গত ৯ ডিসেম্বর স্কাল বেলায় ঘুম থেকে উঠেই আমি সিদ্ধান্ত নিয়েছিলাম যে, আমি যত দ্রুত সম্ভব আমেরিকায় যাবো এবং কনিকা এবং ব্রেডির বিয়েতে আমি থাকবো। ৭/১২/২০২৫ তারিখে ত মুল কাহিনীটি বিস্তারীতভাবে লিখেছিলাম, তারপরেও আবার একটু রি-ক্যাপ করি।
রিক্যাপঃ
কনিকা ২০২১ সালে আমেরিকায় গিয়েছিলো পড়াশুনা করতে। গ্রাজুয়েশন শেষ করে কনিকা ওটিপি এর আন্দারে ১ বছরের মতো ফ্রি এবং বইধভাবে কাজ করার সুযোগ পাবে। কিন্তু তার আগে আমি কনিকার ছোট মামার মাধ্যমে বৈধ ওয়ার্ক পার্মিতের জন্য প্রায় সবকিছু আয়োজন শেষই করে ফেলেছিলাম। ফলে কনিকার থাকার কন অসুবিধা ছিলো না।
একটা প্রবাদ আছে-জন্ম, ম্রত্যু আর বিয়ে নাকি আল্লাহর চয়েস এবং হুকুম ছাড়া হয় না। কনিকা এর মধ্যে খৃষ্টান একটা ছেলের সাথে ওর এফেয়ার্স হয়ে যায় যার নাম “ব্রেডি এন্ড্রিউ স্মিথ”। আমি এবং কিনিকার আম্মু যখন এই বছরের জুনে আমেরিকায় গিয়েছিলাম, তখনই ছেলেতাকে, ছেলের মায়ের সাথে আমাদের বিস্তারীত পরিচয় পর্বটা শেষ হয়েছিলো। কিন্তু তখন ব্রেডির সাথে কনিকার বিয়ের জন্য আমি একটাই শর্ত দিয়েছিলাম যে, ব্রেডিকে মুসলমান হতে হবে। আর আমার এই শর্তে ওদের কন আপত্তি ছিলো না। সে মোতাবেক, কনিকা এবং ব্রেডি ভাবল, যেহেতু ওরা একে অপরকে বিয়ে করবেই, তাহলে ২০২৫ সালেই বিয়ে করে না কেন? আর ২০২৫ সালে বিয়ে করলে ওদের অনেক কিহু সুবিধা আছে মনে করেই ওরা ১১।১২।২০২৫ তারিখে বিয়ের ডেট ফাইনাল করে ফেলে।
আমার এবং কনিকার আম্মুর ভিসা আগে থেকে করা ছিলো। কিন্তু কনিকার আম্মুর ভিসার সাতে সরকারী আদেশ যাকে আমর বলি জিও, সেটাও লাগে। আর বাংলাদেশে জিও করতে কমপখহে ১৫ দিনের আগে হয় না। ফলে ১১ ডিসেম্বর কিনু=ইকার আম্মুকে আমেরিকায় যেতে হলে এর মধ্যে জিও করা সম্ভব না যদিও তার ভিসা আছে। তাই আমাকেই যেতে হবে। ফলে কোনো কিছুই ভাবাভাবির দর নাই মনে করে আমি ৯ ডিসেম্বর তারিখে আমেরিকার উদ্দেশ্যে রওয়ানা দিতে মানসিকভাবে প্রস্তুতি নিয়ে নিলাম। অফিসে ফোন করে এডমিন অফিসার সাকেরকে বললাম, এয়ার টিকেটের ব্যবস্থা করতে, একাউন্ট অফিসার ফারুককে বললাম ১০ হাজার ডলার কিনে আনতে, কনিকার আম্মু, আবির আর উম্মিকাকে বললাম, যত দ্রুত হোক আমার জন্য সংক্ষিপ্ত বাজার করে যেনো ব্যাগ গুছিয়ে রাখে। সবকিছু এতো দ্রুত এবং এতো পারফেক্টলী হয়েছিলো যে, এই একই প্রিপারেশন নিতে হয়তো লাগতো ১৫ দিন সেটা হয়েছে মাত্র কয়েক ঘন্টায়।

