১২/০৭/২০২৫-ভীষন একা একা লাগে

এ যুগের ছেলেমেয়েরা একেবারেই অন্যরকম। বুড়ো বাবা মায়ের পক্ষে এ যুগের সন্তানের উপর খুব একটা ভরষা করার মতো সুযোগ নাই। ওরা কখনো অতীব হিসেবী, কখনো অনেক চালাক কিংবা বোকা তো নয়ই। যখন ওরা দেশে থাকে, তখন ওরা বিদেশ যাবার জন্য অস্থির থাকে। যখন বিদেশ যায়, তখন ওরা আরেকটা দেশে ২য় শ্রেনীর সিটিজেন হয়ে বসবাস করতেও তাদের কোনো সমস্যা হয় না কিন্তু তারপরেও ওরা সুখে থাকে না। দেশে যখন থাকে, তখন এক গ্লাস পানিও ঢেলে খেতে চায় না। সব কিছু রেডিমেড চায়। কিন্তু যখন বিদেশে যায়, তখন তারা অন্যের কিচেনও পরিষ্কারে কোন আপত্তি নাই কারন সেটা না করতে পারলে মাসের খরচটাও হয়ত উঠবে না, তাই বাধ্য হয়ে করতেই হয়। যখন সংসার করে, তখন আবার আরেক বোঝাপড়া। বয়ষ্ক বাবা মাকে বিদেশে নিতে আগ্রহী হয় কেউ কেউ, সবাই না। যারা নিতে আগ্রহী হয়, তারা নিছক আসলে ঘরের কাজ কিংবা বাচ্চার দেখভাল করার জন্যই নিতে চায়। বাবা মাকে অধীর ভালোবেসে আসলে সেটা ঘটে না। কিন্তু তখন আবার আরেক সমস্যা সামনে আসে। নিজের সংসারের জন্য তাদের দরকার কারন বিনে পয়সায় পাওয়া খুবই ট্রাস্টেড মানুষ। কিন্তু তারাও তো বয়ষ্ক মানুষ। ফলে, বাবা মাকে বিদেশে নিয়ে রাখবে কিভাবে? তাদের তো এত সময় নাই হাতে। এতো সময় কই তাদের? আবার অন্যদিকে বাবা মা ভাবে, নিজেরা তো বুড়ো হয়ে গেছে। যদি তার ছেলেমেয়েরা তাদের সাথে থাকতো কিংবা যদি ছেলেমেয়েদের সাথেই ওনারা একসাথে থাকতে পারতেন, হয়তো শেষ বয়সের বিরম্বনা বা ভয় কিংবা হতাশাটা একটু কমতো!! কিন্তু বাচ্চারা যেমন অনেকেই দেশে থাকে না আবার যারা বিদেশে থাকে, তাদের সাথে বাবা মায়েরাও থাকতে পারেন না। আসলে বুড়ো বয়সে নিজেদের বলতে কেঊ থাকে না আর। এরা শুধু বেচে থাকে একা একা। তাই বুড়ো বয়স্টা খুব ভয়ের।

কম বয়স আর বেশী বয়সটার অনেক তফাত। কম বয়সে মনে হয় সব পারি, সব পারবো। কিন্তু বয়স যখন বেড়ে যায়, তখন বুঝা যায়, একা কিছুই করা যায় না। এমন কি একা থাকাই যায় না। ছেলেমেয়েদের উপর নির্ভর করতে ইচ্ছে করে, কি রকম একটা হেল্পলেস লাগে। যখন রাতে শুতে যায় কেউ, তখন যেনো একটা ভয় নিয়ে বিছানায় ঢোকে। যদি ঘুমের মধ্যে মাঝরাতে কোনো একটা অঘটন ঘটে যায়!! সব বুড়োরা যখন নিজেদের সময় কাটানোর জন্য কখনো হাটার ছলে বাইরে বের হয়, তখন প্রায় কিছুদিন পর পরই তাদের সংখ্যাটা কমতে থাকে। কেউ কেউ আবার বৃদ্ধাশ্রমেও চলে যায় ভগবানের কাছে যাবার আগে। কেনো জানি মাঝে মাঝে মনে হয়, পুরূ প্রিথিবীটাই একদিন ব্রিদ্ধাস্রম হয়ে যাবে।

কি অদ্ভুত আমাদের জীবন। আমরা সবাই জানি-একদিন আমি আর থাকবো না। এটা এতো ধ্রুব সত্য যে, এটাকে কেউ কোনো ক্যারিশমা দিয়ে, কোনো মন্ত্র দিয়ে, কোনো ক্ষমতা দিয়ে বা কোনো বৈজ্ঞানিক থিউরী দিয়েও থামানো সম্ভব না। যেতেই হবে। আমাদের এই শেষ যাত্রাতা কিভাবে হবে এটার রুপ কেউ বলতে পারেনা। কেউ একেবারেই সাভাবিকভাবে শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করবে, কেউ নিঃশ্বাস শেষ হয়ে যাচ্ছে এটা বুঝার আগেই শেশ হয়ে যাবে, কেউ পানিতে, কেউ আকাশে, কেউ ঘরে, কেউ ঘুমের মধ্যে আবার কেউ বা চলাচল করতে করতেই বেরিয়ে যাবে এই দুনিয়া থেকে। কেউ পরিপক্ক হবার আগে, কেউ জীবনের শেষ সময় বেচে থাকার পরে, কেউ অর্ধ জীবনে চলে যাবে। কেউ কখনোই বলতে পারে না ঠিক কোন সময়টা সে আর নাই। তাই এখন আমার খুব ভয় লাগে। হয়তো আসলেই আর বেশি সময় নাই আমিও।

তাই কারো সাথেই আর রাগ করতে চাই না, কেউ রাগ করলেও আর খুব একটা মাথা ঘামাই না, কাউকে নিয়ে আর অযথা চিন্তা করি না। কারন এখন না হয় আমি দুসচিন্তা করছি, ভাবছি, কিংবা কার অবস্থার কথা ভেবে একটু মন খারাপ করছি, কিন্তু আমি যখন থাকবো না, তখনো তো তাদের অবস্থা এমনই বা এর থেকেও খারাপ হতে পারে, তখন তো আর আমার পক্ষে কোনো প্রকার চিন্তা, দুশ্চিন্তা ইত্যাদি করার কোনো সুযোগ নাই। তাহলে আমার জীবদ্দশায় এত চিন্তা করার কি দরকার? যে যেভাবে পারে এক ভাবে না এক ভাবে বেচেই থাকবে। শুধু একটা জিনিষ আমার করার থাকে আর সেটা হলো-আমার সামর্থের মধ্যে কাউকে যতটুকু পারা যায় তাকে সাহাজ্য করা। এতে যতটুকু উপকার হয়, ততোটুকুই আমার ক্ষমতা।

আমার ভয় লাগে আরেকটা কারনে। এখন যতো কষ্টেই থাকিনা কেনো, অন্তত একটা বিছানায় ঘুমাই, ক্ষুধা লাগলে খাই, গরম লাগলে ফ্যান চালাই, শীত করলে লেপ কিংবা কম্বল গায়ে দেই। ঝড় ব্রিষ্টিতে ছাদের তলে আশ্রয় নেই, রোগ হলে মেডিসিন খাই, ক্ষতিকর প্রানী দেখলে লাঠি দিয়ে সরাইয়া দেই কিন্তু যেদিন আমাকে মাটির নিচে রেখে আসবে সেদিন আমি কিভাবে সেই অঝোর ধারার বৃষ্টির পানিকে আমি কবরের মধ্যে ঠেক দেবো? শীতে আমার হাড় কাপুনী ঠান্ডা লাগলেও আমি কিভাবে সেটা নিবারন করবো, গরমের কারনে অসংখ্য পোকামাকড় আমার গায়ে উঠে আমাকে কামড়াইতে থাকলেও আমি কিভাবে সেগুলিকে তাড়াবো? আমার আশেপাশেও তো কেউ থাকবে না যাতে আমি চিৎকার দিয়ে বলতে পারি-ভাই আমাকে একটু সাহাজ্য করো!! হেল এন্ড হেভেন তো অনেক পরের কথা। কিন্তু ঠিক সেদিনের অবস্থাটাই আমার কি হবে যেদিন আমি জাষ্ট আমার ঘর থেকে মাটির নিচে অবস্থান করব? খুব ভয় লাগে।

০৪/০৭/২০২৫-আমেরিকার ভ্রমন কাহিনী-পর্ব-২ জয়নাল দুলাভাইয়ের বাসায় আমরা।

এবার আমেরিকায় এসে আমি একটা সিডিউল বানাতে বলেছিলাম আমার ছোট মেয়েকে। আমার ছোট মেয়ের কাজ অনেক সুক্ষ এবং বাস্তবভিত্তিক। সে ক্রমান্বয়ে আমাদের সব আত্মীয়স্বজনের বাসা কাভার করেই একটা আইটেনারি বানিয়েছিল। আমরা ঠিক সেই মোতাবেক একের পর এক বাসায় সবার সাথে দেখা করতে গিয়েছিলাম। সব ক্ষেত্রেই আমাদের একমাত্র ড্রাইভার ছিলো আমার ছোট মেয়ে। খুব ভালো গাড়ি চালায়। আজকের গল্প লুসির আব্বা জয়নাল দুলাভাইয়ের বাসার।

জয়নাল দুলাভাইয়ের বাসায় আমরা।

সকালের দিকেই আমরা দুলাভাইদের বাসার উদ্দেশ্যে রওয়ানা হয়েছিলাম। সকাল থেকেই একটু একটু শীত অনুভব করছিলাম। যদিও আবহাওয়াতা আমেরিকায় এখন গরমকাল কিন্তু ইদানিং প্রায়ই বৃষ্টি হচ্ছে আর সুর্যের দেখাই মিলছে না, ফলে বেশ বাতাস আর ঠান্দাও পড়েছে। দুলাভাই সম্পর্কে কিছু না বললে অনেক প্রেক্ষাপট ভালোমত বুঝা যাবে না। তাই দুলাভাই সম্পর্কে একটু প্রিলিউড না দিলেই নয়।

জয়নাল দুলাভাই বাংলাদেশে বিদ্যুৎ বিভাগে কাজ করতেন। খুব সৎ মানুষ ছিলেন। তার পরিবারের ভাই বোনেরা অনেক বড় বর লেবেলে কাজ করতেন এক সময়, তার বড় ভাই বিশ্বব্যাংকেও কাজ করেছে এবং বর্তমানে তিনি আমেরিকাতেই সেটেল্ড। দুলাভাইয়ের আর্থিক সচ্ছলতাও খারাপ না। ঢাকায় তার পাচ তালা একতা বাড়ি ছিল, সাভারে কিছু জমি ছিল, তিনি সব কিছু বিক্রি করে দিয়ে আমেরিকায় পাড়ি জমান কারন তার একমাত্র মেয়ে লুসি আমেরিকায় তার স্বামীর সাথে বসবাস করে। লুসিও খুবই ভাল একতা মেয়ে, ভাল বললে লুসির সম্পর্কে খুব কম বলা হবে, তার প্রশংসা সবাই করে এবং তার শশুড় শাশুড়িরা এতোটাই খুশী এবং সুখী যে, সবার কাছে এক বাক্যে একটা কথাই তারা বলেন যে, লুসি তাদের নিজের মেয়েদের থেকেও ভাল।

যাই হক-দুলাভাই এই লুসীর জন্যই আসলে দেশ ছেড়েন। লুসীর স্বামী যেহেতু আমেরিকার সিটিজেন, তারি লুসিঅ দ্রুত আমেরিকার সিটিজেন হয়ে গিয়েছিল। আর সেই সুবাদে দুলাভাই এবং আপাও আমেরিকার সিটিজেন হয়ে গিয়েছেন দ্রুত। লুসীর মা নূরজাহান আপা আমার স্ত্রীর পরিবারের এখন সবার বড় বোন। এই বোনদের মধ্যে ওদের এতোটাই বন্ধন যে, মিটুল যে প্রায় ৫০ এর উপর তার বয়স, এখনো আপারা অকে কাছে পাইলে নিজের হাতে ভাত খাইয়ে দেয়। ব্যাপারটা আমার বেশ ভালো লাগে। আপা এই মুহুর্তে ম্যামোরী লসে ভুগছেন কিছুটা। অনেক কিছগুই মনে রাখতে পারেন না। আগের মতো এতো কথাও বলেন না।

ওনারা সিনিয়ার সিটিজেন হিসাবে সরকারের কাছ থেকে ছোট একটা বাসা পেয়েছেন, সরকারের কাছ থেকেই ওনারা ভরন পষন, চিকিতসার সব খরচ পান। দুলাভাই কিডনির সমস্যায় ভগছে। প্রতি একদিন পর পর ডায়ালসিস করতে হয়। লুসী মাত্র ৩০/৪০ মিনিট (গারির দুরুত্ত) দুরুত্তে থাকে। প্রায় প্রতিদিন আসতে না পারলেও সপ্তাহে ৩/৪ বার লুসি এসে ওর মায়ের আর বাবার সব কাজ, রান্নাবান্না, কাপড় চপ্র ধোয়া, ইত্যাদি করে দিয়ে যায়। দেখলাম একটা মুভেবল সিসি ক্যামেরা লাগান আছে যাতে লুসি তার নিজের বাসা থেকে জানতে পারে বা দেখতে পারে ওর বাবা মাকে। কখন মেডিসিন খেতে হবে এটাও লুসি টাইমমত এই সিসি ক্যামেরার মাধ্যমে বলে দেয়। ওনারা আসলে বুড়ো হয়ে হয়েছেন বিধায় কোনো কিছুই আর মনে রাখতে পারেন না।

দুলাভাই অনেক অনেক কথা বলতে পছন্দ করেন, এখনো অনেক কথা বলেন। শ্রোতা যিনি আছেন, তিনি তার এই কথা বলাটা কতটুকু পছন্দ করছেন বা বিরক্ত হচ্ছেন এটা তার কাছে মুখ্য বিষয় নয়, উনি কথা বলেই যান। যেহেতু আমি ব্যাপারটা জানি, ফলে উনি কথা বলে যান ঠিকই আমি যে সব কিছু আবার শুনি তাও না। শনার ভান করতে তো আর অসুবিধা নাই। উনিও খুশি থাকলেন, আমার তো ক্ষতি নাই। তবে উনি বেশিরভাগ সময়ে অন্যের গিবত বলেন বিধায় অনেক সময় আমি হু হা করেই ক্ষান্ত থাকি।

ছোট একটা বাসা। লুসি ছিলো না সেদিন দুলাভাইদের বাসায়। আমি, মিটুল, কনিকা, দুলাভাই আর আপাই ছিলাম বাসায়। ঊনারা যেখানে থাকেন এটা প্রায় একটা কলোনি টাইপের বাসা। সরকারী বাসা। সামনে পিছনে সবুজ ঘাসের লন আছে। আর সবচেয়ে সুন্দর হচ্ছে-ঊনার বাসার পাশেই চমৎকার একটা লেক আছে যেটা মেইন নদীর সাথে সম্পৃক্ত। ফলে প্রচুর মাছের আনাগোনাও আছে। আর এই কলোনিতে যারা বাস করেন, তারাই শুধু মাছ ধরার অনুমতি আছে। তাও আবার শুধু মাত্র বর্শী দিয়ে। জাল দিয়ে নয়।

 দুপুরের দিকে আমরা এক সাথে খাওয়া দাওয়া করলাম। অনেক যত্ন করেছেন আমাদের দুলাভাই আর আপা। আসার সময় দুলাভাই আবার আমাদেরকে ৫০ ডলার করে গিফটও করলেন। জানি না দুলাভাই এবং আপার সাথে আবার কবে দেখা হবে। বুড়ো মানুষের আসলে সাথী থাকে না। আর যনি থাকেন তিনিও সেই হয় স্ত্রী বা স্বামী অথবা এমন কেউ যিনি নিজেও বুড়ো। দোয়া করি তাদের জন্য, তারা ভালো থাকুক।

পৃথিবী একটাই আর এখানে আগমন একবারই। যিনি চলে যান, তার আর ফেরার কোন সুযোগ নাই। তাই পৃথিবীর সব মানুষ ভালো থাকুক সেই দোয়া করি। বিকালের দিকে আমরা ওনাদের কাছ থেকে বিদায় নিয়ে আবার চলে আসলাম।

আবার কবে দেখা হয় কে জানে।

০৪/০৭/২০২৫-আমেরিকার ভ্রমন কাহিনী-পর্ব-৩ ফরিদ ভাইয়ের বাসা ভিজিট

আমার সিডিউলের মধ্যে সর্বপ্রথম (অনাত্তীয়দের মধ্যে) যাদের বাসায় যাওয়ার পরিকল্পনা ছিল সেটা হল বাংলাদেশে আমার বাড়ির পাশের প্রতিবেশী ফরিদ ভাইদের বাসায় যাওয়া। আর সেটা হয়েছিলো ২২ মে ২০২৫।

বাংলাদেশে আমার বাসার লাগোয়া প্রতিবেশি ফরিদ ভাই এবং মুন্না ভাইয়েরা। অনেক হাসিখুশি, জলি মাইন্ডেড এবং স্বাস্থ্য সচেতন মানুষ ফরিদ ভাই। প্রতিদিন ব্যায়াম করতেন। এখন উনারা আমেরিকার ভার্জিনিয়াতে থাকেন। খুব সুখী পরিবার। আমি আমেরিকায় আসার আগে শুনেছিলাম ফরিদ ভাই অসুস্থ্য কিন্তু কতটা অসুস্থ্য বুঝতে পারিনি। ফলে আমেরিকায় এসে আমি ম্যারিল্যান্ড থেকে প্রায় ঘন্টা তিনেক ড্রাইভ করে ভার্জিনিয়াতে দেখতে গিয়েছিলাম ফরিদ ভাইকে। আমি যাবো শুনে ফরিদ ভাই অনেক খুশি হয়েছেন বটে কিন্ত ফরিদ ভাইয়ের বাসায় গিয়ে মনটা আমার খুব খারাপ হয়ে গিয়েছিল। ফরিদ ভাই আমার ধারনার বাইরে অসুস্থ্য।

যখন ঊনারা বাংলাদেশে ছিলেন, আমাদের মধ্যে প্রতিদিন দেখা হতো, এক বাসা থেকে আরেক বাসায় খাবারের আদান প্রদান হতো। বড্ড ভালো একটা প্রতিবেশি ঊনারা। এখন বাংলাদেশের সেই বাসাটায় কেউ থাকেন না, শুধু থাকে ভারাটিয়ারা।

আগের রাতে মিটুল ফরিদ ভাবীর সাথে কথা বলে রেখেছিলো যে, আমরা যাবো ভাইকে দেখতে। যখন আমরা ফরিদ ভাইয়ের বাসায় পৌঁছলাম, তখন বেলা প্রায় ১১ টা বাজে। সুন্দর একটা আবহাওয়া। গরম নাই আবার একটু একটু ঠান্ডাও আছে।

ফরিদা ভাইদের বাসায় গিয়ে দেখলাম ফরিদ ভাই শুয়ে আছেন একটা মেডিকেটেড বিছানায়। আমার কল্পনাতেও ছিল না ফরিদ ভাইয়ের বর্তমান চেহাড়ার অবস্থা। আমি আসলে জানতাম ফরিদ ভাই অসুস্থ্য কিন্তু কতোটা সেটা আমি সত্যিই অনুমান করতে পারিনি। ঊনার মেয়ে দিবা বাসায় ছিলো, ভাবির সাথে একান্তে কথা বলে বুঝলাম যে, ফরিদ ভাইয়ের লিভারের সমস্যার সাথে ওনার নিউরোজনিত সমস্যাও আছে। ফরিদ ভাই শুকিতে কাঠ হয়ে গেছেন। চোখগুলি দেখলে মনে হয়-একটা কংকালের মধ্যে যদি চামড়া থাকতো আর সেই কংকালের যে চোখ ঠিক যেনো তেমন। আহা রে কত কস্ট যে ঊনার। খুব মায়া লাগলো ফরিদ ভাইকে দেখে। খুব সুন্দর সাস্থ্য ছিলো, প্রতিদিন ব্যায়াম করতেন, একমাত্র সিগারেট ছাড়া আর কোনো নেশা ছিলো না। তাও সারাদিনে হয়তো ৪/৫ তা সিগারেট খেতো। এই মানুষটার এই অবস্থা আমার কল্পনারও বাইরে।

ফরিদ ভাইয়ের চিকিতসা আমেরিকার সরকারই বহন করে। সারাক্ষন দেখভাল করার জন্য সরকার একটা পাকিস্থানি মেয়েকে এপয়েন্টমেন্ট দিয়েছে। যতোক্ষন ভাবি এবং তার মেয়েরা বাসায় থাকেন, তারা এই পাকিস্থানী মেয়েটার সাথে ফরিদ ভাইকে দেখভাল করেন। দিবার বয়সের সমান অথবা আর ছোট হতে পারে পাকিস্থানী মেয়েটার। বেশ ভদ্র এবং ভালই মনে হল। শুনলাম মেয়েটার নাকি ইতিমধ্যে ৩টা বাচ্চাও রয়েছে। খুব ছোট বেলায় বিয়ে হয়ে গিয়েছিল মনে হয়। ফরিদ ভাবী আমাদের জন্য অনেক পদের রান্না করেছিল। মুরগী, গরু, মাছ, শব্জী, ভর্তা, ডাল, ইত্যাদি। পোলাও করতে চেয়েছিল কিন্তু আমি পোলাও খাই না বলে সাদা ভাতই করেছিলেন। চমৎকার রান্না বান্না ফরিদ ভাবীর। ফরিদ ভাই প্রায় ৮ মাস পরে আমাদের সাথে ডাইনিং টেবিলে বসে খাওয়া দাওয়া করলেন। বেশ কয়েক পিস মুরগীও খেলেন। ভাতও খাইলেন। ভাব আর দিবা বলছিল, কি সুখের কথা যে, ফরিদ ভাই প্রায় ৮/৯ মাস পর ডাইনিং টেবিলে বসে সবার সাথে দুপুরের খাবার খাইলেন।

এটাই মনে হয় জীবনের রুপান্তর। মানুষ বেশীদিন বাচে না। কেনো আমরা তাহলে এতো আশা করি? ওনারা ভালোই তো ছিলেন সেই ঢাকায়। বন্ধু বান্ধব ছিলো, লোকালয় ছিলো চেনা, হৈচৈ ছিলো প্রতিদিন, রিক্সার ঝুঞ্ঝুনানী, গাড়ির বিকট হর্নের শব্দ, আজানের সুর আর পাবলিকের কোলাহলের সাথে বড় বড় সাউন্ড বক্সের উত্তাল গানের মাতোয়ারা। ভালোই তো ছিলো ওগুলি।

একটু পর মুন্না ভাই এলেন। ফরিদ ভাইয়ের থেকে বড় উনি। বাংলাদেশে উনি অডিট ডিভিশনে সম্ভবত অথবা ব্যাংকে কাজ করতেন। খুব ভালো মানুষ।

সবার সাথে অনেক আলাপ, কথাবার্তা হল। ফরিদ ভাই একেবারে দেশে ফিরে আসতে চান, আগের সেই ক্লাব, বন্ধুবান্ধব, আত্তিয় সজন, পারাপ্রতিবেশীদের আবার সান্নিধ্য চান কিন্তু উনি তার সাস্থগত কারনে আর কখনোই বাংলাদেশে ব্যাক করতে পারবেন না। খুব আফসস করে বললেন- একটা সময় ভেবেছিলাম, আমেরিকায় গিয়ে কতই না সুখে শান্তিতে আরামে বাস করতে পারবো। কিন্তু আমার এই লাইফের চেয়ে বাংলাদেশের সেই জ্যাম, কোলাহল, হরতাল, রিক্সাওয়ালার ঝুঞ্ঝুনি, লোকার শব্জিওয়ালার হাকানিই অনেক মিস্টি আর সুখের। ছেলেমেয়েরা এখানে থাকতে চায়, এই আমেরিকা শুধু ইয়াং জেনারেশনের জন্য। আমাদের জন্য নয়। যদি কার কন সমস্যা না থাকে, সে যেন আমেরিকায় বা বিদেশে সেটেল্ড না হয়। এটা একতা বিরক্তিকর লাইফ। এখানকার রাস্তাঘাট খুব সুন্দর, বাড়িঘর সুন্দর, আইন কানুন সুন্দর, প্রিবেশ সুন্দর, চাকুরী যখন তখন পাওয়া যায় কিন্তু এই দেশ একতা রবোটিক দেশ। কেউ কার বন্ধু নয়, কেউ কার প্রতিবেশ হয়েও প্রতিবেশ নয়।

আমরা প্রায় ঘন্টা তিন বা চার ফরিদ ভাইয়ের বাসায় ছিলাম। পুরু বাড়িটা ঘুরে ঘুড়ে দেখলাম, সুন্দর বাড়ি। অনেক সপ্নের একটা বাড়ি ফরিদ ভাইয়ের। যার জন্যে তিনি একদিন বাংলাদেশের ৫ তালা বাড়ি ত্যাগ করে, নিজের সমাজকে ছেড়ে, বন্ধু বান্ধব্দের ছেড়ে সেই সুদূর আমেরিকায় চলে গিয়ে একটা বাড়ি কিনলেন, সেই বাড়িটা এখন তার কাছে হাসপাতালের বিছানা ছাড়া যেনো আর কিছুই না। বল্লেন-খুব ক্লাবে গিয়ে সবার সাথে হইচই করতে মন চায়, গোলারটেকের সেই গলিটায় দাঁড়িয়ে পুরান কলিগ আর বন্ধুদের সাথে গল্প করতে মন চায়, বুদ্ধিজীবি শহিদ মিনারের সেই বিশালকায় মাঠের দ্রিশ্য চোখে ভাসে, দেশে চলে আসতে খুব মন চায়, কিন্তু আজ সেই আমেরিকায় বসে একটা মেডিকেটেড খাটের মধ্যে শুয়ে চোখ বন্ধ করে শুধু স্ম্রিতিকে মনে করা ছাড়া আর কনো উপায় নাই। এখন তাদের আর টাকা পয়সার দরকার নাই, ছেলেরা অন্য স্টেটে চাকুরী করে, এক মেয়ে অন্য স্টেটে স্বামীকে নিয়ে বসবাস করে। দিবাও চলে যাবে দ্রুত। শুধু ভাবিই থাকবেন কাছে। এটাই যদি জীবন হয়, তাহলে নিজের সেই পুরান ঘর কি দষ করেছিল?

এক সময় মুন্না ভাই আমাদের থেকে বিদায় নিতে চাইলেন। জিজ্ঞেস করলাম, কই যাবেন? মুন্না ভাই বল্ল-ভাই রে এখানে ঘরে আপনি কতোক্ষন একা একা পেপার আর টিভি দেখে সময় কাতাবেন? তার থেকে একটা অফিসে পার্ত টাইম জব নিয়েছি, সেখানে সান্ধ্যকালিন একতা জব করছি, সময়টা কেটে যাচ্ছে আর সাথে কিছু ইনকামও হচ্ছে। অথচ তাদের কনো কাজ করারও কন প্রয়োজন ছিলো না দেশে।

আমি কখনোই আমেরিকায় বা অন্য কনো দেশে হাজার প্রলভনেও মাইগ্রেট করতে নারাজ। আমার দেশ যতোই করাপ্টেদ হক, যতই জ্যামের দেশ হোক, কিংবা নোংরা হক, আমি এ দেশেই থাকতে চাই।

ফরিদ ভাইয়ের বাসা থেকে বিদায় নেবার সময় দেখলাম, ফরিদ ভাই ঘুমিয়ে গেছেন, দেখে খুবই মায়া হলো। অত্যান্ত অসুস্থ্য আসলে ফরিদ ভাই। অনেক দোয়া করি যেনো ফরিদ ভাই সুস্থ্য হয়ে উঠেন। যত দিনই বাচুন না কেন, তিনি যেন ভালভাবে বাচতে পারেন।

বিদেশের জীবন নিয়ে আসে অনেক চ্যালেঞ্জ, অনেক মানসিক বা শারিরীক সংঘর্ষ। আর মানুষ এই সংঘর্শের মধ্যে খুজে নেয় তার পরিবারের মানুষদের জন্য কিছু আনন্দ, কিছু সুখের বার্তা। এই সুখ দুক্ষের পরিবেশে খুব কম মানুষকেই পাওয়া যায় যারা অকপটে নিজের থেকে সামনে এসে বলে-“আমরা আপনার পাশে আছি, কোনো প্রয়োজনে অবশ্যই জানাবেন”। আর এটাই বিদেশ। এখানে কেউ কারো না, কোনো প্রতিবেশিই প্রতিবেশী না, কেউ কাউকে যেন চিনে না, আর চিনলেও কারো কোন দায়িত্তও নাই। এতাই দেখছি প্রতিদিন এখানে এই আমেরিকায়।

চলে আসার সময় ফরিদ ভাবী আবার কি কি যেনো উপহার হাতে তুলে দিলেন। কয়দিন পর আবার দেশে চলে যাব, কে জানে আবার ফরিদ ভাইয়ের সাথে দেখা হয় কিনা। আল্লাহ ঊনাকে সুস্থতা দান করুক।

০১/০৭/২০২৫-আমেরিকার ভ্রমন কাহিনী-পর্ব-১ ছোট ভাবী এবং তার বাসা

গত ১৪ তারিখে অর্থাৎ ১৪ মে ২০২৫ তারিখে ছোট মেয়ের কনভোকেশন উপলক্ষে আমি এবং আমার স্ত্রী আমেরিকার বাল্টিমোরে গিয়েছিলাম। প্রায় এক মাসের মতো ছুটি কাটিয়েছি ওখানে। এর আগে আমি একাই ১৯৯৫ সালে আমেরিকায় গিয়েছিলাম কিন্তু তখন ব্যাপারটা ছিলো অন্য রকম। এবারের ভ্রমনটা শুধু ভ্রমনই ছিলো না, এর সাথে মিক্সড ছিলো হাজার পদের ইভেন্ট, চিন্তাভাবনা এবং পরিকল্পনা। তাই ভাবছি, ক্রমান্বয়ে এসব নিয়ে ধারাবাহিকভাবে একটা ভ্রমন কাহিনী লিখবো। তারই সুচনায় আজকের প্রথম পর্ব।

ছোট ভাবী এবং তার বাসা

ছোট ভাবী মারা গিয়েছিলেন ২০২১ সালের ৪ এপ্রিল তারিখে। সময় কত দ্রুত চলে যায় ভাবাই যায় না। দেখতে দেখতে প্রায় ৪ বছরের বেশী পার হয়ে গেলো। ভাবীর সাথে আমার খুব সুন্দর একটা সম্পর্ক ছিল। খুব ভালো মানুষ ছিলেন ভাবি। দেখতেও সুন্দর ছিলেন। এবার আমেরিকায় গিয়ে ভাবীর বাসাটা দেখলাম যেখানে এখনো ছোটভাই একাই থাকেন।

বাসাটা দেখেই মনের ভিতর খুব ছট করে উঠেছিল এই ভেবে যে, এই বাড়িটার চারিদিকে একটা সময় এই মানুষটা হাটাচলা করেছেন। এখনো নিখুতভাবে পরীক্ষা করলে তার পায়ের চিহ্ন হয়তো পাওয়া যাবে। বাড়িটার দরজায় পরীক্ষা করলে হয়তো তার হাতের ছাপটাও পাওয়া যাবে। দেখলাম, বাড়িটার সামনে বেশ কিছু গাছ লাগানো, গাছগুলি এখন বড় হয়ে গেছে। ভাবি নিজেই লাগিয়েছিলেন গাছগুলি। মানুষটা নাই কিন্তু গাছগুলি এখনো রয়ে গেছে, আর তারা ধিরে ধীরে বড় হচ্ছে। দেখলাম, গাছের টবগুলিতে কিছু কিছু পাথর আর মাটির স্তুপ আছে। একটা পানির টেপও আছে। ইমোশনালি ভাবছিলাম যে, সময়টাকে যদি ব্যাকওয়ার্ড মুভ করে চার বছরের আগে যাই যখন ভাবী জীবিত ছিলেন, হয়তো দেখা যাবে, উনি বাড়ীটার চারিধারে ঘুরছেন, বিকাল বাড়ীটার সামনের সিড়িতে বসে চা খাচ্ছেন, কিংবা শান্ত দুপুরের পরে হাতে কয়েকটা গাছের চাড়া নিয়ে মনের আনন্দে টবগুলিতে গাছগুলি লাগাচ্ছেন। আশেপাশের বাড়ির কোনো প্রতিবেশি হয়তো তাকে দেখতে পেয়ে হাই-হ্যালোও করছেন। ভাবি হয়তো মুচকী হেসে তাকে সম্বোধন করছেন। অথচ আজকে সেই মানুষটা নাই। সবকিছুই আছে, বাড়িটা আছে, সিড়িটা আছে, গাছের টবগুলি আছে, গাছগুলিও আছে, কিন্তু উনি নেই। এটা ভাবতেই মনটা খারাপ হয়ে গিয়েছিলো।

ছোটভাই নিজেও সেই সব দিনের কথা বলতে গিয়ে অনেকটা ইমোশনাল হয়ে উঠছিলেন। এই বাড়িটা কেনার আগে ভাবী নাকি প্রতিদিন এই এলাকায় এসে বাড়িটার সামনে গাড়িতে বসে থাকতেন। তার এই বাড়িটা খুব পছন্দ হয়েছিল। অবশেষে যেভাবেই হোক, ভাবীর সেই মনের ইচ্ছাটা ছোটভাই পুরন করেছিলেন বাড়িটা কিনে।

ছোটভাই একটা সিগারেট ধরিয়ে দূর পড়ন্ত বিকেলের দূর আকাশের প্রায় ডুবু ডুবু সূর্যের দিকে তাকিয়ে একমনে বলছিলেন-

-জানেন, যখন শিমুলকে নিয়ে আমি আমেরিকায় আসলাম, সাথে দুটু ছেলেমেয়ে। আমাদের খুব অল্প আয় ছিলো। আমার একার আয়ে সংসার চলছিলো না। বাচ্চারাও বেশ ছোট, পরাশুনার খরচ, সংসারের খরচ, নিজেদের খরচ সব মিলিয়ে হাত সব সময় টানাপোড়েনই ছিলো। আজকের দিনের মতো আমার আর্থিক অবস্থা তখন ছিলো না। কোনো উপায়ন্তর না দেখে শেষ পর্যন্ত শিমুল একটা রেস্টুরেন্টে ক্লিনারের চাকুরি নিয়েছিলো। রেস্টুরেন্টের ফ্লোর, বাথরুম বেসিন ইত্যাদি তাকে ক্লিন করতে হয়েছে। খুব মায়া লাগত আমার। যে মহিলাকে আমি কখনো নিজের বাথরুমটাও ক্লিন করতে দেইনি বাংলাদেশে, সেই মহিলাটা আমাদের সুখের জন্য, একটু আর্থিক অবস্থা ভাল করার জন্য আমেরিকায় এসে পরের ব্যবসার বাথরুম বেসিন ফ্লোর পর্যন্ত ক্লিন করতে হয়েছে। কিন্তু ওর মন খারাপ হতো না। ভালো ইংরেজী বলতে পারত না বলে ভালো কোনো জবেও দেয়া সম্ভব হচ্ছিলো না। আজ আমাদের আর্থিক অবস্থার কতই না উন্নতি, কোন ভাবনা নাই এখন টাকা পয়সার, অথচ শিমুল নাই। এখন আমাদের শপেই কত কর্মচারী কাজ করে। বড় আফসোস লাগে মাঝে মাঝে। তার এখনই চলে যাওয়ার সময় ছিলো না আসলে। তার এই বয়সে চিরতরে চলে যাবার কোন কথাই না। কেউ জানতে পারলাম না, সে চলে যাচ্ছে। শিমুল নিজেও কখনো ভাবেনি, তাকে এভাবে অসময়ে চলে যেতে হবে। ওর সবচেয়ে দুশ্চিন্তা ছিল ওর ছেলেকে নিয়ে যে কিনা কোভিডে ভোগছিল। অথচ সিমুল নিজেও করোনায় আক্রান্ত ছিলো। ছেলে লাইফ সাপোর্টে থাকলেও শিমুল নিজেই চলে গেলো সবার আগে।

সবচেয়ে কস্টের ব্যাপারটা হল, আমরা কেহই শিমুলের দাফনের সময় কাছেই ছিলাম না। এটা যে কত বড় ডিপ্রাইভেশন বুঝানো যাবে না। তার ছেলে ফয়সাল করোনায় হাসপাতালে ভর্তি হয়ে লাইফ সাপোর্টে, মেয়ে স্বামী সন্তানসহ আরেক স্টেটে, আমি নিজেও অসুস্থ্য থাকায় সিমুলের কাছে যেতেই পারলাম না। সিমুল পরিবারের কারো সাথেই দাফনের সময় সান্নিধ্য পেলো না। শিমুল কি আমাদের উপর এজন্য খুব রেগেছিল? আমি জানি না। তবে আমি এখন একা একা ভাবি শিমুলের জন্য।

ছোট ভাই আরেকটা সিগারেট ধরিয়ে বাড়ীর সিড়িটার উপর বসে তখনো কথা বলে যাচ্ছিল, আর আমি শুনছিলাম-

-জানেন শিমুল মারা যাওয়ায় আমার পরে সবচেয়ে কার বেশি ক্ষতি হয়েছে?-না, আমি বলতে পারব না, আমি বললাম ছোট ভাইকে।

-শিমুল মারা যাওয়ায় আমার পরে সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্থ্য হয়েছে জান্নার মেয়ের, তারপর ক্ষতিগ্রস্থ হয়েছে শিমুলের মায়ের। কারন শিমুল তখন ছোট খাটো কাজ করত যেখান থেকে শিমুল কিছু হলেও টাকা কামাইত। আর সেই কামানো টাকাগুলি শিমুল ওর মাকে পাঠাতো দেশে। আমি যখন শিমুলের টাকাটা ওর মাকে পাঠাইতাম, আমিও ওর অগোচরে কিছু টাকা যোগ করে একটু বেশি এমাউন্টই পাঠাতাম। শিমুল কখনোই ওর মাকে টাকা পাঠাইতে ভুল করতো না। শিমুল মারা যাওয়ার পর শিমুলের মায়ের এই রোজগারটা বন্ধ হয়ে গিয়েছে। আমি মাঝে মাঝে টাকা পাঠাই কিন্তু উনি টাকাগুলি নিজের জন্য খরচ না করে তার ছোট ছেলের জন্য খরচ করে ফেলেন, অথচ তার ছোট ছেলে ইচ্ছে করলে ভাল চাকুরী করে অনেক টাকা কামাইতে পারে। লন্ডন থাকে কিন্তু বড্ড আলসে এবং খাম খেয়ালি জীবন। তাই আমিও আর এখন টাকা পাঠাই না।

জান্নার মেয়েটা শিমুলের সাথে এতোটাই জড়িত ছিলো যে, সে তার বাবা মা ছাড়াই থাকতে পারতো শিমুলের কাছে। জান্নার ডিভোর্স হয়ে যাওয়ার পর জান্নার মেয়েটা শিমুলের কাছেই ছিলো। সময়টা ভালই কেটে যাচ্ছিলো। এখন তো জান্নারও একটা বিয়ের দরকার। জান্নার মেয়ের কারনে জান্নারও ভাল বিয়ে হচ্ছে না। অথচ শিমুল থাকলে জান্নার বিয়েটা অনেক আগেই হয়ে যেতো। একটা সময় আসবে-জান্নার মেয়েটার আরো ভোগান্তি বাড়বে। কিন্তু শিমুল থাকলে কোনো ভোগান্তিই হতো না।

কে জানে কার ভাগ্যে কি আছে, বলে ছোট ভাই একটা দীর্ঘশাস ছাড়লেন।

আমি ওনাকে কিছুই বললাম না। শুধু বাড়িটার বাইরের চারিদিকেই কয়েকটা ছবি তুল্লাম। বাড়িটার ভিতরে যেতে ইচ্ছে করে নাই, তাই ভিতরে গেলামই না। অথচ প্রায় ঘন্টা দুয়েক বাড়িটার সামনে বসে কাটিয়ে গেলাম। ছোট ভাবি ভাল থাকুক, জান্নাতি হন, সে দোয়া করি।

ছোট ভাই তার এই বাসাটায় আমাদের আনার আগে প্রায় ঘন্টা দুয়েক বিভিন্ন রাস্তায় ঘুরাফেরা করেছিলাম। ছোটভাই যখন প্রথম আমেরিকায় এলেন, কই থাকতেন তিনি সেই বাসাটায়ও নিয়ে গেলেন। এখন সেটা তার নয়, আরেকজন বাড়িটা কিনে বসবাস করে। অদ্ভুত এক জঙ্গলের মতো জায়গা। একটু সস্তা ছিল বাসাটা। আশেপাশে কোনো বসতি নাই।

আসলে ছোট ভাই এখন একেবারে একা। তার জীবনের উপর মনে হয় কোনো দরদ নাই। যখন কিছু জিজ্ঞেস করি, বিয়ে করে অন্তত একাকীত্বকে ঘুচান, কিন্তু উনি সেটা করতে চান না। বয়স তার প্রায় ৬৭ এর কাছাকাছি, এখন এই সময়ে এসে আর সংসারি হইতে চান না। উনি নিজেই বলেন যে, উনার ছেলে আর মেয়ে দুটু খুব ভাল হলেও তার অনুপস্থিতি তাদেরকে একেবারে অসহায় করে ফেলবে। এ জন্য তার বাচতে চাওয়া কিন্তু নিজের জন্য ওনার কিছুই চাওয়া নাই।

সারাদিন দোকানে কাজ করেন, নিজের দোকান। কর্মচারী আছে, তার নিজের ছেলেও দোকানে কাজ করে। দোকানটা মন্দ না। বেশীরভাগ সময় দোকানেই খায়, কখনো বাসি খাবার, কখনো ছেলেমেয়েরা রান্না করে দোকানে নিয়ে আসে, সেগুলিই খান। কন আফসস নাই মনে হয় দেখে। রাতে বাসায় এসে একাই ঘুমান। ছেলে আলাদা থাকে, মেয়েও আলাদা থাকে, আর উনি সেই বাড়িটায় থাকে যেখানে ছোটভাবী থাকতেন।

সময় পান না বলে ওনার গাড়িতে করেই প্রায় ঘন্টা চারেক ঘুরলাম এদিক সেদিক। গাড়িতে বসেই অনেক আলাপ হচ্ছিল। পথিমধ্যে কয়েকটা জায়গায় হল্ট করেছিলাম। তার মধ্যে একটা হলো ডানকিন রেস্টুরেন্ট, পোর্ট এলাকা আর তার বাসা।

পোর্ট এলাকাটা ভীষন সুন্দর। ওখানে প্রায় আধাঘন্টা কাটিয়েছিলাম। এখানকার মানুষগুলি বেশ আনন্দে আছে। বিশাল একটা পোর্ট, লোকাল পোর্ট, পাশেই সি বীচের মতো অনেক রেস্টুরেন্ট, ভ্রাম্যমান খাবারের জায়গা ইত্যাদি।

পোর্ট এলাকাটা একটা অভিজাত আবাসিক এলাকার মতো। এখানকার মানুষ গুলি খুব নিরিবিলিতে বীচের আমেজ অনুভব করেন, ফিশিং করেন, বিকালে পাশের রেষ্টুরেন্ট গুলিতে হয়তো বন্ধুবান্ধব নিয়ে আড্ডা দেন, বাচ্চারাও পাশের খেলার একটা জায়গা আছে সেখানে আড্ডা দেয়। সবচেয়ে মজার ব্যাপার হলো, এখানের প্রতিটি বাড়িই যেনো রিজোর্ট। আমি জানি না আসলেই এগুলি রিজোর্ট হিসাবে কেউ ভাড়া নেয় কিনা, তবে বাড়িগুলির বারান্দার এরেঞ্জমেন্ট দেখে মনে হয়েছে, হতে পারে।

ছোটভাই আমাদেরকে কোনো গিফট কিনে দিতে পারেন নাই বিধায় আমার জন্য, মেয়ের জন্য, আবিরের জন্য আর মিটুলের জন্য এক হাজার ডলার গিফট করলে। টাকাটা নিতে চাইতে মন চাচ্ছিলো না। কারন আমার আসলেই দরকার নাই। কিন্তু ছোটভাই একজন ভাল মানুষ, হয়তো এটাতে উনার একটা আনন্দ আছে। তাই নিলাম।

ছোট ভাই আসলে একজন অতি সাধারনভাবে চলাফেরা করা মানুশ। ভালো মানুষ।

২৬/৬/২০২৫-বাংলা কলেজের পরীক্ষার্থী এবং আমার স্ত্রী

গত ২৪ জুন ২০২৫ তারিখে সারা দেশ ব্যাপি ইন্টারমিডিয়েট পরীক্ষা শুরু হয়েছে। এর মধ্যে বাঙলা কলেজে কেন্দ্র পড়েছে এমন একটি মেয়ে পরীক্ষা শুরু হবার প্রায় পৌনে দুই ঘন্টা পরে পরীক্ষা কেন্দ্রে এসে পরীক্ষা দেয়ার আবদার করে। স্বাভাবিক ভাবেই বাঙলা কলেজের ভাইস প্রিন্সিপ্যাল যিনি আমার বউ, সে কনভাবেই আইনের ব্যত্যয় ঘটিয়ে পৌনে দুই ঘন্টার পর কাউকে পরীক্ষা দিতে সে পারে না। তাই মেয়েটির আর ১ম পরীক্ষা দেয়া হল না। কলেজের ভিতর অনেক সাংবাদিক, অনেক সুশীল জনতা সহ আরো অভিভাবকগন ছিলেন। মুহুর্তের মধ্যে মেয়েটির পরীক্ষা না দিতে পারায় সোস্যাল মিডিয়া ভাইরাল হয়ে যায়, সাথে আমার স্ত্রীও। অনেকের অনেক আবেগঘন স্ট্যাটাস, অনেক কথাবার্তা, অনেক কেচ্ছা কাহিনি আর মনতব্যে সোস্যাল মিডিয়া ভরে উঠে-কেনো একটু দয়া করা গেলো না, কেনো মেয়েকে পরীক্ষা হলে ঢোকতে দেয়া হল না, কি হতো যদি একটি মানবিক কারনেই তাকে পৌনে দুই ঘন্টা পড়েও পরীক্ষা দিতে দেয়া উচিত ছিলো ইত্যাদি ইত্যাদি। কেউ আইনটা জানে, কেউ জানে না। কেউ বেশি আবেগি, আবার কেউ বোকা। ফলে জেনে, না জেনে, আবেগে যাচ্ছেতাই মন্তব্য করেই যাচ্ছে যেন এটা কলেজ অথরিটি কোন মহা অন্যায় করেছে দেরী করে আসা মেয়েটিকে পরীক্ষা দিতে না দেয়ায়। তারই পরিপ্রেক্ষিতে আমার এই পোশট সোস্যাল মিডিয়ায়।

———————————  

আসলেই শিক্ষক বা কলেজের মানবিকতা দেখানোর কোনো সুযোগ নাই। @Myeen Uddin সাহেব লেখকের এই লেখার সাথে আমি আরো যোগ করতে চাই যে,

(১) যদি কলেজ অথরিটি পরীক্ষার দেড় ঘন্টা পরে আইনের তোয়াক্কা না করে পরীক্ষার্থীকে পরীক্ষার হলে ঢোকিয়ে পরীক্ষা নিলেন, তাহলে যে কয়টি প্রশ্নের সম্মুখীন হবেন তা হলো:

(ক) কোন ক্ষমতার বলে অথরিটি এটা করলেন? তাদের কি সেই ক্ষমত ছিলো? সত্য কথা যে, তাদের সেই ক্ষমতা নাই। তাহলে নিলেন কিভাবে? এই প্রশ্ন কি আসতো না? এই সুশীল সমাজ এবং সাংবাদিকগনই আবার চোখে আংগুল দেখিয়ে প্রশ্ন করতেন।

(খ) তখন এই সুশীল মহল এবং সাংবাদিকগনই আবার এই প্রশ্নও তুলতেন যে,- নিশ্চয়ই এখানে বিপুল অংকের টাকায় প্রশ্ন পত্র ফাস বা ছাত্রির কাছ থেকে বিপুল কিছু গ্রহন করা হয়েছে।

(গ) যেহেতু প্রথম ৩০ মিনিটের মধ্যে MCQ পরীক্ষা শেষ হয়ে অই শেশনটাই ক্লোজ হয়ে যায়, সেক্ষেত্রে কলেজ অথরিটি একস্ট্রা প্রশ্ন পাবেন কোথায় পরীক্ষা নেয়ার জন্য?

এবার আসি ভিন্ন একটা এংগেলেঃ

(২) মেয়েটির মা স্ট্রোক করে হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন, এইটাই বা কলেজ প্রমান করবে কিভাবে? হাসপাতালে তার মাকে ভর্তি করানোর অন্তত একটা ভর্তি স্লিপের স্ক্রিন শট কিংবা তার মায়ের ভর্তি অবস্থায় তোলা একটা ছবিও তো কলেজ অথরিটিকে দেখাতে পারতো।

(৩) মেয়েটির এমনিতেই দেড় ঘন্টা দেরি হয়ে গেছে। তার পেরেন্ট কলেজ পরীক্ষা কেন্দ্র থেকে একেবারেই কাছে ছিলো। সেতো তার পেরেন্ট কলেজের যে কোনো একজন শিক্ষককে সাথে নিয়েও আসতে পারতো যাতে শিক্ষক টু শিক্ষক ব্যাপারটা হ্যান্ডেল করা যায়। মেয়েটি সেটা করতেনি। হয়তো অনেকে বল্বেন-মায়ের এই অবস্থায় তার মাথা ঠিক ছিলো না, বা বুদ্ধিতে আসে নাই। কিন্তু মেয়েটি ঠিকই তার এক খালাকে সাথে নিয়ে এসছেন। সেটাই যে তার খালা সেটাও কিন্তু কলেজ অথরিটির পক্ষে প্রমান করা সম্ভব না।

অনেকেই মানবতা, দয়া কিংবা অধিকারের কথা বলে ফেসবুক ভাসিয়ে দিচ্ছেন। পরীক্ষার ফি জমা দিয়েছে তো দেরী করে এলেও তার অধিকার আছে হলে বসার ইত্যাদি ইত্যাদি। এগুলি কোনো যুক্তি না। প্লেনের টিকেট কেটে টাইমমত এয়ারপোর্টে যাইয়েন না, দেইখেন প্লেন আপনার জন্য অপেক্ষা করে কিনা আর করলে কতোক্ষন। সব কিছুর একটা নিয়ম আছে।

হ্যা, মেয়েটির এখনো বাকি পরীক্ষা গুলি দেবার সুযোগ আছে। এর মধ্যে সে যদি তার মায়ের এই অকাল এক্সিডেন্টের কথা উল্লেখ করে শিক্ষা বোর্ডের কাছে একটা পরীক্ষার জন্য রি-এপ্লাই করে, সরকার হয়তোবা আরো অন্যান্য ভুক্তভোগী পরীক্ষার্থীর সাথে তারটাও গ্রহন করে সুযোগ দিতে পারে। কিন্তু কলেজ শিক্ষকগন কিংবা কলেজ অথরিটির পক্ষে কোনো কালেও সম্ভব না।

Mayeen Uddin: এর লেখা

আজ মেয়েটির ছবি ভাইরাল।

মা স্ট্রোক করায় হাসপাতালে পৌঁছে দিতে গিয়ে পরীক্ষার হলে পৌঁছাতে দেরি হয়। সে জন্য তাকে পরীক্ষায় অংশ নিতে দেওয়া হয়নি। ভিডিওতে মেয়েটির চোখের জল দেখে আমারও বুক ভেঙে যাচ্ছে। অনেকে পরীক্ষা কেন্দ্রের শিক্ষকদের কঠোর সমালোচনা করছেন, কেউ কেউ গালাগালিও করছেন। অনেকেই বলছেন, “মাত্র এক ঘণ্টা তো! মানবিক কারণে পরীক্ষা দিতে দেওয়া উচিত ছিল।” কিন্তু বাস্তবতা ভিন্ন। আমরা শিক্ষকরা অনেক সময় ‘অমানবিক’ হতে বাধ্য হই, কারণ আমরা আসলে অক্ষম।

আমাদের এই অক্ষমতার পেছনে রয়েছে —সরকারের নীতিমালা, শিক্ষা বোর্ডের বিধি আর পাবলিক পরীক্ষার কঠোর আইন। এই আইন আমাদের এমনভাবে বেঁধে রেখেছে যে, মানবিকতা দেখানোর ক্ষমতাটুকুও আমাদের হাতে নেই। পরীক্ষা শুরুর নির্ধারিত সময়ের পরে কাউকে পরীক্ষায় অংশ নিতে দেওয়া যায় না — এটা আমাদের স্পষ্ট নির্দেশনা।

যেমন এইচএসসি পরীক্ষায় দুটি অংশ থাকে — MCQ ও CQ। MCQ অংশ চলে প্রথম ৩০ মিনিট। এরপর সেই উত্তরপত্র উঠিয়ে নেওয়া হয় এবং CQ পরীক্ষার শুরু হয়। এই নির্ধারিত সময়ের পরে কেউ কেন্দ্রে এলে শিক্ষক কীভাবে তাকে নতুন করে MCQ প্রশ্ন দেবে?

শিক্ষকের হাতে সে ক্ষমতা নেই।

তাহলে প্রশ্ন হলো — মানবিকতার জায়গাটা কে দেখবে?

সেই দায়িত্ব কি শিক্ষা বোর্ড বা সরকারের নয়? সরকার চাইলে এই মেয়েটির ক্ষেত্রে বিশেষ বিবেচনায় তার বিষয়ে ‘অটোপাশ’ দিতে পারে। আমাদের হাতে সেই সিদ্ধান্ত নেই।

আমি একবার একজন ব্যাংকারকে জিজ্ঞেস করেছিলাম,

“একজন মুমূর্ষু রোগীর অপারেশন করতে আজই ১০ লাখ টাকা দরকার। আপনি জানেন, সে পরদিন টাকা ফেরত দেবে। আপনার ক্যাশে কোটি কোটি টাকা আছে — আপনি কি তাকে মানবিক কারণে এই টাকা দিয়ে দিতে পারবেন?”

উত্তর ছিল, “না, নিয়মে নেই, সম্ভব না।”

এই যেমন একটা প্রাণের প্রশ্ন, তেমনই পরীক্ষা নিয়েও নিয়মের বাঁধনে আমাদের হাতে কিছুই থাকে না। কিন্তু তবুও বলি —

পরীক্ষা মাত্র এক বছরের, আর জীবন একটাই।

মানবিকতার জায়গাটুকু যেন আইনের বাইরে না পড়ে — এই হোক আমাদের প্রার্থনা।

১৩/৬/২০২৫-আমেরিকা থেকে বাসায় ফিরলাম

গতকাল ১২/৬/২০২৫ তারিখ বিকাল সাড়ে চারটায় বিমান বন্দরে ল্যান্ড করেছি আমেরিকা থেকে। বাসায় আসতে আসতে প্রায় ৭ টা বেজে গিয়েছিলো। অতঃপর গোসল করে খাওয়া দাওয়া করে ঘুমিয়ে গিয়েছিলাম। গত এক মাসের একটা ভ্রমন ফিরিস্থি লিখবো লিখবো করে সময় করে উঠতে পারছি না। ভাবলাম, প্রতিদিন একটু একটু করে আমার এবারের আমেরিকা ভিজিটের অভিজ্ঞতাটা লিখবো।

পর্ব-১ঃ

১২/৬/২০২৫-আমেরিকা থেকে ফেরত-ফেসবুকে লিখা

গত মে মাসের ১৪ তারিখে আমার ছোট মেয়ে সানজিদা তাবাসসুম কনিকার অনার্স শেষে কনভোকেশনের অনুষ্ঠানে আমেরিকায় গিয়েছিলাম। গতকাল অর্থাৎ ১১ জুন ২০২৫ তারিখে আমেরিকা থেকে বাংলাদেশের উদ্দেশ্যে রওয়ানা হয়েছিলাম।

প্রায় এক মাস আগে….

এসেছিলাম ইউনিভার্সিটি অফ ম্যারিল্যান্ড বাল্টিমোর কাউন্টি (UMBC) তে ছোট মেয়ের অনার্স শেষে কনভোকেশন অনুষ্ঠানে। সবকিছু খুব দ্রুত পেরিয়ে গেলো। ছোট মেয়ে সানজিদার অতুলনীয় সার্ভিস না থাকলে আমেরিকার এক প্রান্ত থেকে আরেক প্রান্তে (নায়েগ্রা, লাসভেগাস, রিনু, নেভাদা, পেন্সিলভিয়া, ভার্জিনিয়া, নিউইয়র্ক, ওয়াশিংটন, এবং আরো অনেক দর্শনীয় স্থান) ঘুরাই হতো না। ধন্যবাদ মা আমার।

আজ ফিরে যাচ্ছি দেশে। মনটা কষ্ট এবং আনন্দের দোলাচালে কেমন যেনো অস্থির। ছোট মেয়েকে আবারো ফেলে যাচ্ছি একা আমেরিকায়। ইউনিভার্সিটির অনার্স শেষেই অনেক ভাল একটা জবে ঢোকেছে। তাকে থাকতেই হচ্ছে। অনেক কষ্ট লাগছে ভিতরে। সন্তান বড় প্রিয় জিনিষ। এয়ারপোর্ট থেকে মেয়েকে বিদায় দিতে চোখের অশ্রু তাকে দেখাতে চাইনি বলে জড়িয়ে ধরে শুধু বলেছিলাম-ভালোবাসি ততটুকু মা যতটুকু একজন পিতা সবচেয়ে বেশি ভালোবাসতে পারে তার আদরের সন্তানকে। অন্যদিকে দেশে ফিরে যাচ্ছি এতেই মনটা আবার ভালোও লাগছে। এমনই একটা দোলাচলে ছিলাম আজ থেকে ৪৮ বছর আগে যেদিন গ্রাম থেকে ক্যাডেট কলেজে গিয়েছিলাম। একদিকে গ্রাম ছাড়ার কষ্ট, অন্যদিকে ক্যাডেট কলেজে পদার্পনের আনন্দে। অশ্রুসিক্ত নয়ন, মেকী হাসির ঠোটের অন্তরালে অন্তরের কষ্টের যে অনুভুতি তা কি আনন্দের আকি বিষাদের সেটা বর্ননা করা কঠিন।

বড় মেয়েও তার স্বামীকে নিয়ে এই ফাকে সিংগাপুর- মালয়েশিয়ায় ঘুরছে। প্রতিদিন কথা হচ্ছিলো ওদের সাথেও কিন্তু কোথায় যেনো সেখানেও একটা দোলাচালে ছিলাম। কথা হয়, ভিডিওতে দেখা হয় অথচ এক টেবিলে বসে খাওয়া হয় না, আড্ডা হয় না। জীবনটা মনে হয় এমনই। বাচ্চারা যখন ছোট থাকে, ওদের আবদার, ওদের দুষ্টুমি, ওদের জালাতন একদিন ধীরে ধীরে কমতে কমতে এমন জায়গায় নেমে আসে যেনো আমরাই ওদের কাছে বাচ্চা মানুষ। একদিন যে ছোট ছোট বাচ্চাগুলিকে সবকিছু থেকে আড়াল করে রাখতাম, এখন এই বয়সে এসে দেখলাম, ওরাই হাত ধরে রাখছে আমাদের। এ যেনো কি স্বর্গীয় এক অনুভুতি। এই বুড়ো বয়সে এসে সন্তানদের কাছে নিজেরা বাচ্চাদের মতো হয়ে যেতে মন্দ লাগে না। আমরা আসলেই এই বয়সে আগের মত আর সেই শক্তি, মনোযোগ আর সাহস থাকে না। সন্তানের হাত ধরে হাটা যে কত নিরাপদ তা খুব অনুভব করি। তাই মনের এবং অন্তরের অন্তস্থল থেকে দোয়া বেরিয়ে আসে প্রতিটি ক্ষনে যেনো ওরা থাকে সর্বদা নিরাপদ, সুসাস্থ্যে এবং সুখীতে।

বাংলাদেশ থেকে আসার টিকিট ছিল ইকোনোমি ক্লাশে। বুঝতে পারিনি এক নাগাড়ে ২২/২৩ ঘন্টা ফ্লাইটের অস্বস্থি এবং অস্থিরতা। ছোট মেয়ে সম্ভবত ব্যাপারটা উপলব্ধি করেছিল। আজ যখন এয়ারপোর্টে চেক ইন করি, টিকেট চেক করে দেখি-কখন কবে কিভাবে যে সেটা বিজনেজ/প্লাটিনাম হয়ে রয়েছে। মেয়েকে জিজ্ঞেস করতেই মুচকি হেসে বল্লো-তোমাদের এত বড় জার্নিটায় তোমাদের আসার সময় নিশ্চয় কষ্ট হয়েছিল, আমার সেটা ভাল লাগেনি আব্বু। তাই তোমাদেরকে এই সারপ্রাইজটা দেয়া।

মেয়ের দিকে তাকিয়ে শুধু মুচকী হাসলাম। টিকেটটা চেঞ্জ করাই মুখ্য ব্যাপার নয়, আমাদের এই বুড়ো বাবা মায়ের আনকম্ফোর্ট বিবেচনা করে মেয়ে আমাদেরকে কম্ফোর্ট দেয়ার জন্য কিছুই না জানিয়ে হাফ মিলিয়ন টাকা খরচ করতেও দিধা করেনি। এটাই হয়ত সন্তানের ভালোবাসা।

আমি তোমাদের ভালোবাসি মা।

১২/০৫/২০২৫-মানুষ চলেই যায়

তারপরেও মানুষের জীবন চলেই যায়। কেউ একা একাই চলে যায় এবং কাউকে কনো প্রভাব বিস্তার না করেই চলে যায় নীরবে, নিঃশব্দে। আবার কেউ এতোটাই শোরগোল করে যায় যে, তার টালমাটাল পরিস্থিতিতে যারা বেচে থাকেন, তাদের জীবনকে অনেকটাই নাড়িয়ে দিয়ে যায়। যেনো সেই ঢেউয়ের মতো যা সৃষ্টি করেছিলো অজানা গন্তব্যে চলে যাওয়া কনো স্টীমার আর পিছনে ফেলে গেছে পানির উপর তৈরী করা ঢেঊ যা কিনা সেই স্টীমারের চলে যাওয়ার পরেই নদীর তীরে এসে তীরকে কাপিয়ে তোলে।

যারা একবার চলে যায়, তারা সামিয়ীক সময়ের জন্য সবাইকে একটু নারা দিয়ে গেলেও সময়ের আবর্তে ঠিক যখন সময় থিতু হয়ে আসে, তখন যিনি চলে গেলো তাকে নিয়ে আর কোন কিছুই কেপে উঠে না। সে এই অদ্ভুত প্রিথিবীতে ছিলো কিনা এটাই আর প্রমান করা যায় না। মৃতদের ভীরে সে এক খন্ড কদাকার মাটির মতো আনাচে কানাচে কিংবা নদীর ঘোলাটে পানির মধ্যে মশে একাকার হয়ে কোথায় যে হারিয়ে যায়, তা এ জগতের কেহই আর তার অস্তিত্ব খুজে পায় না। গুটিকতক নামকরা ব্যক্তিত্ব ছাড়া আর কেহউ স্মরণীয় হয়ে থাকে না। এক সময় সেই স্মরণীয় ব্যক্তিত্বরাও কালের সুগর্ভে একেবারে হারিয়ে যায়। কোথাও আর কেউ থাকে না। ফলে আজকের অরু, সৌম্য, আকাশ, মাধুরী এরা শুধু বর্তমানকে ঘিরেই যতো ইমোশন, প্রেম, হিংসা, দুসচিন্তা কিংবা পরিকল্পনায় নিমজ্জিত থাকে। আর এদের এইসব ইতিহাস প্রোথিত থাকে প্রতিটি এফেক্টেড চরিত্রের ডিএনএ তে। বড্ড আফসোস হয় আমার এজন্য। এতো সুন্দর একটা প্রিথিবীতে কেউ বেশীদিন এর নীলাকাস, এর ঝড়ো হাওয়া, এর সবুজ বনায়ন কিংবা জোস্নার মৃদুমন্দ আলোছায়ার অভিব্যক্তি বেশীদিন উপভোগ করার আগেই চলে যেতে হয়। পারতো না কি সেই অদৃশ্য স্রিষ্টিকর্তা আমাকে বা তাদেরকে আরো হাজার বছর জীবিত রেখে এই জীবনের পুর্ন সাধ উপভোগ করাইতে? পারতো। কিন্তু সেটাও তার এক লীলাখেলা।

কি জানি হতে পারে এ সবই কোনো বৃহৎ খেলার একটা পর্বে আমরা বিচরন করছি। আর এই পর্বের পরে হয়তো আরো কোন পর্ব তো আমাদের জন্য রয়েছেই যার কনো তথ্য আমাদের কাছে নাই। সেই পর্বে কি কখনো আমার সাথে এসব মানুষের সাথে আবার দেখা হবে? দেখা হবে কি অরুর সাথে, সানার সাথে কিংবা এখন যারা আমার আশেপাশে আছে তাদের সাথে?

১২/০৫/২০২৫-হার্ট এটাক

বুঝিনি কখন কবে হার্ট এটাক হয়েছিলো অথচ বারবার একই রকমের উপসর্গ আমি উপভোগ করেছি বহুবার। এটা যে আমার জীবনে এতোবড় একটা সর্বনাশী এবং ভয়ংকর কিছু বাসা বেধেছে, সেটা আমি বুঝিনি। কিন্তু যখন বুঝেছি, আমি শুধু মুচকী হেসেছিলাম। ভয় তো পাইইনি বরং মনে হয়েছে-বাহ, এটা কি সেটাই যেটা মানুষ বারবার ভয়ংকর ভাষায় তার বর্ননা দেয়?

বড় মেয়ের শসগুড় বাড়ী বেড়াতে যাওয়ার ঠিক প্রাক্কালেই আমি গাড়িতে বসে এতোটাই অসস্থি বোধ করছিলাম যে, পুরু ভ্রমনটাই আমার সুখের ছিলো না। পথিমধ্যে কয়েক জায়গায় থেমে চা সিগারেট খেয়েছি। আর ঘন ঘন প্রেসার বেড়ে যাচ্ছে বলে মনে করে ইরেগুলার ওসারটিল নামে একটা প্রেসারের মেডিসিন খেয়েই চলেছি। কিন্তু ভিতরের যন্ত্রনা বা একটা জলন্তীভাব আমার কিছুতেই কাটছিলো না। সিরাজগঞ্জ গিয়ে প্রেসার মেপেও খুব একটা সুরাহা যে করতে পেরেছি সেরকমও হয় নাই। মেয়ে ডাক্তার, মেয়ের জামাই আবির ডাক্তার, তারাও যে খুব একটা অভিজ্ঞ মতামত দিতে পেরেছে তেমনটা নয়। ওখানে যাওয়ার পর একতার পর একটা সিগারেটও খেয়েছি। তিন দিন ছিলাম ওখানে, এই তিনদিন মোটেও আমি সুস্থ্য ছিলাম না কিন্তু কাউকে বলারও প্রয়োজন মনে করিনি। অতঃপর ব্যাপারটা এমনি এম্নিই যেন ঠিক হয়ে গিয়েছিল।

কিন্তু গত অক্টোবরে সকাল বেলায় হটাত করে আমার ঘুম ভেংগে যায় প্রচন্ড একটা অসস্থি অনুভবে। মনে হচ্ছিল-বুকের কোথায় যেন জ্বলছে কিন্তু কোন ব্যথা নাই। ভাবলাম, হয়ত অন্য কোনো কারন। টাইলসের মধ্যে পেট উপুর করে দিয়ে শুয়ে জ্বলা জ্বলা ভাবটায় একটু শিতল করার চেষতায় বুক উপুর করে শুয়ে ছিলাম, লাভ হয়নি। ঠান্ডা পানি দিয়ে বুক ভিজিয়েছি যাতে বাইরের ঠান্ডা পানিতে যদি একটা ভাল লাগে, সেটাও খুব একটা লাভ হয়নি। চা, কফি খেয়ে একটার পর একটা সিগারেট খাচ্ছিলাম। বারবার মনে হচ্ছিলো, ওই সেদিন যেদিন সিরাজ গঞ্জ গেলাম, যেমন একটা অনুভুতি হয়েছিল, আজকের অনুভুতিটাও প্রায় সে রকমের। ভয় পাই নি কিন্তু ভালো লাগছিলো না। মাঝে মাঝেই প্রেসার মাপছি, কিন্তু প্রেসারের যে খুব একটা হেরফের তাও না। ওসারটিল খাচ্ছি বারবার। খেলে একটু ভালো লাগে, আবার একটু পরেই কেমন যেন আগের জায়গাতেই চলে আসি। এভাবে টাইম চলতে থাকে। সকালে নাস্তা করি, গোসল করি, আবারো সব কাজ নরম্যালই করতে থাকি। অফিসের জন্য বেরিয়ে যাই। তখন সকাল প্রায় ৯ টা।

অফিসে যাওয়ার রাস্তার একদিকে সেনানীবাস, আরেক দিকে আমার অফিসে যাওয়ার সরাসরি রাস্তা। আর সেই জায়গাটার নাম “র‍্যাংক্স”। ওখানে এসে মনে হলো-একটু ডাক্তার দেখাইয়াই যাই সিএমএইচ থেকে। যেই না আমি ডাক্তারের কাছে গেলাম (লেঃ কর্নেল আমিন) সে আমাকে দেখেই বল্লো-স্যার আপনি কি অসুস্থ? কোনো দেরী না করে আমিন আমাকে সাথে সাথে নিয়ে গেল ইমার্জেন্সীতে। অতঃপর সিসিইউ এবং অতঃপর অপারেশন থিয়েটার। শোনা গেল যে, আমার হার্ট এটাক হচ্ছিলো। হার্ট এটাকের ট্রপিনিয়ন এর কাট অফ রেঞ্জ থাকার কথা ৪৭ আর সেখানে আমার ট্রপিনিয়ন ছিল ২২০০০। ডাক্তার আমাকে প্রশ্ন করেছিলো-আমার কি এর আগেও এটা অনুভুত হয়েছিলো? বুঝলাম-ওই যে সেদিন সিরাজগঞ্জ যাওয়ার সময় যে জলন্তীটা হয়েছিলো, সেটা আসলে ছিলো আরেকটা হার্ট এটাক।

০২/০৫/২০২৫-কেউ তো বসেছিলো

এই যে উপরের গাছটা দেখছি, এটা একটা নির্জন জলঘেরা ছোট টিলার উপরে দাঁড়িয়ে আছে। চারিদিকে জল, আশেপাশে কোথাও কনো বাড়িঘর নাই। অথচ এমন নয় যে, এই গাছটার নীচে কেউ পদার্পন করেনি, কেউ এর ছায়ার তলে বসে নি। কে কখন বসেছে এর হিসাব আমার আপনার কাছে না থাকলেও হয়তো এই গাছটার কাছে আছে কিন্তু তাদের কথা ওর মনে রাখারও দরকার নাই। কখনো যদি আবার সেই পুরানো পথিক আরেকবার এসে তার নীচে বসে, হয়তো নিঃশব্দে নীরবে মুচকী হেসে দিয়ে বলতেও পারে-অনেকদিন পরে এলে। আমিও একবারই এখানে এসেছিলাম। আবার কখনো সেখানে যাওয়া হয় কিনা কে জানে?

এ রকম অনেক কথা আমার মনে হয় আর আমি বারবার ব্যথিত হই। এতো অল্প একটা সময় নিয়ে কেনো আমাকে আমার ঈশ্বর এখানে পাঠালো? আমি যে ঘরটায় থাকি, এখানে এক সময় বিশাল গর্ত ছিলো, সেই গর্তে অনেক পানি ছিলো, পানিতে অনেক মাছ, শ্যাওলা, কচুরীপনা, অনেক পোকামাকড়ও ছিলো। আজ এখানে কোন জল নাই, কোনো মাছ নাই, কোনো পোকামাকড়ও নাই। আমি আছি বিশাল একটা সাততলা অট্টালিকা বানিয়ে। এমনো তো হতে পারে, আমি যখন থাকবো না, তখন এটা অন্য কারো দখলে অন্য কারো আবাসস্থলে পরিবর্তন হবে। আমি যেখানে খাট পেতে ঘুমাই, হতে পারতে সেখানে আরেকজন, আমি যাকে চিনি না, সে ঘুমুচ্ছে। এমনত হতে পারে সে আমার বংশের কেহই নয় অথচ এই বাড়িটা আমি করেছি, আমার হাতের শতভাগ ছোয়ায় প্রতিটি ইট দাঁড়িয়ে আছে।

আবার এমনো তো হতে পারে, কন এক সময়ের বিবর্তনে আবার সেই মাছেরা, সেই জলের ধারা, আবার সেই পোকামাকড়ের বংশ ধরেরা ফিরে এসছে আমার এই স্থাপনার উপরে!! জীবন কতটা বৈচিত্র্যময় নাহ? যে ঘরটায় বসে, শুয়ে আমি কল্পনার রাজ্যে ভেসে যেতাম, সেখানে আমার আগে হয়তো যেমন কোনো প্রানি রাজত্ব করেছে, মাঝে আমি করেছি, আমার পরে হয়তো কেউ করবে। আমরা আসি, যাই, কেউ আবার এর জায়গা দখল করে, তারাও চলে যায়, আবার নতুন কেউ আসে।

কি অদ্ভুত জীবনের চক্র।

২৭/০৪/২০২৫-ফ্যামিলি এট এ গ্ল্যান্স ভূমিকা

একই বংশে জন্ম গ্রহন না করেও, বৈবাহিক কোনো সম্পর্কের দ্বারা কেউ কোনো বংশীয় আত্মীয়তা না করেও এই সমাজে এবং এই জগতে এমন কিছু মানুষ অন্য কারো সাথে এমনভাবে জড়িয়ে যায় যেনো তারা জনম জনম ধরে একই সূত্রে গাথা, যেনো বংশের চেয়েও শক্ত বন্ধনে আবদ্ধ। আবার এমনো দেখা যায় যে, একই বংশ, একই পরিবার হওয়া সত্তেও সময়ের আবর্তনে এবং যোগাযোগের বিচ্ছিন্নতার কারনে কেউ কেউ নিজের বংশ থেকেও আউট হয়ে গিয়ে অপরিচিত মানুষে রুপ নেয়। আবার এমন কেউ কেউ আছে দেশ স্থানান্তরের কারনে, কালচারাল বিবর্তনের কারনে কেউ কেউ আজীবিনের জন্য বংশের ট্রি থেকেই হারিয়ে যায়। ফলে কেউ কেউ ফ্যামিল হয়েও ফ্যামিলির কেউ থাকেন না, আবার কেউ কেউ ফ্যামিলির কিছুই না হয়েও যেনো ফ্যামিলির থেকে অনেক বেশী শক্ত বন্ধনে আবদ্ধ থাকে বংস পরম্পরায়।

আমার বংশের মধ্যেও ঠিক এমনটা হতে দেখছি এবং দেখেছি। আমি যে গ্রামে থাকতাম, সেখানে আমি কাউকে কাউকে মামা, খালা, চাচা কিংবা কোনো না কোনো সম্বোধনে ডাকি। কিন্তু আসলেই তারা আমার মামা কিনা, চাচা কিনা, কিংবা খালা কিনা আর হলেও সেটা কিসের ভিত্তিতে সেটা আমার জানাও নাই। যদি পুরু জিনিষটার ব্যাকওয়ার্ড বাটনে টীপ দিয়ে পিছনে যাওয়া যায়, হয়তো দেখা যাবে-সেই অতীতে আমারই বংশের খুব কাছের কেউ কেউ এরা ছিলো। সেই ধাবাহিকতায় শত বর্ষ পরে তাদের সম্পর্কের রেশ ধরে আজিকার এই খালা কিংবা চাচা কিংবা মামার সম্পর্কটায় দাড়িয়েছে। আমরা হয়তো এটা জানিইনা যে, ওরা আমাদের এমনি এমনি ডাকা চাচা, খালু, মামা নয়। এই চাচা, মামা খালা ডাকার পিছনে সেই অতীতে আমাদের পূর্ব পুরুষদের মধ্যেই কাছের সম্পর্ক বিদ্যমান ছিলো। কিছু একটা ভীত তো আছেই।

আমি যখন এই ভীতগুলির পিছনে খোজ খবর নিতে থাকি, তখন এমনি এমনি ডাকা চাচা, খালু, মামাদের আমার বংশের আসল বন্ধন গুলির ভীত দেখে এতোটাই চমকে উঠেছিলাম যে, সেই এমনি এমনি ডাকা সম্পর্কগুলি আমার কাছে নতুন করে এসে আবার আরো কাছে কিছু মানুষে পরিনত হয়েছিলো। তখন শুধু একটা কথাই মনে হয়েছে-আহা, এরা আমার সেই দাদার নানির দাদার বংশের লোক!! কতই না কাছের। অথচ আমরা তা জানিই না।

আমার সময়কাল থেকে শুরু করে আরো ৫০ বা ১০০ বছর পরেও এই সাইক্যালের পুনরাবৃত্তি ঘটবে, কেউ আমার বংশ থেকে হারিয়ে যাবে, কেউ নতুন করে যোগ হবে। আজকের ভাই, বোন কিংবা চাচা, খালুর বংশ ধরেরা যখন একে একে শাখা প্রশাকাহ বিস্তার করতে করতে দেশ দেশান্তরে ছড়িয়ে যাবে, এক গ্রাম থেকে আরেক গ্রামে ভিত্ত গাড়বে, আর এই সম্পর্কের ধারায় যখন আমরা একে একে চাচাতো ভাই, তো খালাতো বোন কিংবা এ ধরনের ধ্রাবাহিকতায় সম্বোধন করতে থাকবো, কোনো এক সময় কিংবা যুগের পর যুদ, শত বছরের পরেও আমরা সেই সম্পর্কের জের ধরে কেউ কেউ না জেনেই কাউকে খালু, চাচা, ভাই, দাদা নানা বা খালা হিসাবে সম্বোধন করবো, সেই সময়ে আমরা হয়তো জানবোই না কেন আমরা কাউকে খালা বলছি, বা নানা বলছি বা চাচা বা মামা। আসলে এরা কোনো না কোনো সময়ে সেই প্রাচীন আমলে হয়তো আমাদের আপন জনের কেউ ছিল। এখন যা আমরা আর মনে রাখিনি।

১৬/০৪/২০২৫-একটি রুপক লেখা

(বিএনপি নির্বাচনের ৬ মাস পরেই ক্ষমতা হারাবে)

গত বছরে উগান্ডা সরকারের পতন হইছে। সরকার প্রধান পালাইয়া গেছে পার্শবর্তী দেশ ভুগান্ধায়। তাদের এবং ভুগান্দার আশ্রয়ে থাকা নায়িকা সহ তাদের চেলাপেলারা অনেক চেষ্টা তদবীর চলছে যাতে উগান্ডায় একটা পলিটিক্যাল অস্থিরতা চালাতে পারে কিন্তু উগান্ডার দেশপ্রেমিক সেনাবাহিনী, উগান্ডার দেশপ্রেমিক জনগন এবং উগান্ডার একমাত্র বিশ্ববরেন্য নোবেলজয়ী ক্ষমতায় থাকায় পতিত সরকার খুব একটা খারাপ কিছু করতে পারেনি। তবে তাদের চেষ্টা অব্যহত আছে। কিন্তু একটা জিনিষ একেবারেই দৃশ্যমান যে, এই কঠিন প্রতিকূল অবস্থাতেও পতিত সরকার তাদের দলকে উজ্জীবিত করার বা শরব হবার হাল ছাড়েনি। অন্যদিকে ঠিক এই সময়ে ভুত ভবিষ্যত চিন্তা না করে গত দেড় যুগ আমলে নিবু নিবু একটা রাজনৈতিক দল (বিনুপিন্ডি) এমন আচরন করছে যেনো ওরা না জানি কত হেডামওয়ালা দল, তারা সারাক্ষন উলটাপালটা কথাবার্তা বলে পানি ঘোলা করছে।

কেয়ারটেকার সরকার ইতিমধ্যে উগান্ডার জনগনের মনে এমন একটা স্থান করে নিয়েছে যে, মানুষ আর কোনো রাজনৈতিক দলের প্রত্যাশা করে না, তারা চায় এরাই থাকুক আরো কয়েক যুগ, মানুষ ভালো আছে, বিনিয়োগ আসতেছে, সুযোগ তৈরী হচ্ছে প্রতিদিন যা মানুষের চাওয়া ছিলো তারা মুটামুটি সেটা পাচ্ছে। রিজার্ভ বাড়ছে, কর্মসংস্থান বাড়ছে, সিন্ডিকেট কমছে, মারামারি ইত্যাদি কমছে এবং উগান্ডার সাধারন মানুষের মনে একটা সস্থি এসছে। আর ঠিক এমতাবস্থায় বর্তমানের বিনুপিন্ড দলটি  বারংবার কেয়ারটেকার সরকারের কার্যকলাপে বাধা দেয়ার চেষ্টা করছে, সংস্কারে আপত্তি, এবং দ্রুত নির্বাচন দেয়ার এমন তাগিত সহ হুমকী ধামকী দিচ্ছে যে, মনে হচ্ছে, না জানি কত ক্ষমতাশীল ছিলো এই বিনুপইন্ডি এতো বছর। অথচ তারা ক্ষনিকের জন্যেও গত দেড় যুগ মাঠে তো নামতেই পারেনি, অথবা সাহস করেনি, বরং চোরের মতো, ইন্দুরের মতো গর্তের ভিতর ঢোকে ছিলো কালো চাদর আর ঘোমটা গায়ে দিয়ে। যেই না গত সরকার পতিত হয়েছে, তারা এখন যেনো বাঘ বনে গেছে। আর সারাক্ষন নির্বাচনের আগেই চাদাবাজি, দখল বানিজ্য, টেন্ডারবাজি, লুটতরাজ ইত্যাদিতে তাদের আসল মুখোস খুলে দিচ্ছে। জনসদাহারনের ফেসবুকের কমেন্ট গুলি শুনলে লজ্জা লাগে কিন্তু তাদের যেনো কোনো লজ্জা শরম নাই।   

আমার যেটা ধারনা যে, যখনই উগান্দায় একটা নির্বাচন হবে, এই বিনুপিন্ডি রাজনৈতিক দলটি ক্ষমতায় আসবে, ঠিক তখন পতিত সরকারের দলের মানুষগুলি এক নাগাড়ে এমন জটিল পরিবেশ তৈরী করে ফেলবে যে, বিনুপিন্ডির দ্বারা সরকার গঠনের ৬ মাসের মাথায় বিনুপিন্ডি সরকারের পতন হবে। এই বিনুপিন্ডি দলটি যে পতিত সরকারি দলের কাছে শিশুও না, এটা তারা বুঝলেও স্বীকার করতে চায় না। বর্তমান কঠিন জাতাকলে, আর্মির পরোক্ষ সাপোর্টে, জনগনের একাত্তবোধের কারনে জটিল বাধায় পড়েও যখন পতিত সরকারের রাজনৈতিক নেতাকর্মীরা এমন এমন হেডাম দেখিয়ে মাঝে মাঝে বর্তমান সরকারকে চ্যালেঞ্জ ছুড়ে দিচ্ছে, তাতেই আমার ধারনা যে, যখন দেশপ্রেমিক আর্মি থাকবে না, জনগন আর আগের মতো এক হয়ে রেজিষ্ট করতে আসবে না, তখন পতিত সরকারি কর্মীরা বর্তমান বিনুপিন্ডি দলকে এমন নাকামি চুবানি খাওয়াইবো যে, আগে তো গর্তে গেছিলো এবার ক্ষমতায় থেকেও কিছু করতে পারে কিনা আমার সন্দেহ আছে। ওই অবস্থায় হয় জনগন আরেকটা বিপ্লব এমনভাবে করবে যে, বিনুপিন্ডির বিরুদ্ধে  যেখানে পতিত সরকারকে যেভাবে একবার পালাইয়া যাইতে বাধ্য করেছে,বিনুপিন্ডির নব নির্বাচিত সরকারী দলকেও পালাইতে জনগন বাধ্য করবে কারন তারা বর্তমান কোয়ালিফাইড এবং দক্ষ কেয়ারটেকার সরকারকে সময় দিচ্ছে না দেশ গড়ার জন্য, সংস্কার করার জন্য বা সংস্কার করলেও তারা সেই সংস্কার আবার ডিলীট করে একটা ব্যর্থ রাষ্ট্রে পরিনত করতে চাইবে বলে।

পিপিলিকার পাখা উঠে মরিবার তবে-এই কথাটা তখন তাদের কাছে একটা বেধবাক্যের মতো মনে হবে। এম্নিতেই উগান্ডার জনগন বর্তমান উদিয়মান বিনুপিন্ডি রাজনৈতিক দলকে তাদের বর্তমান চাদাবাজি, দখলদারিত্ত অনুশীলন, মারামারি, কাতাকাটি ইত্যাদির কারনে পছন্দ করছে না, তখন গত পতিত সরকারি দলের দ্বারা যখন চারিকদিকে জালাও পোড়াও, মারামারি, লাগাতার হরতাল, ভাংচুর, শুরু করবে এবং ক্ষমতার চেয়ারে বসে যখন এরা কিছুই করতে পারবে না, তখন নির্বাচিত সরকারের এবং দলের চুড়ান্ত মরনের ইতিহাস লিপিবদ্ধ হবে।

উগান্ডা আর ভালো হইলো না।

১৪/০২/২০২৫- জলিল মামা মারা গেলেন

আমার মায়ের পক্ষের এই জলিল মামা মারা গেলেন গত সপ্তাহে। অনেক ভালো একটা মানুষ ছিলেন উনি। আমি যখন সে ছোট বেলেয়ায় গ্রামে থাকতাম, তখন বেশীর ভাগ সময় আমি এই জলিল মামার বাসাতেই দিনটা পার করতাম। কারন তার এক ছেলে মোতালেব আমার দোস্ত ছিলো। মোতালেব শেষ পর্যন্ত লেখাপরায় আর আগায় নাই, এখন সে মুদি দোকান করে। তারই মেয়েরা হচ্ছে এই অরু, হ্যাপি যারা আমার পরবর্তী জীবনেও ভিন্নভাবে এসেছিলো। মোতালেবের স্ত্রী জ্যোৎস্না বেগমও আমার জীবনে একটা প্রভাব রেখে গেছে। যাই হোক, জলিল মামা মারা যাওয়ার পর একবার ভেবেছিলাম, জানাজায় যাই। সময়ও ছিল কিন্তু যাওয়া হয় নাই। উনার স্ত্রী তাহেরা মামি এখনো জীবিত। ভীষন সুন্দুরী একটা মহিলা ছিলেন। এখনো প্রায় ৮০ বছরের মহিলাকে দেখলে মনে হয়, প্রচন্ড সুন্দুরী। অত্যান্ত ভাল একজন মানুষ বটে। উনি মোট ১৭ জন বাচ্চার মা হয়েছিলেন। কিন্তু দুক্ষের বিষয় হচ্ছে-এই ১৭ জন বাচ্চা তাদের কোনো সুখের কারন হয় নাই তাদের বুড়া বয়সে । তারা যেনো বাচ্চাদের কাধে একটা বোঝা হয়েই ছিলো।

১৭/০১/২০২৫-থাইল্যান্ড ভ্রমন

পৃথিবী ঘুরলে বুঝা যায় যে, সত্যিই এই পৃথিবী একদিন চরম অশ্লীলতায় ছেয়ে যাবে, মানুষের মধ্যে কোনো হায়া, লজ্জা কিংবা একে অপরের প্রতি সম্মানবোধটুকু সম্ভবত আর রাখতে পারবে না। আজ থেকে ২৫ বছর আগেও মানুষের এতো অধোপতন ছিলো না এখন যতটুকু দ্রুত অধোপতনের দিকে যাচ্ছে। কথাগুলি কেনো বললাম? নিতান্তই নিজের রিসেন্ট অভিজ্ঞতা থেকে।

পরিবার নিয়ে (অর্থাৎ আমি, আমার স্ত্রী, উম্মিকা এবং উম্মিকার স্বামী আবির) এই কয়জন মিলে একটা ব্রেক নেবার জন্য থাইল্যান্ড ঘুরতে গিয়েছিলাম গত ৯ জানুয়ারী থেকে ১৬ জানুয়ারী পর্যন্ত।

প্রথমেই আমরা সুবর্নভুমি এয়ারপোর্টে নেমে সেখান থেকে আরেকটা কানেক্টিং ফ্লিয়াটে চলে গিয়েছিলাম ফুকেত। বেষ্ট ওয়েষ্টার্ন হোটেলে আমরা উঠেছিলাম। ১৯০ প্যাংমুয়েং সাই গর রোডে এটার অবস্থান। একেবারেই ফুকেট বীচের পাশে। আমার পায়ে ব্যথার কারনে খুব বেশী হাটাহাটি করতে [পারি না তাই আমি খুব বেশি ঘুরাঘুরীও করি না। বাইরে খাওয়ার জন্য বা আশেপাশে টুকটাক কোথাও যাওয়ার জন্য আমি আমার পরিবারের সাথে বাইরে যাই। বেশীর ভাগ সময় ওরাই বাইরে বাইরে শপিং কিংবা ঘুরাঘুরি করে।

১ম দিন শহরটা ঘুরে ঘুরে দেখলাম। ২য় দিন ফুকেত থেকে ফিফি আইল্যান্ডে রিভার ক্রুজ করতে গেলাম। বেশ দূর। ফিফি আইল্যান্ডটা হচ্ছে মালাক্কা প্রণালী দিয়ে যেতে হয়। এটা মালাকাত দ্বীপ এবং কোকোট দ্বীপের মাঝে অবস্থিত। খুব চমৎকার লোকেশন এবং যেতেও বেশ আরামদায়ক। কিন্তু সমস্যাটা হচ্ছে-এখানে প্রচুর ইউরোপ এবং পশ্চিমা দেশের নাগরিকগন ভ্রমনে আসেন। তাদের ড্রেস এতোটাই নগ্ন যে, মাঝে মাঝে আমার ঘেন্নাও হচ্ছিলো না। প্রায় শতভাগ কোন নগ্ন রমনী গলা ছোলা মুরগীর মতো দুই ঠ্যাং প্রসারিত করে আমার পাশে সান-বাথে বসে যায়, তখন মনে হয় শিপে মাছি থাকলে তারাও উরে যেতো।

