০১/০৯/২০২৪-যুদ্ধ একটা হবেই, সেটা যেভাবেই হোক
আজকের দিনের প্রেক্ষাপটে আমি যেটা বুঝতে চেষ্টা করছি সেটা হচ্ছে-বাংলাদেশটা যাচ্ছে আসলে কোথায়? কোনো কিছুতেই যেনো দৃশ্যমান কোনো পরিবর্তন দেখতে পাচ্ছি না। অবশ্য খুব বেশিদিন যায়ও নাই এই ইন্টেরিম সরকারের। একটা কথা আছে-জনতা আর ক্ষমতা যখন এক কাতারে থাকে, তখন ক্ষমতায় থাকা ব্যক্তিগুলি সম্মানের সাথে ক্ষমতার মজাটা পায়। কিন্তু যখনই ক্ষমতা আর জনতার মাঝে ফারাক থাকে, ব্যবধান থাকে তখন জনতা ক্ষমতার মানুষগুলিকে অপ্রিয় ভাবে। তখন তারা ক্ষমতার মানুষগুলিকে খুবই অপছন্দ করতে থাকে। এক সময় এই অপছন্দ বাড়তে বাড়তে দেশে একটা বিস্ফোরন ঘটে। ফলে অতিপ্রিয় ক্ষমতাবান লিডাররাও এবংপ্রিয় লিডারগনও মানুষের কাছে খুবই অসহ্য হয়ে মারমুখী হয়ে উঠে। শুরু হয় অভ্যুত্থান অথবা গনহত্যা।
বর্তমানে দেশ যেভাবে উপদেষ্টারা চালাচ্ছেন, তাতে একটা বিভীষিকাময় অনুভুতি আমার ভিতরে কাআজ করছে যে, উপদেষ্টা যারাআ আআছেন, তাআদের মধ্যে মাত্র ৩ জন ছাত্র বা সমন্নয়ক ছাড়া আর কেউ জুলাই বিপ্লবে সক্রিয় অংশ গ্রহন করেন নাই। এমন কি তারা জুলাই বিপ্লবের সময় বিপ্লবের পক্ষেও কোনো কথা সাহস করে বলেন নাই। তারা সারাক্ষনই চুপ ছিলো। এমন কি প্রধান উপদেষ্ঠা নিজেও জুলাই বিপ্লবে আসলে কি হয়েছিলো, কিভাবে হয়েছিলো, কারা কারা সক্রিয় ছিলেন, কিভাবে সক্রিয় ছিলেন এগুলির কিছুই উনি জানেন না। কিন্তু তাকে প্রধান উপদেষ্ঠা বানানো হয়েছে একটি মাত্র ক্রাইটেরিয়া থেকে- নোবেল বিজয়ী।
নোবেল বিজয় কোনো উপ মহাদেশ বিজয় নয় আসলে। যদি সেতাই হতো, তাহলে হাজার হাজার নোবেল বিজয়োরাই সব দেশের রাষ্ট্র প্রধান হতেন। রাষ্ট্র প্রধান হতে হলে সর্ব প্রথম যা দরকার তা হচ্ছে “দেশ প্রেম”। আমার কাছে কেনো জানি মনে হয় প্রধান উপদেষ্ঠা দেশ প্রেমিক নন। আমিও ইউনুস সাহেবের খুব ভক্ত একজন মানুষ। কিন্তু সেই ভক্তিটা কেনো জানি আমার ভিতর থেকেই ধীরে ধীরে কমে যাচ্ছে আর কোরআনের একতা আয়াতের কথা বারবার মনে পড়ছে-“ আমি কাউকে সম্মান দেই সম্মান দেয়ার জন্য, আবার কাউকে আমি সম্মান দেই তাকে অসম্মান করার জন্য। আমি কাউকে রাজা বানাই আর তার সিঙ্ঘাসন থেকে টেনে হিচড়ে নামাই……।। “
ইউনুস সাহেবকে বিধাতা যেন এই রকম একটা টেষ্টে না ফেলেন। কিন্তু আমার প্রতিনিয়ত বারবার ভয়ই হচ্ছে- তিনি সেদিকেই ধাবিত হচ্ছেন।
দেশকে রিফর্ম করার যে চেষ্টা সেটা কয়েক বছরের মধ্যেও সম্ভব নয়। আর কি রিফর্ম করা হবে? ১৯৯১ সালে প্রেসিডেন্ট শাহাবুদ্দিন কি এই একই সংবিধান নিয়ে, এই একই নির্বাচনী আইন নিয়ে, এই একই সেনাবাহিনি নিয়ে, এই একই পলিটিক্যাল দল নিয়ে কি সুষ্ঠ নির্বাচন দেন নাই? দিয়েছেন তো। তখন কোনো কিছুরই রিফর্ম করার দরকার ছিলো না। দেশের ইতিহাসে প্রথম ফেয়ার ইলেকসন হয়েছিলো। কিন্তু তারপরেও দেশে অরাজকতা কেনো সৃষ্টি হয়েছিলো? জানেন?
কারন সুষ্ঠু নির্বাচন মানেই কিন্তু সুষ্ঠু লিডার নয়। রাজনৈতিক দলগুলি সঠিক ক্যান্ডিডেট দেন নাই। সব লোভী, অশিক্ষিত, বা অর্ধ শিক্ষিত, মাসলম্যান জাতীয় লিডার চয়েজ করে ক্যান্ডিডেট দিয়েছিলো যারা পরবর্তীতে সব আইন কানুন ভেংগেই অপরাধ, দুর্নীতি ইত্যাদিতে নিমজ্জিত হয়েছিলো। সুতরাং কাকে রিফর্ম করবেন? আইন? কানুন? সংবিধান? নাকি মানুষ?
বর্তমান প্রজন্ম শর্টখাট চায়, দ্রুত সাফল্য চায়, দ্রুত সব কিছুর সমাধান চায়। কিন্তু তারা বাস্তবতা বিবর্জিত অনেকটাই। ঘরে কয়দিনের খাবার আছে, কোথা থেকে খাবার আসবে, কে আনবে, এগুলি তাদের চিন্তার মধ্যে নাই। তাদের চিন্তায় সব কিছু ডিজিটাল, সবকিছু আর্টিফিশিয়াল। এখনই এটা চাই, যেনো আল্টিমেটামেই সব কাজ হতে হবে। এটা বাস্তব নয়। ফলে, পুরানো প্রজন্মের সাথে বর্তমান প্রজন্মের মধ্যে বিস্তর ফারাক, আর এই ফারাকটাই হলো সংঘাত।
রিফর্ম দরকার ঠিক এই জায়গায়। কিন্তু এই রিফর্ম কি সম্ভব? যদি এই রিফর্ম সম্ভব হয় তাহলে ব্যাংক যেভাবে চলার কথা সেভাবেই চলবে, অফিস যেভাবে চলার কথা সেভাবেই চলবে, দূর্নীতি, অপরাধ, গুম, রাহাজানি, বৈষম্য ইত্যাদি থাকার কথা নয়। ইউনুস সরকার কি রিফর্ম করবেন? পুরু একটা প্রজন্মকে খুন করে বীর্য থেকে নতুন জেনারেশন তৈরী করতে হবে পুরু সিস্টেম বদল করার জন্য। এটা কি সম্ভব?
এরমানে খুব দ্রুত আমরা একটা আভ্যন্তরীন সংঘাতের। সংঘাতটা হবেই হবে। এটা হতেই হবে।
অদূর অতীতে সব সময় দেখেছি- বারবার রিফর্ম করার চেষ্টা চলেছে, রিফর্ম হয়েছে কিন্তু সেই রিফর্ম কি স্থায়ী হয়েছে? সংবিধান রিফর্ম করে পাঁচ বছরের জায়গায় ৪ বছর, এক কক্ষ থেকে দ্বিকক্ষ সংসদ, পর পর দুই মেয়াদের বেশী নয় কোনো সাংসদের টেনিউর, এক পরিবারের মধ্য থেকে বারবার কেউ সাংসদ না হতে পারার আইন, এই রকম হাজারটা রিফর্ম করলেই কি দেশের অরাজকতা, দূর্নীতি, আইন শৃঙ্খলার উন্নতি, পুলিশের হয়রানী, কিংবা মাসলম্যানদের দৌড়াত্ত কমে যাবে? কখনোই না। যদি সেতাই হতো, তাহলে আওয়ামিলীগ পালানোর পরে বি এন পি তার অতীতের সেই চরিত্র যার কারনে সে একবার পালাতে বাধ্য হয়েছিল, সেই একই চরিত্রের রুপ নিয়ে আবার এখন গোংগানি দিতো না। তারা ক্ষমতায় না এসেও যে পরিমান দুর্নীতি, দখল্বাজ, চাদাবাজি, রাহাজানি, শুরু করেছে, সেটা হতো না।
এদেশে রিফর্ম হবে না। মাঝখান দিয়ে ইউনুস সরকার হয়তো প্রান পন দিয়ে গোটা ৩/৪ বছর রাষত্র পরিচালনার সাধ গ্রহন করবেন, আর এর মধ্যে যদি ক্ষমতার মজা তাদেরকে পেয়ে বসে, তাহলে তাদেরকে গদি থেকে নামাইতেও আবার আরেকতা বিপ্লব করতে হতে পারে। আর সেই বিপ্লবের সময় কোনো এক ফাক দিয়ে পুনরায় আওয়ামিলিগ যে ঢোকে পড়বে না, সেটা কেউ জানে না। তখন আবার এই বিএনপি গলিতে লুকিয়ে যাবে, জামাত হারিয়ে যাবে, আজকের দিনের বিপ্লবী ছাত্ররা সবাই পিছু হাটবেই। তখন যদি আবার বিপ্লব সংঘটিত হতে হয়, তখন ছাত্র বিপ্লব বলতে যেটা হবে লাখ লাখ লাশ আনাচে কানাচে পড়ে থাকবে। সেই লাশ গুলিকে নেবার মত কোনো লোকও থাকবে না। হাসিনা সরকার যেমন দেশটাকে কখনোই ভালোবাসে নাই, ইউনুস সরকারও দেশটাকে ভালোবাসে না।
আমি এখন শুধু সেই যুদ্ধটার জন্য অপেক্ষায় আছি। যদি আজ আমি আমার এই ভয়ের কথাটা প্রকাশ্যে সোস্যাল মিডিয়ায় লিখি, আমি জানি, আগামীকালই আমার এই লেখাটা ডিলিট হয়ে যাবে, আমার সোস্যাল মিডিয়ার একাউন্ট বন্ধ হয়ে যাবে, আমার জীবননাশও হতে পারে। কে বলেছে-বাক সাধিনতা আমি ফিরে পেয়েছি? এটা যারা বলে-তারা আসলে কোন কথাই বলে না, তাই তারা ভাবে তারা যা খুশি তো এখন বলতেই পারে। ব্যাপারটা আসলে একেবারেই এমন না।
২৯/০৮/২০২৪-আওয়ামিলীগের পরবর্তী রাজনীতি কবে
গত ২০২২ সালে শ্রীলংকান রুলিং পার্টি সমুলে দেশের আপামর জনসাধারন দ্বারা উৎখাত হলে রাজাপাকসের দলের সব এম পি, মন্ত্রী স্পিকার এবং তাদের সমস্ত নেতাকর্মীরা ঠিক আমাদের বাংলাদেশের গন অভ্যুত্থানের মতো অবস্থায় পড়ে বিতাড়িত হয়েছিলো। ঠিক সেই সময়ে শ্রীলংকা প্রায় ৪৫ বিলিয়ন ডলারের ঋণের (বৈদেশিক ঋণ) ডিফল্ট করে। রাজাপাকসের দল উৎখাত হবার পর সেখানে একটা অন্তরবর্তীকালিন সরকার গঠিত হয়ে আপাতত রাজ্যের ভার কাধে তুলে নেয়। ভারত, চীন এবং আই এম এফ সহ অন্যান্য দেশ এবং বিশ্ব সংস্থাগুলি শ্রীলংকাকে কোন রকম্ভাবে টেনে তুলে একটা অবস্থানে নিয়ে আসার চেষ্টা করছে যা এখনো বিদ্যমান। আমুল সংস্কার করার নিমিত্তে বর্তমান ইন্টেরিম সরকার কাজ করছে বটে কিন্তু কোনো রকমে সামাল দিয়ে এগিয়ে চলছে। আগামি ২১ সেপ্টেম্বর ২০২৪ সালে একটা সধারন নির্বাচনের মাধ্যমে আবারো দেশের রাজনৈতিক দল গুলির মাধ্যমে দেশ পরিচালনার জন্য আয়োজন করছে। রাজাপাকসের দলের এমন ভরাডুবি এবং জন সাধারনের মধ্যে বিরূপ মনোভাবের পরে সবাই একটা কথা নিশ্চিত হয়ে গিয়েছিলো যে, রাজাপাকসের দল শ্রীলংকায় আর ক্ষমতায় ব্যাক করতে পারবে না। আর পারলেও এর সময়কালটা হবে অনেক পরে। কিন্তু মজার ব্যাপার হচ্ছে, এই আগামী নির্বাচনে রাজাপাকসের ছেলেই Namal Rajapaksa প্রেসিডেন্টশিয়াল ক্যান্ডিডেট হচ্ছেন এবং তার সমর্থনও কম নয়। তাহলে কি দাড়ালো? দাড়ালো যে, যারা প্রায় দেড় বছর আগে শ্রীলংকায় মানুষের বিরুদ্ধে এতো তান্ডব, এতো জুলুম করলো সেই তাদেরই ঘরের এক সদস্য পুনরায় রাজনিতিতে ফিরে এসে ক্ষমতার জন্য লড়াই করছে। হয়তো জয়ীও হয়ে যেতে পারে। যেখানে বলা হয়েছিলো বা ধারনা করা হয়েছিলো যে, রাজাপাকসের দল শ্রীলংকায় আবারো রাজনীতিতে ফিরে আসতে পারে কিনা সন্দেহ।
এই উপরের বাস্তবতার নীরিক্ষে যদি আমি এবার আমাদের বাংলাদেশের প্রেক্ষাপট বিবেচনা করি, একটা প্রায় সমান আন্দোলন, সমান অভ্যুত্থান, সমান বিদ্রোহই হয়েছে বলে বলা যায়। আর এই গন অভ্যুত্থানে আগের হাসিনা রিজিমের সব মন্ত্রী মিনিষতার, এম পি, সচীব, প্রশাসনের হোমড়া চোমড়াও এক যুগে পালিয়ে গেছে এবং তাদের নেতা কর্মিরাও আত্তগোপনে রয়েছে। বড় বড় হোমরা চোমড়ারা কেউ কেউ দেশের বাইরে চলে যেতে পারলেও প্রায় শতভাগ কর্মীরা দেশের ভিতরেই গোপনে অবস্থান করছে। ধারনা করা হচ্ছে-এই আওয়ামিলীগ আগামি ২০/৩০ বছরের মধ্যে হয়তো আর রাজনিতিই করতে পারে কিনা সন্দেহ।
