৭/১২/২০২৫-ব্রেডি একজন নিষ্পাপ সন্তান

কোথায় যেনো আমি পড়েছিলাম বা কেউ আমাকে শুনিয়েছিলো যে, আমাদের নবীর জামানায় অর্থাৎ যখন আমাদের নবী বেচে ছিলেন তখনকার সময়ে যদি কেউ তার নিজ ধর্ম ত্যাগ করে ইসলাম ধর্মকে গ্রহন করেন, তার যে সঅয়াব বা মোজেজা তিনি পাবেন, তার থেকে অনেক বেশি গুন সওয়াব বা মোজেজার অধিকারি হবেন সেই ব্যক্তি যে কিনা হুজুরকে না দেখে, আল্লাহকে না দেখে শুধুমাত্র ইসলামের বিশ্বাস কে ধারন করে ইসলাম গ্রন করেন। এতার একটাই কারন যে, তিনি না দেখলেন আমাদের নবীকে, না দেখলেন আল্লাহকে অথচ তাদের উপর বিশ্বাস করে পড়ে নিলেন- লা ইলাহা ইল্লালাহু মোহাম্মাদুর রাসুলুল্লাহ।

আজ সেই রকম একটা দিন যেখানে ব্রেডি একজন খ্রিষ্টাণ ছেলে হয়েও ইসলাম ধর্ম গ্রহন করেছে আমার মেয়ে কনিকাকে ভালোবেসে যেহেতু কনিকা একজন মুসলমান সন্তান। আলহামদুলিল্লাহ।

 

মূল কাহিনীঃ

আমার ছোট মেয়ে সানজিদা তাবাসসুম কনিকা ২০২০ সালে আমেরিকা গিয়েছিলো পড়াশুনা করার জন্য। সে ২০২৪ সালের মে মাসে অনার্স শেষ করে চাকুরীতে ঢোকে যায়। ওর জন্য আমরা ওয়ার্কিং ভিসার জন্য ওর মামার দোকান থেকে একটা স্পন্সরশীপের ব্যবস্থা করছিলাম। এটা প্রায় শেষের পথে। কিন্তু মানুষের মন, কোথায় যে কি হয় সেতা বুঝা বড় অসুবিধা। কনিকা ভালোবাসার ফাদেই বলি আর মায়াতেই বলি আমেরিকার এক খ্রিষ্ঠান ছেলে যার নাম ব্রেডি স্মিথ এর প্রেমে পড়ে যায়। কনিকা সব সময়ই আমার কাছে ফ্রি এন্ড সৎ ছিলো বিধায় ব্রেডির ব্যাপারটা আমার কাছে কখনো গোপন করেনি। কনিকার উপর আমার অগাধ বিশ্বাস আছে, ছিলো এবং ইনশাল্লাহ থাকবে। আমি যখন ২০২৫ সালের জুনের দিকে আমেরিকায় বেড়াতে যাই, কনিকা ব্রেডিকে এবং তার মা রবার্টাকে আমার সাথে পরিচয় করিয়ে দিয়েছিলো।

ব্রেডির মা ব্যাসিক্যালি জার্মান অরিয়েন্টেড, ব্রেডির বাবার প্রেমে পড়ে ব্রেডির মা রবার্টা বিয়ে করেছিলো। ২০০০ সালে যখন ব্রেডির জন্ম হয়, তার আগে পিছের ব্রেডির বাবার কাহিনী খুব একতা ভাল মনে করেনি রবার্টা। ফলে ২০০৩ সালে রবার্টা ব্রেডির বাবার কাছ থেকে পৃথক হয়ে যায় মানে ডিভোর্সড নিয়ে নেয়। সেই থেকে রবার্টার বড় মেয়ে রিচেল এবং ছেলে ব্রেডিকে নিয়ে আলাদা বসবাস করতে থাকে। এখনো তারা একই সাথে থাকে। মেউএ রিচেলের এখনো বিয়ে হয়নি, রবার্টাও আর কখনো বিয়ে করেনি। ব্রেডি আর রিচেলকে নিয়ে ভালই আছে।

রিচেল এবং ব্রেডি একই অফিসে কাজ করে। মা রবার্টা অন্য অফিসে কাজ করে। ছোট পরিবার, বেশ ভাল লেগেছে আমার ওদের সবাইকে যদিও আমি এখন অবধি রিচেলকে চোখে দেখিনি।

আমেরিকায় থাকতে আমি রবার্টার সাথে আর ব্রেডির সাথে দুই তিনবার রেষতুরেন্টে দেখা করেছি, অতঃপর রবার্টাকে কনিকার বাসাতেও আনিয়ে দেখা করেছিলাম। রবার্টাকে যথেষ্ট মাদারলি মনে হয়েছে, দায়িত্বশিল মনে হয়েছে, ব্রেডিকেও একজন ফ্যামিলি বয় হিসাবে মনে হয়েছে। ফলে ব্রেডিকে আমার অপছন্দ হয়নি।