যাই হোক, ফিফি তে গিয়ে বীচে গয়ে কিছুক্ষন বসে থেকে আর আমার পরিবারের সবাই বীচে নেমে কিছু ছবি টবি তুলে আমরা চলে এলাম ফিফি আইল্যান্ডের হোটেলে লাঞ্চের জন্য।লাঞ্চ করেই আবার ব্যাক করলাম ফুকেটে।

সন্ধ্যার ফুকেট বড্ড নোংরা। বিশেষ করে বীচ এলাকা। এটা কোনো সভ্য জগতের মানুষের রুচীর মধ্যে পড়ে না। ওরা নগ্ন উদোম গায়ে যেনো বন্য শুয়রের দল। যাই হোক, পরেরদিন গেলাম টাইগার পার্কে। জায়গাটা সালং মুএং এ অবস্থিত। ওখানে গিয়ে মনটা খুব খারাপ হয়ে গেলো। প্রতায় ৮/৯ টা বাঘ আছে যেগুলি সারাদিন মাটিতে শুয়ে ঘুমুচ্ছে। নেশার মতো ঘুমুচ্ছে ওরা। আর কিছু পর্যটক ওদের লেজ ধরে, গায়ে হাত বুলিয়ে পাশে বসে বাঘের সাথে ছবি তুলছে। আমার স্ত্রী সাথে সাথেই আমাকে বল্লো-বাঘগুলিকে শক্তিধর কোনো নেশার ইঞ্জেকশন দিয়ে ঘুম না পারালে এভাবে একতা বাঘ মাটিতে শুয়ে চোখ বন্ধ করে ঘুমিয়ে থাকতে পারে না। ঘটনাটা আসলেই তাই। এতা ভাবতেই মনটা খুবই খারাপ হয়ে গেলো। বাঘকে এভাবে দিনের পর দিন নেশাজাতীয় মেডিসিন দিয়ে জিম্মি করে খাচায় বন্ধি করে একটা ব্যবসা করা অপরাধ যেমন, তেমনি পাপও। এরা নীরিহ না হোক, এদের সুস্থ্যভাবে বেচে থাকার অধিকার আছে। আমার আর খাচার ভিতরে গিয়ে ওদের সাথে ছবি তুলতে ইচ্ছে করলো না। মনতাই আমার খারাপ হয়ে গিয়েছিলো।

২ রাত ফুকেটে থেকে আমরা চলে এসেছিলাম পাতায়ায়। থাইল্যান্ড পর্যটকের দেশ। প্রচুর পরিমান দেশী বিদেশী পর্যটক। আমরা সেখানে গোল্ডেন বীচ হোটেলে উঠেছিলাম। একেবারেই বীচের পাশে। হাটা ডিসট্যান্স। এখানে আবহাওয়া বেশ চমৎকার। কিন্তু ওই একই পরিস্থিতি বীচের। এই পাতায়ায় প্রচুর পরিমানে ইন্ডিয়ান আসে, আর লোকাল লকজনের মধ্যে প্রচুর পরিমান সাউথ ইন্ডিয়ান এবং বার্মিজ কাজ করে। চারিদিকে ইন্ডিয়ান রেষ্টুরেন্ট আর বাজার। থাইল্যান্ডের রাস্তাঘাট পরিষ্কার, নোংরা নয়। পাতায়ায় আমরা ডলফিন শো দেখতে গেলাম। সুন্দর একতা সময় কেটেছিল সেখানে। পাতায়া ডলফিনারিয়াম।

গ্রান্ড প্যালেস, বৌদ্ধ মন্দির, রিভার ক্রুক টার্মিনাল ২১

১৬ তারিখে ব্যাক।

চলবে……।।

৩০/১১/২০২৪-বিপুল সংখ্যক আধুনিক জেন-জি

বিপুল সংখ্যক আধুনিক জেন-জি যারা সামগ্রিক আন্দোলনে শামিল হয়ে কোনো এক ক্ষনে রাষ্টের আবর্তন স্থির করেছিলো, সেই আবর্তন সময়ের আবর্তনে ধীরে ধীরে বুর্জোয়া পরিবেশে স্টেপ-ইন হয়ে আন্দোলনটা যেনো বিতর্কে এবং সমালোচনার পরিধীতে পতিত হয়ে যাচ্ছে। অধিকারের চেতনায় ধর্মোন্মদনা এবং আত্নোতসর্গের প্রেরনা যেনো এই আন্দোলন থেকে ধীরে ধীরে ম্লান হয়ে উঠছে। সেই আগের জায়গায় যেনো এর সমাপ্তি ঘটতে যাচ্ছে যা এমন যে, দেশে যা কিছু হচ্ছে এটাকেই মেনে নেয়া এবং কঠিন সমস্যাগুলিকে এক কোনে ঠেলে দেয়া।  এটা তো হবার ছিলো না।

এই আন্দোলনের জন্য যারা স্টেক হোল্ডার ছিলো বলে চালিয়ে দেয়া হচ্ছে, সেখানে একটা পেরেগ গাথার দরকার ছিল। কেননা এটা গুটিকতক স্টেক হোল্ডার এর মালিকানায় আন্দোলনকে ভুল পথে চালিয়ে দেয়া হয়েছে। কিন্তু ব্যাপারটা কখনোই এমন ছিলো না। বরং তারা ছিলো ব্রিজ-হেড। যারাই এ আন্দলনের অগ্রভাগে ব্রিজ-হেড হিসাবে ছিল, তাদের উচিত ছিলো তাদের এই আন্দোলন সাফল্যের কারনে অনুগামির দল বিশাল জনগোষ্ঠী বা জনসাধারনের মধ্য থেকে অদম্য ও অজেয় সাহসের এবং আত্নোতসর্গের প্রেরনা সমৃদ্ধ কিছু নতুন প্রজন্মকে সামনে নিয়ে আসা। এসব ক্ষেত্রে ষাড়কে শিং ধরে জোর করে বলপুর্বক বশ মানাতে হয়। ক্রূদ্ধশক্তি হয়তো বা আক্রমনকারীকে বারবার মাটিতে আছড়ে ফেলতে চাইবে, তবু বলিষ্ঠ মনের জোরে তাকে বারবারই উঠে দাড়াতে হবে। এটা না করার কারনে পুরু আন্দোলনটা অনেকটা বুর্জোয়া তথাকথিত ব্যক্তিবর্গ এবং বন্দোবস্তীদের হাতে গিয়ে পড়ে যাচ্ছে। একবার ফলাফলে নেতিবাচক হয়ে উঠলে শারীরিক শক্তির সাথে সাথে মানসিক শক্তির লোপ অবশ্যম্ভাবী হয়ে দারায়। তখন যা দরকার তা হলো জনসাধারনের মধ্যে মহৎ সন্তান। তারা রক্তক্ষয়ী সংঘর্ষেও পিছপা হবে না। 

সময় লাগবে, মাথা ঠাণ্ডা রেখে চোখ খোলা রেখে সামনে এগুতে হবে। নতুবা, সেটাই হবে যেটা বারবার ইতিপুর্বে ঘটেছে।

১৩/১১/২০২৪-হার্ট এটাক

শুনেছি মানুষের হার্ট এটাক হলে বুকে প্রচন্ড ব্যাথা অনুভুত হয়, অনেকে ব্যথা সহ্য করতে না পেরে অজ্ঞান হয়ে যায়, মল মুত্র পর্যন্ত ত্যাগ করে ফেলে। সারা শরীর ঘেমে যায়, আরো অনেক কিছু। আমার এ ধরনের কোনো সিম্পটম্পই ছিলো না। কিন্তু প্রায়ই আমি মাঝে মাঝে অফিসে কিংবা সিরাজ গঞ্জ যাওয়ার পথে প্রচুর অস্থির বোধ করতাম, প্রেসার হুট করে ভীষন বেড়ে যেতো, মনে হতো ঘাড় ব্যাথা করছে আর বুকের মাঝখানে কেমন যেনো জলা জলা অনুভুতি হতো। ব্যাপার গুলিকে আমি খুব একটা আমলেই নিচ্ছিলাম না। যখনই এমন হতো, একতার জায়গায় ২/৩ টা অসারটিল প্রেসারের মেডিসিন কেয়ে নিতাম। মাঝে মাঝে ভালোই কাজ করতো, আবার মাঝে মাঝে অনেক সময় পরে এমনিতেই ঠিক হয়ে যেতো বটে কিন্তু শরীর প্রচুর দূর্বল হয়ে যেতো।

কিন্তু গত ৪ নভেম্বর ২০২৪ তারিখের সকাল ৫ টার দিকে আমার ঘুম ভেঙ্গে যায়। আমার প্রচন্ড বুক জলছিলো বলে মনে হচ্ছিলো। মাথা ব্যথা করছিলো, চোয়ালেও ব্যথা করছিলো, ঘাড়ে এবং হাতে বেশ ব্যথা অনুভব করছিলাম। আমি একবার তাইলস করা ফ্লোরে শুইলে মনে হয় ভালো লাগবে এতা ভেবে তাইলের উপর শুইতেছিলাম, আবার সেটাও আরাম দায়ক মনে হচ্ছিলো না বিধায় বিছানায় শুয়ে থাকতে চাইছিলাম কিন্তু সেখানেও এতো অসস্থি বোধ করছিলাম যে, কি করলে যে ভালো লাগবে বুঝতেছিলাম না। প্রেসার মাপার যন্ত্রটাও তখন খুজে পাচ্ছিলাম না। অনেক খোজাখুজির পর যখন পেলাম , প্রেসার মেপে দেখি প্রায় ১৬৫ প্লাস। সাথে সাথে ৩ টা ওসারটিল খাইলাম, কিন্তু কোনো কাজ হলো বলে মনে হলো না। পানি খেলাম, একটু চাও মনে খেলাম কিন্তু কোনো সিগারেট খেলাম না।

উম্মিকা, আবির দুজনেই ডাক্তার, তারা বাসাতেই ছিলো। কিন্তু ওদেরকে কিছু জানালাম না। আমি নিজেই ব্যাপারটা বুঝার চেষ্টা করছিলাম আসলে ঘটছে কি আমার সাথে। কামড় খেয়ে শুয়ে থাকলাম প্রায় ঘন্টা খানেক। অতপর একটু ভালো লাগছিলো। সকাল ৯ তার দিকে পান্তা ভাত খেলাম, তার আগে গসল করলাম। অফিসে যাবো। রেডি হয়ে গাড়িতে উঠলাম। একটা সিগারেটও খেলাম।

আমি অফিসের জন্যই আসলে রওয়ানা হয়েছিলাম কিন্তু র‍্যাংক্স পর্যন্ত যেতে যেতে আমার একবার মনে হলো, অফিসে যাওয়ার আগে একবার স্তাফ সার্জনের সাথে দেখা করে যাই। গাড়ি ঘুরিয়ে সি এম এইচ এর উদ্দেশ্যে রওয়ানা হলাম। ওখানে স্তাফ সার্জন লেঃ কর্নেল আল আমিন বসা ছিলো। আমি সিরিয়াল নিলাম। প্রায় ৪০ মিনিট পর সিরিয়াল পেলাম বটে কিন্তু আমার বুক তখন বেশ ভালো ধড়ফড় করছিলো। স্তাফ সার্জনের কাছে যাওয়ার আগে প্রেসার মাপালাম, একেবারে সুন্দর প্রেসার কিন্তু আমার বুকে ভীষন ধরফড় করছে। আমার ধারনা ছিলো যে, প্রেসারের হেরফের হলেই হয়তো বুক ধড়ফড় করে। কিন্তু স্তাফ সার্জনের কথায় বুঝলাম, প্রেসারের সাথে ধড়ফরের কোনো সম্পর্ক নাই আবার আছেও।

যাই হোক, আমার সকালের অনুভুতি, অবস্থা এবং বর্তমান কন্ডিশন আল আমিনকে বলার পর সে, খুব সহজেই ব্যাপারটা যেনো বুঝে গেলো। সে আমাকে দ্রুত নীচ তলায় ইমারজেন্সিতে রিপোর্ট করার জন্য পাঠিয়ে দেয়।

ওখানে যাওয়ার পর পরি আমার ইসিজি, ইকো এবং প্রেসার ইত্যাদি নেয়া হলো। আর সাথে সাথে একতা ব্লাড স্যাম্পল পাঠান হলো ল্যাবে। ট্রপিরন মাপার জন্য। প্রায় ২ ঘন্টা পর আমার ট্রপিরন পেলাম। রেঞ্জ ভীষন খারাপ। কাট অফ রেঞ্জ থাকার কথা ৪৭, আর আমার রেঞ্জ ২১০০০। একজন মহিলা মেজর ডাক্তার আমাকে বল্লেন-স্যার আপনি কি জানেন যে, আপনি এখনো হার্ট এতাকের মধ্যেই আছেন? আমি এতো ডিলে করে হাসপাতালে কেনো এলেন? আপনার তো অবস্থা খুবই খারাপ। ইসিজি ভাল না, ইকোঅ ভালো না, আবার এদিকে আপনার ট্রপিরন এতো হাই, এই রেঞ্জে তো মানুষই বাচে না।

আমাকে দ্রুত ক্যাথ ল্যাবে পাঠান হল। ব্রিগেডিয়ার জেনারেল মালেক, মেজর সানোয়ার, মেজর সর্না এবং আরো এখন মেজর আমাকে দ্রুত ক্যাথ ল্যাবে নিয়ে এনজিওগ্রাম করতে শুরু করলেন। অদ্ভুত ব্যাপার, আমার তিনটা আর্টারিতেই সিরিয়াস ব্লক। এলএডি তে ১০০%, বাকী অন্য দুটুতে ৯০% এবং ৮০%।

ব্রিগেডিয়ার মালেক খুব অবাক হয়ে বল্লেন-কিভাবে আপনি বেচে আছেন স্যার? আপনি তো এর আগেও কয়েকবার হার্ট এটাকে পড়েছেন। কিন্তু আপনি কি কিছুই বুঝেন নাই? আজকের হার্ট এটাক টা তো খুবই সিভিয়ার। আপনাকে এখনই অন্তত একটা রিং পরাতে হবে।

আমি বললাম, তুমি ডাক্তার, আর সি এম এইচ আমার সংস্থা, এটাকে আমি বিশ্বাস না করলে আর কে বিশ্বাস করবে? তুমি যা করতে হয় করো।

তখনো মিটুল আসে নাই হাসপাতালে, আবির আর উম্মিকা দ্রুত চলে এসেছিলো আমি হাসপাতালের ইমারজেন্সীতে ভর্তি হয়েছি শুনে। আবির “নো রিস্ক বন্ড”করে দিলো। আমার রিং পড়ানো শুরু হলো।

আমি এম্নিতেই একটু শক্ত মনের মানুষ। গত ২০১৭ সালে পায়ে রিং পড়ানর সময়েও ডাক্তারদের সাথে আমি অনেক মজা করেছিলাম অপারেশনের সময়। এবার ব্যাপারটা আমি ঠিক সেভাবে নিচ্ছিলাম। ভয় হচ্ছিলো না। ফলে ব্রিগেডিয়ার মালেককে বললাম, মালেক, তোমাদের ভিডিও ক্যামেরাটায় আমাকেও একটু দেখাইতে পারো, আমিও একটু মজা নেই।

মালেক ঘাড় ঘুরিয়ে আমার দিকে এমন করে তাকিয়ে একটা মন্তয় করলো যে, ‘স্যার আমরা আছি আপনার লাইফ এন্ড ডেথ নিয়ে চিন্তিত আর আপনি এটাকে মজা নেয়ার কথা বলছেন?”

বুঝলাম, তাহলে খুব সিরিয়াস ব্যাপার হয়তো।

প্রায় আরাই ঘন্টা পর তারা আমার একটা রিং পড়াইতে সফল হলো।

অতপর সিসিইউ।

১৪/১০/২০২৪-আমি আবার হাসতে চাই  

মানুষের প্রধান দুশ্চিন্তার মধ্যে একটা হচ্ছে-তার জীবন নিরাপদ, নিশ্চিত এবং মৌলিক চাহিদা পুরন করা। এই কটা জিনিষ যেভাবেই আসুক, যেখান থেকেই আসুক, যখন নিশ্চিত হয়ে যায়, তখন তার জীবন হয়ে উঠে চাকচিক্যময় এবং সুখি পরিবেশের মতো। তখন জীবনকে বড্ড ভালো লাগে, আকাশ ভালো লাগে, গাছপালা ভালো লাগে, আশেপাশের সব কিছুই ভালো লাগে। অল্পতেই পেট ভরে যায়, ছোট জিনিষেও হাসিতে জীবন পরিপুর্ন হয়ে উঠে, সব কিছু সুন্দর মনে হয়। কিন্তু যদি সেই সক্ষমতাকে মানুষ ধরে রাখতে না পারে, ভুল পরিকল্পনায় সব হাতছাড়া হয়ে যায় এবং হটাত যদি তার সামনে এটা দৃশ্যমান হয় যে, তার সেই নিরাপদ জীবন, নিশ্চিত জীবন কিংবা মৌলিক চাহিদার যোগানগুলি প্রায় অনিশ্চিত, তখন সেই মানুষটার থেকে অসহায় আর কেউ থাকে না। সারাক্ষন তার শরীর খারাপ হতে থাকে, তার প্রেসার বাড়তে থাকে, খাওয়া দাওয়ায় এতোটাই অনীহা আসে যে, ঘুম পর্যন্ত হয় না, কারো সাথে মিশতে ইচ্ছে করে না, কারো সান্নিধ্যই আর ভাল লাগে না। বারবার মনে হয়-কি যেন আর আগের মত নাই, কোথায় যেন কি ভুল হয়ে গেছে, অথবা মনে হয় বারবার যে, এখন কি হবে তার? কিংবা কি করলে আবার সেই আগের নিশ্চিত জীবনটা ফিরে পাবে? এসব চিন্তাধারায় একসময় সে চোখের সামনে অন্ধকার দেখতে থাকে, জিবনকে অসহ্য মনে হয়, ঈশ্বরকেও আর ডাকতে ইচ্ছে করে না। আর যদি ঈশ্বরের কাছে মাথা নতও করা হয়, তখন মনে হয়-ঈশ্বরই যেনো অপরাধী। তাকেই তখন বলতে ইচ্ছে করে-কেনো তুমি আমাকে এমন করে শাস্তি দিলে? তুমি কি পারতে না আমাকে আরো একটু সহজ করে দিতে সব? চোখে জল আসে, চোখ বন্ধ হয়ে আসে, কোথায় যেনো বুকের মধ্যে ব্যথা করে। উচ্চসরে কাদতে ইচ্ছে করে। তখন মনে হয় সব কিছু দ্রুত কেনো জানি নিজের কাছ থেকে সব অনেক দূরে চলে যাচ্ছে। নিজের শরীর চলতে চায় না, গান ভালো লাগে না, বন্ধুবান্ধব ভালো লাগে না, একা থাকতে ভালো লাগলেও সেটাও এক সময় খুব অসহায় মনে হয়। নিজের খাটটায় শুয়ে বসেও যেনো আরাম পাওয়া যায় না। জানালার পাশে গিয়ে তখন বসি। দূরে গাড়ির ডাক শোনা যায়, কত মানুষ রাস্তায় হাটাচলা করে, সবাই ব্যস্ত। কেউ নাড়ির টানে, কেউ বাড়ির টানে, কেউ সংসারের টানে ঘরে ফিরছে। শুধু আমিই যেনো নির্জীব পাথরের মতো দূরের আকাশটাকে দেখি। আকাশটাকেও আর আগের মতো এতো রসীক মনে হয় না, রাস্তার ধারে গাছগুলিতে পাখীরা দূর দূরান্ত থেকে উড়ে উড়ে আসে, কিছুক্ষন বসে থাকে, অতপর আবার জানি কোথায় হারিয়ে যায়। যেমন হারিয়ে যায় সেই অসহায় মানুষের মনও। তখন কাছের আকাশে কি উড়ছে, দূরের আকাশে কি রঙ ধরেছে, আশেপাশের মানুষের কেনো এতো কোলাহল কিংবা কে কাকে কেনো ডাকছে কিছুই তার কানে প্রবেশ করেনা। মানুষ হয়ে জন্ম নেয়া যেমন ভারী আনন্দের, সৌভাগ্যের, তেমনি মানুষ হয়ে অসহায় জীবন যেনো একটা অভিশাপও বটে। অন্য কোনো প্রানীরা তাদের জীবনের জন্য হয়তো এতো কিছু ভাবেনা। কারন তাদের সমাজ নাই, সংসার নাই, তাদের ভবিষ্যতের সঞ্চয়ের জন্য কোনো তাড়া নাই। তাদের জন্য বাড়িঘর লাগে না, ব্যাংক ব্যালেন্স লাগে না। সন্তান সন্ততির জন্যেও ওরা ভাবে না। শুধু মানুষ এর ব্যতিক্রম। এই পৃথিবীতে একমাত্র মানুষই হচ্ছে মানুষের শত্রু। কিন্তু মানুষের মানুষবন্ধু ছাড়াও মানুষের সাথে সব প্রানিরাই বন্ধুত্ব করে। অথচ মানুষ যখন অসহায় হয়ে যায়, তখন তার বন্ধুরাও তাকে ছেড়ে অনেক দূর চলে যায়। তখন অতীতের সুন্দর সাবলম্বী জীবনের কথা ভেবে বারবার এটাই মনে হয়, শুধু বারবার এটাই মনে হয়, কেনো বোকামি গুলি করতে গেলাম? কেনো আমার নিজের ভালো একটা সম্ভাবনাময় জীবন এমনভাবে নষ্ট করলাম? তখন নিজের উপর খুব রাগ হয়, রাগ হয় সেই তাদের উপর যাদের উপর অতি বিশ্বাস করে আমার সর্বনাশার ঘুর্নিঝড় শুরু হয়ে সাজনো সেই জীবন, সংসার তছনছ হয়েছে। রাগ হয় সেই সব ঘটনার জন্য যার কারনে আমার ভুলগুলি হতে হতে একটা মহা তান্ডবের সৃষ্টি হয়ে আমাকে একেবারে সর্বহারা করে দিলো।  

মানুষের সবচেয়ে ভালো গুন যেমন সঠিক সময়ে বন্ধু চেনা, আবার সবচেয়ে বিপদ হলো সঠিক সময়ে বন্ধু না চেনা। যখন সঠিক সময়ে বন্ধু কিনা এটা না জেনেই বন্ধুত্ব হয় তখন চির শত্রু কিংবা সার্থপর মানুষেরা মানুষের বন্ধু হয়ে সব ছিনিয়ে নেয় আর সর্বশান্ত করে। আজকের দুনিয়ায় মানুষের অন্তরের খবত কেউ আগ থেকে কখনো বুঝতে পারেনা। মানুষ আজকের দুনিয়ায় এমন আচরন করে বেড়ায় যে, মনে হয় তার থেকে বিশ্বস্ত বন্ধু আমার কেউ নাই, এমনভাবে কাছে আসে যে, মনে হবে সে আমার সবচেয়ে কাছের মানুষ। আমার জন্য হয়তো সে তার জীবনটাকেও বিসর্জন দিতে পারে। অথচ বাস্তব রুপটা সে কখনোই প্রকাশ করে না। এরা হায়েনার থেকেও ভয়ংকর। আরো একটা কঠিন জিনিশ হল-এই সব খারাপ বন্ধু গুলি বারবার কোনো না কোনো বেশ ধরে বারবার ফিরে আসতে চায়। বারবার তারা বিভিন্ন কায়দায় লুট করতে চায়। অথচ এরা কখনোই আমাদের বন্ধু না। মানুষ এখানেই জুয়া খেলার মতো বারবার হেরে যায়। কোনোবারই মানুষ এই হার থেকে শিক্ষা নেয় না।  আর বারবার হারে। এক সময় হারতে হারতে মানুষ জীবনের উপর এতোটাই বিরক্ত হয়ে উঠে যে, তখন জীবনতাকেই আর ভালো লাগে না। অথচ পৃথিবী কর সুন্দর, এখানে বেচে থাকা আনন্দের, আকাশ দেখতে ভালো লাগে, পাহাড়ে চড়তে ভালো লাগে, কখনো কখনো চোখের জলে কাদতেও ভালো লাগে।

যখন এ জীবনটাকে আর ভালো লাগতে চায় না, মনে হয় অসহায়, যখন মনে হয় কি হবে আর বেচে থেকে? তখন মানুষ ভুলে যায় যে, সে আর কখনোই এই সুন্দর পৃথিবীতে ২য় বার আসার কোনো সুযোগ নাই। সে ইচ্ছে করলেই ব্রিষ্টিতে ভিজতে পারবে না, ইচ্ছে করলেই আর আয়নার সামনে দাঁড়িয়ে নিজের নীল শাড়িতা বা সবুক সেলোয়ারটা দেখার সুযোগ নাই। বাইরের কোলাহল শুনতে পাবে না, বাচ্চাদের কিচিরমিচির, পাখীদের উরে যাওয়া, সন্ধ্যার লাল সুর্যতা আর দেখতে পাবে না। তার যাত্রা তখন এমূকখী। ফিরে আসার কোনো পথ খোলা নাই।  ফিরে আসতে চাইলেও আর আসার কোনো যানবাহন নাই, পথ নাই, কেউ টেনেও আর ফিরিয়ে আনতে পারবে না। অন্ধকার মাটির নীচে কার সাথে বসবাস, কার সাথে কি কথা হবে কেউ কখনো ওখান থেকে ফিরে এসে কাউকেই বলে যায় নাই। আমরাও কেউ জানি না। তাই আমি সেই অন্ধকার জীবনটাকে ভীষন ভয় পাই।

তাই আমি একাই বাচতে চাই, আমার কোনো সমাজ দরকার নাই, আমার কোনো সন্তান দরকার নাই, আমার কোন বন্ধু দরকার নাই। আমি শুধু এই পৃথিবীর রুপ আর সউন্দর্য নিয়ে মন ভরে বাচতে চাই। বাচতে চাই হাসিতে, বাচতে চাই মনের উল্লাশে। কারন আমি না চাইলেও একদিন আমাকে তো চলেই যেতে হবে। তাহলে নিজে থেকে আগেই চলে যেতে চাইবো কেনো? আমি আবার বাচতে চাই ঠিক সেভাবে যেভাবে আমি বাচতে চেয়েছিলাম। কাউকেই আমার কোনো দরকার নাই। এ জীবন অনেক সুন্দর আর মিষ্টি।

তাই, এবারের যুদ্ধটা আমার সাথে আমার। এবারের যুদ্ধটা আমি করতে চাই শুধু আমার জন্য, আর কারো জন্যই না। কেউ আমার না, আমিও কারো না। কারো উপর ভরসা করে আমি আর ব্যস্ত পথ পার হতে চাই না। আমি আমার জীবনটাকে আবার সেই চূরায় নিয়ে যেতে চাই, যেখান থেকে আকাশ দেখা যায়, রংগীন সব কিছু দেখা যায়। আমি সবার থেকে দামি জীবন নিয়ে বেচে থাকতে চাই। নো সমাজ, নো কিছু। শুধু আমি। আর এটাই আমার যুদ্ধ।

এই বিষাদ জানালা আমার জন্য নয়, এই অসহায় লাইফ আমার জন্য নয়। আমি এই রকম নই। আমি হাসতে জানি, আমি অট্টহাসিয়ে ঘরময় উচ্ছাসে পরিনত করতে পারি। মানুষ আমাকে দেখলে মাথা নত করে, আমি সেটাই। আমি আবারো বুক টান করে, সিনা উচু করে আগের জীবনতায় ফিরে যাবো। সেটাই আমার প্রতিজ্ঞা।

তুমি কি আমার এই যুদ্ধে পাশে থাকবে নীল? হ্যা, আমি জানি, কেউ থাকুক বা না থাকুক, নীল নামক একটা অস্পৃশ্য পুরুষ আমার জীবনে ছায়া হয়ে থাকবেই। ভগবান যেমন সত্য, এই নীলটাও সত্য।  

২৬/০৯/২০২৪-বিপ্লব

একটি বিপ্লব সব সময়ই বড় কনো পরিবর্তন নিয়ে আসে। কিন্তু কখনো কি কারো মনে এই প্রশ্ন জেগেছে যে, এক সপ্তাহ, এক মাস কিংবা এক বছর ধরে চলা একটা বিপ্লব কি করে সমাজ কিংবা রাষ্ট্রের আগাগোড়া বদলে দেয়? আপাতদ্রিষ্টিতে কোন বিপ্লবের স্থায়ীত্তকাল যতোই হোক না কেনো, এর পিছনে থাকে শত বছরের পুরানো পটভূমি। একটু একটু করে জমতে থাকা মজলুম জনতার কষ্টের হাজারো কাহিনী।  

ইতিহাসের দিকে নজর দিলে এটাই দেখা যায় যে, রুশ বিপ্লব, শিল্প বিপ্লব, ফ্রান্স রেভুলিউশন, এদের প্রত্যেকের একেকটা রুপ ছিলো। রুশ বিপ্লবে জারদের অমানুসিক শাসন ব্যবস্থা, ভুমি দস্যুতা, নিম্নগামী জীবন ব্যবস্থা ইত্যাদির কারনে রাশিয়ার মানুষ গুলি জারদের বিরুদ্ধে এক সময় আন্দোলনে নামে।

 যদি শিল্প বিপ্লবের দিকে তাকাই, শিল্প বিপ্লবে মানুষের জীবন মাত্রায় কিছুটা উন্নতি হলেও শাসন ব্যবস্থায় ছিলো চরম নিষ্ঠুরতা। মানুষ যখন কোনো শাসকের বিরুদ্ধে কথা বলতে চায়, তখন সেই শাসকদের সবার একটাই পথ, সাধারন মানুষকে তোপের মুখে, বন্দুকের মুখে নিবারন করা। আর এই তোপের মধ্যে বসবাস করতে করতে  সাধারন জনগন ধীরে ধীরে আরো ফুসতে থাকে। মানুষ যখন ভিতরে ভিতরে ফুসে যেতে থাকে, তখন তারা একে অপরের কাছে চলে আসে, তখন ধর্ম, রাজনিতির মত পার্থক্য, বর্ন, জেন্ডার কিংবা শিক্ষিত অশিক্ষিতের মধ্যে কোনো তফাত থাকে না, তাদের মধ্যে একটা আনবিক বন্ধন তৈরী হয়। এই আনবিক বন্ধন থেকে আঞ্চলিক, সগোত্রীয় কিংবা ক্লাসভিত্তিক একটা নিউক্লিয়াসের মতো শক্ত বন্ধন ধীরে ধীরে এমনভাবে তৈরী হয় যেখানে যে কোনো একটি বন্ধনে যদি কেউ ওই পরিমান আঘাত হানতে সমর্থ হয়, যেখানে মাত্র একটা স্ফুলিঙ্গের কারন হতে পারে। তাহলেই বিপ্লব হতে বাধ্য। সেই ক্ষনিকের স্ফুলিংগটাই আসলে দরকার পড়ে পুরু ফুসতে থাকা অগ্নি গর্ভে বিস্ফোরন ঘটানোর জন্য।

বাংলাদেশেও ৫ ই আগষ্টের বিপ্লবটারও একতা বৈ শিষ্ঠ আছে। এটা বাহ্যিক চোখে যাইই দেখা যাক না কেনো, এটা আসলে শুধুমাত্র বৈষম্যমুলক কোটা আন্দোলের একচ্ছত্র ফসল ছিলো না।  এই কোটা আন্দোলন ছিলো ওই যে বললাম, একটা নিউক্লিয়াসের কোন একটা স্তরে আঘাত হানার জন্য ছোট একটা অঙ্গিস্ফুলিংগ। আর সেই স্ফুলিজ্ঞের স্পার্ক বিদ্যুৎগতিতে অন্য স্তরের ফুসে থাকা সমস্ত রাগ, অপশাসনের কারনে মানুশের দূর্ভোগের বহির্প্রকাশের একটা জন সমষ্টিগত যাগরন এবং প্রতিরোধ।

এরমানে আমরা এই বিপ্লবকে এভাবে সংগায়িত করতে পারি না যে, গুটিকয়েক ছাত্র, বা গুটিকতক রাজনৈতিক পরিচয়ধারী মানুষ কিংবা কিছু সংখ্যক মজলুমের কারনে সারা দেশব্যাপি আন্দোলন হয়েছে এবং তাদের কারনেই এটা সফল হয়েছে। এটা কখনই কারো একার কৃতীত্তের দাবিদার নন। এখানে কোন মাস্টারমাইন্ডও ছিল না। মাস্টারমাইন্ড থাকে যখন কোনো ক্যু হয়, গনবিপ্লবে কোনো মাষ্টার মাইন্ড থাকে না। এটা হয় সব মানুষের বিভিন্ন ক্ষোভ, অপশাসন আর পুঞ্জিভুত নির্যাতনের একসাথে বহিঃপ্রকাশের কারনে। বাংলাদেশের জনগনের মধ্যে ৫০% এর উপরে জনগনের কোটা নিয়ে আন্দোলন করার কোনো যৌক্তিক কারন ছিলো না, কিন্তু সেই ৫০% জনগনের উপর পরিচালিত জুলুমের কারনে তারা সোচ্চার হয়েছে। বাংলাদেশের প্রায় ৩৫% মানুষের রাজনইতিউক কোন কারন নাই যার কারনে তারা বিপ্লব করতে যাবেন কিন্তু সেই ৩৫% মানুষ সরকারের অপরাজনইতিকতার কারনে অসহ্য ছিলো। বাংলাদেশের মানুষের প্রায় ৭০% মানুষ তাদের অধিকার থেকে বঞ্চিত ছিলেন, তারা সেই অধিকারের পুনরোদ্ধারের জন্য আন্দোলনে গেছেন। বাংলাদেশের মানুষ বিচার বিভাগীয়, আইন বিভাগিয় সেকটর গুলি থেকে শুধু অন্যায় আর জুলুমই দেখেছেন, তারা সেই অন্যায়কে সমুলে উৎখাত করতে মাঠে নেমেছিলেন। এখানে কোনো মাস্টার মাইন্ড বলতে কিছু নাই।

৯/৯/২০২৪-বিএমএ এর কিছু ছবি

একজন সৈনিক সে আজীবন সৈনিক। এটা শুধুমাত্র সৈনিকের বেলাতেই খাটে। Soldier’s life, Army life is a man’s life. আমি সেই পরিবারের একজন গর্বিত সৈনিক।

(ছবিতে সবার বামে মেজর আশফাক, মাঝে আমি, আর দানে মেজর জেনারেল এমদাদুল বারী, বর্তমানে বিটিআর স্যার চেয়ারম্যান।

 

 

 

 

 

 

 

 

(ছবিতে সবার বামে মেজর আশফাক, মাঝে আমি, আর দানে মেজর জেনারেল এমদাদুল বারী, বর্তমানে বিটিআর স্যার চেয়ারম্যান।

 

 

 

 

 

 

 

(ছবিতে সবার বামে মেজর আশফাক, মাঝে আমি, আর দানে মেজর জেনারেল এমদাদুল বারী, বর্তমানে বিটিআর স্যার চেয়ারম্যান।

 

 

 

 

 

 

 

 

 

 

 

 

 

 

 

 

(ছবিতে সবার বামে মেজর আশফাক, মাঝে আমি, আর দানে মেজর জেনারেল এমদাদুল বারী, বর্তমানে বিটিআর স্যার চেয়ারম্যান।

 

 

 

 

 

 

 

 

 

 

 

 

 

সবার বামে আমি, আমার ডানে মেজর জেনারেল এমদাদুল বারী, তার ডানে মেজর আশফাকুল বারী, দান থেকে ২য় জন এলবার্ট আনিসুজ্জামান (বর্তমানে সাংবাদিক), সবার ডানে ব্রিগেডিয়ার জেনারেল সগীর।

 

 

 

 

 

 

 

 

ক্যাডেট কলেজ থেকে পাশ করার পর স্বাভাবিক নিয়মেই উচ্চ শিক্ষার নিমিত্তে ঢাকা ইউনিভার্সিটিতে, মেডিক্যাল কলেজসমুহে, বুয়েটে, চুয়েটে, এমন কি দেশের বাইরেও ভর্তির জন্য আবেদন করে প্রায় সব কটি ইউনিভার্সিটিতে (ঢাকা ইনিভার্সিটি, বুয়েট, চুয়েটসহ) মেডিক্যাল কলেজেও ভর্তির সুযোগ হয়েছিলো (বরিশাল মেডিক্যাল কলেজে) আমার। এরপরেও কার্ক্সভাইল ইউনিভার্সিটি (ইউএসএ) তেও ভর্তির অফার লেটার পেয়েছিলাম।

কিন্তু কি এক মোহে বা আকর্ষনে কোথাও ভর্তি না হয়ে শেষ অবধি চলে গেলাম কমিশন পাবার আশায় বাংলাদেশ সেনাবাহিনীতে। বাংলাদেশ মিলিটারী একাডেমি কি জিনিষ সেটা যারা এর সাথে জড়িত, তারা বুঝতে পারবেন কতটা কষ্টসহিষ্ণু আর ট্রেনিং এর মাধ্যমে একটা যুবক ক্যাডেটকে সরাসরি কমিশন রেংকে অফিসার পদে গর্বিত করে।

প্রায় ২০ বছর চাকুরী করেছি এই গর্বিত সেনাবাহিনীতে। অতঃপর আজ থেকে আরো ২০ বছর আগে নিজের ইচ্ছায় চাকুরী ছেড়ে ব্যবসায় পদার্পন করেছি। আমাদের ব্যাচের (১৩ লং কোর্ষ) প্রায় সবাই এখন অবসরী কিন্তু ইতিহাসের পাতায় আমার এই ১৩ লং কোর্স একটা বিশাল রেকর্ড করেছে নিঃসন্দেহে। আর সেটা হলো, আর্মি (জেনারেল ওয়াকার), নেভী (এডমিরাল নাজমুল) এবং এয়ারফোর্সের (এয়ার মার্শাল হাসান মাহমুদ) তিনজন বাহিনী প্রধানই আমার ব্যাচের এবং কোর্ষমেট। দেশের এই চলমান ক্রান্তিলগ্নে সমগ্র দেশ এখন তাদেরকে চিনেন এবং তাদের জন্য গর্ববোধ করেন বলেই আমার বিশ্বাস।

যাই হোক, দুটু লাইফেই আমি যথেষ্ট সততা আর নিষ্ঠার সাথে লাইফকে উপভোগ করেছি এবং করছি। আর্মিতে যেমন দিঙ্কে রাত বিশ্রামবিহীন কাজের মধ্যে আনন্দ পেয়েছি, তার মাধ্যমে বিভিন্ন দেশ বিদেশ, জাতিসঙ্ঘের অধীনে অনেক উচ্চ মর্যাদার আন্তর্জাতিক পর্যায়ে দায়িত্ব পালন করেছি, ঠিক তেমনি ব্যবসায় এসেও আরেকবার নিরলস পরিশ্রমের মাধ্যমে জীবনকে প্রতিষ্ঠিত করে দায়িত্ব উপভোগ করতে কখনো পিছপা হইনি। সর্বাত্তক চেষ্টা ছিলো এবং আছে যাতে আমার দ্বারা জনগোষ্ঠীর সর্বদা উপকৃত হয়।

গতকাল আমার বন্ধু মেজর আশফাক (অবঃ) তার এলবাম খুজতে গিয়ে হয়তো সেই ১৯৮৪-৮৫ সালের কিছু ছবি তার নজরে এসেছে যেখানে আমার ছবিও ছিলো। সে আমাকে ছবিগুলি পাঠিয়েছে। ধন্যবাদ বন্ধু আশফাক।

ছবিগুলি দেখেই কেমন যেন মনটা নস্টালজিক হয়ে উঠেছিলো। কি অদ্ভুত দিন পার করেছি বিএমএ এর ট্রেনিং এর সময়। মনে হয়, এইতো সেদিনের কথা। একেবারে স্পষ্ট মনে পড়ে। অথচ এদের অনেকেই জেনারেল পদ উত্তীর্ন হয়ে এখন অবসরীও হয়ে সুন্দর জীবন কাতাচ্ছে। আমার মতো তারাও প্রায় ৬০ এ পা দিয়েছে।

গতকাল আমিও ৬০ এ পা রেখেছি।

৮/৯/২০২৪

শেষ পর্যন্ত ৬০ এর ঘরে পা দিয়েই দিলাম।

এই ছোট জীবনে কত কি যে আল্লাহ দেখালেন তার কোনো ইয়াত্তা নাই। যুদ্ধ দেখেছি, যুদ্ধের পরে শান্তি দেখেছি, প্রাকৃতিক দূর্জয় দেখেছি, সেই দূর্জয়ের পর মানুষ সব কিছু হারিয়ে নিঃস্ব হয়েও আবার ঘুরে দারানোর মতো শক্তি দেখেছি। এই ছোট জীবনে অনেকের সাফল্য দেখেছি, কারো কারো বিপর্জয়ও দেখেছি। এতো এতো উত্থান পতনের পরেও মানুষের অনন্ত কাল বেচে থাকার ইচ্ছাও দেখেছি। কারনএই পৃথিবীকে ঈশ্বর এমন একটা মোহ, এমন একটা অপরুপ রঙ আর তুলি দিয়ে সাজিয়েছেন যেখানে নীল আকাশের নীচে নীল সাগরের পানি, সবুজ গাছ পালায় ভরা পাহাড় জংগল আর তার সাথে আকাশের মেঘমালার চিত্তাকর্ষক রুপে ভরে রাখেন। কেউ এই পৃথিবী ছেড়ে কোথাও যেতে চায় না। তারপরেও একদিন সময় ঘনিয়ে আসে, ফুরিয়ে যায় মানুষের সময়কাল, আয়ুষ্কাল।

এমন করে আমিও একদিন সেই শেষ দিনটায় পৌঁছে যাব, ইচ্ছে করলেই আর থাকা যাবে না এখানে। কারন-

আমাদের একমাত্র জন্মটাই আমাদের মৃত্যুকে নিশ্চিত করেছে।

৮/৯/২০২৪-আজ নাকি আমার জন্মদিন

বন্যা, ছাত্র-জনতা আন্দোলন, সরকার পতন, গার্মেন্টস সেক্টরে অরাজকতা, যুবদলের তান্ডব সব মিলিয়ে গত এক মাস এমন ভাবে পর্যুদস্ত আছি যে, আজকে আমার ৫৯ তম জন্মদিন পেরিয়ে ষাটের ঘরে পা দিলাম এটাই মনে নাই। উম্মিকা, আবির আর মিটুলের ফোন কলে সকাল ১০টায় মনে পড়লো আজ ৮ সেপ্টেম্বর। বয়সটা বাড়ছে, অভিজ্ঞতাও বাড়ছে কিন্তু দেশ বিদেশের জটিল রাজনীতিতে মানুষের মনের শান্তি আর ঘরের শান্তির কোনোটাই পরিবর্তন হচ্ছে না।

তুমুল আন্দোলনের মধ্যে ১৫ বছর অপকর্মের শাশক শেখ হাসিনা শেষ পর্যন্ত দেশ ছেড়ে পালালেও এখন আরেকটি দল মনে করছে, এবার তাদের পালা। কোনো লাভ হবে কিনা এদেশের জনগনের সেটা এখনো বুঝা যাচ্ছে না। আগে খাইতো আওয়ামীলীগ এবং শুন্য হাতে আর খালি পেটে নেমেছে বি এন পি। চারিদিকে চাদাবাজি, দখল আর ঘুষের বানিজ্য। কোনো পরিবর্তন দেখছি না।

আবির আর উম্মিকা আমার ব্যবসায়ীক কাজে একটু মনোযোগ দেওয়ায়র চেষ্টা করছে বলে মনে হলো। আসলে আমি অনেকদিন যাবত আমার রিপ্লেসমেন্ট তৈরীতে অনেক মনোযোগী হলেও আমি সব সময় এই রিপ্লেসমেন্টের জায়গায় ব্যর্থ হয়েছি। রানাকে দিতে ট্রাই করেছিলাম, রউফকে দিয়ে ট্রাই করেছিলাম, সাকি, মান্নান সবাই ফেল করেছে। মুবীন তো আমাকে অনেক লস করিয়ে দিয়েই শেষ পর্যন্ত আমার সাথে টিকতেই পারেনি। ফলে আমি আর রিপ্লেসমেন্টের কথা মন থেকে বাদ দিয়েছিলাম।

যেহেতু আবির একটু মনোযোগ দেয়ার চেষ্টা করছে, ভাবছি ওকে দিয়ে একটু ট্রাই করা যেতে পারে।

০১/০৯/২০২৪-যুদ্ধ একটা হবেই, সেটা যেভাবেই হোক

আজকের দিনের প্রেক্ষাপটে আমি যেটা বুঝতে চেষ্টা করছি সেটা হচ্ছে-বাংলাদেশটা যাচ্ছে আসলে কোথায়? কোনো কিছুতেই যেনো দৃশ্যমান কোনো পরিবর্তন দেখতে পাচ্ছি না। অবশ্য খুব বেশিদিন যায়ও নাই এই ইন্টেরিম সরকারের। একটা কথা আছে-জনতা আর ক্ষমতা যখন এক কাতারে থাকে, তখন ক্ষমতায় থাকা ব্যক্তিগুলি সম্মানের সাথে ক্ষমতার মজাটা পায়। কিন্তু যখনই ক্ষমতা আর জনতার মাঝে ফারাক থাকে, ব্যবধান থাকে তখন জনতা ক্ষমতার মানুষগুলিকে অপ্রিয় ভাবে। তখন তারা ক্ষমতার মানুষগুলিকে খুবই অপছন্দ করতে থাকে। এক সময় এই অপছন্দ বাড়তে বাড়তে দেশে একটা বিস্ফোরন ঘটে। ফলে অতিপ্রিয় ক্ষমতাবান লিডাররাও এবংপ্রিয় লিডারগনও মানুষের কাছে খুবই অসহ্য হয়ে মারমুখী হয়ে উঠে। শুরু হয় অভ্যুত্থান অথবা গনহত্যা।

বর্তমানে দেশ যেভাবে উপদেষ্টারা চালাচ্ছেন, তাতে একটা বিভীষিকাময় অনুভুতি আমার ভিতরে কাআজ করছে যে, উপদেষ্টা যারাআ আআছেন, তাআদের মধ্যে মাত্র ৩ জন ছাত্র বা সমন্নয়ক ছাড়া আর কেউ জুলাই বিপ্লবে সক্রিয় অংশ গ্রহন করেন নাই। এমন কি তারা জুলাই বিপ্লবের সময় বিপ্লবের পক্ষেও কোনো কথা সাহস করে বলেন নাই। তারা সারাক্ষনই চুপ ছিলো। এমন কি প্রধান উপদেষ্ঠা নিজেও জুলাই বিপ্লবে আসলে কি হয়েছিলো, কিভাবে হয়েছিলো, কারা কারা সক্রিয় ছিলেন, কিভাবে সক্রিয় ছিলেন এগুলির কিছুই উনি জানেন না। কিন্তু তাকে প্রধান উপদেষ্ঠা বানানো হয়েছে একটি মাত্র ক্রাইটেরিয়া থেকে- নোবেল বিজয়ী।

নোবেল বিজয় কোনো উপ মহাদেশ বিজয় নয় আসলে। যদি সেতাই হতো, তাহলে হাজার হাজার নোবেল বিজয়োরাই সব দেশের রাষ্ট্র প্রধান হতেন। রাষ্ট্র প্রধান হতে হলে সর্ব প্রথম যা দরকার তা হচ্ছে “দেশ প্রেম”। আমার কাছে কেনো জানি মনে হয় প্রধান উপদেষ্ঠা দেশ প্রেমিক নন। আমিও ইউনুস সাহেবের খুব ভক্ত একজন মানুষ। কিন্তু সেই ভক্তিটা কেনো জানি আমার ভিতর থেকেই ধীরে ধীরে কমে যাচ্ছে আর কোরআনের একতা আয়াতের কথা বারবার মনে পড়ছে-“ আমি কাউকে সম্মান দেই সম্মান দেয়ার জন্য, আবার কাউকে আমি সম্মান দেই তাকে অসম্মান করার জন্য। আমি কাউকে রাজা বানাই আর তার সিঙ্ঘাসন থেকে টেনে হিচড়ে নামাই……।। “

ইউনুস সাহেবকে বিধাতা যেন এই রকম একটা টেষ্টে না ফেলেন। কিন্তু আমার প্রতিনিয়ত বারবার ভয়ই হচ্ছে- তিনি সেদিকেই ধাবিত হচ্ছেন।

দেশকে রিফর্ম করার যে চেষ্টা সেটা কয়েক বছরের মধ্যেও সম্ভব নয়। আর কি রিফর্ম করা হবে? ১৯৯১ সালে প্রেসিডেন্ট শাহাবুদ্দিন কি এই একই সংবিধান নিয়ে, এই একই নির্বাচনী আইন নিয়ে, এই একই সেনাবাহিনি নিয়ে, এই একই পলিটিক্যাল দল নিয়ে কি সুষ্ঠ নির্বাচন দেন নাই? দিয়েছেন তো। তখন কোনো কিছুরই রিফর্ম করার দরকার ছিলো না। দেশের ইতিহাসে প্রথম ফেয়ার ইলেকসন হয়েছিলো। কিন্তু তারপরেও দেশে অরাজকতা কেনো সৃষ্টি হয়েছিলো? জানেন?

কারন সুষ্ঠু নির্বাচন মানেই কিন্তু সুষ্ঠু লিডার নয়। রাজনৈতিক দলগুলি সঠিক ক্যান্ডিডেট দেন নাই। সব লোভী, অশিক্ষিত, বা অর্ধ শিক্ষিত, মাসলম্যান জাতীয় লিডার চয়েজ করে ক্যান্ডিডেট দিয়েছিলো যারা পরবর্তীতে সব আইন কানুন ভেংগেই অপরাধ, দুর্নীতি ইত্যাদিতে নিমজ্জিত হয়েছিলো। সুতরাং কাকে রিফর্ম করবেন? আইন? কানুন? সংবিধান? নাকি মানুষ?

বর্তমান প্রজন্ম শর্টখাট চায়, দ্রুত সাফল্য চায়, দ্রুত সব কিছুর সমাধান চায়। কিন্তু তারা বাস্তবতা বিবর্জিত অনেকটাই। ঘরে কয়দিনের খাবার আছে, কোথা থেকে খাবার আসবে, কে আনবে, এগুলি তাদের চিন্তার মধ্যে নাই। তাদের চিন্তায় সব কিছু ডিজিটাল, সবকিছু আর্টিফিশিয়াল। এখনই এটা চাই, যেনো আল্টিমেটামেই সব কাজ হতে হবে। এটা বাস্তব নয়। ফলে, পুরানো প্রজন্মের সাথে বর্তমান প্রজন্মের মধ্যে বিস্তর ফারাক, আর এই ফারাকটাই হলো সংঘাত।

রিফর্ম দরকার ঠিক এই জায়গায়। কিন্তু এই রিফর্ম কি সম্ভব? যদি এই রিফর্ম সম্ভব হয় তাহলে ব্যাংক যেভাবে চলার কথা সেভাবেই চলবে, অফিস যেভাবে চলার কথা সেভাবেই চলবে, দূর্নীতি, অপরাধ, গুম, রাহাজানি, বৈষম্য ইত্যাদি থাকার কথা নয়। ইউনুস সরকার কি রিফর্ম করবেন? পুরু একটা প্রজন্মকে খুন করে বীর্য থেকে নতুন জেনারেশন তৈরী করতে হবে পুরু সিস্টেম বদল করার জন্য। এটা কি সম্ভব?

এরমানে খুব দ্রুত আমরা একটা আভ্যন্তরীন সংঘাতের। সংঘাতটা হবেই হবে। এটা হতেই হবে।

অদূর অতীতে সব সময় দেখেছি- বারবার রিফর্ম করার চেষ্টা চলেছে, রিফর্ম হয়েছে কিন্তু সেই রিফর্ম কি স্থায়ী হয়েছে? সংবিধান রিফর্ম করে পাঁচ বছরের জায়গায় ৪ বছর, এক কক্ষ থেকে দ্বিকক্ষ সংসদ, পর পর দুই মেয়াদের বেশী নয় কোনো সাংসদের টেনিউর, এক পরিবারের মধ্য থেকে বারবার কেউ সাংসদ না হতে পারার আইন, এই রকম হাজারটা রিফর্ম করলেই কি দেশের অরাজকতা, দূর্নীতি, আইন শৃঙ্খলার উন্নতি, পুলিশের হয়রানী, কিংবা মাসলম্যানদের দৌড়াত্ত কমে যাবে? কখনোই না। যদি সেতাই হতো, তাহলে আওয়ামিলীগ পালানোর পরে বি এন পি তার অতীতের সেই চরিত্র যার কারনে সে একবার পালাতে বাধ্য হয়েছিল, সেই একই চরিত্রের রুপ নিয়ে আবার এখন গোংগানি দিতো না। তারা ক্ষমতায় না এসেও যে পরিমান দুর্নীতি, দখল্বাজ, চাদাবাজি, রাহাজানি, শুরু করেছে, সেটা হতো না।

এদেশে রিফর্ম হবে না। মাঝখান দিয়ে ইউনুস সরকার হয়তো প্রান পন দিয়ে গোটা ৩/৪ বছর রাষত্র পরিচালনার সাধ গ্রহন করবেন, আর এর মধ্যে যদি ক্ষমতার মজা তাদেরকে পেয়ে বসে, তাহলে তাদেরকে গদি থেকে নামাইতেও আবার আরেকতা বিপ্লব করতে হতে পারে। আর সেই বিপ্লবের সময় কোনো এক ফাক দিয়ে পুনরায় আওয়ামিলিগ যে ঢোকে পড়বে না, সেটা কেউ জানে না। তখন আবার এই বিএনপি গলিতে লুকিয়ে যাবে, জামাত হারিয়ে যাবে, আজকের দিনের বিপ্লবী ছাত্ররা  সবাই পিছু হাটবেই। তখন যদি আবার বিপ্লব সংঘটিত হতে হয়, তখন ছাত্র বিপ্লব বলতে যেটা হবে লাখ লাখ লাশ আনাচে কানাচে পড়ে থাকবে। সেই লাশ গুলিকে নেবার মত কোনো লোকও থাকবে না। হাসিনা সরকার যেমন দেশটাকে কখনোই ভালোবাসে নাই, ইউনুস সরকারও দেশটাকে ভালোবাসে না।

আমি এখন শুধু সেই যুদ্ধটার জন্য অপেক্ষায় আছি। যদি আজ আমি আমার এই ভয়ের কথাটা প্রকাশ্যে সোস্যাল মিডিয়ায় লিখি, আমি জানি, আগামীকালই আমার এই লেখাটা ডিলিট হয়ে যাবে, আমার সোস্যাল মিডিয়ার একাউন্ট বন্ধ হয়ে যাবে, আমার জীবননাশও হতে পারে। কে বলেছে-বাক সাধিনতা আমি ফিরে পেয়েছি? এটা যারা বলে-তারা আসলে কোন কথাই বলে না, তাই তারা ভাবে তারা যা খুশি তো এখন বলতেই পারে। ব্যাপারটা আসলে একেবারেই এমন না।

২৯/০৮/২০২৪-আওয়ামিলীগের পরবর্তী রাজনীতি কবে

গত ২০২২ সালে শ্রীলংকান রুলিং পার্টি সমুলে দেশের আপামর জনসাধারন দ্বারা উৎখাত হলে রাজাপাকসের দলের সব এম পি, মন্ত্রী স্পিকার এবং তাদের সমস্ত নেতাকর্মীরা ঠিক আমাদের বাংলাদেশের গন অভ্যুত্থানের মতো অবস্থায় পড়ে বিতাড়িত হয়েছিলো। ঠিক সেই সময়ে শ্রীলংকা প্রায় ৪৫ বিলিয়ন ডলারের ঋণের (বৈদেশিক ঋণ) ডিফল্ট করে। রাজাপাকসের দল উৎখাত হবার পর সেখানে একটা অন্তরবর্তীকালিন সরকার গঠিত হয়ে আপাতত রাজ্যের ভার কাধে তুলে নেয়। ভারত, চীন এবং আই এম এফ সহ অন্যান্য দেশ এবং বিশ্ব সংস্থাগুলি শ্রীলংকাকে কোন রকম্ভাবে টেনে তুলে একটা অবস্থানে নিয়ে আসার চেষ্টা করছে যা এখনো বিদ্যমান। আমুল সংস্কার করার নিমিত্তে বর্তমান ইন্টেরিম সরকার কাজ করছে বটে কিন্তু কোনো রকমে সামাল দিয়ে এগিয়ে চলছে। আগামি ২১ সেপ্টেম্বর ২০২৪ সালে একটা সধারন নির্বাচনের মাধ্যমে আবারো দেশের রাজনৈতিক দল গুলির মাধ্যমে দেশ পরিচালনার জন্য আয়োজন করছে। রাজাপাকসের দলের এমন ভরাডুবি এবং জন সাধারনের মধ্যে বিরূপ মনোভাবের পরে সবাই একটা কথা নিশ্চিত হয়ে গিয়েছিলো যে, রাজাপাকসের দল শ্রীলংকায় আর ক্ষমতায় ব্যাক করতে পারবে না। আর পারলেও এর সময়কালটা হবে অনেক পরে। কিন্তু মজার ব্যাপার হচ্ছে, এই আগামী নির্বাচনে রাজাপাকসের ছেলেই Namal Rajapaksa প্রেসিডেন্টশিয়াল ক্যান্ডিডেট হচ্ছেন এবং তার সমর্থনও কম নয়। তাহলে কি দাড়ালো? দাড়ালো যে, যারা প্রায় দেড় বছর আগে শ্রীলংকায় মানুষের বিরুদ্ধে এতো তান্ডব, এতো জুলুম করলো সেই তাদেরই ঘরের এক সদস্য পুনরায় রাজনিতিতে ফিরে এসে ক্ষমতার জন্য লড়াই করছে। হয়তো জয়ীও হয়ে যেতে পারে। যেখানে বলা হয়েছিলো বা ধারনা করা হয়েছিলো যে, রাজাপাকসের দল শ্রীলংকায় আবারো রাজনীতিতে ফিরে আসতে পারে কিনা সন্দেহ।

এই উপরের বাস্তবতার নীরিক্ষে যদি আমি এবার আমাদের বাংলাদেশের প্রেক্ষাপট বিবেচনা করি, একটা প্রায় সমান আন্দোলন, সমান অভ্যুত্থান, সমান বিদ্রোহই হয়েছে বলে বলা যায়। আর এই গন অভ্যুত্থানে আগের হাসিনা রিজিমের সব মন্ত্রী মিনিষতার, এম পি, সচীব, প্রশাসনের হোমড়া চোমড়াও এক যুগে পালিয়ে গেছে এবং তাদের নেতা কর্মিরাও আত্তগোপনে রয়েছে। বড় বড় হোমরা চোমড়ারা কেউ কেউ দেশের বাইরে চলে যেতে পারলেও প্রায় শতভাগ কর্মীরা দেশের ভিতরেই গোপনে অবস্থান করছে। ধারনা করা হচ্ছে-এই আওয়ামিলীগ আগামি ২০/৩০ বছরের মধ্যে হয়তো আর রাজনিতিই করতে পারে কিনা সন্দেহ।

আমি ঠিক এই জায়গাতার সাথে একমত নই।

বাংলাদেশ আর শ্রীলংকান জন গোষ্টির মধ্যে অনেক তফাত আছে। ওরা শতভাগ শিক্ষিত এক জাতী, তাদের মধ্যে নৈতিকতার ব্যাপারটা আমাদের থেকে অনেক মাত্রায় ভিন্ন। ওরা সহজেই উত্তেজিত আর অস্থির হয়ে উঠে না। তারা বেশিরভাগ মানুষেরাই লজিকের মধ্যে বসবাস করে। কিন্তু আমাদের বাংলাদেশের মানুষেরা যেটুকুই শিক্ষিত সেটাও সুশিক্ষিত না, একেবারে অস্থির একটা আবেগী জাতি। কখন যে তার মেজাজ উগ্র হয় আর কখন যে আবার আবেগীত হয় এটা একেবারেই সহজে বুঝা যায় না। টাকার লোভে, সম্পত্তির লোভে কিংবা বেনিফিটের লোভে আমাদের দেশের মানুষেরা এক নিমিষের মধ্যেই ভোল পালটে ফেলতে পারে। ফলে কাউকেই চরম্ভাবে বিশ্বাস করা যায় না। যে আজকে আমার পক্ষে আছে, আগামী এক ঘন্টা পরে সে আমার পক্ষে আছে কিনা আমি নিশ্চিত দিয়ে বলতে পারবো না। যাকে আপনি সৎ, ন্যায় এবং সাহসী ভেবে কাছে টেনে নেবেন, হয়তো দেখবেন আগামিকাল তার কন্ঠে সেই সুর যার অর্থ এক রকম অসৎ, অন্যায় এবং নিসচুপ। আওয়ামিলীগের হাতে এখন এতো টাকা এতো টাকা যে, প্রতিটি বাংগালীকে তারা কিনে ফেলার সামর্থ আছে।

দেশে এখন আওয়ামিলিগের বিপক্ষে কথা বলছে বটে কিন্তু এই ঢেউটা খুব দ্রুত থেমে যাবে যখন দেখা যাবে বি এন পি নির্বাচনের আগেই সেই পুরান চেহারায় ফিরবে, যেমন জমি দখল, বাড়ি দখল, রাস্তা দখল, চেয়ার দখল, ঘাট দখল, স্কুল কলেজ দখল ইত্যাদি। যা এখনই চোখে দৃশ্যমান। যে সংস্কারের কথা আমরা বারবার শুনে এসে আন্দোলন করেছি, সেই সংস্কার তো হবেই না, বরং একটা ক্ষুধার্থ দলকে নতুন করে তাদের পেট ভরানর জন্য ক্ষমতায় বসিয়ে দেয়া। সাধারন মানুষ আবারো হতাশ হবে। আজ থেকে ১৫ বছর আগে তো এই বি এন পি কেই মানুষ আরেকটা গন অভ্যুত্থানের মাধ্যমেই ক্ষমতা থেকে নামিয়েছিলো, সেই তাদের চেহারা কি আদৌ পাল্টেছে? একদমই পালটায় নাই। এখন তারাই আবার সেই আগের চেহারায় ক্ষমতার স্বপ্ন দেখছে। নির্বাচনের আগেই তারা যা শুরু করছে বা করেছে সেতার সংকেত কিছুতেই ভাল লক্ষন নয়।

আর এই পরিস্থিতিটাই তো চাচ্ছে আওয়ামিলীগ।

এর আগে আরেকটা কথা না বললেই নয়। ১৯৭৫ সালের শেখ মুজিবকে হত্যা করার পর বাংলাদেশে সব গ্রামে গঞ্জে এক প্রকার আনন্দ উল্লাস চলেছিলো। কারন সেই সময়ের আওয়ামীলীগ বাংলাদেশের মানুষের উপর অনেক রকমের অত্যাচার, জুলুম, রাহাজানি করতে করতে মানুষ অতিষ্ঠ হয়ে উঠেছিলো। মানুষ চেয়েছিলো আওয়ামিলীগের শাসন থেকে মুক্ত হোক। শেখ মুজিবের লাশটা পর্যন্ত মানুষ তার বারি থেকে উঠিয়ে নিয়ে কবর দিতে চায়নি। তখনো আওয়ামিলিগের নেতা কর্মীরা গোপনে চলে গিয়েছিলো। কোথাও তাদের কোন রাজনৈতিক কর্মকান্ড করতে দেখা যায়নি। অথচ ১৯৮১ সালে যখন বাংলাদেশে শেখ মুজিবের মেয়ে শেখ হাসিনা বাংলাদেশে প্রত্যাবর্তন করে, তখন এদেশের আওয়ামিলিগ সমর্থিত এবং কিছু নতুন সমর্থকরা সবচেয়ে বড় শো দাউন করে শেখ হাসিনাকে বাংলাদেশে বরন করে নেয়। মাত্র ৬ বছরের ব্যবধান। এর পরের ঘটনা আমাদের সবার জানা। শেখা হাসিনা এদেশ শাসন করে প্রায় ২০ বছর।

তখন মিডিয়া এতো স্ট্রং ছিলো না, মানুষ যতটুকু পত্রকা পড়ে কিংবা টিভি দেখে তথ্য পেতো তার মধ্যেই এই সময়টায় আওয়ামীলিগ তাদের অবস্থান শক্ত করে ফেলতে পেরেছিলো। ভারত কিংবা যারা আওয়ামিলিগকে সমর্থন করতো পিছনে পিছনে, তারাও যতটুকু পেরেছে তথ্যের মাধ্যমে আওয়ামিলীগকে স্ত্রং পজিশনে আনার চেষ্টা করে শেষ পর্যন্ত কিন্তু এদেশের জনসাধারনের মাইন্ড পরিবর্তন করতে সক্ষম হয়েছিলো। তার পিছনে আরেকতা কারনঅ ছিলো যে, তখনকার রুলিং পার্টিও জনবান্ধব ছিলো না। তাই সরকারকে উৎখাত করতে ভারতের কিংবা আওয়ামিলীগের জন্য প্লাস পয়েন্ট ছিল। বর্তমানে অবাধ তথ্য প্রবাহ, সোস্যাল মিডিয়া, প্রিন্ট মিডিয়ার সাথে পাল্লা দিয়ে তথ্য দেয়। এখন জনমত গঠন করা আরো সহজ।

বর্তমান ইন্টেরিম সরকার যেভাবে সংস্কার করার পথ বেছে নিয়েছেন, তাতে সব সেক্টর এক নাগারে তোলপাড়। ব্যাংকিং খাতে, আইন শৃঙ্খলা বাহিনিতে, আমদানি রপ্তানী সেক্টরে, প্রশাসনে, শিক্ষা খাতে, মিডিয়া খাতে ইত্যাদি সব খাতে একটা অরাজকতা বিরাজ করছে। হুর হুর করে দ্রব্যের মুল্য বাড়ছে, চাহিদার তুলনায় যোগান কমে যাচ্ছে, প্রশাসনে স্থবিরতা বাড়ছে, ক্যাডারে ক্যাডারে বৈষম্য বাড়ছে, অবসরীদেরকে আবারো পদায়ন চলছে। একটা হযবল্রল অবস্থা। ওই যে বললাম, এদেশের মানুষ খুব অস্থির এবং আবেগী। এবার সেই অস্থরতা আর আবেগের স্থানটি নিয়ে খেলতে চাইবে আওয়ামিলিগ এবং আওয়ামিলিগ সমর্থিত রাষ্ট্র বন্ধুগুলি। বিশেষ করে ইন্ডিয়া।

ইন্ডিয়া বাংলাদেশের কাছে অনেক কিছুতেই ধরা নাই শুধুমাত্র তার ৭-সিস্টার্স ছাড়া। কিন্তু বাংলাদেশ ইন্ডিয়া লকড একটা দেশ হওয়ায় আমরা অনেক কিছুতেই ইন্ডিয়া নির্ভর।  আমদানি করি রপ্তানির প্রায় ১০ গুন বেশী। কাচামাল, খাদ্য পন্ন, টেক্টটাইল কাচামাল, আরো অনেক কিছু। কোন কারনে যদি ইন্ডিয়া আমাদেরকে এসব পন্য রপ্তানী না করে আমাদেরকে আরো বহু মুল্যে অন্য দেশ থেকে এসব কাচামাল, পন্য আমদানি করতে হবে। হয়তো সেটাও সমস্যা ছিল না যদি আমাদের অর্থনীতি শক্তিশালি হত। সেখানেও আমাদের ভঙ্গুর অবস্থা। এর ফলে মানুষের ভোগান্তি ধীরে ধীরে চরমে উঠবে, মানুষ বর্তমান ইন্টেরিম সরকারের উপর ক্ষেপে যাবে, আবার একতা আন্দলন হতে পারে। আর এই আন্দলনে সবার সাথে গোপনে লুকিয়ে থাকা যুবলিগ, ছাত্রলীগ, আওয়ামীলিগ সংযুক্ত হবে সাধারন মানুষের বেশে। মানুষ ধীরে ধীরে আবেগ থেকে যখন সরে আসবে, কে জানে তখন হয়তো শেখ হাসি নয়, তাদেরই আরেকতা সদস্য আওয়ামিলিগের হাল ধরে আবারো রাজনিতিতে প্রবেশ করবে। যে আওয়ামিলিগকে এই মুহুর্তে আমরা ভাবছি কয়েক যুগ পরে হয়তো আবার রাজনীতিতে আসতে পারতো সেটা না হয়ে অচিরেই তাদের আবার পদার্পন হবে।  

২৭/৮/২০২৪-ক্ষমতার উল্টোপিঠের চিত্র ক্ষমতাশীলরা

ক্ষমতার উল্টোপিঠের চিত্র ক্ষমতাশীলরা বেশীরভাগ সময়েই মাথার মধ্যে রাখেন না। অনেকেই বলে থাকেন যে, ক্ষমতার উল্টোপিঠে আছে দূর্ভোগের সীমাহীন যন্ত্রনা আর জনরোষের এক বীভৎস চেহাড়া। অনেক ক্ষেত্রেই এর সত্যতা আছে বটে কিন্তু আমি বলি, ক্ষমতার উল্টোপিঠে দুটু চিত্র সার্বোক্ষনিক বিদ্যমান থাকে। আর সেটা হচ্ছে, ক্ষমতায় অবস্থান করে ক্ষমতাশীনরা যে আনন্দ, যন্ত্রনা, দূদর্শা কিংবা ভোগ বিলাস করেন, সেই ক্ষমতা যদি মানুষের কল্যানকর কাজে ব্যবহৃত হয়, আর মানুষ সেটা বুঝতে পারে তাহলে যখন এইসব ক্ষমতাসীনদের ক্ষমতা যখন আর হাতে থাকে না বা তারা ক্ষমতা হারান, তখন তারা হয়ে উঠেন অত্যান্ত জনপ্রিয় এবং জনসাধারনের চোখের মনি, সম্মানের পাত্র এবং আজীবন তারা মানুষের ভালোবাসায় শিক্ত থাকেন। আবার এর আরেকটা চিত্র আছে-আর সেটা হল যদি এই শাসক গোষ্ঠী যখন একচেটিয়া বর্বর, দুঃশাসন এবং জনগনের না হয়ে নিজেদের এক নায়কতন্ত্রতায় রাষ্ট্র পরিচালনা করেন, তখন যতো দিন যেতে থাকে মানুশ তত বেশি অসহিস্নু হয়ে এক সময় শাসক গোষ্ঠির বিরুদ্ধে যুদ্ধ বা বিপ্লবে নামে। জনগন জয়ীও হয় এবং শাশক গোষ্ঠির পতন তখন কেউ ঠেকাতে পারে না। এই চিত্রটাই হচ্ছে সেটা যা আমি প্রথমে বলেছিলাম যে, ক্ষমতার উল্টপিঠে থাকে দূর্ভোগ আর সিমাহীন যন্ত্রনা।

আমাদের বাংলাদেশেও এর কোনো ব্যত্যয় দেখিনা। ২০০৯ সাল থেকে ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট অবধি পতিত শেখ হাসিনার রাজত্বকালে ঠিক এমনি একটা ঘটনার পুনরাবৃত্তি হলো। মানুষ সীমাহীন কষ্ট, গোস্যা, রাগ আর ঘৃণা নিয়ে মুখ বন্ধ রেখে তাদের অস্বাভাবিক জীবন যাপন করে গেছে। ভোটের অধিকার না থায়, প্রশাসনে ৪র্থ ধাপ পর্যন্ত দলীয়করন করায়, আইনের শাসন না থাকায়, বাক স্বাধীনতা পুরুপুরি বিলুপ্ত করায় জন সাধারন একেবারে নিষ্পেষিত জীবন জাপন করেছিলো। ছাত্রদের কোটা আন্দোলন হয়তো ছিলো একটা ম্যাচের কাঠি কিন্তু আসল আগুনের উত্তাপ ছিলো মানুষের মনের ভিতর। ফলে একটা কাঠিই যথেষ্ট ছিলো গনরোষের মতো একটা অভ্যুত্থান স্ফুলিঙ্গের মতো জ্বলে উঠার। আর ঠিক সেটাই হয়েছে। ৩৫% জন গোষ্টির একটা পলিটিক্যাল দল, শতভাগ এম পি, মিনিষ্টার, স্পিকার সহন এটর্নী জেনারেল, ডেপুটি এটর্নী, পুলিশের আই জি থেকে শুরু করে বাঘা বাঘা আর্মির জেনারেল সহ সচীব, উপসচীব, ভিসি, নেতা পাতিনেতা এক রাতের মধ্যে উধাও। সাথে প্রধান মন্তী, সরকারের আরো বড় বড় হোমরা চোমড়ারাও। যেনো যাদুর কাঠির মতো সব লুকিয়ে গেলো। তারাও জানতেন তাদের এই পরিনতির কথা। তা না হলে এভাবে কেউ উধাও হবেন কেনো?

১৯৭৫ সালে মুজিব হত্যার পরে যে আওয়ামীলীগ এর পরের ২১ বছর কোনো অবস্থাতেই ক্ষমতায় আসতে পারতেছিলো না, তখন শেখ হাসিনা মাথায় হিজাব দিয়ে রাস্তায় রাস্তায় মানুষের কাছে করজোড়ে একটা কথাই বলতে শুনেছি যে, আমাদেরকে আরেকবার একটা সুযোগ দিন, আমরা আবার জনগনের সেবক হয়ে ফিরে আসব। মানুষ ২১ বছর পর শেখা হাসিনার এমন কাতর কথায় বিশ্বাস করে তাকে ভোটের মাধ্যমে আবারো ক্ষমতায় নিয়ে এসছিলো বটে কিন্তু হাসিনা তার কথা রাখেন নাই। ক্ষমতায় গিয়ে তিনি এমন একটা পরিস্থিতি তৈরী করে ফেললেন যেখানে সব রাষ্ট্রীয় কাঠাম একে একে নিজের কব্জায় নিয়ে এক নায়কতন্ত্র আইনে দেশকে জিম্মি করে ফেললেন। কারো কোনো ব্যাপার নিয়ে তিনি মাথা ঘামালেন না। মানুষ ধোকা খেয়েছিলো। কিন্তু মানুষের আর কিছুই করার ছিলো না। সেই এক নায়কতন্ত্রী শাসন শেষ পর্যন্ত আবারো মানুষকে পুরাতন শাশকদের মতো একই ধাচে জিম্মি করে ফেল্লো।

ফলে এই সময় যখন মানুষ ছাত্রদের কোটা আন্দোলনকে সমর্থন দিতে গিয়ে ‘একদফা এক দাবী, সরকার পতনের দাবী’ তুল্লো, তখন শেখা হাসিনার কোনো শক্তিই (ছাত্রলীগ, যুবলীগ, সেনাবাহিনো, বিজিবি, আনসার, পুলিশ কিংবা প্রশাসন) তাকে আর বাচাতে পারেনি। শেখ হাসিনা পালিয়ে যেতে বাধ্য হলো।

এই যে, পালিয়ে গেলো, তাদের জন্য কি কোনো মানুষ আর সিম্প্যাথিতে থাকবে? সম্মান করার কোনো জায়গায় আছে? একেবারেই নাই। ফলে তারা এবং তাদের সহযোগীরা সারা দেশ থেকে এমনভাবে ঘৃণিত হলো যে, তাদের আবার স্বাভাবিক লাইফে আসতে আগের ২১ বছর নয়, এবার হয়তো ৫০ বছর কিংবা ১০০ বছরও লাগতে পারে। তারা রাজনীতি থেকে চিরতরে বিদায় নিতে হবে। এগুলির কোন প্রয়োজন ছিলো না। এতো টাকার দরকার ছিলো না তাদের এবং তাদের সহযোগিদের। তারা মানুষের জন্য কাজ করতে পারতো। এখন যেতা হচ্ছে- বিচারপতিদের অন্ডকোষ কেটে দিচ্ছে, মন্ত্রী এম পি দেরকে মানুষ বিবস্ত্র করছে, মাথায় জুতা নিক্ষেপ করছে, ডিম দিয়ে ছুড়ে মারছে, আরো কত কি। তাদের বাসা থেকে হাজার হাজার কটি টাকা উদ্ধার হচ্ছে। যাদের জন্য এসব করা, ছেলেমেয়ে, নিজেদের জন্য, বউ বাচ্চাদের জন্য তারা কিন্তু এখন কেহই এর ভাগিদার হচ্ছেন না। কোনো আইনজীবীও তাদের পক্ষে ওকালতি করতে নারাজ। মানুষ কতটা অসহায় হতে পারে তাদেরকে না দেখলে বুঝা যেতো না আল্লাহর কাঠগরা কত কঠিন হবে।

এদের বাকি জীবনটা সম্ভবত এই বিচারের মধ্যেই শেষ হবে। যারা একদিন নরম বিছানা, শত শত আর্দালি নিয়ে রাজকিয় জীবন জাপনে অভ্যস্থ ছিল, এখন থেকে তারা এমন একটা জীবনে ঢোকে গেলেন যেখানে রাস্তার চোর বাটপাররা ধর পড়লে যেমন থাকে তাদের মতো। টাকা কোন কাজেই তাদের লাগল না। কি দরকার ছিল এসবের অদের? পারতো না তারা মানুষের ভালবাসা অর্জন করে বুক ফুলিয়ে সম্মানের সাথে বেচে থাকতে? পারত না তারা এ দেশের মানুষ গুলিকে ভালোবেসে নিজেদের জীবন উতসর্গ করতে? পারতো। কিন্তু সইরাতন্ত্রী মানুষেরা কখনই এই পরবর্তি পর্বের কথা মাথায় রাখে না বলেই যুগে যুগে ফ্রান্স রিভুলিউশন, জার বিপ্লব, কমলা বিপ্লব, আরব বস্নতের মতো বিপ্লব ইত্যাদির ইতিহাস রয়েছে। কিন্তু শাসকগন ইতিহাস পড়ে না, ইতিহাস থেকে শিক্ষা নেয় না।

১৮/৮/২০২৪-শেখ হাসিনার কি হতে পারে

হাসিনার ডিপ্লোমেটিক মুভে ভুল ছিলো।

চীন তার সহযোগিদেরকে যতোটা সামাল দেয়, ভারত কখনোই সেতা করে না। যেমন শ্রীলংকাকে চীন যেভাবে অর্থনইতিক ভাবে সাহাজ্য করে তাদেরকে সামাল দিলো এটা ভারত কখনোই করবে না। চীন তাদের সহযোগি আফ্রিকান দেশ গুলিকে যেভাবে অউন করে অন্য কোনো দেশ তা করে না। ফলে হাসিনার দরকার ছিলো ভারতের বদলে চীনকে পাশে রাখা।

উত্তর কোরিয়াকে সারা দুনিয়ার বিরুদ্ধে গিয়েও চীন তাকে বাচিয়ে রেখেছে। রাশিয়ার সাথে চীনের সম্পর্ক, ইরানের সাথে আরব দেশ গুলি যেভাবে আমেরিকাকে উঠাচ্ছে আর বসাচ্ছে এটার পিছনেও চীনের অনেক ভুমিকা আছে। এই ভু রাজনৈতিক গেমটা হাসিনা বুঝে উঠতে পারেনি।

যদি হাসিনা ১০ ট্রাক মামলা, ২১ শের গ্রেনেড হামলা, এই বিষয়গুলি যদি হাসিনা আন্তর্জাতিক কোর্টে নিয়ে যেতেন তাহলে তারেক জিয়া কখনোই লন্ডনে এসাইলাম পেতেন না। অন্যদিকে হাসিনার শাশনামলে যেঁ পরিমান মানুষ নিপিড়িত নির্যাতিত এবং অকাম গুলি তরতাজা ভাবে প্রমান আছে তাতে আওয়ামীলীগের ২ লাখ লোকের ফাসি হলেও কম হবে। আর এই ত্রাসের রাজত্ত কায়েমের জন্য প্রতিবারই ভারতের সহযোগীতা ছিলো বলে সারাটা দুনিয়া জানবে। আর ঠিক এ কারনে হাসিনার শাসনামল যতোদিন বতর্কিত থাকবে ভারত ততোদিন এর জ্বালা ভগ করবে। এ অবস্থায় হাসিনাকে ভারতে অনির্দিষত কালের জন্য এসাইলামে রাখাও ভারতের জন্য নিরাপদ না।

এছাড়া ভারত যদি হাসিনাকে নিয়ে বাড়াবাড়ি করে, দেখা যাবে ভারতের ৭ সিস্তার খুব দ্রুতই ভারতের হাতছাড়া হয়ে যাবার সম্ভাবনা আছে। এর কারন একটাই-বর্তমান সরকার যদি চীনের সহযোগিতা নেয় তাহলে ভারতের ৭ সিস্টার শেষ।

ঠিক এ কারনে ভারত যত দ্রুত সম্ভব হাসিনাকে ভারত থেকে ছেড়ে দিতে হবে। অথবা তাকে গ্রেফতার দেখিয়ে শাস্তির মুখুমুখি করিয়ে দেয়া ছাড়া ভারতের কোন বিকল্প নাই। অথবা তাকে বাংলাদেশেই পাঠিয়ে দিতে হতে পারে, তা না হলে ভারতের ভিতরেই একটা বিশৃঙ্খলা হতে পারে।

রাজনীতির ময়দানে আরো একটা খেলা হয়-জীবননাশ। হাসিনাকে স্লো পয়জনের মাধ্যমে ধীরে ধীরে অসুস্থ করে ফেলা, মিডিয়ায় তার সাস্থগত কারন দেখিয়ে ধীরে ধীরে এক সময় মেরে ফেলা।

১৮/৮/২০২৪ –ইলেকশন ক্রাইটেরিয়া

ইন্টেরিম সরকারের প্রধান ডঃ ইউনুস স্যার এক সংবাদ সম্মেলনে বলেছেন যে, নির্বাচনী ব্যবস্থা, বিচার বিভাগ, অর্থনীতি এবং গনমাধ্যম এই কয়েকটি সেক্টরে আমুল সংস্কার করবেন। এটাই আপাতত প্রধান লক্ষ্য। উনি ঠিক সেক্টরের কথাই বলেছেন।

নির্বাচনী ব্যবস্থার সংস্কার নিয়ে আমার কিছু মতামত ছিলো যেমনঃ

(১)      পার্লামেন্টে যারা প্রতিনিধি হয়ে আসবেন, তাদের কমপক্ষে মাস্টার্স লেবেলের শিক্ষাগত যোগ্যতা থাকা উচিত। মাস্টার্স লেবেল না হলেও কমপক্ষে গ্রাজুয়েশন লেবেল অবশ্যই থাকা উচিত। কারন এই এমপিদের থেকেই কেউ না কেউ মন্ত্রী, উপমন্ত্রী ইত্যাদি হবেন। এরা যেমন দেশের পলিসি মেকার তেমনি দেশ বিদেশের তাদের কাউন্টার পার্টদের সাথেও তাদেরকে ডিপ্লোমেটিক আলাপ-আলোচনায় বসতে হয়। প্রয়োজনীয় শিক্ষাগত যোগ্যতা এবং ডিপ্লোমেটিক জ্ঞান ছাড়া দেশের জন্য খুব ভালো পজিটিভ ফলাফল আনা অনেক ক্ষেত্রে সম্ভব হয় না।

(২)      নির্বাচনের সময় ক্যান্ডিডেটদের নির্বাচনের পাশাপাশি যদি সাধারন জনগন সঠিক ক্যান্ডিডেট দেয়া হয় নাই বলে মনে করেন, তাহলে সেক্ষেত্রে শতভাগ জনগনের রায় প্রতিফলিত হবার নিমিত্তে একটা অপশন থাকা উচিত যাকে আমরা “না ভোট” বলি। না ভোটের মাধ্যমে জনগন তাদের রায় দেয়ার একটা অপশন থাকলে অযোগ্য ব্যক্তিকে প্রত্যাখান করার জন্য রায় দিতে পারে। যদি “না ভোট্র” পরিমান বেশী হয় তাহলে দলগুলি বুঝতে পারবেন যে, তাদের ক্যান্ডিডেটকে জনসাধারন পছন্দ করেন নাই।

(৩)     প্রতিটি ক্যান্ডিডেটের এবং তাদের পরিবারের বিশেষ করে স্ত্রী, সন্তানের দৃশ্যমান আয়ব্যায়ের সঠিক তথ্য জনসম্মুখে (মিডিয়ার মাধ্যমে খোলাখুলি প্রচার) প্রকাশ করা।

(৩)      নির্বাচনে কমপক্ষে ৬০% থেকে ৬৫% ভোট কাস্টিং না হলে সেখানে পুনরায় ভোটের ব্যবস্থা করা উচিত।

(৪)      এক নাগাড়ে কেউ দুইবারের বেশী রাষ্ট্রের প্রধানমন্ত্রী বা সরকার প্রধান হতে পারবেন না। সংখাগরিষ্ট দলের মধ্য থেকেই রাষ্ট্রপ্রধান বা সরকার প্রধান করতে হবে এমন নয়। সব দল তাদের দল সংখাগরিষ্ঠ হতে পারেন ভেবে তারা রাষ্ট্রপ্রধানের জন্য দলগুলি থেকে সাধারন নির্বাচনের সময়ের আগেই তারা প্রোবাব্যাল ক্যান্ডিডেটের নাম নির্বাচন করে দেবেন এবং তিনিও জনসাধারনের গনভোটে সরকার প্রধান নির্বাচিত হতে পারেন।

(৪)      আরেকটা অপশন এমন হতে পারে যেঁ, রাষ্ট্রপতি শাসিত সরকার হলে দল নির্বিশেশে শুধুমাত্র রাষ্ট্রপতির জন্য আলাদা নির্বাচন এর আয়োজন করা যেখানে সাধারন জনগন অংশ নিতে পারেন।

১৮/৮/২০২৪-গৃহযুদ্ধ

আমার কেনো জানি মনে হচ্ছে-হাসিনার রিজিম শেষ হবার পর এদেশে কয়েকটা শ্রেনী, গোত্র এবং সার্থানেসী দলের সৃষ্টি হয়েছে। এখন কে যে দেশ চালাচ্ছে, কার কথায় যে আইন কানুন চলছে, কিছুই বুঝা যাচ্ছে না। ছাত্ররা একদিকে বাজার মনিটরিং করতে গিয়ে এর আদিয়ান্ত দেখার (বিক্রেতা কত করে কিনলো, কত তার খরচ হলো আর কততে সে বিক্রি করলে সে ব্যবসাটা টিকিয়ে রাখতে পারবে ইত্যাদি) কোনো প্রয়োজন মনে না করে প্রান্তিক বিক্রেতার উপর খরগ চালাচ্ছে। ফলে সেই প্রান্তিক ব্যবসায়ী তার পুজি হারানোর আগেই তার ব্যবসা গুটিয়ে নিচ্ছে। অন্যদিকে যে কোনো সমন্নয়ক যখন যা খুশি সেটাই দাবী করে আল্টিমেটাম দিয়ে আবারো পথে নামছে। উপদেষ্টা নিয়োগ করে তাকেই আবার পদিত্যাগে বাধ্য করছেন। প্রশাসনে সিনিয়ার সিনিয়ার সচীবগন (হোক সে দুর্নিতিগ্রস্থ) তাকে যার পর নাই অশোভন ব্যাবহার করে তার পদত্যাগ করিয়ে অবসর প্রাপ্ত মানুষদেরকেও সেই পদবীতে বসিয়ে দিচ্ছেন। আরেকদল যারে খুশী তারেই রাস্তায় ধরে কান ধরিয়ে দাড় করিয়ে উঠবস করাচ্ছে। পুলিস থানায় নাই, আবার যারাই আছেন তারা হয়তো আর্মির প্রোটেকশনে কোন রকমভাবে নিরাপত্তার ব্যাপারটা সামলানোর চেষ্টা করছেন, সেখানে গিয়ে কিছু বিপথগামী ছাত্র অকথ্যভাষায় গালাগালি করছেন কেনো তারা থানায় আছেন। আরেকদিকে আরেকটি দল এই সুযুগে যা পারে তাইই দখলে মত্ত। দোকান ভাংচুর, জায়গা দখল, হানাহানিতে লিপ্ত। শিক্ষা কলেজ গুলিতে প্রিন্সিপ্যাল, ভাইস প্রিন্সিপ্যালগনের একযুগে অন্যত্র বদলীর আন্দোলনে স্কুল কলেজ গুলি অভিভাবক ছাড়া চলছে। ব্যাংকগুলিতে কেউ ২ লাখ টাকার উপরে টাকা উত্তোলনে নিষেধাজ্ঞা। আইন বিভাগেও কোনো কাজ সুষ্টুভাবে চলছে না। অন্যদিকে সাপ্লাই চেইনে যারা স্বাভাবিক সাপ্লাই সরবরাহ করবেন তারাও নাই, পাশের দেশ ভারত এই ফাকে তাদের পন্য এদেশে রপ্তানীতে অনীহা, ইত্যাদির কারনে আমার কাছে এখন একটা বিভীষিকাময় দিন ঘনিয়ে আসছে বলে মনে হচ্ছে।

কেউ বুঝতেছে না যে, খুব দ্রুত সব কিছু শেষ হয়ে যাচ্ছে। নিত্যদিনের প্রয়োজনিয় কমোডিটি কমে যাচ্ছে, বিদ্যুৎ উৎপাদনের জন্য ফার্নেস তেলের অভাব হতে যাচ্ছে, কয়লা উত্তোলনের হার কমে গেছে, ভোজ্য তেলের আমদানি বন্দ হয়ে যাচ্ছে, দেশের মজুদ চালের পরিমান কমে যাচ্ছে প্রতিদিন, বড় বড় কোম্পানিগুলি যারা এসব আমদানি করতো তারা পর্দার অন্তরালে চলে গেছেন, গার্মেন্টেস এর র ম্যাটেরিয়ালের অভাব পরিলক্ষিত হচ্ছে ফলে অচীরেই গার্মেন্টস শিল্পেও একটা ধাক্কা আসবে। এই সব মিলিয়ে দেশে একটা দুর্ভিক্ষের জন্ম নিতে পারে।

মানুষের যখন নেসেসারী কমোডিটি আর হাতের কাছে পাবে না, জনরোষ তৈরিতে বেশি সময় লাগবে না। কথায় আছে, একজন ক্ষুদার্থ মানুষ রাগান্নিত থাকে। একালের ছাত্র সমাজকে বাস্তবতা বিবর্জিত মনে হচ্ছে এখন। প্রথম আন্দোলনটা সাপোর্ট করতে আমার কোনো দ্বিধা ছিলো না কিন্তু এই মুহুর্তে তারা যা করছে সেটা বাড়াবাড়ি। তাদের এই বাড়াবাড়িতে প্রশাসন, ব্যবসায়ী, আমলা, এবং সুশীল সমাজ এখন নিসচুপ। তাদের এই নিসচুপতা আমাদের দেশকে একটা কঠিন ভয়াবহ অবস্থার দিকে সম্ভবত নিয়ে যাচ্ছে যা এই জেনারেশন বুঝতেছে না। তারা দেশটাকে নিয়ে আমার মনে হচ্ছে খেলা খেলছে। তাদের থামানোর কেউ নাই। ৩ মাসের মধ্যে সিংগাপুর বানিয়ে ফেলবো, ৯০ দিনের মধ্যে পৃথিবীর বেষ্ট হাসপাতালের সার্ভিস দিতে হবে, সরকারের তহবিল থেকে সবাইকে বিনা মুল্যে চিকিৎসা দিতে হবে, বেতন দিতে হবে সে পরিমান যে পরিমানে সবাই আরাম আয়েশে চলতে পারে, একটা ম্যাজিক। হয়তো সম্ভব, কিন্তু ব্যাপারটা এতো সহজ না।

যদি সেটাই হয়, আমার মতে তাদেরকে দিয়ে দেন সব সরকারী প্রতিষ্ঠান, তারা দেখি কিভাবে ম্যানেজ করে। আমরা খেলাটা দেখি। ওরা কাকে আদেশ করছে আসলে? আমি ফ্যাক্টরী চালাবো না, মানুষ পন্য বিক্রি করবে না। লোকেরা ডাক্তারী পেশা করবে না, কি হবে? দেখি ওরা কি করে?

