবার ওইটা কয়। গালে হাত দিয়া বসে থাকে আর ভাবে-কি করলাম? একোয়াস (ECOWAS) চেয়ারম্যানের বউও মনে ক্ষেপা এখন।
তাঁর উচিত ছিলো ডিপ্লোমেটিক সলিউশনের কথা আগে বলা।সব জায়গাতেই কিছু আমার মতো বোকা পাবলিক থাকে, না বুইজ্জাই লাফায়। যেমন অনেকে কয়, ইউক্রেন নিয়া নাকি আমিও লাফাই। আপ্নারাও কন দেখি-ইউক্রেন কি আমার দাদার দেশ না আমি ওখানে জমি কিনে বাড়ী বানাইছি?

২৫/০৭/২০২৩-২য় বিশ্বযুদ্ধ আসলে শুরু হয়েছিলো

২য় বিশ্বযুদ্ধ আসলে শুরু হয়েছিলো ১ম বিশ্বযুদ্ধের মধ্যে করা ভার্সাই চুক্তির মাধ্যমে। কেউ যদি নিউট্রালি নিজেকে প্রশ্ন করে যে, একটা বিশ্বযুদ্ধ জার্মানী করলো, সে অনেক ক্ষতিগ্রস্থ হলো, আবার সে জেনেবুঝে আরেকটা বিশ্বযুদ্ধে কেনো লিপ্ত হলো? এর উত্তর খুব সোজা-১ম বিশ্বযুদ্ধের পর জার্মান তো প্রায় মৃতই হয়ে পড়েছিল এবং সে জীবিত থেকেও মরা। খাবার নাই, সামরিক বাহিনী নাই, তাদের অরিজিনাল ভুখন্ড নাই, সবার থেকে একঘরে, অন্যদিকে এতো পরিমান যুদ্ধ-ক্ষতির কিস্তি পরিশোধ, মিত্রবাহিনীর দ্বারা নিগৃহীত ইত্যাদির ফলে তারা আসলে বেচে ছিলো না। তাই হয় আরেকটা বিশ্বযুদ্ধ করে বাচি, আর তানা হলে মরেই তো আছি। এটাই ছিলো সেই মনের ভিতরের ক্ষোভ যে কারনে জার্মানী আরেকটা যুদ্ধে লিপ্ত হতে বাধ্য হয়েছিলো। তাহলে এখন আসি, কিসের কারনে জার্মানীর ভিতরে এতো ক্ষোভ ছিলো। তাহলে কি ছিলো সেই ভার্সাই? চুক্তিতে কি ছিলো? চলুন একটু দেখি আসিঃ

(ক)     জার্মানীকে ১৩% ভুখন্ড ছাড় দিতে বাধ্য করা হয়েছে। আর সেগুলি হচ্ছেঃ

  • Alsace Lorraine (France)
  • Eupen and Malmedy (Belgium)
  • North Schleswig (Denmark)
  • Hulschin (Czechoslovakia)
  • West Prussia, Posen and Upper Silesia (Poland)
  • Saar, Danzig and Memel (League of Nations)
  • All gains from the Treaty of Brest Litovsk (Russia)
  • All colonies (League of Nations – given to France and Britain as ‘mandates’)

(থ)      যুদ্ধের ক্ষতি হিসাবে জার্মানীকে ৩২ বিলিয়ন ডলার ক্ষতিপুরন দিতে বাধ্য করা হয়, যা ২০২১ সালের হিসাবে হবে ২৮৪ বিলিয়ন পাউন্ড। জার্মানীকে এই ক্ষতিপুরন দিতে মোট সময় লেগেছে ৯২ বছর।

(ছ)      ৭টি ইনফ্যান্ট্রি ডিভিশন, তিনটি ক্যাভালরি ডিভিশন নিয়ে মাত্র অনুর্ধ ১ লক্ষের বেশি জনবল রাখার সীমিতকরন করা হয়। কোনো প্রকারের কনস্ক্রিপশন করা নিষিদ্ধ করা হয়। জার্মানীর সামরিক বাহিনিতে কোনো জেনারেল পদবীতে উন্নিত করা যাবে না। কোনো প্রকারের মিলিটারী ড্রিল, এক্সারসাইজ হোক সেটা প্রাক্টিক্যাল বা থিউরিটিক্যাল করা যাবে না।

 (জ)   নেভীর লোক সংখ্যা ১৫০০০ এর অধিক হতে পারবে না। ৬টি মাত্র ব্যাটলশীপ রেখে বাকী সব ব্যাটলশিপ হয় অন্য দেশের অধীনে রিজার্ভে রাখতে হবে অথবা সেগুলি শুধুমাত্র কমার্শিয়াল ব্যবহারের জন্য জার্মানী রাখতে পারবে।

(ঝ)     জার্মানীর বিমান বাহিনীকে পুরু নিষিদ্ধ ঘোষনা করে দেয়া হয় এবং জার্মানী কোনো প্রকার বিমান বাহিনী থাকবে না। কোনো প্রকার এয়ার ক্রাফট বা যুদ্ধ ম্যাটেরিয়াল নিজেরা তৈরী করতে পারবে না।

(চ)     জার্মানীর কয়লারখনি সমৃদ্ধ এলাকা The Saar সেটা ফ্রান্সকে ১৫ বছরের জন্য হস্তান্তর করা হয়।

(ঘ)     রেইনল্যান্ড এবং এর আশেপাশে ৩১ মেইল পুর্বের দিকে নদী পর্যন্ত ডি-মিলিটারাইজড জোন হিসাবে ঘোষনা করা হয় এবং এই ডি-মিলিটারাইজড এলাকায় জার্মানীর কোনো প্রকার কনস্ট্রাক্সন নিষিদ্ধ করা হয়। শুধু তাইই নয়, উক্ত অঞ্চলে এর পরের ১৫ বছর অবধি মিত্র বাহিনীর উপস্থিতি নিশ্চিত করা হয়।

(খ)     অষ্ট্রিয়ার সাথে একত্রিত হওয়া জার্মানীর নিষিদ্ধ ঘোষনা করা হয়েছিলো।

(গ)     নবগঠিত লীগ অফ ন্যাশন্সের মধ্যে জার্মানীকে নিষিদ্ধ ঘোষনা করা হয়।

 (ভ)     জার্মানীকে রাষ্ট্রীয়ভাবে যুদ্ধের সব ব্লেইম নিতে বাধ্য করা হয় এবং জার্মানী এই যুদ্ধাপরাধির ব্লেইম একা নিতে নারাজ ছিলো।