কিন্তু আমার একতাই শর্ত ছিলো যে, আমাদের ধর্মীয় ভাবে যদি ব্রেদির সাথে কনিকার বিবাহ বন্ধনে আমার রাজি হতে হয়, তাহলে ব্রেদিকে অবশ্যই মুসলমান হতে হবে। এটা নিয়েও ব্রেডির এবং রবার্তার কন অবজেকশন ছিলো না বরং তারা এতে রাজিও আছে বলে আমাকে জানালো।  আমি মনে প্রানে ব্রেডিকে নিয়েই কনিকার লাইফ স্তাইল চিন্তা ভাবনা করছিলাম। আমার পরিকল্পনা হল-আমেরিকায় আমি কনিকাকে একটা বাড়ি কিনে দেবো যাতে ওরা সুন্দরভাবে একত্রে থাকতে পারে। সে মোতাবেক ইতিমধ্যে আমি কনিকার একাউন্টে ৫৮ হাজার ডলারও দিয়ে রেখেছি। আরো ২০ হাজার ডলার পাঠানর প্রক্রিয়ায় আছে।

হতাত করে গত ৪ ডিসেম্বর তারিখে কনিকার একটা ম্যাসেজ আমাকে অনেক অনেক দূর্বল করে দেয়। আর ম্যাসেজটা হচ্ছে যে, আব্বু, আমরা আগামি ১১ ডিসেম্বর ২০২৫ তারিখে কর্টে গিয়ে বিয়ে করার সিদ্ধান্ত নিয়েছি। এবং ব্রেডি মুসলমান হতে চায় না, এতে আমার কন সমস্যা নাই। আমি যেনো হতাশ হয়ে গেলাম। কেনো ব্রেদি হটাত করে ১৮০ ডিগ্রী ইউ তার্ন নিয়ে নিল? ওদিকে আমি আমার মেয়ে কনিকাকে চিনি, ওকে জর করে কন কিছু থেকেই বের করে আনা সম্ভব নয়। কনিকা যেটা ভাল মনে করবে, সে তার সিদ্ধান্তে সর্বদা অটল থাকে। আমি নিশ্চিত আমার পরাজয় আমার চোখের সামনে দেখতে পাচ্ছিলাম। আমার বউ মিটুলের চোখের পানির যেনো শেষ নাই। আমি পুরুষ মানুষ, আমার চোখের পানি হয়তো কেউ দেখছইলো না, কিন্তু ভিতরে ভিতরে কনিকাকে হারিয়ে ফেলার যে একটা যন্ত্রনা আর রক্ত ক্ষরন, সেই ব্যথাটা আমি হাড়ে হাড়ে বুঝতেছিলাম। আমি প্রতিটা নামাজে আমার আল্লাহর কাছে শুধু একটা প্রার্থনাই করছিলাম যে, হে আল্লাহ, হয় তুমি কনিকাকে এই পথ থেকে সরিয়ে আনো যা তোমার পথ না, আর না হয় তুমি ব্রেডিকে তোমার পথে নিইয়ে আস। যেতা আমার মেয়ের জন্য সবচেয়ে মংগল, তুমি সেতাই করো মাবুদ।

মেয়ের উপর বারবার রাগ হচ্ছিলো আবার ওকে বেশি করে শাসন করলে যদি বেকে বসে তখন আর কোনো অবস্থাতেই আর বাগে আনতে পারবো না আমি। ফলে আমি লাগাতার কনিকাকে এবং ব্রেডির মাকে কয়েকটা ম্যাসেজ পাঠাতে বাধ্য হলাম। সেই ম্যাসেজ গুলি ছিলো এ রকমঃ

মেয়েটার কোনো দোষ ছিলো না। ব্রেডিরও কোন দোষ নাই। একটা এতো অল্প বয়সের একটা খ্রিষ্ঠান ছেলের পক্ষে ধর্মান্তরিত হবার সিদ্ধান্ত এত সহজ না। নাম পরিবর্তন হয়ে যাবে, সমাজ পরিবর্তন হয়ে যাবে, পাসপর্ট পরিবর্তন হয়ে যাবে। কর্মক্ষেত্রেও একতা প্রভাব পরতেই পারে ইত্যাদি।