ইউনুস সাহেব ছাত্রদেরকে শিক্ষকের মতো ক্লাশ নিয়ে তার মতবাদ বুঝাতে চাচ্ছেন এবং তাদেরকে এতোটা মাথায় তুলে নিচ্ছেন যে, একদিন এরা তার হাত থেকেই ফসকে যাবেন বলে আমার ধারনা। তাছারা আমার কাছে আরেকটা কথা মনে হচ্ছে যে, ইউনুস সাহেব কোনো না কোনো একটা এজেন্ডা নিয়েই এদেশে এসেছেন। তিনি ইসরায়েল এবং পশ্চিমাপন্থী একজন মানুষ। আমেরিকা একবার যাকে আদর করে বুকে টেনে নেয় বলে মনে হয় বটে কিন্তু সেই দেশের ছাড়খাড় না করে তারা ফেরত যায় না। আমরা যতোটা না হাসিনার দুর্নীতি আর ফ্যাসিজিমের করাঘাতে পিষ্ট হয়েছিলাম, আমার কাছে এখন মনে হচ্ছে তার থেকে অনেক বেশি সাফার করবো এবার এই ইন্টেরিম সরকারের আমলে।

তাহলে এই পরিবর্তিত পরিস্থিতিতে আমাদের মতো সাধারন মানুষের কি করনিয়?

কোথাও কোনো নতুন ইনভেস্টমেন্ট থেকে বিরত থাকা।

যদি টাকা থাকে তাহলে সব ব্যাংকে রেখে দেয়া এবং সেই টাকা থেকে যা লাভ পাওয়া যায় সেটাই আয় বলে ধরে নেয়া।

যদি কৃষিজ (যেমন মাছ, ধান চাষ, বাগান করা ইত্যাদি) তেমন থাকে সেটা চালিয়ে নেয়া।

নিজে যে কোন মন্তব্য থেকে বিরত থাকা কারন সিচুয়েশন কোনদিকে যায় এটা এখনই বুঝার কোনো উপায় নাই।

ফেসবুক, সোস্যাল মিডিয়ায় কোনোরুপ লেখালেখি থেকে বিরত থাকা।

কারো সাথেই কোনোরূপ রাজনৈতিক বা বর্তমান সিচুয়েশন নিয়ে আলাপ না করা।

আমরা আসলে একটা গ্রিহযুদ্ধের দিকে আগাচ্ছি বলে আমার ধারনা। আমার এ কথার ব্যাখ্যা কি?

চীন আমাদের বন্ধু এক সময় ছিলো বটে কিন্তু হাসিনার ভারত প্রেম চীনকে আমাদের থেকে অনেক দূরে সরিয়ে নিয়েছে।

আমেরিকার একান্ত আপনজন ইউনুস বর্তমানে এদেশের শাসনভার তুলে নেয়া চীন এবং ভারত কোনোভাবেই আমাদের পাশে তো থাকবেই না বরং এখানে একটা অস্থিতিশীল পরিস্থিতি তইরিতে সাহাজ্য করবে।

মায়ানমারে জনরোষ চলছে, কে জানে এই মায়ানমার রোহিংগা ইস্যুতে যদি মারমুখী হয়ে দেশের ভিতরে আক্রমন করে আবার ৭-সিস্টারকে রক্ষার জন্য ভারতও এক নাগাড়ে সেটাই করে, আমাদের ছোট এই সেনাবাহিনির পক্ষে ভিতরের আন্দোলন ঠেকাবে নাকি বহির্বিশহের আক্রমন ঠেকাবে?

সব ধরনের জালানি, আমদানি, রপ্তানি এবং খাদ্যদ্রব্য যদি ঘাটতিতে পড়ে তাহলে আরো খারাপ অবস্থার দিকে ধাবিত হবে দেশে। তখন নিসচিতভাবে একটা গ্রিহযুদ্ধের শুরু ছাড়া আর কিছুই আশা করা যাচ্ছে না।

১৬/৮/২০২৪-সমস্যার পাহাড়-বাংলাদেশ

(ক)    পিক এন্ড চুজ নাকি প্রাইওরিটি ভিত্তিক নির্বাচন করছেন দেশের সমস্যাগুলি।

(খ)     তত্তাবধায়ক সরকারের সবচেয়ে বড় কঠিন কাজটা হচ্ছে, যারা এই সরকারের সাথে জড়িত তাদের মধ্যেই একটা বন্ডেজ তৈরী করা কারন তারা একেকজন একেক জায়গা থেকে জড়ো হয়েছেন। ফলে একটা এডাপ্টিবিলিটির সময় দরকার, আন্দারস্ট্যান্ডিঙ্গের জন্য সময় দরকার। কিন্তু বাংলাদেশে যে গন অভ্যুত্থানটা হলো এর পরে সাধারন জনগন সাধারনত তাদেরকে দীর্ঘ সময় দিতে চান না। তারা চান রাতারাতি সব কিছু ঠিক হয়ে যাবে এবং করতে হবে। এটা একটা আবেগী জায়গা।

(গ)     আমাদের দেশে পুরাতন রিজিমের মাধ্যমে ব্যাংক খাত, বিচার বিভাগ, শিক্ষা বিভাগ, সিভিল এডমিনিস্ট্রেশন, নিরাপত্তা বিভাগ, নির্বাচন কমিশন, পররাষ্ট্র নীতি সব প্রতিষ্ঠানকে একেবারে প্রায় ধংশ করে দেয়া হয়েছে। এই মুহুর্তে ইন্টেরিম সরকারের সময় সিভিল এডমিনিস্ট্রেশন গুলি ১০ থেকে ২০% কাজে মননিবেশন করছে। বাকি ৮০ থেকে ৯০% কাজই তারা ঠিক মতো করছে কিনা সন্দেহ।

(ঘ)     কমিউনিটি পুলিশিং বা ট্র্যাডিশনল পুলিশিং স্বাভাবিক পর্যায়ে ফিরিয়ে আনতে আরো বছর খানেক সময় লাগবে বলে আমার ধারনা। কারন এই মুহুর্তে ছাত্ররা সেনাবাহিনি সবাই মিলে পুলিশকে আগের কনফিডেন্স লেবেলে ফিরিয়ে আনতে সাহজ্য করলেও এটায় একটা বিশাল ক্ষতের সৃষ্টি হয়েছে। ফলে এতো দীর্ঘ সময়ে আইন শৃঙ্খলা পরিবেশ স্বাভাবিক হইতে হইতে মানুশ অ ধইর্য হয়ে যাবার সম্ভাবনা।

(চ)     ছাত্ররা ট্রাফিকিং, হাসপাতালের ক্লিনলিনেস, হোটেল রেশটুরেন্ট গুলিতে অকাম হচ্ছে কিনা যেভাবে চেক করছে। এই সিস্টেমগুলি মানুষ খুব একটা সহ্য করবে কিনা জানি না।

(ছ)     নতুন সরকার রাজনীতিতে খুবই অনভিজ্ঞ, তাদের হয়তো অনেক অভিজ্ঞতা আছে প্রাইভেট সেক্টরে, তারা হয়তো অনেক জ্ঞানিগুনি জন সেসব সেক্তরে। কিন্তু তারা যে চেয়ারগুলিতে বসে আছেন, সেতা একেবারেই রাজনীতির চেয়ার। এখানে জনগনের চাহিদা আর চেয়ারের সক্ষমতার ব্যালেন্সের ব্যাপার। পলিটিক্যাল অফিস বা চেয়ারের বসে যদি পলিটিক্যাল ম্যাচিউরিটি না থাকে তাহলে এটা হ্যান্ডেল করা সম্ভব না। এই চেয়ারগুলিতে কাউকে চা খাইয়ে, কাউকে কিছু ভালো কথা বলে আসলে যাকে যেটা দিয়ে বুঝ দিয়ে ম্যানেজ করা।

(জ)    শ্রেনি চরিত্র ঠিক করা। মানে বর্তমান ইন্টেরিক সরকার কি সাংবিধানিক চরিত্রের মাধ্যমে আবির্ভুত হয়েছে নাকি গন অভ্যুত্থানের মাধ্যমে বানান হয়েছে এটা এখনো ক্লিয়ার না। যদি সাংবিধানের মাধ্যমে হয়ে থাকে তাহলে একটাও এখন পর্যন্ত প্রতিফলিত হয়নি। যেমন, ১৫ আগষ্ট সাংবিধানিকভাবেই শোক দিবসের কথা লিপিবদ্ধ আছে, এটা একটা এক্সিকিউটিভ আদেশের মাধ্যমে বাদ করা যায় কিনা সেতা এক সময় প্রশ্নবিদ্ধ হবে।

(ঝ)     এখন সামাজিক অস্থিরতা চলছে। মানুষ তারাহুড়া করছে। যেমন এখন বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর আহসান এইচ মনসুর যিনি বেসিক্যালি একজন রিচার্চার এবং একটা ব্যাংক পরিচালনার মত কন অভিজ্ঞতা তার নাই। অতঃপর ডেপুটি গভর্নর গুইও পদিত্যাগ করে এক্সিকিউটিভ অফিসার দ্বারা পুরন করা হয়েছে। বেসিক্যালি ডেপুটি গভর্নররাই বাংলাদেশ ব্যাংক চালায়। তাদের অভিজ্ঞতা অনেক। এখন ব্যাংক খাতে যে অনিশ্চয়তা চলছে বিশেষ করে ৮/১০ টা ব্যাংকে, যদি কোনো কারনে এই ব্যাংক গুলি দেউলিয়া হয়ে যায়, তাহলে বর্তমান ইন্টেরিম সরকারের পক্ষে এমন ঘটনা সামাল দেয়া সম্ভব হবে না। অথচ এই ব্যাংক গুলিতে হাজার হাজার কোটি টাকা জনগনের এবং ঋণ রয়েছে।

(ট) D: ইউনুস যদি এই মুহুর্তে আই এম এফ, এডিবি, জাইকা ইত্যাদির কাছ থেকে ৮০/৯০ বিলিয়ন ডলার রিজার্ভ আনতে না পারেন, তাহলে বাংলাদেশের অনেক কিছুই করা সম্ভব না। সফট লোনের মাধ্যমে না আনা যায় তাহলে অর্থনিতি কলাপ্স করবে। কিন্তু ইউনুস সাহেব এখনো সেটা শুরুই করতে পারেন নাই। মানুষের এক্সপেক্টেশন যদিঅতি দ্রুত করতে না পারেন, তাহলে এই ইন্টেরিম সরকারের উপর একটা বিরুপ ধারনা পড়তে বাধ্য।

(ঠ)     আমলাতন্ত্র যদি ভাল হয়, সরকার প্রধান দুর্বল হলেও দেশ ভাল চলবে। স্ট্রং আমলাতন্ত্র থাকতে হবে যা এখন প্রায় নাই বললেই চলে। এই সরকার কিন্তু কোনো আর্লি হোম ওয়ার্ক করে আনা হয় নাই। ফলে সরকারকে হয়তো মানুষ কিছুটা গ্রেস পিরিয়ড দিবে কিন্তু সেই গ্রেস সময়টা অনেক লম্বা হলে মানুষ সহ্য হারাবে।

(ড)     এখন হয়তো একটা ন্যাশনাল সরকার করা যেতে পারে পলিতিক্যাল পার্টি নিয়ে যাদের পলিটিক্যাল মানুষ আছে।

১২/৮/২০২৪-আমি এখন রীতিমত ভয় পাচ্ছি

আমি এখন রীতিমত ভয় পাচ্ছি আগামীদিন গুলিকে নিয়ে। কেনো আমি ভয় পাচ্ছি?

একটা ভূমিকম্পের পর আরো একটা ভূমিকম্প নাকি হবার সম্ভাবনা থাকে। একটা বিপ্লবের পরেও আরো অনেক প্রকারের প্রতি-বিপ্লব ঘটে যায়। সেই প্রতিবিপ্লবের কি নমুনা সেটা বিপ্লব থেকে বিপ্লবে তফাত হয়। এবারের বিপ্লবটা হবার দরকার ছিলো, মানুষের বাকস্বাধীনতা, ভোটাধীকার, ন্যয্য বিচারের আকাল, আইনী শাসনের ক্ষরা, নির্যাতন, নিপীড়ন, বৈষম্যমুলক, পক্ষপাতিত্ব, ব্যবসা বানিজ্যে নৈরাজ্য, আমলাতন্ত্রের কষাঘাতে যে কাজগুলি সহজেই করা যেতো খুব সহজে সেগুলি মানুষকে করতে হয়েছে অনেক ঘুষ বানিজ্য আর তদবীরের মাধ্যমে। যার টাকা ছিলো সে সহজেই পার পেয়ে গেছে, আর যাদের টাকা নাই, তারা মেনে নেয়া ছাড়া কোন গতিই ছিলো না। কোথায় অনিয়ম ছিলো না? সব জায়গায় অনিয়ম, পুলিশ ডিপার্ট্মেন্ট, আমলাদের অফিস, এমনকি, যে অফিসটা অনিয়ম ধরার কথা –“দুদক” সেটাও আর ন্যায় করা শিখলো না। মানুশের দম প্রায় বন্ধই হয়ে গিয়েছিলো। এমন একটা পরিস্থিতি থেকে মানুষের পরিত্রান পাওয়া কল্পনার অতীত ছিলো বলেই মানুষ ধীরে ধীরে এমন একটা দাসত্বে অভ্যস্থ হয়ে পড়ছিলো যে, মেনে না নিলেও মানিয়ে চলার অভ্যাস করতে হয়েছে। তরুন সমাজের এই সাহসিক পদক্ষেপে শেষ পর্যন্ত মানুষ যেনো হাফ ছেড়ে বাচলো। বাচলো কিনা আমি এখনই সাহস করে কনফিডেন্সের সাথে বলতে পারবো না। কারন রাষ্ট্রকে পুরুপুরি সংস্কার দরকার এখন।

কিন্তু আমার যে জায়গায়টায় এখন ভয় করছে তা হচ্ছে-একটা গোটা রাষ্ট্র কি ওভারনাইট রিফর্ম করা সম্ভব? এটা কি এমন যে, গোটা হাজার কিছু লোক পালটে দিয়ে একেবারে সাদা সিস্টেমে আসা যায়? একটা দেশ যেখানে যুগের পর যুগ আপাদমস্তক দূর্নিতি, বেয়াইনি কার্যকলাপ এবং বৈষম্যমুলক সিস্টেমে অভ্যস্থ, সেখানে কি আসলেই হাজার হাজার মানুষ পরিবর্তন করে একটা দেশকে সংস্কার করা ওভারনাইট সম্ভব? আমার কাছে এটা সম্ভবপর মনে হয় না। রিফর্মেশনের জন্য একটা বিস্তর সময়ের দরকার। বলসেভিক রিভ্যলিউশন, ইরান অভ্যত্থান, এমন কি দক্ষিন আফ্রিকার কমলা অভ্যুত্থানও সে কথা বলে যে, রিফর্মেশনের জন্য বিস্তর সময় দরকার। এখন যেহেতু ভূরাজনৈতিক আচরন একেবারেই ভিন্ন, ফলে এখন রিফর্মেশন আরো কঠিন ব্যাপার।

বর্তমানে এদেশে জনগোষ্ঠি আছে প্রায় ১৭ কোটি প্লাস। গত ১৫/২০ বছর আগে জে মানুষটার বয়স ছিলো ১০ কিংবা ১২, তার এখন বয়স ২৫ থেকে ২৭। এই জনগোষ্টীটাই কিন্তু এখন রাজনৈতিক দলগুলির মধ্যে, প্রশাসনে, বিচার বিভাগে কিংবা অন্যান্য স্তরে মুল উদিয়মান শক্তি। এই বিশাল জনগোষ্টী যাদের অধীনে যেই স্তরেই হোক কর্মরত ছিলো তারা কনো না কোন ভাবে কম হোক আর বেশি সুবিধাভোগীতেই ছিলো। ঢালাওভাবে বলছি না জে সবাই লিপ্ত ছিল কিন্তু নিজে কিছু লিপ্ত না থাকলেও হয়তো বঞ্চিত ছিলো। তারমধ্যে রাগ ছিলো হয় সিস্টেমের কারনে অথবা নিজে কিছু করতে না পারার সুযোগে। আমি সেনাবাহিনীর চাকুরী সেচ্ছায় ত্যাগ করে ব্যবসা করছি প্রায় ২০ বছরের অধিক সময়। আমি আজ কোথাও দেখি নাই আমার কোনো ন্যায্য কাজ করতে কাউকে কম আর বেশী খুশি না করতে। কেউ হয়তো ঘুষ নিতো না এটা অন্যায় হবে বলে কিন্তু গিফট নিতে অসুবিধা ছিলো না। এভাবেই তো চলে এসছিলো সমস্ত সিস্টেমটা। তাদের বাড়িতে তাদের ইনকামের বেশী খরচ যোগাতে হতো এবং সেটা কোথা থেকে আসতো? তখন তাদের পরিবারের মানুষেরাও কিন্তু কখনো প্রশ্ন করতো না। এর মানে পরিবারের মুটামুটি সবাই দুর্নীতির মেন্টালিটিতেই বড় হয়েছেন। যারা একেবারেই সাদা ছিলেন, তাদের সংখ্যাটা নিতান্তই কম অথবা তারা হয়তো পূর্বে থেকেই সল্ভেন্ট। আজকে যারা দৃশ্যমান কালো টাকার পাহাড়ের মালিক, এদের বাইরেও প্রায় বেশিরভাগ জনগোষ্টি কালো মনের মালিক। একটা সি এন জি ওয়ালাও বাগে পেলে বেশি দাম হাকিয়ে বেশি রোজগার করে নিতো, একটা শব্জীওয়ালাও পারলে ক্যামিকেল দিয়ে মানুষকে ঠকাতো, একজন মুরগীওয়ালাও মরা মুরগী খাওয়াতে কোনো দ্বিধা করতো না। ফলে উপরের থেকে গোটা লাখ খানেক করাপ্টেড মানুষকে ছাটাই করে যাদেরকে আবার এই টপ লেবেলে আনবেন, তারাও ত সঠিকভাবে বেড়ে উঠেন নাই। তারা হয়তো সুযোগটা কম পেয়েছেন বলে সবার চোখে পড়েন নাই। ফলে গোটা সিস্টেমটাকে রিফর্ম করতে প্রয়োজন একটা ফ্রেস জাতী। হ্যা, কিছু কঠিন আইনের মাধ্যমে আর মনিটরিং এর মাধ্যমে এই দূর্নীতিটা হয়তো কমানো সম্ভব কিন্তু তারপরেও এটা চলতেই থাকবে। এখন যেমন দুর্নীতি, ঘুষ বানিজ্য প্রকাশ্যে করলেও কেউ লজ্জা পায় না বরং এটা যেনো “অন্য আয়” বলে চালান যায়, এখন হয়তো সেটা গোপনে হবে। তাই আমি শতভাগ আশাবাদি নই।

এবার আসি অন্য আরেকটি প্রসংগে;

গত ১৫/২০ বছর ধরে এ দেশে যতো বড় বড় প্রকল্প হয়েছে, যারা বড় বড় গ্রুপের মালিক ছিলেন, যারা দেশের চলমান চাহিদা যোগানে একটা সিস্টেমে জড়িত ছিলেন, তারা প্রায় সবাই আওয়ামিলিগের আমলে। হয় তারা সরাসরি আওয়ামীলিগের সাথে রাজনীতি করতেন আর না করলেও তারা কোনো না কোনো ভাবে আওয়ামিপন্থী ছিলেন। তারা দেশের এই চলমান নিত্য প্রয়োজনীয় জিনিষপত্র আয়োজনে ক্ষমতাসীন দলের ছত্রছায়ায় দূর্নিতি করেছেন বটে অথবা নিত্য প্রয়োজনীয় কমোডিটি বেশী দরে সরবরাহ করেছেন বটে কিন্তু একটা চলমান চেইন সিস্টেম গড়ে তুলতে পেরেছেন বা ব্যাপারটা বুঝেন। তারা তাদের সংস্থার মাধ্যমে অতিরিক্ত মুনাফা করেছেন আবার একই সাথে প্রাইভেট সেক্টরে তাদের সংস্থার ইনভেস্টমেন্ট যা করেছেন তা কিন্তু খুব চালাকি করে তাদের নিজস্ব ইনভেস্টমেন্ট ইতিমধ্যে তুলেও নিয়েছেন। যেটুকু ইনভেস্টমেন্ট এখন আছে এসব প্রকল্পে বা সংস্থায়, তা আসলে ব্যাংক ঋণ বা বৈদেশিক ঋণ যা জনগনের বা দেশের বোঝা। ইনভেস্টরদের কোনো ইনভেস্টমেন্ট সত্যিকার অর্থে নাই আর। ফলে তাদের এসব মেঘা প্রকল্প, কোম্পানি কিংবা সংস্থা চলমান থাকলেই বা কি আর পুড়ে নষ্ট হলেই বা কি, তাদের কিছুই যায় আসেনা। তারা ক্ষতিগ্রস্থ নন।

ধরুন, এই প্রকল্পগুলি আর চলমান থাকলো না, ঔষধ কোম্পানী, পেট্রোলিয়াম জাতিয় দ্রব্যাদি আমদানি, নির্মান সামগ্রী তৈরীর কোম্পানী হোক সেটা সিমেন্ট, হোক সেটা টাইলস কিংবা অন্যান্য, কিংবা ভোজ্য তেল ইত্যাদি আর এসব আমদানিকারক কোম্পানিগুলি এলসি করে কোনো দ্রব্যাদি আমদানির জন্য কোনো পদক্ষেপ নিবেন না। ফলে বর্তমানে যে স্টক আছে সেটা দিয়ে হয়তো বেশ কিছুদিন চলা কোন ব্যাপার না। কিন্তু একটা সময়ে তো এর ঘাটতি দেখা দিবেই যদি পাইপ লাইনে তাদের পুনরায় এসব কমোডিটি না আনার পদক্ষেপ নেয়া হয়। সরকার কখনো ডাইরেক্ট কোনো কমোডিটি আমদানী করেন না বা রফতানী করেন না। সরকার এসব আমদানি রফতানী কারো না কারো মাধ্যমেই পরিচালনা করে। ফলে বর্তমানে দূর্নিতিবাজ এই সব মালিকের দ্বারা পরিচালিত কোম্পানিগুলির মাধ্যমে যখন একযুগে সব পাইপ লাইনের আমদানি রফতানি বন্দ হয়ে যাবে তখন হটাত করে এর ঘাটতি বাজারে দেখা যাবে। আবার এর নতুন প্রতিস্থাপক কোম্পানি পাওয়া এতো অল্প সময়ে কিছুতেই সম্ভব না। ফলে দ্রুতই একটা সমস্যার উদ্ভব হবে বা হতে পারে। এর কারনে প্রত্যাহিক জীবনে একটা বিরূপ প্রভাব তো আশংকা করাই যায়। ঘরে টাকা আছে কিন্তু বাজারে কমোডিটি সরবরাহ কম, একটা প্রতিযোগিতা চলবে কে কখন নিত্য প্রয়োজনীয় মালামাল মজুত করে নিজের পরিবারকে সুরক্ষিত করবেন। নেগেটিভ একটা প্রভাব পড়তেই পারে। 

আমাদের পার্শবর্তী দেশ ইন্ডিয়া এখন আর আগের মতো আমাদেরকে সবকিছুতেই প্রয়োজনীয় রফতানি করবে কিনা সেটা ভাবার বিষয়। আবার নতুন কোন দেশ থেকে একই প্রডাক্ট আমদানি করতে বা নতুন সাপ্লাই চেইন তৈরীতে যে সময়টা ব্যয় হবে সেটাও একটা ব্যাপার। সেখানে আমদানিকারকের সিআইবি, দেশের অর্থনীতির সক্ষমতা, ব্যক্তি ইমেজ অনেক কিছুই নির্ভর করে। কিন্তু এর মানে এই না যে, এটা সম্ভব না। সম্ভব তবে সময়টা বেশি লাগবে। এই জে সময় বেশী লাগবে, এই গ্যাপেই দেশে একটা উত্তাল পরিস্থিতি হবার সম্ভাবনা থাকবে।

এই যে একটা টাইম গ্যাপ, এতে স্বাভাবিক জীবনযাত্রার মানে বেশ কঠিন পরিস্থিতির উদ্ভব হবার সম্ভাবনা। তাতে আবার সাধারন মানুষের মৌলিক চাহিদার অভাবের কারনে সাধারন জনগন হয়তো ফুসে উঠতে পারে। সেটাও একটা প্রতি-বিপ্লবের মতো। অর্থাৎ অর্থনৈতিক বিপ্লব।

আরেকটা ভয় হয় যে, আমাদের বর্তমান ইন্টেরিম সরকারের মধ্যে এখনো নিজেদের মধ্যেই পারষ্পরিক বন্ডেজ তৈরী হয়নি। সবাই বেশীমাত্রায় সতর্ক। কেউ রিস্ক নিয়ে কাজ করবেন না। ফলে পুর্বে কিভাবে কাজ করা হত এই সাজেশন যখন আমলাদের কাছ থেকে নিতে চাইবেন,  কিন্তা তারা এখন নিজেদের থেকে উপজাজক হয়ে কোনো বুদ্ধি ছাড় করবেন না কিনা সন্দেহ।  ফলে উপজাজক হয়ে তারা বাড়তি কোন পদক্ষেপ নিতে যাবেন না। এতে কাজের গতি অনেক ধীর হবে।

নতুন সরকার রাজনীতিতে খুবই অনভিজ্ঞ, তাদের হয়তো অনেক অভিজ্ঞতা আছে প্রাইভেট সেক্টরে, তারা হয়তো অনেক জ্ঞানিগুনিজন সেসব সেক্টরে। কিন্তু তারা (বর্তমান উপদেষ্টারা) যে চেয়ারগুলিতে বসে আছেন, সেটা একেবারেই রাজনৈতিক চেয়ার। এখানে জনগনের চাহিদার সাথে চেয়ারের সক্ষমতার ব্যালেন্সের একটা ব্যাপার। পলিটিক্যাল অফিস বা চেয়ারের বসে যদি পলিটিক্যাল ম্যাচিউরিটি, ব্যাকগ্রাউন্ড না থাকে তাহলে এটা হ্যান্ডেল করা সম্ভব না বা খুবই কঠিন। এই চেয়ারগুলিতে কাউকে চা খাইয়ে, কাউকে কিছু ভালো কথা বলে আসলে যাকে যেটা দিয়ে বুঝ দিয়ে ম্যানেজ করার ব্যাপার। অনেক অপ্রতুল রিসোর্স বিশাল জন গোষ্টীর মধ্যে ম্যানেজ করাই অনেক সময় রাজনীতিবিদরা সহজে ম্যানেজ করতে পারেন যা ব্যুরুক্রেটরা করতে পারেন না।

ফলে একটা অসস্থিতে ভোগছি। একদিকে দ্রুত সংস্কার দরকার, অন্যদিকে সবকিছু ব্যালেন্স দরকার। সংস্কার করতে অনেক সময় দরকার কারন সব সেক্টরেই ড্রাস্টিক সংস্কার এতো বেশী দরকার যে ইচ্ছে করলেই ওভারনাইট সম্ভব না, আবার বেশি সময় নিলেও অসুবিধা, জনগন মানতে চাইলেই হয়।

এটা আমার নিতান্তই নিজস্ব মন্তব্য।

(মেজর মোহাম্মাদ আখতার হোসেন অবঃ)

মিরপুর,

এটা ফেসবুকে আমি পোষ্ট করেছিলাম। তার ঠিক একদিন পরেই ফেসবুক আমার এই পোষ্টটা রিমুভ করে দেয়।

০২/০৮/২০২৪-বর্তমান প্রজন্মকে না বুঝবার প্রশাসন

বর্তমান প্রজন্মের জন্ম যদি ২০০০ সালের আগে পিছে হয়, তারমানে এই প্রজন্ম ১৯৫২ দেখে নাই, ১৯৬৯ দেখে নাই, ১৯৭১ দেখে নাই, ১৯৯০ দেখে নাই। ওরা যা দেখেছে, শুনেছে সব এই বর্তমান সরকারের মুখ থেকে, এই সরকারের দেয়া বক্তব্য থেকে। তাহলে এই প্রজন্মের তো পুরুটাই আওয়ামীলীগ ঘেষা হবার কথা। তারা তো একেবারে অন্ধ সাপোর্টার হবার কথা এই সরকারের। অথচ আমরা এই ২০২৪ সালে এসে দেখছি এরা প্রায় শতভাগ এই প্রশাসনের বিরুদ্ধে কথা বলছে।

কেন?

তাহলে কি এই প্রশ্নটা করা যায় না যে, গুরু যা বলছেন, শিষ্য তা বুঝলেও কিছুই মেনে নেয় নি। বুঝতে পারা আর মানতে পারা কিন্তু এক জিনিষ নয়।

এই প্রজন্ম দৈনিক পেপার পড়ে না, ওরা টিভি দেখে না, ওদের হাতে সময় নাই, খুব সল্প দৈর্ঘ কোনো রিল না হলে ওরা মুভিও দেখে না। যদিও দেখে, ওরা ৩ ঘন্টার মুভি টেনে টেনে ২০ মিনিটে দেখে শেষ করে দেয়। ওরা শুধু ক্রাক্স নেয়, মুল থিমটা নেয়। কিন্তু ওরা এতো বেশী কানেক্টেড একে অপরের সাথে যা আমাদের আমলে ছিলোই না। আমরা যে কাজটা করতাম ১ মাসে, সেটা ওরা করে এক দিনে। ওদের সাথে হাটতে পারার স্পীড আমাদের নাই। আমরা কোথাও গেলে ব্যাগ ভর্তি কাপড়, সরঞ্জাম নিয়েও ভাবি, আর কিছু লাগবে না তো? কিন্তু ওরা কাধে একটা ছোট ব্যাগ নিয়ে মাসের পর মাস দিব্যি সারা দুনিয়া ঘুরে আসে।

যাদেরকে রাজাকার বলে উল্লেখ করা হল, তারাই সেই মুক্তিযুদ্ধের গান, দেশের পতাকা, সে মুক্তিযুদ্ধের হিরোদের নাম নিয়ে রাস্তায় নেমেছে। এরা কারা? রাজাকার? ওরা রাজাকার দেখে নাই। কিন্তু এই আওয়ামিলীগই ওদেরকে ‘রাজাকার’ শব্দতা একটা অপমানজনক গালি হিসাবে শিখিয়েছে। আর এদেরকে সেই রাজাকার বলে উল্লেখ করা হলো?

দেশের ভাবমূর্তি নষত হচ্ছে বাচ্চাদের এই আন্দলনের মাধ্যমে। কথাতা একেবারেই ঠিক নয়। বরং সরকারের ভাবমুর্তি নষত হয়েছে। দেশের ভাবমুর্তি আর সরকারের ভাবমুর্তি কিন্তু এক নয়।

হাসিনার সবচেয়ে বেশী ভাবমুর্তি নষ্ট হয়েছে সবচেয়ে বেশি। আগে মানুষ ভাবতো, কোনো সমস্যা হয়তো শেখ হাসিনাকে ভালমতো তার পরিশদ ঠিকমতো বুঝাতে পারেনি কিংবা তিনি হয়তো ব্যাপারটা জানেন না। কিন্তু এই আন্দোলনে একটা ব্যাপার সবচেয়ে বেশী স্পষ্ট করেছে যে, হাসিনা জানে, কিন্তু তার আদেশ ছাড়া কিছুই হয় না। এবার হাসিনা আর দেশ মুখুমুখি হয়ে গেছেন। 

মুক্তিযুদ্ধের পর্ব শেষ। ইউরোপের দিকে তাকান, দেখবেন ওখানে ২৮/৩০ বছরের যুবকরা প্রধান্মন্ত্রী হচ্ছে অথচ আমাদের এখানে ৭০/৮০ বছর বয়সেও ক্ষমতা ধরে রাখতে চায়। আমরা এখন কালপর্ব পার করছি। এর পরের পর্ব হচ্ছে ‘উত্তর পর্ব’। কালপর্ব থেকে উত্তরপর্বে যেতে অনেক রক্তক্ষয় হয়। আর আমরা ঠিক সেখানেই দাঁড়িয়ে এখন।

বাংলাদেশকে বুঝতে হলে এর ইতিহাস বুঝতে হবে, বাংলাদেশকে বুঝতে হলে এর ভউগলিক পরিবেশ বুঝতে হবে। কিন্তু আমাদের শাশক গোষ্ঠী এটা তো বুঝতেই পারে না বরং তারা অহমিকায় রয়েছে, আপোষের কথা বলে না, মতামত শুনতে চায় না, ভিন্ন মতামত টলারেট করে না। ফলে সবচেয়ে বড় ভিক্টিম হলো এখন আওয়ামীলীগ। এই দল এখন ‘ভুয়া”র তকমা পেয়েছে। এই নতুন প্রজন্মকে জায়গা করে দিতে হবে। এখন ভয় নামকটা চলে গেছে। সবাই এখন কথা বলছে, সবাই ধর্মীয় উগ্রবাদ আর নাই। জংগীবাদের তকমায় আর কোন সমাধান চলবে না। এ দেশের মানুষের মধ্যে অনেক ক্ষোভ, কথা না বলতে পারার অভিযোগ, রাষত্রের প্রতিষ্ঠান জনতার পক্ষে না দাঁড়ানো এগুলি সরকারকে শেষ করে দিয়েছে।

এবার তরুন সমাজের সাথে সবচেয়ে বেশি যোগ হয়েছে তরুনীরা। মহিলারা। ওরা যেভাবে আর্মির বিরুদ্ধে, পুলিশের বিরুদ্ধে দাঁড়িয়ে গেছে তা চোখে পড়ার মত। এখন সরকার সেই আগের অস্ত্র দিয়ে আর কন সমাধান হবে না।

যখন জনগনবিহীন কোন নির্বাচন হয় তখন অন্য অনেক কিছুই আর সংস্কার করা যায় না। অর্ত্নীতি সংস্কার, ব্যাংকিং সংস্কার, বিনিয়োগ সংস্কার, ট্যাক্স আহরনের সংস্কার কোনো সেক্তরেই পদক্ষেপ নেয়া সম্ভব না কারন কিছু মুষ্টিমেয় প্রশাসন নিয়ে যখন নির্বাচনে আসে কেউ, তখন গন মানুষের কাছে যাওয়া যায় না।

বাচ্চারা শুধু শিক্ষার কোটা নিয়ে আসে নাই। তারা জীবনের কোটা নিয়ে নেমেছে। আজকাল ৮০ হাজার টাকা দিয়েও সংসার চলে না।

৩১/০৭/২০২৪-এখন দরকার সেনাবাহিনীর সরকার

এখন দরকার

সেনাবাহিনীর সরকার

আজকে এই স্লোগানটা আমাকে একেবারেই কনফিউজড করে ফেল্লো। কিন্তু আমি খুব গভীরভাবে ভিডিওটা আবার দেখলাম। কিছু সেনাবাহিনী গোটা অনেক ছাত্রদেরকে বাধা দিচ্ছে যাতে কোন আন্দোলন না করে। ছাত্ররা উত্তেজিত, কিন্তু সেনাবাহিনি না তাদের গুলি করতে পারছে না আন্দোলনকে থামাতে পারছে। তারা বেশ ভদ্র এবং ভালো ব্যবহার করে ছাত্রদেরকে বুঝিতে একটু শান্ত হবার চেষ্টা করাচ্ছে। ঠিক সেই সময়েই একটা স্লোগান এলো

এখন দরকার

সেনাবাহিনীর সরকার

কি অদ্ভুত ব্যাপারটা!

আদ্ভুত না।

কারন কোনোভাবে যদি সেনাবাহিনী, বিজিবি, পুলিশ আর একটা গুলিও না করে, যদি এরা এদের আন্দোলনকে আর বাধা না দেয়, এই সরকারের আর কোন বিকল্প নাই। হতে পারে এটা বড় আরেকতা গেম প্ল্যান। হতে পারে সেনাবাহিনীকে নিজেদের আস্থায় নেয়া।

তখন মনে হলো- এখানে কি শুধু ছাত্ররাই তাদের মাথা খাটিয়ে গেম খেলছে? নাকি কেউ আছে এদের পিছনে যারা গাইড করছে?

ইয়েস, কেউ তো গাইড করছে। সরকারকে গাইড করছে ডিবির হারুন, ১৪ দলের কিছু ব্যাক ডেটেড রাহ্নীতিবিদ, আর সরকারের মন্ত্রীরা তো একেবারেই নস্যি এসব জেনারেশনের কাছে। সরকারকে গাইড করার জন্য কোনো পাকা বুদ্ধিদাতাও নাই। এমন কি আওয়ামিলীগের যারা পুরানো ছাত্র নেতা তারাও কিন্তু সরকারকে এখন মনে হচ্ছে গাইড করছে না। অন্যদিকে, ছাত্রদেরকে গাইড করার জন্য সারা দেশের আইনজীবি, ব্যবসায়ী, টিচার, অভিভাবক যেনো উঠে পড়ে লেগেছে।

পারবে কি ওয়াকার? পারবে কি ডিবির হারুন? পারবে কি ওবায়দুল কাদের? কিংবা আইন মন্ত্রী, স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী কিংবা তথ্য মন্ত্রীরা? পারবে না।

ব্যাপারটা দেখছি খুব কাছ থেকে।

30/7/2024-সরকার ইতিমধ্যে অনেক গুলি ভুল করে ফেলেছে।

সরকার ইতিমধ্যে অনেক গুলি ভুল করে ফেলেছে। কেনো জানি বারবার আমার কাছে মনে হচ্ছে, সরকারের আর পিছু হটার কোনো জায়গায়ই নাই। তার এখন শুধু সামনের দিকে এগুবার পথ খোলা আর সবচেয়ে বড় ব্যাপার হচ্ছে-সরকারের সামনে এখন সারাটা দেশ খড়গ হাতে নিয়ে তাকে কুপিয়ে মারার যন্ত্র। পতন তো অনিবার্য কিন্তু পতনের সাথে জিবনটাও শেষের পথে।

ডিবি হারুনকে দিয়ে সমন্নয়কদের তুলে নিয়ে জর করে নরাপত্তার দোহাই দিয়ে একতা ভিদিও বার্তায় সব কিছু মেনে নিয়ে আন্দোলন প্রত্যাহার করা হয়েছে এই সংবাদে সরকার খুশী হলেও বাংলাদেশের মানুষ নাটকটা বুঝতে এক সেকেন্ড সময় লাগেনি। সাধারন জনগন যতটা তারাতাড়ি বুঝতে পেরেছে তার থেকে অনেক বেশী এই যুগের জেন জেনারেশন ব্যাপারটা বুঝতে পেরেছে ক্ষনিকের মধ্যে। ফলে ওই ৬ সমন্নয়ক ছাড়াই ছাত্ররা পুনরায় আইন শৃঙ্খলা বাহিনির নাকের ডকায় কার্ফিউ লংঘন করে রাস্তায় নেমে পড়েছে। ডিবি হারুনের কোয়ালিফিকেশন কতটুকু যে এই যুগের ছাত্রদের মাইন্ড বুঝতে পারে? রাষ্ট্রীয় এই দূর্যোগের সময় যেটা এখন আন্তর্জাতিক পর্যায়ে চলে গেছে, এমন একটা স্পর্শকাতত ঘটনা ডিবি হারুনের উপর দিয়ে যে সমাধান করা যায় না এটাই তো সরকার বুঝতে পারে নাই।

সরকার সব কোটা আন্দোলন কয়েকদিনের মধ্যে ছাড় দিয়ে ছাত্রদেরকে সামাল দিয়ে ফেলেছেন বা ফেলবেন, এটা ভাবাও তো সরকারের সঠিক হয় নাই। এ যুগের ছাত্ররা জেড জেনারেশন। তারা খবরের কাগজ পড়ে না কিন্তু সমগ্র বিসশের খবর রাখে, এরা বাপ দাদার সম্পত্তিকে থোরাই কেয়ার করে, তারা নিজেরা সাবলম্বি হয়ে উঠছে। কারো উপর নির্ভরশিল নয় আর হতেও চায় না। অফিসের বস ভাল লাগে নাই তো পরেরদিন আই ডোন্ট কেয়ার বলে ছেড়ে চলে আসে। ১০ বছরের বন্ধুত্তকে তারা আই ফাক দি রিলেশনশিপ বলে চিরতরে একে অপরের থেকে ব্রেক আপ হয়ে যায়। এরা ৫ মিনিট একসাথে কোনো কাজ করে না। মুভি দেখে ফাষ্ট ফরোয়ার্দ করে, তাদের ২ ঘন্টা সময় নষ্ট করার সময় নাই। এই জেনারেশনের মাইন্ড বুঝা সরকারের কোন মন্ত্রী বা আমলার নাই। এরা আবেগী কিন্তু দাইরেক্ট। ফলে প্রহসমুলক একটা প্রজ্ঞাপন করেই ছাত্রদেরকে বুঝানো যাবে না। সরকার আবারো ভুল করেছে।

সরকার তার লেজুরবিত্তিক অংজ্ঞ সংঘটনকে লেলিয়ে দিয়ে যদি মনে করে তারা সব কিছু কন্ট্রোল করে ফেলবে সেটা মারাত্তক ভুল। আর সে ভুলটা ইতিমধ্যে সরকার অনুধাবন করেছে। যদি সরকার আবারো সেই সব অংগ সংঘটনকে দিয়ে কোনো প্রকার বাধার সৃষ্টি করতে চায়, তখন শুধু ছাত্র নয়, তাদের সাথে তাদের পরিবার, অভিভাবক সবাই একসাথে রাস্তায় নেমে পড়বে এতে বিন্দুমাত্র সন্দেহের অবকাশ নাই।

সরকার নিহত ছাত্রদের জন্য শোকের কথা বলে সারাদেশে শোকদিবস পালনের ঘোষনা দিয়েছে। আবারো ভুল। কারন নিহত ছাত্র গুলিকে সরকার বা সরকারের বাহিনীরাই করেছে। সেইতার বিচারের নির্দেশনা না দিয়ে শোকের বার্তা দেয়া কোনো মানুষ, ছাত্র কিংবা জনতা মানবে না। মানেও নাই। কাল ব্যাজের পরিবর্তে এখন সবাই লাল ব্যাজ ধারন করছে।

হাইকোর্ট, সুপ্রীম কোর্ট এর সিনিয়ার ল ইয়ারগন, বিশ্ববিদ্যালয়ের টিচারগন, আপামর জন সাধারন যেভাবে একের পর এক ফুলে উঠছে, এই সরকার এর কোন কিছুই সমাধান দিতে পারবে বলে মনে হয় না। নিহত ছাত্রদের অভিভাবকগনকে ডেকে পোলাও খাওয়াবেন, ক্ষতিপুরন দেবেন, এতেই কি তারা খুশি হয়ে আপনাকে মাফ করে দিবে বলে মনে করেন?

দেশে এখনো এমন পরিস্থিতি তৈরী হয়েছিলো না যে, সেনাবাহিনী নামাতে হবে। এই অল্প তুচ্ছ ঘটনাকে কেন্দ্র করেই যদি সর্বশেষ ট্রাম কার্ড ব্যবহার করে ফেলা হয়, যখন এর থেকে আরো তীব্র আন্দোলন রাস্তায় হবে, তখন কোন শক্তি প্রয়োগ করবেন? সেনাবাহিনীর চীফ সরকারের আজ্ঞাবহ মানেই কিন্তু এতা না যে, সেনাবাহিনির সবাই সেনাপ্রধানের কথায় চলবে। মাত্র গুটি কতক সেনা বা একটা ব্রিগেড যদি জনতার কাতারে নেমে যায়, সেনাবাহিনি তার বন্দুকের নল ঘুরিয়ে দিতে এক সেকেন্ড সময় লাগবে না কারন এই সেনাবাহিনী পিলখানার যন্ত্রনা ভুলে নাই, এই আর্মড ফোর্সেস একই কোর্ষ থেকে তিনজন চীফ নিয়োগে কখনোই খুশী হয় নাই। আরো অনেক কারন আছে এই সেনাবাহিনীর ক্ষোভ ঢালার। সুতরাং সেনাভিনীই একমাত্র সমাধানের উৎস হতে পারেনা। আজকের দিনের সেনাবাহিনীর ছেলেমেয়েরাও এই জেড জেনারেশনের বাচ্চা, এদের স্ত্রীরাও আগেরদিনের সেনা অফিসারদের গিন্নী থেকে অনেক তফাত। আজকের দিনের সেনা কর্মকর্তাদের মানসিক বিবেচনাও অনেক তফাত। তারা কি এটা অনুধাবন করবে না যে, তাদের বাচ্চা কাচ্চারা যখন স্কুল কলেজে যাবে, তাদের স্ত্রীরা যখন সমাজের অন্যান্য মহিলাদের সাথে মিশবে, তারা কি সেম এর আওতায় আসতে পারেনা? যদি সেটা হয়, তাহলে আরেক যুদ্ধ।

এই সরকারের সময়টা খুব ছোট হয়ে আসছে ক্রমাগত। বিরোধী দলের রাজনীতির প্রলেপ দিয়ে কোনোভাবেই জনরোষ ঠেকানো যাবে না। জামাত-শিবির নিষিদ্ধ করা যেতে পারে কিন্তু বর্তমান আন্দোলন তো জামাত-শিবির বা বি এন পি কে ঘিরে নয়!! হয়তো তারা এই আন্দোলনের ছায়ায় সরকারের কিছু নাশকতা করে সরকারকে আরো দূর্বল করার চেষ্টা করছে। ফলে জামাত-শিবির বা বি এন পিকে কাভার দিয়ে কোনো অবস্থাতেই বর্তমান আন্দোলনকে থামানো যাবে না।

আগামীকালকে জামাত-শিবিরকে নির্বাহি আদেশে নিষিদ্ধ ঘোষনা করা হবে বলে জানিয়েছে আইনমন্ত্রী। এটাও একটা ভুল সিদ্ধান্ত এই মুহুর্তে। একটা এতো বড় দলকে নিষিদ্ধ করলেই কি মানুষ গুলি আর আন্দলন করবে না? জামাতের কর্মীরা এতো বেশী ট্রেইন্ড যে, তারা দলের পরিচয় ছাড়াই তাদের সররাত্তক আন্দোলন চালিয়ে যাবে বলে আমার মনে হয়। বরং তখন তারা আরো বেশী ডেস্পারেট হবে। তাছাড়া তাদের নেটওয়ার্ক আরো বেশী স্ট্রং। এইটাও একটা ভুল সিদ্ধান্ত নিলো সরকার।

তাহলে সমাধানটা কি? সমাধান একটাই। জনগন যদি ক্ষমতার উৎস হয়ে থাকে, সেই জনগনের কাছে আবার ফিরে যাওয়া। অর্থাৎ নিরপেক্ষ নির্বাচন। আর যদি সরকার নিরপেক্ষ নির্বাচন দিতে বাধ্য হয়, তাহলে আওয়ামিলীগ এই যে এবার রাজনীতি থেকে বহিষ্কার হবে, আগামি শত বছরেও আর রাজনীতিতে ফিরে আসতে পারে কিনা সন্দেহ আছে। 

২০/৭/২০২৪-কোটা আন্দোলন এবং দেশের অবস্থা

গত কয়েকদিন যাবত ছাত্রসমাজ কোটার বিরুদ্ধে আন্দোলন করছে। কোটাটা আসলে কি? সেটা আগে দেখিঃ

বিসি এস কোটায় কোটা-

মুক্তিযোদ্ধার কোটা- ৩০%

নারী কোটায়-১০%

জেলা কোটায়-১০%

উপজাতী কোটায়-৫%

প্রতিবন্দি কোটায়-১%

মোট-৫৬%

বাকী ৪৪% কোটা সারা দেশের জন্য। যেখানে প্রায় ৮ থেকে ৯ কোটি সম্ভাব্য চাকুরীজীবির প্রত্যাশায় ছেলেরা পরীক্ষা দেয়।

১ম ও ২য় শ্রেনীর নন-ক্যাডার কোট-

মুক্তিযুদ্ধার কোটা-৩০%

নারী কোটা-১৫%

জেলা কোটা-১০%

উপজাতী কোটা-৫%

প্রতিবন্দী কোটা-১%

মোট-৬১%

বাকী ৩৯% কোটা সারা দেশের জন্য। যেখানে প্রায় ৮ থেকে ৯ কোটি সম্ভাব্য চাকুরীজীবির প্রত্যাশায় ছেলেরা পরীক্ষা দেয়।

৩য় ও ৪র্ত শ্রেনীর জব কোটায়- ৭০%

রেলওয়েতে কোটা-৮২%

প্রাথমিক শিক্ষক নিয়গে কোটা-

নারী কোটা-৬০%

মুক্তিযুদ্ধা কোটা-৩০%

পোষ্য কোটা-৫%

প্রতিবন্ধি কোটা-১%

মোট= ৯৬%

বাকী ৪% কোটা সারা দেশের জন্য। যেখানে প্রায় ৮ থেকে ৯ কোটি সম্ভাব্য চাকুরীজীবির প্রত্যাশায় ছেলেরা পরীক্ষা দেয়।

এর মানে কোটার কারনে যতো মেধাবীই আপনি হন না কেনো, আপনার ভাগ্যে চাকুরী জুটবে মাত্র কখনো ৪৪%, কখনো, ৩৯%, কখনো ৩০%, কখনো ১৮%, কখনো মাত্র ৪% এর মধ্যে।

২০১৮ সালে সরকার এই কোটার প্রথা বাতিল করেছিলো কিন্তু পরবর্তীতে আদালতের মাধ্যমে এই সরকারী প্রজ্ঞাপন বাতিল করে পুনরায় সেই আগের কোতায় ফিরে যায় যদিও আই ওয়াশ হিসাবে সরকার আদালতে আপিল করে। সেই আপিলের শুনানী আজ হয়, কাল হয় করতে করতে প্রায় ৬ বছর পার হয়ে যায়। ছাত্ররা এর মধ্যে আর কোনো প্রতিবাদ করেনি। এবার যখন শুরুতে ছাত্ররা আবারো আন্দোলন করতে থাকে তখন প্রধান মন্ত্রী সরাসরি কয়েকটা বাক্যবানে ছাত্রদের পুরু আন্দোলনটাকে অন্য খাতে ঘুরিয়ে দেয়ার চেষ্টা করেন। তার সার সংগকেপ যদি বলি সেটা এ রকমের-

(ক)    প্রধান্মন্ত্রী বললেন- কোটা মুক্তিযুদ্ধের নায় নাতকুরকে না দিয়ে কি আমরা রাজাকারের নায় নাতকুরকে দেবো? অর্থাৎ তিনি বলতে চাইলেন, যারা কোটার বিরুদ্ধে আন্দোলন করছে, তারা সবাই রাজাকারের বংশধর। ফলে ছাত্ররা এবার শ্লোগান দিল- তুমি কে আমি কে-রাজাকারা রাজাকার। কে বলেছে কে বলেছে-সইরাচার, সইরচার।

(খ)     প্রধান্মন্ত্রী আবারো বললেন- এই কোটাধারী আন্দলনকে প্রতিহত করতে আমার ছাত্রলীগই যথেষ্ঠ। অর্থাৎ তিনি তার ছাত্রলীগ, যুবলিগ এবং তাদের সাপোর্টে পুলিশ বাহিনীকে দিয়ে গোতা ছাত্র আন্দলনকে তিনি প্রতিহত করবেন। অথচ ছাত্রদের এই আন্দোলনটা ছিলো পুরুই অরাজনিতিক।

ছাত্রদের আন্দোলন যখন তীব্র থেকে তীব্র হতে শুরু করে, সারাদেশ যখন উত্তাল এবং ছাত্রলীগ, যুব্লীগ, পুলিশ, বিজিবি, সবাই যখন অপারগ এবং একটার পর একটা যখন ছাত্র মারা যেতে শুরু করল, ছাত্রদের অভিভাবক, আত্তীয়সজনরাও কিন্তু ধীরে ধীরে এই ছাত্র আন্দোলনের মধ্যে শরীক হওয়া শুরু করছিলো। মানুষ এতোটাই আস্থার জায়গা হারিয়ে ফেলছিলো যে, তাদের পূর্ন সমর্থন এই অরাজনৈতিক ছাত্র আন্দোলনের পক্ষে ছিলো।

বিএনপি কিংবা জামাত হয়তো এর মধ্যে একটা সুযোগ খোজার চেষ্টা করছিলো কিন্তু আওয়ামীলীগ কোনোভাবেই একটা সহজ রাজনৈতিক দল নয় যে, তারা কুট চালে হেরে যাবে। দেশের বিভিন্ন কেপিআই গুলি যেমন সেতু ভবন, বিটিভি, মেট্রোরেল কারাগার ভাংগা ইত্যাদি যখন একটার পর একটা ধংশ হচ্ছিলো, আমার কাছে কেনো জানি অন্য রকম একটা কুট চাল মনে হচ্ছিলো। এমন কি হতে পারে যে, এগুলি সরকারই করেছে কিন্তু ছাপটা পড়ছে অন্য দলগুলির উপর? এদেশের হাজার কোটি টাকার দূর্নীতি করে পার পেয়ে যাওয়া বেনজির, মতিউর, সালমান এফ রমনা, আকবর সোবহান, রাজস্ব বোর্ডের অফিসার, পিএসসি র কর্মকর্তাগন, পুলিশ আইনজীবি সবাই যখন বিচারের সুম্মুখীন হয় না, তখন আমার তো একটা সন্দেহ থেকেই যায় যে, সরকার দেশপ্রেমিক নয়। একদিকে ডলার সংকট, অন্যদিকে ডলার পাচারের বিরুদ্ধে কোনো পদক্ষেপ নাই। কোথায় সরকারের দূর্বলতা? ফলে আমার কাছে এই কয়েক হাজার কোটি টাকার স্থাপনা ধংশ করাও কোন ব্যাপার না। যেমনটা প্রবাদে আছে-নিজের নাক কেটে পরের যাত্রা ভংগ করা। নিজের নাক, মানে কত কষ্টের একটা ব্যাপার, সেটাও যখন কেউ কেটে এটা সফল হতে চায় যে, কারো যাত্রা ত ভংগ হোক। তাহলে এই কয়েক হাজার কোটির টাকার স্থাপনা ভাংলেই বা কি।  সরকারের এতো এতো গোয়েন্দা বিভাগ, ইন্টিলেন্স, এন এস আই, ডিজি এফ আই, পুলিশের গুপ্তচর, আরো অন্যান্য সংস্থা কারো কাছেই কি কোনো আগাম তথ্য ছিলো না যে, এতো এতো কে পি আই গুলিতে হামলা হতে পারে? এটা গ্রহনযোগ্য হতে পারেনা। তাহলে এটা কি ধরেই নেয়া যায় যে, এটা পুর্বপরিকল্পিত খোদ সরকারের পক্ষ থেকেই যেভাবে বি ডি আর কিলিং তাও সরকারী পেট্রোনাইজেশনে হয়েছিলো?

ছাত্রদের প্রাথমিক আন্দোলনকে সরকার কিছুই করতে পারবে না, এটা আদালতের বিচারাধীন ইত্যাদি বলে যখন হাত মুছে দিল, সেই একই সরকার কিভাবে তাহলে আদালতকে প্রভাবিত করে হাইকোর্টের রায় বাতিল করে, আদালতের সময়সীমা আগাইয়া এনে দুইদিনের মধ্যে তাও আবার ছুটির দিনে পুর্নাংগ এপিলেট ডিভিশন বসিয়ে ছাত্রদের পক্ষে রায় আনে? অথচ এই একই সরকার ছাত্রদেরকে রাজাকার উল্লেখ করে তাদের কোমলমতি হৃদয়ে রক্তক্ষরন, সরকারের রাজনৈতিক শাখা ছাত্রলীগই যথেষ্ঠ এসব ছাত্রদেরকে দমন করার জন্য ইত্যাদি বলে হুমকি দিলো। প্রথম আক্রমনতো সরকারের ছাত্রলীগই করেছিলো হলে হলে সাধারন ছাত্র-ছাত্রীদেরকে।

অত্যান্ত অপরিপক্ষ সরকারের সব সিদ্ধান্ত। এর আরেকটা কারন আছে- আর সেটা হল-সরকার গত ৪টি নির্বাচন জনগনের কোনো ভোটে নির্বাচিত হয়নি। তারা এই ছাত্রলিগ, পুলিশ, যুবলীগের মাধ্যমেই ভোট নিয়ন্ত্রন করে সরকারে বসেছে। তারা মনে করে-জনগনের কোনো প্রইয়োজনই নাই।

আজ প্রায় ৫ দিন যাবত ইন্টারনেট বন্ধ, কারফিউ, সেনাবাহিনী মোতায়েন ইত্যাদি করা হয়েছে। শিল্প কারখানা বন্ধ, গার্মেন্টস বন্ধ, কাচামাল সরবরাহ বন্ধ, মানুষের প্রিপেইড মিটারগুলিতে কারেন্ত বিল না দিতে পারায় ঘরে ঘরে আলো নাই, গ্যাস নাই, পানি নাই, এটা কোনো কথা? একটা যুদ্ধভিত্তিক দেশেও কারেন্ট থাকে, গ্যাস থাকে ইন্টারনেট থাকে, অথচ স্বাধীন দেশে এসবের এখন কোনো কিছুই নাই। সাধারন মানুষ এখন অতিষ্ঠ, কিছুই বলা যাচ্ছে না কখন আরেকটা মিছিল জানি বের হয়।

আমি আরেকতা জিনিষ সন্দেহ করছি বা আচ করছি যে, এই কয়দিনে ইন্টারনেট না থাকায় মানুষ কারো সাথেই কোন যোগাযোগ করতে পারছে না, সোস্যাল মিডিয়ায় কোনো সংবাদ আদান প্রদান করতে পারছে না। কিন্তু যখন ইন্তারনেট সচল করা হবে, সব তথ্য, সব ঘটনা যখন একের পর এক সোস্যাল মিডিয়ায় জাহির হতে থাকবে, তখন কি আরেকটা আন্দোলন অপেক্ষা করছে?

১৭/০৭/২০২৪-বাংলাদেশের দুর্নিতি

সব সময় কেনো জানি মনে হয়- “কি যেনো ঠিক নাই” শুধু মনে হয় “কোথায় যেনো গড়বড় হচ্ছে”। যখনই কারো সাথে আড্ডায় গল্প করতে বসি, সবার ভিতরেই যেন এই একই অস্তিরতা। একটা অস্বস্তি কাজ করছে সবার মনের ভিতর।

আসলে মুল বিষয়-দূর্নীতি। সকালে আমার পত্রিকা পড়ার অভ্যাস। পত্রিকাটা হাতে পাবার পর আমি প্রথমেই পুরু পত্রিকার সবগুলি পাতায় একবার চোখ বুলিয়ে নেই কোন ইন্তারেষ্টিং খবর আছে কিনা। যেই পাতাই উল্টাই, শুধু চোখে পড়ে দূর্নীতির মহাযজ্ঞ। আবার এসব যারা করছেন, তারা সবাই মুটামুটি সেসব মানুষগুলি যাদের কাজ ছিল যেন দূর্নীতি না হয় তার দেখভাল করা। অথচ তারাই ক্ষেত খেয়ে ফেলছেন। আরেকটা মজার অথবা শংকিত হবার বিষয় হচ্ছে-এরা সবাই প্রায় শুদ্ধাচারে ভূষিত।

প্রায় পুরু প্রশাসনিক ডিপার্টমেন্ট, আইন শৃঙ্খলা বাহিনি, পুলিশ, সেনাবাহিনী, বিচার বিভাগ, এক্সিকুইটিভ ব্রাঞ্চ, ইন্টিলিজেন্স ডিপার্টমেন্ট, পলিটিশিয়ান কোনো ডিপার্টমেন্ট বাদ পড়েনি। ঢালাওভাবে আমি কখনোই বলবো না যে, সবাই দুর্নীতি করেন, এসব ডিপার্টমেন্টে এখনো প্রচুর অফিসার, কর্মকর্তা বা কর্মচারী সৎ এবং দূর্নিতির ধারে কাছ দিয়েও হাটেন না। গুটিকতক দূর্নিতিবাজদের জন্য এসব সঠিক মানুষগুলিও কোনো না কোনো ভাবে অপমানিত কিংবা ডিপার্টমেন্টের কারনে অস্বস্তিতে ভোগেন।

পোষ্টিং বানিজ্য, ডিও বানিজ, টেন্দার বানিজ্য, অবৈধ দখলের প্রতিযোগীতা, অন্যের কোন একটা অসহায় অবস্থাকে পুজি করে বিপুল অংকের সুদ বা সম্পদ কেড়ে নেয়ার বানিজ্য যেনো আজ একেবারে ওপেন সিক্রেট হয়ে গেছে। ভূমি রেজিষ্ট্রেশনে যাবেন? সব কিছু ঠিক থাকলেও বড় অংকের সালামী ছাড়া সম্ভব না, আপনি যোগ্য, আপনার সঠিক জায়গায় যাওয়ার কথা, সেখানেও বড় বড় অংকের খেলায় পোষ্টিং বানিজ্য, আপনি আপনার শুদ্ধ জমি নিজের প্রয়োজনে অন্যের কাছে বিক্রি করবেন? পারবেন না, সেখানেও একটা বড় ধরনের সিন্ডিকেট। আপনি সৎ থাকতে চান, সরকারকে ট্যাক্স দিবেন, সেখানেও আপনি বড় বড় অফিসারদের কাছে খুব সহজেই জিম্মি হবেন। আপনার আইডি কার্ডকেও আপনি আর বিশ্বাস করতে পারবেন না কারন কখন যে আপনি রহিম থেকে করিম হয়ে গেছেন বুঝতেই পারবেন না। সেই আইডি কারড, নকল ওয়ারিশনামা, নকল নকল ছবি দিয়ে রহিমের সম্পদ করিম গিলে খেয়ে ফেলছে। বিচার চাইতে যাবেন? কার কাছে? সবারই তো একই দশা। তাহলে মানুষ কার কাছে যাবে? বিচার ব্যবস্থায়? আইন শৃঙ্খলা বাহিনীর কাছে? প্রশাসনের কাছে? পলিটিশিয়ানের কাছে? কোথাও কোনো আশ্রয় নাই। তাহলে মানুষ যাবেটা কোথায়? 

২০০২ সালে আমি তখন জর্জিয়ায় জাতিসঙ্ঘের মিশনে কাজ করছিলাম। বাংলাদেশ কয়েকবার দূর্নীতির শীর্ষে ছিলো এবং সম্ভবত সেই সালেও দুর্নীতির সুচকে পিছিয়ে ছিলো না। আমার সাথে আরো অনেক দেশের সামরীক অফিসাররা একই মিশনে কাজ করছিলো। সুইডেন তখন দূর্নীতির একেবারে নিমে অবস্থান করছিলো। একটা ক্যাফেতে আমরা সবাই মিলে চা খাচ্ছিলাম, তখন সুইডেনের এক মেজর সাহেব আমাকে প্রশ্ন করেছিলো-আচ্ছা তোমাদের দেশে দূর্নীতিটা কিভাবে হয় যে একেবারে শীর্ষে উঠে গেলা? আমি এখন তাকে কিভাবে বুঝাই আমরা কিভাবে দুর্নিতি করি।

বললাম, আচ্ছা, তুমি যখন তোমার দেশে নিজের জন্য একটা পাসপোর্টের জন্য আবেদন করেছিলা, তখন কিভাবে পাসপোর্ট পেয়েছিলা?

সে বল্লো-আমি পাসপোর্ট অফিসের পোর্টালে গিয়ে অনলাইনে আবেদন করেছি, তারপর তারা আমাকে একটা ফিরতি ম্যাসেজ দিয়েছিল কবে নাগাদ আমার পাসপোর্ত দরকার, আমি তার উত্তরে একটা টেনটেটিভ তারিখ লিখে দিলাম। অতঃপর আমি সে তারিখে গিয়ে আমার পাসপোর্ট সংঘ্রহ করে নিয়ে এলাম। এইতো।

এবার আমি তাকে বললাম-

আমাদের দেশে অন লাইন পোর্তাল নাই, ফলে নিজে গিয়ে পাসপোর্ট ফর্ম আনতে হয়। যখন ফর্ম আনতে গেলাম, গিয়ে দেখবো, ফর্ম নাই। কিন্তু আমি যদি কিছু টাকা দালালকে দেই, কিছুক্ষনের মধ্যে আমি একটা ফর্ম পেয়ে যাবো। সেই ফর্ম এনে আমি যখন সব ডিটেইলস লিখে আবার পাসপোর্ত অফিসে জমা দিতে যাবো, গিয়ে দেখবো ডিলিং অফিসার সিটে নাই কিংবা আজকে আসবেন না। ফলে ফর্ম জমা দেয়া সম্ভব নয়। কিন্তু যদি দালালকে কিছু টাকা দেই, তাহলে সেদিনই ফর্ম জমা দেয়া সম্ভব। যাক, ফর্ম জমা দিলাম। এবার পুলিশ ভেরিফিকেশনে যাবে।

পুলিশ ভেরিফিকেশন কখনই শুরু হবে না যতোক্ষন না আমি কনো দালালকে আবার কিছু টাকা না দেই। শুরু হল পুলিশ ভেরিফিকেশন। এবার পুলিশ আসবে আমার ঠিকানায়। এসে বলবে, আমার এই সমস্যা, ওই সমস্যা, খারাপ রিপোর্ট যাবার সম্ভাবনা। ফলে পুলিশকে আরো একবার কিছু টাকা না দিলে পুলিশ ভাল ভেরিকেশন রিপোর্ট দিবে না। দিলাম কিছু টাকা। এবার এই ভেরিফিকেশন পুলিশের অফিসে জমা হয়ে থাকবে দিনের পর দিন। আমাকে নিজে গিয়ে খবর নিতে হবে ভেরিফিকেশন রিপোর্টটা পাসপর্ট অফিসে পাঠান হয়েছে কিনা। শুনতে পাব, এটা যেভাবে এসেছে সেভাবেই পড়ে আছে। সেই ভেরিফিকেশন ওখান থেকে পাসপোর্ট অফিসের দিকে চলমান করার জন্য আমাকে আবার কিছু টাকা দিতে হবে। দিলাম টাকা। এবার আমার পুলিশ ভেরিফিকেশন রিপর্ট চলে আসবে পাসপর্ত অফিসে। কিন্তু সেতা ডিলিং অফিসারের কাছেই থাকবে যদি না আবার তাকে কিছু টাকা না দেই। এভাবে টাকা আর ব্যক্তিগত অনুসন্ধানের মাধ্যমে শেষ নাগাদ এটা পাসপর্ট প্রিন্টিং এ যাবে। সেখানেও একই অবস্থা হবে, প্রিন্টিং হবে না যদি টাকার বরাদ্ধ না হয়। যাই হোক এসে গেলো প্রিন্টেড পাসপোর্ট। কিন্তু আমার হাতে আসে নাই।

এবার আবার যেতে হবে পাসপোর্ট অফিসে। সেখানে খবর নিয়ে দেখা যাবে আমার থেকেও অনেক পড়ে এপ্লিয়া করে অনেকেই আমার থেকে অনেক আগেই পাসপোর্ট নিয়ে চলে গেছেন কিন্তু আমারটা পড়ে আছে। দাও টাকা, খাওয়াও কিছু মিষ্টি, অতঃপর সপ্নের পাসপোর্ট আমার হাতে।

এটা শুনে সুইডেনের সেই অফিসার কিছুক্ষন অবাক আর হতভম্ব হয়ে বল্লো- তাহলে তোমরা কিভাবে চলো? এতো টাকা দিয়ে বা খরচ করে তারপর একটা কাজ করছ, এই টাকা পাও কই?

বললাম-দূর্নিতি করে পাই।

এদেশের টপ অফিশিয়ালরা যদি দূর্নীতি না করতো, তাহলে তাদের নিম্ন স্রের ব্যক্তিরা কনোভাবেই দুর্নীতিতে প্রবেশ করার সাহস পেতো না। রাজনীতিবিদরা পোস্টিং বানিজ্যে লিপ্ত, চাদা বাজীতে লিপ্ত, কেনাবেচায় কমিশন নিতে ব্যস্ত, অফিসারেরা ভূমিতে, কর-অফিসে, মিডিয়াতে, বিচার বিভাগে একটা রায় দিতে গিয়ে কোটি কোটি টাকায় সমঝোতা, স্কুল কলেজের পরীক্ষার প্রশ্নপত্র ফাস করে ড্রাইভার থেকে শুরু করে টপ লেবেলের অফিসাররা লিপ্ত, আইন শৃঙ্খলা বাহিনীও তাই, মানুষ মেরে, অযথা কোনো ক্রাইমে ঢোকিয়ে অযথা হয়রানী করে মামলা, ইয়াবা কি না করছে। সাধারন মানুষের কোথাও যাওয়ার জায়গা নাই। অথচ প্রতিবার রাজনীতিবিদরা সেই পুরানো স্লোগান দিয়েই ভোট চাইতে আসে-জিরো টলারেন্স, দূর্নীতিমুক্ত সমাজ, আইনের শাসন, উন্নয়ন আরো কত কি। আর আমরা সাধারন মানুষ বারবার প্রতারিতই হই।

প্রতিটি অপকর্মের হোতা ক্ষমতাশীন দল গুলির ক্ষমতাবান মানুষ গুলি। তারা মুখে আর যাইই কিছু বলুক, সেটা অন্যের জন্য কিন্তু নিজের বেলায় তারা কিছুতেই তাদের সেই বলা কথাগুলি প্রযোজ্য মনে করে না। আজকাল অপকর্ম করে কেউ লজ্জাও পায় না। বরং উলটা তারা যে অপকর্ম গুলি করছে এটা যেনো বাহাদুরি একটা কাজ এবং সমাজে বুক ফুলিয়ে বলেও বেড়ায় তাদের সেসব অপকর্মের ফিরিস্তি।

অথচ দেশটা কতো সুন্দর হতে পারতো।

০২/০৭/২০২৪-নিজের বল বাহুবল (নিখিল এম পি)

আমার স্ত্রী মিটুল চৌধুরী সরমারি বাঙলা কলেজে বহুবছর যাবত কর্মরত আছে। এখানে সে বিভাগীয় প্রধান, পর পর দুইবার শিক্ষক পরিষদের সম্পাদক, পরবর্তীতে ভাইস প্রিন্সিপ্যাল হিসাবে কাজ করছে। গত ১২ জুন ২০২৪ তারিখে প্রিন্সিপ্যালের পোষ্ট খালি হওয়ায় আমরা স্বাভাবিক কারনেই মিটুল যেনো এখানকার প্রিন্সিপ্যালই হোক চেয়েছিলাম। এর জন্য ঢাকার মেয়র আতিক ভাইয়ের একটা ডিও লেটার নেয়া হয়েছে, আর্মড ফোর্সেস ডিভিশনের পিএসও লেঃ জেনারেল শামিম শিক্ষা সচীব (যিনি ওর ক্লাসমেট) কে ফোন করেছে, শিক্ষা প্রতিমন্ত্রী চাপা আপাও মিটুলের পক্ষে সায় দিয়েছে। আমাদের লোকাল এমপি মাইনুল হোসেন খান নিখিল ডিও লেটার দিতে চায়নি। অনেকবার প্রতিশ্রুতি দিয়েও তাকে শেষ মুহুর্তে এসে ডিও লেটারটা দেয় নাই। অথচ আমরা তার ভোটার, স্থায়ী বাসিন্দা এই এলাকার। এর মধ্যে সে অনেকগুলি শর্ত দিয়েছিলো যেমন (১) মিটুল মাইনিকগঞ্জের মেয়ে হওয়াতে দুর্জয়কে দিয়ে ফোন করাইতে বলেছিলো, দূর্জয় ফোন করেছিলো (২) ঈদুল ফাতেহার সময় যাকাতের জন্য প্রায় ৭০ হাজার টাকার একটা ডোনেশন চেয়েছিলো, তাও দিয়েছি, শীতকাল থাকায় আমি আমার ফ্যাক্টরি থেকে তাকে প্রায় ২০০ সুয়েটার্স দিয়েছি।

এই এমপির সাথে আমাদের আগেও কোনো ব্যক্তিগত পরিচয় ছিলো না। যখন সে এমপি হলো, তখন তার কাছে আমি শুধুমাত্র একটা ডিও লেটার চেয়েছিলাম যা সে প্রতিশ্রুতিও দিয়েছিলো। কিন্তু কি এমন হলো জানি না, হটাত করে সে যেনো আর আমাদেরকে চিনেই না। জানি সে ঘুষ খায়, দূর্নীতি করে সেটা আমার দেখার ব্যাপার না। সে আওয়ামী যুব লীগের নাকি সভাপতি। ইন্টার পাশ একটা মানুষ। এদেশে সেই সব ইন্টার পাশ মানুষ গুলিই ডক্টরেট ওয়ালা মানুষদেরকে নিয়ন্ত্রন করে কারন খারাপ রাজনিতি। কোনো শিক্ষাগত যোগ্যতা নাই।

যাই হোক যেটা বলছিলাম, নিখিলের সাথে আমাদের কোনো প্রকার পূর্ব পরিচয় কিংবা ঘনিষ্ঠতাও ছিলো না। শিক্ষামন্ত্রী মহিবুল হাসান নিজেও আমার স্ত্রীকে নিখিলের কাছ থেকে একটা ডিও লেতার আনার কথা বলেছিলো এই বলে যে, ঢাকার মেয়র (আতিক সাহেবের ডিও অবশ্যই অনেক শক্ত একটা রিকম্নডেশন কিন্তু সেটা ঢাকার মধ্যে, কিন্তু নিখল এম পি সারা বাংলাদেশের যুব লীগের সভাপতি হওয়ায় তার প্রভাব রাজনীতিতে অনেক বেশী। এর মানে হলো আমার কাছে মনে হয়েছে যে, নিখিলকে শিক্ষামন্ত্রী ভয় পায়, কিংবা নিজের মন্ত্রনালয়ে একটা স্বাধীন সিদ্ধান্ত নিতে সে পারেনা। এটা লিডার বলে না।

যাইহোক, শিক্ষা প্রতিমন্ত্রী শামসুন্নাহার আপা, শিক্ষা সচীব, ডিজি সবাই মিটুলকে সাপোর্ট করলেও এবং তার একক নামে প্রিন্সিপ্যালের পোষ্টিং ফাইল সর্ব উচুতে উঠলেও এক রাতের মধ্যে আমিরুল ইসলাম পলাশকে সরাসরি শিক্ষামন্ত্রী নিখিলের আদেশে বাঙলা কলেজের প্রিন্সিপ্যাল করা হয়।

পলাশ সম্পর্কে আমার যা ধারনা ছিল, সে প্রিন্সিপ্যাল হবার পর, তার কথাবার্তা, আচরন এহং ব্যভার দেখে আমি কিছুতেই আগের পলাশ আর প্রিন্সিপ্যাল পলাশকে চিনতে পারছিলাম না। তার একটা ছত উদাহরন দেই-শিক্ষক্মন্ডলির একতা মিটিং এ পলাশ প্রকাশ্যে একটা মন্তব্য করেছিল- এই মীরপুর এলাকায় দুইজন সন্ত্রাসি আছে, এক নিখিল আর ২য়টা আমি পলাশ। ফলে কেউ যদি কোনো কিছু করতে চায় যা আমি চাই না, তাহলে তাকে ফায়ার করে দেবো।

এগুলি প্রিন্সিপ্যালসুলভ কোনো কথাবার্তা নয়।একজন সরকারি কর্মকর্তাকে আরেকজন কর্মকর্তা এভাবে ফায়ার করার হুমকি কিংবা নিজে ডিক্লেয়ারড সন্ত্রাসি এগুলি কোন সভ্য মানুষের কথা নয়। 

২৩/৫/২০২৪-স্ত্রী রম্যরচনা

শুক্রবার। সাধারনত আমি বাসায় থাকি। আমার বউ মাঝে মাঝে বাসায় থাকে কারন বেশিরভাগ সময়েই তার অফিশিয়াল কাজে কলেজে থাকতে হয়। বউকে বললাম, আমার জন্য শুক্রবারটা একটা কঠিন দিন। বড় মেয়ে তার নিজের বাসায় থাকে, ছোট মেয়ে বিদেশ, বউ কলেজে আর আমি বাসায়। বাসায় একা থাকায় দুপুরে খেতেও ইচ্ছে করেনা। খালার পাক করা খাবার খেতে খেতে এখন আমি মুটামুটি জানি এর সাধ কি আর কি আইটেম। কিন্তু আমি আমার অফিসে থাকলে অন্তত সময়টা কেটে যায়, কাজে ব্যস্ত থাকি, খাওয়া দাওয়াও সমস্যা না।

তো আজ শুক্রবার। সম্ভবত আমাকে খুশী করার জন্য তার একটা পরিকল্পনা আছে। সকালে উঠেই বলল, আজ দুপুরে সে বাসায় আছে। নিজের হাতে রান্না করবে। বেশ কিছু আইটেমও করবে। আমি আবার খাবারের বেলায় একেবারেই নাদান। বউ মাঝে মাঝেই বলে, আমি নাকি “আখাওড়া”। কিছুই খাইতে জানি না। আমিও বউকে বলি-তুমি হইলা গিয়া “চৌধুরী বাড়ির মাইয়া” খাইয়াই বড় হইছো, আমি তো মাদবর বাড়ির পোলা, মাইনষেরে খালী খাওয়াইছি। আমার কি দোষ।

যাক, সকালে এসেই বউ বলল-শোনো, ছোট মাছের চচ্চরী পাকাবো? খাইবা?

বললাম- করো। অসুবিধা নাই। খাওয়ার সময় খাইতে মন চাইলে খাইতেও পারি।

বউ বল্লো-জানি তো খাইবা না। টেবিলেই পড়ে থাকবে। থাক তাহলে ছোট মাছের চচ্চরি বাদ। তাহলে রুই মাছ পাক করি? রুই এর মাথাটা খাইও।

বল্লাম-এত বড় রুই এর মাথা খাইতে গেলেও জ্বালা। তারপরেও করো। খাওয়ার সময় দেখা যাবে।

বউ বলে উঠল- জানি তো, খাইবা না, শেষে আমারেই খাইতে হবে। থাক তাহলে রুই পাক না করে তাহলে মুরগী বা গরুর মাংশ পাক করি। গরম গরম খাইতে ভালো লাগবে। কি বলো?

আমি বললাম-করো। তবে আজকাল তো আর মাংশ টাংশ খেতেই চাই না। বয়স হয়ে গেছে। তারপরেও করো, দেখা যাক, ঝোলটোল দিয়ে খাওয়া হয়তো খারাপ লাগবে না।

বউ বলেই ফেলল- আমি জানতাম, তুমি এটাই বল্বা। সাধে কি আর তোমারে “আখাওড়া” বলি? ঠিক আছে, তাহলে খালাকে বলি কাঠালের বিচি দিয়া চিংড়ি মাছের একটা তরকারী করতে। কাঠালের বিচি দিয়া চিংড়ি মাছ খুব মজা।

বললাম, এটা আবার কি? ঠিক আছে করো। কখনো খাই নাই, খাওয়ার সময় টেষ্ট করে দেখবোনে কেমন লাগে। আজকাল কাঠাল মিয়াও সব্জীর কাতারে আইয়া পড়ছে। অথচ রাষ্ট্রীয় ফল কাঠাল। কতো অধোপতন, না?

এবার বউ বল্লো- খাইবা না তো জানি। শেষে সব আমারই খাওয়া লাগবে, না হয় খালাকে দিয়া রক্ষা পাইতে হবে। থাক তাহলে।

এরপর বউ বল্লো- ছাদে কলমীশাক আছে আর পুইও আছে। ওগুলি করি?

কিছু বললাম না।

এখন আমি একা কলমী শাক দিয়া পুই খাচ্ছি।

১৭/৫/২০২৪-চীন-রাশিয়ার একত্রিভুত পদক্ষেপ

এক নাগাড়ে ৭৫ বছর যাবত চীন এবং রাশিয়ার বৈরিতার পরে যখন রাজনীতির ভুল চালে এই দুই ভেটো পাওয়ারধারী নিউক্লিয়ার শক্তধর পরাশক্তি চরম শত্রু থেকে চরম বন্ধু বনে যায় এবং কাছাকাছি চলে আসে, তখন আর কোনো বিশ্লেষনের প্রয়োজন পড়ে না যে, বাকি সব পরাশক্তির দূর্দশা একেবারেই দরজার পাশে।

প্রাচীনকাল থেকেই আমেরিকার প্রথম কুটনৈতিক ফর্মুলাই ছিলো যাতে চীন এবং রাশিয়া কখনোই কাছাকাছি না আসতে পারে এবং তারা বন্ধু হতে না পারে। এটা আমেরিকার কোনো প্রেসিডেন্টই তাদের মাথা থেকে ঝেড়ে মুছে ফেলে দেয় নাই। এমন কি রগচটা ডোন্যাল্ড ট্রাম্পও না। ট্রাম্প নিজেও চীনকে ট্যারিফ, বানিজ্য সীমাবদ্ধতা কিংবা এমন এমন চাপে রেখেছিলো যাতে চীন আর যাইই করুক, আমেরিকাকে একহাত দেখে নিতে না পারে। ট্রাম্পের বিশেষ চোখ ছিলো চীনের বানিজ্যতে। কারন চীনের দরকার পশ্চিমা এবং ইউরোপিয়ান মার্কেট। আর সে কারনেই চীনকে সহজে বশ মানানো যাচ্ছিলো। আর চীন নিজেও জানতো ডলার হেজিমনি, ইউনিপোলারিটি ইত্যাদি ছিলো চীনের জন্য মারাত্তক বাধা। সে একা এই বাধাগুলি অতিক্রম করতে পারছিলো না। পশ্চিমা বিশ্ব রাশিয়াকে মনে করে একতা “গ্যাস স্টেশন”, চীনকে মনে করে একটা “ক্মুনিস্ট সুইট শপ” যাদের উভয়ের সেনাবাহিনি কোনো ব্যাটল টেষ্টেড না।

পশ্চিমাদের বর্তমান প্রশাসন তাদের এই মিথ্যা বিশ্বাসকে নিজেরাই বিশ্বাস করে ইউক্রেন-রাশিয়া কনফ্লিকটকে কেন্দ্র করে জো বাইডেন প্রশাসন আমেরিকাকে তো অবশ্যই সাথে ইউরোপিয়ান ইউনিয়নকে সাথে নিয়ে জোট বেধে রাশিয়াকে বধ করতে গিয়ে এখন দুই রাঘব বোয়াল, চীন এবং রাশিয়া, এমনভাবে এক করে ফেলেছে। সব রোগের এক ঔষধ নয়। আর “নিষেধাজ্ঞা” তো অবশ্যই কোন মেডিসিন নয়। কিছু কিছু দেশের বিপক্ষে এই মেডিসিন সাময়িক কার্যকর হলেও চীন, ভারত, রাশিয়া এদের বিপক্ষে এগুলি কোন এন্টি বায়টিক হিসাবে কখনোই কার্যকর যে হবে না এটা বর্তমান প্রশাসন ভাবেনি। এটাও ভাবেনি যে, এই “নিষেধাজ্ঞা” কার্যকরী না হলে এর পরিনতি কি হতে পারে। ফলে যা হবার তাই ঘটছে এখন। ডলার হেজিমনি, কোনো আইনের বই ব্যতিরেকে রুলস বেজড ইন্তারন্যাশলার অর্ডারের সমাপ্তি,  ইউনিপোলারিটি থেকে মাল্টিপোলারিটি এবং আমেরিকার একচ্ছত্র আধিপত্যকে অনেক পিছিয়ে দিয়েছে এখন। একটা কথা মনে রাখা দরকার-শ্ত্রুর শত্রু হল মিত্র।

পশ্চিমা বিশ্ব নেতাদের মাথা থেকে সম্ভবত একটা কন্সেপ্ট উধাও হয়ে গিয়েছিলো যে, চীন এবং তদানিন্তত সোভিয়েট রি পাব লিকের মধ্যে এই ৭৫ বছরের দন্ধ বেসিক্যালি ছিলো কট্টর কমুনিজমের কারনে। কিন্তু সেই সোভিয়েট ইউনিয়ন এখন আর নাই, এটা এখন রাশিয়ান ফেডারেশন, আধুনিক কন্সেপ্টে বর্তমান প্রজন্ম বেড়ে উঠছে। একই অবস্থা চীনেরও। সেই পুরানো জের ধরে থাকা বর্তমান প্রজন্ম নয় এরা। সেখানে ওয়াল্মার্ট, জেসি পেনি, ম্যাডোনাল্ডস, সিয়ারস, ম্যাকির মতো পশ্চিমাদের দোকানে যেতে এই প্রজন্মের কোনো বাধা নাই।  

রাশিয়া ইউরোপের একটা অংশ হওয়ায় ইউরোপ এখন যতোই অন্যের তালে পড়ে নাচানাচি করুক না কেনো, খুব অচীরেই ইউরোপ তার নিজের প্রয়োজনে আবার রাশিয়ার সাথে একত্রিভুত হতে বাধ্য। রাশিয়ার যতোটা না ইউরোপকে প্রয়োজন, ইউরোপের তার থেকে বেশী প্রয়োজন রাশিয়াকে। কারন পুরু ইউরোপ রাশিয়ার অনেক কমোডিটি, অনেক রিসোর্সের উপর প্রায় শতভাগ নির্ভরশীল। অন্যদিকে চীনের রিসোর্স, সস্তা টেকনোলোজি এবং বিশাল সাপ্লাই সারা দুনিয়ায় এমনভাবে জড়িত যে, যা রাশিয়ার নাই তা চীনের আছে, আবার যা চীনের নাই তা রাশিয়ার আছে।  তাছাড়া বর্তমান চীনের বাজার এতো সম্প্রসারিত যে, পশ্ছিমা বা ইউরোপিয়ান মার্কেটের যতো না চীনের দরকার তার থেকে অনেক গুন বেশী দরকার চীনকে তাদের। একটা মুল্যবোধ সর্বদা মনে রাখা দরকার যে, বাজারে গিয়ে কোনো কাষ্টোমার তার দেশ প্রেম দেখায় না। তার কাছে কমোডিটির মুল্যটাই প্রধান, হোক সেটা চীনের, বা রাশিয়ার বা অন্য কোনো দেশের।

এই দুই রাঘব পরাশক্তি নিউক্লিয়ার এবং ভেটো শক্তির অধিকারি দেশকে কখনোই আমেরিকার ভুল রাজনৈতিক চালের কারনে এক হতে দেয়া ঠিক হয় নাই। ফলে পরবর্তী যে কনো বিশ্ব ইস্যুতে আর কখনোই কারো ভেটো পাওয়ারের কোনো কার্যকারিতা থাকবে না। এই ভেটো পাওয়ার এখন শুধু ব্যবহৃত হবে যে কোনো সিদ্ধান্তকে নাকচ করার জন্য। ইউনিলেটারাল সিদ্ধান্তের দিন সমাপ্ত।

একটা সময় খুব কাছাকাছি যে, ইউরোপ আবার রাশিয়ার সাথে একত্রিভুত হবেই, ন্যাটো সয়ংক্রিয়ভাবে অকার্যকর অবস্থায় অথবা বিলুপ্ত হবে। রাশিয়া, চীন, ইরান, মিডল ইষ্ট, ভেনিজুয়েলা, নর্থ কোরিয়া এশিয়া, আফ্রিকা মিলে একটা গ্র্যান্ড মেরুকরন হবে যেখানে সেকেন্ডারি কিংবা আরো নীচের ধাপে চলে যাবে পশ্চিমা বিশ্ব।

এই বিশাল পরিবর্তিত অধ্যায়ের জন্য একমাত্র দায়ি করা হবে শুধুমাত্র বাইডেন প্রশাসনকে যেমন সোভিয়েত ইউনিয়ন ভাংগার একমাত্র কারন বলা হয় গর্ভাচেভকে।

১১/০৫/২০২৪-রিভার সাইডের এক্সটেনশনের জন্য ম্যাসেজ

Brother (This msg from Mortuja Bhai)

Before fix the sign board pls think about compliance issue. If our buyer understands it will be very big disaster. Because without compliance/ required certification we are not allowed any production at anywhere. This is the rules and that is why we are not giving the same name in any of our production unit.