১৯২৩ সালের অক্টোবরে এসে জার্মানীর অর্থনীতি এমন একটা স্তরে পৌঁছেছিলো যে, সারা জার্মানিতে দুর্ভিক্ষ এবং ইনফ্লেশনে নিমজ্জিত হয়ে পড়েছিলো। নভেম্বর ১৯২৩ তে দেখা যায় যে, জার্মানীর ৪২ বিলিয়ন মার্কের দাম হয় মাত্র আমেরিকান ১ সেন্টের সমান। অর্থনৈতিক দুরাবস্থার কারনে গনমানুষের জন্য লঙ্গরখানা স্থাপন করে শুধুমাত্র গনখিচুরির মতো খাবার সার্ভ করা ছাড়া আর কোনো বিকল্প ছিলো না। ভার্সাই চুক্তির এরুপ শর্তের কারনে পুরু জার্মান জাতী রাগান্নিত ছিলো এবং সেই কমন রাগ আর ক্ষোভ থেকে মানুষের মধ্যে একটা ইউনিটি তৈরী হয়েছিলো। আর ঠিক এই সময়ে হিটলার জার্মানীর চ্যান্সেলর হিসাবে দায়িত্ব গ্রহন করে।

হিটলার দায়িত্ব গ্রহন করার পরেই সে ভার্সাই চুক্তির এসব যুদ্ধের ক্ষতিপুরনের অর্থ দিতে অসম্মতি জানায় এবং বন্ধ করে দেয়। হিটলারের এমন আচরনে জার্মানবাসী যেনো সর্গের কোনো দেবতা হাজির হয়েছে এমন জনপ্রিয়তা লাভ করে। তার এই জনপ্রিয়তায় এমন একটা পর্যায়ে হিটলারকে নিয়ে গিয়েছিলো যে, হিটলার যা চেয়েছে সেটাই তার জনগন সতস্ফুর্ত ভাবে আমল করেছে। হিটলার তার দেশবাশীকে এটা বুঝাতে সক্ষম হয়েছিলো যে, ভার্সাই চুক্তির কোনো কিছুই তারা মানে না এবং তার কোনো কিছুই তারা পে করবে না। এবং তার সাথে জার্মানী যেসব জায়গা, সম্পত্তি, হারিয়েছিলো, তা আবার পুনরোদ্ধার করা হবে। হিটলার জার্মানীকে রি-মিলিটারাইজড করা শুরু করে।

জার্মানীর প্রতিটি সর্বস্তরের মানুষ তাদের দুর্ভিক্ষ অর্থনৈতিক সংকট, মানবেতর জীবন এবং বিশ্ব দরবারে এরুপ মান হানীকর লজ্জার কারনে হিটলারের পিছনে সারিবদ্ধ হয়েছিলো পরবর্তী যুদ্ধের জন্য। আর সেটা ২য় বিশ্বযুদ্ধ। ২য় বিশ্ব যুদ্ধের প্রাক্বালে জার্মানীর ভুমিতে দাঁড়িয়ে জার্মানীর অবস্থার পরিপ্রেক্ষিতে আরেকটা যুদ্ধকে সমর্থন না করা সম্ভব ছিলো নয়।

২৯/০৬/২০২২-হিটলারের শেষ আদেশের কপি

১৯৯৭-৯৮ সালে আমি যখন ষ্টাফ কলেজ করছিলাম, তখন দ্বিতীয় মহাযুদ্ধের উপর আমার ইন্টারেষ্ট  আসে। ফলে আমি পুরু ২য় মহাযুদ্ধের সময় জার্মানদের পরিকল্পনা বা কিভাবে যুদ্ধটা পরিচালিত হয়েছে সেটা জানার জন্য প্রচুর বইপত্র এবং তার সাথে অনেক দালিলিক দস্তাবেজ জোগাড় করে পড়তে থাকি। এর মধ্যে সবচেয়ে বেশী জরুরী বইটি ছিলো H R Trover Roper সংকলিত Hitler’s war Directives -1939-1945

হিটলার মোট ৫২টি ডাইরেক্টিভস ইস্যু করেছিলেন, আর কিছু ছিলো Führer Orders। হিটলারের সমস্ত ইন্সট্রাক শন এবং আদেশ অন্য সব কিছুর উর্ধে ছিলো, এর মানে  These instructions superseded laws of the German government as Hitler was considered to be above the law. ২য় মহাযুদ্ধের ১ম ডাইরেক্টভ ইস্যু হয়েছিলো ৩১ আগষ্ট ১৯৩৯ সালে। হিটলারের সর্বশেষ Führer Orders ছিলো Fuhrer Order-74, ১৫ এপ্রিল ১৯৪৫ সালে যার হেডলাইন ছিলো ‘Order of the Day ‘। এখানে বলে রাখা ভালো যে, Führer Orders were issued later in the war. They tended to be less strategic and more specific in nature. হিটলার তার সেই ৭৪ নাম্বার ফুয়েরার আদেশে কি লিখেছিলেন সেটা এখানে পোষ্ট করলাম।

Fuhrer Order-74

Order of the Day 15 April 1945

Soldiers of the German Eastern front!

For the last time our deadly enemies the Jewish Bolsheviks have launched their massive forces to the attack. Their aim is to reduce Germany to ruins and to exterminate our people. Many of you soldiers in the East already know the fate which threatens, above all, German women, girls, and children. While the old men and children will be murdered, the women and girls will be reduced to barrack-room whores. The remainder will be marched off to Siberia.

We have foreseen this thrust, and since last January have done everything possible to construct a strong front. The enemy will be greeted by massive artillery fire. Gaps in our infantry have been made good by countless new units. Our front is being strengthened by emergency units, newly raised units, and by the Volkssturm. This time the Bolshevik will meet the ancient fate of Asia-he must and shall bleed to death before the capital of the German Reich. Whoever fails in his duty at this moment behaves as a traitor to our people. The regiment or division which abandons its position acts so disgracefully that it must be ashamed before the women and children who are withstanding the terror of bombing in our cities. Above all, be on your guard against the few treacherous officers and soldiers who, in order to preserve their pitiful lives, fight against us in Russian pay, perhaps even wearing German uniform. Anyone ordering you to retreat will, unless you know him well personally, be immediately arrested and, if necessary, killed on the spot, no matter what rank he may hold. If every soldier on the Eastern front does his duty in the days and weeks which lie ahead, the last assault of Asia will crumple, just as the invasion by our enemies in the West will finally fail, in spite of everything.