আমি ঠিক এই জায়গাতার সাথে একমত নই।
বাংলাদেশ আর শ্রীলংকান জন গোষ্টির মধ্যে অনেক তফাত আছে। ওরা শতভাগ শিক্ষিত এক জাতী, তাদের মধ্যে নৈতিকতার ব্যাপারটা আমাদের থেকে অনেক মাত্রায় ভিন্ন। ওরা সহজেই উত্তেজিত আর অস্থির হয়ে উঠে না। তারা বেশিরভাগ মানুষেরাই লজিকের মধ্যে বসবাস করে। কিন্তু আমাদের বাংলাদেশের মানুষেরা যেটুকুই শিক্ষিত সেটাও সুশিক্ষিত না, একেবারে অস্থির একটা আবেগী জাতি। কখন যে তার মেজাজ উগ্র হয় আর কখন যে আবার আবেগীত হয় এটা একেবারেই সহজে বুঝা যায় না। টাকার লোভে, সম্পত্তির লোভে কিংবা বেনিফিটের লোভে আমাদের দেশের মানুষেরা এক নিমিষের মধ্যেই ভোল পালটে ফেলতে পারে। ফলে কাউকেই চরম্ভাবে বিশ্বাস করা যায় না। যে আজকে আমার পক্ষে আছে, আগামী এক ঘন্টা পরে সে আমার পক্ষে আছে কিনা আমি নিশ্চিত দিয়ে বলতে পারবো না। যাকে আপনি সৎ, ন্যায় এবং সাহসী ভেবে কাছে টেনে নেবেন, হয়তো দেখবেন আগামিকাল তার কন্ঠে সেই সুর যার অর্থ এক রকম অসৎ, অন্যায় এবং নিসচুপ। আওয়ামিলীগের হাতে এখন এতো টাকা এতো টাকা যে, প্রতিটি বাংগালীকে তারা কিনে ফেলার সামর্থ আছে।
দেশে এখন আওয়ামিলিগের বিপক্ষে কথা বলছে বটে কিন্তু এই ঢেউটা খুব দ্রুত থেমে যাবে যখন দেখা যাবে বি এন পি নির্বাচনের আগেই সেই পুরান চেহারায় ফিরবে, যেমন জমি দখল, বাড়ি দখল, রাস্তা দখল, চেয়ার দখল, ঘাট দখল, স্কুল কলেজ দখল ইত্যাদি। যা এখনই চোখে দৃশ্যমান। যে সংস্কারের কথা আমরা বারবার শুনে এসে আন্দোলন করেছি, সেই সংস্কার তো হবেই না, বরং একটা ক্ষুধার্থ দলকে নতুন করে তাদের পেট ভরানর জন্য ক্ষমতায় বসিয়ে দেয়া। সাধারন মানুষ আবারো হতাশ হবে। আজ থেকে ১৫ বছর আগে তো এই বি এন পি কেই মানুষ আরেকটা গন অভ্যুত্থানের মাধ্যমেই ক্ষমতা থেকে নামিয়েছিলো, সেই তাদের চেহারা কি আদৌ পাল্টেছে? একদমই পালটায় নাই। এখন তারাই আবার সেই আগের চেহারায় ক্ষমতার স্বপ্ন দেখছে। নির্বাচনের আগেই তারা যা শুরু করছে বা করেছে সেতার সংকেত কিছুতেই ভাল লক্ষন নয়।
আর এই পরিস্থিতিটাই তো চাচ্ছে আওয়ামিলীগ।
এর আগে আরেকটা কথা না বললেই নয়। ১৯৭৫ সালের শেখ মুজিবকে হত্যা করার পর বাংলাদেশে সব গ্রামে গঞ্জে এক প্রকার আনন্দ উল্লাস চলেছিলো। কারন সেই সময়ের আওয়ামীলীগ বাংলাদেশের মানুষের উপর অনেক রকমের অত্যাচার, জুলুম, রাহাজানি করতে করতে মানুষ অতিষ্ঠ হয়ে উঠেছিলো। মানুষ চেয়েছিলো আওয়ামিলীগের শাসন থেকে মুক্ত হোক। শেখ মুজিবের লাশটা পর্যন্ত মানুষ তার বারি থেকে উঠিয়ে নিয়ে কবর দিতে চায়নি। তখনো আওয়ামিলিগের নেতা কর্মীরা গোপনে চলে গিয়েছিলো। কোথাও তাদের কোন রাজনৈতিক কর্মকান্ড করতে দেখা যায়নি। অথচ ১৯৮১ সালে যখন বাংলাদেশে শেখ মুজিবের মেয়ে শেখ হাসিনা বাংলাদেশে প্রত্যাবর্তন করে, তখন এদেশের আওয়ামিলিগ সমর্থিত এবং কিছু নতুন সমর্থকরা সবচেয়ে বড় শো দাউন করে শেখ হাসিনাকে বাংলাদেশে বরন করে নেয়। মাত্র ৬ বছরের ব্যবধান। এর পরের ঘটনা আমাদের সবার জানা। শেখা হাসিনা এদেশ শাসন করে প্রায় ২০ বছর।
তখন মিডিয়া এতো স্ট্রং ছিলো না, মানুষ যতটুকু পত্রকা পড়ে কিংবা টিভি দেখে তথ্য পেতো তার মধ্যেই এই সময়টায় আওয়ামীলিগ তাদের অবস্থান শক্ত করে ফেলতে পেরেছিলো। ভারত কিংবা যারা আওয়ামিলিগকে সমর্থন করতো পিছনে পিছনে, তারাও যতটুকু পেরেছে তথ্যের মাধ্যমে আওয়ামিলীগকে স্ত্রং পজিশনে আনার চেষ্টা করে শেষ পর্যন্ত কিন্তু এদেশের জনসাধারনের মাইন্ড পরিবর্তন করতে সক্ষম হয়েছিলো। তার পিছনে আরেকতা কারনঅ ছিলো যে, তখনকার রুলিং পার্টিও জনবান্ধব ছিলো না। তাই সরকারকে উৎখাত করতে ভারতের কিংবা আওয়ামিলীগের জন্য প্লাস পয়েন্ট ছিল। বর্তমানে অবাধ তথ্য প্রবাহ, সোস্যাল মিডিয়া, প্রিন্ট মিডিয়ার সাথে পাল্লা দিয়ে তথ্য দেয়। এখন জনমত গঠন করা আরো সহজ।
বর্তমান ইন্টেরিম সরকার যেভাবে সংস্কার করার পথ বেছে নিয়েছেন, তাতে সব সেক্টর এক নাগারে তোলপাড়। ব্যাংকিং খাতে, আইন শৃঙ্খলা বাহিনিতে, আমদানি রপ্তানী সেক্টরে, প্রশাসনে, শিক্ষা খাতে, মিডিয়া খাতে ইত্যাদি সব খাতে একটা অরাজকতা বিরাজ করছে। হুর হুর করে দ্রব্যের মুল্য বাড়ছে, চাহিদার তুলনায় যোগান কমে যাচ্ছে, প্রশাসনে স্থবিরতা বাড়ছে, ক্যাডারে ক্যাডারে বৈষম্য বাড়ছে, অবসরীদেরকে আবারো পদায়ন চলছে। একটা হযবল্রল অবস্থা। ওই যে বললাম, এদেশের মানুষ খুব অস্থির এবং আবেগী। এবার সেই অস্থরতা আর আবেগের স্থানটি নিয়ে খেলতে চাইবে আওয়ামিলিগ এবং আওয়ামিলিগ সমর্থিত রাষ্ট্র বন্ধুগুলি। বিশেষ করে ইন্ডিয়া।
ইন্ডিয়া বাংলাদেশের কাছে অনেক কিছুতেই ধরা নাই শুধুমাত্র তার ৭-সিস্টার্স ছাড়া। কিন্তু বাংলাদেশ ইন্ডিয়া লকড একটা দেশ হওয়ায় আমরা অনেক কিছুতেই ইন্ডিয়া নির্ভর। আমদানি করি রপ্তানির প্রায় ১০ গুন বেশী। কাচামাল, খাদ্য পন্ন, টেক্টটাইল কাচামাল, আরো অনেক কিছু। কোন কারনে যদি ইন্ডিয়া আমাদেরকে এসব পন্য রপ্তানী না করে আমাদেরকে আরো বহু মুল্যে অন্য দেশ থেকে এসব কাচামাল, পন্য আমদানি করতে হবে। হয়তো সেটাও সমস্যা ছিল না যদি আমাদের অর্থনীতি শক্তিশালি হত। সেখানেও আমাদের ভঙ্গুর অবস্থা। এর ফলে মানুষের ভোগান্তি ধীরে ধীরে চরমে উঠবে, মানুষ বর্তমান ইন্টেরিম সরকারের উপর ক্ষেপে যাবে, আবার একতা আন্দলন হতে পারে। আর এই আন্দলনে সবার সাথে গোপনে লুকিয়ে থাকা যুবলিগ, ছাত্রলীগ, আওয়ামীলিগ সংযুক্ত হবে সাধারন মানুষের বেশে। মানুষ ধীরে ধীরে আবেগ থেকে যখন সরে আসবে, কে জানে তখন হয়তো শেখ হাসি নয়, তাদেরই আরেকতা সদস্য আওয়ামিলিগের হাল ধরে আবারো রাজনিতিতে প্রবেশ করবে। যে আওয়ামিলিগকে এই মুহুর্তে আমরা ভাবছি কয়েক যুগ পরে হয়তো আবার রাজনীতিতে আসতে পারতো সেটা না হয়ে অচিরেই তাদের আবার পদার্পন হবে।
২৭/৮/২০২৪-ক্ষমতার উল্টোপিঠের চিত্র ক্ষমতাশীলরা
ক্ষমতার উল্টোপিঠের চিত্র ক্ষমতাশীলরা বেশীরভাগ সময়েই মাথার মধ্যে রাখেন না। অনেকেই বলে থাকেন যে, ক্ষমতার উল্টোপিঠে আছে দূর্ভোগের সীমাহীন যন্ত্রনা আর জনরোষের এক বীভৎস চেহাড়া। অনেক ক্ষেত্রেই এর সত্যতা আছে বটে কিন্তু আমি বলি, ক্ষমতার উল্টোপিঠে দুটু চিত্র সার্বোক্ষনিক বিদ্যমান থাকে। আর সেটা হচ্ছে, ক্ষমতায় অবস্থান করে ক্ষমতাশীনরা যে আনন্দ, যন্ত্রনা, দূদর্শা কিংবা ভোগ বিলাস করেন, সেই ক্ষমতা যদি মানুষের কল্যানকর কাজে ব্যবহৃত হয়, আর মানুষ সেটা বুঝতে পারে তাহলে যখন এইসব ক্ষমতাসীনদের ক্ষমতা যখন আর হাতে থাকে না বা তারা ক্ষমতা হারান, তখন তারা হয়ে উঠেন অত্যান্ত জনপ্রিয় এবং জনসাধারনের চোখের মনি, সম্মানের পাত্র এবং আজীবন তারা মানুষের ভালোবাসায় শিক্ত থাকেন। আবার এর আরেকটা চিত্র আছে-আর সেটা হল যদি এই শাসক গোষ্ঠী যখন একচেটিয়া বর্বর, দুঃশাসন এবং জনগনের না হয়ে নিজেদের এক নায়কতন্ত্রতায় রাষ্ট্র পরিচালনা করেন, তখন যতো দিন যেতে থাকে মানুশ তত বেশি অসহিস্নু হয়ে এক সময় শাসক গোষ্ঠির বিরুদ্ধে যুদ্ধ বা বিপ্লবে নামে। জনগন জয়ীও হয় এবং শাশক গোষ্ঠির পতন তখন কেউ ঠেকাতে পারে না। এই চিত্রটাই হচ্ছে সেটা যা আমি প্রথমে বলেছিলাম যে, ক্ষমতার উল্টপিঠে থাকে দূর্ভোগ আর সিমাহীন যন্ত্রনা।
আমাদের বাংলাদেশেও এর কোনো ব্যত্যয় দেখিনা। ২০০৯ সাল থেকে ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট অবধি পতিত শেখ হাসিনার রাজত্বকালে ঠিক এমনি একটা ঘটনার পুনরাবৃত্তি হলো। মানুষ সীমাহীন কষ্ট, গোস্যা, রাগ আর ঘৃণা নিয়ে মুখ বন্ধ রেখে তাদের অস্বাভাবিক জীবন যাপন করে গেছে। ভোটের অধিকার না থায়, প্রশাসনে ৪র্থ ধাপ পর্যন্ত দলীয়করন করায়, আইনের শাসন না থাকায়, বাক স্বাধীনতা পুরুপুরি বিলুপ্ত করায় জন সাধারন একেবারে নিষ্পেষিত জীবন জাপন করেছিলো। ছাত্রদের কোটা আন্দোলন হয়তো ছিলো একটা ম্যাচের কাঠি কিন্তু আসল আগুনের উত্তাপ ছিলো মানুষের মনের ভিতর। ফলে একটা কাঠিই যথেষ্ট ছিলো গনরোষের মতো একটা অভ্যুত্থান স্ফুলিঙ্গের মতো জ্বলে উঠার। আর ঠিক সেটাই হয়েছে। ৩৫% জন গোষ্টির একটা পলিটিক্যাল দল, শতভাগ এম পি, মিনিষ্টার, স্পিকার সহন এটর্নী জেনারেল, ডেপুটি এটর্নী, পুলিশের আই জি থেকে শুরু করে বাঘা বাঘা আর্মির জেনারেল সহ সচীব, উপসচীব, ভিসি, নেতা পাতিনেতা এক রাতের মধ্যে উধাও। সাথে প্রধান মন্তী, সরকারের আরো বড় বড় হোমরা চোমড়ারাও। যেনো যাদুর কাঠির মতো সব লুকিয়ে গেলো। তারাও জানতেন তাদের এই পরিনতির কথা। তা না হলে এভাবে কেউ উধাও হবেন কেনো?