মূর্তজা ভাই,

কমপ্লায়েন্সের ব্যাপারটা মাথায় নিলে অবশ্যই আপনি যেটা বলেছেন বায়ার অফিশিয়ালী এটা জানলে তারা অনেক প্রশ্ন করবে এবং সমস্যা হতে পারে সেটা শতভাগ সঠিক। কারন ঐসব ইউনিটের কোনো ভ্যালিড কাগজ পত্র আসলে নাই। এটা একটা দিক।

আরেকটা দিক হচ্ছে-রিভার সাইডের নামে আমদানী করা ইউনিট-১, ২ এবং ৩ তে আমরা যেসব মেশিনারিজ এবং অন্যান্য ইকুইপমেন্ট স্থানান্তর করেছি, সেগুলি পুরুটাই আমাদের মৌখিক সিদ্ধান্তে স্থানান্তরীত হয়েছে যার কোনো ভ্যালিড রেজুলেশন আমরা করিনি। শুধুমাত্র কিছু গেটপাশ চালান দিয়ে মেশিনগুলি ওখানে ট্রান্সফার করা হয়েছে যা একঅর্থে ভ্যালিড না। আবার ইউনিট-২ তে তো গেটপাশও নাই যা সরাসরি পোর্ট থেকে ওখানে স্থাপিত হয়েছে। লিখিত একটা বোর্ড রেজুলেশনের মাধ্যমে প্রসিজিউরটা অনুসরন করা দরকার ছিলো। কারন, কখনো যদি রিভার সাইডের নিজস্ব এসব মেশিনারিজের সঠিক স্ট্যাটাস, অবস্থান সংখ্যা জানতে হয় তাহলে কাগজপত্রের মাধ্যমে বা বোর্ডের সিদ্ধান্ত মোতাবেক এসব মেশিনারিজ স্থানান্তর হয়েছে কিনা, কিংবা গেট পাসের মাধ্যমে এগুলি চিরতরে স্বত্বাধিকার দিয়ে দেয়া হয়েছে কিনা ইত্যাদি রিভার সাইড সঠিকভাবে ব্যাখ্যা করতে পারবে না। আর সেটা স্ট্যাবলিষ্ট করতে অনেক ঝামেলা আছে।

যেমন, মা ইন্ডাস্ট্রিজের জন্য আমরা ২টা (একটা ভ্যাকুয়াম মেশিন আরেকটা জেনারেটর) মেশিন কিনেছিলাম যেগুলি আমি ইতিমধ্যে বিক্রি করে দিয়েছি। কাগজপত্র মোতাবেক কেউ যদি খুজে, তাহলে কিন্তু ওই মেশিনগুলি আসলে অফিশিয়ালি রিভার সাইডের ছিলো  এবং এখনো আছে (যদিও আমি আমার ড্রইংস এর সাথে এদের মুল্যগুলি এডজাষ্ট করেছি)। কিন্তু সেটাও ঠিক ছিলো না। আমার উচিত ছিলো, আরেকটা বোর্ড মিটিং করে ওই ২টা মেশিন রিভার সাইডের পক্ষ থেকে অন্যত্র বিক্রি করে আমার টাকা নিয়ে নেয়া। এ জন্যই ইউনিট-১, ২ এবং ৩ এর মেশিনারিজগুলিও আমাদের বোর্ডের মাধ্যমে লিখিত রেজুলেশন করে স্থানান্তরের অনুমোদন থাকা উচিত। এতে মেশিনারিজ গুলির সঠিক মালিকানার রেকর্ড থাকবে।   

একইভাবে রিভার সাইডেরও একটা কমপ্লিট মেশিনারিজ, ইউকুইপমেন্টস এবং অন্যান্য ফার্নিচার ফিক্সচারের লিষ্ট থাকা দরকার এবং সেই ইনভেন্টরীতে যেসব মেশিনারিজ, ইকুইপমেন্টস এবং ফার্নিচার ফিক্সচার আমরা অন্যত্র পাঠিয়েছি সেটা সেই ইনভেন্টরী কোথায় স্থানান্তর করেছি সেটা উল্লেখপূর্বক বোর্ডের সাক্ষরযুক্ত অনুমোদন থাকা দরকার।

এখন যদি কমপ্লায়েন্সের ব্যাপারটা আসি, তাহলে, আমরা যে নামেই ইউনিট-১, ২ এবং ৩ কে ডাকি না কেনো (রিভার সাইডের নেম-প্রিফিক্স ছাড়া) সেগুলিও ঠিক একইভাবে তাদের স্ট্যাটাস বোর্ড রেজুলেশনের মাধ্যমে ক্লিয়ার করে রিভার সাইডের মালিকানায় নিয়ে আসলে রিভার সাইডের নেম-প্রিফিক্সড এক্সটেনশনগুলি আর ব্যবহার করতে হয় না। ।

আমার আইডিয়া ভুল হলে আমাকে জানাবেন প্লিজ।

৩০/০৪/২০২৪-এই পৃথিবীতে সুস্থ্য, স্বাধীন, আরাম

এই পৃথিবীতে সুস্থ্য, স্বাধীন, আরাম এবং সম্মানের সাথে বেচে থাকার চেয়ে বড় কোনো নিয়ামক নাই। একজন শারীরিকভাবে অসুস্থ্য বিলিয়নার কোটিপতিকে হাসপাতালের বেডে জিজ্ঞেস করে দেখুন, তার কোনটা প্রয়োজন, টাকা নাকি সুসাস্থ্য? একজন মৃত্যু পথযাত্রী মানুষকে জিজ্ঞেস করুন তার একদিন বেশি বাচার জন্য সে তার অর্জিত সমস্ত সম্পত্তি কাউকে বিলিয়ে দিতে চায় কিনা, একজন অন্ধ, কিংবা পংগু মানুষকে জিজ্ঞেস করুন, তার চোখের জ্যোতি কিংবা পঙ্গুত্ব স্বাভাবিক হবার জন্য সে তার কি কি জিনিষ বা সুখ বিসর্জন দিতে প্রস্তুত?

উত্তর একেবারেই সহজ।

সবাই স্বাধীনভাবে, অল্পতেও আরামের সাথে বেশিদিন বাচতে চায়। পৃথিবী আসলেই খুব সুন্দর। এর গাছপালা সুন্দর, পথের ধারে নেড়ি কুকুরের ঘেউ ঘেউ সুন্দর, বাগানে অবহেলায় বেড়ে উঠা একটা সবুজ পাতার দোলাও সুন্দর। এই পৃথিবীতে কেউ আসলেই কারো নয়, যতো ভালোবাসার কথাই বলুক, যতো আবেগেই আপনাকে কেউ জড়িয়ে ধরুক, দিন শেষে সবাই যার যার তার তার। আপনি দিনের পর দিন বিছানায় পড়ে থাকুন, দেখবেন, একদিন আপনার চারিপাশের লোকগুলিও আর সেই আগের মতো আপনার কাছে আর ঘেষবে না, আপনি আজকে দারিদ্রসীমার নীচে বাস করুন, আপনার যত রুপই থাকুক না কেনো, আপনাকে মানুষ ব্যবহার করতে চাইবে শুধু আপনার শরীরটা। সেটা যদি ঘামে দুর্গন্ধও হয়, তাতেও কিছু আসে যায় না।  সেই শরীর যখন একদিন আর তার দেহের সাধ দিতে পারবে না, দেখবেন, আপনি ব্যবহৃত টিস্যুর মতো ডাষ্টবিনেই পতিত হচ্ছেন। অথচ যখন আপনার শরিরের চামড়া ভাজ পড়ে যাবে অথচ আপনি সুস্থ্য, আপনি সাবলম্বী, আপনি স্বাধীন, দেখবেন তারপরেও আপনার ধারে কাছে মানুষের কোন অভাব নাই।

আপনি দুনিয়া ত্যাগ করার পর কেউ আপনার জন্য এক বিন্দু সময়ও নষ্ট করবে না এই ভেবে, আহা, আমি তাকে যদি আবার পাইতাম। কেউ কাউকে বারবার পাইতে চায় না। যে চলে যায়, সেই হারিয়ে যায়। আজ যারা আপনার কাছে আছে, তারা তাদের সার্থের কারনে আছে। যারা আপনার কাছে আগে ছিলো না অথচ এখন কাছে এসছে মনে রাখবেন তারা শুধু আপ্নার কাছ থেকে এমন কিছু চায় যা তাদের কাছে নাই। হোক সেটা শরির, হোক সেটা অর্থ কিংবা দেহভোগ। সময় পাস করার জন্যেও অনেকে আসে যা একেবারেই ক্ষনিকের। অথচ আবেগের যেন শেশ নাই। এই পৃথিবীর কোটি কোটি সুন্দুরী আছে, কোতী কোটি সুদর্শন আছে, একবার একজনকে ব্যবহার করার পর যেনো অন্য আরেকটি সুদর্শন পুরুষ বা নারির প্রতি মোহ চলে আছে। তাহলে আপনার ভুমিকা কতদিনের? শুধু ততোদিনের, যতদিন আপনার মানুষটির চাহিদা বিদ্যমান। অতঃপর? আপনি অকেজো। আপনাকে কোন দরকার নাই। না সন্তানের দরকার, না স্বামীর, না সমাজের কারো।

যদি বিশ্বাস না হয়, ঘুরে আসুন সেই পতিতালয়ে যেখানে আপনার থেকেও সুন্দুরী কোন মানবী তার সমস্ত দেহ অনাবৃত করে কাউকে না কাউকে খুশি করার চেষ্টা করছে অথচ ক্ষনিকের আনন্দের পর সেই পতিতা না জানে তার পুরুষের নাম বা ঠিকানা, না সেই পুরুষ জানে সেই পতিতাতার পরের দিনের কোন খবর। আজকালকের পর্ন সাইট গুলির কথা ভাবুন, একেকটা নারী একজনের চেয়েও আরেকজন সুন্দুরী, তাদের জন্য কোনো সংসার নাই, অথচ সারা দুনিয়ার মানুষ এদেরকে দেখতে থাকে, আনন্দ নিতে থাকে অথচ কেউ তাদেরকে নিয়ে সংসার করতে আগ্রহি নয়। কেনো? আপনি কোনো সুদর্শন পুরুষের নজরে পড়েছেন, সেটা ভাবুন কিসের কারনে? আপনার গুনের, আপনার রুপের নাকি আপনার সম্পদের? যদি দেখেন, আপনার পাশ দিয়ে হেটে যাওয়া আরেক সুদর্শনা নারী আপনার পুরুষের চোখ কেড়ে নিয়েছে, তাহলে ভেবে নিবেন, আপ্নিই শুধু তার কাছে সবচেয়ে সুন্দুরী নন। যদি দেখেন, আপ্নার সুদর্শন প্রেমিক আপনার থেকেও বিত্তশালি নারির প্রতি আশক্ত, ঘুরে দাড়ান, সে আপনার জন্য নয়। আর আপনার গুন? সেতো যখন আপনি তার সংসারে প্রবেশ করবেন, তারপরে প্রমান করবেন আপনি কতটা গুনি। সেটা অনেক পরের চাপ্টার।

তাই আমি সর্বদা নিজের জন্য বাচতে চাই। এই পৃথিবীর মানুষ উদপাদনের কারখানা আমি নই, না আমি সেই ফ্যাক্টরী যেখানে আমি পৃথিবীকে বাসযোগ্য করে যাবার জন্য দায়িত্ত নিয়েছি। আমি শুধু আজকের জন্য বাচতে চাই। আর যারা আমার সাথে বাচতে চায়, হয়তো তারা বেচে যাবে কিন্তু সেটাও তাদের নিজের সার্থে। পথের ধারে কতই না মানুষ ছাদবিহীন, খাবারবিহীন বা কাপরবিহিন অবস্থায় বেচে আছে, তারাও তো কারো না কারো সন্তান, তাদেরঅ তো বাবা মা ছিলো বা আছে, তারা তো হটাত করে আকাশ থেকে লাফ দিয়ে এই পৃথিবীতে আসে নাই। তাদের জন্য কতজন মানুষ ভাবে? কেউ ভাবে না। কারন মানুষ কারো জন্য কখনোই ভাবে না। আর যারা ভাবে- হয়তো তারা অন্য কোনো চরিত্রের। সংখ্যাটা এতোই ছোট যে, হাতের নলায় ধরা যায়।

এই পৃথিবী কারো জন্য কখনো পক্ষপাতিত্ব করে নাই, কারন সে এতোটাই উদাসিন, কোনো মানুষের চোখের জলের বা সুখের উচ্ছলতা তাকে স্পর্শ করে না।

২৭/৪/২০২৪-ওমরা শেষে আবার ঘরে ফেরা (আলহামদুলিল্লাহ)

প্রায় ১৫ দিনের একটা সফর ছিল। আমি, আমার স্ত্রী, আমার বড় মেয়ে এবং বড় মেয়ের জামাই ডাঃ আবীর। খুব সুন্দরভাবেই আমরা সবাই একসাথে এবারের ওমরাটা করতে পেরেছি। আল্লাহ সুস্থ্য রেখেছিলেন। এর আগেও হজ্জ এবং ওমরা করেছিলাম, এবারের ওমরাটা যেনো আমার কাছে ছিলো ভিন্ন একটা অনুভুতি। হেরেম শরিফে নামাজে দাড়িয়ে তাবত মুসলিম মানুষের জন্য আমার দোয়া ছিল, আমার সকল জানা অজানা বন্ধু এবং শুভাকাঙ্ক্ষীদের জন্য দোয়া করেছি, এমন কি যারা আমাকে কোনো না কন কারনে পছন্দ করেন না বা আমাকে ফাকি দেন, আমি তাদের জন্যেও দোয়া করেছি। আমার বাবা মা, ভাই বোন, শশুড় শাশুড়ি, খালা খালু, দাদা দাদি, মামা মামি, চাচা চাচী, জেঠা জেঠি, আমার স্ত্রীর পরিবারের সবার জন্য, যারা বিগত হয়েছেন তাদের জন্য, যারা আগামিতে আসবেন তাদের জন্য, আর যাদের জন্য দোয়া করার কেউ নাই তাদের জন্যেও আমি প্রান ভরে দোয়া করেছি। আমার সুস্থ্যতার জন্য দোয়া করেছি, আমার অজান্তে কনো অপরাধ ক্ষমার জন্য দোয়া করেছি, হালাল রিজিকের জন্য দোয়া করেছি, প্রানভরে সব কিছুর জন্য দোয়া করেছি। আর দোয়া করেছি যে কন অন্যায়ের বিরুদ্ধে যেন আমি সটিক থেকে তার প্রতিবাদ করতে পারি সেই দোয়াও করেছি। মানুষের উপকার করার মানসিকতা যেন আমার আরো উত্তোরোত্তর বৃদ্ধি হয় সে দোয়াও করেছি। দোয়া করেছি- আমার দ্বারা যেন কখনো কন মানুষের ক্ষতি না হয় এবং যারা আমার ক্ষতি করে তাদের ব্যাপারে আল্লাহর কাছে দাবি রেখেছি। 

এই ওমরায় আমি খুব বেশী করে নিজের মনে এই অনুভুতিটা আনার চেষতা করেছি যে, আমি যে সব জায়গা দিয়ে হেটে গিয়েছি, সেইসব জায়গা দিয়ে আমাদের নবী, অন্যান্য খলিফারা কিংবা অনেক বুজুর্গ মানুশ যারা আল্লাহর আশির্বাদ পেয়ে ক্ষমা পেয়েছেন তারা হেটেছেন, এই অনুভুতিটা আমার প্রতিটা কদমে কদমে অনুভুত হয়েছে। আমি যেন তাদের কাফেলার সাথেই হেটেছি।

নবীর রওজায়র পাশে আমি অহেতুক অনেক ঘুরা ফেরা করেছি, সেই এলাকার চত্তর দিয়েও আমি বহুবার হেটে গিয়েছি আর ভেবেছি, এই জায়গার কোথাও না কোথাও আমার নবির পদধুলী ছিলো যেখানে কখন আমি সেজদায় পড়েছি, কখনো একা বসে ভেবেছি সেই দিন গুলির কথা যখন নবিজি জীবিত ছিলেন এবং তিনি তার সাহাবীদের নিয়ে এদিক সেদিক হয়ত পদধুলি দিয়েছেন। আমি প্রতিদিন নামাজের আজানের সময় যখন ‘আশহাদু আন্না মোহাম্মাদার রাসুলুল্লাহ” বলে আজানের আওয়াজ শুনেছি, আমি ততোবার নবির রওজায় মবারকের দিকে তাকিয়ে শুধু এতাই বলেছি, আমি সাক্ষি দিচ্ছি ঠিক এই রওজার পাশে বসে, আমার নবী হজরত মোহাম্মাদ সাল্লালাহু আলাইহিস সালাম আল্লাহর রাসুল এবং আমি তার উম্মত। বারবার তার র ওজা মোবারকের দিকে তাকিয়ে যেন এই উপলব্ধিতা হচ্ছিল-হ্যা তিনি আমাকে দেখছেন, আমি হয়তো তাকে দেখছি না, কিন্তু তিনি আমার মনের এই সাক্ষীটা তিনি সাদরে গ্রহন করছেন। আমার মন ভরে উঠছিলো বারবার।

আমি হেরেম শরীফের সামনে গিয়েও যখন আল্লাহর উদ্দেশ্যে নামাজে মাথা নত করছিলাম, বারবার যেন এতাই মনে হয়েছে-আমি আল্লাহর বিশাল পায়ের নীচে আমার মাথা ঠেকিয়ে কিছু একটা যেনো অনুভব করছিলাম। যেনো তার চরনটা আমার কপালে ঠেকে আছে। প্রতিটি নামাজের শেষে জানাজা নামাজ হচ্ছে। একজন নয় অনেকের জানাজা একসাথে। কে জানে আমার তো জানাজা এখানেই হতে পারতো। এই মৃত্যু নিয়ে কুয়েতি এক বরেন্য লেখকের লেখাটা আমার মনে পড়তো প্রতিদিন। সে লিখেছিলো;

“মৃত্যু নিয়ে আমি কোনো দুশ্চিন্তা করবো না, আমার মৃতদেহের কি হবে সেটা নিয়ে কোন অযথা আগ্রহ দেখাবো না। আমি জানি আমার মুসলিম ভাইয়েরা করণীয় সবকিছুই যথাযথভাবে করবে।”

তারা প্রথমে আমার পরনের পোশাক খুলে আমাকে বিবস্ত্র করবে, আমাকে গোসল করাবে, তারপর আমাকে কাফন পড়াবে, আমাকে আমার বাসগৃহ থেকে বের করবে, আমাকে নিয়ে তারা আমার নতুন বাসগৃহের (কবর) দিকে রওনা হবে, আমাকে বিদায় জানাতে বহু মানুষের সমাগম হবে, অনেক মানুষ আমাকে দাফন দেবার জন্য তাদের প্রাত্যহিক কাজকর্ম কিংবা সভার সময়সূচী বাতিল করবে, কিন্তু দুঃখজনকভাবে অধিকাংশ মানুষ এর পরের দিনগুলোতে আমার এই উপদেশগুলো নিয়ে গভীর ভাবে চিন্তা করবে না, আমার (ব্যক্তিগত) জিনিষের উপর আমি অধিকার হারাবো, আমার চাবির গোছাগূলো, আমার বইপত্র, আমার ব্যাগ, আমার ‍জুতোগুলো, হয়তো আমার পরিবারের লোকেরা আমাকে উপকৃত করার জন্য আমার ব্যবহারের জিনিসপত্র দান করে দেবার বিষয়ে একমত হবে, এ বিষয়ে তোমরা নিশ্চিত থেকো যে, এই দুনিয়া তোমার জন্য দু:খিত হবে না অপেক্ষাও করবে না, এই দুনিয়ার ছুটে চলা এক মুহূর্তের জন্যও থেমে যাবে না, অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ড কিংবা ব্যবসাবাণিজ্য সবকিছু চলতে থাকবে, আমার দায়িত্ব (কাজ) অন্য কেউ সম্পাদন করা শুরু করবে, আমার ধনসম্পদ বিধিসম্মত ভাবে আমার ওয়ারিসদের হাতে চলে যাবে, অথচ এর মাঝে এই সম্পদের জন্য আমার হিসাব-নিকাশ আরম্ভ হয়ে যাবে, ছোট এবং বড়….অনুপরিমাণ এবং কিয়দংশ পরিমান, (সবকিছুর হিসাব)।

আমার মৃত্যুর পর সর্বপ্রথম যা (হারাতে) হবে, তা আমার নাম!!! কেননা, যখন আমি মৃত্যুবরণ করবো, তারা আমাকে উদ্দেশ্য করে বলবে, কোথায় “লাশ”? কেউ আমাকে আমার নাম ধরে সম্বোধন করবে না, যখন তারা আমার জন্য (জানাযার) নামাজ আদায় করবে, বলবে, “জানাযাহ” নিয়ে আসো, তারা আমাকে নাম ধরে সম্বোধন করবে না….!

আর, যখন তারা দাফন শুরু করবে বলবে, মৃতদেহকে কাছে আনো, তারা আমার নাম ধরে ডাকবে না…! এজন্যই দুনিয়ায় আমার বংশপরিচয়, আমার গোত্র পরিচয়, আমার পদমযার্দা, এবং আমার খ্যাতি কোনকিছুই আমাকে যেন ধোঁকায় না ফেলে, এই দুনিয়ার জীবন কতই না তুচ্ছ, আর, যা কিছু সামনে আসছে তা কতই না গুরুতর বিষয়… অতএব, (শোন) তোমরা যারা এখনো জীবিত আছো,….জেনে রাখো, তোমার (মৃত্যুর পর) তোমার জন্য তিনভাবে দু:খ করা হবে,

১. যারা তোমাকে বাহ্যিক ভাবে চিনতো, তারা তোমাকে বলবে হতভাগা,

২. তোমার বন্ধুরা বড়জোর তোমার জন্য কয়েক ঘন্টা বা কয়েক দিন দু:খ করবে, তারপর, তারা আবার গল্পগুজব বা হাসিঠাট্টাতে মত্ত হয়ে যাবে,

৩. যারা খুব গভীর ভাবে দু:খিত হবে, তারা তোমার পরিবারের মানুষ, তারা এক সপ্তাহ, দুই সপ্তাহ, একমাস, দুইমাস কিংবা বড় জোর একবছর দু:খ করবে। এরপর, তারা তোমাকে স্মৃতির মণিকোঠায় যত্ন করে রেখে দেবে!!!

মানুষদের মাঝে তোমাকে নিয়ে গল্প শেষ হয়ে যাবে, অত:পর, তোমার জীবনের নতুন গল্প শুরু হবে, আর, তা হবে পরকালের জীবনের বাস্তবতা, তোমার নিকট থেকে নি:শেষ হবে (তোমার):

১. সৌন্দর্য্য

২. ধনসম্পদ

৩. সুস্বাস্থ্য

৪. সন্তান-সন্তদি

৫. বসতবাড়ি

৬. প্রাসাদসমূহ

৭. জীবনসঙ্গী

তোমার নিকট তোমার ভালো অথবা মন্দ আমল ব্যতীত আর কিছুই অবশিষ্ট থাকবে না, শুরু হবে তোমার নতুন জীবনের বাস্তবতা, আর, সে জীবনের প্রশ্ন হবে: তুমি কবর আর পরকালের জীবনের জন্য এখন কি প্রস্তুত করে এনেছো? ব্স্তুত: এই জীবনের বাস্তবতা সম্পর্কে তোমাকে গভীর ভাবে মনোনিবেশ করা প্রয়োজন, এজন্য ‍তুমি যত্নবান হও,

১. ফরজ ইবাদতগুলোর প্রতি

২. নফল ইবাদতগুলোর প্রতি

৩. গোপন সাদাকাহ’র প্রতি

৪. ভালো কাজের প্রতি

৫. রাতের নামাজের প্রতি

যেন তুমি নিজেকে রক্ষা করতে পারো….

তুমি কি জানো কেন মৃতব্যক্তিরা সাদাকাহ প্রদানের আকাঙ্খা করবে, যদি আর একবার দুনিয়ার জীবনে ফিরতে পারতো? আল্লাহ বলেন: ((হে আমার রব! যদি তুমি আমাকে আর একটু সুযোগ দিতে দুনিয়ার জীবনে ফিরে যাবার, তাহলে আমি অবশ্যই সাদাকাহ প্রদান করতাম….)) তারা বলবে না,

উমরাহ পালন করতাম,

অথবা, সালাত আদায় করতাম,

অথবা, রোজা রাখতাম,

আলেমগণ বলেন: মৃতব্যক্তিরা সাদাকাহ’র কথা বলবে, কারণ তারা সাদাকাহ প্রদানের ফলাফল তাদের মৃত্যুর পর দেখতে পাবে,আর, কারণ, উত্তম কথাও এক ধরণের সাদাকাহ।।।

২৩/০৩/২০২৪-মুর্তজা ভাইয়ের সাথে সমস্যা

শেষ পর্যন্ত ব্যাপারটা ঘটেই গেলো যা আমি বহুদিন যাবত মনে মনে ভেবেছিলাম। তাহলে শেষ পর্যন্ত কি ঘটে গেলো? ব্যাপারটা আসলে কি? ব্যাপারটা একটু তাহলে খুলেই লিখি।

ছোট একটা ভূমিকাঃ  বহুদিন যাবত আমি আর মুর্তজা সাহেব একসাথে গার্মেন্টেসের ব্যবসা করি। প্রায় ১৮ বছরের অধিক। এই বিস্তর সময়ের মধ্যে আমি চেষ্টা করেছি যাতে কখনো মুর্তজা সাহেবের সাথে আমার কোন বিষয়ে মনোমালিন্য না হয়। সমঝোতা এবং ছাড়ের ব্যাপারটায় আমি বেশী সচেতন ছিলাম সবসময়। আর এর একটা বিশেষ কারন ছিলো যে, আমি কখনো গার্মেন্টস ব্যবসায় জড়িত ছিলাম না, বায়ারদের সাথে আমার খুব একটা আনাগোনা ছিলো না, আর না আমি এই ফিল্ডে খুব এক্সপার্ট। অন্যদিকে মুর্তজা সাহেব আমার সাথে যুক্ত হবার আরো ১৬/১৭ বছর আগ থেকেই এই ফিল্ডে রয়েছেন বিধায় আমি ধরেই নিয়েছি তিনি যেটা করবেন সেটা একাস্পার্ট অপিনিয়নই। নামাজি লোক, হজ্জ করেছেন, ওমরা করেন প্রায়ই। অসৎ বলে কখনোই মনে করিনি। দ্বিতীয় কারনটি ছিলো-আমি আসলে একটা সেফ অফিস চেয়েছিলাম। আমি যদি অন্য কোথাও চাকুরিও করতাম, তাহলেও আমাকে হয়তো মাসিক কিছু বেতন দিতো এবং স্বাভাবিকভাবেই আমি শুধু কাজই করতাম। সেখানে অফিস করার একটা বাধ্যবাদকতা থাকতো, অফিস তাইমের একটা চক্কর ছিলো, ছুটিছাটা নিয়েও একতা সীমাবদ্ধতা ছিলো। কিন্তু আমার এই রিভারসাইডে সেগুলির কোনো বাধ্যবাধকতা ছিলো না। এটাই কি কম নাকি?  তাই আমিমনে মনে এটাই ভাবতাম, আমি একজন স্বাধীন কর্মচারী। ক্ষতি কি? আমি তো আমার অন্যান্য বন্ধুদের থেকে বিস্তর ভাল আছি। ফলে ছাড় দিয়েও যদি এই পরিবেশটা রাখা যায় আমি রাজী ছিলাম।

যখন রিভার সাইড আমি নেই, তখন ছিলো ম্যানুয়াল মেশিনারিজ। সেই রিভার সাইড সুয়েটার্সের ম্যানুয়েল মেশিনারিজ থেকে ধীরে ধীরে যখন অটোমেটিক জ্যাকার্ড মেশিনে রুপান্তরীত হচ্ছিলো, তখন থেকেই বুঝতেছিলাম রিভার সাইড ধীরে ধীরে একটা ভালো পর্যায়ে দাড়াচ্ছে। ধীরে ধীরে রিভারসাইড কমপ্লায়েন্স  কোয়ালিফাই করলো, ভালো ভালো বায়ার যুক্ত হলো। বেশ ভালো চলছে। বর্তমান রিভার সাইড যেখানে আছে সেখানে আমরা আশেপাশের সব দোকানপাট আস্তে আস্তে নিজেদের ভাড়ার কব্জায় নিয়ে প্রায় ৯০% জায়গা ফ্যাক্টরীর মধ্যে যোগ করে ফেলেছি। ফ্যাক্টরীর এই এক্সপাংশনের জন্য সবচেয়ে বেশী কার্যকর ভূমিকা রেখেছে কালা জরীফ নামে একজন নামকরা সন্তারসী। কিন্তু আমার সে খুব ভক্ত। ফ্যাক্টরীর আয়তন বৃদ্ধি পেয়েছে অনেক গুন। এরপরে আমরা আরো অনেক মেশিনারিজ আমরা ইম্পোর্ট করেছি এখনো করছি। সব মেশিনারিজ আমাদের রিভার সাইড ফ্যাক্টরীতে জায়গা হয় না বলে প্রথমে অতিরিক্ত ইম্পোর্টেড মেশিনারিজ গুলি আমরা গাজীপুরে এ-জেড নামক একটা ভাড়ার স্পেসে রেখে আমরা রিভার সাইডের কাজ গুলিই করি। এবার এ-জেড কি সেটা না বললে পরবর্তী কথাগুলি বুঝতে অসুবিধা হবে।

এ জেডঃ         এ জেড হলো মুর্তজা সাহেবের নিজস্ব একটা ম্যানুয়েল নিটিং এর ফ্যাক্টরী যা তিনি এক সময় চালাতেন। এটা ছিলো গাজীপুর। সেখানে সব কিছুই ছিলো মুর্তজা সাহেবের। কিন্তু এ-জেড এর কোনো কমপ্লায়েন্স সিস্টেম ছিলো না, এখনো নাই। তিনি সেখানে লোকাল বায়ারদের সাথে লোকালী কাজ করতেন। মুর্তজা ভাই যখন রিভার সাইডের ২০০৬ সালের শেষের দিকে সাথে যুক্ত হন, তখন তিনি আর লোকাল বায়ারদের সাথে এ-জেডের মাধ্যমে কাজ করতেন না, সব কাজ রিভার সাইড থেকেই করতেন। অর্থাৎ এ-জেড রিভার সাইডের জন্য একটা সাব কন্ট্রাক্ট ফ্যাক্টরী হিসাবে পরিগনিত হয়। এর সমস্ত খরচ যেমন মুর্তজা সাহেবের, তেমনি এর সমস্ত লাভও মুর্তজা সাহেবের। এ নিয়ে আমার কোনো মাথা ব্যথা ছিলো না। কিন্তু সমস্যা হলো, যদিও এ-জেড আমাদের রিভার সাইডের সাব কন্ট্রাক্ট করে কিন্তু এর জন্য মালিকের অনেক খরচ বহন করতে হয়। সেই খরচটা কম নয়। ফলে, এক সময় মুর্তজা সাহেব আমাকে জানালো যে, আমরা যদি এ-জেড ফ্যাশনকে পুরুপুরি রিভার সাইডের সাথে মার্জ করি, তাহলে এ-জেড এর সব বেতন ভাতা, কারেন্ট বিল, পেটি ক্যাশ ইত্যাদি দিয়ে এর আউটপুট আমরা শতভাগ নিতে পারি, এর বিনিময়ে মুর্তজা সাহেবকে শুধুমাত্র মাসে আড়াই লক্ষ টাকা লাভ দিতে হবে। কারন সব মেসিনারিজ তো তার। আমি ব্যাপারটা নিয়ে কোনো দ্বিমত করিনি, আসলে আমি কখনো দ্বিমত করতে চাইও নাই। আমি রাজী হলাম, আর না হয়েও উপায় নাই কারন মুর্তজা ভাই চেয়েছেন আর সে রিভার সাইডের চেয়ারম্যানও বটে।

ধীরে ধীরে আমরা যখন অটোমেটিক জ্যাকার্ড মেশিন বাড়াতে থাকি, আর সেগুলি রিভার সাইডের বাইরে প্রথমে এ-জেড ফ্যাশন ফ্যাক্টরিতে স্থাপন করি। যদিও এ-জেড ফ্যাশনে কোন গ্যাস কানেকশন নাই, আমরা ইচ্ছে করলে এই সব জ্যাকার্ড মেশিন আমার পলাশপুর মা ইন্ডাস্ট্রিজেও (যেটা আমার নিজস্ব ফ্যাক্টরী) রাখতে পারতাম। কিন্তু কোনো না কোনো কারনে আমি বুঝতে পেরেছিলাম যে, মুর্তজা সাহেব পলাশপুর আমার জায়গায় কোনো মেশিনারিজ রাখতে চান না যদিও পলাশপুর রিভার সাইড থেকে খুবই কাছে এবং আমাদের নিজস্ব জায়গা। ব্যাপারটা আমার কাছে একটু রহস্যজনক মনে হলেও কিছু বলিনি কিন্তু মাথায় ছিলো যে, হয়তো কোনো এক সময়ে মুর্তজা সাহেব উক্ত পুরু মেশিন সমেত এ-জেড ফ্যাশন নিজের মনে করে আলাদা হয়ে যেতেও পারেন। ওই যে লেখার প্রথমেই বলেছিলাম যে, যে ব্যাপারটা আমি মনে মনে আচ করতেছিলাম, এটাই সেটা।  তারপরেও আমি ভয় পাইনি কারন এটা দিবালোকের মতো সত্য যে, মেশিনারিজ তার নিজের নয়। ইচ্ছে করলেই মুর্তজা যা খুশি তাইই করতে পারবে না। উনি যে পরিকল্পনায় মনে মনে ছক কষছেন সেটা বাস্তবে রুপ হয়তো কোনোদিন নিবেও না যদিও তিনি এতাই আশা করে বসে আছেন।

যতোই আমরা অটোমেটিক মেশিনারিজ ইম্পোর্ট করছি, তার সাথে পাল্লা দিয়ে এ-জেড এর পুরাতন ম্যানুয়েল মেশিনগুলিও ফ্যাক্টরী থেকে বিতাড়িত হচ্ছে। আর সেই মেশিন গুলির বিক্রির টাকা কিন্তু মুর্তজা ভাইই নিচ্ছেন। যদিও এ জেড এর মেশিনারিজ এক সময় ক্রমেই নিঃস্ব হয়ে শুন্য হয়ে গেলো, তখন অবধি মুর্তজা ভাই সেই আড়াই লাখ টাকাই প্রোফিট নিতে থাকলেন। এ-জেড এ আগের কোনো মেশিনারিজ নাই, সেখানে সব খরচ আমাদের রিভার সাইড থেকে দেয়া, কারেন্ট বিল, গ্যাস বিল, নাইট বিল, ওভার টাইম বিল, সেলারী, পেটি ক্যাশ সব কিছু রিভার সাইড দেয়। রিভার সাইডের মেশিন, শুধু ভাড়ার কারনে জমির মালিককে আমরা তাকে ভাড়া দেই। এরপরেও মুর্তজা ভাই আড়াই লাখ টাকা প্রোফিট নিতেই থাকলেন। এটা অন্যায় এবং পাপ।  ব্যাপারটা নিয়ে আমি খুব একটা উচ্চবাচ্য করছিলাম না। তার কারন হল-এই আড়াই লাখ টাকার মধ্যে আমি যদি ৬৫% তার শেয়ারের ভাগ ধরি তাতে আমার মাত্র লস হবে ৩৫% টাকার সমপরিমান বা প্রায় ৮৭৫০০ টাকার পরিমান। সুধুমাত্র এই কয়টি টাকার জন্য মুর্তজা ভাইয়ের সাথে আমি কোনো মনোমালিন্যের মধ্যে যেতে চাইনি। আমি মেনে নিয়েছি এক রকমের। এখানে বলে রাখা ভালো যে, এ-জেড এর ট্রেড লাইসেন্স, ভাড়ার চুক্তি, কারেন্ট বিল, এবং অন্যান্য করেস্পন্ডেন্স সব মুর্তজা ভাইয়ের নামেই হয়। আমি খুব কম যাওয়া আসি করি বিধায় বাইরের খুব কম লোকই জানে যে, এ-জেড আসলে কোন ফ্যাক্টরিই না, এবং এটা বেসিক্যালী রিভার সাইডের একটা অংশ। আর মুর্তজা ভাইও এতা বলতে পছন্দ করেন না যে, আমিও এ-জেড এর ম্যানেজিং ডাইরেক্টর। আমি বুঝতে পারি কিন্তু কিছু বলি না। হয়তো মুর্তজা ভাই বুঝতে পারেন না যে, আমি বুঝতে পারি। আমিও খুব কম যাই ওখানে। কারন উনিই যদি কষ্ট করে সামাল দেন, খামাখা আমি আর কষ্ট করার দরকার কি। চলুক না এভাবেই।

এর মধ্যে মুর্তজা ভাই তার এক খন্ড জমি (গাজীপুরেই), সেখানে নিজের একটা বিল্ডিং করার মনস্থ করেন। আমরা রিভার সাইডের পাশাপাশি আরো একটা ভিন্ন নামে কোম্পানী খুলেছিলাম, যার নাম আন-নূর এপারেলস। এখন একতা প্রশ্ন জাগতে পারে- আরেকটা নতুন নামে কোম্পানী কেনো খুললাম। সরকার বাহাদূর নতুন নতুন মার্কেট উদ্ভাবনের নিমিত্তে কিছু কিছু ফ্যাক্টরীকে ১% থেকে ৫% ইন্সেন্টিভ দেয়। যেমন জাপানি, ব্রাজিল কিংবা এ জাতীয় বাজার যা আমাদের তথাকথিত বাজার গুলির মধ্যে পড়ে না, সেসব সেক্টরের জন্য প্রনোদনা। আর এটা ক্যাশ প্রনোদনা। এই প্রনোদনায় যারা ৫০ মিলিয়ন ডলার পর্যন্ত রপ্তানি করে তারা পায় ৫% প্রনোদনা আর যারা ৫০ মিলিয়নের উপরে রপ্তানি করে তারা পায় ১% প্রনোদনা। আমাদের রিভার সাইড বছরে ১০০ মিলিয়নের উপরে রপ্তানি করে বিধায় আমরা মাত্র পাই ১% প্রনোদনা। তো আমরা এই আন নূর তৈরী করলাম যাতে এই কোম্পানি থেকে ৫০ মিলিয়নের কম রপ্তানি দেখিয়ে সরকারের কাছ থেকে ৫% ক্যাশ ইন্সেন্টিভ নিতে পারি। এই লক্ষ্য সামনে রেখে আমরা আননূর এর ব্যাপারে যা যা সার্টিফিকেট লাগে যেমন ই আর সি, আই আর সি, ট্রেড লাইসেন্স, ফায়ার লাইসেন্স, ইত্যাদি সেগুলি ধীরে ধীরে আপডেট করছিলাম। কিন্তু আমরা এ পর্যন্ত আন নুর থেকে কোনো প্রকার এলসি কিংবা ব্যাক টু ব্যাক খুলি নাই। এবার সেই আন নূর এপারেলস নিয়ে কিছু কথা বলি।

আন নূর এপারেলসঃ  আমরা আরো নতুন মেশিন আনার চেষ্টা করছিলাম এবং সেই নতুন মেশিন গুলি আবার এখন না এ-জেড না রিভার সাইডে আর রাখা সম্ভব হচ্ছিলো। এবারো আমরা ইচ্ছে করলে নতুন সব মেশিনারিজ আমার পলাশপুরে রাখতে পারতাম কিন্তু ওই যে বললাম, মুর্তজা সাহেব কখনোই চান নাই যে, মেশিনারিজ আমার কোন নিজস্ব জায়গায় থাকুক। তার কোন না কোনো দুরভিসন্ধিমুলক পরিকল্পনা তো ছিলই। আমি তার প্রতিটি স্টেপ ওয়াচে রেখেছিলাম। “আন নূর এপারেলস” নামে যে নতুন একটা কোম্পানি জয়েন্ট স্টক থেকে রেজিষ্টার্ড করেছিলাম, তার শেয়ার হোল্ডার হলো আমরা দুজন এবং ৩য় শেয়ার হোল্ডার হিসাবে “রিভার সাইড সুয়েটার্স লিমিটেড”।

এই পরিস্থিতি যখন চলমান, তখন মুর্তজা ভাই গাজিপুরের তার নিজের জায়গায় (১০ শতাংশের উপর) ৬ তালা একটা বিল্ডিং কন্সট্রাক্সনের পরিকল্পনা করলেন। ওটাকে আমরা আননূর এপারেলস হিসাবে পরিগনিত করার লক্ষ্যেই করা হয়েছিলো যদিও বিল্ডিং করা মানেই সেটা আননুরের নয়। বিল্ডিং এবং জায়গা মুর্তজা ভাইয়ের, এটা আননূরের নয়, ফলে আননূর এপারেলস কখনই ওই বিল্ডিং ক্লেইম করতে পারে না যদিও সেখানে আননুর এপারেলস হিসাবে ফ্যাকটরি চলমান থাকে। আন নূর এপারেলসের সাথে মুর্তজা ভাইয়ের তৈরী করা বিল্ডিং এর মধ্যে সম্পর্ক আসলে শুধু একটা ভারা। আর কিছুই না।

যাই হোক, বিল্ডিং করার জন্য মুর্তজা ভাই রিভার সাইড থেকে অনেক টাকা নিলেন নিজের নামে ড্রইং হিসাবে। প্রায় সোয়া কোটি টাকা। মুর্তজা ভাই প্রথমে এই ড্রইংস গুলি নিজের নামে সাভাবিক নিয়মেই আমরা যেভাবে ড্রইং করি সেভাবেই ড্র করছিলেন। ফলে কোন অসুবিধা মনে হয় নাই। উনি ড্র করলে আমারো ড্র করার কথা এটাই নিয়ম, কিন্তু যদি ড্র আমি না করি, তাহলে এক সময় উনি বেশী ড্র করার কারনে আমার কাছে ঋণী হবেন এবং উনি আমাকে টাকা প্রদান করবেন এটাই এ যাবত কালের ফর্মুলা (আমাদের ড্রইংস এর যে নীতি সেতা নীচে একটূ আলাপ করলাম)। মুর্তজা ভাই খুবই চতুর লোক। যেই না বিল্ডিংটা রেডি হয়ে গেলো, তখন তিনি আমাদের রিভার সাইডের কিছু জ্যাকার্ড মেশিন ওখানে শিফট করতে আমাকে অনুরোধ করলেন এইভাবে যে, আমরা আর কিছু নতুন মেশিন আনবো, তখন ওই মেশিনগুলি আবার রিভার সাইডে স্থানান্তর করবো। আর কিছু জ্যাকার্ড এ-জেড থেকেও এই বিল্ডিং এ আনা হলো। ব্যাপারটা আমার কাছে খুব একটা ভালো ঠেকছিলো না। মনে হচ্ছিল মুর্তজা ভাই কোনো একটা এমন পরিকল্পনা করছেন যেখানে আমাকে রাখার দরকার নাই এবং উনি একা একাই ব্যবসা করতে চান। ফলে, যে সব মেশিনগুলির পেমেন্ট ইতিমধ্যে দেয়া শেষ হয়ে গেছে, সেসব মেশিন গুলিই ওখানে শিফট হচ্ছিল আর যে সব মেশিনগুলির পেমেন্ট এখনো শেষ হয় নাই, সেগুলি শুধু রিভার সাইডে রইলো। একটা সিম্পটম তো আমার কাছে প্রায় দ্রিশ্যমান মনে হচ্ছিলো যে, মুর্তজা ভাই সেপারেট হবার পরিকল্পনা করছেন।

এইটাই সেই আমার ভাবনা যেটা দিয়ে আমি শুরু করেছিলাম লেখাটা। তারপরেও আমি কিছুই তাকে বলিনি। শুধু অপেক্ষা করছিলাম দেখি কোথাকার জল কোথায় গড়ায়।

এবার একটু পিছনের দিকে যাই।

ড্রইংস সিস্টেমঃ  রিভার সাইডে ডাইরেক্টরদের মধ্যে টাকা নেবার একটা সিস্টেম আছে। সে ব্যাপারে একটু আলোকপাত করি। রিভার সাইড সুয়েটার্স লিমিটেডে আমাদের টাকা নেবার সিস্টেম হলো যার যখন যা দরকার পড়ে সেটাই আমরা ড্রয়িংস আকারে নেই। পরবর্তিতে বছর শেষে ৩৫% আর ৬৫% অনুপাতে কে কত প্রাপ্য সেটা ক্যাল্কুলেট করি। একটা উদাহরন দেইঃ

(ক)      ধরুন, আমার টাকা দরকার ৫০ লাখ টাকা। আমি রিভার সাইড থেকে ৫০ লাখ টাকা ড্রইংস করলাম আমার নামে। ঠিক এই সময়ে মুর্তজা সাহেব নিলেন ১০ লাখ টাকা। তাহলে হিসাবটা দাঁড়াবে এভাবে-

(১)       এম ডি সাহেব ড্রইংস                = ৫০ লাখ

(২)       চেয়ারম্যান সাহেব ড্রইংস          =১০ লাখ

মোট ড্রইংস                                          = ৬০ লাখ

এমডি ৩৫% অনুযায়ি ড্রইং করতে পারেন  =(৩৫/১০০) x ৬০০০০০ = ২১০০০০০ টাকা

চেয়ারম্যান ৬৫% অনুযায়ী ড্রইং করতে পারেন =(৬৫/১০০০) x  ৬০০০০০০ = ৩৯০০০০০  টাকা

কিন্তু এমডি ড্রইং করেছেন  = ৫০ লাখ। আর পার্সেন্টেজ অনুযায়ী ড্রইং করতে পারেন ২১ লাখ টাকা। অন্যদিকে চেয়ারম্যান ৬৫% অনুযায়ি ড্রইং করতে পারেন ৩৯ লাখ টাকা কিন্তু তিনি ড্রং করেছেন ১০ লাখ টাকা। তাতে এমডি ওভারড্র করেছেন ২৯০০০০০ টাকা, আর চেয়ারম্যান লেস ড্র করেছেন ২৯০০০০০ টাকা। এই ২৯০০০০০ টাকা এমডি সাহেব বেসিক্যালি দিয়ে দিবেন চেয়ারম্যান সাহেবকে। এটা ফ্যাক্টরি দেবার কথা নয়।

(খ)       আরেকটা ফর্মুলা হলো (ওই একই নিয়ম আসলে) যে, ধরুন আমি ড্র করলাম ৫০ লাখ টাকা।  এবার ৩৫% অনুযায়ি আমি যদি ৫০ লাখ টাকা ড্র করি, তাহলে চেয়ারম্যান সাহেব তার ৬৫% অনুযায়ী ড্র করতে পারবেন ৯৩ লাখ টাকা। সেক্ষেত্রে ফ্যাক্টরি এমডি এবং চেয়ারম্যানকে (৫০+৯৩) = ১৪৩ লাখ টাকা প্রদান করবে। এখানে কোনো ডাইরেক্টর কারো কাছেই ব্যক্তিগতভাবে রিনী নয়। কিন্তু আগেরটায় ডাইরেক্টরগন একে অপরের উপর রিনী থাকেন।

আমরা দুভাবেই টাকা ড্রইংস করি।

এই প্রথম পদ্ধতিতে আমার এবং মুর্তজা ভাইয়ের মধ্যে ড্রইংস নিয়ে একটা বিস্তর ফারাক হয়ে যায়। ২০১০ থেকে ২০১৪ পর্যন্ত আমি মুর্তজা ভাইয়ের থেকে অথবা ফ্যাক্টরী থেকে এই নিয়মে প্রায় ৯ লাখ টাকা পাইতাম। কিন্তু ২০১৪ সাল থেকে ২০১৮ সাল অবধি আমি প্রায় এক কোটি চুয়াল্লিশ লাখ টাকা বেশি ড্র করে ফেলি। এবং মুর্তজা ভাই ফ্যাক্টরী থেকে এক কোটি চুয়াল্লিশ লাখ টাকা কম ড্র করেন। এর মানে এই যে, বেসিক্যালি মুর্তজা ভাই এই এক কোটি চুয়াল্লিশ লাখ টাকা আমার কাছে ব্যক্তিগতভাবে প্রাপ্য।

নাজিমের আমলে ফ্যাক্টরীকে দেয়া আমার অগ্রীমঃ

রিভার সাইড সুয়েটার্স যখন আমি নাজিম থেকে একেবারে বুঝে নেই, তখন নাজিম উদ্দিন আমার কাছ থেকে দুই কোট পচিশ লাখ টাকা অগ্রীম নিয়েছিলো। আর এটা ছিল কিছু ক্যাশে আর বেশীরভাগ জমির বিনিময়ে, প্রায় ৩৩ একর জমির মাটি নাজিম উদ্দিন কেটে বসুন্ধরাকে দিয়েছিলো। এখন যেকাহ্নে মোল্লার হাট, তার পাশে যে খালটা আছে, এই পুরু খালটা আমাদের জমির উপর নির্মিত।

বর্তমানে রিভার সাইড যে বিল্ডিং এর উপর স্থাপিত, সেই বিল্ডিংটা ছিলো নাজিমুদ্দিনের। প্রতিমাসে এই রিভার সাইড বিল্ডিং এর ভাড়া বাবদ ধার্য্য ছিলো আড়াই লাখ টাকা। আর এ ব্যাপারে একটা লিখিত চুক্তিও ছিল। নাজিমুদ্দিন ২০১৬ সালে মারা যাওয়ার পর,  তিনজন (১) বারেক সাহেব (২) নাজিমুদ্দিনের পরিবার (৩) কালা জরীফ এই বিল্ডিং এর মালিকানা দাবি করে আমার কাছ থেকে ভাড়া আদায়ের চেষ্টা করে। কিন্তু কেহই আমার দেয়া অগ্রীমের টাকার জিম্মাদার হতে রাজি ছিল না।

অতঃপর আমি আমার অগ্রীম টাকা সমন্নয় করার লক্ষে আমি ভাড়া দেয়া বন্ধ করে দেই এবং ভাড়ার মাধ্যমে আমি আমার অগ্রীম টাকা সমন্নয় করার চেষ্টা করি। এভাবে প্রায় ৪০ মাস আমি ভারা না দিয়ে এক কোটি টাকা সমন্নয় করি কিন্তু টাকাটা আমি ফ্যাক্টরি থেকে কখনো নেইনি। ফ্যাক্তরিতেই টাকাটা ছিল।  ৪০ মাস পর কালা জরিফ আমার অগ্রিম টাকার জিম্মাদার হয় এবং সে এইমর্মে জানায় যে, বাকি যে সোয়া কোটি টাকা বাকী আছে, সেই টাকা থেকে সে এক কোটি টাকার জিম্মাদার হবে। ২৫ লাখ টাকা তাকে মাফ করতে হবে।

ফলে রিভার সাইডের পক্ষে আমি নিজে মোট ২ কোটি টাকা অগ্রীম প্রদান করি যা আমি প্রাপ্য রিভার সাইডের কাছে। ১ কোটি টাকা ভাড়া সমন্নয় আর আরেক কোটি সরাসরি ক্যাশ এডজাষ্টমেন্ট জরীফের অগ্রীম নেয়ার সাথে।

ওভার ড্রইং বা আন্ডার ড্রয়িং কিভাবে এডজাষ্ট হয়ঃ

আমরা আমাদের চাহিদা মতো যখন যা টাকা লাগে সেটাই নিতে থাকি ফ্যাক্টরি থেকে। দুজনের মট ড্রয়িংএকসাথে যোগ করে আমরা তার মধ্যে ৩৫% -৬৫% হিসাবে ভাগ করে দেখি কে কত বেশী ওভার বা লেস ড্র করেছে। যিনি অভার ড্র করেছেন তিনি আসলে অন্য জনের কাছে ঋণী। মুর্তজা সাহেব একটু বেশী চালাক মানুষ। যখন তিনি আমার কাছে ঋণী থাকেন, তখন কিছুই বলেন না, চুপচাপ থাকেন। কিন্তু কোনো কারনে যদি আমি উলটা তার কাছে ঋণী থাকি, তিনি সেই সুযোগটা মিস করেন না, তিনি হয় আমার জমি না হয় অন্য কোনো এসেট বা কোনো এসেট না থাকলে আমার মুল শেয়ারের হাত দেন। আর এভাবেই আমি আমার আর্মি থেকে পাওয়া পুর্বাচল প্লটটা তার কাছে হারিয়েছি, এভাবেই আমি বেশ কিছু সাফারও করেছি। আমি তার মতো নাক কান উল্টিয়ে বেহায়ার মতো কোন কথা বলতে পারিনা। কিন্তু সে পারে।

তো ২০১৮ সালে হটাত করে আমরা আবার আমাদের ড্রইংস নিয়ে হিসাব করি (হিসাবটা উনিই করেন সুযোগ বুঝে) এবং তাতে দেখা যায় আমি ওভার অল প্রায় ১ কোটি ৪৪ লাখ টাকা তার থেকে বেশী ড্র করেছি। অর্থাৎ উনি ১ কোটি ৪৪ লাখ টাকা কম ড্র করেছেন।

ঠিক এই সময়ে উনি একাউন্ট অফিসার মাধ্যমে আমাকে টাকাটা সমন্নয় করতে ইংগিত দিলেন। আমি প্রস্তুত ছিলাম না কারন আমার পরিবারে তখন বেশ কিছু সেটব্যাক চলছিল। যেমন উম্মিকার বিয়ের পর রানার সাথে এবং রানার পরিবারের সাথে আমাদের বেশ একটা কোন্দল চলছিলো। অন্যদিকে আমার মা ইন্ডাস্ট্রিজ নিয়ে আমি একটু বিপাকেই ছিলাম। বেশ কিছু লোনের মধ্যে জর্জরিত ছিলাম। মুর্তজা সাহেবের এই ইংগিতে আমি অসস্থি ভোগ করছিলাম। একটু মেজাজও খারাপ হচ্ছিলো। তখন সবেমাত্র আমরা অটোমেশনে যাচ্ছি। অর্থাৎ ম্যানুয়েল মেশিন থেকে অটোমেটিক মেশিনে সুইচ করছি। যাই হোক, সবকিছু মিলিয়ে মনমেজাজ অতোটা ভাল যাচ্ছিলো না। খুব চাপ ফিল করছিলাম। মনে মনে ভাবলাম, মুর্তজা ভাইয়ের ডিমান্ড অনুযায়ী আমার হাতে থাকা কিছু শেয়ার ওনার কাছেই বিক্রি করে দিয়ে মা ইন্ডাস্ট্রিজের লোন, আমার ঋণ, এবং অন্যান্য কিছু লায়াবিলিটিজ শোধ করে ফ্রি হয়ে যাই। সে মোতাবেক আমি একটা নোট শিট তৈরী করি। মুর্তজা ভাইয়ের পরিকল্পনা ছিল আমার থেকে প্রাপ্ত শেয়ার গুলি তিনি তার স্ত্রীর নামে লিখে নিয়ে ওনাকেও ডাইরেক্টর পদে ফ্যাক্টরীতে আনবেন। আমার আসলে বুঝতে বাকী রইলো না যে, উনি ধিরে ধীরে আমাকে আউট করে দিয়ে এখন তিনি পুরু পরিবার কেন্দ্রিক করতে চাচ্ছেন। অনেক সুদুর পরিকল্পনা। এখানে একটা কথা বলা বাহুল্য যে, এর আগেও তিনি আমাকে বাদ দিয়ে কখনো কখনো অন্যের সাথে যৌথ ব্যবসায় মনোনিবেশ করতে গিয়ে লস করেছেন এবং আবার এই রিভার সাইডেই ফিরে এসেছেন। কিন্তু আবারো চেষ্টা করেছেন। কখনো আমাকে জানিয়ে, কখনো আমাকে না জানিয়ে। বেশীরভাগ ক্ষেত্রেই গোপনে। কিন্তু প্রতিবারই উনি তাতে বিশাল অংকের টাকা লসই করেছেন এবং আবার ফিরে এসছেন এই রিভার সাইডেই।

যাই হোক যেটা বলছিলাম। মুর্তজা সাহেব এবার আমার ওভার ড্রইংস নিয়ে বা ওনার আন্ডার ড্রইংস কে কেন্দ্র করে আমার ৩৫% শেয়ার থেকে রিভার সাইডের বর্তমান বাজার মুল্যের শেয়ায়র ভ্যালুতে সেই ওভার ড্রইংস এর টাকায় সম পরিমান শেয়ার তার স্ত্রীকে দিতে বললেন। খুব ব্যথা লাগল মনে এবং কষ্টও লাগলো। কেনো কষ্ট লাগল সেটাও পরে আসছি। এই কষ্টভরা আবেগে আমার মনে হলো, ধ্যুত, এতো যখ লোভ মুর্তজার সাহেবের, দেই শেয়ার দিয়েই দেই। তাই আমি একটা প্রস্তাবনা লিখি ঠিক এভাবেঃ (এখানে বলা উচিত যে, আমার প্রস্তাবনায় মারাত্তক একতা ভুল ছিল যা আমি প্রস্তাব লিখার সময় মাথাতেই ছিল না।)

রিভার সাইড এর মেজর আখতারের ২০% শেয়ার বিক্রির প্রস্তাবনা সম্পর্কে নোট

লোনের হিসাবঃ

(১)        রিভার সাইড থেকে মেজর আখতার কর্তৃক লোন নেওয়া        = টাকা ১,৪৪,৬৯,৩০৫.০০  

(২)        রিভার সাইড থেকে মেজর আখতার পাবে                            = টাকা ৬১,৫০,০০০.০০ ******

—————————————————————————————— ——————-

রিভার সাইডে মেজর আখতারের অবশিষ্ট লোন থাকবে                      = টাকা ৮৩,১৯,৩০৫.০০

***** টাকা ৬১,৫০,০০০.০০ এটাই ছিলো মারাত্তক একটা ভুল। সেটা কিভাবে দেখি তাহলে;

12.04.2018

(1)        Rental Dues:

 

  1. Year-2014        = 02 Months
  2. Year 2015         = 12 months
  3. Year-2016        = 12 Months
  4. Year- 2017       = 12 Months
  5. Year- 2018       = 01 Months

            —————————————————————-

            Total Months Rental Dues       = 39 Months

            Each Months Rental                 = 250000.00

            —————————————————————

            Total Taka Dues as Rental        = 9750000.00

Less  Money

(a)          Loan to Barek                                  = 700000

(b)          Bribe to OC Munir (Keranigonj) = 500000

 (c )         Loan to Shamsu Bhai                    = 300000

(d)          Factory Repair                                 = 2350000

—————————————————————————–

Total Deduction                                             = 3850000

So, Major Akhtar was generous to waive the above expenditures from his personal advance and agreed to get 61500000 taka instead of 1 Crore.

৩৮৫০০০০ টাকা ছাড় দেয়াটা কিন্তু ভুল ছিলো না, আমার অগ্রোম তাকা থেকে মুর্তজা ভাইয়ের অনুরোধে ৩৮৫০০০০ টাকা আমি ছাড়তে কষ্ট হয় নাই যেমন কষ্ট হয় নাই যখন জরীফও ২৫ লাখ তাকার জিম্মাদার হয় নাই। তাতে আমি মোট (২৫ + সাড়ে ৩৮) =সাড়ে ৫৩ লাখ টাকা ছাড় দিলাম।  এতাও কোন মারাত্তক ভুল না, এতা ইচ্ছাক্রিতভাবে ছাড়। মারাত্তক ভুলটা হয়েছে যে, আমি যে আরো ১ কোটি টাকা জরীফকে অগ্রীম হিসাবে দিয়েছি এবং সে আমার বাকি ১ কটি টাকার যে অগ্রিমের জিম্মাদার হয়েছিলো, সেই ১ কোটি টাকা আমি ধরিই নাই। সেই তাকা না ধরার কারনে আমি শুধু লিখেছিলাম যে, আমি রিভার সাইড থেকে পাই 

(২)        রিভার সাইড থেকে মেজর আখতার পাবে                            = টাকা ৬১,৫০,০০০.০০ ******

 অথচ হবার কথা                                                                       = টাকা ১,৬১,৫০,০০০.০০

যদি এতাই হয়, তাহলে তো আমি ওভার ড্র করলেও রিভার সাইড থেকে প্রাপ্য টাকা থেকে আমি মুর্তজা ভাইকে টাকা ১,৪৪,৬৯,৩০৫.০০  টাকা পে করেও আমার কাছে আর ১৭/১৮ লাখ টাকা সারপ্লাস থাকে। আমার তো কোনো শেয়ার বিক্রি করার কন কারনই নাই।

আমার এই ১ কোটি টাকার কথা একেবারেই মনে ছিলো না, আর মুর্তজা ভাইয়ের হয়ত মনে ছিলো কিন্তু তিনি চেপে গেছেন। ফলে আমার ভুলে যাওয়া ১ কোটি টাকা ছারাই আমার প্রস্তাবনা দারায় এরুপঃ

লোনের হিসাবঃ

(১)        রিভার সাইড থেকে মেজর আখতার কর্তৃক লোন নেওয়া        = টাকা ১,৪৪,৬৯,৩০৫.০০  

(২)        রিভার সাইড থেকে মেজর আখতার পাবে                            = টাকা ৬১,৫০,০০০.০০ ******

—————————————————————————————— ——————-

রিভার সাইডে মেজর আখতারের অবশিষ্ট লোন থাকবে                      = টাকা ৮৩,১৯,৩০৫.০০

শেয়ার বিক্রিঃ

(৩)        ১০০% শেয়ারের মুল্য                                                       = টাকা ১৩,১৫,০০০,০০.০০

(৪)        ২০% শেয়ারের মুল্য                                                         = টাকা ২,৬৩,০০,০০০.০০

(৫)        রিভার সাইডের অবশিষ্ট লোন বাবদ মাইনাস হবে                  = টাকা ৮৩,১৯,৩০৫.০০

————————————————————————————————————-  

মেজর আখতারের সব লোন পরিশোধ হবার পর টাকা পাবে                = ১,৭৯,৮০,৬৯৫.০০

নোটঃ

ক।        যদি মেজর আখতারের শেয়ার বিক্রির টাকা নিজস্ব সোর্স থেকে এককালীন পরিশোধ করা হয় তাহলে ভাবি       বা মুর্তজা ভাই মেজর আখতারকে মোট ১,৭৯,৮০,৬৯৫.০০ টাকা পরিশোধ করিবেন। তাহলে দুজনের ড্রইংস রিভার সাইডে শুন্য থাকবে। এখানে উল্লেখ থাকে যে, মুর্তজা ভাই যে টাকা রিভার সাইডকে লোন দিয়েছেন, তা এখানে ধরা হয় নাই। সেটা তিনি রিভার সাইড থেকে পৃথকভাবে উত্তোলন করিবেন।

খ।        আর যদি মুর্তজা ভাই উপরোক্ত ১,৭৯,৮০,৬৯৫.০০ টাকা রিভার সাইড থেকে ড্রইং করে মেজর আখতারকে পরিশোধ করতে চান, তাহলে রিভার সাইড মুর্তজা ভাইকে এবং মেজর আখতারকে নিম্নবর্ণীতভাবে টাকা ড্রইং দেখাতে হবেঃ 

            (১)        মুর্তজা ভাই ড্র করবেন (৬৫%)                              = টাকা ১,৭৯,৮০,৬৯৫.০০

            (২)        মেজর আখতার ড্র করবেন (৩৫%)                        = টাকা ৯৬,৮১,৯১৩.০০

            —————————————————————————————————–

            রিভার সাইড থেকে দুজনের নামে মোট টাকা ড্র হবে             = টাকা ২,৭৬,৬২,৬০৮.০০

গ।        বিশেষ নোটঃ  যদি মেজর আখতার রিভার সাইডে তার করা অবশিষ্ট লোন যার পরিমান টাকা           ৮৩,১৯,৩০৫.০০ এর বিনিময়ে প্রথমেই শেয়ার ট্রান্সফারের মাধ্যমে শুন্য করতে চান, তাহলে হিসাব       দাড়াবে এই রকমঃ

            (৩)        টাকা ১৩১৫০০০.০০                                             =১% শেয়ার

            (৪)        টাকা ৮৩,১৯,৩০৫.০০                                         = ৬.৩৩% শেয়ার

            (৫)        সেক্ষেত্রে মেজর আখতারের শেয়ার বাকী থাকে        = ১৩.৬৭%

            (৬)       উক্ত ১৩.৬৭% শেয়ারের মুল্য হবে                          =(১৩.৬৭% x ১৩১৫০০০.০০)

                                                                                                =টাকা ১,৭৯,৮০,৬৯৫.০০

ঘ।        সেক্ষেত্রে, তখন মুর্তজা ভাইয়ের শেয়ার পরিমান দাঁড়ায় (৬৫% + ৬.৩৩%) = ৭১.৩৩% এবং মেজর আখতারের শেয়ারের পরিমান দাড়ায় ১৩.৬৮% । তখন যদি মুর্তজা ভাই পুরু পেমেন্টটা রিভার সাইডের ড্রইং থেকে পরিশোধ করতে চান, তাহলে মেজর আখতার এবং মুর্তজা ভাইয়ের ড্রইং হবে নিম্নরূপঃ

                        (৭)        মুর্তজা ভাই ড্র করবেন (৭১.৩৩%)              = টাকা ১,৭৯,৮০,৬৯৫.০০

                        (৮)        মেজর আখতার ড্র করবেন (২৮.৬৮%)       = টাকা ৭২,২৭০৬৫.০০ 

                        ———————————————————————————————

                        রিভার সাইড থেকে দুজনের নামে মোট টাকা ড্র হবে = টাকা ২,৫২,০৭,৭৬০.০০

ঙ।        এখানে রিভার সাইডের নতুন অগ্রিম এর টাকা দেওয়া আছে ১৫,০০,০০০ টাকা যা ৬৫% এবং ৩৫%             হিসাবে পরিগনিত ছিলো। সেক্ষেত্রে সব কিছু নতুন শতকরা অনুপাতে মেজর আখতার এর পক্ষে টাকা       ৫২৫০০০.০০ এবং মুর্তজা ভাইয়ের পক্ষে বাকী ৯৭৫০০০.০০ টাকা। কিন্তু ১৫% শেয়ার ঠিক থাকার             কারনে উক্ত টাকা ৫২৫০০০.০০ থেকে ৩০০০০০.০০ টাকা মেজর আখতারের পক্ষে গন্য হবে। অর্থাৎ

           

            রিভার সাইড থেকে দুজনের নামে মোট টাকা ড্র হবে             = টাকা ২,৫২,০৭,৭৬০.০০

            গ্রাউন্ড ফ্লোরের অগ্রিম থেকে প্রাপ্য টাকার পরিমান              = টাকা ৩০০০০০.০০

            ————————————————————————————

            মেজর আখতার মোট টাকা পাবেন                                     = টাকা ২,৫৫,০০,০০০.০০

চ।         সোনালী ব্যংকে মোট লোনের পরিমান = টাকা ২,৫০,০০,০০০.০০ (সম্ভবত, একটা ব্যাংক স্ট্যাটমেন্ট   নিতে হবে চূড়ান্ত মোট কত টাকা আছে তা জানার জন্য)। উক্ত টাকার পরিশোধের ভার যদি মুর্তজা ভাই           নেন, এবং রিভার সাইড থেকে উত্তোলনের মাধ্যমে তা পরিশোধ করেন, তাহলে উক্ত টাকার যে সুদ হবে             সেটার দায়িত্বও মুর্তজা ভাইকে নিতে হবে।

ছ।        এখানে মিনহজ ভাইয়ের লোনের টাকা হিসাবের মধ্যে নেওয়া হয় নাই।

প্রস্তাবনাঃ

ক।        মুর্তজা ভাই, এখন আপনি সিদ্ধান্ত নিবেন, বিশেষ নোটের আগের হিসাবমতে যাবেন নাকি বিশেষ নোটের মাধ্যমে শেয়ার ট্রান্সফারে যাবেন। আমি এখানে কোনো প্রকারের মন্তব্য করতে চাই না। আপনার সিদ্ধান্তই চুড়ান্ত।

খ।        শেয়ার পরিবর্তনের পরে ভাবীকেও সমান পরিমান রিমুনিরেশন দিতে হবে। আমি সেটাই চাই। আর বর্তমান রিমুনিরেশনে আমার মতে কোনো পরিবর্তন চাই না। বাড়তে পারে কিন্তু কমানো ঠিক হবে না। অর্থাৎ সবাই আড়াই লাখ করে ড্র করবেন যতোদিন আমরা আবার না বাড়াই।

আমার এই প্রস্তাবনার বিপরীতে আমরা কেহই কোথাও যুগ্মভাবে সাইন করিনি। না মুর্তজা ভাই এই প্রস্তাবনার ব্যাপারে কিছু বলেছে। উনি মনে মনেই ব্যাপারটা রেখেছিল কারন তার কাছেও আমাকে নগদ টাকা দিয়ে প্রস্তাবনায় বর্নীত শেয়ারের টাকা দিতে পারতো না।

ফলে আমি ভুল করে হলেও তথাকথিত ১ কোটি ৪৪ লাখ ওভার ড্রইংস এর কারনে মুর্তজা ভাইকে আমার শেয়ার থেকে ৬% শেয়ার লিখে দেই নাই।

মুর্তজার ভাইয়ের শেয়ার তার স্ত্রীর নামে ট্রান্সফার

মুর্তজা ভাই কয়েকবার সফটভাবে আমাকে আমার উক্ত ৬% শেয়ার তার স্ত্রীর নামে ট্রান্সফারের কথা বল্লেও আমি ওনাকে সাফ জানিয়ে দিয়েছিলাম যে, আমার এক কোটি টাকা ভুলে কাউন্টে না আনার কারনে উক্ত ৬% শেয়ায়ের উদ্ভব হয়। যেহেতু টাকাটা তো আসলেই আমি দিয়েছি এবং প্রস্তাবনার সময় কাউন্ট করতে ভুলে গেছি, তারমানে এই নয় যে, আমি ওভার ড্র এর কারনে ৬% শেয়ার ভাবীকে ট্রান্সফার করবো। কিন্তু তিনি আমাকে এটাও বলেন যে, দরকার হয় আমি যেনো সেই টাকা রিভার সাইড থেকে নিয়ে নেই কিন্তু ভুল প্রস্তাবনার বিপরীতে উদ্ভব ৬% শেয়ার আমি তার স্ত্রীকে দিয়েই দেই। আমিও বারবার তাকে সাফ জানিয়ে দিচ্ছিলাম যে, এটা নীতিগতভাবে সথিক নয় এবং আমি আমার শেয়ার ট্রান্সফার করবো না।

অতঃপর তিনি তার ৬৫% শেয়ার থেকে নিজেই তার স্ত্রীকে ১৫% শেয়ার প্রদান করেন এবং তার জন্যেও তিনি অনেকটা জোর করেই আমাদের সম পরিমান সেলারী অর্থাৎ ৩ লাখ টাকার সেলারী উত্তোলন করার জন্য চাপ দেন এবং সেই টাকা তিনি নিতেই থাকেন। অথচ ভাবি ডাইরেক্টর হিসাবে একদিনও এক ঘন্টার জন্যেও অফিস করেন না।

আমি বৃহত্তর সার্থেই এটাও মেনে নিয়েছিলাম। কিন্তু আমি তার উপরে নাখোস ছিলাম। আমার মনে একটা কষ্ট তৈরী হচ্ছিলো। আমিও একটা জিনিষ বুঝতেছিলাম যে, আমার সাথে মুর্তজার ভাইয়ের দূরুত্ত ধীরে ধীরে বাড়ছিলো। আমারো ত্যাগ স্বীকার করার লিমিটের মধ্যে ‘পয়েন্ট অফ নো রিটার্ন” এ চলে আসছিলাম।

পয়েন্ট অফ নো রিটার্ন শুরু

(ক)      গত ৪ এপ্রিল ২০২৪ তারিখে মুর্তজা ভাই আবারো সেই ৬% সেয়ারের কথা আমার কাছে এসে উত্থাপন করলেন। এবার সত্যিই আমি আর সহ্য করতে পারিনি। আমি তার সাথে খুব জোরাল সুরেই রাগ করে বললাম যে, আমি যেহেতু রিভার সাইড থেকে ১ কোটি ৭০ লক্ষ টাকা পাই, সেই টাকা ধরলে আমার শেয়ার ট্রান্সফার করার কথাই আসে না, তাহলে বারবার উনি সেই একই কথা কেনো বলছেন? আমি খুব রাগারাগি করি এবং এক সময় বলি যে, আমি রিভার সাইডে কোনো শেয়ার নিয়েই থাকবো না, সব শেয়ার আমি মুর্তজা সাহেবকে দিয়ে দেবো, আমার শেয়ারের টাকা পরিশোধ করে আপ্নারা স্বামী স্ত্রী রিভার সাইড চালান, দেখি আপ্নারা এই ফ্যাক্টরী চালাইতে পারেন কিনা। আমি থাকবো না রিভার সাইডে। রাগারাগি করে আমি ফ্যাক্তরী থেকে বেরিয়ে আসি।

ব্যাপারটা আসলে যেনো সকল পরিবর্তন আর সকল মোরচার শুরু।

এখানে ছোট একটা অন্য কাহিনী না বললেই নয়।

আমার সাথে যখন মুর্তজা ভাই এরুপ উলটাপালটা যাচ্ছেতাই ব্যবহার করা শুরু করছিলেন অথবা আগের মতোই যখন তিনি মনে করছে যে, তিনি যা চাবেন সেটাই হবে, আর অন্য কার কোন মতামত বা চয়েজ নাই বা থাকলেও তার কিছুই যায় আসে ন, ঠিক সে সময়ে জরীফ মুর্তজা ভাইয়ের উপর এতোটাই নাখোস হচ্ছিলো মুর্তজা ভাইয়ের কিছু জরীফের উপর আচরনে যে, এবার জরীফ স্টিম

(১)      ৬% শেয়ার ট্র্যান্সফারের ইতিহাস থেকে ঘটনা শুরু।

(২)      ভাবীকে ১৫% শেয়ার দিয়ে বেতন নেয়া। অথচ ভাবী কখনই অফিস করেন না।

(৩)     এ জেড ফ্যাক্টরীর সব মেশিনারিজ রিভার সাইডের হওয়া সত্তেও প্রতি মাসে প্রথমে আরাই লাখ পরবর্তীতে ভাবীর বেতন চালু হবার পর ১ লাখ করে এস্টিমেটেড প্রোফিট নেয়া।

(৪)      ২২ ফ্রেস যদিও কোনো সুয়েটার করে না, তারা করে নিট বা ওভেন। সেই নিট ওভেনের এল সি, টাকা দেয়া হয় সব রিভার সাইড থেকে। কিন্তু এর কমিশন নেন শুধু তিনি একা।

(৫)     জীপ ০৬৩৩ টা সম্পুর্নই রিভার সাইডের টাকায় ক্রয় করা। তাহলে আমি যখন কিনলাম, সেটা উনি টাকা নিলেন কেনো?

(৬)     আন নূর এপারেলস লিমিটেড শুধু মাত্র একটা পেপার সর্বস্ব কোম্পানী। এর কোনো মেশিনারিজ নাই। কিন্তু উক্ত মেশিন সমেতে উনি ফ্যাক্টরী চালানর পরিকল্পনায় কেনো আন নুরের শেয়ার চাইলেন?

(৭)      উনার গাজিপুরের বিল্ডিং বানানর নিমিত্তে প্রথমে উনি পার্সোনাল ড্রয়িং হিসাবে লোন নিয়েছেন। কিন্তু হতাত করে কথা নাই বার্তা নাই, পুরু ১ কোটি ২০ লাখ টাকা উই বিল্ডিং এর এডভান্স হিসাবে একাউন্টকে নির্দেশনা দিয়ে দিলেন যেন এটা ওনার পার্সোনাল লোন আকারে না থাকে। কেনো?

(৮)     মামুনকে সাড়ে বারো লাখ টাকার সুতা আমরা বিক্রি করেছি। কিন্তু মামুন সেই সুতার টাকা না দিয়ে সে তার মতো করে মাল বানাইয়া পরে টাকা দিবে, এটা কেনো হবে?

(৯)     মামুনের ওখানে মোট মেশিন আছে (লিংকিং) ৩৪২ টা, আমরা সব কিছুর খরচ বহন করি, পেটি ক্যাশ, মামুনের ৫০ হাজার টাকা সেলারী, কারেন্ট বিল, বিল্ডিং ভাড়া, শ্রমিকের সেলারী, ফিক্সড সেলারি এবং প্রোডাকশন সেলারিও। অথচ সেখানে মাত্র ৩০ টা মেশিন চলে। এর মধ্যে ২০ টা মেশিন চলে কন্ট্রাক্টে। মাত্র ১০ টা মেশিন চলে পার্মানেন্ট শ্রমিক দিয়ে। অথচ উনি এ ব্যাপারে কিছুই বলেন না। শুধু মামুনকে রিহেবিলেট করার জন্য রিভার সাইড এতো লস করবে কেনো/

(১০)    মিজান এক্সেসরিজের ব্যবসা করে। দাম নেয় প্রায় কখনো দ্বিগুণ, কখনো চার গুন। উদাহরন দেই,

একটা ব্যাক বোর্ডের দাম বাজারে পাওয়া যায় মাত্র ২.৬৫ করে, কিন্তু মিজান বিল করে ৪.৭৫ করে। মিজান প্রতি ব্যাক বোর্ডে লাভ করে প্রায় ২.১০ পয়সা করে। আমাদের ফ্যাক্টরীতে এই ব্যাক বোর্দ লাগে মাসে প্রায় আরাই লাখ পিস। মানে শুধু ব্যাক বোর্ড থেকেই মিজান কোনো ইনভেষ্টমেন্ট না করে লাভ করে মাসে ৫ লাখ টাকা।

টিস্যু পেপারের দাম বাইরে প্রতি রীম ৭৮ টাকা করে। অথচ মিজান এর দাম নেয় ১৮২ টাকা। প্রায় ৫০০ রিম টিস্যু পেপার লাগে রিভার সাইডে। এসব মাল কিনার জন্য আমরা ওকে এডভান্স টাকা দেই, আমাদের গাড়ি ইউজ করে, মিজান শুধু ফোনে বলে দেয় সাপ্লাইয়ারকে। মধ্যখানে মিজান প্রতিমাসে কম করে হলেও ১০ লাখ টাকা লাভ করে এ জেড এক্সেসরিজ দিয়ে।

সাধারন প্রিন্টিং রীম কাগজের দাম বাইরে ৩৯৫ টাকা থেকে ৪০০ টাকা। মিজান এবং তার দুলাভাই নেসারের কোম্পানী প্রতি রীম কাগজের দাম নেয় ৬৫০ টাকা।

এসব ব্যাপারে উনি নির্বিকার।

(১১)    ওনার বড় ভাই ক্যামিকেল সাপ্লাই দেয়, ওনার দুলাভাই (এন এন ট্রেডার্স) অন্যান্য মাল সাপ্লাই দেয়, মিজান ফ্যাক্তরির প্রোডাকপ্সহন রিলেটেড এক্সেসরিজ সাপ্লাই দেয়। হরিলুটের মতো অবস্থা।

(১২)   আমি একটা ছেলেকে (বাঙলা কলেজের এক প্রফেসর নাম শরিফুল এর ছোট ভাই) আমাদের স্টোরে নিয়োগ দিতে চেয়েছিলাম, কিন্তু উনি ওই ছেলের অভিজ্ঞতা আছে কিনা, কোথায় কতদিন কাজ করেছে এসব বাহানা দিয়ে তাকে আর নেয়াই হয় নাই। পরবর্তিতে মিজানের এ-জেড এক্সেসরিজে ২০ হাজার তাকার সেলারি দিতে গেলে মিজান এগ্রি করে বটে কিন্তু প্রথম দিন মিজান তাকে যে ব্রীফটা করেছিলো সেটা মারাত্তক নেগেটিভ থাকায় ওই ছেলে আর আসেই নাই। অন্যদিকে ঊনার পরিবারের কম পক্ষে ২০ জন আনাড়ি আত্তীয়কে উনি এই ফ্যাক্তরিতে নিয়োগ দিয়ে কাজ শিখিয়ে নিয়েছেন। উনি শুধু আমার বেলায় কাউকে ছাড় দিতে নারাজ।

(১৩)   গত ২০২০/২১ সালে লেফট ওভার বিক্রি হয়েছিলো এক কোটি ২ লাখ টাকা। এতার ব্যাপারে কখনোই উনি আমার সাথে পরামরত্রশ করেন নাই। যখন কে কত ড্র করেছি এটা নিয়ে ঝামেলা হলো, তখন আমি জানতে পারলাম যে, উনি এক কোটি ২ লাখ টাকা নিজের জন্য ব্যবহার করেছেন। কত কে কখন টাকা ড্র করেছি, এটার হিসাব না ধরলে হয়তো আমি বুঝতেই পারতাম না যে, এই এক কোটি ২ লাখ টাকা উনি নিজের জন্য ব্যবহার করেছে। কিন্তু সেটা ড্রিং হিসাবে কোথাও উল্লেখ করেন নাই।

(১৪)    স্টাইল ট্যক্সের সাথেও আমার ধারন এমন একটা কমিশন বানিজ্য চলছে উনার। এতো কাল যাবত স্টাইল ট্যাক্সের জাকির সাহেব তার কমিশনের টাকা সেফ রাখার নিমিত্তে আমাদের কাছে কখনোই টাকা আলাদা করে গচ্ছিত রাখেন নাই। হটাত করে গত বছর এক কোটি ত্রিশ লাখ টাকা আমাদের একাউন্টে জমা রাখেন। যদিও পরবর্তীতে জাকির ভাইয়ের নাম দিয়ে উনি দুই পর্বে টাকাটা তুলে নিয়ে গেছেন। আর এই টাকাটা উনি কোথায় খরচ করেছেন সেই তথ্যটা আমার কাছে এসছিলো বিধায় আমার সন্দেহ হয় এটা আসলে জাকিরের টাকা না, এটা ওনার নিজের কমিশনের টাকা। এটা কেন করতে হবে?

(১৫)  

৬/৩/২০২৪-পৃথিবীতে যা কিছু আছে সব কিছু সুন্দর।

পৃথিবীতে যা কিছু আছে সব কিছু সুন্দর। ছোট কুকুরের বাচ্চা সুন্দর, একটা মাতাল লোক যখন আবেগে কথা বলে তা শুনতে সুন্দর, রাগের বশে যখন কোনো বৃদ্ধ মানুষ অস্থির আচরন করে তাও সুন্দর। কিংবা কেউ যখন মনের কষ্টে অশ্রু বিসর্জন দেয় সেটাও সুন্দর। সুন্দর শুধু চাঁদ, নীল আকাশ, পাহাড় পর্বত কিংবা সমুদ্রই না। প্রতিটি জিনিষ যা দেখতে পাই যদি খুব মনোযোগ সহকারে দেখি, তখন মনে হয় এতো অল্প সময় নিয়ে কেনো যে এই পৃথিবীতে আসলাম।

এতো সুন্দরের মাঝে অধিক সুন্দর লাগে যখন আমি তোমাকে একেবারে চোখের সাথে তোমার চোখ মেখে তোমাকে দেখি। দেখি যখন তোমার অভ্রু, তোমার শায়িত নাক কিংবা তোমার মুখবদনটা। খুব মায়া লাগে। খুব আদর করতে ইচ্ছে করে। তোমাকে আমি চুমুতে চুমুতে সব জায়গায় এমনভাবে আদর করি, আমি শান্ত হয়ে যাই, অশান্ত হয়ে যাই। তখন আমার খুব জানতে ইচ্ছে করে, প্রশ্ন জাগে কেনো তুমি এতো অবহেলিত হয়ে এতোদিন এতো অনাদরে বেড়ে উঠেছো? কেউ কি তোমাকে আদর করে কাছে নিয়ে বলতে পারতো না কি চাই তোমার? কিসে তোমার হাসি ফুটে? অথবা কেনো তুমি এতোটাই অগোছালো ছিলে? কেউ কি ছিলো না তোমাকে বলার তুমি কে, তুমি কি, তোমার কি ক্ষমতা ছিলো? যেখানেই গেছো, সেখানেই মানুষ তোমাকে ব্যবহার করেছে। ব্যবহার করেছে তোমার বাবা, তোমার মা, তোমার স্বামী, তোমার গ্রাম। কেউ তোমার খারাপ হয়তো চায়নি, কিন্তু কেউ তোমাকে দয়া করেনি। কিন্তু করতে পারতো। তোমার বাবা তোমাকে দয়া করতে পারতো, তোমার গ্রাম তমাকে দয়া করতে পারতো, তোমার সামী তোমাকে আদরে আদরে সব কষ্ট মুছে দিতে পারত। কিন্তু কেউ করেনি।

এটা যখন ভাবি, তখন তোমাকে আর কোথাও যেতে যেতে ইচ্ছে করে না। আবার কে তোমাকে কিভাবে রাখবে, কতটুকু অবহেলা দিবে, আদৌ কেউ তোমাকে আদর করবে কিনা কে জানে?

আমি তোমার সব সময় ভালো চাই। এই পৃথিবীতে আমার থেকে তোমাকে কেউ বেশি ভালোবাসে কিংবা কেউ তোমার জন্য ত্যাগ কিছু করবে, এটা যদি সে আমাকে তার মাথা কেটেও এসে প্রমান করতে চায়, আমি সেটা কখনো বিশ্বাস করবো না।

২/৩/২০২৪-ঈশ্বর কি পারতো না?

ঈশ্বর কি তোমার আমার মিলন লিখতে পারতো না?

আমি ঈশ্বরকে আমাদের এই সম্পর্কে কোনরূপ দোষারুপ করতে নারাজ। ঈশ্বর ঠিক তোমার আমার মিলন লিখেছেন এবং এক করেছেন। কিন্তু আমাদের এই সমাজ সেটা মানতে অনীহা প্রকাশ করেছে। সেটাও সম্ভবত শতভাগ সঠিক নয় যে, সমাজ আমাদের এই সম্পর্ককে বাধা প্রদান করেছে। কারন এই সমাজে এখনো অনেকেই আমার তোমার মত সম্পর্ককে মেনে নিয়েছে। তাহলে আমি কেনো ঈশ্বর বা সমাজকে এক তরফা দোষারুপ করছি?