Berlin remains German, Vienna will be German again, and Europe will never be Russian.

Form yourselves into a sworn brotherhood, to defend, not the empty conception of a Fatherland, but your homes, your wives, your children, and, with them, our future. In these hours, the whole German people looks to you, my fighters in the East, and only hopes that, thanks to your resolution and fanaticism, thanks to your weapons, and under your leadership, the Bolshevik assault will be choked in a bath of blood. At this moment, when Fate has removed from the earth the greatest war criminal of all time [Editor’s note: Hitler was referring to the recently deceased Franklin Roosevelt], the turning-point of this war will be decided.

[signed]
Adolf Hitler

বাংলায়

হে আমার জার্মানীর পশ্চিম ফ্রন্টের সৈনিকগন।

আমাদের মরনব্যাধি জুয়িস বলশেভিক শত্রুবাহিনী তাদের সর্বোচ্চ শক্তি দিয়ে আমাদেরকে আক্রমন করেছে। জার্মানীকে চিরতরে শেষ এবং জার্মানীর সমুদয় জনগোষ্ঠিকে সমুলে নিশ্চিহ্ন করে দেয়াই তাদের একমাত্র উদ্দেশ্য। আমাদের পূর্ব জার্মান উপকূলে নিয়োজিত সামরিক বাহিনীর সৈনিকগন ইতিমধ্যে মন্দ ভাগ্যের ব্যাপারে অবগত হয়েই গেছেন। সবচেয়ে দুর্দশায় আছে এখন আমাদের মেয়েরা, নারীরা এবং বাচ্চারা। সত্যি বলতে কি, আমাদের বৃদ্ধ পুরুষ মানুষদেরকে এবং বাচ্চাদেরকে তারা নির্বিঘ্নে হত্যা করছে, মেরে ফেলা হচ্ছে বা হবে, আর যুবতী মহিলারা তাদের ব্যারাক হাউজে পতিতা হিসাবে নিগৃহীত হচ্ছে। আর বাকী যারা থাকবে, তারা সরাসরি সাইবেরিয়ায় বন্দি হিসাবে চালান দেয়া হবে।

আমরা এটা আগেই বুঝতে পেরেছিলাম এবং সে মোতাবেক  গত জানুয়ারী থেকে যত প্রকারের প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা নেয়ার দরকার তার কোনোটাই বাদ রাখিনি। কিন্তু শত্রুবাহিনী তাদের আর্টিলারী দিয়ে আমাদের সব শক্ত অবস্থান গুলিকে গুড়িয়ে দিয়ে হয়তো উল্লাস করছে বা করবে। আমরা সর্বাত্তক চেষ্টা করেছি আমাদের পদাতিক বাহিনীর মাঝে যে সব গ্যাপগুলি আছে, সেগুলিকে অগনিত নতুন ইউনিট দিয়ে সুরক্ষা করার চেষ্টা করার। আমাদের সম্মুখভাগের যুদ্ধ লাইনকে ইমারজেন্সী ইউনিট দিয়েও সুরক্ষা করার চেষ্টা করা হয়েছে। আমার ধারনা যদি সব কিছু পরিকল্পনা মাফিক চলে, তাহলে এবারো আমাদের শত্রু বলসেভিক বাহিনী আমাদের রাজধানী জার্মান রিখে আসার আগে এশিয়ার ভাগ্যের মতো রক্তাক্ত ভাগ্যবরন করতে হবে। তবে, এই অবস্থায় যারাই তাদের দায়িত্ত পালনে অপারগ হবে বা পালনে অস্বীকার করবে তারা রাষ্ট্রোদ্রোহী হিসাবেই পরিচিত হবে। যেসব রেজিমেন্ট বা ডিভিশন লজ্জাজনকভাবে শত্রুকে প্রতিহত না করে তাদের স্থান ত্যাগ করবে, তারা যেনো একবার আমাদের জার্মান নারী, যুবতী এবং শিশুদের কথা মাথায় রাখে যারা ক্রমাগত বোম্ব এবং শত্রুর দ্বারা দূর্বিসহ আক্রমণে মারা যাচ্ছে। তারা যেনো এতা সব সময় মাথায় রাখে যে, তাদের এই লজ্জাজনক স্থান ত্যাগে তাদেরকে সেই সব নারী, যুবতী, আর বাচ্চাদের সামনে লজ্জিত করবে। আরেকটি কথা যে, আমাদের মধ্যেই অনেক বিশ্বাসঘাতক অফিসার এবং সৈনিক আছে যারা জার্মান ইউনিফর্ম পড়া অথচ আমাদের টাকায় শত্রুর সাথে হাত মিলিয়ে আমাদেরকেই আঘাত করছে তাদের থেকে নিজেদেরকে সুরক্ষায় থাকতে হবে। যদি কোনো অফিসার বা যে কেউ তোমাদের যুদ্ধের স্থান ত্যাগ করতে বলে, তাহলে সে যেই পদবিরই হোক তাকে ইমিডিয়েটলী এরেষ্ট করতে হবে এবং প্রয়োজনে মেরে ফেলতে হবে। সে যে পদবীরই হোক না কেনো। যদি প্রতিটি সৈনিক পুর্বফ্রন্টে আমার এই আদেশ মোতাবেক দায়িত্ত পালন করে, তাহলে শত্রুর সর্বাত্তক অভিযান পরাজয় বরন করতে বাধ্য যেভাবে আমাদের পশ্চিমাফ্রন্টে তারা পরাজয় বরন করেছে।

বার্লিন জার্মানীর আছে আর সেটা জার্মানীরই থাকবে। ভিয়েনা আবারো জার্মানীর হবে এবং ইউরোপ কখনোই রাশিয়ার হবে না, না ইউরোপ রাশিয়ার কখনো বন্ধু হবে।

তোমাদের নিজ পিতৃভূমিকে রক্ষাই শুধু নয়, তোমাদের নিজ গৃহকে, নিজের পরিবারকে, নিজেদের সন্তানদেরকে এবং তাদের সাথে আমাদের ভবিষ্যতকে সুরক্ষা করার জন্য তোমরা নিজেরা নিজেরা ভাতৃত্ববোধ তৈরী করো। এই কঠিন সময়ে সমস্ত জার্মানবাসী তোমাদের দিকে তাকিয়ে আছে।

