সাফিয়া খাতুন

সাফিয়া খাতুন আসলে আমাদের বোনদের মধ্যে সবার বড় ছিলেন। ১৯৭৯ সালে সাফিয়া খাতুন মারা যায়। সাফিয়া খাতুন প্রথমে একটা বিয়ে করার পর তার স্বামী মারা গেলে পরবর্তীতে সে দ্বিতীয় বিয়ে করে। কিন্তু সেটাও বেশীদিন টিকে নাই কারন সাফিয়াই মারা গিয়েছিলো। আমি তখন সবে মাত্র ক্লাশ নাইনে পড়ি। ক্যাডেট কলেজ থেকে ছুটিতে এসেছিলাম। বর্ষার দিন, ঝড়ও ছিলো। আমার যাওয়ার কথা ছিলো সাফিয়ার বাসায়। কিন্তু আমি বেড়াতে গিয়েছিলাম বালুচর এলাকায়। ঝড়ের কারনে আমার আর গ্রামে ফেরা হয় নাই। সেদিন রাতেই সাফিয়ার শরীর খারাপ হয়ে যায় এবং রাতেই সাফিয়া মারা যায়। ছোট মেয়ে মাত্র, বয়স তিন মাস। সাফিয়ার চেহারা ছিলো খুব সুন্দর। সাফিয়া যখন মারা যায় তখন রাত প্রায় ১০ টা। ঝড়ের কারনে খবরটা আমাদের বাসায় আসতে আসতে সকাল হয়ে যায়। আমি বালুচর থেকে গ্রামে আসতে আসতেই ওর শশুড় বাড়ির লোকজন ওকে দাফন করে ফেলে। তারপর আমি গেলাম সাফিয়ার বাসায়। গিয়ে দেখলাম সাফিয়ার মেয়ে শান্ত ভাবে যেনো ঘুমিয়ে আছে। আমার মনটা খুবই খারাপ ছিলো। কোথায় কবর দেয়া হয়েছে সেটা দেখার জন্য আমি সাফিয়ার কবরের কাছে গেলাম। সারারাত বৃষ্টি আর ঝড় থাকলেও শিয়াল কুকুরের কাজ থেমে ছিলো না। এই সব প্রানীগুলি সাফিয়ার কবরে হানা দিয়েছিলো। কিন্তু যে কোনো কারনেই হোক সাফিয়ার লাশটা আস্ত অবিকল ছিলো। কবরের পাশে গিয়ে দেখলাম যে, কবরের মুখটা খোলা। বাশ আর চটি গুলি সরে গেছে। সাফিয়ার লাশের উপরের সাদা কাফনের কাপড়টা একদিকে একটু সরে গেছে আর ওর মুখটা দেখা যাচ্ছে। কিন্তু চুল গুলি ছিলো একেবারেই অগোছালো। আমি মাথা নীচু করে যখন সাফিয়ার মুখটা দেখতে গেলাম, আমি ভীষন ভয় পেয়েছিলাম লাশ দেখে। কেনো ভইয় পাইলাম, আর কি হলো আমি কিছুই বুঝ্যি নাই কিন্তু বাড়িতে আসার পর আমার অনেক জ্বর হয়েছিলো। আমার কাছে সাফিয়ার কিংবা ওর মেয়ের কোনো ছবি নাই। পরবর্তীতে সাফিয়ার তিন মাসের বাচ্চাতাও মায়ের অভাবেই হোক আর অযত্নেই হোক সেও বাচে নাই। সাফিয়ার কোনো বংশধর এই পৃথিবীতে নাই। আল্লাহ তাঁকে জান্নাতবাসী করুক।