১৯৭৫ সালে মুজিব হত্যার পরে যে আওয়ামীলীগ এর পরের ২১ বছর কোনো অবস্থাতেই ক্ষমতায় আসতে পারতেছিলো না, তখন শেখ হাসিনা মাথায় হিজাব দিয়ে রাস্তায় রাস্তায় মানুষের কাছে করজোড়ে একটা কথাই বলতে শুনেছি যে, আমাদেরকে আরেকবার একটা সুযোগ দিন, আমরা আবার জনগনের সেবক হয়ে ফিরে আসব। মানুষ ২১ বছর পর শেখা হাসিনার এমন কাতর কথায় বিশ্বাস করে তাকে ভোটের মাধ্যমে আবারো ক্ষমতায় নিয়ে এসছিলো বটে কিন্তু হাসিনা তার কথা রাখেন নাই। ক্ষমতায় গিয়ে তিনি এমন একটা পরিস্থিতি তৈরী করে ফেললেন যেখানে সব রাষ্ট্রীয় কাঠাম একে একে নিজের কব্জায় নিয়ে এক নায়কতন্ত্র আইনে দেশকে জিম্মি করে ফেললেন। কারো কোনো ব্যাপার নিয়ে তিনি মাথা ঘামালেন না। মানুষ ধোকা খেয়েছিলো। কিন্তু মানুষের আর কিছুই করার ছিলো না। সেই এক নায়কতন্ত্রী শাসন শেষ পর্যন্ত আবারো মানুষকে পুরাতন শাশকদের মতো একই ধাচে জিম্মি করে ফেল্লো।
ফলে এই সময় যখন মানুষ ছাত্রদের কোটা আন্দোলনকে সমর্থন দিতে গিয়ে ‘একদফা এক দাবী, সরকার পতনের দাবী’ তুল্লো, তখন শেখা হাসিনার কোনো শক্তিই (ছাত্রলীগ, যুবলীগ, সেনাবাহিনো, বিজিবি, আনসার, পুলিশ কিংবা প্রশাসন) তাকে আর বাচাতে পারেনি। শেখ হাসিনা পালিয়ে যেতে বাধ্য হলো।
এই যে, পালিয়ে গেলো, তাদের জন্য কি কোনো মানুষ আর সিম্প্যাথিতে থাকবে? সম্মান করার কোনো জায়গায় আছে? একেবারেই নাই। ফলে তারা এবং তাদের সহযোগীরা সারা দেশ থেকে এমনভাবে ঘৃণিত হলো যে, তাদের আবার স্বাভাবিক লাইফে আসতে আগের ২১ বছর নয়, এবার হয়তো ৫০ বছর কিংবা ১০০ বছরও লাগতে পারে। তারা রাজনীতি থেকে চিরতরে বিদায় নিতে হবে। এগুলির কোন প্রয়োজন ছিলো না। এতো টাকার দরকার ছিলো না তাদের এবং তাদের সহযোগিদের। তারা মানুষের জন্য কাজ করতে পারতো। এখন যেতা হচ্ছে- বিচারপতিদের অন্ডকোষ কেটে দিচ্ছে, মন্ত্রী এম পি দেরকে মানুষ বিবস্ত্র করছে, মাথায় জুতা নিক্ষেপ করছে, ডিম দিয়ে ছুড়ে মারছে, আরো কত কি। তাদের বাসা থেকে হাজার হাজার কটি টাকা উদ্ধার হচ্ছে। যাদের জন্য এসব করা, ছেলেমেয়ে, নিজেদের জন্য, বউ বাচ্চাদের জন্য তারা কিন্তু এখন কেহই এর ভাগিদার হচ্ছেন না। কোনো আইনজীবীও তাদের পক্ষে ওকালতি করতে নারাজ। মানুষ কতটা অসহায় হতে পারে তাদেরকে না দেখলে বুঝা যেতো না আল্লাহর কাঠগরা কত কঠিন হবে।
এদের বাকি জীবনটা সম্ভবত এই বিচারের মধ্যেই শেষ হবে। যারা একদিন নরম বিছানা, শত শত আর্দালি নিয়ে রাজকিয় জীবন জাপনে অভ্যস্থ ছিল, এখন থেকে তারা এমন একটা জীবনে ঢোকে গেলেন যেখানে রাস্তার চোর বাটপাররা ধর পড়লে যেমন থাকে তাদের মতো। টাকা কোন কাজেই তাদের লাগল না। কি দরকার ছিল এসবের অদের? পারতো না তারা মানুষের ভালবাসা অর্জন করে বুক ফুলিয়ে সম্মানের সাথে বেচে থাকতে? পারত না তারা এ দেশের মানুষ গুলিকে ভালোবেসে নিজেদের জীবন উতসর্গ করতে? পারতো। কিন্তু সইরাতন্ত্রী মানুষেরা কখনই এই পরবর্তি পর্বের কথা মাথায় রাখে না বলেই যুগে যুগে ফ্রান্স রিভুলিউশন, জার বিপ্লব, কমলা বিপ্লব, আরব বস্নতের মতো বিপ্লব ইত্যাদির ইতিহাস রয়েছে। কিন্তু শাসকগন ইতিহাস পড়ে না, ইতিহাস থেকে শিক্ষা নেয় না।
১৮/৮/২০২৪-শেখ হাসিনার কি হতে পারে
হাসিনার ডিপ্লোমেটিক মুভে ভুল ছিলো।
চীন তার সহযোগিদেরকে যতোটা সামাল দেয়, ভারত কখনোই সেতা করে না। যেমন শ্রীলংকাকে চীন যেভাবে অর্থনইতিক ভাবে সাহাজ্য করে তাদেরকে সামাল দিলো এটা ভারত কখনোই করবে না। চীন তাদের সহযোগি আফ্রিকান দেশ গুলিকে যেভাবে অউন করে অন্য কোনো দেশ তা করে না। ফলে হাসিনার দরকার ছিলো ভারতের বদলে চীনকে পাশে রাখা।
উত্তর কোরিয়াকে সারা দুনিয়ার বিরুদ্ধে গিয়েও চীন তাকে বাচিয়ে রেখেছে। রাশিয়ার সাথে চীনের সম্পর্ক, ইরানের সাথে আরব দেশ গুলি যেভাবে আমেরিকাকে উঠাচ্ছে আর বসাচ্ছে এটার পিছনেও চীনের অনেক ভুমিকা আছে। এই ভু রাজনৈতিক গেমটা হাসিনা বুঝে উঠতে পারেনি।
যদি হাসিনা ১০ ট্রাক মামলা, ২১ শের গ্রেনেড হামলা, এই বিষয়গুলি যদি হাসিনা আন্তর্জাতিক কোর্টে নিয়ে যেতেন তাহলে তারেক জিয়া কখনোই লন্ডনে এসাইলাম পেতেন না। অন্যদিকে হাসিনার শাশনামলে যেঁ পরিমান মানুষ নিপিড়িত নির্যাতিত এবং অকাম গুলি তরতাজা ভাবে প্রমান আছে তাতে আওয়ামীলীগের ২ লাখ লোকের ফাসি হলেও কম হবে। আর এই ত্রাসের রাজত্ত কায়েমের জন্য প্রতিবারই ভারতের সহযোগীতা ছিলো বলে সারাটা দুনিয়া জানবে। আর ঠিক এ কারনে হাসিনার শাসনামল যতোদিন বতর্কিত থাকবে ভারত ততোদিন এর জ্বালা ভগ করবে। এ অবস্থায় হাসিনাকে ভারতে অনির্দিষত কালের জন্য এসাইলামে রাখাও ভারতের জন্য নিরাপদ না।
এছাড়া ভারত যদি হাসিনাকে নিয়ে বাড়াবাড়ি করে, দেখা যাবে ভারতের ৭ সিস্তার খুব দ্রুতই ভারতের হাতছাড়া হয়ে যাবার সম্ভাবনা আছে। এর কারন একটাই-বর্তমান সরকার যদি চীনের সহযোগিতা নেয় তাহলে ভারতের ৭ সিস্টার শেষ।
ঠিক এ কারনে ভারত যত দ্রুত সম্ভব হাসিনাকে ভারত থেকে ছেড়ে দিতে হবে। অথবা তাকে গ্রেফতার দেখিয়ে শাস্তির মুখুমুখি করিয়ে দেয়া ছাড়া ভারতের কোন বিকল্প নাই। অথবা তাকে বাংলাদেশেই পাঠিয়ে দিতে হতে পারে, তা না হলে ভারতের ভিতরেই একটা বিশৃঙ্খলা হতে পারে।
রাজনীতির ময়দানে আরো একটা খেলা হয়-জীবননাশ। হাসিনাকে স্লো পয়জনের মাধ্যমে ধীরে ধীরে অসুস্থ করে ফেলা, মিডিয়ায় তার সাস্থগত কারন দেখিয়ে ধীরে ধীরে এক সময় মেরে ফেলা।
১৮/৮/২০২৪ –ইলেকশন ক্রাইটেরিয়া
ইন্টেরিম সরকারের প্রধান ডঃ ইউনুস স্যার এক সংবাদ সম্মেলনে বলেছেন যে, নির্বাচনী ব্যবস্থা, বিচার বিভাগ, অর্থনীতি এবং গনমাধ্যম এই কয়েকটি সেক্টরে আমুল সংস্কার করবেন। এটাই আপাতত প্রধান লক্ষ্য। উনি ঠিক সেক্টরের কথাই বলেছেন।
নির্বাচনী ব্যবস্থার সংস্কার নিয়ে আমার কিছু মতামত ছিলো যেমনঃ
(১) পার্লামেন্টে যারা প্রতিনিধি হয়ে আসবেন, তাদের কমপক্ষে মাস্টার্স লেবেলের শিক্ষাগত যোগ্যতা থাকা উচিত। মাস্টার্স লেবেল না হলেও কমপক্ষে গ্রাজুয়েশন লেবেল অবশ্যই থাকা উচিত। কারন এই এমপিদের থেকেই কেউ না কেউ মন্ত্রী, উপমন্ত্রী ইত্যাদি হবেন। এরা যেমন দেশের পলিসি মেকার তেমনি দেশ বিদেশের তাদের কাউন্টার পার্টদের সাথেও তাদেরকে ডিপ্লোমেটিক আলাপ-আলোচনায় বসতে হয়। প্রয়োজনীয় শিক্ষাগত যোগ্যতা এবং ডিপ্লোমেটিক জ্ঞান ছাড়া দেশের জন্য খুব ভালো পজিটিভ ফলাফল আনা অনেক ক্ষেত্রে সম্ভব হয় না।
(২) নির্বাচনের সময় ক্যান্ডিডেটদের নির্বাচনের পাশাপাশি যদি সাধারন জনগন সঠিক ক্যান্ডিডেট দেয়া হয় নাই বলে মনে করেন, তাহলে সেক্ষেত্রে শতভাগ জনগনের রায় প্রতিফলিত হবার নিমিত্তে একটা অপশন থাকা উচিত যাকে আমরা “না ভোট” বলি। না ভোটের মাধ্যমে জনগন তাদের রায় দেয়ার একটা অপশন থাকলে অযোগ্য ব্যক্তিকে প্রত্যাখান করার জন্য রায় দিতে পারে। যদি “না ভোট্র” পরিমান বেশী হয় তাহলে দলগুলি বুঝতে পারবেন যে, তাদের ক্যান্ডিডেটকে জনসাধারন পছন্দ করেন নাই।
(৩) প্রতিটি ক্যান্ডিডেটের এবং তাদের পরিবারের বিশেষ করে স্ত্রী, সন্তানের দৃশ্যমান আয়ব্যায়ের সঠিক তথ্য জনসম্মুখে (মিডিয়ার মাধ্যমে খোলাখুলি প্রচার) প্রকাশ করা।
(৩) নির্বাচনে কমপক্ষে ৬০% থেকে ৬৫% ভোট কাস্টিং না হলে সেখানে পুনরায় ভোটের ব্যবস্থা করা উচিত।
(৪) এক নাগাড়ে কেউ দুইবারের বেশী রাষ্ট্রের প্রধানমন্ত্রী বা সরকার প্রধান হতে পারবেন না। সংখাগরিষ্ট দলের মধ্য থেকেই রাষ্ট্রপ্রধান বা সরকার প্রধান করতে হবে এমন নয়। সব দল তাদের দল সংখাগরিষ্ঠ হতে পারেন ভেবে তারা রাষ্ট্রপ্রধানের জন্য দলগুলি থেকে সাধারন নির্বাচনের সময়ের আগেই তারা প্রোবাব্যাল ক্যান্ডিডেটের নাম নির্বাচন করে দেবেন এবং তিনিও জনসাধারনের গনভোটে সরকার প্রধান নির্বাচিত হতে পারেন।
(৪) আরেকটা অপশন এমন হতে পারে যেঁ, রাষ্ট্রপতি শাসিত সরকার হলে দল নির্বিশেশে শুধুমাত্র রাষ্ট্রপতির জন্য আলাদা নির্বাচন এর আয়োজন করা যেখানে সাধারন জনগন অংশ নিতে পারেন।
১৮/৮/২০২৪-গৃহযুদ্ধ
আমার কেনো জানি মনে হচ্ছে-হাসিনার রিজিম শেষ হবার পর এদেশে কয়েকটা শ্রেনী, গোত্র এবং সার্থানেসী দলের সৃষ্টি হয়েছে। এখন কে যে দেশ চালাচ্ছে, কার কথায় যে আইন কানুন চলছে, কিছুই বুঝা যাচ্ছে না। ছাত্ররা একদিকে বাজার মনিটরিং করতে গিয়ে এর আদিয়ান্ত দেখার (বিক্রেতা কত করে কিনলো, কত তার খরচ হলো আর কততে সে বিক্রি করলে সে ব্যবসাটা টিকিয়ে রাখতে পারবে ইত্যাদি) কোনো প্রয়োজন মনে না করে প্রান্তিক বিক্রেতার উপর খরগ চালাচ্ছে। ফলে সেই প্রান্তিক ব্যবসায়ী তার পুজি হারানোর আগেই তার ব্যবসা গুটিয়ে নিচ্ছে। অন্যদিকে যে কোনো সমন্নয়ক যখন যা খুশি সেটাই দাবী করে আল্টিমেটাম দিয়ে আবারো পথে নামছে। উপদেষ্টা নিয়োগ করে তাকেই আবার পদিত্যাগে বাধ্য করছেন। প্রশাসনে সিনিয়ার সিনিয়ার সচীবগন (হোক সে দুর্নিতিগ্রস্থ) তাকে যার পর নাই অশোভন ব্যাবহার করে তার পদত্যাগ করিয়ে অবসর প্রাপ্ত মানুষদেরকেও সেই পদবীতে বসিয়ে দিচ্ছেন। আরেকদল যারে খুশী তারেই রাস্তায় ধরে কান ধরিয়ে দাড় করিয়ে উঠবস করাচ্ছে। পুলিস থানায় নাই, আবার যারাই আছেন তারা হয়তো আর্মির প্রোটেকশনে কোন রকমভাবে নিরাপত্তার ব্যাপারটা সামলানোর চেষ্টা করছেন, সেখানে গিয়ে কিছু বিপথগামী ছাত্র অকথ্যভাষায় গালাগালি করছেন কেনো তারা থানায় আছেন। আরেকদিকে আরেকটি দল এই সুযুগে যা পারে তাইই দখলে মত্ত। দোকান ভাংচুর, জায়গা দখল, হানাহানিতে লিপ্ত। শিক্ষা কলেজ গুলিতে প্রিন্সিপ্যাল, ভাইস প্রিন্সিপ্যালগনের একযুগে অন্যত্র বদলীর আন্দোলনে স্কুল কলেজ গুলি অভিভাবক ছাড়া চলছে। ব্যাংকগুলিতে কেউ ২ লাখ টাকার উপরে টাকা উত্তোলনে নিষেধাজ্ঞা। আইন বিভাগেও কোনো কাজ সুষ্টুভাবে চলছে না। অন্যদিকে সাপ্লাই চেইনে যারা স্বাভাবিক সাপ্লাই সরবরাহ করবেন তারাও নাই, পাশের দেশ ভারত এই ফাকে তাদের পন্য এদেশে রপ্তানীতে অনীহা, ইত্যাদির কারনে আমার কাছে এখন একটা বিভীষিকাময় দিন ঘনিয়ে আসছে বলে মনে হচ্ছে।
কেউ বুঝতেছে না যে, খুব দ্রুত সব কিছু শেষ হয়ে যাচ্ছে। নিত্যদিনের প্রয়োজনিয় কমোডিটি কমে যাচ্ছে, বিদ্যুৎ উৎপাদনের জন্য ফার্নেস তেলের অভাব হতে যাচ্ছে, কয়লা উত্তোলনের হার কমে গেছে, ভোজ্য তেলের আমদানি বন্দ হয়ে যাচ্ছে, দেশের মজুদ চালের পরিমান কমে যাচ্ছে প্রতিদিন, বড় বড় কোম্পানিগুলি যারা এসব আমদানি করতো তারা পর্দার অন্তরালে চলে গেছেন, গার্মেন্টেস এর র ম্যাটেরিয়ালের অভাব পরিলক্ষিত হচ্ছে ফলে অচীরেই গার্মেন্টস শিল্পেও একটা ধাক্কা আসবে। এই সব মিলিয়ে দেশে একটা দুর্ভিক্ষের জন্ম নিতে পারে।
মানুষের যখন নেসেসারী কমোডিটি আর হাতের কাছে পাবে না, জনরোষ তৈরিতে বেশি সময় লাগবে না। কথায় আছে, একজন ক্ষুদার্থ মানুষ রাগান্নিত থাকে। একালের ছাত্র সমাজকে বাস্তবতা বিবর্জিত মনে হচ্ছে এখন। প্রথম আন্দোলনটা সাপোর্ট করতে আমার কোনো দ্বিধা ছিলো না কিন্তু এই মুহুর্তে তারা যা করছে সেটা বাড়াবাড়ি। তাদের এই বাড়াবাড়িতে প্রশাসন, ব্যবসায়ী, আমলা, এবং সুশীল সমাজ এখন নিসচুপ। তাদের এই নিসচুপতা আমাদের দেশকে একটা কঠিন ভয়াবহ অবস্থার দিকে সম্ভবত নিয়ে যাচ্ছে যা এই জেনারেশন বুঝতেছে না। তারা দেশটাকে নিয়ে আমার মনে হচ্ছে খেলা খেলছে। তাদের থামানোর কেউ নাই। ৩ মাসের মধ্যে সিংগাপুর বানিয়ে ফেলবো, ৯০ দিনের মধ্যে পৃথিবীর বেষ্ট হাসপাতালের সার্ভিস দিতে হবে, সরকারের তহবিল থেকে সবাইকে বিনা মুল্যে চিকিৎসা দিতে হবে, বেতন দিতে হবে সে পরিমান যে পরিমানে সবাই আরাম আয়েশে চলতে পারে, একটা ম্যাজিক। হয়তো সম্ভব, কিন্তু ব্যাপারটা এতো সহজ না।
যদি সেটাই হয়, আমার মতে তাদেরকে দিয়ে দেন সব সরকারী প্রতিষ্ঠান, তারা দেখি কিভাবে ম্যানেজ করে। আমরা খেলাটা দেখি। ওরা কাকে আদেশ করছে আসলে? আমি ফ্যাক্টরী চালাবো না, মানুষ পন্য বিক্রি করবে না। লোকেরা ডাক্তারী পেশা করবে না, কি হবে? দেখি ওরা কি করে?