হে আমার যোদ্ধারা, তোমরা আমার আশা, ভরষা, তোমাদের অস্ত্রকে, তোমাদের বলিষ্ঠ নেতৃত্তকে আমি শ্রদ্ধা জানাই যে, তোমাদের আত্মত্যাগের মধ্য দিয়ে মরনব্যাধি জুয়িস বলসেভিক শত্রুরা তাদের নিজের রক্তে ভেসে যাবে। ঠিক এ সময়ে যখন পৃথিবী থেকে ভাগ্য নামক চিন্তাধারা উঠে গেছে, তখন পৃথিবীর সেরা ওয়ার ক্রিমিনালদেরকে পরাজিত করেই আমরা ডিসাইসিভ ফলাফল নিয়ে আসবো।

হিটলার

নোটঃ এ সময়ে রুজভেল্ট এর মৃত্যুতে হিটলার কিছুটা উল্লসিত হলেও এই ১৫ এপ্রিলে আসলে হিটলার তার পরাজয় এক রকম বরন করেই নিয়েছিলো। হিটলারের এই শেষ ন্যারেটিভস আসলে তার এরোগ্যান্সির একটা বহির্প্রকাশ ছিলো। কারন ২ এপ্ল্রিলে হিটলার নিজেই স্বীকার করেছিলো যে, ন্যাশনাল সোস্যালিজমের পতন হয়েছে, এখন শুধু তার ফলোয়ারদের দায়িত্ত কিভাবে তারা এগুবে। সেদিন অর্থাৎ ২ এপ্রলি হিটলার নিজেই এক সমাবেশে বলেছিলো ‘ to go on fighting, even without hope, to the very end’ although ‘I personally would not endure to live in the Germany of transition which would succeed our conquered Third Reich’ অর্থাৎ শেষ অবধি যুদ্ধ চালিয়ে যাও যদি জিতার কোনো সম্ভাবনা নাও থাকে। আমি হয়তো জার্মানীর ৩য় রিখের এই জয়ের ঘটনার সময়ে জীবিত থাকবো না ।

বস্তুত হিটলারের এই আদেশের পর পরই রাশিয়া জার্মানীর চারিদিক ঘিরে ফেলে এবং হিটলার ২২ এপ্রিল তার অবস্থান থেকে রিজাইন দেন। ৩০ এপ্রিল ১৯৪৫ সালে হিটলার আত্মহত্যা করেন। অতঃপর, ২ মে ১০৪৫ তারিখে ইতালীর জার্মান আর্মি ইতালীর জেনারেল আলেক্সান্ডারের কাছে, উত্তর-পশ্চিমের ৪র্থ আর্মি জেনারেল মন্ট গোমারীর কাছে, এবং ৭ মে ১৯৪৫ সালে জেনারেল আইসেন হাওয়ারের অধীনে জার্মানির আত্তসমর্পনের দলিল স্বাক্ষরিত হয়।

15/06/2022-দিলে দেন, না দিলে আগেই কইয়া দেন

ইউক্রেন ন্যাটোভুক্ত হওয়ার জন্য প্রানপন দিয়ে গত ১০ বছর যাবত চেষ্টা করে যাচ্ছে। তাঁর এই চেষ্টার সাথে একাত্ম ঘোষনা করে প্রতিবার আমেরিকা, ইউরোপ, যুক্তরাজ্য সর্বদা একটা মুলা ঝুলিয়েই রাখছে। সবশেষে যখন রাশিয়া ইউক্রেনকে আক্রমন করেই বসলো-তখন যেনো সবাই উঠে পড়ে লেগে গেলো কত তাড়াতাড়ি ইউরোপ এবং ন্যাটোভুক্ত দেশগুলি ইউক্রেনকে তাদের সদস্য করা যায়। এই যুদ্ধেও সেরকমের আশা দিয়েই চলেছে আমেরিকা, ইউরোপ এবং অন্যান্য বাল্টিক কিছু দেশ। শক্তিশালী মোড়ল দেশদেরকে বিশ্বাস না করেও উপায় থাকে না। কিন্তু তাদের রাজনীতির ধারা এতো জটিল যে, কোন ‘হ্যা” আসলে “না’, আর কোন “না” আসলে যে “হ্যা” সেটা বুঝাই দায়।

এবার ইউরোপিয়ান কমিশন প্রেসিডেন্ট উরসুলা গত শনিবার (১১ জুন ২২) সারপ্রাইজ ভিজিটে কিয়েভে গিয়ে দারুন আশার বানী শুনালেন ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট জেলেনেস্কীকে। তিনি খুবই হাস্যজ্জোল মুখে এবং খুব অবাক হবার মতো একটা দারুন আনন্দের খবর নিয়ে প্রেসিডেন্ট জেলেনেস্কীকে জানালেন-

-ন্যাটোতে ইউক্রেনের যোগদানের ব্যাপারে সদস্যরা দিন-রাত অবিরাম কাজ করে যাচ্ছে এবং আগামী ২৩/২৪ জুনে এ ব্যাপারে চুড়ান্ত একটা ফলাফল জানিয়ে দেয়া হবে। ইউক্রেনের ব্যাপারে ২৭ টি সদস্য দেশের কারো কোনো দ্বিমত না থাকলে ক্যান্ডিডেচার স্ট্যাটাস অনুমোদিত হবার কথা।  তবে রাশিয়ার যুদ্ধের সাথে কিংবা কেউ ইউক্রেনকে ভালোবাসে এই কারনে ইউক্রেনকে অতিরিক্ত সুবিধা দেওয়ার মতো কোনো কারন নাই। এখানে সদস্যদেশ হবার জন্য যা যা ক্রাইটেরিয়া লাগবে তার সবগুলিই পালন করতে হবে যা ইউক্রেনের বেশীর ভাগ যেমন “solid” political system, “robust and well-anchored institutions,” and “functioning administration on all level  ইত্যাদি আছে। তবে কিছু কিছু জায়গায় ইউক্রেনের অসুবিধা আছে যা ইউক্রেনকে পুর্ন করতে হবে, যেমন- address the crackdown on opposition parties and media launched by Zelensky even before Moscow began the military operation, but which was intensified afterwards, addressing the minority group in a democratic way, reforming stronger military etc.