দোষ আসলে আমার নিজের। আমি সাহসি নই, আমি ভীরু, আমি কিছু মানুষের কাছে জিম্মি। আমি পারিনি তোমাকে আমার নিজের করে প্রকাশ্যে পরিচয় করাতে। তোমার কন দোশ নেই, তুমি তো তোমার সর্বোচ্চটা দিয়েই আমাকে কাছে নিয়েছো। যতটুকু ব্যার্থতা তা সবটুকু আমার নিজের।

অথচ তুমি আছো আমার বুকে, আমার মনে, আমার মস্তিষ্কে, আমার সমস্ত চিন্তায়। তারপরেও আমি তোমাকে আমার সর্বোচ্চটা দিতে পারিনি। আমাদের সমাজ, আমাদের কিছু পরিস্থিতি, আমাদের কিছু ভাবনা, কিছু ভালোবাসা আর আমাদের কিছু মায়া এই সব নিয়ে আমরা মানুষ অনেক জটিল একটা সমাজে বাস করি। তোমার আমার মাঝের এই সম্পর্কটা ঠিক সে রকমের একটা জটিল পরিস্থিতি নিয়ে লেগে আছে। মন যা চায় সেটা কতটুকু গ্রহন যোগ্য, আর কতটুকু গ্রহন যোগ্য সেটা যখন মন মানতে চায় না, তখনই আমরা আরো অনেক জটিল সমস্যায় ভোগতে থাকি।

কতটুকু আর জীবন? অথচ এই জীবনে তুমি আমার অপ্রাকশ্যই থেকে যাবে। যেদিন আমি আর থাকব না, সেদিন তোমার কাছে মনে হবে, পৃথিবীর সবচেয়ে শান্তির জায়গাটা তুমি হারিয়ে ফেলেছো। গলা ফাটিয়ে কাদলেও তার অন্তর্নিহিত কারন তুমি কাউকে বলতে পারবে না, না তুমি আমাকে কাছে এসে একটু ছুয়ে ধরে বলতে পারবে-তুমি ভালো থেকো পরপারে।

আমার চলে যাওয়ার পরের দিনগুলি তোমার কেমন যাবে আমি জানি না। কিন্তু আমি তোমার অন্তর থেকে কখনোই যে মুছে যাবো না সেটা আমি নিশ্চিত। সকাল দশটা বাজলে তোমাকে কেউ আর ফোন করবে না, মিছিমিছি টাকা পাও এই বায়না আর কখনো তুমি কারো কাছে করতে পারবে না, অহেতুক কোনো কারন ছাড়া আজ যেমন এদিক সেদিক ঘুরে বেড়াতে পছন্দ করো, তখন পুরু স্বাধীনতা থাকা সত্তেও আর বের হতে ইচ্ছে করবে না।  কেমন যেনো সকাল, দুপুর বিকাল কিংবা রাত একই রকম মনে হবে। নতুন শাড়ি কিনে আর বারবার আয়নায় নিজেকে কেমন দেখা যায়, সেতা আর আগের মত মনে হবে না। তুমি আর আমার আসার অপেক্ষায়ও থাকার কোনো কারন পাবে না।

মানুষ বেচে থাকে, কখনো ইতিহাসে, কখনো খবরে, কখনো বিশ্বাস ভংগের কারনে, কখনো অন্য কারনে। কিন্তু আমি তোমার অন্তরে বেচে থাকব একেবারেই গোপনে চোখের জলে। কাউকে এটা বলেও নিজেকে শান্তনা পাবার কোনো সুযোগ নাই।

তোমার জন্যই আমাকে আরো অনেকদিন বাচতে ইচ্ছে করে। মনে হয় তুমি আমার সাথে আরো অনেকদিন বাচো। অতদিন বাচো যতদিন না তুমি বুড়ি হও, যতদিন না তুমি সাহসী হও, যতদিন পর্যন্ত না তুমি একা একা চল্লেও আর কখনো ভয় না পাও। আমি প্রতিদিন তোমার জন্য দোয়া করি, আমি প্রতিদিন চাই তুমি যেন ভালো থাকো, সুখে থাকো।

০১/০৩/২০২৪-ইন্ডিভিজুয়াল পয়েন্ট অফ নো রিটার্ন

মানুষ সৃষ্টিগতভাবে কিছু গুনাবলী নিয়েই এই পৃথিবীতে আসে। কেউ খুবই অস্থির প্রকৃতির, কেউ দোদুল্যমান, কেউ অতীব চঞ্চল, কেউ আবার সেই ছোটবেলা থেকেই চুপচাপ আবার কেউ তার বয়সী মানুষের থেকে চালাক। বয়স বাড়ে আর মানুষের অভিজ্ঞতার কারনে এসব জন্মগত গুনাবলীর এক্সপাংশনের সাথে সাথে আরো কিছু গুনাবলির সংযোজন ঘটে। তারমধ্যে হিংসা, পরোপোকারী, লোভ অথবা অবিশ্বাসী অথবা উদার মনের গুনাবলীগুলি অন্যতম। পরিস্থিতি অবশ্য এসব বাহ্যিক গুনাবলীর বড় একটা কারন।

কিন্তু সব কিছুর পরেও সবার একটা ইন্ডিভিজুয়াল পয়েন্ট অফ নো রিটার্ন থাকে যেখান থেকে যতো কিছুই হোক, যতো খারাপ বা ভালো পরিস্থিতিই হোক সে আর ব্যাক করতে পারেনা। কোনো ব্যক্তি তার এই ইন্ডিভিজুয়াল পয়েন্ট অফ নো রিটার্ন সম্পর্কে সে নিজেও বেশিরভাগ সময়ে জানে না। এটা হটাত করেই তার ব্যক্তি মনে এমনভাবে উদয় হয় যখন সে তার আশেপাশের কোনো পরিস্থিতিই আর আমলে নেয় না এবং হতাত করেই তার মধ্যে এই কঠিন মনোভাবটায় সে একেবারে এমনভাবে পতিত হয় যে, সে নিজেও সেই পয়েন্ট অফ নো রিটার্ন থেকে বেরিয়ে আসতে চায় না। সেটা সে এক্সিকিউট করেই ফেলে।

বেশীরভাগ ক্ষেত্রে এ কারনেই মানুষ আত্মহত্যা, ডিভোর্স, ব্যবসায় থেকে বিচ্ছিন্ন, সম্পর্ক থেকে আলাদা ইত্যাদিতে নিপতিত হয়। ক্ষেত্র বিশেষে কারো কারো এই পয়েন্ট অফ নো রিটার্নে বিশাল জনবহুল গোষ্টি, কর্পোরেট সংস্থা, পারিবারিক জীবন এতোটাই ক্ষতিগ্রস্থ হয় যে, তার নিজের সাথে অন্যান্য সবাই আরো বেশী ক্ষতিগ্রস্থ হয়।

কাউকে সেই পরিস্থিতিতে কখনোই ঠেলে দেয়া বুদ্ধিমানের কাজ নয়। আমারো সম্ভবত ব্যবসায়িক লাইনে এমন একটা পয়েন্ট অফ নো রিটার্ন চলে এসছে।

২৯/২/২০২৪-নতুন ইউরোপ  

ইউরোপে আভ্যন্তরীন একটা অসচ্ছ এবং খুব জোরালো যুদ্ধ চলছে নিজেদের মধ্যে যেখানে পশ্চিমারা একটা নতুন ইউরোপের স্বপ্ন দেখছে এবং কাউকে সেই স্বপ্নটা দেখাচ্ছেও। ইউরোপের এই নতুন উত্থাপনে মুলত লিড দিচ্ছে প্রকাশ্যে পোল্যান্ড এবং তার সাথে আরো তিনটা বাল্টিক দেশ যারা প্রকাশ্যে রাশিয়ার বিপক্ষে নিজেদেরকে দাড় করিয়ে এটাই মুলত প্রমান করতে চাইছে যে, তারা বেশ শক্তিশালী ইউনিয়ন। পশ্চিমারাও সেই বাল্টিক দেশগুলিকে দিয়ে এটাই প্রমান করাতে চাইছে যে, তাদের মাধ্যমে রাশিয়াকে দূর্বল করা সম্ভব যা জার্মানি বা ফ্রান্স পারে না। তাতে জার্মানির কিংবা ফ্রান্সের ইনফ্লুয়েন্স বর্তমান ইউরোপিয়ান ইউনিয়নে তাদের মোগলগিড়ির ভাটা পরবে। এই নতুন ইউরোপের চেহাড়া যাকে হয়তো বলা যায় ‘বাল্টিক ন্যাশনস ইউনিয়ন’  ধীরে ধীরে কিন্তু ফুটে উঠছে ইউরোপের ভিতরেই। কিন্তু এটা কি আসলেই সম্ভব? পোল্যান্ড কিংবা বাকী বাল্টিক দেশগুলি কখনোই ইউরপিয়ান ইউনিয়নকে নিয়ন্ত্রন করতে পারবে না যেমন গাধা কখনো ঘোড়াকে নিয়ন্ত্রন করতে পারে না। রাশিয়াকে যেমন পশ্চিমারা আজিবন শত্রু মনে করে, তেমনি, পশ্চিমারা জার্মানি এবং ফ্রান্সকেও তাদেরকে শত্রুই মনে করে। উপরে উপরে হয়তো ইউরোপিয়ান ইউরপিয়ান ভাব ধরে সবাই একই নৌকায় বসে আছে কিন্তু এই আরহিদের মধ্যে সবাই সবার ভালো চায় না।

কিন্তু মজার ব্যাপার হচ্ছে-না জার্মানী না ফ্রান্স এই নতুন ইউরপীয়ান চেহারায় কাউকে নতুন মোড়ল ভাবার অবকাশ দেবেনা। যখন নিজেদের সার্থের মধ্যে কঠিন আঘাত আসে, তখন ইউনিটি বলতে কিছু থাকে না। তখন সেই ইউনিটি ভাঙ্গতে বাধ্য। কেউ যখন একবার প্রতারিত হয়, সেটা হয়তো ‘শিক্ষা’ কিন্তু যখন কেউ দুইবার প্রতারিত হয় সেটা স্টুপিডিটি, কিন্তু কেউ যখন তিনবার প্রতারিত হয়, সেটা ‘স্টাবর্ন’ হিসাবে দেখা হয়। পুরানো ইউরোপ কখনোই ‘বাল্টিক ন্যাশন’ হিসাবে নতুন ইউরোপকে দেখতে চাইবে না কখনো। কেননা গাছ কোনদিন কুড়াল মার্কায় ভোত দিবে না, যে কূড়াল ব্যবহার হবে সেই গাছ কাটার জন্যই।

চোরদের মধ্যে কোনো “অনার” কাজ করে না।

২৯/২/২০২৪-রাশিয়া ইউরোপের

ইউরোপিয়ান ইউনিয়নের মধ্যে আমেরিকা এবং ইউকে কখনোই ইউরোপ অঞ্চলের মধ্যে জিওগ্রাফিক্যালী পড়ে না, তারপরেও তারা ইউরোপিয়ান ইউনিয়নের দেশ হিসাবে পরিগনিত। অন্যদিকে রাশিয়া খোদ ইউরোপ অঞ্চলের মধ্যে থেকেও সে ইউরোপিয়ান ইউনিয়নের অংশ নয়। একইভাবে যদি দেখি, ন্যাটো যাকে নর্থ আন্টালন্টিক ট্রিটি হিসাবে আখ্যায়িত করা হয় সেখানেও আমেরিকা, ইউকে এরা প্রধান দল। ন্যাটোর বিপরীতে রাশিয়া ওয়ার্শ গড়ে তুলেছিলো বটে কিন্তু যখন রাশিয়া ভেংগে গেলো, তখন তার সাথে ওয়ার্শও ভেংগে দিলো তদানিন্তন সোভিয়েট রাশিয়া। পক্ষান্তরে ন্যাটো কিন্ত রয়ে গেলো আর সেটা বর্তমান রাশিয়ার বিপরীতে। অনেকবার রাশিয়া এই খোদ ন্যাটোতে জয়েন করার কথা জানালেও ইউরোপিয়ান ইউনিয়ন বা ন্যাটো তথা পশ্চিমারা তাতে সাড়া দেয়নি।

এবার যে কয়টা প্রশ্ন মনে জাগে সেটা হল-

(১)       ন্যাটো যদি ওয়ার্শ এর বিপরীতেই তৈরী হয়ে থাকে, সেই ওয়ার্শই যখন নাই, তাহলে এখনো ন্যাটো আছে কেনো?

(১) রাশিয়া ইউরোপিয়ান ইউনিয়নের সদস্য না হয়েও ইউরোপিয়ান ইউনিয়ন তাদের ব্যবসা বানিজ্য, এনার্জি সেক্টর থেকে শুরু করে লোহা, ইউরেনিয়াম, খাদ্য, গ্যাস, তেল, মাছ, এমন কি সামরিক সরঞ্জামাদিসহ সবকিছু রাশিয়ার উপর নির্ভরশিল। রাশিয়া তার দেশ থেকে বিলিয়ন বিলিয়ন ডলার খরচ করে সমস্ত ইউরোপিয়ান ইউনিয়ন দেশসমুহকে সস্তায় তেল, গ্যাস রপ্তানী করে। আর এই সস্তায় তেল গ্যাস, ইউরেনিয়াম, লোহা, খাদ্যশস্যের উপর ভিত্তি করে জার্মান ইউরোপিয়ান ইউনিয়নে সবচেয়ে শক্তিশালী অর্থনইতিক দেশ হিসাবে কমপেটিটিভ মার্কেটে দাঁড়িয়ে আছে।

আমেরিকাতে পৃথিবীর ৫০% রিজার্ভ তেল মজুতে আছে কিন্তু সে ইউরোপিয়ান ইউনিয়নের কোনো দেশের জন্যই আজ পর্যন্ত একটা পাইপ লাইন তৈরী করে নাই। কেনো করে নাই?

সারা দুনিয়ায় যে সব সফেস্টিকেটেড যুদ্ধ সরঞ্জামাদি আছে তার মধ্যে আমেরিকার তৈরী যুদ্ধ সরঞ্জাম অত্যাধুনিক। কিন্তু মজার ব্যাপার হলো, গত কয়েক বছর আগ পর্যন্ত ইউরোপিয়ান ইউনিয়নের ভান্ডারে যা যুদ্ধ সরঞ্জামাদি রয়েছে সব রাশিয়ান প্যাটার্নের। এখন এই পুরু যুদ্ধ সরঞ্জামের রাশিয়ার বিকল্প হিসাবে যদি পশ্চিমা যুদ্ধ সরঞ্জামাদিতে রুপান্তরীত করতে হয় তাহলে কত বিশাল একটা মার্কেট আমেরিকার জন্য? আমেরিকা তাদের সবকিছুতে আর্থিক লাভ খোজে। আর এটাও একটা লাভ যে, এবার রাশিয়ার সব যুদ্ধ সরঞ্জামাদি বাদ দিয়ে পশ্চিমা যুদ্ধ সরঞ্জামাদিতে সরে আসা।

প্রায় ১৫ হাজার নিষেধাজ্ঞা আরোপ করা হয়েছে রাশিয়ার উপর। রাশিয়া সবচেয়ে বড় পজিটিভ দিক হচ্ছে যে, সে শুধু ইউরোপের সাথেই কানেক্টেড না, সে এশিয়ার সাথেও কানেক্টেড। আর আমেরিকা বা পশ্চিমারা আফ্রিকায় এতোটাই কলোনিয়ালিজম করেছিলো যে, বর্তমানে আফ্রিকা কিছুতেই আর পশ্চিমা প্রোপাগান্ডায় নির্ভর করতে চায় না। বরং তারা সাইড নিয়েছে রাশিয়ার দিকে।

বর্তমানে ইউক্রেন যুদ্ধকে কেন্দ্র করে মিডিয়া যেভাবে প্রোপাগান্ডা সারা দুনিয়ায় ছড়াচ্ছে, তাতে সারা বিশ্ব এখন এটাই ভাবছে যে, যেখানেই পশ্চিমারা পদার্পন করেছে সেখানে ওদের ওরাল ন্যারেটিভের বিপরীতেই ফলাফল হয়েছে। এতে ইরাক, আফগানিস্থান, লিবিয়া, ইয়েমেন, ইত্যাদি দেশগুলি আরো বিপর্জ্যের মধ্যে পড়তে হয়েছে।

বর্তমান ইউক্রেনও তার পরিনতি ভোগছে।

একটা সময় আসবেই যখন এই ইউরোপিয়ান ইউনিয়ন আবার রাশিয়ার সাথে ঝুকে পড়বে, এই ইউক্রেন যুদ্ধ আলোচনার মধ্যেই শেষ হবে, নতুন যারা ন্যাটোতে যোগ দিয়েছে, তারা একসময় আফসোস করবে, এবং ডলার হেজিমনি শেষ হয়ে গেলে পশ্চিমারা পুনরায় সেই ইউকে এর মতোই আচরন করবে যে ইউকে কোনো এক সময় সারাটা দুনিয়া দাপটের সাথে শাসন করেছে বটে কিন্তু সে এখন একটা দ্বীপ ছাড়া আর কিছুই না।

এখানে একটা কথা বলে রাখি যে, অন্যান্য দেশের কারেন্সি প্রিন্ট করার আগে যেমন সেটা গোল্ডব্যাকড হতে হয়, কিন্তু আমেরিকার ডলার প্রিন্ট করার জন্য কোনো গোল্ডব্যাক লাগে না। তাই তারা যতো খুশি, যখন খুশি ডলার ছাপাতে পারে যা আসলে একটা কাগজের নোট ছাড়া তাদের কাছে আর কিছুই না কিন্তু অন্য দেশের জন্য এটা অনেক বড় ব্যাপার। যখন একদিন এই ডলার তার নিজভুমে ফেরত আসবে বিকল্প কারেন্সির চাপের কারনে, তখন সেখানে এতো বেশি মুল্যস্ফিতি হবে যা কল্পনার অতীত।

২৪/২/২০২৪-১৯৯০ থেকে শুরু করে ১৯৯৮ সাল অবধি আমেরিকা

১৯৯০ থেকে শুরু করে ১৯৯৮ সাল অবধি আমেরিকা মোট ২০ থেকে ২৫টি দেশকে নিষেধাজ্ঞা প্রদান করেছে। এর মধ্যে আছে আফগানিস্থান, বলকান্স, বেলারুশ, বার্মা, সেন্ট্রাল আফ্রিকান রিপাবলিক, কংগো, ইথিওপিয়া, হংকং, ইরান, ইরাক, সুদান, লেবানন, লিবিয়া, মালি, নিকারাগুয়া, নর্থ কোরিয়া, রাশিয়া, সোমালিয়া, সাউথ সুদান, সিরিয়া, ভেনিজুয়েলা, ইয়েমেন, জাম্বিয়া এবং ইউক্রেন/রাশিয়ান, বুরুন্ডি, কিউবা, চীনের বহুজাতীক কিছু আন্তর্জাতীক কোম্পানী, আংশিক তুরুষ্ক এবং আরো অনেকে।

এখন প্রশ্ন হচ্ছে-ক্রমাগত এভাবে নিষেধাজ্ঞা পাওয়া দেশগুলি যেহেতু পশ্চিমা দেশগুলির সাথে সামগ্রিক ব্যবসা বানিজ্য করতে পারে না, এর মানে হলো তারা আরো মাল্টিপ্যাল অপসনের সুযোগ পায় হয় নিষেধাজ্ঞা প্রাপ্ত দেশগুলি এক হয়ে কাজ করার তাগিদে অথবা তার সাথে পৃথিবীর অন্যান্য অবশিষ্ঠ দেশগুলির সাথে কাজ করার মাধ্যমে। অন্যঅর্থে এই নিষেধাজ্ঞা প্রাপ্ত দেশগুলিকে নিষেধাজ্ঞা দেয়া মানে যারা দিচ্ছে তারাও প্রকারান্তে নিজেরাই নিষেধাজ্ঞার আওতায় পড়ে যাচ্ছে। এভাবে ক্রমাগত সবাইকে একঘরে করে দেয়ার ফলে কোনো এক সময় পশ্চিমারা নিজেরাই সারা দুনিয়া থেকে একঘরে হয়ে যেতে পারে বলে অনেকে মনে করেন অর্থাৎ তাদের সাথে অন্যরা আর কেউ কোন প্রকার দিপাক্ষীয় কার্যক্রম করবে না। এতে কি পশ্চিমাদের লাভ হবে নাকি ক্ষতি?

রাশিয়া যদিও ইউরোপের একটা অংশ কিন্তু সে আবার এশিয়া বা সাউথ ইষ্ট এশিয়ার সাথে তার ভৌগোলিক সম্পৃক্ততা, কালচারাল সম্পৃক্ততা, ব্যবসায়িক লেনদেন (বিশেষ করে ভারত, চীন মায়ানমার ইত্যাদি দেশের সাথে) ইউরোপের থেকেও অনেক বেশী। যার ফলে রাশিয়া এই ইউরোপ ছাড়াও চলতে পারবে যা ইউরোপ কখনো রাশিয়াকে ছাড়া চলা সম্ভব না। রাশিয়ার রিসোর্স সব দিক দিয়ে এতো বেশী যে,সব কমোডিটিতেই রাশিয়া পৃথিবীর অন্যান্য দেশের জন্য গড়ে প্রায় ২৫% জোগানদাতা। হোক সেটা ইউরেনিয়াম, হোক সেটা তেল-গ্যাস, হোক সেটা লৌহ, কিংবা ফুড কমোডিটিজ। রাশিয়ার কমোডিটিজ যদি ইউরোপ না পায়, তাহলে রাশিয়ার সেই একই কমোডিটিজ ভায়া হয়ে অন্য রাষ্ট্র থেকে কিনতে ইউরোপকে প্রায় ৩ গুন দাম দিতে হয় যার ফলে বর্তমানে ইউরোপের অর্থনীতি প্রতিযোগিতামূলক মার্কেটে প্রায় ভঙ্গুর পর্যায়ে  পৌঁছে গেছে।

ইউরোপের এবং পশ্চিমা নেতাদের মধ্যে শুভবুদ্ধির উদয় যদি এখনো না হয়, তাহলে ইউরোপিয়ান লিডার জোসেফ বোরেলের মন্তব্য করা “ইউরোপ হচ্ছে গার্ডেন আর ইউরোপ ছাড়া অন্যান্য সবাই হচ্ছে জংলী” এই ধারনা অচিরেই উলটো হয়ে যাবে।

২৩/২/২০২৪-সপরিবারে ওমরা করার পরিকল্পনা

উম্মিকার বিয়ে হয়েছে সবেমাত্র এক মাস ২২ দিন। সবাই থাইল্যান্ডে যাওয়ার একটা পরিকল্পনা করেছিলাম। তো, গত পরশুদিন উম্মিকা আর আবির বাসায় আসার পর রাতে খেতে খেতে বললাম, থাইল্যান্ডে গেলেও মুটামুটি প্রায় ৪/৫ লাখ টাকা খরচ হবে। আর থাইল্যান্ডে গিয়ে হয়তো কিছু দর্শনীয় স্থান দেখা ছাড়া আর কিছুই নাই। তার থেকে যদি এমনটা হয় যে, আরো কিছু খরচ যোগ করে আমরা সপরিবারে ওমরা করতে যাই, সেটা ভালো না?

ওরা দুজনেই শীঘ্রই বেবি নেয়ার চিন্তা করছে, তাই বললাম, চল, আল্লাহর ঘরে যাই, ওখান থেকে একটা নিয়ত করে আসি এবং তোমরাও আল্লাহর ঘরটা দেখে আসো। তা ছাড়া রোজার মাস। এম্নিতেই এক রাকাত নামাজ মক্কায় পড়লে ১ লাখ গুন বেশি সওয়াব, যেহেতু রোজার শেষ ১০ দিন পরিকল্পনা করছি, ইনশাল্লাহ শবে কদর পাবই। আর সেই শবে কদরের রাত হাজার রজনীর সমান। এমন একটা বরকত্ময় প্রোফিট কেনো নিবো না?

সবাই রাজী হয়ে গেলো। আলহামদুলিল্লাহ। কনিকাকে আমেরিকা থেকে আসতে বলেছিলাম, কিন্তু ওর ক্লাস চলছে, মিস করতে পারবে না। তাই কনিকার যাওয়া হলো না। আগামীকাল শনিবার ইনশাল্লাহ ওমরার প্যাকেজটা ফাইনাল করে ফেলতে চাচ্ছি। বাকিটা আল্লাহর ইচ্ছা।

২০/২/২০২৪-আজ আমার মৃত্যু বার্ষিকী

আজ আমার মৃত্যু বার্ষিকী। কথাটা কেমন অদ্ভুত না? আমি এখনো জীবিত কিন্তু আমি আমার মৃত্যুবার্ষিকী নিয়ে কথা বলছি। কথাটা বলার একটা বিশাল কারন রয়েছে।

দাদার অথবা দাদার বাবার কিংবা তাদেরও দাদাদের মৃত্যু বার্ষিকী এখন আর আমরা কেউ ঘটা করে পালন করিনা। বাবার অথবা খুব বেশী হলে দাদার মৃত্যু বার্ষিকী হয়তো এখনো এই জেনারেশন কিছুটা হলেও পালন করে কিন্তু তাদের পূর্বসূরীদের বেলায় এটা প্রায় ঘটেই না। একটা নির্দিষ্ট সময় পর্যন্ত একটা জেনারেশন কিছুটা অতীতের হারানো প্রিয় মানুষগুলির জন্য কিছুটা মনে করার তাগিদেই হয়তো সমাগম হয় কিন্তু সেটাও একদিন ফেকাশে হয়ে যায়। আমিও একদিন আমার উত্তরসুরীদের কাছে জেনারেশন থেকে জেনারেশনের পর পুরুই ফেকাসে হয়ে যাবো, এটাই চিরন্তত সত্য। এটা কাউকে দোষারুপ করার মতো কোন কারন নাই। সেদিন হয়তো আর কেউ এটাও বলবে না যে, আজ আমার দাদার দাদার বাবার অর্থাৎ আমার মৃত্যু বার্ষিকী। হয়তো তখনো কারো না কারো দোয়ার মাধ্যমে কোনো না কোনো সাহাজ্য আমার দরকার। কিন্তু তখন কেউ আমাকে মনেই রাখে নাই, দোয়া করবেই বা কে? যেমন মনে রাখি নাই আমিও আমার সেই দাদার দাদার বাবাকে।

আমার মৃত্যুর আগে আমি কত ব্যস্ত ছিলাম, আমাকে ছাড়া হয়তো অনেকের চলতোই না। হয়তোবা এমন হয়েছে, আমি না থাকলে কার কি হবে এই চিন্তাতেই অনেকে অসুস্থ্য হয়ে যেতো, কেউ হতাশ হয়ে যেতো, কেউবা ‘কি যে হবে ভাবতেই পারছিনা’ এমন বাক্যও উচ্চারন করত। অথচ দেখুন, আজ আমি সত্যিই নাই, কিন্তু কারো অফিসে যাওয়া বন্ধ হয় নাই, কারো হাত-বাজার করা বন্ধ হয় নাই, কার ঘুম নষত হয় নাই, সুর্য ঠিকই পুর্ব দিকে যথাসময়ে উদিত হয় ঠিক আগের সময়েই পশ্চিমে অস্ত চলে যাচ্ছে। আকাশের রঙ পালটায় নাই, পাহাড়ের কোনো একতা গাছঅ তার ক্রমবর্ধমান বৃদ্ধিতে ক্ষান্ত হয় নাই, কন ঋতুর পরিবর্তন হয় নাই। শুধু পরিবর্তনটা হয়েছে আমার। আমি শুধু সেখানে নাই।

অনেক বছর বাচতে ইচ্ছে করে।

মৃত্যুকে আমি ভয় পাই।

মৃত্যু থেকে একা থাকা ভাল।

২/২/২০২৪-মৃত্যুর সাথে জীবনের কন্ট্রাক্ট

সরগমের সাতটা সুরের মধ্যে যদি একটি সুরও ভুল হয় কিংবা নাচের পদক্ষেপেও যদি একটি পদক্ষেপ ভুল হয়, তাহলে গানের তাল, লয় যেমন বিগড়ে যায় আর গান বেসুরু হয়ে পড়ে, তখন গান তো দূরের কথা শোনাও দুরুহ হয়ে উঠে। আর নাচের পদক্ষেপে যখন ভুল হয় তখন মানুষ হোচট খেয়ে মুখ থুবরে মাটিতে পড়ে যায়। তখন অনেকেই নিজের মানুষদের কাছ থেকে নিজেই হারিয়ে যায়, এবং অনেক সময় চিরতরেই হারিয়ে যায়।

আমি অনেক ভেবেচিন্তে এখন সুর তুলি, অনেক চর্চায় পদক্ষেপ ফেলি। কোথাও কোনো ছোট ভুল আমার পরিবারকে হয়তো সুরক্ষা থেকে বঞ্চিত করবে, কেউ না কেউ আমার জীবন থেকে হারিয়েও যেতে পারে এই আশংকায় আমি সব সময় সীমার মধ্যে পা আর লয়ের মধ্যে সুর তুলি।

বয়স হয়ে যাচ্ছে, বয়স কমে যাচ্ছে আমাদের সবার। অর্থাৎ বেচে থাকার বয়স কমে যাচ্ছে। আমি জানি মৃত্যুর সাথে জীবনের একটা সম্পর্ক আছে, একটা কন্ট্রাক্ত আছে। প্রত্যেক কন্ট্রাক্টেরই একতা মেয়াদোত্তির্ন তারিখ থাকে। মৃত্যুর সাথে জীবনেরও সে রকমের একটা কন্ট্রাক্ট। ম্রিত্যু জীবনকে নিয়ে যাবেই। আর সেটা কন্ত্রাক্টের মধ্যেই হতে হয়। কিন্তু মানুষ মাঝে মাঝে এতোটাই হিংস্র আর দাপুটে হয়ে উঠে যে, তারা সেই ন্যাচারাল কন্ট্রাক্তকে উপড়ে ফেলে সব কিছু তছনছ করে ফেলে। মৃত্যু তখন নিজ থেকে আসে না, তাকে ডেকে আনা হয়। আমি সেই অঘটনকে সব সময় ভয় পাই। মৃত্যুকে নয়, ভয় পাই সেই সব মানুষকে। তাই আমি সর্বদা এটা ভাবি, কোনটা স্বাভাবিক নয় আর কোনটা অস্বাভাবিক।

একটা কথা সব সময়ই ঠিক যে, জীবন দাবার বোর্ড হোক বা না হোক, এটা একতা জটিল রহস্য। কিন্তু মজার ব্যাপার হলো, এই জটিল জীবনের সব রহস্য আমাদের সবার চোখের সামনেই থাকে, সব তথ্য সবার সামনেই পরিপূর্ন থাকে। কেউ আমরা সেটা দেখতে পাই, কেউ পাই না। কেউ মিথ্যাকে আশ্রয় করে ঘুরপাক খায় আবার কেউ সত্যের সন্ধ্যানে ঘুরপাক খায়। কিন্তু সচেতন মন সব সময় সতর্ক করে বটে কিন্তু সত্য আর মিথ্যা এমনভাবে সমান্তরাল্ভাবে চলে যে, তাদের রঙ, তাদের গতি কখনো কখনো আমাদেরকে উলটা পথে ধাবিত করে। আমাদের সচেতন মন থেকে যা সাড়া পাওয়া যায় তাকে প্রাধান্য দিলে হয়তো কিছুটা সহজ হতে পারে কিন্তু সেটা আমরা সব সময় পারিনা। কথায় বলে দেয়ালেরও কান আছে আর আকাশ সব দেখতে পায়। তাই আমি দেয়াল কি বলে আর আকাশ কি দেখে সেখানে আশ্রয় নেই। কারন জীবন আলো এবং অন্ধকারের মধ্য দিয়ে চলা একটা রাস্তা। এখানে সত্যও আছে, মিথ্যেও আছে, সুন্দর আছে আবার কুৎসিতও আছে।

তাই এই জটিল রহস্য থেকে মুক্ত থাকার সবচেয়ে বড় সহজ পন্থা, সব কিছুকে আমলে নেয়া কিন্তু সব কিছুতেই সায় না দেয়া।

জীবনের থেকে সুন্দর আর কিছুই নাই।

১/২/২০২৪-রিভার সাইডের বার্ষিক বনভোজন

প্রতি বছরই আমাদের রিভার সাইডের বনভোজন হয়, এবারো হলো। এবার প্রথমে আমাদের ভ্যানু নির্ধারিত ছিলো গাজীপুর অর্ডন্যান্স ফ্যাক্টরীর গলফ ক্লাবে। কিন্তু অর্ডন্যান্স ফ্যাক্টরীতে কোনো এক হোমরা চোমরা অফিসার পরিদর্শনে আসবে বলে আমাদের ভ্যান্যু বাতিল করা হয়েছে। কি আর করা। আমাদের বনভোজনের ভ্যান্যু অগত্যা পরিবর্তন করতে হলো। চলে গেলো ডঃ ইউনুসের “নিসর্গ গ্রামীন টেলিকম ট্রাষ্ট” রিজোর্টে।

এবারই প্রথম উম্মিকা এবং তাঁর হাজবেন্ড একসাথে আমাদের সাথে রিভার সাইডের পিকনিকে যোগ দিলো। আজই উম্মিকার এবং আবিরের বিয়ের এক মাস পুর্ন হলো। ভ্যানুতে যেতে যেতে আমার প্রায় দুটূ বেজে গিয়েছিলো। প্রায় ১৭০০ লোকের আয়োজন।

র‍্যাফেল ড্র টা হলো না কারন এর মধ্যে আকাশের অবস্থা বেশ খারাপ হয়ে গিয়েছিলো, বৃষ্টিও শুরু হয়েছিলো। বিকাল ৪ তাঁর দিকে বনভোজন সমাপ্তি ঘোষনা করতে বাধ্য হয়েছিলাম।

২৯/০১/২০২৪-করিডোরস অফ পাওয়ার

অন্দরমহলের রাজনীতিতে সরকার এবং বিরোধী পক্ষ হিসাবে দেশের ভারসাম্য রক্ষায় যেমন আমরা একটা ছক কষি, তেমনি পুরু পৃথিবীতেও সম্ভাব্য শক্তিধর দেশগুলিকে আমরা একত্রিভুত করে এক্সিস এবং এলাইড ফোর্স হিসাবে ছক কষে পুরু প্রিথিবীকে আমরা দুটু ভাগে শাসনে লিপ্ত হই। এই এক্সিস এবং এলাইড ফোর্ষ গুলি ক্ষুদ্র ক্ষুদ্র উপাদান হচ্ছে ইন্ডিভিজুয়াল দেশ সমুহ। এই ইন্ডিভিজুয়াল দেশ গুলি নিতান্তই তাদের ব্যক্তিগত সার্থের জন্য কখনো এক্সিস, কখনো এলাইড ফোর্সে জায়গা পরিবর্তন করে। আর ঠিক এ কারনে অতীত বিস্লেষন করলে দেখা যায়, পৃথিবী কখনো শাসন করেছে মোঘলরা, কখনো জার্মানী, কখনো ফ্রান্স, কখনো পশ্চিমারা। এই ক্ষমতাগুলির নাম যদি দেই, তাহলে এর নাম হতে পারে ‘করিডোরস অফ পাওয়ার”।

কিন্তু এই ক্ষুদ্র ক্ষুদ্র দেশগুলির ব্যক্তিগত ক্ষমতা যদিও খুবই নগন্য কিন্তু করিডোর্স অফ পাওয়ারে তাদের সামষ্টিক ক্ষমতার যোগফল একটা বড় ধরনের ফ্যাক্টর। কোনো কোনো ক্ষুদ্র দেশ তাদের ভুল পদক্ষেপের জন্য করিডোরস অফ পাওয়াএর থাকতে চেয়ে বা তার থেকে বিচ্যুত হতে চেয়েও চিরতরে বিলীন হয়ে গেছে। কেউ আবার নতুন করে আরো কিছু অংশ নিয়ে পুনরোজ্জিবীত হয়ে উঠেছে। মাঝখানে কিছু অসহায় মানুষ এর ফল ভোগ করতে করতে তাদের নিজের বর্তমান আর অতীত সবই জলাঞ্জিত দিতে হছে। নিরপেক্ষতা যদিও একটা বিপদ্মুক্ত অবস্থান কিন্তু যুগে যুগে কিছু ভুল নেতার কারনে নিরপেক্ষ থাকতে চেয়েও ক্ষুদ্র দেশ গুলি কোনো না কোন আবেগে তাদের পক্ষ পরিবর্তন করে হয় এক্সিস না হয় এলাইড ফোর্সের করিডরসস অফ পাওয়ারে যোগ দিয়ে সর্বিশান্ত হয়ে গেছে।

ইউক্রেন, তেমন একটি রাষ্ট্র।

আমি এর আগেও বহু লেখায় শুধু এটাই বলতে চেয়েছিলাম যে, চাদের থেকে সূর্যের আকর্ষন ক্ষমতা অনেক বেশী হলেও এই পৃথিবীতে জোয়ার ভাটা হয় চাদের আকর্ষন ক্ষমতার কারনে। রাশিয়া ঠিক সেই রকম একটা চাদের মতো। ইউরোপ, পশ্চিমা কিংবা অন্যান্য শক্তিধর দেশ গুলির আকর্ষনের থেকে একেবারে উঠোনে বসে থাকা রাশিয়ার আকর্ষন ক্ষমতা অন্যান্যদের থেকে এতোটাই বেশী যে, ইউক্রেনের উচিত ছিলো না এলাইড ফোর্সের কোনো নতুন ফর্মুলায় পা দেয়া।

এই মুহুর্তের বাস্তবতায় দেখা যাচ্ছে, হাংগেরী পোল্যান্ড, রুমানিয়া যেনো ইউক্রেনের সীমানাকে পরিবর্তনের জন্য একেবারে উতপেতে বসে আছে। অন্যদিকে ক্রমাগত সাপ্লাই দিতে দিতে এলাইড ফোর্সের সক্তিগুলিও নিতান্ত ক্লান্ত হয়ে এবার ক্ষান্ত দিতে চাইছে। ইউরোপিয়ান প্রেসিডেন্ট বা উপদেষ্টারা এখন একে অপরের উপর না হলেও এক্সিস শক্তিগুলিকে দোষারুপ করছেন কেনো তারা রুলস বেজড অর্ডারের সাথে এক না হয়ে অন্য দিকে সাপোর্ট করছে।  কিন্তুএটাই তো হবার কথা। যখন কেউ প্রতিবাদ করার শক্তি থাকে না কিন্তু মেনেও নিতে পারে না, তখন তারা চুপ থাকে বটে কিন্তু সুযোগের সন্ধানীতে যদি একবার প্রতিবাদ করার মতো পরিস্থিতি আসে, তখন তারা প্রয়োজনে বলয় পরিবর্তন করে কখনো এলাইড থেকে এক্সিসে, কখনো এক্সিস থেকে এলাইডে স্থান পরিবর্তন করেই ফেলে। আর এটাই হলো বিশ্বরাজনীতি। সুইডেন, ফিন ল্যান্ড ঠিক সেভাবেই নিরপেক্ষতা উপেক্ষা করে শেষ অবধি একটা বলয়ে ঢোকতে বাধ্য হয়েছে। ভাল কততা হবে বা খারাপ কততা সেটা বলবে ভবিষ্যত। তবে আমি এর আগেও বলেছি, এখনো বলছি- বহু দূরে বসবাস করা কোটিপতি দুসসম্পর্কের আত্মীয়ের চেয়ে পাশের বাসার লক্ষপতি প্রতিবেশির প্রয়োজন বেশি মানুষের। রাশিয়া তেমনি একটা লক্ষপতি প্রতিবেশি ইউরোপের জন্য।

সবকিছু পালটে যাচ্ছে-ইউরোপ কখনো নিজের উঠোনে যুদ্ধ দেখেনি, এবার তাদের উঠোনেই যুদ্ধের বিভীষিকা। মধ্যপ্রাচ্যে সব সময়ই যুদ্ধ চলছিলো এবার সেই যুদ্ধ অগ্রসর হয়ে বিভিন্ন অঞ্চলে দ্রুত সরে যাচ্ছে। দক্ষিন এশিয়ার দেশগুলি ক্রমাগত একে অপরের আরো কাছে চলে আসার পায়তারা করছে এবং কোথাও কোথাও আভ্যন্তরী মেলবন্ধনেও বেধে যাচ্ছে, আফ্রিকা এখন তার নতুন রুপে এমনভাবে সবার নজর কাড়ছে যে, পরবর্তীতে আফ্রিকা এই গ্লোবাল পলিটিক্সে একটা নতুন ক্ষমতা হয়ে দাঁড়িয়ে যাবে। চীন কখনো যুদ্ধে সাড়া দেয় নাই, এবার চীন নিজেও তার সেই পুরানো চেহাড়া থেকে একটু হলেও সরে এসছে।

করডোর্স অফ পাওয়ারের পরিবর্তনটা একেবারে চোখের সামনে ভেসে উঠছে। আর এই পাওয়ার পলিটিক্সে সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্থ হবে ইউরোপ। আর সেই ক্ষতিগ্রস্ত ইউরোপ কোনো এক সময়ে হয়তো ব্রেক্সিটের মতো অনেক দেশ লাইন ধরবে গ্রেক্সিট (জার্মানীর বহির্গমন), ফ্রেক্সিট (ফ্রান্সের বহির্গমন) কিংবা এমন আরো।

পৃথিবী আবার শান্ত হবে।

১৯/১/২০২৪-প্রিথিবীটা অদ্ভুত সুন্দর

মাঝে মাঝেই আমার খুব আফসোস হয় কেনো এতো ছোট একটা আয়ুষ্কাল দিয়ে ঈশ্বর আমাদেরকে এমন সুন্দর একটা পৃথিবীতে পাঠিয়েছেন। জানি উদ্দেশ্য আছে ঈশ্বরের কিন্তু সেটাতে কি হাজার বছরের আয়ুষ্কাল আমার হতে পারতো না? কতই না অদেখা সুন্দর জিনিষ না দেখে আমাদেরকে এই পৃথিবী ছেড়ে চলে যেতে হবে। পাহাড়ের সেই গহীন জংগলে কি অদ্ভুত সউন্দর্য্য লুকিয়ে রেখেছে, কে জানে, গভীর সমুদ্রের ভিতরে কারা কিভাবে বাস করে, সেটাও তো সব জানা হলো না। তাদের সেই সাম্রাজ্য, আইন কানুন, ভালোবাসা কি কিংবা আকাশের মহাশুন্যে কতই না সৃষ্টি সবই তো আমাদের নজরের বাইরে রয়ে গেলো, এর কিছুই দেখা হলো না। শুধু তাইই নয়, যতটুকু জেনেছি, আমরা যে সৌরজগতটায় বসবাস করি, সেই মিল্কীওয়ে ছায়াপথে আমাদের গ্যালাক্সির মতো আরো দুই কোটি লক্ষ নাকি গ্যালাক্সী আছে। আর সেই প্রতিটি মিল্কীওয়ে গ্যালাক্সিতে নাকি প্রায় চারশত বিলিয়ন নক্ষত্র বিদ্যমান। লক্ষ লক্ষ কোটি গ্যালাক্সির ভেতর একটি গ্যালাক্সির লক্ষ লক্ষ কোটির নক্ষত্রের ভেতর মিডিয়াম সাইজের একটা নক্ষত্র সূর্যের একটা সাধারণ গ্রহে ঘটনা চক্রে আমার জন্ম। তাহলে সেসব লুকানো সউন্দর্য কার জন্য ঈশ্বর সাজিয়ে রেখেছেন? কেইবা দেখছে সেসব অনাবিষ্কৃত রহস্য? সেসব না দেখেই আমাকে একদিন এই প্রিথিবী ছেড়ে চলে যেতে হবে। ছোট এই পৃথিবীর সব ভালো আর সব খারাপের বস্তুগুলিও একে একে দেখা হলো না। আর সেই মহাসমুদ্রের গ্যালাক্সিই বা কি আর সমুদ্রের তলদেশের সাম্রাজ্যই বা কি, কিছুই আমার জন্যে হয়তো ঈশ্বর দেখার অনুমতি দেন নাই। তাহলে কার জন্যে সেসব সৃষ্টি? হয়তো আমরাই তাঁর কাছে সব না। হয়তো বা আমাদের এই জগত ছেড়ে যাবার পরেও অন্য কোনো জায়গায় স্থানাতর হতে পারে যা আমরা জানি না, কেউ তো আর ফিরে এসে বলেও যায়নি। অথচ এই ছোট একতা জীবনে মানুষ তাদের নিজের সার্থের জন্য কত মারামারি কাটাকাটি দূর্নীতি, কত যে অসম, বৈষম্য প্রতিযোগিটা করে তাঁর কোনো ইয়াত্তা নাই।

ছোট একটা ডলফিন যখন তার থেকেও অনেক ছোট একটা মানুষের সাথে জলের ভিতর খেলা করে, বন্য কুকুরেরা যখন মানুষের বশ মেনে সব কথা শুনে, বাঘেরা যখন মানুষের পিছে পিছে হেটে হেটে তার সব হিংস্রতা একপাশে রেখে মানুষের সাথে খেলা করে, তখন কেনো জানি মনে হয়, কোথাও একটা কমন সম্পর্ক আছে আমাদের সব প্রানিদের মধ্যে। মানুষ যখন মানুষের শত্রু হয়ে যায়, সেখানে তাদের ভাষা এক, জাতী এক, দেশ এক অথচ একে অপরের উপর কতই না হিংস্রতা, অথচ বাঘের সাথে, ডলফিনের সাথে, হাংগরের সাথে এই মানুষেরই আবার নিসশর্ত বন্ধুত্ব হয়ে উঠে অথচ তাদের না ভাষা এক, না জাতী এক কিংবা না অভ্যাস এক। ব্যাপারটা অদ্ভুত না?

ব্যাপারটা আসলে অদ্ভুত না।

এই ব্যাপারটা ঘটে শুধুমাত্র একটা ন্যাচারাল কারনে। সেটা ভালোবাসা আর আনুগত্য। ভালোবাসার থেকে মারাত্মক কোনো অস্ত্র এই পৃথিবীতে আর কিছু নাই। সব প্রানী এই ভালোবাসা বুঝে, সব প্রানী ঘৃণা বুঝে, সব প্রানীর মধ্যে মমত্ববোধ এবং সার্থপরতা সমানভাবে বিদ্যমান। এই একটি কারনেই সব প্রানীরা একে অপরের কাছে বা দূরে সরে যায় অথবা একে অপরের উপর ভরষা হারায়।  আরআনুগত্য? আনুগত্য পাহাড়ের চেয়ে ভারী এবং সর্ববৃহৎ দড়ির চেয়ে দীর্ঘ একটি শব্দ.. এর অর্থ নানাবিধ :  ত্যাগ, আন্তরিকতা, দান,  ভালবাসা……..আরো অনেক কিছু।

আবার ঠিক এর উল্টোপিঠে সমানভাবে রয়েছে এতোটাই হিংস্রতা যা আমাদের ছোট এ জীবনের অন্তরে সব হিন্স্রতা সহ্য করার মতোও নয়। আমরা জীবন্ত মানুষকে চোখের সামনে হাতপা বেধে পুড়িয়ে ফেলি, ছোট ছোট ভুলের জন্য আমরা মানুষকে পাথর দিয়ে জীবন্ত আঘাত করে করে ক্ষত বিক্ষত করে একেবারে মেরেই ফেলি। কারো মনে কোনো দয়ার উদ্রেক হয় না। স্মার্ট বোম্ব, কন্টিনেন্টাল মিজাইল, এয়ার ক্র্যাস, পেট্রোল বোম্ব সব কিছু দিয়ে একে অপরের উপর এমনভাবে আঘাত করি, তাদের আয়ু থাকা সত্তেও আর বেচে যাওয়ার কোনো পথ থাকে না। কেনো এত রাগ, কেনো এতো দন্দ বা কিসের কারনে আমরা এতো কিছু করি?

ম্রিত্যুর পর সবার আকার এক, না সেখানে প্রান থাকে না থাকে কোনো শক্তি বা বাহাদুরী। সবচেয়ে শক্তিধর যিনি দাপটে ছড়ি ঘুরিয়ে বেরিয়েছন এই মেঠোপথে, অভনব কায়দায় বসেছেন সিঙ্ঘাসনে, তিনিও যা আর যাকে তিনি অত্যাচারে ছিন্নভিন্ন করে প্রান নাশ করেছে তার অবস্থাও তা। যদি কোনো কিছুই স্থায়ী করে নিজের করে রাখা না যায় তাহলে এতোসবের কি দরকার?

তারপরেও আমাদের মতো মানুষদের হোশ হয় না, জীবনের পরে মৃত্যুর কথা মনে পড়ে না, ক্ষমতা আর প্রতাপ দিয়েই চলি সবার চোখের সামনে।

১৮/১/২০২৪-আমি গুছিয়ে নিচ্ছি সব

আমি গুছিয়ে নিচ্ছি সব। আমি আমার চাহিদার সীমানা এতোটাই ছোট করে ফেলার চেষ্টা করছি যে, সেই সীমানায় থেকে যেনো আমি আমার বাকী সময়টা নিজের নিয়ন্ত্রনে রাখতে পারি। এই মাষ্টার প্ল্যানের অংশ হিসাবে আমি আমার যাবতীয় সব জমি জমা বিক্রি করে দেয়া শুরু করেছি। আমি জানি এক সময় এই জমিগুলির মুল্য এতোটাই বেশি হবে, তখন যে কেউ শুনলে আমাকে বোকাই মনে করবে এই কারনে যে, কেনো আমি জমিগুলি বিক্রি করেছিলাম।

আমি আমার বাবার অগিজ্ঞতা থেকে শিখেছি যে, ভালো যোগ্য উত্তরসূরী না থাকলে কোন সম্পদ বা সম্পত্তিই নিজেদের নিয়ন্ত্রনে রাখা সম্ভব না। পেশি শক্তি লাগে, তার সাথে লাগে অর্থ, লাগে কানেকশন, লাগে সমাজে প্রতিষ্ঠা। আমার যেহেতু দুই মেয়ে, ফলে ওরা যতোই পেশি শক্তি ওয়ালা থাকুক, যতোই অর্থ থাকুক, যতোই সামাজিক যোগ্যতা থাকুক, একজন মেয়ের পক্ষে তার বাবার সম্পত্তি রক্ষা করা কনোভাবেই সম্ভব না। বিশেষ করে যখন সম্পদ চারিদিকে ছড়িয়ে ছীটিয়ে থাকে। আমার বাবাও পারেন নাই। আমিও পারব না। তাই পরিকল্পনা এমনভাবে সাজিয়ে দিচ্ছি যাতে আমার মেয়েদের পক্ষে সেগুলি নিয়ন্ত্রন করা সম্ভব হয়। আমার নায় নাতকুরেরা হয়তো পারবে কিন্তু থার্ড জেনারেশনের উপর ভর করে নিজের কোন সম্পত্তিই রক্ষাকবচ হিসাবে রেখে যাওয়া সথিক নয়।

আর এই পরিকল্পনার পরিপ্রেক্ষিতে আমি আমার ছড়িয়ে থাকা জমিগুলি বিক্রি করে সেই অর্থ লিকুইড হিসাবে আমার জন্য সঞ্চয় করছি। যাতে বুড়ো বয়সে কারো কাছেই আমার হাত পাততে না হয়।

সাভারে ২টা ফ্ল্যাট কিনেছি দুই মেয়ের নামে। ওরা সেতেল হতে পারবে নিজেদের ফ্লাটে। মিরপুরের বাড়ি টা তো আছেই। আমার জীবদ্দশায় আমি এখান থেকে বিদায় হতে চাই। আমার বিদায়ের পর এটা ওদেরই থাকবে।

ব্যবসার ব্যাপারে এখন আর আমি হতাত লাফ দিয়ে উঠি না। নতুন কোনো ইনভেষ্টমেন্টে যেতে চাই না যতোক্ষন সেই ইনভেষ্টমেন্ট রক্ষার জন্য সুযোগ্য উত্তরসুরী না পাই। তাই আমি নতুন করে যেটা ভাবছি সেতা হলো-আবিরকে মাছের ব্যবসায় নিয়ে আসা। আবিরের বাবা মাছের ব্যবসার সাথে জড়িত, মনে হচ্ছে আবিরের বাবা মানুষ হিসাবে অতটা খারাপ না যতোটা আমি তাকে দেখার আগে ভেবেছিলাম। আবিরকে তার প্রফেশনের পাশাপাশি যদি মাছের ব্যবসার সাথে রাখতে পারি, আমার ধারনা, তার ২য় আরেকটা সোর্স অফ ইনকাম থাকবে। যদি আবির নষত না হয়ে যায়, ছেলেমেয়ে নিয়ে উম্মিকা আর আবির ভালোই থাকবে।

কনিকার জন্য আগামি আগস্ট ২০২৫ পর্যন্ত সব খরচ দেয়া আছে। ওকে নিয়ে আমার এই মুহুর্তে পড়াশুনা চালানোর ব্যাপারে কোন টেনশন নাই। বাকীটা কনিকা নিজে যদি আমেরিকায় সেটেল হতে পারে, তাহলে এই দেশে যা আছে, এক সময় কনিকাও তাকা নিতে পারবে এবং আমেরিকাতেই সেটেল হতে পারবে। বাকীটা ওরা জানে কিভাবে সেটেল হবে।

অরুর ব্যাপারে আমার পরিকল্পনা প্রায় শেষের পথে। ক্যাশ, জমি সব দেয়া হলো। এখন শুধু একটা স্থায়ী স্থাপনা করা যাতে যে কোন অবস্থায় সে নীরবে এবং শান্তিতে থাকতে পারে।

১৭/১/২০২৪-কনিকা আবার আমেরিকায় ব্যাক করে

গত বছরের (২০২৩) ২৫ ডিসেম্বর কনিকা আমেরিকা থেকে দেশে এসেছিলো উম্মিকার বিয়ে উপলক্ষে। আজ ওর আবার আমেরিকায় যাওয়ার দিন। সন্ধ্যা পৌনে আটটায় এমির‍্যাটসে ফ্লাইট। সময়টা ভালই কেটেছিলো এই কয়দিন। উম্মিকা এতোদিন বাসায় থাকতো, বিয়ের পর স্বামীর বাসায় থাকছে। পাশেঈ ওদের ভাড়া বাসা। মাত্র কয়েক মিনিটের রাস্তা। এতোদিন কনিকা ছিল, আজ চলে যাচ্ছে। থাকছি শুধু আমি আর আমার স্ত্রী মিটুল চৌধুরী।

জীবনের স্থায়িত্ব খুব কম এবং এর ধইর্ঘ আমাদের চাহিদার তুলনায় এতোটাই ছোট যে, আমরা ইচ্ছে করলেই আমাদের সব সপ্ন পুরন করতে পারিনা। সামর্থ থাকাটা বড় ব্যাপার না, সময়টা বড় ব্যাপার। এই সময়টা যেহেতু খুবই নগন্য, ফলে আমাদের চাহিদা হতে হবে তার থেকেও কম যাতে হোমওয়ার্ক করতে সুবিধা হয়।

৮/১/২০২৪-উম্মিকার বিয়ে এবং আমার বিশ্লেষণ

অনেকদিন আগেই লিখেছিলাম যে, আমি ধীরে ধীরে আমার জীবন নিয়ে গুছাচ্ছি। উম্মিকার বিয়েটাও আমার এই চলমান প্রক্রিয়ার একটা অংশ। কারন আমি ধীরে ধীরে দায়িত্ব ছেড়ে দিতে চাচ্ছি, সব কিছুর হিসাব কিতাব একেবারে নখের আগায় রাখতে চাচ্ছি যেনো মৃত্যু যেদিন আসবে সেদিন যেনো আমাকে এটা বলতে না হয়, অনেক কিছু করার বাকী ছিলো।

উম্মিকার আগেরবার বিয়েতে যদিও উম্মিকার পছন্দ মতোই ছেলেকে উম্মিকা আমাদের সামনে হাজির করেছিলো কিন্তু বিয়ের ঠিক আগে উম্মিকা সেই ছেলেটার সাথে বিবাহে রাজী ছিলো না। কিন্তু যেহেতু আমরা কথা দিয়ে ফেলেছিলাম, ফলে অনেকটা জোর করেই আমরা উম্মিকাকে অই ছেলের সাথে উম্মিকার বিয়ে দিয়েছিলাম। বুঝতে পারিনি ছেলেটা যে এতো লোভী। শেষ পর্যন্ত আমরাই ছেলেতাকে তাড়িয়ে দিতে বাধ্য করেছিলাম।

এবারের বিয়েতে আমি উম্মিকাকে কোনো জোর করিনি। কিন্তু ছেলেটার বয় বিদ্যমান থাকায় কোনোভাবেই রাজী ছিলাম না। অবশেষে ছেলেতা তাঁর ১ম স্ত্রীকে ডিভোর্স করার পর এবং আমি বিস্তারীত আলোচনার পর অবশেষ ডাল আবিরের সাথে উম্মিকার বিয়েতে রাজী হইলাম। এই রাজী হবার পিছনেও আমার একটা উদ্দেশ্য ছিলো- আর সেটা হচ্ছে, আমিও চেয়েছি উম্মিকা দ্রুত বিয়ে করে তাঁর নিজের পছন্দমত স্বামীর কাছে থাকুক।

এবারে জামাই এর ব্যাপারে আমার অনেক রিজার্ভেশন আছে। প্রথমবার ভেবেছিলাম, জামাই মানে ছেলে পাওয়া। কিন্তু সেটা ভুল প্রমানিত করেছিলো উম্মিকার প্রথম হাসবেন্ড। জামাই কোনোদিন ছেলে হয় না আর ছেলের বউ কোনোদিন নিজের মেয়ে হয় না। আমি এবার সেইটাই মনে মনে স্থির করেছি যে, কোন কিছুতেই আমি আর আগের মতো ভাবাবেগে থাকবো না। জামাইয়ের রোজগারে সে তাঁর ভালো মন্দ সংসার চালাবে, ওদের কোনো ব্যাপারেই আমি অন্তত নাক গলিয়ে উপযাজক হয়ে অতিরিক্ত কিছুই করতে যাবো না। জামাই শশুড়ের যতটুকু ব্যব্ধান থাকা দরকার, এবার ঠিক সেই মাপকাঠিতেই সম্পর্কটা আমি চলমান রাখতে চাই। না মাথায় তোলা, না নীচে রাখা। এটা ওদের জীবন, ওদের সংসার। সংসার শুরু করার আগে যা যা দরকার (ফ্রিজ, টিভি, এসি, ফার্নিচার, ওভেন, পিউরিট, আলমারী, শোকেস, দাইনিং চেয়ার টেবিল, খাট) সব দিয়ে দিলাম। সাথে গহনা প্রচুর। আমি ঠিক এর পরে আর কিছুই আগ বাড়াইয়া দিতে নারাজ। আমার দেয়ার ক্ষমতা আছে কিন্তু যাদের নেওয়ার ক্ষমতা নাই, তাদেরকে অন্তত সেধে কিছুই দিতে যাব না।

উম্মিকার মা প্রথমবারের অভিজ্ঞতা থেকে কিছু শিখছে বলে মনে হয় না। সে আবিরকে নিজের ছেলেই মনে করে, বেশ ভাবাবিত, আবেগিত, যেনো ঠিক আগের রানার মত। আমি তাতে কিছুই বলছি না কারন সে শুনবে না। উলটা মিনিং বের করবে। কিন্তু আমি জানি ঠিক কখন আমি ছাড় দেবো।

উম্মিকা প্রচন্দ রকমের সার্থপর। উম্মিকা যখন বুঝতে পারে যে, সে সেরে গেছে, উম্মিকা খারাপ ব্যবহার করতে পিছপা হয় না। আমি ওর এই গুনটা সম্পর্কে একেবারে ক্লিয়ার। ফলে আমিও উম্মিকার কাছ থেকে কিছুই আশা করি না। উম্মিকা আমাদের ফ্যামিলি গার্ল হিসাবে কাজ করে না। উম্মিকা মনে করে, যতটুকু নেয়া যায়, অতটুকুই ভালো। উম্মিকার এই গুনটা আমার একেবারেই অপছন্দের। উম্মিকার ধারনা নাই, আমার হাত কত খোলা যদি কেউ আমার সাথে একেবারে বন্ধুর মতো থাকে। যাক সে কথা, আমি জানি কখন আমি কাকে কতটুকু ছার দেব। এবার আর আগের মত এতো উলফুল্ল হবার কন কারন দেখি না। উম্মিকা বা আবির যদি চালাক হয়, তাহলে ভাল, তা না হলে আবির স্রেফ আমার কাছে উম্মিকার হাজবেন্ড এবং অন্য বাড়ির ছেলে।

হতে পারে আজ থেকে ৫/৬ বছর পর আমি বুঝতে পারবো, ওরা কতটুকু আমার বা কতটুকু ওরা আমার জন্য। এতা না বুঝা অবধি আজ যা দিলাম, আপাতত এখানেই ক্ষান্ত আমি। উম্মিকার মা হয়তো আমাকে অনেক কিছুর জন্য চাপ দিতে পারে কিন্তু সেতা আমার সিদ্ধান্তের বাইরে গিয়ে আমি কিছুই করতে চাই না। আমাকে অনেক কিছু বুঝতে হবে আগে। তারপর সব কিছু তো ওদেরই। সহজে সব কিছু যেমন আমি পাইনি, আমিও চাই না কেউ সহজে আমার কাছ থেকে সব ছিনিয়ে নিক, হোক সেটা উম্মিকার মায়ের চাপ বা উম্মিকার। আমি কখনো আর উম্মিকা বা আবিরকে বিদেশে যেতে বল্বো না। যদি ওরা যেতে চায় সেটা ওদের নিজের যোগ্যতায় এবং খরচে যেতে হবে। যদি কিছুটা সাহাজ্য লাগে সেটা হয়ত আমি করবো কিন্তু শতভাগ কখনোই না। আমার নিজের জন্যেও আমাকে সঞ্চয় বাচিয়ে রাখতে হবে কারন আমি জানি, এক সময় আমার জীবন আমাকেই টানতে হবে। সেই সময় শুধু আমার সঞ্চয় আমাকে বাচিয়ে রাখতে পারবে। লোকজনের খরচায় আমার জীবন অনেক সহজ হতে পারে। আমি এই ব্যাক আপ কখনোই নিঃশেষ করে ওদের জন্য উজার করে দিবো না।

আমার এখন দায়িত্তের মধ্যে রয়ে গেলো ছোট মেয়ে কনিকা। আমি ওকে আগামী ২০২৫ সালের আগষ্ট পর্যন্ত পরার সমস্ত খরচের তালিকা করেছি। আর ওকে এটাও বলেছি, ২০২৫ সালের আগষতের পর আমিও ওকে দেশ থেকে কোনো সাপোর্ট দিতে চাই না। বিদেশে পরাশুনা করিয়েছি। ওর পিছনে আমার প্রায় ৩ বা সাড়ে ৩ কোটি টাকা খরচ করতে হয়েছে। মেয়েদের মধ্যে ওর পিছনেই আমার সবচেয়ে বেশী খরচ করা হল। এরপরেও যদি সে নিজের পায়ে দাড়াতে না পারে সেটা ওর ব্যর্থতা।

আরো একজন আছে যে আমার রিস্পন্সিবিলিটি। তাঁর ব্যাপারেও আমি অনেক সচেতন কারন সে মনে করে আমি ছাড়া ওর আর কেউ নাই। আমি সার্থপর নই আর আমি দায়িত্তশিল মানুশের মতোই আচরন করে থাকি যারা আমার নিজের এবং কাছে লোক।

সবাই ভালো থাকুক।

১/১/২০২৪-উম্মিকার বিয়ে

৩০ ডিসেম্বর ২০২৩ তারিখে গায়ে হলুদের পর আজ পহেলা জানুয়ারী ২০২৪ তারিখে মিরপুর জনাব আলমগীর সাহেবের অধীনে উম্মিকার এবং আবিরের বিয়ে অনুষ্ঠিত হলো। কাবিন করা হলো ২০ লক্ষ টাকার যার মধ্যে উশুল দেখান হয়েছে ৩ লাখ এবং বাকিটা উশুল দেখানো হয় নাই। উকিল বাবা হিসাবে আমাআদের পক্ষে নাম লিখা হলো মুবীন আহমদকে এবং আবিরদের পক্ষে হলো এমদাদুল (আবিরের মামা)।

বিবাহোত্তর একতা ছোট খাটো অনুষ্ঠান করা হলো মিরপুর ২ নাম্বার বুফে কিংস রেষতুরেন্টে। গোটা ৫৬ জন লোকের সমাগম হয়। অত্যান্ত সুন্দরভাবে অনুষ্ঠানটি সম্পন্ন হয়েছে। আলহামদুলিল্লাহ।

৩০/১২/২০২৩-উম্মিকার গায়ে হলুদ

কোনো এক সময় এটাই চাওয়া ছিলো যেনো পরিবার থাকে সুখে এবং শান্তিতে। সবার মনের ইচ্ছাগুলি যেনো পুর্ন হয় ঠিক যে যেভাবে চেয়েছিল। জীবন বড় ছোট, এর মধ্যেই অনেক কঠিন দিন আসে, দুঃখের সময় মানুষ সেই সময়টাও পার করে কিন্তু সব কিছুর পরেও হয়তো আজ বা কাল মানুষের সব ইচ্ছা পুরন না হলেও মনের শান্তির জন্য যে ইচ্ছাগুলি পূর্ন হওয়া খুব দরকার সেগুলির কিছুটা হলেও পুর্নতা পায়। তারপর, একদিন মানুষ কিছু অপূর্নতা, কিছু পূর্নতা নিয়ে এই মায়াবী পৃথিবী ত্যাগ করে। যখন মানুষ এই মায়াবি পৃথিবী ত্যাগ করে, তখন তাঁর সাথে এই পৃথিবর আর কোন হিসাব কিতাব থাকে না। তাঁর উপর আর কারো কোনো দায়িত্ব থাকে না। হয়তো অভিযোগ থাকতে পারে কিন্তু তাতে তাঁর কিছুই যায় আসে না।

আমার বড় মেয়ের গায়ে হলুদ আমার মনের ইচ্ছার মধ্যে একটি ছিলো এবং অতঃপর একজন দায়িত্তশীল মেয়ের বর হিসাবে ডাঃ আবিরের সাথে গায়ে হলুদ অনুষ্ঠিত হলো আজ ৩০ ডিসেম্বর ২০২৩ তারিখে। অনুষ্ঠানটি করেছিলাম আর্মি অফিসার্স ক্লাবে। প্রায় চার শতাধিক অতিথির আগমন, নাচ গান, সব কিছুই ছিলো।  সবাই খাওয়া দাওয়া করে অনুষ্ঠনটি বেশ উপভোগ করেছে।

০১/১২/২০২৩-পীস এওয়ার্ড উপলক্ষ্যে  এমসিসি-১৫ বন্ধুদের গেট টুগেদার

জন্মের পর থেকে স্বয়ংক্রিয়ভাবে যেটা আমরা পাই তা হচ্ছে পারিবারিক বা রক্তের সম্পর্ক। আর সেই সম্পর্কটা আমরা কেউ না কিনে নেই, না অর্জন করি। এটা উত্তরাধীকারী হিসাবেই আমাদের কাধে চলে আসে। কিন্তু জন্মের পর থেকে তিলে তিলে বড় হবার পথে আমরা যেটা অর্জন করতে থাকি সেটা হলো বন্ধুত্ব। জীবনের অনেক স্তরেই এই বন্ধুত্ব তৈরী হয়, কখনো ব্যবসায়ীক বন্ধু, কখনো সোস্যাল মিডিয়ার বন্ধু আরো অনেক। কিন্তু জীবনের সেই ছোটকালের দুরন্তপনা সময়ে যারা একসাথে প্রায় অর্ধযুগ একই মাঠে একই ঘাটে, একই ছাদের তলায় বেড়ে উঠেছিলাম, সেই বন্ধুত্ব আমার কাছে অনেক দামী ভালোবাসা। ওদের সাথে আমার সময় কাটে আজো সেই বাল্যকালের মতো, তুই, তুমি আর তুই এর মাঝে।

যে কোনো কারনকে কেন্দ্র করেই হোক, যখন একত্রিত হই, ফিরে আসে সেই সময়টা। আশেপাশের লোকজন আমাদের এই ছেলেমীপনা দেখে হয়তো ভাবে-কি শুরু করেছে এই বুড়োরা? কিন্তু আমরা যে তখন আর বুড়ো নই, এটা একটা বাল্যকালকে টেনে বর্তমানে নিয়ে আসার মিলনমেলা।

আজ এমনি একটা গেট টুগেদার ছিলো আমার সেই প্রানপ্রিয় ক্যাডেট কলেজের বাল্যবন্ধুদের নিয়ে। ৪৫ জন বন্ধুদের মধ্যে অনেকেই প্রয়াত হয়েছে গেছে, কিছু বন্ধুরা দেশের বাইরে অবস্থান করছে, আর যারা দেশে আছে তাদের মধ্যে আমরা ১৭ জন একত্রিত হয়েছিলাম থাই এমার‍্যাল্ড রেষ্টুরেন্ট, গুলশানে। আমার আরেক দোস্ত ডাঃ জাহিদ (ক্যাডেট-৭৯৩) সেই আমেরিকা থেকে ফোন করেছিল। যদিও সে ছিলো না কিন্তু ওর ফোন কলই যেন অর উপস্থিতি আমার কাছে মনে হয়েছিলো। উপলক্ষ ছিলো-গত কয়েক মাস আগে আমি মহাত্মা গান্ধী ইন্টারন্যাশনাল পীস এওয়ার্ড-২০২৩ এবং মাদার তেরেসা গোল্ডেন এওয়ার্ড-২০২৩ এ ভূষিত হওয়ায় বন্ধুদের মধ্যে একটা গেট টুগেদার। আমিও আমার এসব বন্ধুদেরকে কাছে পেয়ে যারপরনাই আনন্দিত হয়েছি।

 

আমার পক্ষ থেকে প্রিয় মাহমুদকে জানাই আন্তরিক ভালোবাসা এবং অজস্র অভিনন্দন যে, আমার হয়ে দোস্ত মাহমুদই পুরু ইভেন্টের ব্যবস্থাপনায় ছিলো। কাজটা সহজ ছিলো না। রেষ্টুরেন্ট খোজা, বুকিং করা, সিট রিজার্ভ করা, সব বন্ধুদেরকে একত্রিত করা, তারপর সবার পছন্দমত খাবারের মেন্যু চয়েজ করা। থায়ংক ইউ মাহমুদ। তার সাথে আমি আমার সব বন্ধুদের-রিজু, রিয়াজ, মোর্শেদ, কাফি, ফিরোজ, হুমায়ুন, মামুন, ফয়সাল, আসাদ, নাসের, মুনজুর মাহমুদ, আখতারুজ্জামান, শারিয়ার আকন্দ, রেজাউল বারী ডেল, সায়েদুর এবং মাহমুদকে জানাই অসংখ্য ধন্যবাদ। যারা আসতে পারোনি, আমি ওয়াদা করছি, তোমরা আবার আসো, আবারো আমি হাজির হবো তোমাদের জন্য। সবাই সুস্থ্য থাকো।  

২৩/১১/২০২৩-বদলে গিয়েছি কি?

আমার বয়স ইতিমধ্যে প্রায় ৫৯ পার হয়ে গেলো (আজ আমার জন্মদিন নয়)। প্রায় ৫ যুগ। নেহায়েত কম নয়। অন্য কারো জীবনে কি ঘটছে, কি ঘটতে পারতো কিংবা কি কারনে কি ঘটেছে বা ঘটে নাই সে ব্যাপারে না জানলেও আমি আমার জীবনের পুরু ইতিহাসটাই জানি। কোথায় কি কারনে কিভাবে কেনো আমার জীবনে ক্ষনেক্ষনে কিংবা পরিকল্পিতভাবে কি বদল হয়েছে, সব আমি জানি। আমি আমার বাল্যকাল দেখেছি, কৈশোর দেখেছি, যুবককাল দেখেছি, আমি আমার হতাশা দেখেছি, আমার পিছলে পড়ার দৃশ্য দেখেছি, আবার সেই পিচ্ছল পথ থেকে ভাসতে ভাসতে আমার সাফল্যকেও দেখেছি। এই বিস্তর সময়ে আমি আমার আশেপাশে থাকা অনেক মানুষজনও দেখেছি। কেউ হাত বাড়িয়ে দিয়েছে, কেউ হাত উঠিয়ে নিয়েছে, কেউ পাশ কাটিয়ে চলে গেছে, কেউ বা আবার বিনা কারনেই পাশে দাড়িয়েছে। কখনো কারো উপরে খুব রাগ করেছি, কখনো কারো উপরে অনেক অভিমান করেছি, কাউকে কোন কারন ছাড়াই ভালোবেসেছি, কাউকে ভালোবাসতে গিয়েও ভালোবাসতে পারিনি, আবার কারো সাথে অযথাই রাগারাগি করেছি। কেউ আবার আমার সান্নিধ্য পাওয়ার জন্য ব্যাকুল হলেও আমি তাকে অবহেলা করেছি, আবার কারো সান্নিধ্য পাওয়ার জন্য আমি নিজেই হয়তো অনেক ব্যাকুল হয়েছি কিন্তু তার নাগাল হয়তো আমি পাইই নাই। অনেক বন্ধু পর হয়ে গেছে, অনেক অপরিচিত আবার বন্ধুও হয়েছে। কখনো আমার অজান্তে শত্রু তৈরী করে ফেলেছি, আবার কাউকে কিছু না করেও আমি তাদের কাছের বন্ধু হয়ে গেছি। এককালের সবচেয়ে ভালো কলিগ পরবর্তীতে সবচেয়ে অপ্রিয় হয়ে গেছে সেটাও দেখেছি, আবার যাকে কখনোই প্রিয় মনে করিনি, সেও এক সময় এতো কাছে চলে এসছে যা কখনো ভাবিও নাই।

জীবনের এমনসব অনেক কিছুই ঘটে গেছে আমার এই প্রায় ৫৯ বছরের সময়ে। আমি এখন সেই শৈশবের দুরন্তপনা বালকের মতো ক্ষিপ্র গতিতে দৌড়াই না, এডভেঞ্চারে এখন আর সাহস পাই না, বন্ধু আসরে এখন আর সেই আগের মতো উচ্চস্বরে চেচাই না। এখন কেনো যেনো শুধু নিজেকেই নিয়ে থাকতে ইচ্ছে করে। কি ঘটে গেলো আমার আশেপাশে, কি করতে পারতাম কারো জন্য, এগুলি আর আমাকে টানে না।

পথে হাটতে হাটতে পথে দাঁড়িয়ে থাকা অনাথ কোনো ভিক্ষুককে এখন আর কটু মন্তব্য করিনা। শুধু ভাবি, আহা রে জীবন। হয়তো তারও কোনো ইতিহাস আছে। হয়তো তারও কোনো পরিবার ছিলো, আজ তার পাশে কেউ নাই। হয়তো বা সেইই সব ছেড়ে ছুড়ে একা বেরিয়ে গেছে। কিন্তু কোথাও তার কোনো জায়গা নাই এই পথ ছাড়া। এখন তাকেও আর প্রশ্ন করিনা-কেনো সে ভিক্ষা করে, কেনো সে কোনো কাজ বেছে নেয় না।

বাজারে গিয়ে এখন আর কারো সাথে দাম নিয়ে তর্ক করিনা। দাম বেশী মনে হলে ভাবি-থাক না, আমার পোষায় না, আমি বেরিয়ে আসি। হয়তো দোকানদার একটা দাম বলার জন্য অনুরোধ করে, আমি মুচকী হেসে হয়তো বলি-নাহ, পছন্দ হয়নি। বলে বেরিয়ে যাই। ভাবি-কি দরকার তার সাথে আবার দাম নিয়ে ঘাটাঘাটি করা। আবার এমনো হয় যে,-সে হয়তো একটু বেশী দামই বলেছে, তাতে কি? যদি আমার কাছ থেকে পাওয়া একটু বেশী দামে তার নিজের পরিবার আরো একটু সুন্দর হয়, কিংবা তার উঠতি কোনো প্রয়োজন মিটেই যায়, ক্ষতি কি? হয়তো ইচ্ছে করেই মেনে নেই।

একটা সময় ছিলো, ১০ টাকার রিক্সা ভাড়া ১০ টাকা না পাওয়া অবধি হয়তো ঘন্টার পর ঘন্টা দাঁড়িয়ে থেকেছি, তাও ১০ টাকার বেশী দেবো না বলে পন করেছি। এক রিক্সা থেকে আরেক রিক্সার দামদর করেছি। এখন আমি আর কোনো দামদরও করি না। কি যায় আসে যদি ১০ টাকার ভাড়া সে আমার কাছ থেকে ২০ টাকাই নিলো? সেতো আর কটি টাকা চায় নাই। হতেও তো পারে তার এই অতিরিক্ত টাকাটা আসলেই দরকার। তার মেয়ের জন্য হয়তো একটা স্কুলব্যাগ কিনবে বা অন্য কিছু। আমি আন্দাজ করে একটু বেশিই দেই। যদি দেখি তার মুখে হাসি ফুটেছে, ভাবি-ঠকাইনি, কিন্তু যদি তার মুখে এমনভাব ফুটে উঠে যে, হয়তো আর একটু বেশী দিলে ভালো হতো, আমি দেরী করি না, আরো একটু বাড়িয়েই দেই। তার মুচকী হাসিটা আমার কাছে দরকার। হয়তো এই রিক্সাওয়ালার সাথে আমার দ্বিতীয়বার আর দেখা হবেওনা। না আমি ওর নাম জানি, না সে আমাকে চিনে। কিন্তু ক্ষনিকের এই ছোট মুচকী হাসিটা নেহায়েত কম নয়।

কারো সাথে এখন আমি আর তর্কও করি না।  কারো তর্কে আমি জিততেও চাই না। বুঝতে পারি ভুল তর্ক কিন্তু আমি আর আগের মতো সেই তর্কে সরব নই। কারন, কাউকে আমি শোধরিয়ে দিয়ে তার ইথিক্সকে আমি বদলাতে পারবো না। কেউ কারো জন্যই বদলায় না। সবাই নিজের জন্যই একসময় বদলায়। যেমন আমিও বদলে গেছি। তবে আমি আগে যেমন শুধু বক্তা ছিলাম, এখন আমি ভালো শ্রোতা হয়ে গেছি। বলুক না মানুষ তাদের কথা, আমি শুনি, হাসি, কখনো কখনো চুপ থাকি, কখনো কখনো আবার উসাদ মনে এটাও ভাবি- বলুক সে তার নিজের কথা, অন্তত আমার মতো একজন শ্রোতা তো আছে যে তার কথা শুনছে। তাদের গল্পগুলিতে হয়তো অনেক স্মৃতি আছে যা আমার কোনো কাজেই লাগবে না, তারপরেও তাদের একাকীত্ব জীবনের সেই পুরানো কিছু কথা না হয় আমিই শুনলাম। তার বুকটা তো কিছুটা হলেও হালকা হলো, কিছুক্ষন সময়ের জন্য হয়তো সে আবার ফিরে যায় তার সেই পুরানো কোন দিনে, পুরানো কোনো হাসি দুঃখ মাখা জীবনে।

কেউ আমাকে মুল্যায়ন করুক বা না করুক, এখন এগুলি নিয়ে আর বেশী মাথা ঘামাই না। অবজ্ঞা করলেও আমি সেখানে তাকে অবজ্ঞা করি না। আস্তে করে হয়তো চুপিসারে সরে যাই। কোনো কিছুই বা কারো কোন মুল্যায়নে বা অবমুল্যায়নে আমার কোনো কিছুই পরিবর্তন হবে না। ইগো থেকে বেড়িয়ে যাই। প্রানভরে সবার প্রসংসা করি। কাউকে প্রসংসা করলে আমার তো কোন ক্ষতি নাই। অন্তত তাকে আমি কষ্ট দেইনি এটা ভেবেই সেটা করি। হয়তো তাকে কেউ প্রসংসাও করেনি, আমি না হয় করলাম। কি ক্ষতি?

কাউকে আমি টাকা ধার দিয়েছি, আমি কাউকে সেটার জন্য প্রতিনিয়ত চাপে রাখি না। এটা তার দায়িত্ব আমাকে সেটা বুঝিয়ে দেয়া। যদি ভালো মানুষ হয়, যদি দায়িত্তশীল হয়, যদি উপকারের কথা মনে রাখে, সে ফিরে আসবে অতি বিনয়ের সাথে। কিন্তু আমি ধরে নেই-যা দিলাম, তা দিয়েই দিলাম। যদি কখনো তা ফিরে আসে, সেটা আমারই ছিলো। যদি ফিরে না আসে, অন্তত আমি বুঝলাম, উপকার করার লিমিট হয়তো সেখানেই শেষ। কিন্তু অপদস্ত করি না।

এই দুনিয়ায় কতো মানুষ যে আছে যারা একা থাকে, যারা ভালোবাসা দিতে গিয়েও দিতে পারেনি, তাদেরকে ভালোবাসা দিতে চেয়েও অনেকে তা দিতেও পারেনি। তার কাছে হয়তো অন্য কোনো কিছু আরো প্রিয়, আর বেশী দামী। কেউ কারো ভিতরের কথা জানে না। আজিবন বলে গেলেও তাদের ভিতরের কষ্ট, সুখ, আহলাদ কোন কিছুই অন্য কাউকে বুঝানো যায় না। হাসিটা ঠটে থাকলেও সুখের অনুভুতিটা থাকে অন্তর, দুঃখের, কষ্টের বেদনার পানিটা চোখের জলে দেখা গেলেও কষ্টের অনুভুতিটা থাকে মনের ভিতরে। সেগুলি দেখানো যায় না, সেগুলি কাউকে বুঝানোও যায় না। ভাষাই যদি হতো একমাত্র প্রকাশের মাধ্যম তাহলে বোবার কথা, প্রানিদের কথা কোনো মানুষ কখনোই বুঝতে পারতো না।  পরিবর্তনও একটা ভাষা।  

আমি আমার জন্যই বাচি, এক সময় আমি বাচতে চেয়েছি আমার পরিবারের জন্য, আমার সন্তানের জন্য, আমার সমাজের জন্য, আমার দেশের জন্য। কিন্তু এখন আমি আমুল পরিবর্তীত এক মানুষ। আমি আমার জন্যই বাচি। প্রতিটি দিনকে জীবনের শেষ দিন মনে করে বাঁচি।

হয়তো একদিন সেই দিনটা খুব কাছে যখন আমার জন্যেও আর বাচার দরকার হবে না। পৃথিবী বড্ড সুন্দর, এর গাছপালা সুন্দর, মেঘলা আকাশ সুন্দর, ঝড়ো হাওয়া সুন্দর, চাঁদ সুন্দর, শীত সুন্দর, পাখীদের কিচির মিচির শব্দ সুন্দর, এমন কি কাল বৈশাখী ঝড় ও সুন্দর। কিন্তু একদিন এই সব ছেড়ে আমাকে চলেই যেতে হবে। তাহলে কার সাথে আমি কি নিয়ে তর্ক, কি নিয়ে ইগো, কি নিয়ে এতো বাহাদুরী কিংবা অবজ্ঞা করবো?

আমি অনেক বদলে গেছি।

২২/১১/২০২৩-মানুষের জীবন মৃত্যু

মানুষের জীবন বড় অদ্ভুত। যতোক্ষন জীবিত আছে, তাকে নিয়ে কেউ না কেউ সব সময়ই ব্যস্ত থাকে। হোক সে স্বনামধন্য কোনো ব্যক্তি বা সবার অগোচরে পালিয়ে বেড়ানো কোনো মানুষ। যারা এই সমাজের উঁচু স্তরে থাকেন, তাদের বেলায় সবার ব্যস্ততা একটু বড় পরিসরে আর যারা কোনো স্তরেই নাই, তারা হয়তো সীমাবদ্ধ শুধুমাত্র তার ঘরে বা পরিবারের মধ্যে। যখন কেউ আর এই দুনিয়ায় থাকেন না, সবার পরিনতি প্রায় একই রকমের, অর্থাৎ মুছে যাওয়া। তদুপরি সবার সব মুছে না গেলেও তাদের কিছু কিছু কৃতকর্মের জন্য মাঝে মাঝে আলোচনার বিষয়বস্তুতে চলেই আসেন।

এই কথাগুলি বলার কারন হচ্ছে-গতকাল ২১ নভেম্বর উপলক্ষে প্রধানমন্ত্রীর দাওয়াতে সেনাকুঞ্জে গিয়েছিলাম। প্রতিবছরই যাই। সেখানে এবার দেখেছি, গত বছরে যারা অনেক হোমরা চোমড়া ব্যক্তিদের তালিকায় সচল ছিলেন, তারা আজ কারো না কারো দ্বারা রিপ্লেসড এবং তারাও প্রায় মৃত কোনো মানুষের মতোই। সেই আগের হাল হকিকত নাই, সেই দাপট নাই, সেই আচরনও নাই। অথচ সেই আগের মানুষটাই আছেন, আগের নামটাতেই আছেন শুধু নাই স্তরের পজিশনটা। এখন সেখানে প্রতিস্থাপিত হয়েছেন নতুন কোনো মুখ, নতুন কোনো চরিত্র, নতুন কোনো নাম।

কথা হচ্ছিলো এককালের মন্ত্রী রাশেদ খান মেননের সাথে। উনি মন্ত্রী ছিলেন, কথা হচ্ছিলো সাবেক তিন সেনাপ্রধানের সাথে-জেনারেল বেলাল, জেনারেল মুবীন এবং জেনারেল আজিজ। কথা হচ্ছিলো নেভীর সাবেক প্রধান শাহীন সাহেবের সাথে। এ ছাড়াও কথা হচ্ছিলো আরো কিছু জ্বলন্ত সাবেক ব্যুরুক্রেটদের সাথে। তারমধ্যে ছিলেন সাবেক মন্ত্রী পরিষদের ক্যাবিনেট সচীব ইত্যাদি। ওনারা এর আগেও এই প্রোগ্রামে এসেছিলেন, আজকেও এসেছেন কিন্তু স্তয়াটাস এক নয়। এরই মধ্যে অনেকে আবার গত হয়েছেন যারা গত বছরে এসেছিলেন কিন্তু এবার আর আসার কোনো সুযোগই নাই। কারন তারা এ বছরের সশস্ত্র বাহিনী দিবস উদযাপনের হায়াত পান নাই। আবার অনেকেই ছিলো যারা ইচ্ছে করেই আজকের দিনের এমন একটা মহাগ্যাদারিং অনুষ্ঠানে ইচ্ছে করেই আসেন নাই কারন তারা আর এই অনুষ্ঠানে আসার মত পরিস্থিতিতে নাই। কারো নামে বদনাম, কারো নামে নিষেধাজ্ঞা, কারো নামে দূর্নিতির অভিযোগে তারা প্রায় সমাজে মুখ দেখাতেও ভয় পান।

এই যে একটা পরিস্থিতি, একটা পরিবর্তন এটা শুধু করতে পারে “সময়” নামক ফ্যাক্টর। “সময়” সবকিছু পালটে দেয়। পালটে দেয় নামের আগে পরের স্ট্যাটাস। আমার স্পষ্ট মনে পড়ে গত বছরের ২১ নভেম্বরের ঘটনা। মনে পড়ে তার আগের অনেক ঘটনা যারা ক্ষমতায় ছিল, তারা আজ জীবন্ত থেকেও অনেকের কাছে খুবই অ-জীবন্ত। তখন সময়টা ছিলো তাদের ঘিরে, আজ তারা একই স্থানে একই ব্যক্তি একই অনুষ্ঠান হওয়া সত্তেও আজ তারা ততটাই অবহেলিত হচ্ছেন যতোটা তারা অবহেলা করেছিলেন অন্যদেরকে সেই সময়ে যখন তাদের কাধ ভারী ছিলো ব্যাজে। যখন তাদের হাতে ছিলো চেয়ারের ক্ষমতা।

দেখলাম, সাবেক সেনাপ্রধান আজিজ এককোনে একটা চেয়ারে বসে আছেন। কেউ তার সাথে কথাও বলার সুযোগ নিচ্ছে না। দেখলাম রাশেদ খান মেননকে, এতিমের মতো একটা জায়গায় দাড়িয়ে কার সাথে যেনো কথা বলছেন। বুঝা যাচ্ছিলো যে, তিনি কথার ছলে সময়টা পার করছেন। দেখেছি আরো বড় বড় ব্যুরুক্রেটদেরকে। তাদের এই সাবেক হিসাবে আর আগের মতো কদর যেমন নাই, তেমনি কারো কারো ঘেন্নায় দাড়িয়ে আছেন সবার মাঝে। নিশ্চয় তাদের এখন খারাপ লাগে, নিশ্চয় ভাবেন তারা যে, কেনো আর আগের মতো মানুষ তাদেরকে সেই মুল্যায়নটা করছেন না? তিনি তো আর মরে যান নাই? মাত্র সাবেক হয়েছেন শুধু। আসলে, ক্ষমতা আর অবসর বড় অদ্ভুত জিনিষ। যখন কেউ ক্ষমতায় থাকেন, তারা যদি সেই সময়টায় সেই ক্ষমতাটা ইনভেষ্টমেন্ট করতেন মানুষের কাছে, আজ যখন আর ক্ষমতায় থাকেন না, এখন তিনিরা এই সময়টায় এসে দেখতে পেতেন, প্রচুর মানুষ এখনো তাদের পিছু ছাড়ছেন না।

আমার ঘুরে ঘুরে এসব দেখতে খুব ভাল লাগে। দেখি আর ভাবি, কত অদ্ভুত সব মানুষজন। মানুষ সবদিক থেকেই চরম সার্থপর। কেউ আজকে ক্ষমতার অপব্যবহার করলে, কেউ কাউকে ঠকালে এর প্রতিদান আজ না হোক, আগামিকাল এর প্রভাব হারে হারে পাবেনই। আজকে যাদের নামে রাস্তায় রাস্তায় অলিতে গলিতে ব্যানারের মাধ্যমে বন্দনা দেখি, ঠিক তার প্রস্থানে আগামিকাল তার সব ব্যানার খুলে আরেকজনের নামে বন্দনা শুরু হয়। আগেরজন এই পৃথিবীতে ছিলো কিনা এটাই মাঝে মাঝে সন্দেহ হয়। আমার এলাকায় গত ৪০ বছরে একের পর এক রাজনৈতিক এমপি, মিনিষ্টার দেখেছি যাদের নামে আর ছবিতে ব্যানারে ব্যানারে রাস্তার গাছপালাও ঢেকে গিয়েছিলো। কিন্তু তাদের মৃত্যুতে কিংবা ক্ষমতা থেকে চলে যাবার পর সেইসব রাজনৈতিক ব্যক্তিদের আর কোথাও দেখা যায় নাই। আমজনতা ইন্সট্যান্টলি ভুলে যায় তাদের। তারা কোটি কোটি টাকা রেখে যায় তাদের পরবর্তী প্রজন্মের জন্য বটে কিন্তু সেই অবৈধ আয় তার নিজের কোনো কাজে লাগে না বরং এই অবৈধ টাকার জন্য ইহকালের শাস্তির একটা বড় বোঝা কিয়ামত পর্যন্ত বয়ে বেড়াতে হয়।   

21/11/2023-ক্যাবিনেট সচীব মাহবুব ভাই

২০১৯ সালের দিকে যখন মাহবুব ভাই শিক্ষা সচীব ছিলেন, তখন একবার মাহবুব ভাইয়ের সাথে ফোনে কথা হয়েছিল বটে কিন্তু শশরীরে দেখা করার সুযোগ এবং সময় কোনোটাই হয়ে উঠেনি। অদেখা কোন মানুশের সাথে টেলিফোনে কথা বলে তার গলার স্বর শুনে শ্রোতা নিশ্চয়ই কাল্পনিক একটা চেহারা সাজিয়ে নেন, যেমন তিনি কি মোটা হবেন নাকি চিকন, নাকি একটু বয়ষ্ক নাকি অনেক ইয়াং টাইপের।  টেলিফোনে মাহবুব ভাইয়ের গলার স্বর শুনে মাহবুব ভাইকে আমার যতোতা ইয়াং মনে হয়েছিলো, বাস্তবে তিনি আরো বেশী ইয়াং। আজ সশস্ত্র বাহিনী দিবস উপলক্ষে মাননীয়া প্রধানমন্ত্রীর সেনাকুঞ্জের দাওয়াতে হটাত করেই মাহবুব ভাইয়ের সাথে দেখা। মাহবুব ভাই এখন আর শিক্ষা সচীব নন, তিনি গনপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকারের কেবিনেট সচীব হিসাবে অনেক গুরুদায়িত্ব পালন করছেন। অনেক ধন্যবাদ মাহবুব ভাই।

২১/১১/২০২৩-সশস্ত্র বাহিনী দিবস

কিছু কিছু গেট টুগেদার আসলেই নতুন পুরান মুখগুলির সাথে অনেকদিন পর হলেও দেখা করিয়ে দেয়। অনেক অতীত তখন সামনে চলে আসে, অনেক সুখ-দুঃখের, কষ্টের কিংবা সফলতার কাহিনী সামনে আসে। নষ্টালজিক করে দেয় মন এবং অন্তর। আমরা যারা ডিফেন্স ফোর্সে ছিলাম, তাদের জন্য ২১ নভেম্বর শুধু একটা সশস্ত্র দিবসই না, এটা একটা মহামিলনের মতো যোগসুত্র। প্রায় ১৮/১৯ বছর আগে সেনাবাহিনী থেকে অবসর গ্রহন করলেও এই সময়টায় মনে হয় আবার ফিরে গেছি সেই সময়টায় যখন সময় চলমান ছিলো আমাদের। আজ তেমনি একটা দিন ছিলো। মাননীয়া প্রধান মন্ত্রীর দাওয়াতে আমরা সেনাকুঞ্জে সবাই মিলিত হয়েছিলাম। খুব ভালো লেগেছে পুরান সেই সিনিয়ার জুনিয়ার অফিসারগুলির সাথে মিলিত হতে পেরে। তাদের সাথে বেসামরিক অনেক স্বনামধন্য ব্যক্তি বর্গের সাথেও দেখা হলো যারা আমার খুব প্রিয় মানুষগুলির মধ্যে অন্যতম। এইদিনের কিছু ছবি রেখে দিলাম টাইম লাইনে। হয়তো আবারো বেচে থাকলে বছর ঘুরে তাদের দেখা পাবো ইনশাল্লাহ।

৫/১১/২০২৩-মাঝে মাঝেই দেখবেন কেনো যেন মনে হয়

মাঝে মাঝেই দেখবেন কেনো যেন মনে হয়-কোথায় যেনো কি ঠিক নাই, কোথায় যেন কোনো কারনবিহীন একটা অসস্থিবোধ করছেন অথচ বলতে পারছেন না ব্যাপারটা আসলে কি। মনের আনাচে কানাচে অনেক কিছু খতিয়ে দেখেও কিছু পাওয়া যায় না যে, কেনো মনে হচ্ছে, কি যেনো ঠিক নেই। খাচ্ছেন, ঘুরছেন, ঘুমাচ্ছেন, সবার সাথে মেলামেশাও করছেন কিন্তু মাঝে মাঝেই আবার সেই চিন্তাটা মাথায় আসছে, কেন জানি অসস্থিবোধ করছেন। অথচ আপনি সেটার কারন বুঝতে পারছেন না। কাউকে জানাবেন? কিন্তু কি জানাবেন? সেটাও নির্দিষ্ঠ করে বলতে পারছেন না।

এমনি কিছু কিছু পরিস্থিতিতে আমাদের সবার সাবধান হওয়া উচিত। আমরা অনেক কিছু বুঝে উঠার আগে আমাদের ষষ্ঠ ইন্দ্রিয় সম্ভবত কিছু একটা আঁচ করতে পারে কিন্তু তার কাছে কংক্রিট কোনো তথ্য নাই বা প্রমান নাই। সে কিছুর একটা আভাষ দেয়। তাই একটা কথা সবসময় মনে রাখা উচিত যে, বিপদের আভাষ পাওয়া মানেই সবসময় এটা ভুল নয়। এটাও তো হতে পারে যে, আপনি কারো বিকৃত মানসিকতাকে অলৌকিকভাবে অনুভব করছেন? আর এটা কোনো সন্দেহ নয়। এটাও তো হতে পারে যে, সত্যিই আপনার বিপদের আশংকা আছে!!  যখন অবচেতন মন একটা অদ্ভুত কিছুর আশংকা করে, মনে হয় যেনো something is not right, বা Something is wrong somewhere, তাই এটা জরুরী যে, আপনি সবসময় সতর্ক থাকুন। তানা হলে বিপদ যখন একদম একদিন সত্যিই সামনে চলে আসবে তখন আর প্রতিক্রিয়া দেখানোর কোনো সময় থাকে না। ভয়কে ম্যানেজ করা আমাদের জীবনে একটা গুরুত্তপুর্ন অংশ। যদি কোনো ছোট খাটো ভয় বারবার মনে আসে, তাহলে সেটাকেই বিশ্বাস করে একেবারে প্যানিক পর্যায়ে যাওয়া বুদ্ধিমত্তার কাজ নয় কিন্তু যদি সেই ভয়ের কারন আছে বলে মনে হয় তাহলে তাঁকে ভ্রম, বা হ্যালোসিনেসন কিংবা মায়াজাল মনে করে এড়িয়ে যাওয়াও ঠিক নয়।

০৪/১১/২০২৩-সময় সব সময় সবার কাছেই দামী। (রঙ্গে ভরা পাঠক)

সময় সব সময় সবার কাছেই দামী। কেউ সময়টাকে পয়সার সাথে তুলনা করে আর কেউ তুলনা করে সুখ দিয়ে। একটা মজার ব্যাপার হচ্ছে-সবার কাছে কম বেশী পয়সা থাকেই। যে কোন কাজ করে না, যার কোনো সোর্স অফ ইনকাম নাই, তার কাছেও কিছু না কিছু পয়সা থাকে। পয়সা আসার এই ব্যাপারটা খুব অদ্ভুত। কিভাবে আসে, কার কাছ থেকে কখন আসে, যার কাছে আসে, সেও মাঝে মাঝে বুঝতে পারে না, কিভাবে এলো। কিন্তু আসে। দিন চলে যায়, আবার আরেকটা নতুন দিন আসে। এক সময় জীবনটাই চলে যায়, তখন আর পয়সার কোন প্রয়োজন পড়ে না। তখন মনে হয়, সময়টা থাকলেই হতো, আরো কিছুদিন এই পৃথিবীর আরো কিছু সুন্দর জিনিষ উপভোগ করা যেত।

মানুষের সবচেয়ে বড় দূর্ভাগ্য হচ্ছে-সে জানে না তার সময়ের লিমিটটা কথায়। এই লিমিটটা না জানার কারনে জীবনের শেষ দিনতক মানুষ শুধু এটার পিছনেই ঘুরে। একে একে পাহাড় সমান পয়সা জমা করে ফেলে, ভাবে এইতো আর কিছুদিন পর থেকে শুধু ভোগ করবো। অন্যদিকে, পতসা উপার্জনের জন্য সে তার লিমিটেড সময়টাকে এমন প্রান্তে নিয়ে যায় যে, সঞ্চিত পয়সা ভোগ করার জন্য যে সময়টা দরকার, সেটা তার কাছে থাকেই না। জীবনের লিমিটেড সময়টাকে সে ভাবতেই চায় না যে, কখন কতটুকু পয়সার প্রয়োজন তার সেই লিমিটেড পয়সাটাকে ব্যবহারের জন্য। ফলে যে বিস্ময়কর ঘটনা ঘটে সেটা হচ্ছে, হাতে জমা অনেক পয়সা রেখেই মানুষ ছেড়ে যায় তার সব সাম্রাজ্য আর সঞ্চয় করা পয়সাগুলি। তখন এগুলি অন্য কেউ ভোগ করে যা করার সপ্ন ছিলো যিনি পয়সা উপার্জনের জন্য এতোটা সময় নষ্ট করেছেন। এই যে চক্রটা, এটা সবাই জানেন, সবাই মানেন, কিন্তু কেউ এটাকে ফলো করেন না, করতেও চান না।

অদ্ভুত না ব্যাপারটা?