ইউনুস সাহেব ছাত্রদেরকে শিক্ষকের মতো ক্লাশ নিয়ে তার মতবাদ বুঝাতে চাচ্ছেন এবং তাদেরকে এতোটা মাথায় তুলে নিচ্ছেন যে, একদিন এরা তার হাত থেকেই ফসকে যাবেন বলে আমার ধারনা। তাছারা আমার কাছে আরেকটা কথা মনে হচ্ছে যে, ইউনুস সাহেব কোনো না কোনো একটা এজেন্ডা নিয়েই এদেশে এসেছেন। তিনি ইসরায়েল এবং পশ্চিমাপন্থী একজন মানুষ। আমেরিকা একবার যাকে আদর করে বুকে টেনে নেয় বলে মনে হয় বটে কিন্তু সেই দেশের ছাড়খাড় না করে তারা ফেরত যায় না। আমরা যতোটা না হাসিনার দুর্নীতি আর ফ্যাসিজিমের করাঘাতে পিষ্ট হয়েছিলাম, আমার কাছে এখন মনে হচ্ছে তার থেকে অনেক বেশি সাফার করবো এবার এই ইন্টেরিম সরকারের আমলে।
তাহলে এই পরিবর্তিত পরিস্থিতিতে আমাদের মতো সাধারন মানুষের কি করনিয়?
কোথাও কোনো নতুন ইনভেস্টমেন্ট থেকে বিরত থাকা।
যদি টাকা থাকে তাহলে সব ব্যাংকে রেখে দেয়া এবং সেই টাকা থেকে যা লাভ পাওয়া যায় সেটাই আয় বলে ধরে নেয়া।
যদি কৃষিজ (যেমন মাছ, ধান চাষ, বাগান করা ইত্যাদি) তেমন থাকে সেটা চালিয়ে নেয়া।
নিজে যে কোন মন্তব্য থেকে বিরত থাকা কারন সিচুয়েশন কোনদিকে যায় এটা এখনই বুঝার কোনো উপায় নাই।
ফেসবুক, সোস্যাল মিডিয়ায় কোনোরুপ লেখালেখি থেকে বিরত থাকা।
কারো সাথেই কোনোরূপ রাজনৈতিক বা বর্তমান সিচুয়েশন নিয়ে আলাপ না করা।
আমরা আসলে একটা গ্রিহযুদ্ধের দিকে আগাচ্ছি বলে আমার ধারনা। আমার এ কথার ব্যাখ্যা কি?
চীন আমাদের বন্ধু এক সময় ছিলো বটে কিন্তু হাসিনার ভারত প্রেম চীনকে আমাদের থেকে অনেক দূরে সরিয়ে নিয়েছে।
আমেরিকার একান্ত আপনজন ইউনুস বর্তমানে এদেশের শাসনভার তুলে নেয়া চীন এবং ভারত কোনোভাবেই আমাদের পাশে তো থাকবেই না বরং এখানে একটা অস্থিতিশীল পরিস্থিতি তইরিতে সাহাজ্য করবে।
মায়ানমারে জনরোষ চলছে, কে জানে এই মায়ানমার রোহিংগা ইস্যুতে যদি মারমুখী হয়ে দেশের ভিতরে আক্রমন করে আবার ৭-সিস্টারকে রক্ষার জন্য ভারতও এক নাগাড়ে সেটাই করে, আমাদের ছোট এই সেনাবাহিনির পক্ষে ভিতরের আন্দোলন ঠেকাবে নাকি বহির্বিশহের আক্রমন ঠেকাবে?
সব ধরনের জালানি, আমদানি, রপ্তানি এবং খাদ্যদ্রব্য যদি ঘাটতিতে পড়ে তাহলে আরো খারাপ অবস্থার দিকে ধাবিত হবে দেশে। তখন নিসচিতভাবে একটা গ্রিহযুদ্ধের শুরু ছাড়া আর কিছুই আশা করা যাচ্ছে না।
১৬/৮/২০২৪-সমস্যার পাহাড়-বাংলাদেশ
(ক) পিক এন্ড চুজ নাকি প্রাইওরিটি ভিত্তিক নির্বাচন করছেন দেশের সমস্যাগুলি।
(খ) তত্তাবধায়ক সরকারের সবচেয়ে বড় কঠিন কাজটা হচ্ছে, যারা এই সরকারের সাথে জড়িত তাদের মধ্যেই একটা বন্ডেজ তৈরী করা কারন তারা একেকজন একেক জায়গা থেকে জড়ো হয়েছেন। ফলে একটা এডাপ্টিবিলিটির সময় দরকার, আন্দারস্ট্যান্ডিঙ্গের জন্য সময় দরকার। কিন্তু বাংলাদেশে যে গন অভ্যুত্থানটা হলো এর পরে সাধারন জনগন সাধারনত তাদেরকে দীর্ঘ সময় দিতে চান না। তারা চান রাতারাতি সব কিছু ঠিক হয়ে যাবে এবং করতে হবে। এটা একটা আবেগী জায়গা।
(গ) আমাদের দেশে পুরাতন রিজিমের মাধ্যমে ব্যাংক খাত, বিচার বিভাগ, শিক্ষা বিভাগ, সিভিল এডমিনিস্ট্রেশন, নিরাপত্তা বিভাগ, নির্বাচন কমিশন, পররাষ্ট্র নীতি সব প্রতিষ্ঠানকে একেবারে প্রায় ধংশ করে দেয়া হয়েছে। এই মুহুর্তে ইন্টেরিম সরকারের সময় সিভিল এডমিনিস্ট্রেশন গুলি ১০ থেকে ২০% কাজে মননিবেশন করছে। বাকি ৮০ থেকে ৯০% কাজই তারা ঠিক মতো করছে কিনা সন্দেহ।
(ঘ) কমিউনিটি পুলিশিং বা ট্র্যাডিশনল পুলিশিং স্বাভাবিক পর্যায়ে ফিরিয়ে আনতে আরো বছর খানেক সময় লাগবে বলে আমার ধারনা। কারন এই মুহুর্তে ছাত্ররা সেনাবাহিনি সবাই মিলে পুলিশকে আগের কনফিডেন্স লেবেলে ফিরিয়ে আনতে সাহজ্য করলেও এটায় একটা বিশাল ক্ষতের সৃষ্টি হয়েছে। ফলে এতো দীর্ঘ সময়ে আইন শৃঙ্খলা পরিবেশ স্বাভাবিক হইতে হইতে মানুশ অ ধইর্য হয়ে যাবার সম্ভাবনা।
(চ) ছাত্ররা ট্রাফিকিং, হাসপাতালের ক্লিনলিনেস, হোটেল রেশটুরেন্ট গুলিতে অকাম হচ্ছে কিনা যেভাবে চেক করছে। এই সিস্টেমগুলি মানুষ খুব একটা সহ্য করবে কিনা জানি না।
(ছ) নতুন সরকার রাজনীতিতে খুবই অনভিজ্ঞ, তাদের হয়তো অনেক অভিজ্ঞতা আছে প্রাইভেট সেক্টরে, তারা হয়তো অনেক জ্ঞানিগুনি জন সেসব সেক্তরে। কিন্তু তারা যে চেয়ারগুলিতে বসে আছেন, সেতা একেবারেই রাজনীতির চেয়ার। এখানে জনগনের চাহিদা আর চেয়ারের সক্ষমতার ব্যালেন্সের ব্যাপার। পলিটিক্যাল অফিস বা চেয়ারের বসে যদি পলিটিক্যাল ম্যাচিউরিটি না থাকে তাহলে এটা হ্যান্ডেল করা সম্ভব না। এই চেয়ারগুলিতে কাউকে চা খাইয়ে, কাউকে কিছু ভালো কথা বলে আসলে যাকে যেটা দিয়ে বুঝ দিয়ে ম্যানেজ করা।
(জ) শ্রেনি চরিত্র ঠিক করা। মানে বর্তমান ইন্টেরিক সরকার কি সাংবিধানিক চরিত্রের মাধ্যমে আবির্ভুত হয়েছে নাকি গন অভ্যুত্থানের মাধ্যমে বানান হয়েছে এটা এখনো ক্লিয়ার না। যদি সাংবিধানের মাধ্যমে হয়ে থাকে তাহলে একটাও এখন পর্যন্ত প্রতিফলিত হয়নি। যেমন, ১৫ আগষ্ট সাংবিধানিকভাবেই শোক দিবসের কথা লিপিবদ্ধ আছে, এটা একটা এক্সিকিউটিভ আদেশের মাধ্যমে বাদ করা যায় কিনা সেতা এক সময় প্রশ্নবিদ্ধ হবে।
(ঝ) এখন সামাজিক অস্থিরতা চলছে। মানুষ তারাহুড়া করছে। যেমন এখন বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর আহসান এইচ মনসুর যিনি বেসিক্যালি একজন রিচার্চার এবং একটা ব্যাংক পরিচালনার মত কন অভিজ্ঞতা তার নাই। অতঃপর ডেপুটি গভর্নর গুইও পদিত্যাগ করে এক্সিকিউটিভ অফিসার দ্বারা পুরন করা হয়েছে। বেসিক্যালি ডেপুটি গভর্নররাই বাংলাদেশ ব্যাংক চালায়। তাদের অভিজ্ঞতা অনেক। এখন ব্যাংক খাতে যে অনিশ্চয়তা চলছে বিশেষ করে ৮/১০ টা ব্যাংকে, যদি কোনো কারনে এই ব্যাংক গুলি দেউলিয়া হয়ে যায়, তাহলে বর্তমান ইন্টেরিম সরকারের পক্ষে এমন ঘটনা সামাল দেয়া সম্ভব হবে না। অথচ এই ব্যাংক গুলিতে হাজার হাজার কোটি টাকা জনগনের এবং ঋণ রয়েছে।
(ট) D: ইউনুস যদি এই মুহুর্তে আই এম এফ, এডিবি, জাইকা ইত্যাদির কাছ থেকে ৮০/৯০ বিলিয়ন ডলার রিজার্ভ আনতে না পারেন, তাহলে বাংলাদেশের অনেক কিছুই করা সম্ভব না। সফট লোনের মাধ্যমে না আনা যায় তাহলে অর্থনিতি কলাপ্স করবে। কিন্তু ইউনুস সাহেব এখনো সেটা শুরুই করতে পারেন নাই। মানুষের এক্সপেক্টেশন যদিঅতি দ্রুত করতে না পারেন, তাহলে এই ইন্টেরিম সরকারের উপর একটা বিরুপ ধারনা পড়তে বাধ্য।
(ঠ) আমলাতন্ত্র যদি ভাল হয়, সরকার প্রধান দুর্বল হলেও দেশ ভাল চলবে। স্ট্রং আমলাতন্ত্র থাকতে হবে যা এখন প্রায় নাই বললেই চলে। এই সরকার কিন্তু কোনো আর্লি হোম ওয়ার্ক করে আনা হয় নাই। ফলে সরকারকে হয়তো মানুষ কিছুটা গ্রেস পিরিয়ড দিবে কিন্তু সেই গ্রেস সময়টা অনেক লম্বা হলে মানুষ সহ্য হারাবে।
(ড) এখন হয়তো একটা ন্যাশনাল সরকার করা যেতে পারে পলিতিক্যাল পার্টি নিয়ে যাদের পলিটিক্যাল মানুষ আছে।
০২/০৮/২০২৪-বর্তমান প্রজন্মকে না বুঝবার প্রশাসন
বর্তমান প্রজন্মের জন্ম যদি ২০০০ সালের আগে পিছে হয়, তারমানে এই প্রজন্ম ১৯৫২ দেখে নাই, ১৯৬৯ দেখে নাই, ১৯৭১ দেখে নাই, ১৯৯০ দেখে নাই। ওরা যা দেখেছে, শুনেছে সব এই বর্তমান সরকারের মুখ থেকে, এই সরকারের দেয়া বক্তব্য থেকে। তাহলে এই প্রজন্মের তো পুরুটাই আওয়ামীলীগ ঘেষা হবার কথা। তারা তো একেবারে অন্ধ সাপোর্টার হবার কথা এই সরকারের। অথচ আমরা এই ২০২৪ সালে এসে দেখছি এরা প্রায় শতভাগ এই প্রশাসনের বিরুদ্ধে কথা বলছে।
কেন?
তাহলে কি এই প্রশ্নটা করা যায় না যে, গুরু যা বলছেন, শিষ্য তা বুঝলেও কিছুই মেনে নেয় নি। বুঝতে পারা আর মানতে পারা কিন্তু এক জিনিষ নয়।
এই প্রজন্ম দৈনিক পেপার পড়ে না, ওরা টিভি দেখে না, ওদের হাতে সময় নাই, খুব সল্প দৈর্ঘ কোনো রিল না হলে ওরা মুভিও দেখে না। যদিও দেখে, ওরা ৩ ঘন্টার মুভি টেনে টেনে ২০ মিনিটে দেখে শেষ করে দেয়। ওরা শুধু ক্রাক্স নেয়, মুল থিমটা নেয়। কিন্তু ওরা এতো বেশী কানেক্টেড একে অপরের সাথে যা আমাদের আমলে ছিলোই না। আমরা যে কাজটা করতাম ১ মাসে, সেটা ওরা করে এক দিনে। ওদের সাথে হাটতে পারার স্পীড আমাদের নাই। আমরা কোথাও গেলে ব্যাগ ভর্তি কাপড়, সরঞ্জাম নিয়েও ভাবি, আর কিছু লাগবে না তো? কিন্তু ওরা কাধে একটা ছোট ব্যাগ নিয়ে মাসের পর মাস দিব্যি সারা দুনিয়া ঘুরে আসে।
যাদেরকে রাজাকার বলে উল্লেখ করা হল, তারাই সেই মুক্তিযুদ্ধের গান, দেশের পতাকা, সে মুক্তিযুদ্ধের হিরোদের নাম নিয়ে রাস্তায় নেমেছে। এরা কারা? রাজাকার? ওরা রাজাকার দেখে নাই। কিন্তু এই আওয়ামিলীগই ওদেরকে ‘রাজাকার’ শব্দতা একটা অপমানজনক গালি হিসাবে শিখিয়েছে। আর এদেরকে সেই রাজাকার বলে উল্লেখ করা হলো?