আমার প্রশ্নটা হচ্ছে- উরসুলা বলছে ইউক্রেনের “solid” political system  আছে আবার এটাও বলছেন যে, ফান্ডামেন্টাল ইস্যু যেমন বিরোধী রাজনীতি দলকে রাজনীতি করার স্বাধীনতা নিশ্চয়তা প্রদান করতে হবে। মিডিয়ার ব্যাপারে তিনি বলছেন এটাও প্রায় সং গতিতেই আছে কিন্তু media launched by Zelensky even before Moscow began the military operation, but which was intensified afterwards ! উরসুলা বলছেন, ইউক্রেনে “robust and well-anchored institutions,” and “functioning administration on all level আছে তবে  মাইনোরিটি গ্রুপকে স্বাধীন এবং গনতন্ত্র মাফিক জীবন যাপনে সমর্থন দিয়ে সেটা নিশ্চিত করতে হবে। বর্তমানে ইউক্রেনের সামরিক শক্তি প্রায় সর্বশান্ত। এটাকে রিফর্মেশন না করে ন্যাটোতে যোগ দেয়া কষ্ট হবে।

উরসুলা জানেন যে, ইউক্রেন আসলে ন্যাটোতে যোগ দিতে পারবে না। তাহলে একটি দেশকে কেনো বারবার ইউরোপিয়ান ইউনিয়নের প্রেসিডেন্ট উরসুলা তাঁকে ন্যাটোতে সদস্য করবেন বলে আশা দিচ্ছেন, যখন তারা জানে যে, এই সপ্ন বাস্তবায়িত হতে গেলে আরো এক যুগ পার হয়ে যাবে? ফ্রান্স বলেছে প্রায় এক যুগের বেশী লাগবে, অষ্ট্রিয়া বলেছে কম পক্ষে ৫ থেকে ৭ বছরের আগে এটা ভাবাই যায় না, এবং অন্যান্য দেশ সমুহ এখনো নিশ্চুপ আছে যারা তাদের মতামত এখনো ব্যক্তই করে নাই। এটা আসলে অন্যায়।

আরে ভাই, দিলে দেন, না দিলে আগেই কইয়া দেন। খামাখা মাইর খাওয়াইতাছেন কেন?

১০/০৬/২০২২-শিয়ালটা কে  

ফ্রান্স, জার্মান এবং ব্রিটিশ এই তিন দেশের অফিসারদেরকে আপনি কখনো পাশাপাশি দাড়াতে দেখবেন না। যদি কখনো দাড়াতে দেখেনও তারপরেও দেখবেন এরা একে আরেকজনের সাথে ফ্রেন্ডলী কথা বলে না। জাতী সংঘ মিশনে দেখেছি- বাসার সল্পতা থাকা সত্তেও এরা আরেকজনের সাথে রুম শেয়ার করে না। হয়তো বিল্ডিং শেয়ার করে কিন্তু একই রুমে ওরা থাকে না। এর একটা কারন আছে। আর সেটা হল-এরা সবাই ২য় মহাযুদ্ধে একে অপরের শত্রু ছিলো। ফ্রান্সের সাথে ব্রিটিশদের চিরাচরিত শত্রুতা মনোভাব। অন্যদিকে জার্মান তো ব্রিটিশ এবং ফ্রান্সের বিরুদ্ধেই ছিলো ২য় মহাযুদ্ধে।

আমার এক খুব প্রিয় গুরুজন বলতেন-যখন শত্রুরা নিজেরা নিজেরা বন্ধু হয়ে যায়, এদের বন্ধুত্তের মধ্যে থাকে ধুর্ততা আর সার্থপরতা। সবার নিজ নিজ এজেন্ডা নিয়ে বন্ধুত্ত করে। তারা কখনো একজনকে আরেকজন বিন্দুমাত্র বিশ্বাস করে না। যা দেখায় সেটা হচ্ছে আবরন।

“ন্যাটো”- এই দলের মধ্যে এরা সবাই আছে। আছে ব্রিটিশ, আছে জার্মান, আছে ফ্রান্স, আছে আমেরিকান। আবার আছে তুরুষ্ক। বিশ্বাসের ভিত্তিটা এখন কত শক্ত অনুমান করা কঠিন না। এখানে আরেকটা সমস্যা আছে। এই সম্মিলিত বাহিনীকে কে কাকে কমান্ড করবে? ব্রিটিশ জার্মানী দ্বারা কমান্ডেড হতে চায় না, জার্মান ব্রিটিশ দ্বারা, না ফ্রান্সের মিলিটারী অন্য বাহিনী দ্বারা অথচ এদের একটা কমান্ড স্ট্রাকচার আছে। সেই কমান্ড স্ট্রাকচার আজ পর্যন্ত টেষ্টেড হয় নাই কোনো যুদ্ধ পরিস্থিতিতে। মিশন এরিয়ায় আমি দেখেছি-কোনো আমেরিকান ইউনিট অন্য কোনো দেশের কমান্ড স্ট্রাকচারের অধীনে কখনোই কাজ করে না। কোনো ব্রিটিশ ইউনিট একমাত্র আমেরিকান কমান্ডার ছাড়া অন্য কোনো দেশের কমান্ডারদের অধিনে কাজ করতে চায় না। হ্যা, ফোর্স কমান্ডার, বা সিএমও (চীফ মিলিটারী অবজারভার) এগুলি আলাদা বিষয়। সেখানেও তাদের একটা জয়েন্ট কমান্ড রাখে।

মজার ব্যাপার হলো, ন্যাটোর কোনো আলাদা মিলিটারী নাই। প্রতিটি দেশের মিলিটারীই ন্যাটোর মিলিটারী। এটা একটা বিএনসিসির মতো মিক্সড। কেউ খুবই প্রোফেশনাল, আবার কেউ অনেক কিছুই জানে না। বিশেষ করে মিলিটারি অস্ত্র হ্যান্ডলিং বা ট্যাক্টিক্সের দিক দিয়া।

তুরষ্ক ন্যাটোর মিলিটারীর মধ্যে একটা বিশাল অংশ। তুরষ্ক তাঁর নিজের মনোভাব ইতিমধ্যে প্রকাশ করে ফেলেছে সুইডেন আর ফিনল্যান্ডকে ন্যাটোতে বাধা দিয়ে। তুরষ্ককে ইচ্ছে করলেই ন্যাটো থেকে বা ইউরোপিয়ান ব্লক থেকে আউট করা যাচ্ছে না। তুরষ্ককে আউট করলেই ন্যাট কিংবা আমেরিকা, বা ইউরোপিয়ান ইউনিয়ন জিও পলিটিক্সে ধরা। আবার অন্য দিকে তুরষ্ককে আউট করলে সে যে রাশিয়া বা চায়নার সাথে এক হয়ে যাবে না কে জানে? মহা বিপদ। ফলে তুরষ্কের বাধার কারনে এতো ইচ্ছা থাকা সত্তেও ন্যাটো সুইডেন বা ফিন ল্যান্ডকে ঢোকাতে পারছে না।