অন্যদিকে আমার মেয়ে কনিকাও ব্রেডিকে ছেড়ে আসতে পারছিলো না। মায়া, মহব্বত, প্রেম তো ছেড়ে দেয়া আরো কষ্টের। এই বয়সে ধর্মকে কজন পারে নিজের জীবনের পাথেয় করে তুলতে? আবার ব্রেডিকে পাইতে গিয়া আমাকেও তার ছাড়তে হতে পারে, ওর মাকে ছাড়তে হতে পারে, ওর বোন আর বোনের স্বামী আবিরকেও ছারতে হতে পারে যা অর পক্ষে হৃদয়বিদারকই না শুধু রীতিমত ভয়ংকর। আমি কনিকার অবস্থান্টাকে খুব মনের ভিতরে আচ করতে পারছিলাম। কষ্ট হচ্ছিল মেয়েটার জন্য। কি একটা কঠিন পরীক্ষার মধ্যে ফেলেছে আল্লাহ আমার মেয়েকে। আমার মেয়ে তার সমস্ত ক্ষমতা দিয়ে, আবেগ দিয়ে, ব্রেডিকে বুঝাইতে সক্ষম হয়েছিল যে, সে কাউকেই হারাইতে চায় না, না ব্রেডিকে, না বাবাকে, না মাকে, না অন্য কাউকে। আল্লাহ ব্রেডির অন্তরে কি এক প্রশান্তি এনে দিলেন যে, ব্রেডি রাজি হল মুসলমান হবে। কিন্তু নাম পরিবর্তন করা ওর সম্ভব না। আমিও বললাম, এতে কন অসুবিধা নাই। নাম পরিবর্তন কন ইস্যু নহে। ইস্যু শুধু একতা-এক আল্লাহলে নিজের ইচ্ছায় মেনে নেয়া এবং হজরত মোহাম্মাদ (সঃ) কে আল্লাহর শেষ নবি এবং রাসুল হিসাবে মেনে নেয়া। ব্রেডির জন্য আল্লাহ কাজটা একেবারে সহজ করে দিয়েছেন। অতঃপর আমার মেয়ে আবার আমাকে ম্যাসেজ দিলঃ

আমার মনতাই ভরে উঠল এবং অনেকটাই শান্ত হয়ে গেল। এখানে আরো একতা ম্যাসেজের কথা না লিখলেই নয়, আমি পাশাপাশি রবার্টাকেও ফেসবুকে ম্যাসেজ পাঠিয়েছিলাম। আর সেতা হচ্ছে-

রবার্টা আমাকে কোনো উত্তর করেনি। এর কারনটা আমি পরে জেনেছিলাম যে, রবার্টা কনিকা আর ব্রেডির কোনো পরিকল্পনাই জানতো না। বেচারী আমার কাছ থেকেই প্রথম এ ধরনের বার্তা পেয়ে নিজেও অবাক। ফলে সে আর আমাকে কি বার্তা দিবে? বরং ওদের কাছ থেকে কোনো বার্তা না পাওয়ায় অনি ওদের সাথে কথা বলাই বন্ধ করে দিলো অভিমানে। কিন্তু আমার ম্যাসেজ ওদেরকে পাঠাইতে ভুল্লেন না। আমি আবার এই তথ্যটা জানতেও পারিনি যে আসলে রবার্টা জানে না আবার অভিমান করেও বসে আছে। এটা জেনেছি অনেক পরতে।

যখন ব্রেডি ইসলাম গ্রহন করতে রাজি হল, আমার মনটাই ভালো হয়ে গিয়েছিলো। অতঃপর আমি কনিকাকে আরো কিছু মেসেজ পাঠিয়েছিলাম। সেগুলি এমনঃ

কনিকার মেসেজের কথা মতো বাংলাদেশ টাইম রাত ১ টায় ব্রেডির ইসলাম গ্রহনের কথা। তাই আমি জেগে থাকবো এটা জানিয়েছিলাম। কিন্তু ওদের নেটের সমস্যার কারনে আমি লাইভ শপথ গ্রহনটা দেখতে পারিনি। কনিকা আমাকে ব্রেডির শপথ গ্রহনের রেকর্ড করা ভিডিও পাঠিয়েছিল। আর সেই ভিডিওটা এ রকমেরঃ

আল্লাহর অশেষ রহমত।

অতঃপর আমি সকালে রবার্টা এবং কনিকাকে অনেক গুলি মেসেজ পাঠিয়েছিলামঃ

আর রবার্টাকে পাঠিয়েছিলাম নীচের ম্যাসেজটাঃ

আগামি ১১ ডিসেম্বর ২০২৫ তারিখে কনিকা আর ব্রেডি কোর্টে গিয়ে ইনশাল্লাহ বিবাহ বন্ধনে মুসলিম রীতিতে আবদ্ধ হবে। ইনশাল্লাহ আমি দোয়া করি যেন ওরা ভাল থাকে, শান্তিতে থাকে।