কিন্তু এটা অন্য কোনো পশু পাখীদের বেলায় হয় না। অতচ তাদের জীবনের মধ্যেও ভালোবাসা আছে, কষ্ট আছে, দুঃখ আছে, আছে আরো অনেক কিছু।

০৪/১১/২০২৩-অবসেসন বা অন্য অর্থে কোনো কিছুর

অবসেসন বা অন্যঅর্থে কোনো কিছুর উপর কারো একাগ্রচিত্তের মতো একটা এক তরফা ভাবনা বা বাতিক। এই অবশেসন একটা শাখের করাতের মতো। যদি অবসেসন কোনো ভালো জিনিষের উপর হয় তাহলে সেটা মানুষকে উন্নতির চরম শিখরে পৌঁছে দেয়ার রাস্তা তৈরী করে দেয় কিন্তু নেগেটিভ অবসেসন ভীষন বিপদ। বিপদ যেমন তার আশেপাশের মানুষদের জন্যে, তেমনি বিপদ সমাজের জন্য। আর এই অবশেসন সবচেয়ে বেশী বিপদ সেই মানুষটির জন্য যে ভুল জিনিষ নিয়ে অবসেসিস হচ্ছেন।

অনেক কারনে মানুষ এই অবশেসনে ভোগে। কখনো প্রেমের কারনে, কখনো অর্থের কারনে, কখনো নিজের অপারগতায় অন্যের উপর হিংসার কারনে, কখনো আবার এমনি এমনি। শেষেরটা হতে পারে নিছক কোনো পারিবারিক বা পরিবেশগত কারনে।

যারা অবশেসিসড, তারা কিন্তু অবুঝ নন, তারা অশিক্ষিতও নন, তারা যুক্তি মানেন, তারাও আশেপাশের সবার ব্যাপারে জ্ঞান রাখেন। কিন্তু তারা অবসেসিসড হয়ে গেছেন, এটা তার আশেপাশের অনেকেই জানেন না। ফলে, এসব মানুষগুলি থেকে অন্যরা যে বিপদের আশংকা আছে, সেটা হয়তো বুঝেই উঠতে পারেন না।

এই নেগেটিভ অবসেসিসড মানুষ গুলিই ক্রমাগত মস্তিষ্ক বিকাসের কারনে এক সময় হয়ে উঠে সিরিয়াল কিলার, কিংবা জাগ্রত অদৃশ্য ধ্বংসাত্মক কোনো শ্রেনীর প্রতিনিধি। ফলে যখন আপনি কাউকে এমন দেখবেন যে, কোনো একটা কাজে তার নাছোরবান্দার মতো এটিচিউড, বা যুক্তির বাইরে গিয়েও কন কিছু না মেনে এক তরফা তার পিছনে লেগেই রয়েছে, সাবধান হোন। হতে পারে, আপনিই তার প্রথম টার্গেট।

আর যদি পজিটিভ মনোভাব ওয়ালা কোন অবসেসিড এর সাথে আপনার সাক্কাহত হয়, তাকে ধরে রাখতে পারেন, কিন্তু এটা সব সময় মনে রাখা দরকার, সে জেনো তার কাঙ্ক্ষিত লক্ষ্যে পৌঁছানোর জন্য আপনাকে ব্যবহার না করে। তাহলে বুঝবেন, সেখানেও আপনি বলীর পাঠা।

তাই এরুপ কোন অবসেসিডের কাছ থেকে হোক সে নেগেতিভ বা পজিটিভ, একটু আলাদা থাকুন। হয়তো ফলাফল খারাপ হবে না।

০৩/১১/২০২৩-আমার প্রিম্যাচিউরড রিটায়ারমেন্ট

অনেকদিন পর আবারো আমার সেই পুরানো আর্মির কথা মনে পড়লো। যেনো ব্যাপারটা মাত্র সেদিনের ঘটনা। কিন্তু ঘটয়ান মাত্র সেদিনের নয়। ২০ বছর আগের সেই কথা।

প্রায় ২০ বছর সেনাবাহিনীতে চাকুরী করার পর যেদিন সেনাবাহিনী থেকে প্রিম্যাচিউড় বা অকালীন অবসর নিয়ে স্বেচ্ছায় বেরিয়ে আসি, সেদিন কেউ আমাকে দেখুক বা না দেখুক, কেউ আমার ভিতরের কষ্টটা বুঝুক বা না বুঝুক, আমি বুঝেছিলাম কতটা বেদনা ভর্তি ছিলো আমার মনের ভিতরে। একনাগাড়ে যে ইউনিফর্মটা আমি সকালে উঠেই পড়তে খুব গর্ববোধ করতাম, যে অফিসটায় আমি বসে কত ধরনের মিলিটারী প্ল্যান, কাজকর্ম, কুশল বিনিময় করতাম, সেই ইউনিফর্মটা আমি নিজের ইচ্ছায় খুলে ফেলছি আজ। আমার আর কখনোই সেই অফিসে গিয়ে আমার চেয়ারটায় বসা হবে না। সেই কর্মস্থলটা আর আমার না। আমি এখন শুধু একজন রিটায়ার্ড সামরীক অফিসার। অথচ আমার আরো গোটা ১০/১২ বছর কাজ করার মতো সময় হাতে ছিলো।

নিজেকে অনেক প্রশ্ন করেছিলাম, আমার কি কোনো অন্যায় ছিলো? বা আমার কোনো গাফলতি? কিংবা আমি কি এমন কেউ যাকে আর এই সামরীক বাহিনির কোনো কাজে লাগবে না? আমি যতোগুলি মিলিটারি কোর্ষ একটা তুখুর আর্মি অফিসারের করা দরকার সবগুলি খুব ভালোভাবেই সম্পন্ন করেছিলাম। যেসব কোর্ষগুলি কমপিটিটিভ অর্থাৎ পরীক্ষার মাধ্যমে উত্তীর্ন হয়ে করার যোগ্যতা লাগে, যেমন আর্মি ষ্টাফ কলেজ, আর্মি গানারি ষ্টাফ কোর্ষ ইত্যাদি সেসব কোর্ষগুলিও আমার করা ছিলো। এসব কোর্ষের জন্য অফিসাররা আপ্রান চেষ্টা করে যেখানে সফল হয় না, আমি সেসব কোর্ষগুলিও করেছিলাম। যদি বলি নিয়োগের বেলায়? তাতেও তো আমার কোনো কমতি ছিলো না। আর্টিলারি অফিসার হয়েও আমি পদাতিক ডিভিশনের জেনারেল স্টাফ অফিসার (অপারেশন) যাকে জিএসও-২ (অপ্স) বলা হয়, সেটার দায়িত্বও আমি খুব সফল্ভাবে পালন করেছি। শুধু তাইই নয়, আমি খোদ আর্মি হেডকোয়ার্টারেও জেনারেল ষ্টাফ অফিসার-২ (ট্রেনিং) হিসাবে কাজ করে অনেকগুলি আন্তর্জাতীকমানের ইভেন্ট সফল্ভাবে সম্পন্ন করেছিলাম। মাইনর ইউনিটের দায়িত্ব পালন করেছি, মেজর ইউনিটের উপঅধিনায়কের কাজ করেছি। কিন্তু সেগুলির কোন মুল্যায়ন আমার হয়নি। জাতীসংঘ মিশন করেছিলাম পরপর দুটু। একটি হাইতিতে এবং অন্যটি জর্জিয়া মিশনে। এসব মিশনে কাজ করার সময় লেটার অফ এপ্রিশিয়েশনেও ভুষিত হয়েছি স্বয়ং ফোর্স কমান্ডারদের কিংবা এসআরএসজি (স্পেশাল রিপ্রেজেন্টেটিভ অফ সেক্রেটারী জেনারেল) কাছ থেকে।

কোনো কিছুতেই আমার কোনো কমতি ছিল না। আর্মিতে থাকতেই আমি মাস্টার্স অফ সায়েন্স (এমএসসি), মাষ্টার্স অফ বিজনেজ এডমিনিষ্ট্রেশন (এমবিএ), এবং মাষ্টার্স অফ ডিফেন্স স্টাডিস (এমডিএস) করেছি। অর্থাৎ সেনাবাহিনীতে থাকতেই আমি তিনটা মাষ্টার্স সম্পন্ন করেছি। জেনারেল অফিসার কমান্ডিং অর্থাৎ জিওসি এর কাছ থেকে আমি আউটস্ট্যন্ডিং এনুয়াল কনফেডেন্সিয়াল রিপোর্টও (এসিআর) পেয়েছি। এতো সব উপাধী, এতো সব শিক্ষা, এতো সব আউট স্ট্যান্ডিং পারফর্মেন্স ২০০৩/২০০৪ সালে আমার প্রোমোশনের সময় কোনো কাজেই লাগলো না? অবাক হয়েছিলাম। আমার কাছের যে সব সিনিয়ার অফিসারগন আমার শুভাকাঙ্ক্ষী ছিলেন, যারা আমাকে চিনেন, তারাও আমার উপর এমন আচরনে হতাশ হয়েছিলেন। আমার জুনিয়ার অফিসাররা যারা আমাকে মডেল মনে করে আমার মত হতে চাইতো, তারাও এক প্রকার হতাশই হয়েছিলো। ইউনিটের সৈনিকগনের মধ্যে কেমন যেনো একটা বিষন্নভাব আমি দেখতে পেয়েছিলাম। তারাও আমার প্রোমোশন না হওয়াতে অনেক হতাশ ছিলো। কিন্তু এসবের কোনো মুল্যায়ন কিংবা যোগ্যতার জন্য আমার এসব কোন কিছুই যথেষ্ঠ ছিল না। পরবর্তীতে যেটা বুঝেছিলাম সেটা হলো, আমার দরকার ছিল একটা পলিটিক্যাল লিংকআপ যা আমি কখনোই তৈরী করার চেষ্টা করিনি। সেনাবাহিনির চাকুরিটা হচ্ছে একটা ভিন্ন প্রকৃতির জব। আমি সব সময় মনে প্রানে বিশ্বাস করেছি, এখানে শুধু আনুগত্য থাকবে আমার দেশের প্রতি, জনগনের প্রতি, কোনো রাজনৈতিক দলের প্রতি থাকার কথা নয়। অথচ সেটাই কাল হয়ে দাড়িয়েছিল আমার জন্য।

এখানে আরো একটি অলিখিত ফ্যাক্টর আমাদের ১৩ বিএমএ লং কোর্ষের জন্য সামষ্টিক সমস্যা হয়ে দাড়িয়েছিল। আর সে হচ্ছে আমার কোর্ষমেট মেজর (বর্তমানে লেঃ জেনারেল) ওয়াকার। শেখ ওয়াকারুজ্জামান। ওয়াকার বংশগতভাবেই শেখ বংশের মানুষ, তার উপরে সে বিয়ে করেছিল তদানিন্তন আর্মির চীফ জেনারেল মুস্তাফিজের মেয়েকে। জেনারেল মুস্তাফিজ ছিলেন আওয়ামিলিগের সভানেত্রী শেখ হাসিনার আপন ফুফা। ওয়াকার একদিকে শেখ বংশের লোক, অন্যদিকে শেখ হাসিনার আপন ফুফাতো বোনের স্বামী। একটা কোর্ষের মধ্যে আওয়ামিলিগের বংশোদ্ভত এমন একজন অফিসার থাকা মানে বিরোধী দলের রাজনীতিকরা তো পুরু কোর্ষকে আওয়ামিলিগ ব্রান্ড করতেই পারে। যদিও ঢালাওভাবে এমন ধারনা পোষন করা কোনো পলিটিক্যাল পার্টিররই থাকা উচিত না। কিন্তু তারপরেও সেটাই হয়ে উঠেছিল আমাদের জন্য একটা অভিশাপ। আমরা কেউ রাজনিতি করি বা না করি, যেহেতু ওয়াকার আওয়ামিলীগের ঘরানার, ফলে আমাদের পুরুকোর্ষ যেনো হয়ে উঠেছিল আওয়ামিলীগের কোর্ষ। এ সময়ে দেশের সরকার হচ্ছে বিএনপি। ফলে ১৩ বিএমএ লং কোর্ষের বেশিরভাগ পোটেনশিয়াল অফিসারগনই পরবর্তী পদে উন্নীত হলেন না। আমিও না।

আমার বেলায় ব্যাপারটা আওয়ামি ঘরানার বাইরেও আরেকটা ব্যাপার ছিলো। তাহলে ব্যাপারটা বলি।

আর্মি স্টাফ কোর্ষের ফলাফলের নিয়ম হলো-যিনি প্রথম হন, তাকে আমেরিকায়, যিনি দ্বিতীয় হন তাকে মালয়েশিয়া আর যিনি তৃতীয় হন তাকে লন্ডনে সেকেন্ড স্টাফ কোর্ষে পাঠানো হয়। সবগুলিই গ্রাটিস কোর্ষ অর্থাৎ এক্সচেঞ্জেবল কোর্ষ। আমাদের অফিসার যাবে সে দেশে, সেই দেশের অফিসাররাও আমাদের দেশে আসবেন। খরচ আদান প্রদান। ওয়াকার আর্মি ষ্টাফ কোর্ষে হয়েছিলো তৃতীয়। কিন্তু দূর্ভাগ্যের ব্যাপার হলো, সম্ভবত ঠিক এই সময়ে লন্ডনের সাথে আমাদের গ্রাটিস কোর্ষের আইনটা আর বহাল ছিল না। ফলে ওয়াকার লন্ডনে দ্বিতীয় ষ্টাফ কোর্ষ করতে যায় সম্পুর্ন বাংলাদেশ সরকারের ফান্ডে। এ সময় আর্মির চীফ ছিলেন জেনারেল মুস্তাফিজুর রহমান যিনি ওয়াকারের শশুর আর ক্ষমতায় ছিলো আওয়ামিলিগ। রাজনীতির পট পরিবর্তনের কারনে যখন বিএনপি ক্ষমতায় আসে এবং আর্মির চীফ হিসাবে মুস্তাফিজ সাহেবের পরিবর্তে জেনারেল হাসান মাসউদ স্থলাভিষিক্ত হন, তখন বাংলাদেশ আর্মি থেকে ওয়াকারের জন্য আর ফান্ড পাঠাচ্ছিল না। এটা বেসিক্যালী পলিটিক্যাল রিভেঞ্জের মতো। আমি তখন আর্মি হেডকোয়ার্টারে ট্রেনিং ডাইরেক্টরীতে কাজ করি। ব্যাপারটা আমি হ্যান্ডেল করছিলাম না। ওটা ফরেন কোর্ষের অধীনে মেজর শাহরিয়ার এবং মেজর তামিম দেখভাল করেন। আমাদের ডিএমটি (ডাইরেক্টর অফ মিলিটারী ট্রেনিং) ছিলেন ব্রিগেডিয়ার জেনারেল মুবীন (পরবর্তিতে তিনি আর্মির চীফ হন)। আমি মুবীন স্যারকে বললাম, ওয়াকারের এহেনো দূর্যগপুর্ন সময়ে লন্ডনে টাকা না পাঠালে ওয়াকার কোর্ষ শেষ করবে কিভাবে? এদিকে জিএসও-২ গনও চীফের নেগেটিভ মনোভাবের জন্য ওয়াকারের ফেভারে কোনো মিনিটস শিট লিখতে ভয় পাচ্ছেন। আমি মুবীন স্যারকে রিকুয়েস্ট করলাম, যেনো আমাকে ফরেন ট্রেনিং উইং এ পোস্টিং করেন। আমি সেখানে পোষ্টিং পেয়েই ওয়াকারকে টাকা পাঠানোর নিমিত্তে একটা মিনিটস শীট রেডি করি। অনেকবার চীফের অফিসে এ ব্যাপারে আমাকে তলব করা হয়েছিল যাতে আমি এ ব্যাপারে পজিটিভ কোনো সাযেশন না দেই। কিন্তু আমি সেটা করিনি। কোন রকমভাবে শেষপর্যন্ত ওয়াকার লন্ডনে কোর্ষ শেষ করে এসেছিল। কিন্তু ঢাকায় এসে ওয়াকার এতোটাই সমস্যায় পড়লো যে, ওর আর্মিতে টীকে থাকাই ওর জন্য দায়। আর্মি হেড কোয়ার্টারেও ওর প্রবেশ যেনো প্রায় নিষিদ্ধ ঘোষনার মত। ওয়াকারের পোস্টিং তখন কুমিল্লায়। যে কোনো কারনেই হোক, ওয়াকার ঢাকায় আর্মি হেডকোয়ার্টারে আসতে চেয়েছে বা এসেছে। আর্মি হেডকোয়ার্টারে ঢোকতে “পাশ” দিতে হয়। ওয়াকার আমাকে ওর জন্য একতা “পাশ” চাইলো। আমি ওয়াকারকে “পাশ” পাঠিয়ে দিলাম। ওয়াকার আমার রুমে এলো। তার ঠিক কিছুক্ষন পর ডাইরেক্টর অফ মিলিটারী ইন্টিলিজেন্স (ডিএমআই) ব্রিগেডিয়ার জেনারেল মাহমুদ স্যার ইন্টারকমে আমাকে জানালেন, আমি কেনো ওয়াকারকে “পাশ” পাঠিয়ে আর্মি হেডকোয়ারর্টারে আসার অনুমতি দিলাম? ওয়াকার তখনো আমার রুমেই বসা। ওয়াকারকে আমি আমার রুমে বসিয়েই রেখে চলে গেলাম ডিএমআই এর অফিসে। গিয়ে আমি বললাম, স্যার, ওয়াকার কি পিএনজি? অর্থাৎ পার্সন্স নন গ্রাটা? বা নিষিদ্ধ? যদি ওকে পিএনজি ঘোষনা না করা হয়, তাহলে আমার “পাশ” দিতে আপত্তি কি? আর সেতো এখনো সার্ভিং আর্মিতে? আর সবচেয়ে বড় কথা, ওয়াকার আমার ব্যাচমেট, আমার কোর্ষমেট, সেতো অন্তত আমার অফিসে আমার সাথে দেখা করতে আসতেই পারে!! ব্রিগেডিয়ার মাহমুদ স্যার খুব ভাল মানুষ ছিলেন। তিনি আমাকে বললেন, দেখো আখতার, আমার তো কোনো সমস্যা নাই কিন্তু চীফের কানে গিয়েছে যে, ওয়াকার আর্মি হেডকোয়ার্টারে এসছে। তাকে আসতে দেয়া যাবে না আর। কোন কারন নাই, বারন নাই, অথচ এমন একটা অলিখিত আইনের মধ্যে ওয়াকারকে ফেলে দিলো গেরাকলে। আমি মাহমুদ স্যারের অফিস থেকে ফিরে এলাম। তখন প্রায় ছুটি (বেলা আড়াইটা) হয় হয় ভাব। আমি ওয়াকারকে নিয়ে আর্মি হেডকোয়ার্টার থেকে বেরিয়ে গেলাম। রাস্তায় যেতে যেতে শুধু আমি ওয়াকারকে একটা কথাই বলেছিলাম, “ওয়াকার, যত চাপই আসুক, চাকুরি থেকে নিজের ইচ্ছায় চলে যাবি না। ওরা চায় তুই চলে যা। এটা যেনো না হয়।“ ওয়াকার সবকিছুই বুঝতেছিল। আমাদের কোর্ষে ওয়াকারের মত এতো ভাল, ধার্মিক, সৎ এবং নীতিবান অফিসার খুব কম আছে। ওয়াকার সত্যিই একজন ভাল মানুষ এবং ভাল ছেলে। আমি ওয়াকারকে আর্মিতে আসার আগেই চিনতাম। সেটা আরেক ইতিহাস।

ভাগ্য যখন খারাপ থাকে, তখন অনেক কিছুই আর কাজে লাগে না। একদিকে আমাদের ১৩ বিএমএ লং কোর্ষ আওয়ামিলিগ ঘরানার হিসাবে গন্য, অন্যদিকে আমার ব্যাপারটা তখনো চীফ মাসউদ হাসানের মাথায় জ্যান্ত, সব মিলিয়ে খুব ভাল পজিটিভ সাইডে আমার ফাইল ফাইট করতে পারেনি। প্রথমবার সুপারসিডেড হয়ে গেলাম।

আমাকে পোষ্টিং করা হলো খোলাহাটি ৪ ফিল্ড রেজিমেন্টে। লেঃ কর্নেল ফেরদৌস আমার অধিনায়ক, আমি উপঅধিনায়ক। মিশন থেকে ফিরেছি বটে, কিন্তু খোলাহাটি আমার কাছে খুব বিরক্ত লাগছিল। তবে সুখের খরর ছিল যে, আমাদের ইউনিট খুব শীঘ্রই মীরপুর ট্রান্সফার হবে। আমার কেনো প্রোমোশন হলো না এটা আমি আমার তদানিন্তত রংপুরের জিওসি জেনারেল রেজ্জাকুল হায়দারকে প্রশ্ন করেছিলাম। উনি খুব ডেশিং টাইপের মানুষ। আমার ইন্টারভিউতে জেনারেল শুধু একটা কথা জানালেন যে, আমার পক্ষে আমারই জাতি ভাইয়েরা বিশেষ করে আর্টিলারি জেনারেলরা খুব একটা সোচ্চার হয়নি। তার মধ্যে ছিলেন জেনারেল রেজ্জাকুল হায়দার (যিনি এখন অস্ত্র মামলায় ফাসির আসামি), জেনারেল মোহাম্মাদ আলি, জেনারেল সিকদার, জেনারেল আমিনুল করিম ইত্যাদি।

প্রথমবার প্রোমোশন না হওয়াতে আমি একটা জিনিষ বুঝে গিয়েছিলাম যে, খুব শিঘ্রই আমাকে এই আর্মির ট্র্যাক থেকে অন্য আরেকটা ট্র্যাকে পরিবর্তন করতে হতে পারে। আমার প্রিপারেশন নেয়া অতীব জরুরী।

মীরপুরে চলে এলাম। সুপারসিডেদ হলেও এখানকার ৪৬ ব্রিগেড কমান্ডার ব্রিগেডিয়ার জেনারেল মোশাররফ আমাকে উপ অধিনায়কের মতো দেখেন না। সব সি অ দের জন্য যেখানে চেয়ার পাতা হয়, কমান্ডার আমার জন্যেও সেখানে চেয়ার রাখেন। আমি ব্রিগেডের প্রুচুর ডিভিশনাল লেবেল যেমন, ষ্টাডি পিরিয়ড, আম্পায়ারগিরি, ইন্টারন্যাশনাল ইভেন্টের সহযোগি ইত্যাদি রাখেন। লেঃ কর্নেল ফেরদৌসও আমাকে খুব একটা ঝামেলা করেন না। ভদ্র মানুষ।

সময় ঘুরে গেলো, আবারো প্রোমোশন বোর্ড। এবারেও আমার প্রোমোশনটা হলো না। উপরন্ত লেঃ কর্নেল ফেরদৌসকে অধিনায়ক থেকে পোষ্টিং দিয়ে আমার জুনিয়ার ১৪ লং কোর্ষের মেজর মজিদকে প্রোমোশন দিয়ে আমার অধিনায়ক বানিয়ে দিলেন। একদিকে আমি সুপারসিডেড অন্যদিকে জুনিয়ারের অধীনে উপঅধিনায়ক। বুঝতেই পারছেন, মনের ভিতরের অবস্থাটা কি। কিছুতেই মেনে নিতে পারছিলাম না। কিন্তু একটা কারনে সহ্য করতে হচ্ছিলো। আর সেটা হলো, আমার চাকুরীর বয়স যদি ন্যুনতম ১৮ না হয়, তাহলে সরকারী প্লট পাবো না। এতো কাছে এসে আমি আমার অন্তত এই সুযোগটা হারাতে চাই না।

মজিদ আমাকে অসম্মান করেনা কিন্তু যা হবার তো হয়েই গেছে। (চলবে……)

০১/১১/২০২৩-প্যালেস্টাইনের মুক্তিকামী সংগ্রামের ইতিহাস

প্যালেস্টাইনের মুক্তিকামী সংগ্রামের ইতিহাস গত কয়েক সপ্তাহের নয়। কিভাবে প্যালেস্টাইন এই বর্তমান পরিস্থিতিতে পড়েছে সেটার ইতিহাস বলতে গেলে অনেক অনেক লম্বা ইতিহাস বলতে হবে। সেখানে আর গেলাম না। কারো কারো সেই ইতিহাসের সত্যতা বা তথ্য নিয়ে বিভাজন হয়তো আছে, কিন্তু প্যালেষ্টাইন হটাত করে তাদের এই জন্মভুমি রক্ষার অধিকারের লক্ষ্যে গত ৭৫ বছর যাবত যুদ্ধ করছে না। এটা তো ঠিক।

বিগত আট দশক রক্তক্ষয়ী যুদ্ধাবস্থানের মধ্যে গত ৭ অক্টোবরের হামাস কর্তৃক ইসরাইলের ভূখন্ডে অতর্কিত হামলার জের ধরে হামাস নিধনের উছিলায় প্যালেষ্টাইনের আপামর জনসাধারনের উপর নির্বিচারে ইসরায়েল টেক্টস বুক ইথিনিক ক্লিজিং অপারেশনে নেমেছে। জাতীসংঘ, হিউম্যান রাইটস, কিংবা অন্যান্য বিশ্ব নেত্রিত্তের কোনো দোহাইতেই ইস্রায়েলকে উক্ত গনহত্যা থেকে কেউ সরিয়ে আনতে পারেনি এবং পারবে বলেও মনে হয় না।

এখন আমার চারটে প্রশ্ন জাগছে-(১) হামাস জানে তাদের লিমিটেড সামরিক শক্তি দিয়ে এক তরফা ইসরায়েলের উপর হামলা করে একই দিনে প্রায় হাজার খানেক ইহুদীকে হত্যা করে তাদের কাঙ্ক্ষিত ফলাফল তো সফল হওয়া দুরের কথা, তারা নিজেরাই টিকবে কিনা সন্দেহ আছে। তাহলে কেনো হামাস এরুপ একটা ভুল সিদ্ধান্ত নিলো? (২) দ্বিতীয় প্রশ্নটা হচ্ছে-হামাস এই আক্রমনের ফলাফল জেনেও যদি ইসরায়েলের উপর এই আক্রমনটা করেই থাকে, তাহলে হামাসের মুল উদ্দেশ্য কি? তারা কি প্যালেস্টাইনকে নির্মুল করতে চায়? বা তারা কি ইসরায়েলের পক্ষে বি-টীম হিসাবে কাজ করছে? (৩) তৃতীয় প্রশ্নটা হচ্ছে-হামাসের সাথে ইরানে অবস্থিত হিজবুল্লাহ্র একটা আন্তরীক সম্পর্ক রয়েছে। হিজবুল্লাহ্র সাথে সম্পর্ক রয়েছে ইরানের, লেবাননের। আর তাদের এই মুসলিম দেশসমুহের মাধ্যমে কোন না কোনোভাবে সংযোগ রয়েছে অন্যান্য মুসলিম দেশগুলির সাথে। যদি হামাস ইসরায়েলের পক্ষে বি-টীম হিসাবেই কাজ করে থাকে, বা করে তাহলে এই সম্পর্কযুক্ত মুসলিক দেশগুলি কি এর অন্তর্নিহিত উদ্দেশ্য সম্পর্কে কিছুই জানে না? (৪) চতুর্থ প্রশ্নটা হচ্ছে- ইসরায়েলের এ রকমের একক টেক্সট বুক ইথনিক ক্লিঞ্জিং এর বিপক্ষে পাশ্চাত্য দেশসমুহ  সোচ্চার না হয়ে বরং তাকে অর্থ এবং সামরীক অস্ত্র দিয়ে সাপোর্ট করছে কেনো?

এবার আমি প্রথম প্রশ্নটার ব্যাপারে বলি। হামাসের আক্রমনের দিন ইসরায়েলের একেবারে বর্ডার সংলগ্ন এলাকায় একটা অনুষ্ঠান চলছিলো। ইসরায়েল তাদের কোন ভুখন্ডেই নিরাপত্তা ছাড়া কখনোই অরক্ষিত অবস্থায় রাখে না। কিন্তু সেদিন সেখানে কোন প্রকারের নিরাপত্তার ব্যবস্থায় ছিলো না কেনো? আর অনুষ্ঠানটা হচ্ছিলো একেবারেই হামাসের নাকের ডকায় যেনো ইসরায়েল চাচ্ছিলোই যেনো হামাস আক্রমনটা করুক, মানুষ হত্যা করুক, বিশ্ববাসি দেখুক হামাস কি করলো। অন্যদিকে, আক্রমনের পরপরই ইসরায়েল একটা কথা চাওড় করেছিলো যে, হামাসকে ঘুষ দেওয়ার পরেও তারা বিট্রে করেছে। এর মানে কি? এর মানে কি এটা হতে পারে যে, কিছু কথিত হামাস দিয়ে এই আক্রমনটা ইসরায়েল নিজেই করিয়েছে? হয়তো পরিকল্পনাটা আরো বিস্তর এবং সেটা ইরান পর্যন্ত? একটা ব্যাপার লক্ষনীয় যে, গত কয়েকমাস যাবত ইসরায়েল ক্রমাগত গাজা উপত্যকায় প্যালেস্টাইন অধিবাসিদের উচ্ছেদ করে ইসরায়েলের বসতি স্থাপনা করছিলো। তাতে অনেক প্যালেষ্টিনিয়ানরা গাজা থেকে অন্যত্র চলে যেতে বাধ্য হয়। এই ক্রমাগত অধিগ্রহনের মধ্যে আমজনতার মধ্যে একটা ধারনা আসতেই পারে যে, প্যালেষ্টিনিয়ানদের পিঠ দেয়ালে থেকে যাওয়ায় হামাস এর বদলা নিচ্ছে। অতঃপর ইসরায়েলের সমস্ত আক্রমন এখন বৈধ। হামাস মরুক বা না মরুক, গাজা মুক্ত হচ্ছে এটাই হয়তো ইসরায়েল চেয়েছে যাতে গাজা ইসরায়েলের অংশ হিসাবে একদিকে লেবানন, সিরিয়া এবং ইরানের স্থল অংশের কাছাকাছি নিরাপত্তা বাহিনি মোতায়েনের একটা বৈধ সুযোগ পায়।  

এবার আসি, হামাস কি ইসরায়েলের পক্ষে কাজ করেছে কিনা। হামাসের মধ্যেও দ্বিধাবিভক্তি আছে। যারা সত্যিকারের মুক্তিকামী হামাস, তারা কখনই ইসরায়েলের পক্ষে তাদের বি-টীম হিসাবে কাজ করার কথা নয়। যদি হামাসের কোনো অংশ বি-টীম হিসাবে কাজ করে, তাহলে এটা প্রকাশিত হলো না কেনো? হয়তো ইসরায়েলই চায়নি এটা প্রকাশিত হোক। আর প্রকাশ করবে কে? কোন মিডিয়া? আপনি যদি শুধুমাত্র বিবিসি, সিএনএন, এবিসি নিউজ, ইএসপিএন, ফক্স নিউজ, নিউইয়র্ক টাইমস, নিউইয়র্ক পোষ্ট, ওয়াশিংস্টন পোষ্ট, ওয়াল স্ট্রীট জার্নাল, এমন কি ফেসবুক থেকে সংবাদ আহরন করেন, এরা কেহই আপনাকে সত্য সংবাদটি প্রকাশ করবে না। কারন এই সবকটি মেইন স্ট্রীম মিডিয়া ইহুদিদের দ্বারা পরিচালিত এবং মালিকানাধিন। এসব মেইন স্ট্রীম মিডিয়ার সব খবর আগে তাদের দ্বারা ভেটিং হয়, অতঃপর ব্রডকাষ্ট। তাহলে আমি বা আপনি কিভাবে নিরপেক্ষ নিউজের আশা করতে পারি? হামাসের কিছু অংশ ইসরায়েলের বি-টিম হলেও এতা জানার কনো উপায় নাই।

তৃতীয় প্রশ্নটায় অনেক ফ্যাক্টর জড়িত। মুসলিম দেশগুলি কখনোই ঐক্যবদ্ধ হতে পারেনি, আর পারবেও না। কারন তারা টোটালেরিয়ানিজমের শাসক। ওরাও কোন না কোনো পাশ্চাত্য শক্তি এবং সাপোর্টের উপর দাড়িয়ে। ফলে যার যা খুশি হোক না কেন, তারা বহাল তবিয়তে আছে কিনা সেটাই ওদের বিবেচ্য বিষয়। ওরা অনেক কিছু জানলেও মুখ খুলবে না, কোন একশনে যাবে না। এটাই ওআইসি দেশসমুহের সবচেয়ে বড় দুর্বলতা।

চতুর্থ প্রশ্নটার ব্যাপারে যা জানা দরকার সেটা হল, ইসরায়েলের পক্ষে আমেরিকা, কানাডা, ইউকে কিংবা ইউরোপিয়ান ইউনিয়নের কোনো দেশই ইসরায়েলের বিপক্ষে যাওয়ার সুযোগ নাই। কারন যদি এরা ইসরায়েলের যে কোনো কর্মকান্ডকে (হোক সেটা গনহত্যা, বা জোর করে বসতিস্থাপন ইত্যাদি)  সাফাই না গায় বা তাদের পক্ষে না থাকে, তাহলে তাদের ভবিষ্যৎ একেবারেই অন্ধকার। ব্যাপারটা একটু খোলাসা করে বলি-যদিও ইসরায়েলের লোক সংখ্যা মাত্র দেড় কোটি (সারা পৃথিবীর মাত্র ০.২%, ইস্রায়েলে বসবাস ৫০ লাখ, আমেরিকাতে ৭০ লাখ, কানাডায় প্রায় ৪ লাখ আর ইউকে তে প্রায় ৩ লাখ) কিন্তু তারা সারা বিশ্ব কন্ট্রোল করে। আমেরিকার কোনো প্রেসিডেন্ট জয়ী হতে পারবে না যদি ইহুদী কর্তৃক সাপোর্ট না পায়।

আমেরিকার প্রেসিডেন্ট নির্বাচনে নির্বাচনী ফাণ্ড বা তহবিল সংগ্রহ হয়–AIPAC (America Israel Public Affairs Committee) থেকে। আমেরিকান রাজনীতিতে তাদের প্রভাব একচেটিয়া। আমেরিকার ১০০ জন সিনেটরের ১৩ জন ইসরায়েলী ইহুদী। আমেরিকার অধিকাংশ বিশ্ববিদ্যালয় প্রফেসররা ইহুদী এবং তারা থিংক ট্যাংক হিসাবে আমেরিকার পলিসি মেকার। আমেরিকার এক্সপোর্ট ইমপোর্ট ব্যাংকসহ গুরুত্বপূর্ণ ব্যাংকগুলো ইহুদীদের দখলে। ফলে আমেরিকার কেউ চাইলেও এদের কিছু করতে পারবে না। বরং জুইশ কমিউনিটি বা ইহুদি সম্প্রদাকে হাতে না-রাখলে ক্ষমতায় টেকা যাবে না। এসব কারনেই যখন জাতিসংঘের মহাসচিব প্যালেস্টাইনের পক্ষে সবেমাত্র মুখ খুলেছেন, অমনি ইসরায়েল তার পদত্যাগ চেয়ে ইউএন এর সকল কর্মকর্তার ভিসা স্থগিত করে দিয়েছে। মহাসচীব তারপরের দিনই তার গলার সুর পালটে ফেলেছে।

ইউক্রেন যুদ্ধকে ইউরোপের নিরাপত্তার সিম্বল হিসাবে দেখা হয় এবং পুটিনকে দেখা হয় ইউরোপের জন্য একটি ভয়ংকর ব্যক্তিত্ব। এরপরেও পাশ্চাত্য দেশসহ গোটা ইউরোপিয়ান ইউনিয়ন এখন ইউক্রেনকে প্রায় ছেড়েই দিয়েছে শুধুমাত্র ইসরায়েলকে সাপোর্ট করার জন্য।

যারা এ যাবতকাল পুটিন ইউক্রেনকে খেয়ে ফেললো, মেরে ফেললো, পুতিন আগ্রাসি হিসাবে ইউক্রেনের ধংশযজ্ঞ চালালো বলে মুখে ফেনা তুলে ফেললো, তারা কিন্তু এখন ইসরায়েলের এমন গনহত্যায় কোন রা পর্যন্ত করছেন না। রাশিয়া গত দেড় বছরে যে পরিমান বাড়ীঘর, লোকবল ক্ষতি করেছে তার থেকে কয়েকগুন বেশি ক্ষতি করেছে ইসরায়েল মাত্র দুই সপ্তাহে। খাবার, মেডিকেশন, শিশু হত্যা, নিরিহ জনগন নির্বিঘ্নে হত্যার প্রতিবাদে হিউম্যান রাইটস এর ডাইরেক্টর পর্যন্ত নিজে ইস্তফা দিলেন, তারপরেও কিন্তু কেউ মুখ খুললেন না।  

৩১/১০/২০২৩-মাতৃভূমিকে রক্ষার জন্য জীবন উতসর্গ

মাতৃভূমিকে রক্ষার জন্য জীবন উতসর্গ করলে তাকে বলা হয় শহীদি মৃত্যু। কিন্তু যে জীবন শেষ হয় কোনো সন্ত্রাসী কর্মকান্ডে, কাউকে ক্ষমতার মসনদে বসানোর জন্যে কিংবা একে অপরের সাথে কোন ঝগড়া বিবাদে অথবা অন্য কোনো দেশের দূর্ব্রিত্তায়ন মানসিকতার পক্ষে যুদ্ধ করে, তাকে আর যাইই বলি শহীদি মৃত্যু আমি বলতে নারাজ।

ইদানিং সারাটা বিশ্বজুড়ে ক্ষমতার লোভ আর গদী টিকানোরর কুটকৌশলে যে খুন খারাবি চলছে, এর কৈফিয়ত কোথাও না কোথাও তো কাউকে না কাউকে একদিন দিতেই হবে। আজকে যারাই ক্ষমতার মসন্দে বসে নীরিহ জানমালের ক্ষতিগ্রস্থ করছে, এদের ক্ষতিপুরন কষ্মিনকালেও কেউ পুষিয়ে দেয় নাই, দিবেও না। ফলে যার ক্ষতি হয়, সেইই একমাত্র ভুক্তভোগী। তাকে কেউ মনে রাখে না, তার পরিবারের জন্য কেউ দায়িত্বও নেয় না। যে মানুষটি আজকে তার গুরুদেরকে ভালোবেসে অন্ধগলীতে লাশ হয়ে পড়ে গেলেন, তার পরের কাহিনী তার জন্য পুরুই আলাদা এবং অন্ধকার। কিছুক্ষনের জন্য হয়তো সেই লাশটা অতীব দামী হয়ে উঠলেও সেটা সন্ধ্যার আগেই চিরতরে হারিয়ে যায়।

অনেকেই বলে থাকেন, আজকের দিনের ক্ষমতার পালাবদলে হয়তো আমাদের সুখ বয়ে আনবে। এই কথাটার মতো মিথ্যা আশ্বাস আমার এই ৫৮ বছরের মধ্যে আর কোনো আশ্বাসই দেখি নাই। যারা ক্ষমতায় থাকে আর যারা ক্ষমতার পালাবদলে ক্ষমতায় আসে, তাদের মধ্যে আজ অবধি আমি কোনো তফাত দেখি নাই। পালাবদলের এই মাঝখানে যেসব স্লোগান, মেনিফেষ্টো থাকে তা নিছক কিছু বুলী যা আওরাতে হয়। ফলে যারা সুখের আশ্বাসে সেই তাদের গুরুজনদের মরিচীকার মত আশ্বাসে তাদের অমুল্য জীবন বলি দিয়েছেন বা দিচ্ছেন তারা সর্বদাই তিমির প্রাচিরেই রয়ে যান। তাদের ভাগ্য কখনো পরিবর্তন হয় না। এই দন্দের পালাবদলে মিছিলে মিছিলে একে অপরের আঘাতে যেসব মানুষগুলি মরেন, তারা আসলে শুধু দাবার গুটির সামনের সারির পনের মতো। নিজেদের সুখী ভবিষ্যতের জন্য, পরবর্তী বংশধরদের নিরাপত্তার জন্য আজকে যারা এই নীরিহ পনরুপী মানুষগুলি আন্দোলন করছেন তাদের মুল্য নেয়াহেতই সামান্য। কিন্তু সেই মানুষরুপি পনটাই কোনো না কোনো পরিবারের একমাত্র হয়তো উপার্জনকারী ব্যক্তি। তারও সন্তান আছে, তারও সংসার আছে, প্রিয় বাবা মা ভাইবোন আছে। অথচ তারা নিঃশব্দে ঝরে যায় অন্য কোন ক্ষমতালিপ্সু মানুষের জন্য যারা কোনোদিনই এসব মানুষের আপনজন ছিলো না। চোখের সামনে এসব করুন দৃশ্য দেখলে বার বার নিজের কাছে একটা প্রশ্ন জেগে উঠে-এর আসলে শেষ কোথায়? কবে মানুষ মানুষ হবে? একই দৃশ্য বারবার পুনরাবৃত্তি হলেও মানুষ কেনো ইতিহাস থেকে শিক্ষা নেয় না?

জীবন বড্ড সুন্দর, হোক সেটা আধাপেটে, কিংবা রোগে ভোগে। এতো ছোট জীবনে আমাদের সবার উচিত নিজের জন্য বাচা। অন্যকে বাচিয়ে নিজে মরে যাওয়ার মধ্যে কন বাহাদুরী নাই। অন্য কারো হাতের পুতুল হয়ে, কিংবা অন্য কাউকে নিজের জীবনের বদলায় সামনে এগিয়ে নিয়ে যাবার জন্য বিলীন করে দেয়া উচিত নয়। যে আজ এই দুনিয়া থেকে চিরতরে হারিয়ে গেলো, তার জন্য সূর্য উত্তরে উঠে দক্ষিনে অস্ত গেলেও কিছু যায় আসেনা। আকাশ ভর্তি নীলমেঘ কিংবা গাছে বসা পাখির কিচির মিচিরের দুষ্টু শব্দ বা মিষ্টি ডাকাডাকিতেও কিছু যায় আসেনা। আমরা একা একা কোনো কিছুই যেমন পরিবর্তন করতে পারবো না, দূর্বল জনগোষ্ঠীর সমষ্টিগত শক্তি দিয়েও বৃহত্তর শক্তির মোকাবেলা করতে পারবো না।

পৃথিবী হয়তো একদিন শান্ত হবে। 

26/10/2023-Tbilisi and Daduna’s family

About 20 years ago, I was serving in Georgia as part of a United Nations mission from the Bangladesh Army. I spent a lot of time with many domestic and foreign military, civilian officials, many senior officials of the United Nations. I have seen their culture and traditions. It was all a new experience. But I will never forget one of these families in Georgia. I still remember them and wished to see them again. Today I am going to tell you about one such family.

I have taken a long leave of 21 days from the mission. As usual, everyone else comes to the country on vacation, I also wanted to come to the country, but I once thought that as sooner I would go to the country a few days later, so how about I take a little trip to Georgia this holiday !! Who knows when I would be back again or would even never come next !!!. I visited Tbilisi, the capital of Georgia, very less and I did not visit the capital or the surrounding cities. So I thought, let’s go for Tbilisi.

The quality of hotels in Tbilisi is not so good, while those that are high-quality, the cost is skyrocketing. Meanwhile, there is an interpreter in my sector, Sorena Gamchakhurdia, with whom I have to go on duty every day. She informed me that one of her aunts lives in Tbilisi, and I could stay with them for a few days if I wished to. They may not be rich, but they’re good-hearted people. If I agree, she can tell them about it.

If it were our country, we would not normally give such an offer to anyone. I am a foreigner, and I do not know anyone in whose house I am going to live, nor do they know me at all. But since I’ve lived in Georgia for about 8/9 months, I already understood their ethos very well. They offer their best to their guests at all circumstances. I agreed, thinking that it would be better for me to stay with a family than to stay in an isolated hotel.

On the appointed day I reached the airport of Tbilisi. According to Shorena, someone will come to pick me up from the airport. So I was waiting at the lobby of the airport. Then, waiting a little bit, I walked out of the airport and thought, it would be better if I buy a few packs of cigarettes. Just then, someone called me from behind in excellent English – and said, are you Major Akhtar? Looking back, a young girl of 23/24 years, absolutely blue eyed, bob cutting blonde hair, and is standing behind me. I replied: yes, I am. No further introduction right then. I took my bags and boarded in the car. While on the car, we talked a while. She said, ‘My name is Deduna Bukia.’ I am a journalist and sister of Shorena.

It took about 40/50 minutes to get from the airport to their home. It’s a big Condominium and located on a high ground. Nice place. From the apartment complex you can see the thick city, the blue sky, far away the Caucasus Mountains. Really good looking scenarios all around.

We got out of the car and went to the elevator. Apartment is next to the elevator. It was a family house with three or four rooms. Adjacent to the living room is a large kitchen and dining area. The other rooms are side by side. The room they have for me is the best room in the house. A new mattress, a new bed cover, new sandals and new towel ets. They did everything they could do for me. Felt very nice. They live with three sisters (Deduna Bukia, Tamara, and Salomi) and an aunt (mother). They are Shoren’s cousins. Aunty is probably involved in the work of an X-ray machine in a government hospital (I don’t remember the name of the department at the moment).   

Deduna is engaged in journalism. On arrival at home, I met with everyone at house and talked to everyone. Believe me, I felt like I knew them long before. I became part of their family. It’s an incredible family. They didn’t do anything that can hurt me, rather they did everything to make me feel better. Later in the evening, some of their other relatives came to meet me as well. Daduna’s other cousin, Russo, was a doctor. She came the next day. They were all unmarried. 

Every day we used to visit new places like park, restaurant, historical place, the market, sometimes to the beach, surrounding villages, Museums, archaeological sites, gardens, zoos, and many other places. There is no sea beach in Georgia but there is a very big bay where many tourists and locals go there and enjoys like Beach. We all as well visited such places, swims, cuddled, and walked a long way, basking sun on the beach, and played. It’s been an amazing time. I forgot totally that I was a guest here. There is a famous restaurant named ‘Eagle’, where we had candle light dinner for two consecutive nights. The Restaurant is named after a famous Singer Group EAGLE.

While staying at house, sometimes they would dance together at home with the rhythm of the karaoke broadcasted on TV. I’ve had an amazing time every day. Shorena joined us in Tbilisi four days later. After that, we all had a great time together. I will never forget their love, affection and respect shown to me. It cannot be forgotten.  

Deduna is now the mother of four children, Shorena is also the mother of two, and her other two sisters (Tamara and Salome) are also living very healthy life with their husband and children. I still keep in touch with them because of Facebook and it’s great when I see them living happily and peacefully. I always remember them. Auntie may no longer be alive. And I miss her.   

When I returned home from the mission, I had no heart-throbs leaving the mission, but it hurt to think that I might never see this wonderful family again. The day I left Deduna’s house, I was very upset, Auntie hugged me and said – if I have time, should I go to see her again. My eyes were wet, they had become like my family. It wasn’t just my eyes wet in tears but it was their eyes too.  

Today, when I look at those old pictures, I can see the memories of those past days in front of my eyes. When my children sit next to me and my grandchildren look at the pictures, they ask -who all are these people?  

With tears in my eyes, I might say with a smile -these are some of the people I’ve had some wonderful times with. Many of them may no longer exist. Ironically, we call these as “Pictures of the life”. My heart skipped a beat when I thought of some people from the past.

Sorena, Tamara, Deduna, Russo, all the best for all of you and let the God bless you all and keep you safe, healthy and protected always. Love you guys.

১২/১০/২০২৩-লেঃ কর্নেল মজিদের ইন্তেকাল

সকালে ফেসবুক ব্রাউজ করতেই হটাত একটা পোষ্ট নজরে এলো। পোষ্টটা নিম্নরূপঃ

প্রশ্ন হচ্ছে এ রকম আরো অনেক অফিসারেরই তো মৃত্যু সংবাদ পেয়েছি, কিন্তু এবার শুধু মজিদের মৃত্যু সংবাদে আমাকে কেনো আমার ব্যক্তিগত ডায়েরীতে লিখতে হলো? এর একটা অতীত ইতিহাস আছে। সেটাই বলছি।

এটাই সে আর্মি অফিসার যার কারনে আমাকে সেনাবাহিনী থেকে অকালীন অবসর নিতে হয়েছিলো। আমি ১৩ লং কোর্ষের কিন্তু মজিদ ১৪ লং কোর্ষের। মেজর থেকে লেঃ কর্নেল প্রোমোশন বোর্ডে শুধুমাত্র মজিদকে আনুকল্য দেয়ার জন্য আমাকে প্রোমোশন থেকে বাদ দিয়ে এই অফিসারকে প্রোমোশন দেয়া হয়। পাশাপাশি যদি আমাদের দুইজনের কোয়ালিফিকেশনকে বিশ্লেষণ করি তাহলে দেখবোঃ

  আখতার (আমি) মজিদ
কোর্ষ সমুহের গ্রেডিং আমার সব আর্মির কোর্ষ গ্রেডিং কমপক্ষে বি প্লাস আবার কখনো কখনো আ ছিলো। শুধু কয়েকটি বেসিক কোর্ষে বি ছিলো। মজিদের সব গুলিই বি ছিলো। তাঁর ক্যারিয়ারে এ বা বি প্লাস গ্রেডিং প্রায় ছিলোই না।
ষ্টাফ কলেজ ষ্টাফ কলেজে সম্পন্ন করেছি মজিদ ষ্টাফ কলেজ করেনি
পদাতিক ডিভিশন এবং আর্মি হেড কোয়ার্টারে নিয়োগ আমি পদাতিক ডিভিশন এবং সেনাসদরে জি এস ও-২ (অপারেশন) , জি এস ও-(ট্রেনিং) উভয়েই কাজ করেছি। মজিদ এরুপ কোনো পদে কখনো কাজ করেনি।
স্বাস্থ্যগত বিবরন আমি ক্যাটেগরি এ ভুক্ত ছিলাম মজিদ ক্যাটেগরি সি ভুক্ত ছিলো। এবং ডায়াবেটিসের রোগী।
অভিজ্ঞতা আমি মাইনর ইউনিটে উপ অধিনায়ক/ অধিনায়ক এবং ্মেজর ইউনিটে উপ অধিনায়কের দায়িত্ত পালন করেছি। মজিদের এরুপ কোনো অভিজ্ঞতা ছিলো না।
মিশন আমি পর পর দুইটা ইউ এন মিশন সম্পন্ন করেছিলাম। মজিদ সম্ভবত একটা ইউ এন মিশন করেছে। ক্যাটেগরি সি হ ওয়াতে নাও করতে পারে। এ ব্যাপারটা আমি নিশ্চিত নই।
শিক্ষাগত যোগ্যতা আমি শিক্ষাগত যোগ্যতায় মাষতার্স, এম বি এ, এম এস সি, এবং ততকালীন ডক্টরেট করতে নিয়োজিত ছিলাম। মজিদ এম বি এ করেছিলো।

মজিদের সবচেয়ে বড় প্লাস পয়েন্ট ছিলো ওর বাবা। ওর বাবা ছিলো আমাদের তৎকালীন প্রধান মন্ত্রী খালেদা জিয়ার বাসার মালি অতবা কর্মচারী। আর এই সুবাদেই খালেদা জিয়া মজিদের বাবার অনুরোধে তিনি মজিদকে তাঁর এ ডি সি করেন। সমস্ত আইন ভেংগে, আর্মির রুলস ভেংগে তিনি এ কাজটি করেন। যা সবার কাছে গ্রহনযোগ্য ছিলো না।

সেই মজিদের এখন প্রোমোশন দরকার। তাই প্রোমোশন বোর্ডের তিন দিনের ফলাফলে আমার নাম চুড়ান্ত হবার পরেও শেষ দিনে এসে হটাত করে মজিদ উড়ে এসে জুড়ে বসলো, আর আমি ঝড়ে পড়ে গেলাম। মজিদের প্রোমোশন হলো আর আমার হলো না। আমি কখনো কারো কাছে আমার ব্যাপারে তদবির করতে পছন্দ করিনি। এবারো করলাম না। আমি সিনিয়ার হ ওয়া সত্তেও মজিদ আমার ৭ ফিল্ডের সি ও (অধিনায়ক) হয়ে গেলো। জুনিয়ারের অধীনে সিনিয়ারের কাজ করা জে কত দূর্বিসহ, এটা যারা করেছে তারা জানে। যদিও মজিদ কখনো আমার ফ্রিডম নষ্ট করেনি, আমার কোনো কাজে বাধা দেয়নি, অথবা আমার প্রতি তাঁর কোনো খারাপ আচরন করেনি, তারপরেও আমার প্রতিটি দিন কেটেছে মনের কষ্টে। কেনো আমাকেই বলি হতে হলো?

আমি শেষ পর্যন্ত আর্মি থেকে অকালীন অবসর গ্রহনের সিদ্ধান্ত নেই। আর ঠিক তারই ধারাবাহিকতায় আমি ২০০৪ সালের নভেম্বরে আমি আর্মি থেকে ভলান্টিয়ারিলি অবসরে চলে আসি।

আর্মিতে শিক্ষাগত যোগ্যতা যদি তুলনা করি, দেখা যাবে, ৫০ টি অফিসারের মধ্যে হয়তো আমি ১০ এর মধ্যে আছি। আমার কাজের প্রশংসা সব জেনারেকরাই করতো কিন্তু শেষ অবধি খালেদা জিয়ার ইচ্ছায় মজিদেরই জয় হয়েছিলো। প্রধান মন্ত্রী হিসাবে খালেদা জিয়ার এটা করা উচিত হয় নাই।

সেই মজিদ খালেদা জিয়ার পলিটিক্যাল দল খমতাচ্যুত হবার পর নিজেও আর্মি থেকে অবসরে যায়, বলতে পাতেন তাকে চাকুরীচ্যুত করা হয়। পুনরায় মজিদ সেই ক্ষমতাচ্যুত প্রধান্মন্ত্রী খালেদা জিয়ার সাথেই সে ছিলো। কেউ বলে বডি গার্ড, কেউ বলে এমনিতেই।

আজ মজিদের ম্রিত্যুর সংবাদ পেলাম। রাগ ছিলো, গোস্যা ছিলো, অপছন্দ করতাম, কিন্তু আজ আর মজিদের উপর আমার কোনো ক্ষোভ নাই, রাগ নাই। সে কি করে গেছে, কি করা উচিত ছিলো, এর ফলাফল এখন নির্ধারিত।

আমি ভালো আছি। আর্মি থেকে বের হয়ে আর কোনো চাকুরীর সন্ধান করিনি। সরাসরি একটা গার্মেন্টস ব্যবসার সাথে জড়িত হয়েছিলাম। প্রথমে সেই গার্মেন্টস ছিলো একটা মৃত প্রতিষ্ঠান, আজ সে গার্মেন্টস বাংলাদেশের গার্মেন্টস সেক্টরে একটা মডেল নাম। রিভার সাইড সুয়েটার্স। প্রায় ২ হাজার লোক কাজ করে, বছরে টার্ন অভার প্রায় ৪০০ কোটি টাকা। আল্লাহ যা করেন সব ভালোর জন্যই করেন।

মজিদের জন্য, খালেদা জিয়ার জন্য এবং সেই সব দূর্নীতি পরায়ন চাটুকার জেনারেলদের জন্য ও আমি দোয়া করি কিন্তু তারা আজ কেহই ভালো নেই। কেউ কারাগারে, কেউ ফাসির রায়ে দন্ডিত, কেউ পালিয়ে আছে আবার কেউ কেউ এই দুনিয়া ত্যাগ করে চলেও গেছে।

০৮/১০/২০২৩-কোন দিকে যাচ্ছে অর্থনীতি

আমাকে অনেকেই জিজ্ঞেস করে, আমাদের ব্যবসায়িক এবং অর্থনৈতিক অবস্থা কি হতে যাচ্ছে। আমি কোনো অর্থনীতিবিদ নই। ফলে যেসব ফ্যাক্টর হিসাবের মধ্যে নিয়ে সার্বিক অর্থনীতির উপর মতামত দেয়া যেতে পারে তাঁর অনেক ফ্যাক্টরই আমার জানা নাই বা সেগুলি নিয়ে আমি কাজ করি না। কিন্তু দৃশ্যমান কিছু সিম্পটম বিবেচনা নিয়ে যে কোনো আমজনতাও অনেক কিছুর সঠিক একটা প্রেডিকশন দিতে পারে যা হয়তো খুব একটা অমুলিক নয়। সেই প্রেক্ষাপট থেকেই বলছি।

আমাদের অর্থনীতি মুলত কিছুটা কৃষিজ এবং অনেকাংশেই বৈদেশিক মুদ্রা (যেমন রেমিট্যান্স, রপ্তানী আয়, এফডিআই) ইত্যাদির উপর নির্ভরশীল। এই কয়েকটা ফ্যাক্টর যদি মামুলীভাবে আমরা চিন্তা করি, তাহলে দেখবো যে, খুব বেশী একটা ভালো প্রত্যাশা করার কিছু নাই।

রেমিট্যান্স বহুলাংশে কমে গেছে কারন যারা এই বৈদেশিক মুদ্রা দেশে রেমিট করবেন, তারাই বিদেশে প্রায় হয় বেকার অথবা আগের তুলনায় অনেক কম বেতনে চাকুরী করছেন। ইউক্রেন যুদ্ধের কারনে ইউরোপের শিল্পবানিজ্যে প্রায় ধ্বস নেমে যাচ্ছে। প্রচুর ইন্ডাস্ট্রি শুধুমাত্র এনার্জি সংকটের কারনে বন্ধ এবং অনেকগুলি বন্ধের পথে। ফলে সেখানে কর্মী ছাটাই বা বিদেশীদের প্রাধান্য প্রায় নীচের দিকে। আমাদের দেশের শ্রমিকেরা খুব একটা স্কীল নয় বিধায় তাদের ডিমান্ডও বেশ কমে যাচ্ছে। মাইগ্রেশন এখন ইউরোপের একটা চরম সংকট। তারা যে কোনো মাইগ্রেশনের বিপক্ষে এখন। ইউরোপের অবস্থা দিনের পর দিন এখন খারাপের দিকে যাওয়ায় সেখানকার নাগরিকগনও কৃচ্ছতা অবলম্বন করছেন। তাদের পারচেজ পাওয়ার কমে যাচ্ছে। লাক্সারী লাইফের কথা এখন তারা মাথা থেকেই বের করে দিচ্ছে। জীবনধারনের জন্য যতটুকু দরকার সেটাতেই এখন তারা অভ্যস্থ হবার চেষ্টা করছে। এই অবস্থায় রেমিট্যান্স ধীরে ধীরে কমবে।

অন্যদিকে ইউরোপ কিংবা পশ্চিমা দেশগুলিতে যেহেতু এখন নাগরিকদের পারচেজ পাওয়ার কমে যাচ্ছে, ফলে আগে যেখানে একজন একের অধিক পন্য কিনতেন, সেখানে তারা পন্য কেনার পরিমান কমিয়ে দিয়ে বাজেটের মধ্যে চলার চেষ্টা করছেন। তাতে যেটা হচ্ছে-আমাদের দেশ কিংবা অন্যান্য রপ্তানীকারকের রপ্তানী আদেশের পরিমানও কমে যাবে। যখনই রপ্তানী আদেশের পরিমান কমে যাবে, আমাদের দেশেও বিভিন্ন শিল্প প্রতিষ্ঠানে তাঁর প্রভাব পড়বে। অনেক মেশিনারিজ বন্ধ থাকবে, এতে কর্মী ছাটাইয়ের আশংকা হবে। শুধু তাইই নয়, এনার্জি সংকটের কারনে কিংবা জালানী সংকটের কারনে পরিবহন খাতে ব্যয় বাড়বে, বিদ্যুৎ খাতেও ব্যয় বাড়বে। প্রডাকশন খরচ বাড়ার কারনে এবং রপ্তানী আদেশের পরিমান কমার কারনে আমাদের দেশের ছোট ছোট ব্যবসায়ি প্রতিষ্ঠান গুলি অস্তিত্ত টিকিয়ে রাখার হুমকিতে পড়বে।

এখানে আরো একটা বিপদ ঘটার সম্ভাবনা আছে। সেটা হচ্ছে-ইউনিপোলারিটি থেকে মাল্টিপোলার ওয়ার্ডে আমাদের দেশ একটা সংকটের মধ্যে আছে। এই মুহুর্তে ইউরোপ এবং পশ্চিমা দেশগুলির সাথে আমাদেরও কিছুটা টানপোড়েনের চিত্র লক্ষ্য করা যাচ্ছে বিধায় কোনো কারনে যদি পশ্চিমারা নাখোশ হয়, তাহলে একইসুত্রে গাথা ইউরোপের বাজার আমাদের জন্য ছোট হয়ে আসবে। সেক্ষেত্রেও আমাদের রপ্তানী আদেশে তুমুল একটা নেগেটিভ প্রভাব ফেলবে।

এখানে সবচেয়ে ভয়ের ব্যাপার হচ্ছে-যেসব শিল্প প্রতিষ্ঠানের উপর লোনের বোঝা আছে, তারা সময়মতো লোন পরিশোধ করতে না পারলে ব্যাংকগুলিও যেমন তারল্য সংকটে পড়বে, তেমনি ব্যাংক প্রতিষ্ঠানগুলিকে তাদের ঋণ পরিশোধে চাপের কারনে মালিকপক্ষ হিমসিম খাবে। যখন মালিকপক্ষ এই লোনের কারনে চাপের মধ্যে থাকবে, তখন তারাও ধীরে ধীরে ব্যবসা গুটিয়ে ফেলার চেষ্টা করবেন। দেখা যাবে যে, ফ্যাক্টরী আছে, মেশিনারিজ আছে, কিন্তু কর্মি নাই, রপ্তানীর আদেশ নাই, এবং মেশিনারিজ অচল অবস্থায় পড়ে আছে।

এবার যদি কৃষিজ প্রেক্ষাপটে আসি, সেখানেও একই চিত্র ফুটে উঠবে। সার সংকটের কারনে, কিংবা পানি সেচের জন্য প্রয়োজনীয় এনার্জি সাপ্লাইয়ের সংকটের কারনে এবং এমন কি বীজের সংকটেও কৃষিজ সেক্টরে এর নেগেটিভ প্রভাব পড়বে। বর্তমানে ইউক্রেন যুদ্ধ, বিভিন্ন দেশের উপর নিষেধাজ্ঞার কারনে সময়মতো এসব সার, বীজ কিংবা আনুষঙ্গিক আইটেম পাওয়া যাবে না। শুধু তাইই নয়, এই যুদ্ধ আগামী কয়েক বছরের খাদ্য সংকটও তীব্র হতে পারে বলে আমার ধারনা।

আবার, সরকারকে রাষ্ট্রীয় খরচ যোগানের লক্ষ্যে তাঁর ঋণ বাড়ার সম্ভাবনা রয়েছে। হোক সেটা লোকাল ব্যংকা থেকে কিংবা বাইরের কোনো অর্থলগ্নি সংস্থা থেকে। ফলে, এমনো হতে পারে জে, ব্যাংকে জন সাধারনের গচ্ছিত টাকাও সময় মতো সাধারন জনগন উঠিয়ে অন্য কোনো বিকল্প ব্যবস্থায় লগ্নি করতে পারে কিনা সেটারও একটা অনিশ্চয়তা থেকে যায়।

আজ ঠিক এই মুহুর্তের পরিস্থিতি দেখে অনেকটাই বুঝার উপায় নাই, আগামি এক বছর পরের পরিস্থিতি কত ভয়ানক হতে পারে। আমেরিকাকে প্রতিদিন ২৭৫ বিলিয়ন ডলার লোন করতে হচ্ছে, ইউরোপের প্রায় সব কটি দেশে আগের তুলনায় ব্যাংক সুদ বেড়েছে প্রায় ১০ গুন। কমোডিটির ব্যয় বেড়েছে প্রায় ৩ গুন। কিন্তু সে তুলনায় সাধারন জনগনের আয় বাড়েনি।

এ অবস্থায় কেউ যদি আমাকে জিজ্ঞেস করে, আগামি কি হতে যাচ্ছে- কি করে বলা সম্ভব? এ অবস্থায় আমাদের মতো আমজনতার কিংবা ব্যবসায়ীর জন্য কি করনীয় হতে পারে?

আমিও জানি না আসলে কি হতে যাচ্ছে আগামীতে। তবে, আমার একটা কথা আছে, আমি ছোট মানুষ, বুঝি কম, তাও যেটা বুঝি সেটা হলো-যাদের ব্যাংক লোন বিদ্যমান, তাদের উচিত সেটা যতোটুকু সম্ভব কমিয়ে ফেলা, কারন মুল ক্যাপিটাল পরিশোধ না করা পর্যন্ত এর যে সুদ সেটা পরিশোধ করতেই যখন হিমশিম খেতে হবে, মুল ক্যাপিটাল দেয়াই হবে তখন চরম অসুবিধা। যাদের হাতে এখনো কিছু অর্থ আছে সেটাকে যতটুকু সম্ভব যৌক্তিক সেক্টরে ব্যবহার করা যাতে অন্তত মুল ক্যাপিটাল নষ্ট না হয়, এবং যতটুকু না হলেই নয় তাঁর মধ্যে বসবাস করা।

বাকীটা শুধু বলতে পারবে “সময়”।

১৫/১০/২০২৩-কেনো আমি আবির আর উম্মিকার বিয়েতে রাজী হইলাম

আমি যেদিন জানলাম যে, উম্মিকা একটা ছেলের সাথে এফেয়ার্সে জড়িয়েছে, আমি একেবারেই ব্যাপারটা নেগেটিভলী নেই নাই। কারন উম্মিকার বয়স হয়ে যাচ্ছে (প্রায় ৩০) আর যেখান থেকেই যতো ভালো ছেলে বা পরিবার থেকে উম্মিকার জন্য বিয়ের প্রোপোজাল আসুক না কেনো, উম্মিকা কোনোটাতেই সায় দিচ্ছিলো না। প্রথমবার আমি উম্মিকাকে মুটামুটি জোর করেই রানার সাথে বিয়েটা দিয়েছিলাম, যদিও সেই জোরের মধ্যে উম্মিকারও অনেক ভুল ছিলো। কিন্তু আলটিম্যাটলি যেটা হয়েছে, উম্মিকার তো জীবনে একটা দাগ লেগেই গিয়েছিলো। ভুল যারই হোক, সেটার আচ আমাদের পরিবার, উম্মিকার জীবনেও লেগেছে। তাই এবার আমি নিজ থেকে উম্মিকাকে বিয়ের জন্য কোনো জোর করতে চাইনি। পক্ষান্তরে আমি এটাও চেয়েছিলাম যেনো উম্মিকা ভালো থাকে, যার সাথেই তাঁর বিয়ে হোক। সেটা আমাদের চয়েজেই হোক বা উম্মিকার নিজের। তাতে আমার কোনো অসম্মতি ছিলো না।

উম্মিকা আবিরকে ভালোবাসে, আবিরও উম্মিকাকে ভালোবাসেই বলে উম্মিকা জানিয়েছে। ছেলেটি ডাক্তার। আমার খারাপ লাগার কথা ছিলো না। উম্মিকার জীবনে যেমন একটা স্কার আছে, ছেলেটার জীবনেও তেমনি একই প্রকার একটা স্কার আছে। অর্থাৎ ওদের প্রথম বিবাহ টিকে নাই। স্কার নিয়ে ভাবিনি, এগুলি আমার কাছে খুব বেশী নাড়া দেয়নি। তাই আমি ঘটনাটা জেনে তেমন নেগেটিভলি নেই নাই।

কিন্তু বাধ অথবা খটকা লেগেছে এক জায়গায়। আবিরের কিছু তথ্যে মারাত্মক ভুল ধরা পড়ায়। যেমন, প্রথম যেদিন উম্মিকার আম্মু অর্থাৎ আমার স্ত্রী আবিরকে রাতে ফোন করলো সেদিন। আমি পাশেই ডিনার করছিলাম, আমি শুধু ওদের কথাবার্তা শুনছিলাম, কোনো উত্তর বা প্রতিউত্তর আমি দেই নাই। আমি আসলে একজন ভালো লিসেনার। আগে শুনি, তারপর ভাবি, তারপর উত্তর দেই। আবিরের সাথে উম্মিকার আম্মুর কথোপথোনে যেটা বের হয়ে এসছিলো আর আবিরের দৃষ্টিতে উম্মিকার রিভিউ হলো-

  • উম্মিকা খুব অলস।
  • ওর ডিউটির জ্ঞান কম। আবিরই মাঝে মাঝে ওর বিভিন্ন হসপিটালে ডিউটি শেয়ার করে দিতে সাহাজ্য করে। মাঝে মাঝে যদি আলসেমীর কারনে ডিউটিতে যেতে না চায়, সেটাও আবির কোনো না কোনো ভাবে ম্যানেজ করে নেয় বা দেয়।
  • বড় লোকের মেয়ে বলে টেনশন কম, খায় দায়, ঘুমায় আর মোটা হচ্ছে।
  • উম্মিকা কোনো কিছুই দ্রুত বোল্ড সিদ্ধান্ত নিতে পারে না এবং কনফিউজড। ইত্যাদি ইত্যাদি

আবির মিথ্যা কথা বলে নাই। উম্মিকা প্রায় ওই রকমই। কিন্তু মায়ের কাছে মেয়ের এসব দোষ ত্রুটি বলাতে উম্মিকার মা ব্যাপারটাকে খুব একটা পজিটিভলী নেয় নাই, নেবার কথাও না। অতঃপর উম্মিকার মার পরবর্তী কথোপথোনে বেশ বিপরীত ভাষা লক্ষ্য করলাম। উম্মিকার আম্মু সরাসরি আবিরকে জিজ্ঞেস করলোঃ

  • “তুমি কি উম্মিকাকে ভালোবাসো? উত্তরে আবির পজিটিভলীই বল্লো যে, হ্যা আবির উম্মিকাকে ভালোবাসে।
  • উম্মিকার মা আবিরকে আবার জিজ্ঞেস করলো, তোমার আগের বউ (ওর আগের বউ এর নাম ছিলো ইতি) এর সাথে কবে ডিভোর্স হয়েছে? উত্তরে আবির জানালো যে, প্রায় বছর তিনেক আগে ওদের মধ্যে ছাড়াছাড়ি হয়ে গেছে।
  • এবার উম্মিকার আম্মু সরাসরি আবিরকে প্রশ্ন রাখলো-তুমি কি উম্মিকাকে বিয়ে করতে চাও? আবির এখানে পুরুই অকৃতকার্য হলো। ভয়েই হোক, পরিস্থিতির কারনেই হোক, আবির উম্মিকার মাকে বল্লো-সে এই ব্যাপারে এখনো কোনো সিদ্ধান্ত নিতে পারে নাই। অর্থাৎ উম্মিকাকে আবির ভালোবাসে ঠিকই কিন্তু এটা বিয়ের লগন পর্যন্ত যাবে কিনা সেটা সে জানে না।

ফলাফল-আবিরের সাথে কথা বলার পর পুরু ব্যাপারটা উম্মিকার আম্মুর কাছে প্রায় নেগেটিভ হয়ে গেলো। আবিরকে সরাসরি উম্মিকার আম্মু জানিয়ে দিলো-সে যেনো আর কোনো অবস্থাতেই উম্মিকার সাথে যোগাযোগ না করে। উম্মিকাকেও বলা হলো উম্মিকা যেনো আবিরের সাথে আর কোনো যোগাযোগ না করে। ব্যাপারটা এখানেই উম্মিকার আম্মুর কাছে একটা সম্পর্কের নিহত হবার পরিনতি পেলো।

আমি তখনো ব্যাপারটা নিয়ে নেগেটিভ পর্যায়ে যাইনি। তবে আমিও উম্মিকার আম্মুর কথায় অনেকটা নেগেটিভ না হলেও খুব একটা পজিটিভ রইলাম না। একটু ভাটা পড়লো। কিন্তু পুরুপুরি নেগেটিভ হলাম না। তবে একটা খটকা থেকে গেলো একটা কারনে, আর সেটা হলো, আবিরের বাবার প্রোফেশন, আবিরদের পারিবারিক অবস্থান কিংবা ছেলের সামাজিক অবস্থানটা কোথায় সেটা সরাসরি জানা হলো না।

পরবর্তীতে জানা গেলো যে, আবিরের বাবা মুলত মাছের ব্যবসার সাথে জড়িত। একটা লোক মাছের ব্যবসার সাথে জড়িত থাকায় আমি ধরেই নিয়েছিলাম যে, তাদের পরিবার হচ্ছে জেলে পরিবার, আর তাদের সাথে আমাদের খাপ খায় না।

মিটুল যেহেতু পুরুপুরী নেগেটিভ হয়ে গিয়েছিলো, ফলে, মিটুল আমাকে বল্লো, তুমি আবিরের বাবাকে একবার ফোন দিয়ে তাদের সাথে আমাদের খাপ খাবে না এবং আবির যেনো আর উম্মিকার ব্যাপারে কোনো ইন্টারেস্ট না দেখায় সেটা বলে দাও। আমি মুলত আবিরের বাবাকে কোনো ফোন করতে চাইছিলাম না। কিন্তু মিটুলের অবিরত চাপে একদিন সত্যিই আমি আবিরের বাবাকে ফোন করলাম। ফোনে কি আলাপ হলো সেটা রেকর্ড করা আছে, তাই রেকর্ডটা থেকে লিখছিঃ

আমিঃ হ্যালো, আপনি কি রাকিবের বাবা বলছেন?

আনিছঃ হ্যালো, জী,

আমিঃ আমি মেজর আখতার বলতেছিলাম। ডাক্তার আনিকার আব্বু।

আনিছঃ কোথা থেকে?

আমিঃ ঢাকা থেকে। আমার মেয়ে হচ্ছে ডাক্তার আনিকা তাবাসসুম উম্মিকা। সম্ভবত আপনি নামটা জানেন। রাইট?

আনিছঃ হ্যা, বলেন, বলেন।

আমিঃ আপনি কি করেন এমনি?

আনিছঃ আমি (গলা খেকারী দিয়ে), আমি ব্যবসা করি মাছের। ১-/১২ টা পুকুর আছে, হ্যাচারী আছে। ওগুলা করি আর মাছের যে রেনু আছে সেগুলি উতপন্ন করি। এগুলি সিজনাল ব্যবসা।

আমিঃ আচ্ছা। রাকিব কি আপনাকে আমাদের সম্পর্কে বা আমার সম্পর্কে কিছু বলছে আপ্নাদেরকে?

আনিছঃ বলছে অবশ্য আমাকে। হালকা পাতলা বলছে। বলছে, একদিন আপনার পরিবারের সাথে রাকিবের কথা হইয়েছিলো। এখন ঘটনা হলো কি …

আমিঃ আমি যেটা প্রশ্ন করি সেটা বলেন। রাকিব আমার বা আমাদের সম্পর্কে কি বলছে?

আনিছঃ আসলে আপনাদের সম্পর্কে রাকিব কিছু বলে নাই, তবে ওই যে আপনার ওয়াইফের সম্পর্কে বল্লো যে, আনিকার মায়ের সাথে কথা হয়েছে আমার। বললাম, কি ধরনের কথা হইছে?

আমিঃ আচ্ছা, আমি আমার সম্পর্কে বলি।

আনিছঃ বলেন।

আমিঃ আমি কুমা গ্রুপ অফ ইন্ডাস্ট্রিজের ম্যানেজিং ডাইরেক্টর। আমার একটা প্লাস্টিক ইন্ডাস্ট্রি আছে, একটা হাউজিং আছে, যদিও প্লাস্টিক ইন্ডাস্ট্রিটা এই মুহুর্তে সচল না আর হাউজিং টা চলমান, কয়েকটা গার্মেন্টস আছে। আমার মেয়েটা একটা স্টুপিড। মানে আমাএ মেয়েটা বলদ। ও নিজের পজিশন এবং স্ট্যাটাস বুঝে না। ওর জন্ম থেকে গাড়ি ছাড়া পায়ে হাটে নাই। মানুষ আমরা তিনজন, গাড়ি আছে চারটা। আমার কথা হচ্ছে, এগুলি বলে আমি কাউকে আন্ডারমাইন্ড করি না বা করতে চাই না। যার যার সামর্থ অনুযায়ী সে তাঁর তাঁর সাম্রাজ্য গড়ে তোলে। আমি আপনার ছেলেকেও দোষ দেবো না কারন আমার মেয়েরই দোষ। কেনো তাঁর সাথে এফেয়ার্স করতে গেলো এবং তাঁর সাথে সম্পর্ক করতে গেলো। কারন সব কিছুরই কিন্তু একটা লেবেল আছে।

আনিছঃ অবশ্যই, অবশ্তই।

আমিঃ হ্যা সব কিছুর। যখন সে এই লেবেল ক্রস করে, তখন সে আর সাধারন মানুষ থাকে না। সে হয় বোকা, না হয় পাগল না হয় এবনরম্যাল। আর কেউ যদি এই সবের জন্য সপ্নও দেখে সেও মুর্খ। আমি অত্যান্ত ধইর্যিশীল মানুষ।

আনিছঃ কথাগুলি আপনি খুব গুরুত্ব পুর্ন বলছে। মানে অনেক দামী কথা বলছেন, তা বলার মতন না কিন্তু আমি তো …যদি মনে করেন …

আমিঃ আপনার ছেলেকে বলবেন, সে যেনো সরে যায়। আমি ওর ক্ষতি করতে পারবো কিন্তু আমি ওটা করবো না। আমি ওকে দেখিও নাই, চিনিও না। সেও আমারই সন্তানের মতো। তবে বাংলাদেশে, এই পৃথিবীতে যাদের শক্তি আছে, যাদের ক্ষমতা আছে, টাকা পয়সা আছে, তারা অনেক কিছু করে। কিন্তু বিচার হয় না। তারা অনেক সময়েই ধীর গতির বিচারের ফাক দিয়ে বড় বড় অপরাধ করেও পার পেয়ে যায়। এগুলি খারাপ। এগুলিতে আমি বিশ্বাস করিনা। আমি এগুলি করতে ইচ্ছুক না। কিন্তু যখন কারো গায়ে হাত লেগে যায়, আচড় লেগে যায়, যখন কারো অস্তিত্তের মধ্যে টোকা পরে, যখন সম্মানের উপর কেউ আঘাত করে, ইজ্জতের উপর হামলা করে, তখন তাকে কিকব্যাক করতে হয়। এটা আমি হয়তো করে ফেলবো। রাকিবকে বলবেন, ও যেনো কোনো অবস্থাতেই ভুলে হোক কিংবা আমার মেয়ের প্ররোচনায় হোক সে যেনো আর আমার মেয়ের সাথে যোগাযোগ না করে। আমার মেয়েও যদি যোগাযোগ করে, তাহলে রাকিব যেনো আমার মেয়েকে স্টুপিডভাবে জবাব দেয় যে, তোমার বাপ আমাদের মেলামেশা চায় না। তোমার বাপ না করছে এবং তোমরা আমাদের সমকক্ষ না।  তুমি আমাকে আর বিরক্ত করো না। আমি এখনো বলি, সবার একটা স্ট্যান্ডার্ড আছে, আমরা এই স্ট্যান্ডার্ডের নীচে নামতে পারবো না। আমি যদি এখন…আচ্ছা আপনার নামটা কি ভাইয়া?

আনিছঃ আমার নাম, আনিছুর রহমান।

আমিঃ আনিছুর রহমান ভাই, আপনি একবার চিন্তা করেন তো আমি যদি আপনার বাসার আজকে কিংবা কালকে বেড়াতে আসি, আপনাকে কিন্তু আমি আন্ডার মাইন্ড করছি না, আপনি অনেক কিছু করছেন, অনেক কিছু। একটা মানুষ তাঁর জীবনের সমস্ত চেষ্টা দিয়ে যতটুকু পারে ততটুকুই আগায়। আপ্নিও তাই করেছেন। কিন্তু সেই চেষতার মধ্যে যদি এমন একটা বস্তু মিক্সড করে ফেলেন যেখানে আপনার পক্ষে সামাল দেয়াই সম্ভব না এটা বোকামী। আজকে যদি আমার কিছু বন্ধু বান্ধব নিয়ে আসি, সেই স্ট্যাটাস কি আপনি দিতে পারবেন? আমি আপনাকে আন্ডার মাইন্ড করছি না আনিছ ভাই, কিন্তু আমি বলতে চাচ্ছি এই সপ্নটা এবং ধারনাটা ভুল আপনার ছেলের।

আনিছঃ আসলে আমাদের আগের ছেলের বউ……

আমিঃ আপনাদের ছেলের বউ কি করেছে, কি করা উচিত ছিলো, কি না করলে কি হতো সেগুলি এন্টায়ারলি আপনাদের নিজেদের ব্যাপার। সেগুলি আমার জানার কোনো আগ্রহ নাই। আমি আপনাকে ফোন দিতে চাইনি, এটা সত্যি কথা। আমি আপনাকে চিনি না, প্রয়োজন ও ছিলো না। আমি কেনো আপনাকে ফোন দেবো? কোনো প্রয়োজন নাই তো। আপনার সাথে আমার জমি নিয়ে কোনো বিরোধ নাই, আপনার সাথে আমার কন ব্যবসা নিয়ে বিরোধ নাই, তাহলে কেনো আপনাকে আমার ফোন দেয়ার দরকার?