হাংগেরী, ক্রোয়েশিয়া কে দেখুন। ছোট দেশ, খুব ক্ষমতাশীল না। তারপরেও ন্যাটর বা ইউরোপিয়ান ইউনিয়নের সব সিদ্ধান্ত মেনে নিতে চাইছে না। কারন তাদের নিজের দেশের ইন্টারেষ্ট আগে। আবার এদেরকে ছেড়ে দিলেও টুষ করে রাশিয়া খেয়ে ফেলবে, দলে নিয়ে যাবে। এখন যে যাকেই ছেড়ে দিবে, সেইই অন্য দলে ঢোকে যাবে। দেশীয় রাজনীতির মতো। একটা ছোট উদাহরণ দেই, সলোমন আইল্যান্ডকে আজ অবধি ওয়ার্ল্ড ব্যাংক বা আইএমএফ খুব বেশী একটা সাহাজ্য করে নাই। কিন্তু যেই না চায়না সলোমনের সাথে ঝুকে গেছে, কথা নাই বার্তা নাই, ১৩০ মিলিয়ন ডলার সাহাজ্য এম্নিতেই গ্রান্ট করে দিলো ওয়ার্ল্ড ব্যাঙ্ক গতকাল। সলোমান আইল্যান্ড কিন্তু রিফিউজ করে নাই। ওয়ার্ল্ড ব্যাংকই তো। এটা তো আর ওপেনলী আমেরিকা বা ব্রিটিশ না। নিতেই পারে, আবার চায়নাও এখন হিউজ টাকা ঢালছে সলোমনে। এখন সবাই সবার দল ভারী করার চেষ্টা করছে, হোক সেটা ছোট বা বড়।

জার্মানকে দেখুন। তারা কোনো অস্ত্র কিন্তু সরাসরি ইউক্রেনকে দিচ্ছে না। কখনোই না। তারা হয় দিচ্ছে পোল্যান্ডকে, অথবা অন্য ন্যাটোভুক্ত দেশকে। যাতে জার্মান ইউক্রেনে সামরিক অস্ত্র দিচ্ছে এই ব্লেইম তাঁকে না নিতে হয়।

পোল্যান্ডকে দেখুন, ইউক্রেনের পশ্চিমা অংশ এক সময় পোল্যান্ডের ছিলো যা ২য় মহাযুদ্ধে তাঁকে ছাড়তে হয়। একটু হলেও তো মনের ভিতরে একটু খস খস আছেই। পোল্যান্ড সেই পশ্চিমা অঞ্চলে ইউক্রেনের সাথে বর্ডার একত্রিত করতে চায়। জেলেনেস্কি একটু রাজী রাজী ভাব। উদ্দেশ্যটা একটু খটকার মতো। রাশিয়া ক্রিমিয়া খেয়েছে, মারিউপোল খাইলো, ডনবাস শেষ, এখন ইষ্টার্ন ব্লকে এগুচ্ছে, পশ্চিমা অংশ পোল্যান্ডের নজর।

এটা তো রুটির মতো ভাগ হয়ে যাচ্ছে মনে হচ্ছে।

বিড়াল তো দেখতে পাচ্ছি কিন্তু শিয়ালটা কে আসলে?

25/5/2022-অপিনিয়ন ইস ডিনায়েড

রাশিয়া ইউক্রেনকে আক্রমন করার সাথে সাথে রাষ্ট্রীয় ক্ষমতাশীল লোকজন যখন ন্যাটোতে যোগদানের একটা সুর তুল্লো, তখন ইংল্যান্ডের ইয়াং জেনারেশনের ব্রেক্সিট ভোটের মতো ফিনল্যান্ড এবং সুইডেনের ইয়াং জেনারেশনও একই রকমভাবে ন্যাটোতে যোগ দিলে তাদের প্রোটেকশন বাড়বে এই ধারনায় একটা জোয়ারের মতো তাল দেয়া শুরু করেছিলো। ফলে আগের বছরগুলিতে ন্যাটোতে যোগদানের মতামতের ৪২% এর বিপরীতে হটাত করে স্যামপ্লিং এ ৭০% পজিটিভ মতামত চলে আসে। প্রাথমিকভাবে ন্যাটো এবং ইউরোপিয়ান ইউনিয়ন যেভাবে ইউক্রেনের পাশে দারানোত অংগীকার ব্যক্ত করেছিলো, তাতে যে কোনো আপাতত একটা দূর্বল জাতী সেটা গ্রহন করবেই। এই মতামতের ভিত্তিতে রাষ্ট্রীয় ক্ষমতাশীল লোকজন রেফারেন্ডাম লাগবে না এই ভিত্তিতে পার্লামেন্টে প্রায় এক তরফা ভোট পাশ হয়ে যায় ন্যাটোতে যোগদানের জন্য।