দেশের ভাবমূর্তি নষত হচ্ছে বাচ্চাদের এই আন্দলনের মাধ্যমে। কথাতা একেবারেই ঠিক নয়। বরং সরকারের ভাবমুর্তি নষত হয়েছে। দেশের ভাবমুর্তি আর সরকারের ভাবমুর্তি কিন্তু এক নয়।
হাসিনার সবচেয়ে বেশী ভাবমুর্তি নষ্ট হয়েছে সবচেয়ে বেশি। আগে মানুষ ভাবতো, কোনো সমস্যা হয়তো শেখ হাসিনাকে ভালমতো তার পরিশদ ঠিকমতো বুঝাতে পারেনি কিংবা তিনি হয়তো ব্যাপারটা জানেন না। কিন্তু এই আন্দোলনে একটা ব্যাপার সবচেয়ে বেশী স্পষ্ট করেছে যে, হাসিনা জানে, কিন্তু তার আদেশ ছাড়া কিছুই হয় না। এবার হাসিনা আর দেশ মুখুমুখি হয়ে গেছেন।
মুক্তিযুদ্ধের পর্ব শেষ। ইউরোপের দিকে তাকান, দেখবেন ওখানে ২৮/৩০ বছরের যুবকরা প্রধান্মন্ত্রী হচ্ছে অথচ আমাদের এখানে ৭০/৮০ বছর বয়সেও ক্ষমতা ধরে রাখতে চায়। আমরা এখন কালপর্ব পার করছি। এর পরের পর্ব হচ্ছে ‘উত্তর পর্ব’। কালপর্ব থেকে উত্তরপর্বে যেতে অনেক রক্তক্ষয় হয়। আর আমরা ঠিক সেখানেই দাঁড়িয়ে এখন।
বাংলাদেশকে বুঝতে হলে এর ইতিহাস বুঝতে হবে, বাংলাদেশকে বুঝতে হলে এর ভউগলিক পরিবেশ বুঝতে হবে। কিন্তু আমাদের শাশক গোষ্ঠী এটা তো বুঝতেই পারে না বরং তারা অহমিকায় রয়েছে, আপোষের কথা বলে না, মতামত শুনতে চায় না, ভিন্ন মতামত টলারেট করে না। ফলে সবচেয়ে বড় ভিক্টিম হলো এখন আওয়ামীলীগ। এই দল এখন ‘ভুয়া”র তকমা পেয়েছে। এই নতুন প্রজন্মকে জায়গা করে দিতে হবে। এখন ভয় নামকটা চলে গেছে। সবাই এখন কথা বলছে, সবাই ধর্মীয় উগ্রবাদ আর নাই। জংগীবাদের তকমায় আর কোন সমাধান চলবে না। এ দেশের মানুষের মধ্যে অনেক ক্ষোভ, কথা না বলতে পারার অভিযোগ, রাষত্রের প্রতিষ্ঠান জনতার পক্ষে না দাঁড়ানো এগুলি সরকারকে শেষ করে দিয়েছে।
এবার তরুন সমাজের সাথে সবচেয়ে বেশি যোগ হয়েছে তরুনীরা। মহিলারা। ওরা যেভাবে আর্মির বিরুদ্ধে, পুলিশের বিরুদ্ধে দাঁড়িয়ে গেছে তা চোখে পড়ার মত। এখন সরকার সেই আগের অস্ত্র দিয়ে আর কন সমাধান হবে না।
যখন জনগনবিহীন কোন নির্বাচন হয় তখন অন্য অনেক কিছুই আর সংস্কার করা যায় না। অর্ত্নীতি সংস্কার, ব্যাংকিং সংস্কার, বিনিয়োগ সংস্কার, ট্যাক্স আহরনের সংস্কার কোনো সেক্তরেই পদক্ষেপ নেয়া সম্ভব না কারন কিছু মুষ্টিমেয় প্রশাসন নিয়ে যখন নির্বাচনে আসে কেউ, তখন গন মানুষের কাছে যাওয়া যায় না।
বাচ্চারা শুধু শিক্ষার কোটা নিয়ে আসে নাই। তারা জীবনের কোটা নিয়ে নেমেছে। আজকাল ৮০ হাজার টাকা দিয়েও সংসার চলে না।
৩১/০৭/২০২৪-এখন দরকার সেনাবাহিনীর সরকার
এখন দরকার
সেনাবাহিনীর সরকার
আজকে এই স্লোগানটা আমাকে একেবারেই কনফিউজড করে ফেল্লো। কিন্তু আমি খুব গভীরভাবে ভিডিওটা আবার দেখলাম। কিছু সেনাবাহিনী গোটা অনেক ছাত্রদেরকে বাধা দিচ্ছে যাতে কোন আন্দোলন না করে। ছাত্ররা উত্তেজিত, কিন্তু সেনাবাহিনি না তাদের গুলি করতে পারছে না আন্দোলনকে থামাতে পারছে। তারা বেশ ভদ্র এবং ভালো ব্যবহার করে ছাত্রদেরকে বুঝিতে একটু শান্ত হবার চেষ্টা করাচ্ছে। ঠিক সেই সময়েই একটা স্লোগান এলো
এখন দরকার
সেনাবাহিনীর সরকার
কি অদ্ভুত ব্যাপারটা!
আদ্ভুত না।
কারন কোনোভাবে যদি সেনাবাহিনী, বিজিবি, পুলিশ আর একটা গুলিও না করে, যদি এরা এদের আন্দোলনকে আর বাধা না দেয়, এই সরকারের আর কোন বিকল্প নাই। হতে পারে এটা বড় আরেকতা গেম প্ল্যান। হতে পারে সেনাবাহিনীকে নিজেদের আস্থায় নেয়া।
তখন মনে হলো- এখানে কি শুধু ছাত্ররাই তাদের মাথা খাটিয়ে গেম খেলছে? নাকি কেউ আছে এদের পিছনে যারা গাইড করছে?
ইয়েস, কেউ তো গাইড করছে। সরকারকে গাইড করছে ডিবির হারুন, ১৪ দলের কিছু ব্যাক ডেটেড রাহ্নীতিবিদ, আর সরকারের মন্ত্রীরা তো একেবারেই নস্যি এসব জেনারেশনের কাছে। সরকারকে গাইড করার জন্য কোনো পাকা বুদ্ধিদাতাও নাই। এমন কি আওয়ামিলীগের যারা পুরানো ছাত্র নেতা তারাও কিন্তু সরকারকে এখন মনে হচ্ছে গাইড করছে না। অন্যদিকে, ছাত্রদেরকে গাইড করার জন্য সারা দেশের আইনজীবি, ব্যবসায়ী, টিচার, অভিভাবক যেনো উঠে পড়ে লেগেছে।
পারবে কি ওয়াকার? পারবে কি ডিবির হারুন? পারবে কি ওবায়দুল কাদের? কিংবা আইন মন্ত্রী, স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী কিংবা তথ্য মন্ত্রীরা? পারবে না।
ব্যাপারটা দেখছি খুব কাছ থেকে।
30/7/2024-সরকার ইতিমধ্যে অনেক গুলি ভুল করে ফেলেছে।
সরকার ইতিমধ্যে অনেক গুলি ভুল করে ফেলেছে। কেনো জানি বারবার আমার কাছে মনে হচ্ছে, সরকারের আর পিছু হটার কোনো জায়গায়ই নাই। তার এখন শুধু সামনের দিকে এগুবার পথ খোলা আর সবচেয়ে বড় ব্যাপার হচ্ছে-সরকারের সামনে এখন সারাটা দেশ খড়গ হাতে নিয়ে তাকে কুপিয়ে মারার যন্ত্র। পতন তো অনিবার্য কিন্তু পতনের সাথে জিবনটাও শেষের পথে।
ডিবি হারুনকে দিয়ে সমন্নয়কদের তুলে নিয়ে জর করে নরাপত্তার দোহাই দিয়ে একতা ভিদিও বার্তায় সব কিছু মেনে নিয়ে আন্দোলন প্রত্যাহার করা হয়েছে এই সংবাদে সরকার খুশী হলেও বাংলাদেশের মানুষ নাটকটা বুঝতে এক সেকেন্ড সময় লাগেনি। সাধারন জনগন যতটা তারাতাড়ি বুঝতে পেরেছে তার থেকে অনেক বেশী এই যুগের জেন জেনারেশন ব্যাপারটা বুঝতে পেরেছে ক্ষনিকের মধ্যে। ফলে ওই ৬ সমন্নয়ক ছাড়াই ছাত্ররা পুনরায় আইন শৃঙ্খলা বাহিনির নাকের ডকায় কার্ফিউ লংঘন করে রাস্তায় নেমে পড়েছে। ডিবি হারুনের কোয়ালিফিকেশন কতটুকু যে এই যুগের ছাত্রদের মাইন্ড বুঝতে পারে? রাষ্ট্রীয় এই দূর্যোগের সময় যেটা এখন আন্তর্জাতিক পর্যায়ে চলে গেছে, এমন একটা স্পর্শকাতত ঘটনা ডিবি হারুনের উপর দিয়ে যে সমাধান করা যায় না এটাই তো সরকার বুঝতে পারে নাই।
সরকার সব কোটা আন্দোলন কয়েকদিনের মধ্যে ছাড় দিয়ে ছাত্রদেরকে সামাল দিয়ে ফেলেছেন বা ফেলবেন, এটা ভাবাও তো সরকারের সঠিক হয় নাই। এ যুগের ছাত্ররা জেড জেনারেশন। তারা খবরের কাগজ পড়ে না কিন্তু সমগ্র বিসশের খবর রাখে, এরা বাপ দাদার সম্পত্তিকে থোরাই কেয়ার করে, তারা নিজেরা সাবলম্বি হয়ে উঠছে। কারো উপর নির্ভরশিল নয় আর হতেও চায় না। অফিসের বস ভাল লাগে নাই তো পরেরদিন আই ডোন্ট কেয়ার বলে ছেড়ে চলে আসে। ১০ বছরের বন্ধুত্তকে তারা আই ফাক দি রিলেশনশিপ বলে চিরতরে একে অপরের থেকে ব্রেক আপ হয়ে যায়। এরা ৫ মিনিট একসাথে কোনো কাজ করে না। মুভি দেখে ফাষ্ট ফরোয়ার্দ করে, তাদের ২ ঘন্টা সময় নষ্ট করার সময় নাই। এই জেনারেশনের মাইন্ড বুঝা সরকারের কোন মন্ত্রী বা আমলার নাই। এরা আবেগী কিন্তু দাইরেক্ট। ফলে প্রহসমুলক একটা প্রজ্ঞাপন করেই ছাত্রদেরকে বুঝানো যাবে না। সরকার আবারো ভুল করেছে।
সরকার তার লেজুরবিত্তিক অংজ্ঞ সংঘটনকে লেলিয়ে দিয়ে যদি মনে করে তারা সব কিছু কন্ট্রোল করে ফেলবে সেটা মারাত্তক ভুল। আর সে ভুলটা ইতিমধ্যে সরকার অনুধাবন করেছে। যদি সরকার আবারো সেই সব অংগ সংঘটনকে দিয়ে কোনো প্রকার বাধার সৃষ্টি করতে চায়, তখন শুধু ছাত্র নয়, তাদের সাথে তাদের পরিবার, অভিভাবক সবাই একসাথে রাস্তায় নেমে পড়বে এতে বিন্দুমাত্র সন্দেহের অবকাশ নাই।
সরকার নিহত ছাত্রদের জন্য শোকের কথা বলে সারাদেশে শোকদিবস পালনের ঘোষনা দিয়েছে। আবারো ভুল। কারন নিহত ছাত্র গুলিকে সরকার বা সরকারের বাহিনীরাই করেছে। সেইতার বিচারের নির্দেশনা না দিয়ে শোকের বার্তা দেয়া কোনো মানুষ, ছাত্র কিংবা জনতা মানবে না। মানেও নাই। কাল ব্যাজের পরিবর্তে এখন সবাই লাল ব্যাজ ধারন করছে।
হাইকোর্ট, সুপ্রীম কোর্ট এর সিনিয়ার ল ইয়ারগন, বিশ্ববিদ্যালয়ের টিচারগন, আপামর জন সাধারন যেভাবে একের পর এক ফুলে উঠছে, এই সরকার এর কোন কিছুই সমাধান দিতে পারবে বলে মনে হয় না। নিহত ছাত্রদের অভিভাবকগনকে ডেকে পোলাও খাওয়াবেন, ক্ষতিপুরন দেবেন, এতেই কি তারা খুশি হয়ে আপনাকে মাফ করে দিবে বলে মনে করেন?