কনিকা আমাকে আমেরিকায় যেতে না করেছিলো। অনেক গুলি কারন ছিলো কনিকার আমাকে আমেরিকায় না যাওয়ার ব্যাপারে সাজেশন দেয়ার আবার আমারো অনেকগুলি কারন ছিলো আমেরিকায় যাওয়ার। মেয়েরা ছট, হয়তো ইমোশনালঅ বটে কিন্তু আমি তো ছোত বালক নই আর ওদের মতো এতো ইমোশনাল নই। ফলে আমাকে অনেক কিছু ভেবেচিন্তে স্বাধীনভাবে সিদ্ধান্ত নিতে হয় সেটা সবার বিরুদ্ধে গেলেও। তাই আমি আমেরিকায় যাওয়ার জন্যই শতভাগ মানসিকভাবে রেডি হয়েছিলাম। সবচেয়ে মজার ব্যাপার হল-আমার ছট মেয়েও শেষ পর্যন্ত এতা স্বীকার করেছে যে, আমার যাওয়াটা খুবই দরকার ছিলো।
যাই হোক, ব্রেডি তো আগেই (৭/১২/২০২৫) তারিখে আমাদের ইসলামিক কায়দায় মসজিদে গিয়ে হুজুরের কাছে শাহাদা নিয়েছে অর্থাৎ ইসলাম ধর্ম গ্রহন করেছে। সে নাম পরিবর্তন করতে চায়নি, আর নাম পরিবর্তন ইসলামে কনো জোরজবরদস্তি নাই।
মুল কাহিনিঃ
আমি ৯ ডিসেম্বর তারিখে এমিরেটস ফ্লাইটে সন্ধ্যা পৌনে সাততায় ফ্লাইটে আমেরিকার উদ্দেশ্যে রওয়ানা দেই। হুইল চেয়ারের অপশন খোলা ছিলো আমার যাতে এয়ারপোর্টে হাতাহাটিতে আমার কষ্ট না হয় আর গেট খুজতে না হয়। এতে আমার ভ্রমনের বেলায় এতোটাই আরাম হয়েছিলো যে, আমার তখন আফসস হয়েছিল, আগের সব গুলি ভ্রমনে আমি হুইল চেয়ার কেনো নেই নাই। যাই হক, যাওয়ার সময় বা আসার সময় আমার ততোটা বেগই পেতে হয় নাই। আরামে আরামে যেতেও পেরেছি, আসতেও পেরেছি।
আমেরিকান টাইম সকাল সোয়া আটটায় আমি ডুলাস এয়ারপর্টে হাজির হয়েছিলাম। কনিকার, ব্রেডির রীতিমত অফিস ছিলো বিধায় ওরা কেউ আমাকে নিতে আসতে পারছিলো না। ওদিকে ছত ভাইয়ের ছেলে ফয়সালকে আসতে বলা হয়েছিলো কিন্তু ওর পরিবর্তে জান্নাহ আমাকে এয়ারপোর্ট থেকে পিক করতে এসেছিলো। জান্নাহর সাথে আমার অতটা সখ্যতা ছিলো না কিন্তু এবার আমি জান্নাহকে খুব কাছ থেকে দেখার সুযোগ হলো। মেয়েটার ব্যাপারে অনেকে অনেক কথা বল্লেও আমার কাছে মনে হয়েছে-জান্নাহ আমাদের আর অনেক আত্তীয়ের চেয়ে অনেক গুনে ভাল। আমি জান্নাহর বাসাতেই ২ রাত ২ দিন কাটিয়েছিলাম। মেয়েটি আমার অনেক দেখভাল করেছে, গাড়ির সাপোর্ট দিয়ে এবং আমার কাছে খুব ভালো লেগেছে জান্নাহর সব কিছু। মেয়েটার জন্য মায়া ল্রগেছে আমার যে, অনেক বড় একটা বাসায় একদম একা থাকে। ওর মেয়েটাও আবার বাংলাদেশ রয়েছে। আমি জান্নাহকে পরামর্শ দিয়ে এসছি যে, সে যেন দ্রুত বিয়ে করে সেটেল হয়ে যায়।
যাই হোক। কনিকার সাথে আমার জান্নাহর বাসায় দেখা হলো ১০ ডিসেম্বর সন্ধ্যা ৭ টায়। ব্রেডিও সাথে এসেছিলো, আমিই ব্রেডিকে কনিকার সাথে আসতে বলেছিলাম। কনিকার বিয়ে নিয়ে এই সময় জান্নাহর বাসায় আমাদের মধ্যে অনেক গুরু গম্ভীর আলোচনা হয়েছিল। প্রথমে প্রোগ্রামটা সেট করা ছিল এভাবে যে,
১১ ডিসেম্বর ২০২৫- ১টা ৩০ মিনিটে কোর্টে গিয়ে বিয়ে
- ৩টায় আমন্ত্রিত গেস্টদের সহ জাপানিজ একটা রেস্টুরেন্টে দুপুরের খাবার
- অতঃপর যার যার বাসায় গমন।
১২ ডিসেম্বর ২০২৫ -ব্রেডি এবং কনিকা অফিস করবে। আমি রেস্ট নেবো জান্নাহর বাসায়