পরবর্তীতে ইউক্রেনের জন্য ন্যাটোর হাবভাব, তাদের জন্য প্রয়োজনীয় প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা, কিংবা বিশ্ব মন্ডলে ইউক্রেন নাগরিকদের দেয়া সুযোগ সুবিধার উপর চুলচেড়া বিশ্লেষনের উপর দেশের স্ট্র্যাটেজিক বুদ্ধিদাতাদের লেখালেখি, মতামত এবং তারসাথে রাশিয়ার উপরে নিষেধাজ্ঞার প্রভাবে সারা দুনিয়ায় যেভাবে নেতিবাচক প্রভাব ঘটছে, তার রেশ অনুভুতিতে এনে ধীরে ধীরে ফিনল্যান্ড এবং সুইডেনের সাধারন নাগরিকদের ভাবনায় ন্যাটোতে যোগদানের ব্যাপারটায় টনক নড়া শুরু করে। এর বাইরে ইউক্রেনের উপর রাশিয়ার এক তরফা আগ্রাসনের কারনে এবং ইউক্রেনের পাশে কাউকে না পাওয়ার কারনে এই দুই দেশের জনগনের মতামত হটাত করে ভাটা পড়তে শুরু করে। এখন সেই সার্ভে এসে দাড়িয়েছে প্রাতমিক ৪২% এরও নীচে। এর মধ্যে তুরুষ্ক এবং ক্রোয়েশিয়ার প্রবল আপত্তিতে ন্যাটোতে যোগদানের ব্যাপারে একটা অনিশ্চিত আশংকার স্রিষ্টি হয়। এছাড়া ন্যাটোতে যোগ দেয়ার সফল মেম্বার হওয়ার মাঝখানে প্রায় এক বছর সময়ে ‘না ন্যাটো’ না ‘নিরপেক্ষ’ এমন পরিস্থিতিতে রাশিয়ার হুমকী একটা ভয়ংকর আতংকের মধ্যে পড়েছে দেশের নাগরিকগন। প্রায় ১৩০০ কিমি কমন বর্ডারের দেশ ফিনল্যান্ড সর্বদা রাশিয়ার মতো শক্তিশালী প্রতিবেশী দেশের কাছে একটা যুদ্ধাংদেহী অবস্থায় থাকতে হবে, এইসব কারনে সবাই এখন ন্যাটোতে যোগ দেওয়াকে রিস্কী মনে করছেন। এমন অবস্থায় ফিনল্যান্ডের নাগরিকদের মধ্যে এখন অধিকাংশ জনগন ন্যাটোতে যোগদানে আগ্রহী নয়। তবে তারা সারাদেশের জনগনের একটা চুড়ান্ত মতামতের জন্য রেফারেন্ডাম চাইছে। অন্যদিকে রাষ্ট্রীয় ক্ষমতাশীল লোকজন রেফারেন্ডাম দিতে নারাজ। এই টানাপোড়েনে দেশের ভিতরে একটা চলমান ক্ষোভের লক্ষন দেখা যাচ্ছে। এই অবস্থায় ফিনল্যান্ডে বলা হচ্ছে- যারা ন্যাটোতে যোগদানের বিপক্ষে তারা রাশিয়ান পন্থী। আর এই অপবাদে প্রচুর সংখক নাগরিক পুলিশের হয়রানী, এমন কি জেল জুলুমের খপ্পরে পড়ছেন বলে ফিনিশ এক জার্নালিষ্ট সাক্ষাৎকার দিয়েছেন। তিনি বলেছেন, Opinion is denied

তবে একটা জিনিষ তো নিশ্চিত, শেষ পর্যন্ত সাধারন জনগনের চুড়ান্ত মতামতের জন্য রেফারেন্ডাম না নিলে শেষ অবধি প্রেসিডেন্ট সিউলি নিনিতসুকে এক সময় বিচারের কাঠগরায় দারাতে হতে পারে। এখানে উল্লেখ থাকে যে, যদিও ফ্রান্স ইউক্রেনের ন্যাটো মেম্বারশীপ বা ইউরোপিয়ান ইউনিয়নে যোগদানের ব্যাপারে নেতিবাচক নয়, কিন্তু প্রেসিডেন্ট ম্যাক্রন এবং ফ্রান্সের পররাষ্টমন্ত্রী ইউক্রেনের ইউরোপিয়ান ইউনিয়নের সদস্যপদ পাইতেই বলেছে এক যুগ পার হবে। এর মানে, ইউক্রেনকে সহজেই ইউরোপিয়ান ব্লকে বা ন্যাটোতে নেয়ার কোনো পরিকল্পনা তাদের নেই। তাহলে কেনো আর কিসের কারনে এই যুদ্ধ?

সেই একই কাতারে কি এতো চমৎকার দুটি দেশ সুইডেন এবং ফিনল্যান্ড পড়তে যাচ্ছে

19/5/2022-ফিলিপিনের নব নির্বাচিত প্রেসিডেন্ট বং

ফিলিপিনের নব নির্বাচিত প্রেসিডেন্ট বং মার্কোস এবং তার আগের প্রেসিডেন্ট দূতেরের মধ্যে আমেরিকার প্রেসিডেন্ট জো বাইডেনের জাপান+ দক্ষিন কোরিয়ার ভিজিট উপলক্ষে ব্রিটিশ স্কলার এবং জিও পলিটিক্যাল এনালাইসিস্ট মার্টিন জ্যাক্স এর কিছু টুইটার মেসেজ শেয়ার করেছে। টুইটারে মার্টিন তার এনালাইসিসে বেশ কিছু এক্সক্লুসিভ তথ্য শেয়ার করেছে।

(ক) আমেরিকা এখনো অগোছালো। এশিয়ার ব্যাপারে বাইডেনের কোনো অর্থনইতিক পরিকল্পনা নাই।

আমেরিকা চায়না “বেল্ট এবং রোডের” চুক্তির ব্যাপারে কিছু উচ্চাকাখাংকা দেখালেও সেটা চায়নার কারনে আমেরিকা কোনোভাবেই সফল হবে না। কারন চায়না ইতিমধ্যে আমেরিকার চেয়ে শুধু অর্থনীতির ব্যাপারেই না, কোয়ালিশনের দিক দিয়ে এগিয়েই আছে।

(খ) পূর্ব এশিয়াতে আমেরিকা মিলিটারীর দিক দিয়ে খুবই একটা নাজুক অবস্থায় আছে। এখানে চায়না পুর্ব এশিয়াতে আমেরিকা থেকে অনেক গুন এগিয়ে আছে। প্রকৃতপক্ষে চায়না এসব স্ট্র্যাটেজিক পরিকল্পনাগুলি গত ১৯৯০ সাল থেকেই হাতে নিয়েছিলো যা আমেরিকা বুঝতেই পারে নাই। ফলে আমেরিকা এই পূর্ব এশিয়াতে তার কোনো মার্কেট বেজড সম্পর্ক গড়েই উঠে নাই। বলতে গেলে প্রায় বিচ্ছিন্ন।

(গ)  পুর্ব এশিয়াতে খুবই শক্ত সামর্থ তিনটা ট্রেডিং এগ্রিমেন্ট আছে। এরা হচ্ছে- (১) RCEP (২)  CPTPP (৩) Belt and Road এই তিনটার মধ্যে একটাতেও আমেরিকা নাই। কিন্তু চায়না তিনটার মধ্যেই আছে। আর এগুলি গত ২০ বছর আগে থেকে তাদের কার্যক্রম শুরু করেছে। এখন তো আমেরিকার পক্ষে আর এসবে ঢোকার কোনো সম্ভাবনাই নাই।