দেশে এখনো এমন পরিস্থিতি তৈরী হয়েছিলো না যে, সেনাবাহিনী নামাতে হবে। এই অল্প তুচ্ছ ঘটনাকে কেন্দ্র করেই যদি সর্বশেষ ট্রাম কার্ড ব্যবহার করে ফেলা হয়, যখন এর থেকে আরো তীব্র আন্দোলন রাস্তায় হবে, তখন কোন শক্তি প্রয়োগ করবেন? সেনাবাহিনীর চীফ সরকারের আজ্ঞাবহ মানেই কিন্তু এতা না যে, সেনাবাহিনির সবাই সেনাপ্রধানের কথায় চলবে। মাত্র গুটি কতক সেনা বা একটা ব্রিগেড যদি জনতার কাতারে নেমে যায়, সেনাবাহিনি তার বন্দুকের নল ঘুরিয়ে দিতে এক সেকেন্ড সময় লাগবে না কারন এই সেনাবাহিনী পিলখানার যন্ত্রনা ভুলে নাই, এই আর্মড ফোর্সেস একই কোর্ষ থেকে তিনজন চীফ নিয়োগে কখনোই খুশী হয় নাই। আরো অনেক কারন আছে এই সেনাবাহিনীর ক্ষোভ ঢালার। সুতরাং সেনাভিনীই একমাত্র সমাধানের উৎস হতে পারেনা। আজকের দিনের সেনাবাহিনীর ছেলেমেয়েরাও এই জেড জেনারেশনের বাচ্চা, এদের স্ত্রীরাও আগেরদিনের সেনা অফিসারদের গিন্নী থেকে অনেক তফাত। আজকের দিনের সেনা কর্মকর্তাদের মানসিক বিবেচনাও অনেক তফাত। তারা কি এটা অনুধাবন করবে না যে, তাদের বাচ্চা কাচ্চারা যখন স্কুল কলেজে যাবে, তাদের স্ত্রীরা যখন সমাজের অন্যান্য মহিলাদের সাথে মিশবে, তারা কি সেম এর আওতায় আসতে পারেনা? যদি সেটা হয়, তাহলে আরেক যুদ্ধ।
এই সরকারের সময়টা খুব ছোট হয়ে আসছে ক্রমাগত। বিরোধী দলের রাজনীতির প্রলেপ দিয়ে কোনোভাবেই জনরোষ ঠেকানো যাবে না। জামাত-শিবির নিষিদ্ধ করা যেতে পারে কিন্তু বর্তমান আন্দোলন তো জামাত-শিবির বা বি এন পি কে ঘিরে নয়!! হয়তো তারা এই আন্দোলনের ছায়ায় সরকারের কিছু নাশকতা করে সরকারকে আরো দূর্বল করার চেষ্টা করছে। ফলে জামাত-শিবির বা বি এন পিকে কাভার দিয়ে কোনো অবস্থাতেই বর্তমান আন্দোলনকে থামানো যাবে না।
আগামীকালকে জামাত-শিবিরকে নির্বাহি আদেশে নিষিদ্ধ ঘোষনা করা হবে বলে জানিয়েছে আইনমন্ত্রী। এটাও একটা ভুল সিদ্ধান্ত এই মুহুর্তে। একটা এতো বড় দলকে নিষিদ্ধ করলেই কি মানুষ গুলি আর আন্দলন করবে না? জামাতের কর্মীরা এতো বেশী ট্রেইন্ড যে, তারা দলের পরিচয় ছাড়াই তাদের সররাত্তক আন্দোলন চালিয়ে যাবে বলে আমার মনে হয়। বরং তখন তারা আরো বেশী ডেস্পারেট হবে। তাছাড়া তাদের নেটওয়ার্ক আরো বেশী স্ট্রং। এইটাও একটা ভুল সিদ্ধান্ত নিলো সরকার।
তাহলে সমাধানটা কি? সমাধান একটাই। জনগন যদি ক্ষমতার উৎস হয়ে থাকে, সেই জনগনের কাছে আবার ফিরে যাওয়া। অর্থাৎ নিরপেক্ষ নির্বাচন। আর যদি সরকার নিরপেক্ষ নির্বাচন দিতে বাধ্য হয়, তাহলে আওয়ামিলীগ এই যে এবার রাজনীতি থেকে বহিষ্কার হবে, আগামি শত বছরেও আর রাজনীতিতে ফিরে আসতে পারে কিনা সন্দেহ আছে।
২০/৭/২০২৪-কোটা আন্দোলন এবং দেশের অবস্থা
গত কয়েকদিন যাবত ছাত্রসমাজ কোটার বিরুদ্ধে আন্দোলন করছে। কোটাটা আসলে কি? সেটা আগে দেখিঃ
বিসি এস কোটায় কোটা-
মুক্তিযোদ্ধার কোটা- ৩০%
নারী কোটায়-১০%
জেলা কোটায়-১০%
উপজাতী কোটায়-৫%
প্রতিবন্দি কোটায়-১%
মোট-৫৬%
বাকী ৪৪% কোটা সারা দেশের জন্য। যেখানে প্রায় ৮ থেকে ৯ কোটি সম্ভাব্য চাকুরীজীবির প্রত্যাশায় ছেলেরা পরীক্ষা দেয়।
১ম ও ২য় শ্রেনীর নন-ক্যাডার কোট-
মুক্তিযুদ্ধার কোটা-৩০%
নারী কোটা-১৫%
জেলা কোটা-১০%
উপজাতী কোটা-৫%
প্রতিবন্দী কোটা-১%
মোট-৬১%
বাকী ৩৯% কোটা সারা দেশের জন্য। যেখানে প্রায় ৮ থেকে ৯ কোটি সম্ভাব্য চাকুরীজীবির প্রত্যাশায় ছেলেরা পরীক্ষা দেয়।
৩য় ও ৪র্ত শ্রেনীর জব কোটায়- ৭০%
রেলওয়েতে কোটা-৮২%
প্রাথমিক শিক্ষক নিয়গে কোটা-
নারী কোটা-৬০%
মুক্তিযুদ্ধা কোটা-৩০%
পোষ্য কোটা-৫%
প্রতিবন্ধি কোটা-১%
মোট= ৯৬%
বাকী ৪% কোটা সারা দেশের জন্য। যেখানে প্রায় ৮ থেকে ৯ কোটি সম্ভাব্য চাকুরীজীবির প্রত্যাশায় ছেলেরা পরীক্ষা দেয়।
এর মানে কোটার কারনে যতো মেধাবীই আপনি হন না কেনো, আপনার ভাগ্যে চাকুরী জুটবে মাত্র কখনো ৪৪%, কখনো, ৩৯%, কখনো ৩০%, কখনো ১৮%, কখনো মাত্র ৪% এর মধ্যে।
২০১৮ সালে সরকার এই কোটার প্রথা বাতিল করেছিলো কিন্তু পরবর্তীতে আদালতের মাধ্যমে এই সরকারী প্রজ্ঞাপন বাতিল করে পুনরায় সেই আগের কোতায় ফিরে যায় যদিও আই ওয়াশ হিসাবে সরকার আদালতে আপিল করে। সেই আপিলের শুনানী আজ হয়, কাল হয় করতে করতে প্রায় ৬ বছর পার হয়ে যায়। ছাত্ররা এর মধ্যে আর কোনো প্রতিবাদ করেনি। এবার যখন শুরুতে ছাত্ররা আবারো আন্দোলন করতে থাকে তখন প্রধান মন্ত্রী সরাসরি কয়েকটা বাক্যবানে ছাত্রদের পুরু আন্দোলনটাকে অন্য খাতে ঘুরিয়ে দেয়ার চেষ্টা করেন। তার সার সংগকেপ যদি বলি সেটা এ রকমের-
(ক) প্রধান্মন্ত্রী বললেন- কোটা মুক্তিযুদ্ধের নায় নাতকুরকে না দিয়ে কি আমরা রাজাকারের নায় নাতকুরকে দেবো? অর্থাৎ তিনি বলতে চাইলেন, যারা কোটার বিরুদ্ধে আন্দোলন করছে, তারা সবাই রাজাকারের বংশধর। ফলে ছাত্ররা এবার শ্লোগান দিল- তুমি কে আমি কে-রাজাকারা রাজাকার। কে বলেছে কে বলেছে-সইরাচার, সইরচার।
(খ) প্রধান্মন্ত্রী আবারো বললেন- এই কোটাধারী আন্দলনকে প্রতিহত করতে আমার ছাত্রলীগই যথেষ্ঠ। অর্থাৎ তিনি তার ছাত্রলীগ, যুবলিগ এবং তাদের সাপোর্টে পুলিশ বাহিনীকে দিয়ে গোতা ছাত্র আন্দলনকে তিনি প্রতিহত করবেন। অথচ ছাত্রদের এই আন্দোলনটা ছিলো পুরুই অরাজনিতিক।
ছাত্রদের আন্দোলন যখন তীব্র থেকে তীব্র হতে শুরু করে, সারাদেশ যখন উত্তাল এবং ছাত্রলীগ, যুব্লীগ, পুলিশ, বিজিবি, সবাই যখন অপারগ এবং একটার পর একটা যখন ছাত্র মারা যেতে শুরু করল, ছাত্রদের অভিভাবক, আত্তীয়সজনরাও কিন্তু ধীরে ধীরে এই ছাত্র আন্দোলনের মধ্যে শরীক হওয়া শুরু করছিলো। মানুষ এতোটাই আস্থার জায়গা হারিয়ে ফেলছিলো যে, তাদের পূর্ন সমর্থন এই অরাজনৈতিক ছাত্র আন্দোলনের পক্ষে ছিলো।
বিএনপি কিংবা জামাত হয়তো এর মধ্যে একটা সুযোগ খোজার চেষ্টা করছিলো কিন্তু আওয়ামীলীগ কোনোভাবেই একটা সহজ রাজনৈতিক দল নয় যে, তারা কুট চালে হেরে যাবে। দেশের বিভিন্ন কেপিআই গুলি যেমন সেতু ভবন, বিটিভি, মেট্রোরেল কারাগার ভাংগা ইত্যাদি যখন একটার পর একটা ধংশ হচ্ছিলো, আমার কাছে কেনো জানি অন্য রকম একটা কুট চাল মনে হচ্ছিলো। এমন কি হতে পারে যে, এগুলি সরকারই করেছে কিন্তু ছাপটা পড়ছে অন্য দলগুলির উপর? এদেশের হাজার কোটি টাকার দূর্নীতি করে পার পেয়ে যাওয়া বেনজির, মতিউর, সালমান এফ রমনা, আকবর সোবহান, রাজস্ব বোর্ডের অফিসার, পিএসসি র কর্মকর্তাগন, পুলিশ আইনজীবি সবাই যখন বিচারের সুম্মুখীন হয় না, তখন আমার তো একটা সন্দেহ থেকেই যায় যে, সরকার দেশপ্রেমিক নয়। একদিকে ডলার সংকট, অন্যদিকে ডলার পাচারের বিরুদ্ধে কোনো পদক্ষেপ নাই। কোথায় সরকারের দূর্বলতা? ফলে আমার কাছে এই কয়েক হাজার কোটি টাকার স্থাপনা ধংশ করাও কোন ব্যাপার না। যেমনটা প্রবাদে আছে-নিজের নাক কেটে পরের যাত্রা ভংগ করা। নিজের নাক, মানে কত কষ্টের একটা ব্যাপার, সেটাও যখন কেউ কেটে এটা সফল হতে চায় যে, কারো যাত্রা ত ভংগ হোক। তাহলে এই কয়েক হাজার কোটির টাকার স্থাপনা ভাংলেই বা কি। সরকারের এতো এতো গোয়েন্দা বিভাগ, ইন্টিলেন্স, এন এস আই, ডিজি এফ আই, পুলিশের গুপ্তচর, আরো অন্যান্য সংস্থা কারো কাছেই কি কোনো আগাম তথ্য ছিলো না যে, এতো এতো কে পি আই গুলিতে হামলা হতে পারে? এটা গ্রহনযোগ্য হতে পারেনা। তাহলে এটা কি ধরেই নেয়া যায় যে, এটা পুর্বপরিকল্পিত খোদ সরকারের পক্ষ থেকেই যেভাবে বি ডি আর কিলিং তাও সরকারী পেট্রোনাইজেশনে হয়েছিলো?
ছাত্রদের প্রাথমিক আন্দোলনকে সরকার কিছুই করতে পারবে না, এটা আদালতের বিচারাধীন ইত্যাদি বলে যখন হাত মুছে দিল, সেই একই সরকার কিভাবে তাহলে আদালতকে প্রভাবিত করে হাইকোর্টের রায় বাতিল করে, আদালতের সময়সীমা আগাইয়া এনে দুইদিনের মধ্যে তাও আবার ছুটির দিনে পুর্নাংগ এপিলেট ডিভিশন বসিয়ে ছাত্রদের পক্ষে রায় আনে? অথচ এই একই সরকার ছাত্রদেরকে রাজাকার উল্লেখ করে তাদের কোমলমতি হৃদয়ে রক্তক্ষরন, সরকারের রাজনৈতিক শাখা ছাত্রলীগই যথেষ্ঠ এসব ছাত্রদেরকে দমন করার জন্য ইত্যাদি বলে হুমকি দিলো। প্রথম আক্রমনতো সরকারের ছাত্রলীগই করেছিলো হলে হলে সাধারন ছাত্র-ছাত্রীদেরকে।
অত্যান্ত অপরিপক্ষ সরকারের সব সিদ্ধান্ত। এর আরেকটা কারন আছে- আর সেটা হল-সরকার গত ৪টি নির্বাচন জনগনের কোনো ভোটে নির্বাচিত হয়নি। তারা এই ছাত্রলিগ, পুলিশ, যুবলীগের মাধ্যমেই ভোট নিয়ন্ত্রন করে সরকারে বসেছে। তারা মনে করে-জনগনের কোনো প্রইয়োজনই নাই।
আজ প্রায় ৫ দিন যাবত ইন্টারনেট বন্ধ, কারফিউ, সেনাবাহিনী মোতায়েন ইত্যাদি করা হয়েছে। শিল্প কারখানা বন্ধ, গার্মেন্টস বন্ধ, কাচামাল সরবরাহ বন্ধ, মানুষের প্রিপেইড মিটারগুলিতে কারেন্ত বিল না দিতে পারায় ঘরে ঘরে আলো নাই, গ্যাস নাই, পানি নাই, এটা কোনো কথা? একটা যুদ্ধভিত্তিক দেশেও কারেন্ট থাকে, গ্যাস থাকে ইন্টারনেট থাকে, অথচ স্বাধীন দেশে এসবের এখন কোনো কিছুই নাই। সাধারন মানুষ এখন অতিষ্ঠ, কিছুই বলা যাচ্ছে না কখন আরেকটা মিছিল জানি বের হয়।
আমি আরেকতা জিনিষ সন্দেহ করছি বা আচ করছি যে, এই কয়দিনে ইন্টারনেট না থাকায় মানুষ কারো সাথেই কোন যোগাযোগ করতে পারছে না, সোস্যাল মিডিয়ায় কোনো সংবাদ আদান প্রদান করতে পারছে না। কিন্তু যখন ইন্তারনেট সচল করা হবে, সব তথ্য, সব ঘটনা যখন একের পর এক সোস্যাল মিডিয়ায় জাহির হতে থাকবে, তখন কি আরেকটা আন্দোলন অপেক্ষা করছে?
১৭/০৭/২০২৪-বাংলাদেশের দুর্নিতি
সব সময় কেনো জানি মনে হয়- “কি যেনো ঠিক নাই” শুধু মনে হয় “কোথায় যেনো গড়বড় হচ্ছে”। যখনই কারো সাথে আড্ডায় গল্প করতে বসি, সবার ভিতরেই যেন এই একই অস্তিরতা। একটা অস্বস্তি কাজ করছে সবার মনের ভিতর।
আসলে মুল বিষয়-দূর্নীতি। সকালে আমার পত্রিকা পড়ার অভ্যাস। পত্রিকাটা হাতে পাবার পর আমি প্রথমেই পুরু পত্রিকার সবগুলি পাতায় একবার চোখ বুলিয়ে নেই কোন ইন্তারেষ্টিং খবর আছে কিনা। যেই পাতাই উল্টাই, শুধু চোখে পড়ে দূর্নীতির মহাযজ্ঞ। আবার এসব যারা করছেন, তারা সবাই মুটামুটি সেসব মানুষগুলি যাদের কাজ ছিল যেন দূর্নীতি না হয় তার দেখভাল করা। অথচ তারাই ক্ষেত খেয়ে ফেলছেন। আরেকটা মজার অথবা শংকিত হবার বিষয় হচ্ছে-এরা সবাই প্রায় শুদ্ধাচারে ভূষিত।
প্রায় পুরু প্রশাসনিক ডিপার্টমেন্ট, আইন শৃঙ্খলা বাহিনি, পুলিশ, সেনাবাহিনী, বিচার বিভাগ, এক্সিকুইটিভ ব্রাঞ্চ, ইন্টিলিজেন্স ডিপার্টমেন্ট, পলিটিশিয়ান কোনো ডিপার্টমেন্ট বাদ পড়েনি। ঢালাওভাবে আমি কখনোই বলবো না যে, সবাই দুর্নীতি করেন, এসব ডিপার্টমেন্টে এখনো প্রচুর অফিসার, কর্মকর্তা বা কর্মচারী সৎ এবং দূর্নিতির ধারে কাছ দিয়েও হাটেন না। গুটিকতক দূর্নিতিবাজদের জন্য এসব সঠিক মানুষগুলিও কোনো না কোনো ভাবে অপমানিত কিংবা ডিপার্টমেন্টের কারনে অস্বস্তিতে ভোগেন।
পোষ্টিং বানিজ্য, ডিও বানিজ, টেন্দার বানিজ্য, অবৈধ দখলের প্রতিযোগীতা, অন্যের কোন একটা অসহায় অবস্থাকে পুজি করে বিপুল অংকের সুদ বা সম্পদ কেড়ে নেয়ার বানিজ্য যেনো আজ একেবারে ওপেন সিক্রেট হয়ে গেছে। ভূমি রেজিষ্ট্রেশনে যাবেন? সব কিছু ঠিক থাকলেও বড় অংকের সালামী ছাড়া সম্ভব না, আপনি যোগ্য, আপনার সঠিক জায়গায় যাওয়ার কথা, সেখানেও বড় বড় অংকের খেলায় পোষ্টিং বানিজ্য, আপনি আপনার শুদ্ধ জমি নিজের প্রয়োজনে অন্যের কাছে বিক্রি করবেন? পারবেন না, সেখানেও একটা বড় ধরনের সিন্ডিকেট। আপনি সৎ থাকতে চান, সরকারকে ট্যাক্স দিবেন, সেখানেও আপনি বড় বড় অফিসারদের কাছে খুব সহজেই জিম্মি হবেন। আপনার আইডি কার্ডকেও আপনি আর বিশ্বাস করতে পারবেন না কারন কখন যে আপনি রহিম থেকে করিম হয়ে গেছেন বুঝতেই পারবেন না। সেই আইডি কারড, নকল ওয়ারিশনামা, নকল নকল ছবি দিয়ে রহিমের সম্পদ করিম গিলে খেয়ে ফেলছে। বিচার চাইতে যাবেন? কার কাছে? সবারই তো একই দশা। তাহলে মানুষ কার কাছে যাবে? বিচার ব্যবস্থায়? আইন শৃঙ্খলা বাহিনীর কাছে? প্রশাসনের কাছে? পলিটিশিয়ানের কাছে? কোথাও কোনো আশ্রয় নাই। তাহলে মানুষ যাবেটা কোথায়?