প্রতি বছরে আমার পাঁচ হাজার কোটি টাকার ব্যবসা। সেখানে এই স্টাটাসের মধ্যে কেউ যখন আঘাত করবে, সেই আঘাতের প্রতিঘাত কিন্তু অনেক বেশী কড়া। সহ্য করার মতো কিন্তু হবে না। আমি আপনাকে খুব শ্রদ্ধা করি, আমি দেখিনি আপনাকে, আমার বয়স ৫৮, আমি জানি না আপনার বয়স কত

আনিছঃ আমার বয়স ৫২

আমিঃ এ জন্যই বলি, আপ্নিও এডাল্ট। আপনি বুঝেন। আপ্নিও কারো বাবা

আনিছঃ শোনেন, আপনি যেহেতু কথা গুলি বললেন……সবারই … সবারই একটা মান…।

আমিঃ না, আমি আপনার কোনো কথা শুনতে চাই না। আমি আপনার স্ট্যাটাস নিয়ে কোনো কোয়েশ্চেন করবো না। আমার স্ট্যাটাস নিয়ে অবশ্যই কোয়েসচেন করবো।

আনিছঃ অবশ্যই, অবশ্যই, আমিও আপনার কথাই বলতেছি…যার যার স্টাটাসে তাঁর তাঁর থাকতে হবে…।।

আমিঃ এক্সাটলী আমিও সেটাই বলার চেষ্টা করছি আপনাকে। এর বাইরে না।

আনিছঃ আমার কথা কি, ছেলেমেয়ে তো ভুলবনা করে। এই ভুলবনা করার পরেই তো বাবা মার কষ্ট হয়ে দাঁড়ায়। এমন কষ্ট হয় যা মাইনা নেয়া যায় না। আমার ছেলে ভুল করতেছে, আপনার মেয়েও ভুল করতেছে, এমন ভুলবনা তো মাইন্যা নেয়া যায় না।

আমিঃ না, সম্ভব না।

আনিছঃ কারন আমিও তো অনেক কষ্ট করে আমার একটাই ছেলে প্রাইভেট মেডিক্যালে অনেক টাকা দিয়াই পড়াইছি। কষ্ট তো আমারো লাগে। আমারো তো একটা আশা ছিলো। আমার ছেলেটা তো আমারেও কষ্ট দিচ্ছে।

আমিঃ আপনার ছেলের উচিত ছিলো যে, যেই বাবা, যেই মা নিজেরা না খাইয়া, না আনন্দ কইরা ছেলেকে মানুষ করছে, তাদের জন্য কিছু করা। কিন্তু সে সেটা করে নাই। সে তো নিমকহারাম। আমি আমার স্ট্যাটাসের জন্য, সামর্থের জন্য গর্ব ও করি না, অহংকার ও করি না। আমি মানুষের উপকার করার মানসিকতা আছে, পারলে করি, না পারলে তাঁর কোনো ক্ষতি করি না। আপনি আপনার জায়গায় ভালো আছেন, আমি আমার জায়গায় ভালো আছি। আর কিছু না। তাই আমি আপনাকে ষ্পষ্ট ভাবে বলে দিলাম যে, আপনি রাকিবকে বলে দেবেন যে, রাকিব, উম্মিকার আব্বু ফোন দিয়েছিলো এবং বলেছে যে, তাদের পরিবারের সাথে কোনো যোগাযোগ না করতে। আমি রাকিবকে ফোন দেবো না। আমার দরকার ও নাই। এর পরে যোগাযোগ ওর জন্য মংগল বয়ে আনবে না। রাকিব আমার বাচ্চার মতোই। ওর ক্ষতি আমি চাই না। ধন্যবাদ আনিছ ভাই। ভালো থাকবেন।

ব্যাপারটা এখানেই আমি আসলে শেষ করে দিয়েছিলাম। কিন্তু আমার কাছে সব সময়ই মনে হয়েছে, উম্মিকা ছেলের সাথে যোগাযোগ নিজের থেকেই রাখছে এবং রাখবে। কিন্তু আমার আরেকটা ধারনা ছিলো যে, সম্ভবত এবার ছেলেটাই সরে যাবে। অথবা আমার মতো সাহসী হলে সরাসরি আমার সাথে দেখা করে কথা বলবে।

বেশ কয়েকদিন কেটে গেছে। এরপর উম্মিকার আম্মু আমাকে জানালো যে, রাকিবের বাবা ওকে ফোন করছে বারবার এবং তাঁর ছেলের বউ এর ব্যাপারে অনেক কথা বলতে চায় বা বলছে। এর মধ্যে জানা গেলো, রাকিবের সাথে রাকিরের স্ত্রীর ছাড়াছাড়ি আসলে ৩ বছর আগে হয়নি, হয়েছে মাত্র কয়েকদিন আগে। তো, এর মাধ্যমে আমরা বুঝতে পারলাম, উম্মিকার সাথে রাকিব এফেয়ার্সে জড়িয়েছে যখন রাকিবের বউ বর্তমান ছিলো। তাহলে তো বলাই যায় যে, এটা একটা এক্সট্রা ম্যারিটাল এফেয়ার্স। এমনিতেই আমরা রাজী হচ্ছি না, এরমধ্যে আবার এসব গোলমালে ইনফর্মেশন। পরিবারটাকে খুব একটা ভালো মনে হচ্ছিলো না।

আমাদের পরিবার সচ্ছল, ব্যবসা বানিজ্য যা আছে, বিষয় সম্পত্তি যা আছে, এগুলি আসলে তো আমাদের মেয়েরাই পাওয়ার কথা। যেহেতু ছেলে নাই, ফলে মেয়ের মাধ্যমে মেয়েদের জামাইরাই ভোগ করবে। এটা নিয়ে আমার কোনো আপত্তি কখনোই ছিলো না। কিন্তু আজকালের ছেলেরা নিজেরা কিছু করতে চায় না, তারা আরাম চায়, ভোগ বিলাস চায় কিন্তু সেটা হতে হবে শশুড়ের টাকায়। এই লোভ থেকেই রানা এসেছিলো, রানার পরিবার এসেছিলো। আরেকবার আমি আরেকটা রানা চাই না। আমি চেয়েছি এমন একটা ছেলে যে কিনা আমার মেয়েকে চায়, যে কিনা নিজের চেষতায় বড় হবে, কর্মশীল হবে, দায়িত্ববান হবে। যার উপরে আমিও ভরষা করতে পারি। এ ব্যাপারটা আমি রাকিবের মধ্যেও দেখতে পাচ্ছিলাম না, না ওদের পরিবারের মধ্যে। আমার বারবারই মনে হয়েছে-এখানে একটা লোভের কারন কাজ করছে। আর যদি এটা হয়, সেক্ষেত্রে আমি কখনোই কারো সাথে কোনো সম্পর্ক করবো না। আমার কাছে কেউ কিছু যৌতুক চাইলে বা লোভ করলে আমার মাথায় রক্ত উঠে যায়। আমি এগুলি ঘোর বিরুধী। যদি আমি নিজেই দেখি যে, আমার মেয়ের কিছু প্রয়োজন, সেটা তো আমি নিজেই দেবো, চাইতে হবে কেনো? রাকিবদেরকেও আমার সেরকম মনে হয়েছে।

কিন্তু আমরা যতোই নেগেটিভ হচ্ছি, উম্মিকা ততোই জিদ ধরছে যে, সে আবিরকেই বিয়ে করবে। আমি যখন কোনো উপায় দেখছিলাম না, তখন আমি উম্মিকাকেই বললাম যে, উম্মিকা আবিরকে বিয়ে করুক, তাতে আমার কোনো অসুবিধা নাই কিন্তু সেটা হতে হবে আমাদেরকে ছাড়া। অর্থাৎ আমরা উম্মিকার স্বামী বা তাঁর পরবর্তী বংশধরদের ব্যাপারে কোনো দায়ী তো নাইই, আমি আমার যতো ব্যবসা কিংবা এসেট আছে সব কিছু থেকে আমার জীবদ্দশায় ক্যাশ করে শুধুমাত্র কনিকা আর আমার জন্য ব্যবহার করবো। এটা এক ধরনের চুড়ান্ত সিদ্ধান্তই নেয়া হচ্ছে বলে আমি দৃঢ়ভাবে বিশ্বাস করি। উম্মিকাকে ঠেকানো যাচ্ছে না যেহেতু, ফলে তাঁর ইচ্ছায় সে যা কিছু করতে চায় করতে পারে। আমি উম্মিকার সাথে প্রায় কথা বলাই বন্ধ করে দিলাম।

উম্মিকা বাসায় খায় দায়, বাসায় থাকে, আমার সাথে ওর কোনো কথাবার্তাই হয় না। উম্মিকা নিজেও বাসায় খুব একটা যে কম্ফোরট্যাবল তা কিন্তু না। মাঝে মাঝে উম্মিকা নিজের থেকেই উপজাজক হয়ে কথা বলতে এলেও আমি হু হা করে উত্তর দেই। ধরা যায়, উম্মিকার সাথে আমার বিস্তর একটা গ্যাপ হয়ে যাচ্ছে।

আমার এতোসব কঠিন ব্যবহারেও উম্মিকা তাঁর সিদ্ধান্ত থেকে ফিরে আসতে নারাজ। উম্মিকা আবিরের (রাকিব) সাথে যোগাযোগ রেখেই চলছে এবং চলমান। উম্মিকা অনেকবার আমার সাথে সহজেই মিশতে চেয়েছে কিন্তু আমার পক্ষ থেকে কোনো প্রকার রিস্পন্স না পাওয়ায় উম্মিকা প্রায় একঘরেই হয়ে যাচ্ছে নিজের বাসায়। উম্মিকার আম্মু অনেকবার উম্মিকাকে বুঝানো চেষ্টা করলে খুব একটা লাভ হচ্ছিলো না। এভাবেই বেশ কয়েক মাস কেটে গেলো। আমি ধরেই নিয়েছি-উম্মিকা আর আমাদের মাঝে নেই। সে হয়তো আবিরকে (রাকিবকে) বিয়ে করবে, আর আমরা ওকে হারাচ্ছি, অর্থাৎ উম্মিকাও আমাদেরকে হারাচ্ছে।

আমি আরেকটা জিনিষ খুব ভালো করে বুঝে গেলাম যে, আমার অবর্তমানে আসলে আমার সম্পত্তি বিশেষ করে জায়গা জমিরাত, কিংবা অন্যান্য ব্যবসা কেউ চালাতে পারবে না। আমার মেয়ের জামাইরা এগুলি খুব অল্প সময়েই হয় বিক্রি করে দেবে, নতুবা ধংশ করবে। ফলে আমি এবার আরেকটা সিদ্ধান্তে অটল হয়ে গেলাম জে, আমার জীবদ্দশায় আমি আমার সব জমি জেরাত বিক্রি করে টাকায় ক্যাশ করে ফেলবো। শুধু রিভার সাইড গার্মেন্টস টা রাখবো। আমি হিসাব করে দেখলাম, আমার বৃদ্ধ বয়সে আসলে আমার দরকার টাকা যেখানে আমি প্রয়োজনে ৫/৬ টা কাজের লোক রেখে জীবনের সব শারীরিক কাজ গুলি সেরে নিতে পারবো। জমি জিরাত রেখে কোনো লাভ নাই। এর ফলে আমি ইতিমধ্যে চান্দের চরের জমিগুলি (যেখানে হাউজিং করার পরিকল্পনা করেছিলাম) বিক্রির খদ্দেরের সাথে পাকা করে ফেললাম। পলাশপুরের জমিগুলিও বিক্রি করা শুরু করলাম। আমি ধরে নিলাম, এই মুহুর্তে আমার শুধুমাত্র রিস্পন্সিবিলিটি হচ্ছে কনিকা আর আমার স্ত্রী। উম্মিকা আমার লিষ্ট থেকে বাদ হয়ে গেলো। আমি রাকিবের সাথে সম্পর্ক রাখার কারনে আমি উম্মিকার উপরে খুবই অসন্তুষ্ট এবং রাগ।

আমার আচরনে এবং ব্যবহারে আমার স্ত্রী মিটুল ও অনেকটা মন খারাপ করে থাকে। বুঝা যায়, সে প্রতিদিনই উম্মিকাকে মুটভেট করার চেষ্টা করে। কিন্তু আমার সাথে কোনো প্রকার তথ্য শেয়ার করে না। এর মধ্যে আবিরের (রাকিবের) বাবা সম্ভবত আবারো মিটুলকে ফোন দিয়েছে যাতে অন্তত মিটুল তাঁর কথাগুলি শোনে। মিটুল কিছুতেই তাদের ব্যাপারে কোনো কথা শুনতে নারাজ, আবার অন্যদিকে উম্মিকাও তাঁর সিদ্ধান্ত থেকে ফিরে আসতে নারাজ।

তো এর মধ্যে রাকিবের বাবা আবার আমাকে ফোন দিলো। কিন্তু আমি প্রথমে ফোনটা ধরতে পারিনি, নামাজে ছিলাম। তাই নামাজ শেষে আমিই তাকে ফোন করলাম। ফোনের বিবরনটাও এখানে লিখিঃ

আমিঃ ভাই, আপনি কি আমাকে ফোন করেছিলেন?

আনিছঃ জী ভাই, আমি আপনাকে ফোন দিয়েছিলাম। ভাই, সেদিন তো আপনি ফোন দিছিলেন কিন্তু আমি তো কোনো কথাই বলতে পারলাম না। যে কথা বললেন সেদিন, অন্যের কথা শুনে তো আর সব কিছু বিচার করা যায় না। আমার জায়গাতে তো আমি কষ্টেতে আছি, আমার ছেলে নিয়া, আমার ছেলের বউ নিয়া।

আমিঃ আপনার পয়েন্ট টা কি?

আনিছঃ আমার ছেলের বউ কি বল্লো আর কি না বল্লো……

আমিঃ না আমি তো আপনাকে সেদিন খারাপ কিছু বলিনি। আজকে আপনার পয়েন্ট টা কি? কি নিয়ে আপনি আমার সাথে আলাপ করতে চাচ্ছেন?

আনিছঃ না, এই যে আমার ছেলের প্রতি আপ্নারা যে বলতেছেন যে, আমার ছেলের দোষ, আমার…

আমিঃ আমি তো আপনার ছেলের কোনো দোষ দেই নাই। আমি তো বলছি যে, এটা আমার মেয়েরই দোষ। সে ভুল করেছে। এ জন্য আমি আপনাকে বলেছিলাম যে, আপনার ছেলেকে আমার মেয়ের থেকে বিরত থাকতে বলেন। কাহিনী শেষ। আবার কি বলতে চাচ্ছেন এখন আমাকে?

আনিছঃ আমি বলতে চাচ্ছি জে, ওই মেয়েটা যা যা বলছে…

আমিঃ কোন মেয়েটা?

আনিছঃ ওই যে আমার ছেলের বউ।

আমিঃ শোনের আনিস সাহেব, আপনার ছেলের বউ এর সাথে আমার কোনো কথা হয় নাই।

আনিছঃ আপনার সাথে হয় নাই, কিন্তু আপনার ওয়াইফের সাথে কথা হইছে, অনেক কিছু বলছে। তারপর আপনার ওয়াইফ আমাকে ফোন দিয়ে অনেক কথাই বল্লো। অনেক কথাই। বল্লো, আপনার ছেলের বউ থাকতে আপনার ছেলে আমার মেয়ের সাথে আবার সম্পর্ক গড়ছে……এতো বড় সাহস কোথায় পায়?

আমিঃ কি মনে হয় আপনার? আমার বউ কি কোনো কিছু ভুল বলছে? আপনার ছেলের একটা বউ থাকতে সে আবার আমার মেয়ের সাথে পরকীয়া করতেছে, এটা কি ঠিক হইছে?

আনিছঃ তা ঠিক আছে……

আমিঃ মানে? কি ঠিক আছে? কি ঠিক আছে? এটার মানে কি এটা যে, একটা বউ থাকবে, আরেকটা মেয়ের সাথে সে পরকীয়া করবে, এটা ঠিক আছে?

আনিছঃ না না সেটা ঠিক নাই। আমি তো বলতে চাচ্ছি যে, আমার ছেলেও ভুল করছে, আপনার মেয়েও ভুল করছে। আপনার মেয়েও জানে আমার ছেলের বউ বিদ্যমান।

আমিঃ না, উম্মিকা সেটা জানে না। আমাকে উম্মিকা সেটাই বলেছে যেটা সে জানে।

আনিছঃ না, জানে আপনার মেয়ে অবশ্যই জানে।

আমিঃ তাহলে এখন আপনি আমাকে কি বলতে চাচ্ছেন? আপনি কি বলতে চাচ্ছেন যে, এখন আপনার ছেলেকে দিয়ে আমার মেয়েকে বিয়ে করাইয়া দেই?

আনিছঃ না, সে রকম না।

আমিঃ তাহলে কেনো ফোন করেছেন আমাকে? বলেন না? কি চান আমার কাছ থেকে? আমি রাগ হচ্ছি এখন। কি চান আমার কাছ থেকে?

আনিছঃ আমি চাচ্ছি, আমার ছেলেকে যে হুমকি ধামকী দিচ্ছে আপনার ওয়াইফ। আমাকে বলে যে, আপনার ছেলে এই করেছে, সেই করেছে ……

আমিঃ শোনেন আনিছ সাহেব, আমি এবং আমার ওয়াইফ শুধু একটা কথা আপনার এবং আপনার ছেলেকে পরিষ্কার করে জানিয়েছি জে, আপনার ছেলে যেনো উম্মিকার সাথে কোনো যোগাযোগ না করে এবং আমার মেয়েও যদি আপনার ছেলের সাথে যোগাযোগ করতে চায়, সে যেনো আর না করে। তা না হলে…

আনিছঃ আমি আমার ছেলেকে আপনাদের কথাগুলি বলে দিয়েছি।

আমিঃ জী, সেটাই বলবেন। আমি কারো কোনো ক্ষতি করতে চাই না। কিন্তু যখন এটা আমার গায়ে আসবে, ডেফিনিটলী আমি একশান নেবো, কোনো সন্দেহ নাই। আপনার ছেলের এটা একটা অবাস্তব চিন্তাভাবনা।

আনিছঃ আমিও এটাই বলেছি আমার ছেলেকে।

আমিঃ আনিছ ভাই, আমাকে শুধু একটা কথা বলেন, হাউ মাচ ইউ হেভ ব্যাংক ব্যালেন্স? টেল মি? কতটুকু ব্যাংক ব্যালেন্স আছে আপনার?

আনিছঃ কার আমার?

আমিঃ আপনাদের।

আনিছঃ আমাদের আর কত আর ব্যাংক ব্যালেন্স আছে?

আমিঃ শোনেন। নাম্বার টু, একটা ছেলে কিভাবে সব জেনেশুনে আমাদের মতো একটা অসম পরিবারের সাথে একটা সম্পর্কে জড়াইতে চায় যেটা একটা অবাস্তব? কেউ যদি তাকে প্রলোভন ও দেয়, তাঁর খুব কেয়ারফুল হ ওয়া উচিত ছিলো। এটা শুধু এবসার্ড না, এটা ইম্পসিবল পার্ট। কি করে সম্ভব হয়? আপনি কি আপনার বর্তমান স্ট্যাটাস নিয়ে আমার সামনে চেয়ারে বসতে পারবেন? আপনি আমার বাড়িতে এসে আমার সামনে বসতে পারবেন? ঠিক আছে আনিছ ভাই, আমি আপনার সাথে এ ব্যাপারে অনেক কথা বলতে চাই না। ঠিক আছে, আই ডোন্ট মিক্স আপ উইথ পিপল হু ইস নট ইকুয়াল টু মি!! আই এম গুড টু গুড পিপল বুত আই এম অলসো ব্যাড ফর ব্যাড পিপল। জাষ্ট রিমেম্বার ইট। থ্যাংক ইউ।

এরপরে আমি আর তাঁর সাথে কোনো কথা বলি নাই। বলার দরকারও মনে করি নাই। অতঃপর ঠিক পরেরদিন রাকিব (আবির) আমাকে একটা হোয়াটস আপ ম্যাসেজ করে। এই ম্যাসেজটা আমাকে আরো ক্ষিপ্ত এবং রাকিবের ব্যাপারে আরো নেগেটিভ করে তোলে। ম্যাসেজটা ছিলো এ রকমঃ

১১/৬/২০২৩

Sorry apnake WhatsApp e  txt korar jonno. Amar Baba ke call diye onek kotha bolechen. Apni to educated person tahole kono Kichur judge korte hoile dui pokkher kotha sune proper information jene then right or wrong judge korte hoy aita to janen. Apni Jodi kichu bolte chan tahole age proper information gula right place theke niye then judge korben asha kori.  Power status esob er gorom  na dekhiye sob kichur sothik information niye then kotha bolle valo hoy. Ak hate tali baje na. Amake Amar Baba ke na jene bhuje mon gora dosh diye kotha bolben aita kono educated person er porichoy na. Age Amar name akta bad report ber kore then amake wrong judge korben.jodi kono akta single bad report ber Korte paren amar name jekono sasti diben Ami Mene nibo .

আমি বাসায় এসে উম্মিকাকে এবং উম্মিকার মাকেও ব্যাপারটা পড়ে শোনাই। আর বলি- আমার সাথে ওর বাপের কি কথা হইছে সেটা আমাকে সে চার্জ করেছে। আমাকে দেখলো না, কথা হইলো না, কত স্টুপিড যে, সে আমাকে এমন একটা ম্যাসেজ লিখে যেখানে আমার শিক্ষা, আমার পজিশন, আমার স্ট্যাটাস নিয়ে প্রশ্ন করে? এ তো রানার থেকেও খারাপ। রানা তো বিয়ে করার পর কিছুটা হলেও অধিকার পেয়ে আমাদেরকে উলটা পালটা ম্যাসেজ দিয়ে খুবই নোংরা কথা লিখতো। আর এই বেটা তো কোনো সম্পর্কই হয় নাই, তাতেই এখন এই অবস্থা। আর যদি সম্পর্ক হয়, তাহলে কোন লেবেলে যাবে? আমিও উম্মিকাকে আরো কঠিন করে শাসালাম। কিন্তু কোনো লাভ হলো বলে মনে হলো না। আমি বারবার উম্মিকাকে এই ছেলে থেকে সরে আসতে বললাম। কিন্তু উম্মিকার আচরনে এই ছেলে থেকে সরে আসার কোনো লক্ষন দেখা গেলো না।

যাই হোক, রাকিবের ম্যাসেজের উত্তর আসলে আমি দিতে চাইনি। কিন্তু আমার মনে হলো, আমি তো ওর সাহে কোনো কথা বলি নি, অন্তত আমার মাইন্ড টা সে বুঝুক তাই একটা ম্যাসেজ দিলাম। এর পরিপ্রেক্ষিতে আমি ১৬/৬/২০২৩ তারিখে ওকে ম্যাসেজের উত্তর করেছিলামঃ

I wonder receiving such kinds of message again from your side where I clearly and explicitly told you that we are not interested about you even you are having 100% honesty, 100% best quality or even the BEST reputation at your end. I along with my family am not at all interested to know or search any kinds of information about you and your family on what was right and what was not. That belongs to yours and no way affects us anyway. What my daughter did was a childish move.  I wish, you would not dare enough again to communicate me with any kinds of such message in future as we have no connections in any way. Even, I would not expect you to reply me on this message. Hope you respect yourself and that’s very important for a person’s character. I don’t block people as it entails bad gradings.  An advise to you as an elder, be attentive with your carrier, build it on your own, you will be better rest of your life. Thanks. (Major (Retd) Akhtar Hossain, PhD, MSc, MBA, MDS, psc, G+,

উম্মিকা কিছুতেই রাকিবের কাছ থেকে সরে আসছিলো না। তারপর মনে হয় উম্মিকাই রাকিবকে আবার সরি আকারে একটা ম্যাসেজ দিতে বলেছে আমাকে। এটা আমার ধারনা। সেই ম্যাসেজটা ছিলোঃ

Assalamu  Owalaikum Baba.

Kmn achen apni ?Kalke apnar office theke asar por khub druto duty te chole jaoay  apnake r call dite pareni .Kalke night duty theke onek patient er pressure chilo .ajkeo saradin onek pressure giyeche. Tobe nana kajer besto tar majhe onek bar apnar kotha mone hoyeche . Call diye hoyto onek kichuei bolte parbo na tay sms kore bolte iccha korlo . Apnar sathe dekha hoar purbe moner moddhe hajar ta voy r dridha donde last koekdin onek beshi mental stress e chilam . Thik vabe ghum khaoa daoa kono kichuei korte pare ni ato ta beshi stress e chilam. Tobe apnar sathe  kalke jetuku time kotha hoyeche . Apnar proti ta kotha apnar protita motivation family nijer jibon niye notun vabe amake bachte sikhate asha jagiyeche. Amar jibone er sotti porom souvaggo ami apnar moto akjon manusher mentorship e notun vabe nijeke niye beche thakar sopno khuje peyechi . Amar kache mone hoyeche Anika jemon amar jibone thik joto ta blessing hoye eseche ,thik Apnar moto akjon baba jar proper guideline pele sotti Jibone onek dur egiye jaoa somvob. Amar kache mone hoyeche apnar moto akjon baba paoa sotti amar moto akta cheler jonno onek vagger bepar . Allah r kache shudu aituku chay samner din gulote apnader doa niye jeno agami te valo kichu kore dekhate pari. apnader kache nijeke akjon Apnader joggo sontan hisebe proman korte pari . Apnar sathe kotha bolar por amar onek beshi valo legeche . Hoyto apnake samna samni bolar sahos ta hoyni  Tay sms kore apnake janalam Baba.

ম্যাসেজ পড়ে তো আমি আরো হতাশ। সে আমাকে সরাসরি “বাবা” বলে সম্বোধন করে লম্বা একটা আকুতির ম্যাসেজ পাঠালো। আমি আর এই ম্যাসেজের উত্তর দেইনি। কারন, উত্তরে আরো উত্তর, তাঁর উত্তরে আবারো উত্তর। তাই আমিই উত্তর দেয়া বন্ধ করলাম।

উম্মিকা বুঝে গিয়েছিলো, আমি ওর একক সিদ্ধান্তেও রাজী নই। যদি সে বিয়ে করতেই চায় রাকিবকে, সেটা ওর ব্যাপার। তবে আমি উম্মিকাকে এই মর্মে একটা সতর্ক বানী শোনালাম যে, যদি আমার সিদ্ধান্তের বাইরে উম্মিকা রাকিবকে বিয়ে করে তাহলে সে আমার কোনো সম্পত্তি পাবে না, তাঁর ছেলেমেয়ে কিংবা পরবর্তী বংশ ধরেরাও আমার সাথে কোনো সম্পর্ক রাখতে পারবে না। তবে আমার মেয়ে হিসাবে শুধুমাত্র উম্মিকার আসা যাওয়ার অনুমতি থাকবে, অন্য কারো নয়। আমি এর মধ্যে একটা ড্রাফট ও করে ফেলেছিলামঃ

আমি নিম্নবর্নীত স্থাবর-অস্থাবর জমিজমা, সম্পত্তি এবং অন্যান্য বিষয় সম্পত্তি সত্তবান ও মালিকানা বিদ্যমান দখলদার আছি। আমার দুই মেয়ে এক স্ত্রী বিদ্যমান। আমার এখন শারিরীক অবস্থা খুব ভালো না বিধায় আমি আমার নিম্নবর্নীত বিষয়াদি আমার ছোট মেয়েকে (সানজিদা তাবাসসুম কনিকা) একচ্ছত্র মালিকানা করিয়া এই উইল করিলাম। এখানে বিশেষভাবে উল্লেখ থাকে যে, আমার বড় মেয়ে আনিকা তাবাসসুম উম্মিকা তার নিজের ব্যক্তিগত সার্থের কারনে, তার পছন্দমত একজন বিবাহিত পুরুষের সাথে পরকীয়া করার কারনে, আমাদের কোনো সৎ পরামর্শ না শোনার কারনে এবং উপর্যপরী তার একক সিদ্ধান্তে অটল থাকার কারনে আমি এইমর্মে সিদ্ধান্ত নিয়েছি যে, আমার সমস্ত স্থাবর অস্থাবর বিষয়-সম্পত্তি তার কিংবা তার পছন্দ করা পুরুষের কিংবা তার পরবর্তী বংশধর, আওলাদ (উভয় ছেলে এবং মেয়ে আওলাদ) এর হাতে নিরাপদ নয়। আমার বড় মেয়ে এমন কিছু খারাপ মানুষের সাথে বন্ধুত্ব করে, এবং প্রায়ই সেই বন্ধুত্ব পরকীয়ায় রুপ নেয় যা আমাদের পরিবারের সাথে খাপ খায় না। তার মধ্যে পরিবারের ইজ্জত, মান সম্মান, কিংবা ঐতিহ্যের প্রতি কোনো প্রকার সম্মান নাই। ফলে দেখা যায় যে, আমার বড় মেয়ের এহেনো নীচ কাজের জন্য অনেক আজেবাজে লোভী পুরুষেরা তার সাথে সম্পর্কে লিপ্ত হয়ে আমাদের এই সাজানো সংসার, আমাদের কষ্টার্জিত সম্পদের উপর লুলোপ দৃষ্টি দিয়ে আমার বড় মেয়েকে যে কোনোভাবে পটিয়ে তারা তাদের সার্থ হাসিল করতে চায়। অনেকবার আমার বড় মেয়েকে এ ব্যাপারে সাবধান করার পরেও সে বারবার একইরুপ ব্যবহার, আচরন প্রদর্শন করছে। সে নিজে একজন ডাক্তার কিন্তু তার মধ্যে এখনো পরিবার, পরিবারের মান সম্মান কিংবা আমাদের মান সম্মানের প্রতি কোনোরুপ তোয়াক্কা করেনা। আমার এই সম্পত্তি অনেক কষ্টের বিনিময়ে অর্জিত বিধায় শুধুমাত্র আমার বড় মেয়ের খামখেয়ালীপনা, পরকীয়া এবং খারাপ মানুষের সাথে সম্পর্ক স্থাপন করিয়া আমার ওয়ারিশ হওয়ার কারনে সে কিংবা তার পরকীয়া পুরুষ কিংবা তাদের ঔরসজাত সন্তানেরা, বংশধরেরা কিংবা তার ভবিষ্যৎ আওলাদ্গন আমার কোনো সম্পত্তির মালিক হইতে পারিবে না। আমি আমার এই উইলের মাধ্যমে এইমর্মে বিধান দিতেছি যে,

(ক)    আমি সজ্ঞানে, নিজের ইচ্ছায় এবং অন্যের কোনো প্রোরোচনা ব্যতিত আমি আমার বড় মেয়ে, তার স্বামী, তার বংশধর, তার আওলাদ (ছেলে কিংবা মেয়ে উভয়) এবং তার পরবর্তী যে কোনো বংশধর আমার সরবপ্রকার বিষয়াদি, স্থাবর-অস্থাবর, ব্যবসায়িক, ক্যাশ, জমিজমা, বাড়িঘর, কিংবা যে কোনো সামাজিক পজিশন থেকে বাতিল বলিয়া বিধান করিতেছি। অর্থাৎ আমার বড় মেয়ে আমার কোনো কিছুই প্রাপ্য হইবে না।

(খ)     আমার সাথে আমার বড় মেয়ের পিতৃত্ব, ওয়ারিশান কিংবা দেশের বা ধর্মের প্রচলিত যে কোনো আইনের ধারার বিনিময়ে সুযোগ নিয়ে আমার নিম্নবর্নীত জমি জমা, ঘর বাড়ি, বিষয়াদি, ব্যবসা বানিজ্যের কিংবা আমার পেনশনের অথবা যে কোনো স্থাবর-অস্থাবর সম্পত্তির মধ্যে কোনো প্রকার ভাগ বা অংশীদার হবার কোনো সুযোগ নাই এবং রাখিলাম না। 

(গ)     এখানে আরো উল্লেখ থাকে যে, আমার ছোট মেয়ে আমার সমস্ত জমিজমা, ঘরবাড়ী, স্থাবর-অস্থাবর সম্পত্তি, ব্যবসায়িক ক্ষেত্রে প্রাপ্য সম্পদের একচ্ছত্র মালিকানা হইবে।

(ঘ)     কোনো কারনে যদি আমার ছোট মেয়ে তার বড় বোনের উপর সদয় হইয়া আমার অনুপস্থিতিতে আমার বিষয়াদি, স্থাবর-অস্থাবর সম্পত্তি, কিংবা ব্যবসায়িক অংশ থেকে কোনো কিছু প্রদান করিতে চায়, সেটা আমার ছোট মেয়ে করতে পারবে না বলে আমি বিধান করিতেছি। এমনকি, আমার ছোট মেয়ে আমার কোনো সম্পত্তি কিংবা বাড়িঘর যে কোনো বিষয়াদি বিক্রি করিয়া সেই অর্থ তাহার (ছোট মেয়ের নামে) গচ্ছিত রাখিয়া উক্ত টাকা হইতে কোনো প্রকার অর্থ আমার ছোট মেয়ে আমার বড় মেয়েকে প্রদান করিতে পারিবে না। অর্থাৎ আমার যে কোনো সম্পত্তি হইতে পরোক্ষা বা প্রত্যক্ষভাবে আমার বড় মেয়ে কোনো কিছুই পাইবে না বলিয়া আমি বিধান করিতেছি। কোনো কারনে যদি আমার ছোট মেয়ে দয়া পরবশ হইয়া আমার সম্পত্তি, বাড়িঘর, জমি জমা, ব্যবসায়িক প্রতিষ্ঠান ইত্যাদি থেকে প্রত্যক্ষ বা পরোক্ষভাবে আমার বড় মেয়েকে হস্তান্তর, দান, কিংবা সাহাজ্য করতে চায়, তাহলে আইনগতভাবে আমার ছোট মেয়েকে দোষী সাব্যস্থ্য করিয়া আমার এই বিধানের মাধ্যমে আইনের আওতায় এনে তাকেও শাস্তি প্রদান করিতে আমি ফার্স্ট ক্লাস মেজিষ্ট্রেট, এবং প্রশাশনকে ক্ষমতা প্রদান করিলাম।

(ঙ)     এই দলিলে উল্লেখা করা আমার জমাজমি, বাড়িঘর এবং স্থাবর-অস্থাবর সমস্ত সম্পত্তি আমার ছোট মেয়ে, তার বংশধর, এবং পরবর্তী আওলাদেরা (উভয় ছেলে এবং মেয়ে) আজীবন ভোগ, বিক্রি কিংবা হেবা (আমার বড় মেয়েকে ব্যতিত), কট, মর্টগেজ করতে পারবে। তবে এখানে উল্লেখ থাকে যে, যে কোনো বিক্রি অবশ্যই ফার্স্ট ক্লাস মেজিষ্ট্রেটের অধীনে করতে হবে এবং কোন কারনে উক্ত জমিজমা, স্থাবর অস্থাবর বিক্রি কিংবা কট, মর্টগেজ করা হলো তার প্রকৃততথ্য এবং হিসাব দেয়ার পরেই শুধুমাত্র তা আমার ছোট মেয়ে, তার বংশধরেরা, আওলাদেরা তা করতে পারবে। কোনো অবস্থাতেই কোনো অংশ বা টাকা বা হেবা, দান কিংবা এই জাতীয় কোনো কর্ম আমার বড় মেয়ের জন্য বরাদ্ধ হইবে না এইমর্মে প্রশাসনকে হিসাব দিয়ে তারপর করতে পারবে বলে আমি বিধান করছি।

(চ)      এখানে উল্লেখ থাকে যে, আমি নিম্নবর্নীত স্থাবর-অস্থাবর সম্পত্তি আমার জীবদ্দশায় যতটুকু সম্ভব বিক্রি করে অর্জিত টাকা আমি ক্যাশ ওয়াকফ করে যাওয়ার নিয়ত করিয়াছি। কোনো কারনে যদি আমার এই সপ্ন সফল হইবার আগেই আমার মৃত্যু হয়, সে কারনে আমার এই উইল করা। এখানে আরো উল্লেখ থাকে যে, আমার জীবদ্দশায় যতটুকু আমি বিক্রি করে শেষ করতে পারি, সেই টুকু আমার উইল থেকে বাদ যাবে এবং বাকী সম্পত্তিতে আমার পূর্বের সব শর্তাবলী নিবন্ধিত থাকবে।

(ছ)      এখানে আরো উল্লেখ থাকে যে, আমার বড় মেয়ে যদি তার ভুল বুঝে তা সংশোধন করে তার এসব খারাপ রুচীসম্মত কর্ম কান্ড থেকে বিরত থাকিয়া পুনরায় আমাদের পরিবারের মান সম্মান বজায় থাকে এমন কাজের বহির্প্রকাশ এবং তার চর্চা আমাকে দেখাইতে পারে, তাহলে আমি আমার জিবদ্ধশায় হয়তো পুনরায় এই উইল পরিবর্তন করতে পারি। কিন্তু আমার বড় মেয়ের এসব চারিত্রিক বৈশিষ্টের কোনো কিছুই পরিবর্তন না হয় এবং আমি তার উপর সন্তুষ্ট না হইয়া মৃত্যু বরন করি, তাহলে আমার এই উইলে যা যা শর্ত আমার বড় মেয়ে, তার ঔরসজাত সন্তান সন্তানাদি, আওলাদ (ছেলে বা মেয়ে) এর উপরে বয়ান করা হয়েছে, তা বলবত থাকবে।

এমন একটা পরিস্থিতিতে উম্মিকা আর রাকিব নিজেরাই এগিয়ে যাচ্ছিলো নিজেরা নিজেরা বিয়ে করে সংসার করার জন্য।

একদিন রাতে উম্মিকার মা, আমাকে খুব শান্ত গলায় কিছু কথা বলার চেষ্টা করলো। তাঁর কথার সারমর্ম এরুপ যে,

উম্মিকা আর রাকিব ডেল্টা মেডিক্যালের পাশেই বাসা ভাড়া নেয়ার চেষ্টা করছে। কিছু ফার্নিচার কিনেছে, আরো কিছু কিনবে। ওরা এই বছরের শেষের দিকে সম্ভবত নিজেরা নিজেরাই বিয়ে করবে। তাই বলছিলাম কি যে, একটা কাজ করো না, মেয়ে তো আমাদেরই, শেষ অবধি যদি ওরা বিয়েই করে ফেলে, তাহলে তো আমাদের কিছু করার থাকবে না। রাগারাগি হবে, মেয়ে বাসায় আসবে না্‌ আমরাও ওদেরকে মিস করবো। কেমন হয়ে যাচ্ছে ব্যাপারটা। তুমি একটু ভেবে দেখো না, হতেও তো পারে যে, ওরা আসলেই খারাপ না, ছেলেটা আসলেই লোভী না, বা আমরা যেমন ভাবছি হয়তো ওরা তেমন না।

কিছু বললাম না। কিন্তু কয়েকদিন সময় নিয়ে নিজে নিজেই ভাবলাম। কি করা যায়। আসলেই তো, উম্মিকা আর রাকিব যদি শেষ পর্যন্ত একা একাই বিয়ে করে, তাহলে আমাদের কি করার আছে? মেয়ে বড় হয়েছে, সিদ্ধান্ত নেবার যোগ্যতা হয়েছে। ভালো হোক আর খারাপ, শেষ পর্যন্ত যদি ওরা একা একাই বিয়ে করে, তাহলে আমাদের তো আসলেই কিছু করা যাবে না।

অতঃপর আমি উম্মিকার মাকে বললাম, উম্মিকাকে বলো, আমি রাকিবের বাবা মায়ের সাথে আমার অফিসে কথা বল্বো। সাথে আরো একটা সিডিউল দিয়ে দিলাম যে, ২৭ সেপ্টেম্বর আমি রাকিবের বাবা মায়ের সাথে একা অফিসে কথা বল্বো, ২৮ সেপ্টেম্বর উম্মিকা আর রাকিবের সাথে আমার অফিসে আমি একা কথা বল্বো, আর ২৯ সেপ্টেম্বর আমি মিটুল, উম্মিকা, রাকিব আর রাকিবের বাবা মাকে নিয়ে অফিসে কথা বল্বো। আমি এটাও বললাম যে, আমি রাকিবের মেডিক্যাল কলেজে ওর প্রাক্তন বন্ধুদের সাথে, ইতির পরিবারের সাথে, রাকিবের বর্তমান কর্মস্থলের কিছু বন্ধুদের সাথে কথা বল্বো।

এটা অবশ্যই একটা ব্রেকিং নিউজ সবার জন্য যে, আমি কথা বলতে রাজী হয়েছি। রাকিবের বাবা মা কিছুটা খুশী হলেও তারা খুব টেনশনে পড়ে গেলেন একটা অজানা ভয়ে, আমারকে ফেস করার ভয়ে। রাকিবও। কিন্তু রাকিবের বাবা মা বা রাকিব এটা ধরে নিলো যে, অন্তত তাদের কথাগুলি তো আমাকে ফেস টু ফেস বলতে পারবে। আমি সে মোতাবেক একটা হোমওয়ার্ক করি। কিছু পয়েন্ট নোট করি কি নিয়ে কোন পক্ষের সাথে আমি আলাপ করবো। পয়েন্টগুলি ছিলো এমনঃ

রাকিবের বাবা মা এর সাথে মিটিং  (২৭/০৯/২০২৩)

(১)        রাকিবের আগের বিয়ের ইতিহাস শোনা। কিভাবে বিয়েটা হয়েছিলো?

(ক)       কার কার সাথে রাকিব আর ইতিকে নিয়ে দেন দরবার করা হয়েছিলো?

(খ)       ইতির সাথে বিয়েটা টিকিয়ে রাখা সম্ভব হতো কিনা?

(গ)       ইতির বাবার ঠিকানা কি? ইতি কোথায় কাজ করে বা করতো?

(২)       উম্মিকার বিয়ের ঘটনা বলা

(ক)       কমিটমেন্ট উম্মিকাই করেছিলো, আমাকে কমিটমেন্ট করাইতে বাধ্য করেছিলো। আমি সিদ্ধান্ত দিয়েছিলাম। সেখান থেকে ফিরে আসা আমার চরিত্র নয়।

(৩)       উম্মিকার আগের শশুড়বাড়ির চেহাড়া এবং বিয়ের পরের চেহাড়ার একটা তুলনামুলক চিত্র দেয়া

(ক)       উম্মিকাকে ছোটখাটো গিফট করা, খাবার পাঠিয়ে দেয়া, মাঝে মাঝে ফোন করে তাকে ওদের কাছে টেনে নেয়া। এ সবই ছিলো বড় লোভের একটা ছোট অংশ।

(খ)       বিয়ের পরে এগুলির কোনো কিছুই আমি দেখিনি। 

(গ)       আমাদের বাড়িতে একটা ফ্ল্যাট নিয়ে থাকা কিংবা ওদের বাসার সামনেই আমাদের কর্তৃক একটা ফ্ল্যাট ভাড়া করে ওদের রাখা। এটা আমি মানতে পারিনি।

(৪)       রানার চরিত্র নিয়ে কথা বলাঃ 

(ক)       ভয়ানক লোভী ছিলোঃ শেয়ার চাওয়া, একাউন্ট হ্যান্ডিলিং এ সুযোগ দেয়া, গাড়ী চাওয়া, তাঁর টিউশন ফি চাও, বিজ্ঞাপনে টাকা চাওয়া, এসি, ল্যাপটপ, মোবাইল, ড্রেস, জুতা কিংবা ঘড়ি, ওদের বাড়িঘর রিনোভেশনে আমার খরচ দেয়া।

(খ)       উম্মিকার প্রতি দায়িত্বহীনতা, উদাসীনতা, কখনোই বগুড়ার না যাওয়া, বা ঢাকায় এলেও উম্মিকার সাথে যোগাযোগ না করা।

(গ)       কনিকার প্রতি হিংসা করা

(ঘ)       ফ্যাক্টরিতে সময় মতো না আসা। আসতে বললেই তাঁর মেজাজ চড়ে যাওয়া কিন্তু বেতনের বেলায় শতভাগ চেয়ে নেয়া।

(চ)        ওর মার কথামতো চলা এবং মা সব সময় ছেলেকে কুবুদ্ধি দিতো।

(ছ)       আমের ঘটনা।

(জ)      ষ্টাফদের সাথেই এমনভাবে মেলামেশা করা যে, ষ্টাফরাই চুরি করে আর সে সেটা সায় দেয়।

(ঝ)       উম্মিকাকে আমি যে টাকা দিতাম, সেটা দিয়েও রানা অনেক সময় ওর দাবীগুলি মেটাতো।

(ট)        কংকাল বিক্রি এবং টিভি কেনা।

(ঠ)       রানার ব্যবহার ছিলো পাশবিক। মেজাজ, আচরন কিংবা ভদ্রতা অস্বাভাবিক ছিলো। একেবারেই ম্যাচিউরড ছিলো না।

(৫)       আমার নিজের ভূমিকাঃ

(ক)       আমি নিজে ওদের ব্যাপারে কোনো খোজ খবর নেইনি। আমি নিজেও বুঝতে পারিনি যে, তারা আমাকে এই খোজখবর নেয়া থেকে খুব টেকনিক্যালি বিরত রেখেছিলোঃ যেমন, তারা কাউকে জানাতেই দিতে ইচ্ছুক ছিলো না যে, রানা বিয়ে করেছে।

তারা আমাকে ওদের অন্যান্য আত্মীয়সজনের সাথে দেখা করার জন্য কোনো প্রকার সাহাজ্যই করেনি। এক তরফা আমাকে ব্রেইনওয়াস করেছিলো।         

(খ)       আমি চেয়েছিলাম, একটা পরিবার। সেটা গরীব হোক আর অসচ্ছল তাতে আমার কোনো সমস্যা ছিলো না। কিন্তু আমি লোভী পরিবার চাইনি। তারা লোভী ছিলো। তারা চেয়েছিলো শুধু আমাকে আর আমার স্ত্রীকে। আমার সম্পদ, আমার স্ট্যাটাস, আমার ক্ষমতা ইত্যাদির ব্যবহার। কিন্তু ওরা না চেয়েছিলো আমার মেয়েকে, না ছোট মেয়েকে, না দায়িত্ব নিতে।

(গ)       জাহিদের পোষ্টিং (করাপশনের কারনে, ট্রাষ্ট ব্যংকের ঘটনা, জেনারেল মতির সাহাজ্য)

(ঘ)       ওদের জমি জমা নিয়ে বিরোধ মিটানো, অন্যান্য সহযোগীতা করা ইত্যাদি করেছি।

(৫)      বিয়ের পরে আমার মেয়েকে নিয়ে তাদের পরিকল্পনা কি?

(ক)      কোথায় থাকবে, কিভাবে থাকবে?

(খ)       আমাকে কি করতে হবে? কি চাওয়া আমার কাছে?        

(৬)       আমার চাওয়াঃ

(ক)       নিরাপদ সংসার

(খ)       নিরাপদ প্রোফেশন।

(গ)       কাবিনের মাধ্যমে একটা বাইন্ডিংস।

(ঘ)       যদিও সঠিক না, তবুও একটা চুক্তি।

২৭ সেপ্টেম্বর আমি আমার গাড়ি (জীপ) ওর বাবা মার জন্য রেখে এলাম, আমি আমার নুয়া গাড়ি নিয়ে অফিসে এলাম। এর একটা প্রধান কারন হলো- ওরা আমার নিমন্ত্রনে আমার অফিসে আসতেছে। আমার উচিত তাদেরকে সর্বোচ্চ সম্মান প্রদর্শন করা।

২৭ সেপ্টেম্বর ২০২৩ তারিখে যেদিন রাকিবের বাবা মা আমার অফিসে আসলেন, সেদিন আমার পরিকল্পনা ছিলো যেনো আমি কোনো অবস্থাতেই তাদেরকে অসম্মান না করি, রাগারাগি না করি। তারা আমার গেষ্ট। আমি বিয়েতে রাজী কিনা বা অরাজী সেটা পরের ব্যাপার, কিন্তু কাউকে ডেকে এনে তাও আমার অফিসে, তাকে অসম্মান করার অভ্যাস আমার কখনো ছিলো না, এখনো নাই। কিন্তু যেদিন রাকিবের বাবা মা আমার অফিসে ঢোকেন, তারা এতোটাই ভয়ে জড়োসড়ো ছিলেন যে, এটা আমার জন্যই খারাপ লাগছিলো। আমি খুব হাসিমুখে তাদেরকে আমার অফিসে বসালাম। বারবার গ্রাম এবং রাকিবের কাছ থেকে ওর বাবার মোবাইলে ফোন আসতেছিলো। সবাই একটা আতংকের মধ্যেই ছিলো।  কিন্তু আমার অফিসে বসার ২ মিনিটের মধ্যে তারা এতোই শান্ত হয়ে গেলেন যে, যা ভেবেছেন আমাকে নিয়ে আমি সেটা না। রাকিবের মা ই প্রথম কথা বল্লো

ভাই, আমি গত চারদিন যাবত একেবারেই ঘুমাতে পারিনি কোনো একটা অজানা ভয়ে, চাপে। কখনো ঢাকায় আসিনি, গ্রামের মানুষ আমরা, আপনি ডেকেছেন, তাও আবার আপনার অফিসে, আমরা সবাই খুব ভয়ে ছিলাম। গ্রামে আর ফিরতে পারি কিনা সেটাও একটা ভয় ছিলো। কিন্তু এখন তো দেখছি- আপনি খারাপ মানুষ না। ভয়ংকর না। আমি তাদেরকে আরো সহজ করার জন্য খুব হাসি তামাশা করলাম। জুস খেলেন, চা খেলেন। ফলটল দেয়া ছিলো সবই খেলেন। অতঃপর আমি বলা শুরু করলাম আমার এজেন্ডা মোতাবেক আলোচনা।

আমি প্রথমে তাদের কথাগুলি শোনার চেষ্টা করলাম। তাদের ছেলের বউ এর সাথে কিভাবে বিয়ে হয়েছিলো, কেনো বিয়েটা ভেংগে গেলো, বিয়েটা রাখা যেত কিনা, সব। এখানে একটা নতুন বিষয় জানলাম যে, রাকিবের মা দুইজন। এটা নিয়েও কিছু হাসি তামাশা হলো। কিন্তু ব্যাপারটা আমি নেগেটিভলী নেই নাই। গ্রামে বড় ভাই বিয়ের অল্প সময়ের পর মারা গেলে অনেক সময় শশুড় বাড়ির লোকেরা মানবিক কারনেই তাঁর ছোট ছেলেকে দিয়ে বিধবা বড় ভাইয়ের বউকে আবার বিয়ে করিয়ে সেই বাড়িতেই রাখে। কিন্তু এখানে রাকিবের বাবার বউ থাকা সত্তেও রাকিবের দাদা রাকিবের বাবাকে তাঁর বড় ভাইয়ের বউকে বিয়ে করেছে। এটা হতেই পারে। রাকিবের মা নিতান্তই একজন সহজ সরল গ্রামের গৃহিণী, কোনো নালিশ নাই, কোনো অভিযোগ নাই। ভালোই আছে। শুধু মা হিসাবে ছেলের প্রতি সারাক্ষনই একটা টেনশন নিয়ে ঘুমায়। সব আলোচনা মিলে আমার কাছে ওদের খারাপ লাগেনি। আর খারাপ লাগলেও যেহেতু উম্মিকা রাকিবের সাথে ঘর সংসার করবেই, ফলে আমি এক প্রকার মেনেই নিয়েছিলাম ব্যাপারটা।

পরেরদিন আমি রাকিব আর উম্মিকাকে আমার অফিসে ডাকলাম। বাবার সামনে মেয়ের ইন্টারভিউ অনেক কঠিন। উম্মিকা নিজেও জানে তাঁর বাবা কতটা স্ট্রিট ফরোয়ার্ড এবং কঠিন। উম্মিকার সাথে রাকিব ও জানে এর মধ্যে যে, আমি একটু কঠিন মানুষ। দুজনেই ভয়ে ছিলো।

রাকিব এবং উম্মিকা সাথে আলোচনা করার আগে, আমি সেই একই টেকনিক রাকিবের বেলায় ব্যবহার করেছিলাম। যতোই হোক, কম বয়সী ছেলে। অন্তত আমাদের মতো মানুষদেরকে ফেস করা সহজ না। কিন্তু আমি রাকিবকে সহজ করে নিলাম। ওর ভয় বা টেনশন ভাংগার জন্য জা করতে হয় করলাম। রাকিব প্রায় আধা ঘন্টার পরে অনেকটা স্বাভাবিক হলো বলে মনে হলো।

এবার আমি ওদের সাথে প্রোফেশনাল ভাবে আলাপ করা শুরু করলাম। রাকিবকেই কথা বলতে দিলাম। আমি জানতে চেয়েছিলাম কিভাবে রাকিবের সাথে ইতির পরিচয়, প্রেম, বিয়ে এবং বিয়ে পরবর্তী সমস্যা। প্রায় একই রকমের তথ্য পেলাম জা গতকাল রাকিবের বাবা মা আমাকে বলেছিলো। খুব একটা হেরফের হয়নি।

অতঃপর আমি রাকিবকে বললাম, কখনো যদি কারো গায়ে দাগ লাগে সেটা যেমন কোনো মেডিক্যাল সার্জারী দিয়ে মুছা যায় না, তেমনি যখন কেউ সামাজিকভাবে অসম্মানীত হয়, এই লজ্জাও কোনো কাপড় দিয়ে ঢাকা যায় না। আমাদের দুই পরিবারেই এই দাগ এবং লজ্জার ঘটনা ঘটেছে। তাহলে আমি কি গ্যারান্টি পাবো যে, এই একই দাগ এবং লজ্জা আবারো দ্বিতীয়বার ঘটবে না? আমি শুধু সেই গ্যারান্টি চাই। আর এই গ্যারান্টি দিতে পারবা শুধু তোমরা দুইজন। দুইজনেই জানালো যে, তারা তো এই মুহুর্তে সে রকম গ্যারান্টি দেয়ার স্কোপ নাই কিন্তু আগামীতে তারা এটা প্রমান করবে যে, ওরা আমাদেরকে আর দাগ এবং লজ্জায় ফেলবে না।

আমি বললাম, আমি ওদের এই কথা আপাতত বিশ্বাস করলেও আগামী পাঁচ বছর অব্জার্ভ করবো। যদি আগামী ৫ বছরে কোনো সমস্যা না পাই, ধরে নেবো, ওরা ওদের কথা রেখেছে। আর এর জন্য যদি আমার কোনো সাহাজ্য লাগে, আমি দিতে তৈরী। কিন্তু লোভী মানুষদেরকে আমি ঘেন্না করি।

আমি রানার ব্যাপারে সব কিছু খোলা মেলা আলাপ করলাম, রাকিবকে উম্মিকা শুধু ওর সাথে ঘটা ঘটনার কিছু অংশ হয়তো বলেছে কিন্তু আমি রাকিবকে আদোপান্ত বলার পর রাকিব নিজেও বুঝেছে, আমাদের কি ভূমিকা ছিলো আর রানাদের কি অপরাধ ছিলো।

রাকিব তাঁর ১ম ম্যাসেজ নিয়ে অনেকবার দুঃখ এবং ক্ষমা প্রার্থনা করেছে। আমি আসলে ওগুলি আর মনে রাখিনি।

পরবর্তী ২৯ সেপ্টেম্বরে আমরা আবার ৬ জন একত্রে বসেছিলাম। এখানে আমরা ৪ জন ছিলাম যেনো একটা গ্রুপ আর রাকিব উম্মিকা ছিলো আরেকটা গ্রুপ। অনেক বাধ্য বাদকতা ছিলো আমাদের কিছু শর্তের মধ্যে। যেমনঃ

আমি রাকিবকে এবং উম্মিকাকে বললাম, যেহেতু দুজনেই ক্লিনিক্যাল সাইডে উন্নতি করতে চায় এবং ধরে রাখতে চায়, তাতে উম্মিকার সাথে রাকিবের একটা দন্ধ তৈরী হবে। একটা মেয়েকে প্রোফেশনের বাইরে তাঁর সংসার, বাচ্চা কাচ্চা, স্বামী সব কিছু মেইন্টেইন করতে হয়। সেক্ষেত্রে উম্মিকার জন্য ক্লিনিক্যাল সাইডে থাকা বোকামী। অন্যদিকে রাকিব যদি ক্লিনিক্যাল সাইডেই থাকতে চায়, তাহলে উম্মিকাই বলবে, উম্মিকা দোষ করলো কি? এমন এক পরিস্থিতিতে প্রোফেশনাল ক্লেশ হওয়া কোনো ব্যাপার না। আবারো অশান্তি।

রাকিবই এর সমাধান দিলো যে, ক্লিনিক্যাল সাইডে থাকলে ভালো কিন্তু নাম করতে অনেক কাঠ খড় পোহাতে হয়। সময় অনেক বেশী লাগে। তাঁর থেকে যদি টাকা পয়সা কামাই আর পরিশ্রমের অনুপাত ধরা যায় দেখা যাবে ক্লিনিক্যালের থেকে অন্যান্য মেডিক্যালের সাইডে যাওয়া খারাপ না। ফলে, রাকিব এবং উম্মিকা দুজনেই নীতিগতভাবে আমাদেরকে জানালো, তারা ক্লিনিক্যাল সাইডে থাকবে না। তারা মেডিক্যালেরই অন্যান্য সেক্টরে তাদের ক্যারিয়ার পার্সু করবে। প্রয়োজনে তারা কানাডায় মাইগ্রেট করতেও অসুবিধা নাই।

বিস্তারীত আলাপ আলোচনায় সব পক্ষই এই বিয়েতে আমরা রাজী এটাই বেরিয়ে এলো। সন্ধ্যায় সবাই আমরা হাসিমুখে একসাথে ফ্যাক্টরী থেকে বেরিয়ে গেলাম।

এবার আসি, আমার কিছু ব্যক্তিগত মন্তব্যেঃ

(১)      আমার এজেন্ডায় আরো যেখানে যেখানে গিয়ে রাকিবদের পরিবার সম্পর্কে খোজ খবর নেয়ার কথা ছিলো, সেই সিডিউল বাদ দিলাম। কারন, আমি যদি খোজ খবর নিতে গিয়ে ওদের পরিবার সম্পর্কে ৯৯% নেগেটিভ কথাবার্তাও শুনি, তাতেও আমি রাকিব আর উম্মিকাকে এই বিয়ে থেকে বিরত রাখতে পারবো না। তাই, খোজ নেয়া আর না নেয়ার মধ্যে আমি কোনো তফাত দেখতে পেলাম না।

(২)     উম্মিকার ১ম বিয়েটা আমরা অনেকটা জোর করেই উম্মিকাকে রাজী করিয়েছিলাম রানার সাথে। উম্মিকা সে কারনে মাঝে মাঝেই আমাদের দোষারুপ করে। কিন্তু এইবার উম্মিকার নিজের চয়েজে রাকিবকে বিয়ের সিধান্ত নিয়েছে। ভালো মন্দ, সব উম্মিকার দায় দায়িত্তো। লাইফ উম্মিকার, ভালো থাকার ব্যাপারটা উম্মিকার। তাই, আমি উম্মিকাকে এবার জোর করে বিয়েতে না রাজী করার কোনো কারন দেখি না।

(৩)     আমরা প্রথম থেকে রাকিবদের উপরে জে মানসিক চাপের সৃষ্টি করেছি, বা যেভাবে জে কথাগুলি ওপেনলী বলেছি, তাতে অন্তত রাকিব এবং তাঁর পরিবার একটা জিনিষ খুব ভালো করে উপলব্ধি করেছে যে, আমাদের দ্বারা ওদের উপকার হবে যদি লোভ না করে, কিন্তু যদি লোভী হয়ে উলটা পালটা কিছু আশা করে সেটা আমি বা আমরা কিছুতেই পছন্দ করবো না। তাছাড়া, আমাদের এমন টাইট ব্যবহারে ওরাও অনেকটা সোজা হয়ে চলার কথা। রানার মায়ের মতো বা রানার বোনের বা ভাইয়ের মতো সার্থপরতার কোনো কাজ না করার কথা।

(৪)     উম্মিকার আগের স্বামী রানা ছিলো একটা স্টুডেন্ট বা বেকার। তাছাড়া ম্যাচিউরিটি ছিলো না। কিন্তু রাকিবের বেলায় তাঁর একটা আইডেন্টিটি আছে, ডাক্তার। যা বুঝেছি, দায়িত্তের সাথে কাজ করে এবং পরিবারকে সাপোর্ট করার জন্য আরো বেশী পরিশ্রম করে। রানাকে কোথাও পরিচয় করিয়ে দেবার মতো রানা কোনো যোগ্যতা অর্জনেও সক্ষম হয়নি।

(৫)     রাকিবের দুটূ বোন, যাদের বিয়ে হয়ে গিয়েছে। রাকিবের আর কোনো ভাইও নাই। ফলে পরিবারটাকে আমার জটিল মনে হয় নাই। এ ছাড়া রাকিবের বাবার একটা ব্যবসা আছে যেটা রানার বাবার ছিলো না।

(৬)     রাকিবঅদের ঢাকায় কোনো থাকার জায়গা নাই, ফলে রাকিবের বাবা মা অনেকটাই আমাদের উপর নির্ভর করছে রাকিবের নিরাপত্তা, রাকিবের গার্জিয়ানশীপ ইত্যাদি। কিন্তু রানার ব্যাপারে রানার মা চেয়েছিলো ওরা আমাদেরকে কন্ট্রোল করুক। আর সেইটার টুলস হলো উম্মিকা। এখানে এই ব্যাপারটা আমি দেখি নাই।

(৭)     সবচেয়ে বড় পয়েন্ট হচ্ছে- যদি উম্মিকা আর রাকিব শেষ পর্যন্ত তারা একা একাই বিয়ে করে ফেলে, তাহলে আমি তো আমার মেয়েকেই হারিয়ে ফেলছি। হতে পারে ইনশাল্লাহ ওরা ভালই থাকবে বা থাকছে, তখন কিন্তু আমিই আবার ওদেরকে কাছে টেনে নিতে বাধ্য হবো। কারন আমি ওটাই চেয়েছিলাম যে, উম্মিকারা ভালো থাকুক। যদি পরে গিয়ে ওদের সুখী দাম্পত্যর ফলাফলে আমি কাছেই টেনে নেই, সেটা বিয়ের আগে নয় কেনো? তাতে লাভ অনেক গুলিঃ

(ক)    আমার সিদ্ধান্তেই বিয়েটা হলো।

(খ)     উম্মিকার আম্মুর খুব শখ ছিলো উম্মিকার বিয়েতে সে অনেক ধুমধাম করবে, সেটাও হলো।

(গ)     আমার একটু সাহাজ্যে যদি রাকিবদের পরিবারেও একটু উপকার হয়, তাতে আমিও খুশী রইলাম।

(ঘ)     যদি দেখি, রাকিবের বাবার ব্যবসাটা একটা লাভ জনক ব্যবসা, আর আমার সাহাজ্যে যদি তাঁর ব্যবসাটা আরো ভালো করে, প্রয়োজনে আমিও তাঁর সাথে ব্যবসায় শরীক হতে পারবো। রাকিবের বাবাই চালাবে কিন্তু আমার কিছু ফাইন্যান্সের কারনে আমারো একটা নতুন সেক্টর ওপেন হলো।

তাই, আগামী ৩ জানুয়ারী ২০২৩ তারিখে সেনাকুঞ্জে উম্মিকার অনুষ্ঠানের দিন ধার্য করা হয়েছে। ৩০ ডিসেম্বর ২০২৩ এ ওর গায়ে হলুদ। এর মাঝে আমার ছোট মেয়ে কনিকা ২৫ ডিসেম্বর ২০২৩ তারিখে ইনশাল্লাহ ঢাকায় ল্যান্ডিং।

৩০/০৯/২০২৩-বন্ধুর বাহুবলে শত্রুকে আক্রমণ

ইউক্রেন-রাশিয়া যুদ্ধ কিভাবে কোথায় শেষ হবে এর আসলে কোনো দিক নির্দেশনা দেয়া বা বুঝা কঠিন। কারন যুদ্ধটা একপক্ষ (রাশিয়া) করছে তাঁর নিজ শক্তিতে আর অন্যপক্ষ (ইউক্রেন) করছে অন্যের বাহুবলে। ফলে খুব ধীরে ধীরে এর অন্তর্নীহিত একটা মুখোশ বেরিয়ে আসছে কথায় এবং কাজে। এরই ধারাবাহিকতায় ইউক্রেনের ন্যাশনাল সিকিউরিটি এন্ড ডিফেন্স কাউন্সিলর আলেক্সি ডেনিলভ প্রকাশ্যে কিছু মন্তব্য করেছেন, আমি তাঁর কথাগুলি হুবহু তুলে ধরিঃ  

তিনি বলেছেন, “কালেক্টিভ ওয়েষ্ট এবং ইউরোপিয়ান প্রতিনিধিগন বারবার একটা প্রতিশ্রুতি দিয়ে যাচ্ছেন যে, যতোদিন ইউক্রেনের সাহাজ্যের প্রয়োজন, ততোদিনই তারা সেটা দিয়ে যাবেন কিন্তু কেউ এটা বলছে না যে, ইউক্রেন রাশিয়ার বিরুদ্ধে জয়ী না হওয়া অবধি আমরা সাহাজ্য দিয়ে যাবো। তারা বলছেন, আমরা ইউক্রেনবাসীরা জয়-পরাজয়ের কিংবা যে কোনো সিদ্ধান্ত নেবো। তাই আমি জানতে চাচ্ছি আমাদের ওয়েষ্টার্ন সাপোর্টারদের কাছ থেকে যে, আপ্নারা কি আমরা বিজয়ী হওয়া অবধি সাপোর্ট দিয়ে যাবেন নাকি এটা কিছুদিন পর নিঃশেষ হয়ে যাবে? আমার এই কথা বলার পিছনে যুক্তি হচ্ছে যে, আমাদের অর্থমন্ত্রী ইতিমধ্যে জানিয়েছেন কালেক্টিভ ওয়েষ্ট এবং ইউরোপিয়ান দেশসমুহ ইতিমধ্যে তাদের ট্যাক্স-পেয়ারের টাকা আমাদের আর দিতে চান না। শুধু তাইই নয়, যেখানে প্রতিমাসে আমাদের প্রয়োজন ৫ বিলিয়ন ডলার সেখানে প্রবাহ হচ্ছে মাত্র ৩০০ মিলিয়ন ডলার। জেলেনেস্কীও মনে করছেন যে, প্রতিদিন তাদের এই সাহাজ্য কমছে এবং দেশে দেশে ইউক্রেনকে সাপোর্ট করার ব্যাপারটা নেতিয়ে পড়ছে বড় একটা জনগনের মধ্যে। শুধু তাইই নয়, আমেরিকার নির্বাচনে যদি বর্তমান সরকার না আসে, সেক্ষেত্রে ইউক্রেনের জন্য আর কোনো সাপোর্ট অবশিষ্ট থাকবে বলে মনে হয় না। যদি সেটাই হয়, তাহলে মনে রাখবেন, আমাদের যেসব রিফুজি আপনাদের দেশে দেশে অবস্থান করছে, তারা অবশ্যই আপনাদের উপর অখুশী হবে এবং এই অখুশীর একটা প্রভাব তো আছেই”।

মোরালঃ

নিজের শক্তির উপর ভিত্তি করে শত্রুকে আক্রমন করবেন। পাশে থাকা বন্ধুর বাহুবলকে পুজি করে যদি আপনি আপনার শত্রুকে আঘাত করেন তাহলে সময়মতো পাশে থাকা বন্ধুর বাহুবলকে আপনি নাও পেতে পারেন। ফলে আপনি অসুবিধায় পড়বেন।

২৬/০৯/২০২৩-দলকানা আর দেশপ্রেম 

হলুদ আরো আরো আরো বেশি হলুদ হইলে যেই রকম কঠিন হলুদ হয়, ফেসবুককে মাঝে মাঝে আমার সেইরাম হলুদিয়া মিডিয়া মনে হয়। বিভিন্ন ইস্যুতে কারো কারো পোষ্টে এমন ধারনা হয় যে, এই বুঝি সেইটা যেইটা আমি চাইতাছি। ২য় আলো ৩য় আলোর সংবাদের মত। দেখবেন এই ২য় বা ৩য় আলোর খবর পড়লে মনে হবে ইউক্রেন রাশিয়ারে এমন নাচন নাচাইতাছে যে, পুতিন জেলেনেস্কির কাছে খালি করজোরে মাফ চাওয়া বাকি।

অথবা

ফেসবুকের কিছু কিছু লোকের পোষ্ট পড়লে মনে হবে দেশের ভিতরের সব খবর তাদের পেটে। যেমন, হেলিকপ্টার রেডি, উড়াল দিচ্ছে উগান্ডার শাশক, কিংবা অমুক তারিখ থেকে উগান্ডা চলবে বুগান্ডার আদেশে, কিংবা নিষেধাজ্ঞা এমন জায়গায় ভিড়ছে যে, ঘরে ঘরে “হায় হোসেন হায় হোসেন” এর মত মাতম। অথবা উগান্ডা এমন অর্থনীতির গ্যারাকলে পড়ছে যে, পাবলিক না খাইয়া না খাইয়া সব কংকাল হইয়া যাইতেছে। কিন্তু বাস্তবে কোনোটাই ঠিক তাদের প্রচারের মত না যতটা লিখেন। হেলিকপ্টার উড়েনা,বুগান্ডার আদেশ কার্যকরী হয় না, বাজারে ভীর কমে না, রাস্তায় গাড়ির জন্য জ্যাম কমে না, মলের ফুডকোর্ট গুলিতে বসার জায়গা মেলে না।

আবার কিছু লোক আছে,উগান্ডারে এমুন ভালোবাসে যা বলার না কিন্তু খায় দায় হাগে মুতে আরেমিকা বা কাডানায় বা ইলাতি অথবা ইউপোর। তারা আসলে লাইম লাইটে আসতে চায়। যোগ্যতার প্রশ্ন না, এটা একটু ভাইরাল হবার চেষ্টা।

আরে ভাইজানেরা, দেশপ্রেম আর দলকানা এক জিনিষ না। দেশপ্রেম দেখতে চান? নীরবে চলে যান সেইসব মানুষদের কবরে যেখানে শুয়ে আছে দেশের জন্য যুদ্ধ করা আপনার থেকেও কম বয়িসি যুবক যাদের বাবা মা ভাই বোন স্ত্রী পরিজন থাকা সত্তেও শুধু দেশকে ভালবেসে শহীদ হয়েছেন। বুকে হাত দিয়ে বলুন- আপনার পরিবারের কয়জন সেই শহিদদের মধ্যে আছে? আবার এইটা কইয়েন না যে, আপনার চাচার শালার বউয়ের বান্ধবীর খালাতো ভাই শহীদ, তাই সেও আপনার পরিবারের অংশ।

আর দলকানা দেখতে চান? তাহলে একটা আয়না নিন, ভিতরে যাকে দেখতে পাবেন, তারা।

২১/০৯/২০২৩-আমেরিকার ন্যাশনাল ডেট বা ঋণ

ইদানিং আন্তর্জাতিক খবরগুলির মধ্যে প্রায়ই একটা খবর চাউর হচ্ছে যে, আমেরিকার জাতীয় লোন প্রায় ৩৩ ট্রিলিয়ন ডলার এবং এর অর্থনীতিতে এটা একটা আশনী সংকেত। এর মানে কি? কার কাছে কিংবা কিভাবে এই লোন করলো আমেরিকা এবং এর প্রভাব কি?যে কোনো জাতীয় লোন বলতে বুঝায় যে, কেন্দ্রীয় বা ফেডারেল সরকার যখন তাঁর খরচ পোষানোর জন্য আহরীত রেভিনিউর পর ঘাটতি অর্থ অন্য কারো কাছ থেকে লোন নেয় সেটা। অর্থাৎ খরচের বাজেট যখন আহরীত রেভিনিউয়ের থেকে বেশী হয়, তখন উক্ত ঘাটতি মেটাতে সরকারকে কোথাও না কোথাও থেকে লোন নিতে হয়। সেটাই আসলে জাতীয় ঋণ নামে অভিহিত হয়।

সরকার তাহলে কার কাছ থেকে এই লোনগুলি নেয়? ব্যাপারটা খুব জটিল নয়।

একটা দেশে কি পরিমান মুদ্রা বা কারেন্সী ছাপানো হবে সেটা নির্ভর করে তাঁর গোল্ড রিজার্ভের উপর। গোল্ডের বিপরীতে আসল কারেন্সী ছাপিয়েও সরকার অতিরিক্ত কিছু কাগজী নোট যেমন প্রাইজবন্ড, কিংবা মার্কেটেবল সিকিউরিটিজ বন্ড, ট্রেজারীবন্ড, বিলস, ফ্লোটিং রেট নোট, ট্রেজারী ইনফ্লেশন প্রোটেক্টেড সিকিউরিটিজ ইত্যাদি ছাপায়। আর এগুলির একটা ভ্যালু নির্ধারন করে দিয়ে তা জনগনের কাছে ছেড়ে দেয়। এটা টাকা না, কিন্তু আবার টাকাও। প্রাইজবন্ড দিয়ে বাজারে গিয়ে আমি আপনি চাল ডাল কিনতে পারবো না যদিও সেটার একটা কারেন্সী ভ্যালু আছে। এই প্রাইজবন্ড, ট্রেজারী বন্ড কিংবা সিকিউরিটিজ বন্ড ইত্যাদি গোল্ডের বিপরীতে ছাপাতে হয়না। তাই এটা কারেন্সী হিসাবে কাজ করেনা। এটা দিয়ে সরকার গোল্ডবিহীন জামানত ছাড়া একটা আলাদা পরিমান মুদ্রা সরবরাহ করে মাত্র যাতে জনগন কিনে জাতীয় আসল কারেন্সী সরকারকে দিয়ে দেয়। সরকার আসলে বুদ্ধি করে এর মাধ্যমে আসল কারেন্সী বাজার থেকে তুলে নেয়, নিজে বিভিন্ন কাজে লাগায়। জনগন লাভ পায় এর উপরে। এই কাগুজী নোটগুলি সরকার কর্তৃক গ্যারান্টেড। যেহেতু আসল কারেন্সী না কিন্তু গ্যারান্টেড, ফলে জানগনের কাছে সরকার এই সমপরিমান কাগুজী নোটের পরিমানে ঋণী হয়। এই ঋণ জনগনকে আসল কারেন্সী দিয়েই পেমেন্ট করতে হয় পরবর্তীতেআরেকটু সহজ করে বলি। এটা অনেকটা ব্যাংক থেকে ক্রেডিটকার্ড, মর্টগেজ কিংবা গাড়ীবাড়ি লোনের মতো। একটি পন্য আপনি কিনলেন, সেটার মুল্য আপনি শোধ করলেন ক্রেডিট কার্ড দিয়ে কিংবা আপনি একটি কিছু মর্টগেজ রাখলেন, টাকা নিলেন কিন্তু পুরু টাকাটা আপনি পেমেন্ট করলেন না ব্যাংকে, মাস শেষে বা বছর শেষে আপনার নামে সুদসহ ঋণ হবে।

এটা গেলো একটা পদ্ধতি লোন নেবার। আরেকটা হলো সরকার অন্য দেশ থেকেও লং টার্ম সুদে লোন নেয়। সবই সরকারকে একটা মেয়াদে এসে লোন ব্যাক করার কথা।

যাই হোক যেটা বলছিলাম, রেভিনিউ যতো কম আসবে, সরকারকে তাঁর বিভিন্ন খরচ, যেমন আমদানী, ডেভেলপমেন্ট খরচ, মেডিক্যাল, ডিফেন্স, পাবলিক সার্ভিস, ভর্তুকী ইত্যাদি মেটাতে ঋণ নিতে হয়। আর এই ঋণ দিনে দিনে বাড়তেই থাকে যদি প্রত্যাশিত রেভিনিউ সংগ্রহ না হয়।

এবার আসি আমেরিকার বেলায়। আমেরিকা সেই ১৭৯১ সাল থেকেই ঋণের বোঝা টেনে চলছে। প্রথমে ছিলো এর পরিমান ৭৫ মিলিয়ন ডলার। এরপর থেকে প্রায় আজ অবধি ৪০০০% বৃদ্ধি পেয়ে বর্তমানে এর পরিমান দাড়িয়েছে ৩৩ ট্রিলিয়ন ডলার।

একটি সরকার কত পরিমান লোন নিতে পারবে এটার একটা লিমিট করে দেয়া থাকে পার্লামেন্ট থেকে। একটা উদাহরন দেই, আবার সেই ক্রেডিট কার্ড। ধরুন আপনি একটা ক্রেডিট কার্ড নিলেন, আপনার লিমিট ৫ লাখ টাকা। অর্থাৎ আপনি সর্বোচ্চ ৫ লাখ টাকার বাইরে খরচ করতে পারবেন না। এই লিমিটটা ব্যাংক করে দেয়। যতোক্ষন আপনি এই লিমিট থেকে কোনো খরচ করবেন না, ততোক্ষন আপনি ঋণীও নন। কিন্তু ধরুন আপনি যদি ২ লাখ টাকা খরচ করেন আর ন্যনতম বিল হিসাবে ১ লাখ টাকা শোধ করেন, তাহলে আপনার লিমিট থাকবে আর মাত্র ৪ লাখ টাকা। কারন ইতিমধ্যে আপনি ১ লাখ টাকা ঋণে আছেন আর ভবিষ্যতে আরো ৪ লাখ টাকা খরচ করতে পারবেন। মোট ৫ লাখ। এভাবে যদি আপনি খরচ বাড়াতে থাকেন আর পুরু বিল শোধ না করেন, একসময় এসে আপনার ৫ লাখ টাকার লিমিট প্রায় শেষ হয়ে যাবে। আমি আপনি ইচ্ছে করলেই সেই লিমিটের বাইরে আর খরচ করতে পারবন না। যদি আবার পুরু টাকাটা আবার সুদসমেত দিয়ে দেন, আবারো আপনার লিমিট ৫ লাখই হয়ে যাবে। আপনি আপনার অব্যবহৃত লিমিট আবার ব্যবহার করতে পারবেন। যদি শোধ না করেন, একসময় এসে আপনি ঋণ খেলাপি হয়ে যাবেন।

আবার ঋণ খেলাপি হবেন না বা আপনি এই ৫ লাখ টাকার বেশিও খরচ করতে পারবেন যদি ব্যাংক আপনার এই ৫ লাখ টাকার লিমিট বাড়িয়ে ১০ লাখ করে দেয়। তখন হয়তো দেখা যাবে যে, আপনার লোন আছে ৫ লাখ আর অব্যবহৃত লিমিট আছে আরো ৫ লাখ। এভাবে যদি আবারো আপনি শুধু খরচ করতেই থাকেন, আবারো আপনার এই নতুন লিমিট ১০ লাখ শেষ হয়ে যাবে। আপনি ইচ্ছে করলেও আর কার্ড ব্যবহার করতে পারবেন না এবং আপনাকে সুদসহ ১০ লাখ ফেরত দিতেই হবে ব্যাংককে।

এখানে পার্লামেন্ট হচ্ছে ব্যাংক, ট্রেজারী ডিভিশন (যিনি খরচ করেন) হচ্ছে আমি, কার্ড হচ্ছে লোনের পরিমান। আমেরিকার এই লিমিট ছিলো ৩১ ট্রিলিয়ন ডলার যা গত কয়েক মাস আগে তাদের পার্লামেন্ট সেটা বাড়িয়ে ৩৩ ট্রিলিয়নে উত্তীর্ন করেছিলো। এটাও এখন শেষ। এখন আবার পার্লামেন্ট এই লিমিট যদি বাড়িয়ে দেয়, তাহলে ট্রেজারী ডিভিশন আবারো তাঁর পলিসি মোতাবেক বিভিন্ন নোটস, বন্ডের মাধ্যমে জনগন তথা বিদেশীদের কাছে ছেড়ে দিয়ে আবারো টাকা /ডলার সরবরাহ বাড়াতে পারবে। কিন্তু আবারো ঋণ আরো বেড়ে যাবে।

আমেরিকা এসব ট্রেজারী নোটস, মার্কেটেবল সিকিউরিটিজ বন্ড, ট্রেজারীবন্ড, বিলস, ফ্লোটিং রেট নোট, ট্রেজারী ইনফ্লেশন প্রোটেক্টেড সিকিউরিটিজ ইত্যাদি বিক্রি করে জাপান, চীন, ইউকে, বেলজিয়াম এবং লুক্সেম্বার্গ থেকে তহবিল সংগ্রহ করেছে। জাপানের কাছে ১.১ ট্রিলিয়ন ট্রেজারীবন্ড আছে, চীনের কাছে আছে ৯০০ বিলিয়ন সমপরিমান ডলারের, ইউকের কাছে ৭০০ বিলিয়ন, লুক্সেম্বার্গে ৪০০ বিলিয়ন ডলারের সমপরিমান ট্রেজারী নোট রয়েছে। এসব এক সময় না এক সময় ডলারেই পে করতে হবে সুদসমেত। আর এগুলি গ্যারান্টেড। বাকী লোনগুলি হচ্ছে ইন্ট্রা-গভর্মেন্টাল সংস্থা যেমন ব্যাংক, ইনভেষ্টরস, লোকাল সরকার, মিউচুয়াল ফান্ড, পেনশন ফান্ডস, ইন্সুরেন্স কোম্পানি ইত্যাদি থেকে।

আজকে এই মুহুর্তে যদি চীন, ইউকে, জাপান, লুক্সেম্বার্গ, বেলজিয়াম, ইন্ট্রা-গভর্মেন্টাল সংস্থা তাদের বন্ডসমুহ ছেড়ে দিয়ে ক্যাশ ডলার নিয়ে নিতে চায়, তাহলে আমেরিকাকে অবশ্যই তা ক্যাশ ডলারে লাভসহ পেমেন্ট করতে হবে। আর যদি সেটা ঘটে তাহলে আমেরিকার অর্থনীতি খাড়া নীচের দিকে ধাবিত হবে।

এখন এখানে একটা বড় ধরনের প্রশ্ন জাগে, চীন, জাপান কিংবা অন্য দেশগুলি কেনো আমেরিকান সিকিউরিটিজ কিনে? এর কারন হলো, ডলার ডমিনেটেড সিউকিউরিটিজ কিনলে চীনের বা যারা কিনে তাদের দেশী মুদ্রার মানের চেয়ে ডলারের দাম বেড়ে যায়। তাতে চায়নীজ কিংবা যারা কিনে তাদের প্রোডাক্টের দাম কমে আসে এবং আমেরিকায় তাদের প্রোডাক্ট আকর্ষনীয় হয়। বিক্রি বাড়ে এবং চায়নার বা যারা কিনেছে তাদের অর্থনীতি আরো চাংগা হয়।

১১/০৯/২০২৩-২৫ জন সামরীক কর্মকর্তা বিএনপি তে যোগ দানের নিমিত্তে লেখা

রাজনীতি আগের মতো আর কেউ আদর্শের কারনে করে না। দেশপ্রেম, জনগনের দুঃখলাঘব, বৈদেশিক সম্পর্ক আরো দৃঢ়করনে দেশকে উচ্চতর আসিনে বসানো ইত্যাদি এখন আর রাজনীতিবিদদের স্লোগান নয়। প্রতিটা দেশেই এই চিত্র। হোক সেটা আমেরিকা, ইউরোপ, আফ্রিকা বা এশিয়া অঞ্চল। এটা হয়ে গেছে এখন মুলত ব্যবসায়ীক প্লাটফর্ম, কারো কারো জন্য ঝড়ের রাতে একপ্রকার একটা ঘাটের আশ্রয়ের মতো, আবার কারো কারোর জন্য এটা নিছক একটা আইডেন্টি থাকা দরকার তারজন্য। যারা ব্যবসায়ীক মুটিভেশন নিয়ে রাজনীতি করেন, তাদের অর্থবৈভব থাকায় তাদের অবস্থান এক, যারা ঝড়ের মধ্যে হাবুডুবু খেয়ে শুধুমাত্র বেচে থাকার তাগিদে একটা ঘাট হইলেই হয় ভেবে ঢোকেন, তাদের অবস্থা অন্য। আর যারা শুধুমাত্র একটা আইডেন্টি থাকার জন্য রাজনীতিতে আসেন তাদের অবস্থান তো আরো ব্যতিক্রম। তবে যেভাবেই বলি না কেনো, এটা অনেকটা দাবা খেলার গুটির মতো। যার অর্থ আছে, সে বসে রানীর পাশে, রাজার পাশে, মন্ত্রীর পাশে, অথবা থাকে মন্ত্রীর পাশে ঘোড়া, কিংবা হাতী ইত্যাদি হয়ে। তারা অনেক দূরের কোনো গুটিকে আক্রমন যেমন করতে পারে তেমনি তাদের সুরক্ষার জন্যেও ঢাল তলোয়ার থাকে। কারন তাদের ভ্যালু আলাদা।

আর যারা ঝড়ের মধ্যে হাবুডুবু খেয়ে শুধুমাত্র বেচে থাকার তাগিদে একটা ঘাট হইলেই হয় ভেবে ঢোকেন, এদের অবস্থাটা এ রকম যে, গরম কড়াই থেকে উনুনে পড়ার মতো। রাজনীতিতে ঢোকলেও অরক্ষিত আবার না ঢোকলেও অরক্ষিত। ফলে দলে তাদের অবস্থানটা সেই রানী, রাজা মহারাজারা কিংবা মন্ত্রী, হাতীরা সেভাবেই দেখেন যেভাবে তারা দেখেন একটা এতিমকে। কখনো তারা তাদের মাথায় হাত বুলান, আবার কখনো তারা তাকে সামনের সুনামীতে পাহাড়াদার করেন, আবার এমনো হয় তারা কখনো কখনো তাদের পরিচয়টাও ভুলে যান।

আর তৃতীয় সম্ভাব্য স্তরের কথা তো আরো ভয়াবহ। তারা শুধু একটা আইডেন্টিই পান, তার না থাকে রাজা-রানীর কাছে যাওয়ার ক্ষমতা, না পান তাদের কাছে কোনো আর্জি রাখার সরাসরি দরবার, না পারেন নিজের জন্য কিছু করতে। এই পক্ষটার সামনেই ঝুলে থাকে আরো দুটু শক্ত স্তরের দেয়াল। তাদের পক্ষে কোনোভাবেই সম্ভব হয়না সেই প্রথম স্তরের মতো বিচরন করা বা সেই দেয়াল টপকিয়ে সামনে আসা। কারন এদের আবির্ভাবই হয়েছে শুধুমাত্র “আছি”র মতো একটা আইডেন্টি পাওয়ার জন্য। সেটা তো সে পেয়েছেই।

এই দুই পক্ষের যাদের অর্থবৈভব নাই, তারা হবেন প্রথম সারির সৈনিক। এই সৈনিকদেরকে হাতী খাবে, ঘোড়া খাবে, কিস্তিতে মাত করবে, আবার অপর পক্ষের সৈনিকেরাও এই আমজনতা সৈনিকদেরকে খাবে। এরা মরার জন্যই গুটির প্লেটে জন্ম নেয়। এদের সর্বোচ্চ ক্ষমতা একপা এগুনোর, দুইপা হয়তো কখনো কখনো যেতে পারে কিন্তু সেটা খুবই কদাচিত। তবে কখনোই অনেক ঘর পেরিয়ে রানী-রাজার কাছে যেতে পারেন না।

রাজনীতির দোলাচলে যখন ক্ষমতার দন্দ বা পালাবদল হয়, তখন সবচেয়ে ক্ষতিগ্রস্থ হয় পরবর্তী দুই স্তরের বাহিনীর। তারা এবং তাদের সাথে তাদের পরিবার, আত্মীয়স্বজন অনেক কিছু হারায়, বন্ধু হারায়, নাগরীক সুবিধা হারায়, সমাজও হারায়, বঞ্চিত হয় অনেক মৌলিক অধিকার থেকে। তারসাথে যেটা যোগ হয় সেটা আরো করুনতর। কারন কোনো কিছু না করেই দাড়াতে হয় কাঠগড়ায়। আর সেই কাঠগড়ায় দাঁড়িয়ে বুঝা যায় পৃথিবীতে কোনো আদালত আজ পর্যন্ত স্বাধীন হয় নাই। কন্ঠের সর্বোচ্চ চিৎকারেও কেউ শুনতে চায় না, দুঃখের করুন কাহিনী কিংবা অবিচারের কষ্ট। তখন অনেক সহৃদয় বন্ধু, কাছের কিছু মানুষেরাও তাঁর সাহাজ্যে আসতে চাইলেও আসতে পারেন না। কারন তখন আক্রান্ত মানুষটি একটি ব্রান্ড। ব্রান্ডের যেমন আলাদা মুল্যায়ন, তেমনি অবমুল্যায়নও হয়। ব্রান্ড হওয়া খুব বিপদজনক। 

মানুষের জীবনটা খুব ছোট। এই ছোট জীবনে প্রতিদিন আকাশ দেখলেও আকাশের মিষ্টি দৃশ্য দেখে শেষ করা সম্ভব না, বৃষ্টির দিনে ভিজলেও যে মজা সেই মজাটা এই ছোট জীবনেও উপলব্ধি করে শেষ করা যায় না। রাস্তার ধারে অবহেলিতভাবে যে লাল ফুলটা প্রস্ফুটিত হয়ে আছে, তাঁর রুপটাও কোনো এক শিশির ভেজা সকালে দেখলে মন ভালো হয়ে যায়। এই ব্রান্ডেড রাজনীতির কারনে আমাদের ছোট এই জীবনের অনেকটা সময় ক্ষমতার দন্দে বা দোলাচলে এসব হয়তো অনেকের ভাগ্যেই আর জোটে না। তাদের পা দৌড়াতে দৌড়াতে যখন ক্লান্ত হয়ে যায়, তখন দিনের শেষ আলোটা প্রায় নিভু নিভু।

৯/৯/২০২৩-আমার জন্মদিন

গত ৮ সেপ্টেম্বর আমার জন্মদিন ছিলো। আমি আসলে ইদানিং আর জন্মদিন পালন করি না। ফলে মনেও ছিলো না।

প্রথম মনে করিয়ে দিলো আমার বউ। অবশ্য তিনিও মাঝে মাঝে আমার জন্মদিন মনে রাখতে পারেন না, কিন্তু যেভাবেই হোক, কষ্ট করে হলেও তিনি মনে রাখার চেষ্টা করেন, এবারো মনে রেখেছেন। তাঁর এই প্রথম সংবাদে বুঝলাম, ৮ সেপ্টেম্বর চলে এসছে। আমি অবশ্য আমার বউ এর জন্মদিন ভুলার সাহস করি না, কারন নিশ্চয়ই বুঝতে পারছেন, চুলা বন্ধ হয়ে বিছানাও আলাদা হয়ে যেতে পারে, তাই রিস্ক নেই না। মোবাইলে, কমপিউটারে, ফেসবুকে, সবখানে আগাম এলার্ম দিয়া রাখি যাতে আমি ভুলে না যাই। যেই মাত্র ওনারে “শুভ জন্মদিন কইয়া লাইছি, আবার এক বছর শান্তি”। মাঝে মাঝে ভুইল্যা যামু এই চিন্তায় সাতদিন আগেও কইয়া রাখি যে, শোনো আগামী অমুকদিন কিন্তু তোমার জন্মদিন, আবার ভুইল্যা যাইও না। আসলে আমি কিন্তু খুব গোপনে দায় সেরে ফেললাম। মহিলা মানুষ, পুরুষের চালাকী ধরতে পারেননা।

যাই হোক, এবারে যখন ফেসবুকের টাইমলাইন, ম্যাসেঞ্জার, হোয়াটসআপ, মোবাইলের ম্যাসেজে শতশত “হ্যাপি বার্থ ডে” পাইলাম, তখন আরেকটা কথা আমার বুঝতে সুবিধা হইলো যে, আমার ফেসবুকে যারা মরার মতো কোনো কমেন্ট না কইরা আজিমপুর গোরস্থান মনে কইরা পইড়া থাকেন, আসলে তারা ওই রকম না। তারা পার্কে বসা একাকী দর্শকের মতো থাকেন, দেখেন, পড়েন, হাসেন, কাদেন কিন্তু কিছুই কন না। কিন্তু টাইম মতো আবার ঠিক সরব হন। যেমন আমার জন্মদিনে আমি এতো এতো হ্যাপি বার্থ ডে পাইছি, দোয়া পাইছি তাদের কাছ থেকেও যারা কোনোদিন আমার লেখায় কমেন্ট করে না, লাইক দেন না কিংবা সরব হন না। ভালোবাসাটা মনে হয় এ রকমই। দেখা যায় না, শুধু উপলব্ধি করা যায়। আমি এবার তাদের ভালোবাসাটা খুব কাছ থেকে উপলব্ধি করেছি। ধন্যবাদ আপ্নাদেরকে।

কিছু খুব আদরের ছেলেরা আমার অনেক বিরল ছবি দিয়েও আমার টাইম লাইনে আমার “হ্যাপি বার্থ ডে” পোষ্ট করেছে। তাদের এই ভালোবাসা আমাকে নষ্টালজিক করে তুলে ফেলেছিলো। সেই সব বিরল ছবি দেখে আমার সময় যেনো  পিছিয়ে গেছে সেই দিনে যখন ছবিটা তোলা হয়েছিলো। আবেগিত হয়েছি অনেক। এসব ভালোবাসার মুল্য দেবার আমার ক্ষমতা নাই।

আসলে ওই যে একটা লেখা লিখেছিলাম, ভালোবাসা কোনো দোকানে, কোনো শপিং মলে কিংবা কোনো পাহাড় পর্বতের চূড়ায় অথবা কোনো এক রাজপ্রাসাদেও কেজি দরে কিনতে পাওয়া যায় না। এসব ভালোবাসা থাকে মানুষের অন্তরে, হৃদয়ে আর মনের ভিতরে। আপনাদের এসব ভালোবাসার মুল্য আমাকে চোখের জলেও হয়তো পরিশোধ হবে না।

আমি সবার কাছে কৃতজ্ঞ আপনাদের এই প্রান ঢালা ভালোবাসায়। বয়স হয়ে যাচ্ছে, প্রতিটি জন্মদিন আমাকে আমার শেষ গন্তব্যের দিকে একটি একটি বছর করে এগিয়ে নিয়ে যাচ্ছে। হয়তো একদিন আর জন্মদিনের শুভেচ্ছার কোনো প্রয়োজন হবে না, তখন শুরু হবে আরেকটি পর্ব-মৃত্যু দিবসের দোয়া।

সবার কাছে দোয়া চাই, সবার কাছে ক্ষমা চাই যদি ভুল করে থাকি। আমিও সবার জন্য দোয়া করি। আর ক্ষমা? আমি কখনোই মনে করি না কেউ আমার কাছে কখনো ভুল করেছে।

সবাইকে ধন্যবাদ।

৯/৯/২০২৩-সাদাচুল কালোকরন (রঙ্গে ভরা পাঠক)

আমার বউকে বললাম, কি এক অবস্থা আমার চুলের! সব সাদা হইয়া যাইতেছে। একমাস পরপর কালো কলপ দিয়া কালী কইরা আর কত? ভাবছি, এবার কালো কলপ না দিয়া সাদা স্নোসেম মাইরা পুরাই সাদা কইরা ফালাই। কি বলো?