১৩ ডিসেম্বর ২০২৫- ফয়সালের বাসায় মুসলিম রীতিতে আবারো বিয়ে, কাবিন এবং খাওয়া দাওয়া
সে মোতাবেক আমি লিখনকে দিয়ে বাকী দাওয়াত পর্বটা করাচ্ছিলাম। লিখন কনিকার ওয়েডিং নিয়ে পরিবারগুলির মধ্যে একটা ওয়েডিং গ্রুপ তইরি করে ফেলেছিলো যাতে কোন ফ্যামিলি থেকে কতজন আসবে সেটা বুঝা যায়। দাওয়াত পর্বতায় মেসেজগুলি আপাতত লিখন এবং মিটুলই পরিচালনা করছিলো এভাবে-

আসসালামু আলাইকুম! আল্লাহর রহমতে এবং আপনাদের দোয়ায় ১১ ডিসেম্বর কোর্টে কণিকার বিয়ের ফরমালিটিজ শেষ হবে, ইনশা'আল্লাহ্! আমার ওখানে যাওয়ার সুযোগ হয়নি। কণিকার আব্বু পৌছে গেছে। আগামী শনিবার ১৩ ই ডিসেম্বর হুজুরের মাধ্যমে কণিকা ও ব্রেডির কাবিন কবুল হবে। কাবিন কবুলের পরে আপনারা সবাই এক সাথে হয়ে ওদের দুজনের জন্য দোয়া করবেন। ফয়সালের বাসায় শনিবার দুপুরে আপনারা ফ্যামিলীর সবাইকে নিয়ে আসবেন। আমি ও আখতারের পক্ষ থেকে আপনাদের সবাইকে আন্তঅরিকভাবে আশা করছি। আমি উপস্থিত না থাকলেও আপনাদের উপস্থিতি ও দোয়া একান্তভাবে প্রত্যাশা করছি।
Venue (Faisal's House):
6104 Syracuse Court
Clarksville, Maryland 21029
USA
Date- 13-Dec-25
Time- 2:00 pm
Will highly appreciate your presence and confirmation here, please.
আর এতে প্রায় ৪০/৫০ জনের বড় একটা গ্রুপ দাওয়াতে আসবে বলে সম্মতি জ্ঞাপন করে ফেলেছিল। কিন্তু কনিকা (ব্রেডিসহ) এই পর্বে ওর বিশাল একটা নেগেটিভ মাইন্ড ছিলো। সে চাচ্ছিলো না কিছু কিছু মানুষকে দাওয়াত করতে। আর সে মানুষগুলিকে ইতিমধ্যে দাওয়াত করা হইয়েই গিয়েছিলো। এমন একটা পরিস্থিতিতে আমি বুঝতেছিলাম যে, আমি যদি জোর করে অনুষ্ঠানটা করতে চাই, তাহলে কনিকা আর ব্রেডি অনুষ্ঠানে নাও আসতে পারে। ফলে পুরু ব্যাপারটা একটা সাংঘাতিক ভিন্ন নেগেটিভ দিকে টার্ন নিবে। একদিকে মিটুল তার পরিবারকে সামাল দিতে পারছিলো না, এবং পারহেও না, অন্যদিকে চউধুরী পরিবারকেও আমি ইগনোর করতে পারছিলাম না। আবার অন্যদিকে আমি তো কনিকাকে খুব ভালো করেই চিনি, যদি বেশি রাগ করি বা ডমিনেট করি, সে ব্রেডিকে নিয়েই বের হয়ে যাবে। আর আমি সেটা কিছুতেই করতে দিতে চাইনি। যদিও ব্রেডি মুসলিম হয়েছে, কিন্তু এটাকে আমার সম্মান করেই সম্মাঞ্জনকভাবে বাবা হিসাবে ব্যাপারটা আমার সুন্দরমতো সামাল দেয়া জরুরী ছিলো। লিখনকে দিয়েই আবার শনিবারের দাওয়াতটা পুনরায় বাতিল করার অনুরোধ করলাম। লিখন খুব পজিটিভ ছিলো কিন্তু কি বলে অনুষ্ঠানটা বাদ দেয়া হবে সেটার খুব ভালো গ্রাউন্ড খুজে পাচ্ছিলো না। তাই লিখন আপাতত মিটুলের সাথে পরামর্শ করে হোয়াটসআপ গ্রুপেই একটা ম্যাসেজ দিলো যে,
Assalamu Alaikum!