২০০২ সালে আমি তখন জর্জিয়ায় জাতিসঙ্ঘের মিশনে কাজ করছিলাম। বাংলাদেশ কয়েকবার দূর্নীতির শীর্ষে ছিলো এবং সম্ভবত সেই সালেও দুর্নীতির সুচকে পিছিয়ে ছিলো না। আমার সাথে আরো অনেক দেশের সামরীক অফিসাররা একই মিশনে কাজ করছিলো। সুইডেন তখন দূর্নীতির একেবারে নিমে অবস্থান করছিলো। একটা ক্যাফেতে আমরা সবাই মিলে চা খাচ্ছিলাম, তখন সুইডেনের এক মেজর সাহেব আমাকে প্রশ্ন করেছিলো-আচ্ছা তোমাদের দেশে দূর্নীতিটা কিভাবে হয় যে একেবারে শীর্ষে উঠে গেলা? আমি এখন তাকে কিভাবে বুঝাই আমরা কিভাবে দুর্নিতি করি।
বললাম, আচ্ছা, তুমি যখন তোমার দেশে নিজের জন্য একটা পাসপোর্টের জন্য আবেদন করেছিলা, তখন কিভাবে পাসপোর্ট পেয়েছিলা?
সে বল্লো-আমি পাসপোর্ট অফিসের পোর্টালে গিয়ে অনলাইনে আবেদন করেছি, তারপর তারা আমাকে একটা ফিরতি ম্যাসেজ দিয়েছিল কবে নাগাদ আমার পাসপোর্ত দরকার, আমি তার উত্তরে একটা টেনটেটিভ তারিখ লিখে দিলাম। অতঃপর আমি সে তারিখে গিয়ে আমার পাসপোর্ট সংঘ্রহ করে নিয়ে এলাম। এইতো।
এবার আমি তাকে বললাম-
আমাদের দেশে অন লাইন পোর্তাল নাই, ফলে নিজে গিয়ে পাসপোর্ট ফর্ম আনতে হয়। যখন ফর্ম আনতে গেলাম, গিয়ে দেখবো, ফর্ম নাই। কিন্তু আমি যদি কিছু টাকা দালালকে দেই, কিছুক্ষনের মধ্যে আমি একটা ফর্ম পেয়ে যাবো। সেই ফর্ম এনে আমি যখন সব ডিটেইলস লিখে আবার পাসপোর্ত অফিসে জমা দিতে যাবো, গিয়ে দেখবো ডিলিং অফিসার সিটে নাই কিংবা আজকে আসবেন না। ফলে ফর্ম জমা দেয়া সম্ভব নয়। কিন্তু যদি দালালকে কিছু টাকা দেই, তাহলে সেদিনই ফর্ম জমা দেয়া সম্ভব। যাক, ফর্ম জমা দিলাম। এবার পুলিশ ভেরিফিকেশনে যাবে।
পুলিশ ভেরিফিকেশন কখনই শুরু হবে না যতোক্ষন না আমি কনো দালালকে আবার কিছু টাকা না দেই। শুরু হল পুলিশ ভেরিফিকেশন। এবার পুলিশ আসবে আমার ঠিকানায়। এসে বলবে, আমার এই সমস্যা, ওই সমস্যা, খারাপ রিপোর্ট যাবার সম্ভাবনা। ফলে পুলিশকে আরো একবার কিছু টাকা না দিলে পুলিশ ভাল ভেরিকেশন রিপোর্ট দিবে না। দিলাম কিছু টাকা। এবার এই ভেরিফিকেশন পুলিশের অফিসে জমা হয়ে থাকবে দিনের পর দিন। আমাকে নিজে গিয়ে খবর নিতে হবে ভেরিফিকেশন রিপোর্টটা পাসপর্ট অফিসে পাঠান হয়েছে কিনা। শুনতে পাব, এটা যেভাবে এসেছে সেভাবেই পড়ে আছে। সেই ভেরিফিকেশন ওখান থেকে পাসপোর্ট অফিসের দিকে চলমান করার জন্য আমাকে আবার কিছু টাকা দিতে হবে। দিলাম টাকা। এবার আমার পুলিশ ভেরিফিকেশন রিপর্ট চলে আসবে পাসপর্ত অফিসে। কিন্তু সেতা ডিলিং অফিসারের কাছেই থাকবে যদি না আবার তাকে কিছু টাকা না দেই। এভাবে টাকা আর ব্যক্তিগত অনুসন্ধানের মাধ্যমে শেষ নাগাদ এটা পাসপর্ট প্রিন্টিং এ যাবে। সেখানেও একই অবস্থা হবে, প্রিন্টিং হবে না যদি টাকার বরাদ্ধ না হয়। যাই হোক এসে গেলো প্রিন্টেড পাসপোর্ট। কিন্তু আমার হাতে আসে নাই।
এবার আবার যেতে হবে পাসপোর্ট অফিসে। সেখানে খবর নিয়ে দেখা যাবে আমার থেকেও অনেক পড়ে এপ্লিয়া করে অনেকেই আমার থেকে অনেক আগেই পাসপোর্ট নিয়ে চলে গেছেন কিন্তু আমারটা পড়ে আছে। দাও টাকা, খাওয়াও কিছু মিষ্টি, অতঃপর সপ্নের পাসপোর্ট আমার হাতে।
এটা শুনে সুইডেনের সেই অফিসার কিছুক্ষন অবাক আর হতভম্ব হয়ে বল্লো- তাহলে তোমরা কিভাবে চলো? এতো টাকা দিয়ে বা খরচ করে তারপর একটা কাজ করছ, এই টাকা পাও কই?
বললাম-দূর্নিতি করে পাই।
এদেশের টপ অফিশিয়ালরা যদি দূর্নীতি না করতো, তাহলে তাদের নিম্ন স্রের ব্যক্তিরা কনোভাবেই দুর্নীতিতে প্রবেশ করার সাহস পেতো না। রাজনীতিবিদরা পোস্টিং বানিজ্যে লিপ্ত, চাদা বাজীতে লিপ্ত, কেনাবেচায় কমিশন নিতে ব্যস্ত, অফিসারেরা ভূমিতে, কর-অফিসে, মিডিয়াতে, বিচার বিভাগে একটা রায় দিতে গিয়ে কোটি কোটি টাকায় সমঝোতা, স্কুল কলেজের পরীক্ষার প্রশ্নপত্র ফাস করে ড্রাইভার থেকে শুরু করে টপ লেবেলের অফিসাররা লিপ্ত, আইন শৃঙ্খলা বাহিনীও তাই, মানুষ মেরে, অযথা কোনো ক্রাইমে ঢোকিয়ে অযথা হয়রানী করে মামলা, ইয়াবা কি না করছে। সাধারন মানুষের কোথাও যাওয়ার জায়গা নাই। অথচ প্রতিবার রাজনীতিবিদরা সেই পুরানো স্লোগান দিয়েই ভোট চাইতে আসে-জিরো টলারেন্স, দূর্নীতিমুক্ত সমাজ, আইনের শাসন, উন্নয়ন আরো কত কি। আর আমরা সাধারন মানুষ বারবার প্রতারিতই হই।
প্রতিটি অপকর্মের হোতা ক্ষমতাশীন দল গুলির ক্ষমতাবান মানুষ গুলি। তারা মুখে আর যাইই কিছু বলুক, সেটা অন্যের জন্য কিন্তু নিজের বেলায় তারা কিছুতেই তাদের সেই বলা কথাগুলি প্রযোজ্য মনে করে না। আজকাল অপকর্ম করে কেউ লজ্জাও পায় না। বরং উলটা তারা যে অপকর্ম গুলি করছে এটা যেনো বাহাদুরি একটা কাজ এবং সমাজে বুক ফুলিয়ে বলেও বেড়ায় তাদের সেসব অপকর্মের ফিরিস্তি।
অথচ দেশটা কতো সুন্দর হতে পারতো।
০২/০৭/২০২৪-নিজের বল বাহুবল (নিখিল এম পি)
আমার স্ত্রী মিটুল চৌধুরী সরমারি বাঙলা কলেজে বহুবছর যাবত কর্মরত আছে। এখানে সে বিভাগীয় প্রধান, পর পর দুইবার শিক্ষক পরিষদের সম্পাদক, পরবর্তীতে ভাইস প্রিন্সিপ্যাল হিসাবে কাজ করছে। গত ১২ জুন ২০২৪ তারিখে প্রিন্সিপ্যালের পোষ্ট খালি হওয়ায় আমরা স্বাভাবিক কারনেই মিটুল যেনো এখানকার প্রিন্সিপ্যালই হোক চেয়েছিলাম। এর জন্য ঢাকার মেয়র আতিক ভাইয়ের একটা ডিও লেটার নেয়া হয়েছে, আর্মড ফোর্সেস ডিভিশনের পিএসও লেঃ জেনারেল শামিম শিক্ষা সচীব (যিনি ওর ক্লাসমেট) কে ফোন করেছে, শিক্ষা প্রতিমন্ত্রী চাপা আপাও মিটুলের পক্ষে সায় দিয়েছে। আমাদের লোকাল এমপি মাইনুল হোসেন খান নিখিল ডিও লেটার দিতে চায়নি। অনেকবার প্রতিশ্রুতি দিয়েও তাকে শেষ মুহুর্তে এসে ডিও লেটারটা দেয় নাই। অথচ আমরা তার ভোটার, স্থায়ী বাসিন্দা এই এলাকার। এর মধ্যে সে অনেকগুলি শর্ত দিয়েছিলো যেমন (১) মিটুল মাইনিকগঞ্জের মেয়ে হওয়াতে দুর্জয়কে দিয়ে ফোন করাইতে বলেছিলো, দূর্জয় ফোন করেছিলো (২) ঈদুল ফাতেহার সময় যাকাতের জন্য প্রায় ৭০ হাজার টাকার একটা ডোনেশন চেয়েছিলো, তাও দিয়েছি, শীতকাল থাকায় আমি আমার ফ্যাক্টরি থেকে তাকে প্রায় ২০০ সুয়েটার্স দিয়েছি।
এই এমপির সাথে আমাদের আগেও কোনো ব্যক্তিগত পরিচয় ছিলো না। যখন সে এমপি হলো, তখন তার কাছে আমি শুধুমাত্র একটা ডিও লেটার চেয়েছিলাম যা সে প্রতিশ্রুতিও দিয়েছিলো। কিন্তু কি এমন হলো জানি না, হটাত করে সে যেনো আর আমাদেরকে চিনেই না। জানি সে ঘুষ খায়, দূর্নীতি করে সেটা আমার দেখার ব্যাপার না। সে আওয়ামী যুব লীগের নাকি সভাপতি। ইন্টার পাশ একটা মানুষ। এদেশে সেই সব ইন্টার পাশ মানুষ গুলিই ডক্টরেট ওয়ালা মানুষদেরকে নিয়ন্ত্রন করে কারন খারাপ রাজনিতি। কোনো শিক্ষাগত যোগ্যতা নাই।
যাই হোক যেটা বলছিলাম, নিখিলের সাথে আমাদের কোনো প্রকার পূর্ব পরিচয় কিংবা ঘনিষ্ঠতাও ছিলো না। শিক্ষামন্ত্রী মহিবুল হাসান নিজেও আমার স্ত্রীকে নিখিলের কাছ থেকে একটা ডিও লেতার আনার কথা বলেছিলো এই বলে যে, ঢাকার মেয়র (আতিক সাহেবের ডিও অবশ্যই অনেক শক্ত একটা রিকম্নডেশন কিন্তু সেটা ঢাকার মধ্যে, কিন্তু নিখল এম পি সারা বাংলাদেশের যুব লীগের সভাপতি হওয়ায় তার প্রভাব রাজনীতিতে অনেক বেশী। এর মানে হলো আমার কাছে মনে হয়েছে যে, নিখিলকে শিক্ষামন্ত্রী ভয় পায়, কিংবা নিজের মন্ত্রনালয়ে একটা স্বাধীন সিদ্ধান্ত নিতে সে পারেনা। এটা লিডার বলে না।
যাইহোক, শিক্ষা প্রতিমন্ত্রী শামসুন্নাহার আপা, শিক্ষা সচীব, ডিজি সবাই মিটুলকে সাপোর্ট করলেও এবং তার একক নামে প্রিন্সিপ্যালের পোষ্টিং ফাইল সর্ব উচুতে উঠলেও এক রাতের মধ্যে আমিরুল ইসলাম পলাশকে সরাসরি শিক্ষামন্ত্রী নিখিলের আদেশে বাঙলা কলেজের প্রিন্সিপ্যাল করা হয়।
পলাশ সম্পর্কে আমার যা ধারনা ছিল, সে প্রিন্সিপ্যাল হবার পর, তার কথাবার্তা, আচরন এহং ব্যভার দেখে আমি কিছুতেই আগের পলাশ আর প্রিন্সিপ্যাল পলাশকে চিনতে পারছিলাম না। তার একটা ছত উদাহরন দেই-শিক্ষক্মন্ডলির একতা মিটিং এ পলাশ প্রকাশ্যে একটা মন্তব্য করেছিল- এই মীরপুর এলাকায় দুইজন সন্ত্রাসি আছে, এক নিখিল আর ২য়টা আমি পলাশ। ফলে কেউ যদি কোনো কিছু করতে চায় যা আমি চাই না, তাহলে তাকে ফায়ার করে দেবো।
এগুলি প্রিন্সিপ্যালসুলভ কোনো কথাবার্তা নয়।একজন সরকারি কর্মকর্তাকে আরেকজন কর্মকর্তা এভাবে ফায়ার করার হুমকি কিংবা নিজে ডিক্লেয়ারড সন্ত্রাসি এগুলি কোন সভ্য মানুষের কথা নয়।
৩১/১০/২০২৩-মাতৃভূমিকে রক্ষার জন্য জীবন উতসর্গ
মাতৃভূমিকে রক্ষার জন্য জীবন উতসর্গ করলে তাকে বলা হয় শহীদি মৃত্যু। কিন্তু যে জীবন শেষ হয় কোনো সন্ত্রাসী কর্মকান্ডে, কাউকে ক্ষমতার মসনদে বসানোর জন্যে কিংবা একে অপরের সাথে কোন ঝগড়া বিবাদে অথবা অন্য কোনো দেশের দূর্ব্রিত্তায়ন মানসিকতার পক্ষে যুদ্ধ করে, তাকে আর যাইই বলি শহীদি মৃত্যু আমি বলতে নারাজ।
ইদানিং সারাটা বিশ্বজুড়ে ক্ষমতার লোভ আর গদী টিকানোরর কুটকৌশলে যে খুন খারাবি চলছে, এর কৈফিয়ত কোথাও না কোথাও তো কাউকে না কাউকে একদিন দিতেই হবে। আজকে যারাই ক্ষমতার মসন্দে বসে নীরিহ জানমালের ক্ষতিগ্রস্থ করছে, এদের ক্ষতিপুরন কষ্মিনকালেও কেউ পুষিয়ে দেয় নাই, দিবেও না। ফলে যার ক্ষতি হয়, সেইই একমাত্র ভুক্তভোগী। তাকে কেউ মনে রাখে না, তার পরিবারের জন্য কেউ দায়িত্বও নেয় না। যে মানুষটি আজকে তার গুরুদেরকে ভালোবেসে অন্ধগলীতে লাশ হয়ে পড়ে গেলেন, তার পরের কাহিনী তার জন্য পুরুই আলাদা এবং অন্ধকার। কিছুক্ষনের জন্য হয়তো সেই লাশটা অতীব দামী হয়ে উঠলেও সেটা সন্ধ্যার আগেই চিরতরে হারিয়ে যায়।
অনেকেই বলে থাকেন, আজকের দিনের ক্ষমতার পালাবদলে হয়তো আমাদের সুখ বয়ে আনবে। এই কথাটার মতো মিথ্যা আশ্বাস আমার এই ৫৮ বছরের মধ্যে আর কোনো আশ্বাসই দেখি নাই। যারা ক্ষমতায় থাকে আর যারা ক্ষমতার পালাবদলে ক্ষমতায় আসে, তাদের মধ্যে আজ অবধি আমি কোনো তফাত দেখি নাই। পালাবদলের এই মাঝখানে যেসব স্লোগান, মেনিফেষ্টো থাকে তা নিছক কিছু বুলী যা আওরাতে হয়। ফলে যারা সুখের আশ্বাসে সেই তাদের গুরুজনদের মরিচীকার মত আশ্বাসে তাদের অমুল্য জীবন বলি দিয়েছেন বা দিচ্ছেন তারা সর্বদাই তিমির প্রাচিরেই রয়ে যান। তাদের ভাগ্য কখনো পরিবর্তন হয় না। এই দন্দের পালাবদলে মিছিলে মিছিলে একে অপরের আঘাতে যেসব মানুষগুলি মরেন, তারা আসলে শুধু দাবার গুটির সামনের সারির পনের মতো। নিজেদের সুখী ভবিষ্যতের জন্য, পরবর্তী বংশধরদের নিরাপত্তার জন্য আজকে যারা এই নীরিহ পনরুপী মানুষগুলি আন্দোলন করছেন তাদের মুল্য নেয়াহেতই সামান্য। কিন্তু সেই মানুষরুপি পনটাই কোনো না কোনো পরিবারের একমাত্র হয়তো উপার্জনকারী ব্যক্তি। তারও সন্তান আছে, তারও সংসার আছে, প্রিয় বাবা মা ভাইবোন আছে। অথচ তারা নিঃশব্দে ঝরে যায় অন্য কোন ক্ষমতালিপ্সু মানুষের জন্য যারা কোনোদিনই এসব মানুষের আপনজন ছিলো না। চোখের সামনে এসব করুন দৃশ্য দেখলে বার বার নিজের কাছে একটা প্রশ্ন জেগে উঠে-এর আসলে শেষ কোথায়? কবে মানুষ মানুষ হবে? একই দৃশ্য বারবার পুনরাবৃত্তি হলেও মানুষ কেনো ইতিহাস থেকে শিক্ষা নেয় না?