বউ আয়নায় কি জানি রূপচর্চা করিতেছিল। আয়নার দিকে তাকাইয়াই আমার উদ্দেশ্যে বলিলো-করো, অসুবিধা নাই, ভুতের মতন দেহা যাইবো তোমারে। যেই না চিকার মতো চেহাড়া, আবার সাদা চুল। ভুতের মতোন লাগবো।“

মনে মনে ভাবলাম, হায়রে আজ থেকে ৩৬ বছর আগের সেই চেহাড়া কোথায় গেলিরে বাপ? তখন তো এই মহিলাই আমারে নায়ক শাহরুখ খান ভাবতো। তাই আমারে ছাড়া আর কাউরে বিয়া করবো না কইয়া তিনদিন না খাইয়াও আছিলো। আমি নাকি সেই রাজপুত্তুর। বিশ্বে আমার থেকে নাকি এতো সুন্দর যুবক আর তাঁর চোখে পড়ে নাই। আর আজ? চিকা হইয়া গেলাম? কষ্টে কইলজার সাথে মাথার চুল পর্যন্ত পইড়া যায়যায় ভাব।

ঢেকুর তুলিয়া বলিলাম,

যাক, তাওতো ভালোই। সবাই তো ভুতেরেই ভয় পায়। অবশ্য ভুতের সাথে ঘর করিলে তোমার আর ভুতের ভয় থাকবে না। রাতে শোয়ার সময় হাতে তিনটা তালি দেয়া বন্ধ হবে। খাটের নীচে কোনো ভুত লুকাইয়া আছে কিনা সেইটা থেকেও নিস্তার পাইবা। চোরের জন্য জানালা দরজা বন্ধ করলেও ভুতের ডরে আর সেটা করতে হবে না। ভুত তো তোমার সাথে সাথেই আছে।

তবে লাভ তো কিছু আছেই। এই যেমন, রাস্তায় গাড়ির জ্যামে আমাকে দেখলেই সবাই ভয়ে রাস্তা ফাকা কইরা দিবো, জ্যাম শেষ। উগানাডার পুলিশও মনে হয় ভুতেরে ভয় পায়, পাওয়ার তো কথা। তারাও আর অযথা আমার গাড়ি চেকের ঝামেলা করবো না, যারা সুদটুদ খায়, তারাও নিশ্চয় আল্লাহরে ভয় না পাইলেও ভুতেরে তো অবশ্যই ভয় পায়। তারাও আর কেঊ টাকা পয়সা চাইবো না। ভুতের সাথে আর যাই হোক, লেনদেন করা বিপদজনক। অনেক বাটপার টাটপার আছে, টাকা ধার চায়, অন লাইনে আবার অনেকে কালা জাহাঙ্গীরের নাম কইরা টাকা পয়সাও চায়। তারাও ভুতের কারনে কাছেটাছে আইবো না, আর ধারও চাইবো না, সবাই আমারে ডরাইবো। অস্ত্র ছাড়া, হুমকী ছাড়া, ঘুষ বানিজ্য দেয়া ছাড়া সবাই আমারে ভুত মনে কইরা ডরাইবো। মন্দ কি? এমন মোক্ষম সুযোগ হাতছাড়া করা কি আমার ঠিক হইবে?

বঊ কিছু না কইয়া বল্লো- জাতিরে জানাও।

আমি জাতির কাছে জানাইলাম।

৭/৯/২০২৩-পূর্নিমার চাঁদ যেনো ঝলসানো রুটি  

আগের যে কোনো বছর থেকে ২০২২ সালের পরে ন্যাটো উল্লেখযোগ্যভাবে সবার নজরে এসছে এবং ন্যাটো নিয়ে অনেক আলোচনাও হচ্ছে। এই ন্যাটোটা আসলে কি?

ন্যাটো (NATO) মানে হচ্ছে নর্থ আটলান্টিক ট্রিটি অরগ্যানাইজেশন।

এটি বর্তমানে ৩১টি দেশ (২৯ টি ইউরোপের এবং ২টি উত্তর আমেরিকান) নিয়ে গঠিত একটা আন্তঃসরকার  সামরীক জোট। বস্তুত স্নায়ুযুদ্ধের আগে তদানীন্তন সোভিয়েট ইউনিয়নের (USSR) ওয়ার্শো প্যাক্ট (Warsaw Pact) এর বিপরীতে USSR থেকে আগত যে কোনো আক্রমনাত্তক হুমকীকে মোকাবেলা করার জন্য এই ন্যাটো জোটের উদ্ভব। প্রথম মোট ১২টি দেশ (বেলজিয়াম, কানাডা, ডেনমার্ক, ফ্রান্স, আইসল্যান্ড, ইতালী, লুক্সেমবার্গ, নেদারল্যান্ড, নরওয়ে, পর্তুগাল, ব্রিটেন, এবং আমেরিকা) নিয়ে ন্যাটোর জন্ম। যদিও ন্যাটোর সম্প্রসারনের নিমিত্তে তদানিন্তত আমেরিকা, ফ্রান্স, জার্মানীর রাষ্ট্র প্রধানদের মাধ্যমে এটাই কথা ছিলো যে, ভবিষ্যতে ন্যাটোর কোনো সম্প্রসারন হবে না এবং কাউকে আর সদস্য করাও হবে না।  কিন্তু পরবর্তীতে আরো ৯ বার এর সম্প্রসারন হয়েছে যা রাশিয়ার জন্য বিপদ সংকেত বলে রাশিয়া মনে করে। USSR এর অধীনে করা ওয়ারশো প্যাক্ট বাতিল হয়ে গেছে ঠিকই কিন্তু ন্যাটো রয়ে গেছে যা পরবর্তীতে USSR Bloc এর বাইরে বলকান, মধ্যপ্রাচ্যে, দক্ষিন এশিয়া, আফ্রিকার বিভিন্ন দেশে যেমন কুয়েত, আফগানিস্থান, লিবিয়া, ইরাক, বসনিয়া-হার্জেগোবিনা, সিরিয়া, ইউগোস্লাব, কসোবো ইত্যাদি দেশে ন্যাটো মিলিটারী অপারেশন করেছে। ন্যাটোর প্রধান হেডকোয়ার্টার বেলজিয়ামের ব্রাসেলসে এবং এর সামরিক সদস্য সংখ্যা প্রায় ৩৫ লক্ষ (বস্তুত এই ৩১ দেশের সামরিক সদস্য যা, সেটাই ন্যাটোর সংখ্যা)। 

এ যাবতকাল রাশিয়া ন্যাটোর সম্প্রসারনের বিরুদ্ধে কোনো প্রকার আপত্তি তোলেনি। কিন্তু রাশিয়া সবসময় এটাই বলেছে যে, রাশিয়ার দোড়াগোড়ায় ন্যাটো তাঁর সামরিক জোট স্থাপনে সে কোনোভাবেই মেনে নেবে না মানে “রেড লাইন”। সর্বশেষ যখন ইউক্রেন ন্যাটোর সামরিক জোটে যোগদানের সিদ্ধান্ত চুড়ান্ত করে, রাশিয়া তাঁর বিপক্ষে অবস্থান গ্রহন করে। এ ব্যাপারে ন্যাটো এবং তাঁর নেতৃবৃন্দকে রাশিয়া একটা পিসপ্ল্যান দিয়েছিলো। যার মধ্যে রাশিয়াকেও ন্যাটোতে নেয়া হোক এটা ছিলো। কিন্তু ২০২১ সালে সেটা অগ্রহনযোগ্য বলে আমেরিকা তা প্রত্যাখ্যান করে। দেখি পুটিন কি বলেছিলো আর এর উত্তরে ন্যাটোর প্রধান কি বলেছিলোঃ

Putin asked U.S. president Joe Biden for legal guarantees that NATO would not expand eastward or put “weapons systems that threaten us in close vicinity to Russian territory.”[134] NATO Secretary-General Jens Stoltenberg replied that “It’s only Ukraine and 30 NATO allies that decide when Ukraine is ready to join NATO. Russia has no veto, Russia has no say, and Russia has no right to establish a sphere of influence to try to control their neighbors.”[135][136]

গন্ডোগোলটা ঠিক এখানেই। ইউক্রেনকে ইউরোপিয়ান ব্লকে যোগদানে রাশিয়ার কোনো আপত্তি নাই, তাঁর আপত্তি শুধু সামরিক জোটের বিরুদ্ধে। ন্যাটোতে ইউক্রেন যোগ দিতে পারবে না এই অজুহাতেই রাশিয়া ইউক্রেনে স্পেশাল অপারেশন চালায়। সে ইতিহাসে আর গেলাম না।

এখন বড় প্রশ্নটা হচ্ছে-ইউক্রেনকে ন্যাটোর এই ৩১ টা দেশ একযোগে সামরিক, অর্থনইতিক এবং যাবতীয় মিলিটারী ইন্টিলিজেন্স দিয়ে সাহাজ্য করলেও সরাসরি তারা রাশিয়ার বিরুদ্ধে অংশ গ্রহন করছে না কেনো? ব্যাপারটা জানা দরকার।

ন্যাটোর গঠনতন্ত্রের মধ্যে সবচেয়ে উল্লেখযোগ্য শর্ত হচ্ছে-আর্টিক্যাল-৫। এর মাধ্যমে বলা হয় যে, ন্যাটোর যে কোনো একটি সদস্য দেশ যদি কারো দ্বারা মিলিটারিলি আক্রান্ত হয়, তাহলে ন্যাটোর অন্যান্য সমস্ত দেশ একযোগে তাঁর সাপোর্টে যুদ্ধ করবে। এই পরিচ্ছেদটা কাজে লাগিয়েই ৯/১১ এর পর আমেরিকা আফগানিস্থান আক্রমন করেছিলো। আর তাঁর ধারাবাহিকতায় লিবিয়া, সিরিয়াতে তাদের অপারেশন সম্প্রসারন করে। কিন্তু এবার ন্যাটো সেটা করতে পারছে না। কারন দুটু। (১) ইউক্রেন ন্যাটোর সদস্য নয়, তাকে কেউ আক্রমন করলেও ন্যাটোর সদস্যদেশ গুলি একযোগে ইউক্রেনের পক্ষে সরাসরি যুদ্ধ করতে পারবে না (২) রাশিয়া সর্বোচ্চ নিউকধারী একটি দেশ। রাশিয়ার এক্সিস্ট্যান্ট যদি রাশিয়া থ্রেট মনে করে, তারা যে কোনো সময়ে তাদের নিউক ব্যবহার করার সাংবিধানিক আদেশ রয়েছে। এতে ৩য় বিশ্ব যুদ্ধ একেবারেই হাতের ট্রিগারের মধ্যে। এটা কেউ শুরু করতে চায় না।

ইউক্রেনের একক সামরিক শক্তিতে ইউক্রেনে যুদ্ধটা এতোদিন চলমান থাকার কথা নয়। এটা এতো সময় দীর্ঘায়ু পাচ্ছে কারন ন্যাটো এবং কালেক্টিভ ওয়েষ্টের ছায়া যুদ্ধের কারনে যেখানে তারা সরাসরি অংশ গ্রহন না করেও যাবতীয় সামরিক, অর্থনইতিক, ইন্টিলিজেন্সের সহায়তা দিয়ে যাচ্ছে। তারপরেও ইউক্রেন তেমন সাফল্য পাচ্ছে না। তাহলে ন্যাটোর কিংবা পশ্চিমাদের এই প্রক্সিওয়ার কি ইঙ্গিত দেয়?

ইঙ্গিত দেয় যে, ন্যাটো সদস্য দেশগুলি তাদের সর্বাত্তক সাহাজ্য সহযোগীতা করেও যখন তেমন কোনো সফলতা পাচ্ছে না, তাহলে আর্টিক্যাল-৫ এর বিনিময়েও ন্যাটো তাঁর সদস্য দেশ সমুহকে সুরক্ষা দেয়ার ক্ষমতা রাখেনা। এটা একটা পেপার টাইগার। ন্যাটোর জন্য আলাদা কোনো পার্লামেন্ট নাই, ন্যাটোর জন্য আলাদা কোনো আইন নাই, কোনো এনফোর্সমেন্ট নাই, এবং সদস্যদেশ সমুহের নাগরীক বা সইনিকদেরকে পুরুষ্কার বা শাস্তির কোনো বিধানও নাই। এগুলি কন্ট্রোলড হয় প্রতিটি ন্যাটোভুক্ত দেশের তাদের নিজস্ব আইনের দ্বারা। পুরুটাই যার যার তাঁর তাঁর। রিসোর্স যার যার দেশের তাঁর তাঁর অধীনে থাকে, হোক সেটা মিলিটারী, জনবল কিংবা সামরিক সরঞ্জাম। অস্থায়ীভাবে কোনো একটা অপারেশনের আগে সেগুলি সদস্যভুক্ত দেশ সমুহের রিসোর্স ন্যাটোর অধীনে শুধুমাত্র অপারেশন অর্ডারের জন্য স্থাপিত হয় বটে আবার যে কোনো সময় সেই সদস্যদেশ যখন খুশী তুলেও নিতে পারে। এমন একটা খাপ ছাড়া স্ট্রাকচারের মধ্যে ন্যাটো কমান্ডারগনও সাফল্যের মুখ দেখা খুবই কঠিন।

এই ইউক্রেন যুদ্ধে সব ন্যাটোর সদস্যরা যেভাবে তাদের মিলিটারী স্টকপাইল নিঃশেষ করেছে, এরফলে সদস্য দেশসমুহের বর্তমান অবস্থা এমন যে, তারা নিজেরাই নিজেদের ডিফেন্স মেকানিজমকে দূর্বল করে ফেলেছে। ন্যাটোভুক্ত কোনো দেশই এখন নিজ শক্তিতে তাদের নিজস্ব হুমকী মোকাবেলায় সমর্থবান নয়। কারো এমুনেশন স্টকপাইল শেষ, কারো মিসাইল সিস্টেম অর্ধেক হয়ে গেছে, কারো এয়ার ফোর্সের যুদ্ধ বিমান শেষ, কারো ট্যাংক শেষ, কারো আবার রিজার্ভও শেষ।

অন্যদিকে হুজুকের বশে পড়ে, কিংবা কাউকে খুশী করার নিমিত্তে রাশিয়ার উপর তেল, গ্যাস, খাদ্যশস্য, ইউরেনিয়াম, ফার্টিলাইজার, লোহা, ডায়মন্ড, এবং আরো কমোডিটি নিষেধাজ্ঞায় দেয়ায় এখন প্রতিটি ইউরোপিয়ান এবং ন্যাটো অন্তর্ভুক্ত দেশসমুহের আর্থিক মন্দায় এতোটাই জর্জরীত যে, তারা না নিজেরা তাদের ঘাটতি পুরনে সক্ষম, না ঘাটতি ডিফেন্সিভ মেটারিয়েলস পুনরায় রিপ্লেস করতে সক্ষম। রাশিয়ার উপর নির্ভরশীল এনার্জি সেক্টরের ঘাটতির কারনে ইউরোপের ইন্ডাস্ট্রিজগুলি প্রায় বন্ধের পথে (৪৫% ইন্ডাস্ট্রিজ এখন বন্দ শুধুমাত্র এনার্জি ঘাটতির কারনে)। আর যেগুলি চলমান তারাও বিশ্ব বাজারের কমপিটিশনে টিকতে পারছে না প্রোডাক্ট খরচ বাড়িতির কারনে। রাশিয়ার ফার্টিলাইজারের অভাবে কৃষিজ উৎপাদন প্রায় ঘাটতির দিকে ইত্যাদি। তাদের মুদ্রাস্ফিতি আকাশ চুম্বি, বেকারত্তের হার যে কোনো সময়ের থেকে প্রায় ২৫% বেশী।

এমন অবস্থায় প্রতিটি ইউরোপিয়ান কান্ট্রি (তথা ন্যাটোভুক্ত দেশসমুহ) এবার নিজেদের দেশের উপর ইন্ডিভিজুয়ালী নজর দিচ্ছে। তারা এই উপলব্দিতে আসা শুরু করেছে যে, রাশিয়ার সস্তা কমোডিটি ছাড়া, রাশিয়ার গ্যাস, তেল, ফার্টিলাইজার, লোহা, খাদ্যশস্য ছাড়া ইউরোপ অচল। তাদের রাশিয়াকে দরকার। ন্যাটোর চেয়ে আরো বেশী প্রয়োজন তাদের রাশিয়াকে। তাছাড়া রাশিয়া তো ইউরোপেরই একটা অংশ এবং প্রতিবেশী। তারা এবং তাদের জনগনেরা এটা বুঝা শুরু করেছে যে, রাশিয়াকে নিষেধাজ্ঞা দিতে গিয়ে তারা নিজেরাই এখন শীতে কাবু, খাদ্যে ঘাটতি, বেকারত্তে জর্জরীত, এবং তারা অসহায় হয়ে পড়ছে।

ঠিক এই পরিস্থিতিতে সর্বশেষ পরিসংখ্যানে দেখা যায় যে, রাশিয়ার উপর নিষেধাজ্ঞা থাকা সত্তেও সেই ইউরোপিয় ইউনিয়নের দেশগুলিই  যারা রাশিয়ার উপর নিষেধাজ্ঞা দিয়েছে তারাই স্পেশাল অপারেশন শুরু আগে যে পরিমান আমদানী করতো, এখন সেটা বেড়ে দাড়িয়েছে প্রায় ২৫০ থেকে ৩৫০%।

এই কন্সেপ্ট থেকে আমার কাছে মনে হচ্ছে-ন্যাটো জোটের উপর ন্যাটোর দেশসমুহই দিনকে দিন কনফিডেন্স হারিয়ে ফেলছে, ধীরে ধীরে সাধারন জনগন ন্যাটোর বিরুদ্ধে এবং রাশিয়ার পক্ষে সোচ্চার হচ্ছে। তাহলে কি এটা ভাবা খুব একটা অসমীচিন হবে যে, খুব দ্রুত বিলুপ্ত হয়ে যাবে এই ন্যাটো কিংবা ইউরোপিয়ান ইউনিয়নের সংঘবদ্ধ ক্লাব? অথবা থাকলেও রাশিয়ার সাথে এমন কোনো শর্তাবলীতে আসতে হবে যা ন্যাটোর প্রধান উদ্দেশ্য (রাশিয়াকে দমন) ব্যহত হবে। 

৬/৯/২০২৩-মনুষত্য যেখানে অমানবিক (ফারুক কাহিনী)

আজকের দিনটাকে ভেবে আগামীকালের দিনগুলি কেমন যাবে, ভালো না আরো ভালো নাকি খারাপ থেকে আরো খারাপ, সেটা বিচার করার বা উপলব্ধি করার কোনো বৈজ্ঞানিক ফর্মুলা মানুষের কাছে নাই।  আজকের রবিবারে হয়তো আপনি খিল খিল করে হাসছেন, আগামী রবিবার হয়তো এমন হতে পারে আপনার চোখের পানি সংবরন করার ক্ষমতাও আপনার নাই। কিংবা আজকে শনিবার যতোটা আপনি পেরেসান হয়তো দেখা যাবে আগামী শনিবারটা আপান্র জন্য এতোই মধুর যা তাঁর আগের দিনেও ভাবেন নি। আর এ জন্য আমি একটা কথা সব সময় বিশ্বাস করি জে, ভগবান সব দিনেই আপনাকে হাসিতে যেমন রাখেন না, তেমনি সব দিনেই আপনি কষ্টেও রাখেন না। এটাই নিয়তির সাথে ভগবানের একটা অদৃশ্য খেলা।

মানুষের মাথার উপর যখন কেউ হাত রাখে, তখন সেই হাতটাকে অনেক বড় অবলম্বন মনে হয়। পাতুক বা না পারুক সমস্ত কিছুর সমাধান দিতে, তারপরেও মনে হবে কেউ তো আছে যার কাছে গিয়ে অন্তত চোখ বন্ধ করে কিছুক্ষনের জন্যে হলেও কষ্টে কান্না করা যায়, অথবা মুচকী হাসা যায়। আর এই সেই ‘কেউ’ এর মধ্যে সবচেয়ে বড় ‘কেউ’ হচ্ছে সন্তানের জন্য তাঁর পিতামাতা, স্ত্রীর জন্য দায়িত্বশীল তাঁর স্বামী কিংবা দায়িত্বশীল স্বামীর জন্য কোনো দায়িত্বশীল স্ত্রী কিংবা সন্তান সন্ততিরা।

আজকে এমনই একটা ঘটনার অবতারণা হলো আমার সামনে। ওর নাম ‘ফারুক’। আমারই আপন বোনের ছেলে।

ফারুকের মা আমার আপন বোন শায়েস্তা। বোনদের মধ্যে সে ছিলো দ্বিতীয়। ছোট বেলা থেকেই সে ছিলো খুব মেধাবী। গায়ের রঙ কালো আর খুব জিদ্ধি ছিলো এই শায়েস্তা। আমার বাবা মারা যাওয়ার পর আমাদের সংসারে বেশ টানাপোড়েন শুরু হয়। পাঁচ জন বোন, সাথে মা আর আমি এই সদস্যদের নিয়ে আমার বড় ভাই হাবীবুল্লাহ মুটামুটি হিমশিম খাচ্ছে লালন পালনে। তাঁর অবদানের কথা আমরা কেহই অস্বীকার করতে পারবো না।

যাই হোক সেই অবস্থান টা এক সময় আমাদের পরিবর্তন হয়ে আবার কিছুটা থিতু হইলেও আমার বোন শায়েস্তার জীবনে নেমে আসে এক কালো অধ্যায়।

২৪/০৮/২০২৩-প্রিগোজিনের জেট ক্রাশ-১

রাশিয়ার টিভিয়ার রিজিয়নে ভাগনার গ্রুপ প্রধান প্রিগোজিনের  প্রাইভেট জেট ১৩৫ বিজে লিগেসি ৬০০ মস্কো থেকে সেন্ট পিটার্সবার্গে যাওয়ার প্রাক্কালে ক্রাশ করে এবং অনবোর্ড সাতজন আরোহী এবং তিনজন ক্রু মোট ১০ জনই নিহত হয়েছে বলে খবরে বলা হয়েছে। এই সাতজন আরোহীর মধ্যে ভাগনার গ্রুপ প্রধানের নাম লিষ্টেড ছিলো। খুব স্বাভাবিক চিন্তায় এটাই ভাবার কথা যে, ভাগনার গ্রুপ চীফ আর বেচে নেই। কিন্তু কোনো রাশিয়ান টিভি নিউজ, কিংবা গোয়েন্দা তথ্যে তাঁর মৃত্যুখবরের সত্যতা নিশ্চিত করছেনা। খবরে আরো প্রকাশ করেছে যে, প্রিগোজিনের দুটু জেট পরপর উড্ডয়ন করেছিলো যার একটির টেইল লেজ আরএ-০২৭৯৫ এবং অন্যটি আরএ-০২৮৭৮। প্রথমটিতেই ভাগনার চীফের নাম প্যাসেঞ্জার লিষ্টে ছিলো যেটা ক্রাশ করেছে কিন্তু ২য়টি সেফ ল্যান্ডিং করেছে। ইতিমধ্যে ১০ জন নিহতের মধ্যে ৮ জনের বডি পাওয়া গেছে আর দুইজনের পাওয়া যায়নি। এই আটজনের মধ্যে প্রিগোজিনের বডি নাই।

উপরের খবরগুলিই এ পর্যন্তই সবসুত্র থেকে পাওয়া যাচ্ছে।

এর পরিপ্রেক্ষিতে আমার কিছু এনালাইসিস আছে। যা নিম্নরূপঃ

(ক)    এমন একটা জেট ক্রাশিং এর জলন্ত অগ্নীর বিভিষিকায় কারোরই বডি কিছুটা হলেও অক্ষত থাকতে পারেনা। অন্তত মুখ দেখে তাদেরকে সনাক্ত করার উপায় থাকার কথা না। ডি এন এ টেষ্ট করার মতোও কোনো উপযোগী তথ্য পাওয়া যাওয়ার কথা না অথচ আটজনকে খুব সহজেই শনাক্ত করা গেলো। ব্যাপারটা খুব একটা কনভিন্সিং না আমার কাছে।

(খ)     আজকাল বডি ডাবল করা খুব কঠিন কাজ নয়। বডি ডাবল করে আজকাল বিখ্যাত লোকেরা যে কোনো নামীদামী হোটেলেও তাদের নামে হোটেল বুকিং করে দেখা যায় অন্যত্র অরিজিনাল ব্যক্তি অন্য কাজ করছে। আর এটা তো মাত্র একটা প্রাইভেট জেট, আর প্যাসেঞ্জার লিষ্টে নাম তোলাও খুব একটা আহামরি কিছু না। তাহলে কি এটা একেবারেই উড়িয়ে দেয়া যায় যে, প্রিগোজিন নিহত হবার ব্যাপারটা একটা নাটক বা ভিন্ন কৌশল? হয়তো বডি ডাবল? হতে পারে প্রিগোজিনের এই নাটক দিয়ে প্রিগোজিন আবার নিরাপদ জীবন যাপনে স্বাভাবিক লাইফ লিড করবেন কিনা। 

(গ)     প্রিগোজিনের জেট ক্রাশ করার সময় সিংগেল হ্যান্ডে ইউক্রেনের একটা আর্মারড ব্রিগেডকে ধংশকারী রাশিয়ার ট্যাংক সদস্যকে মেডাল পুরুষ্কার দিচ্ছিলেন প্রেসিডেন্ট পুতিন এবং এ যাবত সময় পর্যন্ত প্রেসিডেন্ট পুতিন প্রিগোজিনের নিহত হবার ব্যাপারে বা অন্যান্য সদস্যদের নিহত হবার ব্যাপারে কোনো প্রকার মন্তব্য করেন নাই। তিনি পুরুই নীরব। ব্যাপারটা একটু অদ্ভুত লাগছে।

(ঘ)     প্রিগোজিনের মৃত্যুর সংবাদ এর আগেও অনেকবার খবরের মধ্যে ব্রেকিং নিউজ হিসাবে এসেছিলো। ১ম বার এসেছিলো তাও আবার অফিশিয়ালভাবে ২০১৯ সালে আফ্রিকায়। অতঃপর সে জীবিত অবস্থায় ডনবাসের ফ্রন্টলাইনে আবার যুদ্ধ করেছে।

(ঙ)     যদি প্রিগোজিন আসলেই নিহত হয়ে থাকে যা এখনো কেউ নিশ্চিত করছেনা, তাহলে হতে পারে কি যে, প্রেসিডেন্ট পুতিন প্রিগোজিনের তথাকথিত অভ্যুথানের কারনে পূর্বের সাধারন ক্ষমা ঘোষনায় লোক দেখানো একটা নাটক করেছিলো কিন্তু এই ক্রাশের মাধ্যমে তাকে সরিয়ে দেয়াই ছিলো মুল পরিকল্পনার একটা গোপন পর্ব যাতে প্রেসিডেন্টের ভাবমুর্তি ক্ষুন্ন না হয়? কিন্তু এখানে আরো একটা বড় প্রশ্ন থেকে যায় তখন, আর সেটা হলো নিষ্পত্তিমূলক একটা বিতর্কিত ভুল বুঝাবুঝির অবসানের পর প্রিগোজিনকে সরিয়ে দিয়ে পুতিনের লাভ কতটুকু। অথবা পুতিনের থেকেও কি অন্য কারো আরো বেশী লাভ হয়েছে প্রিগোজিনকে সরিয়ে দিয়ে? এখানে বলে রাখা ভালো যে, প্রিগোজিন সেই অভ্যুথানের পরে রাশিয়াকে গ্রেট এগেইন করার একটা প্রতিশ্রুতি এবং আফ্রিকাকে আরো মুক্ত করার ঘোষনা দিয়েছিলো।   পুতিনের থেকে তাহলে আর কাদের বেশী লাভ হতে পারে প্রিগীজিন নিহত হলে? প্রিগোজিন আফ্রিকার নিজারে কোনো প্রকার হস্থক্ষেপ করুক এটা পশ্চিমা বিশ্ব, ফ্রান্স, ব্রিটিশ এবং ইউরোপিয়ান ইউনিয়নের কেউ চায়নি বরং তারা প্রিগোজিনের ব্যাপারে অনেক দুশ্চিন্তায় ছিলেন। অন্যদিকে পোল্যান্ড বেলারুশে ভাগনার গ্রুপ এবং তাঁর চীফ প্রিগোজিন অবস্থান করবে এটা জেনে যথেষ্ঠ দুসচিন্তায় ছিলো এবং ইতিমধ্যে পোল্যান্ড সেখানে প্রায় ৩০ হাজার সৈন্য মোতায়েন করেছে। এটাও হতে পারে যে, রাশিয়া নয়, অন্য কেউ এই স্যাবোটাজ করেছে?

অনেক প্রশ্নের উত্তর আমরা এখুনি হয়তো জানতে পারবো না, হয়তো কখনোই জানতে পারবো না। “সময়” সব সময় এর সঠিক উত্তর জানে।

বিশ্ব শান্তিতে থাকুক, যুদ্ধ বন্ধ হোক, সাধারন মানুষের জীবনযাত্রা আরো নিরাপদ হোক, আসলে আমাদের মতো আম জনতা এটাই চায়।

২১/০৮/২০২৩-মেটাভার্স ফরেন এক্সচেঞ্জ গ্রুপ উধাও

Metaverse Foreign Exchange Group – MTFE

মেটাভার্স ফরেন এক্সচেঞ্জ নাকি ১০ হাজার কোটি টাকা নিয়ে উধাও। আর এর ৯০% গ্রাহক নাকি বাংলাদেশের। সিংগাপুর বা কানাডাভিত্তিক পরিচালিত।

খবরটা শুনে দেশের জন্য খারাপ লাগলেও গ্রাহকদের বেলায় আমার ন্যুনতম খারাপ লাগেনি। কেনো গ্রাহকদের জন্য খারাপ লাগেনি সেটা বলছি।

৬৫০০০ হাজার টাকা বিনিয়োগ করলে প্রতিমাসে ২৪০০০ টাকা মুনাফা দেবে এই মেটাভার্স। এরমানে ৪৫০% হারে। আবারো বলছি- চার শত পঞ্চাস পারসেন্ট হারে। এটা কি বিশ্বাসযোগ্য কোনো ফর্মুলা? আমরা যারা ব্যবসা করি, তার ১০% প্রফিট পেলেই বলি, আলহামদুলিল্লাহ, অনেক প্রফিট। আর মেটাভার্স দিচ্ছে ৪৫০%? কোথায় কোন ব্যাংক, ফাইনান্সিয়াল ইন্সটিটিউট কিংবা শেয়ার মার্কেট কিংবা দাদন ব্যবসায়ী এত হারে প্রফিট দিয়েছে?

এদেশের মানুষকে কেউ বোকা ভাবার কোনো কারন নাই। মানুষ বোকা নয়। মানুষ আসলে লোভী, অলস এবং ভয়ানক চতুর। শর্টখাটে দ্রুত সময়ের মধ্যে পরিশ্রমবিহীন অনেক বড়লোক হতে চায়। তারা একবারও ভাবেনা যে, শর্টখাটে পরিশ্রমবিহীন কেউ বড়লোক হতে পারে না।

বড়, মাঝারী কিংবা ছোট ছোট সাকসেস পাওয়া কোম্পানি গুলির দিকে যদি তাকান, দেখবেন, তারা কি পরিমান পরিশ্রম করে এই পর্যায়ে এসছেন। অনেকটা যুদ্ধ করতে হয়েছে।

অথচ, এই যে মেটাভার্সের গ্রাহকরা তারা লাখ লাখ টাকা বিনিয়োগ করেছে পরিশ্রম ছাড়া মাসে মাসে অনেক অনেক টাকা রোজগার করে ফেলবেন বলে। এই মেটাভার্সের কোনো অফিস এদেশে নাই, কোনো লিয়াজো অফিস নাই, নাই কোনো কর্মচারী। কিছু হায়ার করা খন্ডকালীন কিছু এজেন্ট আছে যাদের কোনো নিয়োগপত্রও নাই।

কাউকে পাচ হাজার টাকা ধার দিলেও তো মানুষ সেই টাকাটা ফেরত পাবে কিনা, আর পেলেও কতদিনে ফেরত পাবে এগুলি নিয়েও ভাবে। আর এই মেটাভার্সে লাখ লাখ টাকা বিনিয়োগ করলো কেউ এর নিরাপত্তা নিয়ে একবারও ভাবলো না? গরু বেচবে,বাইক বেচবে, জমি বেঁচবে কারন মেটাভার্স ৬৫০০০ টাকায় মাসে ২৪০০০ টাকা লাভ দেবে। যখন মেটাভার্স উধাও, এই গ্রাহকেরা এবার জানেনও না, কার কাছে গিয়ে এই বিনিয়োগ ফেরতের কথা জানাবে।

“যুবক”, ইউনিপেটু, ডেস্টিনি, ইভ্যালি এ রকম অনেক অনেকবার প্রতারিত হয়েও এসব মানুষের শিক্ষা হয়নি।

আমি অবাক হচ্ছি না যে, আগামিতেও এমন খবর যে পাবো না।

লোভী গ্রাহক, তুমি ঠকবাই, কারন তুমি কাজ করতে চাও না, তুমি অলস, তুমি সহজে বড়লোক হতে চাও, তুমি অনেক অনেক টাকার মালিক হতে চাও। আর তোমার ইচ্ছা ঠিক থাকলেও তোমার কর্মপন্থা একেবারেই ভুল। তুমি আজীবন ঠকতেই থাকবা।

খারাপ লাগে দেশের জন্য যে, তোমাদের মত লোভী কিছু মানুষের জন্য হাজার হাজার কোটি টাকা দেশ থেকে পাচার হয়ে যায়। সেদিক থেকে যদি বলি, তোমরা লোভীর সাথে সাথে রাষ্ট্রের জন্যেও ক্ষতিকারক।

(কোনো নির্দিষ্ট গ্রাহককে উদ্দেশ্য করে এই লেখা নয়। তবে যারা এমন কাজ ভেবেচিন্তে করেন না, তাদের এই খারাপ পরিনতির জন্য তারাই দায়ী, এটা বিশ্বাস করে ভবিষ্যতে আর পা দেয়ার কথা ভাববেন)

২০/০৮/২০২৩-প্রেডিকশন-২

গতবছর এপ্রিল মাসে আমার একটা লিখায় আমি মন্তব্য করেছিলাম যে, “একটা সময় আসবে যখন ইউক্রেনবাসী প্রেসিডেন্ট জেলেনেস্কীকে ইউক্রেনকে ধ্বংসের কারনে কাঠগড়ায় দাড় করাবে। যদি তাকে আর নাও পাওয়া যায়, চলমান সময়ের ইতিহাসের জন্য ইউক্রেন আজীবন আফসোস করবে যে, এতো সুন্দর সাজানো গোছানো একটা রিচ কান্ট্রি এভাবে শেষ হয়ে গিয়েছিলো শুধুমাত্র একটি মানুষের কারনে। আর সেটা জেলেনেস্কী”। আমরা ইতিহাসকে যেভাবেই লিখি না কেনো, কেউ তো থাকবে যারা আজকের দিনের প্রতিটি প্রেক্ষাপট, ইভেন্ট, ঘটনা মুখেমুখে হলেও এক প্রজন্ম থেকে আরেক প্রজন্মের কাছে স্থানান্তর করবে যেমন সর্বদাই দেখা যায়। সময়ের বিবর্তনে হয়তো কিছুটা ইতিহাস উলটা পাল্টাভবে প্রচারিত হয় বটে কিন্তু অলিখিত ইতিহাসের পাতাই বেশী থাকে লিখিত পাতার চেয়ে। ইতিহাসের অমোঘ নিয়ম হচ্ছে-কলোনিয়ালিজম কোনো না কোনো সময়ে শেষ হয়ই। আফগানিস্থান, ভিয়েতনাম, আফ্রিকার প্রায় সবদেশ, ভারতবর্ষ, আরো শতশত দেশের ইতিহাস এমনই। চুড়ান্ত ফলাফলে আধিপত্যবাহীরা শেষ পর্যন্ত অধিকৃত দেশ ছাড়তে সবসময়ই বাধ্য হয়েছে। কিন্তু এই আধিপত্য নেয়া এবং ছেড়ে দেয়ার মধ্যে পার হয়ে যায় হয়তো কয়েক প্রজন্ম। ধ্বংস হয়ে যায় কালচার, কৃষ্টি, সমাজব্যবস্থা এবং সাথে দেশের অর্থনীতি।

ইউক্রেনের কোনো প্রয়োজন ছিলো না তাদের নিজের দেশের রাশিয়ান ভাষাভাষি মানুষগুলিকে এতো অত্যাচার করার, প্রয়োজন ছিলো না অযথা ইউরোপিয়ান হবার, প্রয়োজন ছিলো না ন্যাটোর মতো একটা জোটে যুক্ত হয়ে রাশিয়ার মতো একটা ভেটো অধিকারী, নিউক্লিয়ার সমৃদ্ধ দেশের বিরুদ্ধে পা ফেলার। যাদের শক্তিতে বলিয়ান হয়ে যুদ্ধের দামদা করা হলো সেই তারা কিন্তু বহুদূরের এক শক্তি। আর তারা নিজেরা কিছুতেই আক্রান্ত নয়। নিজের শশ্যক্ষেত জ্বালিয়ে কেউ হিরো হতে চায় না। আর যারা সেটা করে তারা বোকা। কেনো বললাম কথাগুলি জানেন?

কারন, ইউক্রেনের পূর্ববর্তী প্রেসিডেন্টের এইডস অলেগ সসকিন তাঁর ইউটিউবে একটা বার্তা রেখেছেন ইউক্রেনবাসী এবং ইউক্রেনের এমপিদের উদ্দেশ্যে। আর সেটা হলো এমন, “প্রেসিডেন্ট জেলেনেস্কী একজন অতিশয় অপরিপক্ক (Inadequate) লিডার যে কিনা ইউক্রেনকে সম্পুর্ন ধ্বংস করে দিচ্ছে। এই যুদ্ধে ইউক্রেনের কোনো খবরই সত্য নয় এবং রিটায়ার্ড কর্নেলদের কোনো এনালাইসিস বা তথ্য সঠিক তো নয়ই বরং পুরুই মিথ্যা। ইউক্রেনের জন্য রাশিয়া যতোটা না বিপদজনক, তাঁর থেকে অনেক বেশী বিপদজনক প্রেসিডেন্ট জেলেনেস্কী। ইউক্রেনের মানুষের ভোগান্তির কোনো শেষ নাই, দেশের অর্থনীতি শুধু তলানীতেই না বরং ঋণে জর্জরিত হয়ে আরো কয়েক শত বছর পিছিয়ে দিয়ে গেলো এই যুদ্ধ। ফলে এখনই সময় আপ্নারা যারা এমপি আছেন, তারা এবং ইউক্রেনের ভিতর বাহিরে যারা সচেতন জনগন আছেন, তাদের কিছু একটা করা দরকার যাতে অন্তত ইউক্রেন নামক দেশটি পৃথিবীর বুক থেকে একেবারে শেষ না হয়ে যায়”।

আজকে সসকিন এটা বলেছে, হয়তো আগামীকাল সাধারন জনগন নিজেরাই মাঠে নেমে পড়বেন, হয়তো পরশু নিজের দেশের ভিতরেই নিজেদের অপশক্তিকে রুখে দাড়াবার জন্য যুদ্ধে নেমে যেতে পারেন। ডনবাস, খেরশন, জাপোরিজজিয়া, খারকিভ, ওডেসায় তো ইউক্রেনের অধিবাসিই বাস করতো, হয়তো তারা রাশিয়ান ভাষাভাষি বলে ইউক্রেনের প্রশাসন তাদেরকে রিফুজির মতো ব্যবহার করতো। তাদেরকে খতম করে কি ইউক্রেন সে সব এলাকায় আধিপত্য বিস্তার করা সম্ভব যাদের বসবাদ সেখানে শত শত বছর ধরে? এখনো তো তাদের উপরেই আক্রমন হচ্ছে। তাহলে তারা যে ভাষাভাষিই হোক না কেনো, যারা তাদেরকে রক্ষা করতে আসবে তাদেরকেই তো তারা সাপোর্ট করবে। ইউক্রেনকে তো নয়। আর ঠিক এ কারনেই এসব শহরগুলি খুব দ্রুত চলে গেছে ইউক্রেনের হাতের বাইরে এবং রাশিয়ার পক্ষে।

প্রয়োজন ছিলো না এসব মানুষগুলিকে এক সাইড করে অতঃপর নিজেরাই ইউক্রেনবাসী হবার। তারাও জন্মগত কিংবা বাপ দাদার উত্তরসুরী হিসাবে ইউক্রেনেরই একটা অবিচ্ছেদ্য অংশ ছিলো। কোনো এক সময় ইতিহাসবিদগন এটাই বলবে যে, প্রেসিডেন্ট জেলেনেস্কী সঠিকপথে ছিলো না। আজকে যে ইউরোপ তাঁর প্রতিবেশী রাশিয়াকে শত্রু মনে করছে, হয়তো খুব শীঘ্রই সেই একই ইউরোপ হয়তো রাশিয়ার দ্বারপ্রান্তে বসবাস করে তাদের ছাড়া চলবেই না। ফলে একটা সময় খুব বেশী দূরে নয় যে, এই ইউরোপ আবার রাশিয়ার সাথেই একাত্ত হবে, একাত্ত হতে বাধ্য হবে। প্রতিবেশীকে বেশিদিন একঘরে করে রাখা যায় না। তারমধ্যে যে প্রতিবেশী এতো ক্ষমতাবান। 

১৯/০৮/২০২৩-আগের কিছু প্রেডিকশনের বাস্তবতা।

রাজনীতিতে যার যার সার্থ তাঁরতাঁর। এখানে সার্থ ভাগাভাগির কোনো গল্প থাকে না। শেষ অবধি প্রেডিকশনটাই ঠিক হলো। প্রেডিকশন করেছিলাম যে, একোয়াসের সামরীক বাহিনী যদি নিজারে ইন্টারভেনশন করে, তাহলে শুধুমাত্র নাইজেরিয়াই থাকবে সেই ফোর্সের মধ্যে, অন্য কেউ থাকার কথা না আর থাকলেও খুবই কম সদস্য দিয়ে একটা টোকেন পার্টিসিপেশন হবে। ২য় প্রেডিকশন ছিলো, আমেরিকা এবং ফ্রান্সের মধ্যে সম্পর্ক ফাটল দেখা যাবে। ৩য় প্রেডিকশন ছিলো-নিজারে একোয়াসের মিলিটারী ইন্টারভেনশন এর পরিবর্তে ডিপ্লোম্যাটিক সমাধান হতে পারে। সেক্ষেত্রে প্রেসিডেন্ট বাজোমের ক্ষমতায় ফিরে আসা আর কখনোই হবে না।

এবার সর্বশেষ খবরগুলি দেখিঃ

(১) একোয়াসের স্ট্যান্ড বাই ফোর্সের মধ্যে ২৫ হাজার সামরিক সদস্যের মধ্যে নাইজেরিয়ার সাড়ে ২৪ হাজার প্লাস, আর সেনেগালের মাত্র কয়েকজন টোকেন পার্টিসিপেশন। অর্থাৎ নাইজেরিয়া একাই একোয়াস সম্মিলিত বাহিনীর হিসাবে রিপ্রেজেন্ট করে প্রয়োজনে নিজারে ইন্টারভেনশনের জন্য প্রস্তুত। যা নাইজেরিয়ার সাধারন জনগন এর বিপক্ষে। ফলে একোয়াস এখনই ইন্টারভেনশন নয়, আগে ডিপ্লোম্যাটিক সমাধান, তারপর ইন্টারভেনশন (যদি লাগে)

(২) আফ্রিকান ইউনিয়নের দেশগুলিতে খাদ্য, সার এবং অন্যান্য কমোডিটি সবচেয়ে বেশী সাহাজ্য হিসাবে দেয় রাশিয়া। রাশিয়া নিজারে কোনো সামরীক ইন্টারভেনশনের বিপক্ষে। ফলে আফ্রিকান ইউনিয়ন নিজারে যে কোনো সামরীক ইন্টারভেনশনের বিপক্ষে। আফ্রিকান ইউনিয়ন একোয়াস থেকে ডিসোসিয়েট করেছে।

(৩) আমেরিকার মিলিটারী বেজগুলি নিজারে বহাল রাখার নিমিত্তে নিজারের সামরীক ক্যু কে আমেরিকা এখনো ক্যু হিসাবে আখ্যায়িত করে নাই। প্রয়োজনে তারা মিলিটারী সরকারের সাথে কাজ করতে এবং বেজগুলি রি-লোকেশন করতে ইচ্ছুক।

(৪) ফ্রান্সের মিলিটারী বেজগুলি গুটিয়ে নেয়ার নির্দেশ নিজারের সামরিক সরকার আগেই দিয়েছে। তাই ফ্রান্স চায় একোয়াস নিজারে ইন্টারভেনশন করুক। কিন্তু আমেরিকার এহেনো এক তরফা নিজারের সামরিক সরকরকে সাপোর্ট করার মাধ্যমে ফ্রান্সের সাথে পশ্চিমাদের মধ্যে সম্পর্কের ফাটল বা নাখোস। তাতে ইউক্রেন যুদ্ধে একটা বিরোপ প্রভাব ফেলবে যেহেতু ফ্রান্স ন্যাটো/ইউরোপিয়ান ইউনিয়নের সাথে যুক্ত থেকে আমেরিকার প্রক্সি ওয়ারে ফ্রান্স যথেষ্ট সাপোর্ট দিচ্ছিলো।

১৬/০৮/২০২৩-আমার গিন্নির সংক্ষিপ্ত কথা  (রঙ্গে ভরা লেখক পাঠক)

আমার গিন্নী শিক্ষক, তাও আবার যেনো তেনো শিক্ষক নন, পুরা অর্থনীতির ডিপার্ট্মেন্টাল হেড। এখন তিনি ভাইস প্রিন্সিপ্যাল।

কোথায় যেনো কোন এক মনিষী বলিয়াছিলেন, কর্মক্ষেত্র অনুপাতে নাকি মানুষের অনেক কিছু জীনগত বেশ পরিবর্তন আসে। যেমন সব ডাক্তাররাই ভাবেন তাদের আশেপাশের সবাই রোগী, সব উকিলরা কাউকে পেলেই কিছু উকালতি বুদ্ধি দিয়া দেন, আবার কেউ পুলিশে চাকুরী করলে নাকি সবাইকে সন্দেহই করিতে থাকেন, হোক সেটা তাহাদের বউ কিংবা স্বামী অথবা পাড়াপ্রতিবেশী। তো শিক্ষক যাহারা তাহারাও ব্যতিক্রম নন। সবাইকে ছাত্রই মনে করেন। আমার বউ টিচার হিসাবে আমি ছাত্র হিসাবেই নিজেকে মনে করি। উপদেশ তিনি যাহাই আমাকে দেন, আমি শীরধার্য মনে করিয়া শান্তশিষ্ট সুবোধ বালকের মতো তা পালনে চেষ্টা করি। এতে লাভ দুইটা। সংসারে অশান্তি হয় না আবার আমার মাথাও ঠান্ডা থাকে।

কিন্তু টিচারদের বড় সমস্যা হচ্ছে-উনারা সংক্ষিপ্ত কথা সংক্ষিপ্ত আকারে বলিতে পারেন না। কথার মধ্যে ভূমিকা থাকিবে, যাহা বলিবেন তাহার ব্যাকগ্রাউন্ড ইতিহাস থাকিবে, তারপর মুলকথায় আসিলেও পথিমধ্যে আবার কোনো ইতিহাসের কথা আসিয়া পড়িলে সেইটাতেও ছাড় দিতে নারাজ। উদাহরণ দেই-

আমার গিন্নি কয়েকদিন আগে আমাকে বিমানের একটা টিকেট হোয়াটস আপে পাঠাইয়াছিলেন। পরে বিস্তারীত দেখিবো দেখিবো করিয়া আর সেইটা ভালোমত দেখা হয় নাই। তো গতকাল রাতে খাওয়ার সময় হটাত আমার গিন্নী বলিয়া উঠিল-আমি তো পরশু যাচ্ছি, জানোতো?

আকাশ হইতে পড়িলাম, মুখে পরোটা ছিলো, চিবাইতেছিলাম, তাহাও বন্ধ হইয়া গেলো, তাহার দিকে অসহায়ের মতো তাকাইয়া বলিলাম, কোথায় যাইতেছো?

তাহার মুখের অভিব্যক্তি দেখিয়া বুঝিলাম, কোথাও আমার এমন কোনো স্মৃতিশক্তি হারাইয়াছে যাহাতে এখুনি বুঝি ১৪ স্কেলের একটা ভূমিকম্প না হইলেও রুমকম্প হইবার সম্ভাবনা। বুঝিয়াই যেনো সব মনে পড়িয়াছে এরুপ ভান করিয়া বলিলাম, উহ হ্যা, তো কিভাবে যাচ্ছো?

বুঝিলাম, তাহাতেও আমার ডজ করিবার উপায় ঠিক ছিলো না। বাহানা করিলেই আমি ধরা খাই, এটা আবারো প্রমানিত। যাক, ভূমিকম্প বা রুমকম্প কিছুই হইলো না।

তিনি বলিতে থাকিলেন, তোমাকে না আমি টিকেটের কপি পাঠাইছিলাম!!

বলিলাম, ওরে, ভুলেই তো গেছিলাম। পড়েছিলাম তো……

তারপর তিনি বলিতে লাগিলেন, তাহার এক কলিগের মেয়ে কিংবা ছেলের বিয়া, তাহাকে নেমন্তন্ন করিয়াছে, যেতে হইবে সেই সুদুর বগুড়া। বিমানে যাইবেন তিনি। তো আমি আবার জিজ্ঞেস করিলাম, কবে আসিবা?

গিন্নীর সোজা উত্তর-তোমাকে না টিকেট পাঠাইছিলাম, টিকেটে লেখা ছিলো না?

বললাম, হ্যা তাই তো। টিকেটে তো লেখাই ছিলো। কি যে অবস্থা, আজকাল সব ভুলে যাই।

তারপর আবার আমার গিন্নীর কথা শুরু হইলো। তিনি কিন্তু কবে আসিবেন, সেইটার উত্তর দিচ্ছেন এখন……  

এই ধরো আগামীকাল বিকালে আমাদের ফ্লাইট। তাই কলেজ থেকে একটু আগেই ফিরিবো। এর আগে কলেজের সব কাজ সমাপ্ত করিবো। অনেক কাপড় চোপড় নেবো না, বাসায় এসে গোটা কিছু কাপড় নেবো। ড্রাইভারকে আসিতে বলিয়াছি একটু আগেভাগে যেনো এয়ারপোর্টে যাইতে আবার বিলম্ব না হয়। যেই জ্যাম আজকাল। কেনো যে এতো জ্যাম বুঝিতে পারি না। মানুষগুলি নিজেরা নিজেরাই জ্যাম বাধায়। কোনো আক্কেল নাই। হটাত করিয়া এদিক থেকে রিক্সা, ওদিক থেকে “পাঠাও”, আবার কেউ কেউ সিরিয়াল ভাংগিয়া ওভারটেক করিতে গিয়া রাস্তার মুখেই জ্যাম বাধাইয়া দেয়। বাজে সব ড্রাইভারের দল। যাক গে, বাসা থেকে রওয়ানা হইবো, আপাকেও বলিয়া রাখিয়াছি যেনো উনিও আগেভাগে রওয়ানা দেয়। তা না হলে ওনার জন্য আবার আমাদের সমস্যায় পড়িতে হইবে।

বলিলাম, “আরে ফিরবা কবে”?

গিন্নী বল্লো- এতো অধইর্য কেন তুমি? আগে তো যাইই। গেলামই তো না।

বললাম, তাই তো তুমি তো এখনো এয়ারপোর্টেই গেলা না। তারপর?

তারপর গিন্নী বল্লো-বিমানজার্নী প্রায় ১ ঘন্টা। সন্ধ্যার আগেই নামিয়া যাইবো। নেমেই ওখানে আপার হাজবেন্ড গাড়ি নিয়ে অপেক্ষা করিবেন। তোমাকে তো বলাই হয় নাই, আপার হাজবেন্ড অমুক জায়গায় চাকুরী করিতেন। ওরে বাবা, অনেক ভালো চাকুরী। তাঁর চাকুরীর সময় উনি অনেক মানুষের উপকার করিয়াছেন। খুব অমায়িক মানুষ, আপার সাথে খুবই ভালো সম্পর্ক। খুব সংসারী মানুষ। তাঁকে তাহাদের গ্রামের মানুষ অনেক শ্রধ্যা করে। এখোনো উনি এই সেই করেন (আরো ছিলো, সংক্ষেপে বললাম আর কি)

বললাম, আরে ভাই, তুমি ফিরবা কবে সেটা তো বললে না।

উফ তোমার সাথে কথা বলতে গেলে এতো অধইর্য হইয়া যাও যে, আসল কথাই বলা হয় না।

বললাম- আরে আসল কথা তো জানতেই চাচ্ছি- ফিরবা কবে?

এদিকে হটাত করিয়া তাঁহার মোবাইলে কাহার যেনো কল বাজিয়া উঠিলো। তিনি কল ধরিলেন, সেই আপা যাহাদের বাসায় তাহার নেমন্তন্ন। এখন আপার সাথেই তিনি কথা বলিতেছেন। আমি বসেই রহিলাম কবে তিনি ফিরিবেন সেটা জানার জন্য।

আমি টেলিভিশনে রাতের খবর দেখি, ফলে খবরের টাইম প্রায় ছুইছুই। আমি খবর দেখিলাম, রাতে ঘুমাইলাম, পরের দিন অফিস করিলাম, এইমাত্র বাসায় ফিরিলাম। আমার গিন্নী আগামীকাল বগুড়ায় যাইবেন। একদিন পার হইয়ে গেলো, আমি এখনো অপেক্ষায় আছি তিনি কবে ফিরিবেন সেটা এখনো জানিতে পারি নাই।

১৬/০৮/২০২৩-কিছু প্রেডিকশন (নিজার)

সবখানেই আমার মতো কিছু বোকা লোক আছে-আমি একা না। নিজার (Niger) অভ্যুথানের বিরুদ্ধে হয় বেশী আবেগে অথবা বোকার মতো অথবা কাউকে খুশী করার জন্য নিজারে (Niger) অভ্যথানের ৩য় দিনে একোয়াস (ECOWAS) এমন একটা হুমকী দিলো যে, হয় নিজারকে (Niger) পূর্ববর্তী সরকার প্রধান মোহাম্মাদ বাজোমকে স্থলাভিষিক্ত করতে হবে, আর তা না হলে একোয়াস (ECOWAS) তাঁর মিলিটারী শক্তি প্রয়োগ করে হলেও বাজোমকে আবার গদিতে বসাবে। এই আবেগীয় হুমকী আমার কাছে কোনোভাবেই সমর্থনযোগ্য মনে হয়নি। কেনো হয়নি সেটাই বলছি।একোয়াসের (ECOWAS) মধ্যে মোট দেশ ১৫টি। এরা হচ্ছে বেনিন, বারকিনো ফুসু, কাবোভার্ডে, আইভরি কোষ্ট, গাম্বিয়া, ঘানা, গিনিয়া, গিনিয়া বাস্যু, লাইবেরিয়া, মালি, নিজার , সেনেগাল, সিয়েরা লিয়ন এবং টোগো।একোয়াসের (ECOWAS) এই ১৫ টি দেশের মোট সামরিক জনবল (প্যারা মিলিটারীসহ) হলো ৩৭৭২০০ জন। এর মধ্যে নাইজেরিয়া একাই হলো ২৩০০০০ জন। আর বাকী ১৪৭২০০ হচ্ছে বাকী ১৪ টি দেশের।একোয়াসের (ECOWAS) ১৫টি দেশের মধ্যে মোট ৬টি দেশ নিজারের (Niger) অভ্যুথানকে সমর্থন করে। ফলে নিশ্চয় তারা একোয়াসের (ECOWAS) হয়ে নিজারে (Niger) মিলিটারী ইন্টারভেনশনে যাবে না। এই ৬টি দেশের সামরিক বাহিনীর জনবল হলো ৮৫০০০জন। এরমানে একোয়াসের (ECOWAS) মেম্বার নাইজেরিয়া ছাড়া মাত্র ৬২২০০ জন অংশগ্রহন করতে পারবে। আর নাইজেরিয়াসহ পারবে ২৯২০০০ জন। এই সংখাটা হচ্ছে যদি ১০০% লোক অংশ নেয়। কিন্তু কোনো মিলিটারী ইন্টারভেনশনে কোনো দেশের সমস্ত সামরিক বাহিনীকে জড়ায় না, মাত্র ৩০% থেকে ৩৫% হয়তো অংশ গ্রহন করবে। সেক্ষেত্রে নাইজেরিয়ার থেকে অংশ নিতে হবে প্রায় ৮৫০০০ আর বাকি ২০-২৫ হাজার অংশ নিবে বাকী দেশগুলি থেকে।

এখানে আরেকটা মজার কাহিনী হয়েছে যে, আফ্রিকান ইউনিয়ন কোনোভাবেই একোয়াসের (ECOWAS) এই মিলিটারী ইন্টারভেনশনে সম্মতি দিচ্ছে না। আফ্রিকা ইউনিয়নের মধ্যে আগের ৬টি দেশ (যারা অভ্যুথানকে সমর্থন করেছে) ছাড়া আছে আরো ৫টি দেশ যারা একোয়াসের (ECOWAS) মিলিটারী ইন্টারভেনশনে যোগ না দেয়ার কথা। তারা হচ্ছে-বেনিন, আইভরি কোষ্ট, সেনেগাল, সিয়েরা লিয়ন, এবং টোগো। অর্থাৎ ৬টি দেশ অভ্যুথানকে সমর্থন করেছে, এবং আফ্রিকান ইউনিয়নের মেম্বার হিসাবে আরো ৫টি দেশ অংশ গ্রহনে সম্মতি দিচ্ছে না। সুতরাং একোয়াসের (ECOWAS) মধ্যে থাকছে মাত্র ৪টি দেশ, তাঁর মধ্যে নাইজেরিয়া অন্যতম। এরমানে শুধুমাত্র নাইজেরিয়াই একমাত্র দেশ যা নিজারের (Niger) বিরুদ্ধে ইন্টারভেনশন করতে হবে একোয়াসের (ECOWAS) পক্ষ থেকে। অন্য দেশগুলি হচ্ছে টোকেন পার্টিসিপেশনের মতো। War between Nigeria VS Niger+

এদিকে নাইজেরিয়ার সাধারন জনগন ইন্টারভেনশনের বিপক্ষে। তারা কিছুতেই নিজারের (Niger) বিরুদ্ধে নাইজেরিয়াকে ইন্টারভেনশনে যেতে দিতে চায় না। তাহলে একোয়াস (ECOWAS) চেয়ারম্যানের এমন একটা নন-ক্যালকুলেটিভ হুমকী দেয়া কি ঠিক হয়েছে? এখন একোয়াস (ECOWAS) চেয়ারম্যান কি করবে সেটাই বুঝতেছে না। খালি এববার এইটা কয়, আবার ওইটা কয়। গালে হাত দিয়া বসে থাকে আর ভাবে-কি করলাম? একোয়াস (ECOWAS) চেয়ারম্যানের বউও মনে ক্ষেপা এখন।
তাঁর উচিত ছিলো ডিপ্লোমেটিক সলিউশনের কথা আগে বলা।সব জায়গাতেই কিছু আমার মতো বোকা পাবলিক থাকে, না বুইজ্জাই লাফায়। যেমন অনেকে কয়, ইউক্রেন নিয়া নাকি আমিও লাফাই। আপ্নারাও কন দেখি-ইউক্রেন কি আমার দাদার দেশ না আমি ওখানে জমি কিনে বাড়ী বানাইছি?

১৬/৮/২০২৩-বিশ্ব রাজনীতিতে একটা অসম সমঝোতা

নিজারের (Niger) অভ্যুথান বিশ্ব রাজনীতিতে একটা অসম সমঝোতার সৃষ্টি করছে বলে আমার ধারনা। ব্যাপারটা এমন যেনো কোনো এক সুতার বান্ডেলের মতো অগোছালোভাবে পেচিয়ে জট পাকিয়েছে। অনেক হিসাব কিতাব এখন আর সহজ সরলীকরনের মধ্যে থাকছে না। তাহলে একটু দেখিঃ

(ক)     নিজারে (Niger) ফ্রান্স এবং আমেরিকার সামরিক বাহিনীর উপস্থিতিসহ তাদের বেশ কিছু মিলিটারী বেজ রয়েছে। আমেরিকার রয়েছে দুটূ (বেজ ১০১, এবং এয়ারবেজ ২০১)। বর্তমানে নিজার (Niger) ফ্রান্সের সমস্ত সামরিক বাহিনীর সদস্যসহ তাদের যাবতীয় মিলিটারী বেজকে অপসারনের নির্দেশ দিয়েছে। কিন্তু আমেরিকার সামরিক উপস্থিতি অথবা তাদের সামরিক বেজগুলির ব্যাপারে নিজার (Niger) আপাতত কিছুই বলেনি। এখানে উল্লেখ্য যে, সামরিক উপস্থিতি বা সামরিক এই বেজগুলি প্রধানত ওয়েষ্ট আফ্রিকান দেশসমুহের সাথে মিলে ইউএস, ফ্রান্স, ইউএন এবং অন্যান্য ইউরোপিয়ান ইউনিয়নের দেশসমুহ সাহেল রিজিয়নে ইসলামিক এক্সট্রিমিষ্টদেরকে দমনের লক্ষ্যে গোয়েন্দা কার্যক্রম, সার্ভিলেন্স এবং রেকি মিশনসহ যাবতীয় মিলিটারী ট্রেনিং, সামরিক এয়ারক্রাফট লিফটিং এবং সামরিক অভিযান পরিচালনা করে।

(খ)      পার্শবর্তী দেশ চাঁদ, মালি, গিনিয়া, বারকিনো ফাসুতে মিলিটারী সরকার গঠনের পর সেখানে ফ্রান্স, আমেরিকা, ইউএন এবং অন্যান্য ইউরোপিয়ান দেশসমুহের সামরিক উপস্থিতি বাদ হয়ে যাওয়ায় এবার নিজারেও (Niger) সেই একই ধাচের সরকার আরম্ভ হওয়ায় ধরে নেয়া যাচ্ছে যে, সর্বশেষ দেশ, অর্থাৎ নিজার (Niger) থেকেও যদি তাদের এই সামরিক উপস্থিতি বা বেজগুলি গুটিয়ে আনতে হয়, তাহলে অত্র অঞ্চলে তাদের আর কোনো প্রভাব খাটানোর মত কোনো ফোর্স অবশিষ্ট রইলো না। এই অবস্থায় যদি আমেরিকা নিজারের (Niger) মিলিটারী অভ্যুথানকে অভ্যুথান হিসাবে স্বীকৃতি দেয় তাহলে পশ্চিমাদেরকেও উক্ত অঞ্চল থেকে সমস্ত বেজসহ সামরিক বাহিনীকে গুটিয়ে নিতে হবে। এতে ওয়েষ্ট আফ্রিকায় বা সাহেল রিজিয়নকে কেন্দ্র করে পশ্চিমাদের পরিচালিত অপারেশন গুলি আর করা সম্ভব হবে না। 

(গ)      ঠিক এই অবস্থায় আমেরিকা একটি কঠিন পরিস্থির সুম্মুক্ষিন হয়েছে বলে আমার ধারনা। যদি অভ্যুথানকে সমর্থন দেয়, তাহলে তাদের সাথে মিলিটারী টু মিলিটারী চুক্তিসমুহ বাতিল করতেই হবে এবং সর্বপ্রকার এইডস বা সাহাজ্য সহযোগিতা দেয়া থেকে বিরত থাকতে হবে। আর এই এইডস বা সাহাজ্য সহযোগীতা দেয়া থেকে বিরত থাকলেই নিজার (Niger) আর আমেরিকাকে আলাদা করে দেখার কোনো অবকাশ নাই, ফ্রান্সের মতোই তাদেরকেও নিজার (Niger) ছাড়তে নির্দেশনা দেয়া হতে পারে। আবার যদি অভ্যুথান কে অভ্যুথান হিসাবে স্বীকৃতি না দেয় তাহলে আমেরিকাকে এইডস বা সাহজ্য সহযোগীতা প্রবাহ চালিয়ে যেতে হবে যা কিনা আমেরিকার আইনের পরিপন্থি। অন্যদিকে আবার এই এইডস বা সাহাজ্য সহযোগীতা প্রবাহ বন্ধ না করলে আমেরিকার সাথে ফ্রান্স এবং অন্যান্য ইউরোপিয়ান ইউনিয়নের মধ্যে সম্পর্ক খারাপের দিকে যাবে। তাতে ইউক্রেন যুদ্ধ একটা বেমালুম প্রহসনে পরিনত হবে। কারন রাশিয়াকে আটকাতে সবচেয়ে বেশী প্রক্সি ওয়ার পশ্চিমা দেশগুলিই চালাচ্ছে এবং সে মোতাবেক আমেরিকাই সবাইকে চাপের মধ্যে রেখেছে যেনো ইউক্রেনে সবাই পর্যাপ্ত পরিমানে সাপোর্ট দেয়। যদিও আমি কোনো যুদ্ধের পক্ষেই না। হোক সেটা নিজারে (Niger) বা ইউক্রেনে।

এখানে আরো একটা দুশ্চিন্তার কারন রয়েছে আমেরিকার। আর সেটা হলো, নিজার (Niger) আসলে ইসলামিক এক্সট্রিমিষ্টদের কোনো আখড়া নয় কিন্তু রাশিয়ার সমর্থনে ভাগনার গ্রুপ অবশ্যই একটা বড় ধরনের হুমকী যারা রাশিয়ার এজেন্ডা নিয়ে অপারেশন পরিচালনা করে। ভাগনার গ্রুপ অনেক আগে থেকেই মালি, বারকিনো ফুসু, চাঁদ, কিংবা সাধারনভাবে যদি বলি তারা ওয়েষ্ট আফ্রিকায় অপারেশন করে। ফলে রাশিয়ার প্রভাব এই এলাকায় দমনের জন্যে হলেও তাদের মিলিটারী বেজ, সামরিক উপস্থিতি এবং অন্যান্য মিলিটারী কার্যাবলীসহ অপারেশন চালিয়ে নেয়া দরকার।  

ঠিক এমন একটা পরিস্থিতিতে উভয় পক্ষকে (একদিকে ফ্রান্স, ইউরোপিয়ান ইউনিয়নকে হাতে রাখা, আবার অন্য দিকে নিজারের (Niger) মিলিটারী অভ্যুথানকেও সমর্থন করা) সামাল দেয়ার থেকে আগে এটা নিশ্চিত করতে চায় নিজা (Niger) আসলে কি চায় সেটা জানা। আর এই কারনেই সবার ইন্টারেস্টকে একদিকে সরিয়ে আমেরিকার নিজস্ব ইন্টারেষ্টকে প্রাধান্য দিয়ে আমেরিকা ভিক্টোরিয়া ন্যুল্যান্ডকে নিজারে (Niger) আলাপের জন্য পাঠিয়েছেন। সে নিজারের (Niger) জান্তাদের সাথে আলাপ করতে গেলেও কতটা সফল হয়েছে এ ব্যাপারে না ন্যুল্যান্ড না তাঁর প্রধান এন্টনী ব্লিংকেন কোনো মন্তব্য করেছেন। তবে তথাকথিত রীতি অনুযায়ী আপাতত নিজারে (Niger) আমেরিকার এইডসকে স্থগিত (বাতিল নয় কিন্তু) করেছে এবং ‘এটা একটা খন্ডকালীন সামরিক অপারেশন হিসাবে চালিয়ে দিয়েছেন কিন্তু অভ্যুথান হয়েছে বলেন নাই।

ফ্রান্স এবং ইউরোপিয়ান ইউনিয়ন তাই খুবই ক্ষুদ্ধ। 

১৫/০৮/২০২৩-ইউরোপিয়ান ইউনিয়নে ফাটল

ইউরোপিয়ান ইউনিয়নের মধ্যে একটা প্রচ্ছন্ন ক্ষোভের বহির্প্রকাশ দেখা যাচ্ছে। তাঁর কিছু নমুনা যদি বলি-

(১)      রাশিয়ার উপর অর্থনৈতিক নিষেধাজ্ঞা দেয়ার মুল কারন ছিলো যেনো রাশিয়ার তেল, গ্যাস, খাদ্য সামগ্রীসহ অন্যান্য মৌলিক উপাদান রপ্তানী থেকে আয় ইউক্রেন যুদ্ধের ব্যয়ের একটা সোর্স না হয়ে উঠে এবং আরেকটা কারন ছিলো যাতে রাশিয়ার অর্থনৈতিক মেরুদন্ড ভেংগে যায়। ব্যাপারটা অনেকটা বুমেরাং হয়েছে বলে এখন বিশ্বনেতাদের ধারনা। কারন কি? কারনটা দৃশ্যমান, রাশিয়া থেকে সস্তায় তেল, গ্যাস, খাদ্য সামগ্রী আমদানী না করায় ইউরোপ নিজেই এখন ডি-ইন্ডাস্ট্রিলাইজেশন, ডি-ডলারাইজেশনের এর শিকার। প্রতিটি ইউরোপিয়ান দেশে এখন জীবনমাত্রা এতোটাই শোচনীয় যে, তারা আর আগের মতো লাইফ লিড করতে পারছে না। জনগন বিরক্ত তাদের শাসকদের উপর। প্রাথমিকভাবে যে আকারে এবং যে গতিতে ইউক্রেন উদ্ভাস্থদেরকে ইউরোপিয়ানরা গ্রহন করেছিলো থাকার জায়গা দিয়ে খাবারের খরচ, হাত খরচ, স্কুলিং ইত্যাদি দিয়ে, এখন তারা এটাকে একটা বোঝা মনে করছে। সেই আগের আবেগ কিংবা সহায়তার মনমানসিকতা তারা আর ধরে রাখতে পারছে না। তারা নিজেরাই এখন বিরক্ত ইউক্রেনের উদ্ভাস্তদের নিয়ে, শাসকদের কমিটমেন্ট নিয়ে।

(২)      ইউরোপের সবচেয়ে শক্তিধর অর্থনৈতিক দেশ জার্মানীর প্রায় ৪৫% এর উপরে ইন্ডাস্ট্রিজসমুহ বন্ধ শুধুমাত্র গ্যাস এবং তেলের সংকটে। শুধু তাইই নয়, হিটিং ব্যবস্থার আমুল সংকটে দেশটি। দেশের এনার্জি মিনিষ্টার এবং বিরোধী দল এই মুহুর্তে যে বিষয়টির উপর সবচেয়ে বেশী জনমত তুলে ধরছেন তা হলো-পশ্চিমাদের সাথে তাল মিলাতে গিয়ে জার্মানি এখন তেল গ্যাসের অভাবে তাদের অর্থনৈতিক চালিকাশক্তি ইন্ডাস্ট্রিজসমুহ যেমন ক্ষতিগ্রস্থ তেমনি সাধারন জনগনের অবস্থা চরম খারাপ। ঠিক এই মুহুর্তে অচীরেই রাশিয়ার উপর সব নিষেধাজ্ঞা তুলে নিয়ে আবারো তাদের কাছ থেকে আগের মতো সব পন্য যেনো আমদানী করা হয় সেই দাবী উঠছে। এখানে বলে রাখা উত্তম যে, জার্মানী ৪০% নির্ভরশীল রাশিয়ার গ্যাস এবং তেলের উপর। জার্মানীর উন্নত অর্থনৈতিক ব্যবস্থা গড়েই উঠেছে রাশিয়ার সস্তা কমোডিটির উপরে। তারমধ্যে নর্ডস্ট্রিম-১, ২ উভয়ই এখন অকেজো হবার কারনে অদূর ভবিষ্যতেই রাশিয়া থেকে এতো সহজে আর আগের মতো তেল বা গ্যাস আমদানী করা সম্ভব না। জার্মানীর এহেনো খারাপ পরিনতির কারন হিসাবে সাধারন জনগন, বিরোধী দল, সরকারী আমলা এবং বেশ কিছু প্রতাপশালী মন্ত্রী মিনিষ্টার খোদ পশ্চিমাদের দায়ী করছেন যে, পশ্চিমারা এক ঢিলে দুই পাখী (জার্মানীর অর্থনীতিকে ধংশ এবং রাশিয়াকে পিউনিটিভ শাস্তি) মেরেছে। নর্ড স্ট্রীম নষ্টে সবচেয়ে ক্ষতি হয়েছে জার্মানীর আর সবচেয়ে লাভ হয়েছে পশ্চিমাদের। জার্মানীর উলফ শলাজ নিজেও এখন চাচ্ছেন যে, ইউক্রেনের যুদ্ধ যেভাবে হোক বন্ধ হোক। দম বন্ধ হয়ে আসার মতো অবস্থা এখন জার্মানীর।

(৩)      এবার আসি ফ্রান্সের ব্যাপারে। নিজারে (Niger) ফ্রান্স এবং আমেরিকার উভয়ের প্রায় দুই হাজারের বেশী করে সামরিক বাহিনীর সদস্য আছে এবং বেশ অনেকগুলি সামরিক ঘাটিও আছে তাদের। মজার ব্যাপার হলো নিজার (Niger) শুধুমাত্র ফ্রান্সের বাহিনীকে সেখান থেকে তাড়ানোর বিক্ষোভ করছে, সাথে অভ্যুথান। আমেরিকানদের বিরুদ্ধে নয়। ফ্রান্স নিজার (Niger) থেকে ইউরেনিয়াম উত্তোলন করে তাঁর দেশের পারমানবিক বিদ্যুৎকেন্দ্রগুলি সচল রাখতো। সবার সাথে তাল মিলিয়ে ফ্রান্স রাশিয়ার গ্যাস, তেল ইত্যাদি বয়কট করলেও তাদের বিকল্প ব্যবস্থা চালূ ছিলো এই ইউরেনিয়াম চালিত বিদ্যুৎকেন্দ্র গুলি দিয়ে। এবার নিজার (Niger) সেই ইউরেনিয়াম এবং গোল্ড উত্তোলন এবং রপ্তানী পুরুপুরি বন্ধ করায় ফ্রান্সের বিদ্যুতায়ন এখন প্রশ্নের সম্মুক্ষে। ঠিক এই মুহুর্তে হয়তো যথেষ্ঠ পরিমান ইউরেনিয়াম মজুত আছে বলে ইম্প্যাক্টটা বুঝা যাচ্ছে না কিন্তু এটার প্রভাব হয়তো বছরখানেক পর অনুভুত হবে। ফ্রান্স তাঁর বেজগুলি এবং সামরিক উপস্থিতি ছাড়তে নারাজ। তাই তারা একোয়াসের (ECOWAS) সাথে সুর মিলিয়ে ক্যু সরকারকে মিলিটারিলি উৎখাত করার সিদ্ধান্তে অটল। একোয়াসও (ECOWAS) চেয়েছিলো নিজারে (NIGER) কাউন্টার অফেন্সিভের মাধ্যমে পূর্বর্তী প্রেসিডেন্ট বাজোমকে আবার স্থলাভিষিক্ত করে। কিন্তু একয়াসের (ECOWAS) সামনে দুটো বড় প্রশ্ন এসে হাজির হয়েছে

(১) রাশিয়া নিজারে (Niger) কোনো প্রকার মিলিটারী অভিযানের পক্ষে না। আর রাশিয়ার এই অবস্থানে একোয়াস (ECOWAS) নিজেরাও ক্রান্তিলগ্নে। কারন আফ্রিকার দেশসমুহে রাশিয়া যে পরিমান অস্ত্র, খাদ্যশস্য এবং ইকোনোমিক্যাল সাপোর্ট দেয়, যদি রাশিয়ার কথার বাইরে কেউ যায়, সেটা রাশিয়া হয়তো বন্ধ করে দিতে পারে। আফ্রিকার দেশ গুলি এম্নিতেই গরীব, তারমধ্যে রাশিয়ার এই সহায়তা বন্ধ হয়ে গেলে তাদেরকে আরো কঠিন পরিস্থিতিতে পড়তে হবে। রাশিয়াই একমাত্র দেশ যে আফ্রিকায় বিনামুল্যে এই যুদ্ধের মধ্যেও আফ্রিকার খাদ্য ঘাটতির কারনে ৯০ মিলিয়ন টন খাদ্যশস্য সরবরাহ করেছে, ২৪ বিলিয়ন ডলার সমপরিমান ঋণ মওকুফ করে দিয়েছে এবং বিনামুল্যে আরো ৫০ মিলিয়ন টন সার দেয়ার কথা বলেছে। অন্যদিকে পশ্চিমারা বা ইউরোপ বা ফ্রান্স কিংবা তাদের মিত্র দেশগুলি সাহাজ্য তো দূরের কথা তারা মালি, গিনি, বারকুনো ফুসু, নিজার, চাঁদ, এবং আরো কিছু আফ্রিকান দেশসমুহে নিষেধাজ্ঞা আরোপন করেছে। ফলে আফ্রিকান দেশগুলি স্বাভাবিক কারনেই রাশিয়ার কথার বাইরে যেতে পারার কথা না। একোয়াসে আফ্রিকার মোট ১৫টি দেশ। এরমধ্যে কয়েকটিতে চলছে মিলিটারী শাসন। তারা হচ্ছে গিনি, নিজার, মালি, বারকিনো ফুসু, গিনিয়া বিসাও, লাইবেরিয়া সবেমাত্র বেরিয়ে গেছে। একোয়াসের মধ্যে বাকী যে কয়টা দেশ আছে, তাদের সামরিক ক্ষমতাও খুবই নগন্য। সক্ষমতার দিক দিয়ে একোয়াস মিলিটারী কোনো দেশের জন্যই কোনো হুমকী না।

(২)      ফ্রান্স যেহেতু মনে প্রানে চাচ্ছে যে, একোয়াস (ECOWAS) মিলিটারী অপারেশন করুক নিজারে (Niger) কারন সেক্ষেত্রে ফ্রান্স একোয়াসের বাহানায় সেইই মিলিটারী অপারেশনটা করবে যাতে ফ্রান্সের দোষ না হয়, দোষ হয় একোয়াসের। কিন্তু একোয়াস অনেক ভেবেচিন্তে দেখছে এটা করা ওদের সমুচীন হবেনা। অন্যদিকে ফ্রান্স এটাও ভেবেছিলো যে, তাদের ইউরোপিয়ান মিত্র হিসাবে আমেরিকা অবশ্যই নিজারের ( Niger)ব্যাপারে জোরালো কিছু করবে। কিন্তু আমেরিকা সেটা না করে তারা যেটা করেছে সেটা হলোঃ আমেরিকা থেকে প্রতিনিধি হিসাবে ন্যুল্যান্ডকে নিজারে (Niger) পাঠিয়েছে অভ্যুথানের কমান্ডারদের সাথে এক মিটিং করার জন্য। তাঁর বক্তব্য ছিলো নিজার (Niger) যাতে ভাগনার নামক ভাড়াটে বাহিনীর কোনো সহায়তা না নেয় এবং প্রয়োজনে আমেরিকা অভ্যুথানকারীদের সাথে সমঝোতা করতেও ইচ্ছুক। অভ্যুথানের কমান্ডারদের সাথে ন্যুল্যান্ডের এমন বৈঠকে ফ্রান্স খুব ক্ষুদ্ধ এবং কিছুতেই খুশী না তারা। তারা মনে করছে-আমেরিকা ঠিক সেই কাজটাই করেছে যেটা ফ্রান্সের সার্থের বিপরীত। তারা অবশ্য এটাও বলেছে যে, আমেরিকার সামরিক বেজগুলি নিজারে (Niger) রাখার সার্থেই ন্যুল্যান্ডের এই ভিজিট।

তাহলে কি দাড়ালো? একদিকে জার্মানী নাখোশ, অন্যদিকে ফ্রান্স নাখোস। ইতালী তো আগে থেকেই নাখোস, তুরষ্কের ব্যাপারটা আমরা সবাই জানি। সে না ন্যাটোর ঘরে, না ন্যাটোর বাইরে, না সে ইউরোপে না সে এশিয়ায়। হাংগেরী তো বহু আগে থেকেই ইউরোপিয়ান ইউনিয়নের গলার কাটা। পোল্যান্ড গত কয়েকমাস যাবত ইউক্রেনের উপর ভীষন ক্ষিপ্ত। কারন পোল্যান্ড তাঁর নিজের দেশের কৃষকদের বাচানোর জন্য ইউক্রেনের শস্য আমদানীতে নিষেধাজ্ঞা দেয়ায় পোল্যান্ডের সাথে ইউক্রেনের সম্পর্ক এখন চরম খারাপ। একদিকে পোল্যান্ড বেলারুশকে নিয়ে হিমশিম খাচ্ছে, অন্যদিকে ভাগনার গ্রুপ যে কোনো মুহুর্তে পোল্যান্ডে প্রবেশ করার পায়তারা করছে। ফলে চরমপন্থি পোল্যান্ড এখন নিজের ঘর সামলাবে নাকি ইউরোপিয়ান জোটের সার্থে সে ইউক্রেনকে সাপোর্ট করবে নাকি পশ্চিমাদেরকে খুশি করবে, সেটা নিয়েই সন্দিহান। ইউরোপিয়ান ইউনিয়নের আরেক শক্তিধর যুক্তরাজ্য তো আরো ক্ষেপা এই ইউক্রেনের উপরে যার প্রতিক্রিয়া আমরা দেখেছি যুক্তরাজ্যের প্রতিরক্ষামন্ত্রী বেন ওয়ালেসের এক কথায় যে, ইউরোপ বা ন্যাটো কোনো আমাজন নয় যে ইউক্রেন যখন যা চাইবে তাকে তখনি সেটা দিতে হবে।

উপরের কয়েকটা বিশ্লেষণে যেটা খালী চোখেই ধরা পড়ে সেটা হচ্ছে যে, ন্যাটো বা ইউরোপিয়ান জোট ধীরে ধীরে নেতিয়ে যাচ্ছে এবং এদের সদস্যদের মধ্যে বিশ্বাসের একটা ফাটলের সৃষ্টি হচ্ছে। আর এই ফাকে পুরু দুনিয়ায় একটা বিশাল পরিবর্তনের হাওয়া বয়ে বেড়াচ্ছে- মাল্টিপোলারিটি, ডি-ডলারাইজেশন, ব্রিক্সের উত্থান এবং চীন-ভারত-রাশিয়ার সাথে ইরান-সৌদি-সিরিয়া- ব্রাজিল- সাউথ আফ্রিকা ইত্যাদি মিলে একটা ভিন্ন জোট।

আমার কাছে যেটা মনে হয়, একসময় এই পুরু ইউরোপিয়ান জোট তাদের নিজেদের সার্থেই আবার রাশিয়ার সাথে মিলতে বাধ্য হবে। আর যদি সেটাই হয়, তাহলে ন্যাটোর পরিবর্তে এমন আরেক জোট তৈরী হবে যেটা শুধুমাত্র নতুন ইউরোপের যেখানে আধিপত্য করবে চীন, রাশিয়া এবং আফ্রিকা যদিও চীন বা আফ্রিকা ইউরোপিয়ান ইউনিয়নের কেউ না।

সময় হয়তো বলে দেবে।

১৩/০৮/২০২৩-আলোকিত সংবাদ

মাহাত্মা গান্ধী ইন্টারন্যাশনাল পীস অ্যাওয়ার্ড পেলেন সিরাজদিখানের কৃতিসন্তান মেজর মোহাম্মাদ আখতার হোসেন (অবঃ)

মোহাম্মদ রোমান হাওলাদার

ভারতের মাহাত্মা গান্ধী ইন্টারন্যাশনাল পীস অ্যাওয়ার্ড পেলেন সিরাজদিখানের কৃতিসন্তান মেজর মোহাম্মাদ আখতার হোসেন (অবঃ)। তিনি মা ইন্ডাস্ট্রিজ লিমিটেড, রিভার সাইড সুয়েটার্স লিমিটেড, আন-নূর ফ্যাশন্স লিমিটেড, এম এ ট্রেডার্স, ধলেশ্বরী গ্রীনভিলেজ প্রমুখ ব্যবসায়ীক প্রতিষ্ঠানের ব্যবস্থাপনা পরিচালক। গত ৯ জুন ভারতের পশ্চিমবঙ্গ কলিকাতা জোড়াসাঁকো ঠাকুরবাড়ি রথীন্দ্র মঞ্চে “ভারত-বাংলাদেশ রবীন্দ্র-নজরুল বঙ্গ উৎসবে এক সংবর্ধনা অনুষ্ঠানে মেজর মোহাম্মাদ আখতার হোসেন (অবঃ) কে এই স্বীকৃতি দেওয়া হয়। অনুষ্ঠানটিতে পশ্চিমবঙ্গ রাজ্য সরকারের মাননীয় মন্ত্রী, বিধায়ক, এমএলএ, টেলিভিশন, চলচ্চিত্র, সঙ্গীত শিল্পীবৃন্দ, মিডিয়া ব্যক্তিত্ব, শিল্প সাহিত্য অঙ্গনের বিশিষ্ট ব্যক্তিবর্গ উপস্থিত ছিলেন। সাংগঠনিক দক্ষতা ও মানবসেবায় বিশেষ ভূমিকা রাখায় ইন্ডিয়া-বাংলাদেশ কালচারাল কাউন্সিল মেজর মোহাম্মাদ আখতার হোসেন (অবঃ) কে এই সম্মাননা প্রদান করেন।

ব্যবসায়ীক বিশেষ ব্যস্ততার কারনে উক্ত ৯ জুন ২০২৩ তারিখে অনুষ্ঠিতব্য অনুষ্ঠানে মেজর মোহাম্মাদ আখতার হোসেন (অবঃ) উপস্থিত থাকতে না পারায় তাঁরপক্ষে ইন্ডিয়া-বাংলাদেশ কালচারাল কাউন্সিল (বাংলাদেশ) এর সম্পাদক জনাব শাহ আলম চুন্নু ইন্ডিয়া-বাংলাদেশ কালচারাল কাউন্সিলের কার্যনির্বাহী পরিষদ, নির্বাহী পরিষদের সভাপতি জনাব শুভদীপ চক্রবর্তী (ভারত) থেকে সার্টিফিকেট এবং সম্মাননাটি গ্রহন করেন এবং গত ৯ আগষ্ট ২০২৩ তারিখে উক্ত সার্টিফিকেটসহ সম্মাননাটি জনাব শাহ আলম চুন্নু মেজর মোহাম্মাদ আখতার হোসেন (অবঃ) এর অফিসে হস্তান্তর করেন।

মেজর মোহাম্মাদ আখতার হোসেন (অবঃ) সিরাজদিখান উপজেলার লতব্দী ইউনিয়নের কয়রাখোলা গ্রামের মোহাম্মাদ হোসেন আলি মাদবরের পুত্র। তিনি মির্জাপুর ক্যাডেট কলেজ থেকে মাধ্যমিক ও উচ্চ মাধ্যমিক কৃতিত্বের সাথে সম্পন্নের পর ১৯৮৫ সালে বাংলাদেশ সেনাবাহিনীতে কমিশন্ড অফিসার পদে যোগ দেন। চাকুরীর সময়কালে তিনি ডিফেন্স সার্ভিস কমান্ড এন্ড ষ্টাফ কলেজসহ গানারী কোর্ষ এবং অন্যান্য প্রশিক্ষন সমাপ্ত করেন। জাতীসংঘের অধীনে তিনি রিপাবলিক অফ হাইতি এবং রিপাবলিক অফ জর্জিয়ায় যথাক্রমে ১৯৯৫ ও ২০০২ সালে শান্তিমিশনে সফলভাবে অংশ নেন। শান্তিরক্ষী মিশনে থাকাকালে তিনি আমেরিকার তদানীন্তন ভাইস প্রেসিডেন্ট আল-গোর এবং তাঁর পরিবারের বিশেষ নিরাপত্তার অভূতপূর্ব কাজের জন্য ইউনাইটেড ন্যাশন্স মিশন ইন হাইতির ফোর্স কমান্ডার জেনারেল জোসেফ কিঞ্জারের কাছ থেকে সম্মাননা হিসাবে বিশেষ ‘লেটার অফ এপ্রিশিয়েশন” লাভ করেন। 

মেজর মোহাম্মাদ আখতার হোসেন (অবঃ) সম্ভ্রান্ত মুসলিম জমিদার পরিবারে জন্মগ্রহণের সুবাদে সামাজিক ও ধর্মীয় অনুশাসনের মধ্য দিয়ে নৈতিক আদর্শে  বড় হয়েছেন। শিক্ষাগত ক্ষেত্রে তিনি মাষ্টার্স অফ ডিফেন্স, মাষ্টার্স অফ সায়েন্স, মাষ্টার্স অফ বিজনেজ এডমিনিষ্ট্রেশন সহ ডক্টরেট অফ ফিলোসোপি (পিএইচডি) সম্পন্ন করেন। মেজর মোহাম্মাদ আখতার হোসেন (অবঃ) সহ মোট পাঁচ ভাই ও ছয় বোনের মধ্যে তিনি সর্বকনিষ্ঠ। তাঁর বড় ভাই ডঃ মোহাম্মাদ হাবীবুল্লাহ বর্তমানে আমেরিকার নর্থ ইষ্টার্ন ইউনিভার্সিটির একজন স্বনামধন্য প্রফেসর এবং অন্যান্য ভাইদের সকলে নিজ নিজ পেশায় সুনামের সাথে কর্মরত ছিলেন যারা ইতিমধ্যে বেহেস্তবাসী হয়েছেন। মেজর মোহাম্মাদ আখতার হোসেন (অবঃ) এর সহধর্মিনী প্রফেসর মিসেস মিটুল চৌধুরী বর্তমানে মীরপুর সরকারি বাঙলা কলেজের উপাধাক্ষ্য হিসাবে কর্মরত আছেন। তাঁর দুই মেয়ের মধ্যে বড় মেয়ে ডাঃ আনিকা তাবাসসুম উম্মিকা ডেলটা মেডিক্যাল কলেজ এন্ড হসপিটালে কর্মরত এবং ছোট মেয়ে সানজিদা তাবাসসুম কনিকা আমেরিকায় ইউনিভার্সিটি অফ ম্যারিল্যান্ড, বাল্টমোর কাউন্টিতে মাইক্রো ফাইন্যান্সে অনার্স করছেন।  

সিরাজদিখানের এই কৃতিসন্তান মেজর মোহাম্মাদ আখতার হোসেন (অবঃ) মাহাত্মা গান্ধী ইন্টারন্যাশনাল পিস অ্যাওয়ার্ড সম্মানে ভূষিত হওয়ায় আত্নীয়স্বজন, বন্ধুবান্ধব, স্থানীয় এলাকাবাসীসহ শুভাকাঙ্ক্ষী ও রাজনৈতিক ব্যক্তিবর্গ সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ও বিভিন্ন মাধ্যমে শুভেচ্ছা ও অভিনন্দন জ্ঞাপন করছেন।

মাহাত্মা গান্ধী ইন্টারন্যাশনাল পীস এওয়ার্ডের ব্যাপারে মেজর মোহাম্মাদ আখতার হোসেন (অবঃ) এর কাছে জানতে চাইলে তিনি  হাস্যজ্জ্বল কন্ঠে বলেন, পুরস্কার পেয়ে আমি আনন্দিত এবং সম্মানিত। স্বাধীনতা যুদ্ধের সূচনালগ্ন থেকেই বন্ধুপ্রতীম ভারতকে আমরা সবসময় পাশে পেয়েছি। আজ এই বিরল সম্মাননায় আমি মুগ্ধ এবং কৃতজ্ঞ। ইন্ডিয়া-বাংলাদেশ কালচারাল কাউন্সিলের মানবসেবার যে মুখ্য উদ্দেশ্য তা এই সম্মাননার প্রেক্ষিতে আমাকে ভবিষ্যতে আরো উজ্জীবিত এবং অনুপ্রেরনা জোগাবে।