(ঘ) পুর্ব এশিয়ার সাথে চায়নার সম্পর্কটা দুতেরের গত ২০১৬ সালের নির্বাচনের সময়ই খুব জটিল ছিলো। দুতেরে নির্বাচিত হবার পর সে চায়নার সাথে আরো ঘনিষ্ঠতা বজায় রাখবে বলে অংগীকার করেছিলো। নির্বাচিত হয়েওছিলো। এবারের নির্বাচনে মার্কোস পরিবারের সদস্য যাদেরকে প্রায় ২০ বছর আগে উতখাত করা হয়েছিলো, সেই মার্কোস পরিবারের সদস্যই বিপুল ভোটে নির্বাচিত হবার আরেকটি কারন যে, সেও দুতেরের থেকেও বেশী কাছে থাকবে চায়নার এটাই ছিলো তার নির্বাচনী মেনিফেস্টুর একটা অংশ। ফলে ফিলিপাইনকে আমেরিকা কাছে পাবার সম্ভাবনা কম। তার মানে পুর্ব এশিয়াতে আমেরিকার পদধুলী প্রায় স্তিমিত।

এই সব কিছবু মিলিয়ে এশিয়া এবং পুর্ব এশিয়াতে আমেরিকার বর্তমান কৌশল খুব একটা কাজে আসবে না হোক সেটা জাপানের মাধ্যমে বা দক্ষিন কোরিয়া। ফলে জো বাইডেনের ভিজিট কতটা আশা পুরুন করবে সেটা এখন বলা মুষ্কিল।

অনেক দেরী হয়ে গেছে ব্যাপারটা।

১৭/০৫/২০২২-কিছু তথ্য বেশ মজার।

ঠিক এই সময়ে কংগ্রেসে মোট ৩৭ জন ইহুদী আছেন। তারমধ্যে ৩৫ জন হচ্ছে রুলিং ডেমোক্রেটিক পার্টির এবং ২ জন বিরোধী রিপাবলিকান দলের। কট্টর ইহুদীরা সবসময় ডেমোক্রাটদেরকেই ভোট দেন আর এই ভোট ব্যাংকের অনুপাত সারা আমেরিকার জনগনের মধ্যে প্রায় ৩৫%। অর্থাৎ ৩৫ শতাংশ ভোট ডেমোক্রাটদের জন্য প্রায় নিশ্চিত। আর এ কারনে অনেকেই বলে থাকেন যে, যখনই ডেমোক্রাটরা ক্ষমতায় আসবে, ধরে নিতে হবে দেশ ইহুদীদের দ্বারা চালিত হচ্ছে। ডেমোক্রাট দলের জন্য বেজ কন্সটিটিউয়েন্সীর নির্নায়ক হচ্ছে ইহুদীরা। আমেরিকার নির্বাচনের সময় ইহুদীদের প্রধান বৈশিষ্ঠ হচ্ছে, একদল ইহুদী ডেমোক্রাটদের পক্ষে প্রচন্ড পরিমানে জনমত তৈরী করেন, আর আরেকদল ইহুদী একই সময়ে বিরোধী দল রিপাবলিকানদের বিপক্ষে জনমত তৈরী করতে থাকেন। ফলে রিপাবলিকানরা কোন ঠাসা হয় বারবার। কোনো কারনে যদি ডেমোক্রাটরা জিততেও না পারে, তারপরেও কোনো না কোনোভাবে ইহুদী আওন প্রনেতারা যেনো জয়ী হয় সে চেষ্টায় থাকে এই ইহুদীরা। সুপ্রিম কোর্টের অবস্থা সার্ভে করলে দেখা যাবে যে, প্রায় ৭৫% আইনজীবি ইহুদী বা ইহুদীপন্থী। যারা সর্বদা রাষ্ট্রীয় সিদ্ধান্তে পরামর্শ দেয়। ডোনাল্ড ট্রাম্পকে ইহুদীরা খুবই অপছন্দ করে। প্রায় ৭৩% নেগেটিভ প্রচারনা করে ট্রাম্পের বিরুদ্ধে।

গত নির্বাচনে ভোটারদের ভোট গননায় দেখা গেছে যে, বাইডের প্রাপ্ত ভোটের প্রায় ৬০% এর উপরে ইহুদীদের ভোট পড়েছিলো প্রেসিডেন্ট বাইডেনের পক্ষে। এখানে একটি কথা না বললেই নয়, জো বাইডেনের পূর্ব পুরুষেরা ছিলেন আইরিশ নাগরিক এবং ফ্রান্স নাগরিক।

বর্তমান স্পীকার ন্যান্সী পেলোসির অরিজিনালিটি হচ্ছে ইতালিয়ান। তার বাবা থমাস ডি আলেসান্দ্রো প্রাক্তন প্রেসিডেন্ট রুজভেন্টের সময় এমপি ছিলেন এবং ইহুদী রাষ্ট্র গঠনের ব্যাপারে থমাস ডি আলেসান্দ্রো প্রেসিডেন্ট রুজভেন্টের সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে তুমুল জনমত গড়ে তুলেছিলেন। তিনি ছিলেন কট্টর ইহুদীপন্থী এবং ইহুদী রাষ্ট্র সৃষ্টির একজন প্রধান কর্নধার। ( লিংক পড়তে পারেন-

(https://www.speaker.gov/newsroom/jerusalem-post-pelosis-father-bucked-fdr-truman-aid-jews-israel)

 এবার আসি এন্টনি ব্লিংকেন এর ব্যাপারে। এন্টনী ব্লিংকেন আপাদমস্তক ইহুদী পরিবারের সদস্য। Blinken was born on April 16, 1962, in Yonkers, New York, to Jewish parents, Judith (Frehm) and Donald M. Blinken, who later served as U.S. Ambassador to Hungary.  His maternal grandparents were Hungarian Jews. Blinken’s uncle, Alan Blinken, served as the U.S. ambassador to Belgium. His paternal grandfather, Maurice Henry Blinken, was an early backer of Israel who studied its economic viability, and his great-grandfather was Meir Blinken, a Yiddish writer.

(লিংক পড়তে পারেন- https://en.wikipedia.org/wiki/Antony_Blinken)

অংকটা বেশ মজার। বিশেষ করে ইউক্রেন যুদ্ধের ব্যাপারে এর কি কোনো ইফেক্ট আছে বলে মনে হয়?