জীবন বড্ড সুন্দর, হোক সেটা আধাপেটে, কিংবা রোগে ভোগে। এতো ছোট জীবনে আমাদের সবার উচিত নিজের জন্য বাচা। অন্যকে বাচিয়ে নিজে মরে যাওয়ার মধ্যে কন বাহাদুরী নাই। অন্য কারো হাতের পুতুল হয়ে, কিংবা অন্য কাউকে নিজের জীবনের বদলায় সামনে এগিয়ে নিয়ে যাবার জন্য বিলীন করে দেয়া উচিত নয়। যে আজ এই দুনিয়া থেকে চিরতরে হারিয়ে গেলো, তার জন্য সূর্য উত্তরে উঠে দক্ষিনে অস্ত গেলেও কিছু যায় আসেনা। আকাশ ভর্তি নীলমেঘ কিংবা গাছে বসা পাখির কিচির মিচিরের দুষ্টু শব্দ বা মিষ্টি ডাকাডাকিতেও কিছু যায় আসেনা। আমরা একা একা কোনো কিছুই যেমন পরিবর্তন করতে পারবো না, দূর্বল জনগোষ্ঠীর সমষ্টিগত শক্তি দিয়েও বৃহত্তর শক্তির মোকাবেলা করতে পারবো না।
পৃথিবী হয়তো একদিন শান্ত হবে।
২৬/০৯/২০২৩-দলকানা আর দেশপ্রেম
হলুদ আরো আরো আরো বেশি হলুদ হইলে যেই রকম কঠিন হলুদ হয়, ফেসবুককে মাঝে মাঝে আমার সেইরাম হলুদিয়া মিডিয়া মনে হয়। বিভিন্ন ইস্যুতে কারো কারো পোষ্টে এমন ধারনা হয় যে, এই বুঝি সেইটা যেইটা আমি চাইতাছি। ২য় আলো ৩য় আলোর সংবাদের মত। দেখবেন এই ২য় বা ৩য় আলোর খবর পড়লে মনে হবে ইউক্রেন রাশিয়ারে এমন নাচন নাচাইতাছে যে, পুতিন জেলেনেস্কির কাছে খালি করজোরে মাফ চাওয়া বাকি।
অথবা
ফেসবুকের কিছু কিছু লোকের পোষ্ট পড়লে মনে হবে দেশের ভিতরের সব খবর তাদের পেটে। যেমন, হেলিকপ্টার রেডি, উড়াল দিচ্ছে উগান্ডার শাশক, কিংবা অমুক তারিখ থেকে উগান্ডা চলবে বুগান্ডার আদেশে, কিংবা নিষেধাজ্ঞা এমন জায়গায় ভিড়ছে যে, ঘরে ঘরে “হায় হোসেন হায় হোসেন” এর মত মাতম। অথবা উগান্ডা এমন অর্থনীতির গ্যারাকলে পড়ছে যে, পাবলিক না খাইয়া না খাইয়া সব কংকাল হইয়া যাইতেছে। কিন্তু বাস্তবে কোনোটাই ঠিক তাদের প্রচারের মত না যতটা লিখেন। হেলিকপ্টার উড়েনা,বুগান্ডার আদেশ কার্যকরী হয় না, বাজারে ভীর কমে না, রাস্তায় গাড়ির জন্য জ্যাম কমে না, মলের ফুডকোর্ট গুলিতে বসার জায়গা মেলে না।
আবার কিছু লোক আছে,উগান্ডারে এমুন ভালোবাসে যা বলার না কিন্তু খায় দায় হাগে মুতে আরেমিকা বা কাডানায় বা ইলাতি অথবা ইউপোর। তারা আসলে লাইম লাইটে আসতে চায়। যোগ্যতার প্রশ্ন না, এটা একটু ভাইরাল হবার চেষ্টা।
আরে ভাইজানেরা, দেশপ্রেম আর দলকানা এক জিনিষ না। দেশপ্রেম দেখতে চান? নীরবে চলে যান সেইসব মানুষদের কবরে যেখানে শুয়ে আছে দেশের জন্য যুদ্ধ করা আপনার থেকেও কম বয়িসি যুবক যাদের বাবা মা ভাই বোন স্ত্রী পরিজন থাকা সত্তেও শুধু দেশকে ভালবেসে শহীদ হয়েছেন। বুকে হাত দিয়ে বলুন- আপনার পরিবারের কয়জন সেই শহিদদের মধ্যে আছে? আবার এইটা কইয়েন না যে, আপনার চাচার শালার বউয়ের বান্ধবীর খালাতো ভাই শহীদ, তাই সেও আপনার পরিবারের অংশ।
আর দলকানা দেখতে চান? তাহলে একটা আয়না নিন, ভিতরে যাকে দেখতে পাবেন, তারা।
১১/০৯/২০২৩-২৫ জন সামরীক কর্মকর্তা বিএনপি তে যোগ দানের নিমিত্তে লেখা
রাজনীতি আগের মতো আর কেউ আদর্শের কারনে করে না। দেশপ্রেম, জনগনের দুঃখলাঘব, বৈদেশিক সম্পর্ক আরো দৃঢ়করনে দেশকে উচ্চতর আসিনে বসানো ইত্যাদি এখন আর রাজনীতিবিদদের স্লোগান নয়। প্রতিটা দেশেই এই চিত্র। হোক সেটা আমেরিকা, ইউরোপ, আফ্রিকা বা এশিয়া অঞ্চল। এটা হয়ে গেছে এখন মুলত ব্যবসায়ীক প্লাটফর্ম, কারো কারো জন্য ঝড়ের রাতে একপ্রকার একটা ঘাটের আশ্রয়ের মতো, আবার কারো কারোর জন্য এটা নিছক একটা আইডেন্টি থাকা দরকার তারজন্য। যারা ব্যবসায়ীক মুটিভেশন নিয়ে রাজনীতি করেন, তাদের অর্থবৈভব থাকায় তাদের অবস্থান এক, যারা ঝড়ের মধ্যে হাবুডুবু খেয়ে শুধুমাত্র বেচে থাকার তাগিদে একটা ঘাট হইলেই হয় ভেবে ঢোকেন, তাদের অবস্থা অন্য। আর যারা শুধুমাত্র একটা আইডেন্টি থাকার জন্য রাজনীতিতে আসেন তাদের অবস্থান তো আরো ব্যতিক্রম। তবে যেভাবেই বলি না কেনো, এটা অনেকটা দাবা খেলার গুটির মতো। যার অর্থ আছে, সে বসে রানীর পাশে, রাজার পাশে, মন্ত্রীর পাশে, অথবা থাকে মন্ত্রীর পাশে ঘোড়া, কিংবা হাতী ইত্যাদি হয়ে। তারা অনেক দূরের কোনো গুটিকে আক্রমন যেমন করতে পারে তেমনি তাদের সুরক্ষার জন্যেও ঢাল তলোয়ার থাকে। কারন তাদের ভ্যালু আলাদা।
আর যারা ঝড়ের মধ্যে হাবুডুবু খেয়ে শুধুমাত্র বেচে থাকার তাগিদে একটা ঘাট হইলেই হয় ভেবে ঢোকেন, এদের অবস্থাটা এ রকম যে, গরম কড়াই থেকে উনুনে পড়ার মতো। রাজনীতিতে ঢোকলেও অরক্ষিত আবার না ঢোকলেও অরক্ষিত। ফলে দলে তাদের অবস্থানটা সেই রানী, রাজা মহারাজারা কিংবা মন্ত্রী, হাতীরা সেভাবেই দেখেন যেভাবে তারা দেখেন একটা এতিমকে। কখনো তারা তাদের মাথায় হাত বুলান, আবার কখনো তারা তাকে সামনের সুনামীতে পাহাড়াদার করেন, আবার এমনো হয় তারা কখনো কখনো তাদের পরিচয়টাও ভুলে যান।
আর তৃতীয় সম্ভাব্য স্তরের কথা তো আরো ভয়াবহ। তারা শুধু একটা আইডেন্টিই পান, তার না থাকে রাজা-রানীর কাছে যাওয়ার ক্ষমতা, না পান তাদের কাছে কোনো আর্জি রাখার সরাসরি দরবার, না পারেন নিজের জন্য কিছু করতে। এই পক্ষটার সামনেই ঝুলে থাকে আরো দুটু শক্ত স্তরের দেয়াল। তাদের পক্ষে কোনোভাবেই সম্ভব হয়না সেই প্রথম স্তরের মতো বিচরন করা বা সেই দেয়াল টপকিয়ে সামনে আসা। কারন এদের আবির্ভাবই হয়েছে শুধুমাত্র “আছি”র মতো একটা আইডেন্টি পাওয়ার জন্য। সেটা তো সে পেয়েছেই।
এই দুই পক্ষের যাদের অর্থবৈভব নাই, তারা হবেন প্রথম সারির সৈনিক। এই সৈনিকদেরকে হাতী খাবে, ঘোড়া খাবে, কিস্তিতে মাত করবে, আবার অপর পক্ষের সৈনিকেরাও এই আমজনতা সৈনিকদেরকে খাবে। এরা মরার জন্যই গুটির প্লেটে জন্ম নেয়। এদের সর্বোচ্চ ক্ষমতা একপা এগুনোর, দুইপা হয়তো কখনো কখনো যেতে পারে কিন্তু সেটা খুবই কদাচিত। তবে কখনোই অনেক ঘর পেরিয়ে রানী-রাজার কাছে যেতে পারেন না।
রাজনীতির দোলাচলে যখন ক্ষমতার দন্দ বা পালাবদল হয়, তখন সবচেয়ে ক্ষতিগ্রস্থ হয় পরবর্তী দুই স্তরের বাহিনীর। তারা এবং তাদের সাথে তাদের পরিবার, আত্মীয়স্বজন অনেক কিছু হারায়, বন্ধু হারায়, নাগরীক সুবিধা হারায়, সমাজও হারায়, বঞ্চিত হয় অনেক মৌলিক অধিকার থেকে। তারসাথে যেটা যোগ হয় সেটা আরো করুনতর। কারন কোনো কিছু না করেই দাড়াতে হয় কাঠগড়ায়। আর সেই কাঠগড়ায় দাঁড়িয়ে বুঝা যায় পৃথিবীতে কোনো আদালত আজ পর্যন্ত স্বাধীন হয় নাই। কন্ঠের সর্বোচ্চ চিৎকারেও কেউ শুনতে চায় না, দুঃখের করুন কাহিনী কিংবা অবিচারের কষ্ট। তখন অনেক সহৃদয় বন্ধু, কাছের কিছু মানুষেরাও তাঁর সাহাজ্যে আসতে চাইলেও আসতে পারেন না। কারন তখন আক্রান্ত মানুষটি একটি ব্রান্ড। ব্রান্ডের যেমন আলাদা মুল্যায়ন, তেমনি অবমুল্যায়নও হয়। ব্রান্ড হওয়া খুব বিপদজনক।
মানুষের জীবনটা খুব ছোট। এই ছোট জীবনে প্রতিদিন আকাশ দেখলেও আকাশের মিষ্টি দৃশ্য দেখে শেষ করা সম্ভব না, বৃষ্টির দিনে ভিজলেও যে মজা সেই মজাটা এই ছোট জীবনেও উপলব্ধি করে শেষ করা যায় না। রাস্তার ধারে অবহেলিতভাবে যে লাল ফুলটা প্রস্ফুটিত হয়ে আছে, তাঁর রুপটাও কোনো এক শিশির ভেজা সকালে দেখলে মন ভালো হয়ে যায়। এই ব্রান্ডেড রাজনীতির কারনে আমাদের ছোট এই জীবনের অনেকটা সময় ক্ষমতার দন্দে বা দোলাচলে এসব হয়তো অনেকের ভাগ্যেই আর জোটে না। তাদের পা দৌড়াতে দৌড়াতে যখন ক্লান্ত হয়ে যায়, তখন দিনের শেষ আলোটা প্রায় নিভু নিভু।