Dear Families
Me and Akhter deeply regret that we could not convince our beloved daughter Konika to organize a post marriage ceremony without me and her sister Ummika.
That is why, despite of inviting all of you and organizing the ceremony, we had to postpone the ceremony on 13th December, Saturday, at Faisal's house.
In Sha Allah! We will try to come as early as possible to USA and then will meet all together and arrange her post marriage ceremony and take the opportunity to wish betterment of the couple.
Again I regret and apologize for the inconvenience.
Asma & Akhter
কিন্তু আমি মিটুলকে জানালাম যে, আমার একটা ভিন্ন আইডিয়া আছে। আর সেতা হলো- শনিবার ১৩ ডিসেম্বর ২০২৫ তারিখে যেই মুসলিম রীতিতে ঘরোয়া পরিবেশে খুব কম সংখ্যক মানুষ নিয়ে ফরমালিটিজ করবো, তার থেকে বরং ১১ ডিসেম্বরই তো আমি সেই একই প্রোগ্রামটা সেরে ফেলতে পারি। এতে একটা ম্যাসেজ দেবো যে, শনুবারের পুরু প্রোগ্রামটাই বাতিল, কিন্তু কর্টের বিয়ে শেষ করেই আমরা যারা যারা পারি সবাই ফয়সালের বাসায় এসে মুসলিম রীতিতে কনিকা আর ব্রেডির বিবাহ কার্যক্রমটা করে ফেলব এবং ছট খাটো একটা পার্টি দিয়ে দেব। কনিকা এবং ব্রেডি আমার কথায় খুব খুশী হলো এবং এটাই ভালো হবে এই ব্যাপারে সায় দিলো।
যাই হোক, ব্যাওয়ারটা সবার কাছেই খুব পজিটিভ মনে হলো। সে মোতাবেক প্রোগ্রামটা ঠিক হলো এভাবে-
১১/১২/২০২৫-কোর্টে ১ তা ৩০ মিনিটে বিয়ে
-বিয়ের পর পরই আমরা সবাইকে নিয়ে জাপানিজ রেস্টুরেন্টে খাওয়া দাওয়া
- সেখান থেকে সবাই ফয়সালদের বাসায় আগমন।
- সন্ধ্যায় ৭টায় মুসলিম রীতিতে আবারো বিয়র
- বিয়ের পর ছোট খাটো একতা খাওয়াদাওয়ার অনুষ্ঠান
১২/১২/২০২৫-শুক্রবার আমার সারাদিন রেস্ট।
১৩/১২/২০২৫- শনুবার আমি কনিকা আর ব্রেডির সাথে সময় কাটানো।
১৪/১২/২০২৫- আমার বাংলাদেশের জন্য ব্যাক।
সে মোতাবেক সব পরিকল্পনা সেট করা হলো। ফলে অটোমেটিক শনিবারের প্রোগ্রামটা ক্যান্সেল হয়ে গেলো। এখন কেউ আর বলতে পারবে না যে, আমাকে দাওয়াত দিলো না বা অমুককে বাদ দেয়া হল ইত্যাদি।
বাবু আর ফয়সালকে দেয়া হলো পুরু দায়িত্ব। বাবু কাজ ছিলো হুজুরকে সময় মতো আনা। ফয়সালকে দেয়া হল সমস্ত খানাপিনার আয়োজন করা। এখানে একজনের কথা ন বললেই নয়। আর সেতা হলো তামান্ন। প্রথমে ফয়সাল কিছুতেই ওর বাসায় প্রোগ্রামটা করতে পারবে না বলে আমাকে জানাইলো। এমন কি ফয়সাল নিজেও আসতে পারবে না কারন ওদের দোকানের কর্মচারি অসুস্থ্য বিধায় দোকানেই থাকতেনহবে বেচাকেনার জন্য। ছোট ভাই অথবা ফয়সাল যে কন একজন আসতে পারবে কিন্তু যেহেতু ছট ভাই সারা দিন ডিউটি করেছে ফলে রাতেও ওনার পক্ষে ডিউটি করা সম্ভব না বিধায় ছোট ভাই তার বাসায় চলে যাবে আর ফয়সাল থাকবে দোকানে। তাই ফয়সাল অনুষ্ঠানে থাকতেও পারবে না আবার এরেঞ্জমেন্টঅ করতে পারবে না। ঠিক এই মুহুর্তে তামান্নার ভুমিকা ছিল দূর্দান্ত সাহসি। সে মিটুলকে ঢাকায় ফোন দিয়ে বলেছিল-কে পারবে আর কে পারবে না ফুফু বাদ দেন, আমি তামান্না সব ব্যবস্থা করতেছি আর সেতা আমার বাসাতেই হবে। তামান্নার এই কথায় সব কিছু পালটে গিয়েছিলো।
তামান্না এক রাতের মধ্যে খাবারের সব আয়োজন করে ফেল্লো। বাবু হুজুরকে ম্যানেজ করলো, ফয়সাল ঠিকই সন্ধ্যায় এসেছিলো এবং ফয়সালই হুজুরকে নিজে গিয়ে নিয়ে এসছিলো। হুজুরের নাম ছিলো আব্দুল হামিদ।
আল্লাহর রহমতে সব কিছু খুব সুন্দর মতো হয়ে গেলো। হুজুর সময় মতো এলেন। ইসলামেরন্রীতি অনুযায়ি আবারো কনিকা আর ব্রেডির বিয়ে হলো। দুপুরে বিয়ে হয়েছিলো আমেরিকান নিয়মে কোর্তে, সেখান থেকেই ম্যারেজ সার্টিফিকেত দিয়ে দিয়েছিলো। এখন সন্ধ্যায় হলো ফয়সালের বাসায়। একবার আমাদের মুসলিম রীতিতে কাবিন করতে চেয়েছিলাম কিন্তু এতার না আছে কোনো ভ্যালু, না আছে কোনো প্রয়োজনিয়তা। তারপরেও আমি হুজুরকে বলে দিলাম একটা কাবিন নামা করে রাখেন। পরে আমাকে দিয়ে দিলেই হবে ইনশাল্লাহ।
খুব সুন্দর মতো কনিকার আর ব্রেডির বিয়ে পর্বটা শেষ হলো।
বাবা হিসাবে আমার সমস্ত দায়ীত্ত শেষ হল। এখন কনিকার হাজবেন্ড আছে, সে তার নিজের নিয়মে স্বামী নিয়ে সুখে বাস করুক। আগামি কোনো এক সময়ে ব্রেডি, তার মা বাবা বোনকে নিয়ে বাংলাদেশে এলে বড় করে একটা অনুষ্ঠান করবো ইনশাল্লাহ।
হতে পারে কোনো এক সময় আমার এই প্রজন্ম আমেরিকায় কন না কোন রাষ্ট্রীয়ভাবে কোনো ভালো বর কাজে নাম রেখে যাবে ইনশাল্লাহ।
বাংলাদেশে থাকলো উম্মিকা আর আবির, আমেরিকায় থাকলো কনিকা আর ব্রেডি। কোনো এক সময় দেখা যাবে ইনশাল্লাহ যে, কনিকার কাছেই উম্মিকার সব বাচ্চারা গিয়ে হহাজির হবে উচ্চতর পড়াশুনার জন্য। আল্লাহ যে কার রিজিক কোথায় কিভাবে রেখেছেন, কেউ জানে না।
আমরা শুধু দোয়া করতে পারি।